২০১৮ সালের দুর্ধর্ষ মুভি গুলোর এক ঝলক

মুভি

২০১৮ সালে মুক্তি পেয়েছে অসংখ্য মুভি কিন্তু এর মাঝে কিছু মুভি আছে যা না দেখলে আপানার জীবনে অনেক কিছু মিস হয়ে যেতে পারে। জানি না আমি কতটুকু ভালভাবে মুভিগুলোর রিভিউ দিয়েছি, আমি একজন দর্শক হিসেবে প্রতিটি মুভির বিষয়ে মতামত প্রকাশ করেছি মাত্র।

মুভি ১: A quite Place

মুভি

আমরা আমাদের পরিবারকে কতই না ভালবাসি। পরিবারের নিরাপত্তার জন্য একজন বাবা কিনা করেন। একটি পরিবার বাস করছে এমন এক এলাকায় যেখানে জন মানুষের কোন চিহ্ন নেই। সেটাতেও সমস্যা নেই। মূল সমস্যা হল কোন আওয়াজ করলে এক ধরণের ভয়ংকর প্রাণী এসে আপনাকে খেয়ে ফেলবে। এত সূক্ষ্ম আওয়াজ যে পুরো পরিবারটিকে খালি পায়ে হাঁটতে হত। পরিবারের সদস্যরা হলেন বাবা, মা, দুই ভাই আর একটি বোন। সুতরাং বুঝতেই পারছেন নিজেদের মধ্যেও কথা বলতে পারত না তারা। ঈশারা দিয়ে কথা বলতে হত। এত কিছুর ভেতরেও তারা ভাল ছিল কিন্তু ভয়ংকর এক ঘটনা ঘটে গেল পরিবারের এক ছোট্ট সদস্যার সাথে। এদিকে মা হলেন অন্তঃসত্ত্বা।

যারা মুভি পিপাসু তারা নিশ্চিত বুঝতেই পারছেন কতটুকু শ্বাস রুদ্ধকর একটি সিনেমা এটি। সময় পেলে দেখতে ভুলবেন না।

মুভি ২: Avengers: Infinity War

মুভি

এ বছরের সব চেয়ে আলোচিত একটি সিনেমা এটি। কিছুক্ষণ পর পর আমাদের প্রিয় প্রিয় সব হিরোদের দেখা যায়। কেমন হবে যদি আপনার সামনে আপনার প্রিয় হিরোকে মরতে হয়? কে জানে তারা ফিরবে কিনা? শেষ পর্যন্ত দেখতে ভুলবেন না।

যারা হলে গিয়ে দেখেছেন তারা আসল মজা পেয়েছেন। সময় পেলে এখনি দেখে ফেলুন।

মুভি ৩: Deadpool 2

মুভি

হলিউডের সবচেয়ে দুষ্ট হিরো Deadpool। জীবনে অনেক দুঃখ পেয়ে এই পর্যন্ত এসেছে। এবারের Deadpool-এ আগের থেকেও বেশি গালিগালাজ আছে। সুতরাং বাচ্চাদের না দেখার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। আর পারিবারিক ভাবে দেখার তো প্রশ্নই আসে না।

Deadpool 2 তে অনেক সুন্দর একটি শিক্ষণীয় কথা জানতে পারবেন। জানতে চাইলে এখনি দেখে ফেলুন।

মুভি ৪: Mission Impossible: Fallout

মুভি

সবার কাঙ্ক্ষিত Mission Impossible মুভির অসাধারণ আরেকটি সিকুয়াল এটি। অসাধারণ সব স্টাণ্ট করতে দেখবেন টম ভাইকে। খুব বড় বিপদে পড়ে যায় ওদের গ্রুপটা। ভেটিকান, জেরুজালেম ও মক্কা, সৌদি আরবের একসাথে পারমাণবিক আক্রমণের জন্য তিনটি প্লুটোনিয়াম কোরের ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে আর্মস ডিলার জন লারক এবং সন্ত্রাসীদের একটি দল।

মুভি ৫: Black Panther

মুভি

অনেক সুপার হিরোকেই তো দেখেছেন। কেউ দেবতার সন্তান অন্য দিকে কেউ মাকড়শার কামড় খেয়ে সুপার হিরো হয়েছে। এবার দেখবেন কিভাবে পারিবারিক পরম্পরায় সুপার হিরো হয়। এখানে Black Panther কোন সুপার হিরো না। এটা একটা সুপার পাওয়ারের নাম। ব্যক্তিগত ভাবে এটি আমার পছন্দের সুপার হিরো। তাদের এমন এক সাম্রাজ্য আছে যা সাধারণ পৃথিবীতে থাকলেও সাধারণ মানুষের দৃষ্টিসীমার বাইরে। আর এখানে রয়েছে অদ্ভুত, সুন্দর প্রযুক্তি যা মানুষ এখন ভাবতে পারেনি।

দেখার পর আপনি আমাকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারবেন না।

মুভি ৬: Tomb Ridder

মুভি

লারা ক্রফটকে অনেকেই চেনেন। বিশ্ব বিখ্যাত একটি গেম Tomb Ridder। এই মুভিতে লারা ক্রফটকে যেন আর ভাল করে চিনতে পারবেন আপনি। সাত বছর বাবা হারা হয়ে কিভাবে কেটেছে তার দিন সবই দেখতে পারবেন। সবাই যখন হাল ছেড়ে দিয়ে বলেছে তোমার বাবা আর ফিরে আসবে না তখন লারা শুধু একটি ধাঁধাঁর মাধ্যমে ক্লু পেয়ে চলে গেছে বাবার খোঁজে।

মুভিটি দেখতে দেখতে একটা সময় আপানার নিজেকে লারা বলে মনে হবে।

মুভি ৭: A Prayer Before Dawn

মুভি

যারা The Shawshank Redemption দেখেছেন তাদের জেল ভিত্তিক মুভি সম্পর্কে ধারণা আছে। The Shawshank Redemption সত্যি ঘটনা নিয়ে বানানো। A Prayer Before Dawn ও তেমন একটি মুভি। থাইল্যান্ড এর এক ভয়ংকর জেলে আসামী হয়ে যান বিলি মুর। যিনি আসলে একজন বক্সার। সাথে ভয়ংকর মাদকাসক্তও। নিজের মুক্তির জন্য সবটুকু দিয়ে লড়াই করে যান এক প্রতিযোগিতার জন্য।

প্রতিটি ঘটনা চিত্র সত্যি। মুভিটি ২০১৭ সালের তবুও আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।

এখানে যতগুলো মুভির রিভিউ দেয়া আছে সবগুলো আমি ব্যক্তিগত ভাবে দেখেছি। প্রত্যেকটি মুভির ঘটনা প্রবাহ, ডায়লগ, সিনেমাটোগ্রাফি আর অভিনেতাদের অভিনয় আপনাকে মুগ্ধ করবে এই বিষয়ে আমি বাজি ধরতে পারি। সময় করে দেখে নিন সব গুলো মুভি।

বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট জিতে ইতিহাস গড়লেন মানুষী ছিল্লার

মানুষী

২০১৭ সালের বিশ্ব সুন্দরীর আসরে মুকুট নিয়ে নিলো ভারতের মানুষী ছিল্লার। ভারতীয় সুন্দরীদের খ্যাতি বিশ্ব ব্যাপী।

সারা বিশ্ব থেকে অংশ নেয়া ১০৮ জন সুন্দরী নির্বাচিত হয়েছিলেন এই প্রতিযোগিতায়। যেখানে মানুষী  ছিল্লার সবাইকে পেছনে ফেলে বাজিমাত করেছেন।

আজ তাই মানুষীর জানা অজানা তথ্য গুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

পরিবার

মানুষী
মানুষীর পরিবার

বাবা মা ডাক্তার হওয়ার সুবাদে মেয়েও সেই পথ অনুসরণ করেছে।

মানুষী সোনেপতের ভগত ফুল সিং গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ফর ওমেনে এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

আর্ত মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়জিত করাই তার একমাত্র লক্ষ্য থাকলেও, মনে মনে বিশ্ব সুন্দরী হওয়ার আশা ছিল ছোট বেলা থেকেই।

তার পিতা ডা. মিত্র বসু ছিল্লার, প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংগঠন এর একজন বিজ্ঞানী। তার মা ডা. নিলাম ছিল্লার, ইনস্টিটিউট অব হিউম্যান ব্রিবেইহিয়ার অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সেস এর স্নায়ুরসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান।

ব্যক্তি জীবন

মানুষী
মানুষের সেবায় কাটিয়ে দিতে চান জীবন

ব্যক্তিগত জীবনে মানুষী একজন সেবিকা হতে চেয়েছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করছেন মেয়েদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয় নিয়ে।

বিনোদন নয় সেবার ব্রতে বিশ্ব সুন্দরী হতে চেয়েছেন তিনি।

মানুষী একজন প্রশিক্ষিত কুচিপুড়ি নৃত্যশিল্পী এবং তিনি প্রশিক্ষিত হয়েছেন বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী দম্পতি রাজা এবং রাধা রেড্ডি এবং কৌশল্যা রেড্ডির নিকট।

ছিল্লার ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামাতেও যোগদান করেছেন।

মানুষীর বিশ্ব সুন্দরী হওয়ার পেছনে যে বক্তব্যটি সাহায্য করেছে

মানুষী
একি ফ্রেমে তিন সুন্দরী

প্রতিযোগিতায় মঞ্চে তার কাছে কোন পেশার মানুষকে সবচেয়ে বেশি টাকা দেওয়া উচিত বলে মনে হয় জানতে চাওয়া হলে, বেশ আবেগ জড়ানো কণ্ঠে মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৭ এর মানুষী বলেন

‘আমার জীবনের সাফলতার পেছনে যার অবদান রয়েছে তিনি হলেন আমার মা। যে কিনা তার অফুরন্ত ভালোবাসা, তার সন্তানদের কেবল দিয়েই গিয়েছেন। আমার মতে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পেশা মাতৃত্ব। আর এই পেশার মানুষকে অগণিত টাকা দিয়েও তার বেতন নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।‘  মানুষীর এই অসাধারণ উত্তর শুনে শুধু বিচারকরাই মুগ্ধ হননি মুগ্ধ হতে হয়েছে বাকী প্রতিযোগীদেরও।

বিশ্ব সুন্দরী শুধু রূপসৌন্দর্য্য দেখে নির্বাচন করা হয়না।

আপনারা শেষ পাঁচ প্রতিযোগীদের যদি দেখে থাকেন তাহলে বুঝতে পারবেন।

সত্যি বলতে এবারের বিশ্ব সুন্দরী হওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্যতা ছিল শুধু মাত্র মানুষীর। যেমন সে কথায়, তেমন  বুদ্ধি মত্তায় আর তেমনি ব্যক্তিত্বে।

সৌন্দর্যের কথা তো না বললেই নয়। হরিয়ানার মানুষী আরও একটি ইতিহাস গড়েছেন।

মানুষী
১৯৬৬ সালে বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট মাথায় রিটা কারিয়া

১৯৬৬ সালে ভারত সর্বপ্রথম বিশ্ব সুন্দরীর তকমা জেতে। সেই সুন্দরীর নাম রিটা কারিয়া। রিটা কারিয়াও একজন মেডিকেল ছাত্রী ছিলেন। প্রায় ৫১ বছর পর মেডিকেল ছাত্রী ছিল্লারও দেশের জন্য ছিনিয়ে এনেছে বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট। অদ্ভুত এক ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করলেন মানুষী।

মানুষী ছিল্লার কি ধরণের খাবার খান এবং কেমন লাইফ স্টাইল ফলো করেন তা আপনাদের সুবিধার জন্য দেয়া হল। চাইলে মেনে নিতে চলতে পারেন।

মানুষী যে ডায়েট মেনে চলতেন

সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস লেবু জল।

মানুষী
নিজেকে ফিট রাখতে মেনে চলেছেন ডায়েট চার্ট

সকালের নাস্তা: ওটন বা হুইট ফ্লেক্স, সঙ্গে দই, বাদাম ও টাটকা ফল।

দুপুরের খাবর: ১-২ টা রুটি বা এক বাটি ভাত, সবজি, সালাত ও রায়তা।

সন্ধেবেলা: ফ্রুট স্মুদি, দই দিয়ে শশা বা গাজর স্টিক।

রাতের খাবার (রাত ৭ টায়): কিনোয়া স্যালাড বা কিনোয়া পোলাওয়ের সঙ্গে সুপ, অথবা চিক পিজ।

রাতে: টাটকা ফল।

পানি: প্রতি দিন তিন লিটার পানি।

সকালে হাঁটা ও হালকা ব্যায়াম: সপ্তাহে ৪-৫ দিন সকালে হাঁটতেন। প্রতি দিন জাম্পং জ্যাক।

ঘুম: যত ব্যস্ততাই থাক রাতে ৮ ঘন্টা ঘুমোতেন মানুষী।

ফোন: রাতে ঘুমোতে যাওয়ার ২ ঘন্টা আগে নিয়ম করে ফোন অফ করতেন মানুষী।

 

যারা বলেন বাংলা সিনেমাতে কিছু নেই এই সিনেমাগুলো তাদের জন্য

বাংলাদেশের সিনেমা ব্যবস্থা নিয়ে আমরা অনেক হতাশ। খুব বিরক্ত আমরা। অনেক ভালো ভালো সিনেমা হল আজ ধ্বংসের পথে শুধুমাত্র ভালো সিনেমা নেই বলে। কিন্তু যারা এই বিরক্ত থেকে একদম বাংলা সিনেমা দেখা বন্ধ করে দিয়েছেন তাদের জন্য রয়েছে বাংলা কিছু সিনেমার রিভিউ। আশা করি আপনারা অনুপ্রাণিত হবেন।

আয়নাবাজি

সিনেমা
আয়নাবাজি

২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া একটি অপরাধধর্মী থ্রিলার সিনেমা। মূল চরিত্রে আছেন চঞ্চল চৌধুরী। সিনেমাটির পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরী। বরাবরই আমরা এই বরেণ্য পরিচালকের কাছ থেকে চমৎকার সব সিনেমা উপহার পেয়ে আসছি। আয়ণাবাজিও সেই ধারার উপর বহমান একটি সিনেমা। এখানে এক শহরের গল্প বলা হয়েছে। এই শহরে সকালে দুধওয়ালা আসে, ফেরিওয়ালারা হাঁকডাক দেয়, বাচ্চারা দল বেঁধে নাটক শিখতে যায়। আয়না সেই শহরের একজন বাসিন্দা। অভিনয় যার নেশা। বাচ্চাদের নাটক শেখায়।

হৃদি নামের এক মেয়ের সাথে পরিচয় হয়, পরে তা প্রেমে রূপ নেয়। পাল্টাতে থাকে আয়নার জীবন। সে আটকে যায় নানা রকম মুখোশে। একসময় ফিরে আসতে চায় মহল্লার অতি চেনা আয়না হয়ে। কিন্তু ফেলে আসা প্রেম ও নাটকের স্কুলে ফিরে যেতে পারে না সে। অপরাধ জগতে আটকে যেতে থাকে আয়না। সে কি ফিরতে পারবে। জানতে হলে দেখে নিন। ১৯তম মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে ছবিটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ ছয়টি বিভাগে পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয় ও তিনটি বিভাগে পুরস্কার লাভ করে। এছাড়া ছবিটি সিয়াটল সাউথ এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভালে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র এবং ১৬তম টেলি সিনে পুরস্কারে সেরা ছবির সম্মান লাভ করে।

অজ্ঞাতনামা

সিনেমা
অজ্ঞাতনামা

সিনেমাটি ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া আর একটি অনবদ্য সিনেমা। পরিচালককে আপনারা ক্যামেরার সামনে অনেক কাজ করতে দেখেছেন কিন্তু তিনি ক্যামেরার পেছনেও যে কতোটা প্রতিভাধর তা জানতে হলে সিনেমাটি দেখে নিন। এখানে সেই মানুষদের গল্প বলা হয়েছে যারা নিজেদের সব সম্পতি বিক্রি করে লাশ হয়ে দেশে ফিরে নিজের সর্বস্ব বিক্রি করে বিদেশ যাওয়া মানুষদের মাঝে কেও যখন মারা যায়, তখন তার লাশ এই দেশে আসলে সেটা নিয়ে কি কি সমস্যা হয়  এবং এই এক লাশকে কেন্দ্র করে কীভাবে আমাদের দেশের আদম ব্যবসা থেকে শুরু করে উপরের মহলের মুখোশ উন্মোচিত করা হয়েছে- সেটা দেখবেন এই সিনেমা। চলচ্চিত্রটি ইতালির গালফ অফ ন্যাপলস ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভালে ২১ মে প্রদর্শিত হয় এবং জুরি স্পেশাল মেনশন পুরস্কার অর্জন করে।

কৃষ্ণপক্ষ

সিনেমা
কৃষ্ণপক্ষ

হুমায়ূন আহমেদের লিখিত এই গল্পটি কম বেশি সবার পড়া আছে। কিন্তু তা যদি সিনেমায় রূপ ধারণ করত তাহলে কেমন হত?

এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন কৃষ্ণপক্ষের পরিচালক মেহের আফরোজ শাওন। ‘

হুমায়ূন আহমেদের পর কেউ যদি তার চলচ্চিত্রের ধারা ধরে রাখতে পারে তাহলে তা শাওন ছাড়া আর কেও নন।

সিনেমাটি নিয়ে আর কিছু বলতে চাই না।

নায়ক হিসেবে ছিলেন রিয়াজ, তাঁর অভিনয় তো বরাবর দেখে আসছি কিন্তু নায়িকা হিসেবে মাহীয়া মাহি ছিল একটি চমৎকার নির্বচন।

ড্রেসিং টেবিল

আবু সাইয়ীদ পরিচালিত ২০১৬ সালের রহস্য চলচ্চিত্র। ছবিটির কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন পরিচালক আবু সাইয়ীদ নিজেই।  ছবিটি প্রযোজনা ও পরিবেশনা করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম

শিলা আর রুহুল সম্প্রতি বিয়ে করেছে। নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের অভাব অনটনের সংসার। গুছিয়ে তুলতে পারে নি অনেক কিছু। গৃহস্থালীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস এখনো কেনা হয় নি তাদের।

তেমনি একটি আসবাব হল ড্রেসিং টেবিল। একদিন রুহুল একটি পুরাতন ড্রেসিং টেবিল নিয়ে বাড়িতে ফিরে। শিলা খুশি হয়।

পরে পরিস্কার করতে গিয়ে ড্রয়ারে সে একটি পুরনো ডায়েরি পায়। প্রথমে একটু সংকোচ বোধ করলেও পরে এক রাতে সে ডায়েরিটা পড়া শুরু করে।

২-৩ পৃষ্ঠা পড়ার পর কৌতূহল থেকে সে পুরো ডায়েরি পড়ে। ডায়েরি পড়ে সে অনেক কিছু জানতে পারে এবং পড়া শেষে সে ড্রেসিং টেবিলের সামনে যায়।

সে ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় নিজেকে আবিস্কার করে। শুরু হয় তার নতুন জীবন।

এতক্ষণ বাংলাদেশের সিনেমা নিয়ে বলছিলাম এখন আসুন যেনে নেই ওপার বাংলায় সিনেমার কি হাল।

ডবল ফেলুদা

সিনেমা
ডবল ফেলুদা

পঞ্চাশ বছর হয়ে গেছে গোয়েন্দা প্রদোষচন্দ্র মিত্রের। এই পঞ্চাশ বছরে ফেলুদার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য ডবল ফেলুদা।

যে দুটো গল্প এবার পরিচালক সন্দীপ রায় বেছেছেন- ‘সমাদ্দারের চাবি’ আর ‘গোলকধাম রহস্য’- দুটোই সত্যজিত্ রায়ের অত্যন্ত প্রিয় গল্প৷

ছবির আঙ্গিকও চমত্কার৷ ইন্টারভ্যালের আগে ‘সমাদ্দারের চাবি’৷ পরে ‘গোলকধাম রহস্য’৷

যদিও এমন আঙ্গিক সন্দীপ রায় ‘চার’ এ রেখেছিলেন, তবুও ফেলুদার ছবির প্রেক্ষিতে এটি প্রথম৷ সব মিলিয়ে ছিমছাম ১০২ মিনিটের টানটান উত্তেজনা৷

ছবির সব থেকে বড় গুণ ‘সিমপ্লিসিটি’৷ এবং আদ্যন্ত সাবলীল বাঙালিয়ানা৷ যেটা সন্দীপ রায়ের ফেলুদা ছবিতে থেকে থাকে৷

তা সত্ত্বেও বলতে হয় সেই সাবলীলতার ছাপ রজনী সেন লেনে গোয়েন্দার বসার থেকে শুরু করে প্রত্যেক চরিত্রের পোশাকে , কথাবার্তায়, চলাফেরায়, ব্যবহারে বিদ্যমান৷

কোথাও এক ফোঁটা বাড়াবাড়ি নেই৷ এবং গুরুত্বপূর্ণভাবে এই সমস্তটা গিয়ে ফিল্টার হয় বিশ্বাসযোগ্যতায়৷

সিনেমাটি দেখতে হলে আপনাকে ক্রিসমাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

সিনেমাওয়ালা

ছোট্ট এক শহরের সিনেমা প্রদর্শক প্রণবেন্দু দাসকে (পরাণ বন্দোপাধ্যায়) ঘিরে ‘সিনেমাওয়ালা’র কাহিনি গড়ে।

সিনেমার মূল চরিত্র হচ্ছে “কমলিনী” নামের সিনেমাহল যার কোন কদর নেই পাইরেটেড ডিভিডি ডিস্ক এবং ডিজিটাল থিয়েটার বা প্রজেক্টরের কারনে। আগের দিন ফুরিয়ে গেছে।

প্রণবেন্দুর নিজের ছেলেই (পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়) পাইরেটেড ডিভিডি ডিস্ক স্বল্পদামে কিনে বিক্রি করে। তাই নিজের ছেলের সাথে তার মনোমালিন্য।

কেননা প্রণবেন্দুর ধারণা এভাবে পাইরেটেড ডিস্ক বিক্রির কারণেই মানুষ হলে গিয়ে ছবি দেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এবং হলগুলো অচল হয়ে যাচ্ছে। যে কারণে তার নিজের হল কমলিনীও অচল।

একসময় প্রণবেন্দু কমলিনীর প্রজেক্টর বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রণবেন্দুর সহচারী হরি। যিনি এই হলের একজন প্রজেকশনিস্ট ছিলেন।

২৩ বছর বয়স থেকে কমলিনীর প্রজেক্টর চালান। এই প্রজেক্টর তার সন্তানের মত।

তার সন্তান তাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। সন্তানকে জড়িয়ে ধরে আছেন তিনি।

একটু পরই সন্তান চলে যাবে। সন্তানের শোকে হরি প্রজেকশন রুমে আত্মহত্যা করেন।

তার এই আত্মহত্যা গল্পের মোড় কোনদিকে ঘুরায় জানতে হলে দেখুন “সিনেমাওয়ালা”

শঙ্খচিল

সিনেমা
শঙ্খচিল

একটি পরিবারের অসহায়ত্ব দিয়ে গোটা বাংলার হৃদয়ের ক্ষত উঠিয়ে আনতে চেয়েছেন নির্মাতা গৌতম ঘোষ তার শঙ্খচিলের মাধ্যমে।

পরিবারটির গল্পের পাশাপাশি আরো নানা ভাবেই উদ্ভট দেশভাগের কথা এসেছে ছবিতে।

আর মূল গল্পের পাশাপাশি ডকুমেন্টারী আকারে আসা দেশভাগের দৃশ্যপট ছবিটিকে শক্ত ভিত্তি দিয়েছে। ছবির চিত্রনাট্য হয়তো একটু বেশীই সরল; তবে শক্তিশালী বর্ননা ছবিকে ভিন্নতার স্বাদ দিয়েছে।

বিশেষ করে চরিত্রের ভাব প্রকাশে মাঝে মাঝে বাংলা কবিতা এবং গানের ব্যাবহার; কিংবা প্রকৃতিকে বার বার বিষন্ন রুপে নিয়ে আসা এক কথায় অসাধারন ছিলো। ছবির চিত্রায়ন বা সিনেমাটোগ্রাফী কিছু কিছু যায়গায় চোখ এবং মন দুটোই জুড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বেশী ভালো লাগে বাংলার সরল প্রকৃতিকে এমন সুন্দর ভাবে পর্দায় দেখে। আর অসম্ভব সুন্দর সম্পাদনা তো আছেই। ছবির ডায়লগ খুব অসাধারন কিছু না হলেও চলনসই ছিলো। কবিতা আর গানের ব্যাবহার ডায়লগের সাধারনত্বকে ঢেকে দিয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছবির পরিবেশকে ভালোভাবেই ফুটিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। দেশভাগের আর্তনাদ যে এখনো শেষ হয়নি বরং বাঙ্গালী জাতিটিকে এই আর্তনাদ বয়ে বেড়াতে হবে আরো অনেক অনেক কাল; শঙ্খচিল যেন তারই গল্প বলে যায়।