নতুন বছরের অজানা কিছু তথ্য জেনে নিন

নতুন

আজকের পর আসছে নতুন বছর। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ ইংরেজি নববর্ষ পালন করেন। অনেকে আমরা থার্টি ফার্স্ট নাইট পালন করি।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মানুষরা কিন্তু নানা ধরণের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান পালন করেন।

ইংরেজি নববর্ষের আছে কিছু ইতিহাস। যেগুলো সম্পর্কে আপনারা অনেকেই অবগত নন।

তাহলে আসুন জেনে নেয়া যাক।

নববর্ষ উদযাপনের রীতিনীতি চালু হয়ে ছিল ৪০০০ বছর আগে

তৎকালীন রোমান প্রধান জুলিয়াস সিজার প্রথম জানুয়ারী মাসের নাম করণ করেন।

রোমান দেবতা জেনাস এর নামকরণে এই মাসের নাম দেয়া হয়। এই দেবতা রোম এর প্রবেশ দরজায় থাকেন।

জেনাসের দুটি মুখ একটি পেছনে এবং অন্যটি সামনে। তাই সিজার ভাবলেন বছরের শুরুর মাসটির নাম এই দেবতার নামেই করা উচিত।

নতুন বছরের শুরুতে অনেক বেশি সবুজ সবজি খান

বলা হয়ে থাকে যে বছরের প্রথমে যত বেশী সবুজ সবজি খাবেন আপনার বছর তত ভালো যাবে। বছরের প্রথম দিন অনেকেই তাই বীন, মটরশুঁটি খেয়ে উদযাপন করেন।

পৃথিবীর কতজন মানুষ মদের বোতল খুলে নববর্ষ পালন করেন

আমেরিকানরা প্রায় ৩৬০ মিলিয়ন গ্লাস মদ খায় এই সময়। এই উদযাপন মনে করিয়ে দেয় সতেরশো শতাব্দীর ইতিহাস।

নিউইয়র্ক টাইমস স্কয়ারের বল ড্রপ

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ টি রাজ্যের মধ্যে নিউইয়র্ক একটি খুব জাঁকজমক পূর্ণ শহর। এই স্থানটি বিশ্বের সন্ধিস্থল হিসেবেও পরিচিত।

টাইমস বিল্ডিং-এর সামনে নববর্ষের উৎসব হয়। বছরের প্রথম দিনের শুরুতে রাত ১২টায় বার্ষিক উৎসব হয়। ৩১ ডিসেম্বর ১৯০৭ সাল থেকে শুরু হয়ে আজ অবধি তা চলছে।

এ উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ‘বল ড্রপ’ প্রতি নববর্ষের আগের দিন ১০ লাখেরও বেশি দর্শনার্থীকে টাইমস স্কয়ারে টেনে আনে।

অনেক দর্শনার্থী শুধু বল ড্রপ দেখার জন্য এবং বছরের শেষ রাত কাটানোর জন্য ৩/৪ গুণ বেশী ভাড়া দিয়ে নিউইয়র্কের হোটেলগুলোতে রুম ভাড়া করে।

বছর শুরু নিয়ে ডেনমার্কের ঐতিহ্য

বিভিন্ন দেশে নানান ধরণের ঐতিহ্য পালন করা হয়। কিছু কিছু দেশে নববর্ষ নিয়ে তাই মজাদার সব ঐতিহ্য পালন করা হয়।

ডেনমার্কের মানুষেরা দরজায় থালা বাসন ছুঁড়ে মারে।

এর পেছনে কারণ হল ডেনমার্কের মানুষের বিশ্বাস যার দরজায় যত বেশী থালা বাসন ছোঁড়া হবে তার সেই বছর তত বেশী নতুন বন্ধু হয়।

বছর শুরু নিয়ে স্প্যানিশের ঐতিহ্য

ডেনমার্কের মতো স্প্যানিশরাও একটা ঐতিহ্য পালন করেন।

৩১ ডিসেম্বরের রাতে সবাই ১২ টা করে আঙ্গুর খায়।

তাদের বিশ্বাস যারা এটা করবে বছর জুড়ে তাদের ভালো ভাগ্য থাকবে।

১৮৯৫ সাল থেকে এই ঐতিহ্য পালন করে আসছে স্প্যানিশরা।

ব্যক্তিত্ব ছাড়া আপনার দাম নেই

ব্যক্তিত্ব

আমরা একজন মানুষ কে বিচার বিবেচনা করার জন্য তার বাহ্যিক রূপকে গুরুত্ব দেই না। কারণ বাহ্যিক সৌন্দর্য্য আমরা জন্মগত ভাবে বা স্বাভাবিক ভাবে পেয়ে থাকি অপর দিকে ব্যক্তিত্ব যা আমাদের অর্জন করে নিতে হয়। একজন মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ গুণাবলী হচ্ছে তার ব্যক্তিত্ব। মানুষের জীবন যাপনের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি ব্যক্তিত্বও একজন মানুষের অনেক বেশী অপরিহার্য। ব্যক্তি বলতে ব্যক্তিত্বকে বুঝায় না কিন্তু ব্যক্তিত্ব বলতেই ব্যক্তি বুঝায়। ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য দরকার ব্যক্তি স্বাধীনতা। কারণ সুপ্ত মেধা, সুপ্ত ক্ষমতা আর সুপ্ত প্রতিভার প্রসার করাই হলো ব্যক্তিত্ব বিকাশ। অর্থাৎ আমাদের নিজস্ব সত্ত্বার যেসব গুণাবলী আছে সে গুলো বিকাশ ঘটানো।

সত্যিকার অর্থে ব্যক্তিত্ব বলতে যা বুঝায়

ব্যক্তিত্ব হচ্ছে এক ধরনের ছাপ যা মানুষের ভিতরে প্রকাশ পায়। ব্যক্তিত্ব মানুষের মূল্যবান সম্পদ।
মানুষের জীবনে ব্যক্তিত্বের সীমারেখা প্রতিফলিত হয় কথাবার্তায়, আচার ব্যবহারে, চাল-চলনে, ধ্যানধারণায় ও মন মানসিকতায়।
সাফ্যল্যের চাবিকাঠি হলো ব্যক্তিত্ব। মানুষের চালনা শক্তি, এগিয়ে নেওয়ার শক্তি, চারিত্রিক গুণাবলী এসব কিছু ব্যক্তিত্ব।

ব্যক্তিত্বহীনতার ফল
যাদের ব্যক্তিত্ব নাই মানে ব্যক্তিত্বহীন তাদের মধ্যে আত্ম নিয়ন্ত্রণ থাকে। নিজের প্রতি কোন বিশ্বাস থাকে না সব সময় অন্যের উপর নির্ভর করে থাকে।
আত্ম-সম্মান থাকে না, মানবতা হারিয়ে ফেলে।
ইচ্ছা শক্তি, স্বপ্ন, লক্ষ্য হারিয়ে ফেলে।
ভয় পায় অনেক বেশী, হীনমন্যতায় ভোগে।
কর্ম ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়, অবশেষে ব্যর্থ হয়।

ব্যক্তিত্ব থাকলে যা হবে আপনার সাথে


বাধা, ভয়, হিনমনতা, দুশ্চিন্তা, সন্দেহ, ঘৃণা, ঈর্ষা, হতাশা, ক্ষতি, ব্যর্থতা, কদর্যতা, তিক্ততা, কষ্ট সকল কিছু কে পেছনে ফেলে সফলতা অর্জন করা যায়।
ব্যক্তিত্ব এমন একটা শক্তি যা আপনাকে আপনার কল্পনার বাইরেও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

আপনি ভালো নেতৃত্ব দান করতে পারবেন।

নিজেকে জানতে পারবেন।

ব্যক্তিত্ব
জ্ঞান অর্জন করতে সময় খরচ করুন।

জীবনে আর বন্ধু খুঁজতে হবে না এমনিতেই আপনি অনেক বন্ধু পেয়ে যাবেন।

যে কোন জায়গায় আপনার গ্রহণযোগ্যতা বেশী থাকবে।

ব্যক্তিত্ব গঠনে আপনাকে যা করতে হবে

কথার সাথে কাজের মিল রাখবেন।

কারো করুণার পাত্র হবেন না।

শুদ্ধ ভাষায় কথা বলুন।

একান্ত গোপনীয় কথা স্বল্প পরিচিত কারো সাথে বলবেন না।

অনধিকারচর্চা করবেন না।

চটপটে এবং স্মার্ট থাকবেন।

উপস্থিতবুদ্ধি সম্পন্ন হতে হবে।

অন্যান্যদের মতামতকে শ্রদ্ধা করবেন।

কোন কিছুর দায়িত্ব নিলে তা যেকোনো মূল্যে পূরণ করবেন।

সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবেন।

আত্মবিশ্বাসী হতে হবে

মেজাজের ভারসম্য রক্ষা করবেন।

জ্ঞান অর্জন না করলে আপনি কখনো ব্যক্তিত্বশালী হতে পারবেন না  

দোয়া ও প্রভুর কাছে প্রার্থনা করে

অনুভব ও অনুমানের মাধ্যমে জ্ঞানার্জন করা যায়

চিন্তাশক্তি প্রয়োগ করে

অভিজ্ঞতা থেকে

অতীত থেকে

জ্ঞানীদের সাথে মিশে

মূর্ত জগতকে দেখে

মূর্ত এবং বিমূর্ত জগত সম্পর্কে চিন্তা গবেষণা করে

ভ্রমণ করে

বই পড়ে

জিবনী পড়ে

ধর্মীয় লেখা

বিখ্যাত লেখকদের লেখা

সাধারণ জ্ঞান সম্পর্কিত বই (আজকের বিশ্ব, কিশোর কন্ঠ ইত্যাদি টাইপের)

বিজ্ঞান ও শিক্ষামূলক সিরিজ

টিভি দেখে

রেডিও শুনে

পত্রিকা পড়ে (সব পত্রিকার শিক্ষা, বিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সাইড গুলো বেশি করে)

নেট সার্চ করে

ফেসবুকিং

ব্লগিং

প্রশিক্ষণ নিয়ে

সমস্ত পেশার লোকদের সাথে মিশে

 

 

বলা হয়নি তোমাকে অনেক ভালোবাসি মা

মা

আমি আইজ মির্জা একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যয়নরত। আমার এতো দূর আসতে অনেক ঝড়, বাধা, সংগ্রাম পার করতে হয়েছে। একটা জীবনের প্রতিটা সময়ের হিসাব কিভাবে কষতে হয় তা আমি জানি বা আমার মত যারা তারাই কেবল জানে। জীবনের প্রতি পদক্ষেপে পা রাখার জন্য চিন্তা করতে হতো এবার না আমাকে আবার পিছলে পরতে হয়। জীবন মানে হলো লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য দৌড়ানো। যদি হোঁচট খেয়ে পড়ে যান তবে যেখান থেকে হোঁচট খেয়ে পড়ছেন সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার দৌড় শুরু করা। যাই হোক এভাবে জীবনের অনেকটা পথা পাড়ি দিয়েছি হয়তো বা আরো দিতে হবে।

যখন খুব ছোট ছিলাম বোঝার মত বয়স হয়নি তখন জীবনের দু’টি মূল্যবান জিনিসের মধ্যে একটি হারাতে হয়। ঐ সময় বুঝতে পারিনি হারানোর ব্যাথা এবং কি হারালাম তার মর্যাদা।

মা
মা বাবা একটি সুখী পরিবারের দুটি প্রাণ।

ধীরে ধীরে যখন বুঝতে শুরু করি তখন টের পেতে থাকি ঐ মানুষটার অভাব। কিন্তু তখন পুরোপুরি বুঝতে দেয়নি আমার মা। তিনি একাধারে বাবা-মা দুজনের দায়িত্ব পালন করতেন। সারাদিন কাজের ব্যস্ততার মাঝে থেকেও আমাকে আমার বাবার অভাব অনুভব করতে দেননি। আমি এমন ছিলাম যে আমার মাকে না দেখলে মনে হতো আমি কোথায় আছি এখন?

মা
মা ছাড়া আমার পৃথিবী অন্ধকার।

মাকে ছাড়া পুরো পৃথিবীতে অন্ধকার নেমে আসতো। এক মুহূর্তের জন্যও ভাবতে পারতাম না উনাকে ছাড়া আমি থাকবো। এতোটাই স্বার্থপরতা কাজ করতো আমার ভিতর। এভাবে বাড়তে পারতো আমার বয়স আরো কতশত দিন কাটাতে পারতাম আমার মা জননীর সাথে। কিন্তু সেটাও বেশী দিন স্থায়ী হলো না। বাবা চলে যাওয়ার মাত্র দেড় বছর পর কোন এক অজানা কারণে জীবন থেকে হারিয়ে যায় আমার সেই মমতাময়ী মা। আমাকে এতো ভালোবাসতো কিন্তু যাওয়ার সময় একবারের জন্যও বলে যায়নি বাবা আমি চলে যাচ্ছি তুই নিজের খেয়াল রাখিস, যত্ন নিস, সময় মত খাবার খেয়ে নিস, বেশী দুষ্টামি করিস না, সন্ধ্যার আগে বাসায় ফিরে আসবি, ঠিক মত পড়াশুনা করবি। আমি দূর থেকে তোর ভালো থাকা দেখে শান্তি পাবো। একবারো ভাবেনি আমার বুকের মানিকটা কিভাবে একা একা নিজের জীবনটা গুছিয়ে নিবে, পারবে তো আমার মানিকটা??!!

মা
যার মা নেই সে সব সুখ থেকে বঞ্চিত।

হয়তো উনার ভালো থাকাটা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ ছিলো আমার ভালো থাকার চেয়ে। কত যায়গায় যেতাম অনেক খুঁজেছি প্রতিদিন ভাবতাম আজ হয়তো আমার মা আমাকে দেখতে চলে আসবে আমিও উনাকে আবার দেখতে পাবো। কিন্তু দেখা আর হয়ে উঠলো না। রাস্তা যখন হাঁটতাম তখন সবার মায়ের মুখে তাকিয়ে থাকতাম উনাদের মাঝে মাকে খুঁজে বেড়াতাম। সবার মা যখন রাতে দুধের গ্লাস নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে বাবা পুরোটা খেয়ে নে, না হয় তুই পড়ালেখায় মন দিতে পারবি না আর তখন আমার রাতের খাবারে পেট ভরেছে কিনা তা জানার মত কেউ ছিলো না। সকালে সবার মা নাস্তা নিয়ে রেডি আর চিন্তা করে আমার ছেলে কিভাবে না খেয়ে পড়াশুনা করবে সারাদিন বাহিরে থাকবে, কি না কি খাবে এসব নিয়ে চিন্তায় ব্যস্ত তখন আমার ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিয়ে স্কুলে পাঠানোর মত কেউ ছিলো না। একটা সন্তান তার সব কিছু মায়ের কাছে কোন সমস্যা ছাড়াই বলতে পারে দুঃখ ভাগ করে নিতে পারে। কিন্তু কোন কারণে যদি আমার মন খারাপ হতো কারো কাছে বলার মত মানুষ ছিলো না। তখন হয়তো কোন দুষ্টামি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যেতাম আর সব ভুলে যেতাম। তাই সব কিছু ভিতরে রাখতে রাখতে আর হালকা হয়ে উঠা হয়নি অনেক বেশী গম্ভীর হতে থাকি।

মা
দুঃখগুলো কেউ বুঝবে না মা ছাড়া।

এভাবে চলতে থাকলো জীবন। আমারও বয়স বাড়তে থাকে একা একা হীনমানসিকতা আমাকে ঘিরে ধরে। একটা মানুষ অনেক কিছু শিক্ষা গ্রহণ করে তার পরিবার থেকে আর পরিবারের প্রধান শিক্ষক হলো মা কারণ বাবা তার পেশা নিয়েই পড়ে থাকে খুব বেশী সময় দিতে পারে না কিন্তু মা তার পরিবারকে ধরে রাখে সন্তান কে সঠিক পথ প্রদর্শন করে। যখন একটা মানুষ তার দুই অংশ থেকে বিতাড়িত বা বঞ্চিত হয় তখন নিজেকে সামলে নিতে অনেক কষ্টকর হয়ে পড়ে। এখান থেকে অনেকে কেটে উঠতে পারে আবার অনেকে ঝরে পড়ে। এভাবে হারানোর ভয়টা বাড়তে থাকে আর বাড়তে বাড়তে এমন হয়ে গেছে যে আমি আমার জীবনে প্রতিটা মানুষকে হারানোর ভয় কাজ করে। আর ভয়টাই আমার হারানোর আরকেটা কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি আমার মাকে অনেক বেশী ভালোবাসি যার জন্য আমি পাগল ছিলাম আর সেই ভালোবাসা শুধু ভিতরেই রেখে দিয়েছি প্রকাশ করতে পারিনি।

মা খুবী ছোট একটা শব্দ কিন্তু এই ছোট শব্দের টানটা নাড়ী থেকে উৎপন্ন হয়। “মা” আওয়াজটি কানে প্রবেশ করলেই যেনো মনের ভিতরে মায়া ভালোবাসার মাত্রা অসম্ভব ভাবে বেড়ে যায়। এর ভার এতই বেশী যে অন্য কোন মানুষের তা বইবার সামর্থ্য নেই এবং সে ক্ষমতা অন্য কাউকে দেওয়াও হয় নি। মায়েদের কোন জাতে ভাগ করা যায় না “মা মানেই মা”। একজন মা তার সন্তানকে মমতা আর ভালোবাসার রক্ষাকারী দেওয়ালের মত সব সময় ঘিরে রাখে যাতে বাহ্যিক কোন আঘাত তার সন্তানের উপর হানা দিতে না পারে।

মা
মা চান তাঁর সন্তান সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় থাকবে।

আপনি যখন অন্যায় বা ভুল পথে পা বাড়াবেন তখন আপনার কাছের মানুষ গুলো একবার, দুইবার, তিনবার বা তার চেয়ে বেশী বার পথ দেখাবে কিন্তু এক সময় তারা সহ্য না করতে পেরে আপনার উপর রাগ করে আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে। অন্য দিকে দয়ার সাগর “মা” আপনাকে তার শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত আপনার সব কিছু কে সামলে রেখে আপনার পাশে থেকে যাবে আর আল্লাহ্‌র কাছে কাঁদতে থাকবে আপনার জন্য। কোথাও খুঁজে পাবেন না এমন মানুষ শত হাহাকার করলেও পাওয়া যাবে না। যদি পৃথিবীতে নিঃস্বার্থ ভালো কেউ বেসে থাকে তিনি হলেন মা জননী। অনেক কনকনে শীতের রাতেও আপনার ভেজা কাঁথাটি নিজে গায়ে না দিয়ে নিজের গরম কাঁথাটি আপনার গায়ে দিয়ে দিতেন, তিনিই হলেন সে দরদী মা যিনি নিজের আরামের কথা চিন্তা না করে তার আদরের মানিকটা কে যত্নে রাখতেন। একমাত্র একজন মানুষ এই ধরার বুকে আপনাকে ঠকাবে না তিনি আর কেউ নয় মা। কারণ মা আপনাকে তিলে তিলে নিজে কোটি বার কষ্ট সহ্য করে আপনাকে পৃথিবীতে নিয়ে এসেছেন, আর যাই হয়ে যাক সে মা আপনার প্রতি তার মায়ার দেয়াল ভাঙতে দিবে না।
মাকে কোথাও হারাতে দিবেন না। কারণ হারালেই বুঝবেন মা কেমন জিনিস। সে আপনাকে যেভাবে যত্ন করে মানুষ করেছে ঠিক সেভাবে তাকে যত্ন করে ধরে রাখবেন। মায়ের ভালোবাসা পেতে যেমন আনন্দ লাগে দেখবেন তাঁকে ভালোবাসা দিলেও মনে শান্তি লাগে। পৃথিবীর সব মাকে শ্রদ্ধা জানাই।

বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করতে পারে

বই

 জ্ঞান ছাড়া প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না আর জ্ঞানের উৎস হলো বই। মানুষ দুই প্রকারের হয় এক জ্ঞানী মানুষ এবং দুই জ্ঞানশূন্য মানুষ।

সত্যিকার অর্থে আমাদের সবার মাঝে কম বেশী জ্ঞান আছে কিন্তু আমরা তার সঠিক চর্চা করতে জানি না। তাই আমাদের মধ্যে এই ধরনের প্রকারভেদ দেখা যায়।জ্ঞানকে প্রসারিত করতে অনেকেই আপ্রাণ চেষ্টা করি কিন্তু মনে কি প্রশ্ন জাগে? সঠিক উপায় কয়জন অবলম্বন করি। জ্ঞান অর্জনের জন্য মানুষের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো বই।বই পড়া ছাড়া একজন মানুষের জীবন ৮০ শতাংশই বৃথা।কেননা বই একজন মানুষকে তার ভিতরে লুকিয়ে থাকা ঘুমন্ত মানুষটিকে জাগিয়ে তোলে, মনের চক্ষু খুলে দেয়, জ্ঞান ও বুদ্ধিকে প্রসারিত ও বিকশিত করে এবং ভিতরে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে।

মনুষ্যত্ব অর্জনের সবচেয়ে বড় ও সঠিক পথ হচ্ছে বই পড়া।

বই পড়ে হারিয়ে যেতে পারেন অদেখা কোন জায়গায়

এটি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে ও অনুভূতিকে সতেজ করে তোলে। বিভিন্ন ধরনের বই বিভিন্ন ধরনের জ্ঞানের সমারোহ বহন করে।

বর্তমানে বাংলাদেশ সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পড়ালেখায় অনেক নতুন নতুন পদ্ধতি চালু করেছে কিন্তু কার্যত কোন উপকার পাওয়া যাচ্ছে না।

এ সমস্যার কারণ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক ত্রুটি রয়ে গেছে এখনো সেটা হচ্ছে পাঠ্য বইয়ের বাহিরে কিছু শিক্ষা দেওয়া হয় না।

আমরা শুধু পাঠ্য বই পড়ি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য আবার পরীক্ষা শেষ হলে কি পড়েছি তা ভুলেও যাই।

তাই আমাদের জ্ঞানের পরিধি সীমাবদ্ধ থেকে যায়। এ জন্য আমাদের পাঠ্য পুস্তক এর পাশাপাশি জ্ঞান মূলক কিছু পড়া উচিৎ যা আমাদের জ্ঞানকে প্রসারিত করতে সাহায্য করবে।

শুধু মানুষ হলেই চলবে না প্রকৃত মানুষ হতে হবে আর নিজেকে জানতে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পড়ার বিকল্প কিছু নেই।

এটি পড়লে শুধু জ্ঞানই বাড়বে না বরং আপনি একটা ভালো বন্ধুও পেয়ে যাবেন নিজেকে সময় দেওয়ার। যে আপনাকে কখনো ছেড়ে যাবে না।

গবেষণায় পাওয়া বই পড়ার উপকারিতা সমূহ

চাপ কমায়ঃ

মানসিক চাপ কমাতে পারে বই

আপনি অনেক বেশী মানসিক চাপে আছেন? চাপে থেকে কি করেন হয়তো কফি পান করেন, একটু হেঁটে আসেন বা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে থাকেন।

সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে- বই পড়া এর চেয়ে বেশী কার্যকর।

গান শোনা, হাঁটাহাঁটি করা বা কফি পান করার চেয়ে বই পড়া খুব দ্রুত মানসিক চাপ কমায়, মনযোগ অন্য দিকে ধাবিত কর, সতেজ অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

মনকে সহানুভূতিশীল করেঃ

বই পড়লে এমন অনুভূতি জাগে মনে হবে গল্পকাহিনীর মত আপনি গল্পের নায়ক বা গল্পের অংশ হয়ে গেছেন।

এটি আমাদের মধ্যে এমন একটা আবেগের অনুভুতি সৃষ্টি করে, তখন আপনি গল্পের সাথে সংযুক্ত হতে শুরু করবেন।

এভাবে যদি নিয়মিত পড়া যায় তাহলে আপনার বাস্তব জীবনকেও প্রভাবিত করবে এবং আপনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক গুলোর প্রতি আরো সহানুভিতিশীল হয়ে উঠবেন।

ইনসমনিয়া থেকে মুক্তিঃ

গবেষণায় এটা প্রমাণিত যে বই পড়া আপনার ঘুম না হওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

যদি আপনি ইনসমনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে বই পড়াই হবে আপনার জন্য কার্যকরি চিকিৎসা।

আপনার ঘুম ফিরিয়ে আনতে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ

ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা যায়- বই পড়া আমাদের দিনে দিনে আরো বেশী তীক্ষ্ণ ও চটপটে করে তোলে।

একটা পড়ে শেষ করার পর বহুদিন পর্যন্ত বইটির ইতিবাচক প্রভাব থেকে যায়।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, কিছু পড়ার সময় মানুষের মস্তিস্ক এমন ভাবে কাজ করে যে তা নিউরোলজিকাল পরিবর্তন ঘটায় ও মেমোরি মাসলকে উজ্জীবিত করে।

বিষণ্ণতা দূর করেঃ

আমরা অনেক বিষণ্ণতা দূর করতে বাজে পথে চলে যাই, বাজে আড্ডা দিয়ে থাকে নেশার পথ খুঁজি। কিন্তু বই পড়া এমন একটা নেশা যা সকল নেশাকে হার মানাতে পারে।

এটি জীবনের মূল লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করে এবং জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেয়।

তাই বিষণ্ণতা দূর করতে আজ থেকে পড়ার অভ্যাস করুন আর এই অভ্যাসকে নেশাতে পরিণত করুন।

বই পড়া নিয়ে মনীষীদের উক্তি

১. ভালো খাদ্য বস্তু পেট ভরে কিন্ত ভাল বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করে। – স্পিনোজা

২. ভালো বই পড়া মানে গত শতাব্দীর সেরা মানুষদের সাথে কথা বলা। – দেকার্তে

৩. অন্তত ষাট হাজার বই সঙ্গে না থাকলে জীবন অচল। – নেপোলিয়ান

৪. প্রচুর বই নিয়ে গরীব হয়ে চিলোকোঠায় বসবাস করব তবু এমন রাজা হতে চাই না যে বই পড়তে ভালবাসে না। – জন মেকলে

৫. আমি চাই যে বই পাঠরত অবস্থায় যেন আমার মৃত্যু হয়। – নর্মান মেলর

৬. একটি ভালো বইয়ের কখনোই শেষ বলতে কিছু থাকে না। – আর ডি কামিং

৭. একটি বই পড়া মানে হলো একটি সবুজ বাগানকে পকেটে নিয়ে ঘোরা। – চীনা প্রবাদ

৮. একজন মানুষ ভবিষ্যতে কী হবেন সেটি অন্য কিছু দিয়ে বোঝা না গেলেও তার পড়া বইয়ের ধরন দেখে তা অনেকাংশেই বোঝা যায়। – অস্কার ওয়াইল্ড

৯. বই হলো এমন এক মৌমাছি যা অন্যদের সুন্দর মন থেকে মধু সংগ্রহ করে পাঠকের জন্য নিয়ে আসে। – জেমস রাসেল

১০. আমাদের আত্মার মাঝে যে জমাট বাধা সমুদ্র সেই সমুদ্রের বরফ ভাঙার কুঠার হলো বই। – ফ্রাঞ্জ কাফকা

১১. পড়, পড় এবং পড়। – মাও সেতুং

১২.জীবনে তিনটি জিনিসের প্রয়োজন- বই, বই এবং বই। – ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

১৩. বই হচ্ছে অতীত আর বর্তমানের মধ্যে বেঁধে দেয়া সাঁকো। – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মানসিক রোগ কতটা ভয়ানক হতে পারে??

মানসিক রোগ

“পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় লক্ষ লক্ষ মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। আর এই মানসিক রোগ তাদের আপনজনদের জীবনের উপর অনেক বেশী প্রভাব ফেলে। প্রতি চারজনের মধ্যে একজন তাদের জীবনের কোনো এক সময়ে এসে এই রোগে আক্রান্ত হবে। সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা এমন মানসিক অসুস্থতার পিছনে একটা উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে অবসাদ। মানসিক রোগ গুলোর মধ্যে সিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার ডিসঅর্ডার হচ্ছে সবচেয়ে দুঃসহ ও ক্ষতিকর মানসিক রোগ। যদিও অনেক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে তবুও তারা এই মানসিক রোগকে সবার থেকে আড়াল করে রাখে, উপেক্ষা করে ও এই রোগ কে কুদৃষ্টিতে দেখে।”—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।
ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অন মেন্টাল ইলনেস রিপোর্ট অনুযায়ী– বেশীর ভাগ মানসিক রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব, কিন্তু গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬০% প্রাপ্তবয়স্ক ও প্রায় ৫০% অল্প বয়সি, যাদের বয়স ৮-১৫ বছরের মধ্যে ছিলো এবং তারা কোন প্রকার চিকিৎসায় উন্নতি লাভ করেনি।

মানসিক রোগ কি ?

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, মানসিক রোগ হচ্ছে একজন মানুষের সুস্থভাবে চিন্তা করতে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সঠিক ভাবে আচরণ করতে না পারা। এমন অবস্থায় বেশীর ভাগ সময় একজন মানুষের অন্যদের সাথে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার ও জীবন কে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সাথে মোকাবিলা করার ক্ষমতা বাধাপ্রাপ্ত হয়। এটি কোন ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা চারিত্রিক সমস্যার কারণ নয়।

মানসিক রোগ
বিশ্বে প্রতি চারজনে একজন মানসিক রোগে আক্রান্ত হন।

মানসিক রোগের প্রাথমিক লক্ষন

– অকারনে তীব্র টেনশন।

– ঘুম কমে যাওয়া।

– মনোসংযোগে সমস্যা

সমস্যা আরো গভীর হলেঃ

মানসিক রোগ
অনেক বেশী সমস্যার আগে চিকিৎসকের নিকটে যান।

– আবেগ অনুভূতি হারিয়ে ফেলা।

– অবাস্তব কিছুতে তীব্র বিশ্বাস।

– অবাস্তব কিছু দেখা বা শোনার দাবী করা (হ্যালুসিনেশন)।

– মনোসংযোগে তীব্র সমস্যা, অসংলগ্ন বা অপ্রাসংগিক কথা বলা।

– অদ্ভুত আচরণ।

সিজোফ্রেনিয়া আবার কয়েক রকমের হতে পারে। যার মাঝে প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়া রোগে অনেকেই ভোগেন, যাতে মনে হয় যে আশেপাশের সবাই রোগীর শত্রু। সিজোফ্রেনিয়া রোগ মেডিকেশনে নিরাময় সম্ভব।

কিছু ভুল ধারনা আমাদের আছে যেগুলি নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। অনেকেরই এখনো ধারনা আছে যে মনোরোগ কেবল ধনী লোকদেরই হয়। এই ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। মনোরোগের কোন সামাজিক শ্রেনী বিন্যাস নেই। গরীব লোকে সেটা জানতেও পারে না  সেটা ভিন্ন কথা। যেমন ষ্টাডিতে দেখা যায় যে বাংলাদেশসহ গরীব দেশগুলিতে গর্ভবতী মহিলারা অনেক সময়ই আর্থ সামাজিক কারণে প্রচন্ড ডিপ্রেশনে ভোগেন, এতেই শেষ নয়। এই ডিপ্রেশনের প্রভাব ছড়িয়ে যেতে পারে তার অনাগত শিশুর জীবনে, শিশুর শারীরিক মানসিক বৃদ্ধিও হতে পারে মারাত্মকভাবে ব্যাহত। আমাদের দেশের কত লোকে এভাবে আজন্ম ভোগে কে তার হিসেব রাখে।

এ ছাড়াও আরেকটি ভুল ধারনা আছে যে মানসিক রোগ কেবল প্রাপ্ত বয়ষ্কদেরই হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য যে শিশুদেরও,  এমনকি সদ্যজাত থেকে ৩ বছর বয়সী।

মানসিক রোগ
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখুন।

শিশুদেরও  মানসিক সমস্যা হতে পারে। এই বয়সের একটি সাধারণ রোগের লক্ষন হল শিশুদের বাবা মার সাথে কম ঘেষার প্রবণতা, যাকে এটাচমেন্ট প্রবলেম বলে। এ ছাড়াও বাইপোলার ডিজ অর্ডার (ঘন ঘন মুডের পরিবর্তন),  এংক্সাইটি ডিজ অর্ডার, ডিপ্রেশন এসব রোগে বড়দের মত শিশুরাও ভুগতে পারে। অটিজমের কথা তো এখন সবাই নিশ্চয়ই জানেন।  এ ছাড়াও খুব সাধারণ কিছু সমস্যা যেমন বিছানায় মলমূত্র ত্যাগ,  স্কুল পালানো এসবও ক্রনিক মানসিক রোগ হতে পারে। সময়মত সুচিকিৎসা করা না  হলে রোগী ভুগবে সারা জীবন, রোগ হবে জটিল থেকে জটিলতর।

বিশ্বে এমন কিছু জটিল মানসিক রোগ রয়েছে,  যেগুলির বিবরণ শুনে বিশ্বাস করা কঠিন।

তিনটি ঘটনা দেয়া হল

ফরেইন অ্যাকসেন্ট সিনড্রোম :‌ ফ্রান্সের তরুণী অ্যাস্ট্রিড এল ফরাসি ভাষার বাইরে শুধু ভাঙা ভাঙা ইংরেজী ভাষায় কথা বলতে পারতেন।

এছাড়া কোনও ভাষাই তিনি জানতেন না। হঠাৎ একদিন ঘুম থেকে উঠে তিনি খাঁটি জার্মান ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। মেয়ের পরিবর্তন দেখে আঁতকে ওঠেন অ্যাস্ট্রিডের মা-‌বাবা। এমন অবস্থা হয়, যে তিনি ফরাসিতে কথা বলাই বন্ধ করে দেন। বেশ কিছু বছর আগে উত্তরপ্রদেশেও এক নাবালক এই রোগের শিকার হয়। যে কোনওদিন স্থানীয় ভাষার বাইরে কিছু জানত না, সে হঠাৎ ব্রিটিশ কায়দায় ইংরেজী বলতে শুরু করে।

অটোফাজিয়া :‌ “আজ কী খেতে ইচ্ছে করছে?”‌, অটোফাজিয়ায় আক্রান্ত রোগীর উত্তর হয় “‌নিজেকে”। হ্যাঁ, ভয়ানক এই রোগের লক্ষণ হল নিজেকে খেয়ে ফেলার ইচ্ছে। শুনে কি খুব বিরল রোগ মনে হচ্ছে? মনোচিকিৎসকরা বলছেন, নখ খাওয়ার অভ্যেসই এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। নখ খেতে খেতে রোগী আঙুলে কামড় বসানো শুরু করে। অসুস্থতা বাড়লে তা আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। সেই কারণেই বাচ্চাদের নখ খাওয়ার অভ্যেস হচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর দিতে বলেন চিকিৎসকরা।

কোটার্ড সিনড্রোম :‌ আরেকটি ভয়ানক রোগ। কোটার্ড সিনড্রোমে আক্রান্তরা নিজেদের মৃত বলে মনে করে। সিজোফ্রেনিয়া কিংবা গভীর অবসাদ থেকে এই রোগ দেখা দিতে পারে। পৃথিবীর কোনও কিছুর প্রতি তাদের মোহ-‌মায়া থাকে না। জীবন্ত মৃতদেহের মতো দিন কাটায়।

মানসিক রোগের চিকিৎসা

মানসিক রোগ
সময়মত চিকিৎসা করালে আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন


মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা সফলতার সাথে অনেক মানসিক রোগের চিকিৎসা করতে পারেন। এ জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে কোন অভিজ্ঞ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া এবং সম্পূর্ণ চেক আপ করা। এ ধরনের রোগীরা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে তখনি উপকৃত হবে যখন তারা উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করবে। তবে এর জন্য রোগিকে তার মানসিক সমস্যা সম্পর্কে অন্যদের সাথে কথা বলার অনিচ্ছা দূর করতে হবে। ডাক্তারের সাথে খোলামেলা কথা বলতে হবে রোগীকে যেমন দৈনন্দিন সমস্যার কথা বা কোন গোপনীয়তা না রেখে ডাক্তারকে জানাতে হবে।
বিশেষজ্ঞের দেওয়া নিয়মানুযায়ী চলতে হবে অবশ্যই এর জন্য ডাক্তারের সাথে পরিবারের মানুষদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। রোগীকে মানসিক ভাবে সাপোর্ট দিতে তার পরিবারের বা আপনজনদের সহযোগিতা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। যা অন্যান্য চিকিৎসার চেয়ে অনেকাংশে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে দেখেন যে পারিবারিক অশান্তি, সম্পর্কের ফাটল, ঝগড়া বিবাদ, অনেক সময় নিজের সঙ্গীর সাথে ভুল বুঝাবুঝি, কোন কাজে ব্যর্থতা, একাকী থাকা, হীনমানসিকতা  ইত্যাদি কারণে মানসিক ভাবে অনেক বেশী বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই এ সকল সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য হিতাকাঙ্ক্ষীদের পরিচর্যাই হচ্ছে একমাত্র ভরসা।

যখন কোন মানুষ সাময়িক বা দির্ঘস্থায়ী শারীরিক বা মানসিক সমস্যার জন্যে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে ব্যর্থ হয়, তখন তাকে কাছের মানুষের উপর নির্ভর করতে হয়। মানসিক অসুস্থতার কারণে তাকে কারো না কারো সাহায্য নিয়ে দিন পার করতে হয়। আর এভাবে আপনজনদের বা শুভাকাঙ্ক্ষীদের থেকে মানসিক বা শারীরিক সহযোগিতার মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে মানসিক রোগ থেকে মুক্তি লাভ করতে সক্ষম হয়। পরিবার পরিজনদের দায়িত্ব শুধু মানসিক রোগীর সমস্যা সমাধান করা না বরং রোগীকে তার জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ নিশ্চিত করা।

একজন মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ব্যাক্তিকে ঔষধ বা থেরাপি দিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেয়ে, তাকে মানসিক ভাবে সাপোর্ট দিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কার্যকারিতা অনেক বেশী।

কিভাবে মানসিক রোগের সঙ্গে মোকাবিলা করা যায়

-অভিজ্ঞ  মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী চলুন এবং চিকিৎসা করান।

-ভারসাম্যপুর্ন ও স্থায়ী দৈনন্দিন তালিকা মেনে চলুন

-নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখুন।

-একমুখী চিন্তা পরিহার করুন।

-নিজেকে সময় দিন আরাম করার জন্য সময় নিন।

-পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খান।
-মদ্যপান করা ও যেকোন নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।

মানসিক রোগ
কোনপ্রকার মাদকদ্রব্য গ্রহণ করা যাবে না

-নিজেকে স্বল্প পরিসরে না রেখে সবার সাথে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। অন্যদের সময় দিন।
-আপনার প্রয়োজনীয়তার দিকে মননিবেশ করুন।

 

আমি লজ্জিত, আমি পুরুষ

নারী তুমি মহান

বাহিরের কাজ সেরে পাড়ার রাস্তা ধরে হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরছি। আমার ঠিক বিশ পঁচিশ কদম সামনে একজন মা(২৮ বছর আনুমানিক) তাঁর স্কুল ফেরত বাচ্চা নিয়ে চৌরাস্তার মোড় পেড়িয়ে হাঁটছেন। স্বভাবগত ভাবে পুরুষের হাঁটার গতিবেগ নারীর চেয়ে খানিক একটু বেশি। স্বাভাবিক ভাবে আমি উনাকে পেছন ফেলেই হেঁটে যাচ্ছিলাম। যেই আমি হাঁটতে হাঁটতে উনার সমান্তরাল হয়ে যাই ঠিক ঐ মূহুর্তে তিনি তার হাঁটার গতিবেগ দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে ফেলেন। (সাধারণত একজন পুরুষ অনেক গুলো নারীর মধ্যে তদ্রুপ একজন নারীও অনেক গুলো পুরুষের আনাগোনার মধ্যে অস্বস্তিবোধ করাটাই স্বাভাবিক) ততক্ষণে প্রায় বাসার গেইটে চলে এসেছি। দুটা গেইট খুলে বাসায় ঢুকতে হয়। ১ম গেইট শুধু খিল লাগানো থাকে আর নিরাপত্তার জন্যে ভেতরের গেইটে সবসময় তালা দেয়া থাকে। তবে বাসার সবার কাছেই এই তালার গণহারে চাবি আছে। যাথারীতি আমি ১ম গেইট শেষে ২য় গেইটটা চাবি দিয়ে খুলে প্রবেশ করছি। দেখি সেই স্কুলপড়ুয়া বাচ্চাটাও আমার পেছনে পেছনে ঢুকবার জন্যে দৌড়ে আসছে। তখন মা ১ম গেইটের আড়ালে দাঁড়িয়ে বলছেন “দাঁড়াও বাবা, আমরা একটু পরে ঢুকবো” আমি জানিনা উনারা একই বাসায় থাকেন আমাদের সাথে। মনে মনে একটু ধাক্কা খেলাম আড়াল দাঁড়িয়ে বাচ্চাকে বারণ করা দেখে। একটু সৎসাহস নিয়ে বললাম ‘ভিতরে ঢুকবেন? আসেন।” মহিলাটি আর বাইরে আড়ালে দাঁড়িয়ে না থেকে বাসায় ঢুকেন, যাওয়ার সময় ছোট্ট একটা শব্দ থ্যাংকস বলে সিঁড়ি বেয়ে উপড়ে চলে যান। ওয়েলকাম শব্দটা শত চেষ্টা করেও কণ্ঠনালীর উপরে আনতে পারি নাই। কারণ আমি পুরুষ, আমাকে দেখে নারী অস্বস্তিবোধ করেন, নিজেকে আড়াল রাখেন। ভীষণ লজ্জা পেলাম। ভাবলাম উনারা চোখে-মনে পুষে রাখেন পুরুষ মানেই হিংস্র জন্তুজানোয়ার।

আমি কি তাহলে অনেক নারীর চোখেই হিংস্র জানোয়ার, পুরুষ বলে? কেমন যেন মন খারাপ লাগছে। আমরা পুরুষেরা নিজেদের কোথায় নিয়ে এসে দাড় করিয়েছি? একবারও কি ভেবে দেখেছি। দেশটা হয়তোবা পুরুষতান্ত্রিক, পুরুষদের সব জায়গাতেই অগ্রাধিকার। তাই বলে আমরা যা খুশি তাই করে বেরাতে পারিনা। এই জিনিসটা আমরা ভুলে গেছি। খুব মন খারাপ হয়ে যায় যখন জাতিগত কারণে আমি কারো ঘৃণার পাত্র হয়ে যাই। পুরুষ হিসেবে আমি খুবই লজ্জিত। মায়ের জাতের সম্মান আমরা কখন করতে পারিনি। সত্যি বলতে আমরা বেশির ভাগ পুরুষরা জানোয়ার। কিন্তু সবাই খারাপ না। যদিও ১০০ এর ভেতর ৯০ ভাগ খারাপ থাকলে তাকে খারাপ বলা যায়। যেই মায়ের থেকে আমাদের সৃষ্টি সেই মায়ের জাতিকে ন্যূনতম সম্মান দেয়ার যোগ্যতা নেই আমদের। বড়ই নিকৃষ্ট আমরা।

লেখকঃ একজন লজ্জিত পুরুষ