উদ্যোক্তা হতে হলে চলতে হবে কিছু কঠিন পথে

উদ্যোক্তা

বাংলাদেশের অধিকাংশ তরুণ আজ উদ্যোক্তা হতে চায়। অনেকে উদ্যোক্তা হয়ে সফল হতে না পেরে ভাগ্যের দোষ দিয়ে ছেড়ে দেন সকল প্রচেষ্টা। আজ যারা সফল উদ্যোক্তাদের খাতায় নাম লিখিয়েছেন তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে জানা যায় তারাও খুব সহজে অথবা জলদি কোন সফলতার দেখা পাননি। উদ্যোক্তা হিসেবে সফলতার জন্য  চলতে হবে কিছু কঠিন পথে। মেনে চললে আপনিও হতে পারেন একজন সফল উদ্যোক্তা।

উদ্যোক্তা হতে লক্ষ্য স্থির করুন

আপনি একজন পরিশ্রমী মানুষ এবং আপনি উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সব ধরণের কষ্টই সহ্য করতে প্রস্তুত। কিন্তু আপনি জানেন না আপনি কি নিয়ে উদ্যোক্তা হবেন। তাই আপনার প্রথম কাজ হল লক্ষ্য ঠিক করা। আপনি আসলে কি দিয়ে প্রথম পদক্ষেপটা নেবেন সেটাতে অনেক কিছু নির্ভর করে।

তাই প্রথমে কি করতে চান সেটা ঠিক করুন। এখানে আপনার ভাল লাগাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন।

বাজার বিশ্লেষণ করুন

ধরুন আপনার মুরগীর ব্যবসা করার ইচ্ছা কিন্তু আপানাকে খেয়াল করতে হবে বাজারে অনেক ভাল ব্যবসায়ী আছেন যারা ইতোমধ্যে খুব ভাল অবস্থানে আছেন। সুতরাং আপনি এই প্রতিযোগিতায় গেলে ভাল কিছু করতে পারবেন না। এমন কিছু বেছে নিন যা আমাদের দেশে এখন ভাল কোন দিক পায়নি। ইচ্ছে করলে আপনি ঘরে বসে মাছ অথবা পাখি চাষ করতে পারেন। মাছ হিসেবে রঙিন মাছ বেছে নিতে পারেন। মানুষ এখন খুব সৌখিন, ঢাকার অধিকাংশ বাসায় অ্যাকুরিয়াম দেখা যায়। সুতরাং আপনি ভাল একটি বাজার পেতে পারেন। পাখির ক্ষেত্রেও একি রকম পরামর্শ নিতে পারেন।

উদ্যোক্তা হতে হলে বড় ভাবে শুরু করার কোন দরকার নেই

প্রথমে পরীক্ষামূলক ভাবে অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করুন। যাই করবেন সেটাতে যে প্রথমেই সফলতা আসবে এমন ভাবা ঠিক নয়।

ধৈর্য রাখুন

আগেই বললাম সফলতা একেবারে আসেনা। তাই ধৈর্য হারালে চলবে না। বিফলতাই সফল হওয়ার পথ সুগম করে। চেষ্টা চালিয়ে যান।

খেয়াল করুন আপনার কোন ভুলের কারণে সফলতা আসছে না। দরকার হলে এ ব্যাপারে অভিজ্ঞদের সাহায্য নিন।

সৎ থাকুন এবং সংযমী হন

আপনি যদি সঠিক পথে কষ্ট করতে থাকেন আপনার জীবনে সফলতা আসবেই। কিন্তু সফলতার মোহ যেন আপনাকে অন্ধ না করে তোলে সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। অর্থের মোহ মানুষকে অমানুষ করে তুলতে পারে। প্রবাদে আছে – অর্থই অনর্থের মূল। আপনার যেন সে দুর্ভাগ্য না হয়।

অর্থের সঠিক ব্যবহার সফল উদ্যোক্তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। নিজের কাজের পরিসরকে বাড়ানোর জন্য আপনার লাভের অংশকে কাজে লাগান।

পরিশেষে বলব, সকল নতুন উদ্যোক্তাদের অভিনন্দন জানাই। উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে দেশের অনেক বেকার মানুষের কর্মসংস্থান বেড়ে গিয়েছে।

আপনি যদি এই লেখাটি পড়ে এতটুকু উপকৃত হন তাহলেই আমাদের কষ্টসাধ্য হবে।

অতিরিক্ত ব্যায়াম কি স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ?

অতিরিক্ত

একটা জিনিস লক্ষ্য করলে দেখবেন বিংশ শতাব্দীতে অধিকাংশ মানুষ স্থুলতার শিকার। এতে নিজের দোষ তো আছে বটেই সাথে সাথে আমাদের বাজারের খাবারেরও দোষ আছে। যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষ স্থুল। এখন অনেকেই এই স্থুলতা থেকে বের হয়ে আসতে চায়। খুব কম সময়ে ওজন কমাতে ব্যস্ত হয়ে যায়। তাই অতিরিক্ত ব্যায়াম করা শুরু করে। আমরা শুনে এসেছি যে যত বেশি ব্যায়াম করে তার স্বাস্থ্য তত ভাল থাকে। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় ভিন্ন ধরণের কথা শনা যাচ্ছে। অতিরিক্ত ব্যায়াম স্বাস্থ্যের জন্য হানীকারক হতে পারে। আসুন জেনে নেই কেন এমন বলা হয়।

দ্যা ল্যানসেট সাইক্রিয়াট্রিতে প্রকাশিত একটা গবেষণায় জানা গেছে, যে সকল মানুষ সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচ দিন শরীরচর্চা করেন তাদের মানসিক অবস্থা, যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন তাদের তুলনায় ভালো থাকে। যারা প্রতিদিন শরীরচর্চা করে তাদের মধ্যে অবসেশন দেখা যায় যা খারাপ মানসিক স্বাস্থ্যের লক্ষণ।

ইউএসের ইয়েল ইউনিভার্সিটির সহ অধ্যাপক অ্যাডাম চেকউর্ড জানান, “আগে মনে করা হত, যত বেশি শরীরচর্চা করা যাবে মানসিক স্বাস্থ্য তত ভালো থাকবে। কিন্তু আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে আসলে তা ঘটে না।”

তিনি আরও জানান, “মাসে ২৩ বারের বেশি শরীরচর্চা করলে বা দিনে ৯০ মিনিটের বেশি শরীরচর্চা করলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পরে।”

গবেষণার জন্য ইউএসের পঞ্চাশটা রাজ্যের বিভিন্ন ধরনের শারীরিক কসরত, শিশুর দেখভাল, বাড়ির কাজকর্ম, বাগান পরিচর্যা, মাছ ধরা, সাইকেল চালানো, জিম করা, দৌড়ানো, স্কিইং ইত্যাদিতে অংশগ্রহণকারী ১.২ মিলিয়ন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে নিয়ে পরীক্ষা করা হয়।

অতিরিক্ত ব্যায়াম কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়

অ্যারোবিক শরীরচর্চা যেমন- সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা এবং দৌড়ানো ইত্যাদি কাজে যদি নিজের কর্মক্ষমতার ঘাটতি দেখতে পান তাহলে বুঝতে হবে অতিরিক্ত পরিশ্রম হচ্ছে। পরিশ্রম খুব বেশি হলে তা মানুষের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

শক্তি কমে যায়

যদি সাধারণ মাত্রায় শরীরচর্চা করতে না পারেন অথবা সবসময় শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত অনুভব করেন তাহলে বুঝতে হবে শরীর ক্লান্ত।

আপনার পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন।

অতিরিক্ত ব্যায়াম মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়

প্রিভেন্টেটিভ মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণার ফলাফল থেকে জানা যায়, সপ্তাহে যদি সাড়ে সাত ঘন্টার চেয়ে বেশি সময় শরীরচর্চা করা হয় তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়া, হতাশা এবং মানসিকভাবে দুর্বল বোধ করতে পারে।

অতিরিক্ত পরিশ্রম করা শরীরকে দ্বিধা, উদ্বেগ, রাগ এবং ‘মুড সুইং’য়ের মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

অতিরিক্ত ব্যায়াম ঘুমের ক্ষতি করে

পরিশ্রম করলে শরীর ঠিক থাকে এবং রাতে ভালো ঘুম হয়। তবে অতিরিক্ত পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা হলে সারা রাত খুব অস্থিরতার মধ্যে কাটে এবং ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে।

অস্থি সন্ধিতে ব্যাথার সৃষ্টি হয়

ব্যায়ামের পর পেশি পুনর্গঠনের জন্য সময় দেওয়া প্রয়োজন। না দিলে শরীরে ব্যাথা হয় যা দৈনন্দিন কাজ কর্মে বাধা তৈরি করে। পাশাপাশি বাজে অনুভূতির সৃষ্টি হয়।

প্রস্রাবের রং পরিবর্তন হয়

শারীরিক পরিশ্রমের পরে যদি প্রস্রাবের রং পরিবর্তন দেখতে পান তাহলে বুঝতে হবে এটা ‘রাহবডোমায়োলাইসিস’ অবস্থার লক্ষণ। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পেশির কোষ রক্তে মিশে যায়।  ফলে কিডনির সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

হৃদপিণ্ডে সমস্যা হতে পারে

জার্মান বিজ্ঞানীদের গবেষণা থেকে জানা গেছে যে, যারা অতিরিক্ত পরিশ্রম করে তাদের হৃদরোগ এবং স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

অনলাইন জার্নাল ‘হার্ট’ -এ প্রকাশিত সুইডিশ বিজ্ঞানীদের এক গবেষণা থেকে জানা যায়, যারা ধ্যানজাতীয় শারীরিক পরিশ্রম করেন তারা বৃদ্ধাবস্থায় হৃদযন্ত্রের অনিয়মিত গতিকে পাঁচ গুণ বেশি উন্নত করতে পারেন।

রজঃচক্রের অনিয়ম ঘটে

অতিরিক্ত পরিশ্রম করা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে রজঃচক্রের অনিয়ম শুরু হতে পারে। যা ‘অমিনোরিয়া’ নামে পরিচিত। এর ফলে ইস্ট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

পরিণতিতে অস্টিওপোরোসিস নামক রোগের সৃষ্টি হয়।

হৃদস্পন্দনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়

হৃদযন্ত্র খুব বেশি চাপে থাকলে এর স্পন্দনের মাত্রা বেড়ে যায়।

সকালে হৃদস্পন্দনের মাত্রা পরিমাপ করা হলে এর পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে পারবেন।

হৃদস্পন্দনের মাত্রা সাধারণের চেয়ে বেশি হলে বুঝতে হবে শারীরিক পরিশ্রম বেশি হচ্ছে।

ভালোবাসার সাগরে সাঁতরাচ্ছেন কিনা বুঝবেন কি করে?

ভালোবাসার

পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী আর পবিত্র অনুভূতির নাম ভালোবাসা। বাংলায় ভালোবাসা, হিন্দিতে পিয়ার আর উর্দুতে বলা হয় মুহাব্বত। বাবা, মা, ভাই, বোন আর পরিবারকে জন্মের পর থেকেই আমরা ভালোবাসি। কিন্তু মানব জিবনে একটা নির্দিষ্ট বয়সে ভালোবাসার সুরটা যেন পাল্টে যায়। অনেকে তরুণ হওয়ার পরেও এই অনুভূতির সাথে পরিচিত হন না। তাই বুঝতেও পারেন না যে তিনি প্রেমে পরেছেন বা কাউকে ভালবেসেছেন কিনা। তাদের জন্যই আজকের এই লেখা। আশা করি লেখাটি আপনাকে উপকৃত করবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ১- প্রথম দেখা

ভালোবাসার

আপনি প্রথম যেদিন তাকে দেখেছেন সেই দিনের কথা আপনি চাইলেও ভুলতে পারবেন না। সেদিন সে কি পড়ে এসেছিল, কিভাবে কথা বলেছিল, কোন বিষয়ে কথা হয়েছিল সব কিছুই আপনার মনে থাকবে। সেদিনের কথা আজও মনে আসলে আপনার মনে একটা সুন্দর ভালো লাগার অনুভূতি ছড়িয়ে যাবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ২- অবসরে তার স্মৃতি বার বার চোখের সামনে আসবে

ভালোবাসার

একা যখন বসে বই পরছেন তখন হয়ত গল্পের কোন চরিত্র পছন্দ হলে তার সাথে মিলিয়ে ফেলবেন। গান শুনলে তার সাথে কাটানো কোন মুহূর্ত মনে পড়ে যাবে। অবসরে তার কথা ভাবতে আপনার ভীষণ ভালো লাগবে। একা একা হয়তবা তখন হেসেই দিবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৩- সব সময় তাকে সুরক্ষিত দেখতে চাইবেন

ভালোবাসার

আপনার প্রিয় মানুষটি যেন সবসময় সুরক্ষিত থাকে সে ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকতে দেখা যাবে আপনাকে। তার সুবিধা-অসুবিধাটা আপনার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাবে। আপনি চাইবেন তাকে যেন কোনভাবে বিপদ স্পর্শ না করে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৪- গায়ের গন্ধ

ভালোবাসার

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত আপনার পছন্দের মানুষটির গায়ের গন্ধ আপনার অনেক ভালো লাগবে।

এমন হতে পারে তার ঘামের গন্ধ আপনার কাছে খুব প্রিয়। তার ব্যবহৃত জিনিস ব্যবহার করতে আপনার খুব ভালো লাগবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৫- সে অসুস্থ হলে আপনি অনেক বেশি চিন্তিত হয়ে যাবেন

ভালোবাসার

তার ছোট ছোট অসুস্থতা আপনাকে অনেক বেশি চিন্তিত করে ফেলবে। অনেক বার ফোন দিয়ে খোঁজ নেবেন।

যদি তার সাথে কথা বলতে না পারেন তাহলে অন্য কারো মাধ্যমে তার বিষয়ে খোঁজ নেবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৬- তার সামনে নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে চাইবেন

ভালোবাসার

পৃথিবীর অন্য মানুষগুলোর সামনে আপনি কি সেটা আপনার মাথায় আর কাজ করবে না। মাথায় শুধু এটাই থাকবে তিনি আপনাকে কিভাবে দেখছেন।

তার সামনে সব সময় নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৭- মনের সব কথা তাকে বলতে ইচ্ছে করবে

ভালোবাসার

আমাদের মনের ভেতর নানা ধরনের কথা থাকে, সুপ্ত ইচ্ছা থাকে সেগুলো তার সাথে বলতে ভালো লাগবে।

সেটা পূরণ হোক বা না হোক ইচ্ছে করবে তাকে বলতে। তার সাথে আপনার সব পরিকল্পনা ভাগ করতে ভালো লাগবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৮- মানুষটির সাথে সময় পার করলে হিসেব থাকবে না আপনার

ভালোবাসার

অনেক মানুষ আছে যাদের সাথে থাকলে মনে হবে সময় এত বড় কেন? মিনিটকে মনে হয় ঘণ্টার সমান। কিন্তু এই বিশেষ ব্যক্তিটির সাথে সময় কাটালে মনে হবে, সময় অনেক দ্রুত চলে যায়। তার সাথে কথা বলা শেষে ঘড়ি দেখলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৯- অন্য কারো সাথে থাকলে ঈর্ষা অনুভব করবেন

ভালোবাসার

আপনার বিশেষ মানুষটি অন্য কারো সাথে যদি কাজেও একটু ব্যস্ত থাকে তাহলে আপনার ঈর্ষা অনুভূত হবে।

বিপরীত লিঙ্গ হলেই যে সেখানে খারাপ অনুভূতি হবে তা নয়। আপনার মনে হবে এতো টুকু সময় তো আপনার সাথে থাকতে পারতেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ১০- সে যদি আপনাকে নাও ভালোবাসে তবুও তার শুভকামনা করা

ভালোবাসার

সবাই ভালোবাসা চায়, কিন্তু এটা সবার ভাগ্যে থাকেনা। দুর্ভাগ্যবশত আপনার প্রিয় ব্যক্তিটি যদি অন্য কাউকে ভালোবাসে তাহলেও তার প্রতি ভালোবাসা বা শ্রদ্ধা এতোটুকু কমবে না। যদি আপনি তখন প্রতিশোধ নিতে চান অথবা আত্মহত্যার মত ঘৃণ্য কোন পদক্ষেপ নিতে চান তাহলে বলতেই হবে আপনি সত্যিকারের ভালোবাসার দেখা পাননি।

ভালোবাসার লক্ষণ ১১- জীবনকে মনে হবে ছোট আর অনেক দিন বাঁচতে ইচ্ছে করবে

ভালোবাসার

তাকে দেখার পর থেকে মনে হবে জীবন এতো ছোট কেন, এতো দ্রুত সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে কেন। মনে হবে কেন আরও আগে তার সাথে দেখা হল না।

জিবনে তখন বাঁচার কোন কারণ না থাকলেও আপনার খুব বাঁচতে ইচ্ছে করবে। মনে হবে জীবনটা অনেক সুন্দর।

ভালোবাসার লক্ষণ ১২- তার সাথে কোন কথা গোপন রাখতে পারবেন না

ভালোবাসার

কোন কথাই আপনি তার থেকে লুকাতে পারবেন না। তার সাথে কথা ভাগাভাগি করলে আপনি মানসিকভাবে শান্তি পাবেন।

তার বিষয়ে কোন ভুল ধারণা থাকলে অথবা তার বিষয়ে কোন কটু কথা শুনলে তা কখন মনে পুষিয়ে রাখতে পারবেন না।

কারণ আপনি বিশ্বাস করেন সে অনেক ভালো।

আরও অনেক লক্ষণ আছে যেগুলো দিয়ে বোঝা যায় আপনি কাউকে ভালোবাসেন কিনা। আজ কয়েকটি উপায় আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম।

এর ভেতর যদি একটিও মিলে যায় তাহলে কিন্তু আপনি সত্যি সত্যি প্রেমে পরেছেন অথবা অনেক ভালোবাসেন তাকে।

নিজের অনুভূতি সম্পর্কে জানুন। এবং আপনার ভালোবাসার মানুষকে অনেক বেশি ভালোবাসা উপহার দিন।

অভিভাবক-দের উদ্দেশ্যে কিছু জরুরি কথা।

অভিভাবক

“বাবা-মা”

আমি তোমাদের অনেক কষ্ট দিয়েছি। আমার কারণে তোমারা কারো কাছে মুখ দেখাতে পারছ না। আমি শুধু তোমাদের কষ্টই দিলাম। বিশ্বাস কর আমি অনেক পড়েছিলাম কিন্তু কি হল বুঝতে পারলাম না। রেজাল্ট শোনার পর থেকে মনে হচ্ছিল পৃথিবীটা কেমন দুলছে। একটু আগে তোমারা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলছিলে যাই রেজাল্ট হোক। দুশ্চিন্তা কর না। সেই তোমরা হঠাৎ করে কেমন যেন হয়ে গেলে। আমাকে একটুও বুঝলে না। আমি কি এতই খারাপ যে আমার কথাটাও শুনলে না? আমি আর তোমাদের কষ্ট দিতে চাইনা। আজকের পর থেকে আমাকে নিয়ে আর তোমাদের লজ্জা পেতে হবে না। ভালো থেকো তোমরা।

ইতি

তোমাদের…।

চিঠিটা কি পরিচিত লাগছে আপনাদের কাছে?

২০১৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের পর বেড়েছে আত্মহত্যার সংখ্যা। অনেক ছোট ছোট ভাইবোনেরা চলে গেছে না ফেরার দেশে। অনেকে আত্মহত্যা করেছে এ প্লাস না পেয়ে অনেকে আত্মহত্যা করেছে ফেল করে। ওদের এই চলে যাওয়ার পেছনে কাদের দায়টা সবচেয়ে বেশি? বলতে পারবেন??

আমাদের বয়স যখন স্কুলে পড়ার তখন থেকে প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দেন অভিভাবক। “তোমাকে এই স্কুলে পড়তেই হবে”। অনেকে কাঙ্ক্ষিত স্কুলে পড়ানোর জন্য ক্লাস ড্রপ দেয়ায় নিজের সন্তানকে। তখন এটা মাথায় একবারও আসে না সে কি অনুভব করছে? সে কি এতো চাপ নিতে পারবে? সেই যে শুরু হয় শিক্ষা যুদ্ধ তা চাকরি যুদ্ধে গিয়েও যেন শেষ হতে চায় না।

প্রতি ক্লাসে তোমাকে প্রথম হতে হবে। ও পারলে তুমি কেন পারবে না? এমন হাজারও প্রশ্নের ভেতরে সন্তানের মনের কথা শোনার মত সময় কারো থাকে না। তাই হয়তো তাদের মৃত্যুর পর তাদের কথা গুলো চিঠির মাধ্যমে দেখতে পান। কোন ছাত্র যদি পরীক্ষায় ১০০ তে ৫০ পায় তাহলে তাকে বকা অথবা অপমান না করে এটা অনুসন্ধান করুন সে কেন কম পেয়েছে? কম পাওয়ার কয়েকটা কারণ থাকাতে পারে। যেমনঃ

১। ঐ বিষয়ে সে মনোযোগী ছিল না।

২। সে ফাঁকি বাজি করেছে।

৩। তার এই বিষয়ে পড়তে ভালো লাগে না।

৪। কোন কারণে সে মানসিক ভাবে ভালো নেই।

উপরের কারণ গুলোর ভেতরে শুধু ২ নম্বর কারণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের বকা দেয়া হয়। কিন্তু কখন বাকি গুলো নিয়ে চিন্তা আসে না। সব গুলো বিষয় নিয়ে তার সাথে কথা বলা দরকার। বকা দিয়ে কখন কোন ভালো কিছু হয় না। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় প্রতিটি শিক্ষার্থী এক ভিন্ন মানসিকতার মধ্য দিয়ে যায়। খুব নড়বড়ে থাকে চিন্তা চেতনাগুলো। উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল অনেক কিছু নির্বাচন করে দেয়। ফলাফল পেয়ে তাই অনেকে হতাশায় পরে যায়। সেই মুহূর্তে তার পাশে না দাড়িয়ে তার সাথে অপমানসূচক কথা বলা সত্যি নির্মম।

পাড়া-প্রতিবেশী এবং আত্মীয়রা বিভিন্ন ধরনের উস্কানিমূলক কথা বলে ফেলেন কোন আশানুরূপ ফল না পাওয়া অভিভাবক দের সাথে। একবার কি এটা তাদের মাথায় আসে না এই কথা গুলোর প্রভাব অন্য কারো উপর আসতে পারে।

সবচেয়ে অবাক লাগে যখন তাদের কথা শুনে আমাদের অভিভাবক খারাপ ব্যাবহার করেন। যারা আপনার সন্তানকে খাওয়ায় না, পড়ায় না তাদের কথা শুনে আপনি আপনার সন্তানের সাথে খারাপ ব্যাবহার করেন, মারধর করেন। একজন শিক্ষার্থী যখন খারাপ ফলাফলের পর মাথা নিচু করে থাকে তখন তাকে আর কি বলার থাকতে পারে। সে যদি যথেষ্ট পরিশ্রম করে থাকে তাহলে তার ফলাফলে আপনি তার চেয়ে বেশি দুখী হতে পারেন না। সুইসাইড নোটগুলো পড়ে অনেক বেশি খারাপ লেগেছে অভিভাবকদের কথা ভেবে। আপনারা কি সন্তানকে আর একটা সুযোগ দিতে পারতেন না। আপনাদের সন্তান আপনাদের ভবিষ্যৎ। তাদের অবহেলা করবেন না।

আপনারা ক্ষমা না করলে আর কেউ নেই পৃথিবীতে ক্ষমা করার। সৃষ্টিকর্তার পর আপনারাই সন্তানের কাছে সব কিছু।

আপনি যদি চেষ্টা করেন তাহলে খুব সহজেই আপনার সন্তানের বন্ধু হতে পারেন। রাগ দেখিয়ে আপনি তাকে হয়তো বাধ্য রাখতে পারবেন, ভয় দেখাতে পারবেন। কিন্তু সে আপনাকে কখন বন্ধু ভাববে না। আর এটাই সবচেয়ে বড় ভুল। ভালবাসা দিয়ে একবার বলেই দেখুন সে আপনার জন্য কি করতে পারে।

আজ সারাবিশ্বে আইএস সন্ত্রাসীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। এই সংগঠনটির মূল নিশানা তরুণ তরুণী। কারণ এই সময় একজন মানুষের মানসিক অবস্থা দোদুল্যমান থাকে। খুব সহজে তাদের প্ররোচিত করা যায়। অভিভাবকরা যদি একটু সচেতন হতেন তাদের সন্তানের ব্যাপারে তাহলে আজ নিবরাস ইসলাম, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ  এর মত জঙ্গিদের সৃষ্টি হতনা। হলি আর্টিজানের  হামলায় অভিভাবকদের অবহেলা এবং সচেতনতা দুই দিকই ফুটে উঠেছে।

বাবামায়ের ভালবাসার উদাহরণ যেখানে আয়াজের মত বীর সেখানে অবহেলার উদাহরণ হিসেবে আছে নিবরাসের মত জঙ্গি। এখানে দুজনের বয়সই একরকম।