ভালোবাসার সাগরে সাঁতরাচ্ছেন কিনা বুঝবেন কি করে?

ভালোবাসার

পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী আর পবিত্র অনুভূতির নাম ভালোবাসা। বাংলায় ভালোবাসা, হিন্দিতে পিয়ার আর উর্দুতে বলা হয় মুহাব্বত। বাবা, মা, ভাই, বোন আর পরিবারকে জন্মের পর থেকেই আমরা ভালোবাসি। কিন্তু মানব জিবনে একটা নির্দিষ্ট বয়সে ভালোবাসার সুরটা যেন পাল্টে যায়। অনেকে তরুণ হওয়ার পরেও এই অনুভূতির সাথে পরিচিত হন না। তাই বুঝতেও পারেন না যে তিনি প্রেমে পরেছেন বা কাউকে ভালবেসেছেন কিনা। তাদের জন্যই আজকের এই লেখা। আশা করি লেখাটি আপনাকে উপকৃত করবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ১- প্রথম দেখা

ভালোবাসার

আপনি প্রথম যেদিন তাকে দেখেছেন সেই দিনের কথা আপনি চাইলেও ভুলতে পারবেন না। সেদিন সে কি পড়ে এসেছিল, কিভাবে কথা বলেছিল, কোন বিষয়ে কথা হয়েছিল সব কিছুই আপনার মনে থাকবে। সেদিনের কথা আজও মনে আসলে আপনার মনে একটা সুন্দর ভালো লাগার অনুভূতি ছড়িয়ে যাবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ২- অবসরে তার স্মৃতি বার বার চোখের সামনে আসবে

ভালোবাসার

একা যখন বসে বই পরছেন তখন হয়ত গল্পের কোন চরিত্র পছন্দ হলে তার সাথে মিলিয়ে ফেলবেন। গান শুনলে তার সাথে কাটানো কোন মুহূর্ত মনে পড়ে যাবে। অবসরে তার কথা ভাবতে আপনার ভীষণ ভালো লাগবে। একা একা হয়তবা তখন হেসেই দিবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৩- সব সময় তাকে সুরক্ষিত দেখতে চাইবেন

ভালোবাসার

আপনার প্রিয় মানুষটি যেন সবসময় সুরক্ষিত থাকে সে ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকতে দেখা যাবে আপনাকে। তার সুবিধা-অসুবিধাটা আপনার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাবে। আপনি চাইবেন তাকে যেন কোনভাবে বিপদ স্পর্শ না করে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৪- গায়ের গন্ধ

ভালোবাসার

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত আপনার পছন্দের মানুষটির গায়ের গন্ধ আপনার অনেক ভালো লাগবে।

এমন হতে পারে তার ঘামের গন্ধ আপনার কাছে খুব প্রিয়। তার ব্যবহৃত জিনিস ব্যবহার করতে আপনার খুব ভালো লাগবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৫- সে অসুস্থ হলে আপনি অনেক বেশি চিন্তিত হয়ে যাবেন

ভালোবাসার

তার ছোট ছোট অসুস্থতা আপনাকে অনেক বেশি চিন্তিত করে ফেলবে। অনেক বার ফোন দিয়ে খোঁজ নেবেন।

যদি তার সাথে কথা বলতে না পারেন তাহলে অন্য কারো মাধ্যমে তার বিষয়ে খোঁজ নেবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৬- তার সামনে নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে চাইবেন

ভালোবাসার

পৃথিবীর অন্য মানুষগুলোর সামনে আপনি কি সেটা আপনার মাথায় আর কাজ করবে না। মাথায় শুধু এটাই থাকবে তিনি আপনাকে কিভাবে দেখছেন।

তার সামনে সব সময় নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৭- মনের সব কথা তাকে বলতে ইচ্ছে করবে

ভালোবাসার

আমাদের মনের ভেতর নানা ধরনের কথা থাকে, সুপ্ত ইচ্ছা থাকে সেগুলো তার সাথে বলতে ভালো লাগবে।

সেটা পূরণ হোক বা না হোক ইচ্ছে করবে তাকে বলতে। তার সাথে আপনার সব পরিকল্পনা ভাগ করতে ভালো লাগবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৮- মানুষটির সাথে সময় পার করলে হিসেব থাকবে না আপনার

ভালোবাসার

অনেক মানুষ আছে যাদের সাথে থাকলে মনে হবে সময় এত বড় কেন? মিনিটকে মনে হয় ঘণ্টার সমান। কিন্তু এই বিশেষ ব্যক্তিটির সাথে সময় কাটালে মনে হবে, সময় অনেক দ্রুত চলে যায়। তার সাথে কথা বলা শেষে ঘড়ি দেখলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৯- অন্য কারো সাথে থাকলে ঈর্ষা অনুভব করবেন

ভালোবাসার

আপনার বিশেষ মানুষটি অন্য কারো সাথে যদি কাজেও একটু ব্যস্ত থাকে তাহলে আপনার ঈর্ষা অনুভূত হবে।

বিপরীত লিঙ্গ হলেই যে সেখানে খারাপ অনুভূতি হবে তা নয়। আপনার মনে হবে এতো টুকু সময় তো আপনার সাথে থাকতে পারতেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ১০- সে যদি আপনাকে নাও ভালোবাসে তবুও তার শুভকামনা করা

ভালোবাসার

সবাই ভালোবাসা চায়, কিন্তু এটা সবার ভাগ্যে থাকেনা। দুর্ভাগ্যবশত আপনার প্রিয় ব্যক্তিটি যদি অন্য কাউকে ভালোবাসে তাহলেও তার প্রতি ভালোবাসা বা শ্রদ্ধা এতোটুকু কমবে না। যদি আপনি তখন প্রতিশোধ নিতে চান অথবা আত্মহত্যার মত ঘৃণ্য কোন পদক্ষেপ নিতে চান তাহলে বলতেই হবে আপনি সত্যিকারের ভালোবাসার দেখা পাননি।

ভালোবাসার লক্ষণ ১১- জীবনকে মনে হবে ছোট আর অনেক দিন বাঁচতে ইচ্ছে করবে

ভালোবাসার

তাকে দেখার পর থেকে মনে হবে জীবন এতো ছোট কেন, এতো দ্রুত সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে কেন। মনে হবে কেন আরও আগে তার সাথে দেখা হল না।

জিবনে তখন বাঁচার কোন কারণ না থাকলেও আপনার খুব বাঁচতে ইচ্ছে করবে। মনে হবে জীবনটা অনেক সুন্দর।

ভালোবাসার লক্ষণ ১২- তার সাথে কোন কথা গোপন রাখতে পারবেন না

ভালোবাসার

কোন কথাই আপনি তার থেকে লুকাতে পারবেন না। তার সাথে কথা ভাগাভাগি করলে আপনি মানসিকভাবে শান্তি পাবেন।

তার বিষয়ে কোন ভুল ধারণা থাকলে অথবা তার বিষয়ে কোন কটু কথা শুনলে তা কখন মনে পুষিয়ে রাখতে পারবেন না।

কারণ আপনি বিশ্বাস করেন সে অনেক ভালো।

আরও অনেক লক্ষণ আছে যেগুলো দিয়ে বোঝা যায় আপনি কাউকে ভালোবাসেন কিনা। আজ কয়েকটি উপায় আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম।

এর ভেতর যদি একটিও মিলে যায় তাহলে কিন্তু আপনি সত্যি সত্যি প্রেমে পরেছেন অথবা অনেক ভালোবাসেন তাকে।

নিজের অনুভূতি সম্পর্কে জানুন। এবং আপনার ভালোবাসার মানুষকে অনেক বেশি ভালোবাসা উপহার দিন।

ডিম নিয়ে যত ভ্রান্ত ধারণা আছে জানতে হলে দেখে নিন

ডিম

শিশু বয়স থেকে ডিমের সাথে আমরা খুব উতপ্রত ভাবে জড়িত। ডিম একটি আদর্শ খাবার। আসুস্থ হলে, পরীক্ষা থাকলে বড়রা বেশী করে খেতে বলে। ছোট্ট একটি ডিম নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার হিসেবে বিশ্বজুড়ে ডিমের ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও ডিম নিয়ে মানুষের মনে রয়ে গেছে অনেক ভ্রান্ত ধারণা। আসুন এই ভুল ধারণা গুলো থেকে এবার বের হয়ে আসা যাক।

ডিম কেনা

অনেকে বলেন বড় শপিং মলের থেকে মুরগীর ফার্ম থেকে ডিম কেনা ভালো । এই চিন্তা করা আসলেই বৃথা। কারণ আপনি যেখান থেকে ডিম কিনুন না কেন এখানে মুরগীর স্বাস্থ্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ডিম অন্ধত্ব দূর করতে পারে না

ডিম চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে দেখে অনেকের ধারণা অন্ধ লোকের চোখের আলো ফেরাতে সক্ষম। কিন্তু এটি মোটেও সত্যি কথা নয়। কারণ চোখের স্বাস্থ্য ভালো  করার উৎস ডিমে রয়েছে তবে এতে অন্ধ মানুষ ঠিক হয়ে যাবে তা আশা করা ভুল।

ডিম ধুয়ে লাভ নেই

বাসায় ডিম আসলেই তা ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে রাখতে বলা হয়। কিন্তু ভালো  করে পানি দিয়ে ধুয়ে কোন লাভ নেই কারণ ডিমের কুসুমেই থাকে সালমনেলা নামের ব্যাকটেরিয়া।

কাঁচা ডিম= বেশী প্রোটিন

অনেকে মনে করেন রান্না করা ডিমের তুলনায় কাঁচা ডিমে বেশি প্রোটিন থাকে। তাই যারা স্বাস্থ্য বাড়াতে চান অথবা জিম করেন তারা কাঁচা ডিম খান। কিন্তু এর কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই। বরং কাঁচা খেলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

হাঁসের ডিম না মুরগীর ডিম

হাঁসের ডিম নাকি মুরগীর ডিমে বেশি প্রোটিন? এই নিয়ে অনেকের অনেক ধরণের মতবাদ রয়েছে। আসলে মুরগীর ডিমে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি ভালো। হাঁসের ডিম অনেক সময় রক্তের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে।

ডিম রক্তের কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে

অনেকে মনে করে থাকেন, ডিম মানুষের রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ উচ্চমাত্রায় বৃদ্ধি করে। পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে সব ধরনের কোলেস্টেরল দেহের জন্য সমান ক্ষতিকর নয়। ‘স্যাচুরেটেড ফ্যাট’ নামক খারাপ কোলেস্টেরল দেহের রক্তচাপ বাড়ায় এবং হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করে। ডিমে এই ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের উপস্থিতি কম। তাছাড়া ডিমের সাদা অংশ ও কুসুমে কোলেস্টেরলের পরিমাণ আলাদা। যারা হৃদযন্ত্র নিয়ে বিভিন্ন সমস্যায় ভোগেন তারা ডিমের কুসুম খাবেন না। ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি। কোলেস্টেরল একেবারেই পরিহার করতে চাইলে ডিমের সাদা অংশ নির্দ্বিধায় খাওয়া যেতে পারে। দিনে দু’টো ডিমের সাদা অংশ দেহের প্রয়োজনীয় প্রোটিন চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে মত দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। যারা ওজন কমাতে চান আর রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশী তারা ডিমের কুসুম পরিহার করুন।

কুকুর যখন মানুষের জীবন দানকারী

কুকুর

কুকুর যে মানুষের কত ভালো বন্ধু তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এই কুকুর যখন নিজের জীবন বিপন্ন করে মনিবকে বাঁচাতে যায় তখন তাকে শুধু বন্ধু উপাধিতে সীমাবদ্ধ করা যায় না। আসুন দেখে নেই এমন কয়েকজন বন্ধুকে।

খান বাঁচালো কারলটের জীবন

কুকুর

খান নামের একটি কুকুর কারলট নামের একটি ১৭ বছর বয়সী শিশুকে বিষাক্ত সাপের কামড় থেকে বাঁচায়।

মজার বিষয় খান মাত্র ৭ দিন আগেই ওদের বাসায় আসে। খানকে দত্তক নেয়া হয়।

ছোট্ট কারলটকে যখন সাপটি কামড় দিতে যাবে ঠিক সেই মুহূর্তে খান ওকে ধাক্কা দেয়। আর বিষধর সাপের কামড় লাগে খানের গায়।

বলে রাখা ভালো সাপটি ছিল কিং কোবরা। মন খারাপ করবেন না। খান বেঁচে যায়। তাকে এন্টি-ভেনম দেয়া হয়।

টাটরটট বাঁচালো মৃত্যুপথযাত্রীর জীবন

কুকুর

এখন যে কুকুররের কথা বলবো ওর নাম টাটরটট। পেটনের মা ক্রিস্টি পরিকল্পনা করলেন টাটরটটকে কিছুদিনের জন্য লালন পালন করবেন।

কয়েক সপ্তাহ পর খেয়াল করলেন যে কুকুরটি তার পরিবারের সাথে অনেক সুন্দর সখ্যতা করে ফেলেছে।

একদিন ক্রিস্টি পেটনকে ঘুম পাড়িয়ে অন্য রুমে বসে ছিল। ১/২ ঘণ্টা পর হঠাৎ করে টাটরটট পেটনের রুমের আশেপাশে দৌড়ানো শুরু করল এবং চিৎকার দিতে লাগলো। ক্রিস্টি কোনভাবেই ওকে থামাতে পারল না, যতক্ষণ না ও পেটনের কাছে গেলো। গিয়ে দেখল পেটন খুব ধীরে শ্বাস নিচ্ছে। দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার বলল পেটনের রক্তে সুগারের মাত্রা এতো বেশী কমে গিয়েছিলো যে ও মারা যেতে পারতো। টাটরটট ক্রিস্টির সবচেয়ে ভালো বন্ধু হয়ে গেলো। ক্রিস্টি বলে, এই কুকুর না থাকলে তার সন্তান হয়তো জীবিত থাকতো না।

কুকুর বাঁচালো সুনামি থেকে

কুকুর

বাবু নামের ১২ বছরের এক শিহতজু কুকুর তার ৮৩ বছরের মালিককে সুনামির হাত থেকে বাঁচায়। এটা এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।

হঠাৎ একদিন বাবু তার মালিককে বাইরে নেয়ার জন্য পাগল হয়ে যায়। এমনিতে বাবু বাইরে যেতে বা হাঁটতে পছন্দ করে না।

কিন্তু সেদিন ও তার মালিককে পাহাড়ে পর্যন্ত জোর করে উঠিয়ে নেয়। ওর মালিক যখন পাহাড় থেকে নিচের দিকে তাকায় তখন দেখে সুনামি এসে তার বাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

তার পোষা কুকুর বন্ধুটির জন্য বেঁচে গেলেন তিনি।

কুকুর মনিবের জীবন বাঁচাতে গিয়ে গুলি খেল

কুকুর

কাইলো নামের ১২ বছরের পিটবুল কুকুর। তার মনিবের বাসায় ডাকাত আসে। কাইলো তার মনিবকে বাঁচাতে ডাকাতদের উপর আক্রমণ করে।

ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় কাইলো ওদের পিছু নেয় তখন ওদের কেউ একজন কাইলোর মাথায় গুলি করে।

অলৌকিক ভাবে কাইলোর মাথায় গুলি লাগলেও তা ঘাড়ের পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। ওর মালিক দ্রুত ওকে হাসপাতাল নেয়।

এবং সৃষ্টিকর্তার দয়ায় কাইলো ৩ দিনের মধ্যে হাঁটতে সক্ষম হয়।

ক্যাটরিনা হ্যারিকেন থেকে বাঁচালো মানুষের জীবন

কুকুর

ক্যাটরিনা নামের কালো লেব্রেডর কুকুর হ্যারিকেনে এক মানুষকে ভেসে যেতে দেখল। মানুষটি ডুবে যাওয়ার আগে তাকে টেনে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায় ক্যাটরিনা। ধীরে ধীরে পানি বাড়তে থাকে। ক্যাটরিনা ততক্ষণ চিৎকার করতে থাকে যতক্ষণ না কোন উদ্ধার কর্মীর দল আসে।

জোজো বাঁচিয়েছে নুমুকে

জোজো নামের একটি বাংলাদেশী কুকুর তার মালিককে গ্যাস বিস্ফোরণের হাত থেকে বাঁচায়। বুদ্ধিমান জোজো সবসময় তাঁর মালিকের সাথেই থাকে। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠার পর নুমু (জোজোর মালিক) যখন জোজোর কাছে যায় তখন জোজো তাকে রান্না ঘরে নিয়ে যায়। নুমু রান্না ঘরে গিয়ে আবিষ্কার করেন গ্যাসের চুলা অন করা। শুধু একটি ম্যাচের কাঠি জ্বললেই সেদিন উড়ে যেতো পুরো বাড়ি। জোজোর এতো বড় উপকারে অনেক অনেক কৃতজ্ঞ নুমু। প্রথম ছবিটি জোজো আর নুমুর।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যেন এক মৃত্যুফাঁদ

ত্রিভুবন

১২ মার্চ ২০১৮ তে নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনাট। নিহত হয়েছে অন্তত ৪৯ জন। এদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন বাংলাদেশী। বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাইলটের সাথে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের কথপোকথনের সময় সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝি, বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি, পাইলটের ভুল ইত্যাদি নানান সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। সঠিক কারণ এখন বের করা সম্ভব হয়নি।

নেপাল দেশটি পর্যটনের জন্য বিখ্যাত। প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ এখানে ঘুরতে আসে পরিবার পরিজনদের নিয়ে। নেপাল আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ হওয়ার দরুন অনেক বাংলাদেশীরাই এখানে ঘুরতে যান।

ত্রিভুবনইউএস বাংলা ফ্লাইট বিএস ২২১ ফ্লাইটে করে যাচ্ছিলেন এমন অনেক ভ্রমণ পিয়াসু মানুষরা। বিমানবন্দরে অবতরণের আগে হয়তো মনে মনে পরিকল্পনা করছিলেন কিভাবে কোথায় ঘুরতে যাবেন। কিছুক্ষণের মধ্যে সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেলো।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বর্ণনা

নেপালের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হচ্ছে ত্রিভুবন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টটি। এই বিমানবন্দর ছাড়াও অনেকগুলো স্থানীয় বিমানবন্দর আছে।

এ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির অবস্থান রাজধানীর কেন্দ্র থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে কাঠমান্ডু উপত্যকায়।

সমুদ্র সমতল থেকে এর উচ্চতা ৪ হাজার ৪০০ ফুট এবং এর রানওয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্য।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিমানবন্দর বলার কারণ

এর চারিদিকে পাহাড়। প্রাকৃতিক কারণে বিমান অবতরণের সময় অনেক সমস্যা দেখা যায়। ঘটে যায় দুর্ঘটনা।

এখানে ‘ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম’ নেই। বিশেষ এই সিস্টেম থাকলে খারাপ আবহাওয়ার কারণে খালি চোখে রানওয়ে দেখা না গেলেও যন্ত্রের সাহায্যে রানওয়ের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

পর্বত ছাড়াও প্রায়ই ঘন কুয়াশা ঘিরে ফেলে ত্রিভুবন বিমানবন্দরকে। এ কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় বিপত্তিতে পড়তে হয় পাইলটদের।

কিন্তু বিমান সংস্থাগুলো লাভের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ এই বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা করে।

এখানে অবতরণের সময় প্রধান বাধা একটি বিশাল পাহাড়, এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮৭০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। নয় মাইল দূরে রয়েছে এই পাহাড়।

এ জন্য এই রানওয়েতে কোনো বিমানই সোজা অবতরণ করতে পারে না। ওই পাহাড় পেরোনোর পরপরই দ্রুত বিমান অবতরণ করাতে হয়।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা নিয়ে ডুমুরফুলের কিছু কথা

ত্রিভুবন

ইউএস বাংলা ফ্লাইট বিএস ২২১ ফ্লাইটটি ধ্বংস হওয়ার কারণ হিসেবে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অনেকাংশেই দায়ী।

কিন্তু ৪৯ টি প্রাণের আলো নিভে যাওয়ার দায়ভার কি ইউএস বাংলার নেই।

১৭ বছরের পুরনো বিমান দিয়ে কিভাবে ত্রিভুবনের মত একটি বিমানবন্দরে এতোগুলো মানুষ পাঠাতে পারে তারা।

নিজেদের লাভ ছাড়া আর কিছুই কি মূল্য রাখে না তাদের কাছে। একই পরিবারের কয়েকজন সদস্য মারা গেছে এই দুর্ঘটনায়।

যারা বেঁচে থাকবেন তারা হয়তো সারা জীবন এই আক্ষেপ করবেন মৃত্যু কেন আমাকে প্রত্যাখ্যান করল।

ইউএস বাংলা আপনাদের কাছে অনুরোধ রইলো এই মানুষগুলোর প্রশ্নের জবাব দিবেন।

স্টিফেন হকিং, হারিয়ে গেলেন সময়ের ব্ল্যাক হোলে

স্টিফেন

পদার্থবিদ্যা, ব্ল্যাক হোল, কোয়ান্টাম ফিজিক্স নিয়ে আলোচনা করলে যার চেহারা আমাদের চোখে ভাসতো সেই শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং আমাদের মাঝে নেই। জীবনের অর্ধশত বছর তিনি দুরারোগ্য এক ব্যাধির সাথে লড়াই করে বেঁচে ছিলেন।

১৪ মার্চ বুধবার সকালে ক্যামব্রিজে নিজ বাসভবনে মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৭৬ বছর। তার পরিবারের মুখপাত্রের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।

এ বছরই ৮ জানুয়ারিতে তিনি ৭৬ বছর বয়সে পা দিয়েছিলেন।

জেনে রাখা ভালো উনার জন্মদিন ছিল গ্যালিলিও’র ৩০০ তম মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে! এবং আইনস্টাইনের জন্মদিন ১৪ মার্চ!!

স্টিফেন হকিং ২১ বছর বয়স থেকেই অসুস্থ ছিলেন

২১ বছর বয়স থেকেই প্রাণঘাতী এএলএস(অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস) রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

দুরারোগ্য এই ব্যাধি হলে অর্ধেক মানুষ তিন বছর বা তার বেশি সময় বাঁচেন।

২০ শতাংশ বাঁচেন ৫ বছরের বেশি। আর ১০ বছরের বেশি বাঁচতে দেখা যায় মাত্র ১০ শতাংশ মানুষকে। কিন্তু স্টিফেন হকিং বেঁচে ছিলেন পরবর্তী ৫২ বছর।

এই রোগ ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের এবং সুষুম্নাকাণ্ডের স্নায়ুকোষ নষ্ট করে ফেলে। ফলে রোগী সময়ের সঙ্গে মোটোর ফাংশন হারায়, কিন্তু কগনিটিভ ফাংশন বজায় থাকে।

অর্থাৎ সে নড়াচড়া করতে পারে না কিন্তু সুস্থ মানুষের মতো চিন্তা করতে পারেন।

খাবার গিলতে সাহায্য করা পেশী কাজ করা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে পুষ্টিহীনতা ও পানিশূন্যতায় মারা যেতে পারেন এই রোগে আক্রান্ত রোগীরা।

স্টিফেন হকিং এর জীবনযাত্রা

কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন ১৯৮৫ সালে। এর পর তিনি কম্পিউটার সিস্টেমের সাহায্যে কথা বলা শুরু করেন।

হকিং নিজের বেশিরভাগ পেশী ব্যবহার করতে অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন। একটি মোটোরাইজড হুইলচেয়ারের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন তিনি।

এমন ভয়ঙ্কর রোগের সাথে বসবাস করেও তিনি জ্ঞান অন্বেষণে ত্রুটি রাখেননি।

স্টিফেন হকিং এর সবচেয়ে বড় সাফল্য

১৯৭০ সালে তিনি সবচেয়ে বড় সাফল্যটি অর্জন করেন। তিনি এবং তার সহ-গবেষক রজার পেনরোজ দেখান একটি মাত্র বিন্দু থেকেই বিগ ব্যাং এর সূত্রপাত এবং সেখানেই আমাদের মহাবিশ্বের জন্ম।

স্টিফেন

মহাবিশ্বের একটি ভয়ঙ্কর আবিষ্কার হল ব্ল্যাক হোল।

তিনি কোয়ান্টাম থিউরি ব্যবহার করে জানান ব্ল্যাক হোল থেকে তাপ উৎপন্ন হয় এবং তা একসময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয় ‘অ্যা ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’ বইটি।

বইটি ২৩৭ সপ্তাহ ধরে সানডে টাইমস বেস্ট সেলার থাকার কারণে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে ঠাঁই পায়।

এখনো এটি পদার্থবিদ্যার অন্যতম জনপ্রিয় একটি বই।

স্টিফেন হকিং এর কিছু উক্তি

সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে

হয়তো সৃষ্টিকর্তা আছেন কিন্তু বিজ্ঞান সৃষ্টিকর্তার প্রয়োজন ছাড়া মহাবিশ্বকে ব্যাখ্যা করতে পারে

নারীর উদ্দেশ্যে

আমার চিকিৎসক সহকারী আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে যদিও আমার পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি আছে, তবুও নারীদের একটি রহস্য থাকা উচিত।

অস্কারজয়ী অভিনেতা এডি যখন তার চরিত্র নিয়ে অভিনয় করেছিলেন

দুর্ভাগ্যবশত, এডি [রেডময়েইন] আমার ভাল চেহারা উত্তরাধিকারী হয়নি।

মৃত্যুর উদ্দেশ্যে

আমি মস্তিষ্ককে একটি কম্পিউটার হিসাবে বিবেচনা করি, যা তার উপাদানগুলি ব্যর্থ হলে কাজ বন্ধ করে দেবে। ভাঙা কম্পিউটারের জন্য কোন স্বর্গ বা পরের জীবন নেই; যে অন্ধকারের ভয় মানুষ পেয়ে আসছে তা শুধু মাত্রই গল্প।

বিজ্ঞানের জগতে তাঁর অবদান কোনদিন নিঃশেষ হবে না। সময়ের ব্ল্যাক হোলে হারিয়ে গেলেন পৃথিবীর উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্কদের একজন।

মসলা চা খেয়েছেন কখন? বাসায় চেষ্টা করে দেখুন

মসলা

দারজিলিং-এর মসলা চা সম্পর্কে শোনেনি এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম। কিন্তু খেয়েছেন কয়জন। তাই আপনাদের সামনে আজ হাজির করছি বিখ্যাত চায়ের রেসিপি। বলা হয়ে থাকে স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী এই পানীয়টি

মসলা চায়ের উপকরণ

দারুচিনি- ১ টুকরা

এলাচি- ৫ টি

লবঙ্গ- ৫ টি

কালো গোলমরিচ- ৩ টি

পানি- ৪০০ মিলি

আদা- ১/২ চা চামচ

কড়া চা পাতা- ২ টেবিল চামচ

দুধ- ২০০ মিলি

রাম(একধরণের পানীয়)- ৬ থেকে ৭ মিলি

মসলাচায়ের প্রণালী

ক) আদা ছাড়া সব মসলা এক সাথে গুড়া করুন।

খ) একটি পাত্রে পানি ফুটতে দিন। এখন ফুটন্ত পানিতে চা ও আদাসহ সব মসলাগুলো দিয়ে দিন। এভাবে ৬/৭ মিনিট রাখুন।

গ) দুধ আর রাম একসাথে যোগ করুন। এভাবে ১ মিনিট রাখুন।

ঘ) চা কাপে পরিবেশন করার পর উপরে হাল্কা গুড়া মসলাগুলো ছিটিয়ে দিন।

গরম গরম উপভোগ করুন।

উপকারিতা

মশলা চায়ে ব্যবহার্য সকল মশলাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন। শুধু গরম মশলার ব্যবহার যেন এক কাপ চা পানের উপকারিতা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। চায়ে ভেষজ বা মশলা ব্যবহারের ফলে এরা পরিপাকে সাহায্য করে।এতে অল্প মাত্রায় ক্যাফেইন থাকে বলে সাধারণ দুধ চা অপেক্ষা এই চা কম ক্ষতিকর। মৌসুমি সর্দি ও কাশি প্রতিরোধেও এই চা অত্যন্ত চমৎকার কাজ দেয়। মশলা চায়ে একই সঙ্গে হরেক রকম মশলার উপস্থিতি হতে পারে আপনার নানাবিধ সমস্যার সমাধান।
মশলা চা গরম বা ঠান্ডা অবস্থায় পান করা যেতে পারে। তবে গরম অবস্থায় পান করাই শ্রেয়। সুস্বাস্থ্যকর এই মশলা চা তৈরি করা বেশ সহজ। আসুন জেনে নেই অল্প সময়ে কিভাবে মশলা চা তৈরি করা যা।

জার্মানির বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ১৬ জন মহিলার উপর একটি গবেষনা করেন ।তাদের প্রত্যেককে একবার করে রঙ চা, দুধ চা এবং শুধু গরম পানি পান করতে দেয়া হয় এবং প্রতিবার-ই আল্ট্রাসাউন্ড পদ্ধতিতে তাদের রক্তনালীর প্রসারন মাপা হয়।এতে দেখা যায় যে, রঙ চা রক্তনালীর প্রসারন ঘটায় যা উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রনের জন্য অত্যন্ত জরুরী। চায়ের মধ্যে থাকা ক্যাটেচিন এর জন্য দায়ী। দুধের মধ্যে থাকা ক্যাসেইন নামক একটি পদার্থ চায়ের মধ্যে থাকা ক্যাটেচিন কে বাধাগ্রস্থ করে ফেলে। ফলে চায়ে দুধ মেশালে চায়ের রক্তনালী প্রসারনের ক্ষমতা একবারেই চলে যায়।রঙ চা উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রনে অত্যন্ত কার্যকরী কিন্তু দুধ চা নয়।চা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও দেহের জীবকোষের ক্ষয় রোধ করে। কিন্তু চায়ে দুধ মেশালে এর কিছু গুন কমে যেতে পারে।

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ১০ টি মসজিদ, না জেনে নিলে ভুল করবেন

মসজিদ

মসজিদ শব্দটি আরবি ভাষা থেকে এসেছে। শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে যেখানে সিজদা করা হয়। এই সিজদা শব্দটির মানে হচ্ছে শ্রদ্ধাভরে মাথা নত করা। মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা এক আল্লাহ্‌ ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করেন না। সুতরাং বুঝতেই পারছেন মসজিদ কতটুকু গুরুত্ববহন করে। পৃথিবীতে নানান সুন্দর স্থাপনার মধ্যে মসজিদও আছে। ওয়ান্ডারলিস্ট প্রতিষ্ঠানটি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ১০ টি মসজিদের একটি তালিকা বের করেছে। চলুন দেখে আসি।

১০। সুলতান মসজিদ, সিঙ্গাপুর

মসজিদ

১৮২৪ থেকে ১৮২৬ সালে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। এই মসজিদটি সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় মসজিদ।

বড় এবং সুন্দর মসজিদ হিসেবে সুলতান মসজিদের বেশ পরিচিতি রয়েছে। জুম্মাবারে এই মসজিদে নামাজ আদায় করার জন্য প্রায় সব সিঙ্গাপুরী মুসলিমরা ভিড় করে।

বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদের তালিকাতে দশম স্থানে রয়েছে মসজিদটি।

৯। বাদশাহি মসজিদ, পাকিস্তান

মসজিদ

পাকিস্তানের লাহোরের কেন্দ্রীয় মসজিদ হিসেবে বেশ খ্যাতি রয়েছে এই মসজিদটির। মসজিদটি পাকিস্তানের রাজকীয় একটি স্মারক।

সম্রাট আওরঙ্গজেব ১৬৭১ সালে মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। এই মসজিদটি পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহৎ ও এশিয়ার পঞ্চম বৃহৎ মসজিদ হিসেবে স্বীকৃত।

আর বিশ্বের সবেচেয়ে সুন্দর মসজিদের তালিকাতে নবম স্থানে রয়েছে বাদশাহি মসজিদ।

৮। তাজ-উল-মসজিদ, ভারত

মসজিদ

এশিয়া মহাদেশের অনত্যম সুন্দর এই তাজ-উল-মসজিদ। ভারতের ভুপালে মসজিদটি অবস্থিত। এখানে বিরাট ইসলামী শিক্ষালয় গড়ে উঠেছে মসজিদকে কেন্দ্র করে। বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদের তালিকার অষ্টম স্থানে রয়েছে এই মসজিদটি।

৭। ফয়সাল মসজিদ, পাকিস্তান

মসজিদ

সপ্তম স্থানে আবার পাকিস্তানের একটি মসজিদ স্থান করে নিয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মসজিদের তালিকাতে চতুর্থ স্থান অধিকারী এই ফয়সাল মসজিদ।

সৌদি আরবের বাদশাহ ফয়সালের নাম স্মরণে এই মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অবস্থিত।

৬। জহির মসজিদ, মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার অন্যতম পুরানো ও ঐতিহ্যবাহী একটি মসজিদ এই জহির মসজিদ। মালয়েশিয়ার কেদাহ প্রদেশে ১৯১২ সালে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।

ইতিহাস বলে, সুলতান তাজ উদ্দীন মুকারম শাহের ছেলে টুংকু মাহমুদ এই মসজিদটি তৈরি করেছিলেন।

বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদের তালিকার ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে এটি।

৫। সুলতান ওমর আলী সাইফুদ্দিন মসজিদ, ব্রুনাই

মসজিদ

ব্রুনাইয়ের রাজকীয় বা কেন্দ্রীয় মসজিদ এটি। ১৯৬৮ সালে মসজিদটি নির্মিত হয়। এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর মসজিদ বলা যায়। আর বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদের তালিকাতে পঞ্চম স্থানে সুলতান আলী সাইফুদ্দিন মসজিদ।

৪। গ্রান্ড মসজিদে হাসান (দ্বিতীয়), মরক্কো

মসজিদ

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মসজিদের তালিকাতে এটি সপ্তম স্থানে রয়েছে। আর পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মসজিদের তালিকাতে এই মসজিদটির অবস্থান চতুর্থ। মরক্কোর কাসাব্লাংকা নামক স্থানে অবস্থিত মসজিদটি।

৩। মসজিদে আল আকসা,  ফিলিস্তিন

মসজিদ

যে ফিলিস্তিনি মানুষরা আজ এতো নিপীড়নের শিকার তাদের দেশেই অবস্থান করছে পৃথিবীর তৃতীয় সুন্দর মসজিদটি।

মুসলমান জাতির প্রথম কিবলা মসজিদ। ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে অবস্থিত মসজিদটি। এই মসজিদটির অপর নাম বায়তুল মোকাদ্দাস।

উল্লেখ্য রাসুল (সা.) এই মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে মিরাজের সফরে গিয়েছিলেন।

২। মসজিদে নববী, সৌদি আরব

মসজিদ

আল্লাহ্‌র প্রিয় বন্ধু হলেন মহানবী (সা.)। আর এই মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা স্বয়ং মহানবী (সা.)। এই জন্য এই মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে মসজিদে নববী হিসেবে।

এটি পৃথিবীর সবচেয়ে দ্বিতীয় সুন্দর মসজিদ এবং অনেকে বলেছেন এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহৎ মসজিদও।

সৌদি আরবের মদিনাতে এই মসজিদটি অবস্থিত। অসাধারণ সুন্দর একটি স্থাপনা এটি। ১৮৩৭ সালে প্রথম এই মসজিদের গম্বুজটিতে সবুজ রং করা হয়।

আপনি কি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মসজিদটি দেখতে উদগ্রীব তাহলে আর দেরী নয়। এক ঝলকে দেখে নেই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মসজিদটিকে।

১। মসজিদ-উল-হারাম, সৌদি আরব

মসজিদ

এই মসজিদটিও সৌদি আরবে অবস্থিত। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে সুন্দর এই মসজিদ-উল-হারাম।

এই মসজিদটি সৌদি আরবের মক্কাতে অবস্থিত। পবিত্র হজ্জের সময় একসাথে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ লাখ মুসলিম এই মসজিদে ইবাদত বা সালাম আদায় করতে পারে। বুঝতেই পারছেন এর বিশালতা কতটুকু।

শাক না খেলে কমবে আয়ু

শাক

সব জায়গাতে ফাস্টফুড, রিচফুডের দোকান বেড়েই চলছে। বলতে পারেন কেন বাড়ছে? কারণ মানুষ এখন বাসার খাবার ছেড়ে বাইরের খাবারের প্রতি আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এর জন্য চারিদিকে অতিরিক্ত ওজনের মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। ছোট মাছ আর শাক চোখের জ্যোতি বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু আমরা তো দুচোখে এই খাবার গুলো দেখতে পারিনা। ডাক্তার যখন ওই হাই প্রোটিন ও উচ্চ মাত্রার ক্যালোরিযুক্ত খাবার বর্জন করে শাক সবজি মাছ খেতে বলেন, তখন ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। তাই নিম্নে নানান শাকের গুণাগুণ বর্ণনা করা হলো।

লাল শাক

শাক

লালশাক অত্যন্ত সহজলভ্য একটি সস্তা শাক। ইচ্ছে করলেই ছাদে বা অল্প জায়গায় লালশাকের বীজ বুনে এক মাসের মধ্যে খাওয়া যায়। লালশাক রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়ায়।

লাল শাকে অনেক বেশি ভিটামিন এ আছে। ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।

তাই চোখের যেকোনো সমস্যা রোধ করতে লাল শাকের জুড়ি নেই।

যাদের রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া আছে তারা নিয়মিত লালশাক খেলে রক্তস্বল্পতা পূরণ হয়। এতে লবণ বা ক্ষারের গুণ রয়েছে।

সরিষা শাক

শাক

সরিষা শাকে প্রচুর পরিমাণে আমিষ ও স্নেহ জাতীয় পদার্থ রয়েছে। এই শাক রক্তে উপকারী এইচডিএল কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে। দেহে ভিটামিন ডি তৈরীতে সাহায্য করে।

পালং শাক

শাক

পালংশাককে শাকের রাজা বলা হয় শুধু এর পুষ্টিগুণের জন্য। পালংশাকের প্রধান কাজ হলো গলব্লাডার ও কিডনির দেখাশোনা করা।

পালংশাক খেলে জন্ডিস ভালো হয়। রক্ত বৃদ্ধি করে, রক্ত বিশুদ্ধ করে, হাড় মজবুত করে। অন্ত্র সচল রাখে। ডায়াবেটিস ভালো করে।

কিডনিতে পাথর হলে বের করে দেয়। এতে ভিটামিন ’এ’ ’বি’ ও ’ই’ রয়েছে। আরো আছে এমিন অ্যাসিড।

মুলা শাক

শাক

মুলার মতো মুলাশাকও উপকারী। মুলাশাক শরীরের মল ও মূত্র বের করে দেয়। মুলাশাকে অর্শ রোগ সারে। মুলার চেয়ে মুলাশাক বেশি উপকারী বলে পুষ্টিবিদরা বলেন। এই শাক দেহের জ্বালাপোড়া কমায়। কফ ও বাত নাশ করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

পুঁই শাক

শাক

পুঁইশাক শরীর ঠাণ্ডা রাখে। পুঁইশাকের ডগায় বেশি ভিটামিন থাকে। বল, পুষ্টি ও বীর্য বর্ধক।

সুনিদ্রা আনে, বাত পিত্তনাশক। চোখের জন্য ভালো। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

কচু শাক

শাক

কচুশাক শহরে, নগরে ও গ্রামে সর্বত্র পাওয়া যায়। দামে সস্তা অথচ অত্যন্ত উপকারী। কিন্তু অনেক সময় দোকানিরা খারাপ, পরিতেক্ত জায়গা থেকে কচু শাক নিয়ে আসে।

কচুশাক চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। মায়ের বুকে দুধ বৃদ্ধি করে। রক্তপিত্ত রোগ সারে।

প্রস্রাবের জ্বালা-যন্ত্রণা দূর করে। ক্ষুধা বাড়ায়। শরীরে রক্ত তৈরি করে।

থানকুনি

থানকুনি পাতা সকল ধরনের পেটের রোগের মহৌষধ। বদহজম, ডায়রিয়া, আমাশয় ও পেটব্যথা সেরে যায়। আলসার, এগজিমা, হাঁপানি, চুলকানি ও অন্যান্য চর্মরোগ থেকে মুক্তি লাভে থানকুনি অত্যন্ত কার্যকরী। থানকুনির রস খেলে ত্বক ও চুল সুন্দর থাকে। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। সংবহনতন্ত্রের স্থায়ীভাবে স্ফীত ও বর্ধিত শিরা কমাতে সহায়তা করে। ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে পুনর্গঠন করে।

পৃথিবী বিখ্যাত মানুষদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শেষকথা

শেষকথা

পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতার নাম মৃত্যু। যার জন্ম হয়েছে তার মৃত্যু অবধারিত। কেউ তা কোন ভাবে ঠেকাতে পারবে না। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে অনেকেই অনেক কথা বলে থাকেন। কারো কারো কাছে এই শেষকথা অর্থহীন মনে হতে পারে। কিন্তু কথাগুলো কি আসলেই তাৎপর্যহীন? আমাদের সবার পরিচিত কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে উচ্চারিত কিছু কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।

বব মার্লে

শেষকথা

আধুনিক সময়ে এসেও বব মার্লেকে মানা হয় তারুণ্যের প্রতীক, বিপ্লবের প্রতীক হিসেবে। মৃত্যুর এতো বছর পরও তার জনপ্রিয়তা কোন অংশে কমেনি। তিনি অধিকার বঞ্চিত মানুষের গান গাইতেন। মৃত্যুর আগে তার শেষ কথা ছিল,

“জন্মভূমি জ্যামাইকাতেই মরতে চাই।”

জীবনের শেষ মুহূর্ত গুলো তিনি চেয়েছিলেন মাতৃভূমি জ্যামাইকাতে থাকতে। তার শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য তাঁকে জ্যামাইকাতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শরীরের নাজুক অবস্থার কারণে ১৯৮১ সালের ১১ মে পথেই তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুকালে বব মার্লের বয়স ছিল মাত্র ছত্রিশ বছর। পুত্র জিগি মার্লেকে উদ্দেশ্য করে তার শেষ কথাগুলো ছিল, “অর্থ জীবন কিনতে পারে না।”

মহাত্মা গান্ধী

শেষকথা

ভারতের অহিংস আন্দোলনের পথিকৃত মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। আমরা যাকে মহাত্মা গান্ধী নামে চিনি। তিনি খুবই সাধাসিধে জীবনযাপন করতেন। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারিতে নয়া দিল্লীর বিরলা ভবনে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন তিনি।

আততায়ী ছিলেন নাথুরাম গডসে। মৃত্যুর পূর্বমূহুর্তে মহাত্মা গান্ধী শুধু বলেছিলেন “হা রাম।” তার পরপরই সব কিছু শেষ হয়ে গেলো।

আর্কিমিডিস

শেষকথা

আর্কিমিডিস সম্পর্কে কম বেশি সবাই তো জানি। একদিন গণিতের সূত্র নিয়ে বাড়ির উঠোনে দাগ কেটে হিসেব কষছিলেন গ্রিক পন্ডিত আর্কিমিডিস।

তখন রোমান সৈন্যরা গ্রিস আক্রমণ করেছিলো।

গ্রিস জেতার পর রোমান সেনাপতি মার্সেলাস চাইলেন মহাজ্ঞানী আর্কিমিডিসের সাথে দেখা করতে। তিনি ছিলেন গুণের সমঝদার ব্যক্তি।

সৈন্য পাঠিয়ে দিলেন আর্কিমিডিসকে খুঁজে সসম্মানে তার কাছে নিয়ে আসতে।

সৈন্যরা আর্কিমিডিসের কাছে এলো। কিন্তু আর্কিমিডিসের সেদিকে খেয়াল নেই। আর্কিমিডিস তার কাজ নিয়েই ব্যস্ত।

সৈন্যরা তাকে ডাকতেই তিনি বললেন, “আমার নকশা থেকে দূরে সরে দাঁড়াও।”

এই কথাটাই তার শেষ কথা ছিল। পরাজিত নাগরিকের এমন কথা শুনে সৈন্যটি আর নিজেকে স্থির রাখতে পারলো না।

মূর্খ সেই সৈন্যের তরোয়ালের এক কোপে দ্বিখণ্ডিত হলো মহান এই গণিতবিদের শির।

অগাস্টাস সিজার

মৃত্যুর আগে তার প্রজাদের উদ্দেশ্যে বারবার একটি কথা বলছিলেন রোম সাম্রাজ্যের প্রথম সম্রাট অগাস্টাস সিজার।

“আমি কাদা-মাটির রোমকে পেয়েছিলাম। তোমাদের কাছে একে মর্মর বানিয়ে দিয়ে গেলাম“।

অগাস্টাস সিজার তার কাছের মানুষদের বলেছিলেন, “আমি কি আমার দায়িত্ব ঠিকমতন সম্পন্ন করতে পেরেছি? যদি পেরে থাকি, তবে চলে যাওয়ার পর আমাকে স্মরণ করো।“

চার্লস ডিকেন্স

শেষকথা

১৮১২ সালে ৭ ফেব্রুয়ারি মাসে জন্ম নেন ডিকেন্স। তিনি ছিলেন ঊনবিংশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইংরেজ ঔপন্যাসিক।

চার্লস ডিকেন্সকে ভিক্টোরিয়ান যুগের শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক হিসেবে মনে করা হয়।

আধুনিক সময়তো বটেই ডিকেন্স জীবদ্দশাতেই তার পূর্বসূরি লেখকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অনেক বেশি জনপ্রিয়তা ও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

অলিভার টুইস্টের, গ্রেট এক্সপেকটেশন, হার্ড টাইমস এবং ডেভিড কপারফিল্ডের মতো অসংখ্য জনপ্রিয় উপন্যাসের স্রষ্টা তিনি। তিনি খুব সুন্দর কথা বলেছিলেন শেষ সময়ে।

“আমার মৃত্যুর পর স্মরণ সভায় শোক প্রকাশের জন্য কালো বস্ত্র, স্কার্ফ পরিধান করে আসার কোনো দরকার নেই”

তার কাছে এইসব কিছুই অর্থহীন মনে হয়।

সম্রাট আওরঙ্গজেব

মুঘল এই সম্রাট মৃত্যুর আগে তার কৃত কর্মের জন্য অনেক বেশি অনুতপ্ত ছিলেন। তিনি ছেলের কাছে একটি শেষ চিঠি লিখেছিলেন। তার শেষ কথা ছিল,

“আমার জীবনে অনেক পাপ করেছি। জানি না, কত শাস্তি আমার জন্য অপেক্ষা করছে”

হয়তোবা তিনি অনুভব করতে পেরেছিলেন কেউ তার কর্মফল ভোগ না করে পালাতে পারবেনা।

মৃত্যুর ওপাড়ে কি আছে তা হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন।

 

ডিপ্রেশন নিয়ে অবহেলা করলে পরিণতি হতে পারে “মৃত্যু”

ডিপ্রেশন

মানব শরীর নানা রোগের আধার। ভয়ঙ্কর সব রোগ নিয়ে হয়তোবা আপনার আশেপাশের মানুষগুলো বেঁচে আছে। কিছু কিছু রোগ আছে দেখা যায় না কিন্তু এর ভয়ঙ্করের মাত্রা অনেক বেশি। ডিপ্রেশন তেমনই একটি রোগের নাম। দিন দিন এই রোগ প্রকট হয়ে উঠছে। আমাদের দেশে এ নিয়ে তেমন কোন জনসচেতনতা নেই বললেই চলে। কারণ মানসিক সমস্যা অথবা রোগকে কোন রোগ বা আসুস্থতা বলে গণ্য করা হয় না। কিন্তু প্রতি বছরই এর কারণে অনেক মানুষ আত্মহত্যা করছে।

কম বেশি সবাই জানি ডিপ্রেশন কি, তাই এ নিয়ে আলোচনা করবনা। আমরা আসলে ভালো করে জানিনা কেন ডিপ্রেশন হয়। এমনি এমনি তো এই আসুস্থতা হতে পারে না। সব কারণ জানা না গেলেও কিছু সাধারণ কারণ আছে।

ডিপ্রেশন হতে পারে অপমানবোধ থেকে

মানসিক বা শারীরিকভাবে অবমাননার স্বীকার হলে অনেকে  ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়। এই ধরণের অনুভূতি থেকে ডিপ্রেশনের সৃষ্টি হয়।

নিরাপত্তাহীনতা বা একাকীত্ববোধ করা

পারিবারিক কারণে অনেকে হীনমন্যতায় পড়ে। সামাজিক ও পারিবারিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকে বিষণ্নতার স্বীকার হয়। তাছাড়া বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধব বা অন্যান্য কাছের মানুষদের সাথে সম্পর্কহীনতা বা মতবিরোধ থেকেও অনেকে বিষণ্ণতায় ভুগে থাকেন।

ডিপ্রেশন বংশগত কারণে হতে পারে

বংশগত পরিবারে কারো ডিপ্রেশন থাকলে তা অন্যদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

বড় কোন রোগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

বড় ধরণের কোন রোগ থাকলে রোগী ডিপ্রেশনের শিকার হতে পারে।

ঔষধের প্রভাব

নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ সেবনের ফলেও কেউ কেউ বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয়। যেমন ব্রণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত আইসোট্রেটিনিয়ন বা অ্যান্টিভাইরাল “ইন্টারফেরন-আলফা” জাতীয় ঔষধ সেবনেও অনেকে বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয়। এমন অনেক ঔষধ আছে যেগুলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে বিষণ্ণতা ছড়িয়ে দেয় মস্তিষ্কে।

ডিপ্রেশন আপনাকে অসহায় অবস্থায় পতিত করবে। ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন ধরণের থেরাপি ও চিকিৎসার পাশাপাশি নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।

নিজের চেষ্টা না থাকলে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। নিজের প্রতিদিনের কাজকর্ম, খাওয়া-দাওয়া, জীবনপ্রণালী এমনকি চিন্তা-ভাবনায় ও পরিবর্তন আনতে হবে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির জন্য।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির জন্য নিচের পয়েন্টগুলো সহায়ক হতে পারে-

রুটিনমাফিক চলা

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিনের জীবনকে একটা রুটিনের মধ্যে নিয়ে আসুন।

প্রতিদিনের কাজ-কর্মকে যদি একটা নিয়মের মধ্যে বেঁধে ফেলা যায় তবে তা ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা

লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেলুন। ডিপ্রেশনে যেহেতু কোন কাজ করতে ইচ্ছা করে না তাই প্রতিদিন একটু একটু করে কাজ করার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।

নিয়মিত ব্যায়াম করা

প্রতিদিন অল্প কিছু সময় ব্যায়াম করলে তা আপনার শরীর এবং মনকে সুস্থ রাখবে।

ব্যায়াম করা মানে, ম্যারাথন দৌড় টাইপ কিছু না, আপনি যদি প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটাহাঁটি করেন তবুও তা আপনার মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যা আপনাকে ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে।

সুষম খাদ্য গ্রহণ

সুষম খাদ্য গ্রহনের মাধ্যমে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি মেলে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ থাকে।

সাইক্রিয়াটিস্টদের মতে, যেসব খাবারে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এ্যাসিড এবং ফলিক এসিড থাকে সেসব খাবার ডিপ্রেশন কমাতে সহায়তা করে।

অনিদ্রা দূর করা

পর্যাপ্ত ঘুম ডিপ্রেশন কমায়। ডিপ্রেশনের রোগীদের নিদ্রাহীনতা দেখা দেয়্। তাই, প্রথমেই ঘুম সমস্যার সমাধান করতে হবে।

প্রতিদিনের জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে নিদ্রাহীনতা দূর করা সম্ভব। প্রতিদিন ঠিক সময়ে ঘুমোতে যাওয়া এবং সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

দিনের বেলার হালকা ঘুমের অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। শোবার ঘর থেকে টিভি, কম্পিউটার, মোবাইল এগুলো সরিয়ে রাখতে হবে।

এভাবেই অনিদ্রা রোগ ধীরে ধীরে দূর করা সম্ভব।

ইতিবাচক চিন্তা করা

ডিপ্রেশনে ভুগতে থাকলে মানুষের মনে বিভিন্ন রকম নেগেটিভ চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকে।

যেমন আমিই বুঝি সবচেয়ে খারাপ, আমার মত দুঃখ কারো নেই, আমি সবার চেয়ে অসুস্থ, আমি ব্যর্থ একজন মানুষ এই ধরণের চিন্তাগুলো সুস্থ হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা।

তাই এই নেগেটিভ চিন্তাগুলোকে মন থেকে দূর করে পজিটিভলি চিন্তা করার চেষ্টা করতে হবে।

যুক্তি দিয়ে সবকিছু বিচার করতে হবে। আশাহত হওয়া যাবে না কোনভাবেই।

আনন্দদায়ক কাজের মধ্যে সময় কাটানো

নতুন কিছু করার চেষ্টা করতে হবে। মজার কোন কাজ। যেমন নতুন কোথাও ঘুরতে যাওয়া, মজার কোন বই পড়া, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া।

মন ভালো রাখার সবরকম চেষ্টা করতে হবে। মন ভালো থাকলে ডিপ্রেশন কেটে যাবে একসময়।

ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ

ডিপ্রেশন পুরোপুরি না ভালো হওয়া পর্যন্ত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।