মস্তিষ্কের সজীবতা ধরে রাখতে গড়ে তলুন ৭ টি অভ্যাস

মস্তিষ্কের

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা শুধু বয়স বাড়লেই কমে না আপনি যদি মস্তিষ্কের সঠিক যত্ন না করেন তখনও এমনটা হতে পারে। মাঝ বয়সেও এমনটা হতে পারে অনেকের শেষ বয়স পর্যন্ত মস্তিস্ক প্রখর থাকে। মস্তিষ্কের কোষ সজীব রাখার কিছু অজানা কিন্তু সহজ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব। আশা করি আপনারা উপকৃত হবেন।

ফলের তালিকায় রাখুন জাম এবং স্ট্রবেরি

প্রথমেই আপনাদের মাথায় এসেছে জাম তো সব সময় পাওয়া যায় না। আর স্ট্রবেরিও।

কিন্তু যখন এই মৌসুমি ফল গুলো হাতের নাগালে থাকে তখন কি আমরা ঠিক মতো খাই?

জামে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বা ফ্ল্যাভানওয়েডস মস্তিষ্কের কোষগুলোকে রক্ষা করে। ফলে ভুলে যাওয়ার সমস্যা থেকে রেহাই মেলে।

ঘরের কাজে হাত লাগান

সারাদিন আলসেমি করে কাটাবেন না। এতে করে আপনার মস্তিস্ক কার্যক্ষমতা হারাতে থাকে। তাই ঘরের ছোটখাটো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।

যেমন- ঘর গোছানো, রান্নাবান্না করা, বাসন ধোয়া ইত্যাদি।

লুডু, দাবা খেলেও কাটাতে পারেন অবসর সময়। মস্তিষ্ক সতেজ থাকলে অ্যালজ়াইমারের আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যায়।

নতুন ভাষা শিখুন

নতুন কিছু শেখার প্রতি আগ্রহী হন। নিজের ভাষার সাথে সাথে অন্য একটা ভাষাকেও করতে পারেন আপনার দ্বিতীয় ভাষা।

এক কথায় মস্তিষ্ককে সব সময় কাজে লাগান। জানেন তো অলস মস্তিস্ক শয়তানের বন্ধু।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার জন্য নিয়মিত ভাবুন

প্রতিদিন দিনশেষে সারাদিনে কী কী করেছেন তা ধারাবাহিকভাবে মনে করার চেষ্টা করুন। মোটেও লিখে রাখবেন না।

মস্তিস্কে সব মেমোরি জমা করে রাখুন। প্রয়োজনে আধা ঘণ্টার জন্য নিরিবিলি কোথাও চলে যান। এরপর ভাবুন। এটা প্রতিদিন করুন। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়বে।

রাগ করা চলবে না

রাগ মানুষের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। আপনি যদি বদ মেজাজি হয়ে থাকেন তাহলে আপনার মেজাজকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন। রাগ কখনই ভালো কিছু এনে দেয় না এটা সব সময় মনে রাখবেন। অতিরিক্ত রাগ কিন্তু হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

যতটা সম্ভব রাগ, পারিবারিক কলহ এড়িয়ে চলুন। এমন পরিস্থিতি দেখলে ওই স্থান থেকে প্রয়োজনে কিছু সময়ের জন্য বাইরে চলে যান।

ধর্ম নিয়ে চিন্তা করুন

ধর্মীয় বিভিন্ন রীতিনীতি পালনেও মস্তিষ্ক শীতল হয়। কর্মক্ষমতা বাড়ে।

মুসলমানরা নামাজের সময় যখন সিজদায় যায় তখন মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। এতে স্মৃতিশক্তি ভালো থাকাসহ ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।

ধর্মীয় নিয়ম গুলো পালন করা একধরণের মেডিটেশন। সকল ধর্মে মানুষ যখন সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করে একনিষ্ঠভাবে প্রার্থনা-পূজা-অর্চনা করে, তখন তা মেডিটেশনের কাজ করে।

এতে মস্তিষ্ক শীতল হয় ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে।

ব্যায়াম

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কেও রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে মস্তিষ্কের কোষগুলো সতেজ থাকে। স্মৃতিশক্তিও ভালো থাকে। সকালে উঠেই ব্যায়াম করতে হবে এমন নয়। আপনার যখন সুবিধা হয় তখন করবেন।

চির সবুজ থাকতে চান? এই খাবার গুলো তাহলে আপনার জন্য।

চির

চেহারার লাবণ্যতা ধরে রাখার জন্য আপনি হয়তো বিউটি সেলুনের শরণাপন্ন হন। অনেক ধরণের বিউটি প্রডাক্টস কেনেন এবং নিজের চেহারায় প্রয়োগ করেন। কিন্তু উপকার পাচ্ছেন না। পেলেও তা ক্ষণস্থায়ী।

যদি নিজের যৌবন ধরে রাখতে চান আর বেঁচে থাকতে চান সুন্দর ত্বক নিয়ে তাহলে আপনাকে খেতে হবে কিছু খাবার যা আপনাকে ভেতর থেকে সুন্দর করে তুলবে।

চির যৌবন চাইলে খেতে হবে ডিম

চির

ডিম সিদ্ধ হোক কিংবা ভাজি, সব ভাবেই ডিম শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার। ডিমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-৫ ও বি-৬ আছে যা শরীরের হরমোনের কার্যক্রম ঠিক রাখে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

প্রতিদিনের সকালের নাস্তায় একটি করে ডিম রাখুন। ডিম খেলে অনেকক্ষণ ক্ষুধা লাগে না।

এতে আপনার শরীর শক্তি পাবে এবং যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

লাবণ্যতা ধরে রাখে মধু

চির

মধুর রয়েছে অসংখ্য উপকারিতা।

সকালে খালি পেটে জিহ্বা দ্বারা মধু চেটে খেলে কফ দূর হয়, পাকস্থলী পরিস্কার হয়, দেহের অতিরিক্ত দূষিত পদার্থ বের হয়, গ্রন্থ খুলে দেয়, পাকস্থলী স্বাভাবিক হয়ে যায়, মস্তিস্ক শক্তি লাভ করে, স্বাভাবিক তাপে শক্তি আসে, জ্যোতি শক্তি বৃদ্ধি হয়, মূত্রথলির পাথর দূর করে, প্রস্রাব স্বাভাবিক হয়, গ্যাস নির্গত হয় ও ক্ষুধা বাড়ায়।

প্যারালাইসিসের জন্যও মধু উপকারী। মধু হল হাজারো রকম ফুল ও দানার নির্যাস। দুনিয়ার সকল গবেষকগণ একত্রিত হয়ে এমন নির্যাস প্রস্তুত করতে চাইলেও কখনো বানাতে পারবে কিনা এ বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে দুধ

যৌবন ধরে রাখতে দুধের ভূমিকা অতুলনীয়। বিশেষ করে শরীরের পেশী বৃদ্ধিতে দুধের তুলনা হয়না। চেহারায় লাল বর্ণ তৈরী করে, দেহের অপ্রয়োজনীয় দূষিত পদার্থ বের করে দেয় এবং মস্তিস্ক শক্তিশালী করে।

বাদাম ও বিভিন্ন বীজ

চির

কুমড়ার বীজ, সূর্যমূখীর বীজ, চিনা বাদাম, কাজু বাদাম, পেস্তা বাদাম ইত্যাদিতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে এবং এগুলো শরীরে উপকারী কোলেস্টেরল তৈরী করে।

শরীরের হরমোনগুলো ঠিক মতো কাজ করার জন্য এই কোলেস্টেরল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই প্রতিদিন অল্প করে হলেও বাদাম খাওয়ার চেষ্টা করুন।

এতে আপনার শারীরিক ও মানসিক ভালো স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। এই বীজগুলো মস্তিস্ক বিকাশে সাহায্য করে।

চিনি ছাড়া চা

চির

প্রতিদিন দুধ-চিনি ছাড়া চা পান করলে শরীরে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়।

চা ব্রেইন কে সচল করে, রক্ত চলাচল বাড়ায় ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।

প্রতিদিন অন্তত তিন থেকে ৫ কাপ পর্যন্ত চিনি ছাড়া সবুজ চা বা রঙ চা খেলে শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং শরীরের ওজন কিছুটা হলেও কমে যায়।

রঙিন ফল

চির

শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চাইলে প্রতিদিন খাবার তালিকায় রঙিন ফলমূল রাখুন।

আঙ্গুর, কলা, কমলা লেবু, তরমুজ, পিচ ইত্যাদি ফল যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপকারী।

ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাসের মেডিকেল টিমের গবেষণা অনুযায়ী একজন পুরুষের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় অন্তত ২০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকলে তার স্পার্মের কোয়ালিটি উন্নত হয়।

আবার টেক্সাসের A&M ইউনিভার্সিটির মতে তরমুজ শরীরে শারীরিক উদ্দীপনা বৃদ্ধি করে। শরীরে আনে কর্ম উদ্দীপনা।

রসুন

এতে রোগ নিরাময় হয়। রসুনে অনেক উপকারিতা রয়েছে।

রসুন ফোড়া ভালো করে, ঋতুস্রাব চালু করে, প্রস্রাব স্বাভাবিক করে, পাকস্থলী থেকে গ্যাস নির্গত করে, নিস্তেজ লোকদের মধ্যে শারীরিক ক্ষমতা সৃষ্টি করে, পাকস্থলীর ব্যাথা উপকার সাধন করে।

এ্যাজমা এবং কাঁপুনি রোগেও উপকার সাধন করে। তবে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অধিক রসুন ব্যবহার ক্ষতিকর।

এই রসুনকে আবে হায়াত বলেও আখ্যা দেয়া হয়।

তৈলাক্ত মাছ

চির

তৈলাক্ত মাছে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যা সুস্থ শারীরিক জীবনের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সামুদ্রিক মাছেও প্রচুর পরিমাণে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড থাকে।

ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড DHA O EPA শরীরে ডোপামিন বাড়িয়ে দেয় এবং মস্তিষ্কে উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে।

তৈলাক্ত ও সামুদ্রিক মাছ খেলে শরীরের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং গ্রোথ হরমোনের নিঃসরণ হয়। ফলে শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

পালং শাক ও অন্যান্য সবজি

পালং শাকে আছে প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম। ম্যাগনেসিয়াম শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে।

জাপানের গবেষকদের মতে শরীরে রক্ত চলাচল বাড়লে শারীরিক উদ্দীপনাও বাড়ে।

পালং শাক ও অন্যান্য বিভিন্ন রকম শাক, ব্রকলি, লেটুস, ফুলকপি, বাঁধাকপি এগুলোতে রয়েছে ফলেট, ভিটামিন বি সহ অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

এগুলো সুস্থ শারীরিক জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিছু উপাদান।

জিরা

জিরাতে থাকা আয়রন রক্তস্রোতে অক্সিজেন বহনকারী হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।

এছাড়া জিরা পানি আয়রনের অভাবজনিত রক্তশূন্যতার জন্য বেশ উপকারী।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের বেশি করে জিরা খাওয়া দরকার।

মসলাটি শুধু তাদের ডায়েটকে নিয়ন্ত্রণে রাখে না, একইসাথে রক্তে চিনির পরিমাণও কমিয়ে দেয়।

লাল লাল ফুসকুড়ি, ব্রণ ইত্যাদি শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দেওয়ার জন্য হয়।

বিপাক ক্রিয়ার মাধ্যমে শরীর থেকে দূষিত পদার্থগুলো বের হয়ে গেলে ত্বকের উপর এর প্রভাব কমে আসে।

জিরা পাচনতন্ত্রের যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে ত্বকের সুরক্ষাও দিয়ে থাকে।

চির

কালো জিরা

ডায়াবেটিকস রোগিরা এক চিমটি পরিমাণ কালোজিরা এক  গ্লাস পানির সঙ্গে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেয়ে দেখুন।

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে একসময় ডায়াবেটিকস কমে যাবে।

নিয়মিত কালোজিরা খান। এটি মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয়।

যার দরুন স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়। এর সঙ্গে এটি প্রাণশক্তি বাড়ায় ও ক্লান্তি দুর করে।

স্নায়ুবিক দুর্বলতায় আক্রান্ত রোগীদের জন্যও অতি উৎকৃষ্ট ঔষুধ।

 

ব্যক্তিত্ব ছাড়া আপনার দাম নেই

ব্যক্তিত্ব

আমরা একজন মানুষ কে বিচার বিবেচনা করার জন্য তার বাহ্যিক রূপকে গুরুত্ব দেই না। কারণ বাহ্যিক সৌন্দর্য্য আমরা জন্মগত ভাবে বা স্বাভাবিক ভাবে পেয়ে থাকি অপর দিকে ব্যক্তিত্ব যা আমাদের অর্জন করে নিতে হয়। একজন মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ গুণাবলী হচ্ছে তার ব্যক্তিত্ব। মানুষের জীবন যাপনের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি ব্যক্তিত্বও একজন মানুষের অনেক বেশী অপরিহার্য। ব্যক্তি বলতে ব্যক্তিত্বকে বুঝায় না কিন্তু ব্যক্তিত্ব বলতেই ব্যক্তি বুঝায়। ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য দরকার ব্যক্তি স্বাধীনতা। কারণ সুপ্ত মেধা, সুপ্ত ক্ষমতা আর সুপ্ত প্রতিভার প্রসার করাই হলো ব্যক্তিত্ব বিকাশ। অর্থাৎ আমাদের নিজস্ব সত্ত্বার যেসব গুণাবলী আছে সে গুলো বিকাশ ঘটানো।

সত্যিকার অর্থে ব্যক্তিত্ব বলতে যা বুঝায়

ব্যক্তিত্ব হচ্ছে এক ধরনের ছাপ যা মানুষের ভিতরে প্রকাশ পায়। ব্যক্তিত্ব মানুষের মূল্যবান সম্পদ।
মানুষের জীবনে ব্যক্তিত্বের সীমারেখা প্রতিফলিত হয় কথাবার্তায়, আচার ব্যবহারে, চাল-চলনে, ধ্যানধারণায় ও মন মানসিকতায়।
সাফ্যল্যের চাবিকাঠি হলো ব্যক্তিত্ব। মানুষের চালনা শক্তি, এগিয়ে নেওয়ার শক্তি, চারিত্রিক গুণাবলী এসব কিছু ব্যক্তিত্ব।

ব্যক্তিত্বহীনতার ফল
যাদের ব্যক্তিত্ব নাই মানে ব্যক্তিত্বহীন তাদের মধ্যে আত্ম নিয়ন্ত্রণ থাকে। নিজের প্রতি কোন বিশ্বাস থাকে না সব সময় অন্যের উপর নির্ভর করে থাকে।
আত্ম-সম্মান থাকে না, মানবতা হারিয়ে ফেলে।
ইচ্ছা শক্তি, স্বপ্ন, লক্ষ্য হারিয়ে ফেলে।
ভয় পায় অনেক বেশী, হীনমন্যতায় ভোগে।
কর্ম ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়, অবশেষে ব্যর্থ হয়।

ব্যক্তিত্ব থাকলে যা হবে আপনার সাথে


বাধা, ভয়, হিনমনতা, দুশ্চিন্তা, সন্দেহ, ঘৃণা, ঈর্ষা, হতাশা, ক্ষতি, ব্যর্থতা, কদর্যতা, তিক্ততা, কষ্ট সকল কিছু কে পেছনে ফেলে সফলতা অর্জন করা যায়।
ব্যক্তিত্ব এমন একটা শক্তি যা আপনাকে আপনার কল্পনার বাইরেও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

আপনি ভালো নেতৃত্ব দান করতে পারবেন।

নিজেকে জানতে পারবেন।

ব্যক্তিত্ব
জ্ঞান অর্জন করতে সময় খরচ করুন।

জীবনে আর বন্ধু খুঁজতে হবে না এমনিতেই আপনি অনেক বন্ধু পেয়ে যাবেন।

যে কোন জায়গায় আপনার গ্রহণযোগ্যতা বেশী থাকবে।

ব্যক্তিত্ব গঠনে আপনাকে যা করতে হবে

কথার সাথে কাজের মিল রাখবেন।

কারো করুণার পাত্র হবেন না।

শুদ্ধ ভাষায় কথা বলুন।

একান্ত গোপনীয় কথা স্বল্প পরিচিত কারো সাথে বলবেন না।

অনধিকারচর্চা করবেন না।

চটপটে এবং স্মার্ট থাকবেন।

উপস্থিতবুদ্ধি সম্পন্ন হতে হবে।

অন্যান্যদের মতামতকে শ্রদ্ধা করবেন।

কোন কিছুর দায়িত্ব নিলে তা যেকোনো মূল্যে পূরণ করবেন।

সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবেন।

আত্মবিশ্বাসী হতে হবে

মেজাজের ভারসম্য রক্ষা করবেন।

জ্ঞান অর্জন না করলে আপনি কখনো ব্যক্তিত্বশালী হতে পারবেন না  

দোয়া ও প্রভুর কাছে প্রার্থনা করে

অনুভব ও অনুমানের মাধ্যমে জ্ঞানার্জন করা যায়

চিন্তাশক্তি প্রয়োগ করে

অভিজ্ঞতা থেকে

অতীত থেকে

জ্ঞানীদের সাথে মিশে

মূর্ত জগতকে দেখে

মূর্ত এবং বিমূর্ত জগত সম্পর্কে চিন্তা গবেষণা করে

ভ্রমণ করে

বই পড়ে

জিবনী পড়ে

ধর্মীয় লেখা

বিখ্যাত লেখকদের লেখা

সাধারণ জ্ঞান সম্পর্কিত বই (আজকের বিশ্ব, কিশোর কন্ঠ ইত্যাদি টাইপের)

বিজ্ঞান ও শিক্ষামূলক সিরিজ

টিভি দেখে

রেডিও শুনে

পত্রিকা পড়ে (সব পত্রিকার শিক্ষা, বিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সাইড গুলো বেশি করে)

নেট সার্চ করে

ফেসবুকিং

ব্লগিং

প্রশিক্ষণ নিয়ে

সমস্ত পেশার লোকদের সাথে মিশে

 

 

বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করতে পারে

বই

 জ্ঞান ছাড়া প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না আর জ্ঞানের উৎস হলো বই। মানুষ দুই প্রকারের হয় এক জ্ঞানী মানুষ এবং দুই জ্ঞানশূন্য মানুষ।

সত্যিকার অর্থে আমাদের সবার মাঝে কম বেশী জ্ঞান আছে কিন্তু আমরা তার সঠিক চর্চা করতে জানি না। তাই আমাদের মধ্যে এই ধরনের প্রকারভেদ দেখা যায়।জ্ঞানকে প্রসারিত করতে অনেকেই আপ্রাণ চেষ্টা করি কিন্তু মনে কি প্রশ্ন জাগে? সঠিক উপায় কয়জন অবলম্বন করি। জ্ঞান অর্জনের জন্য মানুষের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো বই।বই পড়া ছাড়া একজন মানুষের জীবন ৮০ শতাংশই বৃথা।কেননা বই একজন মানুষকে তার ভিতরে লুকিয়ে থাকা ঘুমন্ত মানুষটিকে জাগিয়ে তোলে, মনের চক্ষু খুলে দেয়, জ্ঞান ও বুদ্ধিকে প্রসারিত ও বিকশিত করে এবং ভিতরে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে।

মনুষ্যত্ব অর্জনের সবচেয়ে বড় ও সঠিক পথ হচ্ছে বই পড়া।

বই পড়ে হারিয়ে যেতে পারেন অদেখা কোন জায়গায়

এটি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে ও অনুভূতিকে সতেজ করে তোলে। বিভিন্ন ধরনের বই বিভিন্ন ধরনের জ্ঞানের সমারোহ বহন করে।

বর্তমানে বাংলাদেশ সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পড়ালেখায় অনেক নতুন নতুন পদ্ধতি চালু করেছে কিন্তু কার্যত কোন উপকার পাওয়া যাচ্ছে না।

এ সমস্যার কারণ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক ত্রুটি রয়ে গেছে এখনো সেটা হচ্ছে পাঠ্য বইয়ের বাহিরে কিছু শিক্ষা দেওয়া হয় না।

আমরা শুধু পাঠ্য বই পড়ি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য আবার পরীক্ষা শেষ হলে কি পড়েছি তা ভুলেও যাই।

তাই আমাদের জ্ঞানের পরিধি সীমাবদ্ধ থেকে যায়। এ জন্য আমাদের পাঠ্য পুস্তক এর পাশাপাশি জ্ঞান মূলক কিছু পড়া উচিৎ যা আমাদের জ্ঞানকে প্রসারিত করতে সাহায্য করবে।

শুধু মানুষ হলেই চলবে না প্রকৃত মানুষ হতে হবে আর নিজেকে জানতে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পড়ার বিকল্প কিছু নেই।

এটি পড়লে শুধু জ্ঞানই বাড়বে না বরং আপনি একটা ভালো বন্ধুও পেয়ে যাবেন নিজেকে সময় দেওয়ার। যে আপনাকে কখনো ছেড়ে যাবে না।

গবেষণায় পাওয়া বই পড়ার উপকারিতা সমূহ

চাপ কমায়ঃ

মানসিক চাপ কমাতে পারে বই

আপনি অনেক বেশী মানসিক চাপে আছেন? চাপে থেকে কি করেন হয়তো কফি পান করেন, একটু হেঁটে আসেন বা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে থাকেন।

সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে- বই পড়া এর চেয়ে বেশী কার্যকর।

গান শোনা, হাঁটাহাঁটি করা বা কফি পান করার চেয়ে বই পড়া খুব দ্রুত মানসিক চাপ কমায়, মনযোগ অন্য দিকে ধাবিত কর, সতেজ অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

মনকে সহানুভূতিশীল করেঃ

বই পড়লে এমন অনুভূতি জাগে মনে হবে গল্পকাহিনীর মত আপনি গল্পের নায়ক বা গল্পের অংশ হয়ে গেছেন।

এটি আমাদের মধ্যে এমন একটা আবেগের অনুভুতি সৃষ্টি করে, তখন আপনি গল্পের সাথে সংযুক্ত হতে শুরু করবেন।

এভাবে যদি নিয়মিত পড়া যায় তাহলে আপনার বাস্তব জীবনকেও প্রভাবিত করবে এবং আপনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক গুলোর প্রতি আরো সহানুভিতিশীল হয়ে উঠবেন।

ইনসমনিয়া থেকে মুক্তিঃ

গবেষণায় এটা প্রমাণিত যে বই পড়া আপনার ঘুম না হওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

যদি আপনি ইনসমনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে বই পড়াই হবে আপনার জন্য কার্যকরি চিকিৎসা।

আপনার ঘুম ফিরিয়ে আনতে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ

ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা যায়- বই পড়া আমাদের দিনে দিনে আরো বেশী তীক্ষ্ণ ও চটপটে করে তোলে।

একটা পড়ে শেষ করার পর বহুদিন পর্যন্ত বইটির ইতিবাচক প্রভাব থেকে যায়।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, কিছু পড়ার সময় মানুষের মস্তিস্ক এমন ভাবে কাজ করে যে তা নিউরোলজিকাল পরিবর্তন ঘটায় ও মেমোরি মাসলকে উজ্জীবিত করে।

বিষণ্ণতা দূর করেঃ

আমরা অনেক বিষণ্ণতা দূর করতে বাজে পথে চলে যাই, বাজে আড্ডা দিয়ে থাকে নেশার পথ খুঁজি। কিন্তু বই পড়া এমন একটা নেশা যা সকল নেশাকে হার মানাতে পারে।

এটি জীবনের মূল লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করে এবং জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেয়।

তাই বিষণ্ণতা দূর করতে আজ থেকে পড়ার অভ্যাস করুন আর এই অভ্যাসকে নেশাতে পরিণত করুন।

বই পড়া নিয়ে মনীষীদের উক্তি

১. ভালো খাদ্য বস্তু পেট ভরে কিন্ত ভাল বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করে। – স্পিনোজা

২. ভালো বই পড়া মানে গত শতাব্দীর সেরা মানুষদের সাথে কথা বলা। – দেকার্তে

৩. অন্তত ষাট হাজার বই সঙ্গে না থাকলে জীবন অচল। – নেপোলিয়ান

৪. প্রচুর বই নিয়ে গরীব হয়ে চিলোকোঠায় বসবাস করব তবু এমন রাজা হতে চাই না যে বই পড়তে ভালবাসে না। – জন মেকলে

৫. আমি চাই যে বই পাঠরত অবস্থায় যেন আমার মৃত্যু হয়। – নর্মান মেলর

৬. একটি ভালো বইয়ের কখনোই শেষ বলতে কিছু থাকে না। – আর ডি কামিং

৭. একটি বই পড়া মানে হলো একটি সবুজ বাগানকে পকেটে নিয়ে ঘোরা। – চীনা প্রবাদ

৮. একজন মানুষ ভবিষ্যতে কী হবেন সেটি অন্য কিছু দিয়ে বোঝা না গেলেও তার পড়া বইয়ের ধরন দেখে তা অনেকাংশেই বোঝা যায়। – অস্কার ওয়াইল্ড

৯. বই হলো এমন এক মৌমাছি যা অন্যদের সুন্দর মন থেকে মধু সংগ্রহ করে পাঠকের জন্য নিয়ে আসে। – জেমস রাসেল

১০. আমাদের আত্মার মাঝে যে জমাট বাধা সমুদ্র সেই সমুদ্রের বরফ ভাঙার কুঠার হলো বই। – ফ্রাঞ্জ কাফকা

১১. পড়, পড় এবং পড়। – মাও সেতুং

১২.জীবনে তিনটি জিনিসের প্রয়োজন- বই, বই এবং বই। – ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

১৩. বই হচ্ছে অতীত আর বর্তমানের মধ্যে বেঁধে দেয়া সাঁকো। – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আসুন একটু হৃদয়ের যত্ন নেই

হার্ট

“প্রায় বুকে চিন চিন করে ব্যথা করে কবির সাহেবের, তিনি ভাবেন এটা গ্যাস্টিকের ব্যথা হয়ত। তাই দুই টাকা দামের একটা গ্যাস্টিকের ট্যাবলেট খেয়ে সাময়িক ভাবে ব্যথা উপশম করেন।“

আমাদের সমাজে এমন কবির সাহেব আছেন হাজারেরও বেশি। হার্ট অ্যাটাকের আগে কেউ ডাক্তার দেখাতে যায় না। বার বার শরীরের প্রয়োজন কে অবহেলা করি আমারা। ফলাফল হার্ট অ্যাটাক নাহয় মৃত্যু। একটা মৃত্যু বা হার্ট অ্যাটাকের চাপ একটা পরিবারকে যে কতটা ভেঙ্গে ফেলে লিখে শেষ করা যাবে না।

আজ তাই চেষ্টা করলাম এই বিষয় অজানা কিছু তথ্য জানাতে। সব শেষে থাকছে একটি সারপ্রাইজ। আসা করি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি নিজ স্বার্থে পড়বেন।

হৃৎপিণ্ড আমাদের দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। মাদার বোর্ড ছাড়া যেমন কম্পিউটার চলে না। তেমনই হৃৎপিণ্ড ছাড়া শরীর চলতে পারেনা। কিন্তু ব্যস্ততার বা অবহেলার কারণে শরীরের এ গুরুত্বপূর্ণ অংশটির যত্ন নেওয়ার কথা ভুলে যাই আমরা। বর্তমান সময়ে পরিবেশ যেভাবে দূষিত হচ্ছে, রোগের বয়স এর পার্থক্য কমে যাচ্ছে। যে কোনো বয়সের মানুষেরই হতে পারে যে কোনো রোগ। বিশেষ করে হার্টের রোগ। একটু সতর্ক হলেই কিন্তু এই সব অসুখ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। হার্টের অসুখের ঝুঁকি আপনার জীবনে একটু কমাতে চাইলে কিছু বিষয় অবশ্যই মানতে হবে।

ধূমপানের অভ্যাস থাকলে ছেড়ে দিন। ধূমপান না করলে আপনার হার্টের অসুখের ঝুঁকিও অনেক কমে যাবে। একটু ব্যায়াম করুন। সময় সুযোগ মতো নিয়ম করে করুন ব্যায়াম। হার্টের অসুখের ঝুঁকি কমবে। আপনার উচ্চতা এবং বয়সের সঙ্গে মানানসই এমন ওজন বজায় রাখুন।

হার্ট
ধূমপান বাদ দিতে না পারলে হৃদরোগ হবেই।

ব্যায়ামের উপকারিতা

১।  দেহে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয় ও কোষগুলোকে অক্সিজেন ব্যবহার করতে সহায়তা করে।

২।  হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে।

৩।  ব্লাডপ্রেশার বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

হার্ট
রক্তচাপ বেশি থাকলে দ্রুত কমানোর ব্যাবস্থা করুন।

৪। হার্ট ফেইলিওরের উপসর্গ কমায়।
৫। হার্টের পাম্প ক্ষমতা বাড়ায়।
৬। মাংসপেশি, অস্থিসন্ধি ও হাড়কে শক্তিশালী করে।
৭। রক্তনালিতে অতিরিক্ত চর্বি বা কোলেস্টেরল জমা হতে দেয় না।
৮। রক্তের সুগারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে ও দেহের কোষের ওপর ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

৯।  শরীরের বাড়তি ওজন কমায়। কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে সহজে ক্লান্ত হওয়া, হাঁপিয়ে যাওয়া ইত্যাদি কমে যায়।

হার্ট
ব্যায়াম শুধু হার্ট না সারা শরীরও ভালো রাখে।

১০। ঘুম স্বাভাবিক ও আরামদায়ক হয়, শারীরিক ও মানসিক অবসাদ দূর হয়।
দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা ও বিষণ্নতা কমে।

দৈনন্দিন ব্যায়াম এমন কিছু ব্যায়াম আছে, যা ঠিক ব্যায়ামের তালিকায় পড়ে না কিন্তু ব্যায়ামের মতোই শরীরে কাজ করে। এতে ব্যায়ামের মতোই উপকার পাওয়া যায়।
সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা, লিফটের ব্যবহার যথাসম্ভব কম করা।

হার্ট
ভুলে যান লিফট আর একসিলেটরের কথা।

অল্প দূরত্বে যেতে হেঁটে যাওয়া।
বাড়িঘর পরিষ্কারের কাজ নিজেই করা।

ভুল ধারণা


বয়স্কদের ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। বয়স্ক, প্রৌঢ় সবারই ব্যায়ামের প্রয়োজন আছে। তবে ব্যায়ামের সময় এত বেশি হাঁপিয়ে ওঠা যাবে না,  যাতে কথা বলতে কষ্ট না হয়।
হার্টের অসুখ হলে ব্যায়াম করা যাবে না। হার্টের সমস্যা হলেও ব্যায়াম করা যাবে। শুধু তাই নয়, ব্যায়াম করতেই হবে। তবে কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ অনুসারে ব্যায়ামের সময়, ধরন ঠিক করে নিতে হবে। এমন স্থানে ব্যায়াম করবেন, যেখানে পরিচিত অনেকেই আছেন।
ব্যায়ামের জন্য জিমে যেতেই হবে। ব্যায়াম করতে হলে জিম বা ব্যায়ামাগারে যেতে হবে এমন কোনো  কথা নেই। তবে কোনো হেলথ ক্লাব বা হাঁটার জন্য বন্ধু বা প্রতিবেশী সঙ্গে  থাকলে ব্যায়ামের নিয়মানুবর্তিতা বজায় থাকে। না হলে আলস্যের কারণে অনেক সময় ব্যায়াম বাদ পড়ে।
ব্যায়াম নিয়মিত করলে খাবার নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নেই। হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালি ভালো রাখতে হলে শুধু ব্যায়াম করলেই হবে না,  তেল ও  চর্বিজাতীয় খাবার,  গরু ও খাসির মাংস, মগজ, ডিমের কুসুম, বেশি মিষ্টি, আইসক্রিম, চকোলেট, ফাস্ট ফুড পরিহার করে ব্যালান্সড ডায়েট খেতে হবে।

কিছু খাবার আছে যা আমরা প্রতিদিন খাই কিন্তু এটা জানিনা যে এগুলো আসলে খাবার এর নামে বিষ।

এর ভেতর এক নাম্বার এ আছে কাঁচা লবণ, চিনি দুধ চা, ঘন ডাল। এই খাবার গুলো হার্টের জন্য নীরব ঘাতক।

কিছু সহজলভ্য ও পরিচিত খাবার আছে যেগুলো আমাদের রক্তনালী পরিষ্কার করে আমাদের হার্ট ভালো রাখে।

পানি

জল চিকিৎসা নামে একটি চিকিৎসা পদ্ধতি জাপানী মেডিকেল বোর্ড খুঁজে বের করেছে যা শতভাগ সুস্থতা প্রদানে সক্ষম বলে দাবি করেন তারা।
সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে চার গ্লাস পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। প্রথম দিকে এটা অনেক বেশি মনে হলেও কিছুদিন এভাবে পানি পান করলে বিষয়টি সহজেই আয়ত্ত হয়ে যায় এবং উপকারও টের পাওয়া যায়। পানি খাওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আর অন্য কিছু মুখে না দেওয়াই ভালো। এ উপায়ের কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং এটি পরিপাক ক্রিয়ার জন্য খুবই উপকারী। গবেষকেরা বলেছেন, সকালে খালি পেটে পানি কেবল পাকস্থলী পরিষ্কারই নয়,  শরীরের  বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি থেকেও বাঁচাতে সাহায্য করে।

শাকসবজি ও ফলমূল

 

হার্ট
শাকসবজি হবে আপনার প্রতিদিনের খাদ্য।

সবজি- শিম,  বরবটি, পিয়াজপাতা, পুঁইশাক, মানকচু, কচুরলতি, রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এগুলো রাখতে পারেন ওষুধ বিবেচনায়ও। মৌসুমি শাকসবজি কিনতে তেমন খরচও হয়না এবং এগুলোতে কীটনাশক কম থাকে।

পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার- প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ক্রমাগতভাবে যুক্ত করতে থাকুন পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণ। এ ক্ষেত্রে কলা এবং মিষ্টি আলুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা।

সবুজ বাহারি সালাদ- খাবারে যদি সবুজ সালাদ থাকে তাহলে আপনার রসনা তৃপ্তির পাশাপাশি হার্টও খুশি থাকবে। তাই বেশি বেশি যুক্ত থাকুন ভিনেগার, জলপাইয়ের তেল কিংবা লেবুর শরবতের সঙ্গে।

আপেল- হার্টের জন্য আপেলকে কার্যকারী ওষুধ বলা যায়। তা ছাড়া কোলেস্টেরলের মাত্রা কম রাখতে আপেল যথেষ্ট উপকারী। যারা প্রতিদিন দুটো আপেল খায়, তাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা অন্যদের থেকে কম থাকে।

হার্ট
প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না।

 

কিছু মজার তথ্য

ডিমের প্রতি ভালোবাসা- যাঁরা বলছেন, বেশি বেশি ডিম খেলে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ে তাঁদের জন্য দুঃসংবাদ। কেননা ব্রাজিলীয়ান গবেষকরা জানিয়েছেন, ডিমের কুসুমে থাকা ভিটামিন ই, বি-১২ এবং ফলেট করোনারি আর্টারিকে পরিষ্কার রাখে। তবে কেউ যদি দিনে চারটি করে ডিম খেতে থাকেন,  তবে তাঁকে এসব গবেষণার কথা ভুলে যেতে হবে।

হার্ট
ডিম খেলে অনেকক্ষণ ক্ষুধা লাগেনা।

অবসাদ কে দিন বিদায়- কোনোভাবেই কাজের ক্লান্তিকে আপনার ওপর চেপে বসতে দেবেন না। এ জন্য মাঝেমধ্যেই অবসাদ দূর করতে আপনার পছন্দকে গুরুত্ব দিন। সুইজারল্যান্ডের এক গবেষণা জানিয়েছে, অবসাদ দূর করার তৎপরতা হৃদযন্ত্রের সংকট কাটায় ৫৭ শতাংশের কাছাকাছি।

বালিশে মাথা রাখুন সময়মতো যাদের অনিদ্রা নামক রাজরোগ আছে,  তারা অন্যদের চেয়ে ৪৫ শতাংশ বেশি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ঘুমের জন্য প্রতিদিন বেশি বেশি শারীরিক পরিশ্রম করার আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

অধিক ঘুম কে বলুন “না”- এমনকি যারা বেশি বেশি ঘুমকাতুরে তাদেরও সাবধান করে দিয়েছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, দিনে ১০ ঘণ্টা কিংবা তার বেশি সময় যাদের ঘুমে কাটে তাদের স্থূলতার পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকে, কমতে থাকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। সুতরাং অধিক ঘুম কে না।

হার্ট
অধিক ঘুম হার্টকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

পান করুন গরুর দুধ গরুর দুধে থাকা লো ফ্যাট হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াবিরোধী কম ঘনত্বসম্পন্ন লিপ্রোপ্রোটিনের হার কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দুধে থাকা ক্যালসিয়াম শরীরে জমে থাকা পুরু চর্বির স্তর কাটতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু দুধচা খাবেন না। বিশেষ করে ভাত খাওয়ার পর দুধচা খাওয়াকে একদম নিষেধ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

হার্ট
সপ্তাহে তিন দিন ননি বিহীন দুধ খাওয়ার অভ্যাস করেন।

গান গাইতেই হবে- হৃৎপিণ্ড ভালো রাখতে গলা ছেড়ে গান গাইতেও উৎসাহিত করেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, দলবদ্ধ সংগীত কিংবা কারাওকে হাসিখুশি রাখে হৃদযন্ত্রকে।

হাসিখুশি থাকতে হবে- হাসিখুশি আর প্রাণবন্ত মুখাবয়ব শুধু স্টাইল বা ফ্যাশন আইকনই আপনাকে করে তুলবে না, বাড়িয়ে দেবে আপনার নীরোগ থাকার প্রবণতাও। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রাণবন্ত উপস্থিতি আপনার অবসাদ ও অভ্যন্তরীণ প্রদাহকে ছুটি দিয়ে দেবে এবং অলিন্দ ও নিলয়ের প্রকোষ্ঠকে সুঠাম রাখবে।

হার্ট
হাসি খুশি থাকলে কোন রোগই দেহে বাসা বাঁধতে পারবে না।

এখন সেই সারপ্রাইজ এর পালা।

এটা এমন একটা রেসিপি যা খুব সহজে ঘরে বসে তৈরি করা যায়। এটি একটি মহা ঔষধ। গবেষণায় দেখা গেছে যারা প্রতিদিন এটি পান করে তাদের হার্ট অ্যাটাক এর ঝুঁকি ৯৭% কম।

সারপ্রাইজ রেসিপি

উপাদান

১। আদা

২। রসুন

৩। আপেল সিডার ভিনেগার(সুপারসপ গুলোতে পাবেন)

৪। লেবু

৫। মধু

প্রণালী

মধু ছাড়া বাকি সবগুলো উপাদানের রস বের করতে হবে। আদা, রসুন, লেবু ও আপেল সিডার ভিনেগার সম পরিমাণ নিতে হবে। এখন একটি পাত্রে সব মিশিয়ে (মধু ছাড়া) চুলায় বসিয়ে দিন। মৃদু আঁচে হাল্কা করে জ্বাল দিন। ২০ মিনিট পর নামিয়ে ফেলুন। এটা কিছুটা হলুদাভ বর্ণ ধারণ করবে। চুলা থেকে নামিয়ে মধু মিশিয়ে নিন (যে পরিমাণ আদা, রসুন, লেবু ও আপেল সিডার ভিনেগার নিয়েছেন মধুও সেই পরিমাণ নিতে হবে)। তারপর ঠাণ্ডা করে সংরক্ষণ করুন ফ্রিজে। আপনি এটি ফ্রিজে ১-২ মাস সংরক্ষণ করতে পারবেন।

খাবারের নিয়ম

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১ টেবিল চামচ ও রাতে ঘুমানোর আগে ১ টেবিল চামচ করে খাবেন। আর ভালো ফলাফল পেতে দুপুরেও খেতে পারেন।

সবাই হৃদয়ের প্রতি যত্নবান হন। যত্নশীল নাহলে হার্ট অ্যাটাকের মত দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

 

 

 

 

 

 

 

সঙ্গীত শুধু মনের খোরাক নয়, কেন? জেনে নিন।

সঙ্গীত

যদি আপনি গান শুনতে ভালোবাসেন তাহলে আপনি মানসিক এবং শারীরিকভাবে ভালো আছেন। চার্লস ডারউইন বলেছিলেন, “যদি আমি আবার জীবিত থাকি, তবে আমি কিছু কবিতা পড়তে এবং কমপক্ষে একবার প্রতি সপ্তাহে কিছু সঙ্গীত শুনতে চাইতাম”। অ্যালবার্ট আইনস্টাইন ঘোষণা করেছিলেন, “যদি আমি একজন পদার্থবিদ না হতাম, আমি সম্ভবত একটি সুরকার হতাম”। জিমি হেন্ডরিক্স বলেছেন সঙ্গীত তার ধর্ম। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে, সংগীত শোনার ফলে আপনার মানসিক অবস্থার উন্নতি সাধন হয়। এছাড়া শারীরিক স্বাস্থ্যেরও বিস্ময়কর পরিবর্তন দেখা যায়। আপনি যদি বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখেন তাহলে আপনার আইকিউ বাড়বে। আরও কিছু উপকার করে সঙ্গীত।

সংগীত আপনাকে খুশী রাখে

সঙ্গীত
গান শুনলে মন প্রফুল্ল থাকে

একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে আপনি যখন গান শুনবেন আপনার মস্তিষ্কটি ডোপামাইন নির্গত করে যা সুখের অনুভূতি সৃষ্টি করে। আপনার মানসিক বিকাশে যা অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। সুতরাং দৈনিক ১৫ মিনিট গান শোনার অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।

সংগীত আপনার কাজের দক্ষতা বাড়িয়ে দেয়

সঙ্গীত
মানসিক দক্ষতা বাড়ায়

কেউ যদি আমার সংগীত থেকে কিছু নেয় তা অবশ্যই প্রেরণা হবে। সেটা হল কাজ করে যাওয়া যতক্ষণ সম্ভব এবং পেছনে ফিরে তাকানো যাবে না” –এমিনেম।নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে গান শুনুন। আপনার কাজকে গতিময় করতে গানের বিকল্প আর কিছু নেই। কিছু দৌড়বিদের উপর গবেষণা করে দেখা গেছে যারা নিজের পছন্দের গান শুনে দৌড়েছেন তারা নিজেদের আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন।

মানসিক চাপ কমায় এবং স্বাস্থ্যের উন্নতি করে

সংগীত শোনার ফলে আপনার মানসিক ধকল কমে যায়। শরীরের স্ট্রেস হরমোন কর্টিসোলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। মানসিক চাপ আমাদের ৬০% রোগের জন্য দায়ী। এক গবেষণায় দেখানো হয়েছে যারা সক্রিয় ভাবে গান শোনেন তাদের ইমিউন সিস্টেম আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে যায়। শান্ত ও সুস্থ থাকার জন্য আপনার কক্ষে গান ছেড়ে দিন এবং আরও ভালো ফলাফল পেতে তালে তাল মিলিয়ে একটু পা দোলানোর চেষ্টা করুন।

অনিদ্রা দূর করে

৩০% এরও বেশী আমেরিকান অনিদ্রায় ভোগেন। যেই শিক্ষার্থীরা ঘুমানোর আগে গান শোনেন তারা অনেক বেশী সক্রিয় হন যারা তেমন কিছুই করেন না তাদের থেকে। সংগীত অনিদ্রার সমস্যা দূর করতে পারে। যদি আপনার ঘুমাতে সমস্যা হয় আপনি ঘুমানোর আগে গান শুনুন, ভালো ফলাফল পাবেন অবশ্যই।

কম খেতে সাহায্য করে

জর্জিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাটি দেখিয়েছে যে, আলো এবং সঙ্গীতকে নরম করে তোলার সময় লোকেরা কম ক্যালোরি খায়। আপনি যদি আপনার খাদ্যগ্রহণ নিয়ন্ত্রণে আনতে চান তাহলে খাবারের সময় গান শুনুন।

সংগীত আপনার ব্যথা দূর করে হোক সেটা শারীরিক অথবা মানসিক

বব মারলে-এর একটা কথা আছে-

“সংগীতের একটি ভালো দিক হল, যখন এটি আঘাত করবে আপনি কোন ব্যথা পাবেন না।” ফিলাডেলফিয়ার ড্রেক্সেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে যে ক্যান্সারের রোগীদের মধ্যে প্রাক-রেকর্ডিং সঙ্গীত মানসিক চাপের চেয়েও ব্যথা কমিয়ে দেয়। অন্য গবেষণা দেখিয়েছে যে, গান নিবিড় পরিচর্যা রোগীদের এবং জেরিয়াটিক কেয়ার রোগীদের মধ্যে ব্যথা হ্রাস করতে পারে। কিন্তু নির্বাচিতো ক্লাসিক গান প্রয়োজন। ধ্যানমগ্ন সঙ্গীত বা রোগীর পছন্দের সংগীত।

বব মার্লি এই বিষয়ে সঠিক ছিলেন, “আপনার ব্যথা দূর করার জন্য আপনার ভালো লেগেছে এমন গান শুনুন”।

স্ট্রোক করেছেন এমন রোগীদের জন্য গান

সঙ্গীত
স্ট্রোক এড়াতে গান শুনুন

হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, স্ট্রোক রোগীদের যারা দিনে দুই ঘন্টা নিজেদেরকে বেছে নিয়েছে সঙ্গীত শোনার জন্য, তারা মস্তিষ্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি লাভ করেছে। গান শোনার কারণে তাদের শ্রবণ ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। স্ট্রোক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 5 নম্বর মৃত্যুর কারণ। আপনি যদি স্ট্রোক ভোগ করেন এমন কেউকে জানেন তাহলে অতিশীঘ্র তাকে তার পছন্দের গান গুলো শুনতে বলুন। আশানুরূপ ফোল পাবে। কেউ যদি গান ভালোবাসে তাহলে সে অপরাধ থেকে দূরে থাকে। বেনিংটন এর গানের লাইন দিয়ে শেষ করছি-

“In this farewell

There’s no blood

There’s no alibi

‘Cause I’ve drawn regret

From the truth

Of a thousand lies”

 

 

 

 

 

 

অনিয়মিত ঘুম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

ঘুম

সারা রাত পেঁচার মতো জেগে থেকে কর্মস্থলে এসে ঘুমিয়ে পরছেন। দিনের বেলা রাতের ঘুম পুষিয়ে নিয়ে ভাবছেন, ঘুম তো ঘুম সে দিনে হোক কিংবা রাতে। যাদের ওজন বেশী তারা ভাবেন রাতে কম ঘুমালে হয়তো ওজন কমে যায়। কিন্তু এটা অনেক বড় একটা ভুল। দিনের বেলার ঘুম আপানার স্বাস্থ্য খারাপ করে দেয়। অনিয়মিত ভাবে ঘুমানোর কারণে শরীরের ভেতরেও সৃষ্টি হয় অনিয়ম। বাসা বাধে নানান দুরারোগ্য ব্যাধি। সুতরাং সময় মতো পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে প্রতিদিন। অনেকে বলে রাতে ঘুম আসে না তাদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন পদ্ধতি।

ঘুম না আসার কারণ

অনেক রাত করে খাওয়া

অনেকে আছেন দেরীতে রাতের খাবার খান। দেখা যায় ঘুমানোর আধা ঘণ্টা আগে খেয়ে শুয়ে পরেন। এই কারণে একদিকে আপানার হজম শক্তি কমে যায় অন্য দিকে আপনার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। অবশ্যই ঘুমানোর ৩-৪ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন।

রাত জেগে বই পড়া

বই পড়া অনেক মানুষের শখ। বই পড়া অবশ্যই একটি ভালো কাজ কিন্তু এই ভালো কাজ খুব বেশী রাত জেগে না করাই ভালো। ঘুমের আগে বই পড়ার কারণে আপনার মাথায় বই সম্পর্কিত বিভিন্ন কথা মাথায় আসে এবং তা আপনাকে ঘুমাতে দেয় না। রাতে ঘুমানোর আগে বই পড়া যাবে না। রাত জেগে বই না পড়ে, দিনের বেলায় অথবা সন্ধ্যা বেলা বই পড়ুন।

ঘুমানোর আগে ধূমপান করা

ঘুমানোর আগে ধূমপান করলে নাকি ঘুম আসে। এমন ভুল ধারণা নিয়ে অনেকেই রাতে শোয়ার আগে ধূমপান করেন। কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না সিগারেটে থাকা নিকোটিন আপানার নার্ভগুলোকে চাঙ্গা করে দেয় ফলে ঘুম আসে না।

অধিক রাত পর্যন্ত মোবাইল অথবা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকা

মোবাইল, ল্যাপটপ তো আমাদের নিত্যদিনের বন্ধু। এদের ছাড়া আমাদের চলে না। রাতে ঘুমানোর সময় বেশিরভাগ মানুষের হাতে ফোন থাকে। ফোন নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে ঘুমিয়ে পরব এই ভাবনা নিয়ে থাকে তারা। কিন্তু এই জিনিসটা তাদের আরও বেশী ক্ষতি করে ফেলে। তারা এই জিনসটা বুঝতে পারেনা।

রাতে চা খাওয়া

সন্ধ্যার পর কোন ধরণের চা, কফি খাবেন না। এতে থাকা উপাদন গুলো আপনাকে সজীব করে। রাতে আপনার সজীবতার দরকার নেই, দরকার একটু শান্তির ঘুম।

অনিদ্রা আমাদের কি কি ক্ষতি করে?

মানসিক রোগ

যারা রাত জেগে থাকে অথবা রাতে ঠিক মতো ঘুমায় না তাদের বিভিন্ন ধরণের মানসিক রোগ দেখা যায়। যেমনঃ বিষণ্ণতা, উদ্বিগ্নতা, অস্থিরতা, হেলুসিনেসন ইত্যাদি। এই কারণে মানসিক সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে ঘুমের ওষুধ খেতে বলে।

স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া

সারাদিন আমরা নানান কিছু শিখি। সেগুলো আমাদের ব্রেইন স্মৃতি হিসেবে জমা রাখে। যখন আমরা কম ঘুমাই তখন আমাদের ব্রেইন এই কাজ করতে অক্ষম হয়ে যায়। এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যারা পর্যাপ্ত ঘুমায় তারা রাত জেগে থাকা মানুষের তুলনায় অধিক স্মৃতিশক্তির অধিকারী।

সতর্ক থাকার ক্ষমতা হারায়

এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কেউ যদি রাতে দেড় ঘণ্টা কম ঘুমায় পরের দিন তার সতর্ক থাকার ৩২% সক্ষমতা কমে যায়। এমন অসতর্কতায় মানুষ দুর্ঘটনা করে বসে।

আত্মহত্যার প্রবণতা

যেসকল মানসিক রোগীরা আত্মহত্যা করে তাদের বেশীরভাগ অনিদ্রায় ভুগতেন। গবেষকরা প্রমাণ করেছেন যেই কিশোর-কিশোরীরা ৫ ঘণ্টা ঘুমায় তাদের বিষণ্ণতায় ভোগার সম্ভবনা ৭১%।

ঘুম
পর্যাপ্ত ঘুম আপনাকে রাখবে সজীব

এছাড়াও যেই সমস্যাগুলো হয়

হার্টের সমস্যা

ডায়াবেটিস

ওজন বৃদ্ধি

দেহের বৃদ্ধি কমে যায়

ব্রেস্ট ও ওভারি ক্যান্সার

ক্ষত সারানো

মাথাব্যথা

চুল পাকে

ব্রণ উঠে

 

ঘুম ভালো হওয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি

ঘুমানোর আগে ব্যায়াম করুন

গরম দুধ খান

দুশ্চিন্তা করবেন না

উষ্ণ পানিতে গোসল

ঘুমের আগে ইতিবাচক চিন্তা

ঘরের ভালো আবহাওয়া

ধীরলয়ে সঙ্গীত

ঘড়ির শব্দ বন্ধ করুন

ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠুন

ওজন কমাতে চাইলে নিয়মগুলো মেনে চলুন

খাবার

কম খাচ্ছেন, পরিশ্রমও করছেন? কিন্তু ওজন কোনভাবে কমছে না। এই সমস্যাটি অনেক পরিচিত আমাদের কাছে। আপনারা যারা ওজন কমাতে উদগ্রীব হয়ে আছেন এবং অনেক বেশী হতাশায় ভুগছেন তাদের জন্য আজকে রয়েছে বৈজ্ঞানিক প্রমাণিত ওজন কমানোর পদ্ধতি সমূহ।

পানি পান করুন

পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ কাজ পানি পান করা। বাসার যে জায়গাটাতে আপনি থাকেন অথবা অফিস এর যেখানে আপনার বসতে হয় তার সাথেই পানির জগ অথবা বোতল রেখে দিন। শুধু ওজন কমানো নয় সুস্থ থাকার জন্য পানির বিকল্প নেই। সাধারণত বলা হয় ২ লিটার পানি পান করার কথা। কিন্তু আপনি যদি ৩ লিটার খান তবে জলদি উপকার পেতে শুরু করবেন। খাবারের আধাঘণ্টা আগে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিবেন। এখন থেকে মনে করবেন পানি একটি ঔষুধ। শরীরের সকল ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে দেয় পানি।

কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলুন

ভাত, রুটি, আলু এগুলো কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার। যতটুকু পারেন কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলুন। কার্বোহাইড্রেট আপনার শরীরে মেদ বাড়িয়ে দেবে। আর কার্বোহাইড্রেট থেকে যে মেদ শরীরে জমা হয় তা সহজে ঝরানো যায় না। সুতরাং যারা বলেন ভাত ছাড়া আমার চলে না তারা ভাতকে ভালোবাসা বন্ধ করে দিন। আপনাকে একবারে বাদ দিতে বলছি না। দুপুরে শুধু এক কাপ ভাত খেতে পারবেন।

প্রোটিন গ্রহণ করুন

কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে প্রোটিন এর পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। প্রোটিন আপনার ক্ষুধা কমিয়ে দেবে। অন্যদিকে আপনি ভালো পরিমাণের পুষ্টিও পাবেন। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় প্রোটিন থাকা আবশ্যক। প্রোটিন বললে আমাদের চোখের সামনে শুধু মাংস আর মাছ ভাসে। মাছ-মাংস ছাড়াও ভালো প্রোটিনের উৎস আছে এমন কিছু খাবার হল- যেকোনো ধরনের ডাল, কুমড়োর বিচি, কাঠবাদাম, ডিম ইত্যাদি। তবে ডিমের কুসুম এড়িয়ে চলাই ভালো।

শরীরচর্চা করুন

শরীরচর্চা
শরীরচর্চা করলে মন ভালো থাকে

শরীরের অপ্রয়োজনীয় মেদ বা ক্যালরি কমাতে শরীরচর্চা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরি। এটি আপনাকে ওজন নিয়ন্ত্রণের সাথে সুস্থ্যতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। জিমের সরঞ্জাম না থাকলে নিয়মিত ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করতে পারেন। শরীরচর্চা শুধু শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে তা না, এর ফলে আপনার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আর একটা জিনিস অবশ্যই মনে রাখবেন, ঘাম না ঝরলে সেই শরীরচর্চাতে আপনার কোন ক্যালরি খরচ হবে না।

দই খান

বাজারে যে দই পাওয়া যায় সেই দই না। বাসায় দই বানানোর চেষ্টা করুন। দই বানানোর সময় চিনি দিবেন না। এই খাবারটি আপনার রক্তে সুগারের পরিমাণ কমিয়ে দেয় এবং সাথে সাথে আপনার শরীর ঠাণ্ডা রাখে।

ক্যালরি পরিমাপ করে খান

যখন আপনি খাদ্য গ্রহণ করবেন তখন ক্যালরি হিসাব করে খাবেন। ওজন কমানোর সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি হল যতটুকু খাবেন তার থেকে বেশী ব্যায়াম করবেন। সুতরাং খাওয়ার সময় অবশ্যই হিসাব করবেন।

বসে থাকবেন না

অনেকক্ষণ একটানা বসে থাকবেন না। শরীরকে কোন না কোন কাজে নিয়জিত রাখুন। এক কথায় সবসময় ক্যালরি খরচ করতে হবে।

চিনিকে না বলুন

এক গবেষণায় আমেরিকার একদল বিজ্ঞানী বলেছেন চিনি হল ‘হোয়াইট পয়জন’। বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘সাদা বিষ’। চিনি বর্জন করুন। যাদের অতিরিক্ত মেদ আছে তাদের জন্য চিনি অনেক ক্ষতিকর। তবে মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করলে তা অবশ্যই পাপ নয়। যেদিন কোন মিষ্টিজাতীয় জিনিস খাবেন সেদিন বেশী করে ব্যায়াম করে ফেলবেন। আর চিনির পরিবর্তে মধু এবং জিরো ক্যাল খেতে পারেন। তাছাড়া মিষ্টি ফল গুলো খেলে তেমন কোন ক্ষতি হবে না আশা করি।

জুস খাবেন না

ওজন কমানোর মহাযুদ্ধে যে যোদ্ধারা আছেন তারা হয়তো ভাবছেন জুস তো আপনারা বাড়িতে তৈরি করে খান, বাইরের জুস খাওয়ার প্রশ্নই আসেনা। কিন্তু যারা বাড়িতে জুস তৈরি করে খান তারাও ভুল করেন। কোন ফল অথবা সবজি কখনই জুস করে খাবেন না। জুস করে খেলে আপনারা অনেকে ছেকে খান। যারা জুস ছেকে না খান তারাও ভুল করেন। সেটা হল সবজি ও ফল চিবিয়ে খেলে আপনার ফেসিয়াল ব্যায়াম হবে এবং দাঁত ভালো থাকবে।

লেবু পানি

লেবু পানি
লেবু পানি আপনাকে সতেজ করবে

লেবু পানি অনেক ওজন কমাতে পারে। আপনি তিন দিনের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারবেন। আপনার শরীর ফুরফুরে আর হালকা লাগতে শুরু করবে। শরীরের সকল টক্সিন দূর করে দেয় এই লেবু পানি। আপনার ত্বক ভালো রাখবে। সবচেয়ে উপকার হবে যদি কুসুম গরম পানির সাথে খান। খাওয়ার এক মাস পর ওজন মেপে দেখতে পারেন এটা কতো টুকু উপকারী। যারা সাধারণ ওজনের তারাও খেতে পারেন। তবে বেশী খাবেন না।

ডায়েট করার সময় ভুলে যাবেন না আপনার শরীর একটি ইঞ্জিন। আর ইঞ্জিনের চলতে হলে তেল লাগে। ঠিক মতো তেল না দিলে মাঝপথে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাবে। সুতরাং অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে খাবেন। তিন বেলা ঠিক মতো খেলে এবং ব্যায়াম করলে ওজন বৃদ্ধি পায় না। সুস্থ থাকার জন্যও আপনি উপরোক্ত নিয়মগুলো মেনে চলতে পারেন।

 

 

 

 

সারাদেশে চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব, জেনে নিন এই নতুন রোগের সম্পর্কে

চিকুনগুনিয়ার জন্য এডিস মশা দায়ী

চিকুনগুনিয়া একটি মশা বাহিত রোগ।২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশের কিছু এলাকায় চিকুনগুনিয়া রোগটি দেখা দিয়েছিলো। কিন্তু সম্প্রতি এ রোগটি ব্যাপক হারে বাংলাদেশের বেশীর ভাগ জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। চিকুনগুনিয়া রোগের বাহক হচ্ছে এডিস মশা যা ডেঙ্গু জরের বাহক। মানব দেহ থেকে মশায় আর মশা থেকে মানব দেহে ছড়িয়ে থাকে। তবে খুব ভয়ের কিছু নেই কারণ চিকিৎসকরা বলেছেন চিকুনগুনিয়া ডেঙ্গু জ্বরের মত প্রাণঘাতী না। আগে নিশ্চিত হওয়া দরকার আপনার এ রোগটি হয়েছে কিনা আর যখনি আপনার শরীরে চিকুনগুনিয়া ধরা পরবে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা করাতে হবে। চিকিৎসার পাশাপাশি চিকুনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত রোগীর অনেক বেশী বিশ্রাম নিতে হবে। চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত রোগীকে কোনভাবে যাতে আন্টিবায়েটিক দেওয়া না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

চিকুনগুনিয়া কি ?

এ রোগটি প্রথমে তানজানিয়া নামে আফ্রিকান একটি দেশে দেখা যায়।তাই এ রোগের নাম দেওয়া হয় চিকুনগুনিয়া। চিকুনগুনিয়া শব্দটি এসেছে ঐ দেশের ভাষা থেকে যার অর্থ বেঁকে যাওয়া। চিকুনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত রোগিদের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বেঁকে যায়। তাই এমন নাম করণ করা হয়েছে। এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ।এই ভাইরাস রক্তের লোহিত কণিকা যেমন ফাইব্রোব্লাস্ট মেকরোফেজ নামক রক্ত কণিকাকে আক্রমণ করে। ভারতের কলকাতা থেকে এই ভাইরাসটি বাংলাদেশে আসে যদিও এটির উৎপত্তি আফ্রিকায়। এখন এ রোগটি বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলে বিস্তার লাভ করছে। রাজধানী ঢাকায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে।

চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ গুলো

১। পা থেকে মাথা পর্যন্ত সারা শরীরে লাল দাগ দেখা দেওয়া। এ লাল দাগ গুলো প্রথম দিকে অনেক বেশী চুলকায় ।
২। হাঁটু এবং পায়ের পাতা অনেক ব্যাথা হয় যার কারণে হাঁটা অনেক কষ্টকর হয়ে যায়।
৩। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অসহ্যকর ব্যথা হয়। হাত পা বেঁকে আসে। পায়ের আঙ্গুল, হাতের আঙ্গুল ব্যথার কারণে অনেক বেশি ফুলে যায়।

৪। অনেক বেশী তাপমাত্রা বেড়ে যায় যার পরিমাণ ১০৪ ডিগ্রি হবে।
৫। অনেক জনের ক্ষেত্রে মেরুদণ্ড ব্যথা হতে পারে। তাই বিছানা থেকে উঠা অনেক কষ্টকর হয়ে যায়।

 

চিকুনগুনিয়ার চিকিৎসা

চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত রোগীর চলফেরা অর্থাৎ হাঁটা একদম নিষেধ। যদি কোন বিশেষ প্রয়োজনে হাঁটতে হয় তবে সিঁড়ি বেয়ে উঠানামা করা সম্পূর্ণ নিষেধ। উঁচু কোন জায়াগায় উঠানামা নিষেধ। উপরে লক্ষণ গুলো আপনার মধ্যে দেখা গেলে বুঝে নিতে হবে আপনি চিকুনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। খুব বেশী ভেঙ্গে পড়বেন না। কারণ চিকুনগুনিয়া জ্বর সাত থেকে আট দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। আর এ জন্য সাত থেকে আটদিন শরীরের বিভিন্ন অংশে অনেক বেশী ব্যথা থাকতে পারে। এ ব্যথা এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। মাঝে মাঝে অনেক চিকিৎসক প্যারাসিট্যামল খাওয়ার পরামর্শ দেন। এখন পর্যন্ত জ্বর কমানোর জন্য কোন ঔষধ আবিষ্কার হয়নি। ব্যথা কমানোর জন্য কোনভাবেই আন্টীবায়েটিক সেবন করা যাবে না। চিকুনগুনিয়ায় মৃত্যু ঝুঁকি নেই। চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত হলে খুব বেশী উদ্বিগ্ন না হয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে
১। ঘরের আশেপাশে ফুলের টবে বা ড্রেনে জমে থাকা পানি প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে।

২। মশারী ব্যবহার করতে হবে।

৩। বাসার আশেপাশে ময়লা আবর্জনা স্তূপ থাকলে তা অনেক দিন জমিয়ে না রেখে আগুনে পুড়ে ফেলা উচিৎ, বা গর্ত করে পুতে ফেলতে হবে।

ঘর বাড়ি সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে

৪। ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে হবে।

৫। সরকারকে  জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম চালু করতে হবে এবং দেশের পরিবশের উপর নজরদারি বাড়াতে হবে।

 

আপনি পারেন আপনার নিজের আর চারপাশের মানুষ গুলোকে এই রোগ থেকে বাঁচাতে। কারণ একটু সচেতন হলে এ রোগের সংক্রমণ কমে যাবে সবাই যদি একসাথে এগিয়ে না আসি তাহলে এই রোগটি আরও খারাপ ভাবে ছড়িয়ে পড়বে।

 

 

বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত ৭ টি পন্থা যা আপনাকে সব সময় সুখে রাখবে।

বৈজ্ঞানিক

আপনি হয়তো ভাবছেন এটা কি-ভাবে সম্ভব ???

সত্যিই কি সব সময় সুখে থাকা যায় ???

কিভাবে এটা কাজ করে ??

উপরের লেখাটি পড়ার পর এই প্রশ্ন গুলো মাথায় ঘুরপাক খাবে এটাই স্বাভাবিক। এখন সেই ৭ টা পন্থা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো যা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত ।

ব্যায়াম করা

ব্যায়াম হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পন্থা যা একাধারে শরীর আর মন দুইই ভালো রাখতে সাহায্য করে। আপনি যখন ব্যায়াম করবেন তখন আপনার শরীরের কোষ গুলো সতেজ থাকবে আর আপনাকে করে তুলবে প্রাণচঞ্চল। যা আপনার মানসিক বিকাশে সহায়তা করবে। দ্যা ইউনিভার্সিটি অফ টরন্টো তাদের একটি গবেষণায় কিছু দুঃচিন্তা গ্রস্থ মানুষ কে তিনটি গ্রুপে ভাগ করে পরিক্ষা করে দেখলো ১ম গ্রুপ কে দিয়ে প্রতিদিন ব্যায়াম করানো হত, ২য় গ্রুপকে স্বাভাবিক ভাবে জীবন অতিবাহিত করতো এবং ৩য় গ্রুপ দুইটা মিলিত ভাবে করতো। তিন গ্রুপ স্বাভাবিক ভাবে সুখে ছিলেন কিন্তু ৬ মাস পর দেখা গেলে ১ম গ্রুপের ডিপ্রেশন ৯% অন্য গ্রুপ গুলো যথাক্রমে ২য় ও ৩য় ৩৮% থেকে ৩১%। তাই এটা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত যে প্রতিদিন ব্যায়াম আপনাকে মানসিক ভাবে সুস্থ্য রাখতে সাহায্য করবে।

ইতি-বাচক চিন্তা ভাবনা

ইতি-বাচক চিন্তাভাবনা আপনাকে নিজের প্রতি বিশ্বস্ত করে তুলবে। ইতি বাচক চিন্তা আপনার মস্তিষ্কের শক্তি বাড়ায় যা আপনার কাজ করার ক্ষমতা ৩১ গুন বাড়িয়ে দেয়। ধরুন আপনি একটা কাজ করার আগে চিন্তা করলেন কাজ টা অনেক সহজ তার মানে এই না যে সত্যি কাজ টা সহজ ছিলো। আপনার চিন্তা শক্তির প্রবলতার জন্য কাজ টা ৫০% সহজ হয়ে গেলো।

বিরূপ ধারনা বা চিন্তা পরিহার

গবেষণায় দেখা গেছে বিরূপ চিন্তা ভাবনার মানুষ গুলো অনেক বেশী অসুখী হয়ে থাকেন। কারন এক সময় এই মানুষ গুলো নিজের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। ইউনিভার্সিটি অফ মাদ্রিদ তাদের এক গবেষণায় বিরূপ চিন্তা গুলো একটা কাগজে লিখে সে গুলো পুড়ে ফেলত। প্রতিদিন এইভাবে পুড়তে পুড়তে দেখা গেলো এই ধরনে চিন্তা আর থাকে না এবং এটা অনেক বেশী কার্যকর। প্রতিদিন এই কাজ করার জন্য মনবিজ্ঞানীরা পরামর্শ দেন।

প্রতিদিন লিখবেন আপনি কি কি কারনে সুখী

বিজ্ঞানিরা আমাদের মস্তিষ্ক থেকে গবেষণা করে দেখলেন আমাদের খারাপ চিন্তা গুলো যেমন অসন্তোষ, ব্যার্থতা, অনেক বেশী চাহিদা এইসব কারন গুলো আমাদের অসুখী করে তোলে। তাই প্রতিদিন আপনি কি কারনে সুখী সে কারন গুলো কাগজে লিখে রাখবেন। প্রতিদিন কোন না কোন ভাবে মানুষ কে সহায্য করার চেষ্টা করবেন। ঘুম থেকে উঠার সময় তিনটা জিনিস মনে করার চেষ্টা করবেন গতকাল আপনি কি কি ভালো কাজ করেছিলেন এবং সে কাজ গুলো করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছেন। যেমন আপনি আপনার সহকর্মিকে তার কাজে সাহায্য করতে পারেন। তাকে মানসিক সাপোর্ট দিতে পারেন এই কাজ গুলো আপনাকে মানসিক শান্তি দিবে যা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত।

মনোযোগ সহকারে অনুশীলন করা

মনোযোগ সহকারে অনুশীলন বলতে বুঝায় আপনার বর্তমান সময়ের উপর পূর্ণ নজর দেয়া। যখন আপনি এটা প্রতিদিন অনুশীলন করবেন তখন এটা আপনার ব্যাবহার কে নিয়ন্ত্রণ করবে, চাপের মাত্রা কমাতে সাহায্য করবে এবং আপনাকে সুন্দর জীবন অতিবাহিত করতে সাহায্য করবে । আপনার সফলতার উপর মননিবেশ করুন যা আপনাকে অনেক ভালো অনুভূতি দিবে। হার্ভার গবেষক ম্যাট কিলিংসওর্থ  ১৫ হাজার মানুষের উপর গবেষণা করে তা প্রমাণ করেন।

প্রতিদিন নিয়মিত ঘুমানো

নিয়মিত ঘুম একজন মানুষের মস্তিষ্ককে শীতল রাখে যা একটা মানুষকে ভালো উদ্দীপনা দিতে সাহায্য করে। মানুষ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন তার নেতিবাচক ব্যাপার গুলো কম কাজ করে আর এভাবে নিয়মিত ঘুমালে নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা কমে যাবে। ডঃ রবার্ট স্টিকগোল্ড  একদল ছাত্রের উপর গবেষণা করেন। গবেষণায় ছাত্রদের একটা নেতিবাচক শব্দের তালিকা দেন তারপর তাদের তা মনে রাখার জন্য বলেন। যে ছাত্র গুলো নিয়মিত ঘুমাতো তারা মাত্র ৩১% মনে রাখতে পেরেছে আর যারা নিয়মিত ঘুমাতো না তারা ৮১% মনে রাখতে পেরেছে। তাই এই গবেষণা থেকে প্রমাণিত যে নিয়মিত ঘুম একটা মানুষের নেতিবাচক মনোভাব এর উপর প্রভাব ফেলে।

মানুষকে সাহায্য করতে নিজেকে উৎসর্গ করুন

মানুষকে সাহায্য করার মধ্যে যে মানসিক শান্তি থাকে তা অন্য কোথাও থেকে আসেনা। যে মানুষটি অনাহারে দিন কাটাচ্ছে তার মুখে এক মুঠো ভাত তুলে দিয়ে ঐ মানুষটিকে যেভাবে খুশি করতে পারবেন তা অন্য কোথাও পাবেন না। এভাবে ছোটছোট সাহায্য গুলো আপনাকে অনেক বেশী  মানসিক শান্তি দিতে পারবে।