তিমি কি পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বড় প্রাণী?

তিমি

পৃথিবীর ৪ ভাগের মধ্যে ৩ ভাগ পানিতে পূর্ণ আর ১ ভাগ হল স্থল। সুতরাং স্থলের থেকে পানির প্রাণীরাই বেশি বড় হবে এটাই স্বাভাবিক। সমুদ্র হল পৃথিবীর অমীমাংসিত অধ্যায়। আজ কথা বলব সমুদ্রের সবচেয়ে বড় প্রাণী তিমি নিয়ে। মাটিতে হাতি আর পানিতে তিমিই হল সবচেয়ে বড়। চলুন জেনে আসা যাক।

  • তিমির মধ্যে কয়েকটি প্রজাতি আছে তারমধ্যে নীল তিমি সবচেয়ে বড়। এরা লম্বায় ২৫ থেকে ৩২ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয় অর্থাৎ ৮২ ফুট থেকে ১০৫ ফুট।
  • একেকটা তিমির গড় ওজন ১৪০ টন যা ২৫ টি হাতীর ওজনের সমান। নীল তিমি আসলে নীল নয় এর রঙ কিছুটা ফ্যাকাসে টাইপের। কিন্তু তারা যখন সাগরের পানির নিচে থাকে তখন তাদের দেখতে নীল মনে হয়।
  • তিমির বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী নীল তিমি, খুনে তিমি (killer whale) এবং পাইলট তিমি। বাচ্চা তিমি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ পাউন্ড করে বড় হয়।
  • তিমি সমুদ্রে থাকে কিন্তু পানিতে শ্বাস নিতে পারে না। পানিতে বসবাস হলেও এরা মানুষের মতোই বাতাসে শ্বাস নেয়।
  • মানুষের যেমন প্রতি মুহূর্তে নিঃশ্বাস নিতে হয়, তিমির কিন্তু সেরকম নয়। এরা কম করে হলেও ৩০ মিনিট পর্যন্ত দম না নিয়ে থাকতে পারে।
  • মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় কিন্তু তিমির ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া তার স্বাধীনতায় চলে।

তিমি

  • তিমি যদি ঘুমিয়ে পড়ে এবং সময়মতো না জাগে, তাহলে দম আটকে মারাও যেতে পারে। এই বিপদের সমাধান হিসেবে তিমির মস্তিষ্কের অর্ধেক কিছুক্ষণ ঘুমায়, বাকি অর্ধেক ঘুমায় পরের পালায়। তাদের অন্তত অর্ধেক মস্তিষ্ক সবসময় জেগে থাকে, তাই তারা শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ঘুমের মধ্যেও প্রয়োজনীয় সময়ে ভেসে উঠে।
  • তিমি মাছের ঘুমের এ বিষয়টি বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন ইলেকট্রো এনসেফালোগ্রাফির (ইইজি) মাধ্যমে।
  • তিমি যখন নিঃশ্বাস ছাড়ে তখন সে তার মাথার উপর দুই ছিদ্র দিয়ে পানি ফোয়ারার মত করে ছুঁড়ে দেয় যা ত্রিশ ফুট পর্যন্ত উপরে উঠে।

তিমি

  • তিমি মাছের তুলনায় হাঙর মাছ কত ছোট। হাঙর মাছের কথা ভাবলেই প্রথমে আমাদের দৃশ্যপটে দুই পাটি বিশালাকার দাঁতের ছবি ভেসে উঠে। কিন্তু এত বড় তিমি মাছের দাঁত নেই। দাঁতের বদলে আছে ব্যালিন। ব্যালিন অনেকটা ঝালরের মত উপরের চোয়াল থেকে নিচের দিকে ঝুলে থাকে। একেকটা ব্যালিন ৫০ সেঃ মিঃ থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।
  • তিমির চাবানোর কোন দরকার পরে না। কারণ তিমির খাবার ক্ষুদ্র এক প্রানী নাম ক্রীল। ক্রীল চিংড়ীর মত একপ্রকার সামুদ্রিক পতঙ্গ। এটি লম্বায় সাধারণত আমাদের হাতের ছোট আঙ্গুলের মত হয়ে থাকে। এর রঙ ফ্যাকাসে গোলাপী। উত্তর ও দক্ষিন মেরু অঞ্চলের ঠান্ডা সাগরে কোটি কোটি ক্রীল বসবাস করে।
  • একটি তিমি দিনে প্রায় ত্রিশ মিলিয়ন ক্রীল খায়। যা রাখার জন্য তিনটি বড় ট্রাকের প্রয়োজন হয়।
  • তিমিরা পরষ্পরের সাথে এক ধরণের সুরেলা শব্দ করে যোগাযোগ করে, যা তিমির গান নামে পরিচিত। তিমির বিশালতা ও শক্তিমত্ততার মতোই এদের গানও অনেক জোরালো।
  • হাম্পব্যাক নামে এক প্রাজাতির তিমি আছে, যারা তাদের সুরেলা গানের জন্য সুপরিচিত। স্পার্ম তিমির গান মৃদু গুঞ্জনের মতো শোনায়। তাদের এই গান যা বহু মাইল দূর থেকেও শুনতে পাওয়া যায়।
  • তিমি ১৬৩ ডেসিবেল শব্দ তীব্রতায় ২০,০০০ একুস্টিক ওয়াটে শব্দ তৈরি করে।

বিড়াল সম্পর্কে সব কিছু জানেন কি?

বিড়াল

তুলতুলে আরামপ্রিয় প্রাণী মানেই বিড়াল। খুব কম মানুষ আছেন যারা বিড়াল ভালবাসেন না। নানা জাতের বিড়াল আছে পৃথিবীতে কিন্তু এদের বৈশিষ্ট্যগুলো কিন্তু একই রকম। আপনার ঘরে এমন কোন বন্ধু থাকলে অবশ্যই তার ব্যাপারে জানা উচিত। তাহলে দেরী না করে চলুন জেনে আসি বিড়ালের অজানা মজার তথ্য গুলো।

বিড়াল মাটিতে গড়াগড়ি দেয়

বিড়াল যদি মেঝেতে খুব গড়াগড়ি খায় তখন আপনাকে বুঝতে হবে সে এই মুহূর্তে কিছুটা সময় চাচ্ছে এবং খেলতে চাচ্ছে। অনেক বিড়াল তার মনিবের বাইরে যাবার সময় এমনটি করে থাকে যাতে তাকেও সাথে নেয়া হয় অথবা মনিব বাইরে না যায়। এটা দৃষ্টি আকর্ষণ করার একটি সুন্দর পদ্ধতি। এই জন্য অরা এত আদুরে।

বিড়াল খাবার পুরোটা খায় না

বিড়াল একসাথে সবটুকু খাবার শেষ করে না। অনেক সময় ধরে খেয়ে খাবারের কিছু অংশ বাঁচিয়ে রাখে। মজার ব্যাপার হলো এমনটি সে তার মনিব থেকেই শিখে। যে সকল বাড়িতে মনিব তার বেঁচে যাওয়া খাবার থেকে বিড়ালকে খেতে দেয়, সেই সকল বাড়িতেই বিড়ালগুলো নিজের খাবার মনিবের জন্য বাঁচিয়ে রাখতে শেখে।

বিড়াল কেন ঘাস খায়

বিড়াল সাধারণত মাংসাশী প্রাণী। কিন্তু যখন ঘাস পাতা খেতে শুরু করে তখন খুব অদ্ভুত লাগে তাই না? আসলে বিড়ালের ঘাস খাবার পেছনে কারণ হলো এরা ঘাস থেকে এক ধরণের ভিটামিন পায়। যা এদের হজম শক্তি ভাল রাখে। কখনো কখনো নিজের গা চুলকাতে গিয়ে মুখে জড়িয়ে যাওয়া পশম ছাড়াতেও এরা ঘাসের সাহায্য নেয়।

বিড়াল কেন ঘষাঘষি করে

অনেক সময় দেখা যায় বিড়াল তার পা আরেক বিড়ালের গায়ে অথবা মেঝেতে পিষছে। এর কারণ হলো তারা অন্য বিড়ালের প্রতি যত্ন বা মমতা দেখায় অথবা নিজের পায়ের রক্তসঞ্চালন ঠিক রাখতে এরা এমন করে থাকে। অনেক সময় বাচ্চা বিড়াল তার মায়ের বুকের দুধ ঠিকমত না পেলে তখন মায়ের গায়ে এভাবে পা ঘষতে থাকে।

বিড়ালেরা ফোনের প্রতি আসক্ত

যারা বিড়াল পালেন, তারা লক্ষ্য করে থাকবেন ফোনটি বেজে উঠলেই বাড়ির বিড়ালটি সবার আগে দৌড়ে ফোনের কাছে চলে যায়। এর কারণ হলো কৌতুহল। এরা বোঝার চেষ্টা করে আসলে ফোনে কীভাবে কথা বলা যায় অথবা কার সাথে কথা বলা যায় কিংবা কাউকে দেখা যাচ্ছে না তবুও মনিব কার সাথে কথা বলছে। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই বিড়াল সাধারণত ফোনের কাছে সবার আগে দৌড়ে যায়। তাছাড়া এরা আরও লক্ষ্য করে যে ফোনে কথা বলার সময় তাদের প্রতি মনিবের মনোযোগ কিছুটা কমে যায়। তাই মনোযোগ কেড়ে নেয়া উৎসটি তারা নিজেরাই এত আগ্রহ নিয়ে দেখে।

বিড়াল সম্পর্কে আপনি এই তথ্যটি শুনলে আপনার মন খারাপ হতে পারে

হয়তো ভাবছেন এ কথাটি কেন বলছি? বিড়াল সারাদিনই নিজের গা হাত পা চাটে। কারণ, মানুষ গায়ে হাত দেয়ার পর বিড়ালরা নিজেদের গা পরিষ্কার করে! মানুষের গায়ের গন্ধ বিড়াল একদম পছন্দ করে না। এবার বুঝলেন, ওদের ক্লাশটা? কেমন যেন একটু লজ্জা-লজ্জা লাগছে তাই না? মন খারাপ করবেন না ওরা এমনি।

এই তথ্যটি নেয়া হয়েছে ‘অসাধারণ জ্ঞান’ বইটি থেকে। বইটি লিখেছেন স্বরূপ দত্ত এবং পার্থ প্রতিম চন্দ্র।

বিড়ালের গোঁফ যখন মাপযন্ত্র

গোঁফহীন বিড়াল দেখেছেন কখনো? গোঁফহীন বিড়াল হয়ইনা, দেখবেন কি করে! গোঁফ দিয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজও করে বিড়াল৷ ছোট্ট গর্ত দিয়ে যেতে চাইলে বিড়াল কিন্তু ওই গোঁফ দিয়েই মেপে নেয়, তারপর ঠিক করে যাওয়ার চেষ্টা করবে কিনা৷ একটা বিশেষ সুবিধাও আছে ওদের৷ কলারবোন নেই বলে মাথাটা গলিয়ে দিলেই হলো, তারপর অনায়াসে চলে যায় গর্তের ওপারে৷

নাক করে জিভের কাজ

মানুষের জিভে ৯ হাজার এমন ধরনের ‘সেন্সর’ আছে যেসবের কাজই হলো খাবারের স্বাদ পরীক্ষা করা৷ বিড়ালের জিভে সেরকম সেন্সর মাত্র ৪৭৩টি৷ ফলে স্বাদ বোঝার কাজে তাদের জিভ অনেক কম কার্যকর৷ বিড়াল তাই বাধ্য হয়ে খাবারে স্বাদ বোঝে নাক দিয়ে গন্ধ শুঁকে৷

বিড়ালের নাকের ছাপ

বিড়াল নাকি গোঁফ দিয়ে চেনা যায়? যারা বলেন, ভুল বলেন৷ প্রতিটি মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ যেমন একেবারে আলাদা, সেরকমই বিড়ালের নাক৷ একেক বিড়ালের একেকরকম নাক৷ সুতরাং সব কিছু কাকতালীয়ভাবে যদি কখনো মিলেও যায়, তবু দুটো বিড়ালের নাক কখনো হুবহু একরকম হতে পারেনা৷ কিছু না কিছু পার্থক্য থাকবেই৷

বিড়াল মানুষের রক্তচাপ কমাতে পারে

গায়ে হাত বোলালে বা কোলে নিয়ে আদর করলে বিড়াল যে আহ্লাদ করে ঘরঘর আওয়াজ করে, সেই আওয়াজ শুনলে নাকি মানুষের উচ্চ রক্তচাপ কমে যায়৷ এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে এটা৷

অন্ধকারে দেখে ভালো

অন্ধকারে খুব ভালো দেখে বিড়াল৷ কোনো কিছু পরিষ্কার দেখার জন্য মানুষের যতটা আলোর প্রয়োজন তার ছয় ভাগের একভাগ আলোতেই সেই বস্তুটি পরিষ্কার দেখতে পারে বিড়াল৷

সবচেয়ে বড় চোখ

পৃথিবীর সব প্রাণীর মধ্যে শরীরের অনুপাতে বিড়ালের চোখই সবচেয়ে বড়৷ হাতি খুব বড়, তিমি মাছও বিশাল, তাদের চোখ কিন্তু শরীরের অনুপাতে বিড়ালের তুলনায় অনেক ছোট৷

বিড়ালের যত ডাক

মানুষের মতো বিড়ালও কিন্তু একেক দেশে একেক ভাষায় কথা বলে, অর্থাৎ বিড়ালের ‘মিঁউ, মিঁউ’ নাকি সবদেশেই একরকম নয়৷ তাই কাটালুনিয়া বিড়ালরা ডাকলে সেই ডাক শোনায় ‘মিঁউ’-এর মতো, ক্যান্টনের বিড়াল ডাকে ‘মাও, মাও’, ডেনমার্কের ‘মিয়াভ’, নেদারল্যান্ডসের ‘মিয়াউ’, ইংল্যান্ডের ‘মিয়ো’, ফ্রান্সের ‘মিয়াও’, গ্রিসের ‘নাইউ’ এবং জাপানের বিড়ালের ডাক নাকি ‘ন্যায়ান, ন্যায়ান’-এর মতো শোনায়৷

 

এই গরমে আপনার চার পেয়ে বন্ধু কুকুরটির যত্ন নিচ্ছেন তো?

কুকুর

প্রাণীকূলে মানুষের সাথে সবচেয়ে ভালো বন্ধুত্ব হয় কুকুরের। কুকুরের চেয়ে বিশ্বস্ত প্রাণী আর একটি পাবেন না। এদের প্রভু ভক্তের নানা ধরণের নজির রয়েছে।

আমাদের দেশে অনেক পরিবার আছে যারা ঘরে কুকুর পালেন। আমাদের দেশে সব জাতের কুকুর ভালো থাকতে পারে না।

প্রচণ্ড গরমে আমাদের অবস্থা যেমন  নাজেহাল হয়ে যায়  ঠিক তেমনি খারাপ  অবস্থা হয় বাড়ির পোষা কুকুরেরও। তাই শুধু কুকুর নয়, বাড়িতে পোষা অন্যান্য প্রাণীর যত্নও নেয়া উচিত।

পানি

কুকুরের পানির বাটি ভরা আছে কিনা সে দিকে সব সময় নজর রাখুন। আপনি যেমন গরমে কিছুক্ষণ পর পর পানি খোঁজেন আপনার কুকুরটিরও এমন অবস্থা হয়।

এ গরমে ওদের তৃষ্ণা পাবে এবং তাড়াতাড়ি পানি শেষ করে ফেলবে।

তাই কখনই যেন বাটির পানি শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে ওরা যেন পানিকষ্টে না পড়ে।

ওদের পানির বাটিতে কয়েকটা আইস কিউব ফেলে রাখতে পারেন। বাইরে হাঁটাতে নিয়ে বের হলে অবশ্যই ওদের জন্য সঙ্গে পানির বোতল রাখুন।

হাঁটা

কুকুরের স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য এবং ওদের মল-মূত্র ত্যাগ করার জন্য প্রতি দিন রাস্তায় হাঁটতে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

চেষ্টা করুন একদম সকালে যখন রোদের তাপ কম থাকে তখন অথবা সূর্যাস্তের পর হাঁটতে নিয়ে যেতে।

পিচের গরম রাস্তা কিন্তু সূর্যাস্তের পরও গরম থাকে। তাই ওদের মাঠে বা ছায়ায় হাঁটানোর চেষ্টা করুন।

খেয়াল রাখুন ওদের মল মূত্রের কারণে কেউ যেন বিরক্ত বোধ না করে। রাস্তার মাঝখানে করলে মল সরিয়ে রাখুন।

পেট ঠান্ডা

গরমে পেট গরম হয়ে যেমন আমাদের সমস্যা হয় তেমনই ওদেরও হয়। মেঝেতে ওরা যেখানে বসে সেখানে ভেজা তোয়ালে বিছিয়ে দিন। এতে ওরা আরাম পাবে। বার বার ঘর মুছেও দিতে পারেন ভেজা কাপড় দিয়ে।

দেখবেন ওরা ভেজা মেঝতে বসতেই বেশি পছন্দ করবে। তাছাড়া আপনার ঘরটিও ঠাণ্ডা থাকবে।

টিকা ও চিকিৎসা

কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া আবশ্যক। জলাতঙ্ক ছাড়া আরও সাতটি গুরুতর রোগবালাই কুকুরকে আক্রমণ করতে পারে। এ জন্য প্রতিবছর একটি করে টিকা দেওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া যেকোনো রোগবালাই দেখা দিলে নিকটস্থ পশু চিকিৎসালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।

পুরান ঢাকার ফুলবাড়িয়ায় আছে কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতাল। মোহাম্মদপুরের বছিলায় আছে অভয়ারণ্য। এ ছাড়া গুলশান, ধানমন্ডি ও উত্তরায় কিছু বেসরকারি ক্লিনিক রয়েছে।

ক্লিনিকগুলোতেও টিকাদানের ব্যবস্থা আছে। আপনার প্রিয় প্রাণীটির জন্য সবসময় সচেতন থাকুন এবং ওকে ভালো রাখুন।

নিম্নের লক্ষণগুলো খেয়াল রাখুন

বার বার হাঁপিয়ে ওঠা, পিঠ গরম হয়ে যাওয়া, ঢুলুঢুলু চোখ- এগুলো ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ।

আপনার পোষা কুকুরের মধ্যে এ রকম কোনও সমস্যা দেখা দিলেই সতর্ক হয়ে যান।

মনে রাখবেন কুকুরদের গরমে প্রতিক্রিয়া জানানো কিন্তু মানুষদের থেকে আলাদা।

অতিরিক্ত গরমে আপনার কুকুরটি হিটস্ট্রোক করে ফেলতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ব্রেইন স্ট্রোকও করতে পারে।

কুকুর সম্পর্কে  রয়েছে বেশ কিছু মজার মজার তথ্য যা আমরা অনেকেই জানি না।

কুকুর সম্পর্কে কিছু অজানা মজার তথ্য

-মানুষ প্রায় ৩০ হাজার বছর পূর্বে পোষা প্রাণী হিসেবে কুকুরকে নিজেদের সাথে রাখতে শুরু করে।

-বিশ্বের সবথেকে বয়স্ক কুকুরের নাম ছিল ম্যাগি, যা ৩০ বছর বয়সে মারা যায়। অস্ট্রেলিয়ায় ১৯৮৬ সালে জন্ম নেয়া ম্যাগি ১৪ এপ্রিল, ২০১৬ সালে মারা যায়।

– মানুষের রক্তের গ্রুপ চার প্রকারের হলেও কুকুরের প্রায় ১৩ প্রকারের হয়ে থাকে।

– গড়ে ২ বছর বয়সের একটি কুকুরের বাচ্চা যে পরিমাণ বুদ্ধিমান হয় তাতে তা মাত্র ১৫০ টি শব্দ বুঝতে পারে।

-কুকুরের শুধুমাত্র নাক ও থাবা দিয়ে ঘাম বের হয়।

-কুকুরের ঘ্রাণশক্তি মানুষের চেয়ে প্রায় ১০ হাজার গুণ বেশি।

-চীনে প্রতিদিন ৩০ হাজার কুকুর মাংস ও চামড়ার জন্য হত্যা করা হয়।

-যদি কুকুর ডানদিকে হেলে যেতে থাকে তবে বুঝতে হবে সে খুশি আছে। আর যদি বামদিকে হেলে যেতে থাকে তবে বুঝতে হবে সে খুশি নয়।

– কুকুর আপনার পাশে এসে লেজ নাড়ালে বুঝবেন সে কামড়াবে না। বুঝবেন খাবারের আশায় কাছে আসছে।

– কুকুরও মানুষের মত স্বপ্ন দেখতে পারে!

-কুকুর পোষায় আমেরিকার লোকেরা বেশি শখ প্রিয়। সেখানে প্রায় ৭ কোটি ঘরে পোষা কুকুর রয়েছে।

পৃথিবীর বিস্ময়কর বুদ্ধিমান কথা বলা পাখির দল

পাখি

মানুষের পর একমাত্র পাখিই আছে যারা কথা বলতে পারে।  মানুষের মত হুবুহু কণ্ঠ নকল করতে পারে এমন পাখিও আছে। বুদ্ধিমান প্রাণীদের তালিকায় ভাল একটা জায়গা দখল করে আছে এই পাখিরা। চলুন দেখে নেই পৃথিবীর বিস্ময়কর কিছু পাখি সম্পর্কে।

বাজ্রিগার

পাখি

বাজ্রিগার খুব পরিচিত একটি পোষা পাখি। বাজ্রিগার বাজি নামেই বেশ সুপরিচিত। ছোট প্রজাতির এই পাখিটি এর বুদ্ধিমত্তার জন্য জনপ্রিয়। শ্রবণ ক্ষমতা অনেক ভাল। খুব সহজে বড় শব্দ বা বাক্য মনে রাখতে পারে। পাখিগুলো অস্ট্রেলিয়াতে পাওয়া যায়। মালিকের থেকে কোন শব্দ শোনা মাত্র এরা মনে রাখতে পারে এবং বার বার তা বলতে থাকে। পুরুষ বাজ্রিগার মেয়ে বাজ্রিগারের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হয়। শেখার ক্ষমতাও তাই পুরুষ বাজ্রিগারের বেশি। এদের গড় আয়ু ৪-৫ বছর এবং খাঁচায় ১০-১২ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

সন্ন্যাসী টিয়া

পাখি

সন্ন্যাসী টিয়া একটি রঙিন পাখির প্রজাতি যা আসলে একটি ছোট টিয়া। এটি কোয়েক টিয়া নামেও পরিচিত। এই পাখিগুলি সুপরিচিত তাদের কয়েকটি বড় শব্দভাণ্ডার তৈরির ব্যাপক গুণের জন্য। এই সন্ন্যাসী টিয়া ইউরোপ এবং দক্ষিণ আমেরিকাতে পাওয়া যায়।

এদের প্রশিক্ষকদের বা মালিকদের থেকে শোনা শব্দ অনুকরণের একটি ক্ষমতা আছে। আশেপাশে যে সকল শব্দ এরা শুনতে পায় সব কিছু অনুকরণ করতে পারে।

ব্লু ফ্রন্টেড অ্যামাজন

পাখি

ব্লু ফ্রন্টেড অ্যামাজন সবচেয়ে জনপ্রিয় পাখিগুলির মধ্যে একটি। এই পাখি দক্ষিণ আমেরিকাতে পাওয়া যায়।

এদের নামকরণ এদের মাথার সুন্দর নীল রঙের উপর ভিত্তি করে রাখা হয়েছে।পাখিগুলো যেমন সুন্দর করে কথা বলতে পারে তেমন দেখতেও অনেক বেশি সুন্দর।

তারা সত্যিকারের মানুষের ভাষা নকল করতে পারে। তাদের মধ্যে এক ধরণের অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে সেটা হল তারা খুব রক্ষণশীল। তাই মানুষের প্রয়োজন তাদের সাথে একটি বন্ধন তৈরি করার।

এরা খেলনা দিয়ে খেলতে খুব ভালবাসে।

ইলেক্টাস

পাখি

এই পাখিটি টিয়া প্রজাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তারা নিউ গিনি দ্বীপপুঞ্জে থাকে। এরা এদের স্বচ্ছ বক্তৃতার জন্য সুপরিচিত। তারা বিশাল পরিসরের শব্দভান্ডার বুঝতে পারেন।

এই টিয়া পাখিগুলো বেশিরভাগ শব্দের অনুকরণ করে যা তারা শুনতে পায়। তারা গানও পছন্দ করে।

মালিকদের কখনও বোকা বানানো তাদের একটি অনন্য ক্ষমতা। এখানে উভয় পুরুষ এবং মহিলা কিছু মধুর কণ্ঠস্বর বের করতে পারে।

ককাটিয়েল

পাখি

ককাটিয়েল হল কাকাতুয়া পরিবারের একটি পাখি। ককাটিয়েলকে ক্যারিওন এবং উইরো নামেও ডাকা হয়। বাংলাদেশে এটি ককাটেল বা ককাটেল পাখি নামেই বেশি পরিচিত।

ককাটিয়েল মূলত অস্ট্রেলিয়া অঞ্চলের এন্ডেমিক প্রাণী। বন্য প্রজাতি হিসেবে একে অস্ট্রেলিয়া ছাড়া কোথাও পাওয়া না, গেলেও বিশ্বব্যাপি এটি খাঁচায় পোষা গৃহপালিত পাখি হিসেবে পালিত হয়।

সহজে বাচ্চা উৎপাদন, সৌন্দর্য ও আরও কিছু কারণে এটি বাজ্রিগারের পরে খাঁচায় পোষা দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রজাতি।

খাঁচাবন্দি ককাটিয়েল সাধারণত ১৬ থেকে ২৫ বছর বাঁচে। রেকর্ড অনুযায়ী কিছু কিছু ক্ষেত্রে ককাটিয়েল ১০ থেকে ১৫ বাঁচে; ককাটিয়েলের ৩২ বছর বেঁচে থাকারও রেকর্ড আছে। একটি ককাটিয়েল পাখি অবশ্য ৩৬ বছর বেঁচে ছিল। এগুলো সাধারণত নির্ভর করে খাবার, পরিবেশ আর উড়ার জায়গার উপর।

এরা খুব দ্রুত একসাথে অনেকগুলো শব্দ মনে রাখতে পারে। মানুষের কণ্ঠ নকল করে কথা বলতে পারে।

পাহাড়ি ময়না

পাখি

পাহাড়ি ময়না বিশ্বব্যাপী সর্বশ্রেষ্ঠ কথা বলার পাখি হিসাবে পরিচিত। এদের প্রধানত দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া জুড়ে পাওয়া যায়। এরা কথা বলতে এবং মানুষ যেভাবে কথা বলে ঠিক একই ভাবে কথা বলতে পারে। পাহাড়ি ময়না বিভিন্ন ধরনের শব্দের ডাকতে পারে। এরা কান্নাকাটিও করতে পারে। ময়না দুটি প্রজাতি আছে যা আরও শক্তিশালী উপায়ে কথা বলতে পারে। পাহাড়ি ময়নার অন্যান্য প্রজাতিও রয়েছে।

 ব্লু গোল্ড ম্যাকাও

পাখি

ব্লু গোল্ড ম্যাকাও তোতা পরিবারভূক্ত সর্ববৃহৎ ম্যাকাও গোত্রের অন্যতম সদস্য। অন্যান্য ম্যাকাও পাখির ন্যায় এটিও পোষ মানে। তবে পাখিটি বনাঞ্চল থেকে উল্লেখযোগ্য হারে শিকার হচ্ছে; ফলে এটি সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু এদের বংশবিস্তার কার্যক্রম ব্যাপকভাবে গ্রহণ করায় এটি এখনো প্রকৃতিতে বিদ্যমান।

ব্লু গোল্ড ম্যাকাওরা অন্যতম জনপ্রিয় পোষা পাখির মর্যাদায় অভিষিক্ত। নজরকাড়া রঙের ভিন্নতা, কথা বলায় দক্ষতা অর্জন, বাজারে সহজেই প্রাপ্যতা এবং মানুষের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলায় এ পাখিটি অসম্ভব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

বুনো অবস্থায় এ ধরনের ম্যাকাও বেশ আক্রমণাত্মক ভঙ্গী প্রদর্শন করে। কিন্তু ছোট বাচ্চা ম্যাকাও বেশ ক্রীড়ামোদী।

সঙ্গীকে নিয়ে সারাজীবন একত্রে থাকে এই পাখিটি। মৃত গাছে এদের বাসা থাকে। স্ত্রী পাখিটি সচরাচর দুই থেকে তিনটি ডিম পেড়ে থাকে। প্রায় আটাশ দিন স্ত্রী পাখিটি ডিমে তা দেয়।

কাকাতুয়া

পাখি

সকল কাকাতুয়ারই আকর্ষণীয় পালক এবং শক্তিশালী বাঁকানো ঠোঁট রয়েছে। অধিকাংশ প্রজাতিই সাদা রংয়ের। কিন্তু কিছু প্রজাতির গায়ের রঙ ধূসর, খয়েরী, উজ্জল কালো বর্ণের। কাকাতুয়া মাঝারি থেকে বড় বড় তোতা পাখির চেয়েও বড় হতে পারে।

উদ্ভিদজাত খাবার গ্রহণ করে এরা জীবনধারন করে। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনাঞ্চলের উঁচু বৃক্ষের গর্তে থাকতে পছন্দ করে এবং সেখানেই তারা বাসা বাঁধে। মূলত প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট পাখির গর্ত কিংবা পাহাড়ের গুহায় এরা বাসা তৈরী করে। স্ত্রীজাতীয় কাকাতুয়া দুইটি থেকে চারটি সাদা ডিম পারে। শাবকগুলো চোখ বোজা অবস্থায় থাকে এবং প্রায় তিন মাস শাবকদের বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্ত্রী-পুরুষ উভয় কাকাতুয়াই পালাক্রমে দেখাশোনা ও লালন-পালন করে। বাবা মা দুজনে মিলেই তাদের ছানার দেখা শোনা করে।

মানুষের কথা নকল করতে এরা খুব ভালবাসে। কাকাতুয়া খুব সামাজিক একটি পাখি। মালিককে খুব ভালবাসে এরা। ঠিক মত লালন পালন করলে এবং সেখালে এরা সব কিছুই আয়ত্তে আনতে পারে।

আফ্রিকান গ্রে প্যারট

পাখি

পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণীর লিস্টে ৩য় স্থানে রয়েছে আফ্রিকান গ্রে প্যারট। এদের পাখি জগতের আইনস্টাইন বলা হয়। এরা অত্যন্ত চালাক একটি পাখি।

গবেষনায় দেখা গেছে এরা বিমুর্ত এবং সিদ্ধান্তলব্ধ যুক্তি ক্ষমতার অধিকারী। এরা মানুষের কন্ঠ নকল করতে পারে এবং মানুষের নির্দেশনা বুঝে বিভিন্ন কাজ করতে পারে।

গবেষণা অনুযায়ী, এদের বুদ্ধিমত্তা ৪ থেকে ৬ বছর বয়সী মানুষের বাচ্চার বুদ্ধির সমমান।

আর এদের বুদ্ধিমত্তা, মানুষের মত কথা বলা ইত্যাদি কারনেই সমগ্র পৃথিবীতে এরা জনপ্রিয় পোষা পাখি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে।

কুকুর যদি খেতে না চায় তাহলে কি করবেন?

কুকুর

আমাদের ঘরের পোষা প্রাণীটি কিন্তু আমাদের কাছে বাচ্চা বা শিশুর মত প্রিয়। বাচ্চারা যখন খেতে না চায় তখন আপনি কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পারেন যে কেন ওর খাবারে অরুচি। কিন্তু আমাদের পোষা প্রাণীটির ক্ষেত্রে কি আমরা বুঝতে পারি তারা কেন খাচ্ছে না? আমরা আজ আমাদের সবচেয়ে প্রিয় পোষা প্রাণী কুকুরকে নিয়ে আলোচনা করব। কুকুর স্বভাবতই খেতে ভালবাসে।

যদি খাওয়া বন্ধ করে দেয় তাহলে বুঝতে হবে কোন শারীরিক কারণে এমনটা হচ্ছে। না খাওয়ার সঠিক কারণ বের করে এর জলদি সমাধান করুন।

কুকুর যদি অসুস্থ হয়

প্রথমেই আপনি আপনার কুকুরটির শরীরের তাপমাত্রা মেপে দেখুন। যদি ১০২ ডিগ্রির এক দাগও বেশি হয় তাহলে তা জ্বর বলে গণ্য হবে। জ্বর, ডায়রিয়া, কিডনির সমস্যা হলে কুকুর খেতে চায় না।

কুকুর

সমাধান- যত দ্রুত সম্ভব ভেটের কাছে নিয়ে যান। কুকুরদের সুস্থ হতে বেশি সময় লাগে না। আর ওকে অনেক সময় দিন ও অনেক ভালবাসুন।

কুকুরের যদি ক্রিমি হয়

এটা খুব বড় একটা সমস্যা। কুকুরের যদি শরীরে ক্রিমি থাকে তাহলে বমি করবে অনেক ক্ষেত্রে পাতলা পায়খানাও করতে পারে। সুতরাং এমতাবস্থায় অরুচি হওয়াটা খুব স্বাভাবিক।

কুকুর

সমাধান- এমন হলে জলদি ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। ডিওয়ারমিং ওষুধ অথবা ভেক্সিন করিয়ে নিন। এতে করে ও অনেক দিন ক্রিমি থেকে সুরক্ষিত থাকবে। বেশি দেরি হয়ে গেলে আপনার কুকুরটি মারাও যেতে পারে। সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন থাকবেন। কারণ এই ক্রিমি আপনাকেও আক্রান্ত করতে পারে।

কুকুরকে যদি স্পে বা নিউটার করানো হয়

স্পে বা নিউটার করালে কুকুরের অরুচি দেখা যায়। অনেক সময় ভ্যাক্সিনেশন করানোর ফলেও এমনটা হতে পারে। শরীরের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের ছেয়ে কিছুটা বেশি থাকে।

কুকুর

সমাধান- এমন হলে চিন্তার কোন কারণ নেই। কিছু দিন সময়দিন ও নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যাবে। ওকে একটু বেশি সময় দিন।

হিটিং টাইম হলে অরুচি হয়

যদি আপনার কুকুরের হিটিং টাইম হয়ে থাকে তাহলে ও ঠিক মত খাবে না, অযথা ডাকাডাকি করবে, যেখানে সেখানে পি(প্রস্রাব) করতে পারে।

সমাধান- এ ধরণের সমস্যা হলে জলদি ওর সঙ্গী আনার ব্যবস্থা করুন। অনেকে এমন সমস্যায় নিউটার করিয়ে দেন কিন্তু এতে করে ওর স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে।

দীর্ঘদিন একই খাবার খেলে

অনেকের অভিযোগ থাকে আমার কুকুর ছোট বেলায় অনেক খেত এখন কিছু খেতে চায় না। একদম খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে। সেক্ষেত্রে লক্ষ করুন আপনি ওকে দীর্ঘদিন একই খাবার দিচ্ছেন কিনা। যদি দিয়ে থাকেন তাহলে সমস্যাটা এখানেই।

কুকুর

সমাধান- আপনাকে যদি তিন বেলা ভাত আর ডাল খেতে দেয়া হয় অথবা প্রতিদিন পোলাও-মাংস দেয়া হয় আপনি কতদিন খেতে পারবেন? আপনার কুকুরের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা এমন। সুতরাং খাবারে বৈচিত্র্য আনুন। খাবারের তালিকায় ফল, চিজ, সবজি রাখুন। সব সময় পরিষ্কার, তাজা এবং ভাল খাবার খাওয়াতে হবে।

কুকুর যখন মানুষের জীবন দানকারী

কুকুর

কুকুর যে মানুষের কত ভালো বন্ধু তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এই কুকুর যখন নিজের জীবন বিপন্ন করে মনিবকে বাঁচাতে যায় তখন তাকে শুধু বন্ধু উপাধিতে সীমাবদ্ধ করা যায় না। আসুন দেখে নেই এমন কয়েকজন বন্ধুকে।

খান বাঁচালো কারলটের জীবন

কুকুর

খান নামের একটি কুকুর কারলট নামের একটি ১৭ বছর বয়সী শিশুকে বিষাক্ত সাপের কামড় থেকে বাঁচায়।

মজার বিষয় খান মাত্র ৭ দিন আগেই ওদের বাসায় আসে। খানকে দত্তক নেয়া হয়।

ছোট্ট কারলটকে যখন সাপটি কামড় দিতে যাবে ঠিক সেই মুহূর্তে খান ওকে ধাক্কা দেয়। আর বিষধর সাপের কামড় লাগে খানের গায়।

বলে রাখা ভালো সাপটি ছিল কিং কোবরা। মন খারাপ করবেন না। খান বেঁচে যায়। তাকে এন্টি-ভেনম দেয়া হয়।

টাটরটট বাঁচালো মৃত্যুপথযাত্রীর জীবন

কুকুর

এখন যে কুকুররের কথা বলবো ওর নাম টাটরটট। পেটনের মা ক্রিস্টি পরিকল্পনা করলেন টাটরটটকে কিছুদিনের জন্য লালন পালন করবেন।

কয়েক সপ্তাহ পর খেয়াল করলেন যে কুকুরটি তার পরিবারের সাথে অনেক সুন্দর সখ্যতা করে ফেলেছে।

একদিন ক্রিস্টি পেটনকে ঘুম পাড়িয়ে অন্য রুমে বসে ছিল। ১/২ ঘণ্টা পর হঠাৎ করে টাটরটট পেটনের রুমের আশেপাশে দৌড়ানো শুরু করল এবং চিৎকার দিতে লাগলো। ক্রিস্টি কোনভাবেই ওকে থামাতে পারল না, যতক্ষণ না ও পেটনের কাছে গেলো। গিয়ে দেখল পেটন খুব ধীরে শ্বাস নিচ্ছে। দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার বলল পেটনের রক্তে সুগারের মাত্রা এতো বেশী কমে গিয়েছিলো যে ও মারা যেতে পারতো। টাটরটট ক্রিস্টির সবচেয়ে ভালো বন্ধু হয়ে গেলো। ক্রিস্টি বলে, এই কুকুর না থাকলে তার সন্তান হয়তো জীবিত থাকতো না।

কুকুর বাঁচালো সুনামি থেকে

কুকুর

বাবু নামের ১২ বছরের এক শিহতজু কুকুর তার ৮৩ বছরের মালিককে সুনামির হাত থেকে বাঁচায়। এটা এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।

হঠাৎ একদিন বাবু তার মালিককে বাইরে নেয়ার জন্য পাগল হয়ে যায়। এমনিতে বাবু বাইরে যেতে বা হাঁটতে পছন্দ করে না।

কিন্তু সেদিন ও তার মালিককে পাহাড়ে পর্যন্ত জোর করে উঠিয়ে নেয়। ওর মালিক যখন পাহাড় থেকে নিচের দিকে তাকায় তখন দেখে সুনামি এসে তার বাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

তার পোষা কুকুর বন্ধুটির জন্য বেঁচে গেলেন তিনি।

কুকুর মনিবের জীবন বাঁচাতে গিয়ে গুলি খেল

কুকুর

কাইলো নামের ১২ বছরের পিটবুল কুকুর। তার মনিবের বাসায় ডাকাত আসে। কাইলো তার মনিবকে বাঁচাতে ডাকাতদের উপর আক্রমণ করে।

ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় কাইলো ওদের পিছু নেয় তখন ওদের কেউ একজন কাইলোর মাথায় গুলি করে।

অলৌকিক ভাবে কাইলোর মাথায় গুলি লাগলেও তা ঘাড়ের পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। ওর মালিক দ্রুত ওকে হাসপাতাল নেয়।

এবং সৃষ্টিকর্তার দয়ায় কাইলো ৩ দিনের মধ্যে হাঁটতে সক্ষম হয়।

ক্যাটরিনা হ্যারিকেন থেকে বাঁচালো মানুষের জীবন

কুকুর

ক্যাটরিনা নামের কালো লেব্রেডর কুকুর হ্যারিকেনে এক মানুষকে ভেসে যেতে দেখল। মানুষটি ডুবে যাওয়ার আগে তাকে টেনে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায় ক্যাটরিনা। ধীরে ধীরে পানি বাড়তে থাকে। ক্যাটরিনা ততক্ষণ চিৎকার করতে থাকে যতক্ষণ না কোন উদ্ধার কর্মীর দল আসে।

জোজো বাঁচিয়েছে নুমুকে

জোজো নামের একটি বাংলাদেশী কুকুর তার মালিককে গ্যাস বিস্ফোরণের হাত থেকে বাঁচায়। বুদ্ধিমান জোজো সবসময় তাঁর মালিকের সাথেই থাকে। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠার পর নুমু (জোজোর মালিক) যখন জোজোর কাছে যায় তখন জোজো তাকে রান্না ঘরে নিয়ে যায়। নুমু রান্না ঘরে গিয়ে আবিষ্কার করেন গ্যাসের চুলা অন করা। শুধু একটি ম্যাচের কাঠি জ্বললেই সেদিন উড়ে যেতো পুরো বাড়ি। জোজোর এতো বড় উপকারে অনেক অনেক কৃতজ্ঞ নুমু। প্রথম ছবিটি জোজো আর নুমুর।

মাংসাশী ৫ টি উদ্ভিদকে চিনে রাখুন, হয়তো আপনার আশেপাশেই আছে

মাংসাশী

প্রকৃতির অন্যতম একটি উপাদান হচ্ছে গাছ। আমরা বিভিন্নভাবে প্রক্রিয়াজাত করে খাদ্য গ্রহণ করি। সবাই জানি যে গাছ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাবার তৈরি করে। মাটি থেকে পানি, সূর্যের আলো আর পাতার মাধ্যমে তৈরি করা খাবার দিয়েই গাছ তার জীবন চালনা করে। কিন্তু গাছ যদি পোকামাকড়, ব্যাঙ, ছোট ইঁদুর খায় তবে কেমন শোনাবে। হ্যাঁ আপনি ঠিক শুনছেন। আসুন জেনে নেই এমন ভয়ঙ্কর মাংসাশী গাছদের ব্যপারে।

মাংসাশী উদ্ভিদ ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ

সাধারণত এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলিনার জলাভূমিতে পাওয়া যায়।

  • জীবনকাল প্রায় মোটামুটি ২০ থেকে ৩০ বৎসর পর্যন্ত
  • উদ্ভিদগুলোর মাঝ বরাবর লম্বা দন্ডাকৃতির কান্ডে নজরকাড়া সাদা ফুল ফোটে এবং এই ফুল থেকে চকচকে কৃষ্ণকালো অনেকগুলো ফল থোকায় থোকায় ধরে।
  • গাছগুলোর গোড়ার দিকে ১ ইঞ্চির সমান লম্বা সবুজ পাতা জন্মায়। এই পাতাগুলো দেখতে অনেকটাই ঝিনুকের মত অথবা অনেকটা মুখের চোয়ালের মতো হয়।
  • প্রতিটি পাতা তিন থেকে ছয় ইঞ্চির মতো লম্বা হয় এবং এতে অনেক গুলো ছোট ছোট লোম থাকে।
  • সবচেয়ে মজার বিষয় হল একটা পোকা হজম করতে ভেনাস ট্র্যাপের সময় লাগে ১০ দিনের মতো
  • মাংসাশী এই গাছটি এর পাতা দিয়ে পোকা আটকায়।
  • ভেনাস ট্র্যাপের পাতা একসাথে ৩ থেকে ৪টি পোকা ধরতে পারে এবং পরবর্তীতে যখন এর কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় তখন আবার নতুন করে পাতা গজায় এবং পুনরায় সে নতুন পাতা গুলো পোকামাকড় ধরতে থাকে।

    মাংসাশী উদ্ভিদ কলসি

    মাংসাশী

    কলসি উদ্ভিদে ফাঁপা বিশেষ এক ধরনের পাতা রয়েছে যা একটি জগ কিংবা কলসির মত পানি ধরে রাখতে পারে। কলসির মত দেখতে এ পাতাগুলো শিকার ধরার ফাঁদ হিসেবে কাজ করে। গঠন ও আকৃতি থেকেই এদেরকে নাম দেওয়া হয়েছে কলসি উদ্ভিদ।

  • ছোট কলসি গাছগুলো কীটপতঙ্গ ধরে। বড় কলসি গাছগুলো ছোট ব্যাঙ, ইঁদুর শিকার করে।
  • কলসের সঙ্গে আটকানো পাতাটি লম্বা নলের মত কাজ করে।
  • নলটির মাথায় থাকে রংচঙে এক প্রবেশ পথ। যে কারণে কীটপতঙ্গরা আকৃষ্ট হয়। আর সেই ফাঁদে পা দেয়।
  • নলের তলদেশ অংশটি পেয়ালাকৃতির।
  • কলসির মাথায় ঢাকনা থাকে এবং ঢাকনাটি সব সময় খোলা থাকে।
  • প্রবেশ পথে মধু উৎপন্ন হয়। কলসির ভেতরে আরও মধু থাকে।
  • পোকাটি কলসির নলের ভিতরেই ঢোকার পরই বিপদে পড়ে যায়। নলের ভিতরের দেয়ালটি বরফের মতই মসৃণ আর পিচ্ছিল। তাই যতবার উঠতে যায় ততবার পড়ে যায়।

মাংসাশী উদ্ভিদ ওয়াটার হুইল

মাংসাশী

 

 

ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান ও আফ্রিকাতে এ উদ্ভিদটি পাওয়া যায়। ছোট আকারের শিকড়হীন এ উদ্ভিদটি পুকুর বা জলাশয়ের উপরে ভাসতে দেখা যায়।

  • উদ্ভিদের পাতাগুলোই ফাঁদ হিসেবে কাজ করে।
  • আকারে ছোট হওয়ায় এদের শিকারগুলোও ছোট হয়।
  • প্ল্যাঙ্কটন নামের ছোট ছোট জলজ প্রাণী আর প্রাণীদের লার্ভাই এদের মূল খাদ্য।
  • ওয়াটার হুইলের পাতাগুলো কাজ করে পানির নিচের ভেনাস ফাইট্র্যাপের মত।
  • পোকা ফাঁদে প্রবেশ করলে পাতার খন্ড দুটি এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়।
  • পোকাটি পরিপাক হওয়ার পর পাতাগুলো আবার শিকার ধরতে প্রস্তুত হয়।

মাংসাশী উদ্ভিদ সূর্যশিশির

উদ্ভিদটির পাতাগুলো ছোট আর গোলাকার। উদ্ভিদটি আঠালো ফাঁদওয়ালা মাংসাশী উদ্ভিদের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

  • উদ্ভিদটি মাত্র ৩.৫ ইঞ্চি (৮ সে.মি.) চওড়া।
  • বড় আগাছা ও আশে পাশের গাছের নিচেই লুকিয়ে বেড়ে ওঠে ওরা।
  • সূর্যশিশিরের পাতাগুলোকে উজ্জ্বল লাল রঙের দেখায়। দেখে মনে হয় উপরে শিশির ছড়ানো।
  • এর পাতাগুলো অসংখ্য বোঁটা দিয়ে ঢাকা থাকে। প্রতিটি বোঁটার আগায় আঠালো এক ধরণের পদার্থ থাকে। এই আঠালো পদার্থগুলোর রঙই লাল।
  • বাতাসে এক ধরণের সুগন্ধও ছড়ায় এই মাংসাশী উদ্ভিদটি।
  • যে লাল রঙের আঠালো পদার্থের কথা বললাম, সেই পদার্থগুলো তৈরি করা হয় পোকা মাকড়দের আকৃষ্ট করার জন্য।
  • যখন পোকা উদ্ভিদটির পাতায় বসে তখনই আঠালো পদার্থ পোকার পায়ে লেগে যায়। পোকাটি যত ছোটার চেষ্টা করে তত বেশি করে এথা লেগে যায় ওদের শরীরে।
  • ৪/৫ দিনের মধ্যে পরিপাক শেষ করে আবার আগের অবস্থানে চলে যায়।

মাংসাশী উদ্ভিদ ঝাঁঝি দাম

মাংসাশী

 

বাংলাদেশের বিভিন্ন খাল বিলে এর অবাধ অবস্থান। বর্ষার শেষদিকে একটু কম পানিতে জন্মায় এরা।

  • এটি একটি মধ্যম আকারের জলজ বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ।
  • তেমন কোনো শেকড় থাকে না এবং পানিতে ভেসে বেড়ায় এই উদ্ভিদগুলো।
  • শেকড়ের বদলে এদের এক ধরণের থলে থাকে।
  • থলের মুখের প্রবেশ পথে খাড়া রোম থাকে।
  • এই রোমগুলোতে কোন জলজ প্রাণী স্পর্শ করলেই এর মুখ খুলে যায় এবং প্রাণীটিকে থলের ভেতর নিয়ে নেয়।
  • উদ্ভিদটির গাঢ় কমলা হলুদ রঙের ফুল হয়। হাল্কা সুবাস আছে এতে।

কুকুর পাললে আপনার জীবনে আসবে অবিশ্বাস্য পরিবর্তন

কুকুর

আমাদের দেশে বেশির ভাগ পরিবারে কুকুর পোষাটা গ্রহণযোগ্য নয়। সিংহ ভাগ মানুষ কুকুর পালতে নারাজ। অনেকের এই প্রাণিটির প্রতি এক ধরনের ভয়ও কাজ করে। বাচ্চাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এই কুকুর কিন্তু রাখতে পারে বিশেষ ভূমিকা। শুধু বাচ্চাদের জন্য নয় সব বয়সী মানুষদের জন্য এই প্রাণী অনেক ভালো একটি সঙ্গী।

কুকুর জড়তা দূর করে

মানসিক চাপের জন্য আমাদের মন খারাপ থাকে। অবসাদ নামে জীবনে। অনেকের জীবনে হতাশার কারণে হীনমন্যতায় ভোগে।

কুকুর

কিন্তু যদি কোন প্রাণী আপনার চারপাশে লেজ নাড়িয়ে আপনার আদর পাওয়ার জন্য ঘোরে তাহলে আপনি কি আর মন খারাপ করে থাকতে পারবেন?

পোষা প্রাণীর সঙ্গে খেলা করলে আমাদের মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন নামের এক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ কমিয়ে আন্তরিক হতে সাহায্য করে।

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ছোটবেলায় বাচ্চাদের মধ্যে যে জড়তা তাকে তা পোষা কুকুর দূর করতে পারে।

কুকুর ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

প্রথমে আপনি হয়তো হয়তো বিশ্বাস করবেন না। কিন্তু গবেষণায় বের হয়েছে যে কুকুর তার মালিকের স্বাস্থ্যের অসঙ্গতি লক্ষ্য করে।

সে তখন মালিকের শরীরের সেই অংশে বারবার চাটতে থাকে। এমন হলে জলদি ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

হতে পারে শরীরের সেই জায়গায় ক্যান্সার সেল জন্ম নিতে শুরু করেছে।

হাঁপানি হতে পারেনা

সুইডেনের এক গবেষণায় পাওয়া গেছে, নবজাতক শিশু যদি প্রথম এক বছর পোষা কুকুরের সঙ্গে বেড়ে ওঠে তাহলে তার শরীরে হাঁপানি রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়।

বয়স ছয় হতে হতে হাঁপানির ঝুঁকি কমে যায় অনেকটাই।

ফুসফুস জনিত যেকোনো রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

যদি বাচ্চার আগে থেকেই অ্যালার্জি কিংবা হাঁপানি থাকেলে লোমশ কিছু না পোষাই ভাল।

শিশুকে দায়িত্বশীল করে তোলে

কুকুর

দায়িত্বশীলতা, কর্তব্যপরায়ণ হিসেবে গড়ে তোলার সময় শিশু সময়েই।

বাড়িতে প্রাণী পোষা কিন্তু অনেক বেশি দায়িত্বশীলতার প্রমাণ দেয়।

বাবা মার দেখা দেখি বাসার পোষা প্রাণীটির প্রতি সেও যত্নশীল হতে শুরু করে।

কিভাবে বন্ধু বানাতে হয় শিখে যায়। চারপেয়ে এই বন্ধুর বদৌলতে ছোটবেলা থেকে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন অনেকেই।

অতিরিক্ত কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়

কুকুর

বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে এই প্রাণীর শরীরে থাকা বেশ কিছু উপকারি ব্যাকটেরিয়া আমাদের শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে একদিকে যেমন ট্রাইগ্লিসারাইড এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে, তেমনি শরীরের অন্দরের ক্ষমতাও মারাত্মক বৃদ্ধি পায়।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই সুস্থ জীবনের স্বপ্ন পূরণ হতে সময় লাগে না।

হার্ট ভালো থাকে

কুকুর

যেমনটা একেবারে শুরুতেই আলোচনা করা হয়েছে যে হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে কুকুর পোষার সরাসরি যোগ রয়েছে।

আসলে পোষ্যের সান্নিধ্যে থাকলে শারীরিক সচলচা এতটা বেড়ে যায় যে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে।

সেই সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কাও চোখে পরার মতো কমে যায়।

পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত প্রাণীরা

বিষাক্ত

বিষাক্ত প্রাণী বলতে আমরা শুধু সাপকেই বুঝি। কিন্তু সাপ ছাড়া পৃথিবীতে রয়েছে আরও অনেক বিষধর সাপ। তাদের নিয়েই আজকের এই আয়োজন। এদের বেশির ভাগই পৃথিবীর গভীরতম অঞ্চলে বসবাস করে।

বক্স জেলিফিশ

বিষাক্ত

জেলিফিশ দেখতে খুব সুন্দর। সমুদ্রের ঢেউয়ে তাল মিলিয়ে চলা ফেরা করে এরা।

সাধারণ জেলিফিশেও কিন্তু বিষ থাকে। কিন্তু এই বক্স জেলিফিশের বিষ এত তীব্র যে অনায়াসে আক্রান্তের মৃত্যু হয়ে যাবে। তাইতো একে মৃত্যুর বাক্স বলে ডাকা হয়।

লম্বা কর্ষিকা বিশিষ্ট প্রাণীটি নেমাটোসিস্ট ও বিষ বহন করে। দ্রুত চিকিৎসা না নিলে এর বিষ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া মুশকিল।

আক্রান্ত হওয়ার ৩০ সেকেন্ডের ভেতর ভিনেগার গ্রহণ করতে হবে। এর বিষ হৃৎপিণ্ড, স্নায়ুতন্ত্র এবং ত্বকের কোষ আক্রমণ করে।

বক্স জেলিফিশ দৈর্ঘ্যে ৩ মিটার এবং প্রস্থে ২৫ সেমি। ওজন ২ কেজি।

সাধারণত উত্তর অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রে এবং ইন্দো প্রশান্ত মহাসাগরে বাস করে। পেটে অনেকগুলো চোখ থাকায় একে খুব ভয়ঙ্কর দেখায়।

মাড়বেল-কোণ শামুক

বিষাক্ত

আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, শামুক কি করে বিষাক্ত হবে? আসলে সাধারণ শামুক গুলো বিষাক্ত নয় কিন্তু যে শামুক গুলো কোণ সেগুলো ভয়ানক বিষাক্ত হয়ে থাকে। মাড়বেল-কোণ শামুক পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর প্রাণীর মধ্যে ৩য় স্থানে রয়েছে।

দেখতে অনেক সুন্দর এই শামুক। মনে হয় যেন মারবেল পাথর দিয়ে মোজাইক করা। তাই তো এর এমন নামকরণ।

অস্ট্রেলিয়ার উষ্ণ লবণাক্ত সামুদ্রিক জলরাশিতে এদের দেখা মিলবে।

ব্লু-রিংড অক্টোপাস

বিষাক্ত

সব বিষাক্ত জিনিসই আকর্ষণীয় হয়। সেই ধারা মোতাবেক ব্লু-রিংড অক্টোপাস আপনার মন কেড়ে নেবে। দেখতে অনেক ছোট, একটা গলফ বলের সমান হবে। তার উপর গায়ে নীল রঙের গোল গোল রিং এর দাগ। কার না ইচ্ছে করবে ধরতে।

একটি ব্লু-রিংড অক্টোপাসে যে পরিমাণ বিষ আছে তা ২৬ জন মানুষকে মারার জন্য যথেষ্ট। বলে রাখি ব্লু-রিংড অক্টোপাসের বিষের কোন প্রতিষেধক নেই।

ও যখন আপনাকে কামড় দেবে তখন একটুও ব্যথা পাবেন না কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে আপনার শরীর অসাড় করে দেবে, পেশী দুর্বল করে তুলবে এবং শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যাঘাত ঘটাবে।

জাপান থেকে অস্ট্রেলিয়া মধ্যকার প্রশান্ত মহাসাগরে এদের বিচরণ।

মরণ কাঁকড়া বিছে

এই বিছের বিষ সম্পর্কে কম বেশি সবাই জানেন। খুব ছোট এই বিছে মারাত্মক বিষ বহন করে।

এই প্রাণীটি একবার কোন মানুষকে হুল ফুটালে বিষ সরাসরি তার স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমন করে। অবশেষে অসহ্য যন্ত্রণা এবং মাংশপেশির প্রবল সংকোচনের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটে।

সাহারা, আরাবিয়ান মরুভূমিতে এর দেখা মেলে।

তবে এর বিষ নিয়ে বিজ্ঞানীরা কিছু আশার বাণী শুনিয়েছেন। এই প্রাণীর বিষ দিয়ে ব্রেইন টিউমার এবং ডায়াবেটিস সারানো সম্ভব।

স্টোন ফিশ

বিষাক্ত

বিষধর প্রাণীরা সাধারণত দেখতে সুন্দর হলেও স্টোন ফিশ সেই ধারা বজায় রাখেনি। দেখতে খুব কুৎসিত এই মাছটি।

এরা চুপ করে পাথরের মতো পড়ে থাকে বলে এদের এমন নামকরণ হয়েছে।

চিংড়ি, ছোট ছোট মাছ গুলো পাথর ভেবে এর আশেপাশে যখন ঘোরে অথবা এর উপর বসে তখন টুপ করে ওদের গিলে ফেলে। মাছের মধ্যে এরাই সবচেয়ে বিষধর।

বিষের আক্রমণে প্রথমেই প্রাণী হঠাৎ আঘাত পায়, এর পর প্যারালাইসিস হয়ে প্রাণীদেহের কোষগুলোর মৃত্যু ঘটে। পরিশেষে প্রাণীটির মৃত্যু ঘটে।

ব্রাজিলিয়ান অয়ান্ডেরিং স্পাইডার

বিষাক্ত

মাকড়সারা সাধারণত নির্দিষ্ট কোন জায়গায় জাল পেতে বসে থাকে শিকারের জন্য। কিন্তু এই মাকড়সারা এমন নয়।

সব জায়গায় এদের পদ চারণা লক্ষ্য করা যায়। ২০০৭ সালে ‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’ এ জায়গা করে নিয়েছিলো।

এটা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর মাকড়সা। শুধু তাই নয়, মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী মাকড়সাদের মধ্যে এরাই সবচেয়ে এগিয়ে। মানুষের আশে পাশেই এরা ঘোরাফেরা করে।

পয়জন ডার্ট ফ্রগ

বিষাক্ত

খুব সুন্দর ও ছোট আকৃতির এই ব্যাঙ বিষে ভরপুর। ১.৫-৬ সেমি দৈর্ঘ্য হয়ে থাকে।

আমাজন জঙ্গলে ব্যাঙ গুলোর দেখা মিলে। স্থানীয় আদিবাসীরা তীরের ডগায় এই ব্যাঙের বিষ ব্যাবহার করে শিকার করে।

এই ব্যাঙের মাত্র ২ মাইক্রোগ্রাম বিষ একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে মেরে ফেলার জন্য যথেষ্ট।

 

 

 

পৃথিবীর বুক থেকে বিদায় নেয়া কিছু প্রাণী

প্রাণী

পৃথিবীর পরিবেশ এখন যেমন আছে আজ থেকে কোটি কোটি বছর আগে এমনটা ছিল না। ধীরে ধীরে আবহাওয়া আর পরিবেশ পরিবর্তন হতে থাকে। পরিবর্তন যদি ধীর গতিতে হয় তাহলে প্রাণীরা তাল মিলিয়ে বাঁচতে পারে। কিন্তু যখন প্রকৃতির পরিবর্তন খুব জলদি হয় অথবা পরিবেশ বিপর্যয় ঘটে তখন প্রাণীদের মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায় আর এভাবেই হারিয়ে গেছে জানা অজানা অনেক প্রাণী। এক সময় যাদের দেখা যেত সর্বদায় বিচরণ করতে আজ তারা হারিয়ে গেছে পৃথিবীর বুক থেকে। পৃথিবীতে বেশ কিছু বিশাল আকারের প্রাণী ছিল। ডাইনোসরের মতোই কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে তারা। তাদের হারিয়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে মানুষেরও হাত। আজ তাদের নিয়েই কথা বলব।

কাসপিয়ান টাইগার

কাসপিয়ান টাইগার ইরান, ইরাক, আফগানিস্তান, তুরস্ক, মঙ্গোলিয়া, কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান এইসব অঞ্চলে পাওয়া যেত। ১৯৭০ সাল থেকে এদের আর দেখা যায়নি। এই বাঘটি পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম। পুরুষ কাসপিয়ান টাইগারের ওজন ১৬৯-২৪০ কেজি এবং স্ত্রী কাসপিয়ান টাইগারের ওজন ৮৫-১৩৫ কেজি হয়ে থাকত। তবে কিছু কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন এখনও এই প্রাণীটির অস্তিত্ব রয়েছে।

স্টেলারস সি কাউ

এশিয়াটিক  সমুদ্রের উপকূলের কাছে ওড়মেড়লী প্রজাতীর প্রাণীটি খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল এটি ১৭৪১ সালে খুঁজে বার করা হয়েছিল। এই প্রাণীটি প্রায় ৭.৯ মিটার হয়েছিল। শটেলার  অনুসারে, এই প্রাণীটি তীরে কখনও আসে না, জলের মধ্যেই চিরন্তন বসবাস করে। এর ত্বক কালো এবং পুরু, একটি পুরনো ড়ধশ গাছের বাকলের মতো। তবে আশ্চর্যের কথা হল এটির কোন দাঁত নেই। এটাকে ১৭৬৮ সালের পর থেকেই বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

কুয়াগা

আধা জেব্রা আধা ঘোড়া। আফ্রিকা মহাদেশের বিচিত্র বিলুপ্ত একটি প্রাণী হচ্ছে কুয়াগা।

এই প্রাণীটি দেখে অনেকটাই অকল্পনীয় প্রাণী মনে হয়। কিন্তু এটিও কোন একসময় সচরাচর দেখতে পাওয়া যেত।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ প্রদেশে একবার খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল এবং যা ছিল একটি বিরল ঘটনা।

এই প্রাণীটার প্রথম অর্ধেক অংশ ছিল জেব্রার মতো দেখতে কিন্তু পিছনের অংশ ছিল ঘোড়ার মতো।

ধারণা করা হয় এটি ১৮৮৩ সালের পর থেকে বিলুপ্ত হয়েছে। এটাকে ১৭৮৮ সালে প্রাণীদের একটি প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

সর্বশেষ ১৮৭০ সালের দিকে একটি কুয়াগা পাওয়া যায় যেটিকে Artis Magistra zoo তে সংরক্ষণে রাখা হয়। কিন্তু সর্বশেষ পাওয়া এই প্রাণীটি ১৮৮৩ সালের ১২ আগস্ট মারা যায়।

তবে সম্প্রতি Smithsonian সংস্থা ঘোষণা দিয়েছে যে এই প্রাণীটি আলাদা একটি প্রজাতি ছিল না বরং সাধারণ জেব্রাদের মতোই একটি।

অ্যাওরোকস

অ্যাওরোকস এই প্রাণীটি কোন একসময়ে ইউরোপের বিখ্যাত একটি প্রাণী ছিল। যা ভারত এবং এশিয়ার আরও কিছু দেশে পাওয়া যেত।

১৫৬৪ সালে Gamekeepers রাজকীয় পরিসংখ্যান অনুসারে কেবল ৩৮ প্রাণীর সংখ্যা বের করতে পেরেছিল।

তবে ১৬২৭ সালে এই প্রাণীকে পূর্ণাঙ্গভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এই সকল প্রাণী আর দেখা যায়নি এই পৃথিবীতে।

গ্রেট আক

গ্রেট আক প্রাণীটি ছিল পেঙ্গুইনদেরই একটি প্রজাতি, যা এটলাণ্টিক  সমুদ্রের পাড়ের দ্বীপ এবং দেশগুলোতে পাওয়া যেত। কিন্তু এগুলো আজ বিলুপ্ত।

এগুলো দাঁড়ানো অবস্থায় ৭৫ সেন্টিমিটার অথবা ৩০-৪০ ইঞ্চি হত। এগুলোর ওজন ৫ কেজির মতো হত।

এগুলো আগে কানাডা, গ্রিনল্যাণ্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, আয়ারল্যাণ্ড এবং ব্রিটেনে বহু সংখ্যক খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল এবং শিকারও করা হয়েছিল। তবে ১৮৪৪ সালের পর থেকে এগুলো বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

তাসমানিয়ান বাঘ

তাসমানিয়ান বাঘ মাংসাশী প্রাণীর নাম।

বিংশ শতাব্দিতে অস্ট্রেলিয়া এবং নতুন গিনিতে ওগুলো কিছুটা দেখতে পাওয়া যেত। তবে এটাকে Tasmanian Wolf নামেও ডাকা হত।

ইউরোপীয় উপনিবেশের পূর্বে অস্ট্রেলিয়া এবং পরে বিভিন্ন দ্বীপপুঞ্জে এগুলো দেখতে পাওয়া যেত। ধারণা করা হয় এটি ১৯৩৬ সাল থেকে বিলুপ্ত হয়েছে।