ওজন কমাতে চাইলে নিয়মগুলো মেনে চলুন

খাবার

কম খাচ্ছেন, পরিশ্রমও করছেন? কিন্তু ওজন কোনভাবে কমছে না। এই সমস্যাটি অনেক পরিচিত আমাদের কাছে। আপনারা যারা ওজন কমাতে উদগ্রীব হয়ে আছেন এবং অনেক বেশী হতাশায় ভুগছেন তাদের জন্য আজকে রয়েছে বৈজ্ঞানিক প্রমাণিত ওজন কমানোর পদ্ধতি সমূহ।

পানি পান করুন

পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ কাজ পানি পান করা। বাসার যে জায়গাটাতে আপনি থাকেন অথবা অফিস এর যেখানে আপনার বসতে হয় তার সাথেই পানির জগ অথবা বোতল রেখে দিন। শুধু ওজন কমানো নয় সুস্থ থাকার জন্য পানির বিকল্প নেই। সাধারণত বলা হয় ২ লিটার পানি পান করার কথা। কিন্তু আপনি যদি ৩ লিটার খান তবে জলদি উপকার পেতে শুরু করবেন। খাবারের আধাঘণ্টা আগে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিবেন। এখন থেকে মনে করবেন পানি একটি ঔষুধ। শরীরের সকল ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে দেয় পানি।

কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলুন

ভাত, রুটি, আলু এগুলো কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার। যতটুকু পারেন কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলুন। কার্বোহাইড্রেট আপনার শরীরে মেদ বাড়িয়ে দেবে। আর কার্বোহাইড্রেট থেকে যে মেদ শরীরে জমা হয় তা সহজে ঝরানো যায় না। সুতরাং যারা বলেন ভাত ছাড়া আমার চলে না তারা ভাতকে ভালোবাসা বন্ধ করে দিন। আপনাকে একবারে বাদ দিতে বলছি না। দুপুরে শুধু এক কাপ ভাত খেতে পারবেন।

প্রোটিন গ্রহণ করুন

কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে প্রোটিন এর পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। প্রোটিন আপনার ক্ষুধা কমিয়ে দেবে। অন্যদিকে আপনি ভালো পরিমাণের পুষ্টিও পাবেন। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় প্রোটিন থাকা আবশ্যক। প্রোটিন বললে আমাদের চোখের সামনে শুধু মাংস আর মাছ ভাসে। মাছ-মাংস ছাড়াও ভালো প্রোটিনের উৎস আছে এমন কিছু খাবার হল- যেকোনো ধরনের ডাল, কুমড়োর বিচি, কাঠবাদাম, ডিম ইত্যাদি। তবে ডিমের কুসুম এড়িয়ে চলাই ভালো।

শরীরচর্চা করুন

শরীরচর্চা
শরীরচর্চা করলে মন ভালো থাকে

শরীরের অপ্রয়োজনীয় মেদ বা ক্যালরি কমাতে শরীরচর্চা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরি। এটি আপনাকে ওজন নিয়ন্ত্রণের সাথে সুস্থ্যতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। জিমের সরঞ্জাম না থাকলে নিয়মিত ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করতে পারেন। শরীরচর্চা শুধু শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে তা না, এর ফলে আপনার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আর একটা জিনিস অবশ্যই মনে রাখবেন, ঘাম না ঝরলে সেই শরীরচর্চাতে আপনার কোন ক্যালরি খরচ হবে না।

দই খান

বাজারে যে দই পাওয়া যায় সেই দই না। বাসায় দই বানানোর চেষ্টা করুন। দই বানানোর সময় চিনি দিবেন না। এই খাবারটি আপনার রক্তে সুগারের পরিমাণ কমিয়ে দেয় এবং সাথে সাথে আপনার শরীর ঠাণ্ডা রাখে।

ক্যালরি পরিমাপ করে খান

যখন আপনি খাদ্য গ্রহণ করবেন তখন ক্যালরি হিসাব করে খাবেন। ওজন কমানোর সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি হল যতটুকু খাবেন তার থেকে বেশী ব্যায়াম করবেন। সুতরাং খাওয়ার সময় অবশ্যই হিসাব করবেন।

বসে থাকবেন না

অনেকক্ষণ একটানা বসে থাকবেন না। শরীরকে কোন না কোন কাজে নিয়জিত রাখুন। এক কথায় সবসময় ক্যালরি খরচ করতে হবে।

চিনিকে না বলুন

এক গবেষণায় আমেরিকার একদল বিজ্ঞানী বলেছেন চিনি হল ‘হোয়াইট পয়জন’। বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘সাদা বিষ’। চিনি বর্জন করুন। যাদের অতিরিক্ত মেদ আছে তাদের জন্য চিনি অনেক ক্ষতিকর। তবে মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করলে তা অবশ্যই পাপ নয়। যেদিন কোন মিষ্টিজাতীয় জিনিস খাবেন সেদিন বেশী করে ব্যায়াম করে ফেলবেন। আর চিনির পরিবর্তে মধু এবং জিরো ক্যাল খেতে পারেন। তাছাড়া মিষ্টি ফল গুলো খেলে তেমন কোন ক্ষতি হবে না আশা করি।

জুস খাবেন না

ওজন কমানোর মহাযুদ্ধে যে যোদ্ধারা আছেন তারা হয়তো ভাবছেন জুস তো আপনারা বাড়িতে তৈরি করে খান, বাইরের জুস খাওয়ার প্রশ্নই আসেনা। কিন্তু যারা বাড়িতে জুস তৈরি করে খান তারাও ভুল করেন। কোন ফল অথবা সবজি কখনই জুস করে খাবেন না। জুস করে খেলে আপনারা অনেকে ছেকে খান। যারা জুস ছেকে না খান তারাও ভুল করেন। সেটা হল সবজি ও ফল চিবিয়ে খেলে আপনার ফেসিয়াল ব্যায়াম হবে এবং দাঁত ভালো থাকবে।

লেবু পানি

লেবু পানি
লেবু পানি আপনাকে সতেজ করবে

লেবু পানি অনেক ওজন কমাতে পারে। আপনি তিন দিনের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারবেন। আপনার শরীর ফুরফুরে আর হালকা লাগতে শুরু করবে। শরীরের সকল টক্সিন দূর করে দেয় এই লেবু পানি। আপনার ত্বক ভালো রাখবে। সবচেয়ে উপকার হবে যদি কুসুম গরম পানির সাথে খান। খাওয়ার এক মাস পর ওজন মেপে দেখতে পারেন এটা কতো টুকু উপকারী। যারা সাধারণ ওজনের তারাও খেতে পারেন। তবে বেশী খাবেন না।

ডায়েট করার সময় ভুলে যাবেন না আপনার শরীর একটি ইঞ্জিন। আর ইঞ্জিনের চলতে হলে তেল লাগে। ঠিক মতো তেল না দিলে মাঝপথে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাবে। সুতরাং অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে খাবেন। তিন বেলা ঠিক মতো খেলে এবং ব্যায়াম করলে ওজন বৃদ্ধি পায় না। সুস্থ থাকার জন্যও আপনি উপরোক্ত নিয়মগুলো মেনে চলতে পারেন।

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *