তিমি কি পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বড় প্রাণী?

তিমি

পৃথিবীর ৪ ভাগের মধ্যে ৩ ভাগ পানিতে পূর্ণ আর ১ ভাগ হল স্থল। সুতরাং স্থলের থেকে পানির প্রাণীরাই বেশি বড় হবে এটাই স্বাভাবিক। সমুদ্র হল পৃথিবীর অমীমাংসিত অধ্যায়। আজ কথা বলব সমুদ্রের সবচেয়ে বড় প্রাণী তিমি নিয়ে। মাটিতে হাতি আর পানিতে তিমিই হল সবচেয়ে বড়। চলুন জেনে আসা যাক।

  • তিমির মধ্যে কয়েকটি প্রজাতি আছে তারমধ্যে নীল তিমি সবচেয়ে বড়। এরা লম্বায় ২৫ থেকে ৩২ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয় অর্থাৎ ৮২ ফুট থেকে ১০৫ ফুট।
  • একেকটা তিমির গড় ওজন ১৪০ টন যা ২৫ টি হাতীর ওজনের সমান। নীল তিমি আসলে নীল নয় এর রঙ কিছুটা ফ্যাকাসে টাইপের। কিন্তু তারা যখন সাগরের পানির নিচে থাকে তখন তাদের দেখতে নীল মনে হয়।
  • তিমির বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী নীল তিমি, খুনে তিমি (killer whale) এবং পাইলট তিমি। বাচ্চা তিমি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ পাউন্ড করে বড় হয়।
  • তিমি সমুদ্রে থাকে কিন্তু পানিতে শ্বাস নিতে পারে না। পানিতে বসবাস হলেও এরা মানুষের মতোই বাতাসে শ্বাস নেয়।
  • মানুষের যেমন প্রতি মুহূর্তে নিঃশ্বাস নিতে হয়, তিমির কিন্তু সেরকম নয়। এরা কম করে হলেও ৩০ মিনিট পর্যন্ত দম না নিয়ে থাকতে পারে।
  • মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় কিন্তু তিমির ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া তার স্বাধীনতায় চলে।

তিমি

  • তিমি যদি ঘুমিয়ে পড়ে এবং সময়মতো না জাগে, তাহলে দম আটকে মারাও যেতে পারে। এই বিপদের সমাধান হিসেবে তিমির মস্তিষ্কের অর্ধেক কিছুক্ষণ ঘুমায়, বাকি অর্ধেক ঘুমায় পরের পালায়। তাদের অন্তত অর্ধেক মস্তিষ্ক সবসময় জেগে থাকে, তাই তারা শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ঘুমের মধ্যেও প্রয়োজনীয় সময়ে ভেসে উঠে।
  • তিমি মাছের ঘুমের এ বিষয়টি বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন ইলেকট্রো এনসেফালোগ্রাফির (ইইজি) মাধ্যমে।
  • তিমি যখন নিঃশ্বাস ছাড়ে তখন সে তার মাথার উপর দুই ছিদ্র দিয়ে পানি ফোয়ারার মত করে ছুঁড়ে দেয় যা ত্রিশ ফুট পর্যন্ত উপরে উঠে।

তিমি

  • তিমি মাছের তুলনায় হাঙর মাছ কত ছোট। হাঙর মাছের কথা ভাবলেই প্রথমে আমাদের দৃশ্যপটে দুই পাটি বিশালাকার দাঁতের ছবি ভেসে উঠে। কিন্তু এত বড় তিমি মাছের দাঁত নেই। দাঁতের বদলে আছে ব্যালিন। ব্যালিন অনেকটা ঝালরের মত উপরের চোয়াল থেকে নিচের দিকে ঝুলে থাকে। একেকটা ব্যালিন ৫০ সেঃ মিঃ থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।
  • তিমির চাবানোর কোন দরকার পরে না। কারণ তিমির খাবার ক্ষুদ্র এক প্রানী নাম ক্রীল। ক্রীল চিংড়ীর মত একপ্রকার সামুদ্রিক পতঙ্গ। এটি লম্বায় সাধারণত আমাদের হাতের ছোট আঙ্গুলের মত হয়ে থাকে। এর রঙ ফ্যাকাসে গোলাপী। উত্তর ও দক্ষিন মেরু অঞ্চলের ঠান্ডা সাগরে কোটি কোটি ক্রীল বসবাস করে।
  • একটি তিমি দিনে প্রায় ত্রিশ মিলিয়ন ক্রীল খায়। যা রাখার জন্য তিনটি বড় ট্রাকের প্রয়োজন হয়।
  • তিমিরা পরষ্পরের সাথে এক ধরণের সুরেলা শব্দ করে যোগাযোগ করে, যা তিমির গান নামে পরিচিত। তিমির বিশালতা ও শক্তিমত্ততার মতোই এদের গানও অনেক জোরালো।
  • হাম্পব্যাক নামে এক প্রাজাতির তিমি আছে, যারা তাদের সুরেলা গানের জন্য সুপরিচিত। স্পার্ম তিমির গান মৃদু গুঞ্জনের মতো শোনায়। তাদের এই গান যা বহু মাইল দূর থেকেও শুনতে পাওয়া যায়।
  • তিমি ১৬৩ ডেসিবেল শব্দ তীব্রতায় ২০,০০০ একুস্টিক ওয়াটে শব্দ তৈরি করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *