কুকুর যখন মানুষের জীবন দানকারী

কুকুর

কুকুর যে মানুষের কত ভালো বন্ধু তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এই কুকুর যখন নিজের জীবন বিপন্ন করে মনিবকে বাঁচাতে যায় তখন তাকে শুধু বন্ধু উপাধিতে সীমাবদ্ধ করা যায় না। আসুন দেখে নেই এমন কয়েকজন বন্ধুকে।

খান বাঁচালো কারলটের জীবন

কুকুর

খান নামের একটি কুকুর কারলট নামের একটি ১৭ বছর বয়সী শিশুকে বিষাক্ত সাপের কামড় থেকে বাঁচায়।

মজার বিষয় খান মাত্র ৭ দিন আগেই ওদের বাসায় আসে। খানকে দত্তক নেয়া হয়।

ছোট্ট কারলটকে যখন সাপটি কামড় দিতে যাবে ঠিক সেই মুহূর্তে খান ওকে ধাক্কা দেয়। আর বিষধর সাপের কামড় লাগে খানের গায়।

বলে রাখা ভালো সাপটি ছিল কিং কোবরা। মন খারাপ করবেন না। খান বেঁচে যায়। তাকে এন্টি-ভেনম দেয়া হয়।

টাটরটট বাঁচালো মৃত্যুপথযাত্রীর জীবন

কুকুর

এখন যে কুকুররের কথা বলবো ওর নাম টাটরটট। পেটনের মা ক্রিস্টি পরিকল্পনা করলেন টাটরটটকে কিছুদিনের জন্য লালন পালন করবেন।

কয়েক সপ্তাহ পর খেয়াল করলেন যে কুকুরটি তার পরিবারের সাথে অনেক সুন্দর সখ্যতা করে ফেলেছে।

একদিন ক্রিস্টি পেটনকে ঘুম পাড়িয়ে অন্য রুমে বসে ছিল। ১/২ ঘণ্টা পর হঠাৎ করে টাটরটট পেটনের রুমের আশেপাশে দৌড়ানো শুরু করল এবং চিৎকার দিতে লাগলো। ক্রিস্টি কোনভাবেই ওকে থামাতে পারল না, যতক্ষণ না ও পেটনের কাছে গেলো। গিয়ে দেখল পেটন খুব ধীরে শ্বাস নিচ্ছে। দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার বলল পেটনের রক্তে সুগারের মাত্রা এতো বেশী কমে গিয়েছিলো যে ও মারা যেতে পারতো। টাটরটট ক্রিস্টির সবচেয়ে ভালো বন্ধু হয়ে গেলো। ক্রিস্টি বলে, এই কুকুর না থাকলে তার সন্তান হয়তো জীবিত থাকতো না।

কুকুর বাঁচালো সুনামি থেকে

কুকুর

বাবু নামের ১২ বছরের এক শিহতজু কুকুর তার ৮৩ বছরের মালিককে সুনামির হাত থেকে বাঁচায়। এটা এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।

হঠাৎ একদিন বাবু তার মালিককে বাইরে নেয়ার জন্য পাগল হয়ে যায়। এমনিতে বাবু বাইরে যেতে বা হাঁটতে পছন্দ করে না।

কিন্তু সেদিন ও তার মালিককে পাহাড়ে পর্যন্ত জোর করে উঠিয়ে নেয়। ওর মালিক যখন পাহাড় থেকে নিচের দিকে তাকায় তখন দেখে সুনামি এসে তার বাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

তার পোষা কুকুর বন্ধুটির জন্য বেঁচে গেলেন তিনি।

কুকুর মনিবের জীবন বাঁচাতে গিয়ে গুলি খেল

কুকুর

কাইলো নামের ১২ বছরের পিটবুল কুকুর। তার মনিবের বাসায় ডাকাত আসে। কাইলো তার মনিবকে বাঁচাতে ডাকাতদের উপর আক্রমণ করে।

ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় কাইলো ওদের পিছু নেয় তখন ওদের কেউ একজন কাইলোর মাথায় গুলি করে।

অলৌকিক ভাবে কাইলোর মাথায় গুলি লাগলেও তা ঘাড়ের পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। ওর মালিক দ্রুত ওকে হাসপাতাল নেয়।

এবং সৃষ্টিকর্তার দয়ায় কাইলো ৩ দিনের মধ্যে হাঁটতে সক্ষম হয়।

ক্যাটরিনা হ্যারিকেন থেকে বাঁচালো মানুষের জীবন

কুকুর

ক্যাটরিনা নামের কালো লেব্রেডর কুকুর হ্যারিকেনে এক মানুষকে ভেসে যেতে দেখল। মানুষটি ডুবে যাওয়ার আগে তাকে টেনে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায় ক্যাটরিনা। ধীরে ধীরে পানি বাড়তে থাকে। ক্যাটরিনা ততক্ষণ চিৎকার করতে থাকে যতক্ষণ না কোন উদ্ধার কর্মীর দল আসে।

জোজো বাঁচিয়েছে নুমুকে

জোজো নামের একটি বাংলাদেশী কুকুর তার মালিককে গ্যাস বিস্ফোরণের হাত থেকে বাঁচায়। বুদ্ধিমান জোজো সবসময় তাঁর মালিকের সাথেই থাকে। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠার পর নুমু (জোজোর মালিক) যখন জোজোর কাছে যায় তখন জোজো তাকে রান্না ঘরে নিয়ে যায়। নুমু রান্না ঘরে গিয়ে আবিষ্কার করেন গ্যাসের চুলা অন করা। শুধু একটি ম্যাচের কাঠি জ্বললেই সেদিন উড়ে যেতো পুরো বাড়ি। জোজোর এতো বড় উপকারে অনেক অনেক কৃতজ্ঞ নুমু। প্রথম ছবিটি জোজো আর নুমুর।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যেন এক মৃত্যুফাঁদ

ত্রিভুবন

১২ মার্চ ২০১৮ তে নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনাট। নিহত হয়েছে অন্তত ৪৯ জন। এদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন বাংলাদেশী। বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাইলটের সাথে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের কথপোকথনের সময় সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝি, বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি, পাইলটের ভুল ইত্যাদি নানান সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। সঠিক কারণ এখন বের করা সম্ভব হয়নি।

নেপাল দেশটি পর্যটনের জন্য বিখ্যাত। প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ এখানে ঘুরতে আসে পরিবার পরিজনদের নিয়ে। নেপাল আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ হওয়ার দরুন অনেক বাংলাদেশীরাই এখানে ঘুরতে যান।

ত্রিভুবনইউএস বাংলা ফ্লাইট বিএস ২২১ ফ্লাইটে করে যাচ্ছিলেন এমন অনেক ভ্রমণ পিয়াসু মানুষরা। বিমানবন্দরে অবতরণের আগে হয়তো মনে মনে পরিকল্পনা করছিলেন কিভাবে কোথায় ঘুরতে যাবেন। কিছুক্ষণের মধ্যে সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেলো।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বর্ণনা

নেপালের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হচ্ছে ত্রিভুবন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টটি। এই বিমানবন্দর ছাড়াও অনেকগুলো স্থানীয় বিমানবন্দর আছে।

এ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির অবস্থান রাজধানীর কেন্দ্র থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে কাঠমান্ডু উপত্যকায়।

সমুদ্র সমতল থেকে এর উচ্চতা ৪ হাজার ৪০০ ফুট এবং এর রানওয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্য।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিমানবন্দর বলার কারণ

এর চারিদিকে পাহাড়। প্রাকৃতিক কারণে বিমান অবতরণের সময় অনেক সমস্যা দেখা যায়। ঘটে যায় দুর্ঘটনা।

এখানে ‘ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম’ নেই। বিশেষ এই সিস্টেম থাকলে খারাপ আবহাওয়ার কারণে খালি চোখে রানওয়ে দেখা না গেলেও যন্ত্রের সাহায্যে রানওয়ের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

পর্বত ছাড়াও প্রায়ই ঘন কুয়াশা ঘিরে ফেলে ত্রিভুবন বিমানবন্দরকে। এ কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় বিপত্তিতে পড়তে হয় পাইলটদের।

কিন্তু বিমান সংস্থাগুলো লাভের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ এই বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা করে।

এখানে অবতরণের সময় প্রধান বাধা একটি বিশাল পাহাড়, এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮৭০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। নয় মাইল দূরে রয়েছে এই পাহাড়।

এ জন্য এই রানওয়েতে কোনো বিমানই সোজা অবতরণ করতে পারে না। ওই পাহাড় পেরোনোর পরপরই দ্রুত বিমান অবতরণ করাতে হয়।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা নিয়ে ডুমুরফুলের কিছু কথা

ত্রিভুবন

ইউএস বাংলা ফ্লাইট বিএস ২২১ ফ্লাইটটি ধ্বংস হওয়ার কারণ হিসেবে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অনেকাংশেই দায়ী।

কিন্তু ৪৯ টি প্রাণের আলো নিভে যাওয়ার দায়ভার কি ইউএস বাংলার নেই।

১৭ বছরের পুরনো বিমান দিয়ে কিভাবে ত্রিভুবনের মত একটি বিমানবন্দরে এতোগুলো মানুষ পাঠাতে পারে তারা।

নিজেদের লাভ ছাড়া আর কিছুই কি মূল্য রাখে না তাদের কাছে। একই পরিবারের কয়েকজন সদস্য মারা গেছে এই দুর্ঘটনায়।

যারা বেঁচে থাকবেন তারা হয়তো সারা জীবন এই আক্ষেপ করবেন মৃত্যু কেন আমাকে প্রত্যাখ্যান করল।

ইউএস বাংলা আপনাদের কাছে অনুরোধ রইলো এই মানুষগুলোর প্রশ্নের জবাব দিবেন।

স্টিফেন হকিং, হারিয়ে গেলেন সময়ের ব্ল্যাক হোলে

স্টিফেন

পদার্থবিদ্যা, ব্ল্যাক হোল, কোয়ান্টাম ফিজিক্স নিয়ে আলোচনা করলে যার চেহারা আমাদের চোখে ভাসতো সেই শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং আমাদের মাঝে নেই। জীবনের অর্ধশত বছর তিনি দুরারোগ্য এক ব্যাধির সাথে লড়াই করে বেঁচে ছিলেন।

১৪ মার্চ বুধবার সকালে ক্যামব্রিজে নিজ বাসভবনে মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৭৬ বছর। তার পরিবারের মুখপাত্রের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।

এ বছরই ৮ জানুয়ারিতে তিনি ৭৬ বছর বয়সে পা দিয়েছিলেন।

জেনে রাখা ভালো উনার জন্মদিন ছিল গ্যালিলিও’র ৩০০ তম মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে! এবং আইনস্টাইনের জন্মদিন ১৪ মার্চ!!

স্টিফেন হকিং ২১ বছর বয়স থেকেই অসুস্থ ছিলেন

২১ বছর বয়স থেকেই প্রাণঘাতী এএলএস(অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস) রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

দুরারোগ্য এই ব্যাধি হলে অর্ধেক মানুষ তিন বছর বা তার বেশি সময় বাঁচেন।

২০ শতাংশ বাঁচেন ৫ বছরের বেশি। আর ১০ বছরের বেশি বাঁচতে দেখা যায় মাত্র ১০ শতাংশ মানুষকে। কিন্তু স্টিফেন হকিং বেঁচে ছিলেন পরবর্তী ৫২ বছর।

এই রোগ ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের এবং সুষুম্নাকাণ্ডের স্নায়ুকোষ নষ্ট করে ফেলে। ফলে রোগী সময়ের সঙ্গে মোটোর ফাংশন হারায়, কিন্তু কগনিটিভ ফাংশন বজায় থাকে।

অর্থাৎ সে নড়াচড়া করতে পারে না কিন্তু সুস্থ মানুষের মতো চিন্তা করতে পারেন।

খাবার গিলতে সাহায্য করা পেশী কাজ করা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে পুষ্টিহীনতা ও পানিশূন্যতায় মারা যেতে পারেন এই রোগে আক্রান্ত রোগীরা।

স্টিফেন হকিং এর জীবনযাত্রা

কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন ১৯৮৫ সালে। এর পর তিনি কম্পিউটার সিস্টেমের সাহায্যে কথা বলা শুরু করেন।

হকিং নিজের বেশিরভাগ পেশী ব্যবহার করতে অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন। একটি মোটোরাইজড হুইলচেয়ারের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন তিনি।

এমন ভয়ঙ্কর রোগের সাথে বসবাস করেও তিনি জ্ঞান অন্বেষণে ত্রুটি রাখেননি।

স্টিফেন হকিং এর সবচেয়ে বড় সাফল্য

১৯৭০ সালে তিনি সবচেয়ে বড় সাফল্যটি অর্জন করেন। তিনি এবং তার সহ-গবেষক রজার পেনরোজ দেখান একটি মাত্র বিন্দু থেকেই বিগ ব্যাং এর সূত্রপাত এবং সেখানেই আমাদের মহাবিশ্বের জন্ম।

স্টিফেন

মহাবিশ্বের একটি ভয়ঙ্কর আবিষ্কার হল ব্ল্যাক হোল।

তিনি কোয়ান্টাম থিউরি ব্যবহার করে জানান ব্ল্যাক হোল থেকে তাপ উৎপন্ন হয় এবং তা একসময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয় ‘অ্যা ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’ বইটি।

বইটি ২৩৭ সপ্তাহ ধরে সানডে টাইমস বেস্ট সেলার থাকার কারণে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে ঠাঁই পায়।

এখনো এটি পদার্থবিদ্যার অন্যতম জনপ্রিয় একটি বই।

স্টিফেন হকিং এর কিছু উক্তি

সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে

হয়তো সৃষ্টিকর্তা আছেন কিন্তু বিজ্ঞান সৃষ্টিকর্তার প্রয়োজন ছাড়া মহাবিশ্বকে ব্যাখ্যা করতে পারে

নারীর উদ্দেশ্যে

আমার চিকিৎসক সহকারী আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে যদিও আমার পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি আছে, তবুও নারীদের একটি রহস্য থাকা উচিত।

অস্কারজয়ী অভিনেতা এডি যখন তার চরিত্র নিয়ে অভিনয় করেছিলেন

দুর্ভাগ্যবশত, এডি [রেডময়েইন] আমার ভাল চেহারা উত্তরাধিকারী হয়নি।

মৃত্যুর উদ্দেশ্যে

আমি মস্তিষ্ককে একটি কম্পিউটার হিসাবে বিবেচনা করি, যা তার উপাদানগুলি ব্যর্থ হলে কাজ বন্ধ করে দেবে। ভাঙা কম্পিউটারের জন্য কোন স্বর্গ বা পরের জীবন নেই; যে অন্ধকারের ভয় মানুষ পেয়ে আসছে তা শুধু মাত্রই গল্প।

বিজ্ঞানের জগতে তাঁর অবদান কোনদিন নিঃশেষ হবে না। সময়ের ব্ল্যাক হোলে হারিয়ে গেলেন পৃথিবীর উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্কদের একজন।

পৃথিবী বিখ্যাত মানুষদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শেষকথা

শেষকথা

পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতার নাম মৃত্যু। যার জন্ম হয়েছে তার মৃত্যু অবধারিত। কেউ তা কোন ভাবে ঠেকাতে পারবে না। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে অনেকেই অনেক কথা বলে থাকেন। কারো কারো কাছে এই শেষকথা অর্থহীন মনে হতে পারে। কিন্তু কথাগুলো কি আসলেই তাৎপর্যহীন? আমাদের সবার পরিচিত কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে উচ্চারিত কিছু কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।

বব মার্লে

শেষকথা

আধুনিক সময়ে এসেও বব মার্লেকে মানা হয় তারুণ্যের প্রতীক, বিপ্লবের প্রতীক হিসেবে। মৃত্যুর এতো বছর পরও তার জনপ্রিয়তা কোন অংশে কমেনি। তিনি অধিকার বঞ্চিত মানুষের গান গাইতেন। মৃত্যুর আগে তার শেষ কথা ছিল,

“জন্মভূমি জ্যামাইকাতেই মরতে চাই।”

জীবনের শেষ মুহূর্ত গুলো তিনি চেয়েছিলেন মাতৃভূমি জ্যামাইকাতে থাকতে। তার শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য তাঁকে জ্যামাইকাতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শরীরের নাজুক অবস্থার কারণে ১৯৮১ সালের ১১ মে পথেই তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুকালে বব মার্লের বয়স ছিল মাত্র ছত্রিশ বছর। পুত্র জিগি মার্লেকে উদ্দেশ্য করে তার শেষ কথাগুলো ছিল, “অর্থ জীবন কিনতে পারে না।”

মহাত্মা গান্ধী

শেষকথা

ভারতের অহিংস আন্দোলনের পথিকৃত মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। আমরা যাকে মহাত্মা গান্ধী নামে চিনি। তিনি খুবই সাধাসিধে জীবনযাপন করতেন। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারিতে নয়া দিল্লীর বিরলা ভবনে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন তিনি।

আততায়ী ছিলেন নাথুরাম গডসে। মৃত্যুর পূর্বমূহুর্তে মহাত্মা গান্ধী শুধু বলেছিলেন “হা রাম।” তার পরপরই সব কিছু শেষ হয়ে গেলো।

আর্কিমিডিস

শেষকথা

আর্কিমিডিস সম্পর্কে কম বেশি সবাই তো জানি। একদিন গণিতের সূত্র নিয়ে বাড়ির উঠোনে দাগ কেটে হিসেব কষছিলেন গ্রিক পন্ডিত আর্কিমিডিস।

তখন রোমান সৈন্যরা গ্রিস আক্রমণ করেছিলো।

গ্রিস জেতার পর রোমান সেনাপতি মার্সেলাস চাইলেন মহাজ্ঞানী আর্কিমিডিসের সাথে দেখা করতে। তিনি ছিলেন গুণের সমঝদার ব্যক্তি।

সৈন্য পাঠিয়ে দিলেন আর্কিমিডিসকে খুঁজে সসম্মানে তার কাছে নিয়ে আসতে।

সৈন্যরা আর্কিমিডিসের কাছে এলো। কিন্তু আর্কিমিডিসের সেদিকে খেয়াল নেই। আর্কিমিডিস তার কাজ নিয়েই ব্যস্ত।

সৈন্যরা তাকে ডাকতেই তিনি বললেন, “আমার নকশা থেকে দূরে সরে দাঁড়াও।”

এই কথাটাই তার শেষ কথা ছিল। পরাজিত নাগরিকের এমন কথা শুনে সৈন্যটি আর নিজেকে স্থির রাখতে পারলো না।

মূর্খ সেই সৈন্যের তরোয়ালের এক কোপে দ্বিখণ্ডিত হলো মহান এই গণিতবিদের শির।

অগাস্টাস সিজার

মৃত্যুর আগে তার প্রজাদের উদ্দেশ্যে বারবার একটি কথা বলছিলেন রোম সাম্রাজ্যের প্রথম সম্রাট অগাস্টাস সিজার।

“আমি কাদা-মাটির রোমকে পেয়েছিলাম। তোমাদের কাছে একে মর্মর বানিয়ে দিয়ে গেলাম“।

অগাস্টাস সিজার তার কাছের মানুষদের বলেছিলেন, “আমি কি আমার দায়িত্ব ঠিকমতন সম্পন্ন করতে পেরেছি? যদি পেরে থাকি, তবে চলে যাওয়ার পর আমাকে স্মরণ করো।“

চার্লস ডিকেন্স

শেষকথা

১৮১২ সালে ৭ ফেব্রুয়ারি মাসে জন্ম নেন ডিকেন্স। তিনি ছিলেন ঊনবিংশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইংরেজ ঔপন্যাসিক।

চার্লস ডিকেন্সকে ভিক্টোরিয়ান যুগের শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক হিসেবে মনে করা হয়।

আধুনিক সময়তো বটেই ডিকেন্স জীবদ্দশাতেই তার পূর্বসূরি লেখকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অনেক বেশি জনপ্রিয়তা ও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

অলিভার টুইস্টের, গ্রেট এক্সপেকটেশন, হার্ড টাইমস এবং ডেভিড কপারফিল্ডের মতো অসংখ্য জনপ্রিয় উপন্যাসের স্রষ্টা তিনি। তিনি খুব সুন্দর কথা বলেছিলেন শেষ সময়ে।

“আমার মৃত্যুর পর স্মরণ সভায় শোক প্রকাশের জন্য কালো বস্ত্র, স্কার্ফ পরিধান করে আসার কোনো দরকার নেই”

তার কাছে এইসব কিছুই অর্থহীন মনে হয়।

সম্রাট আওরঙ্গজেব

মুঘল এই সম্রাট মৃত্যুর আগে তার কৃত কর্মের জন্য অনেক বেশি অনুতপ্ত ছিলেন। তিনি ছেলের কাছে একটি শেষ চিঠি লিখেছিলেন। তার শেষ কথা ছিল,

“আমার জীবনে অনেক পাপ করেছি। জানি না, কত শাস্তি আমার জন্য অপেক্ষা করছে”

হয়তোবা তিনি অনুভব করতে পেরেছিলেন কেউ তার কর্মফল ভোগ না করে পালাতে পারবেনা।

মৃত্যুর ওপাড়ে কি আছে তা হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন।

 

ডিপ্রেশন নিয়ে অবহেলা করলে পরিণতি হতে পারে “মৃত্যু”

ডিপ্রেশন

মানব শরীর নানা রোগের আধার। ভয়ঙ্কর সব রোগ নিয়ে হয়তোবা আপনার আশেপাশের মানুষগুলো বেঁচে আছে। কিছু কিছু রোগ আছে দেখা যায় না কিন্তু এর ভয়ঙ্করের মাত্রা অনেক বেশি। ডিপ্রেশন তেমনই একটি রোগের নাম। দিন দিন এই রোগ প্রকট হয়ে উঠছে। আমাদের দেশে এ নিয়ে তেমন কোন জনসচেতনতা নেই বললেই চলে। কারণ মানসিক সমস্যা অথবা রোগকে কোন রোগ বা আসুস্থতা বলে গণ্য করা হয় না। কিন্তু প্রতি বছরই এর কারণে অনেক মানুষ আত্মহত্যা করছে।

কম বেশি সবাই জানি ডিপ্রেশন কি, তাই এ নিয়ে আলোচনা করবনা। আমরা আসলে ভালো করে জানিনা কেন ডিপ্রেশন হয়। এমনি এমনি তো এই আসুস্থতা হতে পারে না। সব কারণ জানা না গেলেও কিছু সাধারণ কারণ আছে।

ডিপ্রেশন হতে পারে অপমানবোধ থেকে

মানসিক বা শারীরিকভাবে অবমাননার স্বীকার হলে অনেকে  ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়। এই ধরণের অনুভূতি থেকে ডিপ্রেশনের সৃষ্টি হয়।

নিরাপত্তাহীনতা বা একাকীত্ববোধ করা

পারিবারিক কারণে অনেকে হীনমন্যতায় পড়ে। সামাজিক ও পারিবারিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকে বিষণ্নতার স্বীকার হয়। তাছাড়া বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধব বা অন্যান্য কাছের মানুষদের সাথে সম্পর্কহীনতা বা মতবিরোধ থেকেও অনেকে বিষণ্ণতায় ভুগে থাকেন।

ডিপ্রেশন বংশগত কারণে হতে পারে

বংশগত পরিবারে কারো ডিপ্রেশন থাকলে তা অন্যদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

বড় কোন রোগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

বড় ধরণের কোন রোগ থাকলে রোগী ডিপ্রেশনের শিকার হতে পারে।

ঔষধের প্রভাব

নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ সেবনের ফলেও কেউ কেউ বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয়। যেমন ব্রণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত আইসোট্রেটিনিয়ন বা অ্যান্টিভাইরাল “ইন্টারফেরন-আলফা” জাতীয় ঔষধ সেবনেও অনেকে বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয়। এমন অনেক ঔষধ আছে যেগুলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে বিষণ্ণতা ছড়িয়ে দেয় মস্তিষ্কে।

ডিপ্রেশন আপনাকে অসহায় অবস্থায় পতিত করবে। ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন ধরণের থেরাপি ও চিকিৎসার পাশাপাশি নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।

নিজের চেষ্টা না থাকলে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। নিজের প্রতিদিনের কাজকর্ম, খাওয়া-দাওয়া, জীবনপ্রণালী এমনকি চিন্তা-ভাবনায় ও পরিবর্তন আনতে হবে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির জন্য।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির জন্য নিচের পয়েন্টগুলো সহায়ক হতে পারে-

রুটিনমাফিক চলা

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিনের জীবনকে একটা রুটিনের মধ্যে নিয়ে আসুন।

প্রতিদিনের কাজ-কর্মকে যদি একটা নিয়মের মধ্যে বেঁধে ফেলা যায় তবে তা ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা

লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেলুন। ডিপ্রেশনে যেহেতু কোন কাজ করতে ইচ্ছা করে না তাই প্রতিদিন একটু একটু করে কাজ করার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।

নিয়মিত ব্যায়াম করা

প্রতিদিন অল্প কিছু সময় ব্যায়াম করলে তা আপনার শরীর এবং মনকে সুস্থ রাখবে।

ব্যায়াম করা মানে, ম্যারাথন দৌড় টাইপ কিছু না, আপনি যদি প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটাহাঁটি করেন তবুও তা আপনার মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যা আপনাকে ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে।

সুষম খাদ্য গ্রহণ

সুষম খাদ্য গ্রহনের মাধ্যমে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি মেলে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ থাকে।

সাইক্রিয়াটিস্টদের মতে, যেসব খাবারে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এ্যাসিড এবং ফলিক এসিড থাকে সেসব খাবার ডিপ্রেশন কমাতে সহায়তা করে।

অনিদ্রা দূর করা

পর্যাপ্ত ঘুম ডিপ্রেশন কমায়। ডিপ্রেশনের রোগীদের নিদ্রাহীনতা দেখা দেয়্। তাই, প্রথমেই ঘুম সমস্যার সমাধান করতে হবে।

প্রতিদিনের জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে নিদ্রাহীনতা দূর করা সম্ভব। প্রতিদিন ঠিক সময়ে ঘুমোতে যাওয়া এবং সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

দিনের বেলার হালকা ঘুমের অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। শোবার ঘর থেকে টিভি, কম্পিউটার, মোবাইল এগুলো সরিয়ে রাখতে হবে।

এভাবেই অনিদ্রা রোগ ধীরে ধীরে দূর করা সম্ভব।

ইতিবাচক চিন্তা করা

ডিপ্রেশনে ভুগতে থাকলে মানুষের মনে বিভিন্ন রকম নেগেটিভ চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকে।

যেমন আমিই বুঝি সবচেয়ে খারাপ, আমার মত দুঃখ কারো নেই, আমি সবার চেয়ে অসুস্থ, আমি ব্যর্থ একজন মানুষ এই ধরণের চিন্তাগুলো সুস্থ হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা।

তাই এই নেগেটিভ চিন্তাগুলোকে মন থেকে দূর করে পজিটিভলি চিন্তা করার চেষ্টা করতে হবে।

যুক্তি দিয়ে সবকিছু বিচার করতে হবে। আশাহত হওয়া যাবে না কোনভাবেই।

আনন্দদায়ক কাজের মধ্যে সময় কাটানো

নতুন কিছু করার চেষ্টা করতে হবে। মজার কোন কাজ। যেমন নতুন কোথাও ঘুরতে যাওয়া, মজার কোন বই পড়া, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া।

মন ভালো রাখার সবরকম চেষ্টা করতে হবে। মন ভালো থাকলে ডিপ্রেশন কেটে যাবে একসময়।

ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ

ডিপ্রেশন পুরোপুরি না ভালো হওয়া পর্যন্ত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।

স্তন ক্যান্সার রোধে লজ্জা নয় সচেতনতা দরকার

স্তন

ক্যান্সার নামটি শোনার সাথে সাথে আমাদের মনে মৃত্যুভয় চলে আসে। আগে ক্যান্সার নিরাময়যোগ্য ছিলনা কিন্তু এখন ক্যান্সার নিরাময় করা এতো কষ্টসাধ্য নয়। এ রোগ যদি সূচনায় ধরা পড়ে এবং সময়মতো চিকিৎসা দেয়া যায় তাহলে এক-তৃতীয়াংশ সম্পূর্ণভাবে নিরাময় করা যায়। বাকি এক-তৃতীয়াংশ চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বাকি এক-তৃতীয়াংশ অনেক দেরিতে ধরা পড়ে বলে নিরাময় বা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নারীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় স্তন ক্যান্সার।

পৃথিবীর কোথাও না কোথাও স্তন ক্যান্সারের কারণে প্রতি ৭০ সেকেন্ডে একজন মহিলা মৃত্যুবরণ করছেন। স্তন ক্যান্সার বিশ্বের এক অন্যতম নীরব ঘাতক। এই ক্যান্সারে নারী মৃত্যুর প্রধান কারণ নারীরা সচেতন না।

স্তন ক্যান্সারের লক্ষণসমূহঃ  

  • স্তনে চাকা বা পিন্ড
  • স্তনের আকারের পরিবর্তন
  • বোঁটা ভেতরে ঢুকে যাওয়া, অসমান বা বাঁকা হয়ে যাওয়া
  • বোঁটা দিয়ে অস্বাভাবিক রস বা রক্তক্ষরণ হওয়া
  • চামড়ার রঙ বা চেহারার পরিবর্তন
  • উন্মুক্ত ক্ষত
  • বগলতলায় পিন্ড বা চাকা এবং
  • বাহুমূলে স্তনে ব্যথা।

স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা

এই চিকিৎসা সমন্বিত ও বহুমাত্রিক চিকিৎসা পদ্ধতি। শল্য চিকিৎসা, চিকিৎসা, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, হরমোন চিকিৎসা ও ইমিউনোথেরাপি, টারগেটেড থেরাপি সমন্বিতভাবে প্রদান করা যায়। এই রোগের মূল লক্ষ্য দুইটি প্রথমত মূল টিউমার অপসারণ এবং দ্বিতীয়ত সামগ্রিক চিকিৎসা প্রদান।

সার্জারি

সার্জারি স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে অন্য যে কোন চিকিৎসার চেয়ে রোগীকে বেশি আরোগ্য করে।

যদি টিউমার স্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, শরীরের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়া টিউমারের ক্ষেত্রে এর ভূমিকা নগণ্য।

রেডিওথেরাপি

সাধারণত অপারেশনের পরও চোখে দেখা যায় না যদি এমন কিছু কোষ থেকে থাকে, তাকে দমন করা। সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে দেয়া হয়ে থাকে।

যখন এ রোগ মস্তিষ্ক বা হাড়ে ছড়িয়ে পড়ে তখন জরুরী ভাবে পেলিয়েশন বা প্রশমন করার জন্য রেডিওথেরাপির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে রেডিওথেরাপি দেয়া যায় বলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।

কেমোথেরাপি ও হরমোন

প্রায় প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রেই কেমোথেরাপি হরমোনথেরাপি প্রয়োগ করা যায়।

সামগ্রিকভাবে শরীরের সর্বত্রই এই রোগের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য এর ব্যবহার অপরিহার্য।

খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণীত হলে এবং যথোপযুক্ত চিকিৎসা নিলে শতকরা ৭৫-৮০ ভাগ রোগী ১০ বছরেরও বেশি বেঁচে থাকে।

মাঝ পর্যায়ে নির্ণীত হলে এই হার ৫০ থেকে ২৫ শতাংশে নেমে আসে।

শেষ পর্যায়ে ভাল কিছু করার সুযোগ প্রায় থাকেই না।

স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় এবং সময়মতো যথোপযুক্ত চিকিৎসা নেয়া এ রোগ মোকাবেলা করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই।

স্তন ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়া থেকে বিরত হতে নতুন  আশার আলো আবিষ্কার হয়েছে

  • খাদ্যে প্রাপ্ত একধরনের প্রোটিন গঠনকারী ব্লক, প্রাণঘাতী স্তন ক্যান্সার ছড়ানো থেকে বিরত রাখার চাবিকাঠি হতে পারে বলে ন্যাচার জার্নালের এক গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে।
  • বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, পরীক্ষাগারে ‘ট্রিপল-নেগেটিভ’ স্তন ক্যান্সার যুক্ত ইঁদুরে অ্যাসপ্যারাজিন নামে অ্যামিনো অ্যাসিড কমিয়ে দিলে তা দেহে ক্যান্সার  ছড়ানোর ক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে হ্রাস করে।

অ্যাসপ্যারাজিন  সমৃদ্ধ খাবার হছে, দুগ্ধজাত খাবার, গরুর মাংস, হাঁস-মুরগীর মাংস, সামুদ্রিক মাছ, বাদাম, ডিম, অ্যাসপ্যারাগাস বা শতমূলী ইত্যাদি। তবে বেশিরভাগ শাক-সবজি ও ফলমূলে এর পরিমাণ কম।

এটি শুধু স্তন ক্যানসারই নয়, কিডনি ক্যানসারের মতো অন্যান্য ক্যানসার টিউমারের ক্ষেত্রেও বিশাল প্রভাব রাখতে পারে। সুতরাং আপনার খাদ্য তালিকায় অ্যাসপ্যারাজিন  সমৃদ্ধ খাবার রাখুন।

মাংসাশী ৫ টি উদ্ভিদকে চিনে রাখুন, হয়তো আপনার আশেপাশেই আছে

মাংসাশী

প্রকৃতির অন্যতম একটি উপাদান হচ্ছে গাছ। আমরা বিভিন্নভাবে প্রক্রিয়াজাত করে খাদ্য গ্রহণ করি। সবাই জানি যে গাছ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাবার তৈরি করে। মাটি থেকে পানি, সূর্যের আলো আর পাতার মাধ্যমে তৈরি করা খাবার দিয়েই গাছ তার জীবন চালনা করে। কিন্তু গাছ যদি পোকামাকড়, ব্যাঙ, ছোট ইঁদুর খায় তবে কেমন শোনাবে। হ্যাঁ আপনি ঠিক শুনছেন। আসুন জেনে নেই এমন ভয়ঙ্কর মাংসাশী গাছদের ব্যপারে।

মাংসাশী উদ্ভিদ ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ

সাধারণত এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলিনার জলাভূমিতে পাওয়া যায়।

  • জীবনকাল প্রায় মোটামুটি ২০ থেকে ৩০ বৎসর পর্যন্ত
  • উদ্ভিদগুলোর মাঝ বরাবর লম্বা দন্ডাকৃতির কান্ডে নজরকাড়া সাদা ফুল ফোটে এবং এই ফুল থেকে চকচকে কৃষ্ণকালো অনেকগুলো ফল থোকায় থোকায় ধরে।
  • গাছগুলোর গোড়ার দিকে ১ ইঞ্চির সমান লম্বা সবুজ পাতা জন্মায়। এই পাতাগুলো দেখতে অনেকটাই ঝিনুকের মত অথবা অনেকটা মুখের চোয়ালের মতো হয়।
  • প্রতিটি পাতা তিন থেকে ছয় ইঞ্চির মতো লম্বা হয় এবং এতে অনেক গুলো ছোট ছোট লোম থাকে।
  • সবচেয়ে মজার বিষয় হল একটা পোকা হজম করতে ভেনাস ট্র্যাপের সময় লাগে ১০ দিনের মতো
  • মাংসাশী এই গাছটি এর পাতা দিয়ে পোকা আটকায়।
  • ভেনাস ট্র্যাপের পাতা একসাথে ৩ থেকে ৪টি পোকা ধরতে পারে এবং পরবর্তীতে যখন এর কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় তখন আবার নতুন করে পাতা গজায় এবং পুনরায় সে নতুন পাতা গুলো পোকামাকড় ধরতে থাকে।

    মাংসাশী উদ্ভিদ কলসি

    মাংসাশী

    কলসি উদ্ভিদে ফাঁপা বিশেষ এক ধরনের পাতা রয়েছে যা একটি জগ কিংবা কলসির মত পানি ধরে রাখতে পারে। কলসির মত দেখতে এ পাতাগুলো শিকার ধরার ফাঁদ হিসেবে কাজ করে। গঠন ও আকৃতি থেকেই এদেরকে নাম দেওয়া হয়েছে কলসি উদ্ভিদ।

  • ছোট কলসি গাছগুলো কীটপতঙ্গ ধরে। বড় কলসি গাছগুলো ছোট ব্যাঙ, ইঁদুর শিকার করে।
  • কলসের সঙ্গে আটকানো পাতাটি লম্বা নলের মত কাজ করে।
  • নলটির মাথায় থাকে রংচঙে এক প্রবেশ পথ। যে কারণে কীটপতঙ্গরা আকৃষ্ট হয়। আর সেই ফাঁদে পা দেয়।
  • নলের তলদেশ অংশটি পেয়ালাকৃতির।
  • কলসির মাথায় ঢাকনা থাকে এবং ঢাকনাটি সব সময় খোলা থাকে।
  • প্রবেশ পথে মধু উৎপন্ন হয়। কলসির ভেতরে আরও মধু থাকে।
  • পোকাটি কলসির নলের ভিতরেই ঢোকার পরই বিপদে পড়ে যায়। নলের ভিতরের দেয়ালটি বরফের মতই মসৃণ আর পিচ্ছিল। তাই যতবার উঠতে যায় ততবার পড়ে যায়।

মাংসাশী উদ্ভিদ ওয়াটার হুইল

মাংসাশী

 

 

ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান ও আফ্রিকাতে এ উদ্ভিদটি পাওয়া যায়। ছোট আকারের শিকড়হীন এ উদ্ভিদটি পুকুর বা জলাশয়ের উপরে ভাসতে দেখা যায়।

  • উদ্ভিদের পাতাগুলোই ফাঁদ হিসেবে কাজ করে।
  • আকারে ছোট হওয়ায় এদের শিকারগুলোও ছোট হয়।
  • প্ল্যাঙ্কটন নামের ছোট ছোট জলজ প্রাণী আর প্রাণীদের লার্ভাই এদের মূল খাদ্য।
  • ওয়াটার হুইলের পাতাগুলো কাজ করে পানির নিচের ভেনাস ফাইট্র্যাপের মত।
  • পোকা ফাঁদে প্রবেশ করলে পাতার খন্ড দুটি এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়।
  • পোকাটি পরিপাক হওয়ার পর পাতাগুলো আবার শিকার ধরতে প্রস্তুত হয়।

মাংসাশী উদ্ভিদ সূর্যশিশির

উদ্ভিদটির পাতাগুলো ছোট আর গোলাকার। উদ্ভিদটি আঠালো ফাঁদওয়ালা মাংসাশী উদ্ভিদের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

  • উদ্ভিদটি মাত্র ৩.৫ ইঞ্চি (৮ সে.মি.) চওড়া।
  • বড় আগাছা ও আশে পাশের গাছের নিচেই লুকিয়ে বেড়ে ওঠে ওরা।
  • সূর্যশিশিরের পাতাগুলোকে উজ্জ্বল লাল রঙের দেখায়। দেখে মনে হয় উপরে শিশির ছড়ানো।
  • এর পাতাগুলো অসংখ্য বোঁটা দিয়ে ঢাকা থাকে। প্রতিটি বোঁটার আগায় আঠালো এক ধরণের পদার্থ থাকে। এই আঠালো পদার্থগুলোর রঙই লাল।
  • বাতাসে এক ধরণের সুগন্ধও ছড়ায় এই মাংসাশী উদ্ভিদটি।
  • যে লাল রঙের আঠালো পদার্থের কথা বললাম, সেই পদার্থগুলো তৈরি করা হয় পোকা মাকড়দের আকৃষ্ট করার জন্য।
  • যখন পোকা উদ্ভিদটির পাতায় বসে তখনই আঠালো পদার্থ পোকার পায়ে লেগে যায়। পোকাটি যত ছোটার চেষ্টা করে তত বেশি করে এথা লেগে যায় ওদের শরীরে।
  • ৪/৫ দিনের মধ্যে পরিপাক শেষ করে আবার আগের অবস্থানে চলে যায়।

মাংসাশী উদ্ভিদ ঝাঁঝি দাম

মাংসাশী

 

বাংলাদেশের বিভিন্ন খাল বিলে এর অবাধ অবস্থান। বর্ষার শেষদিকে একটু কম পানিতে জন্মায় এরা।

  • এটি একটি মধ্যম আকারের জলজ বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ।
  • তেমন কোনো শেকড় থাকে না এবং পানিতে ভেসে বেড়ায় এই উদ্ভিদগুলো।
  • শেকড়ের বদলে এদের এক ধরণের থলে থাকে।
  • থলের মুখের প্রবেশ পথে খাড়া রোম থাকে।
  • এই রোমগুলোতে কোন জলজ প্রাণী স্পর্শ করলেই এর মুখ খুলে যায় এবং প্রাণীটিকে থলের ভেতর নিয়ে নেয়।
  • উদ্ভিদটির গাঢ় কমলা হলুদ রঙের ফুল হয়। হাল্কা সুবাস আছে এতে।

অপেক্ষা

অপেক্ষা

চুল বাঁধাটা মনের মতো হচ্ছে না বলে আবার বেণী খুলে ফেললো তিথি। স্কুলে যেতে দেরী হচ্ছে দেখে নদী চলে এসেছে। নদী তিথির সবচেয়ে কাছের বান্ধবী।

আজও তোর জন্য দেরী হবে রে তিথি।

আর একটু বস চুলটা বাঁধা হলেই চলে যাবো।

তুই কি ভাত খেয়েছিস?

না, এসে খাবো।

ধ্যাত। তুই রেডি হ। আমি নিয়ে আসি তোর খাবার। খাইয়ে দিলে খাবি তো?

যা যা নিয়ে আয়।

এভাবেই চলছিল তিথির দিন কাল। বয়স ১৪/১৫। কয়েক মাস পর এসএসসি পরীক্ষা শুরু তাই এখন নিয়মিত স্কুলে ক্লাস করে। নদী নামের মেয়েটা ওর সবচেয়ে ভালো বন্ধু। নিজের মনের সব কথাই ও নদীর সাথে শেয়ার করে। কালো দেখতে তিথি নামের মেয়েটি পড়াশোনা আর পরিবার-বন্ধু মহল ছাড়া কাউকে নিয়ে কখন চিন্তা করেনি। যদিও ওর বিয়ের জন্য অনেকগুলো প্রস্তাব এসেছিল কিন্তু ও এখন পড়াশোনা নিয়ে কিছু ভাবতে চায় না। ডাক্তার হওয়ার খুব শখ তিথির।

বান্ধবীর সাথে সব সময় হেঁটেই স্কুলে যাতায়াত করে। আজও তাই করল।

তিথি ঐ ছেলেটাকে পরিচিত লাগছে না?

আরে ও তো আমাকে আগে কয়েকবার চিঠি দিয়েছিল। ভুলে গেছিস?

ওহ এটা শফিক ভাই? কিশোরগঞ্জ থেকে রাজশাহী আসে এই লোকটা! শুধু একবার তোকে চোখের সামনে দেখার জন্য এতো দূরে আসেন। ভাবতেই অবাক লাগে রে।

ধুর বাদ দে। ছেলেরা এমন করে। এখন এগুলো পাত্তা দিতে পারবো না। লোকটার দিকে তাকাস না প্লিজ।

শফিক বাইশ/তেইশ বছরের এক টগবগে যুবক। চাকরীর সুবাদে তিথির বাবা কিশোরগঞ্জে গিয়েছিলেন। বাবার জন্য তিথিরও যেতে হয়েছে। তখন থেকেই তিথিকে পছন্দ করে শফিক। তিথি কোন কথার উত্তর দেয় না। তবুও চেষ্টার ত্রুটি নেই ওর। শফিক দেখতে অনেক সুন্দর। নায়ক বললেও কম হবে। হাজার হাজার সুন্দরীরা তার আশেপাশে ঘোরে। কিন্তু তার মনে এই কালো হরিণের কালো চোখ ছাড়া আর কিছুই নেই। তাই তো বার বার ছুটে চলে আসে। তিথিরা এখন রাজশাহী থাকে। শফিকের মন একটু উড়ু উড়ু। তাই পড়াশোনাটা শেষ করা হয়নি। অনেক কষ্টে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। পাশও করেছে ভালো ভাবে। জানে না শফিক কিসের টানে আজও সে তিথির পেছন পেছন ঘোরে। কখনই কি ওর চিঠির জবাব দেবে না তিথি? ভাবতে ভাবতে ওর সামনে চলে আসলো শফিক। আজও ওর হাতে একটা চিঠি।

আপনি আবার কেন এসেছেন? কি চান আপনি?

আমার চিঠিগুলোর জবাব দিলে না তো। কিছুই তো বললে না তুমি। এই চিঠিটা পড়ে আমাকে অবশ্যই উত্তর দিবে।

অনেক সুন্দর লাগছে আজ শফিককে। তিথি না তাকিয়ে পারল না। সত্যি এতো সুন্দর ছেলে সে আগে কখন দেখেনি। মনের বরফ গলে যাবে মনে হচ্ছে তিথির।

আমি আসি তিথি। সামনের সপ্তাহে আবার এই বান্দা তোমার সামনে হাজির হবে।

না চাইতেও হেসে দিল তিথি। সাথে নদীও। এতক্ষণে নদী মুখ খুলল।

শফিক ভাইয়া অবশ্যই আসবেন। আর এই পাজি মেয়ে না আসলে আমি ওকে আপনার কাছে নিয়ে আসব।

তিনজন একসাথে হেসে উঠল। যদিও তিথি ওর হাসিটা লুকানোর চেষ্টা করল।

স্কুল শেষে বাড়ির পথ ধরে আসার সময় সত্যিই বুকটা কেমন করে উঠল শফিকের জন্য। কখন এভাবে ভেবে দেখেনি তিথি। ওর মতো একটা মেয়ে শফিকের কাছে কিছুই না। ইচ্ছে করলেই শফিক অনেক সুন্দরী মেয়ের সাথে প্রেম করতে পারে। তবুও কিসের টানে শফিক ওকে দেখতে আসে?

বাড়িতে ঢুকেই শুনতে পেলো বড় ভাইয়ের চিৎকার চেঁচামেচি। মনটা সাথে সাথে বিষিয়ে গেলো তিথির। কিছুক্ষণ আগে ভালই তো ছিল ও নদীর সাথে। ভালো লাগে না এই বাড়িতে থাকতে। হঠাৎ করে সামনে চলে এলো তিথির বড় ভাই মামুন। খুব রাগী লোক। পান থেকে চুন খসলে গায়ে হাত তুলতে দ্বিধা করেন না তিনি।

তিথি তুই স্কুলে যাওয়ার সময় কার সাথে কথা বলছিলি?

তিথি অনেক বেশি ভয় পেয়ে গেলেও কিছু বলল না।

কি তুই চুপ করে আছিস কেন? কি ভাবিস তুই আমার কানে কোন কথা আসে না? শফিকের সাথে তোর কিসের সম্পর্ক? এতো কিসের হাসাহাসি রাস্তায়?

ভাইয়া আমি কিছু করিনি।

তাহলে ওই ছেলে বার বার আসে কেন এখানে? কি চায় ওই ধূর্ত ছেলে? ও কেমন ছেলে তুই কি কিছু জানিস?

ভাইয়া সে খারাপ লোক না।

তিথির বলতে দেরী কিন্তু ওর ভাইয়ের চড় দিতে দেরী হল না।

এত্ত বড় সাহস তোর? তুই আমার সাথে তর্ক করিস? তোর জন্য বিয়ের সম্বন্ধ এসেছে। ওরা যদি দেখে ফেলত কি ভাবত তাহলে।

রাগের চোটে খুব খারাপ অবস্থা হয়ে গেলো তিথির। রাগের বসে মানুষ অনেক কথাই বলে। তিথি মনের গোপনে রাখা কথাটা বলে ফেললো।

ভাইয়া আমি যদি জীবনে কাউকে বিয়ে করি তাহলে সেটা শফিক। আমি ওকে ভালোবাসি।

তোর কি মাথার ঠিক আছে? তুই কোনদিন ওর সাথে ভালো থাকবি না। ও ভালো মানুষ না।

চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে তিথি। এবার যে চিঠিটা দিয়েছিল সেটার কথা গুলো মাথায় ঘুরছে ওর।

“ তিথি আমাকে তুমি ভালোবাসো আর নাই বাসো আমি তোমাকে সারা জীবন এভাবেই ভালোবেসে যাবো। তুমি আমাকে ভয় পেয়ো না। আমি জানি তোমার পড়াশোনার অনেক ইচ্ছে। তুমি যদি আমাকে বিয়ে করো তাহলে নিজের রক্ত বিক্রি করে হলেও তোমাকে পড়াশোনা করাবো। অনেক ভালোবাসা নিয়ো। আমাকে একটা হলেও চিঠির জবাব দিয়ো ”

এতো চিৎকার চেঁচামেচির মধ্যেও ওর কথা মনে পড়ে গেলো তিথির। ভাইয়ের কথায় আবার বাস্তবে ফিরে এলো।

কি হল কি ভাবছিস?

বিয়ে করলে আমি ঐ ছেলেকেই বিয়ে করবো।

এসএসসি পরিক্ষার পর দেখতে দেখতে ওর সাথে বিয়ে হয়ে গেলো শফিকের সাথে। হাজার রঙিন স্বপ্ন দেখতে লাগলো তিথি। ধুমধাম করেই বিয়ে হয়ে গেলো ওদের। যদিও বড় ভাইয়ের সম্মতি ছিল না।

শ্বশুর বাড়ীর সবাই অনেক ভালো। স্বামী হিসেবে শফিককে পেয়ে তিথি অনেক বেশী ধন্য। এমন সুন্দর চেহারার ছেলে, ব্যবহার, কথা আর কণ্ঠ এতো সুন্দর। তিথি মুখে যাই বলুক না কেন। ও কিন্তু অনেক বেশী সুন্দরের পূজারী। বিয়ে করে শফিক ওকে কিশোরগঞ্জ নিয়ে এলো। অনেক আত্মীয়স্বজন ছিল শফিকের সাথে। এখন বউকে মায়ের কাছে নিয়ে যাবে।

আম্মা তোমার বউকে দেখ।

তিথি অনেক বুদ্ধিমতী কারো কোন কথার অপেক্ষা না করে টুক করে শাশুড়ির পা ধরে সালাম করে নিলো। কিন্তু খুব স্পষ্ট বোঝা গেলো তিনি তিথিকে মোটেও পছন্দ করেননি। মনটাই খারাপ হয়ে গেল তিথির।

তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়েই শুরু হল তিথির নতুন জীবন। অনেক ভালোবাসা পেলো স্বামীর থেকে। অনেক ভালো শফিক। কিন্তু কয়েকমাস পর দেখল শফিক একদম বাড়ির বাইরে যায় না। আগের মতো ঘুরতে নেয় না। কোন কাজও করে না। শুধু বাসায় বসে থাকে। জিজ্ঞেস করলে বলল,

“আমার কাছে টাকা নেই। কি করবো বাইরে গিয়ে? তুমি কি পারবে আমাকে টাকা দিতে?”

জানে না কি করে এনে দেবে টাকা তবুও বলল,

“আমি এনে দেবো তোমাকে তুমি কি তাহলে স্বাভাবিক ভাবে চলবে? কিছু একটা তো করো।”

“ঠিক আছে তাহলে আমাকে এনে দাও।”

পরের দিন বাড়ীতে চলে গেলো তিথি। বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে আসলো। ২ দিনের মাথায় শফিক টাকা হাতে পেলো। কত যে খুশি হল শফিক। অনেক বেশি ভালো লাগছে এখন তিথির। সব সমস্যার যেন অবকাশ ঘটল। কিন্তু সে সুখ বেশি দিন সইল না ওর কপালে। জুয়া খেলে সব টাকা হেরে রাগে গজ গজ করতে করতে আবার বাড়িতে বসে রইলো। এভাবেই চলতে লাগলো দিনকাল স্বামীর ঘরে।

একটা লোক এলো সেদিন তিথিকে দেখতে। বলল,

“শফিক নতুন বউকে নিয়ে ঘুরতে বের হও না কেন?”

শফিকের উত্তর শুনে সেদিন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল তিথির।

“আরে ভাই কালো বউকে নিয়ে কি এতো ঘুরাঘুরি করা যায়।”

খুব কষ্ট পেলেও চুপ করে ছিল সেদিন। সেদিন ভালোবাসা কমার কথা থাকলেও কমাতে পারেনি তিথি।

এদিকে শফিক বেকার থাকে বলে সংসারের যাবতীয় কাজ তিথিকে করতে হয়। এক কথায় কাজের বুয়ার সব কাজ। এখানে সবাই একান্নবর্তী পরিবারে থাকে। সুতরাং কিছু না কিছু সবাই দেয় সংসারে শফিক ছাড়া। এতো দিনে অনেক ভয়ঙ্কর একটা জিনিস দেখল তিথি। খুব বদ মেজাজি লোক শফিক। অনেক সময় রাগ হলে হাত উঠে যায় ওর। তিথি বাথরুমে গিয়ে কাঁদে। কাউকে ওর মনের দুঃখের কথা বলে না। মানুষের যে এতো রূপ থাকতে পারে তা ও কখন বিশ্বাস করতে পারে না। ওর ননদ, ননাস, শাশুড়ির সামনেও অনেক সময় অপমান করে কথা বলে ফেলে শফিক।

অনেক সদস্য পরিবারে তাই অনেক রান্না হয়। শাশুড়ি সবাইকে বেড়ে দেন। সবার খাবার শেষ হলে অল্প একটু তরকারি আর ভাঙা মাছ থাকে ওর জন্য। খুব অবাক লাগে তিথির যখন বাড়িতে ছিল তখন ওর মা থালা ভরে তরকারি দিতো আর ও না খেয়ে স্কুলে যেতো। তিথি কিচ্ছু বলে না। অনেক বেশি ভালোবাসে ও শফিককে কোথাও যাবে না ও ওকে ছেড়ে। যত কষ্টই হোক। বড় ভাইয়ের কথা মিথ্যা প্রমাণ করে ছাড়বে।

বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই গর্ভবতী হয়ে গেলো তিথি। অদ্ভুত এক অনুভূতি। অনেক বেশী লাজুক তিথি, তাই সে কারো সামনেও যেতে চায় না এখন। শফিক তো মহা খুশি, ভালো ভাবেই যত্ন নেয় মেয়েটার। অনেক কিছু কিনে দেয় ওকে। কিন্তু মায়ের কাছে যেতে ইচ্ছে করছে। চলে গেলো রাজশাহী  কিছুদিন পরই। অল্প বয়সের কারণে তিথির নানান সমস্যা দেখা দিল। ১০ মাস পরই প্রসব ব্যথা উঠলো মেয়েটার। হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার বলল হয় মাকে না হয় বাচ্চাকে বাঁচাতে পারবো। শফিক বলল যে করেই হোক তিথিকে বাঁচান। তিথি বেঁচে গেলেও বাচ্চাটাকে বাঁচানো গেলো না। পাগল প্রায় অবস্থা হল ওর। অনেক বেশি সুন্দর হয়েছিল ছেলেটা। বাচ্চা দেখলেও ভয় পেত ও। কেঁদে ফেলত নিজের অজান্তে। এই সময়টাতে সম্পূর্ণ ভাবে মানসিক সাহায্য দিয়েছে শফিক। অনেক ভালোবাসা দিয়ে ওকে ভোলানোর চেষ্টা করেছে। বলেছে যদি আমাদের কখনো আর বাচ্চা নাও হয় আমার কোন সমস্যা নেই। তুমি শুধু ভালো থেকো তিথি। আমার আর কিছু চাই না। ডাক্তারের পরামর্শে ২ বছর পর একটা টুকটুকে মেয়ে বাবু হল তিথির। চিনির মতো সাদা একটা মেয়ে হল ওর। নাম দিল তুয়া।

দেখতে দেখতে তুয়া বড় হতে লাগলো। শফিক এখন ভালই উপার্জন করে। ভালই আছে পরিবারটা। যখন ও ভালো অনেক ভালো কিন্তু যখন খারাপ তখন এতো বেশি খারাপ ব্যবহার করে যে কোন মানুষ ওর সাথে থাকবে না। তবুও আছে তিথি। তিথির সৌন্দর্য যেন আগের থেকে আরও বেশি বেড়ে গেছে। যদি ও চায় তাহলে অন্য একজনের সাথে ওর বাবা মা বিয়ে দিয়ে দিবে। কারণ উনারা জানেন শফিক খুব একটা সুখে রাখেনি তিথিকে। কিন্তু তিথির পক্ষে এ যে অসম্ভব।

মেয়ের পর একটা ছেলে হল তিথির। অনেক মায়াবী চেহারা ওর। শফিক আজ ভালো হলে কাল খারাপ থাকে। আজ উপার্জন করলে কাল করে না। খুব অশান্তিতে আছে ও। কিন্তু কখনো ছাড়ার কথা ভাবতে পারে না। অপেক্ষায় আছে কবে লোকটা ওর ভালোবাসা বুঝতে পারবে।

অদ্ভুত ব্যপার ওদের বিয়ে হয়ে ছিল ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ভালোবাসা দিবসে। কোন পরিকল্পনা ছিল না। এমনিতেই মিলে গেছে। আজও তেমন একটি ১৪ তারিখ এসেছে। ছেলেমেয়েরা বড় হয়েছে। সংসারও চলছে, শফিক আজও তেমনই আছে। কোন পরিবর্তন আসেনি ওর ভেতর। তিথিও পরিবর্তন করতে পারেনি নিজেকে। এখনো পাগলের মতো ভালবাসে লোকটা। অপেক্ষায় আছে কোনদিন হয়তো বুঝতে পারবে ও কতটুকু ভালবাসে শফিককে। এই লোক ছাড়া ওর পৃথিবীতে আর কিছুই নেই। যে যাই বলুক, এই রাজপুত্রের জন্য ও আজও সব করতে পারে।

শফিকরা কি কখনো ভালো হবে। বুঝতে পারবে তিথিদের মনের কথা???

অপেক্ষায় রইল তিথি, অপেক্ষায় রইলো সবাই।

কুকুর পালতে চাইলে জানতে হবে যে বিষয়গুলো

কুকুর

কুকুর অনেকেই পছন্দ করে। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই কুকুর পালতে দেখা যায়। শহরেও দেখা যায় কুকুর পালতে। কিন্তু শহর আর গ্রামের পালার ভেতর পালার মধ্যে পার্থক্য আছে। অনেকেই এখন কুকুরকে ঘরের একজন সদস্য হিসেবে পালেন। তাই একটি কুকুর বাসায় আনার জন্য থাকতে হয় নানান প্রস্তুতি। আজ কথা বলবো তাই নিয়ে।

কুকুর নিয়ে পরিবারের মতামত

বাসায় কুকুর নিয়ে আসার আগে পরিবারের সবার মতামত নিন। কারও আপত্তি আছে কিনা বা কুকুরের কারণে কারও কোনো ধরনের অ্যালার্জির সমস্যা হয় কিনা- সেই সব বিষয়ে জানতে হবে।

পাশাপাশি বাড়িওয়ালা এবং প্রতিবেশীদের মতামতও জেনে নেওয়া জরুরি। কারণ আপনার জন্য কেউ বিরক্ত হলে সেটা ভালো হবে না।

যত্ন নেয়া

পোষা প্রাণীর যত্ন নেওয়ার ব্যপারটি মাথায় রাখতে হবে। আপনার ওদেরকে দেয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় আছে কিনা সেই বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

একটি ছোট শিশুর মতোই একটি কুকুরের যত্ন নিতে হবে।

তাকে সময় দিতে হবে এবং প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এর জন্য যে আলাদা সময় দরকার তা দিতে পারবেন কিনা সেই বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে।

কুকুর পালার জন্য পরিবেশ

যেই পরিবেশে কুকুরকে রাখবেন সেটা খেয়াল করুন। বড় আকারের কুকুরের জন্য প্রচুর জায়গা প্রয়োজন।

তাই অ্যাপার্টমেন্টে পালার জন্য ছোট আকারের কুকুর বেছে নেওয়াই ভালো।

বড় কুকুরকে যদি ছোট জায়গায় রাখেন তাহলে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।

একটি প্রাণীকে পালতে এনে তাকে অসুস্থ করার অধিকার আপনার নেই। সুতরাং অবশ্যই এই দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

চিকিৎসা

সময় করে কুকুরের ভ্যাক্সিন দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। দিনে একবার দাঁত মাজাতে হবে এবং মাসে একবার নখ কেটে দিতে হবে।

যতটা জলদি সম্ভব কুকুরের ‘নিউটার’ বন্ধ্যা করানোর ব্যবস্থাও নিতে হবে। কুকুরের যেন কৃমি না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

গ্রুমিং

গ্রুমিং হচ্ছে কুকুরকে পরিষ্কার করা এবং সৌন্দর্য রক্ষা করা। অনেক কুকুরের লোম লম্বা থাকে সেইক্ষেত্রে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যেন গায়ে উকুন না হয়।

চামড়ায় যেন কোন ইনফেকশন না হয়। নিয়মিত গোসল করাতে হবে। ওদের জন্য আলাদা শ্যাম্পু আছে সেগুলো ব্যবহার করতে হবে।

ক্ষতিকর জিনিস দূরে রাখুন

একটি দুই বছরের মানব শিশুর যেমন বুদ্ধিমত্তা একটি কুকুরেরও তেমন।

কুকুরেরা না বুঝেই সব কিছু মুখে দেয়। তাই ক্ষতিকর জিনিসগুলো কুকুরের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।

খেলতে হবে

প্রতিটি কুকুরকেই দিনের কিছুটা সময় বাইরে খেলাধুলা ও হাঁটাতে নিয়ে যেতে হয়।

আকার অনুযায়ী আধা ঘণ্টা থেকে দিনে সম্ভব হলে দু’বার এদের খেলার সময় দিতে হয়।

এই সময়ও দিতে পারবেন কিনা তা বুঝে নিতে হবে।

বাসায় যেই কুকুরগুলো পালা হয় তাদের অনেক বেশি মনোযোগ লাগে। সুতরাং তাদেরকে অবশ্যই সময় দিবেন।

পৃথিবীর কয়েকটি দুর্লভ এবং দামী খনিজ পাথর

পাথর

জলদস্যুর দল কতো কষ্ট করে বিভিন্ন গুপ্তধনের খোঁজ বের করত। সেই রোমাঞ্চকর কাহিনী গুলো পড়লে মাথায় ঘোরে চকচকে সোনা আর হীরাসহ অনেক দামী পাথরের ছবি। আজ আপনাদের সেই সব পাথর সম্পর্কে বলবো যেগুলো অনেক দুর্লভ আর দামী। যেগুলো দেখলে আপনারও জলদস্যু হতে মন চাইবে।

লাল হীরা

বিশ্বের এ পর্যন্ত প্রাপ্ত সমস্ত খনিজ পাথরের চেয়েও সবচেয়ে বেশি মূল্যবান লাল হীরা। দুষ্প্রাপ্যতাই এর অনন্য বৈশিষ্ট্য। দুর্লভ এ পাথরের প্রতি ক্যারেটের মূল্য প্রায় ১০ লক্ষ মার্কিন ডলারেরও উপরে। সারা পৃথিবীতে এই পর্যন্ত ৩০ টির মত লাল হীরা পাওয়া গেছে, যাদের বেশিরভাগই অর্ধেক ক্যারেটের।

তাফেইটি

পাথর
তাফেইটি আরেকটি দুর্লভ খনিজ পাথর। এটাকে দেখতে অনেকটা চুনি পাথরের মত। আয়ারল্যান্ডে ১৯৪৫ সালে সর্বপ্রথম এটা আবিষ্কৃত হয়। পরবর্তী সময়ে শ্রীলংকা এবং তানজানিয়াতেও পাওয়া যায় এই পাথর। এর প্রতি ক্যারেটের মূল্য ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার।

গ্রান্ডিডিয়েরাইট

পাথর
এটি খুবই কম পাওয়া গেছে এ পর্যন্ত। মাদাগাসকারে ১৯০২ সালে সর্বপ্রথম এটা পাওয়া গিয়েছিল। প্রতি ক্যারেটের মূল্য ২০ হাজার মার্কিন ডলার।

স্যারেন্ডিবিটে

পাথর
স্যারেন্ডিবিটে খুবই দুষ্প্রাপ্য একটি খনিজ পাথর। এটা সর্বপ্রথম ১৯০২ সালে শ্রীলংকাতে পাওয়া যায়। সাম্প্রতি এটি মিয়ানমারেও পাওয়া গেছে। প্রতি ক্যারেট মূল্য ১৮ হাজার মার্কিন ডলার।

হীরা

পাথর

পৃথিবীতে যত কঠিনতম খনিজ পাওয়া গেছে তার মধ্যে হীরা একটি। কয়লা খনিতে পাওয়া যায় এই পাথর। ১০০-৩০০ বছরে কয়লা রূপান্তরিত হয়ে হীরায় পরিণত হয়। প্রতি ক্যারেটের মূল্য ১৫ হাজার মার্কিন ডলার।

আলেকজান্দ্রিত

পাথর

আলেকজান্দ্রিত সর্বপ্রথম ১৮৩০ সালে রাশিয়াতে পাওয়া গেছে। বিভিন্ন অবস্থায় বিভিন্ন রংয়ের রূপ ধারণ করে আলেকজান্দ্রিত।

আলোতে পান্নার মত দেখতে এবং অন্ধকারে লাল রুবি পাথরের বর্ণ ধারণ করে এটি। প্রতি ক্যারেটের মূল্য ১২ হাজার মার্কিন ডলার।

রেডবেরেল

পাথর

রেডবেরেল তৈরি হয় ব্যারিয়াম, এলুমিনিয়াম এবং সিলিক্যাটের মাধ্যমে। প্রকৃতিতে যে সমস্ত পান্না পাওয়া যায় সেগুলো বর্ণহীন।

এই পাথরের মূল্য প্রতি ক্যারেট ১০ হাজার মার্কিন ডলারের উপরে এবং দুষ্প্রাপ্য পাথরটি একসাথে ২-৩ ক্যারেটের বেশি পাওয়া যায় না।

মুসগ্রেভিটে

পাথর

অস্ট্রেলিয়ার মুসগ্রেভ অঞ্চলে ১৯৬৭ সালে সর্বপ্রথম এই পাথর পাওয়া যায়। এটা খুবই দুষ্প্রাপ্য এবং কঠিন পাথর।

মুসগ্রেভিটে তৈরি হয় অ্যালমুনিয়াম অক্সাইডের সাথে ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন এবং জিংকের বিক্রিয়ার ফলে।

প্রতি ক্যারেটের মূল্য ৬ হাজার ডলার।

বেনিটয়েটে

পাথর

উজ্জল নীলাভ বণ্রের পাথর এটি। ব্যারিয়াম, টাইটানিয়াম এবং সিলিকার তৈরি এটি। ক্যালিফোর্নিয়ার বেনিটো কাউন্টিতে এটি সর্বপ্রথম পাওয়া গেছে।

পরবর্তীতে সেই জায়গার নাম অনুসারেই এর নামকরণ করা হয় বেনিটয়েটে। প্রতি ক্যারেটের মূল্য ৪ হাজার মার্কিন ডলার।

পাওড্রেটেটিয়েট

পাথর

কানাডার পাওড্রেটে পরিবার ১৯৬০ সালে সেইন্ট হিলারি কিউবেক পাহাড়ে সর্বপ্রথম এই খনিজ পাথর আবিষ্কার করে।

এটা দেখতে অনেকটা গোলাপি রংয়ের। প্রতি ক্যারেটের মূল্য ৩ হাজার মার্কিন ডলার।