কুকুরের দাঁতের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে টুথপেস্ট তৈরি করুন

কুকুরের

বাংলাদেশে এখন অনেক মানুষ আছেন যারা বাসায় কুকুর পালছেন। একটি কুকুর সঠিক ভাবে পালতে হলে আপানাকে ওদের সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে। অনলাইনে আপনার প্রিয় কুকুরটির জন্য কত কিছুই না কিনছেন। ডগ ফুড, ট্রিট, খেলনা, জামাসহ কত কিছু। কিন্তু কখনো কি ওর দাঁত নিয়ে চিন্তা করেছেন। আপনার কুকুরের দাঁতের যত্ন কি নিচ্ছেন?

অনেকেরই অভিযোগ আছে, “আমার কুকুরের নিঃশ্বাসে বাজে গন্ধ”। আমরা মানুষরা যেমন প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করি ঠিক ওদেরও প্রতিদিন সম্ভব না হলেও ২/৩ দিন অন্তর অন্তর দাঁত ব্রাশ করা প্রয়োজন।  ভ্রুটা একটু কুঁচকে মনে মনে নিশ্চিত বলছেন, “ডগ টুথপেস্টের যে দাম!!”। তাহলে আপনাকে খুশি করার মত কিছু তথ্য আছে আমার কাছে। ঘরে সব সময় থাকে এমন কিছু উপাদান দিয়ে খুব কম সময়ে আপনার কুকুরের জন্য টুথপেস্ট তৈরি করতে পারবেন। ২/৩ দিন পর পর যদি নিয়মিত ব্রাশ করান তাহলে দেখবেন ওর মুখে কোন দুর্গন্ধ নেই। এবং এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো কুকুরদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ভালো।

কুকুরের
কুকুরের দাঁতেও কিন্তু মানুষের মত প্লাগ হয়। সুতরাং ওর দাঁতের একটু যত্ন নিন।

আমি টুথপেস্ট কিভাবে বানাতে হয় এবং প্রতিটি উপাদানে কি কি গুনাগুন আছে সব বলে দিচ্ছি। আমার নিজের একটি ছোট ব্রিডের কুকুর আছে। ও এই টুথপেস্ট সব সময় ব্যবহার করে ওর কোন সমস্যা হয়নি। আশা করি আপনাদের কুকুরটিরও কোন সমস্যা হবে না। আর একটি মজার বিষয় ইচ্ছে করলে আপনিও মাঝে মাঝে এটা ব্যবহার করতে পারেন। এমন ভাবে বানাবেন যেন আপনিও ব্যবহার করতে পারেন।

কুকুরের টুথপেস্ট তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান

– হলুদ- ৪/৫ টুকরা (মাঝারী)

– দারুচিনি- ৫/৬ টুকরা (মাঝারী)

– ধনেপাতা- আপনার হাতে এক মুঠ

– বেকিং সোডা- ১ টেবিল চামচ

– নারিকেল তেল- ২ টেবিল চামচ

– এলাচি- ৩/৪ টি

কুকুরের টুথপেস্ট তৈরির প্রণালী

– প্রথমে দারুচিনি, এলাচি এবং হলুদ ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর পানি ভালো করে ঝরিয়ে হালকা করে ভেঙ্গে নিন।

– এখন একটা তাওয়া অথবা কড়াইয়ে হালকা আঁচে সময় নিয়ে মচমচে করে ভাজুন। খেয়াল রাখবেন যেন পুড়ে না যায়।

– ভাজা হয়ে গেলে ব্লেন্ডারে একদম গুঁড়া করে ফেলুন। আপনার বাসায় ব্লেন্ডার না থাকলে কোন সমস্যা নেই মশলার পাটায় গুঁড়ো করে নিন।

– এখন ধনেপাতা দিয়ে আবার ব্লেন্ড করুন। টুথপেস্ট বললেও এটা পেস্ট না হওয়াই ভালো তাহলে অনেক দিন টিকবে।

– এবার বেকিং সোডা আর নারিকেল তেল দিয়ে আবার ব্লেন্ড করুন।

– শুকনা কাঁচের শিশিতে সংরক্ষণ করুন। অনেকদিন ভালো থাকবে। সামান্য পানি মিশিয়ে আপনার কুকুরের দাঁত ব্রাশ করে দিবেন।

টুথপেস্টটি বানানো শিখে নেয়ার পর আসুন এবার দেখে নেই প্রতিটি উপাদানের গুণাগুণ গুলো।

কুকুরের জন্য হলুদ

কুকুরের

হলুদ আপনার কুকুরকে নানা ধরণের রোগের হাত থেকে বাঁচাতে পারে। হলুদ কুকুরকে ক্যান্সারের হাত থেকে বাঁচায়। কুকুরের বয়স বাড়ার সাথে সাথে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। ক্যান্সার ঠেকাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে এই হলুদ।

আমেরিকার কয়েকজন গবেষক বিভিন্ন ধরণের গবেষণা করে দেখেছেন হলুদ ক্যান্সার আক্রান্ত কুকুরকে ভালো করার জন্য ব্যবহার করা যায়।

হলুদ ক্যান্সারের কোষকে বাড়তে দেয় না। দাঁতের গোঁড়ায় নানা ধরণের ব্যাকটেরিয়া থাকে যা হলুদ ধ্বংস করতে পারে।

কুকুরের জন্য দারুচিনি

কুকুরের

শরীরের কোষ ভালো রাখতে সাহায্য করে দারুচিনি। হাড়ে প্রদাহ আর ক্যান্সার থেকেও বাঁচাবে এই দারুচিনি। হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। হাড়ের গঠন ভালো রাখে।

তাছাড়া খাবারে সামান্য দারুচিনি মেশালে আপনার কুকুরের মুখে দুর্গন্ধ থাকবে না।

কুকুরের জন্য এলাচি

কুকুরের

এলাচি অনেক সুগন্ধি একটি মশলা। কিন্তু অতিরিক্ত এলাচি ওদের জন্য ভালো না। সুতরাং অন্য কোন ভাবে ওদের খেতে দেবেন না। খুব অল্প এলাচি মুখের দুর্গন্ধ  দূর করতে সাহায্য করে।

কুকুরের জন্য বেকিং সোডা

কুকুরের

বেকিং সোডা কুকুরকে খাওয়ানো উচিৎ না। এই টুথপেস্টে থাকা সামান্য বেকিং সোডা কুকুরের জন্য ভালো। দাঁতের ময়লা আর খাদ্য কণা দূর করে দেবে এই বেকিং সোডা।

পেটের বদ হজম দূর করতে সাহায্য করবে।

কুকুরের জন্য নারিকেল তেল

কুকুরের

ওদের খাবারে কোন ধরণের তেল ব্যবহার করা যায় না সেটা তো ভালো করেই জানেন। কিন্তু মাঝে মাঝে খুব সামান্য হলেও ওদের তেল দেয়া উচিৎ। তাহলে ওদের চামড়া আর লোম ভালো থাকবে।

কুকুরের জন্য ধনেপাতা

কুকুরের

ধনেপাতা দৃষ্টিশক্তি এবং হজমশক্তি উভয়ের জন্য খুব ভালো কাজ করে। এতে আয়রন আছে যা রক্ত তৈরি হতে সাহায্য করে। ব্লাড সার্কুলেশনও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। ক্যালসিয়াম আছে এতে যা হাড়ের ঘনত্ব ও জয়েন্ট ভালো রাখে।

মনে রাখবেন-

– এই উপাদান গুলো দিয়ে আপানার কুকুরের জন্য খাবারও বানাতে পারেন।

– কুকুরকে শুধু ডগ ফুড খাওয়াবেন না। ডগ ফুডের পাশাপাশি বাসায় বানানো খাবার দেবেন তাহলে ওর রুচি নষ্ট হবে না।

– এই টুথপেস্ট ১ টেবিল চামচের ৪ ভাগের ১ ভাগ ব্যবহার করবেন।

আপনার প্রিয় প্রাণীটির এমন সব উপকারি তথ্য পেতে হলে কমেন্ট বক্সে জানিয়ে দিন। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব।

Source

canigivemydog.com

dogsnaturallymagazine.com

animalwised.com

sitstay.com

 

ডায়বেটিস রোগীরা কিভাবে খাদ্য তালিকা তৈরি করবেন?

ডায়বেটিস

ডায়াবেটিস রোগটি আমাদের খাদ্যাভ্যাসের সাথে অনেকাংশে নির্ভর করে। ডায়াবেটিস- এ আক্রান্ত রোগীদের হৃদ রোগজনিত সমস্যা, মানসিক রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা– নন ডায়াবেটিক এর থেকে প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টাইপ–২ ডায়বেটিস অর্থাৎ যাতে ইনসুলিন লাগেনা, শুধুমাত্র ওষুধে চিকিৎসা দেয়া হয়, নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং কিছু ক্ষেত্রে নিরাময়যোগ্য। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে এমন না যে, আপনার পছন্দের খাবার থেকে নিজেকে দূরে থাকতে হবে। সব খাবারই খাওয়া যাবে, কিন্তু পরিমিত মাত্রায় যাতে আপনার মুড ও শক্তির সমন্বয় ঘটে।

যাদের ডায়বেটিস আছে তারা অনেক কিছুই খেতে পারেন না। নিজের অনেক পছন্দের খাবার খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেন। এমন হলে হলে সত্যি জীবন যাপন করা কঠিন।

ডায়বেটিস রোগীদের কি খাবার বর্জন এবং কি খাবার গ্রহণ করা উচিত তা নিয়েই আজ কথা বলব।

ডায়বেটিস হলে কি মিষ্টি খাবার বাদ দিতে হবে?

ডায়বেটিসের জন্য আপনার প্রিয় মিষ্টি জাতীয় খাবার একদম পরিহার করতে হবে তা না। আপনাকে পরিমাণ মত খেতে হবে। আগে যেমন ইচ্ছে হলেই ২/৩ টা রসগোল্লা অথবা ১ বাটি পায়েস খেয়ে ফেলতেন এখন তেমনটা হবে না। মিষ্টি দই খাওয়ার সময়ও আপানাকে স্বাস্থ্যের কথা মনে রাখতে হবে। মনে রাখবেন বেহিসাবি যেকোনো কিছুই আমাদের শরীরের জন্য খারাপ।

ডায়বেটিস হলে শর্করা গ্রহণ

পাউরুটি, সাদা ভাত, পাস্তা ইত্যাদি স্টার্চ সমৃদ্ধ খাবার এর বদলে বার্লি, বাদামি বা লাল চালের ভাত, গম বা গম জাতীয় শস্য দানা ভুক্ত খাবার থাকে।  কারণ শস্য দানা জাতীয় খাবার রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে বেশি ভূমিকা রাখে। গোল আলুর পরিবর্তে মিষ্টি আলু খেতে পারেন।

শর্করার পরিমাণ যেন কখনো বেশি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে খাদ্য গ্রহণ করুন।

ডায়াবেটিক খাবার

আপনি ডায়াবেটিক বা নন ডায়াবেটিক হন না কেন, দামি ও স্পেশাল ডায়াবেটিক খাবার খুব একটা ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারেনা।

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আনলেই আপানার ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

যা যা বেশি খাবেন-

  • দেশী মাছ ও মুরগি
  • উপকারী চর্বি যেমন, বাদাম, অলিভ ওয়েল, মাছের তেল ইত্যাদি।
  • প্রোটিন জাতীয় খাবার– যেমন, ডিম, অল্প চর্বি জাতীয় দুধ, টক দই ইত্যাদি।
  • টাটকা ও রঙিন শাকসবজি, জুসের থেকে ফল বেশি খেতে হবে।

যা যা কম খাবেন-

  • অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার এবং অতিরিক্ত রান্না করা খাবার
  • প্যাকেটজাত ফাস্ট ফুড, বিশেষ করে যাতে চিনি, বেকিং করা খাবার, মিষ্টি, ডেজারট, চিপস ইত্যাদি থাকে।
  • সাদা পাউরুটি বা রুটি
  • প্রক্রিয়াজাত মাছ বা মাংস

নিয়মিত খাবার গ্রহণ খাবারের তালিকা প্রস্তুতি

মজার ব্যাপার এই যে মাত্র ৭% শরীরের ওজন কমালে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা অর্ধেক কমে যায়। এর জন্য অতিমাত্রার সচেতনতার দরকার নেই। শুধুমাত্র নিয়ম করে খাবার গ্রহণ ও কি খাচ্ছেন তার তালিকা প্রস্তুত বা সচেতন হওয়ার মাধ্যমে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব।

ডায়বেটিস

  • দিনটি শুরু করুন সুসাস্থ্যকর নাস্তা দিয়ে– এটি সারাদিনের শক্তি যোগাবে পাশাপাশি রক্তের শর্করা নিয়মিত রাখবে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকালের নাস্তা হিসেবে ২/৩ পিস লাল আটার রুটি, ১ টি সিদ্ধ ডিম ও পরিমাণ মত সবজি ছাড়াও ১ কাপ দুধ যথেষ্ট।
  • দুপুরের খাবার হিসেবে ১ কাপ ভাত, ১/২ কাপ সবজি, মাছ বা মাংস ১ পিস ও পরিমাণ মত সালাদ যথেষ্ট।
  • রাতের খাবার হিসেবে ২/৩ পিস রুটি, ১ কাপ সবজি ও মাছ বা মুরগি ১ পিস যথেষ্ট।
  • অল্প অল্প খাবার গ্রহণ– ৬ বারের বেশি খাবেন না। এভাবে খাবার গ্রহণে সহজে হিসেব রাখতে সুবিধা হয়।
  • ক্যলরি নিয়মিতকরন– নিয়মিত চাহিদানুযায়ি খাবার গ্রহণ করুন। কোন এক বেলার খাবার পরিহার করা থেকে বিরত থাকুন। ধরুন রাতে না খেয়ে পরেরদিন সকালে বেশি খেলেন, এটা কাম্য নয়। খাবার পরিহারে রক্তের শর্করার মাত্রার তারতম্য হয়।

চিনি শরীরের জন্য কেন খারাপ?

চিনি

মিষ্টি জাতীয় খাবার আমাদের সকলের খুব প্রিয়। সব মিষ্টি খাবারের প্রধান উপাদান হল চিনি। প্রকারভেদে তার সাথে নানান কিছু যুক্ত থাকতে পারে। মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে মনও ভালো থাকে। এখন কথা হচ্ছে এই খাবার আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ভালো? আপনি কি জানেন গবেষকরা আমাদের খাদ্য তালিকার তিনটি জিনিসকে সাদা বিষ বলে আখ্যায়িত করেছেন? এর মধ্যে একটি হল চিনি অন্য দুটি হল ভাত এবং লবণ। আমাদের শরীরে চিনি কি ধরণের প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে আলোচনা করব।

চিনি ডিপ্রেশনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়

যেসব খাবার ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা বা হতাশাকে আরো খারাপ পর্যায়ে নিয়ে যায়, তাদের মধ্যে চিনি অন্যতম। অধিক মাত্রায় চিনি গ্রহণ গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি করে ও সংঘর্ষ সৃষ্টি করে, যার ফলে মেজাজ খারাপ হতে পারে। বিরক্তি, অস্থিরতা, অনিয়মিত ঘুম, বৃদ্ধি পেতে পারে।

চিনি আপনার জীবনের আয়ু কমাতে পারে

মাঝেমাঝে আমরা চকলেট, কোল্ড ড্রিঙ্কস খেয়ে থাকি। এ ধরণের খাদ্যগুলো স্বাস্থ্যের ওপর কি পরিমাণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে তা আপনি কল্পনা করতে পারবেন না। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান ফ্রান্সিসকোর একটি গবেষণায় পাওয়া গেছে, প্রতিদিন ২০ আউন্স সোডা পান করা কোষের বয়স ৪.৬ বছর বেড়ে যাওয়ার সমতুল্য, যা সিগারেট স্মোকিংয়ের প্রভাবের অনুরূপ। এই কোষ বয়স্কতার সঙ্গে মানুষের সংক্ষিপ্ত জীবনকালের সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং আমরা ধূমপানকারীদের মত সোডা পানকারীদেরও সতর্ক করব।

চিনি আপনাকে ক্ষুধার্ত রাখবে

আপনি যত চিনি গ্রহণ করবেন আপনার তত ক্ষুধা থাকবে। এক কথায় ক্ষুধা বাড়তে থাকবে। কারণ অতিরিক্ত চিনি লেপটিন প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করে আর এই লেপটিনই আমাদের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে। তাই অধিক চিনি খেলে ক্ষুধা বাড়তেই থাকে।

ওজন বৃদ্ধি করে

চিনি আমাদের ওজন বৃদ্ধি করে এটা তো সকলেই জানি। কিন্তু কি করে হয় এটা সেটা কি জানি? আমাদের শরীরকে চালানোর জন্য শর্করার প্রয়োজন হয়। চিনিতে যে খাদ্য উপাদান আছে তার বেশির ভাগই শর্করা। শরীর যখন কাজ করছে অথবা ব্যায়াম করছে তখন এই শর্করা আমাদের শক্তি দেয়। যতটুকু খরচ না হয় ততটুকু আমাদের শরীরে মেদ হয়ে জমা থাকে। আগেই বলেছি চিনি আপনাকে ক্ষুধার্ত রাখবে। সুতরাং দৈনিক খাদ্যের সাথে আমরা যখন চিনিও গ্রহণ করি তা আমাদের শরীরে জায়গা করে নেয়। ওজন কমাতে চাইলে আজই চিনি পরিহার করুন।

লিভারের কর্মক্ষমতা কমাতে পারে

অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার অভ্যাস লিভারকে বেশি কাজ করতে বাধ্য করে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন অতিরিক্ত কাজের ফলে লিভারের ফাংশনে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এতে লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।

ইনসুলিন নিঃসরণ বেড়ে যায়

অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের একটি তাৎক্ষণিক ফলাফল হচ্ছে ইনসুলিন নিঃসরণ বেড়ে যাওয়া। ইনসুলিন আমাদের শরীরের রক্ত শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে। হার্ভার্ড টি.এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষণা বিজ্ঞানী ভাসন্তি মালিক বলেন, “সোডা হচ্ছে সর্বাধিক জঘন্য কালপ্রিট। বেভারেজের শর্করা খুব দ্রুত শোষিত হয়, যার ফলে রক্ত শর্করা ও ইনসুলিন দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের দিকে ধাবিত করে যেখানে শরীর সক্রিয় হতে অত্যধিক ইনসুলিন প্রয়োজন হয় এবং ব্যক্তির বিপাকীয় স্বাস্থ্যকে বিরূপভাবে প্রভাবিত করে।”

উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে

গবেষণায় দেখা গেছে, চিনির সঙ্গে উচ্চ কোলেস্টেরল এবং হৃদরোগজনিত মৃত্যুর সংযোগ আছে। ডা. সল্টজম্যান বলেন, “উচ্চমাত্রায় চিনি গ্রহণের সঙ্গে লো-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন (ভিএলডিএল) নামক একপ্রকার রক্তের লিপিড বৃদ্ধির সংযোগ পাওয়া গেছে, যা কার্ডিওভাস্কুলার রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। চিনি এইচডিএল নামক উপকারী কোলেস্টরল হ্রাস করতে পারে- এইচডিএল কোলেস্টেরল হৃদপিণ্ডের সমস্যা থেকে রক্ষা করে।”

মস্তিষ্ককে প্ররোচিত করে

চিনি আপানার মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ডা. সল্টজম্যান বলেন, শক্তিসমৃদ্ধ মিষ্টান্ন খাবার আপনার লিম্বিক সিস্টেম নামক মস্তিষ্কের অংশকে এসব খাবার আরো বেশি করে খাওয়ার জন্য প্ররোচিত করতে পারে।” মিষ্টান্ন খাবার খেলে এসব খাবার চাওয়া ও খাওয়ার জন্য আমাদের মস্তিষ্ক প্রশিক্ষণ পায় এবং এভাবে এসব খাবার খাওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ডা. মালিক বলেন, “চিনি মস্তিষ্কের প্লেজার সেন্টারকে উদ্দীপিত করতে পারে, যেভাবে করে ড্রাগ।”

দাঁতের ক্ষয় করে

ডা. স্যান্ডা মোল্ডোভান বলেন, “মুখের ব্যাকটেরিয়া চিনি ভালোবাসে, যেমনটা ভালোবাসি আমরা এবং তারা যখন এসব ভোজন করে বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে এসিড নিঃসরণ হয়। এই এসিড দাঁতের এনামেলকে আক্রমণ করে ও ডেন্টিন নামক দাঁতের গভীর স্তরে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করে” ব্যাকটেরিয়ার জন্য আপানার মুখে দুর্গন্ধও হতে পারে। আপনি যত বেশি চিনি খাবেন, আপনার মুখ তত বেশি অ্যাসিডিক হবে এবং দ্রুত দাঁতে ক্যাভিটি বা ক্ষয় হবে। এছাড়া চিনি খেয়ে ইস্টও বিকশিত হয়, যা মুখের কর্নার বা জিহ্বা লাল করতে পারে।

 

খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আনতে হবে তবে কমবে ওজন

খাদ্য

দেহ থেকে অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে কত কিছুই না আমরা করি। তবুও অনেকেই বলছেন তারপর ও ওজন কমছে না। তাহলে কিভাবে কমবে আপনার ওজন। শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে শারীরিক কসরতের পাশাপাশি আপনাকে আপনার খাদ্য তালিকার দিকে নজর দিতে হবে। সামান্য কিছু পরিবর্তন আপনাকে করে তুলতে পারে স্লিম এন্ড ফিট। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক।

খাদ্য তালিকায় প্রোটিন= সন্তুষ্টি

খাদ্য

মুরগি, ডিম, ডাল, মাছ, টার্কি হচ্ছে প্রোটিনের ভাল উৎস। খাসি এবং গরুর মাংস এড়িয়ে চলুন। মনে রাখবেন কোন লাল মাংসই শরীরের জন্য ভাল না। আপনার খাদ্য তালিকায় প্রোটিন না থাকলে তা পরিপূর্ণ হবে না। ওজন কমাতে প্রোটিন অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। কারণ প্রোটিন হজম হতে অনেক সময় লাগে, তাই আপনার সহজে ক্ষুধা লাগবে না।

সুতরাং খাবারের তালিকায় প্রোটিন রেখে নিজের শরীরকে সন্তুষ্ট করুন।

খাদ্য নালি পরিষ্কার করুন আঁশ যুক্ত খাবার দিয়ে

খাদ্য

আমরা ত্বক পরিষ্কার রাখতে নানা ধরণের স্ক্রাব ব্যবহার করি। আপনি যদি শুধু বাইরের ত্বকের কথা ভাবেন তাহলে আপনি সুস্থ থাকতে পারবেন না। প্রতিদিন আঁশ যুক্ত খাবার খান। যেমন- শাকসবজি, ফল, লাল আটা, ঢেঁকি ছাটা চাল ইত্যাদি।

এই খাবার গুলো আপনাকে দীর্ঘদিন সুস্থ ও সুন্দর ভাবে বাঁচতে সাহায্য করবে। তাছাড়া আঁশ যুক্ত খাবার আপনার রক্তে চিনির পরিমাণ বাড়তে দেয় না।

খাদ্য তালিকা থেকে চিনি বর্জন করুন

খাদ্য

চিনিকে সাদা বিষ বলা হয়। চিনি আপনার শরীরে মেদ বাড়ানো ছাড়া আর কিছু করে না। মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতে ইচ্ছে হলে আপনি ফল খেতে পারেন।

এতে আপনার আঁশও গ্রহণ করা হবে অন্য দিক দিয়ে চিনিও বর্জন করা হবে।

বাজারে অনেক ধরণের খাবার আছে যার গায়ে লেখা থাকে চিনি মুক্ত সেই খাবার গুলো খেতে চেষ্টা করুন। তবে বাইরের খাবার যত বর্জন করা যায় তত ভাল।

সেচুরেটেড ফ্যাট বাদ দিন

খাদ্য

দৈনিক খাদ্যে ১০ শতাংশেরও কম সেচুরেটেড ফ্যাট থাকা উচিত। সারাদিনে আপনি ৭৭ গ্রাম ফ্যাট নিতে পারেন।

বাইরের খাবার গ্রহণ করার আগে কি পরিমাণ ফ্যাটের কথা লেখা আছে দেখে নিন।

লবণ আপনার রক্ত চাপ বাড়িয়ে দেয়

খাদ্য

ডাক্তারদের মতে সারাদিনে ১ টেবিল চামচ লবণ খাওয়া ঠিক আছে। এর বেশি খেলে আপনার রক্তের চাপ বেড়ে যাবে। এটি দেহের কোষে তরলের ভারসাম্য রক্ষায় সমস্যা করে। এতে বেশি পিপাসা পায় এবং পানি পানের ইচ্ছে হয়। আর পানি যেমন শরীরের জন্য উপকারি তেমনি অতিরিক্ত পানি পান কিডনিতে চাপ তৈরি করে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের অতিরিক্ত লবণ খেতে নিষেধ করা হয়। কারণ এটি রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের কারণে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি ফেইলুরের মতো সমস্যা হতে পারে। বেশি মাত্রায় লবণ খেলে হাড়ের ক্যালসিয়াম প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। এতে হাড় দুর্বল এবং ভঙ্গুর হয়ে যায়। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি মাসিক বন্ধের পর, যখন নারীদের হাড়ের ক্যালসিয়াম কমে যায়, তখন বেশি লবণ খাওয়া পরিহার করা প্রয়োজন। এ ছাড়া অতিরিক্ত লবণ খাওয়া কিডনিতে পাথর তৈরি করতে পারে।

কার্বোহাইড্রেট দিয়ে পেট ভরবেন না

খাদ্য

তিনটি জিনিসকে ডাক্তাররা সাদা বিষ বলে থাকেন। চিনি, লবণ আর সাদা ভাত। এই তিনটি খাবার আপনার শরীরকে মেদবহুল করতে ভাল ভাবে সাহায্য করবে। যারা ওজন বাড়াতে চান তারা প্রতিদিন চিনি আর ভাত খান। ভাত এড়াতে রুটি খেতে পারেন সেক্ষেত্রে রুটির পরিমাণ বেশি হওয়া চলবে না।

এক কথায় কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার দিয়ে পেট পূর্ণ করবেন না।

অতিরিক্ত ব্যায়াম কি স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ?

অতিরিক্ত

একটা জিনিস লক্ষ্য করলে দেখবেন বিংশ শতাব্দীতে অধিকাংশ মানুষ স্থুলতার শিকার। এতে নিজের দোষ তো আছে বটেই সাথে সাথে আমাদের বাজারের খাবারেরও দোষ আছে। যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষ স্থুল। এখন অনেকেই এই স্থুলতা থেকে বের হয়ে আসতে চায়। খুব কম সময়ে ওজন কমাতে ব্যস্ত হয়ে যায়। তাই অতিরিক্ত ব্যায়াম করা শুরু করে। আমরা শুনে এসেছি যে যত বেশি ব্যায়াম করে তার স্বাস্থ্য তত ভাল থাকে। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় ভিন্ন ধরণের কথা শনা যাচ্ছে। অতিরিক্ত ব্যায়াম স্বাস্থ্যের জন্য হানীকারক হতে পারে। আসুন জেনে নেই কেন এমন বলা হয়।

দ্যা ল্যানসেট সাইক্রিয়াট্রিতে প্রকাশিত একটা গবেষণায় জানা গেছে, যে সকল মানুষ সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচ দিন শরীরচর্চা করেন তাদের মানসিক অবস্থা, যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন তাদের তুলনায় ভালো থাকে। যারা প্রতিদিন শরীরচর্চা করে তাদের মধ্যে অবসেশন দেখা যায় যা খারাপ মানসিক স্বাস্থ্যের লক্ষণ।

ইউএসের ইয়েল ইউনিভার্সিটির সহ অধ্যাপক অ্যাডাম চেকউর্ড জানান, “আগে মনে করা হত, যত বেশি শরীরচর্চা করা যাবে মানসিক স্বাস্থ্য তত ভালো থাকবে। কিন্তু আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে আসলে তা ঘটে না।”

তিনি আরও জানান, “মাসে ২৩ বারের বেশি শরীরচর্চা করলে বা দিনে ৯০ মিনিটের বেশি শরীরচর্চা করলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পরে।”

গবেষণার জন্য ইউএসের পঞ্চাশটা রাজ্যের বিভিন্ন ধরনের শারীরিক কসরত, শিশুর দেখভাল, বাড়ির কাজকর্ম, বাগান পরিচর্যা, মাছ ধরা, সাইকেল চালানো, জিম করা, দৌড়ানো, স্কিইং ইত্যাদিতে অংশগ্রহণকারী ১.২ মিলিয়ন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে নিয়ে পরীক্ষা করা হয়।

অতিরিক্ত ব্যায়াম কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়

অ্যারোবিক শরীরচর্চা যেমন- সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা এবং দৌড়ানো ইত্যাদি কাজে যদি নিজের কর্মক্ষমতার ঘাটতি দেখতে পান তাহলে বুঝতে হবে অতিরিক্ত পরিশ্রম হচ্ছে। পরিশ্রম খুব বেশি হলে তা মানুষের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

শক্তি কমে যায়

যদি সাধারণ মাত্রায় শরীরচর্চা করতে না পারেন অথবা সবসময় শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত অনুভব করেন তাহলে বুঝতে হবে শরীর ক্লান্ত।

আপনার পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন।

অতিরিক্ত ব্যায়াম মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়

প্রিভেন্টেটিভ মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণার ফলাফল থেকে জানা যায়, সপ্তাহে যদি সাড়ে সাত ঘন্টার চেয়ে বেশি সময় শরীরচর্চা করা হয় তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়া, হতাশা এবং মানসিকভাবে দুর্বল বোধ করতে পারে।

অতিরিক্ত পরিশ্রম করা শরীরকে দ্বিধা, উদ্বেগ, রাগ এবং ‘মুড সুইং’য়ের মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

অতিরিক্ত ব্যায়াম ঘুমের ক্ষতি করে

পরিশ্রম করলে শরীর ঠিক থাকে এবং রাতে ভালো ঘুম হয়। তবে অতিরিক্ত পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা হলে সারা রাত খুব অস্থিরতার মধ্যে কাটে এবং ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে।

অস্থি সন্ধিতে ব্যাথার সৃষ্টি হয়

ব্যায়ামের পর পেশি পুনর্গঠনের জন্য সময় দেওয়া প্রয়োজন। না দিলে শরীরে ব্যাথা হয় যা দৈনন্দিন কাজ কর্মে বাধা তৈরি করে। পাশাপাশি বাজে অনুভূতির সৃষ্টি হয়।

প্রস্রাবের রং পরিবর্তন হয়

শারীরিক পরিশ্রমের পরে যদি প্রস্রাবের রং পরিবর্তন দেখতে পান তাহলে বুঝতে হবে এটা ‘রাহবডোমায়োলাইসিস’ অবস্থার লক্ষণ। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পেশির কোষ রক্তে মিশে যায়।  ফলে কিডনির সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

হৃদপিণ্ডে সমস্যা হতে পারে

জার্মান বিজ্ঞানীদের গবেষণা থেকে জানা গেছে যে, যারা অতিরিক্ত পরিশ্রম করে তাদের হৃদরোগ এবং স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

অনলাইন জার্নাল ‘হার্ট’ -এ প্রকাশিত সুইডিশ বিজ্ঞানীদের এক গবেষণা থেকে জানা যায়, যারা ধ্যানজাতীয় শারীরিক পরিশ্রম করেন তারা বৃদ্ধাবস্থায় হৃদযন্ত্রের অনিয়মিত গতিকে পাঁচ গুণ বেশি উন্নত করতে পারেন।

রজঃচক্রের অনিয়ম ঘটে

অতিরিক্ত পরিশ্রম করা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে রজঃচক্রের অনিয়ম শুরু হতে পারে। যা ‘অমিনোরিয়া’ নামে পরিচিত। এর ফলে ইস্ট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

পরিণতিতে অস্টিওপোরোসিস নামক রোগের সৃষ্টি হয়।

হৃদস্পন্দনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়

হৃদযন্ত্র খুব বেশি চাপে থাকলে এর স্পন্দনের মাত্রা বেড়ে যায়।

সকালে হৃদস্পন্দনের মাত্রা পরিমাপ করা হলে এর পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে পারবেন।

হৃদস্পন্দনের মাত্রা সাধারণের চেয়ে বেশি হলে বুঝতে হবে শারীরিক পরিশ্রম বেশি হচ্ছে।

ওজন কমাতে খাবার না কমিয়ে এই ডায়েট অনুসরণ করুন

ওজন

বর্তমানের যুগে অধিকাংশ মানুষের অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। সব কিছুর জন্য সময় থাকলেও নিজের শরীরের জন্য আমাদের হাতে কোন সময় নেই।  সময় এসেছে এবার ডায়েট বদলানোর। ডায়েট চার্ট বদলানো মানে খাওয়া কমানো নয়। অনেকের মধ্যে একটা ভুল ধারণা রয়েছে যে, খাওয়া বন্ধ করলে বা কম খেলে ওজন কমে যায়। কিন্তু এমনটা একেবারেই ঠিক না। বরং এতে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। পাশাপাশি ওজন অনেক সময় বেড়ে যায়। তাই খাওয়া না কমিয়ে সঠিক ডায়েটের সাহায্যে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন।

ওজন কমাতে সকালের নাস্তা

সকালের নাস্তাটা খুব বিরক্তিকর একটা কাজ। অনেকে তাই সকালের নাস্তা আর দুপুরের খাবার একসাথেই করে ফেলে। যা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। তাই সকালে নিয়মিত ব্রেকফাস্ট করুন। তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন রোজ অল্প সময়ের জন্য হলেও, সবার প্রথমে কিছু এক্সাসাইজ করার চেষ্টা করুন। যোগাসন ভুঁড়ি কমাতে ও ওজন কমাতে খুবই সাহায্যে করে। যাই হোক এরপর সবার প্রথমে অল্প গরমজলে একটা পাতি লেবু হাফ ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খান। তার ৩০ মিনিট পর হেভি ব্রেকফাস্ট করুন। একটা রুটি, এক বাটি সবজি, দুটো ডিম সেদ্ধ কুসুম ছাড়া ও একটি আপেল বা কলা খান। মাঝে মাঝে রুটি সবজির বদলে ব্রাউন ব্রেড ও হালকা বাটার খেতে পারেন। সব সময় মনে রাখবেন সকালের খাবার খুব গুরুত্বপূর্ণ।

দুপুরের খাওয়া

ওজন কমাতে চাইলে পুরনো বাঙালীর মত মাছে ভাতে রসিয়ে খাওয়া ভুলে যান।

স্যালাড খান একবাটি বা একটা রুটি ও একবাটি ডাল। এসব ভালো না লাগলে এক বাটি সবজি খান হালকা তেলে বানানো।

তবে খেয়াল রাখবেন যা খাবেন পেট হালকা রেখে খাবেন না। পেট ভরে খান।

লাঞ্চের এক ঘণ্টা পর যেকোনো ফল একটা খেতে পারেন।

ওজন বাড়ে রাতের খাবারে

রাতের খাওয়া একদম সিম্পল। রাতে একটা রুটি ও সবজি খেতে পারেন। আর তা না হলে এক বড় বাটি ডাল।

লাঞ্চ আর ডিনারের মাঝে খিদে পেলে ফ্রুট স্যালাড অল্প খেতে পারেন। যাই হোক রাতে একদম হালকা খাওয়া।

ওজন কমাতে যে যে বিষয় খেয়াল রাখবেন

  • নিয়ম করে রাতে ৮ ঘণ্টা ঘুমনো খুবই জরুরি।
  • সকালে ব্রেকফাস্টের আগে অবশ্যই ৩০ মিনিট যোগাসন করুন। আপনার শরীরকে ফিট রাখতে যোগাসন সাহায্যে করবে।
  • ভাত, আলু একেবারে খাওয়া চলবে না। ভাত সপ্তাহে একবার এক থেকে দুই চামচ খেতে পারেন। মাছ, শাক সবজি খান প্রচুর পরিমানে। মাংস সপ্তাহে একদিন খান। তবে শুধু মুরগির মাংস। খিদে পেলে ফল খান। নানা রকমের ফ্রুট জুস খান। তবে রাস্তাঘাটের কাটা ফল বা জুস একদম খাবেন না। যা খাবেন বাড়িতে বানিয়ে খাবেন।
  • নিয়ম মত এসব মানলে দেখবেন ওজন কমতে বাধ্য। তবে খেয়াল রাখবেন শরীরে কোন রকম অস্বস্তি দেখা দিলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে তবেই করবেন।
  • খাবার নিয়ন্ত্রণের সাথে সাথে ব্যায়াম করতে ভুলবেন না।

 

 

হিট স্ট্রোক হতে পারে আপনার প্রিয় বন্ধু কুকুরটির

হিট স্ট্রোক

কুকুরের লোম কুকুরকে সুরক্ষিত রাখে। কিন্তু আমাদের মত দেশে কুকুরের অতিরিক্ত লোম অর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। দীর্ঘ কয়েক দশকের মধ্যে এবার সবচেয়ে গরম পড়েছে। একবার ভাবুন আমাদের যদি এমন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা হয় তাহলে ওদের কি হাল হয়। তাই যারা কুকুর পালেন তাদের জন্য এটা জানা খুব জরুরি যে হিট স্ট্রোক- এর লক্ষণ কি কি? কিভাবে তখন কুকুরটিকে বাঁচাবেন? আর কি করে এর প্রতিকার করা যায়? আসুন জেনে নেই।

হিট স্ট্রোক- এর লক্ষণ

  • শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকা
  • মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা পড়া
  • নাক ভেজা থাকা (কুকুরের নাক দিয়ে ঘাম বের হয়)
  • নিল-বেগুনি অথবা উজ্জ্বল লাল রঙের মাড়ি, টিস্যুতে ঠিক মত অক্সিজেন না যাওয়াতে এমনটা হতে পারে।

হিট স্ট্রোক

হিট স্ট্রোক- এ তাৎক্ষণিক চিকিৎসা

  • আপনার কুকুরকে দ্রুত ঠাণ্ডা করুন। সারা শরীরে ঠাণ্ডা পানি দিন। বরফ পানি দেবেন না তাহলে আবার হিতে বিপরীত হতে পারে। দ্রুত করতে গিয়ে আবার কানে যেন পানি না যায় সে দিকে খেয়াল রাখবেন।
  • কুকুরটির সারা শরীর ভেজানোর পর বাতাস করুন। ফ্যান অথবা এসির সাহায্য নিতে পারেন। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে ভেজা কাপড় দিয়ে কুকুরটির শরীর ঢেকে রাখতে পারেন এতে করে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করবে। যেই যানবাহনে যাবেন খেয়াল রাখবেন যেন ঠিক মত বাতাস আসা যাওয়া করতে পারে।
  • যদি আপনার কুকুর পানি পান মত ক্ষমতা রাখে তাহলে বেশি করে পানি পান করান।
  • কুকুরের হিট স্ট্রোক একটি ভয়াবহ সমস্যা। এর কারণে কুকুর ব্রেইন স্ট্রোকও করতে পারে। যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের শরণাপন্ন হউন।

হিট স্ট্রোক- এর প্রতিকার

  • আপনার কুকুরকে কখনই একা গাড়িতে আটকে রাখবেন না। একটি বদ্ধ গাড়ি ৪৫-৫০ ডিগ্রী তাপ উৎপন্ন করতে পারে। এই তাপমাত্রায় আপনার কুকুর ডিহাইড্রেট হতে পারে, হিট স্ট্রোক অথবা ব্রেইন স্ট্রোকের শিকার হতে পারে। কারণ এই অতিরিক্ত তাপ ওর সহ্য হবে না। তাই আপানার গাড়ির বাইরে যেতে হলে আপনার কুকুরটিকে সাথে করে নিয়ে যান। ওরা খুব লক্ষ্মী হয়, আপনাকে এত বিরক্ত করবে না আশা করি।

হিট স্ট্রোক

  • আপনার কুকুরটি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। পানির পাত্র যেন সব সময় পূর্ণ থাকে সেদিকে খেয়াল করুন। পানির পাত্র এমন জায়গায় রাখুন যেখানে তাপমাত্রা কম। কুকুরের একটি বাজে অভ্যাস আছে, এরা পানির পাত্র উল্টে ফেলে। তাই কয়েকটা জায়গায় পানির পাত্র রাখুন।
  • আপনি যখন আপনার কুকুর নিয়ে বাইরে যাবেন তখন ওর জন্য অবশ্যই পানি নিয়ে যাবেন এবং পানি পান করার জন্য একটি পাত্র নেবেন। যত বেশি পানি খাওয়াবেন আপনার কুকুর তত ভাল থাকবে। পানি পান করাতে কখনই কার্পণ্য করবেন না।
  • গরম বেশি হলে সেদিন বেশি খেলাধুলা করবেন না। বাইরের হাঁটতে যাবেন না আপনার কুকুরকে নিয়ে। এই গ্রীষ্ম করলে যত পারেন আপনার কুকুরকে ঠাণ্ডা জায়গায় রাখুন।
  • বেশীক্ষণ পায়ে জুতা অথবা অন্যকিছু পড়াবেন না। কারণ কুকুর পায়ের পাতা, নাক দিয়ে ঘাম বের করে।

 

হার্ট যা খেলে হবে শক্তিশালী, জেনে রাখুন সেই খাদ্য তালিকা

হার্ট

প্রতিদিন সকালে উঠে আমরা হাত-মুখ, দাঁত, চোখ সহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরিষ্কার করি, যত্ন করি। কিন্তু আমাদের শরীরের ভেতরের অঙ্গগুলোর কি কোন যত্ন নেই? হাত-মুখ, দাঁত এর মত হার্ট, কিডনি, ফুসফুসের যত্ন তো নেয়া যাবে না। তাহলে কি করা যায়?

কি করে নেবেন হার্টের যত্ন? কিভাবে হার্টকে শক্তিশালী করবেন? কি খেলে আপনার হার্ট সব সময় ভালো থাকবে? আসুন সব গুলো প্রশ্নের উত্তর জেনে আসি।

সুর্যমুখী তেল বা সুর্যমুখী বীজ

হার্ট

সূর্যমুখী তেল ভিটামিন ই সমৃদ্ধ, যা শরীরের এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে। এটি সরাসরি হৃদরোগ প্রতিরোধ এবং আপনার ইমিউন সিস্টেম বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। যদিও ডাক্তাররা বলেন যেকোনো তেলই শরীরের জন্য ভালো না। হার্টকে ভালো রাখতে হলে খাবারে তেলের পরিমাণ কমিয়ে দিন। এন্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ই সমৃদ্ধ সূর্যমুখী তেল গ্রহণ করলে আপনার ত্বক সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে সুরক্ষিত হবে। হাঁপানি (অ্যাজমা), আর্থ্রাইটিস এর তীব্রতা হ্রাস করতেও সূর্যমুখী তেল বিশেষ ভূমিকা রাখে। 

মাছ

হার্ট

কিছু মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩, যেমন স্যালমন, ম্যাকরেল এবং টুনামাছ। সপ্তাহে অন্তত দুইদিন মাছ রাখুন খাদ্য তালিকায়। নির্দ্বিধায় খাওয়া যাবে ছোট মাছ যেমন- মলা, কাচকি, টাকি, বেলে ইত্যাদি। এছাড়াও বেছে নেওয়া যেতে পারে পাবদা, শিং, কৈ ও মাগুরকে। ইলিশ মাছ বেশি করে খাবেন এতে উপকারী চর্বি ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড বেশি পরিমাণে থাকে। হাইব্রিড মাছগুলো খাওয়া থেকে এড়িয়ে চলুন। যে মাছগুলো বাদ দেবেন- পাঙ্গাস, হাইব্রিড তেলাপিয়া, রুই। গবেষকরা মনে করেন, সামুদ্রিক মাছ হৃৎপিন্ডের সুস্থতা রক্ষায় সহায়ক। নদীর মিঠা পানির বড় মাছের চর্বি বাদ দিয়ে শুধু মাছটুকু খাওয়া যাবে।

সয়াফুড

হার্ট

সয়বিন থেকে তৈরি পণ্যকে সয়া ফুড বা সয়া প্রোডাক্ট বলে । সয়া প্রোডাক্ট যেমন- সয়া দুধ, সয়া বিন, টফু ইত্যাদি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন। এই খাবারগুলো শরীরের থেকে কোলেস্টেরল এবং অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট দূর করে থাকে।

সয়া ফুড কেবল কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে তা নয়, ভাস্কুলার ফাংশন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। তাই খাবার মেন্যুতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সয়াবিন রাখুন। সয়াবিন ভালো করে সেদ্ধ করে খান। কারণ হজমে সাহায্যকারী এনজাইম ট্রিপসিনের কার্যকলাপ কিছুটা ব্যাহত করে সয়াবিন। আঁশ সমৃদ্ধ সয়াবিন হার্টের জন্য খুব ভালো। প্রতি ১০০ গ্রাম সয়াবিনে পাওয়া যায় ৪৩ গ্রাম প্রোটিন।

কাঠবাদাম

হার্ট

কাঠবাদামের মনো স্যাচুরেটেড ফ্যাট, প্রোটিন ও পটাশিয়াম হার্ট ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কাঠবাদামের ভিটামিন ই হার্টের বিভিন্ন রকম রোগ হবার আশঙ্কা দূরে রাখে। কাঠবাদামে উপস্থিত ম্যাগনেসিয়াম হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করে এবং পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। যেমন  অ্যালমন্ড, ছোলা এবং আখরোট ফল।

অলিভ অয়েল

হার্ট

ডায়াবেটিকসের ঝুঁকি কমানো ও ক্যানসার প্রতিরোধের পাশাপাশি দুর্বল হার্টের রোগীদের জন্য অলিভ অয়েল খুবই উপকারী। সম্প্রতি এক গবেষণায় বিষয়টি প্রমাণ করেছেন গবেষকরা। স্বাস্থ্য সাময়িকী সার্কুলেশনে প্রকাশিত নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দুর্বল হার্টের জন্য জ্বালানি হিসেবে প্রয়োজনীয় চর্বির যোগান দেয় অলিভ অয়েল।

সাধারণত একটি হৃদপিণ্ড তার স্বাভাবিক সংকোচন ও প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি নেয় শরীরে জমা চর্বি থেকে। কিন্তু দুর্বল হার্ট এই চর্বি গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে হার্ট শুধু ভালোভাবে কাজ করতে পারে না তা নয়, বরং গ্রহণ করতে না পারা চর্বি জমে হৃদপিন্ডের আর্টারিতে ব্লক বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। অথচ অলিভ অয়েলে আছে ওলিয়েট নামের এক ধরনের উপকারী ফ্যাট যার সহায়তায় দুর্বল হার্ট সহজেই প্রয়োজনীয় চর্বি গ্রহণ করতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় এর সিনিয়র গবেষক ই ডগলাস লিওয়ানডোস্কি বলেন, ওলিয়েট হৃদপিণ্ডের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এমনকি ওই হার্ট যদি আগে থেকেও দুর্বল থাকে তবুও স্বাচ্ছন্দ্যে হৃদপিণ্ডে প্রয়োজনীয় শক্তির যোগান দিতে পারে ওলিয়েট।

শিম

হার্ট

করোনারি হার্ট ডিজিস কমাতে সহায়ক হয়ে ওঠে ম্যাগনেশিয়ামপূর্ণ শিম, শস্য এবং সবুজ পাতাবহুল শাক-সবজি। এসব খাবারে স্ট্রোক এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিস এর ঝুঁকিও কমে আসে। এক গবেষণায় এসব তথ্য দেওয়া হয়। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছিল জার্নাল বিএমসি।

আমলকি

হার্ট

হার্টকে ভালো রাখার জন্য আমলকি সন্দেহাতীতভাবে সবচেয়েভালো ওষুধ হিসেবে কাজ করে।

প্রায় সব ধরনের কার্ডিওভাসকুলার রোগ প্রতিরোধ করার এক অদ্ভূত ক্ষমতা রয়েছে আমলকির।

হলুদ  

হার্ট

হার্টের অসুখে হলুদও কার্যকারী ভূমিকা রাখে। এতে এমন এক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টরয়েছে যা প্রদাহজনিত আক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে।

রসুন

হার্ট

রসুন কার্ডিওভাস্কুলার রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমায় এবং প্রাকৃতিকভাবেই এটা হার্টের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটা শুধু রক্ত চলাচলকেই স্বাভাবিক রাখে না; একইসাথে হার্টকেও সুস্থ রাখে।

আদা

হার্ট

আদা এমন একটি ওষুধি উদ্ভিদ যা রক্তনালীকে বিশ্রাম দেয় এবং রক্ত প্রবাহকে চালু রাখতে সাহায্য করে। হার্টের অসুখের বিরুদ্ধে অ্যান্টি ফ্ল্যামেটরি হিসেবেও যুদ্ধ করে আদা।

বিলবেরি  

হার্ট

এটি ব্ল্যাকবেরির মতোই একটি ফল। এটিও হার্টের জন্য অত্যন্ত উপকারি।

নিয়মিত এ ফল খেলে হার্টের যে কোনো সমস্যার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকা যায়। এমনকি এ ফলটি রক্ত চলাচলকেও সচল থাকে।

 হার্ট ভালো রাখে লাল মরিচ

হার্ট

লাল মরিচ হার্টের সঠিক ওষুধের কাজ করে। এটা হার্টের জন্য পুষ্টিকর খাবারও বটে। কারণ হার্টের জন্যএর প্রভাব কাঁচামরিচ থেকে ভালো।

সবুজ চা

হার্ট

বর্তমান সময়ে হার্টের জন্য সবচেয়ে বেশি ওষুধের কাজ করে সবুজ চা। এটা শুধু রক্তের শিরাকেই সচল রাখে না; শিরাকে রক্ষাও করে। বর্তমান সময়ে হার্টের জন্য সবচেয়ে বেশি ওষুধের কাজ করে সবুজ চা। এটা শুধু রক্তের শিরাকেই সচল রাখে না, শিরাকে রক্ষাও করে। গবেষকদের ধারণা, রক্তনালীর উপর গ্রিন টি’র প্রভাব রয়েছে। নিয়মিত গ্রীন টি গ্রহণ করা হলে রক্তনালী শিথিল হয় এবং রক্তচাপের পরিবর্তন হলেও তা স্বাভাবিক থাকতে পারে। এর ফলে রক্ত জমাট বেঁধে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

হার্ট ভালো রাখে পুদিনা পাতা

হার্ট

এটি হার্টের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। পুদিনা রক্তের শিরায় অক্সিজেন চলাচলে সাহায্য করে। এছাড়া এটি খেলে হার্টেররোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা একদমই থাকে না।

উপরোক্ত খাবারগুলোর সাথে সাথে নিয়মিত কিছু কাজ করতে হবে। এখনই খাতায় লিখে রাখতে পারেন।

নিয়মিত দৌড়ান

ধূমপান ছেড়ে দিন

ওজন কমান

দূষিত বায়ু এড়িয়ে চলুন

মুঠোর ব্যায়াম করুন

শ্বাসের ব্যায়াম করুন  

সময়মতো ঘুমান

কম চর্বি যুক্ত খাবার খান

এনার্জি ড্রিংকস থেকে বিরত থাকুন

গান গান

প্রতিদিন নাচুন

সামাজিক যোগাযোগ বাড়ান

হার্টের সমস্যা শুধু বয়স্ক, মোটা মানুষদের হতে পারে এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন। এই সমস্যা যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে।

তাই রোগ প্রতিকারের আগে প্রতিরোধ করুন। সবাই সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন। সবার আগে যত্ন নিন নিজের।

রমজানে কিভাবে ঠিক রাখবেন নিজের শরীর

রমজান

রমজানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হল ইফতার। সারাদিন আল্লাহ্‌র জন্য ইবাদত করার পর ধর্ম প্রাণ মুসলমানরা এই সময় খাবার গ্রহণ করে। সুতরাং এই সময়ের খাবারটা খুবই পুষ্টিকর হওয়া উচিৎ। সারাদিন না খাওয়ার পর আমরা এমন কিছু খাবার খাই যা আমদের স্বাস্থ্যের জন্য হানিকারক। তাহলে জেনে নিন কোন কোন খাবারগুলো ইফতার বা সেহেরীতে খাওয়া উচিৎ না আর কোন খাবার গুলো খেলে আমাদের স্বাস্থ্য ভাল থাকবে। রোজা রাখতে গিয়ে রমজান মাসে অসুস্থ হলে চলবে না।

রমজান শুরু হলে কি খাবেন আর খাবেন না

রমজান

  • এবার রমজান এসেছে গ্রীষ্মের দাবদাহে। সারা দিন পানি ছাড়া থাকাটা অনেক কঠিন। এই গরমে তাই অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি না খেলে হজমের সমস্যা হবে। ইফতারের পর থেকে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত একটু পরপর পানি খেতে হবে।
  • বেগুনি, পিঁয়াজু, চপ, মাংসের আইটেম, হালিম, বিরিয়ানি এগুলো না খেয়ে বেশি করে ফল খেতে পারেন। যদি ভাজা পুরি খেতেই ইচ্ছে করে তবে কষ্ট করে বাসায় বানানো খাবার খাবেন।

রমজান

  • যে তেলে ভাজা হয় সেই তেল একবারের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। একই তেল বারবার আগুনে ফোটালে কয়েক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য (ট্রান্স ফ্যাট) তৈরি হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তেল বারবার ব্যবহারে পলি নিউক্লিয়ার হাইড্রোকার্বন তৈরি হয়, যার মধ্যে বেনজা পাইরিন নামক রাসায়নিক থেকে ক্যান্সারও হতে পারে। তা ছাড়া অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি খাবারে পেটের অসুখ হয়।

রমজান

  • খেজুর বা খোরমা অবশ্যই খাবেন। এতে আছে শর্করা, চিনি, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, কপার, সালফার, ম্যাঙ্গানিজ, সিলিকন, ক্লোরিন ফাইবার যা সারা দিন রোজা রাখার পর খুবই দরকারি।
  • চিনিযুক্ত খাবার বাদ দিলে ভালো হয়। এটা খুব তাড়াতাড়ি রক্তে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, ওজন বাড়ায়। তাই যথাসম্ভব চিনি ও চিনিযুক্ত খাবার কম খান।
  • সবজি ও ফল খেতে হবে নিয়ম মাফিক। তা না হলে এই সময়ে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে নিত্যসঙ্গী।

রমজান

  • প্রত্যেক বেলা মাংসের আইটেম রাখবেন না। মাছ বেশি খাওয়ার চেষ্টা করুন।
  • সারা দিন রোজা রাখা নাজুক পাকস্থলী ঠিকমতো হজম করতে পারবে এমন খাবার রাখুন। যেমন দই, চিরা, কলা।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য হলে খাদ্য তালিকায় তোকমা বা ইসুবগুলের ভুসি রাখুন।
  • আপনার যদি অনেক বেশি শরীর দুর্বল লাগে তাহলে ইফতারে ডাবের পানি রাখুন। ইফতারের পর স্যালাইন খান।
  • আঁশ সমৃদ্ধ খাবার খান। আপনার হজম শক্তি ভাল থাকবে, কোষ্ঠকাঠিন্য হবে না। আর আপনার রক্তে চিনির মাত্রাও বাড়বে না।
  • কোমল পানীয় ঘুমের সমস্যা, অ্যাসিডিটি, আলসার ইত্যাদির কারণ। তাই এ কোমলপানীয়কে সারা জীবনের জন্য পারলে বাদ দিন।
  • পাকস্থলীতে অধিক উত্তেজনা কিংবা অস্বস্তি সৃষ্টি করে এমন খাবার খাওয়া সঠিক নয়। কারণ গুরুপাক খাবার খেলে শরীরের বিপাকক্রিয়া বেড়ে যায়। অধিক চর্বিজাতীয় খাবার খেলে শরীর অসুস্থ হয়।
  • সেহেরীতে খুব কম বা বেশি খাওয়া উচিৎ না। কম খেলে সারাদিন আপনার দুর্বল লাগবে।

রমজান শুরু হলে শারীরিক ব্যায়াম কি করে করবেন

অনেকেই আমরা নিয়মিত ব্যায়াম করে থাকি। কিন্তু এই রোজার সময়ে আগের মতো ব্যায়াম করা সম্ভব হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলেন কোন ভাবেই রোজা করে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করা ঠিক যাবে না।

তবে শরীর সায় দিলে হালকা ব্যায়াম করা যায় তবে তা অবশ্যই সন্ধ্যার পর, শরীরের উপর চাপ পড়ে এমন কিছু করা যাবে না।

তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হেলথ ইন্সট্রাক্টর মোহাম্মদ ইউনুস বলছেন যারা রোজা করবেন তাদের জন্য নামাজ বিশেষ করে ইফতারির পর রাতে তারাবির নামাজ নিয়মিত আদায় করাটাই বড় ব্যায়াম হতে পারে। এছাড়া ইফতারি বা রাতের খাবারের পর হাঁটা চলাও ব্যায়াম হিসেবে কাজে দেবে।

ঘুম

রমজান

সেহেরীর জন্য আমরা অনেকটা সময় জেগে থাকি। তাই ঘুম যেন পরিপূর্ণ ভাবে হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর কঠিন শারীরিক পরিশ্রম হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

ইফতারের পর বা সেহেরীর পর ধূমপান থেকেও বিরত থাকা উচিত।

রমজান মাস হল সিয়াম সাধনের মাস। যতটুকু পারবেন এই মাসে নিজেকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখুন। পান, সিগারেট, জাঙ্কফুড, কোমল পানীয়, তামাকের মত বাজে জিনিস গুলো বাদ দিয়ে দিন। দেখবেন আপনি কতোটা সুস্থ অনুভব করছেন। ইংরেজি নতুন বর্ষে আমরা যেভাবে নিজেকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করি সেভাবে রমজান মাসও হতে পারে আমাদের পরিবর্তন করার একটি পবিত্র সময়।

সবাই ভাল থাকুন এবং সুস্থ থাকুন।

রোজা রাখলে শারীরিক ভাবে আমরা যেভাবে উপকৃত হই

রোজা

 

আমাদের দেশে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলমান। তাই রমজান মাসে অধিকাংশ মানুষই রোজা রাখেন। রমজান আত্মশুদ্ধি আর সংযমের মাস। রোজা শরীর মনকে যেমন সতেজ রাখে তেমনি অনেক বদ অভ্যাস ত্যাগ করতেও সহায়তা করে। অনেকে বলেন রোজা রাখলে গ্যাসের সমস্যা হয়, শরীর দুর্বল লাগে এছাড়াও নানান ধরণের সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না রোজা অনেক রোগের ঔষধ হিসেবে কাজ করে। যা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত।

রোজা রাখলে ওজন কমে

রোজা
যদি আপনি দ্রুত ওজন কমাতে চান তবে রোজা রাখুন। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন আপনার ধর্মীয় রীতি পালন করাও হবে আর আপনার শরীরের অতিরিক্ত মেদও ঝরে যাবে।

মিষ্টি ও তৈলাক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে দ্রুতই আপনার ওজন কমে যাবে। রোজায় সাধারণত দুই বেলা খাওয়া হয়।

আর এ সময় যদি পরিমাপ মতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়া যায় তবে রোজার মাস শেষ হওয়ার আগেই ওজন কমে যাবে।

কিন্তু আপনি যদি ইফতারের পর ইচ্ছে মত খেতে থাকেন ঘটনা কিন্তু উল্টো হতে পারে।

রোজা কলেস্টরল কমায়

রোজা
রোজার মাসে রোজাদাররা বেশিরভাগ সময়ই বাসার খাবার খেয়ে থাকেন। এটা সত্যি কথা বলতে আমাদের বাধ্য হয়েই করতে হয়।

বাইরের তৈলাক্ত এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকেন। ফলে শরীর কলেস্টরলের মাত্রা ঠিক রেখে বাড়তি কলেস্টরল ঝেড়ে ফেলে।

রোজা ভালো কোলেস্টেরলকে (এইচডিএল) বাড়াতে এবং মন্দ কোলেস্টেরল (এলডিএল) ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে। এর দরুন আমাদের উচ্চ রক্তচাপও নিয়ন্ত্রিত থাকে।

রোজা আমাদের আসক্তি কমায়

রোজা
পবিত্র রোজার মাসে রোজা পালনকারীরা ধূমপান, মদ্যপানের মতো বিভিন্ন আসক্তি থেকে বাধ্য হয়েই দূরে থাকেন। যা আপনার প্রতিদিনের অভ্যসকে ভেঙে দেয়। ফলে সহজেই আপনি এসব আসক্তি দূর করতে পারবেন। এক কথায় আপনার আয়ু কিছুটা বাড়িয়ে দেয়।

ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য রোজা

রোজা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে রোগীদের জন্য এক অন্যতম সুযোগ। এটা তাদের জন্য রহমত স্বরূপ। ডায়াবেটিক রোগীরা সঠিক নিয়মে রোজা রাখলে নানা রকম উপকার পেতে পারেন।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মূল উপায় হল খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, আর রোজা রাখা হতে পারে এক অন্যতম উপায়।

এতে সহজেই খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সহজ ও সুন্দরভাবে করা যায়। যারা ইনসুলিনের উপর নির্ভরশীল নন, তাদের ক্ষেত্রে রোজা রাখা হতে পারে আদর্শ চিকিৎসা ব্যবস্থা।

যারা ইনসুলিন নেন তাদের ক্ষেত্রেও রোজা অবস্থায় ওষুধের মাত্রা কমাতে সহায়ক। শুধু রক্তের গ্লুকোজই নয়, রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণেও রোজা মোক্ষম।

তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন এর ফলে হাইপো-গ্লায়সেমিয়া (শর্করা স্বল্পতা) আবার হয়ে না যায়।

পেপটিক আলসার

রোজা
এক সময় ধারণা ছিল পেপটিক আলসারে আক্রান্ত রোগীরা রোজা রাখতে পারবেন না, তাদের ঘনঘন খাওয়া খেতে হবে। অনেকক্ষন পেট খালি রাখা যাবে না। অনেকে মনে করেন রোজা পেপটিক আলসারের ক্ষতি করে এবং এসিডের মাত্রা বাড়ায়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এসব ধারণা ঠিক নয়। রোজায় নিয়ন্ত্রিত খাওয়া দাওয়ার ফলে এসিডের মাত্রা কমে যায়। তাই সঠিকভাবে রোজা রাখলে এবং সঠিক খাবার দিয়ে সেহেরী ও ইফতার করলে রোজা বরং আলসারের উপশম কম করে। অনেক সময় আলসার ভাল হয়ে যায়। এছাড়া রোজা গ্যাস্ট্রিইটিস, আইবিএস ইত্যাদি রোগের জন্যও  উপকারী।

শ্বাসকষ্ট ও এজমা রোগী

রোজা
যারা এই সমস্ত রোগে ভোগেন, তাদেরও রোজা রাখতে কোন অসুবিধা নেই। রোজায় এ ধরণের রোগ সাধারণত বৃদ্ধি পায় না। বরং চিন্তামুক্ত থাকায় এবং আল্লাহর প্রতি সরাসরি আত্মসর্মপনের ফলে এ রাগের প্রকোপ কমই থাকে। প্রয়োজনে রাতে একবার বা দুইবার ওষুধ খেয়ে নিবেন যা দীর্ঘক্ষণ শ্বাস নিয়ন্ত্রণে রাখে। এ ধরণের ওষুধ বাজারে সহজেই পাওয়া যায়। দিনের বেলায় প্রয়োজন পরলে ইনহেলার জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যায়, যা রোজার কোন ক্ষতি করবে না।

চর্মরোগরোজা

রোজা চর্ম রোগীদের জন্য ও বেশ কার্যকর, আর এটি হয়ে থাকে শরীর থেকে বিষাক্ত বর্জ বেরিয়ে যাওয়া এবং রক্ত পরিশুদ্ধু হবার ফলে।

এই হলো মোটামুটি বৈজ্ঞানিক কিংবা চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টির আলোকে রোজার উপকারিতা।

রোজা মানে কিন্তু শুধু খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে রাখা না সবকিছুকেই নিয়ন্ত্রণ করা।তার মানে এই সময়টাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময় যখন আপনি আপনার চরিত্রের অনেক কিছু চাইলে পরিবর্তন করতে পারবেন।

আর ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে রোযার উপকারিতা কি তা বলা খুব সহজ।

তাহলো এটি- ইসলামের ৫ টা স্তম্ভের মধ্যে এর অবস্থান ৩য়, তার মানে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ আর এটা একটা ইবাদত যার ফলে মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনও খুব ভালো ভাবে করা সম্ভব।