শিশু যেন বুঝতে পারে, মন্দ আদর কি?

শিশু

প্রায় সময়ই এখন মিডিয়াতে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনার খবর আসছে। হাইস্কুল হোক অথবা নার্সারি, কিংবা কিন্ডারগার্টেন শিশুরা বোধহয় যেন কোথাও আর সুরক্ষিত নয়।

এমনকি মাদ্রাসাতেও শিশু নিপীড়নের স্বীকার হচ্ছে।

শিশু নিজেদের বাড়িতেও সুরক্ষিত নয়। যুগের তালে তাল মেলাতে গিয়ে বড়দের নানা কাজে অনেক সময় দিতে হয়। না চাইলেও দূরে থাকতে হয় বাচ্চাদের থেকে।

বাচ্চাদের দিকে বেশি নজর অনেকেই রাখতে পারেন না সময়ের অভাবে। এই সময় টার সুযোগ নেয় কতিপয় মানুষরূপী পশু। তখন বাচ্চা মানসিকভাবে অনেকটা দূরে চলে যায়।

ফলে অনেক সময় হেনস্থা বা যৌন হেনস্থার শিকার হলেও তারা বাড়িতে বলতে চায় না। এমতাবস্থায় কীভাবে বুঝবেন আপনার বাচ্চা হেনস্থার শিকার।

আজকে রয়েছে সেই বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা।

অস্বাভাবিক আচরণ

শিশুরা খেলনা নিয়ে খেলতে ভালোবাসে। এটাই স্বাভাবিক। দিনের অনেকটা সময়ই নিজের প্রিয় বার্বি ডল বা অন্য পুতুল নিয়ে খেলে।

যদি দেখেন আপনার বাচ্চা পুতুল নিয়ে খেলার নাম করে বসে রয়েছে অথবা কোনও বস্তু নিয়ে অন্যান্য দিনের চেয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করছে তাহলে সাবধান হোন।

দুঃস্বপ্নের শিকার হওয়া

শিশুরাও ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখে। বড়রা যেমন ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে রিঅ্যাক্ট করে, শিশুদের ক্ষেত্রেও সেটাই স্বাভাবিক। তবে ছোটদের সাধারণত ঘুমের সমস্যা হয় না।

যদি দেখেন আপনার বাচ্চার ঘুম ঠিক হচ্ছে না তাহলে কারণ জানার চেষ্টা করুন। আর যদি দুঃস্বপ্নের শিকার হয় শিশু তাহলে নিশ্চয়ই কোনও গোলমাল রয়েছে।

এই গোলমালের সন্ধান আপনাকেই খুঁজে বের করতে হবে।

অন্যমনস্ক থাকা

সবসময় অন্যমনস্ক থাকা আর একটি বিষয়। অথবা সব জিনিসই আপনার বাচ্চা লুকোতে চাইছে কিনা সেটাও খেয়াল রাখুন।

কোনও ঘটনা মনে গভীর দাগ ফেললেই সাধারণত বাচ্চাদের এমন আচরণ করতে দেখা যেতে পারে। শুধু বাবা-মা নয়, সকলের থেকেই লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে শিশুরা। এমন অবস্থায় বাচ্চারা নিজেদের সবার থেকেও লুকিয়ে রাখে।

মুড সুইং করা

শিশুরা ছোট বয়সে একটা সময় পর্যন্ত বিছানা ভিজিয়ে ফেলে। এটা সবার ক্ষেত্রেই হতে পারে।

যদি দেখেন হঠাৎ করে নতুনভাবে তা শুরু হয় তাহলে অবশ্যই ভাবতে হবে।

কোনও লুকোনো ভয় কাজ করছে না তো শিশু মনে?

বাচ্চার মুড কি খুব তাড়াতাড়ি বদলে যাচ্ছে? নজরে রাখুন আপনার কোমল মতি শিশুর দিকে।

কাউকে অনেক ভয় পাওয়া

কোনও একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে কি আপনার বাচ্চা আতঙ্কিত? আপনি আচমকা কারও নাম বললে কি বাচ্চা ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছে?

হতে পারে তিনি আপনাদের পরিচিত। আপনার কোন আত্মীয়, বাসার কাজের লোক, অফিসের কলিগ, বয়স্ক নানা।

এক কথায় নিয়মিত যাদের যাতায়াত রয়েছে বাড়িতে।

অথবা স্কুল বা পাড়া-প্রতিবেশী। এমন হলে অবশ্যই বাচ্চার কাছে বসে ধৈর্য্য ধরে জানার চেষ্টা করুন।

বাচ্চার কথা অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। যদি আপনি তাকে অবিশ্বাস করেন তবে সে আর আপনার কাছে কিছু বলবে না।

গোপনাঙ্গে ক্ষত

বাচ্চার মুখে বা ঠোঁটে অথবা গোপনাঙ্গে কোনও ক্ষত রয়েছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।

উপরের কারণগুলো খেয়াল করলে এই বিষয়টিকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

আপনার বাচ্চা নিজেই নিজেকে আঘাত দিচ্ছে কিনা সেটাও খেয়াল রাখুন অনেক সময় মানসিক আঘাত পেলে এমনটা করতে পারে।

পৃথিবীতে শিশু যেন অভয়ে থাকতে পারে তা আমাদেরই কর্তব্য। নিজের সন্তানকে সাবধানে রাখুন।

তাকে ছোট বেলা থেকেই শিখিয়ে দিন কোনটা মন্দ আদর।

কোন কোন জায়গাতে অন্য কেউ স্পর্শ করা ঠিক না। শিশুদের বড়দের বিভিন্ন জিনিসগুলোকে ছোটদের বোঝার মতো করে বোঝানোর চেষ্টা করুন।

 

 

নোবেল পুরস্কারের বিস্ময়কর অজানা তথ্যগুলো হয়তো জানেন না

নোবেল

প্রতি বছরের মত এ বছরও নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন নানা গুণীজনেরা। কম বেশী সবাই জানি এই পুরস্কার সম্পর্কে। বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার এবছরের নোবেল বিজয়ীদের তালিকাও মোটামুটি জেনে গেছেন সবাই। কিন্তু কিছু গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অজানা তথ্য আছে যা আমরা জানি না। সেই সব মজার তথ্য জানার জন্য পড়তে থাকুন আর্টিকেলটি।

নোবেল পুরস্কারের জনক আলফ্রেড নোবেল

নোবেল
আলফ্রেড নোবেল তাঁর সব সম্পত্তি নোবেল পুরস্কার প্রদানের জন্য দান করে দিয়েছিলেন।

আলফ্রেড নোবেল অনেক বিত্তবান একজন বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি শুধু বিজ্ঞানীই ছিলেন না, একাধারে ছিলন রসায়নবিদ, প্রকৌশলী এবং সফল শিল্পপতিও। এই ভদ্রলোক মাত্র ১৭ বছর বয়সেই পাঁচটি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারতেন। অনেক গবেষণার পর ১৮৬৬ সালে প্রচণ্ড শক্তিধর বিস্টেম্ফারক ডিনামাইট আবিষ্কার করেন। সে সময় বিভিন্ন দেশে পাহাড়-পর্বত, বন-জঙ্গল ধ্বংস করে রাস্তাঘাট, শহর-বন্দর গড়ে তোলার হিড়িক পড়েছিল।

ডিনামাইটের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা বেশি থাকায় তা রাতারাতি বিশ্বস্ততা অর্জন করে। খুব জলদি বড়লোক হয়ে যান নোবেল। অকল্পনীয় ভাবে বিত্তবান হয়ে যাওয়া নোবেল একসময় অপরাধবোধে ভুগতে থাকেন। নোবেলের জীবদ্দশায়ই জার্মানরাও ব্যাপক হারে ডিনামাইট বোমা নির্মাণ করে শত্রুদের ওপর নিক্ষেপ করেছে। সেই দুঃখবোধ ও বিবেকের যন্ত্রণা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্যই তিনি তার অর্থকড়ি ও যাবতীয় সম্পদ মানবকল্যাণে ব্যয় করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন।

নোবেল পুরস্কার প্রদানের জন্যে তিনি তার প্রায় পুরো সম্পত্তি দান করে যান, যার পরিমান ছিল প্রায় ৩১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার, এখনকার হিসেবে ২৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার!

গনিতে নেই নোবেল পুরস্কার

নোবেল

গনিতে কোন নোবেল দেয়া হয়না। তাদের মতে গনিতের কোন কিছু মানব কল্যাণে অথবা মানব জীবনে কোন বড় ভূমিকা রাখেনা। কোন একটা বিচিত্র কারণে তাঁর মনে হয়েছিল গণিত জিনিসটার তেমন কোন ব্যাবহারিক গুরুত্ব নেই! নোবেলের গনিতবিদ প্রেমিকা তাকে ধোঁকা দিয়েছিল বলে তিনি রাগ করে গণিতে নোবেল প্রাইজ রাখেননি বলে যে গল্প প্রচলিত আছে সেটা ভিত্তিহীন।

নোবেল জয়ী পরিবার

নোবেল
ছবিটিতে আলবার্ট আইনস্টাইন ও মাদাম কুরি আছেন।

নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে মাদাম কুরির পরিবারের সদস্যরা বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন। তাঁর স্বামী পিয়েরে কুরি ছিলেন স্বনামখ্যাত বিজ্ঞানী।

স্ত্রী মাদাম কুরির সঙ্গে ১৯০৩ সালে তিনি রসায়ন শাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।

এ ঘটনার আট বছর পর ১৯১১ সালে মাদাম কুরি আবার এই পুরস্কার অর্জন করেন।

এবার তাকে পুরস্কার দেওয়া হয় রসায়ন শাস্ত্রে, বিশুদ্ধ রেডিয়াম পৃথকীকরণের জন্য।

নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে মাদাম কুরি ছাড়া অন্য কোনো মহিলা বিজ্ঞানী দু’বার নোবেল পুরস্কার পাননি।

আরও একটি কারণে মাদাম কুরি পরিবারের নাম নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

মাদাম কুরির বড় মেয়ে আইরিন জুলিও কুরি মায়ের মতোই স্বামী ফ্রেডারিক জুলিওর সঙ্গে যৌথভাবে রসায়ন শাস্ত্রে এই পুরস্কার অর্জন করেন।

এখানেই প্রতিভাদীপ্ত এ পরিবারের সাফল্যের শেষ নয়।

মাদাম কুরির কনিষ্ঠ কন্যা ইভ কুরির স্বামী হেনরি ল্যাবোসে ১৯৬৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

ভাবতে অবাক লাগে, এই পুরস্কারটি মাদাম কুরি পরিবারের সদস্যরা যেন নিজস্ব করে নিয়েছিলেন।

মনোনয়ন পেয়েও নোবেল পুরস্কার পাননি যারা

নোবেল
পাঁচবার মনোনীত হয়েও নোবেল পুরস্কার পাননি মহাত্মা গান্ধী।

মনোনয়ন পেয়েছেন অনেকবার কিন্তু নোবেল পাননি এমন ব্যক্তির সংখ্যা কম নয়। এদের মধ্যে প্রথমে আসে রুশ ঔপন্যাসিক লিও টলস্টয়ের নাম। ১৯০১ সালে যখন এই পুরস্কার দেওয়া শুরু হয় তখনই তিনি সাহিত্য বিভাগে নোবেল পাওয়ার জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। এর পরের বছর অর্থাৎ ১৯০২ সালেও টলস্টয়কে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার জন্য মনোনীত করা হয়। এরপর আসে মহাত্মা গান্ধীর নাম। ১৯৩৭, ১৯৩৮, ১৯৩৯ ও ১৯৪৭ সালে গান্ধীকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার জন্য মনোনীত করা হয়। কিন্তু প্রতিবারই তার নাম বাদ দেওয়া হয়। এমনকি মহাত্মা গান্ধী মারা যাওয়ার পর ১৯৪৮ সালেও তাকে পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। অথচ সেবারও তাকে পুরস্কারপ্রাপ্তির সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত করা হয়। এমনকি অনেকবার মনোনীত হওয়ার পরও এই মহামূল্যবান পুরষ্কারটি পাননি ফ্রয়েড।

নোবেল বিজয়ীদের বয়স

নোবেল পুরস্কারের ছ’টি বিভাগ একসঙ্গে ধরলে পুরস্কার জয়ের সময় নোবেল বিজয়ীদের বয়স দাঁড়ায় গড়ে ৫৯ বছর৷ বিজ্ঞান বিষয়ক নোবেলগুলির ক্ষেত্রে বিজয়ীদের গড় বয়স ৫৭, চিকিৎসাবিদ্যায় আরো কম, ৫৫ বছর। নোবেলের ইতিহাসে তরুণতম বিজয়ী ছিলেন লরান্স ব্র্যাগ, যিনি ১৯১৫ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পান৷ তখন তাঁর বয়স ছিল ২৫ বছর৷ কিন্তু এখন সেই স্থান দখল করেছেন মালালা ইউসুফজাই। যিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে নোবেল পুরস্কার পান। অপরদিকে বিজ্ঞান বিষয়ক নোবেলগুলির ইতিহাসে প্রবীণতম বিজয়ী হলেন ৮৮ বছর বয়সি পদার্থবিদ রেমন্ড ডেভিস জুনিয়র৷ তবে তার চাইতেও বেশি বয়সের মানুষ এই পুরস্কার জিতেছেন, যেমন দুই অর্থনীতিবিদ লেওনিড হুরউইৎস ও লয়েড শেপলি, যাদের বয়স ছিল ৯০ এবং ৮৯৷

এয়ারপোর্টে নোবেলজয়ীর বিপত্তি

২০১১ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল বিজয়ী ব্রায়ান শ্মিট তার স্বর্ণের পদকটি এয়ারপোর্টের চেকিং থেকে বের করতে বেশ বেগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।

ব্রায়ান ডার্ক এনার্জির অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারার জন্য এই পদকে ভূষিত হন।

তিনি বলেন, “আপনি যত বড় মাপের পদকপ্রাপ্ত হন না কে, এয়ারপোর্টে আপনার নিস্তার নেই।”

কারাগারে থেকে নোবেলজয়ী

তিনজন নোবেল বিজয়ী তাদের পুরস্কারের খবর জানতে পেরেছিলেন কারাগারে থাকাকালীন সময়ে। এদের প্রত্যেকেই নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন শান্তি স্থাপনের জন্য।

তাদের তিনজন হলেন জার্মান সাংবাদিক কার্ল ভন অজিটস্কি (১৯৩৫ সাল), বার্মিজ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অং সান সু চি (১৯৯১ সাল) এবং চৈনিক মানবাধিকার কর্মী লিও জিয়াওবো (২০১০ সাল)।

অং সান সু চির নোবেল পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন তাঁর এই পুরস্কার ফিরিয়ে নেয়া হোক।

এ বিষয়ে আপনাদের মতামত আশা করছি। ইচ্ছে করলে নিচে কমেন্ট করতে পারেন।

আমাদের সাথেই থাকুন ফিরে আসব নতুন কোন তথ্য নিয়ে।

 

বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করতে পারে

বই

 জ্ঞান ছাড়া প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না আর জ্ঞানের উৎস হলো বই। মানুষ দুই প্রকারের হয় এক জ্ঞানী মানুষ এবং দুই জ্ঞানশূন্য মানুষ।

সত্যিকার অর্থে আমাদের সবার মাঝে কম বেশী জ্ঞান আছে কিন্তু আমরা তার সঠিক চর্চা করতে জানি না। তাই আমাদের মধ্যে এই ধরনের প্রকারভেদ দেখা যায়।জ্ঞানকে প্রসারিত করতে অনেকেই আপ্রাণ চেষ্টা করি কিন্তু মনে কি প্রশ্ন জাগে? সঠিক উপায় কয়জন অবলম্বন করি। জ্ঞান অর্জনের জন্য মানুষের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো বই।বই পড়া ছাড়া একজন মানুষের জীবন ৮০ শতাংশই বৃথা।কেননা বই একজন মানুষকে তার ভিতরে লুকিয়ে থাকা ঘুমন্ত মানুষটিকে জাগিয়ে তোলে, মনের চক্ষু খুলে দেয়, জ্ঞান ও বুদ্ধিকে প্রসারিত ও বিকশিত করে এবং ভিতরে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে।

মনুষ্যত্ব অর্জনের সবচেয়ে বড় ও সঠিক পথ হচ্ছে বই পড়া।

বই পড়ে হারিয়ে যেতে পারেন অদেখা কোন জায়গায়

এটি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে ও অনুভূতিকে সতেজ করে তোলে। বিভিন্ন ধরনের বই বিভিন্ন ধরনের জ্ঞানের সমারোহ বহন করে।

বর্তমানে বাংলাদেশ সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পড়ালেখায় অনেক নতুন নতুন পদ্ধতি চালু করেছে কিন্তু কার্যত কোন উপকার পাওয়া যাচ্ছে না।

এ সমস্যার কারণ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক ত্রুটি রয়ে গেছে এখনো সেটা হচ্ছে পাঠ্য বইয়ের বাহিরে কিছু শিক্ষা দেওয়া হয় না।

আমরা শুধু পাঠ্য বই পড়ি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য আবার পরীক্ষা শেষ হলে কি পড়েছি তা ভুলেও যাই।

তাই আমাদের জ্ঞানের পরিধি সীমাবদ্ধ থেকে যায়। এ জন্য আমাদের পাঠ্য পুস্তক এর পাশাপাশি জ্ঞান মূলক কিছু পড়া উচিৎ যা আমাদের জ্ঞানকে প্রসারিত করতে সাহায্য করবে।

শুধু মানুষ হলেই চলবে না প্রকৃত মানুষ হতে হবে আর নিজেকে জানতে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পড়ার বিকল্প কিছু নেই।

এটি পড়লে শুধু জ্ঞানই বাড়বে না বরং আপনি একটা ভালো বন্ধুও পেয়ে যাবেন নিজেকে সময় দেওয়ার। যে আপনাকে কখনো ছেড়ে যাবে না।

গবেষণায় পাওয়া বই পড়ার উপকারিতা সমূহ

চাপ কমায়ঃ

মানসিক চাপ কমাতে পারে বই

আপনি অনেক বেশী মানসিক চাপে আছেন? চাপে থেকে কি করেন হয়তো কফি পান করেন, একটু হেঁটে আসেন বা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে থাকেন।

সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে- বই পড়া এর চেয়ে বেশী কার্যকর।

গান শোনা, হাঁটাহাঁটি করা বা কফি পান করার চেয়ে বই পড়া খুব দ্রুত মানসিক চাপ কমায়, মনযোগ অন্য দিকে ধাবিত কর, সতেজ অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

মনকে সহানুভূতিশীল করেঃ

বই পড়লে এমন অনুভূতি জাগে মনে হবে গল্পকাহিনীর মত আপনি গল্পের নায়ক বা গল্পের অংশ হয়ে গেছেন।

এটি আমাদের মধ্যে এমন একটা আবেগের অনুভুতি সৃষ্টি করে, তখন আপনি গল্পের সাথে সংযুক্ত হতে শুরু করবেন।

এভাবে যদি নিয়মিত পড়া যায় তাহলে আপনার বাস্তব জীবনকেও প্রভাবিত করবে এবং আপনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক গুলোর প্রতি আরো সহানুভিতিশীল হয়ে উঠবেন।

ইনসমনিয়া থেকে মুক্তিঃ

গবেষণায় এটা প্রমাণিত যে বই পড়া আপনার ঘুম না হওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

যদি আপনি ইনসমনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে বই পড়াই হবে আপনার জন্য কার্যকরি চিকিৎসা।

আপনার ঘুম ফিরিয়ে আনতে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ

ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা যায়- বই পড়া আমাদের দিনে দিনে আরো বেশী তীক্ষ্ণ ও চটপটে করে তোলে।

একটা পড়ে শেষ করার পর বহুদিন পর্যন্ত বইটির ইতিবাচক প্রভাব থেকে যায়।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, কিছু পড়ার সময় মানুষের মস্তিস্ক এমন ভাবে কাজ করে যে তা নিউরোলজিকাল পরিবর্তন ঘটায় ও মেমোরি মাসলকে উজ্জীবিত করে।

বিষণ্ণতা দূর করেঃ

আমরা অনেক বিষণ্ণতা দূর করতে বাজে পথে চলে যাই, বাজে আড্ডা দিয়ে থাকে নেশার পথ খুঁজি। কিন্তু বই পড়া এমন একটা নেশা যা সকল নেশাকে হার মানাতে পারে।

এটি জীবনের মূল লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করে এবং জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেয়।

তাই বিষণ্ণতা দূর করতে আজ থেকে পড়ার অভ্যাস করুন আর এই অভ্যাসকে নেশাতে পরিণত করুন।

বই পড়া নিয়ে মনীষীদের উক্তি

১. ভালো খাদ্য বস্তু পেট ভরে কিন্ত ভাল বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করে। – স্পিনোজা

২. ভালো বই পড়া মানে গত শতাব্দীর সেরা মানুষদের সাথে কথা বলা। – দেকার্তে

৩. অন্তত ষাট হাজার বই সঙ্গে না থাকলে জীবন অচল। – নেপোলিয়ান

৪. প্রচুর বই নিয়ে গরীব হয়ে চিলোকোঠায় বসবাস করব তবু এমন রাজা হতে চাই না যে বই পড়তে ভালবাসে না। – জন মেকলে

৫. আমি চাই যে বই পাঠরত অবস্থায় যেন আমার মৃত্যু হয়। – নর্মান মেলর

৬. একটি ভালো বইয়ের কখনোই শেষ বলতে কিছু থাকে না। – আর ডি কামিং

৭. একটি বই পড়া মানে হলো একটি সবুজ বাগানকে পকেটে নিয়ে ঘোরা। – চীনা প্রবাদ

৮. একজন মানুষ ভবিষ্যতে কী হবেন সেটি অন্য কিছু দিয়ে বোঝা না গেলেও তার পড়া বইয়ের ধরন দেখে তা অনেকাংশেই বোঝা যায়। – অস্কার ওয়াইল্ড

৯. বই হলো এমন এক মৌমাছি যা অন্যদের সুন্দর মন থেকে মধু সংগ্রহ করে পাঠকের জন্য নিয়ে আসে। – জেমস রাসেল

১০. আমাদের আত্মার মাঝে যে জমাট বাধা সমুদ্র সেই সমুদ্রের বরফ ভাঙার কুঠার হলো বই। – ফ্রাঞ্জ কাফকা

১১. পড়, পড় এবং পড়। – মাও সেতুং

১২.জীবনে তিনটি জিনিসের প্রয়োজন- বই, বই এবং বই। – ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

১৩. বই হচ্ছে অতীত আর বর্তমানের মধ্যে বেঁধে দেয়া সাঁকো। – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কিছু অসাধারণ মানুষের উক্তি, হয়তো আপানার পথ সহজ করবে।

bucket quotes

আমরা জীবনের বেশীর ভাগ সময় অনেক হতাশাগ্রস্থ্য হতে থাকি আমাদের সাথে ঘটে যাওয়া কিছু অপ্রত্যাশিত কারণে। আর আমরা চিন্তা করতে থাকি আমাদের জীবন আমাদের শুধু শোষণ করে তাই আমরা অনেক বেশী ভেঙ্গে পড়ি। প্রত্যেক মানুষের কিছু না কিছু সমস্যা থেকে থাকে কোন মানুষ পরিপূর্ণ না। যদি আমরা এটা বোঝার চেষ্টা না করি তাহলে আমাদের পূর্বের অবস্থার চেয়ে খারাপ এবং আরও বেশী খারাপ হতে থাকবে। তাই এমন কিছু উক্তি পড়তে পারেন যা বিভিন্ন মনীষী আর গুনীজেনরা বলে ছিলেন। এই উক্তি গুলো পড়লে আপনার জীবনে অনেক বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

earth quote

  • সব মানুষের জীবনেই অপূর্নতা থাকবে। অতি পরিপূর্ন যে মানুষ তাকে জিজ্ঞেস করেলেও সে অতি দুঃখের সাথে তার অপূর্নতার কথা বলবে। অপূর্নতা থাকে না শুধু বড় বড় সাধক আর মহা পুরুষদের।

– হুমায়ূন আহমেদ

  • সফল্যের মূলমন্ত্র হলো যা আমরা ভয় পাই তার উপর নয় বরং আমরা যা চাই তার উপর আমাদের চেতন মনকে কেন্দ্রীভুত করা।

-ব্রায়ান ট্রেসি

  • সাফল্য অনেকটা উস্কানি দেয়া শিক্ষকদের মত। এটা দক্ষ ও বুদ্ধিমান লোকদের চিন্তা করতে বাধ্য করায় যে তারা কখনো হারবে না।

-বিল গেটস

  • যদি আমাকে একটি সমস্যা সমাধানের জন্য এক ঘন্টা বেঁধে দেয়া হয়, আমি তা ৫৫ মিনিট সমস্যা নিয়ে চিন্তা করি এবং বাকী ৫ মিনিট সমাধানটা নিয়ে চিন্তা করি।

– আলবার্ট আইনস্টাইন

  • দুঃখ গুলোকে অনেক বড় মনে হয়, সুখ গুলোর চেয়ে। কিন্তু একটি সফলতাকে অনেক বড় মনে হয়, হাজার ব্যার্থতার চেয়ে।

– সুজন মজুমদার

  • যদি তুমি তোমার কাজকে স্যালুট কর, দেখো তোমায় আর কাউকে স্যালুট করতে হবে না। কিন্তু তুমি যদি তোমার কাজকে অসম্মান কর, অমর্যাদা কর, ফাঁকি দাও, তাহলে তোমার সবাইকে স্যালুট করতে হবে ।

– এ পি জে আবুল কালাম

  • বোকা মানুষ গুলো হয়তো অন্যকে বিরক্ত করতে জানে। কিন্তু কখনো কাউকে ঠকাতে জানে না।

-হুমায়ূন আহমেদ

  • যখন তোমার পকেট ভর্তি টকা থাকবে তখন শুধু মাত্র তুমি ভুলে যাবে যে “তুমি কে” কিন্তু যখন তোমার পকেট ফাঁকা থাকবে অখন সমগ্র দুনিয়া ভুলে যাবে “তুমি কে”!

বিল গেটস

  • যারা নিজেকে নিয়ে ব্যাস্ত থাকে তারা কখনো অন্যের দুঃখ কষ্টকে উপলদ্ধি করতে পারে না।

-রেদয়ান মাসুদ

  • আমি ভাবতাম, আমি গরিব। তারা বলল, আমি গরিব নই, অভাবগ্রস্ত। তারা বলেছিল, নিজেকে অভাবগ্রস্ত ভাবাটা আত্মপ্রবঞ্চনা। আমি বঞ্চিত। ওহ্, না। ঠিক বঞ্চিত না, স্বল্প অধিকারপ্রাপ্ত। তারপর তারা বলল, স্বল্প অধিকারপ্রাপ্ত কথাটা ব্যবহারজীর্ণ। আমি হলাম সাফল্যের পথে বাধাপ্রাপ্ত। আমার কাছে এখনো একটা পয়সাও নেই। কিন্তু আমার শব্দভান্ডার বেশ সমৃদ্ধ হয়েছে।

– জুল ফেইকার

  • নিজের লক্ষ্য ও স্বপ্নকে আপনার আত্মার সন্তান হিসেবে লালন করুন, এগুলোই আপনার চূড়ান্ত সাফল্যের নকশা হবে।

-নেপোলিয়ন হিল

  • যে পুরুষ কখনো দুঃখকষ্ট ভোগ করেনি এবং পোড় খাওয়া মানুষ নয়, মেয়েদের কাছে সে তেমন বাঞ্ছনীয় না। কারণ দুঃখকষ্ট পুরুষকে দরদি ও সহনশীল করে তোলে।

– ডেনিস রবিনস

  • আপনি যদি গরীব হয়ে জন্ম নেন তাহলে এটা আপনার দোষ নয়, কিন্তু যদি গরীব থেকেই মারা যান তবে সেটা আপনার দোষ।

-বিল গেটস

  • দ্রুত কাজ করে অন্যকে অতিক্রম করুন। আপনি যদি সেটি না পারেন, তাহলে বুঝতে হবে আপনি খুব দ্রুত কাজ করতে পারছেন না।

-মার্ক জাকারবার্গ

happy quoets

যে কাজে আপনি ব্যার্থ হয়ে হতাশাগ্রস্থ্য তা এড়িয়ে না চলে তার সমাধান খুঁজে বের করুন। আবার চেষ্টা করুন। ব্যার্থতা আসলে ভেঙ্গে পড়লে চলবে না। সেটাকে সাহসিকতার সাথে মোকাবেলা করতে হবে।

 

“সেদিন থেকে রিকশাচালকদের উপর একটা সম্মান কাজ করে”

রিকশাচালকদের সম্মান দিন।

 

বৃহস্পতিবার অফিস ডিউটির শেষার্ধে কাজ করতে একদমই মন বসেনা, আলসেমিতে পেয়ে বসে কখন বের হব কখন বের হব একটা টান মাথায় ঘুরতে থাকে। আমার মত কাজ ফাঁকিবাজ লোকদের ক্ষেত্রে এমনটা হয়। অবশ্য ভাল চাকুরীজীবিদের ক্ষেত্রে নাও হতে পারে এমন। কিছুতেই আর মন বসছিলোনা কর্মক্ষেত্রে তাই নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘন্টা আগেই বেরিয়ে পরেছি।

  • আমার মায়ের বাপ মুমূর্ষ অবস্থায় ভর্তি একটা প্রাইভেট হসপিটালে প্রায় অনেকদিন যাবৎ। তাই নিয়ম মাফিক একবার অফিস শেষে যেয়ে দেখে আসতে হয় প্রতিদিন। কর্তব্যবোধ বলতে একটা ব্যাপার আছে নাহ্! নানায় যদি আম্মাকে পয়দা না করতো তাইলে আমি আসতাম কোত্থেকে।
  • নানার সাথে দেখা করে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিবো জম্পেশ। সারা সপ্তাহের উশুল একদিনে। তাই একটা তাড়নাবোধ কাজ করছিলো। সন্ধ্যা বেলা রিকশা পাওয়া চাঁদ কপালের ব্যাপার। এদিকওদিক রিকশার জন্য চোখ বুলাচ্ছি। তখনি সামনে এসে থামলো একটি রিকশা। যাবেন?মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো এবং ইশারায় উঠে বসতে বল্লো,কোথায় যাবো ফিরতি প্রশ্ন না করেই। বিষয়টা অবাক ও ভাল লাগলো।
  • একটু পরেই সব ভাললাগা মলিন হতে চললো। এমনিতেই তাড়াহুড়া এর মধ্যে উনি রিকশাটি কচ্ছপ গতিতে চালাতে লাগলেন সারাটি পথ। মেজাজতো বেজায় এক লাফে ২° ডিগ্রি থেকে ৩৫৯° ডিগ্রিতে গিয়ে টগবগে অবস্থা। মনে মনে ভাবলাম, নাহ রাগ প্রকাশ করা যাবেনা, দেখি এর শেষ কোথায় কি হয়! জিভ-ঠোঁট চেপে বসে আছি আসনে।
  • রিকশা থেকে নেমে ভাড়ার দ্বিগুণ একটা নোট হাতে ধরিয়ে জিজ্ঞাসিলাম-

-মামা! নাম কি আপনার? (মানুষের নাম জানা আমার একটা শখ, স্বভাবও বলতে পারেন, যদিও পাঁচ মিনিট পরে মনে থাকেনা)

-নুদ্দিন, আরেহ মামা নুদ্দিন নাহ! নুরদ্দিন,  নূর উদ্দিন। (তৃতীয়বার উচ্চারণের সময় ঠিক করে বললেন)

-খুব সুন্দর নাম! -হ মামা সুন্দর! আম্মায়ও বলে। আপনি বোধয় মনে মনে রাগছেন রিকশা আস্তে আস্তে চালানোর জন্য?

-আরেহ নাহ মামা! রাগি নাই (মিষ্টি একটা মুচকি হাসি দিয়ে)

-আসলে মামা, আমার পা একটা অবস টাইফয়েড জ্বরে। তাই এ অবস্থা। (ততোক্ষণে রাগ ভ্যানিস)

-নাহ ঠিক আছে, কর্ম করে খান চুরি কিংবা অন্যকিছু তো আর করছেন না। কিংবা কারও দ্বারস্থ হচ্ছেন না অন্ততপক্ষে। আচ্ছা আপনি অন্য কোন কাজ করতে পারেন নাহ্? যেটাতে আপনার পা-এ প্রেশার না পরে।

-ছিল মামা। এখন আর নাই, সিজনাল কাম তো! বেকার না থেকে তাই রিকশা চালাতে চলে এলাম, বৌ-বাচ্চা খাওয়াতে চলে এলাম।

  • এভাবেই অনেক নুদ্দিন,নুরদ্দিন, নূর উদ্দিন আছেন আমাদের দৃষ্টির পাশে এবং আড়ালে। জীবনঘানি টেনে যাচ্ছেন শরীরের বিশেষ কোন অঙ্গ অবস-অকেজো থাকা সত্বেও। আর আবার অনেকে সর্বাঙ্গ সুস্থ্য-সবল থাকা পরেও মা-বাবা-অন্যের উপরে পা এলিয়ে খাই।এসব শরীরের রক্ত পানি করা খেটেখুটে খাওয়া মানুষগুলো আপনার আমার কাছে আহামরি কিছু চান-না,তাদের ন্যায্য পাওনা পেলেই খুশি। হর-হামেশা অনেকে আবার ৫/১০ টাকার জন্যে অনেক রিকশাচালক কে ধমকা-ধমকি এবং মারতেও দেখেছি। সার্বভৌম বাংলাদেশে আপনি যেমন নাগরিক তারাও কিন্তু নাগরিক। আপনার যদি কোন কিছুতে মতামত দেয়ার অথবা প্রতিবাদ করার অধিকার থাকে তাহলে তাদের ও আছে। অনেকে আছেন তাদের তুই/তুমি করে কথা বলেন। আপনার বয়সে বড় কোন মানুষের পেশা যাই হোক না কেন তাকে তুই/তুমি বলে সম্বোধন করার কোন অধিকার আপনার নেই। আমার, আপনার কাছ থেকে তারা যদি একটু ভালো ব্যবহার পান, দেখবেন এই মানুষটি’ই পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সুখী ঠিক ঐ মুহূর্তে। তাদের সাথে সম্মান দিয়ে কথা বললে আপনার সম্মান কিন্তু কোন অংশে কমে যাবেনা।

ঢাকার রাস্তায় চলাফেরা মানেই রিকশা। রিকশা ছাড়া একটা দিন কি কখন ভেবে দেখেছেন। রোদ, ঝড়, বৃষ্টি কোন দুর্যোগ রিকশাওয়ালাদের আটকে রাখতে পারেনা। আমরা কি পারিনা তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্যটা দিতে। আপনি হয়তো বলবেন যা দেন সেটাই ন্যায্য। ভিক্ষুকদের টাকা না দিয়ে এই মানুষগুলোকে টাকা দিন। আপনার খুশি হয়ে দেয়া টাকায় এরা খুব বড়লোক হয়ে যাবেনা, খুব বেশি হলে হয়তো দুবেলা পরিবারকে ঠিক মত খাওয়াতে পারবে।

  • লেখকঃ ক্ষণিকের রাগান্বিত রিকশা আরোহী।