কেন মারভেল থেকে চলে যাচ্ছেন “ক্যাপ্টেন আমেরিকা” ?

ক্যাপ্টেন

দ্য মারভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স ২০০৮ সালে ‘আয়রন ম্যান’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ২০১১ সালে মুক্তি পায় ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’। সেখানে আমরা পরিচিত হই স্টিভ রজার্সের সাথে। তাকে ভয়ানক যোদ্ধা বানানোর জন্য শরীরে একটি ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। বিজ্ঞানীরা ভেবেছিলেন যে স্টিভ হয়তবা নিতে পারবে না ওই ওষুধটা হয়তবা মারা যাবে। শরীরে যখন ওষুধ স্টিভ এত ভয়ঙ্কর ব্যথার মধ্যে থেকেও বলেছিলেন, “থামিয়ো না। আমি নিতে পারব।” বাকি ইতিহাস জানতে হলে আপনাকে কষ্ট করে ‘ক্যাপ্টেন অ্যামেরিকা: দ্য ফার্স্ট অ্যাভেঞ্জার’ দেখতে হবে।

যারা এই মুভিটি দেখেছেন তারা নিশ্চয়ই জানেন আমি কার কথা বলছি। হ্যাঁ আমাদের সবার প্রিয় ক্রিস ইভান্সের কথাই বলছিলাম এতক্ষণ। ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: দ্য ফার্স্ট অ্যাভেঞ্জার’ থেকে শুরু করে সিরিজের ১০ টি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। মারভেল মুভিজের ২২তম ছবি ‘অ্যাভেঞ্জারস ফো’-এর মধ্য দিয়ে এ সিরিজ থেকে বিদায় নিচ্ছেন তিনি। হ্যাঁ আপনারা ঠিকই শুনছেন। আমরা আর কখনো তাকে ক্যাপ্টেন আমেরিকার ওই ঢাল অথবা পোশাকে দেখব না। গত বৃহস্পতিবার একটি টুইটারের মাধ্যমে ক্যাপ্টেন আমেরিকা চরিত্র থেকে নিজের বিদায়ের খবর জানান তিনি। কয়েকদিন আগেই সুপারম্যানের চরিত্রের পরিবর্তন ঘটলো। হয়তবা এভাবে আমাদের অনেক পরিচিত এবং প্রিয় মানুষগুলোকে আর পছন্দের চরিত্রে দেখতে পারব না। দ্য ফার্স্ট অ্যাভেঞ্জার’ থেকে শুরু করে সিরিজের ১০টি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।

টুইটারে তিনি লিখেছেন, “আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অ্যাভেঞ্জারস ফোর’ শেষ। পুরোনো দিনগুলো ভীষণ আবেগপূর্ণ। ক্যামেরার সামনে-পেছনের যত মানুষ এবং দর্শক, সবাইকে ধন্যবাদ জানাই স্মৃতিগুলোর জন্য। চিরকাল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

তাঁর এই টুইট-এর পর মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল দেখার মত। আপনাদের জন্য রইল তার কিছু ঝলক।

ক্যাপ্টেন

ক্রিসের এমন হঠাৎ প্রস্থান অবাক হওয়ার মত কিছু নয়। কারণ তিনি আগেই বলেছেন, “কেউ ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার আগেই নিজে থেকে বের হয়ে যাওয়া উত্তম”। এভাবে অনেক চরিত্রের ইতি ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আসলে এরপর কি হবে তা জানতে হলে সবাইকে পরের বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

কমিক চরিত্রে ক্যাপ্টেন আমেরিকা ছাড়াও তিনি ২০০৫ ও ২০০৭ সালে জেসিকা আলবার সঙ্গে ‘ফ্যানটাসটিক ফোর’-এর দুটি ছবিতে কাজ করেছিলেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন কড়া সমালোচক। গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পুতুল বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।

বিদায় ক্যাপ। পর্দায় ক্যাপ্টেন হিসেবে না দেখা গেলেও কোটি কোটি মানুষের মনে চিরকাল ক্যাপ্টেন-ই থাকবেন আপনি।

নতুন কোনো ট্যাক্স আরোপ করা হবে না। বাজেট নিয়ে অর্থমন্ত্রী

বাজেট

আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। বাজেট পেশ উপলক্ষে অধিবেশন কক্ষ ছিলো কানায় কানায় পূর্ণ। সংসদ গ্যালারি থেকে ভিআইপি লাউঞ্জের সর্বত্রই ছিল উপচে পড়া ভীড়। বেলা ১২টা ৫৩ মিনিটে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিজের জীবনের দ্বাদশতম বাজেট প্রস্তাবনা পড়া শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

‘সমৃদ্ধ আগামী পথযাত্রায় বাংলাদেশ’-এ শিরোনামের বাজেট বক্তৃতা ৪টা দুই মিনিটে শেষ হয়। বক্তৃতার মাঝে ৩০ মিনিটের জন্য অধিবেশনের বিরতি দেওয়া হয়।

বাজেট বক্তৃতা শেষে পুনরায় নিজ আসনে দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রী সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, ‘আমি পুরো বক্তব্যটি দাঁড়িয়ে দিতে পারিনি। রোজার মাসে অনেক নিয়মও আমি মানতে পারিনি। শুধুমাত্র বয়সের কারণে এটি করতে হয়েছে। এ জন্য সবার কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থী।’

১৭-১৮ এর বাজেটে কিছু পণ্যের ওপর স্থানীয় পর্যায়ে ও আমদানিতে শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও রেগুলেটরি ডিউটি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাবে।

৭ জুন, বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মহিত এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেন।

অগ্রিম ভ্যাট বাড়ছে আমদানিতে

বাজেট

আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম ভ্যাট ও ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট ৪ থেকে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। আমদানিতে এর প্রভাব পড়বে। বর্তমানে প্রায় ১১০০ ধরনের পণ্য আমদানি হয়, যেখানে ভ্যাট দিতে হয়।

ফার্নিচারের দাম বাড়বে

বাজেট

আসবাবপত্র উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে ১ শতাংশ করে ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে আসবাবপত্র উৎপাদন পর্যায়ে ৬ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হয়। আগামী অর্থবছর থেকে তা ৭ শতাংশ হারে প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। আর বিপণন পর্যায়ে ৪ শতাংশ ভ্যাট পরিবর্তন করে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।

পোশাক

বাজেট

বর্তমানে নিজস্ব ব্র্যান্ড সংবলিত তৈরি পোশাক বিক্রিতে ৪ শতাংশ হারে ভ্যাট আছে। সরকার আগামী অর্থবছর থেকে এ খাতে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রস্তাব করেছে। এ ছাড়া স্থানীয় বাজারে বিক্রির জন্য ব্র্যান্ডবিহীন পোশাক পণ্য বিপণনের ক্ষেত্রেও ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ হবে।

ছোট ফ্ল্যাট

বাজেট

ছোট ফ্ল্যাট (১ থেকে ১১০০ বর্গফুট) কেনায় খরচ বাড়তে পারে। আর মাঝারি (১১০১ থেকে ১৬০০ বর্গফুট) ফ্ল্যাট কেনার খরচ কমতে পারে। কারণ বর্তমানে ১ থেকে ১১০০ বর্গফুট পর্যন্ত ফ্ল্যাট নিবন্ধনে ১ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। আর ১১০১ থেকে ১৬০০ বর্গফুট পর্যন্ত ফ্ল্যাট নিবন্ধনে ভ্যাটের হার রয়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে এই দুই ধরনের ফ্ল্যাটের নিবন্ধনে ২ শতাংশ হারে ভ্যাট নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

অবশ্য বড় ফ্ল্যাট (১৬০১ থেকে বেশি) নিবন্ধনের ভ্যাট হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। অবশ্য যারা পুরনো ফ্ল্যাট কিনবেন, তাদেরও খরচ বাড়তে পারে। কারণ নতুন অর্থবছরে পুরনো ফ্ল্যাট পুনঃনিবন্ধনে ২ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে।

 

তথ্যপ্রযুক্তি সেবায় ভ্যাট ৫ শতাংশ হচ্ছে

বাজেট

প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ প্রস্তাব করছেন অর্থমন্ত্রী। এতে এ খাতে ব্যয় বাড়বে। সম্প্রতি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা গ্রহণের মাত্রা বেড়েছে।

ই-কমার্স আসছে ভ্যাটের আওতায়

বাজেট

অনলাইনভিত্তিক যেকোনো পণ্য ও সেবার ক্রয়-বিক্রয় বা হস্তান্তর এ সেবার আওতাভুক্ত হবে। এই ভার্চুয়াল বিজনেস সেবার ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে এবারের বাজেটে।

ট্যারিফ ভ্যালু বাড়ছে অনেক পণ্যে

সরকার দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে ট্যারিফ ভ্যালু নির্ধারণ করে তার ওপর ভ্যাট আরোপ করে। ট্যারিফ ভ্যালু সাধারণত বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম হয়। ফলে একই হারে ভ্যাট আরোপ হলেও আমদানি পণ্যের চেয়ে দেশি পণ্যের ভ্যাট দিতে হয় কম।

আসছে বাজেটে বিভিন্ন পণ্যের ট্যারিফ ভ্যালু যৌক্তিকীকরণের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এতে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে- টমেটো পেস্ট, কেচাপ, সস, বিভিন্ন ফলের পাল্প, ফলের জুস, ব্যবহার অযোগ্য ট্রান্সফর্মার অয়েল, লুবব্লেন্ডিং অয়েল, বিভিন্ন ধরনের পেপার ও পেপার প্রোডাক্ট, কটন ইয়ার্ন বর্জ্য, ওয়েস্ট ডেনিম, স্ট্ক্র্যাপ/শিপ স্ট্ক্র্যাপ, সিআর কয়েল, জিপি শিট, সিআই শিট, রঙিন সিআই শিট, ব্লেড, চশমার ফ্রেম ও সানগ্লাস।

তিনি আরো বলেন, মানুষের স্বস্তি অনেক উচ্চ মাত্রায় আছে। দারিদ্র্য একেবারে দূর করা এত তাড়াতাড়ি সম্ভব নয়। তবে দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আনা গেছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আন্তরিকতায়। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকেই দারিদ্র্য বিমোচনের ওপর জোর দিয়ে আসছে। এজন্য সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনির আওতায় নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যা আগে কোনো দিন হয়নি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আদায় বাড়ছে। তবে তা আশাব্যঞ্জক নয়। রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি যা আশা করা হয়েছিল, তা হয়নি। হয়তো এটা উচ্চাশা ছিল। তবু অনেকটা উন্নতি হয়েছে। বিগত দুই বছরের চেয়ে ভালো হলেও আমার প্রত্যাশা ছিল আরো বেশি। আমি চেয়েছিলাম ২৫-২০ শতাংশ। এটা যদিও বেশি, তবে এটা চাওয়ার পেছনে কারণও ছিল। যারা আয়কর দেন তাদের বেশিরভাগের বয়সই ৪০ এর নিচে। যুব সম্প্রদায় আয়কর প্রদানে অত্যন্ত সচেতন। তারা মনে করে, এটা তাদের দায়িত্ব। এই দায়িত্ববোধ সবার মধ্যে জাগ্রত হলে আমাদের রাজস্ব আদায়ের হার আরো বেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, দিন দিন করদাতার সংখ্যা বাড়ছে। তবে আদায়ের হার আশানুরূপ বাড়ছে না। আমি আশা করছি, আগামী ২০২১ সালের মধ্যে আয়কর মূল্য সংযোজন করের কাছাকাছি চলে আসবে।

২০২০ সাল পর্যন্ত নতুন মূল্য সংযোজন কর কার্যকর করছি না। এটা কর্যকর হলে এ খাতে আয় আরো বাড়বে। বর্তমান মূল্য সংযোজন করের তিনটি স্ল্যাব থেকেই বেশিরভাগ কর আদায় হচ্ছে। এগুলো ৪, ৫ এবং ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর খুব কম আদায হয়। যা আইএমএফের শর্ত ছিল। এসব বিবেচনায় আর একটি স্ল্যাব বসানোর চিন্তা করা হচ্ছে। এটা কত হবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ২০১৮ সাল হবে একটি ভালো বছর। স্বস্তির বছর। আগামী বাজেট হবে গতানুগতিক। নতুন কোনো ট্যাক্স আরোপ করা হবে না।

চালের দাম নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এটা ব্যবসায়ীদের কারণে হয়েছে। এটা হওয়া উচিত না। আমরা চেয়েছিলাম, চালের দাম একটু বাড়ুক। যেন কৃষক দাম কিছুটা বেশি পায়। ৩৮ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে থাকা উচিত ছিল। ব্যবসায়ীরা সেটা ৬০ পর্যন্ত নিয়ে গেছে।

তবে এক্ষেত্রে সরকারের কোনো গাফিলতি নেই বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। তবে দাম শিগগিরই নেমে আসবে বলে জানান তিনি।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যেন এক মৃত্যুফাঁদ

ত্রিভুবন

১২ মার্চ ২০১৮ তে নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনাট। নিহত হয়েছে অন্তত ৪৯ জন। এদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন বাংলাদেশী। বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাইলটের সাথে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের কথপোকথনের সময় সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝি, বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি, পাইলটের ভুল ইত্যাদি নানান সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। সঠিক কারণ এখন বের করা সম্ভব হয়নি।

নেপাল দেশটি পর্যটনের জন্য বিখ্যাত। প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ এখানে ঘুরতে আসে পরিবার পরিজনদের নিয়ে। নেপাল আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ হওয়ার দরুন অনেক বাংলাদেশীরাই এখানে ঘুরতে যান।

ত্রিভুবনইউএস বাংলা ফ্লাইট বিএস ২২১ ফ্লাইটে করে যাচ্ছিলেন এমন অনেক ভ্রমণ পিয়াসু মানুষরা। বিমানবন্দরে অবতরণের আগে হয়তো মনে মনে পরিকল্পনা করছিলেন কিভাবে কোথায় ঘুরতে যাবেন। কিছুক্ষণের মধ্যে সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেলো।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বর্ণনা

নেপালের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হচ্ছে ত্রিভুবন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টটি। এই বিমানবন্দর ছাড়াও অনেকগুলো স্থানীয় বিমানবন্দর আছে।

এ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির অবস্থান রাজধানীর কেন্দ্র থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে কাঠমান্ডু উপত্যকায়।

সমুদ্র সমতল থেকে এর উচ্চতা ৪ হাজার ৪০০ ফুট এবং এর রানওয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্য।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিমানবন্দর বলার কারণ

এর চারিদিকে পাহাড়। প্রাকৃতিক কারণে বিমান অবতরণের সময় অনেক সমস্যা দেখা যায়। ঘটে যায় দুর্ঘটনা।

এখানে ‘ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম’ নেই। বিশেষ এই সিস্টেম থাকলে খারাপ আবহাওয়ার কারণে খালি চোখে রানওয়ে দেখা না গেলেও যন্ত্রের সাহায্যে রানওয়ের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

পর্বত ছাড়াও প্রায়ই ঘন কুয়াশা ঘিরে ফেলে ত্রিভুবন বিমানবন্দরকে। এ কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় বিপত্তিতে পড়তে হয় পাইলটদের।

কিন্তু বিমান সংস্থাগুলো লাভের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ এই বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা করে।

এখানে অবতরণের সময় প্রধান বাধা একটি বিশাল পাহাড়, এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮৭০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। নয় মাইল দূরে রয়েছে এই পাহাড়।

এ জন্য এই রানওয়েতে কোনো বিমানই সোজা অবতরণ করতে পারে না। ওই পাহাড় পেরোনোর পরপরই দ্রুত বিমান অবতরণ করাতে হয়।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা নিয়ে ডুমুরফুলের কিছু কথা

ত্রিভুবন

ইউএস বাংলা ফ্লাইট বিএস ২২১ ফ্লাইটটি ধ্বংস হওয়ার কারণ হিসেবে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অনেকাংশেই দায়ী।

কিন্তু ৪৯ টি প্রাণের আলো নিভে যাওয়ার দায়ভার কি ইউএস বাংলার নেই।

১৭ বছরের পুরনো বিমান দিয়ে কিভাবে ত্রিভুবনের মত একটি বিমানবন্দরে এতোগুলো মানুষ পাঠাতে পারে তারা।

নিজেদের লাভ ছাড়া আর কিছুই কি মূল্য রাখে না তাদের কাছে। একই পরিবারের কয়েকজন সদস্য মারা গেছে এই দুর্ঘটনায়।

যারা বেঁচে থাকবেন তারা হয়তো সারা জীবন এই আক্ষেপ করবেন মৃত্যু কেন আমাকে প্রত্যাখ্যান করল।

ইউএস বাংলা আপনাদের কাছে অনুরোধ রইলো এই মানুষগুলোর প্রশ্নের জবাব দিবেন।

আনিসুল হকের চলে যাওয়া ঢাকা তথা বাংলাদেশের অনেক বড় ক্ষতির কারণ

আনিসুল

পরিবারের সাথে ঘুরতে দেশের বাইরে গিয়েছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। কিছু দিন আগেই চলে গেলেন গুণী শিল্পী বারী সিদ্দিকী। সেই শোক শেষ হতে না হতেই আর একটি শোক সংবাদ পেতে হল বাংলাদেশ বাসীদের।

লন্ডনের একটি হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্তায় মারা গেলেন মেয়র আনিসুল হক (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আনিসুল হকের একান্ত সচিব এ কে এম মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের সময় ১০ টা ২৩ মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তারপর তার কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের যন্ত্রটি খুলে ফেলা হয়।

আনিসুল হক মস্তিষ্কের রক্তনালির প্রদাহজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

চিকিৎসকেরা তাঁর মস্তিস্কে সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস সনাক্ত করেন। তাছাড়া তাঁর ফুসফুসেও সমস্যা দেখা দেয়। গত কয়েকমাস ধরে তিনি এ রোগে ভুগছিলেন।

আনিসুল হকের বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। মৃত্যুর সময় স্ত্রী রুবানা হক ও সন্তানরা তার পাশে ছিলেন।

বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে আনিসুল হকের মরদেহ শনিবার সকাল ১১ টা ২০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছবে বলে জানিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ওই দিনই বাদ আসর আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে আনিসুল হককে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

গত ২৮ জুলাই পারিবারিক কাজে লন্ডনে যান মেয়র আনিসুল হক।

২৯ জুলাই তাঁর নাতির জন্মদিন ছিল। যাওয়ার পর হঠাৎ বেশি অসুস্থ হয় পড়লে ১৩ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে রেখেই চলতে থাকে তার চিকিৎসা।

গত ৩১ অক্টোবর আইসিইউ থেকে রিহ্যাবিলিটেশনে স্থানান্তর করা হয়েছিল। ১ মাস পর আবার অবস্থার অবনতি হলে ২৭ নভেম্বর তাকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে আইসিইউতে নিয়ে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। আর সেখানেই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

 আনিসুল

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন গঠিত হয় ২০১১ সালের ১ ডিসেম্বর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে তাকে ফোন করে নির্বাচনের কথা বলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে তিনি আশীর্বাদ বলেছেন।নির্বাচন হয় ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে আনিসুল হক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন।

অচল এই ঢাকার কিছুটা গতি ফিরিয়ে এনেছিলেন। তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল সিটি কর্পোরেশন কেন্দ্রিক টেন্ডার বাণিজ্য বন্ধ করে ক্রয়খাতে স্বচ্ছতা আনা।

আনিসুল হক একজন উদ্যোক্তা ছিলেন। তিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি ছিলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় একাধিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনাও করেছেন।

সম্প্রতি অনেক নামী দামী ব্যক্তিত্ব হারিয়ে গেছে আমাদের দেশ থেকে। কিন্তু আনিসুল হকের জন্য কেন এত হাহাকার? তাঁর চলে যাওয়াটা মেনে নিতে পারছে না ঢাকাবাসী। অনেককেই প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি কি করেছেন ঢাকার জন্য? আসুন উত্তর গুলো জেনে নেয়া যাক।

আনিসুল
বাংলাদেশ টেলিভিশনে উপস্থাপনায় আনিসুল হক

আনিসুল হককে নিয়ে জনপ্রিয় টেলিভিশন সংবাদ উপস্থাপক ফারাবি হাফিজ লিখেছেন,

‘বহু কিছু। আমার পারসোনাল লাইফে তার সাথে সখ্যতা সেটা একটা। আর গুরুত্বপূর্ণ একটা হচ্ছে আমার বাসার সামনের একলেনের ভাঙা রাস্তাকে উনি চারলেনের বিশাল হাইওয়ে বানিয়ে দিয়েছেন। যেটা মূলত অন্যদের দখলে ছিল’।

সদ্য সাবেক সেলিব্রিটি সাংবাদিক শরিফুল হাসান নিলয়ের পোস্টে লিখেছেন,

‘ট্রাক চালক মা‌লিক, সিএনজি চালক, মা‌লিক, টেন্ডারবাজ এরা নিজে‌দের মাস্তান ম‌নে ক‌রে।

নেতারা সেই মাস্তান‌দের ক্ষেপান না কারণ সাহস নেই বা স্বার্থ আছে। আনিস ভাই সেই সাহস দে‌খি‌য়ে‌ছি‌লেন’।

রাজধানীর কুনিপাড়া এলাকায় সংস্কার প্রসঙ্গে জেসমিন পাপড়ি নামের একজন কর্মজীবী নারী লিখেছেন,

‘দীর্ঘদিন কুনিপাড়ায় অফিস করতে গিয়ে যত যন্ত্রণার শিকার হয়েছি তাতে এটা আমার কাছে অনেক বড় একটা ব্যাপার’।

মাইনউদ্দিন আহাম্মেদ সেলিম লিখেছেন,

‘যাহা সরকার, প্রশাসন করতে সাহস করেনি আনিসুল তা করে ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন।

সে জন্য ঢাকা উত্তর সিটিতে যারা বসবাস করছেন এবং ভবিষ্যতে করবেন তারা তাকে স্মরণ করতেই হবে।

সাংবাদিক নিলয়ের আরেক ফেসবুক বন্ধু রাসেল আহমেদ লিখেছেন,

‘গুলশানে প্রতিবছর আইল্যান্ড বানানো বন্ধ করে স্থায়ী সমাধান দিয়েছেন। মার্কেটের সামনে হকার উঠিয়েছেন।

আনিসুল

এয়ারপোর্ট রোডে বনসাই লাগানোর বিরোধীতা তিনি শুরু করেছেন। আরো অনেক যা অন্যেরা বলেছেন’।

আরেক মন্তব্যকারী ফয়সাল আতিক লিখেছেন,

‘তিনি সাহস দেখিয়েছেন। তার জীবন ছিল উচ্চ গতির। বনায়ন, ঢাকাকে যানজটমুক্ত করার প্ল্যান, বর্জ্য অপসারণে আধুনিক ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন টয়লেট।

আনিসুল

স্বল্প সময়ে এমন আরও অনেক কিছু। তিনি পরিকল্পনাগুলো কাগজে আঁকার পাশাপাশি মনেও রাখতেন সবসময়’।

এমন একজন ব্যক্তিত্বকে হারিয়ে সত্যি আমাদের দেশের অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হল। জানি না তাঁর জায়গায় কে আসবে? কিন্তু আমরা ঢাকাবাসী তথা পুরো দেশবাসী তাঁকে অনেক মিস করব।

ভালো থাকবেন যেখানেই থাকবেন। আপনার মত আর কেউ হবে না।