স্তন ক্যান্সার রোধে লজ্জা নয় সচেতনতা দরকার

স্তন

ক্যান্সার নামটি শোনার সাথে সাথে আমাদের মনে মৃত্যুভয় চলে আসে। আগে ক্যান্সার নিরাময়যোগ্য ছিলনা কিন্তু এখন ক্যান্সার নিরাময় করা এতো কষ্টসাধ্য নয়। এ রোগ যদি সূচনায় ধরা পড়ে এবং সময়মতো চিকিৎসা দেয়া যায় তাহলে এক-তৃতীয়াংশ সম্পূর্ণভাবে নিরাময় করা যায়। বাকি এক-তৃতীয়াংশ চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বাকি এক-তৃতীয়াংশ অনেক দেরিতে ধরা পড়ে বলে নিরাময় বা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নারীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় স্তন ক্যান্সার।

পৃথিবীর কোথাও না কোথাও স্তন ক্যান্সারের কারণে প্রতি ৭০ সেকেন্ডে একজন মহিলা মৃত্যুবরণ করছেন। স্তন ক্যান্সার বিশ্বের এক অন্যতম নীরব ঘাতক। এই ক্যান্সারে নারী মৃত্যুর প্রধান কারণ নারীরা সচেতন না।

স্তন ক্যান্সারের লক্ষণসমূহঃ  

  • স্তনে চাকা বা পিন্ড
  • স্তনের আকারের পরিবর্তন
  • বোঁটা ভেতরে ঢুকে যাওয়া, অসমান বা বাঁকা হয়ে যাওয়া
  • বোঁটা দিয়ে অস্বাভাবিক রস বা রক্তক্ষরণ হওয়া
  • চামড়ার রঙ বা চেহারার পরিবর্তন
  • উন্মুক্ত ক্ষত
  • বগলতলায় পিন্ড বা চাকা এবং
  • বাহুমূলে স্তনে ব্যথা।

স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা

এই চিকিৎসা সমন্বিত ও বহুমাত্রিক চিকিৎসা পদ্ধতি। শল্য চিকিৎসা, চিকিৎসা, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, হরমোন চিকিৎসা ও ইমিউনোথেরাপি, টারগেটেড থেরাপি সমন্বিতভাবে প্রদান করা যায়। এই রোগের মূল লক্ষ্য দুইটি প্রথমত মূল টিউমার অপসারণ এবং দ্বিতীয়ত সামগ্রিক চিকিৎসা প্রদান।

সার্জারি

সার্জারি স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে অন্য যে কোন চিকিৎসার চেয়ে রোগীকে বেশি আরোগ্য করে।

যদি টিউমার স্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, শরীরের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়া টিউমারের ক্ষেত্রে এর ভূমিকা নগণ্য।

রেডিওথেরাপি

সাধারণত অপারেশনের পরও চোখে দেখা যায় না যদি এমন কিছু কোষ থেকে থাকে, তাকে দমন করা। সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে দেয়া হয়ে থাকে।

যখন এ রোগ মস্তিষ্ক বা হাড়ে ছড়িয়ে পড়ে তখন জরুরী ভাবে পেলিয়েশন বা প্রশমন করার জন্য রেডিওথেরাপির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে রেডিওথেরাপি দেয়া যায় বলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।

কেমোথেরাপি ও হরমোন

প্রায় প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রেই কেমোথেরাপি হরমোনথেরাপি প্রয়োগ করা যায়।

সামগ্রিকভাবে শরীরের সর্বত্রই এই রোগের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য এর ব্যবহার অপরিহার্য।

খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণীত হলে এবং যথোপযুক্ত চিকিৎসা নিলে শতকরা ৭৫-৮০ ভাগ রোগী ১০ বছরেরও বেশি বেঁচে থাকে।

মাঝ পর্যায়ে নির্ণীত হলে এই হার ৫০ থেকে ২৫ শতাংশে নেমে আসে।

শেষ পর্যায়ে ভাল কিছু করার সুযোগ প্রায় থাকেই না।

স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় এবং সময়মতো যথোপযুক্ত চিকিৎসা নেয়া এ রোগ মোকাবেলা করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই।

স্তন ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়া থেকে বিরত হতে নতুন  আশার আলো আবিষ্কার হয়েছে

  • খাদ্যে প্রাপ্ত একধরনের প্রোটিন গঠনকারী ব্লক, প্রাণঘাতী স্তন ক্যান্সার ছড়ানো থেকে বিরত রাখার চাবিকাঠি হতে পারে বলে ন্যাচার জার্নালের এক গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে।
  • বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, পরীক্ষাগারে ‘ট্রিপল-নেগেটিভ’ স্তন ক্যান্সার যুক্ত ইঁদুরে অ্যাসপ্যারাজিন নামে অ্যামিনো অ্যাসিড কমিয়ে দিলে তা দেহে ক্যান্সার  ছড়ানোর ক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে হ্রাস করে।

অ্যাসপ্যারাজিন  সমৃদ্ধ খাবার হছে, দুগ্ধজাত খাবার, গরুর মাংস, হাঁস-মুরগীর মাংস, সামুদ্রিক মাছ, বাদাম, ডিম, অ্যাসপ্যারাগাস বা শতমূলী ইত্যাদি। তবে বেশিরভাগ শাক-সবজি ও ফলমূলে এর পরিমাণ কম।

এটি শুধু স্তন ক্যানসারই নয়, কিডনি ক্যানসারের মতো অন্যান্য ক্যানসার টিউমারের ক্ষেত্রেও বিশাল প্রভাব রাখতে পারে। সুতরাং আপনার খাদ্য তালিকায় অ্যাসপ্যারাজিন  সমৃদ্ধ খাবার রাখুন।

অপেক্ষা

অপেক্ষা

চুল বাঁধাটা মনের মতো হচ্ছে না বলে আবার বেণী খুলে ফেললো তিথি। স্কুলে যেতে দেরী হচ্ছে দেখে নদী চলে এসেছে। নদী তিথির সবচেয়ে কাছের বান্ধবী।

আজও তোর জন্য দেরী হবে রে তিথি।

আর একটু বস চুলটা বাঁধা হলেই চলে যাবো।

তুই কি ভাত খেয়েছিস?

না, এসে খাবো।

ধ্যাত। তুই রেডি হ। আমি নিয়ে আসি তোর খাবার। খাইয়ে দিলে খাবি তো?

যা যা নিয়ে আয়।

এভাবেই চলছিল তিথির দিন কাল। বয়স ১৪/১৫। কয়েক মাস পর এসএসসি পরীক্ষা শুরু তাই এখন নিয়মিত স্কুলে ক্লাস করে। নদী নামের মেয়েটা ওর সবচেয়ে ভালো বন্ধু। নিজের মনের সব কথাই ও নদীর সাথে শেয়ার করে। কালো দেখতে তিথি নামের মেয়েটি পড়াশোনা আর পরিবার-বন্ধু মহল ছাড়া কাউকে নিয়ে কখন চিন্তা করেনি। যদিও ওর বিয়ের জন্য অনেকগুলো প্রস্তাব এসেছিল কিন্তু ও এখন পড়াশোনা নিয়ে কিছু ভাবতে চায় না। ডাক্তার হওয়ার খুব শখ তিথির।

বান্ধবীর সাথে সব সময় হেঁটেই স্কুলে যাতায়াত করে। আজও তাই করল।

তিথি ঐ ছেলেটাকে পরিচিত লাগছে না?

আরে ও তো আমাকে আগে কয়েকবার চিঠি দিয়েছিল। ভুলে গেছিস?

ওহ এটা শফিক ভাই? কিশোরগঞ্জ থেকে রাজশাহী আসে এই লোকটা! শুধু একবার তোকে চোখের সামনে দেখার জন্য এতো দূরে আসেন। ভাবতেই অবাক লাগে রে।

ধুর বাদ দে। ছেলেরা এমন করে। এখন এগুলো পাত্তা দিতে পারবো না। লোকটার দিকে তাকাস না প্লিজ।

শফিক বাইশ/তেইশ বছরের এক টগবগে যুবক। চাকরীর সুবাদে তিথির বাবা কিশোরগঞ্জে গিয়েছিলেন। বাবার জন্য তিথিরও যেতে হয়েছে। তখন থেকেই তিথিকে পছন্দ করে শফিক। তিথি কোন কথার উত্তর দেয় না। তবুও চেষ্টার ত্রুটি নেই ওর। শফিক দেখতে অনেক সুন্দর। নায়ক বললেও কম হবে। হাজার হাজার সুন্দরীরা তার আশেপাশে ঘোরে। কিন্তু তার মনে এই কালো হরিণের কালো চোখ ছাড়া আর কিছুই নেই। তাই তো বার বার ছুটে চলে আসে। তিথিরা এখন রাজশাহী থাকে। শফিকের মন একটু উড়ু উড়ু। তাই পড়াশোনাটা শেষ করা হয়নি। অনেক কষ্টে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। পাশও করেছে ভালো ভাবে। জানে না শফিক কিসের টানে আজও সে তিথির পেছন পেছন ঘোরে। কখনই কি ওর চিঠির জবাব দেবে না তিথি? ভাবতে ভাবতে ওর সামনে চলে আসলো শফিক। আজও ওর হাতে একটা চিঠি।

আপনি আবার কেন এসেছেন? কি চান আপনি?

আমার চিঠিগুলোর জবাব দিলে না তো। কিছুই তো বললে না তুমি। এই চিঠিটা পড়ে আমাকে অবশ্যই উত্তর দিবে।

অনেক সুন্দর লাগছে আজ শফিককে। তিথি না তাকিয়ে পারল না। সত্যি এতো সুন্দর ছেলে সে আগে কখন দেখেনি। মনের বরফ গলে যাবে মনে হচ্ছে তিথির।

আমি আসি তিথি। সামনের সপ্তাহে আবার এই বান্দা তোমার সামনে হাজির হবে।

না চাইতেও হেসে দিল তিথি। সাথে নদীও। এতক্ষণে নদী মুখ খুলল।

শফিক ভাইয়া অবশ্যই আসবেন। আর এই পাজি মেয়ে না আসলে আমি ওকে আপনার কাছে নিয়ে আসব।

তিনজন একসাথে হেসে উঠল। যদিও তিথি ওর হাসিটা লুকানোর চেষ্টা করল।

স্কুল শেষে বাড়ির পথ ধরে আসার সময় সত্যিই বুকটা কেমন করে উঠল শফিকের জন্য। কখন এভাবে ভেবে দেখেনি তিথি। ওর মতো একটা মেয়ে শফিকের কাছে কিছুই না। ইচ্ছে করলেই শফিক অনেক সুন্দরী মেয়ের সাথে প্রেম করতে পারে। তবুও কিসের টানে শফিক ওকে দেখতে আসে?

বাড়িতে ঢুকেই শুনতে পেলো বড় ভাইয়ের চিৎকার চেঁচামেচি। মনটা সাথে সাথে বিষিয়ে গেলো তিথির। কিছুক্ষণ আগে ভালই তো ছিল ও নদীর সাথে। ভালো লাগে না এই বাড়িতে থাকতে। হঠাৎ করে সামনে চলে এলো তিথির বড় ভাই মামুন। খুব রাগী লোক। পান থেকে চুন খসলে গায়ে হাত তুলতে দ্বিধা করেন না তিনি।

তিথি তুই স্কুলে যাওয়ার সময় কার সাথে কথা বলছিলি?

তিথি অনেক বেশি ভয় পেয়ে গেলেও কিছু বলল না।

কি তুই চুপ করে আছিস কেন? কি ভাবিস তুই আমার কানে কোন কথা আসে না? শফিকের সাথে তোর কিসের সম্পর্ক? এতো কিসের হাসাহাসি রাস্তায়?

ভাইয়া আমি কিছু করিনি।

তাহলে ওই ছেলে বার বার আসে কেন এখানে? কি চায় ওই ধূর্ত ছেলে? ও কেমন ছেলে তুই কি কিছু জানিস?

ভাইয়া সে খারাপ লোক না।

তিথির বলতে দেরী কিন্তু ওর ভাইয়ের চড় দিতে দেরী হল না।

এত্ত বড় সাহস তোর? তুই আমার সাথে তর্ক করিস? তোর জন্য বিয়ের সম্বন্ধ এসেছে। ওরা যদি দেখে ফেলত কি ভাবত তাহলে।

রাগের চোটে খুব খারাপ অবস্থা হয়ে গেলো তিথির। রাগের বসে মানুষ অনেক কথাই বলে। তিথি মনের গোপনে রাখা কথাটা বলে ফেললো।

ভাইয়া আমি যদি জীবনে কাউকে বিয়ে করি তাহলে সেটা শফিক। আমি ওকে ভালোবাসি।

তোর কি মাথার ঠিক আছে? তুই কোনদিন ওর সাথে ভালো থাকবি না। ও ভালো মানুষ না।

চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে তিথি। এবার যে চিঠিটা দিয়েছিল সেটার কথা গুলো মাথায় ঘুরছে ওর।

“ তিথি আমাকে তুমি ভালোবাসো আর নাই বাসো আমি তোমাকে সারা জীবন এভাবেই ভালোবেসে যাবো। তুমি আমাকে ভয় পেয়ো না। আমি জানি তোমার পড়াশোনার অনেক ইচ্ছে। তুমি যদি আমাকে বিয়ে করো তাহলে নিজের রক্ত বিক্রি করে হলেও তোমাকে পড়াশোনা করাবো। অনেক ভালোবাসা নিয়ো। আমাকে একটা হলেও চিঠির জবাব দিয়ো ”

এতো চিৎকার চেঁচামেচির মধ্যেও ওর কথা মনে পড়ে গেলো তিথির। ভাইয়ের কথায় আবার বাস্তবে ফিরে এলো।

কি হল কি ভাবছিস?

বিয়ে করলে আমি ঐ ছেলেকেই বিয়ে করবো।

এসএসসি পরিক্ষার পর দেখতে দেখতে ওর সাথে বিয়ে হয়ে গেলো শফিকের সাথে। হাজার রঙিন স্বপ্ন দেখতে লাগলো তিথি। ধুমধাম করেই বিয়ে হয়ে গেলো ওদের। যদিও বড় ভাইয়ের সম্মতি ছিল না।

শ্বশুর বাড়ীর সবাই অনেক ভালো। স্বামী হিসেবে শফিককে পেয়ে তিথি অনেক বেশী ধন্য। এমন সুন্দর চেহারার ছেলে, ব্যবহার, কথা আর কণ্ঠ এতো সুন্দর। তিথি মুখে যাই বলুক না কেন। ও কিন্তু অনেক বেশী সুন্দরের পূজারী। বিয়ে করে শফিক ওকে কিশোরগঞ্জ নিয়ে এলো। অনেক আত্মীয়স্বজন ছিল শফিকের সাথে। এখন বউকে মায়ের কাছে নিয়ে যাবে।

আম্মা তোমার বউকে দেখ।

তিথি অনেক বুদ্ধিমতী কারো কোন কথার অপেক্ষা না করে টুক করে শাশুড়ির পা ধরে সালাম করে নিলো। কিন্তু খুব স্পষ্ট বোঝা গেলো তিনি তিথিকে মোটেও পছন্দ করেননি। মনটাই খারাপ হয়ে গেল তিথির।

তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়েই শুরু হল তিথির নতুন জীবন। অনেক ভালোবাসা পেলো স্বামীর থেকে। অনেক ভালো শফিক। কিন্তু কয়েকমাস পর দেখল শফিক একদম বাড়ির বাইরে যায় না। আগের মতো ঘুরতে নেয় না। কোন কাজও করে না। শুধু বাসায় বসে থাকে। জিজ্ঞেস করলে বলল,

“আমার কাছে টাকা নেই। কি করবো বাইরে গিয়ে? তুমি কি পারবে আমাকে টাকা দিতে?”

জানে না কি করে এনে দেবে টাকা তবুও বলল,

“আমি এনে দেবো তোমাকে তুমি কি তাহলে স্বাভাবিক ভাবে চলবে? কিছু একটা তো করো।”

“ঠিক আছে তাহলে আমাকে এনে দাও।”

পরের দিন বাড়ীতে চলে গেলো তিথি। বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে আসলো। ২ দিনের মাথায় শফিক টাকা হাতে পেলো। কত যে খুশি হল শফিক। অনেক বেশি ভালো লাগছে এখন তিথির। সব সমস্যার যেন অবকাশ ঘটল। কিন্তু সে সুখ বেশি দিন সইল না ওর কপালে। জুয়া খেলে সব টাকা হেরে রাগে গজ গজ করতে করতে আবার বাড়িতে বসে রইলো। এভাবেই চলতে লাগলো দিনকাল স্বামীর ঘরে।

একটা লোক এলো সেদিন তিথিকে দেখতে। বলল,

“শফিক নতুন বউকে নিয়ে ঘুরতে বের হও না কেন?”

শফিকের উত্তর শুনে সেদিন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল তিথির।

“আরে ভাই কালো বউকে নিয়ে কি এতো ঘুরাঘুরি করা যায়।”

খুব কষ্ট পেলেও চুপ করে ছিল সেদিন। সেদিন ভালোবাসা কমার কথা থাকলেও কমাতে পারেনি তিথি।

এদিকে শফিক বেকার থাকে বলে সংসারের যাবতীয় কাজ তিথিকে করতে হয়। এক কথায় কাজের বুয়ার সব কাজ। এখানে সবাই একান্নবর্তী পরিবারে থাকে। সুতরাং কিছু না কিছু সবাই দেয় সংসারে শফিক ছাড়া। এতো দিনে অনেক ভয়ঙ্কর একটা জিনিস দেখল তিথি। খুব বদ মেজাজি লোক শফিক। অনেক সময় রাগ হলে হাত উঠে যায় ওর। তিথি বাথরুমে গিয়ে কাঁদে। কাউকে ওর মনের দুঃখের কথা বলে না। মানুষের যে এতো রূপ থাকতে পারে তা ও কখন বিশ্বাস করতে পারে না। ওর ননদ, ননাস, শাশুড়ির সামনেও অনেক সময় অপমান করে কথা বলে ফেলে শফিক।

অনেক সদস্য পরিবারে তাই অনেক রান্না হয়। শাশুড়ি সবাইকে বেড়ে দেন। সবার খাবার শেষ হলে অল্প একটু তরকারি আর ভাঙা মাছ থাকে ওর জন্য। খুব অবাক লাগে তিথির যখন বাড়িতে ছিল তখন ওর মা থালা ভরে তরকারি দিতো আর ও না খেয়ে স্কুলে যেতো। তিথি কিচ্ছু বলে না। অনেক বেশি ভালোবাসে ও শফিককে কোথাও যাবে না ও ওকে ছেড়ে। যত কষ্টই হোক। বড় ভাইয়ের কথা মিথ্যা প্রমাণ করে ছাড়বে।

বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই গর্ভবতী হয়ে গেলো তিথি। অদ্ভুত এক অনুভূতি। অনেক বেশী লাজুক তিথি, তাই সে কারো সামনেও যেতে চায় না এখন। শফিক তো মহা খুশি, ভালো ভাবেই যত্ন নেয় মেয়েটার। অনেক কিছু কিনে দেয় ওকে। কিন্তু মায়ের কাছে যেতে ইচ্ছে করছে। চলে গেলো রাজশাহী  কিছুদিন পরই। অল্প বয়সের কারণে তিথির নানান সমস্যা দেখা দিল। ১০ মাস পরই প্রসব ব্যথা উঠলো মেয়েটার। হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার বলল হয় মাকে না হয় বাচ্চাকে বাঁচাতে পারবো। শফিক বলল যে করেই হোক তিথিকে বাঁচান। তিথি বেঁচে গেলেও বাচ্চাটাকে বাঁচানো গেলো না। পাগল প্রায় অবস্থা হল ওর। অনেক বেশি সুন্দর হয়েছিল ছেলেটা। বাচ্চা দেখলেও ভয় পেত ও। কেঁদে ফেলত নিজের অজান্তে। এই সময়টাতে সম্পূর্ণ ভাবে মানসিক সাহায্য দিয়েছে শফিক। অনেক ভালোবাসা দিয়ে ওকে ভোলানোর চেষ্টা করেছে। বলেছে যদি আমাদের কখনো আর বাচ্চা নাও হয় আমার কোন সমস্যা নেই। তুমি শুধু ভালো থেকো তিথি। আমার আর কিছু চাই না। ডাক্তারের পরামর্শে ২ বছর পর একটা টুকটুকে মেয়ে বাবু হল তিথির। চিনির মতো সাদা একটা মেয়ে হল ওর। নাম দিল তুয়া।

দেখতে দেখতে তুয়া বড় হতে লাগলো। শফিক এখন ভালই উপার্জন করে। ভালই আছে পরিবারটা। যখন ও ভালো অনেক ভালো কিন্তু যখন খারাপ তখন এতো বেশি খারাপ ব্যবহার করে যে কোন মানুষ ওর সাথে থাকবে না। তবুও আছে তিথি। তিথির সৌন্দর্য যেন আগের থেকে আরও বেশি বেড়ে গেছে। যদি ও চায় তাহলে অন্য একজনের সাথে ওর বাবা মা বিয়ে দিয়ে দিবে। কারণ উনারা জানেন শফিক খুব একটা সুখে রাখেনি তিথিকে। কিন্তু তিথির পক্ষে এ যে অসম্ভব।

মেয়ের পর একটা ছেলে হল তিথির। অনেক মায়াবী চেহারা ওর। শফিক আজ ভালো হলে কাল খারাপ থাকে। আজ উপার্জন করলে কাল করে না। খুব অশান্তিতে আছে ও। কিন্তু কখনো ছাড়ার কথা ভাবতে পারে না। অপেক্ষায় আছে কবে লোকটা ওর ভালোবাসা বুঝতে পারবে।

অদ্ভুত ব্যপার ওদের বিয়ে হয়ে ছিল ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ভালোবাসা দিবসে। কোন পরিকল্পনা ছিল না। এমনিতেই মিলে গেছে। আজও তেমন একটি ১৪ তারিখ এসেছে। ছেলেমেয়েরা বড় হয়েছে। সংসারও চলছে, শফিক আজও তেমনই আছে। কোন পরিবর্তন আসেনি ওর ভেতর। তিথিও পরিবর্তন করতে পারেনি নিজেকে। এখনো পাগলের মতো ভালবাসে লোকটা। অপেক্ষায় আছে কোনদিন হয়তো বুঝতে পারবে ও কতটুকু ভালবাসে শফিককে। এই লোক ছাড়া ওর পৃথিবীতে আর কিছুই নেই। যে যাই বলুক, এই রাজপুত্রের জন্য ও আজও সব করতে পারে।

শফিকরা কি কখনো ভালো হবে। বুঝতে পারবে তিথিদের মনের কথা???

অপেক্ষায় রইল তিথি, অপেক্ষায় রইলো সবাই।

পিরিয়ডের সময় না জেনে যে ভুল গুলো করেন নারীরা

পিরিয়ড

পিরিয়ড বা মাসিক একজন নারীর জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মাতৃত্বের মতো মূল্যবান ব্যাপার গুলো পিরিয়ডের উপর নির্ভর করে।

শারীরিক এই কার্যক্ষমতার জন্য নারীরা খুব কম হৃদরোগে আক্রান্ত হন। শরীরে অনেক ক্ষতিকর পদার্থ বের হয়ে যায় এ সময়।

জেনে না জেনে আমরা অনেকেই পিরিয়ডের সময় কিছু ভুল করে থাকি। ভুলগুলো নারীদের জন্য অনেক সময় ক্ষতিকর হয়ে উঠে।

পিরিয়ড হলে চলাচল কম করা

যেহেতু রক্তপাত হয় তাই অনেক নারী মনে করে থাকেন যে বেশি নড়াচড়া করা ঠিক না। যার কারণে বেশির ভাগ সময় শুয়ে বসে কাটিয়ে দেয়।

পিরিয়ডের সময় ব্যথা কমানো এবং সঠিক ভাবে রক্তপ্রবাহের জন্য হাঁটাচলা করা খুব দরকারি।

অবশ্যই এই সময় বিশ্রামের দরকার আছে কিন্তু শুধু বসে বসে সময় কাটানো যাবে না।

স্বাভাবিক দিনের মতই কাটাতে হবে দিনগুলো।

ডাউচিং

পিরিয়ড

ডাউচিং হল হ্যান্ড সাওয়ার দিয়ে গোপনাঙ্গ পরিষ্কার করা। অধিকাংশ নারীরাই এই কাজটি করে থাকেন।

পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে এই ডাউচিং যেন আরও বেশি করে করেন নারীরা।

কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা তারা জানে না আর সেটি হল; পিরিয়ডের সময় প্রাকৃতিক ভাবে নারীর যৌনাঙ্গ এবং জরায়ু পরিষ্কার হয়ে যায়। এই সময় ডাউচিং করলে উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়ে যায়।

যার কারণে যৌনাঙ্গের ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে।

মাত্রাতিরিক্ত পেইনকিলার গ্রহণ করা

পিরিয়ড

পিরিয়ডের সময় ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। তবে ব্যথা অসহনীয় হলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। কিন্তু ডাক্তারের কাছে না গিয়ে নিজে নিজেই পেইনকিলার গ্রহণ করা অনেক বড় একটি ভুল। অতিরিক্ত পেইনকিলার গ্রহণ করলে আপনার লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। বাথরুমে যে পানি ব্যবহার করেন তা গরম হলে অনেকাংশে ব্যথা কমে আসে। গরম পানি অথবা চা খেলেও ব্যথা কমে যায়।

একই ন্যাপকিন অনেকসময় ধরে পড়ে থাকা

পিরিয়ড

হয় ব্যস্ততা নাহয় আলসেমির জন্য নারীরা একই ন্যাপকিন অনেকক্ষণ পড়ে থাকেন। অধিকাংশ নারীদের কাছে এটা বিশেষ কিছু নয়। কিন্তু আপনার হয়তো জানা নেই ৫-৬ ঘণ্টার মধ্যে ন্যাপকিন পরিবর্তন করা বাঞ্ছনীয়। খারাপ ভাবে নাহলে ভ্যাজাইনাল ইনফেকশন হতে পারে।

পিরিয়ডের রক্ত কি রঙের তা খেয়াল না করা

পিরিয়ড

পিরিয়ডের রক্ত কিন্তু আপানার শরীরের অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে দেয়। কিন্তু নারীরা পিরিয়ডের রঙের দিকে বেশি গুরুত্ব দেন না। যদি রক্ত গোলাপি অথবা ফ্যাকাসে হয় আপনার শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা খুব কম। রক্ত পানিতে মেশালে যে রঙ হয় সে রঙ হয় তাহলে বুঝবেন আপনি অপুষ্টি অথবা অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন। রক্ত যদি একটু কালচে রঙের হয় তার মানে এই রক্ত একটু পুরনো যা এখন বের হচ্ছে।

পিরিয়ড হলে সঠিক পরিমাণে আয়রন গ্রহণ না করা

পিরিয়ড

পিরিয়ডের পর নারীদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি হয়। মানসিক পরিবর্তনের সাথে সাথে রুচিতেও কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। অনেক নারী জাঙ্ক ফুড, টক অথবা অনেক ঝাল খায় এই সময়। কিন্তু রক্তে আয়রনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এমন খাবার খাওয়া হয় না। আয়রন আছে এমন খাবার হল, কাঁচা কলা, বেগুন, কচু শাক, পালং শাক, ডিম। সহজলভ্য এই খাবার গুলো নারীদের খাদ্য তালিকায় রাখলে আর আয়রনের ঘাটতি পরবে না আশা করি।

বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট জিতে ইতিহাস গড়লেন মানুষী ছিল্লার

মানুষী

২০১৭ সালের বিশ্ব সুন্দরীর আসরে মুকুট নিয়ে নিলো ভারতের মানুষী ছিল্লার। ভারতীয় সুন্দরীদের খ্যাতি বিশ্ব ব্যাপী।

সারা বিশ্ব থেকে অংশ নেয়া ১০৮ জন সুন্দরী নির্বাচিত হয়েছিলেন এই প্রতিযোগিতায়। যেখানে মানুষী  ছিল্লার সবাইকে পেছনে ফেলে বাজিমাত করেছেন।

আজ তাই মানুষীর জানা অজানা তথ্য গুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

পরিবার

মানুষী
মানুষীর পরিবার

বাবা মা ডাক্তার হওয়ার সুবাদে মেয়েও সেই পথ অনুসরণ করেছে।

মানুষী সোনেপতের ভগত ফুল সিং গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ফর ওমেনে এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

আর্ত মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়জিত করাই তার একমাত্র লক্ষ্য থাকলেও, মনে মনে বিশ্ব সুন্দরী হওয়ার আশা ছিল ছোট বেলা থেকেই।

তার পিতা ডা. মিত্র বসু ছিল্লার, প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংগঠন এর একজন বিজ্ঞানী। তার মা ডা. নিলাম ছিল্লার, ইনস্টিটিউট অব হিউম্যান ব্রিবেইহিয়ার অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সেস এর স্নায়ুরসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান।

ব্যক্তি জীবন

মানুষী
মানুষের সেবায় কাটিয়ে দিতে চান জীবন

ব্যক্তিগত জীবনে মানুষী একজন সেবিকা হতে চেয়েছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করছেন মেয়েদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয় নিয়ে।

বিনোদন নয় সেবার ব্রতে বিশ্ব সুন্দরী হতে চেয়েছেন তিনি।

মানুষী একজন প্রশিক্ষিত কুচিপুড়ি নৃত্যশিল্পী এবং তিনি প্রশিক্ষিত হয়েছেন বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী দম্পতি রাজা এবং রাধা রেড্ডি এবং কৌশল্যা রেড্ডির নিকট।

ছিল্লার ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামাতেও যোগদান করেছেন।

মানুষীর বিশ্ব সুন্দরী হওয়ার পেছনে যে বক্তব্যটি সাহায্য করেছে

মানুষী
একি ফ্রেমে তিন সুন্দরী

প্রতিযোগিতায় মঞ্চে তার কাছে কোন পেশার মানুষকে সবচেয়ে বেশি টাকা দেওয়া উচিত বলে মনে হয় জানতে চাওয়া হলে, বেশ আবেগ জড়ানো কণ্ঠে মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৭ এর মানুষী বলেন

‘আমার জীবনের সাফলতার পেছনে যার অবদান রয়েছে তিনি হলেন আমার মা। যে কিনা তার অফুরন্ত ভালোবাসা, তার সন্তানদের কেবল দিয়েই গিয়েছেন। আমার মতে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পেশা মাতৃত্ব। আর এই পেশার মানুষকে অগণিত টাকা দিয়েও তার বেতন নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।‘  মানুষীর এই অসাধারণ উত্তর শুনে শুধু বিচারকরাই মুগ্ধ হননি মুগ্ধ হতে হয়েছে বাকী প্রতিযোগীদেরও।

বিশ্ব সুন্দরী শুধু রূপসৌন্দর্য্য দেখে নির্বাচন করা হয়না।

আপনারা শেষ পাঁচ প্রতিযোগীদের যদি দেখে থাকেন তাহলে বুঝতে পারবেন।

সত্যি বলতে এবারের বিশ্ব সুন্দরী হওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্যতা ছিল শুধু মাত্র মানুষীর। যেমন সে কথায়, তেমন  বুদ্ধি মত্তায় আর তেমনি ব্যক্তিত্বে।

সৌন্দর্যের কথা তো না বললেই নয়। হরিয়ানার মানুষী আরও একটি ইতিহাস গড়েছেন।

মানুষী
১৯৬৬ সালে বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট মাথায় রিটা কারিয়া

১৯৬৬ সালে ভারত সর্বপ্রথম বিশ্ব সুন্দরীর তকমা জেতে। সেই সুন্দরীর নাম রিটা কারিয়া। রিটা কারিয়াও একজন মেডিকেল ছাত্রী ছিলেন। প্রায় ৫১ বছর পর মেডিকেল ছাত্রী ছিল্লারও দেশের জন্য ছিনিয়ে এনেছে বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট। অদ্ভুত এক ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করলেন মানুষী।

মানুষী ছিল্লার কি ধরণের খাবার খান এবং কেমন লাইফ স্টাইল ফলো করেন তা আপনাদের সুবিধার জন্য দেয়া হল। চাইলে মেনে নিতে চলতে পারেন।

মানুষী যে ডায়েট মেনে চলতেন

সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস লেবু জল।

মানুষী
নিজেকে ফিট রাখতে মেনে চলেছেন ডায়েট চার্ট

সকালের নাস্তা: ওটন বা হুইট ফ্লেক্স, সঙ্গে দই, বাদাম ও টাটকা ফল।

দুপুরের খাবর: ১-২ টা রুটি বা এক বাটি ভাত, সবজি, সালাত ও রায়তা।

সন্ধেবেলা: ফ্রুট স্মুদি, দই দিয়ে শশা বা গাজর স্টিক।

রাতের খাবার (রাত ৭ টায়): কিনোয়া স্যালাড বা কিনোয়া পোলাওয়ের সঙ্গে সুপ, অথবা চিক পিজ।

রাতে: টাটকা ফল।

পানি: প্রতি দিন তিন লিটার পানি।

সকালে হাঁটা ও হালকা ব্যায়াম: সপ্তাহে ৪-৫ দিন সকালে হাঁটতেন। প্রতি দিন জাম্পং জ্যাক।

ঘুম: যত ব্যস্ততাই থাক রাতে ৮ ঘন্টা ঘুমোতেন মানুষী।

ফোন: রাতে ঘুমোতে যাওয়ার ২ ঘন্টা আগে নিয়ম করে ফোন অফ করতেন মানুষী।

 

পিরিয়ড নিয়ে লজ্জা নয়, বাঁচতে হলে জানতে হয়

পিরিয়ড

একটি মেয়ের জীবনে পিরিয়ড সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।

সাধারণত ৯ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে এটি শুরু হয়ে ৪৫-৫০ বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ী থাকে।

সৃষ্টির প্রথম মানবী থেকে শুরু হয়ে বর্তমানকাল পর্যন্ত সব নারীর এই পিরিয়ড একটি স্বাভাবিক জীবনের অংশ হওয়া সত্ত্বেও এ নিয়ে মানুষের ভুল ধারণার শেষ নেই।

আজকে জেনে নেই পিরিয়ড সংক্রান্ত কিছু ভুল ধারণা

  • অনেকেই ডাক্তারের কাছে আসে খুব অল্প রক্তক্ষরণ সমস্যা নিয়ে। কিন্তু মনে রাখবেন,  পিরিয়ডে রক্তের পরিমাণ নারী ভেদে ভিন্ন। কালচে কয়েক ফোঁটা থেকে শুরু করে গাঢ় লাল হতে পারে। ২০-৬০ মিলি অর্থাৎ ৪-২০ চামচ পর্যন্ত রক্ত যাওয়া স্বাভাবিক।
  • পিরিয়ডের সময় টক-জাতীয় খাবার খেলে বেশি ব্লিডিং হয়। সম্পূর্ণ ভুল ধারণা, এ সময় স্বাভাবিক সব খাবার খাওয়া যাবে। পটাসিয়াম যুক্ত খাবার, আয়রন যুক্ত খাবার এই সময় খাওয়া ভালো। ফল শাকসবজি বেশি করে খাবেন।
  •  পিরিয়ডের সময় হরমোনের পরিবর্তন হয়, ফলে কাজ করতে ইচ্ছে করে না, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, এটা স্বাভাবিক। পিরিয়ড হলে কাজ করা যাবে না এটি একটি ভুল ধারণা। পিরিয়ড একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটি কোনো রোগ নয়। এ সময় স্বাভাবিক সব কাজকর্ম করা যাবে। কিন্তু যাদের ব্যথা বেশি হয় তাদের বিশ্রাম নিতে হবে।

পিরিয়ড

  • অনেকে চিকিৎসকের কাছে আসে মাত্র দুদিন পিরিয়ড থাকে এ জন্য ওজন বেড়ে যাচ্ছে। মনে রাখতে হবে পিরিয়ড দুই থেকে সাত দিন স্থায়ী হয়ে থাকে। নিয়মিত নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর হওয়াটা জরুরি। দুদিন থাকলেই দৈহিক ওজন বেড়ে যাবে এটি মোটেই ঠিক নয়।

কিছু স্বাভাবিক সমস্যা

পিরিয়ডের সময়ে দেহে হরমোনাল পরিবর্তন ঘটে।

ফলে এই সময় মাথাব্যথা, তলপেটে ব্যথা,  বমি ভাব, খাওয়ায় অরুচি, পায়ের মাংসপেশিতে ব্যথা ও সাময়িক বিষণ্নতা খুব স্বাভাবিক। এসব সমস্যায় খুব বেশি বিচলিত না হয়ে চিকিৎসকের  পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করলেই চলবে।

যে সমস্যা গুলোতে অবশ্যই আমাদের চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে


পিরিয়ড নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবে তিন ধরনের পরিস্থিতিতে
অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ,  এটি তিন ধরনের হতে পারে-
ক) অতিরিক্ত রক্তস্রাব
খ) রক্ত না যাওয়া
গ) পিরিয়ডের মধ্যবর্তী সময় রক্ত যাওয়া
ঘ) অত্যন্ত ব্যথাপূর্ণ পিরিয়ড
ঙ) পিরিয়ড শুরুকালীন সমস্যা

এ সমস্যাগুলো একটু বিস্তারিত জানা দরকার

স্বাভাবিক পরিমাণের চেয়ে ১০-২৫ গুণ বেশি হলেই তাকে অতিরিক্ত বলতে হবে।
এ ধরনের রক্ত যাওয়া মাসিক শুরু ও শেষ হওয়ার সময় কমন। তবে এ ছাড়া অন্য সময় হলে অবশ্যই গাইনি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে  চিকিৎসা নিতে হবে।

এই সময় অবহেলা করলে খুব খারাপ কিছু হতে পারে।

কিছু ভয়ানক রোগের লক্ষণ এই অনিয়মিত পিরিয়ড

  • জরায়ু বা ডিম্বাশয় টিউমার বা সিস্ট
  • থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা
  • লিভার বা কিডনির সমস্যা
  • লিউকোমিয়া
  • রক্ত জমাটের কোনো সমস্যা
পিরিয়ড
আপনার অসাবধানতায় জরায়ুতে হতে পারে অনিরাময় যোগ্য রোগ।

পিরিয়ড শুরুকালীন সমস্যা :

পিরিয়ড শুরুর চার-পাঁচ দিন আগে থেকে শুরু করে সাধারণত প্রথম তিন দিন স্থায়ী হয়।

সাধারণত শতকরা ৩০-৪০ জন নারীই এই সমস্যা ভোগ করে। হরমোনের তারতম্যের কারণে এটি ঘটে থাকে। এই সময়ে-
দুর্বলতা, কাজে অনীহা,  বিষণ্নতা,  সহজে রেগে যাওয়া,  মেজাজের তারতম্য,  হতাশা,  মনোঃসংযোগে ব্যর্থতা ইত্যাদি হয়ে থাকে। এই সময়ে পারিবারিক সদস্যের  সহানুভূতি অত্যন্ত জরুরি।

তবে পিরিয়ড শেষ হওয়ার পরও যদি এই সমস্যা স্থায়ী থাকে, তবে অবশ্যই একজন মানসিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর অর্থাৎ এর সময় প্রথম কয়েক মাস পিরিয়ড বন্ধও থাকতে পারে। এ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। তবে এক বছর ধরে পিরিয়ড বন্ধ আছে আবার হঠাৎ পিরিয়ড শুরু হলে অবশ্যই গাইনি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। কারণ,  এটি মোটেই স্বাভাবিক নয়। পিরিয়ড কবে শুরু হলো এটি প্রত্যেক নারীর লিখে রাখা বা মনে রাখা প্রয়োজন। স্বাভাবিক নিয়মে জন্মনিয়ন্ত্রণ, গর্ভনিরোধক পিল খাওয়া  অথবা গর্ভধারণের চেষ্টা করা সব ক্ষেত্রেই পিরিয়ড শুরুর দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পিরিয়ডের কারণে অনেক নারীরই রক্তশূন্যতা থাকে। তাই প্রতি ছয়  মাস অন্তর একটি হিমোগ্লোবিন করানো উচিত। এটি অত্যন্ত সহজলভ্য ও সস্তা একটি পরীক্ষা। রক্তশূন্যতা থাকলে আয়রন ক্যাপসুল খাওয়া উচিত। পুষ্টিকর খাবার  খাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। আর একটি কথা,  পিরিয়ডের সময় কাউকে ব্লাড দেয়া উচিৎ নয়।

সামাজিক মূল্যবোধ

আমাদের সমাজে পিরিয়ড এখনো একটি টেবু।

মেয়েরা সমস্যা গুলো লজ্জায় বলতে চায় না। সে জন্য প্রতিদিন কত নারী কত জটিল অসুখে ভুগে মারা যাচ্ছে।

নারীরা পুরুষদের কে দোষ দিচ্ছে, কিন্তু নিজের সমস্যার ভাগীদার কি অন্য কেউ হতে পারে?

কাউকে দোষ না দিয়ে নিজের সমস্যা নিজেরই সমাধান করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

যে সব নারীরা চাকরি করেন এবং বিভিন্ন পেশায় আছে, তাদের পিরিয়ড এর জন্য ২ দিন ছুটি দিতে হবে, শ্রমজীবী নারীদের সমস্যা গুলো তাদের ম্যানেজার দের বুঝতে হবে।

ছেলেদের কে নিজেদের ধ্যান ধারনা পরিবর্তন করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। মনে রাখবেন সুস্থ পিরিয়ড মানে সুস্থ নারী, তাই পিরিয়ড কে মর্যাদা দিন। এটি স্বাভাবিক একটি বিষয়, এটি কোন দুর্বলতা নয়।

 

 

বলা হয়নি তোমাকে অনেক ভালোবাসি মা

মা

আমি আইজ মির্জা একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যয়নরত। আমার এতো দূর আসতে অনেক ঝড়, বাধা, সংগ্রাম পার করতে হয়েছে। একটা জীবনের প্রতিটা সময়ের হিসাব কিভাবে কষতে হয় তা আমি জানি বা আমার মত যারা তারাই কেবল জানে। জীবনের প্রতি পদক্ষেপে পা রাখার জন্য চিন্তা করতে হতো এবার না আমাকে আবার পিছলে পরতে হয়। জীবন মানে হলো লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য দৌড়ানো। যদি হোঁচট খেয়ে পড়ে যান তবে যেখান থেকে হোঁচট খেয়ে পড়ছেন সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার দৌড় শুরু করা। যাই হোক এভাবে জীবনের অনেকটা পথা পাড়ি দিয়েছি হয়তো বা আরো দিতে হবে।

যখন খুব ছোট ছিলাম বোঝার মত বয়স হয়নি তখন জীবনের দু’টি মূল্যবান জিনিসের মধ্যে একটি হারাতে হয়। ঐ সময় বুঝতে পারিনি হারানোর ব্যাথা এবং কি হারালাম তার মর্যাদা।

মা
মা বাবা একটি সুখী পরিবারের দুটি প্রাণ।

ধীরে ধীরে যখন বুঝতে শুরু করি তখন টের পেতে থাকি ঐ মানুষটার অভাব। কিন্তু তখন পুরোপুরি বুঝতে দেয়নি আমার মা। তিনি একাধারে বাবা-মা দুজনের দায়িত্ব পালন করতেন। সারাদিন কাজের ব্যস্ততার মাঝে থেকেও আমাকে আমার বাবার অভাব অনুভব করতে দেননি। আমি এমন ছিলাম যে আমার মাকে না দেখলে মনে হতো আমি কোথায় আছি এখন?

মা
মা ছাড়া আমার পৃথিবী অন্ধকার।

মাকে ছাড়া পুরো পৃথিবীতে অন্ধকার নেমে আসতো। এক মুহূর্তের জন্যও ভাবতে পারতাম না উনাকে ছাড়া আমি থাকবো। এতোটাই স্বার্থপরতা কাজ করতো আমার ভিতর। এভাবে বাড়তে পারতো আমার বয়স আরো কতশত দিন কাটাতে পারতাম আমার মা জননীর সাথে। কিন্তু সেটাও বেশী দিন স্থায়ী হলো না। বাবা চলে যাওয়ার মাত্র দেড় বছর পর কোন এক অজানা কারণে জীবন থেকে হারিয়ে যায় আমার সেই মমতাময়ী মা। আমাকে এতো ভালোবাসতো কিন্তু যাওয়ার সময় একবারের জন্যও বলে যায়নি বাবা আমি চলে যাচ্ছি তুই নিজের খেয়াল রাখিস, যত্ন নিস, সময় মত খাবার খেয়ে নিস, বেশী দুষ্টামি করিস না, সন্ধ্যার আগে বাসায় ফিরে আসবি, ঠিক মত পড়াশুনা করবি। আমি দূর থেকে তোর ভালো থাকা দেখে শান্তি পাবো। একবারো ভাবেনি আমার বুকের মানিকটা কিভাবে একা একা নিজের জীবনটা গুছিয়ে নিবে, পারবে তো আমার মানিকটা??!!

মা
যার মা নেই সে সব সুখ থেকে বঞ্চিত।

হয়তো উনার ভালো থাকাটা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ ছিলো আমার ভালো থাকার চেয়ে। কত যায়গায় যেতাম অনেক খুঁজেছি প্রতিদিন ভাবতাম আজ হয়তো আমার মা আমাকে দেখতে চলে আসবে আমিও উনাকে আবার দেখতে পাবো। কিন্তু দেখা আর হয়ে উঠলো না। রাস্তা যখন হাঁটতাম তখন সবার মায়ের মুখে তাকিয়ে থাকতাম উনাদের মাঝে মাকে খুঁজে বেড়াতাম। সবার মা যখন রাতে দুধের গ্লাস নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে বাবা পুরোটা খেয়ে নে, না হয় তুই পড়ালেখায় মন দিতে পারবি না আর তখন আমার রাতের খাবারে পেট ভরেছে কিনা তা জানার মত কেউ ছিলো না। সকালে সবার মা নাস্তা নিয়ে রেডি আর চিন্তা করে আমার ছেলে কিভাবে না খেয়ে পড়াশুনা করবে সারাদিন বাহিরে থাকবে, কি না কি খাবে এসব নিয়ে চিন্তায় ব্যস্ত তখন আমার ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিয়ে স্কুলে পাঠানোর মত কেউ ছিলো না। একটা সন্তান তার সব কিছু মায়ের কাছে কোন সমস্যা ছাড়াই বলতে পারে দুঃখ ভাগ করে নিতে পারে। কিন্তু কোন কারণে যদি আমার মন খারাপ হতো কারো কাছে বলার মত মানুষ ছিলো না। তখন হয়তো কোন দুষ্টামি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যেতাম আর সব ভুলে যেতাম। তাই সব কিছু ভিতরে রাখতে রাখতে আর হালকা হয়ে উঠা হয়নি অনেক বেশী গম্ভীর হতে থাকি।

মা
দুঃখগুলো কেউ বুঝবে না মা ছাড়া।

এভাবে চলতে থাকলো জীবন। আমারও বয়স বাড়তে থাকে একা একা হীনমানসিকতা আমাকে ঘিরে ধরে। একটা মানুষ অনেক কিছু শিক্ষা গ্রহণ করে তার পরিবার থেকে আর পরিবারের প্রধান শিক্ষক হলো মা কারণ বাবা তার পেশা নিয়েই পড়ে থাকে খুব বেশী সময় দিতে পারে না কিন্তু মা তার পরিবারকে ধরে রাখে সন্তান কে সঠিক পথ প্রদর্শন করে। যখন একটা মানুষ তার দুই অংশ থেকে বিতাড়িত বা বঞ্চিত হয় তখন নিজেকে সামলে নিতে অনেক কষ্টকর হয়ে পড়ে। এখান থেকে অনেকে কেটে উঠতে পারে আবার অনেকে ঝরে পড়ে। এভাবে হারানোর ভয়টা বাড়তে থাকে আর বাড়তে বাড়তে এমন হয়ে গেছে যে আমি আমার জীবনে প্রতিটা মানুষকে হারানোর ভয় কাজ করে। আর ভয়টাই আমার হারানোর আরকেটা কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি আমার মাকে অনেক বেশী ভালোবাসি যার জন্য আমি পাগল ছিলাম আর সেই ভালোবাসা শুধু ভিতরেই রেখে দিয়েছি প্রকাশ করতে পারিনি।

মা খুবী ছোট একটা শব্দ কিন্তু এই ছোট শব্দের টানটা নাড়ী থেকে উৎপন্ন হয়। “মা” আওয়াজটি কানে প্রবেশ করলেই যেনো মনের ভিতরে মায়া ভালোবাসার মাত্রা অসম্ভব ভাবে বেড়ে যায়। এর ভার এতই বেশী যে অন্য কোন মানুষের তা বইবার সামর্থ্য নেই এবং সে ক্ষমতা অন্য কাউকে দেওয়াও হয় নি। মায়েদের কোন জাতে ভাগ করা যায় না “মা মানেই মা”। একজন মা তার সন্তানকে মমতা আর ভালোবাসার রক্ষাকারী দেওয়ালের মত সব সময় ঘিরে রাখে যাতে বাহ্যিক কোন আঘাত তার সন্তানের উপর হানা দিতে না পারে।

মা
মা চান তাঁর সন্তান সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় থাকবে।

আপনি যখন অন্যায় বা ভুল পথে পা বাড়াবেন তখন আপনার কাছের মানুষ গুলো একবার, দুইবার, তিনবার বা তার চেয়ে বেশী বার পথ দেখাবে কিন্তু এক সময় তারা সহ্য না করতে পেরে আপনার উপর রাগ করে আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে। অন্য দিকে দয়ার সাগর “মা” আপনাকে তার শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত আপনার সব কিছু কে সামলে রেখে আপনার পাশে থেকে যাবে আর আল্লাহ্‌র কাছে কাঁদতে থাকবে আপনার জন্য। কোথাও খুঁজে পাবেন না এমন মানুষ শত হাহাকার করলেও পাওয়া যাবে না। যদি পৃথিবীতে নিঃস্বার্থ ভালো কেউ বেসে থাকে তিনি হলেন মা জননী। অনেক কনকনে শীতের রাতেও আপনার ভেজা কাঁথাটি নিজে গায়ে না দিয়ে নিজের গরম কাঁথাটি আপনার গায়ে দিয়ে দিতেন, তিনিই হলেন সে দরদী মা যিনি নিজের আরামের কথা চিন্তা না করে তার আদরের মানিকটা কে যত্নে রাখতেন। একমাত্র একজন মানুষ এই ধরার বুকে আপনাকে ঠকাবে না তিনি আর কেউ নয় মা। কারণ মা আপনাকে তিলে তিলে নিজে কোটি বার কষ্ট সহ্য করে আপনাকে পৃথিবীতে নিয়ে এসেছেন, আর যাই হয়ে যাক সে মা আপনার প্রতি তার মায়ার দেয়াল ভাঙতে দিবে না।
মাকে কোথাও হারাতে দিবেন না। কারণ হারালেই বুঝবেন মা কেমন জিনিস। সে আপনাকে যেভাবে যত্ন করে মানুষ করেছে ঠিক সেভাবে তাকে যত্ন করে ধরে রাখবেন। মায়ের ভালোবাসা পেতে যেমন আনন্দ লাগে দেখবেন তাঁকে ভালোবাসা দিলেও মনে শান্তি লাগে। পৃথিবীর সব মাকে শ্রদ্ধা জানাই।

বাচ্চা ভালোবাসি, কিন্তু মায়ের যত্ন কি ঠিক ভাবে নিচ্ছি?

pregnant Woman

গর্ভবতী মায়ের সুস্থ্যতার উপর নির্ভর করে একটি সুস্থ্য সন্তান। গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের অপর্যাপ্ত খাদ্য ও অপুষ্টি, মা এবং সন্তানের জন্য অনেক মারাত্মক হুমকির কারণ হতে পারে। গর্ভকালিন সময়ে মা অপুষ্টিতে আক্রান্ত থাকলে অনাগত শিশুর ওজন কম হয়, বুদ্ধির বিকাশে বাধা প্রাপ্ত হয়ে থাকে এবং সাস্থ্য ভালো থাকে না। গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীর থেকে সন্তান প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান গ্রহন করে যা গর্ভের সন্তান কে পরিপূর্ণ ভাবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করে। তাই মায়ের পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টিকর খাদ্যের দরকার যা মায়ের দেহের ঘাটতি পূরণ করে। গর্ভবতী মায়ের স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশী খাবার খেতে হয়। আমাদের বাংলাদেশের বেশীর ভাগ মেয়েরা খুব কম বয়সে গর্ভধারন করে থাকে এবং অপুষ্টি জনিত সমস্যার সম্মুখীন হয়। এ কারণে অনেক সময় মৃত সন্তান প্রসব করে বা অপুষ্ট সন্তান জন্ম গ্রহন করে।

গর্ভকালিন সেবা ও খাবারে তালিকা

-গর্ভবস্থায় ২টি টিটি টিকা দিতে হবে।

-দুপুরের খাবারের পর অন্তত ২ ঘন্টা নিয়মিত বিশ্রাম নিতে হবে।

– দুধ, ডিম, মাছ-মাংস, ঘন ডাল, কলিজা, সবুজ শাকসবজি এবং দেশীয় ফল খেতে হবে।

– গর্ভাবস্থায় ভিটামিন সি যুক্ত খাবার বেশী খেতে হবে।

-প্রতিদিনের তিন বেলা খাবারের সময় অন্তত তিন এক মুঠ খাবার বেশী খেতে হবে।

-গর্ভকালিন সময়ে তিন মাস পর থেকে প্রতিদিন (সকালে ও দুপুরে) ২টি করে ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট ভরা পেটে খেতে হবে।

– গর্ভবতি মায়ের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে হবে।

-আয়োডিন যুক্ত লবণ খেতে হবে।

– বেশী করে পানি খেতে হবে।

-পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।

গর্ভাবস্থায় কিছু চিকিৎসা

মায়ের ওজন, রক্তস্বপ্লতা, রক্তচাপ, গর্ভে শিশুর অবস্থান অন্তত চারবার পরীক্ষা করতে হবে।

-১ম স্বাস্থ্য পরীক্ষা ৪ মাসে

-২য় স্বাস্থ্য পরিক্ষা ২৫-২৮ সপ্তাহে

-৩য় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ৩২ সপ্তাহে

-৪র্থ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ৩৬ সপ্তাহে

গর্ভবতী অবস্থায় যে কাজ গুলো করা যাবে না

-বাড়ীর কঠিন কোন কাজ করা যাবে না।

-ভারী কোন কিছু তোলা যাবে না।

-অনেক দূরের যাত্রা থেকে বিরত থাকতে হবে।

-মায়ের সাথে কোন প্রকার উচ্চস্বরে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

-মায়ের শরীরের ঝাঁকি লাগতে পারে এমন কোন কাজ করা যাবে না।

-ধূমপায়ী থেকে দূরে থাকতে হবে।

-তামাক জাতীয় যেমন জর্দা, সাদা পাতা খাওয়া যাবে না।

-স্বাস্থ্য কর্মী বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ধরনের ঔষধ খাওয়া যাবে না।

প্রসবকালীন ও পরবর্তি যত্ন

-দুগ্ধদানকারি মাকে সকল পুষ্টিকর (আয়রন, ভিটামিন-এ, আয়োডিন, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি) খাবার খেতে হবে।

-পরিবারের সবাইকে মায়ের কাজে সাহায্য করতে হবে।
-গর্ভবতী মাকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত রাখতে হবে। তাকে অনেক সাহস দিতে হবে।

-নিরাপদ প্রসব বাড়িতে না স্বাস্থ্যকেন্দ্রে করবেন তা আগে থেকে ঠিক করে রাখতে হবে।
-মাকে সব সময় হাসি খুশি রাখতে হবে।

-দুগ্ধদানকারি মাকে বেশী বেশী খাবার খেতে উৎসাহিত করতে হবে।
-মা যাতে অনেক সময় নিয়ে শিশু কে দুধ খাওয়াতে পারে তার জন্য মাকে সুযোগ করে দেয়া।

-শিশুর জন্মের পর সাথে সাথে তাকে শাল দুধ খাওয়ানোর জন্য মায়ের কাছে দিতে হবে।
-মায়ের দুধ জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে শাল দুধ খাওয়াতে হবে।

গর্ভকালিন সময়ে ৪টি গুরুত্বপুর্ন ব্যবস্থা

-প্রসবের জন্য আগে থেকে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ধাত্রী বা স্বাস্থ্য সেবা দানকারী ঠিক করে রাখতে হবে।
-এ সময়ের জন্য বাড়তি খরচ আগে থেকে ব্যবস্থা করে রাখতে হবে।

-প্রসবের সময়ে মায়ের অতিরিক্ত রক্তের দরকার হতে পারে। তাই আগে থেকে মায়ের রক্তের গ্রুপের সাথে মিল আছে এমন তিন জন সুস্থ্য ব্যক্তিকে রক্ত দানের জন্য ঠিক করে রাখতে হবে।

-গর্ভকালিন সময়ে দ্রুত হাসপতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করে রাখতে হবে যাতে কোন প্রকার জটিলতা দেখা দিলে সমস্যা না হয়। এজন্য যানবাহন আগে থেকে ঠিক করতে হবে।

baby shoes
একজন সুস্থ্য মা মানে একটা সুস্থ্য সন্তান আর একটা সুস্থ্য সন্তান মানে একটা সুন্দর সুস্থ্য জাতি।