কুকুর যখন মানুষের জীবন দানকারী

কুকুর

কুকুর যে মানুষের কত ভালো বন্ধু তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এই কুকুর যখন নিজের জীবন বিপন্ন করে মনিবকে বাঁচাতে যায় তখন তাকে শুধু বন্ধু উপাধিতে সীমাবদ্ধ করা যায় না। আসুন দেখে নেই এমন কয়েকজন বন্ধুকে।

খান বাঁচালো কারলটের জীবন

কুকুর

খান নামের একটি কুকুর কারলট নামের একটি ১৭ বছর বয়সী শিশুকে বিষাক্ত সাপের কামড় থেকে বাঁচায়।

মজার বিষয় খান মাত্র ৭ দিন আগেই ওদের বাসায় আসে। খানকে দত্তক নেয়া হয়।

ছোট্ট কারলটকে যখন সাপটি কামড় দিতে যাবে ঠিক সেই মুহূর্তে খান ওকে ধাক্কা দেয়। আর বিষধর সাপের কামড় লাগে খানের গায়।

বলে রাখা ভালো সাপটি ছিল কিং কোবরা। মন খারাপ করবেন না। খান বেঁচে যায়। তাকে এন্টি-ভেনম দেয়া হয়।

টাটরটট বাঁচালো মৃত্যুপথযাত্রীর জীবন

কুকুর

এখন যে কুকুররের কথা বলবো ওর নাম টাটরটট। পেটনের মা ক্রিস্টি পরিকল্পনা করলেন টাটরটটকে কিছুদিনের জন্য লালন পালন করবেন।

কয়েক সপ্তাহ পর খেয়াল করলেন যে কুকুরটি তার পরিবারের সাথে অনেক সুন্দর সখ্যতা করে ফেলেছে।

একদিন ক্রিস্টি পেটনকে ঘুম পাড়িয়ে অন্য রুমে বসে ছিল। ১/২ ঘণ্টা পর হঠাৎ করে টাটরটট পেটনের রুমের আশেপাশে দৌড়ানো শুরু করল এবং চিৎকার দিতে লাগলো। ক্রিস্টি কোনভাবেই ওকে থামাতে পারল না, যতক্ষণ না ও পেটনের কাছে গেলো। গিয়ে দেখল পেটন খুব ধীরে শ্বাস নিচ্ছে। দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার বলল পেটনের রক্তে সুগারের মাত্রা এতো বেশী কমে গিয়েছিলো যে ও মারা যেতে পারতো। টাটরটট ক্রিস্টির সবচেয়ে ভালো বন্ধু হয়ে গেলো। ক্রিস্টি বলে, এই কুকুর না থাকলে তার সন্তান হয়তো জীবিত থাকতো না।

কুকুর বাঁচালো সুনামি থেকে

কুকুর

বাবু নামের ১২ বছরের এক শিহতজু কুকুর তার ৮৩ বছরের মালিককে সুনামির হাত থেকে বাঁচায়। এটা এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।

হঠাৎ একদিন বাবু তার মালিককে বাইরে নেয়ার জন্য পাগল হয়ে যায়। এমনিতে বাবু বাইরে যেতে বা হাঁটতে পছন্দ করে না।

কিন্তু সেদিন ও তার মালিককে পাহাড়ে পর্যন্ত জোর করে উঠিয়ে নেয়। ওর মালিক যখন পাহাড় থেকে নিচের দিকে তাকায় তখন দেখে সুনামি এসে তার বাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

তার পোষা কুকুর বন্ধুটির জন্য বেঁচে গেলেন তিনি।

কুকুর মনিবের জীবন বাঁচাতে গিয়ে গুলি খেল

কুকুর

কাইলো নামের ১২ বছরের পিটবুল কুকুর। তার মনিবের বাসায় ডাকাত আসে। কাইলো তার মনিবকে বাঁচাতে ডাকাতদের উপর আক্রমণ করে।

ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় কাইলো ওদের পিছু নেয় তখন ওদের কেউ একজন কাইলোর মাথায় গুলি করে।

অলৌকিক ভাবে কাইলোর মাথায় গুলি লাগলেও তা ঘাড়ের পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। ওর মালিক দ্রুত ওকে হাসপাতাল নেয়।

এবং সৃষ্টিকর্তার দয়ায় কাইলো ৩ দিনের মধ্যে হাঁটতে সক্ষম হয়।

ক্যাটরিনা হ্যারিকেন থেকে বাঁচালো মানুষের জীবন

কুকুর

ক্যাটরিনা নামের কালো লেব্রেডর কুকুর হ্যারিকেনে এক মানুষকে ভেসে যেতে দেখল। মানুষটি ডুবে যাওয়ার আগে তাকে টেনে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায় ক্যাটরিনা। ধীরে ধীরে পানি বাড়তে থাকে। ক্যাটরিনা ততক্ষণ চিৎকার করতে থাকে যতক্ষণ না কোন উদ্ধার কর্মীর দল আসে।

জোজো বাঁচিয়েছে নুমুকে

জোজো নামের একটি বাংলাদেশী কুকুর তার মালিককে গ্যাস বিস্ফোরণের হাত থেকে বাঁচায়। বুদ্ধিমান জোজো সবসময় তাঁর মালিকের সাথেই থাকে। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠার পর নুমু (জোজোর মালিক) যখন জোজোর কাছে যায় তখন জোজো তাকে রান্না ঘরে নিয়ে যায়। নুমু রান্না ঘরে গিয়ে আবিষ্কার করেন গ্যাসের চুলা অন করা। শুধু একটি ম্যাচের কাঠি জ্বললেই সেদিন উড়ে যেতো পুরো বাড়ি। জোজোর এতো বড় উপকারে অনেক অনেক কৃতজ্ঞ নুমু। প্রথম ছবিটি জোজো আর নুমুর।

মাংসাশী ৫ টি উদ্ভিদকে চিনে রাখুন, হয়তো আপনার আশেপাশেই আছে

মাংসাশী

প্রকৃতির অন্যতম একটি উপাদান হচ্ছে গাছ। আমরা বিভিন্নভাবে প্রক্রিয়াজাত করে খাদ্য গ্রহণ করি। সবাই জানি যে গাছ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাবার তৈরি করে। মাটি থেকে পানি, সূর্যের আলো আর পাতার মাধ্যমে তৈরি করা খাবার দিয়েই গাছ তার জীবন চালনা করে। কিন্তু গাছ যদি পোকামাকড়, ব্যাঙ, ছোট ইঁদুর খায় তবে কেমন শোনাবে। হ্যাঁ আপনি ঠিক শুনছেন। আসুন জেনে নেই এমন ভয়ঙ্কর মাংসাশী গাছদের ব্যপারে।

মাংসাশী উদ্ভিদ ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ

সাধারণত এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলিনার জলাভূমিতে পাওয়া যায়।

  • জীবনকাল প্রায় মোটামুটি ২০ থেকে ৩০ বৎসর পর্যন্ত
  • উদ্ভিদগুলোর মাঝ বরাবর লম্বা দন্ডাকৃতির কান্ডে নজরকাড়া সাদা ফুল ফোটে এবং এই ফুল থেকে চকচকে কৃষ্ণকালো অনেকগুলো ফল থোকায় থোকায় ধরে।
  • গাছগুলোর গোড়ার দিকে ১ ইঞ্চির সমান লম্বা সবুজ পাতা জন্মায়। এই পাতাগুলো দেখতে অনেকটাই ঝিনুকের মত অথবা অনেকটা মুখের চোয়ালের মতো হয়।
  • প্রতিটি পাতা তিন থেকে ছয় ইঞ্চির মতো লম্বা হয় এবং এতে অনেক গুলো ছোট ছোট লোম থাকে।
  • সবচেয়ে মজার বিষয় হল একটা পোকা হজম করতে ভেনাস ট্র্যাপের সময় লাগে ১০ দিনের মতো
  • মাংসাশী এই গাছটি এর পাতা দিয়ে পোকা আটকায়।
  • ভেনাস ট্র্যাপের পাতা একসাথে ৩ থেকে ৪টি পোকা ধরতে পারে এবং পরবর্তীতে যখন এর কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় তখন আবার নতুন করে পাতা গজায় এবং পুনরায় সে নতুন পাতা গুলো পোকামাকড় ধরতে থাকে।

    মাংসাশী উদ্ভিদ কলসি

    মাংসাশী

    কলসি উদ্ভিদে ফাঁপা বিশেষ এক ধরনের পাতা রয়েছে যা একটি জগ কিংবা কলসির মত পানি ধরে রাখতে পারে। কলসির মত দেখতে এ পাতাগুলো শিকার ধরার ফাঁদ হিসেবে কাজ করে। গঠন ও আকৃতি থেকেই এদেরকে নাম দেওয়া হয়েছে কলসি উদ্ভিদ।

  • ছোট কলসি গাছগুলো কীটপতঙ্গ ধরে। বড় কলসি গাছগুলো ছোট ব্যাঙ, ইঁদুর শিকার করে।
  • কলসের সঙ্গে আটকানো পাতাটি লম্বা নলের মত কাজ করে।
  • নলটির মাথায় থাকে রংচঙে এক প্রবেশ পথ। যে কারণে কীটপতঙ্গরা আকৃষ্ট হয়। আর সেই ফাঁদে পা দেয়।
  • নলের তলদেশ অংশটি পেয়ালাকৃতির।
  • কলসির মাথায় ঢাকনা থাকে এবং ঢাকনাটি সব সময় খোলা থাকে।
  • প্রবেশ পথে মধু উৎপন্ন হয়। কলসির ভেতরে আরও মধু থাকে।
  • পোকাটি কলসির নলের ভিতরেই ঢোকার পরই বিপদে পড়ে যায়। নলের ভিতরের দেয়ালটি বরফের মতই মসৃণ আর পিচ্ছিল। তাই যতবার উঠতে যায় ততবার পড়ে যায়।

মাংসাশী উদ্ভিদ ওয়াটার হুইল

মাংসাশী

 

 

ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান ও আফ্রিকাতে এ উদ্ভিদটি পাওয়া যায়। ছোট আকারের শিকড়হীন এ উদ্ভিদটি পুকুর বা জলাশয়ের উপরে ভাসতে দেখা যায়।

  • উদ্ভিদের পাতাগুলোই ফাঁদ হিসেবে কাজ করে।
  • আকারে ছোট হওয়ায় এদের শিকারগুলোও ছোট হয়।
  • প্ল্যাঙ্কটন নামের ছোট ছোট জলজ প্রাণী আর প্রাণীদের লার্ভাই এদের মূল খাদ্য।
  • ওয়াটার হুইলের পাতাগুলো কাজ করে পানির নিচের ভেনাস ফাইট্র্যাপের মত।
  • পোকা ফাঁদে প্রবেশ করলে পাতার খন্ড দুটি এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়।
  • পোকাটি পরিপাক হওয়ার পর পাতাগুলো আবার শিকার ধরতে প্রস্তুত হয়।

মাংসাশী উদ্ভিদ সূর্যশিশির

উদ্ভিদটির পাতাগুলো ছোট আর গোলাকার। উদ্ভিদটি আঠালো ফাঁদওয়ালা মাংসাশী উদ্ভিদের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

  • উদ্ভিদটি মাত্র ৩.৫ ইঞ্চি (৮ সে.মি.) চওড়া।
  • বড় আগাছা ও আশে পাশের গাছের নিচেই লুকিয়ে বেড়ে ওঠে ওরা।
  • সূর্যশিশিরের পাতাগুলোকে উজ্জ্বল লাল রঙের দেখায়। দেখে মনে হয় উপরে শিশির ছড়ানো।
  • এর পাতাগুলো অসংখ্য বোঁটা দিয়ে ঢাকা থাকে। প্রতিটি বোঁটার আগায় আঠালো এক ধরণের পদার্থ থাকে। এই আঠালো পদার্থগুলোর রঙই লাল।
  • বাতাসে এক ধরণের সুগন্ধও ছড়ায় এই মাংসাশী উদ্ভিদটি।
  • যে লাল রঙের আঠালো পদার্থের কথা বললাম, সেই পদার্থগুলো তৈরি করা হয় পোকা মাকড়দের আকৃষ্ট করার জন্য।
  • যখন পোকা উদ্ভিদটির পাতায় বসে তখনই আঠালো পদার্থ পোকার পায়ে লেগে যায়। পোকাটি যত ছোটার চেষ্টা করে তত বেশি করে এথা লেগে যায় ওদের শরীরে।
  • ৪/৫ দিনের মধ্যে পরিপাক শেষ করে আবার আগের অবস্থানে চলে যায়।

মাংসাশী উদ্ভিদ ঝাঁঝি দাম

মাংসাশী

 

বাংলাদেশের বিভিন্ন খাল বিলে এর অবাধ অবস্থান। বর্ষার শেষদিকে একটু কম পানিতে জন্মায় এরা।

  • এটি একটি মধ্যম আকারের জলজ বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ।
  • তেমন কোনো শেকড় থাকে না এবং পানিতে ভেসে বেড়ায় এই উদ্ভিদগুলো।
  • শেকড়ের বদলে এদের এক ধরণের থলে থাকে।
  • থলের মুখের প্রবেশ পথে খাড়া রোম থাকে।
  • এই রোমগুলোতে কোন জলজ প্রাণী স্পর্শ করলেই এর মুখ খুলে যায় এবং প্রাণীটিকে থলের ভেতর নিয়ে নেয়।
  • উদ্ভিদটির গাঢ় কমলা হলুদ রঙের ফুল হয়। হাল্কা সুবাস আছে এতে।

কুকুর পাললে আপনার জীবনে আসবে অবিশ্বাস্য পরিবর্তন

কুকুর

আমাদের দেশে বেশির ভাগ পরিবারে কুকুর পোষাটা গ্রহণযোগ্য নয়। সিংহ ভাগ মানুষ কুকুর পালতে নারাজ। অনেকের এই প্রাণিটির প্রতি এক ধরনের ভয়ও কাজ করে। বাচ্চাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এই কুকুর কিন্তু রাখতে পারে বিশেষ ভূমিকা। শুধু বাচ্চাদের জন্য নয় সব বয়সী মানুষদের জন্য এই প্রাণী অনেক ভালো একটি সঙ্গী।

কুকুর জড়তা দূর করে

মানসিক চাপের জন্য আমাদের মন খারাপ থাকে। অবসাদ নামে জীবনে। অনেকের জীবনে হতাশার কারণে হীনমন্যতায় ভোগে।

কুকুর

কিন্তু যদি কোন প্রাণী আপনার চারপাশে লেজ নাড়িয়ে আপনার আদর পাওয়ার জন্য ঘোরে তাহলে আপনি কি আর মন খারাপ করে থাকতে পারবেন?

পোষা প্রাণীর সঙ্গে খেলা করলে আমাদের মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন নামের এক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ কমিয়ে আন্তরিক হতে সাহায্য করে।

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ছোটবেলায় বাচ্চাদের মধ্যে যে জড়তা তাকে তা পোষা কুকুর দূর করতে পারে।

কুকুর ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

প্রথমে আপনি হয়তো হয়তো বিশ্বাস করবেন না। কিন্তু গবেষণায় বের হয়েছে যে কুকুর তার মালিকের স্বাস্থ্যের অসঙ্গতি লক্ষ্য করে।

সে তখন মালিকের শরীরের সেই অংশে বারবার চাটতে থাকে। এমন হলে জলদি ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

হতে পারে শরীরের সেই জায়গায় ক্যান্সার সেল জন্ম নিতে শুরু করেছে।

হাঁপানি হতে পারেনা

সুইডেনের এক গবেষণায় পাওয়া গেছে, নবজাতক শিশু যদি প্রথম এক বছর পোষা কুকুরের সঙ্গে বেড়ে ওঠে তাহলে তার শরীরে হাঁপানি রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়।

বয়স ছয় হতে হতে হাঁপানির ঝুঁকি কমে যায় অনেকটাই।

ফুসফুস জনিত যেকোনো রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

যদি বাচ্চার আগে থেকেই অ্যালার্জি কিংবা হাঁপানি থাকেলে লোমশ কিছু না পোষাই ভাল।

শিশুকে দায়িত্বশীল করে তোলে

কুকুর

দায়িত্বশীলতা, কর্তব্যপরায়ণ হিসেবে গড়ে তোলার সময় শিশু সময়েই।

বাড়িতে প্রাণী পোষা কিন্তু অনেক বেশি দায়িত্বশীলতার প্রমাণ দেয়।

বাবা মার দেখা দেখি বাসার পোষা প্রাণীটির প্রতি সেও যত্নশীল হতে শুরু করে।

কিভাবে বন্ধু বানাতে হয় শিখে যায়। চারপেয়ে এই বন্ধুর বদৌলতে ছোটবেলা থেকে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন অনেকেই।

অতিরিক্ত কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়

কুকুর

বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে এই প্রাণীর শরীরে থাকা বেশ কিছু উপকারি ব্যাকটেরিয়া আমাদের শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে একদিকে যেমন ট্রাইগ্লিসারাইড এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে, তেমনি শরীরের অন্দরের ক্ষমতাও মারাত্মক বৃদ্ধি পায়।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই সুস্থ জীবনের স্বপ্ন পূরণ হতে সময় লাগে না।

হার্ট ভালো থাকে

কুকুর

যেমনটা একেবারে শুরুতেই আলোচনা করা হয়েছে যে হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে কুকুর পোষার সরাসরি যোগ রয়েছে।

আসলে পোষ্যের সান্নিধ্যে থাকলে শারীরিক সচলচা এতটা বেড়ে যায় যে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে।

সেই সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কাও চোখে পরার মতো কমে যায়।

পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত প্রাণীরা

বিষাক্ত

বিষাক্ত প্রাণী বলতে আমরা শুধু সাপকেই বুঝি। কিন্তু সাপ ছাড়া পৃথিবীতে রয়েছে আরও অনেক বিষধর সাপ। তাদের নিয়েই আজকের এই আয়োজন। এদের বেশির ভাগই পৃথিবীর গভীরতম অঞ্চলে বসবাস করে।

বক্স জেলিফিশ

বিষাক্ত

জেলিফিশ দেখতে খুব সুন্দর। সমুদ্রের ঢেউয়ে তাল মিলিয়ে চলা ফেরা করে এরা।

সাধারণ জেলিফিশেও কিন্তু বিষ থাকে। কিন্তু এই বক্স জেলিফিশের বিষ এত তীব্র যে অনায়াসে আক্রান্তের মৃত্যু হয়ে যাবে। তাইতো একে মৃত্যুর বাক্স বলে ডাকা হয়।

লম্বা কর্ষিকা বিশিষ্ট প্রাণীটি নেমাটোসিস্ট ও বিষ বহন করে। দ্রুত চিকিৎসা না নিলে এর বিষ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া মুশকিল।

আক্রান্ত হওয়ার ৩০ সেকেন্ডের ভেতর ভিনেগার গ্রহণ করতে হবে। এর বিষ হৃৎপিণ্ড, স্নায়ুতন্ত্র এবং ত্বকের কোষ আক্রমণ করে।

বক্স জেলিফিশ দৈর্ঘ্যে ৩ মিটার এবং প্রস্থে ২৫ সেমি। ওজন ২ কেজি।

সাধারণত উত্তর অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রে এবং ইন্দো প্রশান্ত মহাসাগরে বাস করে। পেটে অনেকগুলো চোখ থাকায় একে খুব ভয়ঙ্কর দেখায়।

মাড়বেল-কোণ শামুক

বিষাক্ত

আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, শামুক কি করে বিষাক্ত হবে? আসলে সাধারণ শামুক গুলো বিষাক্ত নয় কিন্তু যে শামুক গুলো কোণ সেগুলো ভয়ানক বিষাক্ত হয়ে থাকে। মাড়বেল-কোণ শামুক পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর প্রাণীর মধ্যে ৩য় স্থানে রয়েছে।

দেখতে অনেক সুন্দর এই শামুক। মনে হয় যেন মারবেল পাথর দিয়ে মোজাইক করা। তাই তো এর এমন নামকরণ।

অস্ট্রেলিয়ার উষ্ণ লবণাক্ত সামুদ্রিক জলরাশিতে এদের দেখা মিলবে।

ব্লু-রিংড অক্টোপাস

বিষাক্ত

সব বিষাক্ত জিনিসই আকর্ষণীয় হয়। সেই ধারা মোতাবেক ব্লু-রিংড অক্টোপাস আপনার মন কেড়ে নেবে। দেখতে অনেক ছোট, একটা গলফ বলের সমান হবে। তার উপর গায়ে নীল রঙের গোল গোল রিং এর দাগ। কার না ইচ্ছে করবে ধরতে।

একটি ব্লু-রিংড অক্টোপাসে যে পরিমাণ বিষ আছে তা ২৬ জন মানুষকে মারার জন্য যথেষ্ট। বলে রাখি ব্লু-রিংড অক্টোপাসের বিষের কোন প্রতিষেধক নেই।

ও যখন আপনাকে কামড় দেবে তখন একটুও ব্যথা পাবেন না কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে আপনার শরীর অসাড় করে দেবে, পেশী দুর্বল করে তুলবে এবং শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যাঘাত ঘটাবে।

জাপান থেকে অস্ট্রেলিয়া মধ্যকার প্রশান্ত মহাসাগরে এদের বিচরণ।

মরণ কাঁকড়া বিছে

এই বিছের বিষ সম্পর্কে কম বেশি সবাই জানেন। খুব ছোট এই বিছে মারাত্মক বিষ বহন করে।

এই প্রাণীটি একবার কোন মানুষকে হুল ফুটালে বিষ সরাসরি তার স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমন করে। অবশেষে অসহ্য যন্ত্রণা এবং মাংশপেশির প্রবল সংকোচনের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটে।

সাহারা, আরাবিয়ান মরুভূমিতে এর দেখা মেলে।

তবে এর বিষ নিয়ে বিজ্ঞানীরা কিছু আশার বাণী শুনিয়েছেন। এই প্রাণীর বিষ দিয়ে ব্রেইন টিউমার এবং ডায়াবেটিস সারানো সম্ভব।

স্টোন ফিশ

বিষাক্ত

বিষধর প্রাণীরা সাধারণত দেখতে সুন্দর হলেও স্টোন ফিশ সেই ধারা বজায় রাখেনি। দেখতে খুব কুৎসিত এই মাছটি।

এরা চুপ করে পাথরের মতো পড়ে থাকে বলে এদের এমন নামকরণ হয়েছে।

চিংড়ি, ছোট ছোট মাছ গুলো পাথর ভেবে এর আশেপাশে যখন ঘোরে অথবা এর উপর বসে তখন টুপ করে ওদের গিলে ফেলে। মাছের মধ্যে এরাই সবচেয়ে বিষধর।

বিষের আক্রমণে প্রথমেই প্রাণী হঠাৎ আঘাত পায়, এর পর প্যারালাইসিস হয়ে প্রাণীদেহের কোষগুলোর মৃত্যু ঘটে। পরিশেষে প্রাণীটির মৃত্যু ঘটে।

ব্রাজিলিয়ান অয়ান্ডেরিং স্পাইডার

বিষাক্ত

মাকড়সারা সাধারণত নির্দিষ্ট কোন জায়গায় জাল পেতে বসে থাকে শিকারের জন্য। কিন্তু এই মাকড়সারা এমন নয়।

সব জায়গায় এদের পদ চারণা লক্ষ্য করা যায়। ২০০৭ সালে ‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’ এ জায়গা করে নিয়েছিলো।

এটা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর মাকড়সা। শুধু তাই নয়, মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী মাকড়সাদের মধ্যে এরাই সবচেয়ে এগিয়ে। মানুষের আশে পাশেই এরা ঘোরাফেরা করে।

পয়জন ডার্ট ফ্রগ

বিষাক্ত

খুব সুন্দর ও ছোট আকৃতির এই ব্যাঙ বিষে ভরপুর। ১.৫-৬ সেমি দৈর্ঘ্য হয়ে থাকে।

আমাজন জঙ্গলে ব্যাঙ গুলোর দেখা মিলে। স্থানীয় আদিবাসীরা তীরের ডগায় এই ব্যাঙের বিষ ব্যাবহার করে শিকার করে।

এই ব্যাঙের মাত্র ২ মাইক্রোগ্রাম বিষ একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে মেরে ফেলার জন্য যথেষ্ট।

 

 

 

পৃথিবীর বুক থেকে বিদায় নেয়া কিছু প্রাণী

প্রাণী

পৃথিবীর পরিবেশ এখন যেমন আছে আজ থেকে কোটি কোটি বছর আগে এমনটা ছিল না। ধীরে ধীরে আবহাওয়া আর পরিবেশ পরিবর্তন হতে থাকে। পরিবর্তন যদি ধীর গতিতে হয় তাহলে প্রাণীরা তাল মিলিয়ে বাঁচতে পারে। কিন্তু যখন প্রকৃতির পরিবর্তন খুব জলদি হয় অথবা পরিবেশ বিপর্যয় ঘটে তখন প্রাণীদের মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায় আর এভাবেই হারিয়ে গেছে জানা অজানা অনেক প্রাণী। এক সময় যাদের দেখা যেত সর্বদায় বিচরণ করতে আজ তারা হারিয়ে গেছে পৃথিবীর বুক থেকে। পৃথিবীতে বেশ কিছু বিশাল আকারের প্রাণী ছিল। ডাইনোসরের মতোই কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে তারা। তাদের হারিয়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে মানুষেরও হাত। আজ তাদের নিয়েই কথা বলব।

কাসপিয়ান টাইগার

কাসপিয়ান টাইগার ইরান, ইরাক, আফগানিস্তান, তুরস্ক, মঙ্গোলিয়া, কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান এইসব অঞ্চলে পাওয়া যেত। ১৯৭০ সাল থেকে এদের আর দেখা যায়নি। এই বাঘটি পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম। পুরুষ কাসপিয়ান টাইগারের ওজন ১৬৯-২৪০ কেজি এবং স্ত্রী কাসপিয়ান টাইগারের ওজন ৮৫-১৩৫ কেজি হয়ে থাকত। তবে কিছু কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন এখনও এই প্রাণীটির অস্তিত্ব রয়েছে।

স্টেলারস সি কাউ

এশিয়াটিক  সমুদ্রের উপকূলের কাছে ওড়মেড়লী প্রজাতীর প্রাণীটি খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল এটি ১৭৪১ সালে খুঁজে বার করা হয়েছিল। এই প্রাণীটি প্রায় ৭.৯ মিটার হয়েছিল। শটেলার  অনুসারে, এই প্রাণীটি তীরে কখনও আসে না, জলের মধ্যেই চিরন্তন বসবাস করে। এর ত্বক কালো এবং পুরু, একটি পুরনো ড়ধশ গাছের বাকলের মতো। তবে আশ্চর্যের কথা হল এটির কোন দাঁত নেই। এটাকে ১৭৬৮ সালের পর থেকেই বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

কুয়াগা

আধা জেব্রা আধা ঘোড়া। আফ্রিকা মহাদেশের বিচিত্র বিলুপ্ত একটি প্রাণী হচ্ছে কুয়াগা।

এই প্রাণীটি দেখে অনেকটাই অকল্পনীয় প্রাণী মনে হয়। কিন্তু এটিও কোন একসময় সচরাচর দেখতে পাওয়া যেত।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ প্রদেশে একবার খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল এবং যা ছিল একটি বিরল ঘটনা।

এই প্রাণীটার প্রথম অর্ধেক অংশ ছিল জেব্রার মতো দেখতে কিন্তু পিছনের অংশ ছিল ঘোড়ার মতো।

ধারণা করা হয় এটি ১৮৮৩ সালের পর থেকে বিলুপ্ত হয়েছে। এটাকে ১৭৮৮ সালে প্রাণীদের একটি প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

সর্বশেষ ১৮৭০ সালের দিকে একটি কুয়াগা পাওয়া যায় যেটিকে Artis Magistra zoo তে সংরক্ষণে রাখা হয়। কিন্তু সর্বশেষ পাওয়া এই প্রাণীটি ১৮৮৩ সালের ১২ আগস্ট মারা যায়।

তবে সম্প্রতি Smithsonian সংস্থা ঘোষণা দিয়েছে যে এই প্রাণীটি আলাদা একটি প্রজাতি ছিল না বরং সাধারণ জেব্রাদের মতোই একটি।

অ্যাওরোকস

অ্যাওরোকস এই প্রাণীটি কোন একসময়ে ইউরোপের বিখ্যাত একটি প্রাণী ছিল। যা ভারত এবং এশিয়ার আরও কিছু দেশে পাওয়া যেত।

১৫৬৪ সালে Gamekeepers রাজকীয় পরিসংখ্যান অনুসারে কেবল ৩৮ প্রাণীর সংখ্যা বের করতে পেরেছিল।

তবে ১৬২৭ সালে এই প্রাণীকে পূর্ণাঙ্গভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এই সকল প্রাণী আর দেখা যায়নি এই পৃথিবীতে।

গ্রেট আক

গ্রেট আক প্রাণীটি ছিল পেঙ্গুইনদেরই একটি প্রজাতি, যা এটলাণ্টিক  সমুদ্রের পাড়ের দ্বীপ এবং দেশগুলোতে পাওয়া যেত। কিন্তু এগুলো আজ বিলুপ্ত।

এগুলো দাঁড়ানো অবস্থায় ৭৫ সেন্টিমিটার অথবা ৩০-৪০ ইঞ্চি হত। এগুলোর ওজন ৫ কেজির মতো হত।

এগুলো আগে কানাডা, গ্রিনল্যাণ্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, আয়ারল্যাণ্ড এবং ব্রিটেনে বহু সংখ্যক খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল এবং শিকারও করা হয়েছিল। তবে ১৮৪৪ সালের পর থেকে এগুলো বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

তাসমানিয়ান বাঘ

তাসমানিয়ান বাঘ মাংসাশী প্রাণীর নাম।

বিংশ শতাব্দিতে অস্ট্রেলিয়া এবং নতুন গিনিতে ওগুলো কিছুটা দেখতে পাওয়া যেত। তবে এটাকে Tasmanian Wolf নামেও ডাকা হত।

ইউরোপীয় উপনিবেশের পূর্বে অস্ট্রেলিয়া এবং পরে বিভিন্ন দ্বীপপুঞ্জে এগুলো দেখতে পাওয়া যেত। ধারণা করা হয় এটি ১৯৩৬ সাল থেকে বিলুপ্ত হয়েছে।

 

নিশ্চুপ বৃষ্টির হাজার কথন

বৃষ্টি

কাশটা যেন অনেক বিশাল চাদরে মুড়ে রেখেছে আমাদের এই ধরাকে। কখনো তার রং নীল, কখনো সাদা মেঘে আবার কখনো বিষণ্ণ কালো রং এ যেন নানা রুপের সাজ। গ্রীষ্মের খাঁ খাঁ রোদে মাঠ ঘাট, নদীনালা, খালবিল, পুকুরের পানি শুকিয়ে ফাটল ধরতে থাকে। পশু-পাখি, গাছ-পালা, মানুষ তৃষ্ণার্ত হয়ে উঠে আর আকুতি করতে থাকে একটু শান্তির বৃষ্টির জন্য। এ যেন তৃষ্ণার্তের শ্রষ্টার কাছে আকুল প্রার্থনা। সব কিছু যখন খুব ব্যাকুল হয়ে থাকে তখন বর্ষার আগমনের সময় হয়ে যায়। তখন তৃষ্ণার্ত প্রকৃতিকে অমৃতসুধায় ভরিয়ে দিতে আসে বর্ষাকাল।

বৃষ্টির ফোঁটা
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর

রিমঝিম বৃষ্টি নামার সময় হলে নীল আকাশটা কালো হয়ে যায় যেন তার রূপের পরিবর্তনের শুরু।  আর যখন বৃষ্টির আনাগোনা শুরু হয় তখন চারদিকে সবার প্রাণে নামে শান্তির নিঃশ্বাস। কখনো কখনো চারদিক অন্ধকার হয়ে আসে, বাতাস বয়ে যায় আর কিছুক্ষণ পর নামবে শান্তির বৃষ্টি। আকাশের ভাঁজে ভাঁজে মেঘ জমে আছে। রাখাল বালক ছুটে চলছে ঝড় শুরু হওয়ার আগে গরু গুলোকে ফিরিয়ে আনতে, পাখিরা এক ডাল থেকে অন্য ডালে ছুটাছুটি করছে, স্কুলে ছুটির ঘন্টা বেজে উঠলো ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আনন্দের মিছিলে নেমে পড়লো। বৃষ্টি নামলো প্রকৃতি যেন নিস্তব্ধ হয়ে আছে নতুন প্রাণের ছোঁয়ায়। ফুল গুলো আবার হাসা শুরু করছে এ যেন নতুন প্রাণের মেলা।

র্ষা এলে পাখিরা গাছের ডালে, পাতার ফাঁকে চুপচাপ বসে থাকে। জনশূন্য হয়ে থাকে মাঠঘাট পথ-প্রান্তর। উঠনে জমে থাকে পানি। কানায় কানায় ভরে উঠে নদনদী, খালবিল, পুকুর। চারদিকে পানির থৈ থৈ মেলা। দস্যিছেলেরা দল বেঁধে কলা গাছের ভেলা ভাসিয়ে মনের আনন্দে মেতে উঠে। বৃষ্টির পানিতে সব কিছু ধুয়ে মুছে পরিষ্কার হয়ে যায়। তখন ভেজা মাটির গন্ধে মন কেমন করে উঠে। সবুজে সবুজে এক অপরূপ সৌন্দর্যে সেজে উঠে প্রকৃতি আর পরিবেশ। বর্ষা কালে বিভিন্ন ফুলের গন্ধে মন মাতোয়ারা হয়ে যায়।

লস সময় কাটানোর জন্য সবাই চায়ের কাপ হাতে খোশগল্পে মেতে উঠে। অনেক পুরনো স্মৃতি  মনে পড়ে যায়। প্রকৃতির লীলা খেলার সঙ্গে মানুষের মনেও জেগে উঠে কামনা-বাসনা, প্রেম বিরহের আবহ। বর্ষা এলে শৈশবের অনেক মধুর স্মৃতিতে উদাসীন হয়ে যায় আমাদের মন। বর্ষার জোয়ারে ভাসতে ভাসতে কবিরা তাদের কবিতার মধ্যে প্রেমের ব্যাকুলতা, আবেগ, অনুভূতি প্রকাশ করেন। বর্ষা নিয়ে কবিরা কতশত কবিতা, গল্প, ছড়া রচনা করেছেন তার হিসাব নেই। কি মধুর সেসব কবিতা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বর্ষা নিয়ে লিখেছেন-

ব্যাকুল বেগে আজি বহে যায়,

বিজুলি থেকে থেকে চমকায়।

যে কথা এ জীবনে রহিয়া গেলো মনে

সে কথা আজি যেন বলে যায়

এমন ঘনঘোর বরষায়।।

বর্ষা এলে বাংলার মাঠঘাট ডুবে যায়। পানিতে সব কিছু টুইটুম্বর করে।  পানিতে ভাসমান গ্রামের বাড়ি গুলো যেনো এক একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। ডিঙি নৌকায় বা কলার ভেলায় চড়ে মানুষ এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি যায়। বর্ষায় অনেক ফুল ফোটে যার গন্ধ পাগল করার মত। কদম, কেয়া, হাসনাহেনা, কলমিলতা, নিলকলম, দোলনচাপা বিচিত্র ফুলে ফুলে ভরে যায় প্রকৃতি। বৃষ্টিরদিনে সবচেয়ে মজার বিষয় হল রংধনু। বৃষ্টির পর মনোমুগ্ধকর এক দৃশ্য এই রংধনু।

রংধনু
বৃষ্টি মানে আকাশের সাথে রংধনুর খেলা

বিরহ-বেদনাকে বর্ষা আরো বেশী বাড়িয়ে দেয়। অঝোরধারায় বৃষ্টির সময় কখনো কখনো বিরহের স্মৃতি মনকে ব্যকুল করে তোলে, আবার কখনো সুখের জোয়ারে ভাসিয়ে তোলে। এ সময়ে সেই ছোট বেলার গ্রামের কথা মনে পড়ে যায় স্কুল ছুটির পর বই রেখে থৈ থৈ জলের মধ্যে শাপলা তুলার জন্য ঝাপিয়ে পড়া, এই আনন্দ আর কিসে পাওয়া যায় তা জানা নেই। সবাই মিলে দল বেঁধে ফুল কুড়ানোর মিষ্টি মধুর সময় খুব বেশী মনে পড়ে যায়। সন্ধ্যা বেলার ব্যাঙের ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর মধুর ডাক অন্য কোন ঋতুতে শোনা যায় না।  রাতের বেলায় টিনের চালের উপর টিপ টিপ বৃষ্টির ফোটার শব্দ ঘুমকে করে তোলে শান্তিময়। জেলেরা নৌকা নিয়ে মাছ ধরে।

মাঝিরা তাদের নৌকায় নতুন পাল তোলে নদীর এপাড় থেকে ঐপাড়ে মানুষ পার করে। আর কোকিলের সুরে গান গায়। কবির ভাষায় বলতে হয়-
আষাঢ়ে বাদল নামে নদী ভরভর

মাতিয়া ছুটিয়া চলে ধারা খরতর।

মহাবেগে কলকল কোলাহল ওঠে,

ঘোলা জলে পাকগুলি ঘুরে ঘুরে ছোটে।

দুই কূলে বনে বনে পড়ে যায় সাড়া,

বরষার উৎসবে জেগে ওঠে পাড়া।

বজ্রপাত
বজ্রপাত

বর্ষার পানি বাড়তে থাকলে কৃষকের মনে অনেক চিন্তা কাজ করতে থাকে তাদের ফসলের জন্য। বর্ষা কাল যেমন প্রকৃতিকে সৌন্দর্য্য উপহার দেয় তেমনি অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে। এ সময়ে বন্যা, ঝড় তুফান হয়ে থাকে যার ফলে আমাদের জীবন যাত্রা অচল হয়ে যায়। অধিক পানির জন্য ফসলের অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে। আনন্দ বেদনা কত দিক রয়েছে বৃষ্টির। বৃষ্টি আমাদের অনেক সময় হাসায় আবার অনেক সময় কাঁদায়, আবার আবেগে আপ্লুত করে তুলে। বৃষ্টিতে জমে উঠে অনন্য প্রেম। বর্ষা কাল আমাদের যেন প্রেম-বিরহ-ভালোবাসার ঋতু। বর্ষা মানে বৃষ্টিতে ভেজা এক রমণীয় বাংলাদেশ।

সর্বপরি প্রিয় কবি হুমায়ূন আহমেদ– এর একটা উক্তি দিয়ে শেষ করতে চাই-

“পৃথিবীর সবচেয়ে আনন্দময় জিনসগুলির জন্যে কিন্তু টাকা লাগে না। বিনামূল্যে পাওয়া যায়। যেমনঃ জ্যোৎস্না, বর্ষার দিনের বৃষ্টি, মানুষের ভালোবাসা।”