কুকুর পালতে চাইলে জানতে হবে যে বিষয়গুলো

কুকুর

কুকুর অনেকেই পছন্দ করে। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই কুকুর পালতে দেখা যায়। শহরেও দেখা যায় কুকুর পালতে। কিন্তু শহর আর গ্রামের পালার ভেতর পালার মধ্যে পার্থক্য আছে। অনেকেই এখন কুকুরকে ঘরের একজন সদস্য হিসেবে পালেন। তাই একটি কুকুর বাসায় আনার জন্য থাকতে হয় নানান প্রস্তুতি। আজ কথা বলবো তাই নিয়ে।

কুকুর নিয়ে পরিবারের মতামত

বাসায় কুকুর নিয়ে আসার আগে পরিবারের সবার মতামত নিন। কারও আপত্তি আছে কিনা বা কুকুরের কারণে কারও কোনো ধরনের অ্যালার্জির সমস্যা হয় কিনা- সেই সব বিষয়ে জানতে হবে।

পাশাপাশি বাড়িওয়ালা এবং প্রতিবেশীদের মতামতও জেনে নেওয়া জরুরি। কারণ আপনার জন্য কেউ বিরক্ত হলে সেটা ভালো হবে না।

যত্ন নেয়া

পোষা প্রাণীর যত্ন নেওয়ার ব্যপারটি মাথায় রাখতে হবে। আপনার ওদেরকে দেয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় আছে কিনা সেই বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

একটি ছোট শিশুর মতোই একটি কুকুরের যত্ন নিতে হবে।

তাকে সময় দিতে হবে এবং প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এর জন্য যে আলাদা সময় দরকার তা দিতে পারবেন কিনা সেই বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে।

কুকুর পালার জন্য পরিবেশ

যেই পরিবেশে কুকুরকে রাখবেন সেটা খেয়াল করুন। বড় আকারের কুকুরের জন্য প্রচুর জায়গা প্রয়োজন।

তাই অ্যাপার্টমেন্টে পালার জন্য ছোট আকারের কুকুর বেছে নেওয়াই ভালো।

বড় কুকুরকে যদি ছোট জায়গায় রাখেন তাহলে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।

একটি প্রাণীকে পালতে এনে তাকে অসুস্থ করার অধিকার আপনার নেই। সুতরাং অবশ্যই এই দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

চিকিৎসা

সময় করে কুকুরের ভ্যাক্সিন দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। দিনে একবার দাঁত মাজাতে হবে এবং মাসে একবার নখ কেটে দিতে হবে।

যতটা জলদি সম্ভব কুকুরের ‘নিউটার’ বন্ধ্যা করানোর ব্যবস্থাও নিতে হবে। কুকুরের যেন কৃমি না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

গ্রুমিং

গ্রুমিং হচ্ছে কুকুরকে পরিষ্কার করা এবং সৌন্দর্য রক্ষা করা। অনেক কুকুরের লোম লম্বা থাকে সেইক্ষেত্রে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যেন গায়ে উকুন না হয়।

চামড়ায় যেন কোন ইনফেকশন না হয়। নিয়মিত গোসল করাতে হবে। ওদের জন্য আলাদা শ্যাম্পু আছে সেগুলো ব্যবহার করতে হবে।

ক্ষতিকর জিনিস দূরে রাখুন

একটি দুই বছরের মানব শিশুর যেমন বুদ্ধিমত্তা একটি কুকুরেরও তেমন।

কুকুরেরা না বুঝেই সব কিছু মুখে দেয়। তাই ক্ষতিকর জিনিসগুলো কুকুরের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।

খেলতে হবে

প্রতিটি কুকুরকেই দিনের কিছুটা সময় বাইরে খেলাধুলা ও হাঁটাতে নিয়ে যেতে হয়।

আকার অনুযায়ী আধা ঘণ্টা থেকে দিনে সম্ভব হলে দু’বার এদের খেলার সময় দিতে হয়।

এই সময়ও দিতে পারবেন কিনা তা বুঝে নিতে হবে।

বাসায় যেই কুকুরগুলো পালা হয় তাদের অনেক বেশি মনোযোগ লাগে। সুতরাং তাদেরকে অবশ্যই সময় দিবেন।