ভূতুড়ে যে সব জায়গায় গেলে আপনার রক্ত হিম হয়ে আসবে

ভূতুড়ে

ছোটবেলায় ভূতের ভয় দেখিয়ে বাবা-মা ঘরে আটকে রাখতেন অথবা খাবার খাওয়াতেন। বড় হয়ে সেই ভূতের ভয় এখন আর নেই। বিজ্ঞানের আলোয় সেই ভয় এখন আর হয়তো করে না আমাদের। এখন কিছু ভূতুড়ে জায়গা আছে যার কোন ব্যাখ্যা নেই।

এই অসংজ্ঞায়িত জায়গা আর কাহিনী সম্পর্কে আজ কিছু জানব আমরা।

ভূতুড়ে ভাঙ্গার দুর্গ, ইন্ডিয়া

এটি ইন্ডিয়ার রাজস্থানের পাশে অবস্থিত। এখানকার মানুষের মুখে শোনা যায় এই জায়গাটির ওপর নাকি অনেক অভিশাপ আছে। কোন এক পুরনো ঋষি এই জায়গারটির উপর অভিশাপ দিয়েছিল যে যারা এখানে মারা যাবে তাদের আত্মা সারা জীবন এইখানে বন্দি থাকবে।

সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে এখানকার কোন বাড়ির ছাদ নেই আর সব গুলা বাড়ির ছাদ তৈরি করার সময় নাকি সেগুলো ভেঙ্গে পড়ে। সন্ধ্যার পড়ে এখানে যে পর্যটকরা গেছে তারা আজ পর্যন্ত ফিরে আসেনি আর এখনকার সরকার সন্ধ্যার পর সেখানে যেতে পুরোপুরি মানা করে দিয়েছে।

ভূতুড়ে চাঙ্গি বীচ, সিঙ্গাপুর

এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত একটি জায়গা। ‘সোক চিং’ যুদ্ধ সংঘটিত হবার সময় জাপানিরা নিজেদের বিরোধী ভেবে অনেক অনেক নিরীহ চীনা নাগরিককে হত্যা করে।

তারপর তাদেরকে এখানে কবর দেয়া হয় আর সেই থেকে এই জায়গাটি হয়ে ওঠে ভূতুড়ে। এখানে রাত হলে শুরু হয় ভূতুড়ে সব কাণ্ড কারখানা। মনে হয় দূর থেকে কিছু মানুষ কান্না করতে করতে সামনের দিকে এগিয়ে আসছে।

অনেক পর্যটক কিছু না জেনে এখানে রাতের বেলা ঘুরতে আসে আর ফেরার সময় নিয়ে যায় অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতা। এখন পর্যন্ত প্রায় হাজার খানেক মানুষ এমন কান্নাকাটি শোনার কথা স্বীকার করেছে।

আর স্থানীয় লোকজন কেউ এখানে রাতের বেলা ভুল করেও আসে না।

ওহিও ইউনিভার্সিটি, ইউএসএ

ইউনিভার্সিটিটি ইউএসএর সবচেয়ে ভূতুড়েদের মধ্যে অন্যতম। এখানে বহু পুরনো পাঁচটি সমাধি আছে যা কিনা একটি পঞ্চভুজ তৈরি করেছে। আর এখানে অনেক পুরনো একটি মানসিক রোগীদের চিকিৎসা দেবার জন্য ল্যাব ছিল যেখানে তাদের ইলেক্ট্রিক শক দেয়া হতো পরবর্তীতে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। লোকমুখে শোনা যায় যে সন্ধ্যা হবার পর এখানে নাকি অদ্ভুত চেঁচামেচির আওয়াজ শোনা যায়।

আর ভয়ে সেখানে যেতে কেউই সাহস করেনা।

স্ক্রিমিং টানেল, নায়াগ্রা ফলস

কুখ্যাত ভূতুড়ে জায়গার মধ্যে অন্যতম একটি জায়গা এটি। এখানকার মানুষেরা বলে আপনি যদি এই টানেলের ভেতরে একটি ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন জ্বালান তবে একটি আগুনের গোলা টানেলের বাইরে চলে যাবে আর আপনি একটি ছোট্ট মেয়ের চিৎকার দেবার আওয়াজ শুনতে পাবেন যা খুবই ভয়ানক।

এখানকার বাসিন্দারা সব সময় সেখানে যেতে মানা করে।

হাইগেট সমাধিক্ষেত্র,  ইউকে

এটি ইংল্যান্ডের অন্যতম ভূতুড়ে সমাধিস্থল এখানে রাত হলেই শুরু হয় আজব আজব সব কাজ কারবার। মস্তকবিহিন একটি লাশ একবার কবরের ভেতরে ঢোকে আবার বাইরে আসে। তার সর্বাঙ্গে লতাপাতা জরানো থাকে আর গঠন এক্কেবারে অন্যরকম।

সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে এখানকার তাপমাত্রা বাইরের থেকে অস্বাভাবিক ভাবে কম।

প্রাচীন রাম হোটেল, ইংল্যান্ড

আপনি যদি ভুতের ঘটনার অপর একেবারেই বিশ্বাস না করে থাকেন তবে দেখতে পারেন এই হোটেলটি। এখানে সবসময় কেমন যেন স্যাঁতস্যাতে পরিবেশ আর কেমন যেন কদাকার একটি গন্ধে ভরে থাকে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে এই হোটেলটি একটি কবরের উপর তৈরি করা হয়েছে।

আর এখানকার সবারই ধারনা যে এইজন্য এখানকার পরিবেশ এমন ভূতুড়ে।

মন্টে ক্রিস্টো, অস্ট্রেলিয়া

এই বাড়ির মালিক মিসেস ক্রাওলি তার স্বামীর মৃত্যুর পরবর্তী ২৩ বছরে মাত্র ২ বার বাড়ির বাইরে বের হয়েছিল। এবং তার মৃত্যুর পর আজও নাকি তাকে এই বাড়িতে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। এই বাড়ির ভেতর থেকে যারা ঘুরে এসেছে তাদের মুখ থেকে এর সত্যতা মেলে। তারা বলে বাড়ির ভেতরে গেলে মনে হয় কে যেন আয়নার সামনে দাড়িয়ে আছে আবার হুট করে মিলিয়ে যাচ্ছে। তারা আরও বলেন যখন তারা ক্রাওলির ঘরে প্রবেশ করে তখন প্রত্যেকে রূদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির ভেতরে ছিলেন এবং  তাদের মনে হচ্ছিলো যেন তাদের সারা গায়ে কেমন রক্তবর্ণে দেখা দিচ্ছে পরবর্তীতে যখন বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে তখন সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়।

এডিনবার্গ দুর্গ, স্কটল্যান্ড

স্থানীয়দের মতে এই অসাধারণ দুর্গে ভূত দেখা গিয়েছে অনেকবার এবং এখানে যেসব পর্যটক  ঘুরতে এসেছে তারাও এই বিষয়টি স্বীকার করেছে।

জানা যায় ফরাসি যুদ্ধ চলার সময় এখানে বহু বন্দীকে হত্যা করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে এই জায়গাটি হয়ে ওঠে অভিশপ্ত।

ডোমিনিকান হিল, ফিলিপাইনস

সবাই বলে এখানে নাকি যুদ্ধের সময় যারা আহত হতো তাদের চিকিৎসা দেয়া হতো আর চিকিৎসারত অবস্থায় যারা মারা যেত তাদের এখানেই কবর দেয়া হতো। পরবর্তীতে জায়গাটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এখানকার মানুষেরা বলে রাত হলে নাকি এখান থেকে সব অদ্ভুত রকমের শব্দ পাওয়া যায়। কখনো গুলির শব্দ, কখনো মানুষের বাঁচার জন্য আর্তনাদ ইত্যাদি।

ভয়ে এখানে কেউ আসে না। আর যারা টুরিস্ট আসে তারা দূর থকে দেখেই চলে যায়।

বেরি পোমেরয় দুর্গ, টোটনেস

এই জায়গাটি যতটা সুন্দর ততটাই ভয়ংকর, এমনটা শোনা যায় প্রায় চৌদ্দ শতক আগে এখানে একটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। কিংবদন্তী অনুসারে,  হোয়াইট লেডি হলেন মার্গারেট পোমেরয়ের আত্মা যিনি বন্দি অবস্থায় অনাহারে মৃত্যুবরণ করেন আর তাকে বন্দি করেছিল তারই হিংসুটে বোন।

এই দুর্গের অনেক জায়গায় তাকে ঘুরতে দেখা যায়। এবং অনেকেই এই অভিযোগটি করেছেন।

বিদেশী ভূতের গল্প তো অনেক শুনলেন। এবার আসুন আমাদের দেশীয় কিছু ভূতুড়ে জায়গার কাহিনী জেনে আসি।

চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গার আলিয়াপুর নামক গ্রামে নাকি প্রতি আমাবস্যায় রাত ১২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত একদল কুকুর দলবেঁধে গ্রামটি ঘিরে চক্কর দেয়। অনেকেই সেই কুকুরের দলকে দেখতে পেয়েছেন।

আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, তারা শুধুমাত্র আমাবস্যার রাতেই উপস্থিত হয় এবং সারা মাসে তাদের আর দেখা যায় না। কয়েকজন যুবক মিলে একবার রাত করে তাদের দেখার জন্য প্রস্তুতি নেয়। তাদের মাঝে ২ জন কুকুরের কামড়ে মারাত্মক ভাবে আহত হয়।

যুবকদের প্রায় সকলেই একই স্বীকারউক্তি দেয় যে, সেই সব কুকুরগুলো কালচে বর্ণের ছিলো, কারণ অন্ধকারে তাদের স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না।

তারা একটা ছন্দ মিলিয়ে এক লাইনে হাঁটছিলো এবং তাদের প্রত্যেকের চোখ থেকেই এক প্রকার নীলচে আভা বের হচ্ছিল।

ভূতুড়ে পুরান ঢাকা

পুরান ঢাকাতে কিছু মিষ্টির দোকান আছে যেখান থেকে কিছু লোক কয়েকদিন পর পর এসে রাত ৮টার দিকে ১০-১২ কেজি মিষ্টি কিনে নিয়ে যায়। তারা যেই দোকানে ঢুকে সেই দোকানের মালিককে লাইট নিভিয়ে দিতে বলে। অন্ধকারে তারা আসে, অন্ধকারে চলে যায়। এই লোকগুলো আকারে অনেক লম্বা এবং তাদের চেহারা আজ পর্যন্ত কেউ ভালো করে দেখতে পারে নি। ধারণা করা হয়, এরা জীন প্রজাতি। পুরান ঢাকার বেশিরভাগ মিষ্টির দোকানের লোকেরাই উনাদের কথা জানেন।

পুরান ঢাকার একটি গার্লস স্কুলের সামনে দিয়ে নাকি রাত ১২টার পর একটা বউকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। যার পড়নে থাকে লাল পার দেয়া একটা হলুদ শাড়ি।

সে কোথা থেকে আসে এবং কোথায় যায় তা কেউ আজ পর্যন্ত শনাক্ত করতে পারে নি। অনেকেই নাকি বউটাকে দেখেছে।

ভূতুড়ে জায়গা লালবাগ কেল্লা

লালবাগ কেল্লার নিচ দিয়ে অনেক গুলো সুড়ঙ্গ আছে, যেগুলো জমিদার আমলে করা। জমিদাররা বিপদ দেখলে সেইসব পথে পালিয়ে যেতো। তেমনই একটা সুড়ঙ্গ আছে, যার ভেতরে কেউ ঢুকলে তাকে আর ফিরে পাওয়া যায় না। মানে, সে আর ফিরে আসে না। পরীক্ষা করার জন্য একবার ২টা কুকুরকে চেইনে বেঁধে সেই সুড়ঙ্গে নামানো হয়েছিলো।

চেইন ফেরত আসে ঠিকই কিন্তু কুকুর দুটো ফিরে আসে নি।

গদ্রবঙ্গা

বাংলাদেশের সাঁওতাল উপজাতিরা অনেক দেব/দেবীর পুজা করে।। এই সব দেব/দেবীর মাঝে কিছু আছে যারা অপদেবতা। তেমনি এক ধরনের অপদেবতার পুজা করে সাঁওতালরা যাদের “গদ্রবঙ্গা” বলা হয়।

এইসব দেবতারা সাইজে ২-৩ ফিট হয়। চেহারাও ছোট বাচ্চাদের মতো। ওরা বিভিন্ন সাঁওতাল পরিবারেও পালিত হয়ে থাকে। ওদেরকে লালন, পালন, আর পূজা দেয়ার কারণ হলো, এইসব দেবতারা যেইসব পরিবারে পালিত হয় তাদেরকে অনেক ধনী করে দেয়। এইসব দেবতারা অন্য বাড়িঘর থেকে স্বর্ণ চুরি করে তা নিজ পালিত ঘরের মালিককে দেয়। তবে, এর বিনিময়ে তারা যা দাবি করে তা খুবই ভয়ঙ্কর।

স্বর্ণ দেয়ার বদলে এইসব অপদেবতারা যে বাড়িতে পালিত হয়, সেই বাড়ির মালিকের ছোট ছোট ছেলে সন্তানগুলোকে চায়।

তারা এইসব ছোট ছেলেদেরকে মেরে ফেলে (কথিত আছে, খেয়ে ফেলে, কারন সেইসব ছোট বাচ্চাদের আর পাওয়া যায় না)।

আর বাড়ির মালিক যদি তাদের এই চাহিদা পূরণ করতে না পারে, তাহলে “গদ্রবঙ্গা” রা ঐ পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়।

এসব জানার পরও এখনো সাঁওতাল অনেক পরিবারই ধনী হবার লোভে এইসব অপদেবতা পালন করে আসছে।

তেজগাঁও

ঢাকার তেজগাঁও এর মনিপুরীপাড়া এলাকায় একটা পুরনো খ্রিস্টান বাড়ি আছে। এই বাড়িতে ভাড়া থাকা প্রায় সব ভাড়াটিয়াই বিভিন্ন অদ্ভুত বা ভূতুড়ে কাণ্ডকারখানার সম্মুখীন হন। অনেক সময়ই গভীর রাতে(রাত ১-২টার দিকে) বাড়িটার নিচের উঠোনের দোলনায় কাউকে দুলতে দেখা যায়। ঘটনাটি দেখেছেন এমন লোকের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। এছাড়াও বাড়ির ছাদে অনেকসময় নাকি গভীর রাতে কারা হইচই করে। কিন্তু সেই মুহূর্তে ছাদে গেলেও কাউকে দেখা যায় না। এই বাড়িটিকে ঘিরে লোক মনে কৌতূহলের কোনো শেষ নেই। শোনা যায়, উক্ত বাড়িওয়ালার মেয়ে প্রায় ১৬ বছর আগে গলায় ফাঁস দিয়ে নিজ ঘরে মারা যায়।

মেয়েটি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। এই আত্মহত্যার পর থেকেই এমন অদ্ভুতুড়ে কার্যকলাপ শুরু হয়।

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ১০ টি মসজিদ, না জেনে নিলে ভুল করবেন

মসজিদ

মসজিদ শব্দটি আরবি ভাষা থেকে এসেছে। শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে যেখানে সিজদা করা হয়। এই সিজদা শব্দটির মানে হচ্ছে শ্রদ্ধাভরে মাথা নত করা। মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা এক আল্লাহ্‌ ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করেন না। সুতরাং বুঝতেই পারছেন মসজিদ কতটুকু গুরুত্ববহন করে। পৃথিবীতে নানান সুন্দর স্থাপনার মধ্যে মসজিদও আছে। ওয়ান্ডারলিস্ট প্রতিষ্ঠানটি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ১০ টি মসজিদের একটি তালিকা বের করেছে। চলুন দেখে আসি।

১০। সুলতান মসজিদ, সিঙ্গাপুর

মসজিদ

১৮২৪ থেকে ১৮২৬ সালে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। এই মসজিদটি সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় মসজিদ।

বড় এবং সুন্দর মসজিদ হিসেবে সুলতান মসজিদের বেশ পরিচিতি রয়েছে। জুম্মাবারে এই মসজিদে নামাজ আদায় করার জন্য প্রায় সব সিঙ্গাপুরী মুসলিমরা ভিড় করে।

বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদের তালিকাতে দশম স্থানে রয়েছে মসজিদটি।

৯। বাদশাহি মসজিদ, পাকিস্তান

মসজিদ

পাকিস্তানের লাহোরের কেন্দ্রীয় মসজিদ হিসেবে বেশ খ্যাতি রয়েছে এই মসজিদটির। মসজিদটি পাকিস্তানের রাজকীয় একটি স্মারক।

সম্রাট আওরঙ্গজেব ১৬৭১ সালে মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। এই মসজিদটি পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহৎ ও এশিয়ার পঞ্চম বৃহৎ মসজিদ হিসেবে স্বীকৃত।

আর বিশ্বের সবেচেয়ে সুন্দর মসজিদের তালিকাতে নবম স্থানে রয়েছে বাদশাহি মসজিদ।

৮। তাজ-উল-মসজিদ, ভারত

মসজিদ

এশিয়া মহাদেশের অনত্যম সুন্দর এই তাজ-উল-মসজিদ। ভারতের ভুপালে মসজিদটি অবস্থিত। এখানে বিরাট ইসলামী শিক্ষালয় গড়ে উঠেছে মসজিদকে কেন্দ্র করে। বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদের তালিকার অষ্টম স্থানে রয়েছে এই মসজিদটি।

৭। ফয়সাল মসজিদ, পাকিস্তান

মসজিদ

সপ্তম স্থানে আবার পাকিস্তানের একটি মসজিদ স্থান করে নিয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মসজিদের তালিকাতে চতুর্থ স্থান অধিকারী এই ফয়সাল মসজিদ।

সৌদি আরবের বাদশাহ ফয়সালের নাম স্মরণে এই মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অবস্থিত।

৬। জহির মসজিদ, মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার অন্যতম পুরানো ও ঐতিহ্যবাহী একটি মসজিদ এই জহির মসজিদ। মালয়েশিয়ার কেদাহ প্রদেশে ১৯১২ সালে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।

ইতিহাস বলে, সুলতান তাজ উদ্দীন মুকারম শাহের ছেলে টুংকু মাহমুদ এই মসজিদটি তৈরি করেছিলেন।

বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদের তালিকার ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে এটি।

৫। সুলতান ওমর আলী সাইফুদ্দিন মসজিদ, ব্রুনাই

মসজিদ

ব্রুনাইয়ের রাজকীয় বা কেন্দ্রীয় মসজিদ এটি। ১৯৬৮ সালে মসজিদটি নির্মিত হয়। এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর মসজিদ বলা যায়। আর বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদের তালিকাতে পঞ্চম স্থানে সুলতান আলী সাইফুদ্দিন মসজিদ।

৪। গ্রান্ড মসজিদে হাসান (দ্বিতীয়), মরক্কো

মসজিদ

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মসজিদের তালিকাতে এটি সপ্তম স্থানে রয়েছে। আর পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মসজিদের তালিকাতে এই মসজিদটির অবস্থান চতুর্থ। মরক্কোর কাসাব্লাংকা নামক স্থানে অবস্থিত মসজিদটি।

৩। মসজিদে আল আকসা,  ফিলিস্তিন

মসজিদ

যে ফিলিস্তিনি মানুষরা আজ এতো নিপীড়নের শিকার তাদের দেশেই অবস্থান করছে পৃথিবীর তৃতীয় সুন্দর মসজিদটি।

মুসলমান জাতির প্রথম কিবলা মসজিদ। ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে অবস্থিত মসজিদটি। এই মসজিদটির অপর নাম বায়তুল মোকাদ্দাস।

উল্লেখ্য রাসুল (সা.) এই মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে মিরাজের সফরে গিয়েছিলেন।

২। মসজিদে নববী, সৌদি আরব

মসজিদ

আল্লাহ্‌র প্রিয় বন্ধু হলেন মহানবী (সা.)। আর এই মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা স্বয়ং মহানবী (সা.)। এই জন্য এই মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে মসজিদে নববী হিসেবে।

এটি পৃথিবীর সবচেয়ে দ্বিতীয় সুন্দর মসজিদ এবং অনেকে বলেছেন এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহৎ মসজিদও।

সৌদি আরবের মদিনাতে এই মসজিদটি অবস্থিত। অসাধারণ সুন্দর একটি স্থাপনা এটি। ১৮৩৭ সালে প্রথম এই মসজিদের গম্বুজটিতে সবুজ রং করা হয়।

আপনি কি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মসজিদটি দেখতে উদগ্রীব তাহলে আর দেরী নয়। এক ঝলকে দেখে নেই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মসজিদটিকে।

১। মসজিদ-উল-হারাম, সৌদি আরব

মসজিদ

এই মসজিদটিও সৌদি আরবে অবস্থিত। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে সুন্দর এই মসজিদ-উল-হারাম।

এই মসজিদটি সৌদি আরবের মক্কাতে অবস্থিত। পবিত্র হজ্জের সময় একসাথে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ লাখ মুসলিম এই মসজিদে ইবাদত বা সালাম আদায় করতে পারে। বুঝতেই পারছেন এর বিশালতা কতটুকু।

পৃথিবী বিখ্যাত মানুষদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শেষকথা

শেষকথা

পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতার নাম মৃত্যু। যার জন্ম হয়েছে তার মৃত্যু অবধারিত। কেউ তা কোন ভাবে ঠেকাতে পারবে না। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে অনেকেই অনেক কথা বলে থাকেন। কারো কারো কাছে এই শেষকথা অর্থহীন মনে হতে পারে। কিন্তু কথাগুলো কি আসলেই তাৎপর্যহীন? আমাদের সবার পরিচিত কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে উচ্চারিত কিছু কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।

বব মার্লে

শেষকথা

আধুনিক সময়ে এসেও বব মার্লেকে মানা হয় তারুণ্যের প্রতীক, বিপ্লবের প্রতীক হিসেবে। মৃত্যুর এতো বছর পরও তার জনপ্রিয়তা কোন অংশে কমেনি। তিনি অধিকার বঞ্চিত মানুষের গান গাইতেন। মৃত্যুর আগে তার শেষ কথা ছিল,

“জন্মভূমি জ্যামাইকাতেই মরতে চাই।”

জীবনের শেষ মুহূর্ত গুলো তিনি চেয়েছিলেন মাতৃভূমি জ্যামাইকাতে থাকতে। তার শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য তাঁকে জ্যামাইকাতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শরীরের নাজুক অবস্থার কারণে ১৯৮১ সালের ১১ মে পথেই তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুকালে বব মার্লের বয়স ছিল মাত্র ছত্রিশ বছর। পুত্র জিগি মার্লেকে উদ্দেশ্য করে তার শেষ কথাগুলো ছিল, “অর্থ জীবন কিনতে পারে না।”

মহাত্মা গান্ধী

শেষকথা

ভারতের অহিংস আন্দোলনের পথিকৃত মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। আমরা যাকে মহাত্মা গান্ধী নামে চিনি। তিনি খুবই সাধাসিধে জীবনযাপন করতেন। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারিতে নয়া দিল্লীর বিরলা ভবনে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন তিনি।

আততায়ী ছিলেন নাথুরাম গডসে। মৃত্যুর পূর্বমূহুর্তে মহাত্মা গান্ধী শুধু বলেছিলেন “হা রাম।” তার পরপরই সব কিছু শেষ হয়ে গেলো।

আর্কিমিডিস

শেষকথা

আর্কিমিডিস সম্পর্কে কম বেশি সবাই তো জানি। একদিন গণিতের সূত্র নিয়ে বাড়ির উঠোনে দাগ কেটে হিসেব কষছিলেন গ্রিক পন্ডিত আর্কিমিডিস।

তখন রোমান সৈন্যরা গ্রিস আক্রমণ করেছিলো।

গ্রিস জেতার পর রোমান সেনাপতি মার্সেলাস চাইলেন মহাজ্ঞানী আর্কিমিডিসের সাথে দেখা করতে। তিনি ছিলেন গুণের সমঝদার ব্যক্তি।

সৈন্য পাঠিয়ে দিলেন আর্কিমিডিসকে খুঁজে সসম্মানে তার কাছে নিয়ে আসতে।

সৈন্যরা আর্কিমিডিসের কাছে এলো। কিন্তু আর্কিমিডিসের সেদিকে খেয়াল নেই। আর্কিমিডিস তার কাজ নিয়েই ব্যস্ত।

সৈন্যরা তাকে ডাকতেই তিনি বললেন, “আমার নকশা থেকে দূরে সরে দাঁড়াও।”

এই কথাটাই তার শেষ কথা ছিল। পরাজিত নাগরিকের এমন কথা শুনে সৈন্যটি আর নিজেকে স্থির রাখতে পারলো না।

মূর্খ সেই সৈন্যের তরোয়ালের এক কোপে দ্বিখণ্ডিত হলো মহান এই গণিতবিদের শির।

অগাস্টাস সিজার

মৃত্যুর আগে তার প্রজাদের উদ্দেশ্যে বারবার একটি কথা বলছিলেন রোম সাম্রাজ্যের প্রথম সম্রাট অগাস্টাস সিজার।

“আমি কাদা-মাটির রোমকে পেয়েছিলাম। তোমাদের কাছে একে মর্মর বানিয়ে দিয়ে গেলাম“।

অগাস্টাস সিজার তার কাছের মানুষদের বলেছিলেন, “আমি কি আমার দায়িত্ব ঠিকমতন সম্পন্ন করতে পেরেছি? যদি পেরে থাকি, তবে চলে যাওয়ার পর আমাকে স্মরণ করো।“

চার্লস ডিকেন্স

শেষকথা

১৮১২ সালে ৭ ফেব্রুয়ারি মাসে জন্ম নেন ডিকেন্স। তিনি ছিলেন ঊনবিংশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইংরেজ ঔপন্যাসিক।

চার্লস ডিকেন্সকে ভিক্টোরিয়ান যুগের শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক হিসেবে মনে করা হয়।

আধুনিক সময়তো বটেই ডিকেন্স জীবদ্দশাতেই তার পূর্বসূরি লেখকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অনেক বেশি জনপ্রিয়তা ও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

অলিভার টুইস্টের, গ্রেট এক্সপেকটেশন, হার্ড টাইমস এবং ডেভিড কপারফিল্ডের মতো অসংখ্য জনপ্রিয় উপন্যাসের স্রষ্টা তিনি। তিনি খুব সুন্দর কথা বলেছিলেন শেষ সময়ে।

“আমার মৃত্যুর পর স্মরণ সভায় শোক প্রকাশের জন্য কালো বস্ত্র, স্কার্ফ পরিধান করে আসার কোনো দরকার নেই”

তার কাছে এইসব কিছুই অর্থহীন মনে হয়।

সম্রাট আওরঙ্গজেব

মুঘল এই সম্রাট মৃত্যুর আগে তার কৃত কর্মের জন্য অনেক বেশি অনুতপ্ত ছিলেন। তিনি ছেলের কাছে একটি শেষ চিঠি লিখেছিলেন। তার শেষ কথা ছিল,

“আমার জীবনে অনেক পাপ করেছি। জানি না, কত শাস্তি আমার জন্য অপেক্ষা করছে”

হয়তোবা তিনি অনুভব করতে পেরেছিলেন কেউ তার কর্মফল ভোগ না করে পালাতে পারবেনা।

মৃত্যুর ওপাড়ে কি আছে তা হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন।

 

নতুন বছরের অজানা কিছু তথ্য জেনে নিন

নতুন

আজকের পর আসছে নতুন বছর। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ ইংরেজি নববর্ষ পালন করেন। অনেকে আমরা থার্টি ফার্স্ট নাইট পালন করি।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মানুষরা কিন্তু নানা ধরণের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান পালন করেন।

ইংরেজি নববর্ষের আছে কিছু ইতিহাস। যেগুলো সম্পর্কে আপনারা অনেকেই অবগত নন।

তাহলে আসুন জেনে নেয়া যাক।

নববর্ষ উদযাপনের রীতিনীতি চালু হয়ে ছিল ৪০০০ বছর আগে

তৎকালীন রোমান প্রধান জুলিয়াস সিজার প্রথম জানুয়ারী মাসের নাম করণ করেন।

রোমান দেবতা জেনাস এর নামকরণে এই মাসের নাম দেয়া হয়। এই দেবতা রোম এর প্রবেশ দরজায় থাকেন।

জেনাসের দুটি মুখ একটি পেছনে এবং অন্যটি সামনে। তাই সিজার ভাবলেন বছরের শুরুর মাসটির নাম এই দেবতার নামেই করা উচিত।

নতুন বছরের শুরুতে অনেক বেশি সবুজ সবজি খান

বলা হয়ে থাকে যে বছরের প্রথমে যত বেশী সবুজ সবজি খাবেন আপনার বছর তত ভালো যাবে। বছরের প্রথম দিন অনেকেই তাই বীন, মটরশুঁটি খেয়ে উদযাপন করেন।

পৃথিবীর কতজন মানুষ মদের বোতল খুলে নববর্ষ পালন করেন

আমেরিকানরা প্রায় ৩৬০ মিলিয়ন গ্লাস মদ খায় এই সময়। এই উদযাপন মনে করিয়ে দেয় সতেরশো শতাব্দীর ইতিহাস।

নিউইয়র্ক টাইমস স্কয়ারের বল ড্রপ

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ টি রাজ্যের মধ্যে নিউইয়র্ক একটি খুব জাঁকজমক পূর্ণ শহর। এই স্থানটি বিশ্বের সন্ধিস্থল হিসেবেও পরিচিত।

টাইমস বিল্ডিং-এর সামনে নববর্ষের উৎসব হয়। বছরের প্রথম দিনের শুরুতে রাত ১২টায় বার্ষিক উৎসব হয়। ৩১ ডিসেম্বর ১৯০৭ সাল থেকে শুরু হয়ে আজ অবধি তা চলছে।

এ উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ‘বল ড্রপ’ প্রতি নববর্ষের আগের দিন ১০ লাখেরও বেশি দর্শনার্থীকে টাইমস স্কয়ারে টেনে আনে।

অনেক দর্শনার্থী শুধু বল ড্রপ দেখার জন্য এবং বছরের শেষ রাত কাটানোর জন্য ৩/৪ গুণ বেশী ভাড়া দিয়ে নিউইয়র্কের হোটেলগুলোতে রুম ভাড়া করে।

বছর শুরু নিয়ে ডেনমার্কের ঐতিহ্য

বিভিন্ন দেশে নানান ধরণের ঐতিহ্য পালন করা হয়। কিছু কিছু দেশে নববর্ষ নিয়ে তাই মজাদার সব ঐতিহ্য পালন করা হয়।

ডেনমার্কের মানুষেরা দরজায় থালা বাসন ছুঁড়ে মারে।

এর পেছনে কারণ হল ডেনমার্কের মানুষের বিশ্বাস যার দরজায় যত বেশী থালা বাসন ছোঁড়া হবে তার সেই বছর তত বেশী নতুন বন্ধু হয়।

বছর শুরু নিয়ে স্প্যানিশের ঐতিহ্য

ডেনমার্কের মতো স্প্যানিশরাও একটা ঐতিহ্য পালন করেন।

৩১ ডিসেম্বরের রাতে সবাই ১২ টা করে আঙ্গুর খায়।

তাদের বিশ্বাস যারা এটা করবে বছর জুড়ে তাদের ভালো ভাগ্য থাকবে।

১৮৯৫ সাল থেকে এই ঐতিহ্য পালন করে আসছে স্প্যানিশরা।