স্টিফেন হকিং, হারিয়ে গেলেন সময়ের ব্ল্যাক হোলে

স্টিফেন

পদার্থবিদ্যা, ব্ল্যাক হোল, কোয়ান্টাম ফিজিক্স নিয়ে আলোচনা করলে যার চেহারা আমাদের চোখে ভাসতো সেই শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং আমাদের মাঝে নেই। জীবনের অর্ধশত বছর তিনি দুরারোগ্য এক ব্যাধির সাথে লড়াই করে বেঁচে ছিলেন।

১৪ মার্চ বুধবার সকালে ক্যামব্রিজে নিজ বাসভবনে মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৭৬ বছর। তার পরিবারের মুখপাত্রের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।

এ বছরই ৮ জানুয়ারিতে তিনি ৭৬ বছর বয়সে পা দিয়েছিলেন।

জেনে রাখা ভালো উনার জন্মদিন ছিল গ্যালিলিও’র ৩০০ তম মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে! এবং আইনস্টাইনের জন্মদিন ১৪ মার্চ!!

স্টিফেন হকিং ২১ বছর বয়স থেকেই অসুস্থ ছিলেন

২১ বছর বয়স থেকেই প্রাণঘাতী এএলএস(অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস) রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

দুরারোগ্য এই ব্যাধি হলে অর্ধেক মানুষ তিন বছর বা তার বেশি সময় বাঁচেন।

২০ শতাংশ বাঁচেন ৫ বছরের বেশি। আর ১০ বছরের বেশি বাঁচতে দেখা যায় মাত্র ১০ শতাংশ মানুষকে। কিন্তু স্টিফেন হকিং বেঁচে ছিলেন পরবর্তী ৫২ বছর।

এই রোগ ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের এবং সুষুম্নাকাণ্ডের স্নায়ুকোষ নষ্ট করে ফেলে। ফলে রোগী সময়ের সঙ্গে মোটোর ফাংশন হারায়, কিন্তু কগনিটিভ ফাংশন বজায় থাকে।

অর্থাৎ সে নড়াচড়া করতে পারে না কিন্তু সুস্থ মানুষের মতো চিন্তা করতে পারেন।

খাবার গিলতে সাহায্য করা পেশী কাজ করা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে পুষ্টিহীনতা ও পানিশূন্যতায় মারা যেতে পারেন এই রোগে আক্রান্ত রোগীরা।

স্টিফেন হকিং এর জীবনযাত্রা

কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন ১৯৮৫ সালে। এর পর তিনি কম্পিউটার সিস্টেমের সাহায্যে কথা বলা শুরু করেন।

হকিং নিজের বেশিরভাগ পেশী ব্যবহার করতে অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন। একটি মোটোরাইজড হুইলচেয়ারের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন তিনি।

এমন ভয়ঙ্কর রোগের সাথে বসবাস করেও তিনি জ্ঞান অন্বেষণে ত্রুটি রাখেননি।

স্টিফেন হকিং এর সবচেয়ে বড় সাফল্য

১৯৭০ সালে তিনি সবচেয়ে বড় সাফল্যটি অর্জন করেন। তিনি এবং তার সহ-গবেষক রজার পেনরোজ দেখান একটি মাত্র বিন্দু থেকেই বিগ ব্যাং এর সূত্রপাত এবং সেখানেই আমাদের মহাবিশ্বের জন্ম।

স্টিফেন

মহাবিশ্বের একটি ভয়ঙ্কর আবিষ্কার হল ব্ল্যাক হোল।

তিনি কোয়ান্টাম থিউরি ব্যবহার করে জানান ব্ল্যাক হোল থেকে তাপ উৎপন্ন হয় এবং তা একসময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয় ‘অ্যা ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’ বইটি।

বইটি ২৩৭ সপ্তাহ ধরে সানডে টাইমস বেস্ট সেলার থাকার কারণে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে ঠাঁই পায়।

এখনো এটি পদার্থবিদ্যার অন্যতম জনপ্রিয় একটি বই।

স্টিফেন হকিং এর কিছু উক্তি

সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে

হয়তো সৃষ্টিকর্তা আছেন কিন্তু বিজ্ঞান সৃষ্টিকর্তার প্রয়োজন ছাড়া মহাবিশ্বকে ব্যাখ্যা করতে পারে

নারীর উদ্দেশ্যে

আমার চিকিৎসক সহকারী আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে যদিও আমার পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি আছে, তবুও নারীদের একটি রহস্য থাকা উচিত।

অস্কারজয়ী অভিনেতা এডি যখন তার চরিত্র নিয়ে অভিনয় করেছিলেন

দুর্ভাগ্যবশত, এডি [রেডময়েইন] আমার ভাল চেহারা উত্তরাধিকারী হয়নি।

মৃত্যুর উদ্দেশ্যে

আমি মস্তিষ্ককে একটি কম্পিউটার হিসাবে বিবেচনা করি, যা তার উপাদানগুলি ব্যর্থ হলে কাজ বন্ধ করে দেবে। ভাঙা কম্পিউটারের জন্য কোন স্বর্গ বা পরের জীবন নেই; যে অন্ধকারের ভয় মানুষ পেয়ে আসছে তা শুধু মাত্রই গল্প।

বিজ্ঞানের জগতে তাঁর অবদান কোনদিন নিঃশেষ হবে না। সময়ের ব্ল্যাক হোলে হারিয়ে গেলেন পৃথিবীর উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্কদের একজন।

বিশ্বায়নের আরেক নাম তথ্য প্রযুক্তি

প্রযুক্তি

একবিংশ শতাব্দীর বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার সর্বত্র বিস্তৃত। বাংলাদেশে দেরিতে হলেও তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার বহুলাংশে বিস্তৃতি লাভ করছে। গবেষণা থেকে শুরু করে শিক্ষা, চিকিৎসাব্যবস্থা, ব্যবসা, কৃষি, যোগাযোগসহ, মহাকাশে, মহাসমুদ্রে সর্বস্তরে প্রযুক্তির ছোঁয়া। জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতি সাধনের জন্যে তথ্য প্রযুক্তি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

তথ্য প্রযুক্তি কি?

বর্তমান যুগে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য বা দক্ষ ব্যাবস্থপনার জন্য তথ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, তথ্য আহরণ, তথ্য বিতরনের গুরুত্ব অপরিসীম। এসব তথ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, আহরণ এবং এর সাথে জড়িত সকল প্রকার কার্যাবলী পরিচালনার বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়া হলো তথ্য প্রযুক্তি। বর্তমান বিশ্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির দ্বারা একক তার বা একক লিঙ্ক পদ্ধতির মাধ্যমে অডিও-ভিজুয়াল, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও টেলিফোন নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে প্রযুক্তির বহির্প্রকাশ পায়। যার ফলে অনেক বড় অঙ্কের অর্থনৈতিক খরচ কমে যায়।

প্রযুক্তির ব্যবহারের বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলোর তফাৎ

প্রযুক্তির ব্যবহার উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ গুলোর মধ্যে অনেক তফাৎ রয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহারের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এই তফাৎ বিদ্যমান বলে জানিয়েছে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম। অর্থনৈতিক ফোরাম এর প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রযুক্তির ব্যবহার করে অর্থনৈতিক দিক থেকে সবচেয়ে বেশী সাফল্য অর্জনকারি দেশ গুলোর তালিকা শীর্ষে রয়েছে সুইডেন, সিঙ্গাপুর, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, অ্যামেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেন। এই তালিকার নিচের দিকে রয়েছে নেপাল, সিরিয়া, পূর্ব টিমর ও হাইতি। প্রযুক্তির ব্যবহারে ইউরোপ অনেক এগিয়ে রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় ভারতকে ছাড়িয়ে চীন উপরের দিকে উঠে এসেছে। এশিয়া মহাদেশে প্রযুক্তির ব্যবহারের দিক দিয়ে ভারত ছিল সবচেয়ে এগিয়ে। তবে চীন সরকার প্রযুক্তিখাতকে অনেক বেশী গুরুত্ব দেওয়ায় ভারতকে টপকে চীন এগিয়ে। ভারত ও চীন এগিয়ে থাকলেও এশিয়া মহাদেশের কয়েকটি দেশ এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে। এশিয়ায় পিছিয়ে থাকা দেশ গুলো হলো নেপাল, তাজিকিস্তান ও পাকিস্তান।

বাংলাদেশে দারিদ্রতা বিমোচনে তথ্যপ্রযুক্তির গুরুত্ব

বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির দিক দিয়ে আমরা অনেক পিছিয়ে। বাংলাদেশে বিজ্ঞান প্রযুক্তির মাধ্যমে দারিদ্রতা কমানো সম্ভব। প্রযুক্তির দ্বারা আমরা অনেক নতুন নতুন দক্ষতা অর্জন করতে পারি এবং তা কাজে লাগিয়ে জীবন জীবিকার মান উন্নয়ন করা সহজ। বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এ জন্য গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তথ্য ও প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি পদ্ধতি এনে দিতে পারে নতুন সম্ভাবনা। কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক সময়উপযোগী ও আধুনিক তথ্য, বাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ ইত্যাদি প্রযুক্তি ইন্টারনেট, মোবাইল এর মাধ্যমে সরবরাহ করা হলে তা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রযুক্তি
উন্নতি সাধন

বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি বাস্তবায়নের কৌশল

বাংলাদেশের কৃষি নীতিতে ই-কৃষি অন্তর্ভুক্তকরণ ও প্রত্যেক ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি তথ্য কেন্দ্র স্থাপন  এবং তা সঠিক ভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণ। কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষিতকরণ, আইসিটি কি সে বিষয়ে ধারণা ও উৎসাহ দেয়া। কৃষি কাজের জন্য ই-কৃষি  কন্টেন্ট তৈরি ও ব্যবহার। কৃষি চ্যানেল সম্প্রচার, ওয়েব টিভি, কৃষিভিত্তিক ওয়েবসাইট ও ওয়েব বেতার চালু করণ। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তি কর্মকান্ডের জন্য সরকার কে জোর দেওয়া।
যে দেশ তথ্য ও প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে যত এগিয়ে সে দেশ তত বেশী উন্নত এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ। প্রযুক্তির ব্যবহারে কারণে বর্তমানে অনেক কঠিন ও সময় ব্যয়বহুল কাজ সহজ এবং খুব কম সময়ে সম্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে। তথ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তি বৃদ্ধি, তথ্য আদান-প্রদান (টেলিযোগাযোগ, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট ইত্যাদি) প্রযুক্তি ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি এসব প্রযুক্তির ক্ষেত্রসমূহ সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত হলে উন্নয়নশীল দেশ গুলো খুব তাড়াতাড়ি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।