ভালোবাসার সাগরে সাঁতরাচ্ছেন কিনা বুঝবেন কি করে?

ভালোবাসার

পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী আর পবিত্র অনুভূতির নাম ভালোবাসা। বাংলায় ভালোবাসা, হিন্দিতে পিয়ার আর উর্দুতে বলা হয় মুহাব্বত। বাবা, মা, ভাই, বোন আর পরিবারকে জন্মের পর থেকেই আমরা ভালোবাসি। কিন্তু মানব জিবনে একটা নির্দিষ্ট বয়সে ভালোবাসার সুরটা যেন পাল্টে যায়। অনেকে তরুণ হওয়ার পরেও এই অনুভূতির সাথে পরিচিত হন না। তাই বুঝতেও পারেন না যে তিনি প্রেমে পরেছেন বা কাউকে ভালবেসেছেন কিনা। তাদের জন্যই আজকের এই লেখা। আশা করি লেখাটি আপনাকে উপকৃত করবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ১- প্রথম দেখা

ভালোবাসার

আপনি প্রথম যেদিন তাকে দেখেছেন সেই দিনের কথা আপনি চাইলেও ভুলতে পারবেন না। সেদিন সে কি পড়ে এসেছিল, কিভাবে কথা বলেছিল, কোন বিষয়ে কথা হয়েছিল সব কিছুই আপনার মনে থাকবে। সেদিনের কথা আজও মনে আসলে আপনার মনে একটা সুন্দর ভালো লাগার অনুভূতি ছড়িয়ে যাবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ২- অবসরে তার স্মৃতি বার বার চোখের সামনে আসবে

ভালোবাসার

একা যখন বসে বই পরছেন তখন হয়ত গল্পের কোন চরিত্র পছন্দ হলে তার সাথে মিলিয়ে ফেলবেন। গান শুনলে তার সাথে কাটানো কোন মুহূর্ত মনে পড়ে যাবে। অবসরে তার কথা ভাবতে আপনার ভীষণ ভালো লাগবে। একা একা হয়তবা তখন হেসেই দিবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৩- সব সময় তাকে সুরক্ষিত দেখতে চাইবেন

ভালোবাসার

আপনার প্রিয় মানুষটি যেন সবসময় সুরক্ষিত থাকে সে ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকতে দেখা যাবে আপনাকে। তার সুবিধা-অসুবিধাটা আপনার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাবে। আপনি চাইবেন তাকে যেন কোনভাবে বিপদ স্পর্শ না করে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৪- গায়ের গন্ধ

ভালোবাসার

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত আপনার পছন্দের মানুষটির গায়ের গন্ধ আপনার অনেক ভালো লাগবে।

এমন হতে পারে তার ঘামের গন্ধ আপনার কাছে খুব প্রিয়। তার ব্যবহৃত জিনিস ব্যবহার করতে আপনার খুব ভালো লাগবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৫- সে অসুস্থ হলে আপনি অনেক বেশি চিন্তিত হয়ে যাবেন

ভালোবাসার

তার ছোট ছোট অসুস্থতা আপনাকে অনেক বেশি চিন্তিত করে ফেলবে। অনেক বার ফোন দিয়ে খোঁজ নেবেন।

যদি তার সাথে কথা বলতে না পারেন তাহলে অন্য কারো মাধ্যমে তার বিষয়ে খোঁজ নেবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৬- তার সামনে নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে চাইবেন

ভালোবাসার

পৃথিবীর অন্য মানুষগুলোর সামনে আপনি কি সেটা আপনার মাথায় আর কাজ করবে না। মাথায় শুধু এটাই থাকবে তিনি আপনাকে কিভাবে দেখছেন।

তার সামনে সব সময় নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৭- মনের সব কথা তাকে বলতে ইচ্ছে করবে

ভালোবাসার

আমাদের মনের ভেতর নানা ধরনের কথা থাকে, সুপ্ত ইচ্ছা থাকে সেগুলো তার সাথে বলতে ভালো লাগবে।

সেটা পূরণ হোক বা না হোক ইচ্ছে করবে তাকে বলতে। তার সাথে আপনার সব পরিকল্পনা ভাগ করতে ভালো লাগবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৮- মানুষটির সাথে সময় পার করলে হিসেব থাকবে না আপনার

ভালোবাসার

অনেক মানুষ আছে যাদের সাথে থাকলে মনে হবে সময় এত বড় কেন? মিনিটকে মনে হয় ঘণ্টার সমান। কিন্তু এই বিশেষ ব্যক্তিটির সাথে সময় কাটালে মনে হবে, সময় অনেক দ্রুত চলে যায়। তার সাথে কথা বলা শেষে ঘড়ি দেখলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৯- অন্য কারো সাথে থাকলে ঈর্ষা অনুভব করবেন

ভালোবাসার

আপনার বিশেষ মানুষটি অন্য কারো সাথে যদি কাজেও একটু ব্যস্ত থাকে তাহলে আপনার ঈর্ষা অনুভূত হবে।

বিপরীত লিঙ্গ হলেই যে সেখানে খারাপ অনুভূতি হবে তা নয়। আপনার মনে হবে এতো টুকু সময় তো আপনার সাথে থাকতে পারতেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ১০- সে যদি আপনাকে নাও ভালোবাসে তবুও তার শুভকামনা করা

ভালোবাসার

সবাই ভালোবাসা চায়, কিন্তু এটা সবার ভাগ্যে থাকেনা। দুর্ভাগ্যবশত আপনার প্রিয় ব্যক্তিটি যদি অন্য কাউকে ভালোবাসে তাহলেও তার প্রতি ভালোবাসা বা শ্রদ্ধা এতোটুকু কমবে না। যদি আপনি তখন প্রতিশোধ নিতে চান অথবা আত্মহত্যার মত ঘৃণ্য কোন পদক্ষেপ নিতে চান তাহলে বলতেই হবে আপনি সত্যিকারের ভালোবাসার দেখা পাননি।

ভালোবাসার লক্ষণ ১১- জীবনকে মনে হবে ছোট আর অনেক দিন বাঁচতে ইচ্ছে করবে

ভালোবাসার

তাকে দেখার পর থেকে মনে হবে জীবন এতো ছোট কেন, এতো দ্রুত সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে কেন। মনে হবে কেন আরও আগে তার সাথে দেখা হল না।

জিবনে তখন বাঁচার কোন কারণ না থাকলেও আপনার খুব বাঁচতে ইচ্ছে করবে। মনে হবে জীবনটা অনেক সুন্দর।

ভালোবাসার লক্ষণ ১২- তার সাথে কোন কথা গোপন রাখতে পারবেন না

ভালোবাসার

কোন কথাই আপনি তার থেকে লুকাতে পারবেন না। তার সাথে কথা ভাগাভাগি করলে আপনি মানসিকভাবে শান্তি পাবেন।

তার বিষয়ে কোন ভুল ধারণা থাকলে অথবা তার বিষয়ে কোন কটু কথা শুনলে তা কখন মনে পুষিয়ে রাখতে পারবেন না।

কারণ আপনি বিশ্বাস করেন সে অনেক ভালো।

আরও অনেক লক্ষণ আছে যেগুলো দিয়ে বোঝা যায় আপনি কাউকে ভালোবাসেন কিনা। আজ কয়েকটি উপায় আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম।

এর ভেতর যদি একটিও মিলে যায় তাহলে কিন্তু আপনি সত্যি সত্যি প্রেমে পরেছেন অথবা অনেক ভালোবাসেন তাকে।

নিজের অনুভূতি সম্পর্কে জানুন। এবং আপনার ভালোবাসার মানুষকে অনেক বেশি ভালোবাসা উপহার দিন।

বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট জিতে ইতিহাস গড়লেন মানুষী ছিল্লার

মানুষী

২০১৭ সালের বিশ্ব সুন্দরীর আসরে মুকুট নিয়ে নিলো ভারতের মানুষী ছিল্লার। ভারতীয় সুন্দরীদের খ্যাতি বিশ্ব ব্যাপী।

সারা বিশ্ব থেকে অংশ নেয়া ১০৮ জন সুন্দরী নির্বাচিত হয়েছিলেন এই প্রতিযোগিতায়। যেখানে মানুষী  ছিল্লার সবাইকে পেছনে ফেলে বাজিমাত করেছেন।

আজ তাই মানুষীর জানা অজানা তথ্য গুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

পরিবার

মানুষী
মানুষীর পরিবার

বাবা মা ডাক্তার হওয়ার সুবাদে মেয়েও সেই পথ অনুসরণ করেছে।

মানুষী সোনেপতের ভগত ফুল সিং গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ফর ওমেনে এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

আর্ত মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়জিত করাই তার একমাত্র লক্ষ্য থাকলেও, মনে মনে বিশ্ব সুন্দরী হওয়ার আশা ছিল ছোট বেলা থেকেই।

তার পিতা ডা. মিত্র বসু ছিল্লার, প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংগঠন এর একজন বিজ্ঞানী। তার মা ডা. নিলাম ছিল্লার, ইনস্টিটিউট অব হিউম্যান ব্রিবেইহিয়ার অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সেস এর স্নায়ুরসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান।

ব্যক্তি জীবন

মানুষী
মানুষের সেবায় কাটিয়ে দিতে চান জীবন

ব্যক্তিগত জীবনে মানুষী একজন সেবিকা হতে চেয়েছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করছেন মেয়েদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয় নিয়ে।

বিনোদন নয় সেবার ব্রতে বিশ্ব সুন্দরী হতে চেয়েছেন তিনি।

মানুষী একজন প্রশিক্ষিত কুচিপুড়ি নৃত্যশিল্পী এবং তিনি প্রশিক্ষিত হয়েছেন বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী দম্পতি রাজা এবং রাধা রেড্ডি এবং কৌশল্যা রেড্ডির নিকট।

ছিল্লার ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামাতেও যোগদান করেছেন।

মানুষীর বিশ্ব সুন্দরী হওয়ার পেছনে যে বক্তব্যটি সাহায্য করেছে

মানুষী
একি ফ্রেমে তিন সুন্দরী

প্রতিযোগিতায় মঞ্চে তার কাছে কোন পেশার মানুষকে সবচেয়ে বেশি টাকা দেওয়া উচিত বলে মনে হয় জানতে চাওয়া হলে, বেশ আবেগ জড়ানো কণ্ঠে মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৭ এর মানুষী বলেন

‘আমার জীবনের সাফলতার পেছনে যার অবদান রয়েছে তিনি হলেন আমার মা। যে কিনা তার অফুরন্ত ভালোবাসা, তার সন্তানদের কেবল দিয়েই গিয়েছেন। আমার মতে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পেশা মাতৃত্ব। আর এই পেশার মানুষকে অগণিত টাকা দিয়েও তার বেতন নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।‘  মানুষীর এই অসাধারণ উত্তর শুনে শুধু বিচারকরাই মুগ্ধ হননি মুগ্ধ হতে হয়েছে বাকী প্রতিযোগীদেরও।

বিশ্ব সুন্দরী শুধু রূপসৌন্দর্য্য দেখে নির্বাচন করা হয়না।

আপনারা শেষ পাঁচ প্রতিযোগীদের যদি দেখে থাকেন তাহলে বুঝতে পারবেন।

সত্যি বলতে এবারের বিশ্ব সুন্দরী হওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্যতা ছিল শুধু মাত্র মানুষীর। যেমন সে কথায়, তেমন  বুদ্ধি মত্তায় আর তেমনি ব্যক্তিত্বে।

সৌন্দর্যের কথা তো না বললেই নয়। হরিয়ানার মানুষী আরও একটি ইতিহাস গড়েছেন।

মানুষী
১৯৬৬ সালে বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট মাথায় রিটা কারিয়া

১৯৬৬ সালে ভারত সর্বপ্রথম বিশ্ব সুন্দরীর তকমা জেতে। সেই সুন্দরীর নাম রিটা কারিয়া। রিটা কারিয়াও একজন মেডিকেল ছাত্রী ছিলেন। প্রায় ৫১ বছর পর মেডিকেল ছাত্রী ছিল্লারও দেশের জন্য ছিনিয়ে এনেছে বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট। অদ্ভুত এক ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করলেন মানুষী।

মানুষী ছিল্লার কি ধরণের খাবার খান এবং কেমন লাইফ স্টাইল ফলো করেন তা আপনাদের সুবিধার জন্য দেয়া হল। চাইলে মেনে নিতে চলতে পারেন।

মানুষী যে ডায়েট মেনে চলতেন

সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস লেবু জল।

মানুষী
নিজেকে ফিট রাখতে মেনে চলেছেন ডায়েট চার্ট

সকালের নাস্তা: ওটন বা হুইট ফ্লেক্স, সঙ্গে দই, বাদাম ও টাটকা ফল।

দুপুরের খাবর: ১-২ টা রুটি বা এক বাটি ভাত, সবজি, সালাত ও রায়তা।

সন্ধেবেলা: ফ্রুট স্মুদি, দই দিয়ে শশা বা গাজর স্টিক।

রাতের খাবার (রাত ৭ টায়): কিনোয়া স্যালাড বা কিনোয়া পোলাওয়ের সঙ্গে সুপ, অথবা চিক পিজ।

রাতে: টাটকা ফল।

পানি: প্রতি দিন তিন লিটার পানি।

সকালে হাঁটা ও হালকা ব্যায়াম: সপ্তাহে ৪-৫ দিন সকালে হাঁটতেন। প্রতি দিন জাম্পং জ্যাক।

ঘুম: যত ব্যস্ততাই থাক রাতে ৮ ঘন্টা ঘুমোতেন মানুষী।

ফোন: রাতে ঘুমোতে যাওয়ার ২ ঘন্টা আগে নিয়ম করে ফোন অফ করতেন মানুষী।

 

ফরিদপুরে পাওয়া গেলো পৃথিবীর সবচেয়ে সস্তা হোটেলের খোঁজ

হোটেল

শায়েস্তা খাঁর আমল শেষ হয়েছে আজ অনেক বছর হল। এখন সেই যুগ নেই যে অল্প টাকায় অনেক কিছু পাবেন।

কিন্তু আমি যদি আপনাকে প্রতি রাত হোটেল ভাড়া ২৬ টাকা বলি আপনি কি বিশ্বাস করবেন? না করলে ঠকবেন।

আসুন জেনে নিন কোথায় এবং কিভাবে পাবেন।

এই অদ্ভুত হোটেলটি আমাদের বাংলাদেশেই আছে। জায়গার নাম ফরিদপুর। হোটেল গুলো পানিতে ভাসমান অর্থাৎ নৌকায়।

পাঁচটি নৌকা নিয়ে এই হোটেলটি তৈরি। নৌকার ভেতর রয়েছে থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থা।

হোটেলের খরচ

প্রতিরাতে বেড পিছু খরচ ২৬ টাকা।

হ্যাঁ ঠিক দেখছেন ২৬ টাকা। খরচের হিসেবে পাচ্ছেন আরও কিছু সেবা। পানি এবং টয়লেটের সুবিধা পাচ্ছেন একদম বিনা মূল্যে।

আপনারা যারা ভ্রমণ পিয়াসি তাদের জন্য সত্যিই এটি একটি স্বর্ণ সুযোগ।

স্থানীয় শ্রমিক শ্রেণীর মানুষেরা এখানে থাকতে আসেন।

কাজের সুবাদে অনেকে থেকে জান কয়েক মাস।

বাসা ভাড়া করলে যেখানে খরচ পরে যায় অনেক বেশি সেক্ষেত্রে এখানে দিন প্রতি ভাড়া গুনলেই থাকতে পারছেন অনায়েশে।

জনপ্রতি থাকছে একটি ছোট্ট লকার। এখানে প্রাইভেট কেবিনও আছে। খরচ কিছুটা বেশি।

রাত পিছু খরচ পরবে ৮৬ টাকা।

মোট ৪০ জনের থাকার ব্যবস্থা আছে এই নৌকা হোটেলে।

২৬ বছর ধরে এই ব্যবসার সাথে যুক্ত আছেন মোঃ মুস্তাফা মিয়ান।

রমরমিয়ে চলছে ব্যবসা। এই হোটেলে আপনি তিন মাস থাকতে পাড়বেন।

এত কম খরচের বিনিময়ে মাথা গোঁজার মতো জায়গা কে হাতছাড়া করতে চায়।

বাংলাদেশের ছোট শহর এবং গ্রামের মানুষেরা ব্যবসার সুবাদে বিভিন্ন এলাকায় আসেন। এখানে আসলে তারা এত সুবর্ণ সুযোগ কখনই হাত ছাড়া করেন না। অন্যান্য হোটেল গুলোতে থাকতে হলে গুণতে হয় বড় অঙ্কের টাকা। কিন্তু মিয়ানের এই নৌকা হোটেল অনেক মানুষের খরচ অনেকাংশেই কমিয়ে দিয়েছে। একটা কথা বলতে ভুলে গেছি এখানে খাবার পাওয়া যায় না। নিজের খাবারের ব্যবস্থা আপনাকেই করতে হবে।

ফরিদপুরের এই “বোট হোটেল” পৃথিবীর সবচেয়ে সস্তা হোটেলের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে।

ওজন বাড়াতে চান? তাহলে দেখে নিন নিয়ম গুলো।

ওজন

 

আমরা নিজেকে অন্যদের সামনে খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার জন্য কত কিছু করি। কে না চায় নিজেকে অন্য জনের সামনে খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরতে?

আমরা অনেকেই ওজন কমানোর জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে আছি। কিন্তু কখনো লক্ষ্য করেছি কি এই পৃথিবীতে এমনও মানুষ আছে যারা ওজন বাড়ানোর জন্য কত কিছুই না করে যাচ্ছে। কিন্তু কোন ভাবেই সফল হচ্ছে না। আর এর পেছনে মূল কারণ হলো আমাদের সঠিক নিয়ম মেনে না চলা। ওজন বাড়ানোর জন্য বেশী কিছু নয় শুধু সঠিক নিয়ম মেনে খাবার খাওয়া দরকার যেন খাবারটি আমাদের শরীরে লাগে। আজ আপনাদের সামনে কিছু সঠিক নিয়ম বা সঠিক উপায় তুলে ধরলাম। আশা করি তা মেনে চললে আপনি খুব কম সময়ে নিজের স্বাস্থ্যের পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

তাহলে আর দেরী কেনো চলুন জেনে নেওয়া যাক উপায় গুলো।

ওজন বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া শুরু করুন

ওজন
স্বাস্থ্য ভালো করতে চাইলে খেতে হবে পুষ্টিকর খাদ্য।

আমরা অনেক সময় স্বাস্থ্য বাড়ানোর জন্য প্রচুর পরিমাণ খাবার খেয়ে থাকি কিন্তু তারপরও আমাদের স্বাস্থ্য বাড়ে না। এর কারণ হলো আমরা নিয়ম মেনে খাবারটি খাচ্ছি না শুধু পেট ভরছি। তাই উপযুক্ত খাবার খেতে হবে। আমাদের শরীরে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণে প্রোটিন, কার্বন ও ফ্যাট এর প্রয়োজন হয় এগুলোর ঘাটতি পড়লে আমাদের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব পড়ে। এর জন্য প্রতিদিন বাদাম আর দুগ্ধজাত খাবার খান। দেহের পেশী গঠনে প্রোটিন যুক্ত খাবার দরকার। এটি শরীরের ওজন বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ মাংস, ডিম, পনির ও পর্যাপ্ত পরিমাণে ভাত, রুটি-আলু গ্রহণ করুন। ওজন বাড়ানোর জন্য বসা ভাতের উপকারিতা অনেক বেশী। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর ক্যালোরি। মাছ, মুরগি এ গুলো প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় রাখুন। টুনা মাছও খেতে পারেন।

তরল জাতীয় খাবার বেশী খান

কিছুক্ষণ পর পর তরল জাতীয় খাবার খান যা আপনার ক্ষুধা বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে এটা মনে রাখা আমাদের খুব জরুরী ভারি খাবার খাওয়ার আগে বা খাবারের মাঝখানে পানি খাওয়া ভালো নয়। কারণ খাবারে মাঝখানে বেশী পানি খেলে আপনার ক্ষুধা নিবারণ হয়ে যাবে তখন ভারি খাবার খাওয়ার ইচ্ছে নষ্ট হয়ে যাবে। তাছাড়া খাওয়ার মাঝে বেশী পানি খেলে খাবার হজমে সমস্যা হয়।

ওজন বাড়াতে ঘন ঘন খাবার খান

আপনি যদি দেহের ওজন বাড়াতে আগ্রহি হয়ে থাকেন তাহলে প্রতিদিন ২-৩ ঘন্টা অন্তর অন্তর ৫ থেকে ৭ বার পরিমিত পরিমাণে খাবার গ্রহণ করুন।

আমরা সাধারণত দিনে ৩ বার খাবার খেয়ে থাকি। আপনি দিনে ৬ বার খাবার গ্রহণ করেন তবে পরিমাণটি যাতে নির্দিষ্ট হয় সে দিকে খেয়াল রাখবেন।

কলা, আম ইত্যাদি ফল বেশী পরিমাণ খেতে হবে। এতে করে আপনার খেতে কোন সমস্যা হবে না। ভাজা খাবার পরিহার করুন। ক্যালোরি যুক্ত খাবারগুলো বেঁছে বেঁছে প্রচুর পরিমাণে খান।

তাজা ও শুকনো ফল এবং বাদাম খান

ওজন
কিছুক্ষণ পর পর বাদাম খেতে পারেন।

দুধের সাথে খেজুর, বাদাম, আম ইত্যাদি খেলে আপনার শরীরের ওজন বাড়াতে পারে।

এছাড়া এই ফল গুলো দুধ ছাড়া খেতে পারেন।

খাবারের তালিকায় নিয়মিত  কিশমিশ ও শুঁকনো ফল দেওয়া গাজরের হালুয়া, ক্ষীর, সেমাই রাখুন।

ফলের জুস

ওজন
ফল খেতে ইচ্ছে না করলে জুস খেতে পারেন।

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বেশী ক্যালোরি যুক্ত ফলের জুস (যেমন আম, আঙ্গুর)  রাখুন।

এসব ফলের জুস আপনার শরীরের ওজন বাড়াবে এবং স্বাস্থ্যকর ক্যালোরি প্রদান করবে।

নিরমিত কলা ও দুধ খাবেন

ওজন
কলা খেলে ওজন বাড়বেই কারণ এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি।

কলা ওজন বাড়ানোর জন্য খুব উপকারী একটা ফল তাই প্রতিদিন ৬-৭ টি কলা দুধের সাথে সকালের নাস্তায় খেতে পারেন।

তাছাড়া প্রতিবার খাবার গ্রহণের পর একটি কলা খেতে পারনে যা আপনার হজম ক্রিয়া বাড়াতে সাহায্য করবে।

বেশী পরিমাণ পানি পান করুন

ওজন
পানি পান করার পরিমাণ বাড়িয়ে দিন।

শরীরকে পরিবর্তন করতে চাইলে শরীরকে আর্দ্র রাখা খুব প্রয়োজন।

তাই প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুন।

প্রতদিন ২-৩ লিটার পানি পান করুন।

পর্যাপ্ত ঘুমান


ঘুম দেহ গঠনের জন্য আবশ্যক তাই প্রতিদিন কম পক্ষে ৭-৮ ঘন্টা ঘুমান। রাতে কখনো দেরী করে ঘুমাবেন না। আবার সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে যান। আপনি যতই খাবার খেয়ে থাকেন তা উপকারে আসবে না। কারণ ঘুমের সময় দেহ কোষ গঠনের কাজ চলে আর ভালো ঘুম না হলে পরিপাক ক্রিয়ায় সমস্যা দেখা যায়।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন

আপনি হয়তো ভাবছেন রোগা পাতলা মানুষের কিসের ব্যায়াম? তাহলে এটা জেনে রাখুন আপনি ভুলের সাগরে বাস করছেন, কিছু বিশেষ ব্যায়ামে আপনার পেশী তৈরি ও ওজন বাড়িয়ে দিবে। ব্যায়াম ক্ষুধা বাড়াতে সাহায্য করে। শরীরকে ফিট রাখতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৪৫ মিনিট ব্যায়াম করুন। হাঁটতে পারেন বা ওজন বাড়ানোর ব্যায়াম গুলো করতে পারেন। এছাড়া আউটডোর খেলায় অংশ গ্রহণ করতে পারেন। শরীরের ওজন বাড়াতে খাবারের তালিকায় উচ্চ ক্যালোরি যুক্ত খাবার রাখতে হবে। তবে এটা মনে রাখেন এই ধরনের বাড়তি ক্যালরি গুলো অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে নিতে হবে। যেসব খাবার প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ যুক্ত সে সব খাবার গুলো খাবেন। এসব খাবার আপনার শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করবে ও ওজন বাড়াবে। এর সাথে দৈহিক ব্যায়াম আপনার দেহের সুস্থ্যতা নিশ্চিত করবে।

আমাদের সমস্যা হল আমরা ২/৩ দিন ঠিক মত চলার পর আবার আগের রুটিন মত চলতে থাকি।

ফলাফল আমরা আমাদের শরীরের কোন পরিবর্তন দেখতে পাই না।

একটা জিনিস সবসময় মনে রাখতে হবে কষ্ট না করলে ভালো কোন ফলাফল পাওয়া যায় না। সুতরাং নিয়ম মেনে চলুন।

আশা করি এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনাদের উপকার হবে।

কোমল পানীয়: এক নীরব ঘাতক

কোমল পানীয়

আমরা বেশীর ভাগ মানুষ আজকাল কম বা বেশী কোমল পানীয় পান করি। বিভিন্ন  স্বাদে বিভিন্ন কোম্পানি বাজারে নিয়ে এসেছে অনেক রকমের পানীয়। এর কারণ কোমল পানীয়র প্রতি মানুষের অনেক বেশী চাহিদা। কোমল পানীয় কে পছন্দ না করে, কে না চায় একটু কোমল পানীয় পান করে গলা ভেজাতে?? এই কোমল পানীয় অনেক সহজলভ্য তাই সবাই কিনতে পারি। কিন্তু আমরা কি জানি এই প্রাণঘাতী পানীয় আমাদের ধীরে ধীরে প্রাণনাশের পথে নিয়ে যাচ্ছে? এটা অনেক লোভনীয় চোখের সামনে বা হাতের নাগালে থাকলে আমরা তার লোভ সামলাতে পারি না। আমাদের জীবনে ভোগ বিলাসিতার চাহিদা কখনো পরিপূর্ণ হয় না। অনেক সময় আমাদের ক্ষণিকের শান্তি বা সামান্যতম সময়ের সুখের জন্য আমরা আমাদের জীবনকে নিজের অজান্তে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেই। আবার দেখা যায় আমরা অনেকেই জেনে শুনে ক্ষতির দিকে পা বাড়িয়ে থাকি খামখেয়ালীপনার জন্য তখন আমরা ভুলে যাই কি করতে যাচ্ছি বা কি হতে যাচ্ছে। আসুন নিজে বাঁচি নিজে সচেতন হই এবং অন্য কে বাঁচাতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই। মরনঘাতী কোমল পানীয় সম্পর্কে জেনে নেই কিছু অজানা তথ্য যা শুনলে আপনি বিশ্বাস করতে পারবেন না এতদিন আপনি কিভাবে প্রতিনিয়ত নিজের ক্ষতি করে যাচ্ছেন। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক ক্ষতিকর দিক গুলোঃ-

এসিডিটি বা অম্লত্বঃ

কোমল পানীয়
কোমল পানীয় অ্যাসিডটি বাড়িয়ে দেয়।

কার্বনেটেড পানীয় গুলো দ্রবীভূত কার্বন ডাই অক্সাইড বহন করে থাকে যার কারণে পাকস্থলীতে গ্যাস তৈরি হয় যখন কোমল পানীয় আপনার পেটে শরীরের তাপমাত্রায় পৌঁছায়। আর পেটে জমে থাকা গ্যাসের কারণে আপনার পেটে ক্ষতের সৃষ্টি করে যা একসময় আপনার পেটের আলসারে পরিণত করতে পারে। অনেক সময় আলসার থেকে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়ঃ

কার্বনেটেড পানীয় খাদ্যে অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করে এ জন্য দেহের ওজন এবং স্থূলতার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। ২০০৭ সালে “আমেরিকান জার্নাল অব পাবলিক হেলথ” এর একটি লেখায় ড.লেনি ভার্টনিয়ান বলেছিলেন যে, কোমল পানীয় পান করার কারণে যে স্থূলতা-ঝুঁকির সৃষ্টি হয়ে থাকে তা শিশু, কিশোর ও পুরুষের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের বেশী হয়। প্রয়োজনের অধিক ওজন বা স্থুলতা টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হাড়ের বাত রোগ সহ অনেক রোগের উৎস হিসেবে কাজ করে থাকে।

কোমল পানীয়
কেউ খেতে বললে আমাদের মানা করা শিখতে হবে।

নগণ্য পুষ্টিকর উপাদান

আমাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণের উপর অনেক বেশী প্রতিকূল প্রভাব ফেলে কার্বনেটেড কোমল পানীয়র ফ্যাট। এ ধরনের পানীয় পান করার কারণে  দেহে প্রোটিন, স্টার্চ, ডায়াবেটিস ফাইবার, ভিটামিন বি-২ এগুলোর মাত্রা আসতে আসতে কমে যাওয়ার  শুরু করে।

দাঁতের ক্ষতের সৃষ্টি করেঃ-

কার্বনেটেড কোমল পানীয় আমাদের দাঁতের ক্ষতি করে থাকে। আমরা যখন মিষ্টি জাতীয় কোমল পানীয় গুলো পান করে থাকি তখন এর মধ্যে অবস্থিত চিনি আমাদের মুখে থেকে যায়। আমাদের মুখে অবস্থিত ব্যাকটেরিয়া চিনি থেকে খাবার সংগ্রহ করে ও রাসায়নিক উৎপাদকের সাহায্যে তা আমাদের দাঁতের শক্ত স্তর (এনামেল) ভেঙে ফেলতে থাকে। পরবর্তিতে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হতে হতে দাঁতের মধ্যে গর্তের সৃষ্টি করে। দাঁত আমাদের শরীরের অমূল্য সম্পদ। শরীরের এই অংশ একবার নষ্ট হলে আর ঠিক হয় না। তাই সময় থাকতে দাঁতের যত্ন নিন। দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝার চেষ্টা করুন।

হাড়ের শক্তি ক্ষয় করেঃ

কোমল বা কার্বনেটেড পানীয় হাড়ের শক্তি কমিয়ে দেয় যা মহিলাদের জন্য সবচেয়ে বেশী ক্ষতিকর। হাড় গঠিত হয় আমিষ, কোলাজেন ও ক্যালসিয়াম দ্বারা। কোমল পানীয়র কার্বনেটেড এসিড হাড়ের এমন উপাদান গুলোর ক্ষতি করে। এ জন্য কোমল পানীয় সব বয়সের মানুষের জন্য ক্ষতিকর তবে মধ্য বয়সের মানুষের জন্য এটি খুবই ক্ষতিকর। কেননা মধ্য বয়সের মানুষের মানে যাদের বয়স ত্রিশ এর উপরে তাদের হাড়ের ঘনত্ব ও পরিমাণ এমনিতেই কমতে থাকে।  “দ্যা আমেরিকান জার্নাল  অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশান” এর পুষ্টি বিজ্ঞানী ড.ক্যাথেরিন টাকার’ বলেন যে সকল মহিলারা কোমল পানীয় পান করেন তাদের চেয়ে যারা পান করে না তাদের পশ্চাৎ দেশের হাড় বেশী দুর্বল হয়ে যায়।

এ লেখাটি যদি আপনি মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে এখন থেকে কোমল পানীয় কে না বলুন। সকল প্রকার কোমল পানীয় কে যতোটুকু পারেন এড়িয়ে চলুন।

আপনার এবং আপনার পরিবারের তথা দেশের মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসুন। আমাদের সাথেই থাকুন।

 

বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করতে পারে

বই

 জ্ঞান ছাড়া প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না আর জ্ঞানের উৎস হলো বই। মানুষ দুই প্রকারের হয় এক জ্ঞানী মানুষ এবং দুই জ্ঞানশূন্য মানুষ।

সত্যিকার অর্থে আমাদের সবার মাঝে কম বেশী জ্ঞান আছে কিন্তু আমরা তার সঠিক চর্চা করতে জানি না। তাই আমাদের মধ্যে এই ধরনের প্রকারভেদ দেখা যায়।জ্ঞানকে প্রসারিত করতে অনেকেই আপ্রাণ চেষ্টা করি কিন্তু মনে কি প্রশ্ন জাগে? সঠিক উপায় কয়জন অবলম্বন করি। জ্ঞান অর্জনের জন্য মানুষের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো বই।বই পড়া ছাড়া একজন মানুষের জীবন ৮০ শতাংশই বৃথা।কেননা বই একজন মানুষকে তার ভিতরে লুকিয়ে থাকা ঘুমন্ত মানুষটিকে জাগিয়ে তোলে, মনের চক্ষু খুলে দেয়, জ্ঞান ও বুদ্ধিকে প্রসারিত ও বিকশিত করে এবং ভিতরে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে।

মনুষ্যত্ব অর্জনের সবচেয়ে বড় ও সঠিক পথ হচ্ছে বই পড়া।

বই পড়ে হারিয়ে যেতে পারেন অদেখা কোন জায়গায়

এটি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে ও অনুভূতিকে সতেজ করে তোলে। বিভিন্ন ধরনের বই বিভিন্ন ধরনের জ্ঞানের সমারোহ বহন করে।

বর্তমানে বাংলাদেশ সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পড়ালেখায় অনেক নতুন নতুন পদ্ধতি চালু করেছে কিন্তু কার্যত কোন উপকার পাওয়া যাচ্ছে না।

এ সমস্যার কারণ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক ত্রুটি রয়ে গেছে এখনো সেটা হচ্ছে পাঠ্য বইয়ের বাহিরে কিছু শিক্ষা দেওয়া হয় না।

আমরা শুধু পাঠ্য বই পড়ি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য আবার পরীক্ষা শেষ হলে কি পড়েছি তা ভুলেও যাই।

তাই আমাদের জ্ঞানের পরিধি সীমাবদ্ধ থেকে যায়। এ জন্য আমাদের পাঠ্য পুস্তক এর পাশাপাশি জ্ঞান মূলক কিছু পড়া উচিৎ যা আমাদের জ্ঞানকে প্রসারিত করতে সাহায্য করবে।

শুধু মানুষ হলেই চলবে না প্রকৃত মানুষ হতে হবে আর নিজেকে জানতে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পড়ার বিকল্প কিছু নেই।

এটি পড়লে শুধু জ্ঞানই বাড়বে না বরং আপনি একটা ভালো বন্ধুও পেয়ে যাবেন নিজেকে সময় দেওয়ার। যে আপনাকে কখনো ছেড়ে যাবে না।

গবেষণায় পাওয়া বই পড়ার উপকারিতা সমূহ

চাপ কমায়ঃ

মানসিক চাপ কমাতে পারে বই

আপনি অনেক বেশী মানসিক চাপে আছেন? চাপে থেকে কি করেন হয়তো কফি পান করেন, একটু হেঁটে আসেন বা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে থাকেন।

সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে- বই পড়া এর চেয়ে বেশী কার্যকর।

গান শোনা, হাঁটাহাঁটি করা বা কফি পান করার চেয়ে বই পড়া খুব দ্রুত মানসিক চাপ কমায়, মনযোগ অন্য দিকে ধাবিত কর, সতেজ অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

মনকে সহানুভূতিশীল করেঃ

বই পড়লে এমন অনুভূতি জাগে মনে হবে গল্পকাহিনীর মত আপনি গল্পের নায়ক বা গল্পের অংশ হয়ে গেছেন।

এটি আমাদের মধ্যে এমন একটা আবেগের অনুভুতি সৃষ্টি করে, তখন আপনি গল্পের সাথে সংযুক্ত হতে শুরু করবেন।

এভাবে যদি নিয়মিত পড়া যায় তাহলে আপনার বাস্তব জীবনকেও প্রভাবিত করবে এবং আপনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক গুলোর প্রতি আরো সহানুভিতিশীল হয়ে উঠবেন।

ইনসমনিয়া থেকে মুক্তিঃ

গবেষণায় এটা প্রমাণিত যে বই পড়া আপনার ঘুম না হওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

যদি আপনি ইনসমনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে বই পড়াই হবে আপনার জন্য কার্যকরি চিকিৎসা।

আপনার ঘুম ফিরিয়ে আনতে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ

ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা যায়- বই পড়া আমাদের দিনে দিনে আরো বেশী তীক্ষ্ণ ও চটপটে করে তোলে।

একটা পড়ে শেষ করার পর বহুদিন পর্যন্ত বইটির ইতিবাচক প্রভাব থেকে যায়।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, কিছু পড়ার সময় মানুষের মস্তিস্ক এমন ভাবে কাজ করে যে তা নিউরোলজিকাল পরিবর্তন ঘটায় ও মেমোরি মাসলকে উজ্জীবিত করে।

বিষণ্ণতা দূর করেঃ

আমরা অনেক বিষণ্ণতা দূর করতে বাজে পথে চলে যাই, বাজে আড্ডা দিয়ে থাকে নেশার পথ খুঁজি। কিন্তু বই পড়া এমন একটা নেশা যা সকল নেশাকে হার মানাতে পারে।

এটি জীবনের মূল লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করে এবং জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেয়।

তাই বিষণ্ণতা দূর করতে আজ থেকে পড়ার অভ্যাস করুন আর এই অভ্যাসকে নেশাতে পরিণত করুন।

বই পড়া নিয়ে মনীষীদের উক্তি

১. ভালো খাদ্য বস্তু পেট ভরে কিন্ত ভাল বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করে। – স্পিনোজা

২. ভালো বই পড়া মানে গত শতাব্দীর সেরা মানুষদের সাথে কথা বলা। – দেকার্তে

৩. অন্তত ষাট হাজার বই সঙ্গে না থাকলে জীবন অচল। – নেপোলিয়ান

৪. প্রচুর বই নিয়ে গরীব হয়ে চিলোকোঠায় বসবাস করব তবু এমন রাজা হতে চাই না যে বই পড়তে ভালবাসে না। – জন মেকলে

৫. আমি চাই যে বই পাঠরত অবস্থায় যেন আমার মৃত্যু হয়। – নর্মান মেলর

৬. একটি ভালো বইয়ের কখনোই শেষ বলতে কিছু থাকে না। – আর ডি কামিং

৭. একটি বই পড়া মানে হলো একটি সবুজ বাগানকে পকেটে নিয়ে ঘোরা। – চীনা প্রবাদ

৮. একজন মানুষ ভবিষ্যতে কী হবেন সেটি অন্য কিছু দিয়ে বোঝা না গেলেও তার পড়া বইয়ের ধরন দেখে তা অনেকাংশেই বোঝা যায়। – অস্কার ওয়াইল্ড

৯. বই হলো এমন এক মৌমাছি যা অন্যদের সুন্দর মন থেকে মধু সংগ্রহ করে পাঠকের জন্য নিয়ে আসে। – জেমস রাসেল

১০. আমাদের আত্মার মাঝে যে জমাট বাধা সমুদ্র সেই সমুদ্রের বরফ ভাঙার কুঠার হলো বই। – ফ্রাঞ্জ কাফকা

১১. পড়, পড় এবং পড়। – মাও সেতুং

১২.জীবনে তিনটি জিনিসের প্রয়োজন- বই, বই এবং বই। – ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

১৩. বই হচ্ছে অতীত আর বর্তমানের মধ্যে বেঁধে দেয়া সাঁকো। – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আসুন একটু হৃদয়ের যত্ন নেই

হার্ট

“প্রায় বুকে চিন চিন করে ব্যথা করে কবির সাহেবের, তিনি ভাবেন এটা গ্যাস্টিকের ব্যথা হয়ত। তাই দুই টাকা দামের একটা গ্যাস্টিকের ট্যাবলেট খেয়ে সাময়িক ভাবে ব্যথা উপশম করেন।“

আমাদের সমাজে এমন কবির সাহেব আছেন হাজারেরও বেশি। হার্ট অ্যাটাকের আগে কেউ ডাক্তার দেখাতে যায় না। বার বার শরীরের প্রয়োজন কে অবহেলা করি আমারা। ফলাফল হার্ট অ্যাটাক নাহয় মৃত্যু। একটা মৃত্যু বা হার্ট অ্যাটাকের চাপ একটা পরিবারকে যে কতটা ভেঙ্গে ফেলে লিখে শেষ করা যাবে না।

আজ তাই চেষ্টা করলাম এই বিষয় অজানা কিছু তথ্য জানাতে। সব শেষে থাকছে একটি সারপ্রাইজ। আসা করি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি নিজ স্বার্থে পড়বেন।

হৃৎপিণ্ড আমাদের দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। মাদার বোর্ড ছাড়া যেমন কম্পিউটার চলে না। তেমনই হৃৎপিণ্ড ছাড়া শরীর চলতে পারেনা। কিন্তু ব্যস্ততার বা অবহেলার কারণে শরীরের এ গুরুত্বপূর্ণ অংশটির যত্ন নেওয়ার কথা ভুলে যাই আমরা। বর্তমান সময়ে পরিবেশ যেভাবে দূষিত হচ্ছে, রোগের বয়স এর পার্থক্য কমে যাচ্ছে। যে কোনো বয়সের মানুষেরই হতে পারে যে কোনো রোগ। বিশেষ করে হার্টের রোগ। একটু সতর্ক হলেই কিন্তু এই সব অসুখ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। হার্টের অসুখের ঝুঁকি আপনার জীবনে একটু কমাতে চাইলে কিছু বিষয় অবশ্যই মানতে হবে।

ধূমপানের অভ্যাস থাকলে ছেড়ে দিন। ধূমপান না করলে আপনার হার্টের অসুখের ঝুঁকিও অনেক কমে যাবে। একটু ব্যায়াম করুন। সময় সুযোগ মতো নিয়ম করে করুন ব্যায়াম। হার্টের অসুখের ঝুঁকি কমবে। আপনার উচ্চতা এবং বয়সের সঙ্গে মানানসই এমন ওজন বজায় রাখুন।

হার্ট
ধূমপান বাদ দিতে না পারলে হৃদরোগ হবেই।

ব্যায়ামের উপকারিতা

১।  দেহে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয় ও কোষগুলোকে অক্সিজেন ব্যবহার করতে সহায়তা করে।

২।  হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে।

৩।  ব্লাডপ্রেশার বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

হার্ট
রক্তচাপ বেশি থাকলে দ্রুত কমানোর ব্যাবস্থা করুন।

৪। হার্ট ফেইলিওরের উপসর্গ কমায়।
৫। হার্টের পাম্প ক্ষমতা বাড়ায়।
৬। মাংসপেশি, অস্থিসন্ধি ও হাড়কে শক্তিশালী করে।
৭। রক্তনালিতে অতিরিক্ত চর্বি বা কোলেস্টেরল জমা হতে দেয় না।
৮। রক্তের সুগারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে ও দেহের কোষের ওপর ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

৯।  শরীরের বাড়তি ওজন কমায়। কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে সহজে ক্লান্ত হওয়া, হাঁপিয়ে যাওয়া ইত্যাদি কমে যায়।

হার্ট
ব্যায়াম শুধু হার্ট না সারা শরীরও ভালো রাখে।

১০। ঘুম স্বাভাবিক ও আরামদায়ক হয়, শারীরিক ও মানসিক অবসাদ দূর হয়।
দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা ও বিষণ্নতা কমে।

দৈনন্দিন ব্যায়াম এমন কিছু ব্যায়াম আছে, যা ঠিক ব্যায়ামের তালিকায় পড়ে না কিন্তু ব্যায়ামের মতোই শরীরে কাজ করে। এতে ব্যায়ামের মতোই উপকার পাওয়া যায়।
সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা, লিফটের ব্যবহার যথাসম্ভব কম করা।

হার্ট
ভুলে যান লিফট আর একসিলেটরের কথা।

অল্প দূরত্বে যেতে হেঁটে যাওয়া।
বাড়িঘর পরিষ্কারের কাজ নিজেই করা।

ভুল ধারণা


বয়স্কদের ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। বয়স্ক, প্রৌঢ় সবারই ব্যায়ামের প্রয়োজন আছে। তবে ব্যায়ামের সময় এত বেশি হাঁপিয়ে ওঠা যাবে না,  যাতে কথা বলতে কষ্ট না হয়।
হার্টের অসুখ হলে ব্যায়াম করা যাবে না। হার্টের সমস্যা হলেও ব্যায়াম করা যাবে। শুধু তাই নয়, ব্যায়াম করতেই হবে। তবে কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ অনুসারে ব্যায়ামের সময়, ধরন ঠিক করে নিতে হবে। এমন স্থানে ব্যায়াম করবেন, যেখানে পরিচিত অনেকেই আছেন।
ব্যায়ামের জন্য জিমে যেতেই হবে। ব্যায়াম করতে হলে জিম বা ব্যায়ামাগারে যেতে হবে এমন কোনো  কথা নেই। তবে কোনো হেলথ ক্লাব বা হাঁটার জন্য বন্ধু বা প্রতিবেশী সঙ্গে  থাকলে ব্যায়ামের নিয়মানুবর্তিতা বজায় থাকে। না হলে আলস্যের কারণে অনেক সময় ব্যায়াম বাদ পড়ে।
ব্যায়াম নিয়মিত করলে খাবার নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নেই। হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালি ভালো রাখতে হলে শুধু ব্যায়াম করলেই হবে না,  তেল ও  চর্বিজাতীয় খাবার,  গরু ও খাসির মাংস, মগজ, ডিমের কুসুম, বেশি মিষ্টি, আইসক্রিম, চকোলেট, ফাস্ট ফুড পরিহার করে ব্যালান্সড ডায়েট খেতে হবে।

কিছু খাবার আছে যা আমরা প্রতিদিন খাই কিন্তু এটা জানিনা যে এগুলো আসলে খাবার এর নামে বিষ।

এর ভেতর এক নাম্বার এ আছে কাঁচা লবণ, চিনি দুধ চা, ঘন ডাল। এই খাবার গুলো হার্টের জন্য নীরব ঘাতক।

কিছু সহজলভ্য ও পরিচিত খাবার আছে যেগুলো আমাদের রক্তনালী পরিষ্কার করে আমাদের হার্ট ভালো রাখে।

পানি

জল চিকিৎসা নামে একটি চিকিৎসা পদ্ধতি জাপানী মেডিকেল বোর্ড খুঁজে বের করেছে যা শতভাগ সুস্থতা প্রদানে সক্ষম বলে দাবি করেন তারা।
সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে চার গ্লাস পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। প্রথম দিকে এটা অনেক বেশি মনে হলেও কিছুদিন এভাবে পানি পান করলে বিষয়টি সহজেই আয়ত্ত হয়ে যায় এবং উপকারও টের পাওয়া যায়। পানি খাওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আর অন্য কিছু মুখে না দেওয়াই ভালো। এ উপায়ের কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং এটি পরিপাক ক্রিয়ার জন্য খুবই উপকারী। গবেষকেরা বলেছেন, সকালে খালি পেটে পানি কেবল পাকস্থলী পরিষ্কারই নয়,  শরীরের  বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি থেকেও বাঁচাতে সাহায্য করে।

শাকসবজি ও ফলমূল

 

হার্ট
শাকসবজি হবে আপনার প্রতিদিনের খাদ্য।

সবজি- শিম,  বরবটি, পিয়াজপাতা, পুঁইশাক, মানকচু, কচুরলতি, রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এগুলো রাখতে পারেন ওষুধ বিবেচনায়ও। মৌসুমি শাকসবজি কিনতে তেমন খরচও হয়না এবং এগুলোতে কীটনাশক কম থাকে।

পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার- প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ক্রমাগতভাবে যুক্ত করতে থাকুন পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণ। এ ক্ষেত্রে কলা এবং মিষ্টি আলুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা।

সবুজ বাহারি সালাদ- খাবারে যদি সবুজ সালাদ থাকে তাহলে আপনার রসনা তৃপ্তির পাশাপাশি হার্টও খুশি থাকবে। তাই বেশি বেশি যুক্ত থাকুন ভিনেগার, জলপাইয়ের তেল কিংবা লেবুর শরবতের সঙ্গে।

আপেল- হার্টের জন্য আপেলকে কার্যকারী ওষুধ বলা যায়। তা ছাড়া কোলেস্টেরলের মাত্রা কম রাখতে আপেল যথেষ্ট উপকারী। যারা প্রতিদিন দুটো আপেল খায়, তাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা অন্যদের থেকে কম থাকে।

হার্ট
প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না।

 

কিছু মজার তথ্য

ডিমের প্রতি ভালোবাসা- যাঁরা বলছেন, বেশি বেশি ডিম খেলে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ে তাঁদের জন্য দুঃসংবাদ। কেননা ব্রাজিলীয়ান গবেষকরা জানিয়েছেন, ডিমের কুসুমে থাকা ভিটামিন ই, বি-১২ এবং ফলেট করোনারি আর্টারিকে পরিষ্কার রাখে। তবে কেউ যদি দিনে চারটি করে ডিম খেতে থাকেন,  তবে তাঁকে এসব গবেষণার কথা ভুলে যেতে হবে।

হার্ট
ডিম খেলে অনেকক্ষণ ক্ষুধা লাগেনা।

অবসাদ কে দিন বিদায়- কোনোভাবেই কাজের ক্লান্তিকে আপনার ওপর চেপে বসতে দেবেন না। এ জন্য মাঝেমধ্যেই অবসাদ দূর করতে আপনার পছন্দকে গুরুত্ব দিন। সুইজারল্যান্ডের এক গবেষণা জানিয়েছে, অবসাদ দূর করার তৎপরতা হৃদযন্ত্রের সংকট কাটায় ৫৭ শতাংশের কাছাকাছি।

বালিশে মাথা রাখুন সময়মতো যাদের অনিদ্রা নামক রাজরোগ আছে,  তারা অন্যদের চেয়ে ৪৫ শতাংশ বেশি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ঘুমের জন্য প্রতিদিন বেশি বেশি শারীরিক পরিশ্রম করার আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

অধিক ঘুম কে বলুন “না”- এমনকি যারা বেশি বেশি ঘুমকাতুরে তাদেরও সাবধান করে দিয়েছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, দিনে ১০ ঘণ্টা কিংবা তার বেশি সময় যাদের ঘুমে কাটে তাদের স্থূলতার পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকে, কমতে থাকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। সুতরাং অধিক ঘুম কে না।

হার্ট
অধিক ঘুম হার্টকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

পান করুন গরুর দুধ গরুর দুধে থাকা লো ফ্যাট হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াবিরোধী কম ঘনত্বসম্পন্ন লিপ্রোপ্রোটিনের হার কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দুধে থাকা ক্যালসিয়াম শরীরে জমে থাকা পুরু চর্বির স্তর কাটতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু দুধচা খাবেন না। বিশেষ করে ভাত খাওয়ার পর দুধচা খাওয়াকে একদম নিষেধ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

হার্ট
সপ্তাহে তিন দিন ননি বিহীন দুধ খাওয়ার অভ্যাস করেন।

গান গাইতেই হবে- হৃৎপিণ্ড ভালো রাখতে গলা ছেড়ে গান গাইতেও উৎসাহিত করেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, দলবদ্ধ সংগীত কিংবা কারাওকে হাসিখুশি রাখে হৃদযন্ত্রকে।

হাসিখুশি থাকতে হবে- হাসিখুশি আর প্রাণবন্ত মুখাবয়ব শুধু স্টাইল বা ফ্যাশন আইকনই আপনাকে করে তুলবে না, বাড়িয়ে দেবে আপনার নীরোগ থাকার প্রবণতাও। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রাণবন্ত উপস্থিতি আপনার অবসাদ ও অভ্যন্তরীণ প্রদাহকে ছুটি দিয়ে দেবে এবং অলিন্দ ও নিলয়ের প্রকোষ্ঠকে সুঠাম রাখবে।

হার্ট
হাসি খুশি থাকলে কোন রোগই দেহে বাসা বাঁধতে পারবে না।

এখন সেই সারপ্রাইজ এর পালা।

এটা এমন একটা রেসিপি যা খুব সহজে ঘরে বসে তৈরি করা যায়। এটি একটি মহা ঔষধ। গবেষণায় দেখা গেছে যারা প্রতিদিন এটি পান করে তাদের হার্ট অ্যাটাক এর ঝুঁকি ৯৭% কম।

সারপ্রাইজ রেসিপি

উপাদান

১। আদা

২। রসুন

৩। আপেল সিডার ভিনেগার(সুপারসপ গুলোতে পাবেন)

৪। লেবু

৫। মধু

প্রণালী

মধু ছাড়া বাকি সবগুলো উপাদানের রস বের করতে হবে। আদা, রসুন, লেবু ও আপেল সিডার ভিনেগার সম পরিমাণ নিতে হবে। এখন একটি পাত্রে সব মিশিয়ে (মধু ছাড়া) চুলায় বসিয়ে দিন। মৃদু আঁচে হাল্কা করে জ্বাল দিন। ২০ মিনিট পর নামিয়ে ফেলুন। এটা কিছুটা হলুদাভ বর্ণ ধারণ করবে। চুলা থেকে নামিয়ে মধু মিশিয়ে নিন (যে পরিমাণ আদা, রসুন, লেবু ও আপেল সিডার ভিনেগার নিয়েছেন মধুও সেই পরিমাণ নিতে হবে)। তারপর ঠাণ্ডা করে সংরক্ষণ করুন ফ্রিজে। আপনি এটি ফ্রিজে ১-২ মাস সংরক্ষণ করতে পারবেন।

খাবারের নিয়ম

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১ টেবিল চামচ ও রাতে ঘুমানোর আগে ১ টেবিল চামচ করে খাবেন। আর ভালো ফলাফল পেতে দুপুরেও খেতে পারেন।

সবাই হৃদয়ের প্রতি যত্নবান হন। যত্নশীল নাহলে হার্ট অ্যাটাকের মত দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

 

 

 

 

 

 

 

ভালোবাসার আগে একটু ভেবে নিতে হবে

ভালোবাসা

তমা(ছদ্মনাম) ও অনির্বাণ(ছদ্মনাম) দুজনই উচ্চশিক্ষিত, ভালপরিবারের, একই ধর্মের এবং ভালো জব করে। তাদের ভেতর একটা ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়। তারা এই সম্পর্কে শুধু ভালোবাসার জন্য আসেনি, ভালোবাসাকে সম্পূর্ণ করে পারিবারিকভাবে বিয়ে করার মত চিন্তাও করেছে। সবাই খুশির মনেই বিয়েটা মেনে নেবে। কিন্তু হঠাৎ যেন কি হয়ে গেলো। অনির্বাণকে তমার বোরিং মানুষ মনে হচ্ছে, মানিয়ে নিতে না পেরে অন্য ছেলেদের সাথে কথা বলে মিলিয়ে দেখেছে আসলেই অনির্বাণ কতোটা বোরিং ছেলে। আর এদিকে বেচারা অনির্বাণ কষ্ট পাচ্ছে তমার ব্যবহার গুলোতে। অনির্বাণ তমার কথার সাথে মানিয়ে নিতে পারছে না আর তমাও পারছে না এভাবে থাকতে, একদিন সব শেষ হয়ে যায়। অনির্বাণ মনে মনে ভেবে নেয় আর না। তমা শেষ চেষ্টা করে কিন্তু তার মত থেকে সরে আসে না।

অবশেষে ব্রেকাপ। এভাবে প্রতিদিন অনেক তরুণ তরুণীর সম্পর্ক শেষ হয়ে যাচ্ছে। শুধু শেষ না এতে যে কতটা মানসিক ক্ষতি হয় তার হিসেব নেই। কাজ করতে ইচ্ছে করেনা, কারো সাথে কথা বলতে ভাল লাগেনা এক কথায় থমকে যেতে চায় চলমান জীবন। জীবনে নতুন কেউ এলে তাকে মানা যায় না, মনে পড়ে যায় আগের সেই মানুষের কথা যার সাথে কাটিয়েছে অনেকগুলো সময়।

ব্রেকাপ
                                                                             ব্রেকাপ

কাউকে ভালোবাসার আগে কি কি বিষয় গুলো খেয়াল রাখা আবশ্যক??

পরিবার ও ধর্ম

পরিবার
                           পরিবার আমাদের জীবনে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ

কাউকে হুট করেই ভালোবেসে ফেললাম তারপর দেখা গেলো তার অথবা আপনার পরিবার থেকে মেনে নিচ্ছে না। অবশেষে ব্রেকাপ, মন ভাঙ্গা, এমন কি আত্মহত্যাও করে ফেলে অনেক মানুষ। তাহলে আমাদের এমন কোন মানুষকে জীবনে আনতে হবে যাকে আমাদের পরিবার মেনে নেয়। যার ধর্মের সাথে আমাদের ধর্ম মেলে কারণ এখন এমন মুসলিম পরিবার আছে যারা হিন্দু বা অন্য ধর্মের মানুষদের সাথে আত্মীয় করবে না এবং হিন্দু পরিবার আছে যারা এসব বিষয়ে আরও বেশী স্পর্শ কাতর। পরিবার এর সাথে নিজের মত মেলার পর ই বিয়ের মত বড় একটা সিদ্ধান্তে নেওয়া উচিৎ কারণ বিয়ে শুধু দুটি মানুষ এর ভেতর সম্পর্ক তৈরি করে না। এখানে দুটি  পরিবার অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত।

সততা

ট্রাস্ট
                                                             সততা সম্পর্কের মূল মন্ত্র

যে কোন সম্পর্কের ভেতর অবশ্যই বিশ্বাস ও সততা থাকতে হবে। কারণ বিশ্বাস না থাকলে কখন কোন সম্পর্ক টিকে থাকে না। “তোমাকে পেলে আমার আর কিছু চাই না” বলার আগে নিজেকেই প্রশ্ন করা দরকার, সত্যিই কি তাই? তাকে পেলেই কি অন্ন, বস্ত্র,  আশ্রয়, অর্থসহ অন্য সব অভাব মিটে যাবে? যায় না। যায় না বলেই যদি এভাবে বলা যায়, “আমার জীবনের সুখকে সমৃদ্ধ করার জন্য তোমাকে চাই”  তাহলেই কি সংলাপ যুক্তিসঙ্গত হয়ে  ওঠে না?
“তোমার চেয়ে বেশি সুন্দর আর কেউ নয়”  তাকে খুশি করার জন্য এ রকম কথা না  বলে যদি বলা হয়, “তোমাকে আমার কাছে ভারি সুন্দর লাগে”  তাহলেই কি তা সত্যতায় অনন্য হয়ে ওঠে না?
“আমি কোনদিন তোমাকে ছেড়ে যাব না”  না বলে,  যদি বলা হয় “যত দিন সম্ভব তোমার কাছেই থাকব’” তবে কী তা মিথ্যা বলা হবে?
“সারাজীবন তোমাকে ভালবাসব”  বলার মতো নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি  কী কেউ কাউকে  দিতে পারেন আসলে?  পারেন না। কারণ মানুষের জীবনের সব কিছুই হচ্ছে বাস্তবতা।  প্রায় সব কিছুই নির্ভর করে অন্য কিছুর উপর। যাকে মানুষ ভালবাসে, তার  প্রতিমুহূর্তের আচরণের ওপর নির্ভর করে,  তাকে কতটা ভালবাসা যায় এবং কতদিন তা স্থায়ী হবে।  তাই  সঠিক হতে হবে সংলাপ।  যদি বলা হয়, “এই মুহূর্তে তোমাকে আমি আমার  সমস্ত অনুভূতি দিয়ে ভালবাসি, এখন এটাই সত্যি”।

ছেলে এবং মেয়ে উভয়কেই তাদের ভালোবাসার মানুষদের কাছে সৎ থাকা উচিৎ। কারণ সততা সব কিছুর উপরে। সততা সম্পর্ক কে ভালো রাখে।

মনের মিল বা মানসিক  ভাবে মিল থাকা

বাচ্চা
    ডিভোর্স বাচ্চাদের জীবনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে।

কোন সম্পর্ক শুরু করার আগে ভাবতে হবে দুজনের মানসিক দিক গুলো মিলে কিনা, তাদের চিন্তা ভাবনার মিল কতটুকু যদি ৫০% ও মিলে যায় তাহলে হয়তো সম্পর্কটা টিকে থাকে কিন্তু যদি ২০% ও না মিলে তাহলে শুধু কম্প্রোমাইজ করেই জীবন কাটাতে হবে, শুরু হবে অশান্তি, ঝগড়া, এক সময় ডিভোর্স। আর যদি এই সম্পর্কে পৃথিবীতে কোন প্রাণ আসে তাহলে তার জীবনটা শেষ হয়ে যাবে সবার আগে।

তাহলে এটা বলা যায় কোন সম্পর্ক শুরু করার আগে অবশ্যই মনের মিল, মানসিক অবস্থা সব কিছু মাথায় রাখতে হবে।

আপনি যখন আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনীর ওপর বিরক্ত, তখন হয়তো সামান্য কারণেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন। এটা আপনার জন্য বুমেরাং হয়ে আসতে পারে। তাই সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে কথা বলার আগে ঠাণ্ডা হয়ে বসে সমস্যাটি নিয়ে ভালভাবে ভাবুন। তারপর তার সঙ্গে কথা বলুন। দেখবেন আসলে সম্পর্ক ততোটা তিক্ত নয়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকগুলো বিষয় ঠিক হয়ে আসতে শুরু করে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিষয়টা অকাট্য সত্য। আপনারা যখন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবেন,  দেখবেন সমাধান হাতের নাগালেই।

তারপর ও বলা যায় না ভালোবাসা স্নিগ্ধ হাওয়ার মত কখন কীভাবে এসে গায়ে লাগে। কিন্তু একটু ভেবে চিন্তে আগাতে দোষ কোথায়।

ভালোবাসা
                          এক সাথে সারাজীবন পার করা

ভালোবাসার পরিসমাপ্তি যেন কখনই ডিভোর্স অথবা ব্রেকাপ নামক শব্দ দিয়ে শেষ না হয়। ভালোবাসার পরিসমাপ্তি যেন শেষ বয়স পর্যন্ত এক সাথেই কাটে।

আমার ভালোলাগা একটি গান দিয়ে শেষ করছি। চাইলে শুনে দেখতে পারেন।

আমার রাতজাগা তারা
তোমার আকাশ ছোয়া বাড়ি
আমি পাইনা ছুঁতে তোমায়
আমার একলা লাগে ভারী…

                                     

                                                                                                         (গান-ভিন দেশী তারা, মুভি-অন্তহীন)

অনিয়মিত ঘুম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

ঘুম

সারা রাত পেঁচার মতো জেগে থেকে কর্মস্থলে এসে ঘুমিয়ে পরছেন। দিনের বেলা রাতের ঘুম পুষিয়ে নিয়ে ভাবছেন, ঘুম তো ঘুম সে দিনে হোক কিংবা রাতে। যাদের ওজন বেশী তারা ভাবেন রাতে কম ঘুমালে হয়তো ওজন কমে যায়। কিন্তু এটা অনেক বড় একটা ভুল। দিনের বেলার ঘুম আপানার স্বাস্থ্য খারাপ করে দেয়। অনিয়মিত ভাবে ঘুমানোর কারণে শরীরের ভেতরেও সৃষ্টি হয় অনিয়ম। বাসা বাধে নানান দুরারোগ্য ব্যাধি। সুতরাং সময় মতো পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে প্রতিদিন। অনেকে বলে রাতে ঘুম আসে না তাদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন পদ্ধতি।

ঘুম না আসার কারণ

অনেক রাত করে খাওয়া

অনেকে আছেন দেরীতে রাতের খাবার খান। দেখা যায় ঘুমানোর আধা ঘণ্টা আগে খেয়ে শুয়ে পরেন। এই কারণে একদিকে আপানার হজম শক্তি কমে যায় অন্য দিকে আপনার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। অবশ্যই ঘুমানোর ৩-৪ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন।

রাত জেগে বই পড়া

বই পড়া অনেক মানুষের শখ। বই পড়া অবশ্যই একটি ভালো কাজ কিন্তু এই ভালো কাজ খুব বেশী রাত জেগে না করাই ভালো। ঘুমের আগে বই পড়ার কারণে আপনার মাথায় বই সম্পর্কিত বিভিন্ন কথা মাথায় আসে এবং তা আপনাকে ঘুমাতে দেয় না। রাতে ঘুমানোর আগে বই পড়া যাবে না। রাত জেগে বই না পড়ে, দিনের বেলায় অথবা সন্ধ্যা বেলা বই পড়ুন।

ঘুমানোর আগে ধূমপান করা

ঘুমানোর আগে ধূমপান করলে নাকি ঘুম আসে। এমন ভুল ধারণা নিয়ে অনেকেই রাতে শোয়ার আগে ধূমপান করেন। কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না সিগারেটে থাকা নিকোটিন আপানার নার্ভগুলোকে চাঙ্গা করে দেয় ফলে ঘুম আসে না।

অধিক রাত পর্যন্ত মোবাইল অথবা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকা

মোবাইল, ল্যাপটপ তো আমাদের নিত্যদিনের বন্ধু। এদের ছাড়া আমাদের চলে না। রাতে ঘুমানোর সময় বেশিরভাগ মানুষের হাতে ফোন থাকে। ফোন নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে ঘুমিয়ে পরব এই ভাবনা নিয়ে থাকে তারা। কিন্তু এই জিনিসটা তাদের আরও বেশী ক্ষতি করে ফেলে। তারা এই জিনসটা বুঝতে পারেনা।

রাতে চা খাওয়া

সন্ধ্যার পর কোন ধরণের চা, কফি খাবেন না। এতে থাকা উপাদন গুলো আপনাকে সজীব করে। রাতে আপনার সজীবতার দরকার নেই, দরকার একটু শান্তির ঘুম।

অনিদ্রা আমাদের কি কি ক্ষতি করে?

মানসিক রোগ

যারা রাত জেগে থাকে অথবা রাতে ঠিক মতো ঘুমায় না তাদের বিভিন্ন ধরণের মানসিক রোগ দেখা যায়। যেমনঃ বিষণ্ণতা, উদ্বিগ্নতা, অস্থিরতা, হেলুসিনেসন ইত্যাদি। এই কারণে মানসিক সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে ঘুমের ওষুধ খেতে বলে।

স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া

সারাদিন আমরা নানান কিছু শিখি। সেগুলো আমাদের ব্রেইন স্মৃতি হিসেবে জমা রাখে। যখন আমরা কম ঘুমাই তখন আমাদের ব্রেইন এই কাজ করতে অক্ষম হয়ে যায়। এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যারা পর্যাপ্ত ঘুমায় তারা রাত জেগে থাকা মানুষের তুলনায় অধিক স্মৃতিশক্তির অধিকারী।

সতর্ক থাকার ক্ষমতা হারায়

এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কেউ যদি রাতে দেড় ঘণ্টা কম ঘুমায় পরের দিন তার সতর্ক থাকার ৩২% সক্ষমতা কমে যায়। এমন অসতর্কতায় মানুষ দুর্ঘটনা করে বসে।

আত্মহত্যার প্রবণতা

যেসকল মানসিক রোগীরা আত্মহত্যা করে তাদের বেশীরভাগ অনিদ্রায় ভুগতেন। গবেষকরা প্রমাণ করেছেন যেই কিশোর-কিশোরীরা ৫ ঘণ্টা ঘুমায় তাদের বিষণ্ণতায় ভোগার সম্ভবনা ৭১%।

ঘুম
পর্যাপ্ত ঘুম আপনাকে রাখবে সজীব

এছাড়াও যেই সমস্যাগুলো হয়

হার্টের সমস্যা

ডায়াবেটিস

ওজন বৃদ্ধি

দেহের বৃদ্ধি কমে যায়

ব্রেস্ট ও ওভারি ক্যান্সার

ক্ষত সারানো

মাথাব্যথা

চুল পাকে

ব্রণ উঠে

 

ঘুম ভালো হওয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি

ঘুমানোর আগে ব্যায়াম করুন

গরম দুধ খান

দুশ্চিন্তা করবেন না

উষ্ণ পানিতে গোসল

ঘুমের আগে ইতিবাচক চিন্তা

ঘরের ভালো আবহাওয়া

ধীরলয়ে সঙ্গীত

ঘড়ির শব্দ বন্ধ করুন

ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠুন

বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত ৭ টি পন্থা যা আপনাকে সব সময় সুখে রাখবে।

বৈজ্ঞানিক

আপনি হয়তো ভাবছেন এটা কি-ভাবে সম্ভব ???

সত্যিই কি সব সময় সুখে থাকা যায় ???

কিভাবে এটা কাজ করে ??

উপরের লেখাটি পড়ার পর এই প্রশ্ন গুলো মাথায় ঘুরপাক খাবে এটাই স্বাভাবিক। এখন সেই ৭ টা পন্থা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো যা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত ।

ব্যায়াম করা

ব্যায়াম হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পন্থা যা একাধারে শরীর আর মন দুইই ভালো রাখতে সাহায্য করে। আপনি যখন ব্যায়াম করবেন তখন আপনার শরীরের কোষ গুলো সতেজ থাকবে আর আপনাকে করে তুলবে প্রাণচঞ্চল। যা আপনার মানসিক বিকাশে সহায়তা করবে। দ্যা ইউনিভার্সিটি অফ টরন্টো তাদের একটি গবেষণায় কিছু দুঃচিন্তা গ্রস্থ মানুষ কে তিনটি গ্রুপে ভাগ করে পরিক্ষা করে দেখলো ১ম গ্রুপ কে দিয়ে প্রতিদিন ব্যায়াম করানো হত, ২য় গ্রুপকে স্বাভাবিক ভাবে জীবন অতিবাহিত করতো এবং ৩য় গ্রুপ দুইটা মিলিত ভাবে করতো। তিন গ্রুপ স্বাভাবিক ভাবে সুখে ছিলেন কিন্তু ৬ মাস পর দেখা গেলে ১ম গ্রুপের ডিপ্রেশন ৯% অন্য গ্রুপ গুলো যথাক্রমে ২য় ও ৩য় ৩৮% থেকে ৩১%। তাই এটা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত যে প্রতিদিন ব্যায়াম আপনাকে মানসিক ভাবে সুস্থ্য রাখতে সাহায্য করবে।

ইতি-বাচক চিন্তা ভাবনা

ইতি-বাচক চিন্তাভাবনা আপনাকে নিজের প্রতি বিশ্বস্ত করে তুলবে। ইতি বাচক চিন্তা আপনার মস্তিষ্কের শক্তি বাড়ায় যা আপনার কাজ করার ক্ষমতা ৩১ গুন বাড়িয়ে দেয়। ধরুন আপনি একটা কাজ করার আগে চিন্তা করলেন কাজ টা অনেক সহজ তার মানে এই না যে সত্যি কাজ টা সহজ ছিলো। আপনার চিন্তা শক্তির প্রবলতার জন্য কাজ টা ৫০% সহজ হয়ে গেলো।

বিরূপ ধারনা বা চিন্তা পরিহার

গবেষণায় দেখা গেছে বিরূপ চিন্তা ভাবনার মানুষ গুলো অনেক বেশী অসুখী হয়ে থাকেন। কারন এক সময় এই মানুষ গুলো নিজের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। ইউনিভার্সিটি অফ মাদ্রিদ তাদের এক গবেষণায় বিরূপ চিন্তা গুলো একটা কাগজে লিখে সে গুলো পুড়ে ফেলত। প্রতিদিন এইভাবে পুড়তে পুড়তে দেখা গেলো এই ধরনে চিন্তা আর থাকে না এবং এটা অনেক বেশী কার্যকর। প্রতিদিন এই কাজ করার জন্য মনবিজ্ঞানীরা পরামর্শ দেন।

প্রতিদিন লিখবেন আপনি কি কি কারনে সুখী

বিজ্ঞানিরা আমাদের মস্তিষ্ক থেকে গবেষণা করে দেখলেন আমাদের খারাপ চিন্তা গুলো যেমন অসন্তোষ, ব্যার্থতা, অনেক বেশী চাহিদা এইসব কারন গুলো আমাদের অসুখী করে তোলে। তাই প্রতিদিন আপনি কি কারনে সুখী সে কারন গুলো কাগজে লিখে রাখবেন। প্রতিদিন কোন না কোন ভাবে মানুষ কে সহায্য করার চেষ্টা করবেন। ঘুম থেকে উঠার সময় তিনটা জিনিস মনে করার চেষ্টা করবেন গতকাল আপনি কি কি ভালো কাজ করেছিলেন এবং সে কাজ গুলো করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছেন। যেমন আপনি আপনার সহকর্মিকে তার কাজে সাহায্য করতে পারেন। তাকে মানসিক সাপোর্ট দিতে পারেন এই কাজ গুলো আপনাকে মানসিক শান্তি দিবে যা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত।

মনোযোগ সহকারে অনুশীলন করা

মনোযোগ সহকারে অনুশীলন বলতে বুঝায় আপনার বর্তমান সময়ের উপর পূর্ণ নজর দেয়া। যখন আপনি এটা প্রতিদিন অনুশীলন করবেন তখন এটা আপনার ব্যাবহার কে নিয়ন্ত্রণ করবে, চাপের মাত্রা কমাতে সাহায্য করবে এবং আপনাকে সুন্দর জীবন অতিবাহিত করতে সাহায্য করবে । আপনার সফলতার উপর মননিবেশ করুন যা আপনাকে অনেক ভালো অনুভূতি দিবে। হার্ভার গবেষক ম্যাট কিলিংসওর্থ  ১৫ হাজার মানুষের উপর গবেষণা করে তা প্রমাণ করেন।

প্রতিদিন নিয়মিত ঘুমানো

নিয়মিত ঘুম একজন মানুষের মস্তিষ্ককে শীতল রাখে যা একটা মানুষকে ভালো উদ্দীপনা দিতে সাহায্য করে। মানুষ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন তার নেতিবাচক ব্যাপার গুলো কম কাজ করে আর এভাবে নিয়মিত ঘুমালে নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা কমে যাবে। ডঃ রবার্ট স্টিকগোল্ড  একদল ছাত্রের উপর গবেষণা করেন। গবেষণায় ছাত্রদের একটা নেতিবাচক শব্দের তালিকা দেন তারপর তাদের তা মনে রাখার জন্য বলেন। যে ছাত্র গুলো নিয়মিত ঘুমাতো তারা মাত্র ৩১% মনে রাখতে পেরেছে আর যারা নিয়মিত ঘুমাতো না তারা ৮১% মনে রাখতে পেরেছে। তাই এই গবেষণা থেকে প্রমাণিত যে নিয়মিত ঘুম একটা মানুষের নেতিবাচক মনোভাব এর উপর প্রভাব ফেলে।

মানুষকে সাহায্য করতে নিজেকে উৎসর্গ করুন

মানুষকে সাহায্য করার মধ্যে যে মানসিক শান্তি থাকে তা অন্য কোথাও থেকে আসেনা। যে মানুষটি অনাহারে দিন কাটাচ্ছে তার মুখে এক মুঠো ভাত তুলে দিয়ে ঐ মানুষটিকে যেভাবে খুশি করতে পারবেন তা অন্য কোথাও পাবেন না। এভাবে ছোটছোট সাহায্য গুলো আপনাকে অনেক বেশী  মানসিক শান্তি দিতে পারবে।