ভালোবাসার সাগরে সাঁতরাচ্ছেন কিনা বুঝবেন কি করে?

ভালোবাসার

পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী আর পবিত্র অনুভূতির নাম ভালোবাসা। বাংলায় ভালোবাসা, হিন্দিতে পিয়ার আর উর্দুতে বলা হয় মুহাব্বত। বাবা, মা, ভাই, বোন আর পরিবারকে জন্মের পর থেকেই আমরা ভালোবাসি। কিন্তু মানব জিবনে একটা নির্দিষ্ট বয়সে ভালোবাসার সুরটা যেন পাল্টে যায়। অনেকে তরুণ হওয়ার পরেও এই অনুভূতির সাথে পরিচিত হন না। তাই বুঝতেও পারেন না যে তিনি প্রেমে পরেছেন বা কাউকে ভালবেসেছেন কিনা। তাদের জন্যই আজকের এই লেখা। আশা করি লেখাটি আপনাকে উপকৃত করবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ১- প্রথম দেখা

ভালোবাসার

আপনি প্রথম যেদিন তাকে দেখেছেন সেই দিনের কথা আপনি চাইলেও ভুলতে পারবেন না। সেদিন সে কি পড়ে এসেছিল, কিভাবে কথা বলেছিল, কোন বিষয়ে কথা হয়েছিল সব কিছুই আপনার মনে থাকবে। সেদিনের কথা আজও মনে আসলে আপনার মনে একটা সুন্দর ভালো লাগার অনুভূতি ছড়িয়ে যাবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ২- অবসরে তার স্মৃতি বার বার চোখের সামনে আসবে

ভালোবাসার

একা যখন বসে বই পরছেন তখন হয়ত গল্পের কোন চরিত্র পছন্দ হলে তার সাথে মিলিয়ে ফেলবেন। গান শুনলে তার সাথে কাটানো কোন মুহূর্ত মনে পড়ে যাবে। অবসরে তার কথা ভাবতে আপনার ভীষণ ভালো লাগবে। একা একা হয়তবা তখন হেসেই দিবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৩- সব সময় তাকে সুরক্ষিত দেখতে চাইবেন

ভালোবাসার

আপনার প্রিয় মানুষটি যেন সবসময় সুরক্ষিত থাকে সে ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকতে দেখা যাবে আপনাকে। তার সুবিধা-অসুবিধাটা আপনার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাবে। আপনি চাইবেন তাকে যেন কোনভাবে বিপদ স্পর্শ না করে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৪- গায়ের গন্ধ

ভালোবাসার

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত আপনার পছন্দের মানুষটির গায়ের গন্ধ আপনার অনেক ভালো লাগবে।

এমন হতে পারে তার ঘামের গন্ধ আপনার কাছে খুব প্রিয়। তার ব্যবহৃত জিনিস ব্যবহার করতে আপনার খুব ভালো লাগবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৫- সে অসুস্থ হলে আপনি অনেক বেশি চিন্তিত হয়ে যাবেন

ভালোবাসার

তার ছোট ছোট অসুস্থতা আপনাকে অনেক বেশি চিন্তিত করে ফেলবে। অনেক বার ফোন দিয়ে খোঁজ নেবেন।

যদি তার সাথে কথা বলতে না পারেন তাহলে অন্য কারো মাধ্যমে তার বিষয়ে খোঁজ নেবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৬- তার সামনে নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে চাইবেন

ভালোবাসার

পৃথিবীর অন্য মানুষগুলোর সামনে আপনি কি সেটা আপনার মাথায় আর কাজ করবে না। মাথায় শুধু এটাই থাকবে তিনি আপনাকে কিভাবে দেখছেন।

তার সামনে সব সময় নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৭- মনের সব কথা তাকে বলতে ইচ্ছে করবে

ভালোবাসার

আমাদের মনের ভেতর নানা ধরনের কথা থাকে, সুপ্ত ইচ্ছা থাকে সেগুলো তার সাথে বলতে ভালো লাগবে।

সেটা পূরণ হোক বা না হোক ইচ্ছে করবে তাকে বলতে। তার সাথে আপনার সব পরিকল্পনা ভাগ করতে ভালো লাগবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৮- মানুষটির সাথে সময় পার করলে হিসেব থাকবে না আপনার

ভালোবাসার

অনেক মানুষ আছে যাদের সাথে থাকলে মনে হবে সময় এত বড় কেন? মিনিটকে মনে হয় ঘণ্টার সমান। কিন্তু এই বিশেষ ব্যক্তিটির সাথে সময় কাটালে মনে হবে, সময় অনেক দ্রুত চলে যায়। তার সাথে কথা বলা শেষে ঘড়ি দেখলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৯- অন্য কারো সাথে থাকলে ঈর্ষা অনুভব করবেন

ভালোবাসার

আপনার বিশেষ মানুষটি অন্য কারো সাথে যদি কাজেও একটু ব্যস্ত থাকে তাহলে আপনার ঈর্ষা অনুভূত হবে।

বিপরীত লিঙ্গ হলেই যে সেখানে খারাপ অনুভূতি হবে তা নয়। আপনার মনে হবে এতো টুকু সময় তো আপনার সাথে থাকতে পারতেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ১০- সে যদি আপনাকে নাও ভালোবাসে তবুও তার শুভকামনা করা

ভালোবাসার

সবাই ভালোবাসা চায়, কিন্তু এটা সবার ভাগ্যে থাকেনা। দুর্ভাগ্যবশত আপনার প্রিয় ব্যক্তিটি যদি অন্য কাউকে ভালোবাসে তাহলেও তার প্রতি ভালোবাসা বা শ্রদ্ধা এতোটুকু কমবে না। যদি আপনি তখন প্রতিশোধ নিতে চান অথবা আত্মহত্যার মত ঘৃণ্য কোন পদক্ষেপ নিতে চান তাহলে বলতেই হবে আপনি সত্যিকারের ভালোবাসার দেখা পাননি।

ভালোবাসার লক্ষণ ১১- জীবনকে মনে হবে ছোট আর অনেক দিন বাঁচতে ইচ্ছে করবে

ভালোবাসার

তাকে দেখার পর থেকে মনে হবে জীবন এতো ছোট কেন, এতো দ্রুত সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে কেন। মনে হবে কেন আরও আগে তার সাথে দেখা হল না।

জিবনে তখন বাঁচার কোন কারণ না থাকলেও আপনার খুব বাঁচতে ইচ্ছে করবে। মনে হবে জীবনটা অনেক সুন্দর।

ভালোবাসার লক্ষণ ১২- তার সাথে কোন কথা গোপন রাখতে পারবেন না

ভালোবাসার

কোন কথাই আপনি তার থেকে লুকাতে পারবেন না। তার সাথে কথা ভাগাভাগি করলে আপনি মানসিকভাবে শান্তি পাবেন।

তার বিষয়ে কোন ভুল ধারণা থাকলে অথবা তার বিষয়ে কোন কটু কথা শুনলে তা কখন মনে পুষিয়ে রাখতে পারবেন না।

কারণ আপনি বিশ্বাস করেন সে অনেক ভালো।

আরও অনেক লক্ষণ আছে যেগুলো দিয়ে বোঝা যায় আপনি কাউকে ভালোবাসেন কিনা। আজ কয়েকটি উপায় আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম।

এর ভেতর যদি একটিও মিলে যায় তাহলে কিন্তু আপনি সত্যি সত্যি প্রেমে পরেছেন অথবা অনেক ভালোবাসেন তাকে।

নিজের অনুভূতি সম্পর্কে জানুন। এবং আপনার ভালোবাসার মানুষকে অনেক বেশি ভালোবাসা উপহার দিন।

কুকুর যখন মানুষের জীবন দানকারী

কুকুর

কুকুর যে মানুষের কত ভালো বন্ধু তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এই কুকুর যখন নিজের জীবন বিপন্ন করে মনিবকে বাঁচাতে যায় তখন তাকে শুধু বন্ধু উপাধিতে সীমাবদ্ধ করা যায় না। আসুন দেখে নেই এমন কয়েকজন বন্ধুকে।

খান বাঁচালো কারলটের জীবন

কুকুর

খান নামের একটি কুকুর কারলট নামের একটি ১৭ বছর বয়সী শিশুকে বিষাক্ত সাপের কামড় থেকে বাঁচায়।

মজার বিষয় খান মাত্র ৭ দিন আগেই ওদের বাসায় আসে। খানকে দত্তক নেয়া হয়।

ছোট্ট কারলটকে যখন সাপটি কামড় দিতে যাবে ঠিক সেই মুহূর্তে খান ওকে ধাক্কা দেয়। আর বিষধর সাপের কামড় লাগে খানের গায়।

বলে রাখা ভালো সাপটি ছিল কিং কোবরা। মন খারাপ করবেন না। খান বেঁচে যায়। তাকে এন্টি-ভেনম দেয়া হয়।

টাটরটট বাঁচালো মৃত্যুপথযাত্রীর জীবন

কুকুর

এখন যে কুকুররের কথা বলবো ওর নাম টাটরটট। পেটনের মা ক্রিস্টি পরিকল্পনা করলেন টাটরটটকে কিছুদিনের জন্য লালন পালন করবেন।

কয়েক সপ্তাহ পর খেয়াল করলেন যে কুকুরটি তার পরিবারের সাথে অনেক সুন্দর সখ্যতা করে ফেলেছে।

একদিন ক্রিস্টি পেটনকে ঘুম পাড়িয়ে অন্য রুমে বসে ছিল। ১/২ ঘণ্টা পর হঠাৎ করে টাটরটট পেটনের রুমের আশেপাশে দৌড়ানো শুরু করল এবং চিৎকার দিতে লাগলো। ক্রিস্টি কোনভাবেই ওকে থামাতে পারল না, যতক্ষণ না ও পেটনের কাছে গেলো। গিয়ে দেখল পেটন খুব ধীরে শ্বাস নিচ্ছে। দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার বলল পেটনের রক্তে সুগারের মাত্রা এতো বেশী কমে গিয়েছিলো যে ও মারা যেতে পারতো। টাটরটট ক্রিস্টির সবচেয়ে ভালো বন্ধু হয়ে গেলো। ক্রিস্টি বলে, এই কুকুর না থাকলে তার সন্তান হয়তো জীবিত থাকতো না।

কুকুর বাঁচালো সুনামি থেকে

কুকুর

বাবু নামের ১২ বছরের এক শিহতজু কুকুর তার ৮৩ বছরের মালিককে সুনামির হাত থেকে বাঁচায়। এটা এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।

হঠাৎ একদিন বাবু তার মালিককে বাইরে নেয়ার জন্য পাগল হয়ে যায়। এমনিতে বাবু বাইরে যেতে বা হাঁটতে পছন্দ করে না।

কিন্তু সেদিন ও তার মালিককে পাহাড়ে পর্যন্ত জোর করে উঠিয়ে নেয়। ওর মালিক যখন পাহাড় থেকে নিচের দিকে তাকায় তখন দেখে সুনামি এসে তার বাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

তার পোষা কুকুর বন্ধুটির জন্য বেঁচে গেলেন তিনি।

কুকুর মনিবের জীবন বাঁচাতে গিয়ে গুলি খেল

কুকুর

কাইলো নামের ১২ বছরের পিটবুল কুকুর। তার মনিবের বাসায় ডাকাত আসে। কাইলো তার মনিবকে বাঁচাতে ডাকাতদের উপর আক্রমণ করে।

ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় কাইলো ওদের পিছু নেয় তখন ওদের কেউ একজন কাইলোর মাথায় গুলি করে।

অলৌকিক ভাবে কাইলোর মাথায় গুলি লাগলেও তা ঘাড়ের পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। ওর মালিক দ্রুত ওকে হাসপাতাল নেয়।

এবং সৃষ্টিকর্তার দয়ায় কাইলো ৩ দিনের মধ্যে হাঁটতে সক্ষম হয়।

ক্যাটরিনা হ্যারিকেন থেকে বাঁচালো মানুষের জীবন

কুকুর

ক্যাটরিনা নামের কালো লেব্রেডর কুকুর হ্যারিকেনে এক মানুষকে ভেসে যেতে দেখল। মানুষটি ডুবে যাওয়ার আগে তাকে টেনে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায় ক্যাটরিনা। ধীরে ধীরে পানি বাড়তে থাকে। ক্যাটরিনা ততক্ষণ চিৎকার করতে থাকে যতক্ষণ না কোন উদ্ধার কর্মীর দল আসে।

জোজো বাঁচিয়েছে নুমুকে

জোজো নামের একটি বাংলাদেশী কুকুর তার মালিককে গ্যাস বিস্ফোরণের হাত থেকে বাঁচায়। বুদ্ধিমান জোজো সবসময় তাঁর মালিকের সাথেই থাকে। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠার পর নুমু (জোজোর মালিক) যখন জোজোর কাছে যায় তখন জোজো তাকে রান্না ঘরে নিয়ে যায়। নুমু রান্না ঘরে গিয়ে আবিষ্কার করেন গ্যাসের চুলা অন করা। শুধু একটি ম্যাচের কাঠি জ্বললেই সেদিন উড়ে যেতো পুরো বাড়ি। জোজোর এতো বড় উপকারে অনেক অনেক কৃতজ্ঞ নুমু। প্রথম ছবিটি জোজো আর নুমুর।

কুকুর পালতে চাইলে জানতে হবে যে বিষয়গুলো

কুকুর

কুকুর অনেকেই পছন্দ করে। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই কুকুর পালতে দেখা যায়। শহরেও দেখা যায় কুকুর পালতে। কিন্তু শহর আর গ্রামের পালার ভেতর পালার মধ্যে পার্থক্য আছে। অনেকেই এখন কুকুরকে ঘরের একজন সদস্য হিসেবে পালেন। তাই একটি কুকুর বাসায় আনার জন্য থাকতে হয় নানান প্রস্তুতি। আজ কথা বলবো তাই নিয়ে।

কুকুর নিয়ে পরিবারের মতামত

বাসায় কুকুর নিয়ে আসার আগে পরিবারের সবার মতামত নিন। কারও আপত্তি আছে কিনা বা কুকুরের কারণে কারও কোনো ধরনের অ্যালার্জির সমস্যা হয় কিনা- সেই সব বিষয়ে জানতে হবে।

পাশাপাশি বাড়িওয়ালা এবং প্রতিবেশীদের মতামতও জেনে নেওয়া জরুরি। কারণ আপনার জন্য কেউ বিরক্ত হলে সেটা ভালো হবে না।

যত্ন নেয়া

পোষা প্রাণীর যত্ন নেওয়ার ব্যপারটি মাথায় রাখতে হবে। আপনার ওদেরকে দেয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় আছে কিনা সেই বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

একটি ছোট শিশুর মতোই একটি কুকুরের যত্ন নিতে হবে।

তাকে সময় দিতে হবে এবং প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এর জন্য যে আলাদা সময় দরকার তা দিতে পারবেন কিনা সেই বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে।

কুকুর পালার জন্য পরিবেশ

যেই পরিবেশে কুকুরকে রাখবেন সেটা খেয়াল করুন। বড় আকারের কুকুরের জন্য প্রচুর জায়গা প্রয়োজন।

তাই অ্যাপার্টমেন্টে পালার জন্য ছোট আকারের কুকুর বেছে নেওয়াই ভালো।

বড় কুকুরকে যদি ছোট জায়গায় রাখেন তাহলে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।

একটি প্রাণীকে পালতে এনে তাকে অসুস্থ করার অধিকার আপনার নেই। সুতরাং অবশ্যই এই দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

চিকিৎসা

সময় করে কুকুরের ভ্যাক্সিন দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। দিনে একবার দাঁত মাজাতে হবে এবং মাসে একবার নখ কেটে দিতে হবে।

যতটা জলদি সম্ভব কুকুরের ‘নিউটার’ বন্ধ্যা করানোর ব্যবস্থাও নিতে হবে। কুকুরের যেন কৃমি না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

গ্রুমিং

গ্রুমিং হচ্ছে কুকুরকে পরিষ্কার করা এবং সৌন্দর্য রক্ষা করা। অনেক কুকুরের লোম লম্বা থাকে সেইক্ষেত্রে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যেন গায়ে উকুন না হয়।

চামড়ায় যেন কোন ইনফেকশন না হয়। নিয়মিত গোসল করাতে হবে। ওদের জন্য আলাদা শ্যাম্পু আছে সেগুলো ব্যবহার করতে হবে।

ক্ষতিকর জিনিস দূরে রাখুন

একটি দুই বছরের মানব শিশুর যেমন বুদ্ধিমত্তা একটি কুকুরেরও তেমন।

কুকুরেরা না বুঝেই সব কিছু মুখে দেয়। তাই ক্ষতিকর জিনিসগুলো কুকুরের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।

খেলতে হবে

প্রতিটি কুকুরকেই দিনের কিছুটা সময় বাইরে খেলাধুলা ও হাঁটাতে নিয়ে যেতে হয়।

আকার অনুযায়ী আধা ঘণ্টা থেকে দিনে সম্ভব হলে দু’বার এদের খেলার সময় দিতে হয়।

এই সময়ও দিতে পারবেন কিনা তা বুঝে নিতে হবে।

বাসায় যেই কুকুরগুলো পালা হয় তাদের অনেক বেশি মনোযোগ লাগে। সুতরাং তাদেরকে অবশ্যই সময় দিবেন।

বিড়ম্বনার আরেক নাম লোকাল বাস

লোকাল বাস

আমাদের জীবিকার তাড়নায় শহর মুখী হতে হয়। নানান রঙের স্বপ্ন নিয়ে আমরা নিজ স্থানের মায়া ছেড়ে দিয়ে অচেনা অজানা একটা জায়গায় পাড়ি দেই। সেই অজানা জায়গাটার নাম হলো শহর। শহর মানেই হাজারো ব্যস্ততার চাপ, ব্যস্ত জীবন, অনেক কোলাহল, কারো হাতে যেন এতটুকু সময় নেই দাঁড়িয়ে থাকার, সবাই নিজ নিজ কাজ নিয়ে জীবনকে টেনে নিতে থাকে সামনের দিকে। পেছনে তাকানোর মত কারো হাতে সময় নেই এ যেন এক অদ্ভুত জীবন। দিন দিন বাড়ছে শহরমুখী মানুষের ঢল। গ্রামে কর্মসংস্থানের অভাব, শহরে কর্ম ক্ষেত্র আর কর্মসংস্থানের সুযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিজের আরাম আয়েশের কথা চিন্তা করে শহরের দিকে ঝুঁকে পড়ছে মানুষ। দিন দিন শহর মুখী জনসংখ্যা বাড়ার কারণে শহর গুলো অনেক বেশী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।
বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক জরিপ অনুযায়ী দেখা যায় ২০০৯ সালে গ্রাম থেকে শহরে আসা মানুষের হাড় ছিলো ২১ দশমিক ৯ শতাংশ, আর সেটি বেড়ে ২০১৩ সালে দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ২ শতাংশে। সম্প্রতি অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে প্রত্যেক মাসে গ্রাম থেকে ঢাকা প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আসছে। এর কারণে বস্তির সংখ্যা বাড়ছে অনেক বেশী।

অন্য দিকে শহর থেকে গ্রামে পাড়ি জমানো মানুষের হার দিন দিন কমছে। এতে শহরে বাড়ছে বিড়ম্বনা। এমন বিড়ম্বনার আরেক নাম হচ্ছে যাতায়াত ব্যবস্থা। সকাল হলেও শুরু হয়ে যায় সকল কর্ম মুখী মানুষের আরেকটা নতুন দিনের অধ্যায়। শহরের রাস্তায় নামে মানুষের ঢল। সবাই ছুটে চলতে থাকে যার যার কর্মস্থলে। কর্মজীবী মানুষের প্রত্যেকটা মিনিটের মুল্য অনেক বেশী। কিন্তু এমন মূল্যবান সময়ের মুল্য যেন দিন দিন শেষ হতে চলছে। কারণটা হলো যাতায়াত ব্যবস্থা।

লোকাল বাস
শহরের যান্ত্রিক জীবন

আমাদের কয়জনের সামর্থ্য আছে নিজের গাড়ী নিয়ে অফিসে যাওয়ার? এমন মানুষের সংখ্যা খুবই নগণ্য। তাই আমাদের বেশীর ভাগ মানুষকে লোকাল বাস গুলোর প্রতি নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এখানেই সেই ভোগান্তির শুরু। শহরে চলাচলকারী বাস গুলো সিটি বাস নামে পরিচিত। জরাজীর্ণ অনেক দিনের ভাঙ্গা পুরাতন বাস মানেই সিটি বাস। সিটি বাসের সংখ্যা বেশী থাকলেও ভোগান্তির অন্ত নেই। সিটি বাসের নিয়ম হল যাত্রী দাড়িয়ে নেয়া যাবে না। কিন্তু বাসগুলো এখন লোকাল বাসের মতো। আমরা সময়ের কথা চিন্তা করে একই বাসে অনেক মানুষ উঠে পড়ি। কষ্ট হবে জেনেও সময়ের মুল্য দিতে আমাদের তা করতে হচ্ছে। আর এই সুযোগ গুলো কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যাচ্ছে বাস মালিকরা। ভাড়ায় অনিয়ম চলছে অনেক বেশী কিন্তু সেবার মান অনেক নিম্ন। সিটি বাস গুলো তে সব চেয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে মহিলারা। প্রত্যেকটা বাসে নির্দিষ্ট্য সংখ্যক সিট মহিলাদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও সেটা মেনে চলছে না কেউ। আর এতে করে অনেক বেশী সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শহরের বিভিন্ন শ্রেণীর মহিলাদের। অনেক সময় মা বোনদের যৌন হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে। পকেটমার এর হার বাড়ছে কারণ একই বাসে অনেক বেশী ভিড় থাকা সুবাধে সুবিধা পেয়ে যাচ্ছে পকেটমার থেকে শুরু করে লম্পটেরা।

সিটি বাস গুলোর মধ্যে সিটিং সার্ভিস এর নামে চলছে অধিক ভাড়া হাতানোর রমরমা ব্যবসা। নির্দিষ্ট বাস স্টপিস থাকা সত্যেও যেখানে সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী উঠায় নামায়। নির্দিষ্ট সিটের বাহিরে দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানো হয়ে থাকে। এতে যাত্রীদের অনেক বেশী সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এসময় মমতাজের একটি গানের কয়েকটা লাইন মনে পড়ছে-

বন্ধু তুই লোকাল বাস বন্ধু তুই লোকাল বাস
আদর কইরা ঘরে তুলস ঘাড় ধইরা নামাস

উঠানোর সময় তারা ভালোভাবেই উঠান। নামানোর সময় অনেক হেল্পার আছে ধাক্কা দিয়ে নামায়। ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক দুর্ঘটনা। ট্রাফিক আইন মেনে চলছে না অনেক বাস। এতে শহরে প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকে। আর আমাদের মূল্যবান সময় গুলো নষ্ট হয়ে থাকে। সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও অনেক অসাধু সুবিধা লোভী মহলের জন্য কোন কিছুই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। নিম্ন মানের বাস গুলো বন্ধ করার নিয়ম থাকলেও সে গুলো দিনের পর দিন চলছে। বন্ধ করার নিয়ম চালু করার সময় সব লাইসেন্স বিহীন এবং চলাচল অযোগ্য বাসগুলো লুকিয়ে ফেলা হয়। যেগুলো পুলিশের কাছে ধরা পরে সেগুলো টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে এনে কিছুদিন পর আবার রাস্তায় চালানো শুরু করে বাস কর্তৃপক্ষ। এসকল অনিয়ম শহরের মানুষ গুলোকে হাঁপিয়ে তুলছে তবুও কিছু করার নেই বলে এভাবেই চলতে হচ্ছে প্রতিদিন। এ নিয়ে থাকছে আরও লেখা। জানতে হলে আমাদের সাথেই থাকুন।

 

বলা হয়নি তোমাকে অনেক ভালোবাসি মা

মা

আমি আইজ মির্জা একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যয়নরত। আমার এতো দূর আসতে অনেক ঝড়, বাধা, সংগ্রাম পার করতে হয়েছে। একটা জীবনের প্রতিটা সময়ের হিসাব কিভাবে কষতে হয় তা আমি জানি বা আমার মত যারা তারাই কেবল জানে। জীবনের প্রতি পদক্ষেপে পা রাখার জন্য চিন্তা করতে হতো এবার না আমাকে আবার পিছলে পরতে হয়। জীবন মানে হলো লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য দৌড়ানো। যদি হোঁচট খেয়ে পড়ে যান তবে যেখান থেকে হোঁচট খেয়ে পড়ছেন সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার দৌড় শুরু করা। যাই হোক এভাবে জীবনের অনেকটা পথা পাড়ি দিয়েছি হয়তো বা আরো দিতে হবে।

যখন খুব ছোট ছিলাম বোঝার মত বয়স হয়নি তখন জীবনের দু’টি মূল্যবান জিনিসের মধ্যে একটি হারাতে হয়। ঐ সময় বুঝতে পারিনি হারানোর ব্যাথা এবং কি হারালাম তার মর্যাদা।

মা
মা বাবা একটি সুখী পরিবারের দুটি প্রাণ।

ধীরে ধীরে যখন বুঝতে শুরু করি তখন টের পেতে থাকি ঐ মানুষটার অভাব। কিন্তু তখন পুরোপুরি বুঝতে দেয়নি আমার মা। তিনি একাধারে বাবা-মা দুজনের দায়িত্ব পালন করতেন। সারাদিন কাজের ব্যস্ততার মাঝে থেকেও আমাকে আমার বাবার অভাব অনুভব করতে দেননি। আমি এমন ছিলাম যে আমার মাকে না দেখলে মনে হতো আমি কোথায় আছি এখন?

মা
মা ছাড়া আমার পৃথিবী অন্ধকার।

মাকে ছাড়া পুরো পৃথিবীতে অন্ধকার নেমে আসতো। এক মুহূর্তের জন্যও ভাবতে পারতাম না উনাকে ছাড়া আমি থাকবো। এতোটাই স্বার্থপরতা কাজ করতো আমার ভিতর। এভাবে বাড়তে পারতো আমার বয়স আরো কতশত দিন কাটাতে পারতাম আমার মা জননীর সাথে। কিন্তু সেটাও বেশী দিন স্থায়ী হলো না। বাবা চলে যাওয়ার মাত্র দেড় বছর পর কোন এক অজানা কারণে জীবন থেকে হারিয়ে যায় আমার সেই মমতাময়ী মা। আমাকে এতো ভালোবাসতো কিন্তু যাওয়ার সময় একবারের জন্যও বলে যায়নি বাবা আমি চলে যাচ্ছি তুই নিজের খেয়াল রাখিস, যত্ন নিস, সময় মত খাবার খেয়ে নিস, বেশী দুষ্টামি করিস না, সন্ধ্যার আগে বাসায় ফিরে আসবি, ঠিক মত পড়াশুনা করবি। আমি দূর থেকে তোর ভালো থাকা দেখে শান্তি পাবো। একবারো ভাবেনি আমার বুকের মানিকটা কিভাবে একা একা নিজের জীবনটা গুছিয়ে নিবে, পারবে তো আমার মানিকটা??!!

মা
যার মা নেই সে সব সুখ থেকে বঞ্চিত।

হয়তো উনার ভালো থাকাটা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ ছিলো আমার ভালো থাকার চেয়ে। কত যায়গায় যেতাম অনেক খুঁজেছি প্রতিদিন ভাবতাম আজ হয়তো আমার মা আমাকে দেখতে চলে আসবে আমিও উনাকে আবার দেখতে পাবো। কিন্তু দেখা আর হয়ে উঠলো না। রাস্তা যখন হাঁটতাম তখন সবার মায়ের মুখে তাকিয়ে থাকতাম উনাদের মাঝে মাকে খুঁজে বেড়াতাম। সবার মা যখন রাতে দুধের গ্লাস নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে বাবা পুরোটা খেয়ে নে, না হয় তুই পড়ালেখায় মন দিতে পারবি না আর তখন আমার রাতের খাবারে পেট ভরেছে কিনা তা জানার মত কেউ ছিলো না। সকালে সবার মা নাস্তা নিয়ে রেডি আর চিন্তা করে আমার ছেলে কিভাবে না খেয়ে পড়াশুনা করবে সারাদিন বাহিরে থাকবে, কি না কি খাবে এসব নিয়ে চিন্তায় ব্যস্ত তখন আমার ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিয়ে স্কুলে পাঠানোর মত কেউ ছিলো না। একটা সন্তান তার সব কিছু মায়ের কাছে কোন সমস্যা ছাড়াই বলতে পারে দুঃখ ভাগ করে নিতে পারে। কিন্তু কোন কারণে যদি আমার মন খারাপ হতো কারো কাছে বলার মত মানুষ ছিলো না। তখন হয়তো কোন দুষ্টামি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যেতাম আর সব ভুলে যেতাম। তাই সব কিছু ভিতরে রাখতে রাখতে আর হালকা হয়ে উঠা হয়নি অনেক বেশী গম্ভীর হতে থাকি।

মা
দুঃখগুলো কেউ বুঝবে না মা ছাড়া।

এভাবে চলতে থাকলো জীবন। আমারও বয়স বাড়তে থাকে একা একা হীনমানসিকতা আমাকে ঘিরে ধরে। একটা মানুষ অনেক কিছু শিক্ষা গ্রহণ করে তার পরিবার থেকে আর পরিবারের প্রধান শিক্ষক হলো মা কারণ বাবা তার পেশা নিয়েই পড়ে থাকে খুব বেশী সময় দিতে পারে না কিন্তু মা তার পরিবারকে ধরে রাখে সন্তান কে সঠিক পথ প্রদর্শন করে। যখন একটা মানুষ তার দুই অংশ থেকে বিতাড়িত বা বঞ্চিত হয় তখন নিজেকে সামলে নিতে অনেক কষ্টকর হয়ে পড়ে। এখান থেকে অনেকে কেটে উঠতে পারে আবার অনেকে ঝরে পড়ে। এভাবে হারানোর ভয়টা বাড়তে থাকে আর বাড়তে বাড়তে এমন হয়ে গেছে যে আমি আমার জীবনে প্রতিটা মানুষকে হারানোর ভয় কাজ করে। আর ভয়টাই আমার হারানোর আরকেটা কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি আমার মাকে অনেক বেশী ভালোবাসি যার জন্য আমি পাগল ছিলাম আর সেই ভালোবাসা শুধু ভিতরেই রেখে দিয়েছি প্রকাশ করতে পারিনি।

মা খুবী ছোট একটা শব্দ কিন্তু এই ছোট শব্দের টানটা নাড়ী থেকে উৎপন্ন হয়। “মা” আওয়াজটি কানে প্রবেশ করলেই যেনো মনের ভিতরে মায়া ভালোবাসার মাত্রা অসম্ভব ভাবে বেড়ে যায়। এর ভার এতই বেশী যে অন্য কোন মানুষের তা বইবার সামর্থ্য নেই এবং সে ক্ষমতা অন্য কাউকে দেওয়াও হয় নি। মায়েদের কোন জাতে ভাগ করা যায় না “মা মানেই মা”। একজন মা তার সন্তানকে মমতা আর ভালোবাসার রক্ষাকারী দেওয়ালের মত সব সময় ঘিরে রাখে যাতে বাহ্যিক কোন আঘাত তার সন্তানের উপর হানা দিতে না পারে।

মা
মা চান তাঁর সন্তান সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় থাকবে।

আপনি যখন অন্যায় বা ভুল পথে পা বাড়াবেন তখন আপনার কাছের মানুষ গুলো একবার, দুইবার, তিনবার বা তার চেয়ে বেশী বার পথ দেখাবে কিন্তু এক সময় তারা সহ্য না করতে পেরে আপনার উপর রাগ করে আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে। অন্য দিকে দয়ার সাগর “মা” আপনাকে তার শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত আপনার সব কিছু কে সামলে রেখে আপনার পাশে থেকে যাবে আর আল্লাহ্‌র কাছে কাঁদতে থাকবে আপনার জন্য। কোথাও খুঁজে পাবেন না এমন মানুষ শত হাহাকার করলেও পাওয়া যাবে না। যদি পৃথিবীতে নিঃস্বার্থ ভালো কেউ বেসে থাকে তিনি হলেন মা জননী। অনেক কনকনে শীতের রাতেও আপনার ভেজা কাঁথাটি নিজে গায়ে না দিয়ে নিজের গরম কাঁথাটি আপনার গায়ে দিয়ে দিতেন, তিনিই হলেন সে দরদী মা যিনি নিজের আরামের কথা চিন্তা না করে তার আদরের মানিকটা কে যত্নে রাখতেন। একমাত্র একজন মানুষ এই ধরার বুকে আপনাকে ঠকাবে না তিনি আর কেউ নয় মা। কারণ মা আপনাকে তিলে তিলে নিজে কোটি বার কষ্ট সহ্য করে আপনাকে পৃথিবীতে নিয়ে এসেছেন, আর যাই হয়ে যাক সে মা আপনার প্রতি তার মায়ার দেয়াল ভাঙতে দিবে না।
মাকে কোথাও হারাতে দিবেন না। কারণ হারালেই বুঝবেন মা কেমন জিনিস। সে আপনাকে যেভাবে যত্ন করে মানুষ করেছে ঠিক সেভাবে তাকে যত্ন করে ধরে রাখবেন। মায়ের ভালোবাসা পেতে যেমন আনন্দ লাগে দেখবেন তাঁকে ভালোবাসা দিলেও মনে শান্তি লাগে। পৃথিবীর সব মাকে শ্রদ্ধা জানাই।

বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করতে পারে

বই

 জ্ঞান ছাড়া প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না আর জ্ঞানের উৎস হলো বই। মানুষ দুই প্রকারের হয় এক জ্ঞানী মানুষ এবং দুই জ্ঞানশূন্য মানুষ।

সত্যিকার অর্থে আমাদের সবার মাঝে কম বেশী জ্ঞান আছে কিন্তু আমরা তার সঠিক চর্চা করতে জানি না। তাই আমাদের মধ্যে এই ধরনের প্রকারভেদ দেখা যায়।জ্ঞানকে প্রসারিত করতে অনেকেই আপ্রাণ চেষ্টা করি কিন্তু মনে কি প্রশ্ন জাগে? সঠিক উপায় কয়জন অবলম্বন করি। জ্ঞান অর্জনের জন্য মানুষের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো বই।বই পড়া ছাড়া একজন মানুষের জীবন ৮০ শতাংশই বৃথা।কেননা বই একজন মানুষকে তার ভিতরে লুকিয়ে থাকা ঘুমন্ত মানুষটিকে জাগিয়ে তোলে, মনের চক্ষু খুলে দেয়, জ্ঞান ও বুদ্ধিকে প্রসারিত ও বিকশিত করে এবং ভিতরে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে।

মনুষ্যত্ব অর্জনের সবচেয়ে বড় ও সঠিক পথ হচ্ছে বই পড়া।

বই পড়ে হারিয়ে যেতে পারেন অদেখা কোন জায়গায়

এটি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে ও অনুভূতিকে সতেজ করে তোলে। বিভিন্ন ধরনের বই বিভিন্ন ধরনের জ্ঞানের সমারোহ বহন করে।

বর্তমানে বাংলাদেশ সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পড়ালেখায় অনেক নতুন নতুন পদ্ধতি চালু করেছে কিন্তু কার্যত কোন উপকার পাওয়া যাচ্ছে না।

এ সমস্যার কারণ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক ত্রুটি রয়ে গেছে এখনো সেটা হচ্ছে পাঠ্য বইয়ের বাহিরে কিছু শিক্ষা দেওয়া হয় না।

আমরা শুধু পাঠ্য বই পড়ি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য আবার পরীক্ষা শেষ হলে কি পড়েছি তা ভুলেও যাই।

তাই আমাদের জ্ঞানের পরিধি সীমাবদ্ধ থেকে যায়। এ জন্য আমাদের পাঠ্য পুস্তক এর পাশাপাশি জ্ঞান মূলক কিছু পড়া উচিৎ যা আমাদের জ্ঞানকে প্রসারিত করতে সাহায্য করবে।

শুধু মানুষ হলেই চলবে না প্রকৃত মানুষ হতে হবে আর নিজেকে জানতে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পড়ার বিকল্প কিছু নেই।

এটি পড়লে শুধু জ্ঞানই বাড়বে না বরং আপনি একটা ভালো বন্ধুও পেয়ে যাবেন নিজেকে সময় দেওয়ার। যে আপনাকে কখনো ছেড়ে যাবে না।

গবেষণায় পাওয়া বই পড়ার উপকারিতা সমূহ

চাপ কমায়ঃ

মানসিক চাপ কমাতে পারে বই

আপনি অনেক বেশী মানসিক চাপে আছেন? চাপে থেকে কি করেন হয়তো কফি পান করেন, একটু হেঁটে আসেন বা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে থাকেন।

সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে- বই পড়া এর চেয়ে বেশী কার্যকর।

গান শোনা, হাঁটাহাঁটি করা বা কফি পান করার চেয়ে বই পড়া খুব দ্রুত মানসিক চাপ কমায়, মনযোগ অন্য দিকে ধাবিত কর, সতেজ অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

মনকে সহানুভূতিশীল করেঃ

বই পড়লে এমন অনুভূতি জাগে মনে হবে গল্পকাহিনীর মত আপনি গল্পের নায়ক বা গল্পের অংশ হয়ে গেছেন।

এটি আমাদের মধ্যে এমন একটা আবেগের অনুভুতি সৃষ্টি করে, তখন আপনি গল্পের সাথে সংযুক্ত হতে শুরু করবেন।

এভাবে যদি নিয়মিত পড়া যায় তাহলে আপনার বাস্তব জীবনকেও প্রভাবিত করবে এবং আপনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক গুলোর প্রতি আরো সহানুভিতিশীল হয়ে উঠবেন।

ইনসমনিয়া থেকে মুক্তিঃ

গবেষণায় এটা প্রমাণিত যে বই পড়া আপনার ঘুম না হওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

যদি আপনি ইনসমনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে বই পড়াই হবে আপনার জন্য কার্যকরি চিকিৎসা।

আপনার ঘুম ফিরিয়ে আনতে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ

ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা যায়- বই পড়া আমাদের দিনে দিনে আরো বেশী তীক্ষ্ণ ও চটপটে করে তোলে।

একটা পড়ে শেষ করার পর বহুদিন পর্যন্ত বইটির ইতিবাচক প্রভাব থেকে যায়।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, কিছু পড়ার সময় মানুষের মস্তিস্ক এমন ভাবে কাজ করে যে তা নিউরোলজিকাল পরিবর্তন ঘটায় ও মেমোরি মাসলকে উজ্জীবিত করে।

বিষণ্ণতা দূর করেঃ

আমরা অনেক বিষণ্ণতা দূর করতে বাজে পথে চলে যাই, বাজে আড্ডা দিয়ে থাকে নেশার পথ খুঁজি। কিন্তু বই পড়া এমন একটা নেশা যা সকল নেশাকে হার মানাতে পারে।

এটি জীবনের মূল লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করে এবং জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেয়।

তাই বিষণ্ণতা দূর করতে আজ থেকে পড়ার অভ্যাস করুন আর এই অভ্যাসকে নেশাতে পরিণত করুন।

বই পড়া নিয়ে মনীষীদের উক্তি

১. ভালো খাদ্য বস্তু পেট ভরে কিন্ত ভাল বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করে। – স্পিনোজা

২. ভালো বই পড়া মানে গত শতাব্দীর সেরা মানুষদের সাথে কথা বলা। – দেকার্তে

৩. অন্তত ষাট হাজার বই সঙ্গে না থাকলে জীবন অচল। – নেপোলিয়ান

৪. প্রচুর বই নিয়ে গরীব হয়ে চিলোকোঠায় বসবাস করব তবু এমন রাজা হতে চাই না যে বই পড়তে ভালবাসে না। – জন মেকলে

৫. আমি চাই যে বই পাঠরত অবস্থায় যেন আমার মৃত্যু হয়। – নর্মান মেলর

৬. একটি ভালো বইয়ের কখনোই শেষ বলতে কিছু থাকে না। – আর ডি কামিং

৭. একটি বই পড়া মানে হলো একটি সবুজ বাগানকে পকেটে নিয়ে ঘোরা। – চীনা প্রবাদ

৮. একজন মানুষ ভবিষ্যতে কী হবেন সেটি অন্য কিছু দিয়ে বোঝা না গেলেও তার পড়া বইয়ের ধরন দেখে তা অনেকাংশেই বোঝা যায়। – অস্কার ওয়াইল্ড

৯. বই হলো এমন এক মৌমাছি যা অন্যদের সুন্দর মন থেকে মধু সংগ্রহ করে পাঠকের জন্য নিয়ে আসে। – জেমস রাসেল

১০. আমাদের আত্মার মাঝে যে জমাট বাধা সমুদ্র সেই সমুদ্রের বরফ ভাঙার কুঠার হলো বই। – ফ্রাঞ্জ কাফকা

১১. পড়, পড় এবং পড়। – মাও সেতুং

১২.জীবনে তিনটি জিনিসের প্রয়োজন- বই, বই এবং বই। – ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

১৩. বই হচ্ছে অতীত আর বর্তমানের মধ্যে বেঁধে দেয়া সাঁকো। – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আসুন একটু হৃদয়ের যত্ন নেই

হার্ট

“প্রায় বুকে চিন চিন করে ব্যথা করে কবির সাহেবের, তিনি ভাবেন এটা গ্যাস্টিকের ব্যথা হয়ত। তাই দুই টাকা দামের একটা গ্যাস্টিকের ট্যাবলেট খেয়ে সাময়িক ভাবে ব্যথা উপশম করেন।“

আমাদের সমাজে এমন কবির সাহেব আছেন হাজারেরও বেশি। হার্ট অ্যাটাকের আগে কেউ ডাক্তার দেখাতে যায় না। বার বার শরীরের প্রয়োজন কে অবহেলা করি আমারা। ফলাফল হার্ট অ্যাটাক নাহয় মৃত্যু। একটা মৃত্যু বা হার্ট অ্যাটাকের চাপ একটা পরিবারকে যে কতটা ভেঙ্গে ফেলে লিখে শেষ করা যাবে না।

আজ তাই চেষ্টা করলাম এই বিষয় অজানা কিছু তথ্য জানাতে। সব শেষে থাকছে একটি সারপ্রাইজ। আসা করি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি নিজ স্বার্থে পড়বেন।

হৃৎপিণ্ড আমাদের দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। মাদার বোর্ড ছাড়া যেমন কম্পিউটার চলে না। তেমনই হৃৎপিণ্ড ছাড়া শরীর চলতে পারেনা। কিন্তু ব্যস্ততার বা অবহেলার কারণে শরীরের এ গুরুত্বপূর্ণ অংশটির যত্ন নেওয়ার কথা ভুলে যাই আমরা। বর্তমান সময়ে পরিবেশ যেভাবে দূষিত হচ্ছে, রোগের বয়স এর পার্থক্য কমে যাচ্ছে। যে কোনো বয়সের মানুষেরই হতে পারে যে কোনো রোগ। বিশেষ করে হার্টের রোগ। একটু সতর্ক হলেই কিন্তু এই সব অসুখ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। হার্টের অসুখের ঝুঁকি আপনার জীবনে একটু কমাতে চাইলে কিছু বিষয় অবশ্যই মানতে হবে।

ধূমপানের অভ্যাস থাকলে ছেড়ে দিন। ধূমপান না করলে আপনার হার্টের অসুখের ঝুঁকিও অনেক কমে যাবে। একটু ব্যায়াম করুন। সময় সুযোগ মতো নিয়ম করে করুন ব্যায়াম। হার্টের অসুখের ঝুঁকি কমবে। আপনার উচ্চতা এবং বয়সের সঙ্গে মানানসই এমন ওজন বজায় রাখুন।

হার্ট
ধূমপান বাদ দিতে না পারলে হৃদরোগ হবেই।

ব্যায়ামের উপকারিতা

১।  দেহে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয় ও কোষগুলোকে অক্সিজেন ব্যবহার করতে সহায়তা করে।

২।  হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে।

৩।  ব্লাডপ্রেশার বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

হার্ট
রক্তচাপ বেশি থাকলে দ্রুত কমানোর ব্যাবস্থা করুন।

৪। হার্ট ফেইলিওরের উপসর্গ কমায়।
৫। হার্টের পাম্প ক্ষমতা বাড়ায়।
৬। মাংসপেশি, অস্থিসন্ধি ও হাড়কে শক্তিশালী করে।
৭। রক্তনালিতে অতিরিক্ত চর্বি বা কোলেস্টেরল জমা হতে দেয় না।
৮। রক্তের সুগারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে ও দেহের কোষের ওপর ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

৯।  শরীরের বাড়তি ওজন কমায়। কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে সহজে ক্লান্ত হওয়া, হাঁপিয়ে যাওয়া ইত্যাদি কমে যায়।

হার্ট
ব্যায়াম শুধু হার্ট না সারা শরীরও ভালো রাখে।

১০। ঘুম স্বাভাবিক ও আরামদায়ক হয়, শারীরিক ও মানসিক অবসাদ দূর হয়।
দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা ও বিষণ্নতা কমে।

দৈনন্দিন ব্যায়াম এমন কিছু ব্যায়াম আছে, যা ঠিক ব্যায়ামের তালিকায় পড়ে না কিন্তু ব্যায়ামের মতোই শরীরে কাজ করে। এতে ব্যায়ামের মতোই উপকার পাওয়া যায়।
সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা, লিফটের ব্যবহার যথাসম্ভব কম করা।

হার্ট
ভুলে যান লিফট আর একসিলেটরের কথা।

অল্প দূরত্বে যেতে হেঁটে যাওয়া।
বাড়িঘর পরিষ্কারের কাজ নিজেই করা।

ভুল ধারণা


বয়স্কদের ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। বয়স্ক, প্রৌঢ় সবারই ব্যায়ামের প্রয়োজন আছে। তবে ব্যায়ামের সময় এত বেশি হাঁপিয়ে ওঠা যাবে না,  যাতে কথা বলতে কষ্ট না হয়।
হার্টের অসুখ হলে ব্যায়াম করা যাবে না। হার্টের সমস্যা হলেও ব্যায়াম করা যাবে। শুধু তাই নয়, ব্যায়াম করতেই হবে। তবে কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ অনুসারে ব্যায়ামের সময়, ধরন ঠিক করে নিতে হবে। এমন স্থানে ব্যায়াম করবেন, যেখানে পরিচিত অনেকেই আছেন।
ব্যায়ামের জন্য জিমে যেতেই হবে। ব্যায়াম করতে হলে জিম বা ব্যায়ামাগারে যেতে হবে এমন কোনো  কথা নেই। তবে কোনো হেলথ ক্লাব বা হাঁটার জন্য বন্ধু বা প্রতিবেশী সঙ্গে  থাকলে ব্যায়ামের নিয়মানুবর্তিতা বজায় থাকে। না হলে আলস্যের কারণে অনেক সময় ব্যায়াম বাদ পড়ে।
ব্যায়াম নিয়মিত করলে খাবার নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নেই। হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালি ভালো রাখতে হলে শুধু ব্যায়াম করলেই হবে না,  তেল ও  চর্বিজাতীয় খাবার,  গরু ও খাসির মাংস, মগজ, ডিমের কুসুম, বেশি মিষ্টি, আইসক্রিম, চকোলেট, ফাস্ট ফুড পরিহার করে ব্যালান্সড ডায়েট খেতে হবে।

কিছু খাবার আছে যা আমরা প্রতিদিন খাই কিন্তু এটা জানিনা যে এগুলো আসলে খাবার এর নামে বিষ।

এর ভেতর এক নাম্বার এ আছে কাঁচা লবণ, চিনি দুধ চা, ঘন ডাল। এই খাবার গুলো হার্টের জন্য নীরব ঘাতক।

কিছু সহজলভ্য ও পরিচিত খাবার আছে যেগুলো আমাদের রক্তনালী পরিষ্কার করে আমাদের হার্ট ভালো রাখে।

পানি

জল চিকিৎসা নামে একটি চিকিৎসা পদ্ধতি জাপানী মেডিকেল বোর্ড খুঁজে বের করেছে যা শতভাগ সুস্থতা প্রদানে সক্ষম বলে দাবি করেন তারা।
সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে চার গ্লাস পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। প্রথম দিকে এটা অনেক বেশি মনে হলেও কিছুদিন এভাবে পানি পান করলে বিষয়টি সহজেই আয়ত্ত হয়ে যায় এবং উপকারও টের পাওয়া যায়। পানি খাওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আর অন্য কিছু মুখে না দেওয়াই ভালো। এ উপায়ের কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং এটি পরিপাক ক্রিয়ার জন্য খুবই উপকারী। গবেষকেরা বলেছেন, সকালে খালি পেটে পানি কেবল পাকস্থলী পরিষ্কারই নয়,  শরীরের  বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি থেকেও বাঁচাতে সাহায্য করে।

শাকসবজি ও ফলমূল

 

হার্ট
শাকসবজি হবে আপনার প্রতিদিনের খাদ্য।

সবজি- শিম,  বরবটি, পিয়াজপাতা, পুঁইশাক, মানকচু, কচুরলতি, রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এগুলো রাখতে পারেন ওষুধ বিবেচনায়ও। মৌসুমি শাকসবজি কিনতে তেমন খরচও হয়না এবং এগুলোতে কীটনাশক কম থাকে।

পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার- প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ক্রমাগতভাবে যুক্ত করতে থাকুন পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণ। এ ক্ষেত্রে কলা এবং মিষ্টি আলুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা।

সবুজ বাহারি সালাদ- খাবারে যদি সবুজ সালাদ থাকে তাহলে আপনার রসনা তৃপ্তির পাশাপাশি হার্টও খুশি থাকবে। তাই বেশি বেশি যুক্ত থাকুন ভিনেগার, জলপাইয়ের তেল কিংবা লেবুর শরবতের সঙ্গে।

আপেল- হার্টের জন্য আপেলকে কার্যকারী ওষুধ বলা যায়। তা ছাড়া কোলেস্টেরলের মাত্রা কম রাখতে আপেল যথেষ্ট উপকারী। যারা প্রতিদিন দুটো আপেল খায়, তাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা অন্যদের থেকে কম থাকে।

হার্ট
প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না।

 

কিছু মজার তথ্য

ডিমের প্রতি ভালোবাসা- যাঁরা বলছেন, বেশি বেশি ডিম খেলে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ে তাঁদের জন্য দুঃসংবাদ। কেননা ব্রাজিলীয়ান গবেষকরা জানিয়েছেন, ডিমের কুসুমে থাকা ভিটামিন ই, বি-১২ এবং ফলেট করোনারি আর্টারিকে পরিষ্কার রাখে। তবে কেউ যদি দিনে চারটি করে ডিম খেতে থাকেন,  তবে তাঁকে এসব গবেষণার কথা ভুলে যেতে হবে।

হার্ট
ডিম খেলে অনেকক্ষণ ক্ষুধা লাগেনা।

অবসাদ কে দিন বিদায়- কোনোভাবেই কাজের ক্লান্তিকে আপনার ওপর চেপে বসতে দেবেন না। এ জন্য মাঝেমধ্যেই অবসাদ দূর করতে আপনার পছন্দকে গুরুত্ব দিন। সুইজারল্যান্ডের এক গবেষণা জানিয়েছে, অবসাদ দূর করার তৎপরতা হৃদযন্ত্রের সংকট কাটায় ৫৭ শতাংশের কাছাকাছি।

বালিশে মাথা রাখুন সময়মতো যাদের অনিদ্রা নামক রাজরোগ আছে,  তারা অন্যদের চেয়ে ৪৫ শতাংশ বেশি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ঘুমের জন্য প্রতিদিন বেশি বেশি শারীরিক পরিশ্রম করার আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

অধিক ঘুম কে বলুন “না”- এমনকি যারা বেশি বেশি ঘুমকাতুরে তাদেরও সাবধান করে দিয়েছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, দিনে ১০ ঘণ্টা কিংবা তার বেশি সময় যাদের ঘুমে কাটে তাদের স্থূলতার পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকে, কমতে থাকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। সুতরাং অধিক ঘুম কে না।

হার্ট
অধিক ঘুম হার্টকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

পান করুন গরুর দুধ গরুর দুধে থাকা লো ফ্যাট হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াবিরোধী কম ঘনত্বসম্পন্ন লিপ্রোপ্রোটিনের হার কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দুধে থাকা ক্যালসিয়াম শরীরে জমে থাকা পুরু চর্বির স্তর কাটতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু দুধচা খাবেন না। বিশেষ করে ভাত খাওয়ার পর দুধচা খাওয়াকে একদম নিষেধ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

হার্ট
সপ্তাহে তিন দিন ননি বিহীন দুধ খাওয়ার অভ্যাস করেন।

গান গাইতেই হবে- হৃৎপিণ্ড ভালো রাখতে গলা ছেড়ে গান গাইতেও উৎসাহিত করেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, দলবদ্ধ সংগীত কিংবা কারাওকে হাসিখুশি রাখে হৃদযন্ত্রকে।

হাসিখুশি থাকতে হবে- হাসিখুশি আর প্রাণবন্ত মুখাবয়ব শুধু স্টাইল বা ফ্যাশন আইকনই আপনাকে করে তুলবে না, বাড়িয়ে দেবে আপনার নীরোগ থাকার প্রবণতাও। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রাণবন্ত উপস্থিতি আপনার অবসাদ ও অভ্যন্তরীণ প্রদাহকে ছুটি দিয়ে দেবে এবং অলিন্দ ও নিলয়ের প্রকোষ্ঠকে সুঠাম রাখবে।

হার্ট
হাসি খুশি থাকলে কোন রোগই দেহে বাসা বাঁধতে পারবে না।

এখন সেই সারপ্রাইজ এর পালা।

এটা এমন একটা রেসিপি যা খুব সহজে ঘরে বসে তৈরি করা যায়। এটি একটি মহা ঔষধ। গবেষণায় দেখা গেছে যারা প্রতিদিন এটি পান করে তাদের হার্ট অ্যাটাক এর ঝুঁকি ৯৭% কম।

সারপ্রাইজ রেসিপি

উপাদান

১। আদা

২। রসুন

৩। আপেল সিডার ভিনেগার(সুপারসপ গুলোতে পাবেন)

৪। লেবু

৫। মধু

প্রণালী

মধু ছাড়া বাকি সবগুলো উপাদানের রস বের করতে হবে। আদা, রসুন, লেবু ও আপেল সিডার ভিনেগার সম পরিমাণ নিতে হবে। এখন একটি পাত্রে সব মিশিয়ে (মধু ছাড়া) চুলায় বসিয়ে দিন। মৃদু আঁচে হাল্কা করে জ্বাল দিন। ২০ মিনিট পর নামিয়ে ফেলুন। এটা কিছুটা হলুদাভ বর্ণ ধারণ করবে। চুলা থেকে নামিয়ে মধু মিশিয়ে নিন (যে পরিমাণ আদা, রসুন, লেবু ও আপেল সিডার ভিনেগার নিয়েছেন মধুও সেই পরিমাণ নিতে হবে)। তারপর ঠাণ্ডা করে সংরক্ষণ করুন ফ্রিজে। আপনি এটি ফ্রিজে ১-২ মাস সংরক্ষণ করতে পারবেন।

খাবারের নিয়ম

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১ টেবিল চামচ ও রাতে ঘুমানোর আগে ১ টেবিল চামচ করে খাবেন। আর ভালো ফলাফল পেতে দুপুরেও খেতে পারেন।

সবাই হৃদয়ের প্রতি যত্নবান হন। যত্নশীল নাহলে হার্ট অ্যাটাকের মত দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

 

 

 

 

 

 

 

ভালোবাসার আগে একটু ভেবে নিতে হবে

ভালোবাসা

তমা(ছদ্মনাম) ও অনির্বাণ(ছদ্মনাম) দুজনই উচ্চশিক্ষিত, ভালপরিবারের, একই ধর্মের এবং ভালো জব করে। তাদের ভেতর একটা ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়। তারা এই সম্পর্কে শুধু ভালোবাসার জন্য আসেনি, ভালোবাসাকে সম্পূর্ণ করে পারিবারিকভাবে বিয়ে করার মত চিন্তাও করেছে। সবাই খুশির মনেই বিয়েটা মেনে নেবে। কিন্তু হঠাৎ যেন কি হয়ে গেলো। অনির্বাণকে তমার বোরিং মানুষ মনে হচ্ছে, মানিয়ে নিতে না পেরে অন্য ছেলেদের সাথে কথা বলে মিলিয়ে দেখেছে আসলেই অনির্বাণ কতোটা বোরিং ছেলে। আর এদিকে বেচারা অনির্বাণ কষ্ট পাচ্ছে তমার ব্যবহার গুলোতে। অনির্বাণ তমার কথার সাথে মানিয়ে নিতে পারছে না আর তমাও পারছে না এভাবে থাকতে, একদিন সব শেষ হয়ে যায়। অনির্বাণ মনে মনে ভেবে নেয় আর না। তমা শেষ চেষ্টা করে কিন্তু তার মত থেকে সরে আসে না।

অবশেষে ব্রেকাপ। এভাবে প্রতিদিন অনেক তরুণ তরুণীর সম্পর্ক শেষ হয়ে যাচ্ছে। শুধু শেষ না এতে যে কতটা মানসিক ক্ষতি হয় তার হিসেব নেই। কাজ করতে ইচ্ছে করেনা, কারো সাথে কথা বলতে ভাল লাগেনা এক কথায় থমকে যেতে চায় চলমান জীবন। জীবনে নতুন কেউ এলে তাকে মানা যায় না, মনে পড়ে যায় আগের সেই মানুষের কথা যার সাথে কাটিয়েছে অনেকগুলো সময়।

ব্রেকাপ
                                                                             ব্রেকাপ

কাউকে ভালোবাসার আগে কি কি বিষয় গুলো খেয়াল রাখা আবশ্যক??

পরিবার ও ধর্ম

পরিবার
                           পরিবার আমাদের জীবনে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ

কাউকে হুট করেই ভালোবেসে ফেললাম তারপর দেখা গেলো তার অথবা আপনার পরিবার থেকে মেনে নিচ্ছে না। অবশেষে ব্রেকাপ, মন ভাঙ্গা, এমন কি আত্মহত্যাও করে ফেলে অনেক মানুষ। তাহলে আমাদের এমন কোন মানুষকে জীবনে আনতে হবে যাকে আমাদের পরিবার মেনে নেয়। যার ধর্মের সাথে আমাদের ধর্ম মেলে কারণ এখন এমন মুসলিম পরিবার আছে যারা হিন্দু বা অন্য ধর্মের মানুষদের সাথে আত্মীয় করবে না এবং হিন্দু পরিবার আছে যারা এসব বিষয়ে আরও বেশী স্পর্শ কাতর। পরিবার এর সাথে নিজের মত মেলার পর ই বিয়ের মত বড় একটা সিদ্ধান্তে নেওয়া উচিৎ কারণ বিয়ে শুধু দুটি মানুষ এর ভেতর সম্পর্ক তৈরি করে না। এখানে দুটি  পরিবার অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত।

সততা

ট্রাস্ট
                                                             সততা সম্পর্কের মূল মন্ত্র

যে কোন সম্পর্কের ভেতর অবশ্যই বিশ্বাস ও সততা থাকতে হবে। কারণ বিশ্বাস না থাকলে কখন কোন সম্পর্ক টিকে থাকে না। “তোমাকে পেলে আমার আর কিছু চাই না” বলার আগে নিজেকেই প্রশ্ন করা দরকার, সত্যিই কি তাই? তাকে পেলেই কি অন্ন, বস্ত্র,  আশ্রয়, অর্থসহ অন্য সব অভাব মিটে যাবে? যায় না। যায় না বলেই যদি এভাবে বলা যায়, “আমার জীবনের সুখকে সমৃদ্ধ করার জন্য তোমাকে চাই”  তাহলেই কি সংলাপ যুক্তিসঙ্গত হয়ে  ওঠে না?
“তোমার চেয়ে বেশি সুন্দর আর কেউ নয়”  তাকে খুশি করার জন্য এ রকম কথা না  বলে যদি বলা হয়, “তোমাকে আমার কাছে ভারি সুন্দর লাগে”  তাহলেই কি তা সত্যতায় অনন্য হয়ে ওঠে না?
“আমি কোনদিন তোমাকে ছেড়ে যাব না”  না বলে,  যদি বলা হয় “যত দিন সম্ভব তোমার কাছেই থাকব’” তবে কী তা মিথ্যা বলা হবে?
“সারাজীবন তোমাকে ভালবাসব”  বলার মতো নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি  কী কেউ কাউকে  দিতে পারেন আসলে?  পারেন না। কারণ মানুষের জীবনের সব কিছুই হচ্ছে বাস্তবতা।  প্রায় সব কিছুই নির্ভর করে অন্য কিছুর উপর। যাকে মানুষ ভালবাসে, তার  প্রতিমুহূর্তের আচরণের ওপর নির্ভর করে,  তাকে কতটা ভালবাসা যায় এবং কতদিন তা স্থায়ী হবে।  তাই  সঠিক হতে হবে সংলাপ।  যদি বলা হয়, “এই মুহূর্তে তোমাকে আমি আমার  সমস্ত অনুভূতি দিয়ে ভালবাসি, এখন এটাই সত্যি”।

ছেলে এবং মেয়ে উভয়কেই তাদের ভালোবাসার মানুষদের কাছে সৎ থাকা উচিৎ। কারণ সততা সব কিছুর উপরে। সততা সম্পর্ক কে ভালো রাখে।

মনের মিল বা মানসিক  ভাবে মিল থাকা

বাচ্চা
    ডিভোর্স বাচ্চাদের জীবনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে।

কোন সম্পর্ক শুরু করার আগে ভাবতে হবে দুজনের মানসিক দিক গুলো মিলে কিনা, তাদের চিন্তা ভাবনার মিল কতটুকু যদি ৫০% ও মিলে যায় তাহলে হয়তো সম্পর্কটা টিকে থাকে কিন্তু যদি ২০% ও না মিলে তাহলে শুধু কম্প্রোমাইজ করেই জীবন কাটাতে হবে, শুরু হবে অশান্তি, ঝগড়া, এক সময় ডিভোর্স। আর যদি এই সম্পর্কে পৃথিবীতে কোন প্রাণ আসে তাহলে তার জীবনটা শেষ হয়ে যাবে সবার আগে।

তাহলে এটা বলা যায় কোন সম্পর্ক শুরু করার আগে অবশ্যই মনের মিল, মানসিক অবস্থা সব কিছু মাথায় রাখতে হবে।

আপনি যখন আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনীর ওপর বিরক্ত, তখন হয়তো সামান্য কারণেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন। এটা আপনার জন্য বুমেরাং হয়ে আসতে পারে। তাই সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে কথা বলার আগে ঠাণ্ডা হয়ে বসে সমস্যাটি নিয়ে ভালভাবে ভাবুন। তারপর তার সঙ্গে কথা বলুন। দেখবেন আসলে সম্পর্ক ততোটা তিক্ত নয়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকগুলো বিষয় ঠিক হয়ে আসতে শুরু করে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিষয়টা অকাট্য সত্য। আপনারা যখন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবেন,  দেখবেন সমাধান হাতের নাগালেই।

তারপর ও বলা যায় না ভালোবাসা স্নিগ্ধ হাওয়ার মত কখন কীভাবে এসে গায়ে লাগে। কিন্তু একটু ভেবে চিন্তে আগাতে দোষ কোথায়।

ভালোবাসা
                          এক সাথে সারাজীবন পার করা

ভালোবাসার পরিসমাপ্তি যেন কখনই ডিভোর্স অথবা ব্রেকাপ নামক শব্দ দিয়ে শেষ না হয়। ভালোবাসার পরিসমাপ্তি যেন শেষ বয়স পর্যন্ত এক সাথেই কাটে।

আমার ভালোলাগা একটি গান দিয়ে শেষ করছি। চাইলে শুনে দেখতে পারেন।

আমার রাতজাগা তারা
তোমার আকাশ ছোয়া বাড়ি
আমি পাইনা ছুঁতে তোমায়
আমার একলা লাগে ভারী…

                                     

                                                                                                         (গান-ভিন দেশী তারা, মুভি-অন্তহীন)

সঙ্গীত শুধু মনের খোরাক নয়, কেন? জেনে নিন।

সঙ্গীত

যদি আপনি গান শুনতে ভালোবাসেন তাহলে আপনি মানসিক এবং শারীরিকভাবে ভালো আছেন। চার্লস ডারউইন বলেছিলেন, “যদি আমি আবার জীবিত থাকি, তবে আমি কিছু কবিতা পড়তে এবং কমপক্ষে একবার প্রতি সপ্তাহে কিছু সঙ্গীত শুনতে চাইতাম”। অ্যালবার্ট আইনস্টাইন ঘোষণা করেছিলেন, “যদি আমি একজন পদার্থবিদ না হতাম, আমি সম্ভবত একটি সুরকার হতাম”। জিমি হেন্ডরিক্স বলেছেন সঙ্গীত তার ধর্ম। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে, সংগীত শোনার ফলে আপনার মানসিক অবস্থার উন্নতি সাধন হয়। এছাড়া শারীরিক স্বাস্থ্যেরও বিস্ময়কর পরিবর্তন দেখা যায়। আপনি যদি বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখেন তাহলে আপনার আইকিউ বাড়বে। আরও কিছু উপকার করে সঙ্গীত।

সংগীত আপনাকে খুশী রাখে

সঙ্গীত
গান শুনলে মন প্রফুল্ল থাকে

একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে আপনি যখন গান শুনবেন আপনার মস্তিষ্কটি ডোপামাইন নির্গত করে যা সুখের অনুভূতি সৃষ্টি করে। আপনার মানসিক বিকাশে যা অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। সুতরাং দৈনিক ১৫ মিনিট গান শোনার অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।

সংগীত আপনার কাজের দক্ষতা বাড়িয়ে দেয়

সঙ্গীত
মানসিক দক্ষতা বাড়ায়

কেউ যদি আমার সংগীত থেকে কিছু নেয় তা অবশ্যই প্রেরণা হবে। সেটা হল কাজ করে যাওয়া যতক্ষণ সম্ভব এবং পেছনে ফিরে তাকানো যাবে না” –এমিনেম।নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে গান শুনুন। আপনার কাজকে গতিময় করতে গানের বিকল্প আর কিছু নেই। কিছু দৌড়বিদের উপর গবেষণা করে দেখা গেছে যারা নিজের পছন্দের গান শুনে দৌড়েছেন তারা নিজেদের আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন।

মানসিক চাপ কমায় এবং স্বাস্থ্যের উন্নতি করে

সংগীত শোনার ফলে আপনার মানসিক ধকল কমে যায়। শরীরের স্ট্রেস হরমোন কর্টিসোলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। মানসিক চাপ আমাদের ৬০% রোগের জন্য দায়ী। এক গবেষণায় দেখানো হয়েছে যারা সক্রিয় ভাবে গান শোনেন তাদের ইমিউন সিস্টেম আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে যায়। শান্ত ও সুস্থ থাকার জন্য আপনার কক্ষে গান ছেড়ে দিন এবং আরও ভালো ফলাফল পেতে তালে তাল মিলিয়ে একটু পা দোলানোর চেষ্টা করুন।

অনিদ্রা দূর করে

৩০% এরও বেশী আমেরিকান অনিদ্রায় ভোগেন। যেই শিক্ষার্থীরা ঘুমানোর আগে গান শোনেন তারা অনেক বেশী সক্রিয় হন যারা তেমন কিছুই করেন না তাদের থেকে। সংগীত অনিদ্রার সমস্যা দূর করতে পারে। যদি আপনার ঘুমাতে সমস্যা হয় আপনি ঘুমানোর আগে গান শুনুন, ভালো ফলাফল পাবেন অবশ্যই।

কম খেতে সাহায্য করে

জর্জিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাটি দেখিয়েছে যে, আলো এবং সঙ্গীতকে নরম করে তোলার সময় লোকেরা কম ক্যালোরি খায়। আপনি যদি আপনার খাদ্যগ্রহণ নিয়ন্ত্রণে আনতে চান তাহলে খাবারের সময় গান শুনুন।

সংগীত আপনার ব্যথা দূর করে হোক সেটা শারীরিক অথবা মানসিক

বব মারলে-এর একটা কথা আছে-

“সংগীতের একটি ভালো দিক হল, যখন এটি আঘাত করবে আপনি কোন ব্যথা পাবেন না।” ফিলাডেলফিয়ার ড্রেক্সেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে যে ক্যান্সারের রোগীদের মধ্যে প্রাক-রেকর্ডিং সঙ্গীত মানসিক চাপের চেয়েও ব্যথা কমিয়ে দেয়। অন্য গবেষণা দেখিয়েছে যে, গান নিবিড় পরিচর্যা রোগীদের এবং জেরিয়াটিক কেয়ার রোগীদের মধ্যে ব্যথা হ্রাস করতে পারে। কিন্তু নির্বাচিতো ক্লাসিক গান প্রয়োজন। ধ্যানমগ্ন সঙ্গীত বা রোগীর পছন্দের সংগীত।

বব মার্লি এই বিষয়ে সঠিক ছিলেন, “আপনার ব্যথা দূর করার জন্য আপনার ভালো লেগেছে এমন গান শুনুন”।

স্ট্রোক করেছেন এমন রোগীদের জন্য গান

সঙ্গীত
স্ট্রোক এড়াতে গান শুনুন

হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, স্ট্রোক রোগীদের যারা দিনে দুই ঘন্টা নিজেদেরকে বেছে নিয়েছে সঙ্গীত শোনার জন্য, তারা মস্তিষ্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি লাভ করেছে। গান শোনার কারণে তাদের শ্রবণ ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। স্ট্রোক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 5 নম্বর মৃত্যুর কারণ। আপনি যদি স্ট্রোক ভোগ করেন এমন কেউকে জানেন তাহলে অতিশীঘ্র তাকে তার পছন্দের গান গুলো শুনতে বলুন। আশানুরূপ ফোল পাবে। কেউ যদি গান ভালোবাসে তাহলে সে অপরাধ থেকে দূরে থাকে। বেনিংটন এর গানের লাইন দিয়ে শেষ করছি-

“In this farewell

There’s no blood

There’s no alibi

‘Cause I’ve drawn regret

From the truth

Of a thousand lies”

 

 

 

 

 

 

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নির্যাতন সম্পর্কে কতটুকু জানেন?

রোহিঙ্গা

রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে আমরা এখন কম বেশী সবাই জানি। নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত এই রোহিঙ্গারা যেন পৃথিবী থেকেও বিতাড়িত। কোন দেশ তাদের জায়গা দিতে চাচ্ছে না। মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হচ্ছে তারা। সাহায্য করার জন্য নেই কেউ। কি আছে মানুষ গুলোর কপালে? কেন তারা বিতাড়িত তাই নিয়ে কথা হবে আজ।

রোহিঙ্গাদের পরিচয়

রোহিঙ্গারা মায়ানমার রাখাইন রাজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী। এরা মূলত ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত। রোহিঙ্গা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিজস্ব কোন ভাষা নেই। থাকলেও তা অলিখিত। রোহিঙ্গাদের নিয়ে একটি প্রচলিত গল্প আছে। সপ্তম শতাব্দীতে বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া একটি জাহাজ থেকে বেঁচে যাওয়া লোকজন উপকূলে আশ্রয় নেয়। আশ্রয় নেয়ার পর তারা বলেন, “আল্লাহ্‌র রহমে বেঁচে গেছি”। এই রহম কথা থেকেই উৎপত্তি হয়েছে রোহিঙ্গা। বার্মার সরকার এদের পড়াশোনার সুযোগ দেয় না। তাই রোহিঙ্গারা ইসলাম শিক্ষাকেই একমাত্র পড়াশোনার বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বলা হয় বিশ্বের অন্যতম নিগৃহীত সংখ্যালঘু। ১৯৮২ সালে নাগরিকত্ব আইনের ফলে তারা নাগরিকত্ব থেকে বঞ্ছিত হয়। সরকারের অনুমতি ছাড়া তারা ভ্রমণ করতে পারে না, জমির মালিক হতে পারে না এমনকি এদের দুই সন্তানের অধিক নেয়া যাবে না এমন অঙ্গিকারনামায় স্বাক্ষর করতে হয়। এই জনগোষ্ঠী বহুবছর ধরে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে। অনেক রোহিঙ্গাকে বিনা পারিশ্রমিকে পরিশ্রম করতে হয়।

মিয়ানমার কি করছে এই আদিবাসী জনগোষ্ঠীদের সাথে?

২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর মিয়ানমার সীমান্তে তিনটি চেকপোস্টে অস্ত্রধারীদের হামলায় দেশটির ৯ জন পুলিশ নিহত হন। এই ঘটনাটির পর থেকে দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের উপর চড়াও হয়েছে। রোহিঙ্গাদের উপর সেনাবাহিনীর নির্যাতনের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। রাখাইন রাজ্যের মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে সে দেশের সেনাবাহিনী ‘শুদ্ধি অভিযান’ চালাচ্ছে। সেনাবাহিনীর দাবি, উগ্রপন্থী রোহিঙ্গাদের সঙ্গে প্রবাসী ইসলামপন্থীদেরও যোগসাজশ রয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির রিপোর্ট অনুযায়ী চেকপোস্টে অস্ত্রধারীদের হামলায় ঘটনার পর থেকে কথিত হামলাকারীদের খুঁজে বের করার অভিযানে অন্তত ৬৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মতে, চলমান সহিংসতায় বাস্তুহারা হয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অন্তত ৩০ হাজার মানুষ।

রোহিঙ্গা
দেশটির সেনাবাহিনী হত্যা যজ্ঞে মেতে উঠেছে

তখন থেকে হওয়া সেনাবাহিনীর এই অভিজান আজকের রোহিঙ্গা নির্যাতন, হত্যার সূত্রপাত। সেনাবাহিনীর এই হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন ভিডিও এবং ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পরেছে। সেখানে দেখা যায় কি করে হত্যা করা হচ্ছে রোহিঙ্গা নামক নিরীহ মানুষগুলোর। বাদ যায় না একটি শিশুও। কোন শিশুর আর্তনাদে কিছু যায় আসে না তাদের। গলা টিপে, আছড়ে হত্যা করা হচ্ছে বাচ্চা গুলোকে।

হত্যা করা হচ্ছে নারীদের। নারীদের হত্যা করা হচ্ছে বিভিন্ন পৈশাচিক পদ্ধতিতে। গণধর্ষণের শিকার হতে হচ্ছে। পুড়িয়ে হত্যা করে পৈশাচিক হাসি হাসে ওরা। মানুষের প্রতি এমন বর্বর আচরণ আগে কোথাও দেখা যায়নি।

বৌদ্ধ ধর্ম কি বলে?

বিশ্বময় মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের উপর যতটা আন্তর্জাতিক অনুরোধ এবং চাপ আছে ততটা মিয়ানমারের উপর আছে বলে মনে হয় না। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যাটি অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও রোহিঙ্গা নির্যাতন বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের। বিষয়টি ধর্মের নয়, মানবতার। মহামতি গৌতম বুদ্ধ বলেছেন, “জগতের সকল প্রাণী সুখী হউক।”

জগতের সব প্রাণীর মধ্যে নির্যাতিত রোহিঙ্গারাও আছে। বৌদ্ধদের পঞ্চশীলের প্রথম শীল হল, “প্রাণী হত্যা থেকে বিরত থাকব এই শিক্ষাপদ গ্রহণ করছি।” মানুষ তো দূরের কথা কোনো কীট-পতঙ্গকেও হত্যা করা যাবে না।

রোহিঙ্গা
বৌদ্ধ ধর্মে একটি প্রাণী নিধনেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা

বুদ্ধ করণীয় মৈত্রী সূত্রে বলেছেন, “দিটঠা বা য়েব অদিটঠা য়ে চ দূরে বসন্তি অবিদূরে, ভূতা বা সম্ভবেসা বা সব্বে সত্তা ভবন্ত সুখিত’ত্তা।” অর্থাৎ যেসব প্রাণী দৃশ্য-অদৃশ্য, দূরে-কাছে বাস করে, যারা জন্ম গ্রহণ করেছে, যারা জন্ম গ্রহণ করেনি, যারা মাতৃগর্ভে অথবা ডিম্বের ভেতরে আছে, সেখান থেকে বহির্গত হবে তারা সবাই সুখী হোক।

আরও বলা হয়েছে, “মাতা য়থা নিয়ং পুত্তং আয়ুসা এক পুত্ত মনুরক্খে, এবম্পি সব্বভুতেসু মানসম্ভাবয়ে অপরিমাণং।” অর্থাৎ মা যেমন তাঁর নিজের জীবন দিয়ে হলেও একমাত্র পুত্রকে রক্ষা করেন, তদ্রুপ সব প্রাণীর প্রতি অপ্রমেয় মৈত্রী পোষণ করবে।

মিয়ানমার এবং সে দেশের জনগণ বুদ্ধের বাণীকে মান্য করলে কিছুতেই এমন মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত হতে পারে না বা তা মেনে নিতে পারে না। মিয়ানমারের এই আচরণ সমগ্র বিশ্বের বৌদ্ধদের জন্য চরম লজ্জার। তাই এই সময়ে বৌদ্ধ রাষ্ট্রগুলোর উচিত মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কথা বলা।

 

রোহিঙ্গারা কোথায় যাবে?

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীরা আজ বলছে, “আমরা কোথায় যাবো? কার কাছে বিচার চাইব? আমাদের সাহায্য করার কেউ নেই। সৃষ্টিকর্তাকে ডাকা ছাড়া আমাদের কোন উপায় নেই।”

রোহিঙ্গা
যেখানেই যাক ফিরত আসছে লাশ হয়ে

প্রতিটি দেশ থেকে বিতাড়িত হচ্ছে রোহিঙ্গারা। আশ্রয় দিতে নারাজ সবাই। কারো দ্বার প্রান্তে গিয়ে এতটুকু সাহায্য মেলেনি তাদের। রোহিঙ্গা পরিবারে জন্ম নেয়া কি তাদের অপরাধ? কোথায় যাবে তারা?

মিয়ানমারের প্রধান সুচি এতদিন পর মুখ খুললেন

রোহিঙ্গা
নোবেল জয়ী এই নেত্রীর কাছ থেকে আশানুরূপ কোন কথা শোনা যায়নি

রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের বিষয়ে এই প্রথম মুখ খুললেন দেশটির স্টেট কাউন্সিলর ও নোবেল জয়ী নেত্রী অং সান সুচি। তার ভাষ্যমতে সরকার রাখাইন রাজ্যের সবাইকে রক্ষা করছে। সেই সাথে তিনি এও বলেছেন সন্ত্রাসীদের স্বার্থ রক্ষা করতে প্রচুর ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এগুলোর কোনটি সত্যি নয়। সুচির এই বক্তব্যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নতুন হাওয়া লেগেছে।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাসীদের উস্কে দিতে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত বিভেদ করার জন্য এই তথ্যগুলো ছড়ানো হচ্ছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শুরু হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে ১ লাখ ২৩ হাজারেরও বেশী রোহিঙ্গা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এছাড়া অনুপ্রবেশের জন্য নো মেন্স ল্যান্ডে অপেক্ষা করছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা।

পরিশেষে একটি কথা বলে শেষ করতে চাই। রোহিঙ্গাদের প্রতি ঘটে যাওয়া সহিংসতাগুলো আমাদের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে মনে করিয়ে দেয়। আমরা তখন নেতৃত্ব দেয়ার জন্য অনেক বড় বড় মানুষকে পেয়েছিলাম। কিন্তু এই নিপীড়িত জনগোষ্ঠীকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য কে আছে? রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে অনেকে ধর্ম কে টেনে আনে তাদের বলতে চাই, মানবতার যেখানে কোন ঠাই নেই সেখানে ধর্ম কি করতে পারে?