পিরিয়ডের সময় না জেনে যে ভুল গুলো করেন নারীরা

পিরিয়ড

পিরিয়ড বা মাসিক একজন নারীর জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মাতৃত্বের মতো মূল্যবান ব্যাপার গুলো পিরিয়ডের উপর নির্ভর করে।

শারীরিক এই কার্যক্ষমতার জন্য নারীরা খুব কম হৃদরোগে আক্রান্ত হন। শরীরে অনেক ক্ষতিকর পদার্থ বের হয়ে যায় এ সময়।

জেনে না জেনে আমরা অনেকেই পিরিয়ডের সময় কিছু ভুল করে থাকি। ভুলগুলো নারীদের জন্য অনেক সময় ক্ষতিকর হয়ে উঠে।

পিরিয়ড হলে চলাচল কম করা

যেহেতু রক্তপাত হয় তাই অনেক নারী মনে করে থাকেন যে বেশি নড়াচড়া করা ঠিক না। যার কারণে বেশির ভাগ সময় শুয়ে বসে কাটিয়ে দেয়।

পিরিয়ডের সময় ব্যথা কমানো এবং সঠিক ভাবে রক্তপ্রবাহের জন্য হাঁটাচলা করা খুব দরকারি।

অবশ্যই এই সময় বিশ্রামের দরকার আছে কিন্তু শুধু বসে বসে সময় কাটানো যাবে না।

স্বাভাবিক দিনের মতই কাটাতে হবে দিনগুলো।

ডাউচিং

পিরিয়ড

ডাউচিং হল হ্যান্ড সাওয়ার দিয়ে গোপনাঙ্গ পরিষ্কার করা। অধিকাংশ নারীরাই এই কাজটি করে থাকেন।

পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে এই ডাউচিং যেন আরও বেশি করে করেন নারীরা।

কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা তারা জানে না আর সেটি হল; পিরিয়ডের সময় প্রাকৃতিক ভাবে নারীর যৌনাঙ্গ এবং জরায়ু পরিষ্কার হয়ে যায়। এই সময় ডাউচিং করলে উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়ে যায়।

যার কারণে যৌনাঙ্গের ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে।

মাত্রাতিরিক্ত পেইনকিলার গ্রহণ করা

পিরিয়ড

পিরিয়ডের সময় ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। তবে ব্যথা অসহনীয় হলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। কিন্তু ডাক্তারের কাছে না গিয়ে নিজে নিজেই পেইনকিলার গ্রহণ করা অনেক বড় একটি ভুল। অতিরিক্ত পেইনকিলার গ্রহণ করলে আপনার লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। বাথরুমে যে পানি ব্যবহার করেন তা গরম হলে অনেকাংশে ব্যথা কমে আসে। গরম পানি অথবা চা খেলেও ব্যথা কমে যায়।

একই ন্যাপকিন অনেকসময় ধরে পড়ে থাকা

পিরিয়ড

হয় ব্যস্ততা নাহয় আলসেমির জন্য নারীরা একই ন্যাপকিন অনেকক্ষণ পড়ে থাকেন। অধিকাংশ নারীদের কাছে এটা বিশেষ কিছু নয়। কিন্তু আপনার হয়তো জানা নেই ৫-৬ ঘণ্টার মধ্যে ন্যাপকিন পরিবর্তন করা বাঞ্ছনীয়। খারাপ ভাবে নাহলে ভ্যাজাইনাল ইনফেকশন হতে পারে।

পিরিয়ডের রক্ত কি রঙের তা খেয়াল না করা

পিরিয়ড

পিরিয়ডের রক্ত কিন্তু আপানার শরীরের অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে দেয়। কিন্তু নারীরা পিরিয়ডের রঙের দিকে বেশি গুরুত্ব দেন না। যদি রক্ত গোলাপি অথবা ফ্যাকাসে হয় আপনার শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা খুব কম। রক্ত পানিতে মেশালে যে রঙ হয় সে রঙ হয় তাহলে বুঝবেন আপনি অপুষ্টি অথবা অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন। রক্ত যদি একটু কালচে রঙের হয় তার মানে এই রক্ত একটু পুরনো যা এখন বের হচ্ছে।

পিরিয়ড হলে সঠিক পরিমাণে আয়রন গ্রহণ না করা

পিরিয়ড

পিরিয়ডের পর নারীদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি হয়। মানসিক পরিবর্তনের সাথে সাথে রুচিতেও কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। অনেক নারী জাঙ্ক ফুড, টক অথবা অনেক ঝাল খায় এই সময়। কিন্তু রক্তে আয়রনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এমন খাবার খাওয়া হয় না। আয়রন আছে এমন খাবার হল, কাঁচা কলা, বেগুন, কচু শাক, পালং শাক, ডিম। সহজলভ্য এই খাবার গুলো নারীদের খাদ্য তালিকায় রাখলে আর আয়রনের ঘাটতি পরবে না আশা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *