খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আনতে হবে তবে কমবে ওজন

খাদ্য

দেহ থেকে অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে কত কিছুই না আমরা করি। তবুও অনেকেই বলছেন তারপর ও ওজন কমছে না। তাহলে কিভাবে কমবে আপনার ওজন। শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে শারীরিক কসরতের পাশাপাশি আপনাকে আপনার খাদ্য তালিকার দিকে নজর দিতে হবে। সামান্য কিছু পরিবর্তন আপনাকে করে তুলতে পারে স্লিম এন্ড ফিট। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক।

খাদ্য তালিকায় প্রোটিন= সন্তুষ্টি

খাদ্য

মুরগি, ডিম, ডাল, মাছ, টার্কি হচ্ছে প্রোটিনের ভাল উৎস। খাসি এবং গরুর মাংস এড়িয়ে চলুন। মনে রাখবেন কোন লাল মাংসই শরীরের জন্য ভাল না। আপনার খাদ্য তালিকায় প্রোটিন না থাকলে তা পরিপূর্ণ হবে না। ওজন কমাতে প্রোটিন অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। কারণ প্রোটিন হজম হতে অনেক সময় লাগে, তাই আপনার সহজে ক্ষুধা লাগবে না।

সুতরাং খাবারের তালিকায় প্রোটিন রেখে নিজের শরীরকে সন্তুষ্ট করুন।

খাদ্য নালি পরিষ্কার করুন আঁশ যুক্ত খাবার দিয়ে

খাদ্য

আমরা ত্বক পরিষ্কার রাখতে নানা ধরণের স্ক্রাব ব্যবহার করি। আপনি যদি শুধু বাইরের ত্বকের কথা ভাবেন তাহলে আপনি সুস্থ থাকতে পারবেন না। প্রতিদিন আঁশ যুক্ত খাবার খান। যেমন- শাকসবজি, ফল, লাল আটা, ঢেঁকি ছাটা চাল ইত্যাদি।

এই খাবার গুলো আপনাকে দীর্ঘদিন সুস্থ ও সুন্দর ভাবে বাঁচতে সাহায্য করবে। তাছাড়া আঁশ যুক্ত খাবার আপনার রক্তে চিনির পরিমাণ বাড়তে দেয় না।

খাদ্য তালিকা থেকে চিনি বর্জন করুন

খাদ্য

চিনিকে সাদা বিষ বলা হয়। চিনি আপনার শরীরে মেদ বাড়ানো ছাড়া আর কিছু করে না। মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতে ইচ্ছে হলে আপনি ফল খেতে পারেন।

এতে আপনার আঁশও গ্রহণ করা হবে অন্য দিক দিয়ে চিনিও বর্জন করা হবে।

বাজারে অনেক ধরণের খাবার আছে যার গায়ে লেখা থাকে চিনি মুক্ত সেই খাবার গুলো খেতে চেষ্টা করুন। তবে বাইরের খাবার যত বর্জন করা যায় তত ভাল।

সেচুরেটেড ফ্যাট বাদ দিন

খাদ্য

দৈনিক খাদ্যে ১০ শতাংশেরও কম সেচুরেটেড ফ্যাট থাকা উচিত। সারাদিনে আপনি ৭৭ গ্রাম ফ্যাট নিতে পারেন।

বাইরের খাবার গ্রহণ করার আগে কি পরিমাণ ফ্যাটের কথা লেখা আছে দেখে নিন।

লবণ আপনার রক্ত চাপ বাড়িয়ে দেয়

খাদ্য

ডাক্তারদের মতে সারাদিনে ১ টেবিল চামচ লবণ খাওয়া ঠিক আছে। এর বেশি খেলে আপনার রক্তের চাপ বেড়ে যাবে। এটি দেহের কোষে তরলের ভারসাম্য রক্ষায় সমস্যা করে। এতে বেশি পিপাসা পায় এবং পানি পানের ইচ্ছে হয়। আর পানি যেমন শরীরের জন্য উপকারি তেমনি অতিরিক্ত পানি পান কিডনিতে চাপ তৈরি করে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের অতিরিক্ত লবণ খেতে নিষেধ করা হয়। কারণ এটি রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের কারণে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি ফেইলুরের মতো সমস্যা হতে পারে। বেশি মাত্রায় লবণ খেলে হাড়ের ক্যালসিয়াম প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। এতে হাড় দুর্বল এবং ভঙ্গুর হয়ে যায়। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি মাসিক বন্ধের পর, যখন নারীদের হাড়ের ক্যালসিয়াম কমে যায়, তখন বেশি লবণ খাওয়া পরিহার করা প্রয়োজন। এ ছাড়া অতিরিক্ত লবণ খাওয়া কিডনিতে পাথর তৈরি করতে পারে।

কার্বোহাইড্রেট দিয়ে পেট ভরবেন না

খাদ্য

তিনটি জিনিসকে ডাক্তাররা সাদা বিষ বলে থাকেন। চিনি, লবণ আর সাদা ভাত। এই তিনটি খাবার আপনার শরীরকে মেদবহুল করতে ভাল ভাবে সাহায্য করবে। যারা ওজন বাড়াতে চান তারা প্রতিদিন চিনি আর ভাত খান। ভাত এড়াতে রুটি খেতে পারেন সেক্ষেত্রে রুটির পরিমাণ বেশি হওয়া চলবে না।

এক কথায় কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার দিয়ে পেট পূর্ণ করবেন না।

অতিরিক্ত ব্যায়াম কি স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ?

অতিরিক্ত

একটা জিনিস লক্ষ্য করলে দেখবেন বিংশ শতাব্দীতে অধিকাংশ মানুষ স্থুলতার শিকার। এতে নিজের দোষ তো আছে বটেই সাথে সাথে আমাদের বাজারের খাবারেরও দোষ আছে। যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষ স্থুল। এখন অনেকেই এই স্থুলতা থেকে বের হয়ে আসতে চায়। খুব কম সময়ে ওজন কমাতে ব্যস্ত হয়ে যায়। তাই অতিরিক্ত ব্যায়াম করা শুরু করে। আমরা শুনে এসেছি যে যত বেশি ব্যায়াম করে তার স্বাস্থ্য তত ভাল থাকে। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় ভিন্ন ধরণের কথা শনা যাচ্ছে। অতিরিক্ত ব্যায়াম স্বাস্থ্যের জন্য হানীকারক হতে পারে। আসুন জেনে নেই কেন এমন বলা হয়।

দ্যা ল্যানসেট সাইক্রিয়াট্রিতে প্রকাশিত একটা গবেষণায় জানা গেছে, যে সকল মানুষ সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচ দিন শরীরচর্চা করেন তাদের মানসিক অবস্থা, যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন তাদের তুলনায় ভালো থাকে। যারা প্রতিদিন শরীরচর্চা করে তাদের মধ্যে অবসেশন দেখা যায় যা খারাপ মানসিক স্বাস্থ্যের লক্ষণ।

ইউএসের ইয়েল ইউনিভার্সিটির সহ অধ্যাপক অ্যাডাম চেকউর্ড জানান, “আগে মনে করা হত, যত বেশি শরীরচর্চা করা যাবে মানসিক স্বাস্থ্য তত ভালো থাকবে। কিন্তু আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে আসলে তা ঘটে না।”

তিনি আরও জানান, “মাসে ২৩ বারের বেশি শরীরচর্চা করলে বা দিনে ৯০ মিনিটের বেশি শরীরচর্চা করলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পরে।”

গবেষণার জন্য ইউএসের পঞ্চাশটা রাজ্যের বিভিন্ন ধরনের শারীরিক কসরত, শিশুর দেখভাল, বাড়ির কাজকর্ম, বাগান পরিচর্যা, মাছ ধরা, সাইকেল চালানো, জিম করা, দৌড়ানো, স্কিইং ইত্যাদিতে অংশগ্রহণকারী ১.২ মিলিয়ন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে নিয়ে পরীক্ষা করা হয়।

অতিরিক্ত ব্যায়াম কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়

অ্যারোবিক শরীরচর্চা যেমন- সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা এবং দৌড়ানো ইত্যাদি কাজে যদি নিজের কর্মক্ষমতার ঘাটতি দেখতে পান তাহলে বুঝতে হবে অতিরিক্ত পরিশ্রম হচ্ছে। পরিশ্রম খুব বেশি হলে তা মানুষের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

শক্তি কমে যায়

যদি সাধারণ মাত্রায় শরীরচর্চা করতে না পারেন অথবা সবসময় শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত অনুভব করেন তাহলে বুঝতে হবে শরীর ক্লান্ত।

আপনার পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন।

অতিরিক্ত ব্যায়াম মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়

প্রিভেন্টেটিভ মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণার ফলাফল থেকে জানা যায়, সপ্তাহে যদি সাড়ে সাত ঘন্টার চেয়ে বেশি সময় শরীরচর্চা করা হয় তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়া, হতাশা এবং মানসিকভাবে দুর্বল বোধ করতে পারে।

অতিরিক্ত পরিশ্রম করা শরীরকে দ্বিধা, উদ্বেগ, রাগ এবং ‘মুড সুইং’য়ের মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

অতিরিক্ত ব্যায়াম ঘুমের ক্ষতি করে

পরিশ্রম করলে শরীর ঠিক থাকে এবং রাতে ভালো ঘুম হয়। তবে অতিরিক্ত পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা হলে সারা রাত খুব অস্থিরতার মধ্যে কাটে এবং ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে।

অস্থি সন্ধিতে ব্যাথার সৃষ্টি হয়

ব্যায়ামের পর পেশি পুনর্গঠনের জন্য সময় দেওয়া প্রয়োজন। না দিলে শরীরে ব্যাথা হয় যা দৈনন্দিন কাজ কর্মে বাধা তৈরি করে। পাশাপাশি বাজে অনুভূতির সৃষ্টি হয়।

প্রস্রাবের রং পরিবর্তন হয়

শারীরিক পরিশ্রমের পরে যদি প্রস্রাবের রং পরিবর্তন দেখতে পান তাহলে বুঝতে হবে এটা ‘রাহবডোমায়োলাইসিস’ অবস্থার লক্ষণ। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পেশির কোষ রক্তে মিশে যায়।  ফলে কিডনির সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

হৃদপিণ্ডে সমস্যা হতে পারে

জার্মান বিজ্ঞানীদের গবেষণা থেকে জানা গেছে যে, যারা অতিরিক্ত পরিশ্রম করে তাদের হৃদরোগ এবং স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

অনলাইন জার্নাল ‘হার্ট’ -এ প্রকাশিত সুইডিশ বিজ্ঞানীদের এক গবেষণা থেকে জানা যায়, যারা ধ্যানজাতীয় শারীরিক পরিশ্রম করেন তারা বৃদ্ধাবস্থায় হৃদযন্ত্রের অনিয়মিত গতিকে পাঁচ গুণ বেশি উন্নত করতে পারেন।

রজঃচক্রের অনিয়ম ঘটে

অতিরিক্ত পরিশ্রম করা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে রজঃচক্রের অনিয়ম শুরু হতে পারে। যা ‘অমিনোরিয়া’ নামে পরিচিত। এর ফলে ইস্ট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

পরিণতিতে অস্টিওপোরোসিস নামক রোগের সৃষ্টি হয়।

হৃদস্পন্দনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়

হৃদযন্ত্র খুব বেশি চাপে থাকলে এর স্পন্দনের মাত্রা বেড়ে যায়।

সকালে হৃদস্পন্দনের মাত্রা পরিমাপ করা হলে এর পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে পারবেন।

হৃদস্পন্দনের মাত্রা সাধারণের চেয়ে বেশি হলে বুঝতে হবে শারীরিক পরিশ্রম বেশি হচ্ছে।

ওজন কমাতে খাবার না কমিয়ে এই ডায়েট অনুসরণ করুন

ওজন

বর্তমানের যুগে অধিকাংশ মানুষের অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। সব কিছুর জন্য সময় থাকলেও নিজের শরীরের জন্য আমাদের হাতে কোন সময় নেই।  সময় এসেছে এবার ডায়েট বদলানোর। ডায়েট চার্ট বদলানো মানে খাওয়া কমানো নয়। অনেকের মধ্যে একটা ভুল ধারণা রয়েছে যে, খাওয়া বন্ধ করলে বা কম খেলে ওজন কমে যায়। কিন্তু এমনটা একেবারেই ঠিক না। বরং এতে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। পাশাপাশি ওজন অনেক সময় বেড়ে যায়। তাই খাওয়া না কমিয়ে সঠিক ডায়েটের সাহায্যে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন।

ওজন কমাতে সকালের নাস্তা

সকালের নাস্তাটা খুব বিরক্তিকর একটা কাজ। অনেকে তাই সকালের নাস্তা আর দুপুরের খাবার একসাথেই করে ফেলে। যা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। তাই সকালে নিয়মিত ব্রেকফাস্ট করুন। তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন রোজ অল্প সময়ের জন্য হলেও, সবার প্রথমে কিছু এক্সাসাইজ করার চেষ্টা করুন। যোগাসন ভুঁড়ি কমাতে ও ওজন কমাতে খুবই সাহায্যে করে। যাই হোক এরপর সবার প্রথমে অল্প গরমজলে একটা পাতি লেবু হাফ ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খান। তার ৩০ মিনিট পর হেভি ব্রেকফাস্ট করুন। একটা রুটি, এক বাটি সবজি, দুটো ডিম সেদ্ধ কুসুম ছাড়া ও একটি আপেল বা কলা খান। মাঝে মাঝে রুটি সবজির বদলে ব্রাউন ব্রেড ও হালকা বাটার খেতে পারেন। সব সময় মনে রাখবেন সকালের খাবার খুব গুরুত্বপূর্ণ।

দুপুরের খাওয়া

ওজন কমাতে চাইলে পুরনো বাঙালীর মত মাছে ভাতে রসিয়ে খাওয়া ভুলে যান।

স্যালাড খান একবাটি বা একটা রুটি ও একবাটি ডাল। এসব ভালো না লাগলে এক বাটি সবজি খান হালকা তেলে বানানো।

তবে খেয়াল রাখবেন যা খাবেন পেট হালকা রেখে খাবেন না। পেট ভরে খান।

লাঞ্চের এক ঘণ্টা পর যেকোনো ফল একটা খেতে পারেন।

ওজন বাড়ে রাতের খাবারে

রাতের খাওয়া একদম সিম্পল। রাতে একটা রুটি ও সবজি খেতে পারেন। আর তা না হলে এক বড় বাটি ডাল।

লাঞ্চ আর ডিনারের মাঝে খিদে পেলে ফ্রুট স্যালাড অল্প খেতে পারেন। যাই হোক রাতে একদম হালকা খাওয়া।

ওজন কমাতে যে যে বিষয় খেয়াল রাখবেন

  • নিয়ম করে রাতে ৮ ঘণ্টা ঘুমনো খুবই জরুরি।
  • সকালে ব্রেকফাস্টের আগে অবশ্যই ৩০ মিনিট যোগাসন করুন। আপনার শরীরকে ফিট রাখতে যোগাসন সাহায্যে করবে।
  • ভাত, আলু একেবারে খাওয়া চলবে না। ভাত সপ্তাহে একবার এক থেকে দুই চামচ খেতে পারেন। মাছ, শাক সবজি খান প্রচুর পরিমানে। মাংস সপ্তাহে একদিন খান। তবে শুধু মুরগির মাংস। খিদে পেলে ফল খান। নানা রকমের ফ্রুট জুস খান। তবে রাস্তাঘাটের কাটা ফল বা জুস একদম খাবেন না। যা খাবেন বাড়িতে বানিয়ে খাবেন।
  • নিয়ম মত এসব মানলে দেখবেন ওজন কমতে বাধ্য। তবে খেয়াল রাখবেন শরীরে কোন রকম অস্বস্তি দেখা দিলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে তবেই করবেন।
  • খাবার নিয়ন্ত্রণের সাথে সাথে ব্যায়াম করতে ভুলবেন না।

 

 

হিট স্ট্রোক হতে পারে আপনার প্রিয় বন্ধু কুকুরটির

হিট স্ট্রোক

কুকুরের লোম কুকুরকে সুরক্ষিত রাখে। কিন্তু আমাদের মত দেশে কুকুরের অতিরিক্ত লোম অর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। দীর্ঘ কয়েক দশকের মধ্যে এবার সবচেয়ে গরম পড়েছে। একবার ভাবুন আমাদের যদি এমন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা হয় তাহলে ওদের কি হাল হয়। তাই যারা কুকুর পালেন তাদের জন্য এটা জানা খুব জরুরি যে হিট স্ট্রোক- এর লক্ষণ কি কি? কিভাবে তখন কুকুরটিকে বাঁচাবেন? আর কি করে এর প্রতিকার করা যায়? আসুন জেনে নেই।

হিট স্ট্রোক- এর লক্ষণ

  • শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকা
  • মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা পড়া
  • নাক ভেজা থাকা (কুকুরের নাক দিয়ে ঘাম বের হয়)
  • নিল-বেগুনি অথবা উজ্জ্বল লাল রঙের মাড়ি, টিস্যুতে ঠিক মত অক্সিজেন না যাওয়াতে এমনটা হতে পারে।

হিট স্ট্রোক

হিট স্ট্রোক- এ তাৎক্ষণিক চিকিৎসা

  • আপনার কুকুরকে দ্রুত ঠাণ্ডা করুন। সারা শরীরে ঠাণ্ডা পানি দিন। বরফ পানি দেবেন না তাহলে আবার হিতে বিপরীত হতে পারে। দ্রুত করতে গিয়ে আবার কানে যেন পানি না যায় সে দিকে খেয়াল রাখবেন।
  • কুকুরটির সারা শরীর ভেজানোর পর বাতাস করুন। ফ্যান অথবা এসির সাহায্য নিতে পারেন। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে ভেজা কাপড় দিয়ে কুকুরটির শরীর ঢেকে রাখতে পারেন এতে করে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করবে। যেই যানবাহনে যাবেন খেয়াল রাখবেন যেন ঠিক মত বাতাস আসা যাওয়া করতে পারে।
  • যদি আপনার কুকুর পানি পান মত ক্ষমতা রাখে তাহলে বেশি করে পানি পান করান।
  • কুকুরের হিট স্ট্রোক একটি ভয়াবহ সমস্যা। এর কারণে কুকুর ব্রেইন স্ট্রোকও করতে পারে। যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের শরণাপন্ন হউন।

হিট স্ট্রোক- এর প্রতিকার

  • আপনার কুকুরকে কখনই একা গাড়িতে আটকে রাখবেন না। একটি বদ্ধ গাড়ি ৪৫-৫০ ডিগ্রী তাপ উৎপন্ন করতে পারে। এই তাপমাত্রায় আপনার কুকুর ডিহাইড্রেট হতে পারে, হিট স্ট্রোক অথবা ব্রেইন স্ট্রোকের শিকার হতে পারে। কারণ এই অতিরিক্ত তাপ ওর সহ্য হবে না। তাই আপানার গাড়ির বাইরে যেতে হলে আপনার কুকুরটিকে সাথে করে নিয়ে যান। ওরা খুব লক্ষ্মী হয়, আপনাকে এত বিরক্ত করবে না আশা করি।

হিট স্ট্রোক

  • আপনার কুকুরটি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। পানির পাত্র যেন সব সময় পূর্ণ থাকে সেদিকে খেয়াল করুন। পানির পাত্র এমন জায়গায় রাখুন যেখানে তাপমাত্রা কম। কুকুরের একটি বাজে অভ্যাস আছে, এরা পানির পাত্র উল্টে ফেলে। তাই কয়েকটা জায়গায় পানির পাত্র রাখুন।
  • আপনি যখন আপনার কুকুর নিয়ে বাইরে যাবেন তখন ওর জন্য অবশ্যই পানি নিয়ে যাবেন এবং পানি পান করার জন্য একটি পাত্র নেবেন। যত বেশি পানি খাওয়াবেন আপনার কুকুর তত ভাল থাকবে। পানি পান করাতে কখনই কার্পণ্য করবেন না।
  • গরম বেশি হলে সেদিন বেশি খেলাধুলা করবেন না। বাইরের হাঁটতে যাবেন না আপনার কুকুরকে নিয়ে। এই গ্রীষ্ম করলে যত পারেন আপনার কুকুরকে ঠাণ্ডা জায়গায় রাখুন।
  • বেশীক্ষণ পায়ে জুতা অথবা অন্যকিছু পড়াবেন না। কারণ কুকুর পায়ের পাতা, নাক দিয়ে ঘাম বের করে।

 

হার্ট যা খেলে হবে শক্তিশালী, জেনে রাখুন সেই খাদ্য তালিকা

হার্ট

প্রতিদিন সকালে উঠে আমরা হাত-মুখ, দাঁত, চোখ সহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরিষ্কার করি, যত্ন করি। কিন্তু আমাদের শরীরের ভেতরের অঙ্গগুলোর কি কোন যত্ন নেই? হাত-মুখ, দাঁত এর মত হার্ট, কিডনি, ফুসফুসের যত্ন তো নেয়া যাবে না। তাহলে কি করা যায়?

কি করে নেবেন হার্টের যত্ন? কিভাবে হার্টকে শক্তিশালী করবেন? কি খেলে আপনার হার্ট সব সময় ভালো থাকবে? আসুন সব গুলো প্রশ্নের উত্তর জেনে আসি।

সুর্যমুখী তেল বা সুর্যমুখী বীজ

হার্ট

সূর্যমুখী তেল ভিটামিন ই সমৃদ্ধ, যা শরীরের এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে। এটি সরাসরি হৃদরোগ প্রতিরোধ এবং আপনার ইমিউন সিস্টেম বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। যদিও ডাক্তাররা বলেন যেকোনো তেলই শরীরের জন্য ভালো না। হার্টকে ভালো রাখতে হলে খাবারে তেলের পরিমাণ কমিয়ে দিন। এন্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ই সমৃদ্ধ সূর্যমুখী তেল গ্রহণ করলে আপনার ত্বক সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে সুরক্ষিত হবে। হাঁপানি (অ্যাজমা), আর্থ্রাইটিস এর তীব্রতা হ্রাস করতেও সূর্যমুখী তেল বিশেষ ভূমিকা রাখে। 

মাছ

হার্ট

কিছু মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩, যেমন স্যালমন, ম্যাকরেল এবং টুনামাছ। সপ্তাহে অন্তত দুইদিন মাছ রাখুন খাদ্য তালিকায়। নির্দ্বিধায় খাওয়া যাবে ছোট মাছ যেমন- মলা, কাচকি, টাকি, বেলে ইত্যাদি। এছাড়াও বেছে নেওয়া যেতে পারে পাবদা, শিং, কৈ ও মাগুরকে। ইলিশ মাছ বেশি করে খাবেন এতে উপকারী চর্বি ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড বেশি পরিমাণে থাকে। হাইব্রিড মাছগুলো খাওয়া থেকে এড়িয়ে চলুন। যে মাছগুলো বাদ দেবেন- পাঙ্গাস, হাইব্রিড তেলাপিয়া, রুই। গবেষকরা মনে করেন, সামুদ্রিক মাছ হৃৎপিন্ডের সুস্থতা রক্ষায় সহায়ক। নদীর মিঠা পানির বড় মাছের চর্বি বাদ দিয়ে শুধু মাছটুকু খাওয়া যাবে।

সয়াফুড

হার্ট

সয়বিন থেকে তৈরি পণ্যকে সয়া ফুড বা সয়া প্রোডাক্ট বলে । সয়া প্রোডাক্ট যেমন- সয়া দুধ, সয়া বিন, টফু ইত্যাদি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন। এই খাবারগুলো শরীরের থেকে কোলেস্টেরল এবং অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট দূর করে থাকে।

সয়া ফুড কেবল কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে তা নয়, ভাস্কুলার ফাংশন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। তাই খাবার মেন্যুতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সয়াবিন রাখুন। সয়াবিন ভালো করে সেদ্ধ করে খান। কারণ হজমে সাহায্যকারী এনজাইম ট্রিপসিনের কার্যকলাপ কিছুটা ব্যাহত করে সয়াবিন। আঁশ সমৃদ্ধ সয়াবিন হার্টের জন্য খুব ভালো। প্রতি ১০০ গ্রাম সয়াবিনে পাওয়া যায় ৪৩ গ্রাম প্রোটিন।

কাঠবাদাম

হার্ট

কাঠবাদামের মনো স্যাচুরেটেড ফ্যাট, প্রোটিন ও পটাশিয়াম হার্ট ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কাঠবাদামের ভিটামিন ই হার্টের বিভিন্ন রকম রোগ হবার আশঙ্কা দূরে রাখে। কাঠবাদামে উপস্থিত ম্যাগনেসিয়াম হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করে এবং পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। যেমন  অ্যালমন্ড, ছোলা এবং আখরোট ফল।

অলিভ অয়েল

হার্ট

ডায়াবেটিকসের ঝুঁকি কমানো ও ক্যানসার প্রতিরোধের পাশাপাশি দুর্বল হার্টের রোগীদের জন্য অলিভ অয়েল খুবই উপকারী। সম্প্রতি এক গবেষণায় বিষয়টি প্রমাণ করেছেন গবেষকরা। স্বাস্থ্য সাময়িকী সার্কুলেশনে প্রকাশিত নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দুর্বল হার্টের জন্য জ্বালানি হিসেবে প্রয়োজনীয় চর্বির যোগান দেয় অলিভ অয়েল।

সাধারণত একটি হৃদপিণ্ড তার স্বাভাবিক সংকোচন ও প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি নেয় শরীরে জমা চর্বি থেকে। কিন্তু দুর্বল হার্ট এই চর্বি গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে হার্ট শুধু ভালোভাবে কাজ করতে পারে না তা নয়, বরং গ্রহণ করতে না পারা চর্বি জমে হৃদপিন্ডের আর্টারিতে ব্লক বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। অথচ অলিভ অয়েলে আছে ওলিয়েট নামের এক ধরনের উপকারী ফ্যাট যার সহায়তায় দুর্বল হার্ট সহজেই প্রয়োজনীয় চর্বি গ্রহণ করতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় এর সিনিয়র গবেষক ই ডগলাস লিওয়ানডোস্কি বলেন, ওলিয়েট হৃদপিণ্ডের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এমনকি ওই হার্ট যদি আগে থেকেও দুর্বল থাকে তবুও স্বাচ্ছন্দ্যে হৃদপিণ্ডে প্রয়োজনীয় শক্তির যোগান দিতে পারে ওলিয়েট।

শিম

হার্ট

করোনারি হার্ট ডিজিস কমাতে সহায়ক হয়ে ওঠে ম্যাগনেশিয়ামপূর্ণ শিম, শস্য এবং সবুজ পাতাবহুল শাক-সবজি। এসব খাবারে স্ট্রোক এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিস এর ঝুঁকিও কমে আসে। এক গবেষণায় এসব তথ্য দেওয়া হয়। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছিল জার্নাল বিএমসি।

আমলকি

হার্ট

হার্টকে ভালো রাখার জন্য আমলকি সন্দেহাতীতভাবে সবচেয়েভালো ওষুধ হিসেবে কাজ করে।

প্রায় সব ধরনের কার্ডিওভাসকুলার রোগ প্রতিরোধ করার এক অদ্ভূত ক্ষমতা রয়েছে আমলকির।

হলুদ  

হার্ট

হার্টের অসুখে হলুদও কার্যকারী ভূমিকা রাখে। এতে এমন এক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টরয়েছে যা প্রদাহজনিত আক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে।

রসুন

হার্ট

রসুন কার্ডিওভাস্কুলার রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমায় এবং প্রাকৃতিকভাবেই এটা হার্টের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটা শুধু রক্ত চলাচলকেই স্বাভাবিক রাখে না; একইসাথে হার্টকেও সুস্থ রাখে।

আদা

হার্ট

আদা এমন একটি ওষুধি উদ্ভিদ যা রক্তনালীকে বিশ্রাম দেয় এবং রক্ত প্রবাহকে চালু রাখতে সাহায্য করে। হার্টের অসুখের বিরুদ্ধে অ্যান্টি ফ্ল্যামেটরি হিসেবেও যুদ্ধ করে আদা।

বিলবেরি  

হার্ট

এটি ব্ল্যাকবেরির মতোই একটি ফল। এটিও হার্টের জন্য অত্যন্ত উপকারি।

নিয়মিত এ ফল খেলে হার্টের যে কোনো সমস্যার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকা যায়। এমনকি এ ফলটি রক্ত চলাচলকেও সচল থাকে।

 হার্ট ভালো রাখে লাল মরিচ

হার্ট

লাল মরিচ হার্টের সঠিক ওষুধের কাজ করে। এটা হার্টের জন্য পুষ্টিকর খাবারও বটে। কারণ হার্টের জন্যএর প্রভাব কাঁচামরিচ থেকে ভালো।

সবুজ চা

হার্ট

বর্তমান সময়ে হার্টের জন্য সবচেয়ে বেশি ওষুধের কাজ করে সবুজ চা। এটা শুধু রক্তের শিরাকেই সচল রাখে না; শিরাকে রক্ষাও করে। বর্তমান সময়ে হার্টের জন্য সবচেয়ে বেশি ওষুধের কাজ করে সবুজ চা। এটা শুধু রক্তের শিরাকেই সচল রাখে না, শিরাকে রক্ষাও করে। গবেষকদের ধারণা, রক্তনালীর উপর গ্রিন টি’র প্রভাব রয়েছে। নিয়মিত গ্রীন টি গ্রহণ করা হলে রক্তনালী শিথিল হয় এবং রক্তচাপের পরিবর্তন হলেও তা স্বাভাবিক থাকতে পারে। এর ফলে রক্ত জমাট বেঁধে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

হার্ট ভালো রাখে পুদিনা পাতা

হার্ট

এটি হার্টের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। পুদিনা রক্তের শিরায় অক্সিজেন চলাচলে সাহায্য করে। এছাড়া এটি খেলে হার্টেররোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা একদমই থাকে না।

উপরোক্ত খাবারগুলোর সাথে সাথে নিয়মিত কিছু কাজ করতে হবে। এখনই খাতায় লিখে রাখতে পারেন।

নিয়মিত দৌড়ান

ধূমপান ছেড়ে দিন

ওজন কমান

দূষিত বায়ু এড়িয়ে চলুন

মুঠোর ব্যায়াম করুন

শ্বাসের ব্যায়াম করুন  

সময়মতো ঘুমান

কম চর্বি যুক্ত খাবার খান

এনার্জি ড্রিংকস থেকে বিরত থাকুন

গান গান

প্রতিদিন নাচুন

সামাজিক যোগাযোগ বাড়ান

হার্টের সমস্যা শুধু বয়স্ক, মোটা মানুষদের হতে পারে এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন। এই সমস্যা যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে।

তাই রোগ প্রতিকারের আগে প্রতিরোধ করুন। সবাই সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন। সবার আগে যত্ন নিন নিজের।

রমজানে কিভাবে ঠিক রাখবেন নিজের শরীর

রমজান

রমজানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হল ইফতার। সারাদিন আল্লাহ্‌র জন্য ইবাদত করার পর ধর্ম প্রাণ মুসলমানরা এই সময় খাবার গ্রহণ করে। সুতরাং এই সময়ের খাবারটা খুবই পুষ্টিকর হওয়া উচিৎ। সারাদিন না খাওয়ার পর আমরা এমন কিছু খাবার খাই যা আমদের স্বাস্থ্যের জন্য হানিকারক। তাহলে জেনে নিন কোন কোন খাবারগুলো ইফতার বা সেহেরীতে খাওয়া উচিৎ না আর কোন খাবার গুলো খেলে আমাদের স্বাস্থ্য ভাল থাকবে। রোজা রাখতে গিয়ে রমজান মাসে অসুস্থ হলে চলবে না।

রমজান শুরু হলে কি খাবেন আর খাবেন না

রমজান

  • এবার রমজান এসেছে গ্রীষ্মের দাবদাহে। সারা দিন পানি ছাড়া থাকাটা অনেক কঠিন। এই গরমে তাই অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি না খেলে হজমের সমস্যা হবে। ইফতারের পর থেকে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত একটু পরপর পানি খেতে হবে।
  • বেগুনি, পিঁয়াজু, চপ, মাংসের আইটেম, হালিম, বিরিয়ানি এগুলো না খেয়ে বেশি করে ফল খেতে পারেন। যদি ভাজা পুরি খেতেই ইচ্ছে করে তবে কষ্ট করে বাসায় বানানো খাবার খাবেন।

রমজান

  • যে তেলে ভাজা হয় সেই তেল একবারের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। একই তেল বারবার আগুনে ফোটালে কয়েক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য (ট্রান্স ফ্যাট) তৈরি হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তেল বারবার ব্যবহারে পলি নিউক্লিয়ার হাইড্রোকার্বন তৈরি হয়, যার মধ্যে বেনজা পাইরিন নামক রাসায়নিক থেকে ক্যান্সারও হতে পারে। তা ছাড়া অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি খাবারে পেটের অসুখ হয়।

রমজান

  • খেজুর বা খোরমা অবশ্যই খাবেন। এতে আছে শর্করা, চিনি, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, কপার, সালফার, ম্যাঙ্গানিজ, সিলিকন, ক্লোরিন ফাইবার যা সারা দিন রোজা রাখার পর খুবই দরকারি।
  • চিনিযুক্ত খাবার বাদ দিলে ভালো হয়। এটা খুব তাড়াতাড়ি রক্তে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, ওজন বাড়ায়। তাই যথাসম্ভব চিনি ও চিনিযুক্ত খাবার কম খান।
  • সবজি ও ফল খেতে হবে নিয়ম মাফিক। তা না হলে এই সময়ে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে নিত্যসঙ্গী।

রমজান

  • প্রত্যেক বেলা মাংসের আইটেম রাখবেন না। মাছ বেশি খাওয়ার চেষ্টা করুন।
  • সারা দিন রোজা রাখা নাজুক পাকস্থলী ঠিকমতো হজম করতে পারবে এমন খাবার রাখুন। যেমন দই, চিরা, কলা।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য হলে খাদ্য তালিকায় তোকমা বা ইসুবগুলের ভুসি রাখুন।
  • আপনার যদি অনেক বেশি শরীর দুর্বল লাগে তাহলে ইফতারে ডাবের পানি রাখুন। ইফতারের পর স্যালাইন খান।
  • আঁশ সমৃদ্ধ খাবার খান। আপনার হজম শক্তি ভাল থাকবে, কোষ্ঠকাঠিন্য হবে না। আর আপনার রক্তে চিনির মাত্রাও বাড়বে না।
  • কোমল পানীয় ঘুমের সমস্যা, অ্যাসিডিটি, আলসার ইত্যাদির কারণ। তাই এ কোমলপানীয়কে সারা জীবনের জন্য পারলে বাদ দিন।
  • পাকস্থলীতে অধিক উত্তেজনা কিংবা অস্বস্তি সৃষ্টি করে এমন খাবার খাওয়া সঠিক নয়। কারণ গুরুপাক খাবার খেলে শরীরের বিপাকক্রিয়া বেড়ে যায়। অধিক চর্বিজাতীয় খাবার খেলে শরীর অসুস্থ হয়।
  • সেহেরীতে খুব কম বা বেশি খাওয়া উচিৎ না। কম খেলে সারাদিন আপনার দুর্বল লাগবে।

রমজান শুরু হলে শারীরিক ব্যায়াম কি করে করবেন

অনেকেই আমরা নিয়মিত ব্যায়াম করে থাকি। কিন্তু এই রোজার সময়ে আগের মতো ব্যায়াম করা সম্ভব হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলেন কোন ভাবেই রোজা করে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করা ঠিক যাবে না।

তবে শরীর সায় দিলে হালকা ব্যায়াম করা যায় তবে তা অবশ্যই সন্ধ্যার পর, শরীরের উপর চাপ পড়ে এমন কিছু করা যাবে না।

তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হেলথ ইন্সট্রাক্টর মোহাম্মদ ইউনুস বলছেন যারা রোজা করবেন তাদের জন্য নামাজ বিশেষ করে ইফতারির পর রাতে তারাবির নামাজ নিয়মিত আদায় করাটাই বড় ব্যায়াম হতে পারে। এছাড়া ইফতারি বা রাতের খাবারের পর হাঁটা চলাও ব্যায়াম হিসেবে কাজে দেবে।

ঘুম

রমজান

সেহেরীর জন্য আমরা অনেকটা সময় জেগে থাকি। তাই ঘুম যেন পরিপূর্ণ ভাবে হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর কঠিন শারীরিক পরিশ্রম হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

ইফতারের পর বা সেহেরীর পর ধূমপান থেকেও বিরত থাকা উচিত।

রমজান মাস হল সিয়াম সাধনের মাস। যতটুকু পারবেন এই মাসে নিজেকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখুন। পান, সিগারেট, জাঙ্কফুড, কোমল পানীয়, তামাকের মত বাজে জিনিস গুলো বাদ দিয়ে দিন। দেখবেন আপনি কতোটা সুস্থ অনুভব করছেন। ইংরেজি নতুন বর্ষে আমরা যেভাবে নিজেকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করি সেভাবে রমজান মাসও হতে পারে আমাদের পরিবর্তন করার একটি পবিত্র সময়।

সবাই ভাল থাকুন এবং সুস্থ থাকুন।

রোজা রাখলে শারীরিক ভাবে আমরা যেভাবে উপকৃত হই

রোজা

 

আমাদের দেশে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলমান। তাই রমজান মাসে অধিকাংশ মানুষই রোজা রাখেন। রমজান আত্মশুদ্ধি আর সংযমের মাস। রোজা শরীর মনকে যেমন সতেজ রাখে তেমনি অনেক বদ অভ্যাস ত্যাগ করতেও সহায়তা করে। অনেকে বলেন রোজা রাখলে গ্যাসের সমস্যা হয়, শরীর দুর্বল লাগে এছাড়াও নানান ধরণের সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না রোজা অনেক রোগের ঔষধ হিসেবে কাজ করে। যা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত।

রোজা রাখলে ওজন কমে

রোজা
যদি আপনি দ্রুত ওজন কমাতে চান তবে রোজা রাখুন। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন আপনার ধর্মীয় রীতি পালন করাও হবে আর আপনার শরীরের অতিরিক্ত মেদও ঝরে যাবে।

মিষ্টি ও তৈলাক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে দ্রুতই আপনার ওজন কমে যাবে। রোজায় সাধারণত দুই বেলা খাওয়া হয়।

আর এ সময় যদি পরিমাপ মতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়া যায় তবে রোজার মাস শেষ হওয়ার আগেই ওজন কমে যাবে।

কিন্তু আপনি যদি ইফতারের পর ইচ্ছে মত খেতে থাকেন ঘটনা কিন্তু উল্টো হতে পারে।

রোজা কলেস্টরল কমায়

রোজা
রোজার মাসে রোজাদাররা বেশিরভাগ সময়ই বাসার খাবার খেয়ে থাকেন। এটা সত্যি কথা বলতে আমাদের বাধ্য হয়েই করতে হয়।

বাইরের তৈলাক্ত এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকেন। ফলে শরীর কলেস্টরলের মাত্রা ঠিক রেখে বাড়তি কলেস্টরল ঝেড়ে ফেলে।

রোজা ভালো কোলেস্টেরলকে (এইচডিএল) বাড়াতে এবং মন্দ কোলেস্টেরল (এলডিএল) ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে। এর দরুন আমাদের উচ্চ রক্তচাপও নিয়ন্ত্রিত থাকে।

রোজা আমাদের আসক্তি কমায়

রোজা
পবিত্র রোজার মাসে রোজা পালনকারীরা ধূমপান, মদ্যপানের মতো বিভিন্ন আসক্তি থেকে বাধ্য হয়েই দূরে থাকেন। যা আপনার প্রতিদিনের অভ্যসকে ভেঙে দেয়। ফলে সহজেই আপনি এসব আসক্তি দূর করতে পারবেন। এক কথায় আপনার আয়ু কিছুটা বাড়িয়ে দেয়।

ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য রোজা

রোজা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে রোগীদের জন্য এক অন্যতম সুযোগ। এটা তাদের জন্য রহমত স্বরূপ। ডায়াবেটিক রোগীরা সঠিক নিয়মে রোজা রাখলে নানা রকম উপকার পেতে পারেন।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মূল উপায় হল খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, আর রোজা রাখা হতে পারে এক অন্যতম উপায়।

এতে সহজেই খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সহজ ও সুন্দরভাবে করা যায়। যারা ইনসুলিনের উপর নির্ভরশীল নন, তাদের ক্ষেত্রে রোজা রাখা হতে পারে আদর্শ চিকিৎসা ব্যবস্থা।

যারা ইনসুলিন নেন তাদের ক্ষেত্রেও রোজা অবস্থায় ওষুধের মাত্রা কমাতে সহায়ক। শুধু রক্তের গ্লুকোজই নয়, রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণেও রোজা মোক্ষম।

তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন এর ফলে হাইপো-গ্লায়সেমিয়া (শর্করা স্বল্পতা) আবার হয়ে না যায়।

পেপটিক আলসার

রোজা
এক সময় ধারণা ছিল পেপটিক আলসারে আক্রান্ত রোগীরা রোজা রাখতে পারবেন না, তাদের ঘনঘন খাওয়া খেতে হবে। অনেকক্ষন পেট খালি রাখা যাবে না। অনেকে মনে করেন রোজা পেপটিক আলসারের ক্ষতি করে এবং এসিডের মাত্রা বাড়ায়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এসব ধারণা ঠিক নয়। রোজায় নিয়ন্ত্রিত খাওয়া দাওয়ার ফলে এসিডের মাত্রা কমে যায়। তাই সঠিকভাবে রোজা রাখলে এবং সঠিক খাবার দিয়ে সেহেরী ও ইফতার করলে রোজা বরং আলসারের উপশম কম করে। অনেক সময় আলসার ভাল হয়ে যায়। এছাড়া রোজা গ্যাস্ট্রিইটিস, আইবিএস ইত্যাদি রোগের জন্যও  উপকারী।

শ্বাসকষ্ট ও এজমা রোগী

রোজা
যারা এই সমস্ত রোগে ভোগেন, তাদেরও রোজা রাখতে কোন অসুবিধা নেই। রোজায় এ ধরণের রোগ সাধারণত বৃদ্ধি পায় না। বরং চিন্তামুক্ত থাকায় এবং আল্লাহর প্রতি সরাসরি আত্মসর্মপনের ফলে এ রাগের প্রকোপ কমই থাকে। প্রয়োজনে রাতে একবার বা দুইবার ওষুধ খেয়ে নিবেন যা দীর্ঘক্ষণ শ্বাস নিয়ন্ত্রণে রাখে। এ ধরণের ওষুধ বাজারে সহজেই পাওয়া যায়। দিনের বেলায় প্রয়োজন পরলে ইনহেলার জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যায়, যা রোজার কোন ক্ষতি করবে না।

চর্মরোগরোজা

রোজা চর্ম রোগীদের জন্য ও বেশ কার্যকর, আর এটি হয়ে থাকে শরীর থেকে বিষাক্ত বর্জ বেরিয়ে যাওয়া এবং রক্ত পরিশুদ্ধু হবার ফলে।

এই হলো মোটামুটি বৈজ্ঞানিক কিংবা চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টির আলোকে রোজার উপকারিতা।

রোজা মানে কিন্তু শুধু খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে রাখা না সবকিছুকেই নিয়ন্ত্রণ করা।তার মানে এই সময়টাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময় যখন আপনি আপনার চরিত্রের অনেক কিছু চাইলে পরিবর্তন করতে পারবেন।

আর ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে রোযার উপকারিতা কি তা বলা খুব সহজ।

তাহলো এটি- ইসলামের ৫ টা স্তম্ভের মধ্যে এর অবস্থান ৩য়, তার মানে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ আর এটা একটা ইবাদত যার ফলে মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনও খুব ভালো ভাবে করা সম্ভব।

শাক না খেলে কমবে আয়ু

শাক

সব জায়গাতে ফাস্টফুড, রিচফুডের দোকান বেড়েই চলছে। বলতে পারেন কেন বাড়ছে? কারণ মানুষ এখন বাসার খাবার ছেড়ে বাইরের খাবারের প্রতি আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এর জন্য চারিদিকে অতিরিক্ত ওজনের মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। ছোট মাছ আর শাক চোখের জ্যোতি বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু আমরা তো দুচোখে এই খাবার গুলো দেখতে পারিনা। ডাক্তার যখন ওই হাই প্রোটিন ও উচ্চ মাত্রার ক্যালোরিযুক্ত খাবার বর্জন করে শাক সবজি মাছ খেতে বলেন, তখন ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। তাই নিম্নে নানান শাকের গুণাগুণ বর্ণনা করা হলো।

লাল শাক

শাক

লালশাক অত্যন্ত সহজলভ্য একটি সস্তা শাক। ইচ্ছে করলেই ছাদে বা অল্প জায়গায় লালশাকের বীজ বুনে এক মাসের মধ্যে খাওয়া যায়। লালশাক রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়ায়।

লাল শাকে অনেক বেশি ভিটামিন এ আছে। ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।

তাই চোখের যেকোনো সমস্যা রোধ করতে লাল শাকের জুড়ি নেই।

যাদের রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া আছে তারা নিয়মিত লালশাক খেলে রক্তস্বল্পতা পূরণ হয়। এতে লবণ বা ক্ষারের গুণ রয়েছে।

সরিষা শাক

শাক

সরিষা শাকে প্রচুর পরিমাণে আমিষ ও স্নেহ জাতীয় পদার্থ রয়েছে। এই শাক রক্তে উপকারী এইচডিএল কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে। দেহে ভিটামিন ডি তৈরীতে সাহায্য করে।

পালং শাক

শাক

পালংশাককে শাকের রাজা বলা হয় শুধু এর পুষ্টিগুণের জন্য। পালংশাকের প্রধান কাজ হলো গলব্লাডার ও কিডনির দেখাশোনা করা।

পালংশাক খেলে জন্ডিস ভালো হয়। রক্ত বৃদ্ধি করে, রক্ত বিশুদ্ধ করে, হাড় মজবুত করে। অন্ত্র সচল রাখে। ডায়াবেটিস ভালো করে।

কিডনিতে পাথর হলে বের করে দেয়। এতে ভিটামিন ’এ’ ’বি’ ও ’ই’ রয়েছে। আরো আছে এমিন অ্যাসিড।

মুলা শাক

শাক

মুলার মতো মুলাশাকও উপকারী। মুলাশাক শরীরের মল ও মূত্র বের করে দেয়। মুলাশাকে অর্শ রোগ সারে। মুলার চেয়ে মুলাশাক বেশি উপকারী বলে পুষ্টিবিদরা বলেন। এই শাক দেহের জ্বালাপোড়া কমায়। কফ ও বাত নাশ করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

পুঁই শাক

শাক

পুঁইশাক শরীর ঠাণ্ডা রাখে। পুঁইশাকের ডগায় বেশি ভিটামিন থাকে। বল, পুষ্টি ও বীর্য বর্ধক।

সুনিদ্রা আনে, বাত পিত্তনাশক। চোখের জন্য ভালো। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

কচু শাক

শাক

কচুশাক শহরে, নগরে ও গ্রামে সর্বত্র পাওয়া যায়। দামে সস্তা অথচ অত্যন্ত উপকারী। কিন্তু অনেক সময় দোকানিরা খারাপ, পরিতেক্ত জায়গা থেকে কচু শাক নিয়ে আসে।

কচুশাক চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। মায়ের বুকে দুধ বৃদ্ধি করে। রক্তপিত্ত রোগ সারে।

প্রস্রাবের জ্বালা-যন্ত্রণা দূর করে। ক্ষুধা বাড়ায়। শরীরে রক্ত তৈরি করে।

থানকুনি

থানকুনি পাতা সকল ধরনের পেটের রোগের মহৌষধ। বদহজম, ডায়রিয়া, আমাশয় ও পেটব্যথা সেরে যায়। আলসার, এগজিমা, হাঁপানি, চুলকানি ও অন্যান্য চর্মরোগ থেকে মুক্তি লাভে থানকুনি অত্যন্ত কার্যকরী। থানকুনির রস খেলে ত্বক ও চুল সুন্দর থাকে। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। সংবহনতন্ত্রের স্থায়ীভাবে স্ফীত ও বর্ধিত শিরা কমাতে সহায়তা করে। ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে পুনর্গঠন করে।

ডিপ্রেশন নিয়ে অবহেলা করলে পরিণতি হতে পারে “মৃত্যু”

ডিপ্রেশন

মানব শরীর নানা রোগের আধার। ভয়ঙ্কর সব রোগ নিয়ে হয়তোবা আপনার আশেপাশের মানুষগুলো বেঁচে আছে। কিছু কিছু রোগ আছে দেখা যায় না কিন্তু এর ভয়ঙ্করের মাত্রা অনেক বেশি। ডিপ্রেশন তেমনই একটি রোগের নাম। দিন দিন এই রোগ প্রকট হয়ে উঠছে। আমাদের দেশে এ নিয়ে তেমন কোন জনসচেতনতা নেই বললেই চলে। কারণ মানসিক সমস্যা অথবা রোগকে কোন রোগ বা আসুস্থতা বলে গণ্য করা হয় না। কিন্তু প্রতি বছরই এর কারণে অনেক মানুষ আত্মহত্যা করছে।

কম বেশি সবাই জানি ডিপ্রেশন কি, তাই এ নিয়ে আলোচনা করবনা। আমরা আসলে ভালো করে জানিনা কেন ডিপ্রেশন হয়। এমনি এমনি তো এই আসুস্থতা হতে পারে না। সব কারণ জানা না গেলেও কিছু সাধারণ কারণ আছে।

ডিপ্রেশন হতে পারে অপমানবোধ থেকে

মানসিক বা শারীরিকভাবে অবমাননার স্বীকার হলে অনেকে  ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়। এই ধরণের অনুভূতি থেকে ডিপ্রেশনের সৃষ্টি হয়।

নিরাপত্তাহীনতা বা একাকীত্ববোধ করা

পারিবারিক কারণে অনেকে হীনমন্যতায় পড়ে। সামাজিক ও পারিবারিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকে বিষণ্নতার স্বীকার হয়। তাছাড়া বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধব বা অন্যান্য কাছের মানুষদের সাথে সম্পর্কহীনতা বা মতবিরোধ থেকেও অনেকে বিষণ্ণতায় ভুগে থাকেন।

ডিপ্রেশন বংশগত কারণে হতে পারে

বংশগত পরিবারে কারো ডিপ্রেশন থাকলে তা অন্যদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

বড় কোন রোগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

বড় ধরণের কোন রোগ থাকলে রোগী ডিপ্রেশনের শিকার হতে পারে।

ঔষধের প্রভাব

নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ সেবনের ফলেও কেউ কেউ বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয়। যেমন ব্রণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত আইসোট্রেটিনিয়ন বা অ্যান্টিভাইরাল “ইন্টারফেরন-আলফা” জাতীয় ঔষধ সেবনেও অনেকে বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয়। এমন অনেক ঔষধ আছে যেগুলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে বিষণ্ণতা ছড়িয়ে দেয় মস্তিষ্কে।

ডিপ্রেশন আপনাকে অসহায় অবস্থায় পতিত করবে। ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন ধরণের থেরাপি ও চিকিৎসার পাশাপাশি নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।

নিজের চেষ্টা না থাকলে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। নিজের প্রতিদিনের কাজকর্ম, খাওয়া-দাওয়া, জীবনপ্রণালী এমনকি চিন্তা-ভাবনায় ও পরিবর্তন আনতে হবে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির জন্য।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির জন্য নিচের পয়েন্টগুলো সহায়ক হতে পারে-

রুটিনমাফিক চলা

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিনের জীবনকে একটা রুটিনের মধ্যে নিয়ে আসুন।

প্রতিদিনের কাজ-কর্মকে যদি একটা নিয়মের মধ্যে বেঁধে ফেলা যায় তবে তা ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা

লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেলুন। ডিপ্রেশনে যেহেতু কোন কাজ করতে ইচ্ছা করে না তাই প্রতিদিন একটু একটু করে কাজ করার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।

নিয়মিত ব্যায়াম করা

প্রতিদিন অল্প কিছু সময় ব্যায়াম করলে তা আপনার শরীর এবং মনকে সুস্থ রাখবে।

ব্যায়াম করা মানে, ম্যারাথন দৌড় টাইপ কিছু না, আপনি যদি প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটাহাঁটি করেন তবুও তা আপনার মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যা আপনাকে ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে।

সুষম খাদ্য গ্রহণ

সুষম খাদ্য গ্রহনের মাধ্যমে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি মেলে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ থাকে।

সাইক্রিয়াটিস্টদের মতে, যেসব খাবারে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এ্যাসিড এবং ফলিক এসিড থাকে সেসব খাবার ডিপ্রেশন কমাতে সহায়তা করে।

অনিদ্রা দূর করা

পর্যাপ্ত ঘুম ডিপ্রেশন কমায়। ডিপ্রেশনের রোগীদের নিদ্রাহীনতা দেখা দেয়্। তাই, প্রথমেই ঘুম সমস্যার সমাধান করতে হবে।

প্রতিদিনের জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে নিদ্রাহীনতা দূর করা সম্ভব। প্রতিদিন ঠিক সময়ে ঘুমোতে যাওয়া এবং সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

দিনের বেলার হালকা ঘুমের অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। শোবার ঘর থেকে টিভি, কম্পিউটার, মোবাইল এগুলো সরিয়ে রাখতে হবে।

এভাবেই অনিদ্রা রোগ ধীরে ধীরে দূর করা সম্ভব।

ইতিবাচক চিন্তা করা

ডিপ্রেশনে ভুগতে থাকলে মানুষের মনে বিভিন্ন রকম নেগেটিভ চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকে।

যেমন আমিই বুঝি সবচেয়ে খারাপ, আমার মত দুঃখ কারো নেই, আমি সবার চেয়ে অসুস্থ, আমি ব্যর্থ একজন মানুষ এই ধরণের চিন্তাগুলো সুস্থ হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা।

তাই এই নেগেটিভ চিন্তাগুলোকে মন থেকে দূর করে পজিটিভলি চিন্তা করার চেষ্টা করতে হবে।

যুক্তি দিয়ে সবকিছু বিচার করতে হবে। আশাহত হওয়া যাবে না কোনভাবেই।

আনন্দদায়ক কাজের মধ্যে সময় কাটানো

নতুন কিছু করার চেষ্টা করতে হবে। মজার কোন কাজ। যেমন নতুন কোথাও ঘুরতে যাওয়া, মজার কোন বই পড়া, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া।

মন ভালো রাখার সবরকম চেষ্টা করতে হবে। মন ভালো থাকলে ডিপ্রেশন কেটে যাবে একসময়।

ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ

ডিপ্রেশন পুরোপুরি না ভালো হওয়া পর্যন্ত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।

স্তন ক্যান্সার রোধে লজ্জা নয় সচেতনতা দরকার

স্তন

ক্যান্সার নামটি শোনার সাথে সাথে আমাদের মনে মৃত্যুভয় চলে আসে। আগে ক্যান্সার নিরাময়যোগ্য ছিলনা কিন্তু এখন ক্যান্সার নিরাময় করা এতো কষ্টসাধ্য নয়। এ রোগ যদি সূচনায় ধরা পড়ে এবং সময়মতো চিকিৎসা দেয়া যায় তাহলে এক-তৃতীয়াংশ সম্পূর্ণভাবে নিরাময় করা যায়। বাকি এক-তৃতীয়াংশ চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বাকি এক-তৃতীয়াংশ অনেক দেরিতে ধরা পড়ে বলে নিরাময় বা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নারীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় স্তন ক্যান্সার।

পৃথিবীর কোথাও না কোথাও স্তন ক্যান্সারের কারণে প্রতি ৭০ সেকেন্ডে একজন মহিলা মৃত্যুবরণ করছেন। স্তন ক্যান্সার বিশ্বের এক অন্যতম নীরব ঘাতক। এই ক্যান্সারে নারী মৃত্যুর প্রধান কারণ নারীরা সচেতন না।

স্তন ক্যান্সারের লক্ষণসমূহঃ  

  • স্তনে চাকা বা পিন্ড
  • স্তনের আকারের পরিবর্তন
  • বোঁটা ভেতরে ঢুকে যাওয়া, অসমান বা বাঁকা হয়ে যাওয়া
  • বোঁটা দিয়ে অস্বাভাবিক রস বা রক্তক্ষরণ হওয়া
  • চামড়ার রঙ বা চেহারার পরিবর্তন
  • উন্মুক্ত ক্ষত
  • বগলতলায় পিন্ড বা চাকা এবং
  • বাহুমূলে স্তনে ব্যথা।

স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা

এই চিকিৎসা সমন্বিত ও বহুমাত্রিক চিকিৎসা পদ্ধতি। শল্য চিকিৎসা, চিকিৎসা, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, হরমোন চিকিৎসা ও ইমিউনোথেরাপি, টারগেটেড থেরাপি সমন্বিতভাবে প্রদান করা যায়। এই রোগের মূল লক্ষ্য দুইটি প্রথমত মূল টিউমার অপসারণ এবং দ্বিতীয়ত সামগ্রিক চিকিৎসা প্রদান।

সার্জারি

সার্জারি স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে অন্য যে কোন চিকিৎসার চেয়ে রোগীকে বেশি আরোগ্য করে।

যদি টিউমার স্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, শরীরের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়া টিউমারের ক্ষেত্রে এর ভূমিকা নগণ্য।

রেডিওথেরাপি

সাধারণত অপারেশনের পরও চোখে দেখা যায় না যদি এমন কিছু কোষ থেকে থাকে, তাকে দমন করা। সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে দেয়া হয়ে থাকে।

যখন এ রোগ মস্তিষ্ক বা হাড়ে ছড়িয়ে পড়ে তখন জরুরী ভাবে পেলিয়েশন বা প্রশমন করার জন্য রেডিওথেরাপির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে রেডিওথেরাপি দেয়া যায় বলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।

কেমোথেরাপি ও হরমোন

প্রায় প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রেই কেমোথেরাপি হরমোনথেরাপি প্রয়োগ করা যায়।

সামগ্রিকভাবে শরীরের সর্বত্রই এই রোগের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য এর ব্যবহার অপরিহার্য।

খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণীত হলে এবং যথোপযুক্ত চিকিৎসা নিলে শতকরা ৭৫-৮০ ভাগ রোগী ১০ বছরেরও বেশি বেঁচে থাকে।

মাঝ পর্যায়ে নির্ণীত হলে এই হার ৫০ থেকে ২৫ শতাংশে নেমে আসে।

শেষ পর্যায়ে ভাল কিছু করার সুযোগ প্রায় থাকেই না।

স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় এবং সময়মতো যথোপযুক্ত চিকিৎসা নেয়া এ রোগ মোকাবেলা করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই।

স্তন ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়া থেকে বিরত হতে নতুন  আশার আলো আবিষ্কার হয়েছে

  • খাদ্যে প্রাপ্ত একধরনের প্রোটিন গঠনকারী ব্লক, প্রাণঘাতী স্তন ক্যান্সার ছড়ানো থেকে বিরত রাখার চাবিকাঠি হতে পারে বলে ন্যাচার জার্নালের এক গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে।
  • বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, পরীক্ষাগারে ‘ট্রিপল-নেগেটিভ’ স্তন ক্যান্সার যুক্ত ইঁদুরে অ্যাসপ্যারাজিন নামে অ্যামিনো অ্যাসিড কমিয়ে দিলে তা দেহে ক্যান্সার  ছড়ানোর ক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে হ্রাস করে।

অ্যাসপ্যারাজিন  সমৃদ্ধ খাবার হছে, দুগ্ধজাত খাবার, গরুর মাংস, হাঁস-মুরগীর মাংস, সামুদ্রিক মাছ, বাদাম, ডিম, অ্যাসপ্যারাগাস বা শতমূলী ইত্যাদি। তবে বেশিরভাগ শাক-সবজি ও ফলমূলে এর পরিমাণ কম।

এটি শুধু স্তন ক্যানসারই নয়, কিডনি ক্যানসারের মতো অন্যান্য ক্যানসার টিউমারের ক্ষেত্রেও বিশাল প্রভাব রাখতে পারে। সুতরাং আপনার খাদ্য তালিকায় অ্যাসপ্যারাজিন  সমৃদ্ধ খাবার রাখুন।