ভালোবাসার সাগরে সাঁতরাচ্ছেন কিনা বুঝবেন কি করে?

ভালোবাসার

পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী আর পবিত্র অনুভূতির নাম ভালোবাসা। বাংলায় ভালোবাসা, হিন্দিতে পিয়ার আর উর্দুতে বলা হয় মুহাব্বত। বাবা, মা, ভাই, বোন আর পরিবারকে জন্মের পর থেকেই আমরা ভালোবাসি। কিন্তু মানব জিবনে একটা নির্দিষ্ট বয়সে ভালোবাসার সুরটা যেন পাল্টে যায়। অনেকে তরুণ হওয়ার পরেও এই অনুভূতির সাথে পরিচিত হন না। তাই বুঝতেও পারেন না যে তিনি প্রেমে পরেছেন বা কাউকে ভালবেসেছেন কিনা। তাদের জন্যই আজকের এই লেখা। আশা করি লেখাটি আপনাকে উপকৃত করবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ১- প্রথম দেখা

ভালোবাসার

আপনি প্রথম যেদিন তাকে দেখেছেন সেই দিনের কথা আপনি চাইলেও ভুলতে পারবেন না। সেদিন সে কি পড়ে এসেছিল, কিভাবে কথা বলেছিল, কোন বিষয়ে কথা হয়েছিল সব কিছুই আপনার মনে থাকবে। সেদিনের কথা আজও মনে আসলে আপনার মনে একটা সুন্দর ভালো লাগার অনুভূতি ছড়িয়ে যাবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ২- অবসরে তার স্মৃতি বার বার চোখের সামনে আসবে

ভালোবাসার

একা যখন বসে বই পরছেন তখন হয়ত গল্পের কোন চরিত্র পছন্দ হলে তার সাথে মিলিয়ে ফেলবেন। গান শুনলে তার সাথে কাটানো কোন মুহূর্ত মনে পড়ে যাবে। অবসরে তার কথা ভাবতে আপনার ভীষণ ভালো লাগবে। একা একা হয়তবা তখন হেসেই দিবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৩- সব সময় তাকে সুরক্ষিত দেখতে চাইবেন

ভালোবাসার

আপনার প্রিয় মানুষটি যেন সবসময় সুরক্ষিত থাকে সে ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকতে দেখা যাবে আপনাকে। তার সুবিধা-অসুবিধাটা আপনার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাবে। আপনি চাইবেন তাকে যেন কোনভাবে বিপদ স্পর্শ না করে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৪- গায়ের গন্ধ

ভালোবাসার

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত আপনার পছন্দের মানুষটির গায়ের গন্ধ আপনার অনেক ভালো লাগবে।

এমন হতে পারে তার ঘামের গন্ধ আপনার কাছে খুব প্রিয়। তার ব্যবহৃত জিনিস ব্যবহার করতে আপনার খুব ভালো লাগবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৫- সে অসুস্থ হলে আপনি অনেক বেশি চিন্তিত হয়ে যাবেন

ভালোবাসার

তার ছোট ছোট অসুস্থতা আপনাকে অনেক বেশি চিন্তিত করে ফেলবে। অনেক বার ফোন দিয়ে খোঁজ নেবেন।

যদি তার সাথে কথা বলতে না পারেন তাহলে অন্য কারো মাধ্যমে তার বিষয়ে খোঁজ নেবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৬- তার সামনে নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে চাইবেন

ভালোবাসার

পৃথিবীর অন্য মানুষগুলোর সামনে আপনি কি সেটা আপনার মাথায় আর কাজ করবে না। মাথায় শুধু এটাই থাকবে তিনি আপনাকে কিভাবে দেখছেন।

তার সামনে সব সময় নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৭- মনের সব কথা তাকে বলতে ইচ্ছে করবে

ভালোবাসার

আমাদের মনের ভেতর নানা ধরনের কথা থাকে, সুপ্ত ইচ্ছা থাকে সেগুলো তার সাথে বলতে ভালো লাগবে।

সেটা পূরণ হোক বা না হোক ইচ্ছে করবে তাকে বলতে। তার সাথে আপনার সব পরিকল্পনা ভাগ করতে ভালো লাগবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৮- মানুষটির সাথে সময় পার করলে হিসেব থাকবে না আপনার

ভালোবাসার

অনেক মানুষ আছে যাদের সাথে থাকলে মনে হবে সময় এত বড় কেন? মিনিটকে মনে হয় ঘণ্টার সমান। কিন্তু এই বিশেষ ব্যক্তিটির সাথে সময় কাটালে মনে হবে, সময় অনেক দ্রুত চলে যায়। তার সাথে কথা বলা শেষে ঘড়ি দেখলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৯- অন্য কারো সাথে থাকলে ঈর্ষা অনুভব করবেন

ভালোবাসার

আপনার বিশেষ মানুষটি অন্য কারো সাথে যদি কাজেও একটু ব্যস্ত থাকে তাহলে আপনার ঈর্ষা অনুভূত হবে।

বিপরীত লিঙ্গ হলেই যে সেখানে খারাপ অনুভূতি হবে তা নয়। আপনার মনে হবে এতো টুকু সময় তো আপনার সাথে থাকতে পারতেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ১০- সে যদি আপনাকে নাও ভালোবাসে তবুও তার শুভকামনা করা

ভালোবাসার

সবাই ভালোবাসা চায়, কিন্তু এটা সবার ভাগ্যে থাকেনা। দুর্ভাগ্যবশত আপনার প্রিয় ব্যক্তিটি যদি অন্য কাউকে ভালোবাসে তাহলেও তার প্রতি ভালোবাসা বা শ্রদ্ধা এতোটুকু কমবে না। যদি আপনি তখন প্রতিশোধ নিতে চান অথবা আত্মহত্যার মত ঘৃণ্য কোন পদক্ষেপ নিতে চান তাহলে বলতেই হবে আপনি সত্যিকারের ভালোবাসার দেখা পাননি।

ভালোবাসার লক্ষণ ১১- জীবনকে মনে হবে ছোট আর অনেক দিন বাঁচতে ইচ্ছে করবে

ভালোবাসার

তাকে দেখার পর থেকে মনে হবে জীবন এতো ছোট কেন, এতো দ্রুত সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে কেন। মনে হবে কেন আরও আগে তার সাথে দেখা হল না।

জিবনে তখন বাঁচার কোন কারণ না থাকলেও আপনার খুব বাঁচতে ইচ্ছে করবে। মনে হবে জীবনটা অনেক সুন্দর।

ভালোবাসার লক্ষণ ১২- তার সাথে কোন কথা গোপন রাখতে পারবেন না

ভালোবাসার

কোন কথাই আপনি তার থেকে লুকাতে পারবেন না। তার সাথে কথা ভাগাভাগি করলে আপনি মানসিকভাবে শান্তি পাবেন।

তার বিষয়ে কোন ভুল ধারণা থাকলে অথবা তার বিষয়ে কোন কটু কথা শুনলে তা কখন মনে পুষিয়ে রাখতে পারবেন না।

কারণ আপনি বিশ্বাস করেন সে অনেক ভালো।

আরও অনেক লক্ষণ আছে যেগুলো দিয়ে বোঝা যায় আপনি কাউকে ভালোবাসেন কিনা। আজ কয়েকটি উপায় আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম।

এর ভেতর যদি একটিও মিলে যায় তাহলে কিন্তু আপনি সত্যি সত্যি প্রেমে পরেছেন অথবা অনেক ভালোবাসেন তাকে।

নিজের অনুভূতি সম্পর্কে জানুন। এবং আপনার ভালোবাসার মানুষকে অনেক বেশি ভালোবাসা উপহার দিন।

ডিপ্রেশন নিয়ে অবহেলা করলে পরিণতি হতে পারে “মৃত্যু”

ডিপ্রেশন

মানব শরীর নানা রোগের আধার। ভয়ঙ্কর সব রোগ নিয়ে হয়তোবা আপনার আশেপাশের মানুষগুলো বেঁচে আছে। কিছু কিছু রোগ আছে দেখা যায় না কিন্তু এর ভয়ঙ্করের মাত্রা অনেক বেশি। ডিপ্রেশন তেমনই একটি রোগের নাম। দিন দিন এই রোগ প্রকট হয়ে উঠছে। আমাদের দেশে এ নিয়ে তেমন কোন জনসচেতনতা নেই বললেই চলে। কারণ মানসিক সমস্যা অথবা রোগকে কোন রোগ বা আসুস্থতা বলে গণ্য করা হয় না। কিন্তু প্রতি বছরই এর কারণে অনেক মানুষ আত্মহত্যা করছে।

কম বেশি সবাই জানি ডিপ্রেশন কি, তাই এ নিয়ে আলোচনা করবনা। আমরা আসলে ভালো করে জানিনা কেন ডিপ্রেশন হয়। এমনি এমনি তো এই আসুস্থতা হতে পারে না। সব কারণ জানা না গেলেও কিছু সাধারণ কারণ আছে।

ডিপ্রেশন হতে পারে অপমানবোধ থেকে

মানসিক বা শারীরিকভাবে অবমাননার স্বীকার হলে অনেকে  ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়। এই ধরণের অনুভূতি থেকে ডিপ্রেশনের সৃষ্টি হয়।

নিরাপত্তাহীনতা বা একাকীত্ববোধ করা

পারিবারিক কারণে অনেকে হীনমন্যতায় পড়ে। সামাজিক ও পারিবারিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকে বিষণ্নতার স্বীকার হয়। তাছাড়া বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধব বা অন্যান্য কাছের মানুষদের সাথে সম্পর্কহীনতা বা মতবিরোধ থেকেও অনেকে বিষণ্ণতায় ভুগে থাকেন।

ডিপ্রেশন বংশগত কারণে হতে পারে

বংশগত পরিবারে কারো ডিপ্রেশন থাকলে তা অন্যদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

বড় কোন রোগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

বড় ধরণের কোন রোগ থাকলে রোগী ডিপ্রেশনের শিকার হতে পারে।

ঔষধের প্রভাব

নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ সেবনের ফলেও কেউ কেউ বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয়। যেমন ব্রণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত আইসোট্রেটিনিয়ন বা অ্যান্টিভাইরাল “ইন্টারফেরন-আলফা” জাতীয় ঔষধ সেবনেও অনেকে বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয়। এমন অনেক ঔষধ আছে যেগুলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে বিষণ্ণতা ছড়িয়ে দেয় মস্তিষ্কে।

ডিপ্রেশন আপনাকে অসহায় অবস্থায় পতিত করবে। ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন ধরণের থেরাপি ও চিকিৎসার পাশাপাশি নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।

নিজের চেষ্টা না থাকলে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। নিজের প্রতিদিনের কাজকর্ম, খাওয়া-দাওয়া, জীবনপ্রণালী এমনকি চিন্তা-ভাবনায় ও পরিবর্তন আনতে হবে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির জন্য।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির জন্য নিচের পয়েন্টগুলো সহায়ক হতে পারে-

রুটিনমাফিক চলা

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিনের জীবনকে একটা রুটিনের মধ্যে নিয়ে আসুন।

প্রতিদিনের কাজ-কর্মকে যদি একটা নিয়মের মধ্যে বেঁধে ফেলা যায় তবে তা ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা

লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেলুন। ডিপ্রেশনে যেহেতু কোন কাজ করতে ইচ্ছা করে না তাই প্রতিদিন একটু একটু করে কাজ করার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।

নিয়মিত ব্যায়াম করা

প্রতিদিন অল্প কিছু সময় ব্যায়াম করলে তা আপনার শরীর এবং মনকে সুস্থ রাখবে।

ব্যায়াম করা মানে, ম্যারাথন দৌড় টাইপ কিছু না, আপনি যদি প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটাহাঁটি করেন তবুও তা আপনার মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যা আপনাকে ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে।

সুষম খাদ্য গ্রহণ

সুষম খাদ্য গ্রহনের মাধ্যমে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি মেলে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ থাকে।

সাইক্রিয়াটিস্টদের মতে, যেসব খাবারে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এ্যাসিড এবং ফলিক এসিড থাকে সেসব খাবার ডিপ্রেশন কমাতে সহায়তা করে।

অনিদ্রা দূর করা

পর্যাপ্ত ঘুম ডিপ্রেশন কমায়। ডিপ্রেশনের রোগীদের নিদ্রাহীনতা দেখা দেয়্। তাই, প্রথমেই ঘুম সমস্যার সমাধান করতে হবে।

প্রতিদিনের জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে নিদ্রাহীনতা দূর করা সম্ভব। প্রতিদিন ঠিক সময়ে ঘুমোতে যাওয়া এবং সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

দিনের বেলার হালকা ঘুমের অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। শোবার ঘর থেকে টিভি, কম্পিউটার, মোবাইল এগুলো সরিয়ে রাখতে হবে।

এভাবেই অনিদ্রা রোগ ধীরে ধীরে দূর করা সম্ভব।

ইতিবাচক চিন্তা করা

ডিপ্রেশনে ভুগতে থাকলে মানুষের মনে বিভিন্ন রকম নেগেটিভ চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকে।

যেমন আমিই বুঝি সবচেয়ে খারাপ, আমার মত দুঃখ কারো নেই, আমি সবার চেয়ে অসুস্থ, আমি ব্যর্থ একজন মানুষ এই ধরণের চিন্তাগুলো সুস্থ হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা।

তাই এই নেগেটিভ চিন্তাগুলোকে মন থেকে দূর করে পজিটিভলি চিন্তা করার চেষ্টা করতে হবে।

যুক্তি দিয়ে সবকিছু বিচার করতে হবে। আশাহত হওয়া যাবে না কোনভাবেই।

আনন্দদায়ক কাজের মধ্যে সময় কাটানো

নতুন কিছু করার চেষ্টা করতে হবে। মজার কোন কাজ। যেমন নতুন কোথাও ঘুরতে যাওয়া, মজার কোন বই পড়া, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া।

মন ভালো রাখার সবরকম চেষ্টা করতে হবে। মন ভালো থাকলে ডিপ্রেশন কেটে যাবে একসময়।

ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ

ডিপ্রেশন পুরোপুরি না ভালো হওয়া পর্যন্ত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।

খুশকি নিয়ে আমাদের ভুল ধারণা, যা আমরা সবাই মানি

খুশকি

শীতের প্রকোপে খুব খারাপ অবস্থা এখন আমাদের। শীত অনেকের পছন্দ আবার অনেকের আছে শীতকে নিয়ে নানান অভিযোগ। অনেকের মতে খুশকি জনিত সমস্যা নাকি এই শীত কালেই বেড়ে যায়।

কিন্তু আপনি কি জানেন এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা। খুশকি নিয়ে এমন অনেক ভুল ধারণা আছে আমাদের মধ্যে। আজ আর সেটা থাকবে না আশা করি।

খুশকি বেশি হয় শুষ্ক মাথায়

এটা আমাদের সবচেয়ে সাধারণ একটা ভুল ধারণা। এটা তখনি হয় যখন মাথার ত্বকে ফাঙ্গালের পরিমাণ বেড়ে যায়। যাকে বলে ফাঙ্গাল মালাসেজিয়া। মাথা যদি ঠিক মতো পরিস্কার না করা হয় তাহলে এমনটা হতে পারে।

খুশকি শুধু শীতকালে হয়

খুশকি কোনো মৌসুম দেখে আসে না। এটি নির্ভর করে মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের উপর। যাদের খুশকি থাকে তারা এই সমস্যা দূর না করলে সব সময়ই থাকে। শীতকালে ত্বক বেশি শুষ্ক থাকে তাই বেশি বোঝা যায়। কিন্তু বছরের অন্য সময়গুলোতেও মাথায় খুশকি থাকে।

খুশকির জন্য চুল পড়ে

খুশকির কারণে চুল পড়তে পারে তবে এটি চুল পড়ার প্রধান কারণ নয়।

সাধারণত অস্বাস্থ্যকর মাথার ত্বক এবং ভুল খাদ্য অভ্যাসের কারণে চুল পড়ে।

এছাড়া চুলে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টি না পেলে, রোদের ভিতরে চুল অনেক্ষণ ছেড়ে দিয়ে রাখলে, ভেজা চুল বেঁধে রাখলে চুল পড়ে।

ঠিক মতো চুল না আঁচড়ালেও এমনটা হতে পারে। কারণ চুল আঁচড়ালে মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল ভালো হয়।

খুশকি ছোঁয়াচে হয়

অনেকেই মনে করে থাকেন কারো মাথার সঙ্গে মাথা ঠেকালে, কোলাকুলি করলে খুশকি চলে আসে অথবা একই চিরনি দিয়ে আঁচড়ালে এটা হতে পারে।

এটি একেবারেই ভুল ধারণা। এটা কোনো সংক্রামক নয় যে কাউকে ছুলেই তা আপনার হবে। তাই নির্দ্বিধায় মানুষের সঙ্গে কোলাকুলি করতে পারেন।

মানসিক চাপ খুশকি বাড়িয়ে দেয়

অনেকে বলে থাকেন, অনেক বেশি মানসিক চাপে থাকলে তা খুশকি বাড়াতে সাহায্য করে।

এটি একদম একটি ভুল ধারণা। এই তথ্যের কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নাই।

এটা সত্যি যে অতিরিক্ত মানসিক চাপ আপনার মস্তিষ্কের জন্য ভালো নয়। তাই চেষ্টা করুন মানসিক চাপ এড়ানোর।

তামার চিরুনি ব্যবহার করলে খুশকি দূর হয়

তামাকে অনেক ক্ষেত্রে অ্যান্টি ফাঙ্গাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু তামা খুশকি দূর করতে কতখানি সক্ষম তার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই।

তাই এটিকে কোনো স্থায়ী সমাধান ভাবলে ভুল হবে।

খুশকি দূর হয় দৈনিক শ্যাম্পু করলে

খুশকির জন্য চুলে শ্যম্পু করার দরকার হয় না। কোনো ত্বক বিশেষজ্ঞ কাউকে প্রতিদিন চুলে শ্যম্পু করতে বলেন না। কারণ এটি মাথার ত্বকের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এতে আপনি খুশকি দূর করার থেকে মাথার ক্ষতিই বেশি করবেন।

এই ভুল ধারণাগুলোক আকড়ে ধরে বসে থাকবেন না।

আপনি যদি একটু বেশি খুশকির সমস্যায় ভোগেন তাহলে তা দূর করার জন্য বিশেষ শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন।

এখন বর্তমানে এরকম অনেক শ্যাম্পু বাজারে পাওয়া যায়।

যদি দেখেন সেগুলো ব্যবহার করে আপনার কোন উন্নতি হচ্ছে না তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

এই সমস্যা হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ আমি মনে করি আপনার খাদ্য অভ্যাস।

আপনার মাথায় যদি অনেক থেকে থাকে এবং কোন ভাবেই না কমে থাকে সে ক্ষেত্রে আপনার খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তন করুন।

খুশকি এবং চুল পড়া দুটোই রোধ করতে চাইলে খাদ্য তালিকা বদলানো খুবই দরকার। তবে তা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।

মাঝে মাঝে বাসায় বসে অথবা পার্লার থেকে হেয়ার ট্রিটমেন্ট করিয়ে নিন।

মাসে একবার করলেই হবে। এতে চুল এবং মস্তিষ্ক দুটোই ভালো থাকবে।

পিরিয়ডের সময় না জেনে যে ভুল গুলো করেন নারীরা

পিরিয়ড

পিরিয়ড বা মাসিক একজন নারীর জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মাতৃত্বের মতো মূল্যবান ব্যাপার গুলো পিরিয়ডের উপর নির্ভর করে।

শারীরিক এই কার্যক্ষমতার জন্য নারীরা খুব কম হৃদরোগে আক্রান্ত হন। শরীরে অনেক ক্ষতিকর পদার্থ বের হয়ে যায় এ সময়।

জেনে না জেনে আমরা অনেকেই পিরিয়ডের সময় কিছু ভুল করে থাকি। ভুলগুলো নারীদের জন্য অনেক সময় ক্ষতিকর হয়ে উঠে।

পিরিয়ড হলে চলাচল কম করা

যেহেতু রক্তপাত হয় তাই অনেক নারী মনে করে থাকেন যে বেশি নড়াচড়া করা ঠিক না। যার কারণে বেশির ভাগ সময় শুয়ে বসে কাটিয়ে দেয়।

পিরিয়ডের সময় ব্যথা কমানো এবং সঠিক ভাবে রক্তপ্রবাহের জন্য হাঁটাচলা করা খুব দরকারি।

অবশ্যই এই সময় বিশ্রামের দরকার আছে কিন্তু শুধু বসে বসে সময় কাটানো যাবে না।

স্বাভাবিক দিনের মতই কাটাতে হবে দিনগুলো।

ডাউচিং

পিরিয়ড

ডাউচিং হল হ্যান্ড সাওয়ার দিয়ে গোপনাঙ্গ পরিষ্কার করা। অধিকাংশ নারীরাই এই কাজটি করে থাকেন।

পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে এই ডাউচিং যেন আরও বেশি করে করেন নারীরা।

কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা তারা জানে না আর সেটি হল; পিরিয়ডের সময় প্রাকৃতিক ভাবে নারীর যৌনাঙ্গ এবং জরায়ু পরিষ্কার হয়ে যায়। এই সময় ডাউচিং করলে উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়ে যায়।

যার কারণে যৌনাঙ্গের ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে।

মাত্রাতিরিক্ত পেইনকিলার গ্রহণ করা

পিরিয়ড

পিরিয়ডের সময় ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। তবে ব্যথা অসহনীয় হলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। কিন্তু ডাক্তারের কাছে না গিয়ে নিজে নিজেই পেইনকিলার গ্রহণ করা অনেক বড় একটি ভুল। অতিরিক্ত পেইনকিলার গ্রহণ করলে আপনার লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। বাথরুমে যে পানি ব্যবহার করেন তা গরম হলে অনেকাংশে ব্যথা কমে আসে। গরম পানি অথবা চা খেলেও ব্যথা কমে যায়।

একই ন্যাপকিন অনেকসময় ধরে পড়ে থাকা

পিরিয়ড

হয় ব্যস্ততা নাহয় আলসেমির জন্য নারীরা একই ন্যাপকিন অনেকক্ষণ পড়ে থাকেন। অধিকাংশ নারীদের কাছে এটা বিশেষ কিছু নয়। কিন্তু আপনার হয়তো জানা নেই ৫-৬ ঘণ্টার মধ্যে ন্যাপকিন পরিবর্তন করা বাঞ্ছনীয়। খারাপ ভাবে নাহলে ভ্যাজাইনাল ইনফেকশন হতে পারে।

পিরিয়ডের রক্ত কি রঙের তা খেয়াল না করা

পিরিয়ড

পিরিয়ডের রক্ত কিন্তু আপানার শরীরের অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে দেয়। কিন্তু নারীরা পিরিয়ডের রঙের দিকে বেশি গুরুত্ব দেন না। যদি রক্ত গোলাপি অথবা ফ্যাকাসে হয় আপনার শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা খুব কম। রক্ত পানিতে মেশালে যে রঙ হয় সে রঙ হয় তাহলে বুঝবেন আপনি অপুষ্টি অথবা অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন। রক্ত যদি একটু কালচে রঙের হয় তার মানে এই রক্ত একটু পুরনো যা এখন বের হচ্ছে।

পিরিয়ড হলে সঠিক পরিমাণে আয়রন গ্রহণ না করা

পিরিয়ড

পিরিয়ডের পর নারীদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি হয়। মানসিক পরিবর্তনের সাথে সাথে রুচিতেও কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। অনেক নারী জাঙ্ক ফুড, টক অথবা অনেক ঝাল খায় এই সময়। কিন্তু রক্তে আয়রনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এমন খাবার খাওয়া হয় না। আয়রন আছে এমন খাবার হল, কাঁচা কলা, বেগুন, কচু শাক, পালং শাক, ডিম। সহজলভ্য এই খাবার গুলো নারীদের খাদ্য তালিকায় রাখলে আর আয়রনের ঘাটতি পরবে না আশা করি।

মুখের দুর্গন্ধ দিয়ে অবহেলা নয়, এর মাধ্যমে অনেক রোগ ধরা যায়

দুর্গন্ধ

মুখে দুর্গন্ধ নিয়ে আমরা অনেকেই বিভিন্ন বিব্রতকর অবস্থায় পড়ি। দেখা যায় অনেক সময় আপনি ঠিক মত ব্রাশ করেও মখে দুর্গন্ধ পাচ্ছেন। এমন অবস্থায় অন্যের সাথে কথা বলতেও ভয় লাগে এই বুঝি আমরা মুখের দুর্গন্ধ পাবে!

আপনি কি জানেন মুখের দুর্গন্ধ শুধু দাঁতের কারণে হয় না। অনেক সময় মুখের গন্ধ দিয়ে শারীরিক অসুস্থতা ধরা পড়ে।

যদি মুখের দুর্গন্ধ কিছুটা প্রসাবের মতো গন্ধ হতে থাকে তাহলে সতর্ক হয়ে যান। কারণ এই ধরনের দুর্গন্ধ বলে দেয় আপনার টাইপ-১ ডায়বেটিসের সমস্যা হয়েছে।

এই গন্ধের মূল কারণ হচ্ছে ডায়বেটিসের কারণে দেহে ইনসুলিনের অভাব।

আপনার নিঃশ্বাসে যদি দুর্গন্ধ পান তাহলে বুঝে নেবেন আপনার সাইনাসে সমস্যা রয়েছে।

এর কারণ হচ্ছে নাকে ও গলায় মিউকাস জমে থাকা।

টক দুধের মতো টক টক ধরনের গন্ধ পান আপনার নিঃশ্বাসে আপনার খাবারে প্রোটিনের মাত্রা অতিরিক্ত বেশি হয়েছে।

এর কারণ হচ্ছে কিটোনের ভাঙন।

যদি আপনার নিঃশ্বাসে পচে যাওয়া মাংসের মতো দুর্গন্ধ পান তাহলে বুঝে নেবেন আপনার টনসিলের সমস্যা হয়েছে।

টনসিলের কারণে সালফার উৎপন্নকারী ব্যাকটেরিয়া অধিক জন্ম নিচ্ছে যার কারণেই নিঃশ্বাসে এই ধরনের দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে।

আপনার নিঃশ্বাসে দিনের প্রত্যেকটা সময় যদি সকালে ঘুম থেকে উঠার পর যেমন গন্ধ থাকে তেমন গন্ধ পান তাহলে আপনার মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে।

মুখে ভেতরের স্যালিভা বা লালা শুকিয়ে গেলে ব্যাকটেরিয়া উৎপন্ন হতে থাকে যা এই ধরনের দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে।

যদি আপনার নিঃশ্বাসে আঁশটে গন্ধ হয় তাহলে বুঝে নেবেন আপনার কিডনি সমস্যা হয়েছে।

কিডনিতে সমস্যা হলে এবং কিডনি সঠিকভাবে কাজ না করলে নাইট্রোজেন উৎপন্ন হয় যা এই ধরনের দুর্গন্ধের জন্য দায়ী।

খুবই বাজে ধরনের দুর্গন্ধ এবং বাথরুমের মতো গন্ধ পেলে বুঝে নেবেন আপনার মাড়িতে ইনফেকশন হয়েছে।

সুতরাং সাবধান। শারীরিক সমস্যা যদি বুঝে নিতে পারেন নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ থেকে, তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

দিনে অবশ্যই দুইবার সঠিক পদ্ধতিতে দাঁত ব্রাশ করুন। মাউথ ওয়াশ এবং ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করুন। যদি সম্ভব হয় প্রতিবার খাবার গ্রহণের পড়ে দাঁত ব্রাশ করুন।

নিয়মিত দাঁত, মাড়ি, জিহ্বা পরিষ্কার করুন

পর্যাপ্ত পানি পান

নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করা শরীরের জন্য শুধু উপকারীই না, এটা প্রয়োজনীয়। শুকনো মুখেই ব্যাকটেরিয়াগুলো বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

আর পানি খেলে গন্ধযুক্ত বিশেষ সালফার যৌগ অনেকটাই পানিতে মিশে যায়। ফলে গন্ধও কমে।

তাজা সবজি ও ফল খান

মৌসুমি তাজা ফল ও সবজি জুস করে না খেয়ে চিবিয়ে খান। এতে শরীরে যেমন প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান হবে তেমনি তা মুখের গন্ধও দূর করবে।

ফল-সবজি খেলে মুখে লালার প্রবাহ বাড়ে বলে মুখ ভেজা থাকে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দুর্বল হয়ে যায়।

কফি খাওয়া কমান

বেশি বেশি কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সেটা কমান। কফি জিহ্বার ওপর প্রলেপ ফেলে দেয় যা অক্সিজেনের চলাচল বন্ধ করে দেয়।

এটা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ক্যাফেইন প্রয়োজন হলে আপনি চা পান করুন।

চিনিহীন চুইংগাম

মুখের গন্ধ থেকে বাঁচতে তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে চুইং গাম চিবাতে পারেন। মুখের ভেতরটা ভেজা রেখে লালার প্রবাহ চালু রাখতে সাহায্য করবে এটা।

তবে, চিনি আছে এমন মিন্টজাতীয় গাম না চিবানোই ভালো।

কারণ চিনি দাঁতে লেগে থাকলে তা আপনার এনামেল ক্ষয় করবে।

দই খান

বেশীর ভাগ মানুষের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, দিনে একবার কিছুটা দই খাওয়া হজমে সহায়ক এবং তা মুখ থেকে এমন গন্ধ দূর করতেও সাহায্য করে।

মুখের এমন ব্যাকটেরিয়া দূর করতেও খুবই সহায়ক দই।

ভিটামিন প্রয়োজন

ভিটামিন-ডি মুখের এমন ব্যাকটেরিয়ার জন্য ক্ষতিকর। দুধ ও দুধজাতীয় খাবারে ভিটামিন-ডি আছে আর সূর্যালোক তো আছেই। ভিটামিন-সির পর্যাপ্ত জোগানও আপনার মুখ সতেজ রাখবে।

আর এ দুটো ভিটামিন মুখে গন্ধের সমস্যার পাশাপাশি আপনার মুখের অন্যান্য রোগ প্রতিরোধেও প্রয়োজনীয়।

আপনার যদি এসিডিটি থাকে তবে ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেল মশলাযুক্ত খাবার খাবেন না, রাতে ঘুমানোর দুই ঘন্টা আগে খাবার খাবেন, রাতে ঘুমানোর আগে হাঁটাহাঁটি করবেন।

তামাক বর্জন করুন

সিগারেটই হোক বা জর্দা দেওয়া পান। যেকোনো তামাকজাতীয় দ্রব্য সেবন মুখে গন্ধসহ অনেক ধরনের রোগ হতে পারে। ফলে, এমন অভ্যাস থাকলে সেটা ত্যাগ করুন।

 

মস্তিষ্কের সজীবতা ধরে রাখতে গড়ে তলুন ৭ টি অভ্যাস

মস্তিষ্কের

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা শুধু বয়স বাড়লেই কমে না আপনি যদি মস্তিষ্কের সঠিক যত্ন না করেন তখনও এমনটা হতে পারে। মাঝ বয়সেও এমনটা হতে পারে অনেকের শেষ বয়স পর্যন্ত মস্তিস্ক প্রখর থাকে। মস্তিষ্কের কোষ সজীব রাখার কিছু অজানা কিন্তু সহজ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব। আশা করি আপনারা উপকৃত হবেন।

ফলের তালিকায় রাখুন জাম এবং স্ট্রবেরি

প্রথমেই আপনাদের মাথায় এসেছে জাম তো সব সময় পাওয়া যায় না। আর স্ট্রবেরিও।

কিন্তু যখন এই মৌসুমি ফল গুলো হাতের নাগালে থাকে তখন কি আমরা ঠিক মতো খাই?

জামে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বা ফ্ল্যাভানওয়েডস মস্তিষ্কের কোষগুলোকে রক্ষা করে। ফলে ভুলে যাওয়ার সমস্যা থেকে রেহাই মেলে।

ঘরের কাজে হাত লাগান

সারাদিন আলসেমি করে কাটাবেন না। এতে করে আপনার মস্তিস্ক কার্যক্ষমতা হারাতে থাকে। তাই ঘরের ছোটখাটো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।

যেমন- ঘর গোছানো, রান্নাবান্না করা, বাসন ধোয়া ইত্যাদি।

লুডু, দাবা খেলেও কাটাতে পারেন অবসর সময়। মস্তিষ্ক সতেজ থাকলে অ্যালজ়াইমারের আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যায়।

নতুন ভাষা শিখুন

নতুন কিছু শেখার প্রতি আগ্রহী হন। নিজের ভাষার সাথে সাথে অন্য একটা ভাষাকেও করতে পারেন আপনার দ্বিতীয় ভাষা।

এক কথায় মস্তিষ্ককে সব সময় কাজে লাগান। জানেন তো অলস মস্তিস্ক শয়তানের বন্ধু।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার জন্য নিয়মিত ভাবুন

প্রতিদিন দিনশেষে সারাদিনে কী কী করেছেন তা ধারাবাহিকভাবে মনে করার চেষ্টা করুন। মোটেও লিখে রাখবেন না।

মস্তিস্কে সব মেমোরি জমা করে রাখুন। প্রয়োজনে আধা ঘণ্টার জন্য নিরিবিলি কোথাও চলে যান। এরপর ভাবুন। এটা প্রতিদিন করুন। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়বে।

রাগ করা চলবে না

রাগ মানুষের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। আপনি যদি বদ মেজাজি হয়ে থাকেন তাহলে আপনার মেজাজকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন। রাগ কখনই ভালো কিছু এনে দেয় না এটা সব সময় মনে রাখবেন। অতিরিক্ত রাগ কিন্তু হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

যতটা সম্ভব রাগ, পারিবারিক কলহ এড়িয়ে চলুন। এমন পরিস্থিতি দেখলে ওই স্থান থেকে প্রয়োজনে কিছু সময়ের জন্য বাইরে চলে যান।

ধর্ম নিয়ে চিন্তা করুন

ধর্মীয় বিভিন্ন রীতিনীতি পালনেও মস্তিষ্ক শীতল হয়। কর্মক্ষমতা বাড়ে।

মুসলমানরা নামাজের সময় যখন সিজদায় যায় তখন মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। এতে স্মৃতিশক্তি ভালো থাকাসহ ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।

ধর্মীয় নিয়ম গুলো পালন করা একধরণের মেডিটেশন। সকল ধর্মে মানুষ যখন সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করে একনিষ্ঠভাবে প্রার্থনা-পূজা-অর্চনা করে, তখন তা মেডিটেশনের কাজ করে।

এতে মস্তিষ্ক শীতল হয় ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে।

ব্যায়াম

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কেও রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে মস্তিষ্কের কোষগুলো সতেজ থাকে। স্মৃতিশক্তিও ভালো থাকে। সকালে উঠেই ব্যায়াম করতে হবে এমন নয়। আপনার যখন সুবিধা হয় তখন করবেন।

পিরিয়ড নিয়ে লজ্জা নয়, বাঁচতে হলে জানতে হয়

পিরিয়ড

একটি মেয়ের জীবনে পিরিয়ড সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।

সাধারণত ৯ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে এটি শুরু হয়ে ৪৫-৫০ বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ী থাকে।

সৃষ্টির প্রথম মানবী থেকে শুরু হয়ে বর্তমানকাল পর্যন্ত সব নারীর এই পিরিয়ড একটি স্বাভাবিক জীবনের অংশ হওয়া সত্ত্বেও এ নিয়ে মানুষের ভুল ধারণার শেষ নেই।

আজকে জেনে নেই পিরিয়ড সংক্রান্ত কিছু ভুল ধারণা

  • অনেকেই ডাক্তারের কাছে আসে খুব অল্প রক্তক্ষরণ সমস্যা নিয়ে। কিন্তু মনে রাখবেন,  পিরিয়ডে রক্তের পরিমাণ নারী ভেদে ভিন্ন। কালচে কয়েক ফোঁটা থেকে শুরু করে গাঢ় লাল হতে পারে। ২০-৬০ মিলি অর্থাৎ ৪-২০ চামচ পর্যন্ত রক্ত যাওয়া স্বাভাবিক।
  • পিরিয়ডের সময় টক-জাতীয় খাবার খেলে বেশি ব্লিডিং হয়। সম্পূর্ণ ভুল ধারণা, এ সময় স্বাভাবিক সব খাবার খাওয়া যাবে। পটাসিয়াম যুক্ত খাবার, আয়রন যুক্ত খাবার এই সময় খাওয়া ভালো। ফল শাকসবজি বেশি করে খাবেন।
  •  পিরিয়ডের সময় হরমোনের পরিবর্তন হয়, ফলে কাজ করতে ইচ্ছে করে না, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, এটা স্বাভাবিক। পিরিয়ড হলে কাজ করা যাবে না এটি একটি ভুল ধারণা। পিরিয়ড একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটি কোনো রোগ নয়। এ সময় স্বাভাবিক সব কাজকর্ম করা যাবে। কিন্তু যাদের ব্যথা বেশি হয় তাদের বিশ্রাম নিতে হবে।

পিরিয়ড

  • অনেকে চিকিৎসকের কাছে আসে মাত্র দুদিন পিরিয়ড থাকে এ জন্য ওজন বেড়ে যাচ্ছে। মনে রাখতে হবে পিরিয়ড দুই থেকে সাত দিন স্থায়ী হয়ে থাকে। নিয়মিত নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর হওয়াটা জরুরি। দুদিন থাকলেই দৈহিক ওজন বেড়ে যাবে এটি মোটেই ঠিক নয়।

কিছু স্বাভাবিক সমস্যা

পিরিয়ডের সময়ে দেহে হরমোনাল পরিবর্তন ঘটে।

ফলে এই সময় মাথাব্যথা, তলপেটে ব্যথা,  বমি ভাব, খাওয়ায় অরুচি, পায়ের মাংসপেশিতে ব্যথা ও সাময়িক বিষণ্নতা খুব স্বাভাবিক। এসব সমস্যায় খুব বেশি বিচলিত না হয়ে চিকিৎসকের  পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করলেই চলবে।

যে সমস্যা গুলোতে অবশ্যই আমাদের চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে


পিরিয়ড নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবে তিন ধরনের পরিস্থিতিতে
অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ,  এটি তিন ধরনের হতে পারে-
ক) অতিরিক্ত রক্তস্রাব
খ) রক্ত না যাওয়া
গ) পিরিয়ডের মধ্যবর্তী সময় রক্ত যাওয়া
ঘ) অত্যন্ত ব্যথাপূর্ণ পিরিয়ড
ঙ) পিরিয়ড শুরুকালীন সমস্যা

এ সমস্যাগুলো একটু বিস্তারিত জানা দরকার

স্বাভাবিক পরিমাণের চেয়ে ১০-২৫ গুণ বেশি হলেই তাকে অতিরিক্ত বলতে হবে।
এ ধরনের রক্ত যাওয়া মাসিক শুরু ও শেষ হওয়ার সময় কমন। তবে এ ছাড়া অন্য সময় হলে অবশ্যই গাইনি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে  চিকিৎসা নিতে হবে।

এই সময় অবহেলা করলে খুব খারাপ কিছু হতে পারে।

কিছু ভয়ানক রোগের লক্ষণ এই অনিয়মিত পিরিয়ড

  • জরায়ু বা ডিম্বাশয় টিউমার বা সিস্ট
  • থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা
  • লিভার বা কিডনির সমস্যা
  • লিউকোমিয়া
  • রক্ত জমাটের কোনো সমস্যা
পিরিয়ড
আপনার অসাবধানতায় জরায়ুতে হতে পারে অনিরাময় যোগ্য রোগ।

পিরিয়ড শুরুকালীন সমস্যা :

পিরিয়ড শুরুর চার-পাঁচ দিন আগে থেকে শুরু করে সাধারণত প্রথম তিন দিন স্থায়ী হয়।

সাধারণত শতকরা ৩০-৪০ জন নারীই এই সমস্যা ভোগ করে। হরমোনের তারতম্যের কারণে এটি ঘটে থাকে। এই সময়ে-
দুর্বলতা, কাজে অনীহা,  বিষণ্নতা,  সহজে রেগে যাওয়া,  মেজাজের তারতম্য,  হতাশা,  মনোঃসংযোগে ব্যর্থতা ইত্যাদি হয়ে থাকে। এই সময়ে পারিবারিক সদস্যের  সহানুভূতি অত্যন্ত জরুরি।

তবে পিরিয়ড শেষ হওয়ার পরও যদি এই সমস্যা স্থায়ী থাকে, তবে অবশ্যই একজন মানসিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর অর্থাৎ এর সময় প্রথম কয়েক মাস পিরিয়ড বন্ধও থাকতে পারে। এ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। তবে এক বছর ধরে পিরিয়ড বন্ধ আছে আবার হঠাৎ পিরিয়ড শুরু হলে অবশ্যই গাইনি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। কারণ,  এটি মোটেই স্বাভাবিক নয়। পিরিয়ড কবে শুরু হলো এটি প্রত্যেক নারীর লিখে রাখা বা মনে রাখা প্রয়োজন। স্বাভাবিক নিয়মে জন্মনিয়ন্ত্রণ, গর্ভনিরোধক পিল খাওয়া  অথবা গর্ভধারণের চেষ্টা করা সব ক্ষেত্রেই পিরিয়ড শুরুর দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পিরিয়ডের কারণে অনেক নারীরই রক্তশূন্যতা থাকে। তাই প্রতি ছয়  মাস অন্তর একটি হিমোগ্লোবিন করানো উচিত। এটি অত্যন্ত সহজলভ্য ও সস্তা একটি পরীক্ষা। রক্তশূন্যতা থাকলে আয়রন ক্যাপসুল খাওয়া উচিত। পুষ্টিকর খাবার  খাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। আর একটি কথা,  পিরিয়ডের সময় কাউকে ব্লাড দেয়া উচিৎ নয়।

সামাজিক মূল্যবোধ

আমাদের সমাজে পিরিয়ড এখনো একটি টেবু।

মেয়েরা সমস্যা গুলো লজ্জায় বলতে চায় না। সে জন্য প্রতিদিন কত নারী কত জটিল অসুখে ভুগে মারা যাচ্ছে।

নারীরা পুরুষদের কে দোষ দিচ্ছে, কিন্তু নিজের সমস্যার ভাগীদার কি অন্য কেউ হতে পারে?

কাউকে দোষ না দিয়ে নিজের সমস্যা নিজেরই সমাধান করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

যে সব নারীরা চাকরি করেন এবং বিভিন্ন পেশায় আছে, তাদের পিরিয়ড এর জন্য ২ দিন ছুটি দিতে হবে, শ্রমজীবী নারীদের সমস্যা গুলো তাদের ম্যানেজার দের বুঝতে হবে।

ছেলেদের কে নিজেদের ধ্যান ধারনা পরিবর্তন করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। মনে রাখবেন সুস্থ পিরিয়ড মানে সুস্থ নারী, তাই পিরিয়ড কে মর্যাদা দিন। এটি স্বাভাবিক একটি বিষয়, এটি কোন দুর্বলতা নয়।

 

 

পেটের পীড়া ভয়াবহ হতে পারে, অবহেলা করবেন না।

পেটের পীড়া

আমাদের দেশে বেশিরভাগ লোক যে রোগটিতে ভোগেন তা হল পেটের পীড়া। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে এ পীড়ার প্রাদুর্ভাব বেশি হয়। পেটের পীড়া বলতে আমরা সাধারণত বুঝি আমাশয়, ডায়রিয়া, পেটের ব্যথা কিংবা হজমের অসুবিধা।

পেটের পীড়াকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত, খাদ্যনালি প্রদাহ (পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়, ক্ষুদ্রান্ত্র কিংবা বৃহদান্ত্রের রোগ)। দ্বিতীয়ত, লিভারের প্রদাহ।

খাদ্যনালির কারণজনিত পেটের পীড়াকে দু’ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।

স্বল্পমেয়াদি পেটের পীড়া

দীর্ঘমেয়াদি পেটের পীড়া

আমাশয়

পেটের পীড়া
এন্টাবিমা হিস্টোলাইটিকা নামক জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়।

অ্যামিবিক ডিসেন্ট্রি স্বল্পমেয়াদি পেটের পীড়ার অন্যতম কারণ যা এন্টাবিমা হিস্টোলাইটিকা নামক জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়। এটি মূলত পানিবাহিত রোগ।

যারা যেখানে-সেখানে খোলা বা বাসি খাবার খেয়ে থাকেন অথবা দূষিত পানি পান করেন তাদের এ রোগ হয়।

শহর অঞ্চলে রাস্তার পাশের খোলা খাবার খেলে এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে যারা যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করেন, কিংবা নদী ও পুকুরের পানি পান করেন তারা এ রোগে আক্রান্ত হন বেশি।

এ রোগের উপসর্গ হঠাৎ করে দেখা দেয়। যেমন- ঘন ঘন পেটে মোচড় দিয়ে পায়খানা হওয়া, পায়খানার সঙ্গে রক্ত বা আম মিশ্রিত অবস্থায় যাওয়া, পায়খানায় বসলে উঠতে ইচ্ছা হয় না বা ওঠা যায় না।

ক্ষেত্র বিশেষে দিনে ২০-৩০ বার পর্যন্ত পায়খানা হতে পারে।

ডায়রিয়া

ডায়রিয়ার অন্যতম কারণ খাদ্যে নানা ধরনের পানিবাহিত ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ।

ছোট শিশুদের ডায়রিয়া সাধারণ রোটা ভাইরাস নামক ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে।

বড়দের ক্ষেত্রে নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে যে ডায়রিয়া মহামারী আকারে দেখা দেয়, তার অন্যতম কারণ হল কলেরা। শীতকালে কলেরার প্রাদুর্ভাব বেশি হয়।

পাতলা পায়খানা হলে যদি চাল ধোয়া পানির মতো হয় তবে সেটা কলেরার লক্ষণ।

এর সঙ্গে তলপেটে ব্যথা হওয়া, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, ঘনঘন পায়খানায় যাওয়া এবং শরীর ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যাওয়া এ রোগের উপসর্গ। এ সময়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

পেটের পীড়ার অন্য কারণগুলোর হচ্ছে পিত্তথলি, পাকস্থলী, অগ্নাশয় এবং অন্ত্রের প্রদাহ।

অগ্নাশয়ের প্রদাহ জনিত পেটের পীড়া

পেটের পীড়ার আরও একটি কারণ হল অগ্নাশয়ের প্রদাহ বা Pancreatitis অগ্নাশয় একটি লম্বা অঙ্গ বা Organ যা পেটের ভিতরে পেছনে অবস্থিত।

এই অগ্নাশয়ের কাজের উপর নির্ভর করে হজমের ক্ষমতা এবং রক্তে গস্নুকোজের পরিমাণ ঠিক রাখা।

স্বল্পমেয়াদী অগ্নাশয়ের প্রদাহ হলে তাকে Acute Pancreatitis বলে, যার অন্যতম কারণঃ

 

পেটের পীড়া
সব সময় ভুঁড়ি ভোজ করা ঠিক না।

ভুঁড়ি ভোজ করা

পিত্তনালী বা পিত্তথলিতে পাথর এবং

অ্যালকোহল পানে আসক্তি

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মৃদু বা সহনীয় ব্যথা ভাল হয়ে যায়। তবে অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসায় বিলম্ব কিংবা অবহেলা করলে জটিল আকার ধারণ করতে পারে এমনকি প্রাণহানিও ঘটতে পারে।

পাকস্থলি ও ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রদাহ উপরের পেটে দীর্ঘদিন বার বার ব্যথা হওয়া, Peptic Ulcer রোগের লক্ষণ যা পাকস্থলি Stomach বা ক্ষুদ্রান্ত্রের (Duodenum) এর প্রদাহের কারণে হয়।

এই প্রদাহ দুরারোগ্য ব্যাধি। যাদের হয়, বার বার হয়। রোগীও সারে না, রোগও ছাড়ে না।

এই রোগকে পেটের পীড়ার অন্যতম কারণ হিসাবে বলা যায়। কেননা আমাদের দেশে ১২% লোক Peptic Ulcer -এ ভুগছেন। এছাড়া যারা অনিয়মিত খান, অতিরিক্ত ধূমপান করেন তাদের এ রোগ বেশি হয়।

লক্ষণের মধ্যে রয়েছে, খালি পেটে ব্যথা, শেষরাতে ব্যথা এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা। এ রোগ সেরেও সেরে উঠে না।

এবারের শেষটায় এসে যে কথা বলতে চাই-খাবারের প্রতি অনীহা, অরুচি, অস্বস্তি, ওজন কমে যাওয়া- এসব কিছুরই অন্যতম কারণ দীর্ঘমেয়াদী লিভারের প্রদাহ।

এ দীর্ঘমেয়াদী লিভারের প্রদাহ এমন আকার ধারণ করে যা কিনা দীর্ঘস্থায়ী জটিল লিভার সিরোসিসে রূপ নিতে পারে।

পেটের পীড়া প্রতিরোধে করণীয়ঃ

পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হলে ভীত না হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

  1. খাদ্য গ্রহণের পূর্বে এবং মলত্যাগের পর নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। যে সমস্ত অভিভাবক শিশুকে খাওয়ান, তারা শিশুকে খাবার প্রদানের পূর্বে এবং শিশুর মলত্যাগের পর একই নিয়মে হাত পরিষ্কার করবেন।
  2. পরিষ্কার পানিতে আহারের বাসনপত্র, গৃহস্থালী ও রান্নার জিনিস এবং কাপড়-চোপড় ধোয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং প্রয়োজনে সাবান ব্যবহার করতে হবে।
  3. পায়খানার জন্যে সর্বদা স্যানেটারী ল্যাট্রিন ব্যবহার করতে হবে।
  4. যারা গ্রামে বসবাস করেন, তাদের যেখানে সেখানে বা পুকুর নদীর ধারে মলত্যাগের অভ্যাস পরিহার করতে হবে।
  5. খালি পায়ে বাথরুমে বা মলত্যাগ করতে না গিয়ে সর্বদা স্যান্ডেল বা জুতা ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
  6. খাবারের জন্য ফুটানো পানি ব্যবহার করতে হবে এবং পানি ফুটানোর ব্যবস্থা না থাকলে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ব্যবহার করতে হবে।
  7. আহারের জন্য তৈরিকৃত খাদ্য সামগ্রী এবং পান করার জন্য নির্ধারিত পানি সর্বদা ঢেকে রাখতে হবে।
  8. পুরোনো, বাসী বা দুর্গন্ধযুক্ত খাবার কখনোই খাওয়া যাবে না।
  9. মনে রাখবেন, পেটের পীড়া প্রতিরোধে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় পন্থা। আপনি আপনার খাদ্যাভাস, পানি পান, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা সর্বোপরি ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সচেতন হলে পেটের পীড়া থেকে মুক্ত হতে পারবেন।

 

শৈশব মানুষের জীবনে কতটুকু প্রভাব ফেলতে পারে?

শৈশব

শৈশবকাল প্রত্যেক মানুষের জীবনের মধুময় একটি কাল। শৈশবের দিন গুলো স্মৃতির পাতাকে দিন দিন দুর্বল করে তুলছে। যতবার মনে পড়ে প্রত্যেকবার সেই শৈশব যেনো আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। কে যেনো হৃদয় প্রান্তরে হাতছানি দিয়ে ডাক দিয়ে যায়। কিন্তু তাকে কিছুতেই বোঝাতে পারি না আমি যে বাঁধা পড়ে গেছি। শৈশবের দিন গুলো ছিলো অনেক দুরুন্তপনায় মাখানো, দুষ্টামিতে ঘেরানো আর সারাদিন ছোটাছুটি করে দৌড়ে বেড়ানো প্রতিটা মুহুর্ত  যেনো স্বর্গ সুখের ছোঁয়া।

ফেলে আসা দিন গুলোতে আজো ফিরে যেতে মন চায়, মন চায় আবার প্রজাপতির মত ডানা মেলে দূর প্রান্তরে সবুজে ঘেরা মাঠে উড়ে বেড়াই।
চলমান জীবনের সঙ্গে বৃষ্টি ঝরার মত যা কিছু অদৃশ্য হয়ে পেছনে হারিয়ে যায় তার মধ্যে শৈশব কাল অন্যতম। হারানো প্রতিটি দিন হয়ে উঠে এক একটি ডায়েরী, এই ডায়েরীর পাতায় লেখা হয়ে যায় স্মৃতির পাঠাশালা আর অবুঝ হাসি কান্নার শৈশব। প্রতিটী শৈশব জীবন ভবিষ্যতের এক একটি হারানো অধ্যার হয়ে দাঁড়ায়। কোন মানুষের কথা অথবা প্রয়োজনকে উপেক্ষা করে শৈশব নামের মধুর কাল ছুটে চলতে থাকে নিজ স্বপ্নে।

আপনিও হয়তবা শৈশবের কথা শুনে আপনার স্মৃতির ডায়েরীর পাতায় হাতড়ানো শুরু করেছেন সেই সব সোনালি দিন গুলোর কথা ভাবছেন। কিন্তু যখন শৈশব মধুর অথবা সুন্দর না হয় তখন আমাদের মানসিকতার উপর কতোটা প্রভাব ফেলে তাই নিয়ে থাকছে আজকের লেখাটি।

শৈশব জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এই অধ্যায়ের উপর নির্ভর করে আপনার বাকি জীবনের অধ্যায়গুলো কেমন যাবে।

একাকীত্ব

শৈশব
শিশুদের একা থাকার দরুন নানান মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

শৈশব যদি একাকীত্বে কাটে তাহলে শিশুমনে অনেক প্রভাব পড়ে।

একাকীত্ব থেকে বের হয়ে আসার জন্য তখন শিশুরা নানান পথ অবলম্বন করে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বাবা মা চাকরী করতে চলে যান সন্তানকে একা রেখে।

বাসায় এসেও হয়তো তাদের সময় হয়না শিশুটির সাথে কথা বলতে। জানতেও চান না কি করে কাটলো তার দিন।

শিশু মনের অভিমান অনেক ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে।

আর সেই অভিমান যদি কখনো ভাঙার চেষ্টা না করা হয়, তাহলে তা বাবা মার বিরুদ্ধে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

এমতাবস্থায় অনেকেই বিভিন্ন অন্যায়ের সাথে জড়িত হয়ে পড়ে।

একজন অপরাধী কখনই জন্মগত ভাবে অপরাধী হন না।

তার অপরাধী হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশী দায়ী তার পরিবার এরপর তার সমাজ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা।

পারিবারিক কলহ

শৈশব
বাবা মার কলহ শিশু মনে খারাপ প্রভাব ফেলে।

শিশু যদি দেখে সব সময় তার বাবা মার ভেতর ঝগড়া বিবাদ লেগে আছে তাহলে সেই শিশুর মনে পরিবারের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয়।

মাকে যদি দেখে বাবাকে অসম্মান করতে তাহলে সেও একসময় এটাই অনুসরণ করে, মার ক্ষেত্রেও একি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

প্রত্যেকটি পরিবারের মধ্যে মতমতের মিলঅমিল দেখা যেতে পারে। ঝগড়াও হতে পারে।

কিন্তু তা যদি আপনার শিশুর সামনে প্রতিনিয়ত করেন তাহলে সে আর স্বাভাবিক মন মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে না।

জন্ম দিয়েছে বলে বাবা মার কোন অধিকার নেই একটি শিশুর শৈশব এবং তার সারা জীবন নষ্ট করার।

সৃষ্টিকর্তা একটি সন্তানকে সুন্দর ভাবে বেড়ে তোলার জন্য বাবা মার কাছে দেন।

বাবা মা হতে হলে তাই দেখে নিন আপনি এত বড় দায়িত্ব নেয়ার যোগ্যতা রাখেন কিনা।

শৈশব শাসনের জন্য নয়

শৈশব
অতিরিক্ত শাসনের ফলে শিশু নিজেকে বাবা মার থেকে দূরে নিয়ে যায়।

অতিরিক্ত শাসন একটি সন্তানের কাছে সবচেয়ে বড় মানসিক নির্যাতন। আপনার করা অতিরিক্ত শাসন আপনার সন্তানের জীবনে ভিবিন্ন রকমের বিরূপ প্রভাব ফেলে। ক্রমাগত অতিরিক্ত শাসন সন্তানের মানসিক ভারসাম্যকে এলোমেলো করে দেয়। প্রচন্ড মানসিক চাপে ভোগে। এভাবে মানসিক চাপে থাকতে থাকতে সে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এমনকি সারা জীবনের জন্য সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারে। সন্তান সবসময় শাসনের মুখে থাকলে নিজেকে একলা ভাবে ও বিষণ্ণতায় ভোগে । এতে করে তারা মা-বাবার সাথে ভয়ে কথা বলা থেকেও নিজেকে বিরত রাখে । তাদের সামনে যাওয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখে ফলশ্রুতিতে তাদের ভুল পথে পা বাড়ানো বা ভুল সঙ্গের সার্নিধ্যের সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে। ছোট বেলা থেকেই বাবা মায়ের দ্বারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বা শাসনের স্বীকার শিশুরা অধিকাংশই হিংস্র হয়ে বেড়ে ওঠে। আবার কিছু সংখ্যক শিশু হয় খুব ভীতু। জীবনের চলার পথে প্রতিটি পা এগুতেও খুব বেশি ভয় পায় তাঁরা। ফলে সব সময়েই সবার পেছনে পড়ে থাকে।

নৈতিকতার অভাব

শৈশব
পরিবার শিশুর নৈতিকতার অভাব সৃষ্টি করে

শিশুদের মধ্যে নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলি গড়ে তুলতে পরিবারকে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ পরিবারেই এসবের বীজ প্রোথিত হয়। এছাড়া সামাজিক পরিবেশ দেখে শিশুরা অনেক কিছু শেখে। এজন্য সমাজকে গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে। পৌরনীতির ভাষায় ‘পরিবারকে বলা হয় মানবিক গুণাবলি অর্জনের প্রথম শিক্ষাগার’। যেখানে একজন ছেলে বা মেয়ে বড়দের শ্রদ্ধা করা ও ছোটদের স্নেহ করার শিক্ষা পায়। পরিবারই হচ্ছে এক্ষেত্রে প্রথম ধাপ। বড় হওয়ার প্রক্রিয়ায় পরিবারের গণ্ডির বাইরে ছেলে-মেয়েরা যখন তাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থার সঙ্গে মিশে তখন তারা আরও বেশি শেখার সুযোগ পায়। সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে শিশুরা নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে মিশে। এর ফলে অন্যদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মধ্যদিয়ে তাদের মধ্যে নানা নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটে। যদি বাবা মাকে অনৈতিক কিছু করতে দেখলে শিশু নিজেই তা অনুকরণ করবে এটাই স্বাভাবিক। এখানে কোন ভাবেই শিশুটিকে দায়ী করা যাবেনা।

ব্যক্তিত্ব ছাড়া আপনার দাম নেই

ব্যক্তিত্ব

আমরা একজন মানুষ কে বিচার বিবেচনা করার জন্য তার বাহ্যিক রূপকে গুরুত্ব দেই না। কারণ বাহ্যিক সৌন্দর্য্য আমরা জন্মগত ভাবে বা স্বাভাবিক ভাবে পেয়ে থাকি অপর দিকে ব্যক্তিত্ব যা আমাদের অর্জন করে নিতে হয়। একজন মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ গুণাবলী হচ্ছে তার ব্যক্তিত্ব। মানুষের জীবন যাপনের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি ব্যক্তিত্বও একজন মানুষের অনেক বেশী অপরিহার্য। ব্যক্তি বলতে ব্যক্তিত্বকে বুঝায় না কিন্তু ব্যক্তিত্ব বলতেই ব্যক্তি বুঝায়। ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য দরকার ব্যক্তি স্বাধীনতা। কারণ সুপ্ত মেধা, সুপ্ত ক্ষমতা আর সুপ্ত প্রতিভার প্রসার করাই হলো ব্যক্তিত্ব বিকাশ। অর্থাৎ আমাদের নিজস্ব সত্ত্বার যেসব গুণাবলী আছে সে গুলো বিকাশ ঘটানো।

সত্যিকার অর্থে ব্যক্তিত্ব বলতে যা বুঝায়

ব্যক্তিত্ব হচ্ছে এক ধরনের ছাপ যা মানুষের ভিতরে প্রকাশ পায়। ব্যক্তিত্ব মানুষের মূল্যবান সম্পদ।
মানুষের জীবনে ব্যক্তিত্বের সীমারেখা প্রতিফলিত হয় কথাবার্তায়, আচার ব্যবহারে, চাল-চলনে, ধ্যানধারণায় ও মন মানসিকতায়।
সাফ্যল্যের চাবিকাঠি হলো ব্যক্তিত্ব। মানুষের চালনা শক্তি, এগিয়ে নেওয়ার শক্তি, চারিত্রিক গুণাবলী এসব কিছু ব্যক্তিত্ব।

ব্যক্তিত্বহীনতার ফল
যাদের ব্যক্তিত্ব নাই মানে ব্যক্তিত্বহীন তাদের মধ্যে আত্ম নিয়ন্ত্রণ থাকে। নিজের প্রতি কোন বিশ্বাস থাকে না সব সময় অন্যের উপর নির্ভর করে থাকে।
আত্ম-সম্মান থাকে না, মানবতা হারিয়ে ফেলে।
ইচ্ছা শক্তি, স্বপ্ন, লক্ষ্য হারিয়ে ফেলে।
ভয় পায় অনেক বেশী, হীনমন্যতায় ভোগে।
কর্ম ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়, অবশেষে ব্যর্থ হয়।

ব্যক্তিত্ব থাকলে যা হবে আপনার সাথে


বাধা, ভয়, হিনমনতা, দুশ্চিন্তা, সন্দেহ, ঘৃণা, ঈর্ষা, হতাশা, ক্ষতি, ব্যর্থতা, কদর্যতা, তিক্ততা, কষ্ট সকল কিছু কে পেছনে ফেলে সফলতা অর্জন করা যায়।
ব্যক্তিত্ব এমন একটা শক্তি যা আপনাকে আপনার কল্পনার বাইরেও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

আপনি ভালো নেতৃত্ব দান করতে পারবেন।

নিজেকে জানতে পারবেন।

ব্যক্তিত্ব
জ্ঞান অর্জন করতে সময় খরচ করুন।

জীবনে আর বন্ধু খুঁজতে হবে না এমনিতেই আপনি অনেক বন্ধু পেয়ে যাবেন।

যে কোন জায়গায় আপনার গ্রহণযোগ্যতা বেশী থাকবে।

ব্যক্তিত্ব গঠনে আপনাকে যা করতে হবে

কথার সাথে কাজের মিল রাখবেন।

কারো করুণার পাত্র হবেন না।

শুদ্ধ ভাষায় কথা বলুন।

একান্ত গোপনীয় কথা স্বল্প পরিচিত কারো সাথে বলবেন না।

অনধিকারচর্চা করবেন না।

চটপটে এবং স্মার্ট থাকবেন।

উপস্থিতবুদ্ধি সম্পন্ন হতে হবে।

অন্যান্যদের মতামতকে শ্রদ্ধা করবেন।

কোন কিছুর দায়িত্ব নিলে তা যেকোনো মূল্যে পূরণ করবেন।

সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবেন।

আত্মবিশ্বাসী হতে হবে

মেজাজের ভারসম্য রক্ষা করবেন।

জ্ঞান অর্জন না করলে আপনি কখনো ব্যক্তিত্বশালী হতে পারবেন না  

দোয়া ও প্রভুর কাছে প্রার্থনা করে

অনুভব ও অনুমানের মাধ্যমে জ্ঞানার্জন করা যায়

চিন্তাশক্তি প্রয়োগ করে

অভিজ্ঞতা থেকে

অতীত থেকে

জ্ঞানীদের সাথে মিশে

মূর্ত জগতকে দেখে

মূর্ত এবং বিমূর্ত জগত সম্পর্কে চিন্তা গবেষণা করে

ভ্রমণ করে

বই পড়ে

জিবনী পড়ে

ধর্মীয় লেখা

বিখ্যাত লেখকদের লেখা

সাধারণ জ্ঞান সম্পর্কিত বই (আজকের বিশ্ব, কিশোর কন্ঠ ইত্যাদি টাইপের)

বিজ্ঞান ও শিক্ষামূলক সিরিজ

টিভি দেখে

রেডিও শুনে

পত্রিকা পড়ে (সব পত্রিকার শিক্ষা, বিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সাইড গুলো বেশি করে)

নেট সার্চ করে

ফেসবুকিং

ব্লগিং

প্রশিক্ষণ নিয়ে

সমস্ত পেশার লোকদের সাথে মিশে