উদ্যোক্তা হতে হলে চলতে হবে কিছু কঠিন পথে

উদ্যোক্তা

বাংলাদেশের অধিকাংশ তরুণ আজ উদ্যোক্তা হতে চায়। অনেকে উদ্যোক্তা হয়ে সফল হতে না পেরে ভাগ্যের দোষ দিয়ে ছেড়ে দেন সকল প্রচেষ্টা। আজ যারা সফল উদ্যোক্তাদের খাতায় নাম লিখিয়েছেন তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে জানা যায় তারাও খুব সহজে অথবা জলদি কোন সফলতার দেখা পাননি। উদ্যোক্তা হিসেবে সফলতার জন্য  চলতে হবে কিছু কঠিন পথে। মেনে চললে আপনিও হতে পারেন একজন সফল উদ্যোক্তা।

উদ্যোক্তা হতে লক্ষ্য স্থির করুন

আপনি একজন পরিশ্রমী মানুষ এবং আপনি উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সব ধরণের কষ্টই সহ্য করতে প্রস্তুত। কিন্তু আপনি জানেন না আপনি কি নিয়ে উদ্যোক্তা হবেন। তাই আপনার প্রথম কাজ হল লক্ষ্য ঠিক করা। আপনি আসলে কি দিয়ে প্রথম পদক্ষেপটা নেবেন সেটাতে অনেক কিছু নির্ভর করে।

তাই প্রথমে কি করতে চান সেটা ঠিক করুন। এখানে আপনার ভাল লাগাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন।

বাজার বিশ্লেষণ করুন

ধরুন আপনার মুরগীর ব্যবসা করার ইচ্ছা কিন্তু আপানাকে খেয়াল করতে হবে বাজারে অনেক ভাল ব্যবসায়ী আছেন যারা ইতোমধ্যে খুব ভাল অবস্থানে আছেন। সুতরাং আপনি এই প্রতিযোগিতায় গেলে ভাল কিছু করতে পারবেন না। এমন কিছু বেছে নিন যা আমাদের দেশে এখন ভাল কোন দিক পায়নি। ইচ্ছে করলে আপনি ঘরে বসে মাছ অথবা পাখি চাষ করতে পারেন। মাছ হিসেবে রঙিন মাছ বেছে নিতে পারেন। মানুষ এখন খুব সৌখিন, ঢাকার অধিকাংশ বাসায় অ্যাকুরিয়াম দেখা যায়। সুতরাং আপনি ভাল একটি বাজার পেতে পারেন। পাখির ক্ষেত্রেও একি রকম পরামর্শ নিতে পারেন।

উদ্যোক্তা হতে হলে বড় ভাবে শুরু করার কোন দরকার নেই

প্রথমে পরীক্ষামূলক ভাবে অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করুন। যাই করবেন সেটাতে যে প্রথমেই সফলতা আসবে এমন ভাবা ঠিক নয়।

ধৈর্য রাখুন

আগেই বললাম সফলতা একেবারে আসেনা। তাই ধৈর্য হারালে চলবে না। বিফলতাই সফল হওয়ার পথ সুগম করে। চেষ্টা চালিয়ে যান।

খেয়াল করুন আপনার কোন ভুলের কারণে সফলতা আসছে না। দরকার হলে এ ব্যাপারে অভিজ্ঞদের সাহায্য নিন।

সৎ থাকুন এবং সংযমী হন

আপনি যদি সঠিক পথে কষ্ট করতে থাকেন আপনার জীবনে সফলতা আসবেই। কিন্তু সফলতার মোহ যেন আপনাকে অন্ধ না করে তোলে সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। অর্থের মোহ মানুষকে অমানুষ করে তুলতে পারে। প্রবাদে আছে – অর্থই অনর্থের মূল। আপনার যেন সে দুর্ভাগ্য না হয়।

অর্থের সঠিক ব্যবহার সফল উদ্যোক্তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। নিজের কাজের পরিসরকে বাড়ানোর জন্য আপনার লাভের অংশকে কাজে লাগান।

পরিশেষে বলব, সকল নতুন উদ্যোক্তাদের অভিনন্দন জানাই। উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে দেশের অনেক বেকার মানুষের কর্মসংস্থান বেড়ে গিয়েছে।

আপনি যদি এই লেখাটি পড়ে এতটুকু উপকৃত হন তাহলেই আমাদের কষ্টসাধ্য হবে।

অতিরিক্ত ব্যায়াম কি স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ?

অতিরিক্ত

একটা জিনিস লক্ষ্য করলে দেখবেন বিংশ শতাব্দীতে অধিকাংশ মানুষ স্থুলতার শিকার। এতে নিজের দোষ তো আছে বটেই সাথে সাথে আমাদের বাজারের খাবারেরও দোষ আছে। যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষ স্থুল। এখন অনেকেই এই স্থুলতা থেকে বের হয়ে আসতে চায়। খুব কম সময়ে ওজন কমাতে ব্যস্ত হয়ে যায়। তাই অতিরিক্ত ব্যায়াম করা শুরু করে। আমরা শুনে এসেছি যে যত বেশি ব্যায়াম করে তার স্বাস্থ্য তত ভাল থাকে। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় ভিন্ন ধরণের কথা শনা যাচ্ছে। অতিরিক্ত ব্যায়াম স্বাস্থ্যের জন্য হানীকারক হতে পারে। আসুন জেনে নেই কেন এমন বলা হয়।

দ্যা ল্যানসেট সাইক্রিয়াট্রিতে প্রকাশিত একটা গবেষণায় জানা গেছে, যে সকল মানুষ সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচ দিন শরীরচর্চা করেন তাদের মানসিক অবস্থা, যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন তাদের তুলনায় ভালো থাকে। যারা প্রতিদিন শরীরচর্চা করে তাদের মধ্যে অবসেশন দেখা যায় যা খারাপ মানসিক স্বাস্থ্যের লক্ষণ।

ইউএসের ইয়েল ইউনিভার্সিটির সহ অধ্যাপক অ্যাডাম চেকউর্ড জানান, “আগে মনে করা হত, যত বেশি শরীরচর্চা করা যাবে মানসিক স্বাস্থ্য তত ভালো থাকবে। কিন্তু আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে আসলে তা ঘটে না।”

তিনি আরও জানান, “মাসে ২৩ বারের বেশি শরীরচর্চা করলে বা দিনে ৯০ মিনিটের বেশি শরীরচর্চা করলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পরে।”

গবেষণার জন্য ইউএসের পঞ্চাশটা রাজ্যের বিভিন্ন ধরনের শারীরিক কসরত, শিশুর দেখভাল, বাড়ির কাজকর্ম, বাগান পরিচর্যা, মাছ ধরা, সাইকেল চালানো, জিম করা, দৌড়ানো, স্কিইং ইত্যাদিতে অংশগ্রহণকারী ১.২ মিলিয়ন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে নিয়ে পরীক্ষা করা হয়।

অতিরিক্ত ব্যায়াম কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়

অ্যারোবিক শরীরচর্চা যেমন- সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা এবং দৌড়ানো ইত্যাদি কাজে যদি নিজের কর্মক্ষমতার ঘাটতি দেখতে পান তাহলে বুঝতে হবে অতিরিক্ত পরিশ্রম হচ্ছে। পরিশ্রম খুব বেশি হলে তা মানুষের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

শক্তি কমে যায়

যদি সাধারণ মাত্রায় শরীরচর্চা করতে না পারেন অথবা সবসময় শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত অনুভব করেন তাহলে বুঝতে হবে শরীর ক্লান্ত।

আপনার পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন।

অতিরিক্ত ব্যায়াম মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়

প্রিভেন্টেটিভ মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণার ফলাফল থেকে জানা যায়, সপ্তাহে যদি সাড়ে সাত ঘন্টার চেয়ে বেশি সময় শরীরচর্চা করা হয় তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়া, হতাশা এবং মানসিকভাবে দুর্বল বোধ করতে পারে।

অতিরিক্ত পরিশ্রম করা শরীরকে দ্বিধা, উদ্বেগ, রাগ এবং ‘মুড সুইং’য়ের মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

অতিরিক্ত ব্যায়াম ঘুমের ক্ষতি করে

পরিশ্রম করলে শরীর ঠিক থাকে এবং রাতে ভালো ঘুম হয়। তবে অতিরিক্ত পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা হলে সারা রাত খুব অস্থিরতার মধ্যে কাটে এবং ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে।

অস্থি সন্ধিতে ব্যাথার সৃষ্টি হয়

ব্যায়ামের পর পেশি পুনর্গঠনের জন্য সময় দেওয়া প্রয়োজন। না দিলে শরীরে ব্যাথা হয় যা দৈনন্দিন কাজ কর্মে বাধা তৈরি করে। পাশাপাশি বাজে অনুভূতির সৃষ্টি হয়।

প্রস্রাবের রং পরিবর্তন হয়

শারীরিক পরিশ্রমের পরে যদি প্রস্রাবের রং পরিবর্তন দেখতে পান তাহলে বুঝতে হবে এটা ‘রাহবডোমায়োলাইসিস’ অবস্থার লক্ষণ। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পেশির কোষ রক্তে মিশে যায়।  ফলে কিডনির সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

হৃদপিণ্ডে সমস্যা হতে পারে

জার্মান বিজ্ঞানীদের গবেষণা থেকে জানা গেছে যে, যারা অতিরিক্ত পরিশ্রম করে তাদের হৃদরোগ এবং স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

অনলাইন জার্নাল ‘হার্ট’ -এ প্রকাশিত সুইডিশ বিজ্ঞানীদের এক গবেষণা থেকে জানা যায়, যারা ধ্যানজাতীয় শারীরিক পরিশ্রম করেন তারা বৃদ্ধাবস্থায় হৃদযন্ত্রের অনিয়মিত গতিকে পাঁচ গুণ বেশি উন্নত করতে পারেন।

রজঃচক্রের অনিয়ম ঘটে

অতিরিক্ত পরিশ্রম করা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে রজঃচক্রের অনিয়ম শুরু হতে পারে। যা ‘অমিনোরিয়া’ নামে পরিচিত। এর ফলে ইস্ট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

পরিণতিতে অস্টিওপোরোসিস নামক রোগের সৃষ্টি হয়।

হৃদস্পন্দনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়

হৃদযন্ত্র খুব বেশি চাপে থাকলে এর স্পন্দনের মাত্রা বেড়ে যায়।

সকালে হৃদস্পন্দনের মাত্রা পরিমাপ করা হলে এর পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে পারবেন।

হৃদস্পন্দনের মাত্রা সাধারণের চেয়ে বেশি হলে বুঝতে হবে শারীরিক পরিশ্রম বেশি হচ্ছে।

তিমি কি পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বড় প্রাণী?

তিমি

পৃথিবীর ৪ ভাগের মধ্যে ৩ ভাগ পানিতে পূর্ণ আর ১ ভাগ হল স্থল। সুতরাং স্থলের থেকে পানির প্রাণীরাই বেশি বড় হবে এটাই স্বাভাবিক। সমুদ্র হল পৃথিবীর অমীমাংসিত অধ্যায়। আজ কথা বলব সমুদ্রের সবচেয়ে বড় প্রাণী তিমি নিয়ে। মাটিতে হাতি আর পানিতে তিমিই হল সবচেয়ে বড়। চলুন জেনে আসা যাক।

  • তিমির মধ্যে কয়েকটি প্রজাতি আছে তারমধ্যে নীল তিমি সবচেয়ে বড়। এরা লম্বায় ২৫ থেকে ৩২ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয় অর্থাৎ ৮২ ফুট থেকে ১০৫ ফুট।
  • একেকটা তিমির গড় ওজন ১৪০ টন যা ২৫ টি হাতীর ওজনের সমান। নীল তিমি আসলে নীল নয় এর রঙ কিছুটা ফ্যাকাসে টাইপের। কিন্তু তারা যখন সাগরের পানির নিচে থাকে তখন তাদের দেখতে নীল মনে হয়।
  • তিমির বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী নীল তিমি, খুনে তিমি (killer whale) এবং পাইলট তিমি। বাচ্চা তিমি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ পাউন্ড করে বড় হয়।
  • তিমি সমুদ্রে থাকে কিন্তু পানিতে শ্বাস নিতে পারে না। পানিতে বসবাস হলেও এরা মানুষের মতোই বাতাসে শ্বাস নেয়।
  • মানুষের যেমন প্রতি মুহূর্তে নিঃশ্বাস নিতে হয়, তিমির কিন্তু সেরকম নয়। এরা কম করে হলেও ৩০ মিনিট পর্যন্ত দম না নিয়ে থাকতে পারে।
  • মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় কিন্তু তিমির ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া তার স্বাধীনতায় চলে।

তিমি

  • তিমি যদি ঘুমিয়ে পড়ে এবং সময়মতো না জাগে, তাহলে দম আটকে মারাও যেতে পারে। এই বিপদের সমাধান হিসেবে তিমির মস্তিষ্কের অর্ধেক কিছুক্ষণ ঘুমায়, বাকি অর্ধেক ঘুমায় পরের পালায়। তাদের অন্তত অর্ধেক মস্তিষ্ক সবসময় জেগে থাকে, তাই তারা শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ঘুমের মধ্যেও প্রয়োজনীয় সময়ে ভেসে উঠে।
  • তিমি মাছের ঘুমের এ বিষয়টি বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন ইলেকট্রো এনসেফালোগ্রাফির (ইইজি) মাধ্যমে।
  • তিমি যখন নিঃশ্বাস ছাড়ে তখন সে তার মাথার উপর দুই ছিদ্র দিয়ে পানি ফোয়ারার মত করে ছুঁড়ে দেয় যা ত্রিশ ফুট পর্যন্ত উপরে উঠে।

তিমি

  • তিমি মাছের তুলনায় হাঙর মাছ কত ছোট। হাঙর মাছের কথা ভাবলেই প্রথমে আমাদের দৃশ্যপটে দুই পাটি বিশালাকার দাঁতের ছবি ভেসে উঠে। কিন্তু এত বড় তিমি মাছের দাঁত নেই। দাঁতের বদলে আছে ব্যালিন। ব্যালিন অনেকটা ঝালরের মত উপরের চোয়াল থেকে নিচের দিকে ঝুলে থাকে। একেকটা ব্যালিন ৫০ সেঃ মিঃ থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।
  • তিমির চাবানোর কোন দরকার পরে না। কারণ তিমির খাবার ক্ষুদ্র এক প্রানী নাম ক্রীল। ক্রীল চিংড়ীর মত একপ্রকার সামুদ্রিক পতঙ্গ। এটি লম্বায় সাধারণত আমাদের হাতের ছোট আঙ্গুলের মত হয়ে থাকে। এর রঙ ফ্যাকাসে গোলাপী। উত্তর ও দক্ষিন মেরু অঞ্চলের ঠান্ডা সাগরে কোটি কোটি ক্রীল বসবাস করে।
  • একটি তিমি দিনে প্রায় ত্রিশ মিলিয়ন ক্রীল খায়। যা রাখার জন্য তিনটি বড় ট্রাকের প্রয়োজন হয়।
  • তিমিরা পরষ্পরের সাথে এক ধরণের সুরেলা শব্দ করে যোগাযোগ করে, যা তিমির গান নামে পরিচিত। তিমির বিশালতা ও শক্তিমত্ততার মতোই এদের গানও অনেক জোরালো।
  • হাম্পব্যাক নামে এক প্রাজাতির তিমি আছে, যারা তাদের সুরেলা গানের জন্য সুপরিচিত। স্পার্ম তিমির গান মৃদু গুঞ্জনের মতো শোনায়। তাদের এই গান যা বহু মাইল দূর থেকেও শুনতে পাওয়া যায়।
  • তিমি ১৬৩ ডেসিবেল শব্দ তীব্রতায় ২০,০০০ একুস্টিক ওয়াটে শব্দ তৈরি করে।

ভূতুড়ে যে সব জায়গায় গেলে আপনার রক্ত হিম হয়ে আসবে

ভূতুড়ে

ছোটবেলায় ভূতের ভয় দেখিয়ে বাবা-মা ঘরে আটকে রাখতেন অথবা খাবার খাওয়াতেন। বড় হয়ে সেই ভূতের ভয় এখন আর নেই। বিজ্ঞানের আলোয় সেই ভয় এখন আর হয়তো করে না আমাদের। এখন কিছু ভূতুড়ে জায়গা আছে যার কোন ব্যাখ্যা নেই।

এই অসংজ্ঞায়িত জায়গা আর কাহিনী সম্পর্কে আজ কিছু জানব আমরা।

ভূতুড়ে ভাঙ্গার দুর্গ, ইন্ডিয়া

এটি ইন্ডিয়ার রাজস্থানের পাশে অবস্থিত। এখানকার মানুষের মুখে শোনা যায় এই জায়গাটির ওপর নাকি অনেক অভিশাপ আছে। কোন এক পুরনো ঋষি এই জায়গারটির উপর অভিশাপ দিয়েছিল যে যারা এখানে মারা যাবে তাদের আত্মা সারা জীবন এইখানে বন্দি থাকবে।

সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে এখানকার কোন বাড়ির ছাদ নেই আর সব গুলা বাড়ির ছাদ তৈরি করার সময় নাকি সেগুলো ভেঙ্গে পড়ে। সন্ধ্যার পড়ে এখানে যে পর্যটকরা গেছে তারা আজ পর্যন্ত ফিরে আসেনি আর এখনকার সরকার সন্ধ্যার পর সেখানে যেতে পুরোপুরি মানা করে দিয়েছে।

ভূতুড়ে চাঙ্গি বীচ, সিঙ্গাপুর

এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত একটি জায়গা। ‘সোক চিং’ যুদ্ধ সংঘটিত হবার সময় জাপানিরা নিজেদের বিরোধী ভেবে অনেক অনেক নিরীহ চীনা নাগরিককে হত্যা করে।

তারপর তাদেরকে এখানে কবর দেয়া হয় আর সেই থেকে এই জায়গাটি হয়ে ওঠে ভূতুড়ে। এখানে রাত হলে শুরু হয় ভূতুড়ে সব কাণ্ড কারখানা। মনে হয় দূর থেকে কিছু মানুষ কান্না করতে করতে সামনের দিকে এগিয়ে আসছে।

অনেক পর্যটক কিছু না জেনে এখানে রাতের বেলা ঘুরতে আসে আর ফেরার সময় নিয়ে যায় অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতা। এখন পর্যন্ত প্রায় হাজার খানেক মানুষ এমন কান্নাকাটি শোনার কথা স্বীকার করেছে।

আর স্থানীয় লোকজন কেউ এখানে রাতের বেলা ভুল করেও আসে না।

ওহিও ইউনিভার্সিটি, ইউএসএ

ইউনিভার্সিটিটি ইউএসএর সবচেয়ে ভূতুড়েদের মধ্যে অন্যতম। এখানে বহু পুরনো পাঁচটি সমাধি আছে যা কিনা একটি পঞ্চভুজ তৈরি করেছে। আর এখানে অনেক পুরনো একটি মানসিক রোগীদের চিকিৎসা দেবার জন্য ল্যাব ছিল যেখানে তাদের ইলেক্ট্রিক শক দেয়া হতো পরবর্তীতে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। লোকমুখে শোনা যায় যে সন্ধ্যা হবার পর এখানে নাকি অদ্ভুত চেঁচামেচির আওয়াজ শোনা যায়।

আর ভয়ে সেখানে যেতে কেউই সাহস করেনা।

স্ক্রিমিং টানেল, নায়াগ্রা ফলস

কুখ্যাত ভূতুড়ে জায়গার মধ্যে অন্যতম একটি জায়গা এটি। এখানকার মানুষেরা বলে আপনি যদি এই টানেলের ভেতরে একটি ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন জ্বালান তবে একটি আগুনের গোলা টানেলের বাইরে চলে যাবে আর আপনি একটি ছোট্ট মেয়ের চিৎকার দেবার আওয়াজ শুনতে পাবেন যা খুবই ভয়ানক।

এখানকার বাসিন্দারা সব সময় সেখানে যেতে মানা করে।

হাইগেট সমাধিক্ষেত্র,  ইউকে

এটি ইংল্যান্ডের অন্যতম ভূতুড়ে সমাধিস্থল এখানে রাত হলেই শুরু হয় আজব আজব সব কাজ কারবার। মস্তকবিহিন একটি লাশ একবার কবরের ভেতরে ঢোকে আবার বাইরে আসে। তার সর্বাঙ্গে লতাপাতা জরানো থাকে আর গঠন এক্কেবারে অন্যরকম।

সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে এখানকার তাপমাত্রা বাইরের থেকে অস্বাভাবিক ভাবে কম।

প্রাচীন রাম হোটেল, ইংল্যান্ড

আপনি যদি ভুতের ঘটনার অপর একেবারেই বিশ্বাস না করে থাকেন তবে দেখতে পারেন এই হোটেলটি। এখানে সবসময় কেমন যেন স্যাঁতস্যাতে পরিবেশ আর কেমন যেন কদাকার একটি গন্ধে ভরে থাকে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে এই হোটেলটি একটি কবরের উপর তৈরি করা হয়েছে।

আর এখানকার সবারই ধারনা যে এইজন্য এখানকার পরিবেশ এমন ভূতুড়ে।

মন্টে ক্রিস্টো, অস্ট্রেলিয়া

এই বাড়ির মালিক মিসেস ক্রাওলি তার স্বামীর মৃত্যুর পরবর্তী ২৩ বছরে মাত্র ২ বার বাড়ির বাইরে বের হয়েছিল। এবং তার মৃত্যুর পর আজও নাকি তাকে এই বাড়িতে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। এই বাড়ির ভেতর থেকে যারা ঘুরে এসেছে তাদের মুখ থেকে এর সত্যতা মেলে। তারা বলে বাড়ির ভেতরে গেলে মনে হয় কে যেন আয়নার সামনে দাড়িয়ে আছে আবার হুট করে মিলিয়ে যাচ্ছে। তারা আরও বলেন যখন তারা ক্রাওলির ঘরে প্রবেশ করে তখন প্রত্যেকে রূদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির ভেতরে ছিলেন এবং  তাদের মনে হচ্ছিলো যেন তাদের সারা গায়ে কেমন রক্তবর্ণে দেখা দিচ্ছে পরবর্তীতে যখন বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে তখন সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়।

এডিনবার্গ দুর্গ, স্কটল্যান্ড

স্থানীয়দের মতে এই অসাধারণ দুর্গে ভূত দেখা গিয়েছে অনেকবার এবং এখানে যেসব পর্যটক  ঘুরতে এসেছে তারাও এই বিষয়টি স্বীকার করেছে।

জানা যায় ফরাসি যুদ্ধ চলার সময় এখানে বহু বন্দীকে হত্যা করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে এই জায়গাটি হয়ে ওঠে অভিশপ্ত।

ডোমিনিকান হিল, ফিলিপাইনস

সবাই বলে এখানে নাকি যুদ্ধের সময় যারা আহত হতো তাদের চিকিৎসা দেয়া হতো আর চিকিৎসারত অবস্থায় যারা মারা যেত তাদের এখানেই কবর দেয়া হতো। পরবর্তীতে জায়গাটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এখানকার মানুষেরা বলে রাত হলে নাকি এখান থেকে সব অদ্ভুত রকমের শব্দ পাওয়া যায়। কখনো গুলির শব্দ, কখনো মানুষের বাঁচার জন্য আর্তনাদ ইত্যাদি।

ভয়ে এখানে কেউ আসে না। আর যারা টুরিস্ট আসে তারা দূর থকে দেখেই চলে যায়।

বেরি পোমেরয় দুর্গ, টোটনেস

এই জায়গাটি যতটা সুন্দর ততটাই ভয়ংকর, এমনটা শোনা যায় প্রায় চৌদ্দ শতক আগে এখানে একটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। কিংবদন্তী অনুসারে,  হোয়াইট লেডি হলেন মার্গারেট পোমেরয়ের আত্মা যিনি বন্দি অবস্থায় অনাহারে মৃত্যুবরণ করেন আর তাকে বন্দি করেছিল তারই হিংসুটে বোন।

এই দুর্গের অনেক জায়গায় তাকে ঘুরতে দেখা যায়। এবং অনেকেই এই অভিযোগটি করেছেন।

বিদেশী ভূতের গল্প তো অনেক শুনলেন। এবার আসুন আমাদের দেশীয় কিছু ভূতুড়ে জায়গার কাহিনী জেনে আসি।

চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গার আলিয়াপুর নামক গ্রামে নাকি প্রতি আমাবস্যায় রাত ১২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত একদল কুকুর দলবেঁধে গ্রামটি ঘিরে চক্কর দেয়। অনেকেই সেই কুকুরের দলকে দেখতে পেয়েছেন।

আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, তারা শুধুমাত্র আমাবস্যার রাতেই উপস্থিত হয় এবং সারা মাসে তাদের আর দেখা যায় না। কয়েকজন যুবক মিলে একবার রাত করে তাদের দেখার জন্য প্রস্তুতি নেয়। তাদের মাঝে ২ জন কুকুরের কামড়ে মারাত্মক ভাবে আহত হয়।

যুবকদের প্রায় সকলেই একই স্বীকারউক্তি দেয় যে, সেই সব কুকুরগুলো কালচে বর্ণের ছিলো, কারণ অন্ধকারে তাদের স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না।

তারা একটা ছন্দ মিলিয়ে এক লাইনে হাঁটছিলো এবং তাদের প্রত্যেকের চোখ থেকেই এক প্রকার নীলচে আভা বের হচ্ছিল।

ভূতুড়ে পুরান ঢাকা

পুরান ঢাকাতে কিছু মিষ্টির দোকান আছে যেখান থেকে কিছু লোক কয়েকদিন পর পর এসে রাত ৮টার দিকে ১০-১২ কেজি মিষ্টি কিনে নিয়ে যায়। তারা যেই দোকানে ঢুকে সেই দোকানের মালিককে লাইট নিভিয়ে দিতে বলে। অন্ধকারে তারা আসে, অন্ধকারে চলে যায়। এই লোকগুলো আকারে অনেক লম্বা এবং তাদের চেহারা আজ পর্যন্ত কেউ ভালো করে দেখতে পারে নি। ধারণা করা হয়, এরা জীন প্রজাতি। পুরান ঢাকার বেশিরভাগ মিষ্টির দোকানের লোকেরাই উনাদের কথা জানেন।

পুরান ঢাকার একটি গার্লস স্কুলের সামনে দিয়ে নাকি রাত ১২টার পর একটা বউকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। যার পড়নে থাকে লাল পার দেয়া একটা হলুদ শাড়ি।

সে কোথা থেকে আসে এবং কোথায় যায় তা কেউ আজ পর্যন্ত শনাক্ত করতে পারে নি। অনেকেই নাকি বউটাকে দেখেছে।

ভূতুড়ে জায়গা লালবাগ কেল্লা

লালবাগ কেল্লার নিচ দিয়ে অনেক গুলো সুড়ঙ্গ আছে, যেগুলো জমিদার আমলে করা। জমিদাররা বিপদ দেখলে সেইসব পথে পালিয়ে যেতো। তেমনই একটা সুড়ঙ্গ আছে, যার ভেতরে কেউ ঢুকলে তাকে আর ফিরে পাওয়া যায় না। মানে, সে আর ফিরে আসে না। পরীক্ষা করার জন্য একবার ২টা কুকুরকে চেইনে বেঁধে সেই সুড়ঙ্গে নামানো হয়েছিলো।

চেইন ফেরত আসে ঠিকই কিন্তু কুকুর দুটো ফিরে আসে নি।

গদ্রবঙ্গা

বাংলাদেশের সাঁওতাল উপজাতিরা অনেক দেব/দেবীর পুজা করে।। এই সব দেব/দেবীর মাঝে কিছু আছে যারা অপদেবতা। তেমনি এক ধরনের অপদেবতার পুজা করে সাঁওতালরা যাদের “গদ্রবঙ্গা” বলা হয়।

এইসব দেবতারা সাইজে ২-৩ ফিট হয়। চেহারাও ছোট বাচ্চাদের মতো। ওরা বিভিন্ন সাঁওতাল পরিবারেও পালিত হয়ে থাকে। ওদেরকে লালন, পালন, আর পূজা দেয়ার কারণ হলো, এইসব দেবতারা যেইসব পরিবারে পালিত হয় তাদেরকে অনেক ধনী করে দেয়। এইসব দেবতারা অন্য বাড়িঘর থেকে স্বর্ণ চুরি করে তা নিজ পালিত ঘরের মালিককে দেয়। তবে, এর বিনিময়ে তারা যা দাবি করে তা খুবই ভয়ঙ্কর।

স্বর্ণ দেয়ার বদলে এইসব অপদেবতারা যে বাড়িতে পালিত হয়, সেই বাড়ির মালিকের ছোট ছোট ছেলে সন্তানগুলোকে চায়।

তারা এইসব ছোট ছেলেদেরকে মেরে ফেলে (কথিত আছে, খেয়ে ফেলে, কারন সেইসব ছোট বাচ্চাদের আর পাওয়া যায় না)।

আর বাড়ির মালিক যদি তাদের এই চাহিদা পূরণ করতে না পারে, তাহলে “গদ্রবঙ্গা” রা ঐ পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়।

এসব জানার পরও এখনো সাঁওতাল অনেক পরিবারই ধনী হবার লোভে এইসব অপদেবতা পালন করে আসছে।

তেজগাঁও

ঢাকার তেজগাঁও এর মনিপুরীপাড়া এলাকায় একটা পুরনো খ্রিস্টান বাড়ি আছে। এই বাড়িতে ভাড়া থাকা প্রায় সব ভাড়াটিয়াই বিভিন্ন অদ্ভুত বা ভূতুড়ে কাণ্ডকারখানার সম্মুখীন হন। অনেক সময়ই গভীর রাতে(রাত ১-২টার দিকে) বাড়িটার নিচের উঠোনের দোলনায় কাউকে দুলতে দেখা যায়। ঘটনাটি দেখেছেন এমন লোকের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। এছাড়াও বাড়ির ছাদে অনেকসময় নাকি গভীর রাতে কারা হইচই করে। কিন্তু সেই মুহূর্তে ছাদে গেলেও কাউকে দেখা যায় না। এই বাড়িটিকে ঘিরে লোক মনে কৌতূহলের কোনো শেষ নেই। শোনা যায়, উক্ত বাড়িওয়ালার মেয়ে প্রায় ১৬ বছর আগে গলায় ফাঁস দিয়ে নিজ ঘরে মারা যায়।

মেয়েটি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। এই আত্মহত্যার পর থেকেই এমন অদ্ভুতুড়ে কার্যকলাপ শুরু হয়।

ওজন কমাতে খাবার না কমিয়ে এই ডায়েট অনুসরণ করুন

ওজন

বর্তমানের যুগে অধিকাংশ মানুষের অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। সব কিছুর জন্য সময় থাকলেও নিজের শরীরের জন্য আমাদের হাতে কোন সময় নেই।  সময় এসেছে এবার ডায়েট বদলানোর। ডায়েট চার্ট বদলানো মানে খাওয়া কমানো নয়। অনেকের মধ্যে একটা ভুল ধারণা রয়েছে যে, খাওয়া বন্ধ করলে বা কম খেলে ওজন কমে যায়। কিন্তু এমনটা একেবারেই ঠিক না। বরং এতে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। পাশাপাশি ওজন অনেক সময় বেড়ে যায়। তাই খাওয়া না কমিয়ে সঠিক ডায়েটের সাহায্যে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন।

ওজন কমাতে সকালের নাস্তা

সকালের নাস্তাটা খুব বিরক্তিকর একটা কাজ। অনেকে তাই সকালের নাস্তা আর দুপুরের খাবার একসাথেই করে ফেলে। যা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। তাই সকালে নিয়মিত ব্রেকফাস্ট করুন। তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন রোজ অল্প সময়ের জন্য হলেও, সবার প্রথমে কিছু এক্সাসাইজ করার চেষ্টা করুন। যোগাসন ভুঁড়ি কমাতে ও ওজন কমাতে খুবই সাহায্যে করে। যাই হোক এরপর সবার প্রথমে অল্প গরমজলে একটা পাতি লেবু হাফ ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খান। তার ৩০ মিনিট পর হেভি ব্রেকফাস্ট করুন। একটা রুটি, এক বাটি সবজি, দুটো ডিম সেদ্ধ কুসুম ছাড়া ও একটি আপেল বা কলা খান। মাঝে মাঝে রুটি সবজির বদলে ব্রাউন ব্রেড ও হালকা বাটার খেতে পারেন। সব সময় মনে রাখবেন সকালের খাবার খুব গুরুত্বপূর্ণ।

দুপুরের খাওয়া

ওজন কমাতে চাইলে পুরনো বাঙালীর মত মাছে ভাতে রসিয়ে খাওয়া ভুলে যান।

স্যালাড খান একবাটি বা একটা রুটি ও একবাটি ডাল। এসব ভালো না লাগলে এক বাটি সবজি খান হালকা তেলে বানানো।

তবে খেয়াল রাখবেন যা খাবেন পেট হালকা রেখে খাবেন না। পেট ভরে খান।

লাঞ্চের এক ঘণ্টা পর যেকোনো ফল একটা খেতে পারেন।

ওজন বাড়ে রাতের খাবারে

রাতের খাওয়া একদম সিম্পল। রাতে একটা রুটি ও সবজি খেতে পারেন। আর তা না হলে এক বড় বাটি ডাল।

লাঞ্চ আর ডিনারের মাঝে খিদে পেলে ফ্রুট স্যালাড অল্প খেতে পারেন। যাই হোক রাতে একদম হালকা খাওয়া।

ওজন কমাতে যে যে বিষয় খেয়াল রাখবেন

  • নিয়ম করে রাতে ৮ ঘণ্টা ঘুমনো খুবই জরুরি।
  • সকালে ব্রেকফাস্টের আগে অবশ্যই ৩০ মিনিট যোগাসন করুন। আপনার শরীরকে ফিট রাখতে যোগাসন সাহায্যে করবে।
  • ভাত, আলু একেবারে খাওয়া চলবে না। ভাত সপ্তাহে একবার এক থেকে দুই চামচ খেতে পারেন। মাছ, শাক সবজি খান প্রচুর পরিমানে। মাংস সপ্তাহে একদিন খান। তবে শুধু মুরগির মাংস। খিদে পেলে ফল খান। নানা রকমের ফ্রুট জুস খান। তবে রাস্তাঘাটের কাটা ফল বা জুস একদম খাবেন না। যা খাবেন বাড়িতে বানিয়ে খাবেন।
  • নিয়ম মত এসব মানলে দেখবেন ওজন কমতে বাধ্য। তবে খেয়াল রাখবেন শরীরে কোন রকম অস্বস্তি দেখা দিলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে তবেই করবেন।
  • খাবার নিয়ন্ত্রণের সাথে সাথে ব্যায়াম করতে ভুলবেন না।

 

 

বিউটি প্যাক: গরমে আপনার ত্বকে এনে দিবে স্বস্তি

বিউটি

এই গরমে ত্বক নিয়ে আমরা অনেক ঝামেলায় পরে যাই। রোদে ঘুরাঘুরি করার জন্য তৈরি হয় কাল দাগ, তৈলাক্ত ত্বক হলে তো আর কথাই নেই। তাই এই গরমে ত্বকের জন্য চাই কিছু যত্ন। বাসায় তৈরি করে ফেলুন কিছু বিউটি ফেস প্যাক। অতিরিক্ত কাজের চাপ, নানা রকমের চিন্তা ভাবনা, মানসিক চাপ এবং রাতে ঠিকমতো ঘুম না হওয়া এগুলো আমাদের শরীরের সাথে সাথে আমাদের ত্বকের ওপর প্রভাব ফেলে।

চন্দগুঁড়ার ফেস স্ক্রাব

চন্দগুঁড়া, স্যাফরন ও গোলাপজল একসঙ্গে মিশিয়ে একটা প্যাক তৈরি করে নিন। মুখ পানি দিয়ে ধুয়ে এই প্যাক মুখে লাগিয়ে আলতো করে ম্যাসাজ করুন।

এরপর ১০ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

এতে মুখের দাগ-ছোপ, সানট্যান দূর করে ত্বক করে তুলবে ঝকঝকে।

হলুদের ফেস স্ক্রাব

১ টেবিল চামচ চলের গুঁড়া, এক টেবিল চামচ ময়দা, আধা টেবিল চামচ হলুদের গুঁড়া এবং পরিমাণ মতো ঠাণ্ডা দুধ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন।

প্যাকটি মুখে ও গলায় দিয়ে ম্যাসাজ করুন।

২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক ত্বক পরিষ্কার করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

আমন্ড ফেস স্ক্রাব

৪-৫টা বাদাম সারা রাত ভিজিয়ে রেখে সেটা ভালো করে পেস্ট করে নিন। এই পেস্টে দুধ মিশিয়ে আঙ্গুলের ডগা দিয়ে মুখ এবং গলা ভালো করে ম্যাসাজ করুন। কিছুক্ষণ পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এটা ত্বকের পুষ্টি জোগায় এবং ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে।

পেঁপের ফেস স্ক্রাব

কয়েক টুকরা পাকা পেঁপের সঙ্গে সামান্য চিনি মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন। এরপর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে প্যাকটি মুখে ও গলায় মেখে নিন।

১৫ মিনিট পর পানি দিয়ে ভালো করে মুখ ধুয়ে নিন। প্যাকটি ত্বক ময়েশ্চারাইজ করে ত্বককে করে তুলতুলে। মুখে বয়সের ছাপ জনিত রেখা, রোদের ট্যান ও উজ্জল ত্বকের জন্য ফেসিয়াল করার সময় আলুর ফেস প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। আলু ভিটামিন সি, ভিটামিন এ ও ভিটামিন বি এছাড়া পটাসিয়াম, আয়রন ও প্রোটিন এ পরিপূর্ণ। তাই এটি আমাদের ত্বকের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী।

একটি মাঝারি মাপের আলুকে বেটে পেস্টের মত করে নিন।

এবার তার সাথে ১/২ কাপ টক দই মিশিয়ে আলুর ফেস প্যাকটি বানিয়ে নিন।

বিউটি ফেস প্যাক- ডিম

এই ফেস প্যাকটি ব্যবহার করার কিছুদিনের মধ্যেই আপনি সুফল পেয়ে যাবেন।

১ টি ডিমের সাদা অংশ, ১ চা চামচ ব্যাসন ও ৩-৪ ফোটা লেবুর রস ভালো করে একসাথে মিশিয়ে নিন।

ডিমের সাদা অংশ আমাদের ত্বকের মাংশ পেশীকে টানটান করে ফলত মুখের চামড়া টানটান থাকে।

শসার ফেস প্যাক  

শসা আমাদের ত্বকের জন্য অত্যন্ত ভালো ফেসিয়াল করা ছাড়াও এই ফেস প্যাকটি প্রতিদিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

এটি আমাদের ত্বক ঠান্ডা রাখে এবং নমনীয়তা প্রদান করে ফলত ত্বকের রুক্ষতা দূর হয়। শসা ভালো করে ধুয়ে কেটে কষ ফেলে দিতে হবে।

এবার মিক্সিতে ভালো করে বেটে পেস্ট মত তৈরী করে তার সাথে ১-২ চামচ এলোভেরা জেল মিশিয়ে নিতে হবে।

বিউটি প্যাক- গোলাপের পাপড়ি, চন্দন ও দুধ

১০–১৫ টি তাজা গোলাপের পাপড়ি, ২-৩ চামচ চন্দন পাউডার, ২-৩ বড় চামচ জল একসাথে বেটে নিতে হবে।

এটি আমাদের ত্বকের জেল্লা বাড়িয়ে তুলতে এবং স্কিন টোন হালকা করতে অত্যন্ত কার্যকরী।

এই ফেস প্যাকটি সপ্তাহে ২-৩ প্রয়োগ করা যেতে পারে।

হিট স্ট্রোক হতে পারে আপনার প্রিয় বন্ধু কুকুরটির

হিট স্ট্রোক

কুকুরের লোম কুকুরকে সুরক্ষিত রাখে। কিন্তু আমাদের মত দেশে কুকুরের অতিরিক্ত লোম অর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। দীর্ঘ কয়েক দশকের মধ্যে এবার সবচেয়ে গরম পড়েছে। একবার ভাবুন আমাদের যদি এমন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা হয় তাহলে ওদের কি হাল হয়। তাই যারা কুকুর পালেন তাদের জন্য এটা জানা খুব জরুরি যে হিট স্ট্রোক- এর লক্ষণ কি কি? কিভাবে তখন কুকুরটিকে বাঁচাবেন? আর কি করে এর প্রতিকার করা যায়? আসুন জেনে নেই।

হিট স্ট্রোক- এর লক্ষণ

  • শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকা
  • মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা পড়া
  • নাক ভেজা থাকা (কুকুরের নাক দিয়ে ঘাম বের হয়)
  • নিল-বেগুনি অথবা উজ্জ্বল লাল রঙের মাড়ি, টিস্যুতে ঠিক মত অক্সিজেন না যাওয়াতে এমনটা হতে পারে।

হিট স্ট্রোক

হিট স্ট্রোক- এ তাৎক্ষণিক চিকিৎসা

  • আপনার কুকুরকে দ্রুত ঠাণ্ডা করুন। সারা শরীরে ঠাণ্ডা পানি দিন। বরফ পানি দেবেন না তাহলে আবার হিতে বিপরীত হতে পারে। দ্রুত করতে গিয়ে আবার কানে যেন পানি না যায় সে দিকে খেয়াল রাখবেন।
  • কুকুরটির সারা শরীর ভেজানোর পর বাতাস করুন। ফ্যান অথবা এসির সাহায্য নিতে পারেন। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে ভেজা কাপড় দিয়ে কুকুরটির শরীর ঢেকে রাখতে পারেন এতে করে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করবে। যেই যানবাহনে যাবেন খেয়াল রাখবেন যেন ঠিক মত বাতাস আসা যাওয়া করতে পারে।
  • যদি আপনার কুকুর পানি পান মত ক্ষমতা রাখে তাহলে বেশি করে পানি পান করান।
  • কুকুরের হিট স্ট্রোক একটি ভয়াবহ সমস্যা। এর কারণে কুকুর ব্রেইন স্ট্রোকও করতে পারে। যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের শরণাপন্ন হউন।

হিট স্ট্রোক- এর প্রতিকার

  • আপনার কুকুরকে কখনই একা গাড়িতে আটকে রাখবেন না। একটি বদ্ধ গাড়ি ৪৫-৫০ ডিগ্রী তাপ উৎপন্ন করতে পারে। এই তাপমাত্রায় আপনার কুকুর ডিহাইড্রেট হতে পারে, হিট স্ট্রোক অথবা ব্রেইন স্ট্রোকের শিকার হতে পারে। কারণ এই অতিরিক্ত তাপ ওর সহ্য হবে না। তাই আপানার গাড়ির বাইরে যেতে হলে আপনার কুকুরটিকে সাথে করে নিয়ে যান। ওরা খুব লক্ষ্মী হয়, আপনাকে এত বিরক্ত করবে না আশা করি।

হিট স্ট্রোক

  • আপনার কুকুরটি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। পানির পাত্র যেন সব সময় পূর্ণ থাকে সেদিকে খেয়াল করুন। পানির পাত্র এমন জায়গায় রাখুন যেখানে তাপমাত্রা কম। কুকুরের একটি বাজে অভ্যাস আছে, এরা পানির পাত্র উল্টে ফেলে। তাই কয়েকটা জায়গায় পানির পাত্র রাখুন।
  • আপনি যখন আপনার কুকুর নিয়ে বাইরে যাবেন তখন ওর জন্য অবশ্যই পানি নিয়ে যাবেন এবং পানি পান করার জন্য একটি পাত্র নেবেন। যত বেশি পানি খাওয়াবেন আপনার কুকুর তত ভাল থাকবে। পানি পান করাতে কখনই কার্পণ্য করবেন না।
  • গরম বেশি হলে সেদিন বেশি খেলাধুলা করবেন না। বাইরের হাঁটতে যাবেন না আপনার কুকুরকে নিয়ে। এই গ্রীষ্ম করলে যত পারেন আপনার কুকুরকে ঠাণ্ডা জায়গায় রাখুন।
  • বেশীক্ষণ পায়ে জুতা অথবা অন্যকিছু পড়াবেন না। কারণ কুকুর পায়ের পাতা, নাক দিয়ে ঘাম বের করে।

 

বিড়াল সম্পর্কে সব কিছু জানেন কি?

বিড়াল

তুলতুলে আরামপ্রিয় প্রাণী মানেই বিড়াল। খুব কম মানুষ আছেন যারা বিড়াল ভালবাসেন না। নানা জাতের বিড়াল আছে পৃথিবীতে কিন্তু এদের বৈশিষ্ট্যগুলো কিন্তু একই রকম। আপনার ঘরে এমন কোন বন্ধু থাকলে অবশ্যই তার ব্যাপারে জানা উচিত। তাহলে দেরী না করে চলুন জেনে আসি বিড়ালের অজানা মজার তথ্য গুলো।

বিড়াল মাটিতে গড়াগড়ি দেয়

বিড়াল যদি মেঝেতে খুব গড়াগড়ি খায় তখন আপনাকে বুঝতে হবে সে এই মুহূর্তে কিছুটা সময় চাচ্ছে এবং খেলতে চাচ্ছে। অনেক বিড়াল তার মনিবের বাইরে যাবার সময় এমনটি করে থাকে যাতে তাকেও সাথে নেয়া হয় অথবা মনিব বাইরে না যায়। এটা দৃষ্টি আকর্ষণ করার একটি সুন্দর পদ্ধতি। এই জন্য অরা এত আদুরে।

বিড়াল খাবার পুরোটা খায় না

বিড়াল একসাথে সবটুকু খাবার শেষ করে না। অনেক সময় ধরে খেয়ে খাবারের কিছু অংশ বাঁচিয়ে রাখে। মজার ব্যাপার হলো এমনটি সে তার মনিব থেকেই শিখে। যে সকল বাড়িতে মনিব তার বেঁচে যাওয়া খাবার থেকে বিড়ালকে খেতে দেয়, সেই সকল বাড়িতেই বিড়ালগুলো নিজের খাবার মনিবের জন্য বাঁচিয়ে রাখতে শেখে।

বিড়াল কেন ঘাস খায়

বিড়াল সাধারণত মাংসাশী প্রাণী। কিন্তু যখন ঘাস পাতা খেতে শুরু করে তখন খুব অদ্ভুত লাগে তাই না? আসলে বিড়ালের ঘাস খাবার পেছনে কারণ হলো এরা ঘাস থেকে এক ধরণের ভিটামিন পায়। যা এদের হজম শক্তি ভাল রাখে। কখনো কখনো নিজের গা চুলকাতে গিয়ে মুখে জড়িয়ে যাওয়া পশম ছাড়াতেও এরা ঘাসের সাহায্য নেয়।

বিড়াল কেন ঘষাঘষি করে

অনেক সময় দেখা যায় বিড়াল তার পা আরেক বিড়ালের গায়ে অথবা মেঝেতে পিষছে। এর কারণ হলো তারা অন্য বিড়ালের প্রতি যত্ন বা মমতা দেখায় অথবা নিজের পায়ের রক্তসঞ্চালন ঠিক রাখতে এরা এমন করে থাকে। অনেক সময় বাচ্চা বিড়াল তার মায়ের বুকের দুধ ঠিকমত না পেলে তখন মায়ের গায়ে এভাবে পা ঘষতে থাকে।

বিড়ালেরা ফোনের প্রতি আসক্ত

যারা বিড়াল পালেন, তারা লক্ষ্য করে থাকবেন ফোনটি বেজে উঠলেই বাড়ির বিড়ালটি সবার আগে দৌড়ে ফোনের কাছে চলে যায়। এর কারণ হলো কৌতুহল। এরা বোঝার চেষ্টা করে আসলে ফোনে কীভাবে কথা বলা যায় অথবা কার সাথে কথা বলা যায় কিংবা কাউকে দেখা যাচ্ছে না তবুও মনিব কার সাথে কথা বলছে। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই বিড়াল সাধারণত ফোনের কাছে সবার আগে দৌড়ে যায়। তাছাড়া এরা আরও লক্ষ্য করে যে ফোনে কথা বলার সময় তাদের প্রতি মনিবের মনোযোগ কিছুটা কমে যায়। তাই মনোযোগ কেড়ে নেয়া উৎসটি তারা নিজেরাই এত আগ্রহ নিয়ে দেখে।

বিড়াল সম্পর্কে আপনি এই তথ্যটি শুনলে আপনার মন খারাপ হতে পারে

হয়তো ভাবছেন এ কথাটি কেন বলছি? বিড়াল সারাদিনই নিজের গা হাত পা চাটে। কারণ, মানুষ গায়ে হাত দেয়ার পর বিড়ালরা নিজেদের গা পরিষ্কার করে! মানুষের গায়ের গন্ধ বিড়াল একদম পছন্দ করে না। এবার বুঝলেন, ওদের ক্লাশটা? কেমন যেন একটু লজ্জা-লজ্জা লাগছে তাই না? মন খারাপ করবেন না ওরা এমনি।

এই তথ্যটি নেয়া হয়েছে ‘অসাধারণ জ্ঞান’ বইটি থেকে। বইটি লিখেছেন স্বরূপ দত্ত এবং পার্থ প্রতিম চন্দ্র।

বিড়ালের গোঁফ যখন মাপযন্ত্র

গোঁফহীন বিড়াল দেখেছেন কখনো? গোঁফহীন বিড়াল হয়ইনা, দেখবেন কি করে! গোঁফ দিয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজও করে বিড়াল৷ ছোট্ট গর্ত দিয়ে যেতে চাইলে বিড়াল কিন্তু ওই গোঁফ দিয়েই মেপে নেয়, তারপর ঠিক করে যাওয়ার চেষ্টা করবে কিনা৷ একটা বিশেষ সুবিধাও আছে ওদের৷ কলারবোন নেই বলে মাথাটা গলিয়ে দিলেই হলো, তারপর অনায়াসে চলে যায় গর্তের ওপারে৷

নাক করে জিভের কাজ

মানুষের জিভে ৯ হাজার এমন ধরনের ‘সেন্সর’ আছে যেসবের কাজই হলো খাবারের স্বাদ পরীক্ষা করা৷ বিড়ালের জিভে সেরকম সেন্সর মাত্র ৪৭৩টি৷ ফলে স্বাদ বোঝার কাজে তাদের জিভ অনেক কম কার্যকর৷ বিড়াল তাই বাধ্য হয়ে খাবারে স্বাদ বোঝে নাক দিয়ে গন্ধ শুঁকে৷

বিড়ালের নাকের ছাপ

বিড়াল নাকি গোঁফ দিয়ে চেনা যায়? যারা বলেন, ভুল বলেন৷ প্রতিটি মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ যেমন একেবারে আলাদা, সেরকমই বিড়ালের নাক৷ একেক বিড়ালের একেকরকম নাক৷ সুতরাং সব কিছু কাকতালীয়ভাবে যদি কখনো মিলেও যায়, তবু দুটো বিড়ালের নাক কখনো হুবহু একরকম হতে পারেনা৷ কিছু না কিছু পার্থক্য থাকবেই৷

বিড়াল মানুষের রক্তচাপ কমাতে পারে

গায়ে হাত বোলালে বা কোলে নিয়ে আদর করলে বিড়াল যে আহ্লাদ করে ঘরঘর আওয়াজ করে, সেই আওয়াজ শুনলে নাকি মানুষের উচ্চ রক্তচাপ কমে যায়৷ এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে এটা৷

অন্ধকারে দেখে ভালো

অন্ধকারে খুব ভালো দেখে বিড়াল৷ কোনো কিছু পরিষ্কার দেখার জন্য মানুষের যতটা আলোর প্রয়োজন তার ছয় ভাগের একভাগ আলোতেই সেই বস্তুটি পরিষ্কার দেখতে পারে বিড়াল৷

সবচেয়ে বড় চোখ

পৃথিবীর সব প্রাণীর মধ্যে শরীরের অনুপাতে বিড়ালের চোখই সবচেয়ে বড়৷ হাতি খুব বড়, তিমি মাছও বিশাল, তাদের চোখ কিন্তু শরীরের অনুপাতে বিড়ালের তুলনায় অনেক ছোট৷

বিড়ালের যত ডাক

মানুষের মতো বিড়ালও কিন্তু একেক দেশে একেক ভাষায় কথা বলে, অর্থাৎ বিড়ালের ‘মিঁউ, মিঁউ’ নাকি সবদেশেই একরকম নয়৷ তাই কাটালুনিয়া বিড়ালরা ডাকলে সেই ডাক শোনায় ‘মিঁউ’-এর মতো, ক্যান্টনের বিড়াল ডাকে ‘মাও, মাও’, ডেনমার্কের ‘মিয়াভ’, নেদারল্যান্ডসের ‘মিয়াউ’, ইংল্যান্ডের ‘মিয়ো’, ফ্রান্সের ‘মিয়াও’, গ্রিসের ‘নাইউ’ এবং জাপানের বিড়ালের ডাক নাকি ‘ন্যায়ান, ন্যায়ান’-এর মতো শোনায়৷

 

এই গরমে আপনার চার পেয়ে বন্ধু কুকুরটির যত্ন নিচ্ছেন তো?

কুকুর

প্রাণীকূলে মানুষের সাথে সবচেয়ে ভালো বন্ধুত্ব হয় কুকুরের। কুকুরের চেয়ে বিশ্বস্ত প্রাণী আর একটি পাবেন না। এদের প্রভু ভক্তের নানা ধরণের নজির রয়েছে।

আমাদের দেশে অনেক পরিবার আছে যারা ঘরে কুকুর পালেন। আমাদের দেশে সব জাতের কুকুর ভালো থাকতে পারে না।

প্রচণ্ড গরমে আমাদের অবস্থা যেমন  নাজেহাল হয়ে যায়  ঠিক তেমনি খারাপ  অবস্থা হয় বাড়ির পোষা কুকুরেরও। তাই শুধু কুকুর নয়, বাড়িতে পোষা অন্যান্য প্রাণীর যত্নও নেয়া উচিত।

পানি

কুকুরের পানির বাটি ভরা আছে কিনা সে দিকে সব সময় নজর রাখুন। আপনি যেমন গরমে কিছুক্ষণ পর পর পানি খোঁজেন আপনার কুকুরটিরও এমন অবস্থা হয়।

এ গরমে ওদের তৃষ্ণা পাবে এবং তাড়াতাড়ি পানি শেষ করে ফেলবে।

তাই কখনই যেন বাটির পানি শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে ওরা যেন পানিকষ্টে না পড়ে।

ওদের পানির বাটিতে কয়েকটা আইস কিউব ফেলে রাখতে পারেন। বাইরে হাঁটাতে নিয়ে বের হলে অবশ্যই ওদের জন্য সঙ্গে পানির বোতল রাখুন।

হাঁটা

কুকুরের স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য এবং ওদের মল-মূত্র ত্যাগ করার জন্য প্রতি দিন রাস্তায় হাঁটতে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

চেষ্টা করুন একদম সকালে যখন রোদের তাপ কম থাকে তখন অথবা সূর্যাস্তের পর হাঁটতে নিয়ে যেতে।

পিচের গরম রাস্তা কিন্তু সূর্যাস্তের পরও গরম থাকে। তাই ওদের মাঠে বা ছায়ায় হাঁটানোর চেষ্টা করুন।

খেয়াল রাখুন ওদের মল মূত্রের কারণে কেউ যেন বিরক্ত বোধ না করে। রাস্তার মাঝখানে করলে মল সরিয়ে রাখুন।

পেট ঠান্ডা

গরমে পেট গরম হয়ে যেমন আমাদের সমস্যা হয় তেমনই ওদেরও হয়। মেঝেতে ওরা যেখানে বসে সেখানে ভেজা তোয়ালে বিছিয়ে দিন। এতে ওরা আরাম পাবে। বার বার ঘর মুছেও দিতে পারেন ভেজা কাপড় দিয়ে।

দেখবেন ওরা ভেজা মেঝতে বসতেই বেশি পছন্দ করবে। তাছাড়া আপনার ঘরটিও ঠাণ্ডা থাকবে।

টিকা ও চিকিৎসা

কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া আবশ্যক। জলাতঙ্ক ছাড়া আরও সাতটি গুরুতর রোগবালাই কুকুরকে আক্রমণ করতে পারে। এ জন্য প্রতিবছর একটি করে টিকা দেওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া যেকোনো রোগবালাই দেখা দিলে নিকটস্থ পশু চিকিৎসালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।

পুরান ঢাকার ফুলবাড়িয়ায় আছে কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতাল। মোহাম্মদপুরের বছিলায় আছে অভয়ারণ্য। এ ছাড়া গুলশান, ধানমন্ডি ও উত্তরায় কিছু বেসরকারি ক্লিনিক রয়েছে।

ক্লিনিকগুলোতেও টিকাদানের ব্যবস্থা আছে। আপনার প্রিয় প্রাণীটির জন্য সবসময় সচেতন থাকুন এবং ওকে ভালো রাখুন।

নিম্নের লক্ষণগুলো খেয়াল রাখুন

বার বার হাঁপিয়ে ওঠা, পিঠ গরম হয়ে যাওয়া, ঢুলুঢুলু চোখ- এগুলো ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ।

আপনার পোষা কুকুরের মধ্যে এ রকম কোনও সমস্যা দেখা দিলেই সতর্ক হয়ে যান।

মনে রাখবেন কুকুরদের গরমে প্রতিক্রিয়া জানানো কিন্তু মানুষদের থেকে আলাদা।

অতিরিক্ত গরমে আপনার কুকুরটি হিটস্ট্রোক করে ফেলতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ব্রেইন স্ট্রোকও করতে পারে।

কুকুর সম্পর্কে  রয়েছে বেশ কিছু মজার মজার তথ্য যা আমরা অনেকেই জানি না।

কুকুর সম্পর্কে কিছু অজানা মজার তথ্য

-মানুষ প্রায় ৩০ হাজার বছর পূর্বে পোষা প্রাণী হিসেবে কুকুরকে নিজেদের সাথে রাখতে শুরু করে।

-বিশ্বের সবথেকে বয়স্ক কুকুরের নাম ছিল ম্যাগি, যা ৩০ বছর বয়সে মারা যায়। অস্ট্রেলিয়ায় ১৯৮৬ সালে জন্ম নেয়া ম্যাগি ১৪ এপ্রিল, ২০১৬ সালে মারা যায়।

– মানুষের রক্তের গ্রুপ চার প্রকারের হলেও কুকুরের প্রায় ১৩ প্রকারের হয়ে থাকে।

– গড়ে ২ বছর বয়সের একটি কুকুরের বাচ্চা যে পরিমাণ বুদ্ধিমান হয় তাতে তা মাত্র ১৫০ টি শব্দ বুঝতে পারে।

-কুকুরের শুধুমাত্র নাক ও থাবা দিয়ে ঘাম বের হয়।

-কুকুরের ঘ্রাণশক্তি মানুষের চেয়ে প্রায় ১০ হাজার গুণ বেশি।

-চীনে প্রতিদিন ৩০ হাজার কুকুর মাংস ও চামড়ার জন্য হত্যা করা হয়।

-যদি কুকুর ডানদিকে হেলে যেতে থাকে তবে বুঝতে হবে সে খুশি আছে। আর যদি বামদিকে হেলে যেতে থাকে তবে বুঝতে হবে সে খুশি নয়।

– কুকুর আপনার পাশে এসে লেজ নাড়ালে বুঝবেন সে কামড়াবে না। বুঝবেন খাবারের আশায় কাছে আসছে।

– কুকুরও মানুষের মত স্বপ্ন দেখতে পারে!

-কুকুর পোষায় আমেরিকার লোকেরা বেশি শখ প্রিয়। সেখানে প্রায় ৭ কোটি ঘরে পোষা কুকুর রয়েছে।

নতুন কোনো ট্যাক্স আরোপ করা হবে না। বাজেট নিয়ে অর্থমন্ত্রী

বাজেট

আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। বাজেট পেশ উপলক্ষে অধিবেশন কক্ষ ছিলো কানায় কানায় পূর্ণ। সংসদ গ্যালারি থেকে ভিআইপি লাউঞ্জের সর্বত্রই ছিল উপচে পড়া ভীড়। বেলা ১২টা ৫৩ মিনিটে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিজের জীবনের দ্বাদশতম বাজেট প্রস্তাবনা পড়া শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

‘সমৃদ্ধ আগামী পথযাত্রায় বাংলাদেশ’-এ শিরোনামের বাজেট বক্তৃতা ৪টা দুই মিনিটে শেষ হয়। বক্তৃতার মাঝে ৩০ মিনিটের জন্য অধিবেশনের বিরতি দেওয়া হয়।

বাজেট বক্তৃতা শেষে পুনরায় নিজ আসনে দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রী সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, ‘আমি পুরো বক্তব্যটি দাঁড়িয়ে দিতে পারিনি। রোজার মাসে অনেক নিয়মও আমি মানতে পারিনি। শুধুমাত্র বয়সের কারণে এটি করতে হয়েছে। এ জন্য সবার কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থী।’

১৭-১৮ এর বাজেটে কিছু পণ্যের ওপর স্থানীয় পর্যায়ে ও আমদানিতে শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও রেগুলেটরি ডিউটি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাবে।

৭ জুন, বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মহিত এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেন।

অগ্রিম ভ্যাট বাড়ছে আমদানিতে

বাজেট

আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম ভ্যাট ও ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট ৪ থেকে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। আমদানিতে এর প্রভাব পড়বে। বর্তমানে প্রায় ১১০০ ধরনের পণ্য আমদানি হয়, যেখানে ভ্যাট দিতে হয়।

ফার্নিচারের দাম বাড়বে

বাজেট

আসবাবপত্র উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে ১ শতাংশ করে ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে আসবাবপত্র উৎপাদন পর্যায়ে ৬ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হয়। আগামী অর্থবছর থেকে তা ৭ শতাংশ হারে প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। আর বিপণন পর্যায়ে ৪ শতাংশ ভ্যাট পরিবর্তন করে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।

পোশাক

বাজেট

বর্তমানে নিজস্ব ব্র্যান্ড সংবলিত তৈরি পোশাক বিক্রিতে ৪ শতাংশ হারে ভ্যাট আছে। সরকার আগামী অর্থবছর থেকে এ খাতে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রস্তাব করেছে। এ ছাড়া স্থানীয় বাজারে বিক্রির জন্য ব্র্যান্ডবিহীন পোশাক পণ্য বিপণনের ক্ষেত্রেও ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ হবে।

ছোট ফ্ল্যাট

বাজেট

ছোট ফ্ল্যাট (১ থেকে ১১০০ বর্গফুট) কেনায় খরচ বাড়তে পারে। আর মাঝারি (১১০১ থেকে ১৬০০ বর্গফুট) ফ্ল্যাট কেনার খরচ কমতে পারে। কারণ বর্তমানে ১ থেকে ১১০০ বর্গফুট পর্যন্ত ফ্ল্যাট নিবন্ধনে ১ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। আর ১১০১ থেকে ১৬০০ বর্গফুট পর্যন্ত ফ্ল্যাট নিবন্ধনে ভ্যাটের হার রয়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে এই দুই ধরনের ফ্ল্যাটের নিবন্ধনে ২ শতাংশ হারে ভ্যাট নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

অবশ্য বড় ফ্ল্যাট (১৬০১ থেকে বেশি) নিবন্ধনের ভ্যাট হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। অবশ্য যারা পুরনো ফ্ল্যাট কিনবেন, তাদেরও খরচ বাড়তে পারে। কারণ নতুন অর্থবছরে পুরনো ফ্ল্যাট পুনঃনিবন্ধনে ২ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে।

 

তথ্যপ্রযুক্তি সেবায় ভ্যাট ৫ শতাংশ হচ্ছে

বাজেট

প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ প্রস্তাব করছেন অর্থমন্ত্রী। এতে এ খাতে ব্যয় বাড়বে। সম্প্রতি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা গ্রহণের মাত্রা বেড়েছে।

ই-কমার্স আসছে ভ্যাটের আওতায়

বাজেট

অনলাইনভিত্তিক যেকোনো পণ্য ও সেবার ক্রয়-বিক্রয় বা হস্তান্তর এ সেবার আওতাভুক্ত হবে। এই ভার্চুয়াল বিজনেস সেবার ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে এবারের বাজেটে।

ট্যারিফ ভ্যালু বাড়ছে অনেক পণ্যে

সরকার দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে ট্যারিফ ভ্যালু নির্ধারণ করে তার ওপর ভ্যাট আরোপ করে। ট্যারিফ ভ্যালু সাধারণত বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম হয়। ফলে একই হারে ভ্যাট আরোপ হলেও আমদানি পণ্যের চেয়ে দেশি পণ্যের ভ্যাট দিতে হয় কম।

আসছে বাজেটে বিভিন্ন পণ্যের ট্যারিফ ভ্যালু যৌক্তিকীকরণের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এতে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে- টমেটো পেস্ট, কেচাপ, সস, বিভিন্ন ফলের পাল্প, ফলের জুস, ব্যবহার অযোগ্য ট্রান্সফর্মার অয়েল, লুবব্লেন্ডিং অয়েল, বিভিন্ন ধরনের পেপার ও পেপার প্রোডাক্ট, কটন ইয়ার্ন বর্জ্য, ওয়েস্ট ডেনিম, স্ট্ক্র্যাপ/শিপ স্ট্ক্র্যাপ, সিআর কয়েল, জিপি শিট, সিআই শিট, রঙিন সিআই শিট, ব্লেড, চশমার ফ্রেম ও সানগ্লাস।

তিনি আরো বলেন, মানুষের স্বস্তি অনেক উচ্চ মাত্রায় আছে। দারিদ্র্য একেবারে দূর করা এত তাড়াতাড়ি সম্ভব নয়। তবে দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আনা গেছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আন্তরিকতায়। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকেই দারিদ্র্য বিমোচনের ওপর জোর দিয়ে আসছে। এজন্য সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনির আওতায় নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যা আগে কোনো দিন হয়নি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আদায় বাড়ছে। তবে তা আশাব্যঞ্জক নয়। রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি যা আশা করা হয়েছিল, তা হয়নি। হয়তো এটা উচ্চাশা ছিল। তবু অনেকটা উন্নতি হয়েছে। বিগত দুই বছরের চেয়ে ভালো হলেও আমার প্রত্যাশা ছিল আরো বেশি। আমি চেয়েছিলাম ২৫-২০ শতাংশ। এটা যদিও বেশি, তবে এটা চাওয়ার পেছনে কারণও ছিল। যারা আয়কর দেন তাদের বেশিরভাগের বয়সই ৪০ এর নিচে। যুব সম্প্রদায় আয়কর প্রদানে অত্যন্ত সচেতন। তারা মনে করে, এটা তাদের দায়িত্ব। এই দায়িত্ববোধ সবার মধ্যে জাগ্রত হলে আমাদের রাজস্ব আদায়ের হার আরো বেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, দিন দিন করদাতার সংখ্যা বাড়ছে। তবে আদায়ের হার আশানুরূপ বাড়ছে না। আমি আশা করছি, আগামী ২০২১ সালের মধ্যে আয়কর মূল্য সংযোজন করের কাছাকাছি চলে আসবে।

২০২০ সাল পর্যন্ত নতুন মূল্য সংযোজন কর কার্যকর করছি না। এটা কর্যকর হলে এ খাতে আয় আরো বাড়বে। বর্তমান মূল্য সংযোজন করের তিনটি স্ল্যাব থেকেই বেশিরভাগ কর আদায় হচ্ছে। এগুলো ৪, ৫ এবং ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর খুব কম আদায হয়। যা আইএমএফের শর্ত ছিল। এসব বিবেচনায় আর একটি স্ল্যাব বসানোর চিন্তা করা হচ্ছে। এটা কত হবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ২০১৮ সাল হবে একটি ভালো বছর। স্বস্তির বছর। আগামী বাজেট হবে গতানুগতিক। নতুন কোনো ট্যাক্স আরোপ করা হবে না।

চালের দাম নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এটা ব্যবসায়ীদের কারণে হয়েছে। এটা হওয়া উচিত না। আমরা চেয়েছিলাম, চালের দাম একটু বাড়ুক। যেন কৃষক দাম কিছুটা বেশি পায়। ৩৮ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে থাকা উচিত ছিল। ব্যবসায়ীরা সেটা ৬০ পর্যন্ত নিয়ে গেছে।

তবে এক্ষেত্রে সরকারের কোনো গাফিলতি নেই বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। তবে দাম শিগগিরই নেমে আসবে বলে জানান তিনি।