নাগাল্যান্ডের লংওয়া গ্রাম ভ্রমনের অভিজ্ঞতা!

এবারে আমাদের নাগাল্যান্ড ট্যুরটা ছিলো অন্যান্য সব ট্যুরের থেকে আলাদা । কোন কিছু তেমন জানা নাই, মনে হচ্ছিলো অজানা কোন গন্তব্যে আমরা আগাচ্ছি । শুধু লোকলদের কাছে হেল্প নিয়ে চলতে হয়েছিলো । অর্ধেক বাংলা, অর্ধেক ইংরেজি এবং কিছু হিন্দি এভাবে মিক্স করে আমাদের চলতে হচ্ছিলো । এভাবে প্রায় প্রতিটি স্টেপে নতুন নতুন এক্সপেরিয়েন্স আমাদেরকে ধরা দিচ্ছিলো ।

এভাবে নাগাতে কিছুদিন এদিক সেদিক ঘুরে এবারে আমাদের গন্তব্য ছিলো একটি গ্রাম । নাগাল্যান্ড মন জেলার সর্বশেষ এবং সব থেকে বড় গ্রামটি হলো লংওয়া । গ্রামটির অবস্থান ভারত-মায়ানমার বর্ডারে । গ্রামটিতে যুগ যুগ ধরে রাজার শাষন চলে আসতেছে । শুধু এই গ্রামেই না নাগাল্যান্ডের সব গ্রামেই রাজা আছে । এই গ্রামের বিশেষ বৈশিস্ট্য হলো গ্রামটির কিছু অংশ ভারতে এবং কিছু মায়ানমারে । মজার ব্যাপার হলো এই গ্রামের যে রাজা তার বাড়ির অর্ধেক অংশ ভারতে এবং অর্ধেক মায়ানমারে ।

নাগাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য বহন করে এমন কিছু জিনিস |

এই গ্রামের মানুষজন পাসপোর্ট-ভিসার কোন ঝামেলা ছাড়াই দুই দেশে যাতায়াত করতে পারে (তবে তাদের একটা নির্দিস্ট সীমারেখা মনে হয় আছে) । লোকালদের কাছে শুনেছি এই গ্রামের কিছু যুবক মায়ানমার আর্মিতেও চাকরি করতেছে ।

এই গ্রামের রাজা খুব শক্তিশালী । প্রায় ৭০ টার মত গ্রাম ওনার রুলসে চলে । এগুলোর মধ্যে বেশির ভাগেই গ্রাম মায়ানমারের মধ্যে! এই রাজা এতই শক্তিশালী যে ওনার পত্নীর সংখ‍্যা ৬০ জনের মত । বলে রাখা ভালো যে নাগাদের মধ্যে হেড-হান্টারদের পত্নী বেশি হয় । কারন যে যত শত্রুর মুন্ডুছেদ করতে পারে সে তত বেশি শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত হয় এবং তাদের কালচার অনুযায়ী বিবাহের জন্য পূর্বশর্ত পূরন হয় ।

লংওয়া গ্রামের রাজার বাড়ি । বাড়ির মাঝ বরাবর বাম দিকের অংশটা মায়ানমার এবং ডান দিকের অংশটা ভারত ।

এই গ্রামে যাওয়া আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিলো হেড-হান্টারদের সাথে সাক্ষাত করা । নাগাল্যান্ডের সব থেকে বেশি হেড-হান্টারদের বাস এই গ্রামেই । আনুমানিক ১০০ জন বা তারো বেশি ।

গ্রামটি বড় হবার সুবাধে এখানে বৈচিত্রতাও অনেক বেশি। অনেক কিছুর দেখা মিলবে এই গ্রামে । প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা নাহয় নাই বললাম 😉 যদি সময় হাতে থাকতো তাহলে এখানে আরো একটা দিন থাকার খুব ইচ্ছা ছিলো ।

যুদ্ধে ব্যবহৃত কিছু অস্ত্র এবং শিকারকৃত কিছু জন্তুুর মস্তক ।

আমাদের রুট ছিলো:
ডাউকি –> সিলং (কার ভাড়া ১২০০ রুপি)
সিলং –> গোহাটি (কার ভাড়া ১২০০ রুপি )
গোহাটি –> ডিমাপুর (ট্রেনের এসি স্লিপারে ৭০০ রুপির মত পার পারসন)
ডিমাপুর –> কহিমা (কার ভাড়া ১৩০০ রুপি)
কহিমা থেকে যেখানে যাবেন সেই অনুযায়ী প্লান করবেন । সারাদিনে কার ভাড়া ২০০০ থেকে ২৫০০ রুপির মত লাগে ।

কহিমা থেকে লংওয়া যাওয়ার রুট:
কহিমা –> মন শহর (বাসে ৬০০ রুপি পার পারসন)
মন শহর –> লংওয়া গ্রাম (সুমোতে ৩০০ রুপির মত পার পারসন)

বিশেষ অনুরোধঃ দয়া করে যথাস্থানে ময়লা ফেলুন,পরিবেশ সুন্দর রাখুন, লোকালদের খারাপ লাগে এমন কিছু করবেননা ।
সবার ভ্রমন হোক নিরাপদ এবং উপভোগ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *