হিট স্ট্রোক হতে পারে আপনার প্রিয় বন্ধু কুকুরটির

হিট স্ট্রোক

কুকুরের লোম কুকুরকে সুরক্ষিত রাখে। কিন্তু আমাদের মত দেশে কুকুরের অতিরিক্ত লোম অর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। দীর্ঘ কয়েক দশকের মধ্যে এবার সবচেয়ে গরম পড়েছে। একবার ভাবুন আমাদের যদি এমন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা হয় তাহলে ওদের কি হাল হয়। তাই যারা কুকুর পালেন তাদের জন্য এটা জানা খুব জরুরি যে হিট স্ট্রোক- এর লক্ষণ কি কি? কিভাবে তখন কুকুরটিকে বাঁচাবেন? আর কি করে এর প্রতিকার করা যায়? আসুন জেনে নেই।

হিট স্ট্রোক- এর লক্ষণ

  • শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকা
  • মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা পড়া
  • নাক ভেজা থাকা (কুকুরের নাক দিয়ে ঘাম বের হয়)
  • নিল-বেগুনি অথবা উজ্জ্বল লাল রঙের মাড়ি, টিস্যুতে ঠিক মত অক্সিজেন না যাওয়াতে এমনটা হতে পারে।

হিট স্ট্রোক

হিট স্ট্রোক- এ তাৎক্ষণিক চিকিৎসা

  • আপনার কুকুরকে দ্রুত ঠাণ্ডা করুন। সারা শরীরে ঠাণ্ডা পানি দিন। বরফ পানি দেবেন না তাহলে আবার হিতে বিপরীত হতে পারে। দ্রুত করতে গিয়ে আবার কানে যেন পানি না যায় সে দিকে খেয়াল রাখবেন।
  • কুকুরটির সারা শরীর ভেজানোর পর বাতাস করুন। ফ্যান অথবা এসির সাহায্য নিতে পারেন। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে ভেজা কাপড় দিয়ে কুকুরটির শরীর ঢেকে রাখতে পারেন এতে করে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করবে। যেই যানবাহনে যাবেন খেয়াল রাখবেন যেন ঠিক মত বাতাস আসা যাওয়া করতে পারে।
  • যদি আপনার কুকুর পানি পান মত ক্ষমতা রাখে তাহলে বেশি করে পানি পান করান।
  • কুকুরের হিট স্ট্রোক একটি ভয়াবহ সমস্যা। এর কারণে কুকুর ব্রেইন স্ট্রোকও করতে পারে। যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের শরণাপন্ন হউন।

হিট স্ট্রোক- এর প্রতিকার

  • আপনার কুকুরকে কখনই একা গাড়িতে আটকে রাখবেন না। একটি বদ্ধ গাড়ি ৪৫-৫০ ডিগ্রী তাপ উৎপন্ন করতে পারে। এই তাপমাত্রায় আপনার কুকুর ডিহাইড্রেট হতে পারে, হিট স্ট্রোক অথবা ব্রেইন স্ট্রোকের শিকার হতে পারে। কারণ এই অতিরিক্ত তাপ ওর সহ্য হবে না। তাই আপানার গাড়ির বাইরে যেতে হলে আপনার কুকুরটিকে সাথে করে নিয়ে যান। ওরা খুব লক্ষ্মী হয়, আপনাকে এত বিরক্ত করবে না আশা করি।

হিট স্ট্রোক

  • আপনার কুকুরটি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। পানির পাত্র যেন সব সময় পূর্ণ থাকে সেদিকে খেয়াল করুন। পানির পাত্র এমন জায়গায় রাখুন যেখানে তাপমাত্রা কম। কুকুরের একটি বাজে অভ্যাস আছে, এরা পানির পাত্র উল্টে ফেলে। তাই কয়েকটা জায়গায় পানির পাত্র রাখুন।
  • আপনি যখন আপনার কুকুর নিয়ে বাইরে যাবেন তখন ওর জন্য অবশ্যই পানি নিয়ে যাবেন এবং পানি পান করার জন্য একটি পাত্র নেবেন। যত বেশি পানি খাওয়াবেন আপনার কুকুর তত ভাল থাকবে। পানি পান করাতে কখনই কার্পণ্য করবেন না।
  • গরম বেশি হলে সেদিন বেশি খেলাধুলা করবেন না। বাইরের হাঁটতে যাবেন না আপনার কুকুরকে নিয়ে। এই গ্রীষ্ম করলে যত পারেন আপনার কুকুরকে ঠাণ্ডা জায়গায় রাখুন।
  • বেশীক্ষণ পায়ে জুতা অথবা অন্যকিছু পড়াবেন না। কারণ কুকুর পায়ের পাতা, নাক দিয়ে ঘাম বের করে।

 

পৃথিবীর বিস্ময়কর বুদ্ধিমান কথা বলা পাখির দল

পাখি

মানুষের পর একমাত্র পাখিই আছে যারা কথা বলতে পারে।  মানুষের মত হুবুহু কণ্ঠ নকল করতে পারে এমন পাখিও আছে। বুদ্ধিমান প্রাণীদের তালিকায় ভাল একটা জায়গা দখল করে আছে এই পাখিরা। চলুন দেখে নেই পৃথিবীর বিস্ময়কর কিছু পাখি সম্পর্কে।

বাজ্রিগার

পাখি

বাজ্রিগার খুব পরিচিত একটি পোষা পাখি। বাজ্রিগার বাজি নামেই বেশ সুপরিচিত। ছোট প্রজাতির এই পাখিটি এর বুদ্ধিমত্তার জন্য জনপ্রিয়। শ্রবণ ক্ষমতা অনেক ভাল। খুব সহজে বড় শব্দ বা বাক্য মনে রাখতে পারে। পাখিগুলো অস্ট্রেলিয়াতে পাওয়া যায়। মালিকের থেকে কোন শব্দ শোনা মাত্র এরা মনে রাখতে পারে এবং বার বার তা বলতে থাকে। পুরুষ বাজ্রিগার মেয়ে বাজ্রিগারের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হয়। শেখার ক্ষমতাও তাই পুরুষ বাজ্রিগারের বেশি। এদের গড় আয়ু ৪-৫ বছর এবং খাঁচায় ১০-১২ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

সন্ন্যাসী টিয়া

পাখি

সন্ন্যাসী টিয়া একটি রঙিন পাখির প্রজাতি যা আসলে একটি ছোট টিয়া। এটি কোয়েক টিয়া নামেও পরিচিত। এই পাখিগুলি সুপরিচিত তাদের কয়েকটি বড় শব্দভাণ্ডার তৈরির ব্যাপক গুণের জন্য। এই সন্ন্যাসী টিয়া ইউরোপ এবং দক্ষিণ আমেরিকাতে পাওয়া যায়।

এদের প্রশিক্ষকদের বা মালিকদের থেকে শোনা শব্দ অনুকরণের একটি ক্ষমতা আছে। আশেপাশে যে সকল শব্দ এরা শুনতে পায় সব কিছু অনুকরণ করতে পারে।

ব্লু ফ্রন্টেড অ্যামাজন

পাখি

ব্লু ফ্রন্টেড অ্যামাজন সবচেয়ে জনপ্রিয় পাখিগুলির মধ্যে একটি। এই পাখি দক্ষিণ আমেরিকাতে পাওয়া যায়।

এদের নামকরণ এদের মাথার সুন্দর নীল রঙের উপর ভিত্তি করে রাখা হয়েছে।পাখিগুলো যেমন সুন্দর করে কথা বলতে পারে তেমন দেখতেও অনেক বেশি সুন্দর।

তারা সত্যিকারের মানুষের ভাষা নকল করতে পারে। তাদের মধ্যে এক ধরণের অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে সেটা হল তারা খুব রক্ষণশীল। তাই মানুষের প্রয়োজন তাদের সাথে একটি বন্ধন তৈরি করার।

এরা খেলনা দিয়ে খেলতে খুব ভালবাসে।

ইলেক্টাস

পাখি

এই পাখিটি টিয়া প্রজাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তারা নিউ গিনি দ্বীপপুঞ্জে থাকে। এরা এদের স্বচ্ছ বক্তৃতার জন্য সুপরিচিত। তারা বিশাল পরিসরের শব্দভান্ডার বুঝতে পারেন।

এই টিয়া পাখিগুলো বেশিরভাগ শব্দের অনুকরণ করে যা তারা শুনতে পায়। তারা গানও পছন্দ করে।

মালিকদের কখনও বোকা বানানো তাদের একটি অনন্য ক্ষমতা। এখানে উভয় পুরুষ এবং মহিলা কিছু মধুর কণ্ঠস্বর বের করতে পারে।

ককাটিয়েল

পাখি

ককাটিয়েল হল কাকাতুয়া পরিবারের একটি পাখি। ককাটিয়েলকে ক্যারিওন এবং উইরো নামেও ডাকা হয়। বাংলাদেশে এটি ককাটেল বা ককাটেল পাখি নামেই বেশি পরিচিত।

ককাটিয়েল মূলত অস্ট্রেলিয়া অঞ্চলের এন্ডেমিক প্রাণী। বন্য প্রজাতি হিসেবে একে অস্ট্রেলিয়া ছাড়া কোথাও পাওয়া না, গেলেও বিশ্বব্যাপি এটি খাঁচায় পোষা গৃহপালিত পাখি হিসেবে পালিত হয়।

সহজে বাচ্চা উৎপাদন, সৌন্দর্য ও আরও কিছু কারণে এটি বাজ্রিগারের পরে খাঁচায় পোষা দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রজাতি।

খাঁচাবন্দি ককাটিয়েল সাধারণত ১৬ থেকে ২৫ বছর বাঁচে। রেকর্ড অনুযায়ী কিছু কিছু ক্ষেত্রে ককাটিয়েল ১০ থেকে ১৫ বাঁচে; ককাটিয়েলের ৩২ বছর বেঁচে থাকারও রেকর্ড আছে। একটি ককাটিয়েল পাখি অবশ্য ৩৬ বছর বেঁচে ছিল। এগুলো সাধারণত নির্ভর করে খাবার, পরিবেশ আর উড়ার জায়গার উপর।

এরা খুব দ্রুত একসাথে অনেকগুলো শব্দ মনে রাখতে পারে। মানুষের কণ্ঠ নকল করে কথা বলতে পারে।

পাহাড়ি ময়না

পাখি

পাহাড়ি ময়না বিশ্বব্যাপী সর্বশ্রেষ্ঠ কথা বলার পাখি হিসাবে পরিচিত। এদের প্রধানত দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া জুড়ে পাওয়া যায়। এরা কথা বলতে এবং মানুষ যেভাবে কথা বলে ঠিক একই ভাবে কথা বলতে পারে। পাহাড়ি ময়না বিভিন্ন ধরনের শব্দের ডাকতে পারে। এরা কান্নাকাটিও করতে পারে। ময়না দুটি প্রজাতি আছে যা আরও শক্তিশালী উপায়ে কথা বলতে পারে। পাহাড়ি ময়নার অন্যান্য প্রজাতিও রয়েছে।

 ব্লু গোল্ড ম্যাকাও

পাখি

ব্লু গোল্ড ম্যাকাও তোতা পরিবারভূক্ত সর্ববৃহৎ ম্যাকাও গোত্রের অন্যতম সদস্য। অন্যান্য ম্যাকাও পাখির ন্যায় এটিও পোষ মানে। তবে পাখিটি বনাঞ্চল থেকে উল্লেখযোগ্য হারে শিকার হচ্ছে; ফলে এটি সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু এদের বংশবিস্তার কার্যক্রম ব্যাপকভাবে গ্রহণ করায় এটি এখনো প্রকৃতিতে বিদ্যমান।

ব্লু গোল্ড ম্যাকাওরা অন্যতম জনপ্রিয় পোষা পাখির মর্যাদায় অভিষিক্ত। নজরকাড়া রঙের ভিন্নতা, কথা বলায় দক্ষতা অর্জন, বাজারে সহজেই প্রাপ্যতা এবং মানুষের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলায় এ পাখিটি অসম্ভব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

বুনো অবস্থায় এ ধরনের ম্যাকাও বেশ আক্রমণাত্মক ভঙ্গী প্রদর্শন করে। কিন্তু ছোট বাচ্চা ম্যাকাও বেশ ক্রীড়ামোদী।

সঙ্গীকে নিয়ে সারাজীবন একত্রে থাকে এই পাখিটি। মৃত গাছে এদের বাসা থাকে। স্ত্রী পাখিটি সচরাচর দুই থেকে তিনটি ডিম পেড়ে থাকে। প্রায় আটাশ দিন স্ত্রী পাখিটি ডিমে তা দেয়।

কাকাতুয়া

পাখি

সকল কাকাতুয়ারই আকর্ষণীয় পালক এবং শক্তিশালী বাঁকানো ঠোঁট রয়েছে। অধিকাংশ প্রজাতিই সাদা রংয়ের। কিন্তু কিছু প্রজাতির গায়ের রঙ ধূসর, খয়েরী, উজ্জল কালো বর্ণের। কাকাতুয়া মাঝারি থেকে বড় বড় তোতা পাখির চেয়েও বড় হতে পারে।

উদ্ভিদজাত খাবার গ্রহণ করে এরা জীবনধারন করে। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনাঞ্চলের উঁচু বৃক্ষের গর্তে থাকতে পছন্দ করে এবং সেখানেই তারা বাসা বাঁধে। মূলত প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট পাখির গর্ত কিংবা পাহাড়ের গুহায় এরা বাসা তৈরী করে। স্ত্রীজাতীয় কাকাতুয়া দুইটি থেকে চারটি সাদা ডিম পারে। শাবকগুলো চোখ বোজা অবস্থায় থাকে এবং প্রায় তিন মাস শাবকদের বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্ত্রী-পুরুষ উভয় কাকাতুয়াই পালাক্রমে দেখাশোনা ও লালন-পালন করে। বাবা মা দুজনে মিলেই তাদের ছানার দেখা শোনা করে।

মানুষের কথা নকল করতে এরা খুব ভালবাসে। কাকাতুয়া খুব সামাজিক একটি পাখি। মালিককে খুব ভালবাসে এরা। ঠিক মত লালন পালন করলে এবং সেখালে এরা সব কিছুই আয়ত্তে আনতে পারে।

আফ্রিকান গ্রে প্যারট

পাখি

পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণীর লিস্টে ৩য় স্থানে রয়েছে আফ্রিকান গ্রে প্যারট। এদের পাখি জগতের আইনস্টাইন বলা হয়। এরা অত্যন্ত চালাক একটি পাখি।

গবেষনায় দেখা গেছে এরা বিমুর্ত এবং সিদ্ধান্তলব্ধ যুক্তি ক্ষমতার অধিকারী। এরা মানুষের কন্ঠ নকল করতে পারে এবং মানুষের নির্দেশনা বুঝে বিভিন্ন কাজ করতে পারে।

গবেষণা অনুযায়ী, এদের বুদ্ধিমত্তা ৪ থেকে ৬ বছর বয়সী মানুষের বাচ্চার বুদ্ধির সমমান।

আর এদের বুদ্ধিমত্তা, মানুষের মত কথা বলা ইত্যাদি কারনেই সমগ্র পৃথিবীতে এরা জনপ্রিয় পোষা পাখি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে।

মাংসাশী ৫ টি উদ্ভিদকে চিনে রাখুন, হয়তো আপনার আশেপাশেই আছে

মাংসাশী

প্রকৃতির অন্যতম একটি উপাদান হচ্ছে গাছ। আমরা বিভিন্নভাবে প্রক্রিয়াজাত করে খাদ্য গ্রহণ করি। সবাই জানি যে গাছ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাবার তৈরি করে। মাটি থেকে পানি, সূর্যের আলো আর পাতার মাধ্যমে তৈরি করা খাবার দিয়েই গাছ তার জীবন চালনা করে। কিন্তু গাছ যদি পোকামাকড়, ব্যাঙ, ছোট ইঁদুর খায় তবে কেমন শোনাবে। হ্যাঁ আপনি ঠিক শুনছেন। আসুন জেনে নেই এমন ভয়ঙ্কর মাংসাশী গাছদের ব্যপারে।

মাংসাশী উদ্ভিদ ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ

সাধারণত এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলিনার জলাভূমিতে পাওয়া যায়।

  • জীবনকাল প্রায় মোটামুটি ২০ থেকে ৩০ বৎসর পর্যন্ত
  • উদ্ভিদগুলোর মাঝ বরাবর লম্বা দন্ডাকৃতির কান্ডে নজরকাড়া সাদা ফুল ফোটে এবং এই ফুল থেকে চকচকে কৃষ্ণকালো অনেকগুলো ফল থোকায় থোকায় ধরে।
  • গাছগুলোর গোড়ার দিকে ১ ইঞ্চির সমান লম্বা সবুজ পাতা জন্মায়। এই পাতাগুলো দেখতে অনেকটাই ঝিনুকের মত অথবা অনেকটা মুখের চোয়ালের মতো হয়।
  • প্রতিটি পাতা তিন থেকে ছয় ইঞ্চির মতো লম্বা হয় এবং এতে অনেক গুলো ছোট ছোট লোম থাকে।
  • সবচেয়ে মজার বিষয় হল একটা পোকা হজম করতে ভেনাস ট্র্যাপের সময় লাগে ১০ দিনের মতো
  • মাংসাশী এই গাছটি এর পাতা দিয়ে পোকা আটকায়।
  • ভেনাস ট্র্যাপের পাতা একসাথে ৩ থেকে ৪টি পোকা ধরতে পারে এবং পরবর্তীতে যখন এর কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় তখন আবার নতুন করে পাতা গজায় এবং পুনরায় সে নতুন পাতা গুলো পোকামাকড় ধরতে থাকে।

    মাংসাশী উদ্ভিদ কলসি

    মাংসাশী

    কলসি উদ্ভিদে ফাঁপা বিশেষ এক ধরনের পাতা রয়েছে যা একটি জগ কিংবা কলসির মত পানি ধরে রাখতে পারে। কলসির মত দেখতে এ পাতাগুলো শিকার ধরার ফাঁদ হিসেবে কাজ করে। গঠন ও আকৃতি থেকেই এদেরকে নাম দেওয়া হয়েছে কলসি উদ্ভিদ।

  • ছোট কলসি গাছগুলো কীটপতঙ্গ ধরে। বড় কলসি গাছগুলো ছোট ব্যাঙ, ইঁদুর শিকার করে।
  • কলসের সঙ্গে আটকানো পাতাটি লম্বা নলের মত কাজ করে।
  • নলটির মাথায় থাকে রংচঙে এক প্রবেশ পথ। যে কারণে কীটপতঙ্গরা আকৃষ্ট হয়। আর সেই ফাঁদে পা দেয়।
  • নলের তলদেশ অংশটি পেয়ালাকৃতির।
  • কলসির মাথায় ঢাকনা থাকে এবং ঢাকনাটি সব সময় খোলা থাকে।
  • প্রবেশ পথে মধু উৎপন্ন হয়। কলসির ভেতরে আরও মধু থাকে।
  • পোকাটি কলসির নলের ভিতরেই ঢোকার পরই বিপদে পড়ে যায়। নলের ভিতরের দেয়ালটি বরফের মতই মসৃণ আর পিচ্ছিল। তাই যতবার উঠতে যায় ততবার পড়ে যায়।

মাংসাশী উদ্ভিদ ওয়াটার হুইল

মাংসাশী

 

 

ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান ও আফ্রিকাতে এ উদ্ভিদটি পাওয়া যায়। ছোট আকারের শিকড়হীন এ উদ্ভিদটি পুকুর বা জলাশয়ের উপরে ভাসতে দেখা যায়।

  • উদ্ভিদের পাতাগুলোই ফাঁদ হিসেবে কাজ করে।
  • আকারে ছোট হওয়ায় এদের শিকারগুলোও ছোট হয়।
  • প্ল্যাঙ্কটন নামের ছোট ছোট জলজ প্রাণী আর প্রাণীদের লার্ভাই এদের মূল খাদ্য।
  • ওয়াটার হুইলের পাতাগুলো কাজ করে পানির নিচের ভেনাস ফাইট্র্যাপের মত।
  • পোকা ফাঁদে প্রবেশ করলে পাতার খন্ড দুটি এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়।
  • পোকাটি পরিপাক হওয়ার পর পাতাগুলো আবার শিকার ধরতে প্রস্তুত হয়।

মাংসাশী উদ্ভিদ সূর্যশিশির

উদ্ভিদটির পাতাগুলো ছোট আর গোলাকার। উদ্ভিদটি আঠালো ফাঁদওয়ালা মাংসাশী উদ্ভিদের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

  • উদ্ভিদটি মাত্র ৩.৫ ইঞ্চি (৮ সে.মি.) চওড়া।
  • বড় আগাছা ও আশে পাশের গাছের নিচেই লুকিয়ে বেড়ে ওঠে ওরা।
  • সূর্যশিশিরের পাতাগুলোকে উজ্জ্বল লাল রঙের দেখায়। দেখে মনে হয় উপরে শিশির ছড়ানো।
  • এর পাতাগুলো অসংখ্য বোঁটা দিয়ে ঢাকা থাকে। প্রতিটি বোঁটার আগায় আঠালো এক ধরণের পদার্থ থাকে। এই আঠালো পদার্থগুলোর রঙই লাল।
  • বাতাসে এক ধরণের সুগন্ধও ছড়ায় এই মাংসাশী উদ্ভিদটি।
  • যে লাল রঙের আঠালো পদার্থের কথা বললাম, সেই পদার্থগুলো তৈরি করা হয় পোকা মাকড়দের আকৃষ্ট করার জন্য।
  • যখন পোকা উদ্ভিদটির পাতায় বসে তখনই আঠালো পদার্থ পোকার পায়ে লেগে যায়। পোকাটি যত ছোটার চেষ্টা করে তত বেশি করে এথা লেগে যায় ওদের শরীরে।
  • ৪/৫ দিনের মধ্যে পরিপাক শেষ করে আবার আগের অবস্থানে চলে যায়।

মাংসাশী উদ্ভিদ ঝাঁঝি দাম

মাংসাশী

 

বাংলাদেশের বিভিন্ন খাল বিলে এর অবাধ অবস্থান। বর্ষার শেষদিকে একটু কম পানিতে জন্মায় এরা।

  • এটি একটি মধ্যম আকারের জলজ বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ।
  • তেমন কোনো শেকড় থাকে না এবং পানিতে ভেসে বেড়ায় এই উদ্ভিদগুলো।
  • শেকড়ের বদলে এদের এক ধরণের থলে থাকে।
  • থলের মুখের প্রবেশ পথে খাড়া রোম থাকে।
  • এই রোমগুলোতে কোন জলজ প্রাণী স্পর্শ করলেই এর মুখ খুলে যায় এবং প্রাণীটিকে থলের ভেতর নিয়ে নেয়।
  • উদ্ভিদটির গাঢ় কমলা হলুদ রঙের ফুল হয়। হাল্কা সুবাস আছে এতে।

পৃথিবীর কয়েকটি দুর্লভ এবং দামী খনিজ পাথর

পাথর

জলদস্যুর দল কতো কষ্ট করে বিভিন্ন গুপ্তধনের খোঁজ বের করত। সেই রোমাঞ্চকর কাহিনী গুলো পড়লে মাথায় ঘোরে চকচকে সোনা আর হীরাসহ অনেক দামী পাথরের ছবি। আজ আপনাদের সেই সব পাথর সম্পর্কে বলবো যেগুলো অনেক দুর্লভ আর দামী। যেগুলো দেখলে আপনারও জলদস্যু হতে মন চাইবে।

লাল হীরা

বিশ্বের এ পর্যন্ত প্রাপ্ত সমস্ত খনিজ পাথরের চেয়েও সবচেয়ে বেশি মূল্যবান লাল হীরা। দুষ্প্রাপ্যতাই এর অনন্য বৈশিষ্ট্য। দুর্লভ এ পাথরের প্রতি ক্যারেটের মূল্য প্রায় ১০ লক্ষ মার্কিন ডলারেরও উপরে। সারা পৃথিবীতে এই পর্যন্ত ৩০ টির মত লাল হীরা পাওয়া গেছে, যাদের বেশিরভাগই অর্ধেক ক্যারেটের।

তাফেইটি

পাথর
তাফেইটি আরেকটি দুর্লভ খনিজ পাথর। এটাকে দেখতে অনেকটা চুনি পাথরের মত। আয়ারল্যান্ডে ১৯৪৫ সালে সর্বপ্রথম এটা আবিষ্কৃত হয়। পরবর্তী সময়ে শ্রীলংকা এবং তানজানিয়াতেও পাওয়া যায় এই পাথর। এর প্রতি ক্যারেটের মূল্য ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার।

গ্রান্ডিডিয়েরাইট

পাথর
এটি খুবই কম পাওয়া গেছে এ পর্যন্ত। মাদাগাসকারে ১৯০২ সালে সর্বপ্রথম এটা পাওয়া গিয়েছিল। প্রতি ক্যারেটের মূল্য ২০ হাজার মার্কিন ডলার।

স্যারেন্ডিবিটে

পাথর
স্যারেন্ডিবিটে খুবই দুষ্প্রাপ্য একটি খনিজ পাথর। এটা সর্বপ্রথম ১৯০২ সালে শ্রীলংকাতে পাওয়া যায়। সাম্প্রতি এটি মিয়ানমারেও পাওয়া গেছে। প্রতি ক্যারেট মূল্য ১৮ হাজার মার্কিন ডলার।

হীরা

পাথর

পৃথিবীতে যত কঠিনতম খনিজ পাওয়া গেছে তার মধ্যে হীরা একটি। কয়লা খনিতে পাওয়া যায় এই পাথর। ১০০-৩০০ বছরে কয়লা রূপান্তরিত হয়ে হীরায় পরিণত হয়। প্রতি ক্যারেটের মূল্য ১৫ হাজার মার্কিন ডলার।

আলেকজান্দ্রিত

পাথর

আলেকজান্দ্রিত সর্বপ্রথম ১৮৩০ সালে রাশিয়াতে পাওয়া গেছে। বিভিন্ন অবস্থায় বিভিন্ন রংয়ের রূপ ধারণ করে আলেকজান্দ্রিত।

আলোতে পান্নার মত দেখতে এবং অন্ধকারে লাল রুবি পাথরের বর্ণ ধারণ করে এটি। প্রতি ক্যারেটের মূল্য ১২ হাজার মার্কিন ডলার।

রেডবেরেল

পাথর

রেডবেরেল তৈরি হয় ব্যারিয়াম, এলুমিনিয়াম এবং সিলিক্যাটের মাধ্যমে। প্রকৃতিতে যে সমস্ত পান্না পাওয়া যায় সেগুলো বর্ণহীন।

এই পাথরের মূল্য প্রতি ক্যারেট ১০ হাজার মার্কিন ডলারের উপরে এবং দুষ্প্রাপ্য পাথরটি একসাথে ২-৩ ক্যারেটের বেশি পাওয়া যায় না।

মুসগ্রেভিটে

পাথর

অস্ট্রেলিয়ার মুসগ্রেভ অঞ্চলে ১৯৬৭ সালে সর্বপ্রথম এই পাথর পাওয়া যায়। এটা খুবই দুষ্প্রাপ্য এবং কঠিন পাথর।

মুসগ্রেভিটে তৈরি হয় অ্যালমুনিয়াম অক্সাইডের সাথে ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন এবং জিংকের বিক্রিয়ার ফলে।

প্রতি ক্যারেটের মূল্য ৬ হাজার ডলার।

বেনিটয়েটে

পাথর

উজ্জল নীলাভ বণ্রের পাথর এটি। ব্যারিয়াম, টাইটানিয়াম এবং সিলিকার তৈরি এটি। ক্যালিফোর্নিয়ার বেনিটো কাউন্টিতে এটি সর্বপ্রথম পাওয়া গেছে।

পরবর্তীতে সেই জায়গার নাম অনুসারেই এর নামকরণ করা হয় বেনিটয়েটে। প্রতি ক্যারেটের মূল্য ৪ হাজার মার্কিন ডলার।

পাওড্রেটেটিয়েট

পাথর

কানাডার পাওড্রেটে পরিবার ১৯৬০ সালে সেইন্ট হিলারি কিউবেক পাহাড়ে সর্বপ্রথম এই খনিজ পাথর আবিষ্কার করে।

এটা দেখতে অনেকটা গোলাপি রংয়ের। প্রতি ক্যারেটের মূল্য ৩ হাজার মার্কিন ডলার।

 

শিশু স্বাস্থ্য হারাতে পারে যে সকল শীতকালীন রোগে

শিশু

আমাদের দেশের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ। জীবন ধারণের জন্য অনেক জনপ্রিয় এই আবহাওয়া।

গ্রীনহাউস এফেক্ট আর বৈশ্বিক পরিবর্তন আমাদের প্রকৃতি নষ্ট করছে।

এই জন্য একদিকে আমাদের দেশের গরমকালে তাপমাত্রা অনেক বেড়েছে আবার অন্য দিকে বেড়েছে শীতের প্রকোপ।

তাপমাত্রার এমন আকস্মিক উঠানামার কারণে দেখা দিচ্ছে নানান ধরণের রোগ। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু।

শীতের মৌসুমে এমন কিছু রোগ আছে যেগুলো একটি শিশুকে সারা জীবন ভোগাতে পারে। সাবধানতা অবলম্বন করলে বেঁচে যেতে পারে আপনার ছোট্ট মানিক।

আসুন জেনে নেই রোগগুলোর সম্পর্কে।

নিউমোনিয়া

শিশুর জন্য ভয়ংকর এক রোগের নাম নিউমোনিয়া। এই রোগে এখন পর্যন্ত অনেক শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

নিউমোনিয়া হলে ফুসফুস ফুলে ওঠে এবং ফুসফুসের ভিতর তরল পদার্থ জমা হয় যার ফলে বাচ্চারা একটানা কাশিতে ভুগতে পারে, এমন কি শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়াও আশ্চর্য নয়।

নিউমোনিয়া কি সেই সম্পরকেই জানেনা অনেকে। ঠাণ্ডা থেকেই হয় এই রোগটি। তাই মাকে অবশ্যই শীতকালে অনেক বেশি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

বাচ্চা যেন প্রস্রাবে ঘুমিয়ে না থাকে, জামা কাপড় যেন সব সময় শুষ্ক থাকে। এই সব দিকে খেয়াল রাখতে হবে। ভুলেও যেন বাচ্চার মাথায় কুয়াশা না লাগে।

শিশুর হাঁচি কাশি বেশি দিন স্থায়ি হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে।

যদি দেখেন অতিরিক্ত সর্দির জন্য শিশু স্তন্য পান করতে পারছে না তাহলে যত জলদি পারেন ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন বের হয়েছে। এই ভ্যাকসিন দিলে শিশুর নিউমোনিয়া আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।

এই রোগ ছোঁয়াচে সুতরাং শিশুকে সাবধানে রাখবেন।

ব্রংকিওলাইটিস

ব্রংকিওলাইটিস শিশুদের ফুসফুসের একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যাতে আক্রান্ত শিশুরা ভয়ানক কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভোগে। সাধারণত ২ বছরের কম বয়সী শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়।

কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশু এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করলেও এই রোগ হতে পারে। নবজাতক কে কখনই স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে রাখা ঠিক নয়।

প্রাথমিক ভাবে হালকা জ্বর, হাঁচি কাশি আর সর্দি থাকতে পারে। আক্রান্ত শিশুরা অতিরিক্ত কান্নাকাটি করে, অস্থির থাকে।

শ্বাসকষ্টের জন্য তাদের খেতে ও ঘুমাতে সমস্যা হতে পারে। কারও কারও দ্রুত শ্বাসের সঙ্গে হৃদ স্পন্দন বেড়ে যায়।

উপসর্গ দেখেই এই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। রক্ত পরীক্ষা এবং বুকের এক্স-রে রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করে।

জরুরী ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি করুন।

এজমা অথবা হাঁপানি

হাঁপানি রোগটি সহজে নির্ণয় করা যায় না। এর তীব্রতা যখন বেড়ে যায় তখন বোঝা যায়।

সময় মতো নিরাময় না করলে সারা জীবন ভুগতে হয় এই রোগে। কিন্তু নির্ণয় করা অনেক সহজ।

শিশু যখন শ্বাস প্রশ্বাস নেয় তখন অনেক কষ্ট হয়, বুকে কান রাখলে বাঁশির মতো আওয়াজ শোনা যায়। শ্বাস নেয়ার সময় বুক একদম দেবে যায়।

কিছু খাবারে এলার্জি দেখা যায়। খুসখুসে কাশি থাকে। এই উপসর্গ দেখা দিলেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন। নয়তবা আপনার অসাবধানতার জন্য শিশুটির সারা জীবন এই রোগ বহন  করে চলতে হবে।

হাম

হাম এক অত্যন্ত সংক্রামক রোগ আর এটা ছড়ায় যে কোনও সংক্রমিত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে। শুরুর দিকে সর্দিকাশি আর জ্বর থাকে।

দুদিনের মাথায় দেখা দেয় অন্যান্য সমস্যা যেমন শ্বাসনালীর বন্ধ হয়ে আসা মানে ব্রঙ্কাইটিস, ফুসফুসে সংক্রমণ মানে ব্রোঙ্কিওলাইটিস, কানের সংক্রমণ বা বাচ্চাদের গলা ফুলে যাওয়ার মত উপসর্গ।

আপনার শিশুর হাম হলে তাকে অন্য বাচ্চাদের সাথে মেশা থেকে বিরত রাখুন নাহলে অন্যরাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

চিকেন পক্স

চিকেন পক্স বাচ্চাদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়। সারা গায়ে দেখা দেয় পক্সের দানা যেগুলো বিশ্রী রকমের চুলকানির উৎস হয়ে দাঁড়ায়।

পক্সের সময় হালকা ফ্লুয়ের লক্ষণও দেখা দেয়।

জ্বর আসে গায়ে। জ্বরের মাত্রা তীব্র হতে পারে। ভয় পাবার কারণ নেই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

তবে আশার কথা এই যে শিশুদের একবার চিকেন পক্স হয়ে গেলে ভবিষ্যতে ফের এই রোগের পাল্লায় পড়ার সম্ভাবনা বেশ কম।

এ রোগ হলে আপনার বাচ্চাকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। আপনাকে অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে কারণ এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ।

আপনার শিশুর কোন খেলার সঙ্গীর পক্স হলে তার হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সুতরাং আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে এসব বিষয়ে।

চর্ম রোগ

শীত এলে শিশুর ত্বকে চর্ম রোগ হতে পারে। শীতের শুষ্ক বাতাসে নানা ধরণের রোগ জীবাণু ঘুরে বেরায়।

খেলায় মত্ত থাকা আপনার বাচ্চাকে সব সময় পরিষ্কার করে রাখাটা হয়তো খুব কষ্টকর। কিন্তু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবে বিভিন্ন ধরণের চর্মরোগ হয়।

আর একটি রোগ আছে যার নাম আমরা প্রায় সবাই জানি।

রোগটি হচ্ছে স্কেবিস। বাংলায় খুজলি পাঁচড়াও বলে থাকেন অনেকেই।

এটির সঙ্গে যদিও সরাসরি শীতের বা বাতাসের আর্দ্রতার কোনো সম্পর্কের কথা জানা যায় না তবুও দেখা গেছে এ রোগটি শীত এলেই ব্যাপক আকারে দেখা দেয়।

বিশেষ করে শিশুরা এতে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হতে থাকে।

শীতকালে যেহেতু এক বিছানায় একত্রে অনেকেই চাপাচাপি করে শোয় সে কারণে রোগটি এ সময়ে ব্যাপকভাবে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারে।

এ রোগটি আমাদের দেশের গরিব শ্রেণীর মধ্যে বেশি হতে দেখা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যে সব শিশু স্কুলে যায় তারাই এতে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

এটি একটি জীবাণুবাহিত রোগ। যে কীটটি দিয়ে এ রোগটি হয় তার নাম হচ্ছে স্কেবিয়াইসারকপটিস স্কেরিবাই।

এক্ষেত্রে শরীরে অসম্ভব রকম চুলকানি হতে দেখা যায় এবং রাতে চুলকানির তীব্রতা আরো বাড়ে।

ডাক্তারের পরামর্শে ক্রিম ব্যবহার করলে সহজেই পরিত্রাণ পেতে পারেন।

শিশু যেন বুঝতে পারে, মন্দ আদর কি?

শিশু

প্রায় সময়ই এখন মিডিয়াতে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনার খবর আসছে। হাইস্কুল হোক অথবা নার্সারি, কিংবা কিন্ডারগার্টেন শিশুরা বোধহয় যেন কোথাও আর সুরক্ষিত নয়।

এমনকি মাদ্রাসাতেও শিশু নিপীড়নের স্বীকার হচ্ছে।

শিশু নিজেদের বাড়িতেও সুরক্ষিত নয়। যুগের তালে তাল মেলাতে গিয়ে বড়দের নানা কাজে অনেক সময় দিতে হয়। না চাইলেও দূরে থাকতে হয় বাচ্চাদের থেকে।

বাচ্চাদের দিকে বেশি নজর অনেকেই রাখতে পারেন না সময়ের অভাবে। এই সময় টার সুযোগ নেয় কতিপয় মানুষরূপী পশু। তখন বাচ্চা মানসিকভাবে অনেকটা দূরে চলে যায়।

ফলে অনেক সময় হেনস্থা বা যৌন হেনস্থার শিকার হলেও তারা বাড়িতে বলতে চায় না। এমতাবস্থায় কীভাবে বুঝবেন আপনার বাচ্চা হেনস্থার শিকার।

আজকে রয়েছে সেই বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা।

অস্বাভাবিক আচরণ

শিশুরা খেলনা নিয়ে খেলতে ভালোবাসে। এটাই স্বাভাবিক। দিনের অনেকটা সময়ই নিজের প্রিয় বার্বি ডল বা অন্য পুতুল নিয়ে খেলে।

যদি দেখেন আপনার বাচ্চা পুতুল নিয়ে খেলার নাম করে বসে রয়েছে অথবা কোনও বস্তু নিয়ে অন্যান্য দিনের চেয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করছে তাহলে সাবধান হোন।

দুঃস্বপ্নের শিকার হওয়া

শিশুরাও ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখে। বড়রা যেমন ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে রিঅ্যাক্ট করে, শিশুদের ক্ষেত্রেও সেটাই স্বাভাবিক। তবে ছোটদের সাধারণত ঘুমের সমস্যা হয় না।

যদি দেখেন আপনার বাচ্চার ঘুম ঠিক হচ্ছে না তাহলে কারণ জানার চেষ্টা করুন। আর যদি দুঃস্বপ্নের শিকার হয় শিশু তাহলে নিশ্চয়ই কোনও গোলমাল রয়েছে।

এই গোলমালের সন্ধান আপনাকেই খুঁজে বের করতে হবে।

অন্যমনস্ক থাকা

সবসময় অন্যমনস্ক থাকা আর একটি বিষয়। অথবা সব জিনিসই আপনার বাচ্চা লুকোতে চাইছে কিনা সেটাও খেয়াল রাখুন।

কোনও ঘটনা মনে গভীর দাগ ফেললেই সাধারণত বাচ্চাদের এমন আচরণ করতে দেখা যেতে পারে। শুধু বাবা-মা নয়, সকলের থেকেই লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে শিশুরা। এমন অবস্থায় বাচ্চারা নিজেদের সবার থেকেও লুকিয়ে রাখে।

মুড সুইং করা

শিশুরা ছোট বয়সে একটা সময় পর্যন্ত বিছানা ভিজিয়ে ফেলে। এটা সবার ক্ষেত্রেই হতে পারে।

যদি দেখেন হঠাৎ করে নতুনভাবে তা শুরু হয় তাহলে অবশ্যই ভাবতে হবে।

কোনও লুকোনো ভয় কাজ করছে না তো শিশু মনে?

বাচ্চার মুড কি খুব তাড়াতাড়ি বদলে যাচ্ছে? নজরে রাখুন আপনার কোমল মতি শিশুর দিকে।

কাউকে অনেক ভয় পাওয়া

কোনও একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে কি আপনার বাচ্চা আতঙ্কিত? আপনি আচমকা কারও নাম বললে কি বাচ্চা ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছে?

হতে পারে তিনি আপনাদের পরিচিত। আপনার কোন আত্মীয়, বাসার কাজের লোক, অফিসের কলিগ, বয়স্ক নানা।

এক কথায় নিয়মিত যাদের যাতায়াত রয়েছে বাড়িতে।

অথবা স্কুল বা পাড়া-প্রতিবেশী। এমন হলে অবশ্যই বাচ্চার কাছে বসে ধৈর্য্য ধরে জানার চেষ্টা করুন।

বাচ্চার কথা অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। যদি আপনি তাকে অবিশ্বাস করেন তবে সে আর আপনার কাছে কিছু বলবে না।

গোপনাঙ্গে ক্ষত

বাচ্চার মুখে বা ঠোঁটে অথবা গোপনাঙ্গে কোনও ক্ষত রয়েছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।

উপরের কারণগুলো খেয়াল করলে এই বিষয়টিকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

আপনার বাচ্চা নিজেই নিজেকে আঘাত দিচ্ছে কিনা সেটাও খেয়াল রাখুন অনেক সময় মানসিক আঘাত পেলে এমনটা করতে পারে।

পৃথিবীতে শিশু যেন অভয়ে থাকতে পারে তা আমাদেরই কর্তব্য। নিজের সন্তানকে সাবধানে রাখুন।

তাকে ছোট বেলা থেকেই শিখিয়ে দিন কোনটা মন্দ আদর।

কোন কোন জায়গাতে অন্য কেউ স্পর্শ করা ঠিক না। শিশুদের বড়দের বিভিন্ন জিনিসগুলোকে ছোটদের বোঝার মতো করে বোঝানোর চেষ্টা করুন।

 

 

শীতকালে সাবধান না হলে হতে পারে নানান অসুখ।

শীতকালে

শীতকালে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আপনার সাবধানতা। এসময় অনেক কাপড় পরে বের হলে আপনার গরমও লাগতে পারে।

আবার ভাবলেন একদিন শীত কম পড়বে, কিন্তু দেখলেন ওই দিনেই বেশি শীত পড়েছে। তাই শীতকালে সাবধান থাকা জরুরি।

বাইরে বের হওয়ার আগে আবহাওয়ার খবর জেনে নিন। কাপড় ভেজা থাকলে শরীরে অনেক তাড়াতাড়ি ঠাণ্ডা লেগে যায়।

খেয়াল রাখবেন আপনার পরিধেয় কাপড়টি যেন শুষ্ক থাকে। এর মাধ্যমে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

শীতকালে
শীতের জামা কাপড় অবশ্যই রোদে দিয়ে তারপর গায়ে দিবেন।

শীতকালের ঠাণ্ডাজনিত রোগ

ঋতু পরিবর্তনের জন্য শীতের সময় নানা ধরণের রোগ দেখা যায়। বেশির ভাগই ঠাণ্ডাজনিত রোগ। এক্তু সাবধান থাকলেই এই সব রোগ থেকে রেহাই পেতে পারেন।

শীতের রোগগুলো সাধারণত ভাইরাস ও এলার্জিজনিত কারণে হয়ে থাকে। ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণেও কিছু রোগ হতে পারে।

যদিও এসব রোগের প্রধান কারণ জীবাণু, তবু পরিবেশের তাপমাত্রার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।

শীতকালে তাপমাত্রা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে আর্দ্রতাও কমে, যা শ্বাসনালীর স্বাভাবিক কাজ ব্যাঘাত করে ভাইরাস আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

আরো সমস্যা হচ্ছে, দায়ী জীবাণুগুলো ধুলোবালি, আক্রান্তের হাঁচি-কাশি অথবা দৈনন্দিন খাবার বা ব্যবহার্য জিনিস থেকে শুষ্ক আবহাওয়ায় খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।

হাঁপানি

শীতকালে
যাদের হাঁপানি আছে তারা সাবধানতা অবলম্বন করুন।

শীতকালে বাড়ে হাঁপানির প্রকোপ। এ ছাড়া ঋতু পরিবর্তনের সময়গুলোতে বিশেষত শরৎ, বসন্ত ও শীতকালে বাতাসে অসংখ্য ফুলের বা ঘাসের রেণু ভেসে বেড়ায়, যা হাঁপানির উত্তেজক উপাদান হিসেবে কাজ করে।

আর্থ্রাইটিস

শীতকালে
এই রোগটি শীতকালে বৃদ্ধি পায়।

সর্দি-কাশি ফ্লুর মতো এতটা প্রকট না হলেও আরো অনেক রোগেরই তীব্রতা বাড়ে শীতকালে। বিশেষত আর্থ্রাইটিস বা বাতের ব্যথা শীতে বেশি বাড়ে।

চর্মরোগ

শীতকালে
ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্কতার জন্য এই রোগটির সৃষ্টি হয়।

শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে। শুষ্ক বাতাস ত্বক থেকে পানি শুষে নেয়। ফলে অনেকের ঠোঁট, হাত-পায়ের নখ, ত্বক শুষ্ক ও দুর্বল হয়ে ফেটে যায়।

পরবর্তীকালে খোশপাঁচড়াসহ নানা চর্মরোগ দেখা দেয়। খুশকির সমস্যা বেড়ে যায়।

হাইপোথার্মিয়া
তীব্র শীতে অনেকের হাতের আঙুল নীল হয়ে যায়। শীত প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শরীরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত কমে গিয়ে (হাইপোথার্মিয়া) মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

শীতকালে অবশ্যই যা খেয়াল রাখতে হবে

অ্যালার্জির ধাত থাকলে যাতে সমস্যা বাড়ে তা থেকে দূরে রাখুন বাচ্চাকে৷

সাধারণত ধুলো, ধোঁয়া, মশার কয়েল, বিছানা বা কার্পেটের ধুলো, ফুলের রেণু, কুকুর-বেড়ালের রোম, ঠাণ্ডা জল ইত্যাদিতে সমস্যা হতে পারে৷

স্কুলে বা বাড়িতে কারও হাঁচি-সর্দি-জ্বর হলে বাচ্চাকে তার কাছে যেতে দেবেন না৷ বিশেষ করে সামান্য ঠাণ্ডা লাগলেই যদি বাচ্চার শ্বাসকষ্ট হওয়ার ধাত থাকে৷

রাত্রে ঘরের জানালা বন্ধ করে গায়ে ঢাকা দিয়ে ঘুম পাড়ান৷

ঠান্ডা জলে স্নান করাবেন না৷ বিশেষ করে নাকে যেন ঠান্ডা জল না ঢোকে৷ গা এবং মাথা আলাদা করে ধুয়ে নিলে ভালো৷

ঠান্ডা কিছু খাওয়াবেন না এ সময়৷

শীতের শুরু থেকে টক ফল ও শাক-সবজি বেশি করে খাওয়ান৷ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে বাচ্চার৷

চিকিত্‍সা

নাক পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন৷ ২৫০ মিলি পানিতে আধা চামচ লবণ মিশিয়ে নরমাল স্যালাইন দ্রবণ তৈরি করুন৷ কাপড় বা তুলো দিয়ে পলতে পাকিয়ে এতে ভিজিয়ে নাক পরিষ্কার করুন৷

দু-এক ফোঁটা ড্রপও দিতে পারেন৷

কাজ না হলে ও খুব বেশি সর্দি হলে ডাক্তারের পরামর্শ মতো ডিকনজেস্টেন্ট ড্রপ দিন দু-এক ফোঁটা৷

তারপরও নাক বন্ধ থাকলে শোওয়ার সময় মাথার দিকটা একটু উঁচু করে রাখুন৷

বাড়াবাড়ি সর্দিতে ডাক্তারের পরামর্শ মতো অ্যান্টিহিস্টামিনিক ড্রপ খাওয়াতে হতে পারে৷

শীতকালে

জ্বর, গা-হাত-পা-মাথা ব্যথা থাকলে খাওয়ান প্যারাসিটামল৷

ভাইরাল ইনফেকশন সচরাচর ৭ দিনে পুরোপুরি সেরে যায়৷ তবে সাবধানে না থাকলে একই সিজনে আরও দু-একবার হতে পারে৷

সমস্যা ২-৩ দিনে কমার বদলে বাড়তে থাকলে, কফ গাঢ় হয়ে হলুদ বা সবুজ রং ধরলে বুঝতে হবে সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হয়েছে৷ তখন অ্যান্টিবায়োটিক লাগবে৷

কান ব্যথা হলেও অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে৷

হাঁচি-সর্দি-নাকবন্ধ লেগে থাকলে স্টেরয়েড ড্রপ বা স্প্রে ব্যবহার করতে হতে পারে৷

জ্বর-সর্দি হলেই যদি শ্বাসকষ্ট হয়, ইনহেলার নিতে হবে৷ তবে চিন্তা করবেন না, এতে কোনও ক্ষতি হবে না বাচ্চার৷

 

 

পৃথিবীর বুক থেকে বিদায় নেয়া কিছু প্রাণী

প্রাণী

পৃথিবীর পরিবেশ এখন যেমন আছে আজ থেকে কোটি কোটি বছর আগে এমনটা ছিল না। ধীরে ধীরে আবহাওয়া আর পরিবেশ পরিবর্তন হতে থাকে। পরিবর্তন যদি ধীর গতিতে হয় তাহলে প্রাণীরা তাল মিলিয়ে বাঁচতে পারে। কিন্তু যখন প্রকৃতির পরিবর্তন খুব জলদি হয় অথবা পরিবেশ বিপর্যয় ঘটে তখন প্রাণীদের মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায় আর এভাবেই হারিয়ে গেছে জানা অজানা অনেক প্রাণী। এক সময় যাদের দেখা যেত সর্বদায় বিচরণ করতে আজ তারা হারিয়ে গেছে পৃথিবীর বুক থেকে। পৃথিবীতে বেশ কিছু বিশাল আকারের প্রাণী ছিল। ডাইনোসরের মতোই কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে তারা। তাদের হারিয়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে মানুষেরও হাত। আজ তাদের নিয়েই কথা বলব।

কাসপিয়ান টাইগার

কাসপিয়ান টাইগার ইরান, ইরাক, আফগানিস্তান, তুরস্ক, মঙ্গোলিয়া, কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান এইসব অঞ্চলে পাওয়া যেত। ১৯৭০ সাল থেকে এদের আর দেখা যায়নি। এই বাঘটি পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম। পুরুষ কাসপিয়ান টাইগারের ওজন ১৬৯-২৪০ কেজি এবং স্ত্রী কাসপিয়ান টাইগারের ওজন ৮৫-১৩৫ কেজি হয়ে থাকত। তবে কিছু কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন এখনও এই প্রাণীটির অস্তিত্ব রয়েছে।

স্টেলারস সি কাউ

এশিয়াটিক  সমুদ্রের উপকূলের কাছে ওড়মেড়লী প্রজাতীর প্রাণীটি খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল এটি ১৭৪১ সালে খুঁজে বার করা হয়েছিল। এই প্রাণীটি প্রায় ৭.৯ মিটার হয়েছিল। শটেলার  অনুসারে, এই প্রাণীটি তীরে কখনও আসে না, জলের মধ্যেই চিরন্তন বসবাস করে। এর ত্বক কালো এবং পুরু, একটি পুরনো ড়ধশ গাছের বাকলের মতো। তবে আশ্চর্যের কথা হল এটির কোন দাঁত নেই। এটাকে ১৭৬৮ সালের পর থেকেই বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

কুয়াগা

আধা জেব্রা আধা ঘোড়া। আফ্রিকা মহাদেশের বিচিত্র বিলুপ্ত একটি প্রাণী হচ্ছে কুয়াগা।

এই প্রাণীটি দেখে অনেকটাই অকল্পনীয় প্রাণী মনে হয়। কিন্তু এটিও কোন একসময় সচরাচর দেখতে পাওয়া যেত।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ প্রদেশে একবার খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল এবং যা ছিল একটি বিরল ঘটনা।

এই প্রাণীটার প্রথম অর্ধেক অংশ ছিল জেব্রার মতো দেখতে কিন্তু পিছনের অংশ ছিল ঘোড়ার মতো।

ধারণা করা হয় এটি ১৮৮৩ সালের পর থেকে বিলুপ্ত হয়েছে। এটাকে ১৭৮৮ সালে প্রাণীদের একটি প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

সর্বশেষ ১৮৭০ সালের দিকে একটি কুয়াগা পাওয়া যায় যেটিকে Artis Magistra zoo তে সংরক্ষণে রাখা হয়। কিন্তু সর্বশেষ পাওয়া এই প্রাণীটি ১৮৮৩ সালের ১২ আগস্ট মারা যায়।

তবে সম্প্রতি Smithsonian সংস্থা ঘোষণা দিয়েছে যে এই প্রাণীটি আলাদা একটি প্রজাতি ছিল না বরং সাধারণ জেব্রাদের মতোই একটি।

অ্যাওরোকস

অ্যাওরোকস এই প্রাণীটি কোন একসময়ে ইউরোপের বিখ্যাত একটি প্রাণী ছিল। যা ভারত এবং এশিয়ার আরও কিছু দেশে পাওয়া যেত।

১৫৬৪ সালে Gamekeepers রাজকীয় পরিসংখ্যান অনুসারে কেবল ৩৮ প্রাণীর সংখ্যা বের করতে পেরেছিল।

তবে ১৬২৭ সালে এই প্রাণীকে পূর্ণাঙ্গভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এই সকল প্রাণী আর দেখা যায়নি এই পৃথিবীতে।

গ্রেট আক

গ্রেট আক প্রাণীটি ছিল পেঙ্গুইনদেরই একটি প্রজাতি, যা এটলাণ্টিক  সমুদ্রের পাড়ের দ্বীপ এবং দেশগুলোতে পাওয়া যেত। কিন্তু এগুলো আজ বিলুপ্ত।

এগুলো দাঁড়ানো অবস্থায় ৭৫ সেন্টিমিটার অথবা ৩০-৪০ ইঞ্চি হত। এগুলোর ওজন ৫ কেজির মতো হত।

এগুলো আগে কানাডা, গ্রিনল্যাণ্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, আয়ারল্যাণ্ড এবং ব্রিটেনে বহু সংখ্যক খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল এবং শিকারও করা হয়েছিল। তবে ১৮৪৪ সালের পর থেকে এগুলো বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

তাসমানিয়ান বাঘ

তাসমানিয়ান বাঘ মাংসাশী প্রাণীর নাম।

বিংশ শতাব্দিতে অস্ট্রেলিয়া এবং নতুন গিনিতে ওগুলো কিছুটা দেখতে পাওয়া যেত। তবে এটাকে Tasmanian Wolf নামেও ডাকা হত।

ইউরোপীয় উপনিবেশের পূর্বে অস্ট্রেলিয়া এবং পরে বিভিন্ন দ্বীপপুঞ্জে এগুলো দেখতে পাওয়া যেত। ধারণা করা হয় এটি ১৯৩৬ সাল থেকে বিলুপ্ত হয়েছে।

 

নিশ্চুপ বৃষ্টির হাজার কথন

বৃষ্টি

কাশটা যেন অনেক বিশাল চাদরে মুড়ে রেখেছে আমাদের এই ধরাকে। কখনো তার রং নীল, কখনো সাদা মেঘে আবার কখনো বিষণ্ণ কালো রং এ যেন নানা রুপের সাজ। গ্রীষ্মের খাঁ খাঁ রোদে মাঠ ঘাট, নদীনালা, খালবিল, পুকুরের পানি শুকিয়ে ফাটল ধরতে থাকে। পশু-পাখি, গাছ-পালা, মানুষ তৃষ্ণার্ত হয়ে উঠে আর আকুতি করতে থাকে একটু শান্তির বৃষ্টির জন্য। এ যেন তৃষ্ণার্তের শ্রষ্টার কাছে আকুল প্রার্থনা। সব কিছু যখন খুব ব্যাকুল হয়ে থাকে তখন বর্ষার আগমনের সময় হয়ে যায়। তখন তৃষ্ণার্ত প্রকৃতিকে অমৃতসুধায় ভরিয়ে দিতে আসে বর্ষাকাল।

বৃষ্টির ফোঁটা
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর

রিমঝিম বৃষ্টি নামার সময় হলে নীল আকাশটা কালো হয়ে যায় যেন তার রূপের পরিবর্তনের শুরু।  আর যখন বৃষ্টির আনাগোনা শুরু হয় তখন চারদিকে সবার প্রাণে নামে শান্তির নিঃশ্বাস। কখনো কখনো চারদিক অন্ধকার হয়ে আসে, বাতাস বয়ে যায় আর কিছুক্ষণ পর নামবে শান্তির বৃষ্টি। আকাশের ভাঁজে ভাঁজে মেঘ জমে আছে। রাখাল বালক ছুটে চলছে ঝড় শুরু হওয়ার আগে গরু গুলোকে ফিরিয়ে আনতে, পাখিরা এক ডাল থেকে অন্য ডালে ছুটাছুটি করছে, স্কুলে ছুটির ঘন্টা বেজে উঠলো ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আনন্দের মিছিলে নেমে পড়লো। বৃষ্টি নামলো প্রকৃতি যেন নিস্তব্ধ হয়ে আছে নতুন প্রাণের ছোঁয়ায়। ফুল গুলো আবার হাসা শুরু করছে এ যেন নতুন প্রাণের মেলা।

র্ষা এলে পাখিরা গাছের ডালে, পাতার ফাঁকে চুপচাপ বসে থাকে। জনশূন্য হয়ে থাকে মাঠঘাট পথ-প্রান্তর। উঠনে জমে থাকে পানি। কানায় কানায় ভরে উঠে নদনদী, খালবিল, পুকুর। চারদিকে পানির থৈ থৈ মেলা। দস্যিছেলেরা দল বেঁধে কলা গাছের ভেলা ভাসিয়ে মনের আনন্দে মেতে উঠে। বৃষ্টির পানিতে সব কিছু ধুয়ে মুছে পরিষ্কার হয়ে যায়। তখন ভেজা মাটির গন্ধে মন কেমন করে উঠে। সবুজে সবুজে এক অপরূপ সৌন্দর্যে সেজে উঠে প্রকৃতি আর পরিবেশ। বর্ষা কালে বিভিন্ন ফুলের গন্ধে মন মাতোয়ারা হয়ে যায়।

লস সময় কাটানোর জন্য সবাই চায়ের কাপ হাতে খোশগল্পে মেতে উঠে। অনেক পুরনো স্মৃতি  মনে পড়ে যায়। প্রকৃতির লীলা খেলার সঙ্গে মানুষের মনেও জেগে উঠে কামনা-বাসনা, প্রেম বিরহের আবহ। বর্ষা এলে শৈশবের অনেক মধুর স্মৃতিতে উদাসীন হয়ে যায় আমাদের মন। বর্ষার জোয়ারে ভাসতে ভাসতে কবিরা তাদের কবিতার মধ্যে প্রেমের ব্যাকুলতা, আবেগ, অনুভূতি প্রকাশ করেন। বর্ষা নিয়ে কবিরা কতশত কবিতা, গল্প, ছড়া রচনা করেছেন তার হিসাব নেই। কি মধুর সেসব কবিতা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বর্ষা নিয়ে লিখেছেন-

ব্যাকুল বেগে আজি বহে যায়,

বিজুলি থেকে থেকে চমকায়।

যে কথা এ জীবনে রহিয়া গেলো মনে

সে কথা আজি যেন বলে যায়

এমন ঘনঘোর বরষায়।।

বর্ষা এলে বাংলার মাঠঘাট ডুবে যায়। পানিতে সব কিছু টুইটুম্বর করে।  পানিতে ভাসমান গ্রামের বাড়ি গুলো যেনো এক একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। ডিঙি নৌকায় বা কলার ভেলায় চড়ে মানুষ এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি যায়। বর্ষায় অনেক ফুল ফোটে যার গন্ধ পাগল করার মত। কদম, কেয়া, হাসনাহেনা, কলমিলতা, নিলকলম, দোলনচাপা বিচিত্র ফুলে ফুলে ভরে যায় প্রকৃতি। বৃষ্টিরদিনে সবচেয়ে মজার বিষয় হল রংধনু। বৃষ্টির পর মনোমুগ্ধকর এক দৃশ্য এই রংধনু।

রংধনু
বৃষ্টি মানে আকাশের সাথে রংধনুর খেলা

বিরহ-বেদনাকে বর্ষা আরো বেশী বাড়িয়ে দেয়। অঝোরধারায় বৃষ্টির সময় কখনো কখনো বিরহের স্মৃতি মনকে ব্যকুল করে তোলে, আবার কখনো সুখের জোয়ারে ভাসিয়ে তোলে। এ সময়ে সেই ছোট বেলার গ্রামের কথা মনে পড়ে যায় স্কুল ছুটির পর বই রেখে থৈ থৈ জলের মধ্যে শাপলা তুলার জন্য ঝাপিয়ে পড়া, এই আনন্দ আর কিসে পাওয়া যায় তা জানা নেই। সবাই মিলে দল বেঁধে ফুল কুড়ানোর মিষ্টি মধুর সময় খুব বেশী মনে পড়ে যায়। সন্ধ্যা বেলার ব্যাঙের ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর মধুর ডাক অন্য কোন ঋতুতে শোনা যায় না।  রাতের বেলায় টিনের চালের উপর টিপ টিপ বৃষ্টির ফোটার শব্দ ঘুমকে করে তোলে শান্তিময়। জেলেরা নৌকা নিয়ে মাছ ধরে।

মাঝিরা তাদের নৌকায় নতুন পাল তোলে নদীর এপাড় থেকে ঐপাড়ে মানুষ পার করে। আর কোকিলের সুরে গান গায়। কবির ভাষায় বলতে হয়-
আষাঢ়ে বাদল নামে নদী ভরভর

মাতিয়া ছুটিয়া চলে ধারা খরতর।

মহাবেগে কলকল কোলাহল ওঠে,

ঘোলা জলে পাকগুলি ঘুরে ঘুরে ছোটে।

দুই কূলে বনে বনে পড়ে যায় সাড়া,

বরষার উৎসবে জেগে ওঠে পাড়া।

বজ্রপাত
বজ্রপাত

বর্ষার পানি বাড়তে থাকলে কৃষকের মনে অনেক চিন্তা কাজ করতে থাকে তাদের ফসলের জন্য। বর্ষা কাল যেমন প্রকৃতিকে সৌন্দর্য্য উপহার দেয় তেমনি অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে। এ সময়ে বন্যা, ঝড় তুফান হয়ে থাকে যার ফলে আমাদের জীবন যাত্রা অচল হয়ে যায়। অধিক পানির জন্য ফসলের অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে। আনন্দ বেদনা কত দিক রয়েছে বৃষ্টির। বৃষ্টি আমাদের অনেক সময় হাসায় আবার অনেক সময় কাঁদায়, আবার আবেগে আপ্লুত করে তুলে। বৃষ্টিতে জমে উঠে অনন্য প্রেম। বর্ষা কাল আমাদের যেন প্রেম-বিরহ-ভালোবাসার ঋতু। বর্ষা মানে বৃষ্টিতে ভেজা এক রমণীয় বাংলাদেশ।

সর্বপরি প্রিয় কবি হুমায়ূন আহমেদ– এর একটা উক্তি দিয়ে শেষ করতে চাই-

“পৃথিবীর সবচেয়ে আনন্দময় জিনসগুলির জন্যে কিন্তু টাকা লাগে না। বিনামূল্যে পাওয়া যায়। যেমনঃ জ্যোৎস্না, বর্ষার দিনের বৃষ্টি, মানুষের ভালোবাসা।”

তাহলে কি ১৯৮৮ সালের বন্যাও ছাড়িয়ে যেতে পারে ২০১৭ সালের বন্যা?

শহর ডুবে যেতে পারে

’৮৮ সালের বন্যা বাংলাদেশে সংঘটিত ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি। এই বন্যা এতো ভয়াবহ ছিল যে বিশ্বব্যাপী গনমাদ্ধমগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। দেশের প্রায় ৬০% এলাকা ডুবে যায় এবং প্রায় ৮২,০০০ বর্গকিমি এলাকা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থায়িত্বকাল ছিল ১৫-২০ দিন। ২০১৭ সালের বন্যা ১৯৮৮ সালের বন্যার সকল রেকর্ড ভাঙছে প্রতিদিন। তাই ধারণা করা হচ্ছে ’৮৮ এর চেয়েও হয়তো ভয়ঙ্কর হবে এই বন্যা।

ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসনে চৌধুরী মায়া সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, “এখন পর্যন্ত দেশের ২০টি জেলার ৫৬টি উপজেলা বন্যা কবলিত৷ বন্যায় সারাদেশে মারা গেছেন ২০ জন,  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৬ লাখ মানুষ৷ এছাড়াও উত্তরাঞ্চলের বন্যার পানি মধ্যাঞ্চল দিয়ে প্রবাহতি হয়ে সাগরে নেমে যাবে৷ ফলে ঢাকার নিম্নাঞ্চলসহ আরও ৯টি জেলায় বন্যার আশঙ্কা আছে৷” তিনি আরও জানিয়েছেন, “১৯৮৮ সালরে চেয়ে বড় বন্যা হলেও মোকাবেলার প্রস্তুতি আছে সরকারের৷”

যমুনার পানি বেড়েই চলেছে
যমুনার পানি বেড়েই চলেছে

এদিকে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। যার ফলে সিরাজগঞ্জের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে যাচ্ছে। দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে পানি কমছে। বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, আজ সকালে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ  পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, “আজ সকাল ছয়টায় দেখা যায় বিপদসীমার ১৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে যমুনার পানি”। তিনি আরও জানান ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি বেড়েছে ১৯ সেন্টিমিটার। যার ফলে কাজীপুর, চৌহালি, শাহাজাদপুর এবং বেলকুচি উপজেলার নিচু এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি ১০ সেন্টিমিটার, ধরলার পানি ১৮ সেন্টিমিটার এবং তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার করে কমলেও কুড়িগ্রামে বন্যাক্রান্ত মানুষের দুর্দশা কমেনি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জায়েদুল হক বলেন, বন্যায় সুনামগঞ্জ জেলার কৃষকদের ৭,৭৭১ হেক্টর আমন ক্ষেত এবং ১,০০৬ হেক্টর বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। গত তিন দিনে বন্যায় দেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

হয়তো এসব কারনেই বন্যা হতে পারে

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এবারের বন্যার কারণ বাংলাদেশের উজান থেকে আসা পানির ঢল এবং অতিরিক্তি বৃষ্টি৷ ত্রাণমন্ত্রী বলেছেন, “উজানের দেশ চীন, ভারত, নেপাল ও ভুটানে এ বছর স্মরণকালের মধ্যে মারাত্মক বন্যা হয়েছে৷ এছাড়া উজনের  দেশগুলোতে বন্যা হলে ভাটির দেশ হিসাবে বাংলাদেশের ওপর    তার প্রভাব তো পড়বেই৷”

নদী ভাঙ্গন
নদী ভাঙ্গন source: www.dw.com

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, “আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার ভিতরে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার ভারত অংশে সর্বোচ্চ ২৫ সেমি পানি বৃদ্ধি পেলেও, বাংলাদেশ অংশে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ৪৫ সেমি পযন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে৷”

দেশের বন্যা কবলিত এলাকাগুলোর সড়ক পানিতে ডুবে গেছে তাই সড়ক যোগাযোগ বন্ধ আছে। কুড়িগ্রামে রেলসেতু পানিতে ডুবেছে। যেসব এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধ আছে সেগুলোতে পানি না ঢুকলেও ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সাধারণত বন্যার মৌসুমে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ১৮ ভাগ তলিয়ে যায়। ব্যাপক আকারে বন্যা হলে তা দাঁড়ায় ৫৫ ভাগে কিন্তু আশঙ্কা করা হচ্ছে এবার বন্যায় প্রায় ৭০ ভাগ ডুবে যাবে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং নদী ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত ডয়চে ভেলেকে বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্লোবাল ফ্লাড এওয়ারনেস সিস্টেম-এর (গ্লোফাস) তথ্য বিশ্লেষণ করলে এটা বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ানক বন্যার কবলে পড়তে যাচ্ছে৷ ১৫ তারিখের পরে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে৷ এই নদী দিয়ে এখন ২০ লাখ কিউসেক পানি প্রবাহিত হচ্ছে৷ আরো ৮-১০ দিন এই প্রবাহ থাকবে৷ কারণ পানি আসছে অসম-অরুণাচল থেকে৷ গঙ্গা বিপদসীমার নীচে থাকলেও নেপালে বৃষ্টির কারণে সেটাও বাড়ছে৷ গঙ্গা, যমুনা ও মেঘনার প্রবাহ যদি একসঙ্গে হয় তাহলে দেশের মধ্যাঞ্চলের জন্যও মহাবিপদ, যা ১৯৮৮ সালে হয়েছিল৷ এর সঙ্গে ২১ আগস্ট অমাবস্যা৷ আর যদি কোনোভাবে সাইক্লোন যুক্ত হয়, তাহলে আসলেই মহাবিপদ আছে সামনে৷”

ত্রাণমন্ত্রী বন্যা প্রতিরক্ষার বিষয়ে জানিয়েছেন, “এরইমধ্যে দশ হাজার মেট্রিক টন চাল, তিন কোটি ১০ লাখ টাকা এবং ৬০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে”। তিনি আরো বলেন, “যত বড় বন্যাই হোক মোকাবেলার প্রস্তুতি আমাদের আছে৷”

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি’র ২৯তম বৈঠকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশগুলো হচ্ছে-

১। এডিপিভুক্ত প্রকল্পের জলাবদ্ধতা দূরীকরণের লক্ষ্যে বর্ষা আসার আগে খাল পুন:খনন করা।

২। সীমান্ত নদী সংরক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা।

৩। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ড্রেজার পরিদপ্তরের চলমান ড্রেজিং কার্যক্রম তদারকি।

৪। ওয়ারপোর (ওয়াটার রিসোর্সেস প্লানিং আর্গানিজেশন) জনবল সমস্যা সমাধানে প্রত্যেক উপজেলায় জনবল নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

৫। জাতীয় পানি নীতির অনুকরণে হাওর সমূহের বাধ ব্যবস্থাপনা, তদারকির জন্য গ্রাম পর্যায়ে সমিতি, ইউনিয়ন পর্যায়ে এসোসিয়েশন এবং উপজেলা পর্যায়ে ফেডারেশন গঠনপূর্বক এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ফেডারেশনের উপর দেয়ার সুপারিশ করা হয়।

মানুষের দুর্ভোগ
মানুষের দুর্ভোগ Source: BBC

টানা বৃষ্টি ভয়ঙ্কর আকারের বন্যা নিয়ে আসে। বন্যার কারণে দেশের নিম্ন এলাকার মানুষরা চরম দুর্ভোগের মাঝ দিয়ে জীবন অতিবাহিত করে। ২০১৭ সালের বন্যা বাংলাদেশের সকল এলাকার মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।  

Source:

www.dailystar.com
www.dailyittefak.com
www.dw.com
www.bbc.com
wikipedia.com