আসুন একটু হৃদয়ের যত্ন নেই

হার্ট

“প্রায় বুকে চিন চিন করে ব্যথা করে কবির সাহেবের, তিনি ভাবেন এটা গ্যাস্টিকের ব্যথা হয়ত। তাই দুই টাকা দামের একটা গ্যাস্টিকের ট্যাবলেট খেয়ে সাময়িক ভাবে ব্যথা উপশম করেন।“

আমাদের সমাজে এমন কবির সাহেব আছেন হাজারেরও বেশি। হার্ট অ্যাটাকের আগে কেউ ডাক্তার দেখাতে যায় না। বার বার শরীরের প্রয়োজন কে অবহেলা করি আমারা। ফলাফল হার্ট অ্যাটাক নাহয় মৃত্যু। একটা মৃত্যু বা হার্ট অ্যাটাকের চাপ একটা পরিবারকে যে কতটা ভেঙ্গে ফেলে লিখে শেষ করা যাবে না।

আজ তাই চেষ্টা করলাম এই বিষয় অজানা কিছু তথ্য জানাতে। সব শেষে থাকছে একটি সারপ্রাইজ। আসা করি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি নিজ স্বার্থে পড়বেন।

হৃৎপিণ্ড আমাদের দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। মাদার বোর্ড ছাড়া যেমন কম্পিউটার চলে না। তেমনই হৃৎপিণ্ড ছাড়া শরীর চলতে পারেনা। কিন্তু ব্যস্ততার বা অবহেলার কারণে শরীরের এ গুরুত্বপূর্ণ অংশটির যত্ন নেওয়ার কথা ভুলে যাই আমরা। বর্তমান সময়ে পরিবেশ যেভাবে দূষিত হচ্ছে, রোগের বয়স এর পার্থক্য কমে যাচ্ছে। যে কোনো বয়সের মানুষেরই হতে পারে যে কোনো রোগ। বিশেষ করে হার্টের রোগ। একটু সতর্ক হলেই কিন্তু এই সব অসুখ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। হার্টের অসুখের ঝুঁকি আপনার জীবনে একটু কমাতে চাইলে কিছু বিষয় অবশ্যই মানতে হবে।

ধূমপানের অভ্যাস থাকলে ছেড়ে দিন। ধূমপান না করলে আপনার হার্টের অসুখের ঝুঁকিও অনেক কমে যাবে। একটু ব্যায়াম করুন। সময় সুযোগ মতো নিয়ম করে করুন ব্যায়াম। হার্টের অসুখের ঝুঁকি কমবে। আপনার উচ্চতা এবং বয়সের সঙ্গে মানানসই এমন ওজন বজায় রাখুন।

হার্ট
ধূমপান বাদ দিতে না পারলে হৃদরোগ হবেই।

ব্যায়ামের উপকারিতা

১।  দেহে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয় ও কোষগুলোকে অক্সিজেন ব্যবহার করতে সহায়তা করে।

২।  হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে।

৩।  ব্লাডপ্রেশার বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

হার্ট
রক্তচাপ বেশি থাকলে দ্রুত কমানোর ব্যাবস্থা করুন।

৪। হার্ট ফেইলিওরের উপসর্গ কমায়।
৫। হার্টের পাম্প ক্ষমতা বাড়ায়।
৬। মাংসপেশি, অস্থিসন্ধি ও হাড়কে শক্তিশালী করে।
৭। রক্তনালিতে অতিরিক্ত চর্বি বা কোলেস্টেরল জমা হতে দেয় না।
৮। রক্তের সুগারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে ও দেহের কোষের ওপর ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

৯।  শরীরের বাড়তি ওজন কমায়। কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে সহজে ক্লান্ত হওয়া, হাঁপিয়ে যাওয়া ইত্যাদি কমে যায়।

হার্ট
ব্যায়াম শুধু হার্ট না সারা শরীরও ভালো রাখে।

১০। ঘুম স্বাভাবিক ও আরামদায়ক হয়, শারীরিক ও মানসিক অবসাদ দূর হয়।
দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা ও বিষণ্নতা কমে।

দৈনন্দিন ব্যায়াম এমন কিছু ব্যায়াম আছে, যা ঠিক ব্যায়ামের তালিকায় পড়ে না কিন্তু ব্যায়ামের মতোই শরীরে কাজ করে। এতে ব্যায়ামের মতোই উপকার পাওয়া যায়।
সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা, লিফটের ব্যবহার যথাসম্ভব কম করা।

হার্ট
ভুলে যান লিফট আর একসিলেটরের কথা।

অল্প দূরত্বে যেতে হেঁটে যাওয়া।
বাড়িঘর পরিষ্কারের কাজ নিজেই করা।

ভুল ধারণা


বয়স্কদের ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। বয়স্ক, প্রৌঢ় সবারই ব্যায়ামের প্রয়োজন আছে। তবে ব্যায়ামের সময় এত বেশি হাঁপিয়ে ওঠা যাবে না,  যাতে কথা বলতে কষ্ট না হয়।
হার্টের অসুখ হলে ব্যায়াম করা যাবে না। হার্টের সমস্যা হলেও ব্যায়াম করা যাবে। শুধু তাই নয়, ব্যায়াম করতেই হবে। তবে কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ অনুসারে ব্যায়ামের সময়, ধরন ঠিক করে নিতে হবে। এমন স্থানে ব্যায়াম করবেন, যেখানে পরিচিত অনেকেই আছেন।
ব্যায়ামের জন্য জিমে যেতেই হবে। ব্যায়াম করতে হলে জিম বা ব্যায়ামাগারে যেতে হবে এমন কোনো  কথা নেই। তবে কোনো হেলথ ক্লাব বা হাঁটার জন্য বন্ধু বা প্রতিবেশী সঙ্গে  থাকলে ব্যায়ামের নিয়মানুবর্তিতা বজায় থাকে। না হলে আলস্যের কারণে অনেক সময় ব্যায়াম বাদ পড়ে।
ব্যায়াম নিয়মিত করলে খাবার নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নেই। হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালি ভালো রাখতে হলে শুধু ব্যায়াম করলেই হবে না,  তেল ও  চর্বিজাতীয় খাবার,  গরু ও খাসির মাংস, মগজ, ডিমের কুসুম, বেশি মিষ্টি, আইসক্রিম, চকোলেট, ফাস্ট ফুড পরিহার করে ব্যালান্সড ডায়েট খেতে হবে।

কিছু খাবার আছে যা আমরা প্রতিদিন খাই কিন্তু এটা জানিনা যে এগুলো আসলে খাবার এর নামে বিষ।

এর ভেতর এক নাম্বার এ আছে কাঁচা লবণ, চিনি দুধ চা, ঘন ডাল। এই খাবার গুলো হার্টের জন্য নীরব ঘাতক।

কিছু সহজলভ্য ও পরিচিত খাবার আছে যেগুলো আমাদের রক্তনালী পরিষ্কার করে আমাদের হার্ট ভালো রাখে।

পানি

জল চিকিৎসা নামে একটি চিকিৎসা পদ্ধতি জাপানী মেডিকেল বোর্ড খুঁজে বের করেছে যা শতভাগ সুস্থতা প্রদানে সক্ষম বলে দাবি করেন তারা।
সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে চার গ্লাস পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। প্রথম দিকে এটা অনেক বেশি মনে হলেও কিছুদিন এভাবে পানি পান করলে বিষয়টি সহজেই আয়ত্ত হয়ে যায় এবং উপকারও টের পাওয়া যায়। পানি খাওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আর অন্য কিছু মুখে না দেওয়াই ভালো। এ উপায়ের কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং এটি পরিপাক ক্রিয়ার জন্য খুবই উপকারী। গবেষকেরা বলেছেন, সকালে খালি পেটে পানি কেবল পাকস্থলী পরিষ্কারই নয়,  শরীরের  বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি থেকেও বাঁচাতে সাহায্য করে।

শাকসবজি ও ফলমূল

 

হার্ট
শাকসবজি হবে আপনার প্রতিদিনের খাদ্য।

সবজি- শিম,  বরবটি, পিয়াজপাতা, পুঁইশাক, মানকচু, কচুরলতি, রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এগুলো রাখতে পারেন ওষুধ বিবেচনায়ও। মৌসুমি শাকসবজি কিনতে তেমন খরচও হয়না এবং এগুলোতে কীটনাশক কম থাকে।

পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার- প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ক্রমাগতভাবে যুক্ত করতে থাকুন পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণ। এ ক্ষেত্রে কলা এবং মিষ্টি আলুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা।

সবুজ বাহারি সালাদ- খাবারে যদি সবুজ সালাদ থাকে তাহলে আপনার রসনা তৃপ্তির পাশাপাশি হার্টও খুশি থাকবে। তাই বেশি বেশি যুক্ত থাকুন ভিনেগার, জলপাইয়ের তেল কিংবা লেবুর শরবতের সঙ্গে।

আপেল- হার্টের জন্য আপেলকে কার্যকারী ওষুধ বলা যায়। তা ছাড়া কোলেস্টেরলের মাত্রা কম রাখতে আপেল যথেষ্ট উপকারী। যারা প্রতিদিন দুটো আপেল খায়, তাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা অন্যদের থেকে কম থাকে।

হার্ট
প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না।

 

কিছু মজার তথ্য

ডিমের প্রতি ভালোবাসা- যাঁরা বলছেন, বেশি বেশি ডিম খেলে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ে তাঁদের জন্য দুঃসংবাদ। কেননা ব্রাজিলীয়ান গবেষকরা জানিয়েছেন, ডিমের কুসুমে থাকা ভিটামিন ই, বি-১২ এবং ফলেট করোনারি আর্টারিকে পরিষ্কার রাখে। তবে কেউ যদি দিনে চারটি করে ডিম খেতে থাকেন,  তবে তাঁকে এসব গবেষণার কথা ভুলে যেতে হবে।

হার্ট
ডিম খেলে অনেকক্ষণ ক্ষুধা লাগেনা।

অবসাদ কে দিন বিদায়- কোনোভাবেই কাজের ক্লান্তিকে আপনার ওপর চেপে বসতে দেবেন না। এ জন্য মাঝেমধ্যেই অবসাদ দূর করতে আপনার পছন্দকে গুরুত্ব দিন। সুইজারল্যান্ডের এক গবেষণা জানিয়েছে, অবসাদ দূর করার তৎপরতা হৃদযন্ত্রের সংকট কাটায় ৫৭ শতাংশের কাছাকাছি।

বালিশে মাথা রাখুন সময়মতো যাদের অনিদ্রা নামক রাজরোগ আছে,  তারা অন্যদের চেয়ে ৪৫ শতাংশ বেশি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ঘুমের জন্য প্রতিদিন বেশি বেশি শারীরিক পরিশ্রম করার আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

অধিক ঘুম কে বলুন “না”- এমনকি যারা বেশি বেশি ঘুমকাতুরে তাদেরও সাবধান করে দিয়েছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, দিনে ১০ ঘণ্টা কিংবা তার বেশি সময় যাদের ঘুমে কাটে তাদের স্থূলতার পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকে, কমতে থাকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। সুতরাং অধিক ঘুম কে না।

হার্ট
অধিক ঘুম হার্টকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

পান করুন গরুর দুধ গরুর দুধে থাকা লো ফ্যাট হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াবিরোধী কম ঘনত্বসম্পন্ন লিপ্রোপ্রোটিনের হার কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দুধে থাকা ক্যালসিয়াম শরীরে জমে থাকা পুরু চর্বির স্তর কাটতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু দুধচা খাবেন না। বিশেষ করে ভাত খাওয়ার পর দুধচা খাওয়াকে একদম নিষেধ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

হার্ট
সপ্তাহে তিন দিন ননি বিহীন দুধ খাওয়ার অভ্যাস করেন।

গান গাইতেই হবে- হৃৎপিণ্ড ভালো রাখতে গলা ছেড়ে গান গাইতেও উৎসাহিত করেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, দলবদ্ধ সংগীত কিংবা কারাওকে হাসিখুশি রাখে হৃদযন্ত্রকে।

হাসিখুশি থাকতে হবে- হাসিখুশি আর প্রাণবন্ত মুখাবয়ব শুধু স্টাইল বা ফ্যাশন আইকনই আপনাকে করে তুলবে না, বাড়িয়ে দেবে আপনার নীরোগ থাকার প্রবণতাও। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রাণবন্ত উপস্থিতি আপনার অবসাদ ও অভ্যন্তরীণ প্রদাহকে ছুটি দিয়ে দেবে এবং অলিন্দ ও নিলয়ের প্রকোষ্ঠকে সুঠাম রাখবে।

হার্ট
হাসি খুশি থাকলে কোন রোগই দেহে বাসা বাঁধতে পারবে না।

এখন সেই সারপ্রাইজ এর পালা।

এটা এমন একটা রেসিপি যা খুব সহজে ঘরে বসে তৈরি করা যায়। এটি একটি মহা ঔষধ। গবেষণায় দেখা গেছে যারা প্রতিদিন এটি পান করে তাদের হার্ট অ্যাটাক এর ঝুঁকি ৯৭% কম।

সারপ্রাইজ রেসিপি

উপাদান

১। আদা

২। রসুন

৩। আপেল সিডার ভিনেগার(সুপারসপ গুলোতে পাবেন)

৪। লেবু

৫। মধু

প্রণালী

মধু ছাড়া বাকি সবগুলো উপাদানের রস বের করতে হবে। আদা, রসুন, লেবু ও আপেল সিডার ভিনেগার সম পরিমাণ নিতে হবে। এখন একটি পাত্রে সব মিশিয়ে (মধু ছাড়া) চুলায় বসিয়ে দিন। মৃদু আঁচে হাল্কা করে জ্বাল দিন। ২০ মিনিট পর নামিয়ে ফেলুন। এটা কিছুটা হলুদাভ বর্ণ ধারণ করবে। চুলা থেকে নামিয়ে মধু মিশিয়ে নিন (যে পরিমাণ আদা, রসুন, লেবু ও আপেল সিডার ভিনেগার নিয়েছেন মধুও সেই পরিমাণ নিতে হবে)। তারপর ঠাণ্ডা করে সংরক্ষণ করুন ফ্রিজে। আপনি এটি ফ্রিজে ১-২ মাস সংরক্ষণ করতে পারবেন।

খাবারের নিয়ম

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১ টেবিল চামচ ও রাতে ঘুমানোর আগে ১ টেবিল চামচ করে খাবেন। আর ভালো ফলাফল পেতে দুপুরেও খেতে পারেন।

সবাই হৃদয়ের প্রতি যত্নবান হন। যত্নশীল নাহলে হার্ট অ্যাটাকের মত দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

 

 

 

 

 

 

 

মজার কিছু খেলে কিভাবে কমবে স্বাস্থ্য?

গরুর মাংস

প্রশ্নটা প্রায় সবার, মজার খাবার খেয়ে কীভাবে কমানো যায় স্বাস্থ্য?

এই আর্টিকেলটি তাদের জন্য। স্বাস্থ্য বেড়ে গেলে আমাদের আয়নার সামনে যেতে ইচ্ছে করে না। কোন কিছু করতে ইচ্ছে করে না। সব কিছুতে বিরক্ত লাগে। তারপর আমরা বিভিন্ন ধরনের অখাদ্য খাবার খেতে শুরু করি। যা খেতেও ভালো না এবং শরীরে ক্ষতি করবে। আবার মুখরোচক খাবার ও খাওয়া যাবে না ডায়েট নষ্ট হয়ে যাবার ভয়ে। কি করা যায়??

আজকের বিষয়টা হল কিছু মজাদার খাবার, যা খেতে যেমন মজাদার, তেমন যত খাবেন তত কমবে ওজন।

যে গরু শুধু ঘাস খায় সেই গরুর মাংস

নিউট্রিশন জার্নালের গবেষণায় এসেছে যে ঘাস খাওয়া গরুর মাংসে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ অনেক বেশি যা আমাদের হৃদপিণ্ডের সমস্যা থেকে রক্ষা করে থাকে। ঘাস খাওয়ানো গরুর মাংসে স্বাভাবিক ভাবেই ক্যালরি কম থাকে অন্যান্য মাংসের তুলনায়। কারণ একটি সাধারণ গরুর মাংসের টুকরায় ৩৮৬ ক্যালরি থাকে এবং ফ্যাট থাকে ১৬ গ্রাম ও একটি ঘাস খাওয়ানো গরুর মাংসের টুকরায় ২৩৪ ক্যালরি ও ফ্যাট থাকে মাত্র ৫ গ্রাম।

নাপাতি

মজার খাবার
নাশপাতির নানা গুন

আমারা অনেকে হয়তো এটা জানি না নাশপাতি খেলে ওজন কমে। বাংলার একটি পরিচিত সুস্বাদু ফল। এটি খেলে খুদা কম লাগে। এবং পেটের মেদ দ্রুত কাটে। এটি বিদেশী ফল আপেলের চেয়ে দ্বিগুণ ভিটামিন সি ও প্রোটিন সম্পন্ন। নাশপাতি পার্বত্য এলাকায় একটি নতুন সম্ভাবনাময় ফল হিসেবে কৃষকের মাঝে পরিচিতি পেয়েছে।

ডিম

মজার খাবার
ডিম খান প্রতিদিন

ছোট্ট একটা ডিম হাজারও ভিটামিনে ভরা। আপনি যা খাচ্ছেন সেই খাবারকে এনার্জি বা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে ডিমে থাকা ভিটামিন বি-১২। ডিমের সবচেয়ে বড় গুণ এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। ব্রেকফাস্টে রোজ একটি ডিম মানে সারা দিন আপনার ক্ষুধা কম হবে তাই খাওয়া হবে কম। গবেষণায় দেখা যায়, শরীর থেকে দিনে প্রায় ৪০০ ক্যালরি কমাতে পারে সকালে একটি ডিম খাওয়া। তার মানে মাসে ওজন কমার পরিমাণ প্রায় তিন পাউন্ড। সমীক্ষা বলছে, ৬৫ ভাগ বডি ওয়েট, ১৬ ভাগ বডি ফ্যাট, ৩৪ ভাগ কোমরে জমে থাকা মেদের পরিমাণ কমাতে পারে ডিম! নতুন সমীক্ষায় জানা গেছে, ডিম কোলেস্টেরল বাড়ায় না। দিনে দুটি ডিম শরীরের লিপিড প্রোফাইলে কোনো প্রভাব ফেলে না। বরং ডিম রক্তে লোহিতকণিকা তৈরি করে। ডিম প্রোটিনের খুব ভালো একটি উৎস। শরীরের জন্যও বেশ ভালো। ডায়েট যারা করেন তারা একটি ডিম রাখুন সকালের নাস্তায়। পুরো দিনে শরীরে কাজ করার  ক্ষমতা পাবেন। পাশাপাশি ওজন কমাতে পারবেন।

 

কালো বা ডার্ক চকলেট

মজার খাবার
ওজন কমাতে সহায়তা করে কালো চকলেট

চকলেট প্রেমীদের জন্য সুখবর আপনার পেটের মেদ কমাবে ডার্ক চকলেট। একটি গবেষণায় এসেছে যে কোন ব্যক্তি যদি ভারী কোন খাবার খাওয়ার আগে ৩.৫ গ্রাম ডার্ক চকলেট খেয়ে থাকেন এবং ঠিক একই সময়ে যদি কেউ মিল্ক চকলেট খেয়ে থাকে তাহলে যেই ব্যক্তি ভোজনের আগে ডার্ক চকলেট খেয়েছে তার ১৭ ক্যালরি খরচ হয়েছে। কারন গবেষণা বিশ্বাস করে যে ডার্ক চকলেটে আছে পিউর কোকো বাটার ও স্টিয়ারিক এসিড যা হজম গতি বৃদ্ধি করে। অন্য দিকে মিল্ক চকলেটে আছে ফ্যাট বাটার যা খুব দ্রুত ওজন বাড়িয়ে দেয়। আর ডার্ক চকলেট আমাদের ক্ষুধা নিবারণ করে ও দেহের ওজন কমাতে সাহায্য করে।

কাঠবাদাম

মজার খাবার
বাদাম মস্তিষ্ক বিকাশে সহায়তা করে

প্রতিদিন নিয়ম করে কাঠবাদাম খেতে পারলে ভালো কোলেস্টেরল অথবা এইচডিএল-এর (হাই ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন) মাত্রা বাড়াতে এবং খারাপ কোলেস্টেরল অথবা এলডিএল-এর (লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন) মাত্রা কম রাখতে সাহায্য করে। কাঠবাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

ডাক্তাররা শরীরের সুস্থতার পাশাপাশি দেহের চর্বি নিয়ন্ত্রণে কাঠবাদাম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে লবণাক্ত কাঠবাদাম এড়িয়ে চলুন।

মোনোপেজের পর নারীদের নিয়মিত কাঠবাদাম খাওয়া উচিত। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম যা মোনোপেজকালীন সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

আপেল

মজার খাবার
প্রতিদিন একটি আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না

আপেল খুবই পুষ্টিগুণে ভরপুর। আপেল খেলে খাদ্যের চাহিদার সাথে ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হয়। ফলে মেদ জমে না এবং স্বাস্থ্য সঠিক থাকে। আর প্রতিদিন গড়ে ৩টি আপেল খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব সহজ হয়। আপেলের শর্করা শক্তির উৎস। এই শর্করা খাদ্যনালীতে ধীরে-ধীরে ভেঙ্গে হজম হয় বলে শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে। প্রতিদিন আপেল খেলে হজমের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরী হয় পেটে। ফলে হজম শক্তি বাড়ে। যখন হুটহাট ক্ষুধা লাগে তখন অনেকেই অস্বাস্থ্যকর হাবিজাবি খাবার খান যা শরীরের জন্য ভালো না এবং ওজনও বাড়িয়ে তোলে। সুতরাং মুটিয়ে যাওয়া দূর করতে একটি আপেল রাখুন সাথে।

টমেটো

মজার খাবার
টমেটো খেলে আপনার ত্বকের সব সমস্যা দূর হবে

যাদের স্থুলতা নিয়ে চিন্তা, তারা এই প্রাকৃতিক খাদ্য গ্রহণ করতে পারেন। প্রতিদিনের প্রচুর পরিমাণে টমেটো আমাদের দেহের অতিরিক্ত চর্বি দূর করে এবং দেহে অতিরিক্ত মেদ জমতে দেয় না। যাদের উচ্চরক্তচাপের সমস্যা আছে, তাদের জন্য টমেটো অনেক বেশি ফলদায়ক। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, প্রতিদিন ২৫ গ্রাম টমেটো খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করাটা অনেক বেশি সহজ হয়ে যায়। পুরুষদের জন্য ২৫ গ্রাম এবং নারীদের জন্য ৩৫ গ্রাম টমেটো ফলপ্রসূ। চমৎকার ভাবে দেহের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে এই টমেটো।

মুগ ডাল

মজার খাবার
মুগ ডাল খেলেও ওজন কমে

মুগ ডালে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় ক্ষুধা কম লাগে। আর কম খেলে এমনিতেই ওজন কমে আসে। এছাড়া খাবারটিতে কম চর্বি এবং উচ্চ মাত্রার প্রোটিন থাকায় তা মাংসপেশীকেও চর্বিমুক্ত রাখে।

সামুদ্রিক মাছ

মজার খাবার
সামুদ্রিক মাছের তেল হার্ট ভালো থাকে

সামুদ্রিক মাছে থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এই অ্যাসিড মেদ বৃদ্ধিতে দায়ী চর্বি পোড়াতে এবং শরীরে ভালো চর্বির পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। সামুদ্রিক মাছ থেকে যে ফ্যাট পাওয়া যায় তার নাম ‘পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট’। বাদাম ও জলপাই তেলের মতো সামুদ্রিক মাছের ফ্যাটও ওজন হ্রাসে ভূমিকা রাখে।

মধু লেবু

মজার খাবার
মধু লেবু আপনার শরীরের টক্সিন বের করে দেয়

ওজন কমাতে দুটি প্রাকৃতিক উপাদান লেবু ও মধুর সম্পর্কে অনেকেই জানেন। ওজন কমানো ছাড়াও লেবু ও মধুর অনেক গুণাগুণ আছে। এটি শরীর থেকে টক্সিন বের করে। শরীরের ভেতরের নালীগুলোর সব ময়লা বের করে দেয়। মেটাবলিজম/হজম শক্তি বাড়ায়, ফলে ওজন কমে। ঠাণ্ডা লাগলে লেবু ও মধুর কফ বের করতে সাহায্য করে এবং ঠাণ্ডা লাগলে গলাব্যথা করলেও এটি উপকারী । এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

মধু

মজার খাবার
মধু মিষ্টি হলেও আপনার ক্ষতি করবে না

ওজন কমাতে মধুর উপকারিতা সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিন সকালে গরম পানির সাথে মধু মিশিয়ে কিছুদিন খেয়েই দেখুন, এর উপকারিতা নিজেই বুঝতে পারবেন।

কাঁচা মরিচ

মজার খাবার
কাঁচা মরিছ আপনার প্রতিদিনের ভিতামিন-সি এর অভাব দূর করবে

কাঁচা মরিচ মেটাবলিজম বাড়িয়ে ক্যালোরি পোড়াতে সহায়তা করে। ফলে নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। কাঁচা মরিচে অবস্থিত ক্যাপসাইসিন খাদ্যে থাকা উচ্চমাত্রার চর্বি শুষে নিয়ে শরীরে মেদ রোধ করতে সাহায্য করে। চর্বি জাতীয় খাবারের সঙ্গে কাঁচা মরিচ খেলে মোটা হওয়ার কোনা ভয় থাকে না। কারণ কাঁচা মরিচ খাদ্যের সঙ্গে থাকা চর্বিকে ধ্বংস করে। ফলে স্লিম থাকা যায়।

শেষের খাবারটা হয়তো কমবেশি সবাই খান তাই দিলাম।

আশা করি যারা খুব সহজ পদ্ধতিতে ওজন কমাতে চান তাদের উপকারে আসবে।

 

 

 

 

 

ওজন কমাতে চাইলে নিয়মগুলো মেনে চলুন

খাবার

কম খাচ্ছেন, পরিশ্রমও করছেন? কিন্তু ওজন কোনভাবে কমছে না। এই সমস্যাটি অনেক পরিচিত আমাদের কাছে। আপনারা যারা ওজন কমাতে উদগ্রীব হয়ে আছেন এবং অনেক বেশী হতাশায় ভুগছেন তাদের জন্য আজকে রয়েছে বৈজ্ঞানিক প্রমাণিত ওজন কমানোর পদ্ধতি সমূহ।

পানি পান করুন

পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ কাজ পানি পান করা। বাসার যে জায়গাটাতে আপনি থাকেন অথবা অফিস এর যেখানে আপনার বসতে হয় তার সাথেই পানির জগ অথবা বোতল রেখে দিন। শুধু ওজন কমানো নয় সুস্থ থাকার জন্য পানির বিকল্প নেই। সাধারণত বলা হয় ২ লিটার পানি পান করার কথা। কিন্তু আপনি যদি ৩ লিটার খান তবে জলদি উপকার পেতে শুরু করবেন। খাবারের আধাঘণ্টা আগে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিবেন। এখন থেকে মনে করবেন পানি একটি ঔষুধ। শরীরের সকল ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে দেয় পানি।

কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলুন

ভাত, রুটি, আলু এগুলো কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার। যতটুকু পারেন কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলুন। কার্বোহাইড্রেট আপনার শরীরে মেদ বাড়িয়ে দেবে। আর কার্বোহাইড্রেট থেকে যে মেদ শরীরে জমা হয় তা সহজে ঝরানো যায় না। সুতরাং যারা বলেন ভাত ছাড়া আমার চলে না তারা ভাতকে ভালোবাসা বন্ধ করে দিন। আপনাকে একবারে বাদ দিতে বলছি না। দুপুরে শুধু এক কাপ ভাত খেতে পারবেন।

প্রোটিন গ্রহণ করুন

কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে প্রোটিন এর পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। প্রোটিন আপনার ক্ষুধা কমিয়ে দেবে। অন্যদিকে আপনি ভালো পরিমাণের পুষ্টিও পাবেন। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় প্রোটিন থাকা আবশ্যক। প্রোটিন বললে আমাদের চোখের সামনে শুধু মাংস আর মাছ ভাসে। মাছ-মাংস ছাড়াও ভালো প্রোটিনের উৎস আছে এমন কিছু খাবার হল- যেকোনো ধরনের ডাল, কুমড়োর বিচি, কাঠবাদাম, ডিম ইত্যাদি। তবে ডিমের কুসুম এড়িয়ে চলাই ভালো।

শরীরচর্চা করুন

শরীরচর্চা
শরীরচর্চা করলে মন ভালো থাকে

শরীরের অপ্রয়োজনীয় মেদ বা ক্যালরি কমাতে শরীরচর্চা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরি। এটি আপনাকে ওজন নিয়ন্ত্রণের সাথে সুস্থ্যতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। জিমের সরঞ্জাম না থাকলে নিয়মিত ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করতে পারেন। শরীরচর্চা শুধু শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে তা না, এর ফলে আপনার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আর একটা জিনিস অবশ্যই মনে রাখবেন, ঘাম না ঝরলে সেই শরীরচর্চাতে আপনার কোন ক্যালরি খরচ হবে না।

দই খান

বাজারে যে দই পাওয়া যায় সেই দই না। বাসায় দই বানানোর চেষ্টা করুন। দই বানানোর সময় চিনি দিবেন না। এই খাবারটি আপনার রক্তে সুগারের পরিমাণ কমিয়ে দেয় এবং সাথে সাথে আপনার শরীর ঠাণ্ডা রাখে।

ক্যালরি পরিমাপ করে খান

যখন আপনি খাদ্য গ্রহণ করবেন তখন ক্যালরি হিসাব করে খাবেন। ওজন কমানোর সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি হল যতটুকু খাবেন তার থেকে বেশী ব্যায়াম করবেন। সুতরাং খাওয়ার সময় অবশ্যই হিসাব করবেন।

বসে থাকবেন না

অনেকক্ষণ একটানা বসে থাকবেন না। শরীরকে কোন না কোন কাজে নিয়জিত রাখুন। এক কথায় সবসময় ক্যালরি খরচ করতে হবে।

চিনিকে না বলুন

এক গবেষণায় আমেরিকার একদল বিজ্ঞানী বলেছেন চিনি হল ‘হোয়াইট পয়জন’। বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘সাদা বিষ’। চিনি বর্জন করুন। যাদের অতিরিক্ত মেদ আছে তাদের জন্য চিনি অনেক ক্ষতিকর। তবে মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করলে তা অবশ্যই পাপ নয়। যেদিন কোন মিষ্টিজাতীয় জিনিস খাবেন সেদিন বেশী করে ব্যায়াম করে ফেলবেন। আর চিনির পরিবর্তে মধু এবং জিরো ক্যাল খেতে পারেন। তাছাড়া মিষ্টি ফল গুলো খেলে তেমন কোন ক্ষতি হবে না আশা করি।

জুস খাবেন না

ওজন কমানোর মহাযুদ্ধে যে যোদ্ধারা আছেন তারা হয়তো ভাবছেন জুস তো আপনারা বাড়িতে তৈরি করে খান, বাইরের জুস খাওয়ার প্রশ্নই আসেনা। কিন্তু যারা বাড়িতে জুস তৈরি করে খান তারাও ভুল করেন। কোন ফল অথবা সবজি কখনই জুস করে খাবেন না। জুস করে খেলে আপনারা অনেকে ছেকে খান। যারা জুস ছেকে না খান তারাও ভুল করেন। সেটা হল সবজি ও ফল চিবিয়ে খেলে আপনার ফেসিয়াল ব্যায়াম হবে এবং দাঁত ভালো থাকবে।

লেবু পানি

লেবু পানি
লেবু পানি আপনাকে সতেজ করবে

লেবু পানি অনেক ওজন কমাতে পারে। আপনি তিন দিনের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারবেন। আপনার শরীর ফুরফুরে আর হালকা লাগতে শুরু করবে। শরীরের সকল টক্সিন দূর করে দেয় এই লেবু পানি। আপনার ত্বক ভালো রাখবে। সবচেয়ে উপকার হবে যদি কুসুম গরম পানির সাথে খান। খাওয়ার এক মাস পর ওজন মেপে দেখতে পারেন এটা কতো টুকু উপকারী। যারা সাধারণ ওজনের তারাও খেতে পারেন। তবে বেশী খাবেন না।

ডায়েট করার সময় ভুলে যাবেন না আপনার শরীর একটি ইঞ্জিন। আর ইঞ্জিনের চলতে হলে তেল লাগে। ঠিক মতো তেল না দিলে মাঝপথে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাবে। সুতরাং অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে খাবেন। তিন বেলা ঠিক মতো খেলে এবং ব্যায়াম করলে ওজন বৃদ্ধি পায় না। সুস্থ থাকার জন্যও আপনি উপরোক্ত নিয়মগুলো মেনে চলতে পারেন।

 

 

 

 

খান দেশী ফল, বাড়ান দেহের বল

পেয়ারা

দেহের পুষ্টি ঘাটতি পূরণে ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। ফল খেতে কে না পছন্দ করে। ছোট শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ আর অসুস্থ্য রোগী সবার জন্য ফল হচ্ছে মহৌষধ। ভিটামিন, পুষ্টি উপাদান, খনিজ লবণ, খাদ্য শক্তি ইত্যাদি সবচেয়ে বেশী ফল থেকে পাওয়া যা আমাদের কে শারীরিক ভাবে সুস্থ্য রাখতে সহায়তা করে। দেশীয় ফল সকল শ্রেণীর মানুষের হাতের নাগালে।
নিচে কয়েকটি দেশীয় ফলের নাম ও গুনাগুণ বর্ণনা করা হলো –

পেয়ারা

পেয়ারা একটি সহজলভ্য ফল। সাধারণ এই ফলকে আমরা অবহেলা করি। কিন্তু এর গুনাগুন উপকারিতা জানার পর আপনি আপনার ভুল বুঝতে পারবেন এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি।

পুষ্টিগুণ

পেয়ারা একটি ভিটামিন-সি আর ময়েশ্চারসমৃদ্ধ ফল। এর উচ্চমাত্রার ভিটামিন-এ ও ‘সি’ ত্বক, চুল ও চোখের পুষ্টি জোগায়, ঠান্ডাজনিত অসুখ দূর করে।

রোগ প্রতিরোধে পেয়ারার ভূমিকা

ডায়াবেটিকের ঝুঁকি হতে রক্ষা করে, চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে, রক্তচাপ কমায়, ট্রেস উপাদান কপার সমৃদ্ধ, ম্যাঙ্গানিজের ঐশ্বর্য, স্নায়বিক আরাম, রক্ত পরিষ্কার করে, ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ প্রতিরোধ করে, পাকস্থলীর স্বাস্থ্য ভালো রাখে, ওজন কমায়, চুল ভালো রাখে। পেয়ারায় রয়েছে ক্যারটিনয়েড, পলিফেনল, লিউকোসায়ানিডিন ও অ্যামরিটোসাইড নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ক্ষতস্থান শুকানোর জন্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

আম
এই ফলটির নাম শোনার পর জিহ্বায় পানি আসে না এমন মানুষ খুবী কম আছে। আর স্বাদের কথা নাই বা বললাম। অনেকে আম কে জাতীয় ফল হিসেবে ধরে। মধুময় ফলটি শুধু মাত্র স্বাদে নয় গুনেও অনেক ভরপুর।

আম
পাকা আমে ভিটামিন ‘এ’ থাকে

পুষ্টিগুণ
পাকা আমে ভিটামিন ‘এ’ থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম আমের ১০০০-১৫০০ আইইউ ভিটামিন ‘এ’ থাকে। আর ভিটামিন ‘এ’ অভাবে চোখের নানা রোগ, অন্ধত্ব, খসখসে চামড়া, হজমে সমস্যা, চুলপড়া ইত্যাদি দেখা দেয়। এছাড়াও ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, খনিজ লবণ, প্রচুর খাদ্য শক্তি এবং ক্যলসিয়াম এসব প্রচুর পরিমাণে আম থেকে পাওয়ায় যায়।
রোগ প্রতিরোধে আম
আমে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস যা আমাদের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও স্তন, লিউকেমিয়া ও কোলন সহ প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে থাকে। আমে অনেক বেশী এনজাইম পাওয়া যায়। আমরা অনেকে জানি আম ওজন বাড়াতে সাহায্য করে আর ওজন বাড়াতে বেশী আম খেতে হবে। তবে সবচেয়ে লক্ষণীয় ব্যাপার হলো আম খেলে ওজন বাড়লেও কোলেস্টোরল কমে যায়। আমে আছে অনেক বেশী ভিটামিন ‘সি’, ফাইবার ও ফলের শাঁস যা রক্তে বিদ্যমান খারাপ কোলেস্টোরল এর মাত্রা কমিয়ে দেয়। আম ত্বকের জন্য অনেক বেশী উপকারী। ত্বককে ভিতর ও বাহির থেকে সুন্দর রাখে, ত্বকের লোমের গোড়া পরিষ্কার রাখে যা ব্রন থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সহায়তা করে। আম দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। রাত কানা রোগ থেকে রক্ষা করে। হজমেও আমের ভূমিকা অনেক বেশী। আম শুধু স্বাদের দিক থেকে সুস্বাদু নয়, আম স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী।
কাঁঠাল
কাঁঠাল হচ্ছে আমাদের জাতীয় ফল কিন্তু এ সুস্বাদু ফলের গুনাগুণ সম্পর্কে আমরা অনেকে অবগত নই।

কাঁঠাল
বহুগুণে গুণান্বিত কাঁঠাল

পুষ্টিগুণ

পাকা কাঁঠালের প্রতি ১০০ গ্রামে ৯০ কিলোক্যালরি ও খনিজ লবণের পরিমাণ প্রায় ০.৯। পাকা কাঁঠালের তুলনায় কাঁচা কাঁঠালে ফাইবারের পরিমাণ অনেক গুন বেশী। তাই কাঁচা কাঁঠাল ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য খুব উপকারী। রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কাঁচা কাঁঠাল বেশ কার্যকরি। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে রয়েছে আমিষ ১ গ্রাম, চর্বি ০.৩ মিলিগ্রাম, শর্করা ২৪ গ্রাম, খাদ্য আঁশ ২ গ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ৩৭ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৩০৩ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৪ মিলিগ্রাম, ম্যাঙ্গানিজ ০.১৯৭ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ২৯৭ আই ইউ, ভিটামিন সি ৬.৭ মিলিগ্রাম, থায়ামিন ০.০৩ মিলিগ্রাম, ভিটা বি২ ০.১১ মিলিগ্রাম, ভিটা বি৩ ০.৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি৬ ০.১০৮ মিলিগ্রাম।

রোগ প্রতিরোধে কাঁঠাল
মানব দেহে কাঁঠাল খুব উপকারি এতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, আমিষ ও ভিটামিন রয়েছে। এ ফলে চর্বির পরিমাণ কম থাকে। এতে পটাশিয়াম রয়েছে যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। কাঁঠালে আছে ফাইটোনিউট্রীয়েন্টস যা ক্যান্সার, আলসার এবং বার্ধ্যক্য প্রতিরোধ করে। কাঁঠালে বিদ্যমান শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মানুষের দেহকে ক্ষতিকর ফ্রির‍্যাডিকেলস সুরক্ষিত রাখে। সর্দি-কাশি সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা করে, টেনশন ও নার্ভাসনেস কমায়।

তরমুজ
তরমুজ এ নামটি শুনলেই যেনো তৃষ্ণার্ত হয়ে যাই আমরা। গরমে শরীর কে ঠাণ্ডা রাখতে তরমুজের ভূমিকা অনেক। আমাদের শরীরের জন্য তরমুজের উপকারিতা অনেক বেশী।

পানি
তরমুজের ৯২ ভাগ পানি

পুষ্টিগুণ
প্রায় ৯২ ভাগ পানি রয়েছে এতে। এ জন্য তরমুজ খেলে পানির পিপাসা মিটে যায়। প্রতি দুই কাপ তরমুজ খেলে দেহে ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি-র ঘাটতি পূরণ হয়। তরমুজে ভিটামিন বি৬, ভিটামিন১ থাকে যা এনার্জি তৈরিতে সহায়তা করে।
রোগ প্রতিরোধে তরমুজ
তরমুজে ভিটামিন এ আছে যা ত্বক উজ্জ্বল করে এবং ত্বককে ইনফেকশন থেকে রক্ষা করে। কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায়। তরমুজের সবুজ খোসা এবং লাল অংশ উভয়ই ক্যান্সার রোগীদের জন্য খুব উপকারী। তরমুজ অ্যাজমা, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, হজমে সহায়তা করে এবং কিডনির কার্য ক্ষমতা বজায় রাখে।

পেঁপে
আরেকটা মজাদার আর খুব সুস্বাদু ফল হচ্ছে পেঁপে। পেঁপের আরেক নাম হলো ‘’পাওয়ার ফ্রুট’’। এতে আছে অনেক রোগের নিরাময় ক্ষমতা।

পেঁপে
পাকা পেঁপে ত্বকে লাবণ্য ধরে রাখে

পুষ্টিগুণ
প্রতি ১০০ গ্রাম পেঁপেতে ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে ১১১০ ইউনিট। তাছাড়া এ ফলে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন বি ও সি, শর্করা, খনিজ লবণ এবং খাদ্য শক্তি। অন্তত পুষ্টিকর সবজি হিসেবে কাঁচা পেঁপের জুড়ি নেই। আপেলের চেয়ে ১৩ গুন বেশী ভিটামিন সি থাকে পেঁপেতে। পেঁপের মধ্যে বিদ্যমান সাদা আঠায় প্যাপেইন নামক এনজাইম আছে। এই এনজাইম প্রোটিন পরিপাকে সহায়তা করে।

রোগ প্রতিরোধে পেঁপে
পেঁপে তে লাইকোপিন রয়েছে। আর গবেষকদের মতে লাইকোপিন ক্যান্সার প্রতিরোধী। পেঁপে পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার করে হজমে সাহায্য করে। ফ্যাট ভাঙতে পেঁপে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। ওজন কমাতে পেঁপের জুড়ি মেলা ভার অনেক সাহায্য করে। প্রতিদিন এক বাটি সিদ্ধ পেঁপে আপনার ওজন অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে।

আনারস
বাংলাদেশে চার ধরনের আনারস চাষ করে যেমন- কুইন, হরিচরণ ভিটা, জায়েন্ট কিউ ও বারুইপুর। সিলেট, চট্রগ্রাম, কুমিল্লা ও ঘোড়াশালে এই চার জাতের চাষ সব চেয়ে বেশী হয়। বছরে দুইবার আনারস তোলা হয়ে থাকে। শীত কালের আনারস ছোট ও টক হয়। বর্ষা কালে আনারস বড় ও অনেক মিষ্টি হয়।

পুষ্টিগুণ
পুষ্টিগুণ হিসেব করলে বলতে হয় আনারস অতুলনীয়। আনারসে ক্যালসিয়াম,  ভিটামিন এ, বি, সি এবং আরো অনেক প্রকার পুষ্টি উপাদান আছে। প্রতি ১০০ গ্রাম আনারসে রয়েছে ০.৬ ভাগ প্রোটিন, শ্বেতসার ৬.২ গ্রাম, ভিটামিন সি ২১ মিলিগ্রাম, ০.০৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন ২, ০.০২ ফসফরাস, ০.১ ভাগ সহজ পাচ্য ফ্যাত, ০.৫ খনিজ পদার্থ, ১২.০ গ্রাম শর্করা, ক্যালসিয়াম ১৮ মিলিগ্রাম, লোফ ১.২ মিলি গ্রাম।

রোগ প্রতিরোধে আনারস এর ভূমিকা
খালি পেটে আনারস কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে। জ্বর বা জ্বর-জ্বর ভাব দূর করে। আনারসে রয়েছে ব্যথানাশক উপাদান। এ ফল শরীরের ব্যথা দূর করার জন্য খুবী উপকারী। আনারস রক্ত পরিষ্কার করে যা হৃদপিণ্ডকে কাজ করতে সহায়তা করে। এতে অনেক বেশী ভিটামিন সি থাকে যা জিহ্বা, তালু, দাঁত, মাড়ির অনেক অসুখ নিরাময় করে। আনারস খেলে ঠাণ্ডা লাগা, গলা ব্যথা, সাইনোসাইটিস জাতীয় রোগ গুলো কম হয়। আনারসে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ হাড় ও চুল কে অনেক বেশী শক্তিশালী করে। এ ফল জন্ডিস রোগের জন্য বেশ উপকারী। আনারসে ফ্যাট কম, ওজন কমাতে সাহায্য করে।