ভালোবাসার আগে একটু ভেবে নিতে হবে

ভালোবাসা

তমা(ছদ্মনাম) ও অনির্বাণ(ছদ্মনাম) দুজনই উচ্চশিক্ষিত, ভালপরিবারের, একই ধর্মের এবং ভালো জব করে। তাদের ভেতর একটা ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়। তারা এই সম্পর্কে শুধু ভালোবাসার জন্য আসেনি, ভালোবাসাকে সম্পূর্ণ করে পারিবারিকভাবে বিয়ে করার মত চিন্তাও করেছে। সবাই খুশির মনেই বিয়েটা মেনে নেবে। কিন্তু হঠাৎ যেন কি হয়ে গেলো। অনির্বাণকে তমার বোরিং মানুষ মনে হচ্ছে, মানিয়ে নিতে না পেরে অন্য ছেলেদের সাথে কথা বলে মিলিয়ে দেখেছে আসলেই অনির্বাণ কতোটা বোরিং ছেলে। আর এদিকে বেচারা অনির্বাণ কষ্ট পাচ্ছে তমার ব্যবহার গুলোতে। অনির্বাণ তমার কথার সাথে মানিয়ে নিতে পারছে না আর তমাও পারছে না এভাবে থাকতে, একদিন সব শেষ হয়ে যায়। অনির্বাণ মনে মনে ভেবে নেয় আর না। তমা শেষ চেষ্টা করে কিন্তু তার মত থেকে সরে আসে না।

অবশেষে ব্রেকাপ। এভাবে প্রতিদিন অনেক তরুণ তরুণীর সম্পর্ক শেষ হয়ে যাচ্ছে। শুধু শেষ না এতে যে কতটা মানসিক ক্ষতি হয় তার হিসেব নেই। কাজ করতে ইচ্ছে করেনা, কারো সাথে কথা বলতে ভাল লাগেনা এক কথায় থমকে যেতে চায় চলমান জীবন। জীবনে নতুন কেউ এলে তাকে মানা যায় না, মনে পড়ে যায় আগের সেই মানুষের কথা যার সাথে কাটিয়েছে অনেকগুলো সময়।

ব্রেকাপ
                                                                             ব্রেকাপ

কাউকে ভালোবাসার আগে কি কি বিষয় গুলো খেয়াল রাখা আবশ্যক??

পরিবার ও ধর্ম

পরিবার
                           পরিবার আমাদের জীবনে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ

কাউকে হুট করেই ভালোবেসে ফেললাম তারপর দেখা গেলো তার অথবা আপনার পরিবার থেকে মেনে নিচ্ছে না। অবশেষে ব্রেকাপ, মন ভাঙ্গা, এমন কি আত্মহত্যাও করে ফেলে অনেক মানুষ। তাহলে আমাদের এমন কোন মানুষকে জীবনে আনতে হবে যাকে আমাদের পরিবার মেনে নেয়। যার ধর্মের সাথে আমাদের ধর্ম মেলে কারণ এখন এমন মুসলিম পরিবার আছে যারা হিন্দু বা অন্য ধর্মের মানুষদের সাথে আত্মীয় করবে না এবং হিন্দু পরিবার আছে যারা এসব বিষয়ে আরও বেশী স্পর্শ কাতর। পরিবার এর সাথে নিজের মত মেলার পর ই বিয়ের মত বড় একটা সিদ্ধান্তে নেওয়া উচিৎ কারণ বিয়ে শুধু দুটি মানুষ এর ভেতর সম্পর্ক তৈরি করে না। এখানে দুটি  পরিবার অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত।

সততা

ট্রাস্ট
                                                             সততা সম্পর্কের মূল মন্ত্র

যে কোন সম্পর্কের ভেতর অবশ্যই বিশ্বাস ও সততা থাকতে হবে। কারণ বিশ্বাস না থাকলে কখন কোন সম্পর্ক টিকে থাকে না। “তোমাকে পেলে আমার আর কিছু চাই না” বলার আগে নিজেকেই প্রশ্ন করা দরকার, সত্যিই কি তাই? তাকে পেলেই কি অন্ন, বস্ত্র,  আশ্রয়, অর্থসহ অন্য সব অভাব মিটে যাবে? যায় না। যায় না বলেই যদি এভাবে বলা যায়, “আমার জীবনের সুখকে সমৃদ্ধ করার জন্য তোমাকে চাই”  তাহলেই কি সংলাপ যুক্তিসঙ্গত হয়ে  ওঠে না?
“তোমার চেয়ে বেশি সুন্দর আর কেউ নয়”  তাকে খুশি করার জন্য এ রকম কথা না  বলে যদি বলা হয়, “তোমাকে আমার কাছে ভারি সুন্দর লাগে”  তাহলেই কি তা সত্যতায় অনন্য হয়ে ওঠে না?
“আমি কোনদিন তোমাকে ছেড়ে যাব না”  না বলে,  যদি বলা হয় “যত দিন সম্ভব তোমার কাছেই থাকব’” তবে কী তা মিথ্যা বলা হবে?
“সারাজীবন তোমাকে ভালবাসব”  বলার মতো নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি  কী কেউ কাউকে  দিতে পারেন আসলে?  পারেন না। কারণ মানুষের জীবনের সব কিছুই হচ্ছে বাস্তবতা।  প্রায় সব কিছুই নির্ভর করে অন্য কিছুর উপর। যাকে মানুষ ভালবাসে, তার  প্রতিমুহূর্তের আচরণের ওপর নির্ভর করে,  তাকে কতটা ভালবাসা যায় এবং কতদিন তা স্থায়ী হবে।  তাই  সঠিক হতে হবে সংলাপ।  যদি বলা হয়, “এই মুহূর্তে তোমাকে আমি আমার  সমস্ত অনুভূতি দিয়ে ভালবাসি, এখন এটাই সত্যি”।

ছেলে এবং মেয়ে উভয়কেই তাদের ভালোবাসার মানুষদের কাছে সৎ থাকা উচিৎ। কারণ সততা সব কিছুর উপরে। সততা সম্পর্ক কে ভালো রাখে।

মনের মিল বা মানসিক  ভাবে মিল থাকা

বাচ্চা
    ডিভোর্স বাচ্চাদের জীবনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে।

কোন সম্পর্ক শুরু করার আগে ভাবতে হবে দুজনের মানসিক দিক গুলো মিলে কিনা, তাদের চিন্তা ভাবনার মিল কতটুকু যদি ৫০% ও মিলে যায় তাহলে হয়তো সম্পর্কটা টিকে থাকে কিন্তু যদি ২০% ও না মিলে তাহলে শুধু কম্প্রোমাইজ করেই জীবন কাটাতে হবে, শুরু হবে অশান্তি, ঝগড়া, এক সময় ডিভোর্স। আর যদি এই সম্পর্কে পৃথিবীতে কোন প্রাণ আসে তাহলে তার জীবনটা শেষ হয়ে যাবে সবার আগে।

তাহলে এটা বলা যায় কোন সম্পর্ক শুরু করার আগে অবশ্যই মনের মিল, মানসিক অবস্থা সব কিছু মাথায় রাখতে হবে।

আপনি যখন আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনীর ওপর বিরক্ত, তখন হয়তো সামান্য কারণেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন। এটা আপনার জন্য বুমেরাং হয়ে আসতে পারে। তাই সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে কথা বলার আগে ঠাণ্ডা হয়ে বসে সমস্যাটি নিয়ে ভালভাবে ভাবুন। তারপর তার সঙ্গে কথা বলুন। দেখবেন আসলে সম্পর্ক ততোটা তিক্ত নয়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকগুলো বিষয় ঠিক হয়ে আসতে শুরু করে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিষয়টা অকাট্য সত্য। আপনারা যখন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবেন,  দেখবেন সমাধান হাতের নাগালেই।

তারপর ও বলা যায় না ভালোবাসা স্নিগ্ধ হাওয়ার মত কখন কীভাবে এসে গায়ে লাগে। কিন্তু একটু ভেবে চিন্তে আগাতে দোষ কোথায়।

ভালোবাসা
                          এক সাথে সারাজীবন পার করা

ভালোবাসার পরিসমাপ্তি যেন কখনই ডিভোর্স অথবা ব্রেকাপ নামক শব্দ দিয়ে শেষ না হয়। ভালোবাসার পরিসমাপ্তি যেন শেষ বয়স পর্যন্ত এক সাথেই কাটে।

আমার ভালোলাগা একটি গান দিয়ে শেষ করছি। চাইলে শুনে দেখতে পারেন।

আমার রাতজাগা তারা
তোমার আকাশ ছোয়া বাড়ি
আমি পাইনা ছুঁতে তোমায়
আমার একলা লাগে ভারী…

                                     

                                                                                                         (গান-ভিন দেশী তারা, মুভি-অন্তহীন)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *