শীতকালীন সহজলভ্য ও পুষ্টি সমৃদ্ধ ফল

শীতকালীন

দেখতে দেখতে শেষ হয়ে যাচ্ছে আরেকটি বছর। আমাদের দেশে বছরের শেষে শুরু হয় শীতকাল। শরীরকে সুস্থ রাখতে আমাদের নিয়মিত মৌসুমি ফল খাওয়া উচিৎ। এই শীতে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে নানান ধরণের ফল। জেনে নিন শীতকালীন কোন ফলে কি পুষ্টি গুণ আছে।

বড়ই

শীতের

বড়ই হচ্ছে শীতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফল। নানা ধরণের বড়ই পাওয়া যায়। এদের মধ্যে বাউকুল, কাসবড়ই, দেশি টকমিষ্টি বড়ই, আপেল কুল খুব জনপ্রিয়।

ফোঁড়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, হৃদরোগ, রক্ত আমাশয়, মাথাব্যথা ইত্যাদি সমস্যা সমাধান করতে পারে।

শীতকালীন ফল জলপাই

শীতের

শীতকালীন ফল জলপাই ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ। উচ্চরক্তচাপ, কোষ্ঠকাঠিন্য, কোলন ও পাকস্থলির ক্যানসার দূর করতে জলপাই এর ভূমিকা অপরিসীম। তাছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর জলপাইয়ে আরো রয়েছে ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন ‘ই’। এই ফলটি খুব স্বল্প মূল্যে পাওয়া যায়।

আপনি ইচ্ছে করলে মিষ্টি অথবা ঝাল আচার বানিয়ে সারা বছরের জন্য সংরক্ষণ করতে পারেন। এছাড়া ডিপ ফ্রিজে বরফ করে সংরক্ষণ করতে পারেন পরবর্তীতে খাওয়ার জন্য।

আমলকী

শীতের

হাইব্রিড আমলকীর ফলনের কারণে এখন আমরা সারা বছরই খেতে পারি এই ফলটি। মূলত আমলকী একটি শীতকালীন ফল। ভিটামিন ‘সি’-এর রাজা বলা হয় একে। ত্বক ও চুল সুরক্ষা, মাড়ি মজবুত করতে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে বড় ধরণের ভূমিকা পালন করে আমলকী। শীতকালে সবারই চুল পরা, চুলে খুশকি, চুল রুক্ষ এইসব নিয়ে নানান সমস্যা দেখা দেয়। এই সময় বেশি বেশি করে আমলকী খেলে এই ধরণের সমস্যাগুলো থেকে খুব জলদি মুক্তি পাওয়া যায়।

সফেদা

শীতের

সম্প্রতি নামকরা আর একটি ফল হচ্ছে সফেদা। শীতকালীন এই ফল আমাদের দেশে একসময় তেমন একটা পরিচিত ছিল না কিন্তু এখন এই ফলটি প্রিয় ফলের তালিকায় চলে এসেছে এর স্বাদ ও পুষ্টিগুনের কারণে। সফেদা ক্যান্সার প্রতিরোধক, কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণ, কিডনি সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যকর ত্বকের জন্য, কোলেস্টেরল ও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। সফেদায় রয়েছে- ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘বি কমপ্লেক্স’, পটাশিয়াম, কপার, আয়রন, ফাইবার। মিষ্টি এই ফল বাংলাদেশের সর্বত্র পাওয়া যায়।

কৎবেল

শীতের

ব্রণ ও মেছতায় কাঁচা কৎবেলের রস মুখে মাখলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। কৎবেল পাতার নির্যাস শ্বাসযন্ত্রের চিকিৎসায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। কৎবেলের পাতা দুধ এবং চিনি দিয়ে মিশিয়ে খাওয়ালে শিশুদের পেটের ব্যথার উপশম করে। এই ফল দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠবদ্ধতা ও আমাশা দূর করে। রক্ত পরিষ্কার, শক্তি বৃদ্ধি এবং রক্ত স্বল্পতা দূর করে।

কৎবেল মহিলাদের হরমোনের অভাব সংক্রান্ত সমস্যা দূর করে থাকে। এমনকি স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার নিরাময় করে থাকে।

ডালিম

শীতের

আপনি যদি উচ্চ রক্ত চাপে ভোগেন তাহলে ২ সপ্তাহ ডালিম খেয়ে দেখুন, আপনার রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়ে যাবে। হাড়ের সংযোগ স্থলের ব্যথা উপশম করে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং রক্ত পরিষ্কার করে। রক্তে কলেস্টরলের মাত্রা ঠিক রাখে যার দরুন হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়।

বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে ডালিম স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

শীতকালীন ফল কমলা

শীতের

শীতের কথা মনে করলেই অনেকের মাথায় প্রথমে যে ফলটি আসে তা হল কমলা। কমলা ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘বি কমপ্লেক্স’, ফাইবার ও মিনারেলে সমৃদ্ধ। কমলায় থাকা ভিটামিন সি যেমন আমাদের দাঁতের জন্য ভালো ঠিক তেমনি ত্বকের জন্য খুব দরকারি। আমরা অনেক টাকা খরচ করে বাজার থেকে কমলা সমৃদ্ধ কসমেটিক্স কিনি কিন্তু সেই টাকা দিয়ে কমলা কিনে খেলে কতটুকু উপকার পাব সেটা ভেবে দেখি না।

কমলার রস ত্বকে প্রয়োগ করলে ত্বক উজ্জলতা ফিরে পায় এবং ত্বকের লাবণ্য ঠিক থাকে। হৃদরোগীদের জন কমলা অনেক উপকারী।

Source

healthline.com

nutrition-and-you.com

medicalnewstoday.com

glassdoor.co.in

চিনি শরীরের জন্য কেন খারাপ?

চিনি

মিষ্টি জাতীয় খাবার আমাদের সকলের খুব প্রিয়। সব মিষ্টি খাবারের প্রধান উপাদান হল চিনি। প্রকারভেদে তার সাথে নানান কিছু যুক্ত থাকতে পারে। মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে মনও ভালো থাকে। এখন কথা হচ্ছে এই খাবার আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ভালো? আপনি কি জানেন গবেষকরা আমাদের খাদ্য তালিকার তিনটি জিনিসকে সাদা বিষ বলে আখ্যায়িত করেছেন? এর মধ্যে একটি হল চিনি অন্য দুটি হল ভাত এবং লবণ। আমাদের শরীরে চিনি কি ধরণের প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে আলোচনা করব।

চিনি ডিপ্রেশনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়

যেসব খাবার ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা বা হতাশাকে আরো খারাপ পর্যায়ে নিয়ে যায়, তাদের মধ্যে চিনি অন্যতম। অধিক মাত্রায় চিনি গ্রহণ গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি করে ও সংঘর্ষ সৃষ্টি করে, যার ফলে মেজাজ খারাপ হতে পারে। বিরক্তি, অস্থিরতা, অনিয়মিত ঘুম, বৃদ্ধি পেতে পারে।

চিনি আপনার জীবনের আয়ু কমাতে পারে

মাঝেমাঝে আমরা চকলেট, কোল্ড ড্রিঙ্কস খেয়ে থাকি। এ ধরণের খাদ্যগুলো স্বাস্থ্যের ওপর কি পরিমাণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে তা আপনি কল্পনা করতে পারবেন না। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান ফ্রান্সিসকোর একটি গবেষণায় পাওয়া গেছে, প্রতিদিন ২০ আউন্স সোডা পান করা কোষের বয়স ৪.৬ বছর বেড়ে যাওয়ার সমতুল্য, যা সিগারেট স্মোকিংয়ের প্রভাবের অনুরূপ। এই কোষ বয়স্কতার সঙ্গে মানুষের সংক্ষিপ্ত জীবনকালের সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং আমরা ধূমপানকারীদের মত সোডা পানকারীদেরও সতর্ক করব।

চিনি আপনাকে ক্ষুধার্ত রাখবে

আপনি যত চিনি গ্রহণ করবেন আপনার তত ক্ষুধা থাকবে। এক কথায় ক্ষুধা বাড়তে থাকবে। কারণ অতিরিক্ত চিনি লেপটিন প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করে আর এই লেপটিনই আমাদের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে। তাই অধিক চিনি খেলে ক্ষুধা বাড়তেই থাকে।

ওজন বৃদ্ধি করে

চিনি আমাদের ওজন বৃদ্ধি করে এটা তো সকলেই জানি। কিন্তু কি করে হয় এটা সেটা কি জানি? আমাদের শরীরকে চালানোর জন্য শর্করার প্রয়োজন হয়। চিনিতে যে খাদ্য উপাদান আছে তার বেশির ভাগই শর্করা। শরীর যখন কাজ করছে অথবা ব্যায়াম করছে তখন এই শর্করা আমাদের শক্তি দেয়। যতটুকু খরচ না হয় ততটুকু আমাদের শরীরে মেদ হয়ে জমা থাকে। আগেই বলেছি চিনি আপনাকে ক্ষুধার্ত রাখবে। সুতরাং দৈনিক খাদ্যের সাথে আমরা যখন চিনিও গ্রহণ করি তা আমাদের শরীরে জায়গা করে নেয়। ওজন কমাতে চাইলে আজই চিনি পরিহার করুন।

লিভারের কর্মক্ষমতা কমাতে পারে

অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার অভ্যাস লিভারকে বেশি কাজ করতে বাধ্য করে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন অতিরিক্ত কাজের ফলে লিভারের ফাংশনে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এতে লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।

ইনসুলিন নিঃসরণ বেড়ে যায়

অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের একটি তাৎক্ষণিক ফলাফল হচ্ছে ইনসুলিন নিঃসরণ বেড়ে যাওয়া। ইনসুলিন আমাদের শরীরের রক্ত শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে। হার্ভার্ড টি.এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষণা বিজ্ঞানী ভাসন্তি মালিক বলেন, “সোডা হচ্ছে সর্বাধিক জঘন্য কালপ্রিট। বেভারেজের শর্করা খুব দ্রুত শোষিত হয়, যার ফলে রক্ত শর্করা ও ইনসুলিন দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের দিকে ধাবিত করে যেখানে শরীর সক্রিয় হতে অত্যধিক ইনসুলিন প্রয়োজন হয় এবং ব্যক্তির বিপাকীয় স্বাস্থ্যকে বিরূপভাবে প্রভাবিত করে।”

উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে

গবেষণায় দেখা গেছে, চিনির সঙ্গে উচ্চ কোলেস্টেরল এবং হৃদরোগজনিত মৃত্যুর সংযোগ আছে। ডা. সল্টজম্যান বলেন, “উচ্চমাত্রায় চিনি গ্রহণের সঙ্গে লো-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন (ভিএলডিএল) নামক একপ্রকার রক্তের লিপিড বৃদ্ধির সংযোগ পাওয়া গেছে, যা কার্ডিওভাস্কুলার রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। চিনি এইচডিএল নামক উপকারী কোলেস্টরল হ্রাস করতে পারে- এইচডিএল কোলেস্টেরল হৃদপিণ্ডের সমস্যা থেকে রক্ষা করে।”

মস্তিষ্ককে প্ররোচিত করে

চিনি আপানার মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ডা. সল্টজম্যান বলেন, শক্তিসমৃদ্ধ মিষ্টান্ন খাবার আপনার লিম্বিক সিস্টেম নামক মস্তিষ্কের অংশকে এসব খাবার আরো বেশি করে খাওয়ার জন্য প্ররোচিত করতে পারে।” মিষ্টান্ন খাবার খেলে এসব খাবার চাওয়া ও খাওয়ার জন্য আমাদের মস্তিষ্ক প্রশিক্ষণ পায় এবং এভাবে এসব খাবার খাওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ডা. মালিক বলেন, “চিনি মস্তিষ্কের প্লেজার সেন্টারকে উদ্দীপিত করতে পারে, যেভাবে করে ড্রাগ।”

দাঁতের ক্ষয় করে

ডা. স্যান্ডা মোল্ডোভান বলেন, “মুখের ব্যাকটেরিয়া চিনি ভালোবাসে, যেমনটা ভালোবাসি আমরা এবং তারা যখন এসব ভোজন করে বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে এসিড নিঃসরণ হয়। এই এসিড দাঁতের এনামেলকে আক্রমণ করে ও ডেন্টিন নামক দাঁতের গভীর স্তরে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করে” ব্যাকটেরিয়ার জন্য আপানার মুখে দুর্গন্ধও হতে পারে। আপনি যত বেশি চিনি খাবেন, আপনার মুখ তত বেশি অ্যাসিডিক হবে এবং দ্রুত দাঁতে ক্যাভিটি বা ক্ষয় হবে। এছাড়া চিনি খেয়ে ইস্টও বিকশিত হয়, যা মুখের কর্নার বা জিহ্বা লাল করতে পারে।

 

আচারী চিকেন: চিকেনের নতুন স্বাদে চমকে দিন সবাইকে

আচারী

খাসি অথবা গরুর মাংসে সমস্যা থাকলেও মুরগীর মাংস খায় না এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। মুরগীর রোস্ট, ঝোল আর ভুনা ছাড়া অন্য কিছু কখনো চেষ্টা করে দেখেছেন। মুরগী পোড়া আর বারবিকিউ তো কম বেশি সবাই খেয়েছেন। এর বাইরে কোন নতুনত্ব হয়তো চেষ্টা করেননি মুরগীর সাথে। আজ আমরা আচারী চিকেন বানানো শিখব। খুব ইউনিক একটা ঘ্রাণ পাবেন আশা করি। চলুন চেষ্টা করি তাহলে।

আচারী চিকেনের গুঁড়া মশলার জন্য লাগবে

জিরা- ২ চামচ

ধনিয়া- ২ চামচ

মৌরি- ২ চামচ

গোলমরিচ- ২ চামচ

দারচিনি- ৪/৫ টি বড় টুকরা

শুকনা মরিচ- মাঝারী মাপের ৬/৭ টি

আচারী চিকেনের পেস্টের জন্য লাগবে

তেল- নারকেল তেল (১ চামচ)

পিঁয়াজ- ১ টি

আদা- বাটা ১ চামচ

রসুন- বাটা ১ চামচ

আর গুঁড়া মশলার মিশ্রণটি লাগবে।

আচারী চিকেনের জন্য আর যা যা লাগছে

তেল- ৩ চামচ

পিঁয়াজ- ৩ টি

কারী পাতা- ৭/৮ টি

চিকেন- ১- দেড় কেজি

আচারী চিকেনের প্রণালী

প্রথমে আমরা শুকনা মশলার মিশ্রণটি তৈরি করব। সব গুলো শুকনা মশলা হালকা আঁচে টেলে নেবো। ব্লেন্ডারে কোন কিছু ছাড়া শুধু গুঁড়া করে ফেলব।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি বানাতে হবে। এটা ছাড়া আপনি আসল স্বাদ পাবেন না। সুতরাং খুব সাবধানতার সাথে তৈরি করুন। কড়াইয়ে ১ চামচ তেল দিয়ে হালকা আঁচে পেঁয়াজ, আদা আর রসুন দিয়ে দিব। অল্প ভেজে নেবো। ব্লেন্ডারে থাকা মশলাগুলোর সাথে রেখে আবার মিক্স করুন।

এবার কড়াইয়ে তিন চামচ তেল গরম করে নিন। গরম হওয়ার পর পেঁয়াজ কুচি দিয়ে দিন তেলে। ভালো করে ভাজুন। এখন কারী পাতা দিয়ে দিন। কারী পাতা ভাজা হলে চিকেন দিয়ে দিন। চিকেন টাকে একটু ভাজা হলে পেস্ট টা দিয়ে দিন। ভালো করে মেশান। স্বাদ মত লবণ দিয়ে দিন। সবগুলো কাজ হলে পানি দিয়ে দিন। ৩০-৪০ মিনিট ঢেকে রেখে রান্না করুন। ভাত, পোলাওয়ের সাথে খুব ভালো লাগবে।

খেয়াল রাখবেন শুকনো মশলা ভাজার সময় চুলার আঁচ যেন একদম কম থাকে। রান্নায় কোন কিছু পুড়ে গেলে তা আসল স্বাদ হারায়।

বাসায় প্রিয়জনের জন্য রান্না করুন আর কেমন লাগলো তা আমাদের কমেন্ট সেকশনে জানান।

খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আনতে হবে তবে কমবে ওজন

খাদ্য

দেহ থেকে অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে কত কিছুই না আমরা করি। তবুও অনেকেই বলছেন তারপর ও ওজন কমছে না। তাহলে কিভাবে কমবে আপনার ওজন। শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে শারীরিক কসরতের পাশাপাশি আপনাকে আপনার খাদ্য তালিকার দিকে নজর দিতে হবে। সামান্য কিছু পরিবর্তন আপনাকে করে তুলতে পারে স্লিম এন্ড ফিট। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক।

খাদ্য তালিকায় প্রোটিন= সন্তুষ্টি

খাদ্য

মুরগি, ডিম, ডাল, মাছ, টার্কি হচ্ছে প্রোটিনের ভাল উৎস। খাসি এবং গরুর মাংস এড়িয়ে চলুন। মনে রাখবেন কোন লাল মাংসই শরীরের জন্য ভাল না। আপনার খাদ্য তালিকায় প্রোটিন না থাকলে তা পরিপূর্ণ হবে না। ওজন কমাতে প্রোটিন অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। কারণ প্রোটিন হজম হতে অনেক সময় লাগে, তাই আপনার সহজে ক্ষুধা লাগবে না।

সুতরাং খাবারের তালিকায় প্রোটিন রেখে নিজের শরীরকে সন্তুষ্ট করুন।

খাদ্য নালি পরিষ্কার করুন আঁশ যুক্ত খাবার দিয়ে

খাদ্য

আমরা ত্বক পরিষ্কার রাখতে নানা ধরণের স্ক্রাব ব্যবহার করি। আপনি যদি শুধু বাইরের ত্বকের কথা ভাবেন তাহলে আপনি সুস্থ থাকতে পারবেন না। প্রতিদিন আঁশ যুক্ত খাবার খান। যেমন- শাকসবজি, ফল, লাল আটা, ঢেঁকি ছাটা চাল ইত্যাদি।

এই খাবার গুলো আপনাকে দীর্ঘদিন সুস্থ ও সুন্দর ভাবে বাঁচতে সাহায্য করবে। তাছাড়া আঁশ যুক্ত খাবার আপনার রক্তে চিনির পরিমাণ বাড়তে দেয় না।

খাদ্য তালিকা থেকে চিনি বর্জন করুন

খাদ্য

চিনিকে সাদা বিষ বলা হয়। চিনি আপনার শরীরে মেদ বাড়ানো ছাড়া আর কিছু করে না। মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতে ইচ্ছে হলে আপনি ফল খেতে পারেন।

এতে আপনার আঁশও গ্রহণ করা হবে অন্য দিক দিয়ে চিনিও বর্জন করা হবে।

বাজারে অনেক ধরণের খাবার আছে যার গায়ে লেখা থাকে চিনি মুক্ত সেই খাবার গুলো খেতে চেষ্টা করুন। তবে বাইরের খাবার যত বর্জন করা যায় তত ভাল।

সেচুরেটেড ফ্যাট বাদ দিন

খাদ্য

দৈনিক খাদ্যে ১০ শতাংশেরও কম সেচুরেটেড ফ্যাট থাকা উচিত। সারাদিনে আপনি ৭৭ গ্রাম ফ্যাট নিতে পারেন।

বাইরের খাবার গ্রহণ করার আগে কি পরিমাণ ফ্যাটের কথা লেখা আছে দেখে নিন।

লবণ আপনার রক্ত চাপ বাড়িয়ে দেয়

খাদ্য

ডাক্তারদের মতে সারাদিনে ১ টেবিল চামচ লবণ খাওয়া ঠিক আছে। এর বেশি খেলে আপনার রক্তের চাপ বেড়ে যাবে। এটি দেহের কোষে তরলের ভারসাম্য রক্ষায় সমস্যা করে। এতে বেশি পিপাসা পায় এবং পানি পানের ইচ্ছে হয়। আর পানি যেমন শরীরের জন্য উপকারি তেমনি অতিরিক্ত পানি পান কিডনিতে চাপ তৈরি করে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের অতিরিক্ত লবণ খেতে নিষেধ করা হয়। কারণ এটি রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের কারণে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি ফেইলুরের মতো সমস্যা হতে পারে। বেশি মাত্রায় লবণ খেলে হাড়ের ক্যালসিয়াম প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। এতে হাড় দুর্বল এবং ভঙ্গুর হয়ে যায়। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি মাসিক বন্ধের পর, যখন নারীদের হাড়ের ক্যালসিয়াম কমে যায়, তখন বেশি লবণ খাওয়া পরিহার করা প্রয়োজন। এ ছাড়া অতিরিক্ত লবণ খাওয়া কিডনিতে পাথর তৈরি করতে পারে।

কার্বোহাইড্রেট দিয়ে পেট ভরবেন না

খাদ্য

তিনটি জিনিসকে ডাক্তাররা সাদা বিষ বলে থাকেন। চিনি, লবণ আর সাদা ভাত। এই তিনটি খাবার আপনার শরীরকে মেদবহুল করতে ভাল ভাবে সাহায্য করবে। যারা ওজন বাড়াতে চান তারা প্রতিদিন চিনি আর ভাত খান। ভাত এড়াতে রুটি খেতে পারেন সেক্ষেত্রে রুটির পরিমাণ বেশি হওয়া চলবে না।

এক কথায় কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার দিয়ে পেট পূর্ণ করবেন না।

ওজন কমাতে খাবার না কমিয়ে এই ডায়েট অনুসরণ করুন

ওজন

বর্তমানের যুগে অধিকাংশ মানুষের অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। সব কিছুর জন্য সময় থাকলেও নিজের শরীরের জন্য আমাদের হাতে কোন সময় নেই।  সময় এসেছে এবার ডায়েট বদলানোর। ডায়েট চার্ট বদলানো মানে খাওয়া কমানো নয়। অনেকের মধ্যে একটা ভুল ধারণা রয়েছে যে, খাওয়া বন্ধ করলে বা কম খেলে ওজন কমে যায়। কিন্তু এমনটা একেবারেই ঠিক না। বরং এতে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। পাশাপাশি ওজন অনেক সময় বেড়ে যায়। তাই খাওয়া না কমিয়ে সঠিক ডায়েটের সাহায্যে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন।

ওজন কমাতে সকালের নাস্তা

সকালের নাস্তাটা খুব বিরক্তিকর একটা কাজ। অনেকে তাই সকালের নাস্তা আর দুপুরের খাবার একসাথেই করে ফেলে। যা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। তাই সকালে নিয়মিত ব্রেকফাস্ট করুন। তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন রোজ অল্প সময়ের জন্য হলেও, সবার প্রথমে কিছু এক্সাসাইজ করার চেষ্টা করুন। যোগাসন ভুঁড়ি কমাতে ও ওজন কমাতে খুবই সাহায্যে করে। যাই হোক এরপর সবার প্রথমে অল্প গরমজলে একটা পাতি লেবু হাফ ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খান। তার ৩০ মিনিট পর হেভি ব্রেকফাস্ট করুন। একটা রুটি, এক বাটি সবজি, দুটো ডিম সেদ্ধ কুসুম ছাড়া ও একটি আপেল বা কলা খান। মাঝে মাঝে রুটি সবজির বদলে ব্রাউন ব্রেড ও হালকা বাটার খেতে পারেন। সব সময় মনে রাখবেন সকালের খাবার খুব গুরুত্বপূর্ণ।

দুপুরের খাওয়া

ওজন কমাতে চাইলে পুরনো বাঙালীর মত মাছে ভাতে রসিয়ে খাওয়া ভুলে যান।

স্যালাড খান একবাটি বা একটা রুটি ও একবাটি ডাল। এসব ভালো না লাগলে এক বাটি সবজি খান হালকা তেলে বানানো।

তবে খেয়াল রাখবেন যা খাবেন পেট হালকা রেখে খাবেন না। পেট ভরে খান।

লাঞ্চের এক ঘণ্টা পর যেকোনো ফল একটা খেতে পারেন।

ওজন বাড়ে রাতের খাবারে

রাতের খাওয়া একদম সিম্পল। রাতে একটা রুটি ও সবজি খেতে পারেন। আর তা না হলে এক বড় বাটি ডাল।

লাঞ্চ আর ডিনারের মাঝে খিদে পেলে ফ্রুট স্যালাড অল্প খেতে পারেন। যাই হোক রাতে একদম হালকা খাওয়া।

ওজন কমাতে যে যে বিষয় খেয়াল রাখবেন

  • নিয়ম করে রাতে ৮ ঘণ্টা ঘুমনো খুবই জরুরি।
  • সকালে ব্রেকফাস্টের আগে অবশ্যই ৩০ মিনিট যোগাসন করুন। আপনার শরীরকে ফিট রাখতে যোগাসন সাহায্যে করবে।
  • ভাত, আলু একেবারে খাওয়া চলবে না। ভাত সপ্তাহে একবার এক থেকে দুই চামচ খেতে পারেন। মাছ, শাক সবজি খান প্রচুর পরিমানে। মাংস সপ্তাহে একদিন খান। তবে শুধু মুরগির মাংস। খিদে পেলে ফল খান। নানা রকমের ফ্রুট জুস খান। তবে রাস্তাঘাটের কাটা ফল বা জুস একদম খাবেন না। যা খাবেন বাড়িতে বানিয়ে খাবেন।
  • নিয়ম মত এসব মানলে দেখবেন ওজন কমতে বাধ্য। তবে খেয়াল রাখবেন শরীরে কোন রকম অস্বস্তি দেখা দিলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে তবেই করবেন।
  • খাবার নিয়ন্ত্রণের সাথে সাথে ব্যায়াম করতে ভুলবেন না।

 

 

মসলা চা খেয়েছেন কখন? বাসায় চেষ্টা করে দেখুন

মসলা

দারজিলিং-এর মসলা চা সম্পর্কে শোনেনি এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম। কিন্তু খেয়েছেন কয়জন। তাই আপনাদের সামনে আজ হাজির করছি বিখ্যাত চায়ের রেসিপি। বলা হয়ে থাকে স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী এই পানীয়টি

মসলা চায়ের উপকরণ

দারুচিনি- ১ টুকরা

এলাচি- ৫ টি

লবঙ্গ- ৫ টি

কালো গোলমরিচ- ৩ টি

পানি- ৪০০ মিলি

আদা- ১/২ চা চামচ

কড়া চা পাতা- ২ টেবিল চামচ

দুধ- ২০০ মিলি

রাম(একধরণের পানীয়)- ৬ থেকে ৭ মিলি

মসলাচায়ের প্রণালী

ক) আদা ছাড়া সব মসলা এক সাথে গুড়া করুন।

খ) একটি পাত্রে পানি ফুটতে দিন। এখন ফুটন্ত পানিতে চা ও আদাসহ সব মসলাগুলো দিয়ে দিন। এভাবে ৬/৭ মিনিট রাখুন।

গ) দুধ আর রাম একসাথে যোগ করুন। এভাবে ১ মিনিট রাখুন।

ঘ) চা কাপে পরিবেশন করার পর উপরে হাল্কা গুড়া মসলাগুলো ছিটিয়ে দিন।

গরম গরম উপভোগ করুন।

উপকারিতা

মশলা চায়ে ব্যবহার্য সকল মশলাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন। শুধু গরম মশলার ব্যবহার যেন এক কাপ চা পানের উপকারিতা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। চায়ে ভেষজ বা মশলা ব্যবহারের ফলে এরা পরিপাকে সাহায্য করে।এতে অল্প মাত্রায় ক্যাফেইন থাকে বলে সাধারণ দুধ চা অপেক্ষা এই চা কম ক্ষতিকর। মৌসুমি সর্দি ও কাশি প্রতিরোধেও এই চা অত্যন্ত চমৎকার কাজ দেয়। মশলা চায়ে একই সঙ্গে হরেক রকম মশলার উপস্থিতি হতে পারে আপনার নানাবিধ সমস্যার সমাধান।
মশলা চা গরম বা ঠান্ডা অবস্থায় পান করা যেতে পারে। তবে গরম অবস্থায় পান করাই শ্রেয়। সুস্বাস্থ্যকর এই মশলা চা তৈরি করা বেশ সহজ। আসুন জেনে নেই অল্প সময়ে কিভাবে মশলা চা তৈরি করা যা।

জার্মানির বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ১৬ জন মহিলার উপর একটি গবেষনা করেন ।তাদের প্রত্যেককে একবার করে রঙ চা, দুধ চা এবং শুধু গরম পানি পান করতে দেয়া হয় এবং প্রতিবার-ই আল্ট্রাসাউন্ড পদ্ধতিতে তাদের রক্তনালীর প্রসারন মাপা হয়।এতে দেখা যায় যে, রঙ চা রক্তনালীর প্রসারন ঘটায় যা উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রনের জন্য অত্যন্ত জরুরী। চায়ের মধ্যে থাকা ক্যাটেচিন এর জন্য দায়ী। দুধের মধ্যে থাকা ক্যাসেইন নামক একটি পদার্থ চায়ের মধ্যে থাকা ক্যাটেচিন কে বাধাগ্রস্থ করে ফেলে। ফলে চায়ে দুধ মেশালে চায়ের রক্তনালী প্রসারনের ক্ষমতা একবারেই চলে যায়।রঙ চা উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রনে অত্যন্ত কার্যকরী কিন্তু দুধ চা নয়।চা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও দেহের জীবকোষের ক্ষয় রোধ করে। কিন্তু চায়ে দুধ মেশালে এর কিছু গুন কমে যেতে পারে।

ধনে পাতার ভাজা ভর্তা, মুখে পানি চলে আসবে

ভর্তা

বাঙালীজাতি খুব রসনা প্রিয় হয়ে থাকে। বাংলাদেশের খাবারের স্বাদ হরেক রকম। টক, ঝাল, মিষ্টি। বাংলাদেশে এখন শীতকাল চলছে। শীতকালে ভাতের সাথে সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয় ভর্তা। আর শীতকালে সুন্দর সবুজ ধনে পাতা পাওয়া যায়। বাসায় চেষ্টা করতে পারেন অনেক সহজ একটা রেসিপি। আপনাকে বেশি কষ্ট করতে হবে না।

উপকরণ:

ধনে পাতা- ২ আঁটি

কাঁচা মরিচ- ৫/৬ টি

পেঁয়াজ- ৭/৮ টি (পেঁয়াজের দাম বেশি বলে কম দেবেন না)

রসুন- ১ টি

লবণ- স্বাদ মতো

তেল- সয়াবিন/ সরিষা- ৩ টেবিল চামচ

প্রণালী:

কড়াইয়ে তেল গরম হতে দিন। তেল গরম হলে প্রথমেই পেঁয়াজ দিয়ে দিন। কারণ পেঁয়াজ ভাজতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগে। পেঁয়াজ অর্ধেক হয়ে এলে, রসুন দিয়ে দিন। এরপর পেঁয়াজ রসুন বাদামি রঙের হয়ে এলেই পানি ঝরিয়ে ধনে পাতা দিয়ে দিন। মরিচ ফালি করে ধনে পাতার সাথেই দিয়ে দিন। মরিচ যেন কাঁচা কাঁচা থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। ধনে পাতা সবুজ থাকতেই নামিয়ে ফেলুন।

আপনি যদি ভাবেন ব্লেন্ডারে দিয়ে করতে পারবেন এই ভর্তা তাহলে ভুল। সব কিছু ব্লেন্ডারে হয় না। যদি পাটায় বাঁটতে না পারেন তাহলে ছেচনি দিয়ে বাঁটতে পারেন। কষ্ট হলেও এভাবে ভর্তা বানালে অনেক মজা লাগবে। পাটায় বাঁটলে সবচেয়ে বেশি মজা লাগে।

এই ভর্তা রেসিপি আমার মার থেকে নেয়া। খুবই ভালো এবং স্বাস্থ্যকর একটি খাবার। শুধু ভাত নয়, পিঠা, রুটির সাথে খেতে পারেন এই ভর্তা।

ভর্তা সম্পর্কিত টিপস:

কখনই ভর্তা বানানোর সময় পানি দিবেন না। ভর্তায় পানি দিলে এর আসল ঘ্রাণ নষ্ট হয়ে যায়।

অনেকে বানানোর সুবিধার্থে পানি দিয়ে বানান। গ্রাম বাংলার মা-কাকিরা কিন্তু এভাবেই ভর্তা বানান। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

ভর্তা বানানো শেষ হলে আসুন জেনে নেই ধনে পাতার গুনাগুণ।

ধনে পাতার উপকারিতা:

কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে

দেহে এলডিএল নামক এক ধরনের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল থাকে, যা দেহের শিরা-উপশিরার দেয়ালে জমে হৃৎপিন্ডে রক্ত চলাচলে সমস্যা বাড়ায়। এর কারণে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ধনেপাতা এই ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয় ।

আবার দেহের জন্য ভালো বা উপকারি এক ধরনের কোলেস্টেরল, এইচডিএল-এর মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে শরীর সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে এই ধনেপাতা।

রক্ত উৎপন্ন করে

ধনে পাতায় আছে আয়রন। আর এই আয়রন আমাদের রক্ত তৈরি করতে সাহায্য করে। দেহে রক্তের ভারসম্য রাখতে ধনে পাতা খুব সহজ একটি উপকরণ।

ঠোঁটের যত্নে ধনে পাতা

প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসেবে ধনে পাতা দারুন ভূমিকা পালন করে। যাদের ঠোঁটে কালো দাগ আছে তারা রোজ রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ধনে পাতার রসের সাথে দুধের সর মিশিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে রাখলে, এক মাসেই লাগালে ঠোঁটের কালো দাগ দূর হবে আর ঠোঁট কোমল ও সুন্দর হবে।

দাঁতের যত্নে ধনে পাতা

ধনে পাতার রস দিয়ে দাঁত মাজলে মাড়ি মজবুত হয়। মাড়িও শক্ত করতে সাহায্য করে ধনেপাতা।

রক্ত পড়া বন্ধ করে ও মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়। সাধারণত গ্যাসট্রিকের সমস্যা থাকলে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ

ধনে পাতা কেবল সৌন্দর্য আর স্বাদ বাড়াতেই অনন্য নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী।

ধনে পাতা রক্তে চিনির পরিমাণ কমিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে।