শাক না খেলে কমবে আয়ু

শাক

সব জায়গাতে ফাস্টফুড, রিচফুডের দোকান বেড়েই চলছে। বলতে পারেন কেন বাড়ছে? কারণ মানুষ এখন বাসার খাবার ছেড়ে বাইরের খাবারের প্রতি আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এর জন্য চারিদিকে অতিরিক্ত ওজনের মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। ছোট মাছ আর শাক চোখের জ্যোতি বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু আমরা তো দুচোখে এই খাবার গুলো দেখতে পারিনা। ডাক্তার যখন ওই হাই প্রোটিন ও উচ্চ মাত্রার ক্যালোরিযুক্ত খাবার বর্জন করে শাক সবজি মাছ খেতে বলেন, তখন ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। তাই নিম্নে নানান শাকের গুণাগুণ বর্ণনা করা হলো।

লাল শাক

শাক

লালশাক অত্যন্ত সহজলভ্য একটি সস্তা শাক। ইচ্ছে করলেই ছাদে বা অল্প জায়গায় লালশাকের বীজ বুনে এক মাসের মধ্যে খাওয়া যায়। লালশাক রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়ায়।

লাল শাকে অনেক বেশি ভিটামিন এ আছে। ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।

তাই চোখের যেকোনো সমস্যা রোধ করতে লাল শাকের জুড়ি নেই।

যাদের রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া আছে তারা নিয়মিত লালশাক খেলে রক্তস্বল্পতা পূরণ হয়। এতে লবণ বা ক্ষারের গুণ রয়েছে।

সরিষা শাক

শাক

সরিষা শাকে প্রচুর পরিমাণে আমিষ ও স্নেহ জাতীয় পদার্থ রয়েছে। এই শাক রক্তে উপকারী এইচডিএল কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে। দেহে ভিটামিন ডি তৈরীতে সাহায্য করে।

পালং শাক

শাক

পালংশাককে শাকের রাজা বলা হয় শুধু এর পুষ্টিগুণের জন্য। পালংশাকের প্রধান কাজ হলো গলব্লাডার ও কিডনির দেখাশোনা করা।

পালংশাক খেলে জন্ডিস ভালো হয়। রক্ত বৃদ্ধি করে, রক্ত বিশুদ্ধ করে, হাড় মজবুত করে। অন্ত্র সচল রাখে। ডায়াবেটিস ভালো করে।

কিডনিতে পাথর হলে বের করে দেয়। এতে ভিটামিন ’এ’ ’বি’ ও ’ই’ রয়েছে। আরো আছে এমিন অ্যাসিড।

মুলা শাক

শাক

মুলার মতো মুলাশাকও উপকারী। মুলাশাক শরীরের মল ও মূত্র বের করে দেয়। মুলাশাকে অর্শ রোগ সারে। মুলার চেয়ে মুলাশাক বেশি উপকারী বলে পুষ্টিবিদরা বলেন। এই শাক দেহের জ্বালাপোড়া কমায়। কফ ও বাত নাশ করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

পুঁই শাক

শাক

পুঁইশাক শরীর ঠাণ্ডা রাখে। পুঁইশাকের ডগায় বেশি ভিটামিন থাকে। বল, পুষ্টি ও বীর্য বর্ধক।

সুনিদ্রা আনে, বাত পিত্তনাশক। চোখের জন্য ভালো। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

কচু শাক

শাক

কচুশাক শহরে, নগরে ও গ্রামে সর্বত্র পাওয়া যায়। দামে সস্তা অথচ অত্যন্ত উপকারী। কিন্তু অনেক সময় দোকানিরা খারাপ, পরিতেক্ত জায়গা থেকে কচু শাক নিয়ে আসে।

কচুশাক চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। মায়ের বুকে দুধ বৃদ্ধি করে। রক্তপিত্ত রোগ সারে।

প্রস্রাবের জ্বালা-যন্ত্রণা দূর করে। ক্ষুধা বাড়ায়। শরীরে রক্ত তৈরি করে।

থানকুনি

থানকুনি পাতা সকল ধরনের পেটের রোগের মহৌষধ। বদহজম, ডায়রিয়া, আমাশয় ও পেটব্যথা সেরে যায়। আলসার, এগজিমা, হাঁপানি, চুলকানি ও অন্যান্য চর্মরোগ থেকে মুক্তি লাভে থানকুনি অত্যন্ত কার্যকরী। থানকুনির রস খেলে ত্বক ও চুল সুন্দর থাকে। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। সংবহনতন্ত্রের স্থায়ীভাবে স্ফীত ও বর্ধিত শিরা কমাতে সহায়তা করে। ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে পুনর্গঠন করে।

ডিপ্রেশন নিয়ে অবহেলা করলে পরিণতি হতে পারে “মৃত্যু”

ডিপ্রেশন

মানব শরীর নানা রোগের আধার। ভয়ঙ্কর সব রোগ নিয়ে হয়তোবা আপনার আশেপাশের মানুষগুলো বেঁচে আছে। কিছু কিছু রোগ আছে দেখা যায় না কিন্তু এর ভয়ঙ্করের মাত্রা অনেক বেশি। ডিপ্রেশন তেমনই একটি রোগের নাম। দিন দিন এই রোগ প্রকট হয়ে উঠছে। আমাদের দেশে এ নিয়ে তেমন কোন জনসচেতনতা নেই বললেই চলে। কারণ মানসিক সমস্যা অথবা রোগকে কোন রোগ বা আসুস্থতা বলে গণ্য করা হয় না। কিন্তু প্রতি বছরই এর কারণে অনেক মানুষ আত্মহত্যা করছে।

কম বেশি সবাই জানি ডিপ্রেশন কি, তাই এ নিয়ে আলোচনা করবনা। আমরা আসলে ভালো করে জানিনা কেন ডিপ্রেশন হয়। এমনি এমনি তো এই আসুস্থতা হতে পারে না। সব কারণ জানা না গেলেও কিছু সাধারণ কারণ আছে।

ডিপ্রেশন হতে পারে অপমানবোধ থেকে

মানসিক বা শারীরিকভাবে অবমাননার স্বীকার হলে অনেকে  ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়। এই ধরণের অনুভূতি থেকে ডিপ্রেশনের সৃষ্টি হয়।

নিরাপত্তাহীনতা বা একাকীত্ববোধ করা

পারিবারিক কারণে অনেকে হীনমন্যতায় পড়ে। সামাজিক ও পারিবারিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকে বিষণ্নতার স্বীকার হয়। তাছাড়া বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধব বা অন্যান্য কাছের মানুষদের সাথে সম্পর্কহীনতা বা মতবিরোধ থেকেও অনেকে বিষণ্ণতায় ভুগে থাকেন।

ডিপ্রেশন বংশগত কারণে হতে পারে

বংশগত পরিবারে কারো ডিপ্রেশন থাকলে তা অন্যদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

বড় কোন রোগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

বড় ধরণের কোন রোগ থাকলে রোগী ডিপ্রেশনের শিকার হতে পারে।

ঔষধের প্রভাব

নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ সেবনের ফলেও কেউ কেউ বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয়। যেমন ব্রণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত আইসোট্রেটিনিয়ন বা অ্যান্টিভাইরাল “ইন্টারফেরন-আলফা” জাতীয় ঔষধ সেবনেও অনেকে বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয়। এমন অনেক ঔষধ আছে যেগুলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে বিষণ্ণতা ছড়িয়ে দেয় মস্তিষ্কে।

ডিপ্রেশন আপনাকে অসহায় অবস্থায় পতিত করবে। ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন ধরণের থেরাপি ও চিকিৎসার পাশাপাশি নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।

নিজের চেষ্টা না থাকলে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। নিজের প্রতিদিনের কাজকর্ম, খাওয়া-দাওয়া, জীবনপ্রণালী এমনকি চিন্তা-ভাবনায় ও পরিবর্তন আনতে হবে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির জন্য।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির জন্য নিচের পয়েন্টগুলো সহায়ক হতে পারে-

রুটিনমাফিক চলা

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিনের জীবনকে একটা রুটিনের মধ্যে নিয়ে আসুন।

প্রতিদিনের কাজ-কর্মকে যদি একটা নিয়মের মধ্যে বেঁধে ফেলা যায় তবে তা ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা

লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেলুন। ডিপ্রেশনে যেহেতু কোন কাজ করতে ইচ্ছা করে না তাই প্রতিদিন একটু একটু করে কাজ করার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।

নিয়মিত ব্যায়াম করা

প্রতিদিন অল্প কিছু সময় ব্যায়াম করলে তা আপনার শরীর এবং মনকে সুস্থ রাখবে।

ব্যায়াম করা মানে, ম্যারাথন দৌড় টাইপ কিছু না, আপনি যদি প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটাহাঁটি করেন তবুও তা আপনার মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যা আপনাকে ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে।

সুষম খাদ্য গ্রহণ

সুষম খাদ্য গ্রহনের মাধ্যমে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি মেলে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ থাকে।

সাইক্রিয়াটিস্টদের মতে, যেসব খাবারে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এ্যাসিড এবং ফলিক এসিড থাকে সেসব খাবার ডিপ্রেশন কমাতে সহায়তা করে।

অনিদ্রা দূর করা

পর্যাপ্ত ঘুম ডিপ্রেশন কমায়। ডিপ্রেশনের রোগীদের নিদ্রাহীনতা দেখা দেয়্। তাই, প্রথমেই ঘুম সমস্যার সমাধান করতে হবে।

প্রতিদিনের জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে নিদ্রাহীনতা দূর করা সম্ভব। প্রতিদিন ঠিক সময়ে ঘুমোতে যাওয়া এবং সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

দিনের বেলার হালকা ঘুমের অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। শোবার ঘর থেকে টিভি, কম্পিউটার, মোবাইল এগুলো সরিয়ে রাখতে হবে।

এভাবেই অনিদ্রা রোগ ধীরে ধীরে দূর করা সম্ভব।

ইতিবাচক চিন্তা করা

ডিপ্রেশনে ভুগতে থাকলে মানুষের মনে বিভিন্ন রকম নেগেটিভ চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকে।

যেমন আমিই বুঝি সবচেয়ে খারাপ, আমার মত দুঃখ কারো নেই, আমি সবার চেয়ে অসুস্থ, আমি ব্যর্থ একজন মানুষ এই ধরণের চিন্তাগুলো সুস্থ হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা।

তাই এই নেগেটিভ চিন্তাগুলোকে মন থেকে দূর করে পজিটিভলি চিন্তা করার চেষ্টা করতে হবে।

যুক্তি দিয়ে সবকিছু বিচার করতে হবে। আশাহত হওয়া যাবে না কোনভাবেই।

আনন্দদায়ক কাজের মধ্যে সময় কাটানো

নতুন কিছু করার চেষ্টা করতে হবে। মজার কোন কাজ। যেমন নতুন কোথাও ঘুরতে যাওয়া, মজার কোন বই পড়া, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া।

মন ভালো রাখার সবরকম চেষ্টা করতে হবে। মন ভালো থাকলে ডিপ্রেশন কেটে যাবে একসময়।

ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ

ডিপ্রেশন পুরোপুরি না ভালো হওয়া পর্যন্ত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।

স্তন ক্যান্সার রোধে লজ্জা নয় সচেতনতা দরকার

স্তন

ক্যান্সার নামটি শোনার সাথে সাথে আমাদের মনে মৃত্যুভয় চলে আসে। আগে ক্যান্সার নিরাময়যোগ্য ছিলনা কিন্তু এখন ক্যান্সার নিরাময় করা এতো কষ্টসাধ্য নয়। এ রোগ যদি সূচনায় ধরা পড়ে এবং সময়মতো চিকিৎসা দেয়া যায় তাহলে এক-তৃতীয়াংশ সম্পূর্ণভাবে নিরাময় করা যায়। বাকি এক-তৃতীয়াংশ চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বাকি এক-তৃতীয়াংশ অনেক দেরিতে ধরা পড়ে বলে নিরাময় বা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নারীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় স্তন ক্যান্সার।

পৃথিবীর কোথাও না কোথাও স্তন ক্যান্সারের কারণে প্রতি ৭০ সেকেন্ডে একজন মহিলা মৃত্যুবরণ করছেন। স্তন ক্যান্সার বিশ্বের এক অন্যতম নীরব ঘাতক। এই ক্যান্সারে নারী মৃত্যুর প্রধান কারণ নারীরা সচেতন না।

স্তন ক্যান্সারের লক্ষণসমূহঃ  

  • স্তনে চাকা বা পিন্ড
  • স্তনের আকারের পরিবর্তন
  • বোঁটা ভেতরে ঢুকে যাওয়া, অসমান বা বাঁকা হয়ে যাওয়া
  • বোঁটা দিয়ে অস্বাভাবিক রস বা রক্তক্ষরণ হওয়া
  • চামড়ার রঙ বা চেহারার পরিবর্তন
  • উন্মুক্ত ক্ষত
  • বগলতলায় পিন্ড বা চাকা এবং
  • বাহুমূলে স্তনে ব্যথা।

স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা

এই চিকিৎসা সমন্বিত ও বহুমাত্রিক চিকিৎসা পদ্ধতি। শল্য চিকিৎসা, চিকিৎসা, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, হরমোন চিকিৎসা ও ইমিউনোথেরাপি, টারগেটেড থেরাপি সমন্বিতভাবে প্রদান করা যায়। এই রোগের মূল লক্ষ্য দুইটি প্রথমত মূল টিউমার অপসারণ এবং দ্বিতীয়ত সামগ্রিক চিকিৎসা প্রদান।

সার্জারি

সার্জারি স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে অন্য যে কোন চিকিৎসার চেয়ে রোগীকে বেশি আরোগ্য করে।

যদি টিউমার স্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, শরীরের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়া টিউমারের ক্ষেত্রে এর ভূমিকা নগণ্য।

রেডিওথেরাপি

সাধারণত অপারেশনের পরও চোখে দেখা যায় না যদি এমন কিছু কোষ থেকে থাকে, তাকে দমন করা। সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে দেয়া হয়ে থাকে।

যখন এ রোগ মস্তিষ্ক বা হাড়ে ছড়িয়ে পড়ে তখন জরুরী ভাবে পেলিয়েশন বা প্রশমন করার জন্য রেডিওথেরাপির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে রেডিওথেরাপি দেয়া যায় বলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।

কেমোথেরাপি ও হরমোন

প্রায় প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রেই কেমোথেরাপি হরমোনথেরাপি প্রয়োগ করা যায়।

সামগ্রিকভাবে শরীরের সর্বত্রই এই রোগের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য এর ব্যবহার অপরিহার্য।

খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণীত হলে এবং যথোপযুক্ত চিকিৎসা নিলে শতকরা ৭৫-৮০ ভাগ রোগী ১০ বছরেরও বেশি বেঁচে থাকে।

মাঝ পর্যায়ে নির্ণীত হলে এই হার ৫০ থেকে ২৫ শতাংশে নেমে আসে।

শেষ পর্যায়ে ভাল কিছু করার সুযোগ প্রায় থাকেই না।

স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় এবং সময়মতো যথোপযুক্ত চিকিৎসা নেয়া এ রোগ মোকাবেলা করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই।

স্তন ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়া থেকে বিরত হতে নতুন  আশার আলো আবিষ্কার হয়েছে

  • খাদ্যে প্রাপ্ত একধরনের প্রোটিন গঠনকারী ব্লক, প্রাণঘাতী স্তন ক্যান্সার ছড়ানো থেকে বিরত রাখার চাবিকাঠি হতে পারে বলে ন্যাচার জার্নালের এক গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে।
  • বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, পরীক্ষাগারে ‘ট্রিপল-নেগেটিভ’ স্তন ক্যান্সার যুক্ত ইঁদুরে অ্যাসপ্যারাজিন নামে অ্যামিনো অ্যাসিড কমিয়ে দিলে তা দেহে ক্যান্সার  ছড়ানোর ক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে হ্রাস করে।

অ্যাসপ্যারাজিন  সমৃদ্ধ খাবার হছে, দুগ্ধজাত খাবার, গরুর মাংস, হাঁস-মুরগীর মাংস, সামুদ্রিক মাছ, বাদাম, ডিম, অ্যাসপ্যারাগাস বা শতমূলী ইত্যাদি। তবে বেশিরভাগ শাক-সবজি ও ফলমূলে এর পরিমাণ কম।

এটি শুধু স্তন ক্যানসারই নয়, কিডনি ক্যানসারের মতো অন্যান্য ক্যানসার টিউমারের ক্ষেত্রেও বিশাল প্রভাব রাখতে পারে। সুতরাং আপনার খাদ্য তালিকায় অ্যাসপ্যারাজিন  সমৃদ্ধ খাবার রাখুন।

খুশকি নিয়ে আমাদের ভুল ধারণা, যা আমরা সবাই মানি

খুশকি

শীতের প্রকোপে খুব খারাপ অবস্থা এখন আমাদের। শীত অনেকের পছন্দ আবার অনেকের আছে শীতকে নিয়ে নানান অভিযোগ। অনেকের মতে খুশকি জনিত সমস্যা নাকি এই শীত কালেই বেড়ে যায়।

কিন্তু আপনি কি জানেন এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা। খুশকি নিয়ে এমন অনেক ভুল ধারণা আছে আমাদের মধ্যে। আজ আর সেটা থাকবে না আশা করি।

খুশকি বেশি হয় শুষ্ক মাথায়

এটা আমাদের সবচেয়ে সাধারণ একটা ভুল ধারণা। এটা তখনি হয় যখন মাথার ত্বকে ফাঙ্গালের পরিমাণ বেড়ে যায়। যাকে বলে ফাঙ্গাল মালাসেজিয়া। মাথা যদি ঠিক মতো পরিস্কার না করা হয় তাহলে এমনটা হতে পারে।

খুশকি শুধু শীতকালে হয়

খুশকি কোনো মৌসুম দেখে আসে না। এটি নির্ভর করে মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের উপর। যাদের খুশকি থাকে তারা এই সমস্যা দূর না করলে সব সময়ই থাকে। শীতকালে ত্বক বেশি শুষ্ক থাকে তাই বেশি বোঝা যায়। কিন্তু বছরের অন্য সময়গুলোতেও মাথায় খুশকি থাকে।

খুশকির জন্য চুল পড়ে

খুশকির কারণে চুল পড়তে পারে তবে এটি চুল পড়ার প্রধান কারণ নয়।

সাধারণত অস্বাস্থ্যকর মাথার ত্বক এবং ভুল খাদ্য অভ্যাসের কারণে চুল পড়ে।

এছাড়া চুলে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টি না পেলে, রোদের ভিতরে চুল অনেক্ষণ ছেড়ে দিয়ে রাখলে, ভেজা চুল বেঁধে রাখলে চুল পড়ে।

ঠিক মতো চুল না আঁচড়ালেও এমনটা হতে পারে। কারণ চুল আঁচড়ালে মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল ভালো হয়।

খুশকি ছোঁয়াচে হয়

অনেকেই মনে করে থাকেন কারো মাথার সঙ্গে মাথা ঠেকালে, কোলাকুলি করলে খুশকি চলে আসে অথবা একই চিরনি দিয়ে আঁচড়ালে এটা হতে পারে।

এটি একেবারেই ভুল ধারণা। এটা কোনো সংক্রামক নয় যে কাউকে ছুলেই তা আপনার হবে। তাই নির্দ্বিধায় মানুষের সঙ্গে কোলাকুলি করতে পারেন।

মানসিক চাপ খুশকি বাড়িয়ে দেয়

অনেকে বলে থাকেন, অনেক বেশি মানসিক চাপে থাকলে তা খুশকি বাড়াতে সাহায্য করে।

এটি একদম একটি ভুল ধারণা। এই তথ্যের কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নাই।

এটা সত্যি যে অতিরিক্ত মানসিক চাপ আপনার মস্তিষ্কের জন্য ভালো নয়। তাই চেষ্টা করুন মানসিক চাপ এড়ানোর।

তামার চিরুনি ব্যবহার করলে খুশকি দূর হয়

তামাকে অনেক ক্ষেত্রে অ্যান্টি ফাঙ্গাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু তামা খুশকি দূর করতে কতখানি সক্ষম তার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই।

তাই এটিকে কোনো স্থায়ী সমাধান ভাবলে ভুল হবে।

খুশকি দূর হয় দৈনিক শ্যাম্পু করলে

খুশকির জন্য চুলে শ্যম্পু করার দরকার হয় না। কোনো ত্বক বিশেষজ্ঞ কাউকে প্রতিদিন চুলে শ্যম্পু করতে বলেন না। কারণ এটি মাথার ত্বকের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এতে আপনি খুশকি দূর করার থেকে মাথার ক্ষতিই বেশি করবেন।

এই ভুল ধারণাগুলোক আকড়ে ধরে বসে থাকবেন না।

আপনি যদি একটু বেশি খুশকির সমস্যায় ভোগেন তাহলে তা দূর করার জন্য বিশেষ শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন।

এখন বর্তমানে এরকম অনেক শ্যাম্পু বাজারে পাওয়া যায়।

যদি দেখেন সেগুলো ব্যবহার করে আপনার কোন উন্নতি হচ্ছে না তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

এই সমস্যা হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ আমি মনে করি আপনার খাদ্য অভ্যাস।

আপনার মাথায় যদি অনেক থেকে থাকে এবং কোন ভাবেই না কমে থাকে সে ক্ষেত্রে আপনার খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তন করুন।

খুশকি এবং চুল পড়া দুটোই রোধ করতে চাইলে খাদ্য তালিকা বদলানো খুবই দরকার। তবে তা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।

মাঝে মাঝে বাসায় বসে অথবা পার্লার থেকে হেয়ার ট্রিটমেন্ট করিয়ে নিন।

মাসে একবার করলেই হবে। এতে চুল এবং মস্তিষ্ক দুটোই ভালো থাকবে।

শরীরে আয়রনের অভাব হচ্ছে, কি করে বুঝবেন?

আয়রন

আমাদের দেহের অন্যতম একটি উপাদান হচ্ছে আয়রন। হিমোগ্লোবিন তৈরিতে খুব দরকারি একটি উপাদান হচ্ছে আয়রন। হিমোগ্লোবিন সারা দেহে অক্সিজেন সরবরাহ করে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন আয়রন কতোটা দরকারি আমাদের জন্য। সাধারণত নারীদের এই সমস্যা দেখা যায়।

অবসন্ন বোধ করা

প্রতিদিনের কাজের চাপে ক্লান্তিভাব আসতে পারে। কিন্তু আয়রনের অভাব হলে অল্প কাজ করেই ক্লান্তিভাব আসতে পারে, বিসন্ন লাগে, দুর্বল লাগে, কাজে মন বসে না। আয়রনের অভাবে রক্তে অক্সিজেন ঠিক মতো পৌঁছায় না বলে এমনটা হতে পারে।

বিবর্ণ চেহারা

আয়রনের অভাবে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে হিমোগ্লোবিন উৎপন্ন করতে পারে না বলে রক্তের ঘাটতি পড়ে। রক্তের লালচে ভাব চলে যায়। টর্চ দিয়ে নাক, কান, জিহ্বা দেখলে ফ্যাকাসে দেখাবে।

নিশ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা

সিঁড়ি বেয়ে উঠা নামা করলে অথবা জোরে হাঁটাহাঁটি করলে শ্বাস নিতে কষ্ট হবে। অনেক গভীরে শ্বাস নিলেও মনে হবে না পর্যাপ্ত। খুব জলদি ক্লান্তি চলে আসবে।

আয়রন না থাকলে পায়ে ভারসম্যহীনতা হয়

আয়রনের অভাবে পায়ে কাঁপা কাঁপি হয়। হাঁটতে চলতে ভারসম্য থাকে না।

শরীরে আয়রনের পরিমাণ যত কমবে ভারসম্য রাখতে তত কষ্ট হবে।

আয়রন কম হলে গর্ভবতী নারীরা বমি করেন

মায়ের গর্ভে যে শিশু লালিত হচ্ছে তার আয়রন দরকার। সে তার প্রয়োজনীয় সব কিছুই মায়ের কাছ থেকে গ্রহণ করে থাকে।

সুতরাং যখন মা শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণের আয়রন না থাকে তখন মা বমি করেন।

জিহ্বার রঙ অদ্ভুত হয়ে যায়

শরীরে আয়রন কম থাকলে জিহ্বার রঙ অদ্ভুত হতে শুরু করে। আয়রন মায়োগ্লোবিনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এই রক্তকণিকা জিহ্বার পেশী গঠনে কাজ করে।

তাই এর অনুপস্থিতি আপনার জিহ্বার উপর নিয়ন্ত্রণকে ব্যহত করতে পারে।

চুল পড়া

আয়রনের অভাবে রক্ত স্বল্পতা দেখা যায় আর তাই চুল পরতে থাকে। এমন সময় দৈনিক ১০০ টি চুল পরতে পারে।

থাইরয়েডের সমস্যা

আয়রন শরীরে কম থাকলে থাইরয়েড গ্রন্থি তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারায়। শরীরে নানান বিপাকীয় সমস্যা দেখা দেয়।

বরফ অথবা অদ্ভুত জিনিস খেতে ইচ্ছে করে

খুব অদ্ভুত একটি সমস্যা হয় খাবারের ক্ষেত্রে। সাধারণত নারীদের এই সমস্যা দেখা যায় বেশি।

আয়রনের অভাবে বরফ খেতে ইচ্ছে করে। অনেক ক্ষেত্রে চক বা কাদা খেতে ইচ্ছে করে।

হৃদযন্ত্র ধড়ফড় করা

আগেই বলেছি আয়রনের অভাবে রক্তের সমস্যা হয়। সেক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রে সমস্যা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

এ ধরণের সমস্যায় হৃদ স্পন্দন বেড়ে যায়, হৃদ স্পন্দন মিস হয়। এমন ভাবে চলতে থাকলে হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে যেতে পারে।

সবাই সঠিক পরিমাণে আয়রন গ্রহণ করুন। আয়রনের অভাব শুনতে অনেক স্বাভাবিক হলেও শরীরে অনেক অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে। হতে পারে গুরুতর ক্ষতিও।

পিরিয়ডের সময় না জেনে যে ভুল গুলো করেন নারীরা

পিরিয়ড

পিরিয়ড বা মাসিক একজন নারীর জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মাতৃত্বের মতো মূল্যবান ব্যাপার গুলো পিরিয়ডের উপর নির্ভর করে।

শারীরিক এই কার্যক্ষমতার জন্য নারীরা খুব কম হৃদরোগে আক্রান্ত হন। শরীরে অনেক ক্ষতিকর পদার্থ বের হয়ে যায় এ সময়।

জেনে না জেনে আমরা অনেকেই পিরিয়ডের সময় কিছু ভুল করে থাকি। ভুলগুলো নারীদের জন্য অনেক সময় ক্ষতিকর হয়ে উঠে।

পিরিয়ড হলে চলাচল কম করা

যেহেতু রক্তপাত হয় তাই অনেক নারী মনে করে থাকেন যে বেশি নড়াচড়া করা ঠিক না। যার কারণে বেশির ভাগ সময় শুয়ে বসে কাটিয়ে দেয়।

পিরিয়ডের সময় ব্যথা কমানো এবং সঠিক ভাবে রক্তপ্রবাহের জন্য হাঁটাচলা করা খুব দরকারি।

অবশ্যই এই সময় বিশ্রামের দরকার আছে কিন্তু শুধু বসে বসে সময় কাটানো যাবে না।

স্বাভাবিক দিনের মতই কাটাতে হবে দিনগুলো।

ডাউচিং

পিরিয়ড

ডাউচিং হল হ্যান্ড সাওয়ার দিয়ে গোপনাঙ্গ পরিষ্কার করা। অধিকাংশ নারীরাই এই কাজটি করে থাকেন।

পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে এই ডাউচিং যেন আরও বেশি করে করেন নারীরা।

কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা তারা জানে না আর সেটি হল; পিরিয়ডের সময় প্রাকৃতিক ভাবে নারীর যৌনাঙ্গ এবং জরায়ু পরিষ্কার হয়ে যায়। এই সময় ডাউচিং করলে উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়ে যায়।

যার কারণে যৌনাঙ্গের ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে।

মাত্রাতিরিক্ত পেইনকিলার গ্রহণ করা

পিরিয়ড

পিরিয়ডের সময় ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। তবে ব্যথা অসহনীয় হলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। কিন্তু ডাক্তারের কাছে না গিয়ে নিজে নিজেই পেইনকিলার গ্রহণ করা অনেক বড় একটি ভুল। অতিরিক্ত পেইনকিলার গ্রহণ করলে আপনার লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। বাথরুমে যে পানি ব্যবহার করেন তা গরম হলে অনেকাংশে ব্যথা কমে আসে। গরম পানি অথবা চা খেলেও ব্যথা কমে যায়।

একই ন্যাপকিন অনেকসময় ধরে পড়ে থাকা

পিরিয়ড

হয় ব্যস্ততা নাহয় আলসেমির জন্য নারীরা একই ন্যাপকিন অনেকক্ষণ পড়ে থাকেন। অধিকাংশ নারীদের কাছে এটা বিশেষ কিছু নয়। কিন্তু আপনার হয়তো জানা নেই ৫-৬ ঘণ্টার মধ্যে ন্যাপকিন পরিবর্তন করা বাঞ্ছনীয়। খারাপ ভাবে নাহলে ভ্যাজাইনাল ইনফেকশন হতে পারে।

পিরিয়ডের রক্ত কি রঙের তা খেয়াল না করা

পিরিয়ড

পিরিয়ডের রক্ত কিন্তু আপানার শরীরের অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে দেয়। কিন্তু নারীরা পিরিয়ডের রঙের দিকে বেশি গুরুত্ব দেন না। যদি রক্ত গোলাপি অথবা ফ্যাকাসে হয় আপনার শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা খুব কম। রক্ত পানিতে মেশালে যে রঙ হয় সে রঙ হয় তাহলে বুঝবেন আপনি অপুষ্টি অথবা অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন। রক্ত যদি একটু কালচে রঙের হয় তার মানে এই রক্ত একটু পুরনো যা এখন বের হচ্ছে।

পিরিয়ড হলে সঠিক পরিমাণে আয়রন গ্রহণ না করা

পিরিয়ড

পিরিয়ডের পর নারীদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি হয়। মানসিক পরিবর্তনের সাথে সাথে রুচিতেও কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। অনেক নারী জাঙ্ক ফুড, টক অথবা অনেক ঝাল খায় এই সময়। কিন্তু রক্তে আয়রনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এমন খাবার খাওয়া হয় না। আয়রন আছে এমন খাবার হল, কাঁচা কলা, বেগুন, কচু শাক, পালং শাক, ডিম। সহজলভ্য এই খাবার গুলো নারীদের খাদ্য তালিকায় রাখলে আর আয়রনের ঘাটতি পরবে না আশা করি।

শিশু স্বাস্থ্য হারাতে পারে যে সকল শীতকালীন রোগে

শিশু

আমাদের দেশের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ। জীবন ধারণের জন্য অনেক জনপ্রিয় এই আবহাওয়া।

গ্রীনহাউস এফেক্ট আর বৈশ্বিক পরিবর্তন আমাদের প্রকৃতি নষ্ট করছে।

এই জন্য একদিকে আমাদের দেশের গরমকালে তাপমাত্রা অনেক বেড়েছে আবার অন্য দিকে বেড়েছে শীতের প্রকোপ।

তাপমাত্রার এমন আকস্মিক উঠানামার কারণে দেখা দিচ্ছে নানান ধরণের রোগ। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু।

শীতের মৌসুমে এমন কিছু রোগ আছে যেগুলো একটি শিশুকে সারা জীবন ভোগাতে পারে। সাবধানতা অবলম্বন করলে বেঁচে যেতে পারে আপনার ছোট্ট মানিক।

আসুন জেনে নেই রোগগুলোর সম্পর্কে।

নিউমোনিয়া

শিশুর জন্য ভয়ংকর এক রোগের নাম নিউমোনিয়া। এই রোগে এখন পর্যন্ত অনেক শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

নিউমোনিয়া হলে ফুসফুস ফুলে ওঠে এবং ফুসফুসের ভিতর তরল পদার্থ জমা হয় যার ফলে বাচ্চারা একটানা কাশিতে ভুগতে পারে, এমন কি শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়াও আশ্চর্য নয়।

নিউমোনিয়া কি সেই সম্পরকেই জানেনা অনেকে। ঠাণ্ডা থেকেই হয় এই রোগটি। তাই মাকে অবশ্যই শীতকালে অনেক বেশি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

বাচ্চা যেন প্রস্রাবে ঘুমিয়ে না থাকে, জামা কাপড় যেন সব সময় শুষ্ক থাকে। এই সব দিকে খেয়াল রাখতে হবে। ভুলেও যেন বাচ্চার মাথায় কুয়াশা না লাগে।

শিশুর হাঁচি কাশি বেশি দিন স্থায়ি হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে।

যদি দেখেন অতিরিক্ত সর্দির জন্য শিশু স্তন্য পান করতে পারছে না তাহলে যত জলদি পারেন ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন বের হয়েছে। এই ভ্যাকসিন দিলে শিশুর নিউমোনিয়া আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।

এই রোগ ছোঁয়াচে সুতরাং শিশুকে সাবধানে রাখবেন।

ব্রংকিওলাইটিস

ব্রংকিওলাইটিস শিশুদের ফুসফুসের একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যাতে আক্রান্ত শিশুরা ভয়ানক কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভোগে। সাধারণত ২ বছরের কম বয়সী শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়।

কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশু এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করলেও এই রোগ হতে পারে। নবজাতক কে কখনই স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে রাখা ঠিক নয়।

প্রাথমিক ভাবে হালকা জ্বর, হাঁচি কাশি আর সর্দি থাকতে পারে। আক্রান্ত শিশুরা অতিরিক্ত কান্নাকাটি করে, অস্থির থাকে।

শ্বাসকষ্টের জন্য তাদের খেতে ও ঘুমাতে সমস্যা হতে পারে। কারও কারও দ্রুত শ্বাসের সঙ্গে হৃদ স্পন্দন বেড়ে যায়।

উপসর্গ দেখেই এই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। রক্ত পরীক্ষা এবং বুকের এক্স-রে রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করে।

জরুরী ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি করুন।

এজমা অথবা হাঁপানি

হাঁপানি রোগটি সহজে নির্ণয় করা যায় না। এর তীব্রতা যখন বেড়ে যায় তখন বোঝা যায়।

সময় মতো নিরাময় না করলে সারা জীবন ভুগতে হয় এই রোগে। কিন্তু নির্ণয় করা অনেক সহজ।

শিশু যখন শ্বাস প্রশ্বাস নেয় তখন অনেক কষ্ট হয়, বুকে কান রাখলে বাঁশির মতো আওয়াজ শোনা যায়। শ্বাস নেয়ার সময় বুক একদম দেবে যায়।

কিছু খাবারে এলার্জি দেখা যায়। খুসখুসে কাশি থাকে। এই উপসর্গ দেখা দিলেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন। নয়তবা আপনার অসাবধানতার জন্য শিশুটির সারা জীবন এই রোগ বহন  করে চলতে হবে।

হাম

হাম এক অত্যন্ত সংক্রামক রোগ আর এটা ছড়ায় যে কোনও সংক্রমিত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে। শুরুর দিকে সর্দিকাশি আর জ্বর থাকে।

দুদিনের মাথায় দেখা দেয় অন্যান্য সমস্যা যেমন শ্বাসনালীর বন্ধ হয়ে আসা মানে ব্রঙ্কাইটিস, ফুসফুসে সংক্রমণ মানে ব্রোঙ্কিওলাইটিস, কানের সংক্রমণ বা বাচ্চাদের গলা ফুলে যাওয়ার মত উপসর্গ।

আপনার শিশুর হাম হলে তাকে অন্য বাচ্চাদের সাথে মেশা থেকে বিরত রাখুন নাহলে অন্যরাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

চিকেন পক্স

চিকেন পক্স বাচ্চাদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়। সারা গায়ে দেখা দেয় পক্সের দানা যেগুলো বিশ্রী রকমের চুলকানির উৎস হয়ে দাঁড়ায়।

পক্সের সময় হালকা ফ্লুয়ের লক্ষণও দেখা দেয়।

জ্বর আসে গায়ে। জ্বরের মাত্রা তীব্র হতে পারে। ভয় পাবার কারণ নেই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

তবে আশার কথা এই যে শিশুদের একবার চিকেন পক্স হয়ে গেলে ভবিষ্যতে ফের এই রোগের পাল্লায় পড়ার সম্ভাবনা বেশ কম।

এ রোগ হলে আপনার বাচ্চাকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। আপনাকে অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে কারণ এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ।

আপনার শিশুর কোন খেলার সঙ্গীর পক্স হলে তার হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সুতরাং আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে এসব বিষয়ে।

চর্ম রোগ

শীত এলে শিশুর ত্বকে চর্ম রোগ হতে পারে। শীতের শুষ্ক বাতাসে নানা ধরণের রোগ জীবাণু ঘুরে বেরায়।

খেলায় মত্ত থাকা আপনার বাচ্চাকে সব সময় পরিষ্কার করে রাখাটা হয়তো খুব কষ্টকর। কিন্তু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবে বিভিন্ন ধরণের চর্মরোগ হয়।

আর একটি রোগ আছে যার নাম আমরা প্রায় সবাই জানি।

রোগটি হচ্ছে স্কেবিস। বাংলায় খুজলি পাঁচড়াও বলে থাকেন অনেকেই।

এটির সঙ্গে যদিও সরাসরি শীতের বা বাতাসের আর্দ্রতার কোনো সম্পর্কের কথা জানা যায় না তবুও দেখা গেছে এ রোগটি শীত এলেই ব্যাপক আকারে দেখা দেয়।

বিশেষ করে শিশুরা এতে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হতে থাকে।

শীতকালে যেহেতু এক বিছানায় একত্রে অনেকেই চাপাচাপি করে শোয় সে কারণে রোগটি এ সময়ে ব্যাপকভাবে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারে।

এ রোগটি আমাদের দেশের গরিব শ্রেণীর মধ্যে বেশি হতে দেখা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যে সব শিশু স্কুলে যায় তারাই এতে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

এটি একটি জীবাণুবাহিত রোগ। যে কীটটি দিয়ে এ রোগটি হয় তার নাম হচ্ছে স্কেবিয়াইসারকপটিস স্কেরিবাই।

এক্ষেত্রে শরীরে অসম্ভব রকম চুলকানি হতে দেখা যায় এবং রাতে চুলকানির তীব্রতা আরো বাড়ে।

ডাক্তারের পরামর্শে ক্রিম ব্যবহার করলে সহজেই পরিত্রাণ পেতে পারেন।

মুখের দুর্গন্ধ দিয়ে অবহেলা নয়, এর মাধ্যমে অনেক রোগ ধরা যায়

দুর্গন্ধ

মুখে দুর্গন্ধ নিয়ে আমরা অনেকেই বিভিন্ন বিব্রতকর অবস্থায় পড়ি। দেখা যায় অনেক সময় আপনি ঠিক মত ব্রাশ করেও মখে দুর্গন্ধ পাচ্ছেন। এমন অবস্থায় অন্যের সাথে কথা বলতেও ভয় লাগে এই বুঝি আমরা মুখের দুর্গন্ধ পাবে!

আপনি কি জানেন মুখের দুর্গন্ধ শুধু দাঁতের কারণে হয় না। অনেক সময় মুখের গন্ধ দিয়ে শারীরিক অসুস্থতা ধরা পড়ে।

যদি মুখের দুর্গন্ধ কিছুটা প্রসাবের মতো গন্ধ হতে থাকে তাহলে সতর্ক হয়ে যান। কারণ এই ধরনের দুর্গন্ধ বলে দেয় আপনার টাইপ-১ ডায়বেটিসের সমস্যা হয়েছে।

এই গন্ধের মূল কারণ হচ্ছে ডায়বেটিসের কারণে দেহে ইনসুলিনের অভাব।

আপনার নিঃশ্বাসে যদি দুর্গন্ধ পান তাহলে বুঝে নেবেন আপনার সাইনাসে সমস্যা রয়েছে।

এর কারণ হচ্ছে নাকে ও গলায় মিউকাস জমে থাকা।

টক দুধের মতো টক টক ধরনের গন্ধ পান আপনার নিঃশ্বাসে আপনার খাবারে প্রোটিনের মাত্রা অতিরিক্ত বেশি হয়েছে।

এর কারণ হচ্ছে কিটোনের ভাঙন।

যদি আপনার নিঃশ্বাসে পচে যাওয়া মাংসের মতো দুর্গন্ধ পান তাহলে বুঝে নেবেন আপনার টনসিলের সমস্যা হয়েছে।

টনসিলের কারণে সালফার উৎপন্নকারী ব্যাকটেরিয়া অধিক জন্ম নিচ্ছে যার কারণেই নিঃশ্বাসে এই ধরনের দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে।

আপনার নিঃশ্বাসে দিনের প্রত্যেকটা সময় যদি সকালে ঘুম থেকে উঠার পর যেমন গন্ধ থাকে তেমন গন্ধ পান তাহলে আপনার মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে।

মুখে ভেতরের স্যালিভা বা লালা শুকিয়ে গেলে ব্যাকটেরিয়া উৎপন্ন হতে থাকে যা এই ধরনের দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে।

যদি আপনার নিঃশ্বাসে আঁশটে গন্ধ হয় তাহলে বুঝে নেবেন আপনার কিডনি সমস্যা হয়েছে।

কিডনিতে সমস্যা হলে এবং কিডনি সঠিকভাবে কাজ না করলে নাইট্রোজেন উৎপন্ন হয় যা এই ধরনের দুর্গন্ধের জন্য দায়ী।

খুবই বাজে ধরনের দুর্গন্ধ এবং বাথরুমের মতো গন্ধ পেলে বুঝে নেবেন আপনার মাড়িতে ইনফেকশন হয়েছে।

সুতরাং সাবধান। শারীরিক সমস্যা যদি বুঝে নিতে পারেন নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ থেকে, তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

দিনে অবশ্যই দুইবার সঠিক পদ্ধতিতে দাঁত ব্রাশ করুন। মাউথ ওয়াশ এবং ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করুন। যদি সম্ভব হয় প্রতিবার খাবার গ্রহণের পড়ে দাঁত ব্রাশ করুন।

নিয়মিত দাঁত, মাড়ি, জিহ্বা পরিষ্কার করুন

পর্যাপ্ত পানি পান

নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করা শরীরের জন্য শুধু উপকারীই না, এটা প্রয়োজনীয়। শুকনো মুখেই ব্যাকটেরিয়াগুলো বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

আর পানি খেলে গন্ধযুক্ত বিশেষ সালফার যৌগ অনেকটাই পানিতে মিশে যায়। ফলে গন্ধও কমে।

তাজা সবজি ও ফল খান

মৌসুমি তাজা ফল ও সবজি জুস করে না খেয়ে চিবিয়ে খান। এতে শরীরে যেমন প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান হবে তেমনি তা মুখের গন্ধও দূর করবে।

ফল-সবজি খেলে মুখে লালার প্রবাহ বাড়ে বলে মুখ ভেজা থাকে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দুর্বল হয়ে যায়।

কফি খাওয়া কমান

বেশি বেশি কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সেটা কমান। কফি জিহ্বার ওপর প্রলেপ ফেলে দেয় যা অক্সিজেনের চলাচল বন্ধ করে দেয়।

এটা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ক্যাফেইন প্রয়োজন হলে আপনি চা পান করুন।

চিনিহীন চুইংগাম

মুখের গন্ধ থেকে বাঁচতে তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে চুইং গাম চিবাতে পারেন। মুখের ভেতরটা ভেজা রেখে লালার প্রবাহ চালু রাখতে সাহায্য করবে এটা।

তবে, চিনি আছে এমন মিন্টজাতীয় গাম না চিবানোই ভালো।

কারণ চিনি দাঁতে লেগে থাকলে তা আপনার এনামেল ক্ষয় করবে।

দই খান

বেশীর ভাগ মানুষের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, দিনে একবার কিছুটা দই খাওয়া হজমে সহায়ক এবং তা মুখ থেকে এমন গন্ধ দূর করতেও সাহায্য করে।

মুখের এমন ব্যাকটেরিয়া দূর করতেও খুবই সহায়ক দই।

ভিটামিন প্রয়োজন

ভিটামিন-ডি মুখের এমন ব্যাকটেরিয়ার জন্য ক্ষতিকর। দুধ ও দুধজাতীয় খাবারে ভিটামিন-ডি আছে আর সূর্যালোক তো আছেই। ভিটামিন-সির পর্যাপ্ত জোগানও আপনার মুখ সতেজ রাখবে।

আর এ দুটো ভিটামিন মুখে গন্ধের সমস্যার পাশাপাশি আপনার মুখের অন্যান্য রোগ প্রতিরোধেও প্রয়োজনীয়।

আপনার যদি এসিডিটি থাকে তবে ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেল মশলাযুক্ত খাবার খাবেন না, রাতে ঘুমানোর দুই ঘন্টা আগে খাবার খাবেন, রাতে ঘুমানোর আগে হাঁটাহাঁটি করবেন।

তামাক বর্জন করুন

সিগারেটই হোক বা জর্দা দেওয়া পান। যেকোনো তামাকজাতীয় দ্রব্য সেবন মুখে গন্ধসহ অনেক ধরনের রোগ হতে পারে। ফলে, এমন অভ্যাস থাকলে সেটা ত্যাগ করুন।

 

মস্তিষ্কের সজীবতা ধরে রাখতে গড়ে তলুন ৭ টি অভ্যাস

মস্তিষ্কের

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা শুধু বয়স বাড়লেই কমে না আপনি যদি মস্তিষ্কের সঠিক যত্ন না করেন তখনও এমনটা হতে পারে। মাঝ বয়সেও এমনটা হতে পারে অনেকের শেষ বয়স পর্যন্ত মস্তিস্ক প্রখর থাকে। মস্তিষ্কের কোষ সজীব রাখার কিছু অজানা কিন্তু সহজ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব। আশা করি আপনারা উপকৃত হবেন।

ফলের তালিকায় রাখুন জাম এবং স্ট্রবেরি

প্রথমেই আপনাদের মাথায় এসেছে জাম তো সব সময় পাওয়া যায় না। আর স্ট্রবেরিও।

কিন্তু যখন এই মৌসুমি ফল গুলো হাতের নাগালে থাকে তখন কি আমরা ঠিক মতো খাই?

জামে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বা ফ্ল্যাভানওয়েডস মস্তিষ্কের কোষগুলোকে রক্ষা করে। ফলে ভুলে যাওয়ার সমস্যা থেকে রেহাই মেলে।

ঘরের কাজে হাত লাগান

সারাদিন আলসেমি করে কাটাবেন না। এতে করে আপনার মস্তিস্ক কার্যক্ষমতা হারাতে থাকে। তাই ঘরের ছোটখাটো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।

যেমন- ঘর গোছানো, রান্নাবান্না করা, বাসন ধোয়া ইত্যাদি।

লুডু, দাবা খেলেও কাটাতে পারেন অবসর সময়। মস্তিষ্ক সতেজ থাকলে অ্যালজ়াইমারের আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যায়।

নতুন ভাষা শিখুন

নতুন কিছু শেখার প্রতি আগ্রহী হন। নিজের ভাষার সাথে সাথে অন্য একটা ভাষাকেও করতে পারেন আপনার দ্বিতীয় ভাষা।

এক কথায় মস্তিষ্ককে সব সময় কাজে লাগান। জানেন তো অলস মস্তিস্ক শয়তানের বন্ধু।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার জন্য নিয়মিত ভাবুন

প্রতিদিন দিনশেষে সারাদিনে কী কী করেছেন তা ধারাবাহিকভাবে মনে করার চেষ্টা করুন। মোটেও লিখে রাখবেন না।

মস্তিস্কে সব মেমোরি জমা করে রাখুন। প্রয়োজনে আধা ঘণ্টার জন্য নিরিবিলি কোথাও চলে যান। এরপর ভাবুন। এটা প্রতিদিন করুন। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়বে।

রাগ করা চলবে না

রাগ মানুষের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। আপনি যদি বদ মেজাজি হয়ে থাকেন তাহলে আপনার মেজাজকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন। রাগ কখনই ভালো কিছু এনে দেয় না এটা সব সময় মনে রাখবেন। অতিরিক্ত রাগ কিন্তু হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

যতটা সম্ভব রাগ, পারিবারিক কলহ এড়িয়ে চলুন। এমন পরিস্থিতি দেখলে ওই স্থান থেকে প্রয়োজনে কিছু সময়ের জন্য বাইরে চলে যান।

ধর্ম নিয়ে চিন্তা করুন

ধর্মীয় বিভিন্ন রীতিনীতি পালনেও মস্তিষ্ক শীতল হয়। কর্মক্ষমতা বাড়ে।

মুসলমানরা নামাজের সময় যখন সিজদায় যায় তখন মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। এতে স্মৃতিশক্তি ভালো থাকাসহ ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।

ধর্মীয় নিয়ম গুলো পালন করা একধরণের মেডিটেশন। সকল ধর্মে মানুষ যখন সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করে একনিষ্ঠভাবে প্রার্থনা-পূজা-অর্চনা করে, তখন তা মেডিটেশনের কাজ করে।

এতে মস্তিষ্ক শীতল হয় ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে।

ব্যায়াম

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কেও রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে মস্তিষ্কের কোষগুলো সতেজ থাকে। স্মৃতিশক্তিও ভালো থাকে। সকালে উঠেই ব্যায়াম করতে হবে এমন নয়। আপনার যখন সুবিধা হয় তখন করবেন।

চির সবুজ থাকতে চান? এই খাবার গুলো তাহলে আপনার জন্য।

চির

চেহারার লাবণ্যতা ধরে রাখার জন্য আপনি হয়তো বিউটি সেলুনের শরণাপন্ন হন। অনেক ধরণের বিউটি প্রডাক্টস কেনেন এবং নিজের চেহারায় প্রয়োগ করেন। কিন্তু উপকার পাচ্ছেন না। পেলেও তা ক্ষণস্থায়ী।

যদি নিজের যৌবন ধরে রাখতে চান আর বেঁচে থাকতে চান সুন্দর ত্বক নিয়ে তাহলে আপনাকে খেতে হবে কিছু খাবার যা আপনাকে ভেতর থেকে সুন্দর করে তুলবে।

চির যৌবন চাইলে খেতে হবে ডিম

চির

ডিম সিদ্ধ হোক কিংবা ভাজি, সব ভাবেই ডিম শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার। ডিমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-৫ ও বি-৬ আছে যা শরীরের হরমোনের কার্যক্রম ঠিক রাখে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

প্রতিদিনের সকালের নাস্তায় একটি করে ডিম রাখুন। ডিম খেলে অনেকক্ষণ ক্ষুধা লাগে না।

এতে আপনার শরীর শক্তি পাবে এবং যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

লাবণ্যতা ধরে রাখে মধু

চির

মধুর রয়েছে অসংখ্য উপকারিতা।

সকালে খালি পেটে জিহ্বা দ্বারা মধু চেটে খেলে কফ দূর হয়, পাকস্থলী পরিস্কার হয়, দেহের অতিরিক্ত দূষিত পদার্থ বের হয়, গ্রন্থ খুলে দেয়, পাকস্থলী স্বাভাবিক হয়ে যায়, মস্তিস্ক শক্তি লাভ করে, স্বাভাবিক তাপে শক্তি আসে, জ্যোতি শক্তি বৃদ্ধি হয়, মূত্রথলির পাথর দূর করে, প্রস্রাব স্বাভাবিক হয়, গ্যাস নির্গত হয় ও ক্ষুধা বাড়ায়।

প্যারালাইসিসের জন্যও মধু উপকারী। মধু হল হাজারো রকম ফুল ও দানার নির্যাস। দুনিয়ার সকল গবেষকগণ একত্রিত হয়ে এমন নির্যাস প্রস্তুত করতে চাইলেও কখনো বানাতে পারবে কিনা এ বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে দুধ

যৌবন ধরে রাখতে দুধের ভূমিকা অতুলনীয়। বিশেষ করে শরীরের পেশী বৃদ্ধিতে দুধের তুলনা হয়না। চেহারায় লাল বর্ণ তৈরী করে, দেহের অপ্রয়োজনীয় দূষিত পদার্থ বের করে দেয় এবং মস্তিস্ক শক্তিশালী করে।

বাদাম ও বিভিন্ন বীজ

চির

কুমড়ার বীজ, সূর্যমূখীর বীজ, চিনা বাদাম, কাজু বাদাম, পেস্তা বাদাম ইত্যাদিতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে এবং এগুলো শরীরে উপকারী কোলেস্টেরল তৈরী করে।

শরীরের হরমোনগুলো ঠিক মতো কাজ করার জন্য এই কোলেস্টেরল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই প্রতিদিন অল্প করে হলেও বাদাম খাওয়ার চেষ্টা করুন।

এতে আপনার শারীরিক ও মানসিক ভালো স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। এই বীজগুলো মস্তিস্ক বিকাশে সাহায্য করে।

চিনি ছাড়া চা

চির

প্রতিদিন দুধ-চিনি ছাড়া চা পান করলে শরীরে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়।

চা ব্রেইন কে সচল করে, রক্ত চলাচল বাড়ায় ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।

প্রতিদিন অন্তত তিন থেকে ৫ কাপ পর্যন্ত চিনি ছাড়া সবুজ চা বা রঙ চা খেলে শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং শরীরের ওজন কিছুটা হলেও কমে যায়।

রঙিন ফল

চির

শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চাইলে প্রতিদিন খাবার তালিকায় রঙিন ফলমূল রাখুন।

আঙ্গুর, কলা, কমলা লেবু, তরমুজ, পিচ ইত্যাদি ফল যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপকারী।

ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাসের মেডিকেল টিমের গবেষণা অনুযায়ী একজন পুরুষের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় অন্তত ২০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকলে তার স্পার্মের কোয়ালিটি উন্নত হয়।

আবার টেক্সাসের A&M ইউনিভার্সিটির মতে তরমুজ শরীরে শারীরিক উদ্দীপনা বৃদ্ধি করে। শরীরে আনে কর্ম উদ্দীপনা।

রসুন

এতে রোগ নিরাময় হয়। রসুনে অনেক উপকারিতা রয়েছে।

রসুন ফোড়া ভালো করে, ঋতুস্রাব চালু করে, প্রস্রাব স্বাভাবিক করে, পাকস্থলী থেকে গ্যাস নির্গত করে, নিস্তেজ লোকদের মধ্যে শারীরিক ক্ষমতা সৃষ্টি করে, পাকস্থলীর ব্যাথা উপকার সাধন করে।

এ্যাজমা এবং কাঁপুনি রোগেও উপকার সাধন করে। তবে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অধিক রসুন ব্যবহার ক্ষতিকর।

এই রসুনকে আবে হায়াত বলেও আখ্যা দেয়া হয়।

তৈলাক্ত মাছ

চির

তৈলাক্ত মাছে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যা সুস্থ শারীরিক জীবনের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সামুদ্রিক মাছেও প্রচুর পরিমাণে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড থাকে।

ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড DHA O EPA শরীরে ডোপামিন বাড়িয়ে দেয় এবং মস্তিষ্কে উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে।

তৈলাক্ত ও সামুদ্রিক মাছ খেলে শরীরের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং গ্রোথ হরমোনের নিঃসরণ হয়। ফলে শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

পালং শাক ও অন্যান্য সবজি

পালং শাকে আছে প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম। ম্যাগনেসিয়াম শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে।

জাপানের গবেষকদের মতে শরীরে রক্ত চলাচল বাড়লে শারীরিক উদ্দীপনাও বাড়ে।

পালং শাক ও অন্যান্য বিভিন্ন রকম শাক, ব্রকলি, লেটুস, ফুলকপি, বাঁধাকপি এগুলোতে রয়েছে ফলেট, ভিটামিন বি সহ অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

এগুলো সুস্থ শারীরিক জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিছু উপাদান।

জিরা

জিরাতে থাকা আয়রন রক্তস্রোতে অক্সিজেন বহনকারী হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।

এছাড়া জিরা পানি আয়রনের অভাবজনিত রক্তশূন্যতার জন্য বেশ উপকারী।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের বেশি করে জিরা খাওয়া দরকার।

মসলাটি শুধু তাদের ডায়েটকে নিয়ন্ত্রণে রাখে না, একইসাথে রক্তে চিনির পরিমাণও কমিয়ে দেয়।

লাল লাল ফুসকুড়ি, ব্রণ ইত্যাদি শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দেওয়ার জন্য হয়।

বিপাক ক্রিয়ার মাধ্যমে শরীর থেকে দূষিত পদার্থগুলো বের হয়ে গেলে ত্বকের উপর এর প্রভাব কমে আসে।

জিরা পাচনতন্ত্রের যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে ত্বকের সুরক্ষাও দিয়ে থাকে।

চির

কালো জিরা

ডায়াবেটিকস রোগিরা এক চিমটি পরিমাণ কালোজিরা এক  গ্লাস পানির সঙ্গে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেয়ে দেখুন।

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে একসময় ডায়াবেটিকস কমে যাবে।

নিয়মিত কালোজিরা খান। এটি মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয়।

যার দরুন স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়। এর সঙ্গে এটি প্রাণশক্তি বাড়ায় ও ক্লান্তি দুর করে।

স্নায়ুবিক দুর্বলতায় আক্রান্ত রোগীদের জন্যও অতি উৎকৃষ্ট ঔষুধ।