কেন মারভেল থেকে চলে যাচ্ছেন “ক্যাপ্টেন আমেরিকা” ?

ক্যাপ্টেন

দ্য মারভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স ২০০৮ সালে ‘আয়রন ম্যান’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ২০১১ সালে মুক্তি পায় ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’। সেখানে আমরা পরিচিত হই স্টিভ রজার্সের সাথে। তাকে ভয়ানক যোদ্ধা বানানোর জন্য শরীরে একটি ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। বিজ্ঞানীরা ভেবেছিলেন যে স্টিভ হয়তবা নিতে পারবে না ওই ওষুধটা হয়তবা মারা যাবে। শরীরে যখন ওষুধ স্টিভ এত ভয়ঙ্কর ব্যথার মধ্যে থেকেও বলেছিলেন, “থামিয়ো না। আমি নিতে পারব।” বাকি ইতিহাস জানতে হলে আপনাকে কষ্ট করে ‘ক্যাপ্টেন অ্যামেরিকা: দ্য ফার্স্ট অ্যাভেঞ্জার’ দেখতে হবে।

যারা এই মুভিটি দেখেছেন তারা নিশ্চয়ই জানেন আমি কার কথা বলছি। হ্যাঁ আমাদের সবার প্রিয় ক্রিস ইভান্সের কথাই বলছিলাম এতক্ষণ। ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: দ্য ফার্স্ট অ্যাভেঞ্জার’ থেকে শুরু করে সিরিজের ১০ টি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। মারভেল মুভিজের ২২তম ছবি ‘অ্যাভেঞ্জারস ফো’-এর মধ্য দিয়ে এ সিরিজ থেকে বিদায় নিচ্ছেন তিনি। হ্যাঁ আপনারা ঠিকই শুনছেন। আমরা আর কখনো তাকে ক্যাপ্টেন আমেরিকার ওই ঢাল অথবা পোশাকে দেখব না। গত বৃহস্পতিবার একটি টুইটারের মাধ্যমে ক্যাপ্টেন আমেরিকা চরিত্র থেকে নিজের বিদায়ের খবর জানান তিনি। কয়েকদিন আগেই সুপারম্যানের চরিত্রের পরিবর্তন ঘটলো। হয়তবা এভাবে আমাদের অনেক পরিচিত এবং প্রিয় মানুষগুলোকে আর পছন্দের চরিত্রে দেখতে পারব না। দ্য ফার্স্ট অ্যাভেঞ্জার’ থেকে শুরু করে সিরিজের ১০টি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।

টুইটারে তিনি লিখেছেন, “আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অ্যাভেঞ্জারস ফোর’ শেষ। পুরোনো দিনগুলো ভীষণ আবেগপূর্ণ। ক্যামেরার সামনে-পেছনের যত মানুষ এবং দর্শক, সবাইকে ধন্যবাদ জানাই স্মৃতিগুলোর জন্য। চিরকাল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

তাঁর এই টুইট-এর পর মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল দেখার মত। আপনাদের জন্য রইল তার কিছু ঝলক।

ক্যাপ্টেন

ক্রিসের এমন হঠাৎ প্রস্থান অবাক হওয়ার মত কিছু নয়। কারণ তিনি আগেই বলেছেন, “কেউ ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার আগেই নিজে থেকে বের হয়ে যাওয়া উত্তম”। এভাবে অনেক চরিত্রের ইতি ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আসলে এরপর কি হবে তা জানতে হলে সবাইকে পরের বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

কমিক চরিত্রে ক্যাপ্টেন আমেরিকা ছাড়াও তিনি ২০০৫ ও ২০০৭ সালে জেসিকা আলবার সঙ্গে ‘ফ্যানটাসটিক ফোর’-এর দুটি ছবিতে কাজ করেছিলেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন কড়া সমালোচক। গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পুতুল বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।

বিদায় ক্যাপ। পর্দায় ক্যাপ্টেন হিসেবে না দেখা গেলেও কোটি কোটি মানুষের মনে চিরকাল ক্যাপ্টেন-ই থাকবেন আপনি।

বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট জিতে ইতিহাস গড়লেন মানুষী ছিল্লার

মানুষী

২০১৭ সালের বিশ্ব সুন্দরীর আসরে মুকুট নিয়ে নিলো ভারতের মানুষী ছিল্লার। ভারতীয় সুন্দরীদের খ্যাতি বিশ্ব ব্যাপী।

সারা বিশ্ব থেকে অংশ নেয়া ১০৮ জন সুন্দরী নির্বাচিত হয়েছিলেন এই প্রতিযোগিতায়। যেখানে মানুষী  ছিল্লার সবাইকে পেছনে ফেলে বাজিমাত করেছেন।

আজ তাই মানুষীর জানা অজানা তথ্য গুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

পরিবার

মানুষী
মানুষীর পরিবার

বাবা মা ডাক্তার হওয়ার সুবাদে মেয়েও সেই পথ অনুসরণ করেছে।

মানুষী সোনেপতের ভগত ফুল সিং গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ফর ওমেনে এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

আর্ত মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়জিত করাই তার একমাত্র লক্ষ্য থাকলেও, মনে মনে বিশ্ব সুন্দরী হওয়ার আশা ছিল ছোট বেলা থেকেই।

তার পিতা ডা. মিত্র বসু ছিল্লার, প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংগঠন এর একজন বিজ্ঞানী। তার মা ডা. নিলাম ছিল্লার, ইনস্টিটিউট অব হিউম্যান ব্রিবেইহিয়ার অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সেস এর স্নায়ুরসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান।

ব্যক্তি জীবন

মানুষী
মানুষের সেবায় কাটিয়ে দিতে চান জীবন

ব্যক্তিগত জীবনে মানুষী একজন সেবিকা হতে চেয়েছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করছেন মেয়েদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয় নিয়ে।

বিনোদন নয় সেবার ব্রতে বিশ্ব সুন্দরী হতে চেয়েছেন তিনি।

মানুষী একজন প্রশিক্ষিত কুচিপুড়ি নৃত্যশিল্পী এবং তিনি প্রশিক্ষিত হয়েছেন বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী দম্পতি রাজা এবং রাধা রেড্ডি এবং কৌশল্যা রেড্ডির নিকট।

ছিল্লার ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামাতেও যোগদান করেছেন।

মানুষীর বিশ্ব সুন্দরী হওয়ার পেছনে যে বক্তব্যটি সাহায্য করেছে

মানুষী
একি ফ্রেমে তিন সুন্দরী

প্রতিযোগিতায় মঞ্চে তার কাছে কোন পেশার মানুষকে সবচেয়ে বেশি টাকা দেওয়া উচিত বলে মনে হয় জানতে চাওয়া হলে, বেশ আবেগ জড়ানো কণ্ঠে মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৭ এর মানুষী বলেন

‘আমার জীবনের সাফলতার পেছনে যার অবদান রয়েছে তিনি হলেন আমার মা। যে কিনা তার অফুরন্ত ভালোবাসা, তার সন্তানদের কেবল দিয়েই গিয়েছেন। আমার মতে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পেশা মাতৃত্ব। আর এই পেশার মানুষকে অগণিত টাকা দিয়েও তার বেতন নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।‘  মানুষীর এই অসাধারণ উত্তর শুনে শুধু বিচারকরাই মুগ্ধ হননি মুগ্ধ হতে হয়েছে বাকী প্রতিযোগীদেরও।

বিশ্ব সুন্দরী শুধু রূপসৌন্দর্য্য দেখে নির্বাচন করা হয়না।

আপনারা শেষ পাঁচ প্রতিযোগীদের যদি দেখে থাকেন তাহলে বুঝতে পারবেন।

সত্যি বলতে এবারের বিশ্ব সুন্দরী হওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্যতা ছিল শুধু মাত্র মানুষীর। যেমন সে কথায়, তেমন  বুদ্ধি মত্তায় আর তেমনি ব্যক্তিত্বে।

সৌন্দর্যের কথা তো না বললেই নয়। হরিয়ানার মানুষী আরও একটি ইতিহাস গড়েছেন।

মানুষী
১৯৬৬ সালে বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট মাথায় রিটা কারিয়া

১৯৬৬ সালে ভারত সর্বপ্রথম বিশ্ব সুন্দরীর তকমা জেতে। সেই সুন্দরীর নাম রিটা কারিয়া। রিটা কারিয়াও একজন মেডিকেল ছাত্রী ছিলেন। প্রায় ৫১ বছর পর মেডিকেল ছাত্রী ছিল্লারও দেশের জন্য ছিনিয়ে এনেছে বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট। অদ্ভুত এক ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করলেন মানুষী।

মানুষী ছিল্লার কি ধরণের খাবার খান এবং কেমন লাইফ স্টাইল ফলো করেন তা আপনাদের সুবিধার জন্য দেয়া হল। চাইলে মেনে নিতে চলতে পারেন।

মানুষী যে ডায়েট মেনে চলতেন

সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস লেবু জল।

মানুষী
নিজেকে ফিট রাখতে মেনে চলেছেন ডায়েট চার্ট

সকালের নাস্তা: ওটন বা হুইট ফ্লেক্স, সঙ্গে দই, বাদাম ও টাটকা ফল।

দুপুরের খাবর: ১-২ টা রুটি বা এক বাটি ভাত, সবজি, সালাত ও রায়তা।

সন্ধেবেলা: ফ্রুট স্মুদি, দই দিয়ে শশা বা গাজর স্টিক।

রাতের খাবার (রাত ৭ টায়): কিনোয়া স্যালাড বা কিনোয়া পোলাওয়ের সঙ্গে সুপ, অথবা চিক পিজ।

রাতে: টাটকা ফল।

পানি: প্রতি দিন তিন লিটার পানি।

সকালে হাঁটা ও হালকা ব্যায়াম: সপ্তাহে ৪-৫ দিন সকালে হাঁটতেন। প্রতি দিন জাম্পং জ্যাক।

ঘুম: যত ব্যস্ততাই থাক রাতে ৮ ঘন্টা ঘুমোতেন মানুষী।

ফোন: রাতে ঘুমোতে যাওয়ার ২ ঘন্টা আগে নিয়ম করে ফোন অফ করতেন মানুষী।

 

যারা বলেন বাংলা সিনেমাতে কিছু নেই এই সিনেমাগুলো তাদের জন্য

বাংলাদেশের সিনেমা ব্যবস্থা নিয়ে আমরা অনেক হতাশ। খুব বিরক্ত আমরা। অনেক ভালো ভালো সিনেমা হল আজ ধ্বংসের পথে শুধুমাত্র ভালো সিনেমা নেই বলে। কিন্তু যারা এই বিরক্ত থেকে একদম বাংলা সিনেমা দেখা বন্ধ করে দিয়েছেন তাদের জন্য রয়েছে বাংলা কিছু সিনেমার রিভিউ। আশা করি আপনারা অনুপ্রাণিত হবেন।

আয়নাবাজি

সিনেমা
আয়নাবাজি

২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া একটি অপরাধধর্মী থ্রিলার সিনেমা। মূল চরিত্রে আছেন চঞ্চল চৌধুরী। সিনেমাটির পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরী। বরাবরই আমরা এই বরেণ্য পরিচালকের কাছ থেকে চমৎকার সব সিনেমা উপহার পেয়ে আসছি। আয়ণাবাজিও সেই ধারার উপর বহমান একটি সিনেমা। এখানে এক শহরের গল্প বলা হয়েছে। এই শহরে সকালে দুধওয়ালা আসে, ফেরিওয়ালারা হাঁকডাক দেয়, বাচ্চারা দল বেঁধে নাটক শিখতে যায়। আয়না সেই শহরের একজন বাসিন্দা। অভিনয় যার নেশা। বাচ্চাদের নাটক শেখায়।

হৃদি নামের এক মেয়ের সাথে পরিচয় হয়, পরে তা প্রেমে রূপ নেয়। পাল্টাতে থাকে আয়নার জীবন। সে আটকে যায় নানা রকম মুখোশে। একসময় ফিরে আসতে চায় মহল্লার অতি চেনা আয়না হয়ে। কিন্তু ফেলে আসা প্রেম ও নাটকের স্কুলে ফিরে যেতে পারে না সে। অপরাধ জগতে আটকে যেতে থাকে আয়না। সে কি ফিরতে পারবে। জানতে হলে দেখে নিন। ১৯তম মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে ছবিটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ ছয়টি বিভাগে পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয় ও তিনটি বিভাগে পুরস্কার লাভ করে। এছাড়া ছবিটি সিয়াটল সাউথ এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভালে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র এবং ১৬তম টেলি সিনে পুরস্কারে সেরা ছবির সম্মান লাভ করে।

অজ্ঞাতনামা

সিনেমা
অজ্ঞাতনামা

সিনেমাটি ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া আর একটি অনবদ্য সিনেমা। পরিচালককে আপনারা ক্যামেরার সামনে অনেক কাজ করতে দেখেছেন কিন্তু তিনি ক্যামেরার পেছনেও যে কতোটা প্রতিভাধর তা জানতে হলে সিনেমাটি দেখে নিন। এখানে সেই মানুষদের গল্প বলা হয়েছে যারা নিজেদের সব সম্পতি বিক্রি করে লাশ হয়ে দেশে ফিরে নিজের সর্বস্ব বিক্রি করে বিদেশ যাওয়া মানুষদের মাঝে কেও যখন মারা যায়, তখন তার লাশ এই দেশে আসলে সেটা নিয়ে কি কি সমস্যা হয়  এবং এই এক লাশকে কেন্দ্র করে কীভাবে আমাদের দেশের আদম ব্যবসা থেকে শুরু করে উপরের মহলের মুখোশ উন্মোচিত করা হয়েছে- সেটা দেখবেন এই সিনেমা। চলচ্চিত্রটি ইতালির গালফ অফ ন্যাপলস ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভালে ২১ মে প্রদর্শিত হয় এবং জুরি স্পেশাল মেনশন পুরস্কার অর্জন করে।

কৃষ্ণপক্ষ

সিনেমা
কৃষ্ণপক্ষ

হুমায়ূন আহমেদের লিখিত এই গল্পটি কম বেশি সবার পড়া আছে। কিন্তু তা যদি সিনেমায় রূপ ধারণ করত তাহলে কেমন হত?

এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন কৃষ্ণপক্ষের পরিচালক মেহের আফরোজ শাওন। ‘

হুমায়ূন আহমেদের পর কেউ যদি তার চলচ্চিত্রের ধারা ধরে রাখতে পারে তাহলে তা শাওন ছাড়া আর কেও নন।

সিনেমাটি নিয়ে আর কিছু বলতে চাই না।

নায়ক হিসেবে ছিলেন রিয়াজ, তাঁর অভিনয় তো বরাবর দেখে আসছি কিন্তু নায়িকা হিসেবে মাহীয়া মাহি ছিল একটি চমৎকার নির্বচন।

ড্রেসিং টেবিল

আবু সাইয়ীদ পরিচালিত ২০১৬ সালের রহস্য চলচ্চিত্র। ছবিটির কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন পরিচালক আবু সাইয়ীদ নিজেই।  ছবিটি প্রযোজনা ও পরিবেশনা করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম

শিলা আর রুহুল সম্প্রতি বিয়ে করেছে। নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের অভাব অনটনের সংসার। গুছিয়ে তুলতে পারে নি অনেক কিছু। গৃহস্থালীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস এখনো কেনা হয় নি তাদের।

তেমনি একটি আসবাব হল ড্রেসিং টেবিল। একদিন রুহুল একটি পুরাতন ড্রেসিং টেবিল নিয়ে বাড়িতে ফিরে। শিলা খুশি হয়।

পরে পরিস্কার করতে গিয়ে ড্রয়ারে সে একটি পুরনো ডায়েরি পায়। প্রথমে একটু সংকোচ বোধ করলেও পরে এক রাতে সে ডায়েরিটা পড়া শুরু করে।

২-৩ পৃষ্ঠা পড়ার পর কৌতূহল থেকে সে পুরো ডায়েরি পড়ে। ডায়েরি পড়ে সে অনেক কিছু জানতে পারে এবং পড়া শেষে সে ড্রেসিং টেবিলের সামনে যায়।

সে ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় নিজেকে আবিস্কার করে। শুরু হয় তার নতুন জীবন।

এতক্ষণ বাংলাদেশের সিনেমা নিয়ে বলছিলাম এখন আসুন যেনে নেই ওপার বাংলায় সিনেমার কি হাল।

ডবল ফেলুদা

সিনেমা
ডবল ফেলুদা

পঞ্চাশ বছর হয়ে গেছে গোয়েন্দা প্রদোষচন্দ্র মিত্রের। এই পঞ্চাশ বছরে ফেলুদার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য ডবল ফেলুদা।

যে দুটো গল্প এবার পরিচালক সন্দীপ রায় বেছেছেন- ‘সমাদ্দারের চাবি’ আর ‘গোলকধাম রহস্য’- দুটোই সত্যজিত্ রায়ের অত্যন্ত প্রিয় গল্প৷

ছবির আঙ্গিকও চমত্কার৷ ইন্টারভ্যালের আগে ‘সমাদ্দারের চাবি’৷ পরে ‘গোলকধাম রহস্য’৷

যদিও এমন আঙ্গিক সন্দীপ রায় ‘চার’ এ রেখেছিলেন, তবুও ফেলুদার ছবির প্রেক্ষিতে এটি প্রথম৷ সব মিলিয়ে ছিমছাম ১০২ মিনিটের টানটান উত্তেজনা৷

ছবির সব থেকে বড় গুণ ‘সিমপ্লিসিটি’৷ এবং আদ্যন্ত সাবলীল বাঙালিয়ানা৷ যেটা সন্দীপ রায়ের ফেলুদা ছবিতে থেকে থাকে৷

তা সত্ত্বেও বলতে হয় সেই সাবলীলতার ছাপ রজনী সেন লেনে গোয়েন্দার বসার থেকে শুরু করে প্রত্যেক চরিত্রের পোশাকে , কথাবার্তায়, চলাফেরায়, ব্যবহারে বিদ্যমান৷

কোথাও এক ফোঁটা বাড়াবাড়ি নেই৷ এবং গুরুত্বপূর্ণভাবে এই সমস্তটা গিয়ে ফিল্টার হয় বিশ্বাসযোগ্যতায়৷

সিনেমাটি দেখতে হলে আপনাকে ক্রিসমাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

সিনেমাওয়ালা

ছোট্ট এক শহরের সিনেমা প্রদর্শক প্রণবেন্দু দাসকে (পরাণ বন্দোপাধ্যায়) ঘিরে ‘সিনেমাওয়ালা’র কাহিনি গড়ে।

সিনেমার মূল চরিত্র হচ্ছে “কমলিনী” নামের সিনেমাহল যার কোন কদর নেই পাইরেটেড ডিভিডি ডিস্ক এবং ডিজিটাল থিয়েটার বা প্রজেক্টরের কারনে। আগের দিন ফুরিয়ে গেছে।

প্রণবেন্দুর নিজের ছেলেই (পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়) পাইরেটেড ডিভিডি ডিস্ক স্বল্পদামে কিনে বিক্রি করে। তাই নিজের ছেলের সাথে তার মনোমালিন্য।

কেননা প্রণবেন্দুর ধারণা এভাবে পাইরেটেড ডিস্ক বিক্রির কারণেই মানুষ হলে গিয়ে ছবি দেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এবং হলগুলো অচল হয়ে যাচ্ছে। যে কারণে তার নিজের হল কমলিনীও অচল।

একসময় প্রণবেন্দু কমলিনীর প্রজেক্টর বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রণবেন্দুর সহচারী হরি। যিনি এই হলের একজন প্রজেকশনিস্ট ছিলেন।

২৩ বছর বয়স থেকে কমলিনীর প্রজেক্টর চালান। এই প্রজেক্টর তার সন্তানের মত।

তার সন্তান তাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। সন্তানকে জড়িয়ে ধরে আছেন তিনি।

একটু পরই সন্তান চলে যাবে। সন্তানের শোকে হরি প্রজেকশন রুমে আত্মহত্যা করেন।

তার এই আত্মহত্যা গল্পের মোড় কোনদিকে ঘুরায় জানতে হলে দেখুন “সিনেমাওয়ালা”

শঙ্খচিল

সিনেমা
শঙ্খচিল

একটি পরিবারের অসহায়ত্ব দিয়ে গোটা বাংলার হৃদয়ের ক্ষত উঠিয়ে আনতে চেয়েছেন নির্মাতা গৌতম ঘোষ তার শঙ্খচিলের মাধ্যমে।

পরিবারটির গল্পের পাশাপাশি আরো নানা ভাবেই উদ্ভট দেশভাগের কথা এসেছে ছবিতে।

আর মূল গল্পের পাশাপাশি ডকুমেন্টারী আকারে আসা দেশভাগের দৃশ্যপট ছবিটিকে শক্ত ভিত্তি দিয়েছে। ছবির চিত্রনাট্য হয়তো একটু বেশীই সরল; তবে শক্তিশালী বর্ননা ছবিকে ভিন্নতার স্বাদ দিয়েছে।

বিশেষ করে চরিত্রের ভাব প্রকাশে মাঝে মাঝে বাংলা কবিতা এবং গানের ব্যাবহার; কিংবা প্রকৃতিকে বার বার বিষন্ন রুপে নিয়ে আসা এক কথায় অসাধারন ছিলো। ছবির চিত্রায়ন বা সিনেমাটোগ্রাফী কিছু কিছু যায়গায় চোখ এবং মন দুটোই জুড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বেশী ভালো লাগে বাংলার সরল প্রকৃতিকে এমন সুন্দর ভাবে পর্দায় দেখে। আর অসম্ভব সুন্দর সম্পাদনা তো আছেই। ছবির ডায়লগ খুব অসাধারন কিছু না হলেও চলনসই ছিলো। কবিতা আর গানের ব্যাবহার ডায়লগের সাধারনত্বকে ঢেকে দিয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছবির পরিবেশকে ভালোভাবেই ফুটিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। দেশভাগের আর্তনাদ যে এখনো শেষ হয়নি বরং বাঙ্গালী জাতিটিকে এই আর্তনাদ বয়ে বেড়াতে হবে আরো অনেক অনেক কাল; শঙ্খচিল যেন তারই গল্প বলে যায়।

নোবেল পুরস্কারের বিস্ময়কর অজানা তথ্যগুলো হয়তো জানেন না

নোবেল

প্রতি বছরের মত এ বছরও নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন নানা গুণীজনেরা। কম বেশী সবাই জানি এই পুরস্কার সম্পর্কে। বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার এবছরের নোবেল বিজয়ীদের তালিকাও মোটামুটি জেনে গেছেন সবাই। কিন্তু কিছু গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অজানা তথ্য আছে যা আমরা জানি না। সেই সব মজার তথ্য জানার জন্য পড়তে থাকুন আর্টিকেলটি।

নোবেল পুরস্কারের জনক আলফ্রেড নোবেল

নোবেল
আলফ্রেড নোবেল তাঁর সব সম্পত্তি নোবেল পুরস্কার প্রদানের জন্য দান করে দিয়েছিলেন।

আলফ্রেড নোবেল অনেক বিত্তবান একজন বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি শুধু বিজ্ঞানীই ছিলেন না, একাধারে ছিলন রসায়নবিদ, প্রকৌশলী এবং সফল শিল্পপতিও। এই ভদ্রলোক মাত্র ১৭ বছর বয়সেই পাঁচটি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারতেন। অনেক গবেষণার পর ১৮৬৬ সালে প্রচণ্ড শক্তিধর বিস্টেম্ফারক ডিনামাইট আবিষ্কার করেন। সে সময় বিভিন্ন দেশে পাহাড়-পর্বত, বন-জঙ্গল ধ্বংস করে রাস্তাঘাট, শহর-বন্দর গড়ে তোলার হিড়িক পড়েছিল।

ডিনামাইটের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা বেশি থাকায় তা রাতারাতি বিশ্বস্ততা অর্জন করে। খুব জলদি বড়লোক হয়ে যান নোবেল। অকল্পনীয় ভাবে বিত্তবান হয়ে যাওয়া নোবেল একসময় অপরাধবোধে ভুগতে থাকেন। নোবেলের জীবদ্দশায়ই জার্মানরাও ব্যাপক হারে ডিনামাইট বোমা নির্মাণ করে শত্রুদের ওপর নিক্ষেপ করেছে। সেই দুঃখবোধ ও বিবেকের যন্ত্রণা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্যই তিনি তার অর্থকড়ি ও যাবতীয় সম্পদ মানবকল্যাণে ব্যয় করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন।

নোবেল পুরস্কার প্রদানের জন্যে তিনি তার প্রায় পুরো সম্পত্তি দান করে যান, যার পরিমান ছিল প্রায় ৩১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার, এখনকার হিসেবে ২৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার!

গনিতে নেই নোবেল পুরস্কার

নোবেল

গনিতে কোন নোবেল দেয়া হয়না। তাদের মতে গনিতের কোন কিছু মানব কল্যাণে অথবা মানব জীবনে কোন বড় ভূমিকা রাখেনা। কোন একটা বিচিত্র কারণে তাঁর মনে হয়েছিল গণিত জিনিসটার তেমন কোন ব্যাবহারিক গুরুত্ব নেই! নোবেলের গনিতবিদ প্রেমিকা তাকে ধোঁকা দিয়েছিল বলে তিনি রাগ করে গণিতে নোবেল প্রাইজ রাখেননি বলে যে গল্প প্রচলিত আছে সেটা ভিত্তিহীন।

নোবেল জয়ী পরিবার

নোবেল
ছবিটিতে আলবার্ট আইনস্টাইন ও মাদাম কুরি আছেন।

নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে মাদাম কুরির পরিবারের সদস্যরা বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন। তাঁর স্বামী পিয়েরে কুরি ছিলেন স্বনামখ্যাত বিজ্ঞানী।

স্ত্রী মাদাম কুরির সঙ্গে ১৯০৩ সালে তিনি রসায়ন শাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।

এ ঘটনার আট বছর পর ১৯১১ সালে মাদাম কুরি আবার এই পুরস্কার অর্জন করেন।

এবার তাকে পুরস্কার দেওয়া হয় রসায়ন শাস্ত্রে, বিশুদ্ধ রেডিয়াম পৃথকীকরণের জন্য।

নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে মাদাম কুরি ছাড়া অন্য কোনো মহিলা বিজ্ঞানী দু’বার নোবেল পুরস্কার পাননি।

আরও একটি কারণে মাদাম কুরি পরিবারের নাম নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

মাদাম কুরির বড় মেয়ে আইরিন জুলিও কুরি মায়ের মতোই স্বামী ফ্রেডারিক জুলিওর সঙ্গে যৌথভাবে রসায়ন শাস্ত্রে এই পুরস্কার অর্জন করেন।

এখানেই প্রতিভাদীপ্ত এ পরিবারের সাফল্যের শেষ নয়।

মাদাম কুরির কনিষ্ঠ কন্যা ইভ কুরির স্বামী হেনরি ল্যাবোসে ১৯৬৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

ভাবতে অবাক লাগে, এই পুরস্কারটি মাদাম কুরি পরিবারের সদস্যরা যেন নিজস্ব করে নিয়েছিলেন।

মনোনয়ন পেয়েও নোবেল পুরস্কার পাননি যারা

নোবেল
পাঁচবার মনোনীত হয়েও নোবেল পুরস্কার পাননি মহাত্মা গান্ধী।

মনোনয়ন পেয়েছেন অনেকবার কিন্তু নোবেল পাননি এমন ব্যক্তির সংখ্যা কম নয়। এদের মধ্যে প্রথমে আসে রুশ ঔপন্যাসিক লিও টলস্টয়ের নাম। ১৯০১ সালে যখন এই পুরস্কার দেওয়া শুরু হয় তখনই তিনি সাহিত্য বিভাগে নোবেল পাওয়ার জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। এর পরের বছর অর্থাৎ ১৯০২ সালেও টলস্টয়কে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার জন্য মনোনীত করা হয়। এরপর আসে মহাত্মা গান্ধীর নাম। ১৯৩৭, ১৯৩৮, ১৯৩৯ ও ১৯৪৭ সালে গান্ধীকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার জন্য মনোনীত করা হয়। কিন্তু প্রতিবারই তার নাম বাদ দেওয়া হয়। এমনকি মহাত্মা গান্ধী মারা যাওয়ার পর ১৯৪৮ সালেও তাকে পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। অথচ সেবারও তাকে পুরস্কারপ্রাপ্তির সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত করা হয়। এমনকি অনেকবার মনোনীত হওয়ার পরও এই মহামূল্যবান পুরষ্কারটি পাননি ফ্রয়েড।

নোবেল বিজয়ীদের বয়স

নোবেল পুরস্কারের ছ’টি বিভাগ একসঙ্গে ধরলে পুরস্কার জয়ের সময় নোবেল বিজয়ীদের বয়স দাঁড়ায় গড়ে ৫৯ বছর৷ বিজ্ঞান বিষয়ক নোবেলগুলির ক্ষেত্রে বিজয়ীদের গড় বয়স ৫৭, চিকিৎসাবিদ্যায় আরো কম, ৫৫ বছর। নোবেলের ইতিহাসে তরুণতম বিজয়ী ছিলেন লরান্স ব্র্যাগ, যিনি ১৯১৫ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পান৷ তখন তাঁর বয়স ছিল ২৫ বছর৷ কিন্তু এখন সেই স্থান দখল করেছেন মালালা ইউসুফজাই। যিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে নোবেল পুরস্কার পান। অপরদিকে বিজ্ঞান বিষয়ক নোবেলগুলির ইতিহাসে প্রবীণতম বিজয়ী হলেন ৮৮ বছর বয়সি পদার্থবিদ রেমন্ড ডেভিস জুনিয়র৷ তবে তার চাইতেও বেশি বয়সের মানুষ এই পুরস্কার জিতেছেন, যেমন দুই অর্থনীতিবিদ লেওনিড হুরউইৎস ও লয়েড শেপলি, যাদের বয়স ছিল ৯০ এবং ৮৯৷

এয়ারপোর্টে নোবেলজয়ীর বিপত্তি

২০১১ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল বিজয়ী ব্রায়ান শ্মিট তার স্বর্ণের পদকটি এয়ারপোর্টের চেকিং থেকে বের করতে বেশ বেগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।

ব্রায়ান ডার্ক এনার্জির অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারার জন্য এই পদকে ভূষিত হন।

তিনি বলেন, “আপনি যত বড় মাপের পদকপ্রাপ্ত হন না কে, এয়ারপোর্টে আপনার নিস্তার নেই।”

কারাগারে থেকে নোবেলজয়ী

তিনজন নোবেল বিজয়ী তাদের পুরস্কারের খবর জানতে পেরেছিলেন কারাগারে থাকাকালীন সময়ে। এদের প্রত্যেকেই নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন শান্তি স্থাপনের জন্য।

তাদের তিনজন হলেন জার্মান সাংবাদিক কার্ল ভন অজিটস্কি (১৯৩৫ সাল), বার্মিজ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অং সান সু চি (১৯৯১ সাল) এবং চৈনিক মানবাধিকার কর্মী লিও জিয়াওবো (২০১০ সাল)।

অং সান সু চির নোবেল পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন তাঁর এই পুরস্কার ফিরিয়ে নেয়া হোক।

এ বিষয়ে আপনাদের মতামত আশা করছি। ইচ্ছে করলে নিচে কমেন্ট করতে পারেন।

আমাদের সাথেই থাকুন ফিরে আসব নতুন কোন তথ্য নিয়ে।