নিত্যদিনের বন্ধু ইন্টারনেট সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি?

ইন্টারনেট

বিজ্ঞানের অন্যতম আবিষ্কার গুলোর মধ্যে অন্যতম আবিষ্কার হলো ইন্টারনেট যা মানব সভ্যতা বিকাশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। বিশ্বের যোগাযোগ ব্যবস্থা দিন দিন অনেক উন্নতির সাথে সাথে বেড়েই চলেছে, এসব উন্নতির মূল সহায়কের নাম ইন্টারনেট। আমরা সবাই মনে করি ইন্টারনেট মানে অনলাইনে চলে যাওয়া সত্যিকার অর্থে এটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ছাড়া কিছু নয়। খুব কম সময়ের মধ্যে ইন্টারনেটের প্রসার ২১০টি আলাদা দেশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

শুধু উন্নত দেশ গুলো নয় দরিদ্র দেশ গুলোও ইন্টারনেটের আওতায় চলে এসেছে।

বিভিন্ন কম্পিউটারের মাধ্যমে ডাটা স্থানান্তরিত হয়ে তার গন্তব্যে পৌছানো হচ্ছে ইন্টারনেটের মূল ভিত্তি।

এক একটা আলাদা কম্পপিউটার একসাথে সংযুক্ত করার নাম হচ্ছে ইন্টারনেট।

একটি কম্পিউটার অন্য আরেকটির সাথে অনেক ভাবে সংযুক্ত হয়ে থাকে।

কিছু কম্পিউটার পুরাতন কপার ক্যাবল দ্বারা আবার কোন কম্পিউটার ফাইবার ক্যাবল দ্বারা কোন কম্পিউটার বেতার মানে তার বিহীন, এটি রেডিও তরঙ্গের  মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করে এবং কোন কম্পিউটার স্যাটেলাইটের সাথে সংযুক্ত থাকে।

এ কারণে আমরা খুব কম সময়ে ম্যাসেজ সুবিধা, ইমেইল সেবা আর বিভিন্ন মিউজিক ফাইলস ডাউনলোড করতে পারি।

ইন্টারনেট কিভাবে  উৎপন্ন হল

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ১৯৬৯ সালে ইন্টারনেট আবিষ্কার করেন।

টেলিফোনের বিকল্প হিসেবে যোগাযোগের জন্য গোপন এবং নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে এটী প্রতিরক্ষা বিভাগের গবেষণাগারে স্থান করে নেয়। এটি একটি টেলিফোন লাইন নির্ভর যোগাযোগ পদ্ধতি।

টেলিনেটওয়ার্কের সাথে কম্পিউটারের সংযুক্তি ঘটে ডেস্কটপ কম্পিউটার আবিষ্কার হওয়ার পর। ARPANET ছিলো এর নাম।

কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যেমে এক সময় নেটওয়ার্কের অনেক পরিবর্তন ঘটে। ইন্টারনেট ১৯৯০ এর দশকে ব্যাপক আকারে বিস্তার লাভ করে।

ইন্টারনেটের এই বিপ্লবে অপ্টিকেল ফাইবারের সহায়ক ভুমিকা অনেক বেশী। মাত্র ৮ টি কম্পিউটারের সংযোগ ঘটিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ যে ব্যবস্থা শুরু করে ছিলেন তা পরের তিন বছরের মধ্যে বেড়ে ৩৬টিতে দাঁড়ায়।

মার্কিন ন্যাশনাল সাইন্স ফাউন্ডেশন ১৯৮৪ সালে সর্বসাধারনের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালু করে যা সারাবিশ্বে খুব কম সময়ে ছড়িয়ে পড়ে।

ইন্টারনেট বাণিজ্যিক ভাবে শুরু হয় ১৯৯৩ সালে। খুব স্বল্প সময়ে এটি অনেক বিস্তার লাভ করে।

ইন্টারনেটের সৃষ্টি ১৯৬৯

ইন্টারনেট দিয়ে যেভাবে তথ্য আদান প্রদান হয়ে থাকে

আপনি যখন অন্য একজন কে রিং করেন টেলিফোনের মাধ্যমে তখন আপনি যাকে কল করেছেন তার আর আপনার মধ্যে সরাসরি কানেকশান(বা সার্কিট) স্থাপন হয়।

আপনি যতক্ষণ লাইনে থাকবেন ততক্ষণ এ সার্কিটটি ওপেন থাকবে। এ পদ্ধতির নাম সার্কিট সুইচিং।

কোন সময়ে কার কথা পাঠানো হবে বা শোনা যাবে তা নিয়ন্ত্রিত হয় টেলিফোন এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে। এখানে একটা ব্যাপার লক্ষণীয় যখন আপনি অন্য একজনের সাথে ফোন কলে আছেন তখন অন্য কেউ সংযুক্ত হতে পারবে না। বা ধরুন আপনি কলে রেখে অন্য একটা কাজে ব্যাস্ত হয়ে গেলেন আপনার থেকে অন্য পাশে কোন তথ্য যাচ্ছে না তবুও আপনার প্রত্যেক সেকেন্ডের জন্য চার্জ কাটা হবে।

ইন্টারনেট টেলিফোন নেটওয়ার্কের মত কাজ করে।

তাই টেলিফোন নেটওয়ার্ক বা সার্কিট সুইচিং পদ্ধতি আদর্শ নেটওয়ার্ক হতে পারে না।
ইন্টারনেট কানেকশন ক্যাবল
তাহলে এখন জেনে নেওয়া যাক ইন্টারনেট কিভাবে তথ্য বহন করে- ইন্টারনেট যে পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে তা হলো প্যাকেট সুইচিং বেশীর ভাগ ইন্টারনেট তথ্য আদান প্রধান করে প্যাকেট সুইচিং এর মাধ্যমে।

এ পদ্ধতির মাধ্যমে আপনি ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকলেও কোন চার্জ কাটা হয় না।

যেমন ধরুন আপনি কাউকে একটা মেইল করবেন তার জন্য আপনি ইন্টারনেট চালু রেখে মেইলটি লিখতে থাকবেন তার জন্য অনেক সময় লাগতে পারে, আর এই সময়ের জন্য কোন চার্জ আপনাকে দিতে হবে না। আবার আপনি কাউকে একটা মেইল পাঠাবেন তাকে আপনার সাথে কানেক্টেড থাকতে হবে না সম্পুর্ন মেইলটি পাওয়ার জন্য।

মেইলটি পাঠানোর পরে প্যাকেট সুইচিং অনেক গুলো খন্ডে বিভক্ত হয়ে যায় আর একে বলে প্যাকেটস।

প্রত্যেকটি প্যাকেট আলাদা আলাদা পথে ভ্রমণ করতে পারে এবং প্যাকেটস গুলোতে ট্যাগ করা থাকে তাদের কোথায় কোথায় যেতে হবে।

খণ্ডগুলো গন্তব্যে পৌঁছানোর পর আবার একসাথে একত্রিত হয় যাতে তা মেইল রুপে রুপান্তরিত হয়।

ইন্টারনেট অনেক সময় সার্কিট সুইচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে।

যদি ডায়াল-আপ কানেকশান যেমন সধারন টেলিফোন কলের মত ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন্য একজনের সাথে সংযুক্ত হতে হলে আপনি এবং যার সাথে যুক্ত হবেন তাকেও ইন্টারনেটের সংযোগে থাকতে হবে।

ইন্টারনেটের ব্যবহার

– ওয়েব: কম্পিউটারে রাখা তথ্যাবলি ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে দেখার পদ্ধতি হচ্ছে ওয়েব।

–  চ্যাট: দুই বা ততোধিক ব্যক্তির অনলাইনে কথা বা  আড্ডা দেওয়া।

–  নেট নিউজ: রক্ষিত সংবাদ যা ইন্টারনেটের তথ্য ভান্ডারে  রক্ষিত থাকে।

– ই-ক্যাশ: অর্থনৈতিক লেনদেন ও বাণিজ্যিক সুবিধা।

–  ইউজনেট: সবার জন্য উন্মুক্ত তথ্য ভান্ডার।

–  ই.মেইল: ইলেকট্রনিক্স মেইল বা ই-মেইল হচ্ছে খুব কম এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম।

ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক যার সংক্ষিপ্ত নাম হচ্ছে ইন্টারনেট। বর্তমান সময়ের যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি বহুল জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ইন্টারনেট।

এই পদ্ধতিটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণাগার, সংবাদ সংস্থা, ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান সমুহ লাখ লাখ গ্রাহক ইন্টারনেটের মাধ্যেমে যুক্ত হয়ে তাদের পরস্পরের সাথে অনেক বড় পরিসরে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।

কম্পিউটার, মোবাইল ফোন বা অনুরূপ ডিভাইস দিয়ে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত তথ্য সংগ্রহ খুব দ্রুততার সাথে করা যায়।

ইন্টারনেটের জন্য দরকার কম্পিউটার বা সমমানের ডিভাইস, মডেম আর ইন্টারনেট সংযোগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *