ভালোবাসার সাগরে সাঁতরাচ্ছেন কিনা বুঝবেন কি করে?

ভালোবাসার

পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী আর পবিত্র অনুভূতির নাম ভালোবাসা। বাংলায় ভালোবাসা, হিন্দিতে পিয়ার আর উর্দুতে বলা হয় মুহাব্বত। বাবা, মা, ভাই, বোন আর পরিবারকে জন্মের পর থেকেই আমরা ভালোবাসি। কিন্তু মানব জিবনে একটা নির্দিষ্ট বয়সে ভালোবাসার সুরটা যেন পাল্টে যায়। অনেকে তরুণ হওয়ার পরেও এই অনুভূতির সাথে পরিচিত হন না। তাই বুঝতেও পারেন না যে তিনি প্রেমে পরেছেন বা কাউকে ভালবেসেছেন কিনা। তাদের জন্যই আজকের এই লেখা। আশা করি লেখাটি আপনাকে উপকৃত করবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ১- প্রথম দেখা

ভালোবাসার

আপনি প্রথম যেদিন তাকে দেখেছেন সেই দিনের কথা আপনি চাইলেও ভুলতে পারবেন না। সেদিন সে কি পড়ে এসেছিল, কিভাবে কথা বলেছিল, কোন বিষয়ে কথা হয়েছিল সব কিছুই আপনার মনে থাকবে। সেদিনের কথা আজও মনে আসলে আপনার মনে একটা সুন্দর ভালো লাগার অনুভূতি ছড়িয়ে যাবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ২- অবসরে তার স্মৃতি বার বার চোখের সামনে আসবে

ভালোবাসার

একা যখন বসে বই পরছেন তখন হয়ত গল্পের কোন চরিত্র পছন্দ হলে তার সাথে মিলিয়ে ফেলবেন। গান শুনলে তার সাথে কাটানো কোন মুহূর্ত মনে পড়ে যাবে। অবসরে তার কথা ভাবতে আপনার ভীষণ ভালো লাগবে। একা একা হয়তবা তখন হেসেই দিবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৩- সব সময় তাকে সুরক্ষিত দেখতে চাইবেন

ভালোবাসার

আপনার প্রিয় মানুষটি যেন সবসময় সুরক্ষিত থাকে সে ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকতে দেখা যাবে আপনাকে। তার সুবিধা-অসুবিধাটা আপনার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাবে। আপনি চাইবেন তাকে যেন কোনভাবে বিপদ স্পর্শ না করে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৪- গায়ের গন্ধ

ভালোবাসার

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত আপনার পছন্দের মানুষটির গায়ের গন্ধ আপনার অনেক ভালো লাগবে।

এমন হতে পারে তার ঘামের গন্ধ আপনার কাছে খুব প্রিয়। তার ব্যবহৃত জিনিস ব্যবহার করতে আপনার খুব ভালো লাগবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৫- সে অসুস্থ হলে আপনি অনেক বেশি চিন্তিত হয়ে যাবেন

ভালোবাসার

তার ছোট ছোট অসুস্থতা আপনাকে অনেক বেশি চিন্তিত করে ফেলবে। অনেক বার ফোন দিয়ে খোঁজ নেবেন।

যদি তার সাথে কথা বলতে না পারেন তাহলে অন্য কারো মাধ্যমে তার বিষয়ে খোঁজ নেবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৬- তার সামনে নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে চাইবেন

ভালোবাসার

পৃথিবীর অন্য মানুষগুলোর সামনে আপনি কি সেটা আপনার মাথায় আর কাজ করবে না। মাথায় শুধু এটাই থাকবে তিনি আপনাকে কিভাবে দেখছেন।

তার সামনে সব সময় নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৭- মনের সব কথা তাকে বলতে ইচ্ছে করবে

ভালোবাসার

আমাদের মনের ভেতর নানা ধরনের কথা থাকে, সুপ্ত ইচ্ছা থাকে সেগুলো তার সাথে বলতে ভালো লাগবে।

সেটা পূরণ হোক বা না হোক ইচ্ছে করবে তাকে বলতে। তার সাথে আপনার সব পরিকল্পনা ভাগ করতে ভালো লাগবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৮- মানুষটির সাথে সময় পার করলে হিসেব থাকবে না আপনার

ভালোবাসার

অনেক মানুষ আছে যাদের সাথে থাকলে মনে হবে সময় এত বড় কেন? মিনিটকে মনে হয় ঘণ্টার সমান। কিন্তু এই বিশেষ ব্যক্তিটির সাথে সময় কাটালে মনে হবে, সময় অনেক দ্রুত চলে যায়। তার সাথে কথা বলা শেষে ঘড়ি দেখলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৯- অন্য কারো সাথে থাকলে ঈর্ষা অনুভব করবেন

ভালোবাসার

আপনার বিশেষ মানুষটি অন্য কারো সাথে যদি কাজেও একটু ব্যস্ত থাকে তাহলে আপনার ঈর্ষা অনুভূত হবে।

বিপরীত লিঙ্গ হলেই যে সেখানে খারাপ অনুভূতি হবে তা নয়। আপনার মনে হবে এতো টুকু সময় তো আপনার সাথে থাকতে পারতেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ১০- সে যদি আপনাকে নাও ভালোবাসে তবুও তার শুভকামনা করা

ভালোবাসার

সবাই ভালোবাসা চায়, কিন্তু এটা সবার ভাগ্যে থাকেনা। দুর্ভাগ্যবশত আপনার প্রিয় ব্যক্তিটি যদি অন্য কাউকে ভালোবাসে তাহলেও তার প্রতি ভালোবাসা বা শ্রদ্ধা এতোটুকু কমবে না। যদি আপনি তখন প্রতিশোধ নিতে চান অথবা আত্মহত্যার মত ঘৃণ্য কোন পদক্ষেপ নিতে চান তাহলে বলতেই হবে আপনি সত্যিকারের ভালোবাসার দেখা পাননি।

ভালোবাসার লক্ষণ ১১- জীবনকে মনে হবে ছোট আর অনেক দিন বাঁচতে ইচ্ছে করবে

ভালোবাসার

তাকে দেখার পর থেকে মনে হবে জীবন এতো ছোট কেন, এতো দ্রুত সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে কেন। মনে হবে কেন আরও আগে তার সাথে দেখা হল না।

জিবনে তখন বাঁচার কোন কারণ না থাকলেও আপনার খুব বাঁচতে ইচ্ছে করবে। মনে হবে জীবনটা অনেক সুন্দর।

ভালোবাসার লক্ষণ ১২- তার সাথে কোন কথা গোপন রাখতে পারবেন না

ভালোবাসার

কোন কথাই আপনি তার থেকে লুকাতে পারবেন না। তার সাথে কথা ভাগাভাগি করলে আপনি মানসিকভাবে শান্তি পাবেন।

তার বিষয়ে কোন ভুল ধারণা থাকলে অথবা তার বিষয়ে কোন কটু কথা শুনলে তা কখন মনে পুষিয়ে রাখতে পারবেন না।

কারণ আপনি বিশ্বাস করেন সে অনেক ভালো।

আরও অনেক লক্ষণ আছে যেগুলো দিয়ে বোঝা যায় আপনি কাউকে ভালোবাসেন কিনা। আজ কয়েকটি উপায় আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম।

এর ভেতর যদি একটিও মিলে যায় তাহলে কিন্তু আপনি সত্যি সত্যি প্রেমে পরেছেন অথবা অনেক ভালোবাসেন তাকে।

নিজের অনুভূতি সম্পর্কে জানুন। এবং আপনার ভালোবাসার মানুষকে অনেক বেশি ভালোবাসা উপহার দিন।

ডিপ্রেশন নিয়ে অবহেলা করলে পরিণতি হতে পারে “মৃত্যু”

ডিপ্রেশন

মানব শরীর নানা রোগের আধার। ভয়ঙ্কর সব রোগ নিয়ে হয়তোবা আপনার আশেপাশের মানুষগুলো বেঁচে আছে। কিছু কিছু রোগ আছে দেখা যায় না কিন্তু এর ভয়ঙ্করের মাত্রা অনেক বেশি। ডিপ্রেশন তেমনই একটি রোগের নাম। দিন দিন এই রোগ প্রকট হয়ে উঠছে। আমাদের দেশে এ নিয়ে তেমন কোন জনসচেতনতা নেই বললেই চলে। কারণ মানসিক সমস্যা অথবা রোগকে কোন রোগ বা আসুস্থতা বলে গণ্য করা হয় না। কিন্তু প্রতি বছরই এর কারণে অনেক মানুষ আত্মহত্যা করছে।

কম বেশি সবাই জানি ডিপ্রেশন কি, তাই এ নিয়ে আলোচনা করবনা। আমরা আসলে ভালো করে জানিনা কেন ডিপ্রেশন হয়। এমনি এমনি তো এই আসুস্থতা হতে পারে না। সব কারণ জানা না গেলেও কিছু সাধারণ কারণ আছে।

ডিপ্রেশন হতে পারে অপমানবোধ থেকে

মানসিক বা শারীরিকভাবে অবমাননার স্বীকার হলে অনেকে  ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়। এই ধরণের অনুভূতি থেকে ডিপ্রেশনের সৃষ্টি হয়।

নিরাপত্তাহীনতা বা একাকীত্ববোধ করা

পারিবারিক কারণে অনেকে হীনমন্যতায় পড়ে। সামাজিক ও পারিবারিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকে বিষণ্নতার স্বীকার হয়। তাছাড়া বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধব বা অন্যান্য কাছের মানুষদের সাথে সম্পর্কহীনতা বা মতবিরোধ থেকেও অনেকে বিষণ্ণতায় ভুগে থাকেন।

ডিপ্রেশন বংশগত কারণে হতে পারে

বংশগত পরিবারে কারো ডিপ্রেশন থাকলে তা অন্যদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

বড় কোন রোগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

বড় ধরণের কোন রোগ থাকলে রোগী ডিপ্রেশনের শিকার হতে পারে।

ঔষধের প্রভাব

নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ সেবনের ফলেও কেউ কেউ বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয়। যেমন ব্রণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত আইসোট্রেটিনিয়ন বা অ্যান্টিভাইরাল “ইন্টারফেরন-আলফা” জাতীয় ঔষধ সেবনেও অনেকে বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয়। এমন অনেক ঔষধ আছে যেগুলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে বিষণ্ণতা ছড়িয়ে দেয় মস্তিষ্কে।

ডিপ্রেশন আপনাকে অসহায় অবস্থায় পতিত করবে। ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন ধরণের থেরাপি ও চিকিৎসার পাশাপাশি নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।

নিজের চেষ্টা না থাকলে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। নিজের প্রতিদিনের কাজকর্ম, খাওয়া-দাওয়া, জীবনপ্রণালী এমনকি চিন্তা-ভাবনায় ও পরিবর্তন আনতে হবে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির জন্য।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির জন্য নিচের পয়েন্টগুলো সহায়ক হতে পারে-

রুটিনমাফিক চলা

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিনের জীবনকে একটা রুটিনের মধ্যে নিয়ে আসুন।

প্রতিদিনের কাজ-কর্মকে যদি একটা নিয়মের মধ্যে বেঁধে ফেলা যায় তবে তা ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা

লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেলুন। ডিপ্রেশনে যেহেতু কোন কাজ করতে ইচ্ছা করে না তাই প্রতিদিন একটু একটু করে কাজ করার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।

নিয়মিত ব্যায়াম করা

প্রতিদিন অল্প কিছু সময় ব্যায়াম করলে তা আপনার শরীর এবং মনকে সুস্থ রাখবে।

ব্যায়াম করা মানে, ম্যারাথন দৌড় টাইপ কিছু না, আপনি যদি প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটাহাঁটি করেন তবুও তা আপনার মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যা আপনাকে ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে।

সুষম খাদ্য গ্রহণ

সুষম খাদ্য গ্রহনের মাধ্যমে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি মেলে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ থাকে।

সাইক্রিয়াটিস্টদের মতে, যেসব খাবারে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এ্যাসিড এবং ফলিক এসিড থাকে সেসব খাবার ডিপ্রেশন কমাতে সহায়তা করে।

অনিদ্রা দূর করা

পর্যাপ্ত ঘুম ডিপ্রেশন কমায়। ডিপ্রেশনের রোগীদের নিদ্রাহীনতা দেখা দেয়্। তাই, প্রথমেই ঘুম সমস্যার সমাধান করতে হবে।

প্রতিদিনের জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে নিদ্রাহীনতা দূর করা সম্ভব। প্রতিদিন ঠিক সময়ে ঘুমোতে যাওয়া এবং সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

দিনের বেলার হালকা ঘুমের অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। শোবার ঘর থেকে টিভি, কম্পিউটার, মোবাইল এগুলো সরিয়ে রাখতে হবে।

এভাবেই অনিদ্রা রোগ ধীরে ধীরে দূর করা সম্ভব।

ইতিবাচক চিন্তা করা

ডিপ্রেশনে ভুগতে থাকলে মানুষের মনে বিভিন্ন রকম নেগেটিভ চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকে।

যেমন আমিই বুঝি সবচেয়ে খারাপ, আমার মত দুঃখ কারো নেই, আমি সবার চেয়ে অসুস্থ, আমি ব্যর্থ একজন মানুষ এই ধরণের চিন্তাগুলো সুস্থ হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা।

তাই এই নেগেটিভ চিন্তাগুলোকে মন থেকে দূর করে পজিটিভলি চিন্তা করার চেষ্টা করতে হবে।

যুক্তি দিয়ে সবকিছু বিচার করতে হবে। আশাহত হওয়া যাবে না কোনভাবেই।

আনন্দদায়ক কাজের মধ্যে সময় কাটানো

নতুন কিছু করার চেষ্টা করতে হবে। মজার কোন কাজ। যেমন নতুন কোথাও ঘুরতে যাওয়া, মজার কোন বই পড়া, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া।

মন ভালো রাখার সবরকম চেষ্টা করতে হবে। মন ভালো থাকলে ডিপ্রেশন কেটে যাবে একসময়।

ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ

ডিপ্রেশন পুরোপুরি না ভালো হওয়া পর্যন্ত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।

শৈশব মানুষের জীবনে কতটুকু প্রভাব ফেলতে পারে?

শৈশব

শৈশবকাল প্রত্যেক মানুষের জীবনের মধুময় একটি কাল। শৈশবের দিন গুলো স্মৃতির পাতাকে দিন দিন দুর্বল করে তুলছে। যতবার মনে পড়ে প্রত্যেকবার সেই শৈশব যেনো আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। কে যেনো হৃদয় প্রান্তরে হাতছানি দিয়ে ডাক দিয়ে যায়। কিন্তু তাকে কিছুতেই বোঝাতে পারি না আমি যে বাঁধা পড়ে গেছি। শৈশবের দিন গুলো ছিলো অনেক দুরুন্তপনায় মাখানো, দুষ্টামিতে ঘেরানো আর সারাদিন ছোটাছুটি করে দৌড়ে বেড়ানো প্রতিটা মুহুর্ত  যেনো স্বর্গ সুখের ছোঁয়া।

ফেলে আসা দিন গুলোতে আজো ফিরে যেতে মন চায়, মন চায় আবার প্রজাপতির মত ডানা মেলে দূর প্রান্তরে সবুজে ঘেরা মাঠে উড়ে বেড়াই।
চলমান জীবনের সঙ্গে বৃষ্টি ঝরার মত যা কিছু অদৃশ্য হয়ে পেছনে হারিয়ে যায় তার মধ্যে শৈশব কাল অন্যতম। হারানো প্রতিটি দিন হয়ে উঠে এক একটি ডায়েরী, এই ডায়েরীর পাতায় লেখা হয়ে যায় স্মৃতির পাঠাশালা আর অবুঝ হাসি কান্নার শৈশব। প্রতিটী শৈশব জীবন ভবিষ্যতের এক একটি হারানো অধ্যার হয়ে দাঁড়ায়। কোন মানুষের কথা অথবা প্রয়োজনকে উপেক্ষা করে শৈশব নামের মধুর কাল ছুটে চলতে থাকে নিজ স্বপ্নে।

আপনিও হয়তবা শৈশবের কথা শুনে আপনার স্মৃতির ডায়েরীর পাতায় হাতড়ানো শুরু করেছেন সেই সব সোনালি দিন গুলোর কথা ভাবছেন। কিন্তু যখন শৈশব মধুর অথবা সুন্দর না হয় তখন আমাদের মানসিকতার উপর কতোটা প্রভাব ফেলে তাই নিয়ে থাকছে আজকের লেখাটি।

শৈশব জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এই অধ্যায়ের উপর নির্ভর করে আপনার বাকি জীবনের অধ্যায়গুলো কেমন যাবে।

একাকীত্ব

শৈশব
শিশুদের একা থাকার দরুন নানান মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

শৈশব যদি একাকীত্বে কাটে তাহলে শিশুমনে অনেক প্রভাব পড়ে।

একাকীত্ব থেকে বের হয়ে আসার জন্য তখন শিশুরা নানান পথ অবলম্বন করে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বাবা মা চাকরী করতে চলে যান সন্তানকে একা রেখে।

বাসায় এসেও হয়তো তাদের সময় হয়না শিশুটির সাথে কথা বলতে। জানতেও চান না কি করে কাটলো তার দিন।

শিশু মনের অভিমান অনেক ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে।

আর সেই অভিমান যদি কখনো ভাঙার চেষ্টা না করা হয়, তাহলে তা বাবা মার বিরুদ্ধে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

এমতাবস্থায় অনেকেই বিভিন্ন অন্যায়ের সাথে জড়িত হয়ে পড়ে।

একজন অপরাধী কখনই জন্মগত ভাবে অপরাধী হন না।

তার অপরাধী হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশী দায়ী তার পরিবার এরপর তার সমাজ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা।

পারিবারিক কলহ

শৈশব
বাবা মার কলহ শিশু মনে খারাপ প্রভাব ফেলে।

শিশু যদি দেখে সব সময় তার বাবা মার ভেতর ঝগড়া বিবাদ লেগে আছে তাহলে সেই শিশুর মনে পরিবারের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয়।

মাকে যদি দেখে বাবাকে অসম্মান করতে তাহলে সেও একসময় এটাই অনুসরণ করে, মার ক্ষেত্রেও একি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

প্রত্যেকটি পরিবারের মধ্যে মতমতের মিলঅমিল দেখা যেতে পারে। ঝগড়াও হতে পারে।

কিন্তু তা যদি আপনার শিশুর সামনে প্রতিনিয়ত করেন তাহলে সে আর স্বাভাবিক মন মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে না।

জন্ম দিয়েছে বলে বাবা মার কোন অধিকার নেই একটি শিশুর শৈশব এবং তার সারা জীবন নষ্ট করার।

সৃষ্টিকর্তা একটি সন্তানকে সুন্দর ভাবে বেড়ে তোলার জন্য বাবা মার কাছে দেন।

বাবা মা হতে হলে তাই দেখে নিন আপনি এত বড় দায়িত্ব নেয়ার যোগ্যতা রাখেন কিনা।

শৈশব শাসনের জন্য নয়

শৈশব
অতিরিক্ত শাসনের ফলে শিশু নিজেকে বাবা মার থেকে দূরে নিয়ে যায়।

অতিরিক্ত শাসন একটি সন্তানের কাছে সবচেয়ে বড় মানসিক নির্যাতন। আপনার করা অতিরিক্ত শাসন আপনার সন্তানের জীবনে ভিবিন্ন রকমের বিরূপ প্রভাব ফেলে। ক্রমাগত অতিরিক্ত শাসন সন্তানের মানসিক ভারসাম্যকে এলোমেলো করে দেয়। প্রচন্ড মানসিক চাপে ভোগে। এভাবে মানসিক চাপে থাকতে থাকতে সে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এমনকি সারা জীবনের জন্য সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারে। সন্তান সবসময় শাসনের মুখে থাকলে নিজেকে একলা ভাবে ও বিষণ্ণতায় ভোগে । এতে করে তারা মা-বাবার সাথে ভয়ে কথা বলা থেকেও নিজেকে বিরত রাখে । তাদের সামনে যাওয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখে ফলশ্রুতিতে তাদের ভুল পথে পা বাড়ানো বা ভুল সঙ্গের সার্নিধ্যের সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে। ছোট বেলা থেকেই বাবা মায়ের দ্বারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বা শাসনের স্বীকার শিশুরা অধিকাংশই হিংস্র হয়ে বেড়ে ওঠে। আবার কিছু সংখ্যক শিশু হয় খুব ভীতু। জীবনের চলার পথে প্রতিটি পা এগুতেও খুব বেশি ভয় পায় তাঁরা। ফলে সব সময়েই সবার পেছনে পড়ে থাকে।

নৈতিকতার অভাব

শৈশব
পরিবার শিশুর নৈতিকতার অভাব সৃষ্টি করে

শিশুদের মধ্যে নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলি গড়ে তুলতে পরিবারকে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ পরিবারেই এসবের বীজ প্রোথিত হয়। এছাড়া সামাজিক পরিবেশ দেখে শিশুরা অনেক কিছু শেখে। এজন্য সমাজকে গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে। পৌরনীতির ভাষায় ‘পরিবারকে বলা হয় মানবিক গুণাবলি অর্জনের প্রথম শিক্ষাগার’। যেখানে একজন ছেলে বা মেয়ে বড়দের শ্রদ্ধা করা ও ছোটদের স্নেহ করার শিক্ষা পায়। পরিবারই হচ্ছে এক্ষেত্রে প্রথম ধাপ। বড় হওয়ার প্রক্রিয়ায় পরিবারের গণ্ডির বাইরে ছেলে-মেয়েরা যখন তাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থার সঙ্গে মিশে তখন তারা আরও বেশি শেখার সুযোগ পায়। সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে শিশুরা নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে মিশে। এর ফলে অন্যদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মধ্যদিয়ে তাদের মধ্যে নানা নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটে। যদি বাবা মাকে অনৈতিক কিছু করতে দেখলে শিশু নিজেই তা অনুকরণ করবে এটাই স্বাভাবিক। এখানে কোন ভাবেই শিশুটিকে দায়ী করা যাবেনা।

ব্যক্তিত্ব ছাড়া আপনার দাম নেই

ব্যক্তিত্ব

আমরা একজন মানুষ কে বিচার বিবেচনা করার জন্য তার বাহ্যিক রূপকে গুরুত্ব দেই না। কারণ বাহ্যিক সৌন্দর্য্য আমরা জন্মগত ভাবে বা স্বাভাবিক ভাবে পেয়ে থাকি অপর দিকে ব্যক্তিত্ব যা আমাদের অর্জন করে নিতে হয়। একজন মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ গুণাবলী হচ্ছে তার ব্যক্তিত্ব। মানুষের জীবন যাপনের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি ব্যক্তিত্বও একজন মানুষের অনেক বেশী অপরিহার্য। ব্যক্তি বলতে ব্যক্তিত্বকে বুঝায় না কিন্তু ব্যক্তিত্ব বলতেই ব্যক্তি বুঝায়। ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য দরকার ব্যক্তি স্বাধীনতা। কারণ সুপ্ত মেধা, সুপ্ত ক্ষমতা আর সুপ্ত প্রতিভার প্রসার করাই হলো ব্যক্তিত্ব বিকাশ। অর্থাৎ আমাদের নিজস্ব সত্ত্বার যেসব গুণাবলী আছে সে গুলো বিকাশ ঘটানো।

সত্যিকার অর্থে ব্যক্তিত্ব বলতে যা বুঝায়

ব্যক্তিত্ব হচ্ছে এক ধরনের ছাপ যা মানুষের ভিতরে প্রকাশ পায়। ব্যক্তিত্ব মানুষের মূল্যবান সম্পদ।
মানুষের জীবনে ব্যক্তিত্বের সীমারেখা প্রতিফলিত হয় কথাবার্তায়, আচার ব্যবহারে, চাল-চলনে, ধ্যানধারণায় ও মন মানসিকতায়।
সাফ্যল্যের চাবিকাঠি হলো ব্যক্তিত্ব। মানুষের চালনা শক্তি, এগিয়ে নেওয়ার শক্তি, চারিত্রিক গুণাবলী এসব কিছু ব্যক্তিত্ব।

ব্যক্তিত্বহীনতার ফল
যাদের ব্যক্তিত্ব নাই মানে ব্যক্তিত্বহীন তাদের মধ্যে আত্ম নিয়ন্ত্রণ থাকে। নিজের প্রতি কোন বিশ্বাস থাকে না সব সময় অন্যের উপর নির্ভর করে থাকে।
আত্ম-সম্মান থাকে না, মানবতা হারিয়ে ফেলে।
ইচ্ছা শক্তি, স্বপ্ন, লক্ষ্য হারিয়ে ফেলে।
ভয় পায় অনেক বেশী, হীনমন্যতায় ভোগে।
কর্ম ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়, অবশেষে ব্যর্থ হয়।

ব্যক্তিত্ব থাকলে যা হবে আপনার সাথে


বাধা, ভয়, হিনমনতা, দুশ্চিন্তা, সন্দেহ, ঘৃণা, ঈর্ষা, হতাশা, ক্ষতি, ব্যর্থতা, কদর্যতা, তিক্ততা, কষ্ট সকল কিছু কে পেছনে ফেলে সফলতা অর্জন করা যায়।
ব্যক্তিত্ব এমন একটা শক্তি যা আপনাকে আপনার কল্পনার বাইরেও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

আপনি ভালো নেতৃত্ব দান করতে পারবেন।

নিজেকে জানতে পারবেন।

ব্যক্তিত্ব
জ্ঞান অর্জন করতে সময় খরচ করুন।

জীবনে আর বন্ধু খুঁজতে হবে না এমনিতেই আপনি অনেক বন্ধু পেয়ে যাবেন।

যে কোন জায়গায় আপনার গ্রহণযোগ্যতা বেশী থাকবে।

ব্যক্তিত্ব গঠনে আপনাকে যা করতে হবে

কথার সাথে কাজের মিল রাখবেন।

কারো করুণার পাত্র হবেন না।

শুদ্ধ ভাষায় কথা বলুন।

একান্ত গোপনীয় কথা স্বল্প পরিচিত কারো সাথে বলবেন না।

অনধিকারচর্চা করবেন না।

চটপটে এবং স্মার্ট থাকবেন।

উপস্থিতবুদ্ধি সম্পন্ন হতে হবে।

অন্যান্যদের মতামতকে শ্রদ্ধা করবেন।

কোন কিছুর দায়িত্ব নিলে তা যেকোনো মূল্যে পূরণ করবেন।

সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবেন।

আত্মবিশ্বাসী হতে হবে

মেজাজের ভারসম্য রক্ষা করবেন।

জ্ঞান অর্জন না করলে আপনি কখনো ব্যক্তিত্বশালী হতে পারবেন না  

দোয়া ও প্রভুর কাছে প্রার্থনা করে

অনুভব ও অনুমানের মাধ্যমে জ্ঞানার্জন করা যায়

চিন্তাশক্তি প্রয়োগ করে

অভিজ্ঞতা থেকে

অতীত থেকে

জ্ঞানীদের সাথে মিশে

মূর্ত জগতকে দেখে

মূর্ত এবং বিমূর্ত জগত সম্পর্কে চিন্তা গবেষণা করে

ভ্রমণ করে

বই পড়ে

জিবনী পড়ে

ধর্মীয় লেখা

বিখ্যাত লেখকদের লেখা

সাধারণ জ্ঞান সম্পর্কিত বই (আজকের বিশ্ব, কিশোর কন্ঠ ইত্যাদি টাইপের)

বিজ্ঞান ও শিক্ষামূলক সিরিজ

টিভি দেখে

রেডিও শুনে

পত্রিকা পড়ে (সব পত্রিকার শিক্ষা, বিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সাইড গুলো বেশি করে)

নেট সার্চ করে

ফেসবুকিং

ব্লগিং

প্রশিক্ষণ নিয়ে

সমস্ত পেশার লোকদের সাথে মিশে

 

 

বাবা (যন্ত্র মানব) বা জনক, সকল সুখের মূল যিনি

বাবা

আজ আমার পরীক্ষা ছিলো তাই গতকাল রাতে একটু বেশি ব্যস্ত ছিলাম তাই পড়া শেষ করে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম যাতে সকালে ঘুম থেকে উঠতে ক্লান্তি না লাগে। অনেক ঘুমের চাপে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম শান্তির নিদ্রায়। হঠাৎ ঘুম ভাঙ্গলো ফজরের সময় হয়ে গেলো চারদিকে আযানের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। আযানের ধ্বনি আমার কানে না, মনে হচ্ছিলো আমার বুকে আঘাত করছে। বুকটা তখন কাঁপছিল কেন জানি খুব জোরে কান্না করতে ইচ্ছে করছিলো।

বাবা
ভালো থেকো বাবা যেখানেই থাকো।

এমন অনুভূতির কারণ কয়েকদিন যাবত কিছু ব্যাক্তিগত সমস্যার জন্য দিন গুলো খারাপ যাচ্ছে। জীবন থেকে অনেক মূল্যবান জিনিস হারাতে বসছি সব কিছু মিলিয়ে মন খুব ভার হয়ে আছে। ঘুম ভাঙলে বুক ব্যাথার অনুভব হয়। তাই নিজেকে সময়ের সাথে মানিয়ে চলার চেষ্টা করছি। বাবার কথা মনে পড়ছে খুব। এসময় উনি থাকলে আমাকে অনেক মানসিক সাপোর্ট দিতো। আমি যখন খুব ছোট তখন ফজরের নামাজের সময় আমার বাবা আমাকে ডেকে তার সঙ্গে মসজিদে নিয়ে যেত। খুব আরামের ঘুম তবুও উঠে যেতাম। নামাজ পড়া শেষে মনে হত না আরামের ঘুম ভেঙ্গে উঠা আমার জন্য খারাপ হয়েছে বরং মনে অনেক শান্তি লাগতো। তাই আজ আযানের সূর যখন কানে এলো তখন বিছানায় শুয়ে শুয়ে সেই দিন গুলোর কথা মনে করতে থাকলাম। আর মনে মনে নিজেকে নিজে বলতে থাকলাম আজ যদি সেই মানুষটি থাকতো তাহলে হয়তো উনার মধুর কণ্ঠের ডাক শুনে ঘুম থেকে উঠতে হতো।

বাবা
বাবা এক বিশাল বটবৃক্ষের নাম।

সেই সৌভাগ্য অনেক আগেই হারাতে হয়েছে। খুব অল্প বয়সে আমাকে বাবার শাসন, আদর, স্নেহ ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে।

আমি যখন ৩য় শ্রেণিতে পড়ি তখন আমাকে হারাতে হয় বাবা নামের মায়া ভালোবাসায় ঘেরা বটবৃক্ষকে। আমার বাবার সাথে আমার খুব বেশী স্মৃতি নাই।

খুব কম সময়ের জন্য উনাকে কাছে পেয়েছি। যতোটুকু সময়ে পেয়েছি তার মধ্যে মনে পড়ার মত খুব কম স্মৃতি আমার আছে।

শুধু এটা জানি আমারও এমন একজন মানুষ ছিলো যার জন্য এখনো আমার বুকের কোণে খালি খালি লাগে।

স্কুলে যখন সবার বাবা তার ছেলেকে স্কুলে দিয়ে যেত তখন আমি একা একা ব্যাস্ত রাস্তা পার হয়ে স্কুলে প্রবেশ করতাম। আবার যখন স্কুল ছুটি হতো সবার বাবা-মা এসে উনাদের সন্তান কে আদর করে বাসায় নিয়ে যেতো আর আমি অনেক ক্লান্তি নিয়ে বাসায় যেতাম। স্কুলের যেকোন অনুষ্ঠানে প্রত্যেক সন্তানের বাবা উপস্থিত হতো তার সন্তানকে পাশে নিয়ে বসতো আর আমাকে তখন একটা টেবিলের এক কোণে চুপ করে বসে থাকতে হতো।

বাবা
বাবা ছাড়া বড্ড একা আমরা।

এভাবে পার হয়ে যায় স্কুল জীবন। যখন স্কুল জীবন পার হয় কলেজে পা রাখি তখন বাবার অভাবটা আরো বেশী করে বুঝার শুরু করি।

বাবা শুধুই যে ভালোবাসা, আদর, স্নেহে, শাসন করার জন্য তাই নয় বাবা হচ্ছে আর্থিক যোগান দাতা।

কলেজে সবাই প্রতিদিন নতুন নতুন জামা পড়ে আসে আর আমি একই জামা পড়ে পরের দিনেও কলেজে যেতাম।

সবার মাঝে যখন প্রতিযোগিতা দামী ঘড়ি, দামী জামা কাপড়, দামী জুতা কিনার তখন আমি পরের মাসের খাবারের চিন্তা করতাম।

বাবা
বাবার মত কেউ কি আমাদের অভাব গুলো পূরণ করতে পারবে ?

সত্যি বাবা না থাকলে একটা সন্তান কে অনেক কঠিন সময়ের সম্মুখীন হতে হয়।

এখনো স্বপ্ন দেখি এখনো ভাবি যদি আরেকটা বারের জন্য উনাকে পেতাম বুকের সবটা দিয়ে খুব শক্ত করে চেপে জড়িয়ে ধরতাম।

আর বলতাম বাবা তখন তোমার চলে যাওয়াটাই যে শেষ যাওয়া সেটা বোঝার ক্ষমতা তখনও আমার হয়নি।

বাবা সবচেয়ে আপনজন, বাবা মানে নির্ভরতার সিঁড়ি, বাবা মানে প্রখর রোদে ছায়া দেয়া খুব উঁচু বটবৃক্ষ যেখানে ক্লান্ত পরিবার আশ্রয়ের জন্য মাথা গোঁজে।
ভালো ভাবে কথা বলার আগেই সকল শিশুই আধো আধো স্বরে বা-বা বলে ডাকা শুরু করে মায়ের কোলে থেকেই।

সারা দিন ব্যাস্ততার পর কর্মস্থল থেকে বাবা ফিরলে জায়গা করে নেয় তার কোলে। তারপর হাত দিয়ে ইশারা দেয় ঘরের বাইরে নিয়ে যেতে।

ক্লান্ত বাবাও পরম আনন্দে তার সন্তানের ইচ্ছে পূরণ করতে উঠে পড়ে লাগে তখন বাবা ভুলে যায় তার সারাদিনের ক্লান্তির কথা।

সন্তান যখন এক পা দুই পা করে হাঁটি হাঁটি হতে যাচ্ছে তখন বাবার হাত ধরে বাড়ির আঙ্গিনায় হেটে বেড়ায়।

বাবা নিজের কতশত স্বপ্নকে স্বপ্ন রেখে দিয়ে সন্তানকে কতশত নতুন স্বপ্ন সত্যি হওয়ার পথ দেখিয়ে যায়।

এই মানুষটা সারাজীবন শুধু ত্যাগ করেই যায় বিনিময়ে কিছু পাওয়ার আশা না করে।

বাবা নিয়ে এই গানটা সত্যি সব মরে যাওয়া ইচ্ছে কে আবার জাগ্রত করে —

চশমাটা তেমনি আছে, আছে লাঠি ও পাঞ্জাবী তোমার
ইজিচেয়ারটাও আছে, নেই সেখানে অলস দেহ শুধু তোমার
আযানের ধ্বনি আজো শুনি, ভোরে ভাঙ্গাবেনা ঘুম তুমি জানি
শুধু শুনিনা তোমার সেই দরাজ কন্ঠে পড়া পবিত্র কোরআনের বানী…
বাবা কতদিন কতদিন দেখিনা তোমায়,
কেউ বলেনা তোমার মত কোথায় খোকা ওরে বুকে আয়
বাবা কতরাত কতরাত দেখিনা তোমায়,
কেউ বলেনা মানিক কোথায় আমার ওরে বুকে আয়॥

বাবা
তুমি সাথে থাকলে আমার কোন ভয় লাগে না বাবা।

বাবা শব্দটা কানে আসলেই কেমন জানি একটা ভালোবাসার অনুভূতির সাড়া জাগে।

বাবা মানে সাধারণ একজন মানুষ নয় বাবা মানে এক পৃথিবী ত্যাগের প্রতীক। নিজের সুখ কে বিসর্জন দিয়ে, নিজের চাহিদাকে মাটি চাপা দিয়ে, নিজের মনের ইচ্ছে গুলোকে মনের ভিতর লুকিয়ে রেখে হাসিমুখে পরিবারের সবার চাহিদা মেটানো যন্ত্র মানব হচ্ছে বাবা।

সবার মুখে হাসি ফুটানো, সবাই কে আগলে রাখা, সবার মাথার উপর বটবৃক্ষের মত ছায়া হয়ে থাকা এটাই যেনো বাবা নামের যন্ত্র মানবের আত্মার সুখ।

বাবা হলো একটা পরিবারের খুঁটি যতই ঝড় তুফান আসুক শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে সবাই নিরাপদে রাখা।

সুখে থাকুক সকল বাবা তাঁর মানিকদের নিয়ে।

লেখক- বাবা হারা এক মানিক।

বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করতে পারে

বই

 জ্ঞান ছাড়া প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না আর জ্ঞানের উৎস হলো বই। মানুষ দুই প্রকারের হয় এক জ্ঞানী মানুষ এবং দুই জ্ঞানশূন্য মানুষ।

সত্যিকার অর্থে আমাদের সবার মাঝে কম বেশী জ্ঞান আছে কিন্তু আমরা তার সঠিক চর্চা করতে জানি না। তাই আমাদের মধ্যে এই ধরনের প্রকারভেদ দেখা যায়।জ্ঞানকে প্রসারিত করতে অনেকেই আপ্রাণ চেষ্টা করি কিন্তু মনে কি প্রশ্ন জাগে? সঠিক উপায় কয়জন অবলম্বন করি। জ্ঞান অর্জনের জন্য মানুষের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো বই।বই পড়া ছাড়া একজন মানুষের জীবন ৮০ শতাংশই বৃথা।কেননা বই একজন মানুষকে তার ভিতরে লুকিয়ে থাকা ঘুমন্ত মানুষটিকে জাগিয়ে তোলে, মনের চক্ষু খুলে দেয়, জ্ঞান ও বুদ্ধিকে প্রসারিত ও বিকশিত করে এবং ভিতরে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে।

মনুষ্যত্ব অর্জনের সবচেয়ে বড় ও সঠিক পথ হচ্ছে বই পড়া।

বই পড়ে হারিয়ে যেতে পারেন অদেখা কোন জায়গায়

এটি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে ও অনুভূতিকে সতেজ করে তোলে। বিভিন্ন ধরনের বই বিভিন্ন ধরনের জ্ঞানের সমারোহ বহন করে।

বর্তমানে বাংলাদেশ সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পড়ালেখায় অনেক নতুন নতুন পদ্ধতি চালু করেছে কিন্তু কার্যত কোন উপকার পাওয়া যাচ্ছে না।

এ সমস্যার কারণ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক ত্রুটি রয়ে গেছে এখনো সেটা হচ্ছে পাঠ্য বইয়ের বাহিরে কিছু শিক্ষা দেওয়া হয় না।

আমরা শুধু পাঠ্য বই পড়ি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য আবার পরীক্ষা শেষ হলে কি পড়েছি তা ভুলেও যাই।

তাই আমাদের জ্ঞানের পরিধি সীমাবদ্ধ থেকে যায়। এ জন্য আমাদের পাঠ্য পুস্তক এর পাশাপাশি জ্ঞান মূলক কিছু পড়া উচিৎ যা আমাদের জ্ঞানকে প্রসারিত করতে সাহায্য করবে।

শুধু মানুষ হলেই চলবে না প্রকৃত মানুষ হতে হবে আর নিজেকে জানতে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পড়ার বিকল্প কিছু নেই।

এটি পড়লে শুধু জ্ঞানই বাড়বে না বরং আপনি একটা ভালো বন্ধুও পেয়ে যাবেন নিজেকে সময় দেওয়ার। যে আপনাকে কখনো ছেড়ে যাবে না।

গবেষণায় পাওয়া বই পড়ার উপকারিতা সমূহ

চাপ কমায়ঃ

মানসিক চাপ কমাতে পারে বই

আপনি অনেক বেশী মানসিক চাপে আছেন? চাপে থেকে কি করেন হয়তো কফি পান করেন, একটু হেঁটে আসেন বা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে থাকেন।

সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে- বই পড়া এর চেয়ে বেশী কার্যকর।

গান শোনা, হাঁটাহাঁটি করা বা কফি পান করার চেয়ে বই পড়া খুব দ্রুত মানসিক চাপ কমায়, মনযোগ অন্য দিকে ধাবিত কর, সতেজ অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

মনকে সহানুভূতিশীল করেঃ

বই পড়লে এমন অনুভূতি জাগে মনে হবে গল্পকাহিনীর মত আপনি গল্পের নায়ক বা গল্পের অংশ হয়ে গেছেন।

এটি আমাদের মধ্যে এমন একটা আবেগের অনুভুতি সৃষ্টি করে, তখন আপনি গল্পের সাথে সংযুক্ত হতে শুরু করবেন।

এভাবে যদি নিয়মিত পড়া যায় তাহলে আপনার বাস্তব জীবনকেও প্রভাবিত করবে এবং আপনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক গুলোর প্রতি আরো সহানুভিতিশীল হয়ে উঠবেন।

ইনসমনিয়া থেকে মুক্তিঃ

গবেষণায় এটা প্রমাণিত যে বই পড়া আপনার ঘুম না হওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

যদি আপনি ইনসমনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে বই পড়াই হবে আপনার জন্য কার্যকরি চিকিৎসা।

আপনার ঘুম ফিরিয়ে আনতে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ

ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা যায়- বই পড়া আমাদের দিনে দিনে আরো বেশী তীক্ষ্ণ ও চটপটে করে তোলে।

একটা পড়ে শেষ করার পর বহুদিন পর্যন্ত বইটির ইতিবাচক প্রভাব থেকে যায়।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, কিছু পড়ার সময় মানুষের মস্তিস্ক এমন ভাবে কাজ করে যে তা নিউরোলজিকাল পরিবর্তন ঘটায় ও মেমোরি মাসলকে উজ্জীবিত করে।

বিষণ্ণতা দূর করেঃ

আমরা অনেক বিষণ্ণতা দূর করতে বাজে পথে চলে যাই, বাজে আড্ডা দিয়ে থাকে নেশার পথ খুঁজি। কিন্তু বই পড়া এমন একটা নেশা যা সকল নেশাকে হার মানাতে পারে।

এটি জীবনের মূল লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করে এবং জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেয়।

তাই বিষণ্ণতা দূর করতে আজ থেকে পড়ার অভ্যাস করুন আর এই অভ্যাসকে নেশাতে পরিণত করুন।

বই পড়া নিয়ে মনীষীদের উক্তি

১. ভালো খাদ্য বস্তু পেট ভরে কিন্ত ভাল বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করে। – স্পিনোজা

২. ভালো বই পড়া মানে গত শতাব্দীর সেরা মানুষদের সাথে কথা বলা। – দেকার্তে

৩. অন্তত ষাট হাজার বই সঙ্গে না থাকলে জীবন অচল। – নেপোলিয়ান

৪. প্রচুর বই নিয়ে গরীব হয়ে চিলোকোঠায় বসবাস করব তবু এমন রাজা হতে চাই না যে বই পড়তে ভালবাসে না। – জন মেকলে

৫. আমি চাই যে বই পাঠরত অবস্থায় যেন আমার মৃত্যু হয়। – নর্মান মেলর

৬. একটি ভালো বইয়ের কখনোই শেষ বলতে কিছু থাকে না। – আর ডি কামিং

৭. একটি বই পড়া মানে হলো একটি সবুজ বাগানকে পকেটে নিয়ে ঘোরা। – চীনা প্রবাদ

৮. একজন মানুষ ভবিষ্যতে কী হবেন সেটি অন্য কিছু দিয়ে বোঝা না গেলেও তার পড়া বইয়ের ধরন দেখে তা অনেকাংশেই বোঝা যায়। – অস্কার ওয়াইল্ড

৯. বই হলো এমন এক মৌমাছি যা অন্যদের সুন্দর মন থেকে মধু সংগ্রহ করে পাঠকের জন্য নিয়ে আসে। – জেমস রাসেল

১০. আমাদের আত্মার মাঝে যে জমাট বাধা সমুদ্র সেই সমুদ্রের বরফ ভাঙার কুঠার হলো বই। – ফ্রাঞ্জ কাফকা

১১. পড়, পড় এবং পড়। – মাও সেতুং

১২.জীবনে তিনটি জিনিসের প্রয়োজন- বই, বই এবং বই। – ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

১৩. বই হচ্ছে অতীত আর বর্তমানের মধ্যে বেঁধে দেয়া সাঁকো। – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মানসিক রোগ কতটা ভয়ানক হতে পারে??

মানসিক রোগ

“পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় লক্ষ লক্ষ মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। আর এই মানসিক রোগ তাদের আপনজনদের জীবনের উপর অনেক বেশী প্রভাব ফেলে। প্রতি চারজনের মধ্যে একজন তাদের জীবনের কোনো এক সময়ে এসে এই রোগে আক্রান্ত হবে। সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা এমন মানসিক অসুস্থতার পিছনে একটা উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে অবসাদ। মানসিক রোগ গুলোর মধ্যে সিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার ডিসঅর্ডার হচ্ছে সবচেয়ে দুঃসহ ও ক্ষতিকর মানসিক রোগ। যদিও অনেক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে তবুও তারা এই মানসিক রোগকে সবার থেকে আড়াল করে রাখে, উপেক্ষা করে ও এই রোগ কে কুদৃষ্টিতে দেখে।”—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।
ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অন মেন্টাল ইলনেস রিপোর্ট অনুযায়ী– বেশীর ভাগ মানসিক রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব, কিন্তু গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬০% প্রাপ্তবয়স্ক ও প্রায় ৫০% অল্প বয়সি, যাদের বয়স ৮-১৫ বছরের মধ্যে ছিলো এবং তারা কোন প্রকার চিকিৎসায় উন্নতি লাভ করেনি।

মানসিক রোগ কি ?

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, মানসিক রোগ হচ্ছে একজন মানুষের সুস্থভাবে চিন্তা করতে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সঠিক ভাবে আচরণ করতে না পারা। এমন অবস্থায় বেশীর ভাগ সময় একজন মানুষের অন্যদের সাথে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার ও জীবন কে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সাথে মোকাবিলা করার ক্ষমতা বাধাপ্রাপ্ত হয়। এটি কোন ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা চারিত্রিক সমস্যার কারণ নয়।

মানসিক রোগ
বিশ্বে প্রতি চারজনে একজন মানসিক রোগে আক্রান্ত হন।

মানসিক রোগের প্রাথমিক লক্ষন

– অকারনে তীব্র টেনশন।

– ঘুম কমে যাওয়া।

– মনোসংযোগে সমস্যা

সমস্যা আরো গভীর হলেঃ

মানসিক রোগ
অনেক বেশী সমস্যার আগে চিকিৎসকের নিকটে যান।

– আবেগ অনুভূতি হারিয়ে ফেলা।

– অবাস্তব কিছুতে তীব্র বিশ্বাস।

– অবাস্তব কিছু দেখা বা শোনার দাবী করা (হ্যালুসিনেশন)।

– মনোসংযোগে তীব্র সমস্যা, অসংলগ্ন বা অপ্রাসংগিক কথা বলা।

– অদ্ভুত আচরণ।

সিজোফ্রেনিয়া আবার কয়েক রকমের হতে পারে। যার মাঝে প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়া রোগে অনেকেই ভোগেন, যাতে মনে হয় যে আশেপাশের সবাই রোগীর শত্রু। সিজোফ্রেনিয়া রোগ মেডিকেশনে নিরাময় সম্ভব।

কিছু ভুল ধারনা আমাদের আছে যেগুলি নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। অনেকেরই এখনো ধারনা আছে যে মনোরোগ কেবল ধনী লোকদেরই হয়। এই ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। মনোরোগের কোন সামাজিক শ্রেনী বিন্যাস নেই। গরীব লোকে সেটা জানতেও পারে না  সেটা ভিন্ন কথা। যেমন ষ্টাডিতে দেখা যায় যে বাংলাদেশসহ গরীব দেশগুলিতে গর্ভবতী মহিলারা অনেক সময়ই আর্থ সামাজিক কারণে প্রচন্ড ডিপ্রেশনে ভোগেন, এতেই শেষ নয়। এই ডিপ্রেশনের প্রভাব ছড়িয়ে যেতে পারে তার অনাগত শিশুর জীবনে, শিশুর শারীরিক মানসিক বৃদ্ধিও হতে পারে মারাত্মকভাবে ব্যাহত। আমাদের দেশের কত লোকে এভাবে আজন্ম ভোগে কে তার হিসেব রাখে।

এ ছাড়াও আরেকটি ভুল ধারনা আছে যে মানসিক রোগ কেবল প্রাপ্ত বয়ষ্কদেরই হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য যে শিশুদেরও,  এমনকি সদ্যজাত থেকে ৩ বছর বয়সী।

মানসিক রোগ
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখুন।

শিশুদেরও  মানসিক সমস্যা হতে পারে। এই বয়সের একটি সাধারণ রোগের লক্ষন হল শিশুদের বাবা মার সাথে কম ঘেষার প্রবণতা, যাকে এটাচমেন্ট প্রবলেম বলে। এ ছাড়াও বাইপোলার ডিজ অর্ডার (ঘন ঘন মুডের পরিবর্তন),  এংক্সাইটি ডিজ অর্ডার, ডিপ্রেশন এসব রোগে বড়দের মত শিশুরাও ভুগতে পারে। অটিজমের কথা তো এখন সবাই নিশ্চয়ই জানেন।  এ ছাড়াও খুব সাধারণ কিছু সমস্যা যেমন বিছানায় মলমূত্র ত্যাগ,  স্কুল পালানো এসবও ক্রনিক মানসিক রোগ হতে পারে। সময়মত সুচিকিৎসা করা না  হলে রোগী ভুগবে সারা জীবন, রোগ হবে জটিল থেকে জটিলতর।

বিশ্বে এমন কিছু জটিল মানসিক রোগ রয়েছে,  যেগুলির বিবরণ শুনে বিশ্বাস করা কঠিন।

তিনটি ঘটনা দেয়া হল

ফরেইন অ্যাকসেন্ট সিনড্রোম :‌ ফ্রান্সের তরুণী অ্যাস্ট্রিড এল ফরাসি ভাষার বাইরে শুধু ভাঙা ভাঙা ইংরেজী ভাষায় কথা বলতে পারতেন।

এছাড়া কোনও ভাষাই তিনি জানতেন না। হঠাৎ একদিন ঘুম থেকে উঠে তিনি খাঁটি জার্মান ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। মেয়ের পরিবর্তন দেখে আঁতকে ওঠেন অ্যাস্ট্রিডের মা-‌বাবা। এমন অবস্থা হয়, যে তিনি ফরাসিতে কথা বলাই বন্ধ করে দেন। বেশ কিছু বছর আগে উত্তরপ্রদেশেও এক নাবালক এই রোগের শিকার হয়। যে কোনওদিন স্থানীয় ভাষার বাইরে কিছু জানত না, সে হঠাৎ ব্রিটিশ কায়দায় ইংরেজী বলতে শুরু করে।

অটোফাজিয়া :‌ “আজ কী খেতে ইচ্ছে করছে?”‌, অটোফাজিয়ায় আক্রান্ত রোগীর উত্তর হয় “‌নিজেকে”। হ্যাঁ, ভয়ানক এই রোগের লক্ষণ হল নিজেকে খেয়ে ফেলার ইচ্ছে। শুনে কি খুব বিরল রোগ মনে হচ্ছে? মনোচিকিৎসকরা বলছেন, নখ খাওয়ার অভ্যেসই এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। নখ খেতে খেতে রোগী আঙুলে কামড় বসানো শুরু করে। অসুস্থতা বাড়লে তা আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। সেই কারণেই বাচ্চাদের নখ খাওয়ার অভ্যেস হচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর দিতে বলেন চিকিৎসকরা।

কোটার্ড সিনড্রোম :‌ আরেকটি ভয়ানক রোগ। কোটার্ড সিনড্রোমে আক্রান্তরা নিজেদের মৃত বলে মনে করে। সিজোফ্রেনিয়া কিংবা গভীর অবসাদ থেকে এই রোগ দেখা দিতে পারে। পৃথিবীর কোনও কিছুর প্রতি তাদের মোহ-‌মায়া থাকে না। জীবন্ত মৃতদেহের মতো দিন কাটায়।

মানসিক রোগের চিকিৎসা

মানসিক রোগ
সময়মত চিকিৎসা করালে আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন


মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা সফলতার সাথে অনেক মানসিক রোগের চিকিৎসা করতে পারেন। এ জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে কোন অভিজ্ঞ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া এবং সম্পূর্ণ চেক আপ করা। এ ধরনের রোগীরা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে তখনি উপকৃত হবে যখন তারা উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করবে। তবে এর জন্য রোগিকে তার মানসিক সমস্যা সম্পর্কে অন্যদের সাথে কথা বলার অনিচ্ছা দূর করতে হবে। ডাক্তারের সাথে খোলামেলা কথা বলতে হবে রোগীকে যেমন দৈনন্দিন সমস্যার কথা বা কোন গোপনীয়তা না রেখে ডাক্তারকে জানাতে হবে।
বিশেষজ্ঞের দেওয়া নিয়মানুযায়ী চলতে হবে অবশ্যই এর জন্য ডাক্তারের সাথে পরিবারের মানুষদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। রোগীকে মানসিক ভাবে সাপোর্ট দিতে তার পরিবারের বা আপনজনদের সহযোগিতা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। যা অন্যান্য চিকিৎসার চেয়ে অনেকাংশে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে দেখেন যে পারিবারিক অশান্তি, সম্পর্কের ফাটল, ঝগড়া বিবাদ, অনেক সময় নিজের সঙ্গীর সাথে ভুল বুঝাবুঝি, কোন কাজে ব্যর্থতা, একাকী থাকা, হীনমানসিকতা  ইত্যাদি কারণে মানসিক ভাবে অনেক বেশী বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই এ সকল সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য হিতাকাঙ্ক্ষীদের পরিচর্যাই হচ্ছে একমাত্র ভরসা।

যখন কোন মানুষ সাময়িক বা দির্ঘস্থায়ী শারীরিক বা মানসিক সমস্যার জন্যে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে ব্যর্থ হয়, তখন তাকে কাছের মানুষের উপর নির্ভর করতে হয়। মানসিক অসুস্থতার কারণে তাকে কারো না কারো সাহায্য নিয়ে দিন পার করতে হয়। আর এভাবে আপনজনদের বা শুভাকাঙ্ক্ষীদের থেকে মানসিক বা শারীরিক সহযোগিতার মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে মানসিক রোগ থেকে মুক্তি লাভ করতে সক্ষম হয়। পরিবার পরিজনদের দায়িত্ব শুধু মানসিক রোগীর সমস্যা সমাধান করা না বরং রোগীকে তার জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ নিশ্চিত করা।

একজন মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ব্যাক্তিকে ঔষধ বা থেরাপি দিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেয়ে, তাকে মানসিক ভাবে সাপোর্ট দিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কার্যকারিতা অনেক বেশী।

কিভাবে মানসিক রোগের সঙ্গে মোকাবিলা করা যায়

-অভিজ্ঞ  মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী চলুন এবং চিকিৎসা করান।

-ভারসাম্যপুর্ন ও স্থায়ী দৈনন্দিন তালিকা মেনে চলুন

-নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখুন।

-একমুখী চিন্তা পরিহার করুন।

-নিজেকে সময় দিন আরাম করার জন্য সময় নিন।

-পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খান।
-মদ্যপান করা ও যেকোন নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।

মানসিক রোগ
কোনপ্রকার মাদকদ্রব্য গ্রহণ করা যাবে না

-নিজেকে স্বল্প পরিসরে না রেখে সবার সাথে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। অন্যদের সময় দিন।
-আপনার প্রয়োজনীয়তার দিকে মননিবেশ করুন।

 

সত্যিকারের ভূত দেখার অনুভূতি, গল্প নয়।

ভূত

গাইবান্ধা জেলায় শরিয়তপুর নামের একটা ছোট্ট গ্রাম আছে। গ্রামটার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে একটা নদী। প্রচুর মাছ পাওয়া যায় সেখানে। গ্রামের মানুষ অনেক মাছ ধরে সেখান থেকে। গ্রামের অন্যতম দুই দস্যু ছেলের নাম হানিফ আর ফরিদ। দুজন সমবয়সী। বয়স ৮/১০ বছর হবে। অনেক দুষ্ট আর দুরন্ত ছেলে দুটো। ঐ নদী থেকে শুধু বাংলা বছরের কার্তিক মাসে মাছ ধরা নিষেধ। ছেলেগুলোর এই মাসেই যেন সবচেয়ে বেশী মাছ ধরতে ভালো লাগে। কারো নিষেধ শোনে না। এই নিশেদ্ধাজ্ঞা যেনতেন কেউ দেয় নি। গ্রামকে বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে রক্ষা করে এমন কয়েকজন সাধু সন্ন্যাসীরা নিষেধ করেছে মাছ ধরতে। তখন গ্রামগুলোতে কলেরার প্রাদুর্ভাব ছিল প্রচণ্ড। মানুষ অনেক মারা যেত কারণ কোন প্রতিষেধক ছিল না। যেই বাড়িতে কলেরা হত সেই বাড়িটা হয় কবরস্থান নাহলে শ্মশান হয়ে যেত। তাই মানুষ খুব মানত সন্ন্যাসীদের কথা।

এখন হানিফ আর ফরিদ চুপি চুপি কথা বলছে। কেউ শুনলে যেতে তো পারবেই না সাথে কয়েকটা উত্তম মধ্যম পড়বে পিঠে।

হানিফ- দেখ ভাই সামনের রাস্তা দিয়ে গেলে জালটা নিতে পারব না। বড়শি দিয়ে বেশী মাছ ধরা যায় না।

ফরিদ- ঠিক বলছিস ভাই। আমি বাবার জালটা নিয়ে আসতে পারবো কিন্তু নদীর কাছে নিব কি করে? সেই বুদ্ধি বের কর।

হানিফ- আচ্ছা তুই নিয়ে আয়, বাকিটা আমি দেখছি।

ফরিদ- মার খেতে হবে না তো ধরা পড়ে?

হানিফ- দেখ ভাই আমি কাঁচা কাজ করি না। এখন সবাই দুপুরে খেয়ে ঘুমাচ্ছে সুযোগটা হাতছাড়া করা ঠিক হবে না।

যেই কথা সেই কাজ। ফরিদ চলে গেলো বাবার জাল চুরি করতে। আর হানিফ কীভাবে জালটা নদীর দিকে নেয়া যায় সেই রাস্তা খুঁজতে লাগলো। ২০/২৫ মিনিট পর ফরিদ এলো। বেচারা হাঁপাচ্ছে, দৌরে এসেছে।

ফরিদ- এই নে। জাল অনেক ভারি। আনতে অনেক কষ্ট হইছে আমার।

হানিফ- কষ্ট না করলে ভালো কিছু হয় না। দেখবি আজ কতো মাছ পাই। আমাকে অনুসরণ কর। রাস্তা পেয়েছি।

হানিফ গোয়াল ঘরের দিকে যেতে লাগলো। ওদের গোয়াল ঘরের বাইরেই নদীর রাস্তা। ও জালটা বেড়ার নিচের খালি জায়গা দিয়ে বাইরে ফেলে দিল। তারপর ধীরে ধীরে বাড়ি থেকে বের হয়ে নদীর দিকে গেলো।

দুই বন্ধুর আনন্দ দেখে কে। চোখে মুখে বিশ্ব জয়ের হাসি। নদীতে নেমে গেলো জাল নিয়ে। অনেক বেশী মাছ পাবে ওরা দুজন। কারণ কেউ মাছ ধরছে না।

প্রথমে জালটা ছুড়ে দিল নদীতে তারপর ধীরে ধীরে সাঁতরে জালের শেষ প্রান্তে গেলো। জালের ভেতর মাছেরা আওয়াজ করছে।

অনেক মাছ পাওয়া যাবে আজ, সেই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। জাল তীরে এনে ভেতরে মাছ খুঁজতে গিয়ে দুজনের চোখ চড়কগাছ হয়ে গেছে।

কি অদ্ভুত!! দুজন আবার চেষ্টা করল এবারও একই অবস্থা। এভাবে ৪-৫ বার চেষ্টা করল। খুব বেশী বিরক্ত হয়ে দুজন নদীর পাড়ে দাঁড়ালো। হানিফের কেমন যেন একটা ঠাণ্ডা বাতাস শরীরে লাগলো। চারিদিকে একটা হিম হিম ভাব। হঠাৎ করে হানিফ একটা অপরিচিত ছেলেকে দেখল। ওদের সমবয়সী। ছেলেটা ওদের গ্রামের না, হলে চিনত। ছেলেটা দেখতে কালো আর এতো লিকলিকে যে হানিফ কখন এমন মানুষ দেখেনি। চোখ দুটো যেন কোটর থেকে বের হয়ে আসবে, চোখের নিচে কালি। চোখ দুটো রক্তলাল। দুই বন্ধুর তখন অনেক মেজাজ খারাপ। ছেলেটাকে দুজন মিলে পাকড়াও করলো।

হানিফ- এই ছেলে তুমি আমাদের জালের মাছ নিয়ে গেছ তাইনা?

ফরিদ- এই তুই কোন এলাকার? নিজে মাছ ধরতে পারিস না?

দুজনে মিলে অনেক কিছু বলল। কিন্তু ছেলেটা কিছুই বলে না। চুপ করে আছে। ফরিদ তখন ওকে মারতে গেলো। হানিফ জলদি ফরিদকে থামিয়ে দিল। মারামারি থামাতে গিয়ে ওর হাত ঐ ছেলেটার কাঁধে লাগলো। হানিফ যেন ছিটকে উঠল। এতো ঠাণ্ডা কোন মানুষের শরীর থাকতে পারেনা। এতো ঠাণ্ডা অনুভূতি ও কখনো পায়নি। হানিফ নিজেও পানিতে ছিল এতক্ষণ। সুতরাং পানিতে থাকলে শরীর যে পরিমাণ ঠাণ্ডা হয় তা এতো অদ্ভুত লাগার কথা না।

ছেলেটা মার খাবার ভয়ে কেমন যেন নেকে গলায় বলতে লাগলো-

আমাকে মেরো না। আমাকে মেরো না। আমি আর মাছ নেব না।

হানিফ- এই ছেলে তুমি এখান থেকে দূরে চলে যাও। ঐ দিকে চলে যাও (হাত দিয়ে ইশারা করলো)। আর কখনো এদিকে আসবে না। এখানে যেন আর না দেখি।

ছেলেটা কৃতজ্ঞতার দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকাল। আর চলে যেতে লাগলো। হানিফ ফরিদকে ওদিকে তাকাতে মানা করলো। এরপর ওরা আবার মাছ ধরতে জাল ফেলল। এইবার জালে ঠিক আগের মত শব্দ হল। তীরে নিয়ে দেখল জাল ভর্তি মাছ। ঐদিন দুইজনে মিলে অনেক মাছ ধরল।

সবই ঠিক আছে ওদের জীবনে। কিন্তু হানিফ আজও ভুলতে পারেনি সেই শিরশিরে ভয়ঙ্কর ঠাণ্ডা অনুভূতি। আর কোন দিন তাকে দেখেনি। কে ছিল ছেলেটা?? মানুষ নাকি মানুষরূপী…।

(অদ্ভুতুড়ে এমনসব গল্পের জন্য চোখ রাখুন dumurful.com এ )