মসলা চা খেয়েছেন কখন? বাসায় চেষ্টা করে দেখুন

মসলা

দারজিলিং-এর মসলা চা সম্পর্কে শোনেনি এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম। কিন্তু খেয়েছেন কয়জন। তাই আপনাদের সামনে আজ হাজির করছি বিখ্যাত চায়ের রেসিপি। বলা হয়ে থাকে স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী এই পানীয়টি

মসলা চায়ের উপকরণ

দারুচিনি- ১ টুকরা

এলাচি- ৫ টি

লবঙ্গ- ৫ টি

কালো গোলমরিচ- ৩ টি

পানি- ৪০০ মিলি

আদা- ১/২ চা চামচ

কড়া চা পাতা- ২ টেবিল চামচ

দুধ- ২০০ মিলি

রাম(একধরণের পানীয়)- ৬ থেকে ৭ মিলি

মসলাচায়ের প্রণালী

ক) আদা ছাড়া সব মসলা এক সাথে গুড়া করুন।

খ) একটি পাত্রে পানি ফুটতে দিন। এখন ফুটন্ত পানিতে চা ও আদাসহ সব মসলাগুলো দিয়ে দিন। এভাবে ৬/৭ মিনিট রাখুন।

গ) দুধ আর রাম একসাথে যোগ করুন। এভাবে ১ মিনিট রাখুন।

ঘ) চা কাপে পরিবেশন করার পর উপরে হাল্কা গুড়া মসলাগুলো ছিটিয়ে দিন।

গরম গরম উপভোগ করুন।

উপকারিতা

মশলা চায়ে ব্যবহার্য সকল মশলাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন। শুধু গরম মশলার ব্যবহার যেন এক কাপ চা পানের উপকারিতা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। চায়ে ভেষজ বা মশলা ব্যবহারের ফলে এরা পরিপাকে সাহায্য করে।এতে অল্প মাত্রায় ক্যাফেইন থাকে বলে সাধারণ দুধ চা অপেক্ষা এই চা কম ক্ষতিকর। মৌসুমি সর্দি ও কাশি প্রতিরোধেও এই চা অত্যন্ত চমৎকার কাজ দেয়। মশলা চায়ে একই সঙ্গে হরেক রকম মশলার উপস্থিতি হতে পারে আপনার নানাবিধ সমস্যার সমাধান।
মশলা চা গরম বা ঠান্ডা অবস্থায় পান করা যেতে পারে। তবে গরম অবস্থায় পান করাই শ্রেয়। সুস্বাস্থ্যকর এই মশলা চা তৈরি করা বেশ সহজ। আসুন জেনে নেই অল্প সময়ে কিভাবে মশলা চা তৈরি করা যা।

জার্মানির বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ১৬ জন মহিলার উপর একটি গবেষনা করেন ।তাদের প্রত্যেককে একবার করে রঙ চা, দুধ চা এবং শুধু গরম পানি পান করতে দেয়া হয় এবং প্রতিবার-ই আল্ট্রাসাউন্ড পদ্ধতিতে তাদের রক্তনালীর প্রসারন মাপা হয়।এতে দেখা যায় যে, রঙ চা রক্তনালীর প্রসারন ঘটায় যা উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রনের জন্য অত্যন্ত জরুরী। চায়ের মধ্যে থাকা ক্যাটেচিন এর জন্য দায়ী। দুধের মধ্যে থাকা ক্যাসেইন নামক একটি পদার্থ চায়ের মধ্যে থাকা ক্যাটেচিন কে বাধাগ্রস্থ করে ফেলে। ফলে চায়ে দুধ মেশালে চায়ের রক্তনালী প্রসারনের ক্ষমতা একবারেই চলে যায়।রঙ চা উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রনে অত্যন্ত কার্যকরী কিন্তু দুধ চা নয়।চা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও দেহের জীবকোষের ক্ষয় রোধ করে। কিন্তু চায়ে দুধ মেশালে এর কিছু গুন কমে যেতে পারে।

ধনে পাতার ভাজা ভর্তা, মুখে পানি চলে আসবে

ভর্তা

বাঙালীজাতি খুব রসনা প্রিয় হয়ে থাকে। বাংলাদেশের খাবারের স্বাদ হরেক রকম। টক, ঝাল, মিষ্টি। বাংলাদেশে এখন শীতকাল চলছে। শীতকালে ভাতের সাথে সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয় ভর্তা। আর শীতকালে সুন্দর সবুজ ধনে পাতা পাওয়া যায়। বাসায় চেষ্টা করতে পারেন অনেক সহজ একটা রেসিপি। আপনাকে বেশি কষ্ট করতে হবে না।

উপকরণ:

ধনে পাতা- ২ আঁটি

কাঁচা মরিচ- ৫/৬ টি

পেঁয়াজ- ৭/৮ টি (পেঁয়াজের দাম বেশি বলে কম দেবেন না)

রসুন- ১ টি

লবণ- স্বাদ মতো

তেল- সয়াবিন/ সরিষা- ৩ টেবিল চামচ

প্রণালী:

কড়াইয়ে তেল গরম হতে দিন। তেল গরম হলে প্রথমেই পেঁয়াজ দিয়ে দিন। কারণ পেঁয়াজ ভাজতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগে। পেঁয়াজ অর্ধেক হয়ে এলে, রসুন দিয়ে দিন। এরপর পেঁয়াজ রসুন বাদামি রঙের হয়ে এলেই পানি ঝরিয়ে ধনে পাতা দিয়ে দিন। মরিচ ফালি করে ধনে পাতার সাথেই দিয়ে দিন। মরিচ যেন কাঁচা কাঁচা থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। ধনে পাতা সবুজ থাকতেই নামিয়ে ফেলুন।

আপনি যদি ভাবেন ব্লেন্ডারে দিয়ে করতে পারবেন এই ভর্তা তাহলে ভুল। সব কিছু ব্লেন্ডারে হয় না। যদি পাটায় বাঁটতে না পারেন তাহলে ছেচনি দিয়ে বাঁটতে পারেন। কষ্ট হলেও এভাবে ভর্তা বানালে অনেক মজা লাগবে। পাটায় বাঁটলে সবচেয়ে বেশি মজা লাগে।

এই ভর্তা রেসিপি আমার মার থেকে নেয়া। খুবই ভালো এবং স্বাস্থ্যকর একটি খাবার। শুধু ভাত নয়, পিঠা, রুটির সাথে খেতে পারেন এই ভর্তা।

ভর্তা সম্পর্কিত টিপস:

কখনই ভর্তা বানানোর সময় পানি দিবেন না। ভর্তায় পানি দিলে এর আসল ঘ্রাণ নষ্ট হয়ে যায়।

অনেকে বানানোর সুবিধার্থে পানি দিয়ে বানান। গ্রাম বাংলার মা-কাকিরা কিন্তু এভাবেই ভর্তা বানান। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

ভর্তা বানানো শেষ হলে আসুন জেনে নেই ধনে পাতার গুনাগুণ।

ধনে পাতার উপকারিতা:

কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে

দেহে এলডিএল নামক এক ধরনের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল থাকে, যা দেহের শিরা-উপশিরার দেয়ালে জমে হৃৎপিন্ডে রক্ত চলাচলে সমস্যা বাড়ায়। এর কারণে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ধনেপাতা এই ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয় ।

আবার দেহের জন্য ভালো বা উপকারি এক ধরনের কোলেস্টেরল, এইচডিএল-এর মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে শরীর সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে এই ধনেপাতা।

রক্ত উৎপন্ন করে

ধনে পাতায় আছে আয়রন। আর এই আয়রন আমাদের রক্ত তৈরি করতে সাহায্য করে। দেহে রক্তের ভারসম্য রাখতে ধনে পাতা খুব সহজ একটি উপকরণ।

ঠোঁটের যত্নে ধনে পাতা

প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসেবে ধনে পাতা দারুন ভূমিকা পালন করে। যাদের ঠোঁটে কালো দাগ আছে তারা রোজ রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ধনে পাতার রসের সাথে দুধের সর মিশিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে রাখলে, এক মাসেই লাগালে ঠোঁটের কালো দাগ দূর হবে আর ঠোঁট কোমল ও সুন্দর হবে।

দাঁতের যত্নে ধনে পাতা

ধনে পাতার রস দিয়ে দাঁত মাজলে মাড়ি মজবুত হয়। মাড়িও শক্ত করতে সাহায্য করে ধনেপাতা।

রক্ত পড়া বন্ধ করে ও মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়। সাধারণত গ্যাসট্রিকের সমস্যা থাকলে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ

ধনে পাতা কেবল সৌন্দর্য আর স্বাদ বাড়াতেই অনন্য নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী।

ধনে পাতা রক্তে চিনির পরিমাণ কমিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে।