শিশু স্বাস্থ্য হারাতে পারে যে সকল শীতকালীন রোগে

শিশু

আমাদের দেশের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ। জীবন ধারণের জন্য অনেক জনপ্রিয় এই আবহাওয়া।

গ্রীনহাউস এফেক্ট আর বৈশ্বিক পরিবর্তন আমাদের প্রকৃতি নষ্ট করছে।

এই জন্য একদিকে আমাদের দেশের গরমকালে তাপমাত্রা অনেক বেড়েছে আবার অন্য দিকে বেড়েছে শীতের প্রকোপ।

তাপমাত্রার এমন আকস্মিক উঠানামার কারণে দেখা দিচ্ছে নানান ধরণের রোগ। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু।

শীতের মৌসুমে এমন কিছু রোগ আছে যেগুলো একটি শিশুকে সারা জীবন ভোগাতে পারে। সাবধানতা অবলম্বন করলে বেঁচে যেতে পারে আপনার ছোট্ট মানিক।

আসুন জেনে নেই রোগগুলোর সম্পর্কে।

নিউমোনিয়া

শিশুর জন্য ভয়ংকর এক রোগের নাম নিউমোনিয়া। এই রোগে এখন পর্যন্ত অনেক শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

নিউমোনিয়া হলে ফুসফুস ফুলে ওঠে এবং ফুসফুসের ভিতর তরল পদার্থ জমা হয় যার ফলে বাচ্চারা একটানা কাশিতে ভুগতে পারে, এমন কি শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়াও আশ্চর্য নয়।

নিউমোনিয়া কি সেই সম্পরকেই জানেনা অনেকে। ঠাণ্ডা থেকেই হয় এই রোগটি। তাই মাকে অবশ্যই শীতকালে অনেক বেশি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

বাচ্চা যেন প্রস্রাবে ঘুমিয়ে না থাকে, জামা কাপড় যেন সব সময় শুষ্ক থাকে। এই সব দিকে খেয়াল রাখতে হবে। ভুলেও যেন বাচ্চার মাথায় কুয়াশা না লাগে।

শিশুর হাঁচি কাশি বেশি দিন স্থায়ি হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে।

যদি দেখেন অতিরিক্ত সর্দির জন্য শিশু স্তন্য পান করতে পারছে না তাহলে যত জলদি পারেন ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন বের হয়েছে। এই ভ্যাকসিন দিলে শিশুর নিউমোনিয়া আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।

এই রোগ ছোঁয়াচে সুতরাং শিশুকে সাবধানে রাখবেন।

ব্রংকিওলাইটিস

ব্রংকিওলাইটিস শিশুদের ফুসফুসের একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যাতে আক্রান্ত শিশুরা ভয়ানক কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভোগে। সাধারণত ২ বছরের কম বয়সী শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়।

কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশু এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করলেও এই রোগ হতে পারে। নবজাতক কে কখনই স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে রাখা ঠিক নয়।

প্রাথমিক ভাবে হালকা জ্বর, হাঁচি কাশি আর সর্দি থাকতে পারে। আক্রান্ত শিশুরা অতিরিক্ত কান্নাকাটি করে, অস্থির থাকে।

শ্বাসকষ্টের জন্য তাদের খেতে ও ঘুমাতে সমস্যা হতে পারে। কারও কারও দ্রুত শ্বাসের সঙ্গে হৃদ স্পন্দন বেড়ে যায়।

উপসর্গ দেখেই এই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। রক্ত পরীক্ষা এবং বুকের এক্স-রে রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করে।

জরুরী ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি করুন।

এজমা অথবা হাঁপানি

হাঁপানি রোগটি সহজে নির্ণয় করা যায় না। এর তীব্রতা যখন বেড়ে যায় তখন বোঝা যায়।

সময় মতো নিরাময় না করলে সারা জীবন ভুগতে হয় এই রোগে। কিন্তু নির্ণয় করা অনেক সহজ।

শিশু যখন শ্বাস প্রশ্বাস নেয় তখন অনেক কষ্ট হয়, বুকে কান রাখলে বাঁশির মতো আওয়াজ শোনা যায়। শ্বাস নেয়ার সময় বুক একদম দেবে যায়।

কিছু খাবারে এলার্জি দেখা যায়। খুসখুসে কাশি থাকে। এই উপসর্গ দেখা দিলেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন। নয়তবা আপনার অসাবধানতার জন্য শিশুটির সারা জীবন এই রোগ বহন  করে চলতে হবে।

হাম

হাম এক অত্যন্ত সংক্রামক রোগ আর এটা ছড়ায় যে কোনও সংক্রমিত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে। শুরুর দিকে সর্দিকাশি আর জ্বর থাকে।

দুদিনের মাথায় দেখা দেয় অন্যান্য সমস্যা যেমন শ্বাসনালীর বন্ধ হয়ে আসা মানে ব্রঙ্কাইটিস, ফুসফুসে সংক্রমণ মানে ব্রোঙ্কিওলাইটিস, কানের সংক্রমণ বা বাচ্চাদের গলা ফুলে যাওয়ার মত উপসর্গ।

আপনার শিশুর হাম হলে তাকে অন্য বাচ্চাদের সাথে মেশা থেকে বিরত রাখুন নাহলে অন্যরাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

চিকেন পক্স

চিকেন পক্স বাচ্চাদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়। সারা গায়ে দেখা দেয় পক্সের দানা যেগুলো বিশ্রী রকমের চুলকানির উৎস হয়ে দাঁড়ায়।

পক্সের সময় হালকা ফ্লুয়ের লক্ষণও দেখা দেয়।

জ্বর আসে গায়ে। জ্বরের মাত্রা তীব্র হতে পারে। ভয় পাবার কারণ নেই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

তবে আশার কথা এই যে শিশুদের একবার চিকেন পক্স হয়ে গেলে ভবিষ্যতে ফের এই রোগের পাল্লায় পড়ার সম্ভাবনা বেশ কম।

এ রোগ হলে আপনার বাচ্চাকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। আপনাকে অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে কারণ এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ।

আপনার শিশুর কোন খেলার সঙ্গীর পক্স হলে তার হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সুতরাং আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে এসব বিষয়ে।

চর্ম রোগ

শীত এলে শিশুর ত্বকে চর্ম রোগ হতে পারে। শীতের শুষ্ক বাতাসে নানা ধরণের রোগ জীবাণু ঘুরে বেরায়।

খেলায় মত্ত থাকা আপনার বাচ্চাকে সব সময় পরিষ্কার করে রাখাটা হয়তো খুব কষ্টকর। কিন্তু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবে বিভিন্ন ধরণের চর্মরোগ হয়।

আর একটি রোগ আছে যার নাম আমরা প্রায় সবাই জানি।

রোগটি হচ্ছে স্কেবিস। বাংলায় খুজলি পাঁচড়াও বলে থাকেন অনেকেই।

এটির সঙ্গে যদিও সরাসরি শীতের বা বাতাসের আর্দ্রতার কোনো সম্পর্কের কথা জানা যায় না তবুও দেখা গেছে এ রোগটি শীত এলেই ব্যাপক আকারে দেখা দেয়।

বিশেষ করে শিশুরা এতে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হতে থাকে।

শীতকালে যেহেতু এক বিছানায় একত্রে অনেকেই চাপাচাপি করে শোয় সে কারণে রোগটি এ সময়ে ব্যাপকভাবে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারে।

এ রোগটি আমাদের দেশের গরিব শ্রেণীর মধ্যে বেশি হতে দেখা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যে সব শিশু স্কুলে যায় তারাই এতে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

এটি একটি জীবাণুবাহিত রোগ। যে কীটটি দিয়ে এ রোগটি হয় তার নাম হচ্ছে স্কেবিয়াইসারকপটিস স্কেরিবাই।

এক্ষেত্রে শরীরে অসম্ভব রকম চুলকানি হতে দেখা যায় এবং রাতে চুলকানির তীব্রতা আরো বাড়ে।

ডাক্তারের পরামর্শে ক্রিম ব্যবহার করলে সহজেই পরিত্রাণ পেতে পারেন।

মুখের দুর্গন্ধ দিয়ে অবহেলা নয়, এর মাধ্যমে অনেক রোগ ধরা যায়

দুর্গন্ধ

মুখে দুর্গন্ধ নিয়ে আমরা অনেকেই বিভিন্ন বিব্রতকর অবস্থায় পড়ি। দেখা যায় অনেক সময় আপনি ঠিক মত ব্রাশ করেও মখে দুর্গন্ধ পাচ্ছেন। এমন অবস্থায় অন্যের সাথে কথা বলতেও ভয় লাগে এই বুঝি আমরা মুখের দুর্গন্ধ পাবে!

আপনি কি জানেন মুখের দুর্গন্ধ শুধু দাঁতের কারণে হয় না। অনেক সময় মুখের গন্ধ দিয়ে শারীরিক অসুস্থতা ধরা পড়ে।

যদি মুখের দুর্গন্ধ কিছুটা প্রসাবের মতো গন্ধ হতে থাকে তাহলে সতর্ক হয়ে যান। কারণ এই ধরনের দুর্গন্ধ বলে দেয় আপনার টাইপ-১ ডায়বেটিসের সমস্যা হয়েছে।

এই গন্ধের মূল কারণ হচ্ছে ডায়বেটিসের কারণে দেহে ইনসুলিনের অভাব।

আপনার নিঃশ্বাসে যদি দুর্গন্ধ পান তাহলে বুঝে নেবেন আপনার সাইনাসে সমস্যা রয়েছে।

এর কারণ হচ্ছে নাকে ও গলায় মিউকাস জমে থাকা।

টক দুধের মতো টক টক ধরনের গন্ধ পান আপনার নিঃশ্বাসে আপনার খাবারে প্রোটিনের মাত্রা অতিরিক্ত বেশি হয়েছে।

এর কারণ হচ্ছে কিটোনের ভাঙন।

যদি আপনার নিঃশ্বাসে পচে যাওয়া মাংসের মতো দুর্গন্ধ পান তাহলে বুঝে নেবেন আপনার টনসিলের সমস্যা হয়েছে।

টনসিলের কারণে সালফার উৎপন্নকারী ব্যাকটেরিয়া অধিক জন্ম নিচ্ছে যার কারণেই নিঃশ্বাসে এই ধরনের দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে।

আপনার নিঃশ্বাসে দিনের প্রত্যেকটা সময় যদি সকালে ঘুম থেকে উঠার পর যেমন গন্ধ থাকে তেমন গন্ধ পান তাহলে আপনার মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে।

মুখে ভেতরের স্যালিভা বা লালা শুকিয়ে গেলে ব্যাকটেরিয়া উৎপন্ন হতে থাকে যা এই ধরনের দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে।

যদি আপনার নিঃশ্বাসে আঁশটে গন্ধ হয় তাহলে বুঝে নেবেন আপনার কিডনি সমস্যা হয়েছে।

কিডনিতে সমস্যা হলে এবং কিডনি সঠিকভাবে কাজ না করলে নাইট্রোজেন উৎপন্ন হয় যা এই ধরনের দুর্গন্ধের জন্য দায়ী।

খুবই বাজে ধরনের দুর্গন্ধ এবং বাথরুমের মতো গন্ধ পেলে বুঝে নেবেন আপনার মাড়িতে ইনফেকশন হয়েছে।

সুতরাং সাবধান। শারীরিক সমস্যা যদি বুঝে নিতে পারেন নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ থেকে, তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

দিনে অবশ্যই দুইবার সঠিক পদ্ধতিতে দাঁত ব্রাশ করুন। মাউথ ওয়াশ এবং ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করুন। যদি সম্ভব হয় প্রতিবার খাবার গ্রহণের পড়ে দাঁত ব্রাশ করুন।

নিয়মিত দাঁত, মাড়ি, জিহ্বা পরিষ্কার করুন

পর্যাপ্ত পানি পান

নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করা শরীরের জন্য শুধু উপকারীই না, এটা প্রয়োজনীয়। শুকনো মুখেই ব্যাকটেরিয়াগুলো বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

আর পানি খেলে গন্ধযুক্ত বিশেষ সালফার যৌগ অনেকটাই পানিতে মিশে যায়। ফলে গন্ধও কমে।

তাজা সবজি ও ফল খান

মৌসুমি তাজা ফল ও সবজি জুস করে না খেয়ে চিবিয়ে খান। এতে শরীরে যেমন প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান হবে তেমনি তা মুখের গন্ধও দূর করবে।

ফল-সবজি খেলে মুখে লালার প্রবাহ বাড়ে বলে মুখ ভেজা থাকে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দুর্বল হয়ে যায়।

কফি খাওয়া কমান

বেশি বেশি কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সেটা কমান। কফি জিহ্বার ওপর প্রলেপ ফেলে দেয় যা অক্সিজেনের চলাচল বন্ধ করে দেয়।

এটা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ক্যাফেইন প্রয়োজন হলে আপনি চা পান করুন।

চিনিহীন চুইংগাম

মুখের গন্ধ থেকে বাঁচতে তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে চুইং গাম চিবাতে পারেন। মুখের ভেতরটা ভেজা রেখে লালার প্রবাহ চালু রাখতে সাহায্য করবে এটা।

তবে, চিনি আছে এমন মিন্টজাতীয় গাম না চিবানোই ভালো।

কারণ চিনি দাঁতে লেগে থাকলে তা আপনার এনামেল ক্ষয় করবে।

দই খান

বেশীর ভাগ মানুষের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, দিনে একবার কিছুটা দই খাওয়া হজমে সহায়ক এবং তা মুখ থেকে এমন গন্ধ দূর করতেও সাহায্য করে।

মুখের এমন ব্যাকটেরিয়া দূর করতেও খুবই সহায়ক দই।

ভিটামিন প্রয়োজন

ভিটামিন-ডি মুখের এমন ব্যাকটেরিয়ার জন্য ক্ষতিকর। দুধ ও দুধজাতীয় খাবারে ভিটামিন-ডি আছে আর সূর্যালোক তো আছেই। ভিটামিন-সির পর্যাপ্ত জোগানও আপনার মুখ সতেজ রাখবে।

আর এ দুটো ভিটামিন মুখে গন্ধের সমস্যার পাশাপাশি আপনার মুখের অন্যান্য রোগ প্রতিরোধেও প্রয়োজনীয়।

আপনার যদি এসিডিটি থাকে তবে ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেল মশলাযুক্ত খাবার খাবেন না, রাতে ঘুমানোর দুই ঘন্টা আগে খাবার খাবেন, রাতে ঘুমানোর আগে হাঁটাহাঁটি করবেন।

তামাক বর্জন করুন

সিগারেটই হোক বা জর্দা দেওয়া পান। যেকোনো তামাকজাতীয় দ্রব্য সেবন মুখে গন্ধসহ অনেক ধরনের রোগ হতে পারে। ফলে, এমন অভ্যাস থাকলে সেটা ত্যাগ করুন।

 

মস্তিষ্কের সজীবতা ধরে রাখতে গড়ে তলুন ৭ টি অভ্যাস

মস্তিষ্কের

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা শুধু বয়স বাড়লেই কমে না আপনি যদি মস্তিষ্কের সঠিক যত্ন না করেন তখনও এমনটা হতে পারে। মাঝ বয়সেও এমনটা হতে পারে অনেকের শেষ বয়স পর্যন্ত মস্তিস্ক প্রখর থাকে। মস্তিষ্কের কোষ সজীব রাখার কিছু অজানা কিন্তু সহজ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব। আশা করি আপনারা উপকৃত হবেন।

ফলের তালিকায় রাখুন জাম এবং স্ট্রবেরি

প্রথমেই আপনাদের মাথায় এসেছে জাম তো সব সময় পাওয়া যায় না। আর স্ট্রবেরিও।

কিন্তু যখন এই মৌসুমি ফল গুলো হাতের নাগালে থাকে তখন কি আমরা ঠিক মতো খাই?

জামে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বা ফ্ল্যাভানওয়েডস মস্তিষ্কের কোষগুলোকে রক্ষা করে। ফলে ভুলে যাওয়ার সমস্যা থেকে রেহাই মেলে।

ঘরের কাজে হাত লাগান

সারাদিন আলসেমি করে কাটাবেন না। এতে করে আপনার মস্তিস্ক কার্যক্ষমতা হারাতে থাকে। তাই ঘরের ছোটখাটো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।

যেমন- ঘর গোছানো, রান্নাবান্না করা, বাসন ধোয়া ইত্যাদি।

লুডু, দাবা খেলেও কাটাতে পারেন অবসর সময়। মস্তিষ্ক সতেজ থাকলে অ্যালজ়াইমারের আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যায়।

নতুন ভাষা শিখুন

নতুন কিছু শেখার প্রতি আগ্রহী হন। নিজের ভাষার সাথে সাথে অন্য একটা ভাষাকেও করতে পারেন আপনার দ্বিতীয় ভাষা।

এক কথায় মস্তিষ্ককে সব সময় কাজে লাগান। জানেন তো অলস মস্তিস্ক শয়তানের বন্ধু।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার জন্য নিয়মিত ভাবুন

প্রতিদিন দিনশেষে সারাদিনে কী কী করেছেন তা ধারাবাহিকভাবে মনে করার চেষ্টা করুন। মোটেও লিখে রাখবেন না।

মস্তিস্কে সব মেমোরি জমা করে রাখুন। প্রয়োজনে আধা ঘণ্টার জন্য নিরিবিলি কোথাও চলে যান। এরপর ভাবুন। এটা প্রতিদিন করুন। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়বে।

রাগ করা চলবে না

রাগ মানুষের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। আপনি যদি বদ মেজাজি হয়ে থাকেন তাহলে আপনার মেজাজকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন। রাগ কখনই ভালো কিছু এনে দেয় না এটা সব সময় মনে রাখবেন। অতিরিক্ত রাগ কিন্তু হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

যতটা সম্ভব রাগ, পারিবারিক কলহ এড়িয়ে চলুন। এমন পরিস্থিতি দেখলে ওই স্থান থেকে প্রয়োজনে কিছু সময়ের জন্য বাইরে চলে যান।

ধর্ম নিয়ে চিন্তা করুন

ধর্মীয় বিভিন্ন রীতিনীতি পালনেও মস্তিষ্ক শীতল হয়। কর্মক্ষমতা বাড়ে।

মুসলমানরা নামাজের সময় যখন সিজদায় যায় তখন মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। এতে স্মৃতিশক্তি ভালো থাকাসহ ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।

ধর্মীয় নিয়ম গুলো পালন করা একধরণের মেডিটেশন। সকল ধর্মে মানুষ যখন সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করে একনিষ্ঠভাবে প্রার্থনা-পূজা-অর্চনা করে, তখন তা মেডিটেশনের কাজ করে।

এতে মস্তিষ্ক শীতল হয় ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে।

ব্যায়াম

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কেও রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে মস্তিষ্কের কোষগুলো সতেজ থাকে। স্মৃতিশক্তিও ভালো থাকে। সকালে উঠেই ব্যায়াম করতে হবে এমন নয়। আপনার যখন সুবিধা হয় তখন করবেন।

চির সবুজ থাকতে চান? এই খাবার গুলো তাহলে আপনার জন্য।

চির

চেহারার লাবণ্যতা ধরে রাখার জন্য আপনি হয়তো বিউটি সেলুনের শরণাপন্ন হন। অনেক ধরণের বিউটি প্রডাক্টস কেনেন এবং নিজের চেহারায় প্রয়োগ করেন। কিন্তু উপকার পাচ্ছেন না। পেলেও তা ক্ষণস্থায়ী।

যদি নিজের যৌবন ধরে রাখতে চান আর বেঁচে থাকতে চান সুন্দর ত্বক নিয়ে তাহলে আপনাকে খেতে হবে কিছু খাবার যা আপনাকে ভেতর থেকে সুন্দর করে তুলবে।

চির যৌবন চাইলে খেতে হবে ডিম

চির

ডিম সিদ্ধ হোক কিংবা ভাজি, সব ভাবেই ডিম শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার। ডিমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-৫ ও বি-৬ আছে যা শরীরের হরমোনের কার্যক্রম ঠিক রাখে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

প্রতিদিনের সকালের নাস্তায় একটি করে ডিম রাখুন। ডিম খেলে অনেকক্ষণ ক্ষুধা লাগে না।

এতে আপনার শরীর শক্তি পাবে এবং যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

লাবণ্যতা ধরে রাখে মধু

চির

মধুর রয়েছে অসংখ্য উপকারিতা।

সকালে খালি পেটে জিহ্বা দ্বারা মধু চেটে খেলে কফ দূর হয়, পাকস্থলী পরিস্কার হয়, দেহের অতিরিক্ত দূষিত পদার্থ বের হয়, গ্রন্থ খুলে দেয়, পাকস্থলী স্বাভাবিক হয়ে যায়, মস্তিস্ক শক্তি লাভ করে, স্বাভাবিক তাপে শক্তি আসে, জ্যোতি শক্তি বৃদ্ধি হয়, মূত্রথলির পাথর দূর করে, প্রস্রাব স্বাভাবিক হয়, গ্যাস নির্গত হয় ও ক্ষুধা বাড়ায়।

প্যারালাইসিসের জন্যও মধু উপকারী। মধু হল হাজারো রকম ফুল ও দানার নির্যাস। দুনিয়ার সকল গবেষকগণ একত্রিত হয়ে এমন নির্যাস প্রস্তুত করতে চাইলেও কখনো বানাতে পারবে কিনা এ বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে দুধ

যৌবন ধরে রাখতে দুধের ভূমিকা অতুলনীয়। বিশেষ করে শরীরের পেশী বৃদ্ধিতে দুধের তুলনা হয়না। চেহারায় লাল বর্ণ তৈরী করে, দেহের অপ্রয়োজনীয় দূষিত পদার্থ বের করে দেয় এবং মস্তিস্ক শক্তিশালী করে।

বাদাম ও বিভিন্ন বীজ

চির

কুমড়ার বীজ, সূর্যমূখীর বীজ, চিনা বাদাম, কাজু বাদাম, পেস্তা বাদাম ইত্যাদিতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে এবং এগুলো শরীরে উপকারী কোলেস্টেরল তৈরী করে।

শরীরের হরমোনগুলো ঠিক মতো কাজ করার জন্য এই কোলেস্টেরল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই প্রতিদিন অল্প করে হলেও বাদাম খাওয়ার চেষ্টা করুন।

এতে আপনার শারীরিক ও মানসিক ভালো স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। এই বীজগুলো মস্তিস্ক বিকাশে সাহায্য করে।

চিনি ছাড়া চা

চির

প্রতিদিন দুধ-চিনি ছাড়া চা পান করলে শরীরে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়।

চা ব্রেইন কে সচল করে, রক্ত চলাচল বাড়ায় ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।

প্রতিদিন অন্তত তিন থেকে ৫ কাপ পর্যন্ত চিনি ছাড়া সবুজ চা বা রঙ চা খেলে শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং শরীরের ওজন কিছুটা হলেও কমে যায়।

রঙিন ফল

চির

শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চাইলে প্রতিদিন খাবার তালিকায় রঙিন ফলমূল রাখুন।

আঙ্গুর, কলা, কমলা লেবু, তরমুজ, পিচ ইত্যাদি ফল যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপকারী।

ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাসের মেডিকেল টিমের গবেষণা অনুযায়ী একজন পুরুষের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় অন্তত ২০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকলে তার স্পার্মের কোয়ালিটি উন্নত হয়।

আবার টেক্সাসের A&M ইউনিভার্সিটির মতে তরমুজ শরীরে শারীরিক উদ্দীপনা বৃদ্ধি করে। শরীরে আনে কর্ম উদ্দীপনা।

রসুন

এতে রোগ নিরাময় হয়। রসুনে অনেক উপকারিতা রয়েছে।

রসুন ফোড়া ভালো করে, ঋতুস্রাব চালু করে, প্রস্রাব স্বাভাবিক করে, পাকস্থলী থেকে গ্যাস নির্গত করে, নিস্তেজ লোকদের মধ্যে শারীরিক ক্ষমতা সৃষ্টি করে, পাকস্থলীর ব্যাথা উপকার সাধন করে।

এ্যাজমা এবং কাঁপুনি রোগেও উপকার সাধন করে। তবে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অধিক রসুন ব্যবহার ক্ষতিকর।

এই রসুনকে আবে হায়াত বলেও আখ্যা দেয়া হয়।

তৈলাক্ত মাছ

চির

তৈলাক্ত মাছে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যা সুস্থ শারীরিক জীবনের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সামুদ্রিক মাছেও প্রচুর পরিমাণে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড থাকে।

ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড DHA O EPA শরীরে ডোপামিন বাড়িয়ে দেয় এবং মস্তিষ্কে উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে।

তৈলাক্ত ও সামুদ্রিক মাছ খেলে শরীরের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং গ্রোথ হরমোনের নিঃসরণ হয়। ফলে শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

পালং শাক ও অন্যান্য সবজি

পালং শাকে আছে প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম। ম্যাগনেসিয়াম শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে।

জাপানের গবেষকদের মতে শরীরে রক্ত চলাচল বাড়লে শারীরিক উদ্দীপনাও বাড়ে।

পালং শাক ও অন্যান্য বিভিন্ন রকম শাক, ব্রকলি, লেটুস, ফুলকপি, বাঁধাকপি এগুলোতে রয়েছে ফলেট, ভিটামিন বি সহ অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

এগুলো সুস্থ শারীরিক জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিছু উপাদান।

জিরা

জিরাতে থাকা আয়রন রক্তস্রোতে অক্সিজেন বহনকারী হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।

এছাড়া জিরা পানি আয়রনের অভাবজনিত রক্তশূন্যতার জন্য বেশ উপকারী।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের বেশি করে জিরা খাওয়া দরকার।

মসলাটি শুধু তাদের ডায়েটকে নিয়ন্ত্রণে রাখে না, একইসাথে রক্তে চিনির পরিমাণও কমিয়ে দেয়।

লাল লাল ফুসকুড়ি, ব্রণ ইত্যাদি শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দেওয়ার জন্য হয়।

বিপাক ক্রিয়ার মাধ্যমে শরীর থেকে দূষিত পদার্থগুলো বের হয়ে গেলে ত্বকের উপর এর প্রভাব কমে আসে।

জিরা পাচনতন্ত্রের যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে ত্বকের সুরক্ষাও দিয়ে থাকে।

চির

কালো জিরা

ডায়াবেটিকস রোগিরা এক চিমটি পরিমাণ কালোজিরা এক  গ্লাস পানির সঙ্গে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেয়ে দেখুন।

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে একসময় ডায়াবেটিকস কমে যাবে।

নিয়মিত কালোজিরা খান। এটি মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয়।

যার দরুন স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়। এর সঙ্গে এটি প্রাণশক্তি বাড়ায় ও ক্লান্তি দুর করে।

স্নায়ুবিক দুর্বলতায় আক্রান্ত রোগীদের জন্যও অতি উৎকৃষ্ট ঔষুধ।

 

পিরিয়ড নিয়ে লজ্জা নয়, বাঁচতে হলে জানতে হয়

পিরিয়ড

একটি মেয়ের জীবনে পিরিয়ড সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।

সাধারণত ৯ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে এটি শুরু হয়ে ৪৫-৫০ বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ী থাকে।

সৃষ্টির প্রথম মানবী থেকে শুরু হয়ে বর্তমানকাল পর্যন্ত সব নারীর এই পিরিয়ড একটি স্বাভাবিক জীবনের অংশ হওয়া সত্ত্বেও এ নিয়ে মানুষের ভুল ধারণার শেষ নেই।

আজকে জেনে নেই পিরিয়ড সংক্রান্ত কিছু ভুল ধারণা

  • অনেকেই ডাক্তারের কাছে আসে খুব অল্প রক্তক্ষরণ সমস্যা নিয়ে। কিন্তু মনে রাখবেন,  পিরিয়ডে রক্তের পরিমাণ নারী ভেদে ভিন্ন। কালচে কয়েক ফোঁটা থেকে শুরু করে গাঢ় লাল হতে পারে। ২০-৬০ মিলি অর্থাৎ ৪-২০ চামচ পর্যন্ত রক্ত যাওয়া স্বাভাবিক।
  • পিরিয়ডের সময় টক-জাতীয় খাবার খেলে বেশি ব্লিডিং হয়। সম্পূর্ণ ভুল ধারণা, এ সময় স্বাভাবিক সব খাবার খাওয়া যাবে। পটাসিয়াম যুক্ত খাবার, আয়রন যুক্ত খাবার এই সময় খাওয়া ভালো। ফল শাকসবজি বেশি করে খাবেন।
  •  পিরিয়ডের সময় হরমোনের পরিবর্তন হয়, ফলে কাজ করতে ইচ্ছে করে না, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, এটা স্বাভাবিক। পিরিয়ড হলে কাজ করা যাবে না এটি একটি ভুল ধারণা। পিরিয়ড একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটি কোনো রোগ নয়। এ সময় স্বাভাবিক সব কাজকর্ম করা যাবে। কিন্তু যাদের ব্যথা বেশি হয় তাদের বিশ্রাম নিতে হবে।

পিরিয়ড

  • অনেকে চিকিৎসকের কাছে আসে মাত্র দুদিন পিরিয়ড থাকে এ জন্য ওজন বেড়ে যাচ্ছে। মনে রাখতে হবে পিরিয়ড দুই থেকে সাত দিন স্থায়ী হয়ে থাকে। নিয়মিত নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর হওয়াটা জরুরি। দুদিন থাকলেই দৈহিক ওজন বেড়ে যাবে এটি মোটেই ঠিক নয়।

কিছু স্বাভাবিক সমস্যা

পিরিয়ডের সময়ে দেহে হরমোনাল পরিবর্তন ঘটে।

ফলে এই সময় মাথাব্যথা, তলপেটে ব্যথা,  বমি ভাব, খাওয়ায় অরুচি, পায়ের মাংসপেশিতে ব্যথা ও সাময়িক বিষণ্নতা খুব স্বাভাবিক। এসব সমস্যায় খুব বেশি বিচলিত না হয়ে চিকিৎসকের  পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করলেই চলবে।

যে সমস্যা গুলোতে অবশ্যই আমাদের চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে


পিরিয়ড নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবে তিন ধরনের পরিস্থিতিতে
অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ,  এটি তিন ধরনের হতে পারে-
ক) অতিরিক্ত রক্তস্রাব
খ) রক্ত না যাওয়া
গ) পিরিয়ডের মধ্যবর্তী সময় রক্ত যাওয়া
ঘ) অত্যন্ত ব্যথাপূর্ণ পিরিয়ড
ঙ) পিরিয়ড শুরুকালীন সমস্যা

এ সমস্যাগুলো একটু বিস্তারিত জানা দরকার

স্বাভাবিক পরিমাণের চেয়ে ১০-২৫ গুণ বেশি হলেই তাকে অতিরিক্ত বলতে হবে।
এ ধরনের রক্ত যাওয়া মাসিক শুরু ও শেষ হওয়ার সময় কমন। তবে এ ছাড়া অন্য সময় হলে অবশ্যই গাইনি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে  চিকিৎসা নিতে হবে।

এই সময় অবহেলা করলে খুব খারাপ কিছু হতে পারে।

কিছু ভয়ানক রোগের লক্ষণ এই অনিয়মিত পিরিয়ড

  • জরায়ু বা ডিম্বাশয় টিউমার বা সিস্ট
  • থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা
  • লিভার বা কিডনির সমস্যা
  • লিউকোমিয়া
  • রক্ত জমাটের কোনো সমস্যা
পিরিয়ড
আপনার অসাবধানতায় জরায়ুতে হতে পারে অনিরাময় যোগ্য রোগ।

পিরিয়ড শুরুকালীন সমস্যা :

পিরিয়ড শুরুর চার-পাঁচ দিন আগে থেকে শুরু করে সাধারণত প্রথম তিন দিন স্থায়ী হয়।

সাধারণত শতকরা ৩০-৪০ জন নারীই এই সমস্যা ভোগ করে। হরমোনের তারতম্যের কারণে এটি ঘটে থাকে। এই সময়ে-
দুর্বলতা, কাজে অনীহা,  বিষণ্নতা,  সহজে রেগে যাওয়া,  মেজাজের তারতম্য,  হতাশা,  মনোঃসংযোগে ব্যর্থতা ইত্যাদি হয়ে থাকে। এই সময়ে পারিবারিক সদস্যের  সহানুভূতি অত্যন্ত জরুরি।

তবে পিরিয়ড শেষ হওয়ার পরও যদি এই সমস্যা স্থায়ী থাকে, তবে অবশ্যই একজন মানসিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর অর্থাৎ এর সময় প্রথম কয়েক মাস পিরিয়ড বন্ধও থাকতে পারে। এ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। তবে এক বছর ধরে পিরিয়ড বন্ধ আছে আবার হঠাৎ পিরিয়ড শুরু হলে অবশ্যই গাইনি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। কারণ,  এটি মোটেই স্বাভাবিক নয়। পিরিয়ড কবে শুরু হলো এটি প্রত্যেক নারীর লিখে রাখা বা মনে রাখা প্রয়োজন। স্বাভাবিক নিয়মে জন্মনিয়ন্ত্রণ, গর্ভনিরোধক পিল খাওয়া  অথবা গর্ভধারণের চেষ্টা করা সব ক্ষেত্রেই পিরিয়ড শুরুর দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পিরিয়ডের কারণে অনেক নারীরই রক্তশূন্যতা থাকে। তাই প্রতি ছয়  মাস অন্তর একটি হিমোগ্লোবিন করানো উচিত। এটি অত্যন্ত সহজলভ্য ও সস্তা একটি পরীক্ষা। রক্তশূন্যতা থাকলে আয়রন ক্যাপসুল খাওয়া উচিত। পুষ্টিকর খাবার  খাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। আর একটি কথা,  পিরিয়ডের সময় কাউকে ব্লাড দেয়া উচিৎ নয়।

সামাজিক মূল্যবোধ

আমাদের সমাজে পিরিয়ড এখনো একটি টেবু।

মেয়েরা সমস্যা গুলো লজ্জায় বলতে চায় না। সে জন্য প্রতিদিন কত নারী কত জটিল অসুখে ভুগে মারা যাচ্ছে।

নারীরা পুরুষদের কে দোষ দিচ্ছে, কিন্তু নিজের সমস্যার ভাগীদার কি অন্য কেউ হতে পারে?

কাউকে দোষ না দিয়ে নিজের সমস্যা নিজেরই সমাধান করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

যে সব নারীরা চাকরি করেন এবং বিভিন্ন পেশায় আছে, তাদের পিরিয়ড এর জন্য ২ দিন ছুটি দিতে হবে, শ্রমজীবী নারীদের সমস্যা গুলো তাদের ম্যানেজার দের বুঝতে হবে।

ছেলেদের কে নিজেদের ধ্যান ধারনা পরিবর্তন করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। মনে রাখবেন সুস্থ পিরিয়ড মানে সুস্থ নারী, তাই পিরিয়ড কে মর্যাদা দিন। এটি স্বাভাবিক একটি বিষয়, এটি কোন দুর্বলতা নয়।

 

 

শীতকালে সাবধান না হলে হতে পারে নানান অসুখ।

শীতকালে

শীতকালে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আপনার সাবধানতা। এসময় অনেক কাপড় পরে বের হলে আপনার গরমও লাগতে পারে।

আবার ভাবলেন একদিন শীত কম পড়বে, কিন্তু দেখলেন ওই দিনেই বেশি শীত পড়েছে। তাই শীতকালে সাবধান থাকা জরুরি।

বাইরে বের হওয়ার আগে আবহাওয়ার খবর জেনে নিন। কাপড় ভেজা থাকলে শরীরে অনেক তাড়াতাড়ি ঠাণ্ডা লেগে যায়।

খেয়াল রাখবেন আপনার পরিধেয় কাপড়টি যেন শুষ্ক থাকে। এর মাধ্যমে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

শীতকালে
শীতের জামা কাপড় অবশ্যই রোদে দিয়ে তারপর গায়ে দিবেন।

শীতকালের ঠাণ্ডাজনিত রোগ

ঋতু পরিবর্তনের জন্য শীতের সময় নানা ধরণের রোগ দেখা যায়। বেশির ভাগই ঠাণ্ডাজনিত রোগ। এক্তু সাবধান থাকলেই এই সব রোগ থেকে রেহাই পেতে পারেন।

শীতের রোগগুলো সাধারণত ভাইরাস ও এলার্জিজনিত কারণে হয়ে থাকে। ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণেও কিছু রোগ হতে পারে।

যদিও এসব রোগের প্রধান কারণ জীবাণু, তবু পরিবেশের তাপমাত্রার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।

শীতকালে তাপমাত্রা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে আর্দ্রতাও কমে, যা শ্বাসনালীর স্বাভাবিক কাজ ব্যাঘাত করে ভাইরাস আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

আরো সমস্যা হচ্ছে, দায়ী জীবাণুগুলো ধুলোবালি, আক্রান্তের হাঁচি-কাশি অথবা দৈনন্দিন খাবার বা ব্যবহার্য জিনিস থেকে শুষ্ক আবহাওয়ায় খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।

হাঁপানি

শীতকালে
যাদের হাঁপানি আছে তারা সাবধানতা অবলম্বন করুন।

শীতকালে বাড়ে হাঁপানির প্রকোপ। এ ছাড়া ঋতু পরিবর্তনের সময়গুলোতে বিশেষত শরৎ, বসন্ত ও শীতকালে বাতাসে অসংখ্য ফুলের বা ঘাসের রেণু ভেসে বেড়ায়, যা হাঁপানির উত্তেজক উপাদান হিসেবে কাজ করে।

আর্থ্রাইটিস

শীতকালে
এই রোগটি শীতকালে বৃদ্ধি পায়।

সর্দি-কাশি ফ্লুর মতো এতটা প্রকট না হলেও আরো অনেক রোগেরই তীব্রতা বাড়ে শীতকালে। বিশেষত আর্থ্রাইটিস বা বাতের ব্যথা শীতে বেশি বাড়ে।

চর্মরোগ

শীতকালে
ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্কতার জন্য এই রোগটির সৃষ্টি হয়।

শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে। শুষ্ক বাতাস ত্বক থেকে পানি শুষে নেয়। ফলে অনেকের ঠোঁট, হাত-পায়ের নখ, ত্বক শুষ্ক ও দুর্বল হয়ে ফেটে যায়।

পরবর্তীকালে খোশপাঁচড়াসহ নানা চর্মরোগ দেখা দেয়। খুশকির সমস্যা বেড়ে যায়।

হাইপোথার্মিয়া
তীব্র শীতে অনেকের হাতের আঙুল নীল হয়ে যায়। শীত প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শরীরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত কমে গিয়ে (হাইপোথার্মিয়া) মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

শীতকালে অবশ্যই যা খেয়াল রাখতে হবে

অ্যালার্জির ধাত থাকলে যাতে সমস্যা বাড়ে তা থেকে দূরে রাখুন বাচ্চাকে৷

সাধারণত ধুলো, ধোঁয়া, মশার কয়েল, বিছানা বা কার্পেটের ধুলো, ফুলের রেণু, কুকুর-বেড়ালের রোম, ঠাণ্ডা জল ইত্যাদিতে সমস্যা হতে পারে৷

স্কুলে বা বাড়িতে কারও হাঁচি-সর্দি-জ্বর হলে বাচ্চাকে তার কাছে যেতে দেবেন না৷ বিশেষ করে সামান্য ঠাণ্ডা লাগলেই যদি বাচ্চার শ্বাসকষ্ট হওয়ার ধাত থাকে৷

রাত্রে ঘরের জানালা বন্ধ করে গায়ে ঢাকা দিয়ে ঘুম পাড়ান৷

ঠান্ডা জলে স্নান করাবেন না৷ বিশেষ করে নাকে যেন ঠান্ডা জল না ঢোকে৷ গা এবং মাথা আলাদা করে ধুয়ে নিলে ভালো৷

ঠান্ডা কিছু খাওয়াবেন না এ সময়৷

শীতের শুরু থেকে টক ফল ও শাক-সবজি বেশি করে খাওয়ান৷ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে বাচ্চার৷

চিকিত্‍সা

নাক পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন৷ ২৫০ মিলি পানিতে আধা চামচ লবণ মিশিয়ে নরমাল স্যালাইন দ্রবণ তৈরি করুন৷ কাপড় বা তুলো দিয়ে পলতে পাকিয়ে এতে ভিজিয়ে নাক পরিষ্কার করুন৷

দু-এক ফোঁটা ড্রপও দিতে পারেন৷

কাজ না হলে ও খুব বেশি সর্দি হলে ডাক্তারের পরামর্শ মতো ডিকনজেস্টেন্ট ড্রপ দিন দু-এক ফোঁটা৷

তারপরও নাক বন্ধ থাকলে শোওয়ার সময় মাথার দিকটা একটু উঁচু করে রাখুন৷

বাড়াবাড়ি সর্দিতে ডাক্তারের পরামর্শ মতো অ্যান্টিহিস্টামিনিক ড্রপ খাওয়াতে হতে পারে৷

শীতকালে

জ্বর, গা-হাত-পা-মাথা ব্যথা থাকলে খাওয়ান প্যারাসিটামল৷

ভাইরাল ইনফেকশন সচরাচর ৭ দিনে পুরোপুরি সেরে যায়৷ তবে সাবধানে না থাকলে একই সিজনে আরও দু-একবার হতে পারে৷

সমস্যা ২-৩ দিনে কমার বদলে বাড়তে থাকলে, কফ গাঢ় হয়ে হলুদ বা সবুজ রং ধরলে বুঝতে হবে সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হয়েছে৷ তখন অ্যান্টিবায়োটিক লাগবে৷

কান ব্যথা হলেও অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে৷

হাঁচি-সর্দি-নাকবন্ধ লেগে থাকলে স্টেরয়েড ড্রপ বা স্প্রে ব্যবহার করতে হতে পারে৷

জ্বর-সর্দি হলেই যদি শ্বাসকষ্ট হয়, ইনহেলার নিতে হবে৷ তবে চিন্তা করবেন না, এতে কোনও ক্ষতি হবে না বাচ্চার৷

 

 

পেটের পীড়া ভয়াবহ হতে পারে, অবহেলা করবেন না।

পেটের পীড়া

আমাদের দেশে বেশিরভাগ লোক যে রোগটিতে ভোগেন তা হল পেটের পীড়া। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে এ পীড়ার প্রাদুর্ভাব বেশি হয়। পেটের পীড়া বলতে আমরা সাধারণত বুঝি আমাশয়, ডায়রিয়া, পেটের ব্যথা কিংবা হজমের অসুবিধা।

পেটের পীড়াকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত, খাদ্যনালি প্রদাহ (পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়, ক্ষুদ্রান্ত্র কিংবা বৃহদান্ত্রের রোগ)। দ্বিতীয়ত, লিভারের প্রদাহ।

খাদ্যনালির কারণজনিত পেটের পীড়াকে দু’ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।

স্বল্পমেয়াদি পেটের পীড়া

দীর্ঘমেয়াদি পেটের পীড়া

আমাশয়

পেটের পীড়া
এন্টাবিমা হিস্টোলাইটিকা নামক জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়।

অ্যামিবিক ডিসেন্ট্রি স্বল্পমেয়াদি পেটের পীড়ার অন্যতম কারণ যা এন্টাবিমা হিস্টোলাইটিকা নামক জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়। এটি মূলত পানিবাহিত রোগ।

যারা যেখানে-সেখানে খোলা বা বাসি খাবার খেয়ে থাকেন অথবা দূষিত পানি পান করেন তাদের এ রোগ হয়।

শহর অঞ্চলে রাস্তার পাশের খোলা খাবার খেলে এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে যারা যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করেন, কিংবা নদী ও পুকুরের পানি পান করেন তারা এ রোগে আক্রান্ত হন বেশি।

এ রোগের উপসর্গ হঠাৎ করে দেখা দেয়। যেমন- ঘন ঘন পেটে মোচড় দিয়ে পায়খানা হওয়া, পায়খানার সঙ্গে রক্ত বা আম মিশ্রিত অবস্থায় যাওয়া, পায়খানায় বসলে উঠতে ইচ্ছা হয় না বা ওঠা যায় না।

ক্ষেত্র বিশেষে দিনে ২০-৩০ বার পর্যন্ত পায়খানা হতে পারে।

ডায়রিয়া

ডায়রিয়ার অন্যতম কারণ খাদ্যে নানা ধরনের পানিবাহিত ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ।

ছোট শিশুদের ডায়রিয়া সাধারণ রোটা ভাইরাস নামক ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে।

বড়দের ক্ষেত্রে নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে যে ডায়রিয়া মহামারী আকারে দেখা দেয়, তার অন্যতম কারণ হল কলেরা। শীতকালে কলেরার প্রাদুর্ভাব বেশি হয়।

পাতলা পায়খানা হলে যদি চাল ধোয়া পানির মতো হয় তবে সেটা কলেরার লক্ষণ।

এর সঙ্গে তলপেটে ব্যথা হওয়া, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, ঘনঘন পায়খানায় যাওয়া এবং শরীর ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যাওয়া এ রোগের উপসর্গ। এ সময়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

পেটের পীড়ার অন্য কারণগুলোর হচ্ছে পিত্তথলি, পাকস্থলী, অগ্নাশয় এবং অন্ত্রের প্রদাহ।

অগ্নাশয়ের প্রদাহ জনিত পেটের পীড়া

পেটের পীড়ার আরও একটি কারণ হল অগ্নাশয়ের প্রদাহ বা Pancreatitis অগ্নাশয় একটি লম্বা অঙ্গ বা Organ যা পেটের ভিতরে পেছনে অবস্থিত।

এই অগ্নাশয়ের কাজের উপর নির্ভর করে হজমের ক্ষমতা এবং রক্তে গস্নুকোজের পরিমাণ ঠিক রাখা।

স্বল্পমেয়াদী অগ্নাশয়ের প্রদাহ হলে তাকে Acute Pancreatitis বলে, যার অন্যতম কারণঃ

 

পেটের পীড়া
সব সময় ভুঁড়ি ভোজ করা ঠিক না।

ভুঁড়ি ভোজ করা

পিত্তনালী বা পিত্তথলিতে পাথর এবং

অ্যালকোহল পানে আসক্তি

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মৃদু বা সহনীয় ব্যথা ভাল হয়ে যায়। তবে অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসায় বিলম্ব কিংবা অবহেলা করলে জটিল আকার ধারণ করতে পারে এমনকি প্রাণহানিও ঘটতে পারে।

পাকস্থলি ও ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রদাহ উপরের পেটে দীর্ঘদিন বার বার ব্যথা হওয়া, Peptic Ulcer রোগের লক্ষণ যা পাকস্থলি Stomach বা ক্ষুদ্রান্ত্রের (Duodenum) এর প্রদাহের কারণে হয়।

এই প্রদাহ দুরারোগ্য ব্যাধি। যাদের হয়, বার বার হয়। রোগীও সারে না, রোগও ছাড়ে না।

এই রোগকে পেটের পীড়ার অন্যতম কারণ হিসাবে বলা যায়। কেননা আমাদের দেশে ১২% লোক Peptic Ulcer -এ ভুগছেন। এছাড়া যারা অনিয়মিত খান, অতিরিক্ত ধূমপান করেন তাদের এ রোগ বেশি হয়।

লক্ষণের মধ্যে রয়েছে, খালি পেটে ব্যথা, শেষরাতে ব্যথা এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা। এ রোগ সেরেও সেরে উঠে না।

এবারের শেষটায় এসে যে কথা বলতে চাই-খাবারের প্রতি অনীহা, অরুচি, অস্বস্তি, ওজন কমে যাওয়া- এসব কিছুরই অন্যতম কারণ দীর্ঘমেয়াদী লিভারের প্রদাহ।

এ দীর্ঘমেয়াদী লিভারের প্রদাহ এমন আকার ধারণ করে যা কিনা দীর্ঘস্থায়ী জটিল লিভার সিরোসিসে রূপ নিতে পারে।

পেটের পীড়া প্রতিরোধে করণীয়ঃ

পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হলে ভীত না হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

  1. খাদ্য গ্রহণের পূর্বে এবং মলত্যাগের পর নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। যে সমস্ত অভিভাবক শিশুকে খাওয়ান, তারা শিশুকে খাবার প্রদানের পূর্বে এবং শিশুর মলত্যাগের পর একই নিয়মে হাত পরিষ্কার করবেন।
  2. পরিষ্কার পানিতে আহারের বাসনপত্র, গৃহস্থালী ও রান্নার জিনিস এবং কাপড়-চোপড় ধোয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং প্রয়োজনে সাবান ব্যবহার করতে হবে।
  3. পায়খানার জন্যে সর্বদা স্যানেটারী ল্যাট্রিন ব্যবহার করতে হবে।
  4. যারা গ্রামে বসবাস করেন, তাদের যেখানে সেখানে বা পুকুর নদীর ধারে মলত্যাগের অভ্যাস পরিহার করতে হবে।
  5. খালি পায়ে বাথরুমে বা মলত্যাগ করতে না গিয়ে সর্বদা স্যান্ডেল বা জুতা ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
  6. খাবারের জন্য ফুটানো পানি ব্যবহার করতে হবে এবং পানি ফুটানোর ব্যবস্থা না থাকলে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ব্যবহার করতে হবে।
  7. আহারের জন্য তৈরিকৃত খাদ্য সামগ্রী এবং পান করার জন্য নির্ধারিত পানি সর্বদা ঢেকে রাখতে হবে।
  8. পুরোনো, বাসী বা দুর্গন্ধযুক্ত খাবার কখনোই খাওয়া যাবে না।
  9. মনে রাখবেন, পেটের পীড়া প্রতিরোধে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় পন্থা। আপনি আপনার খাদ্যাভাস, পানি পান, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা সর্বোপরি ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সচেতন হলে পেটের পীড়া থেকে মুক্ত হতে পারবেন।

 

মাথা ব্যথা দূর করার পদ্ধতিগুলো দেখে নিন

মাথা ব্যথা

অন্যান্য জায়গাতে ব্যথা হলে যে কষ্ট লাগে- মাথা ব্যথা হলে সব চেয়ে বেশি খারাপ লাগে।মাঝে মাঝে প্রচণ্ড মাথা ব্যথায় পৃথিবী অন্ধকার লাগে।

শরীরের অন্যান্য অঙ্গ গুলোর ভেতর মাথা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। মাথা ছাড়া শরীর কি কাজ করতে পারে?

এইসময় গুলোতে হাতের কাছের কিছু উপকরণ ও পদ্ধতি দিয়ে ব্যথা কমানো সম্ভব। চলুন জেনে নেই তাৎক্ষণিক ভাবে মাথা ব্যথা দূর করার পদ্ধতি গুলো।

মাথা ব্যথা দূর করে আকুপ্রেশার

মাথা ব্যথা
এই পদ্ধতিটি বিজ্ঞানসম্মত এবং প্রমাণিত। চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

বহুবছর ধরে মাথা ব্যথা দূর করতে অনেকেই আকুপ্রেশার পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছেন। এই ছোট্ট ঘরোয়া পদ্ধতিটি আপনাকে এক মিনিটের মধ্যে মাথা ব্যথা সারাতে সাহায্য করবে। বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং তর্জনির মাঝখানের অংশে অন্য হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনি দিয়ে চাপ দিন এবং ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ম্যাসাজ করুন। একই ভাবে ডান হাতেও করুন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আশা করা যায় এতে এক মিনিটেই মাথা ব্যথা সারবে।

পানি পান করুন

মাথা ব্যথা
পানি সকল রোগের ওষুধ।

একচুমুক পানি পানও আপনাকে এক মিনিটের মধ্যে মাথা ব্যথা সারাতে কাজে দেবে।

যখন আমাদের শরীর আর্দ্র হতে থাকে তখন ব্যথা ধীরে ধীরে কমে।

লবঙ্গ

মাথা ব্যথা
মাথা ব্যথা দূর করা ছাড়াও লবঙ্গ আরও অনেক উপকার করে।

কিছু লবঙ্গ তাওয়ার মধ্যে গরম করে নিন।

গরম লবঙ্গ একটি রুমালের মধ্যে নিন।

এক মিনিট এর ঘ্রাণ নিন এবং দেখুন মাথা ব্যথা চলে গেছে।

লবণযুক্ত আপেল

মাথা ব্যথা
এই কারণেই হয়ত বলা হয় প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে জেতে হবে না।

ব্যথা যদি বেশি হয় তবে এই ঘরোয়া পদ্ধতিটি চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

এক টুকরো আপেল চিবুতে পারেন তবে এতে একটু লবণ ছিটিয়ে নেবেন।

এটা দ্রুত ব্যথা মুক্ত করতে সাহায্য করবে।

আদা চিবুতে পারেন

মাথা ব্যথা
আদা খেলে ঠাণ্ডাও লাগতে পারেনা।

এক পিস টাটকা আদা চিবুতে পারেন এতে ৬০ সেকেন্ডে মাথা ব্যথা দূর হবে।

আদা একটু বাজে গন্ধের হলেও পদ্ধতিটি কাজের।

আদার ঝাঁজ এবং ঝাল মাথায় গিয়ে লাগে তখন মাথা ব্যথা কমে আসতে শুরু করে।

গান শোনা

মাথা ব্যথা
গান শুনলে মাথার নিওরন গুলো আরাম পায়।

মন ভালো করার পাশাপাশি মাথা ব্যথা উপশমে সব চাইতে ভালো কাজ হচ্ছে গান শোনা। ‘জার্নাল অফ পেইন’ গবেষণাপত্রে প্রকাশ হয় গান শোনা প্রায় ১৭% ব্যথা কমিয়ে দিতে সহায়তা করে। কারণ গান মনোযোগ দিয়ে শোনার সময় আমাদের লক্ষ্য মাথা ব্যথা থেকে সরে যায় যা আমাদের মাথা ব্যথার কথা অনেক সময় ভুলিয়ে দেয়। এতে করেই সেরে উঠে মাথা ব্যথা।

মিষ্টিকুমড়োর বিচি খান

মাথা ব্যথা
কুমড়ার বিচি।

মিষ্টি কুমড়োর বিচি ভেজে খেলে এই ব্যথার সমস্যা থেকে দুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কারণ মিষ্টি কুমড়োর বিচিতে হয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম সালফেট যা মাথা ব্যথা উপশমে কাজ করে থাকে।

কাঠবাদাম খাওয়ার অভ্যাস রাখুন

মাথা ব্যথা
কাঠবাদাম খেলে স্মৃতি শক্তিও বৃদ্ধি পায়।

অনেক সময় আবহাওয়া, ধুলোবালির কারণে মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যায়, আবার অনেক সময় মানসিক চাপের কারণেও মাথা ব্যথা শুরু হয়। এই সকল ধরনের ব্যথা কমানোর জন্য একমুঠো বা দুইমুঠো কাঠবাদাম চিবিয়ে খান। কাঠবাদামে রয়েছে ‘স্যালিসিন’ যা ব্যথা উপশমে কাজ করে রবং দ্রুত ব্যথা নিরাময় করে।

মনিটরে তাকিয়ে থাকা কমাতে হবে

মনিটরে একদিকে তাকিয়ে থাকলে একসময় চোখ, মাথা একসাথে কষ্ট দেয়। সুতরাং ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যাবহারের ক্ষেত্রে সময় মেনে চলতে হবে।

পরিচিত দেশীয় ভেষজ গাছের অজানা উপকারিতাগুলো জেনে নিন

আমাদের চারপাশে নানা ধরণের গাছগাছালি আছে। এদের ভেতর কিছু ওষধি গাছ আছে। প্রত্যকটি ভেজষ উদ্ভিদেরই কিছু না কিছু ঔষধী গুণ রয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ হাজার উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাড়ে পাঁচশ ঔষধি উদ্ভিদ প্রজাতি বা ভেষজ। ঔষুধ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ভেষজ উদ্ভিদের চাহিদা সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশে ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ইউনানি, আয়ুর্বেদ ও হোমিওপ্যাথি ওষুধ উৎপাদনে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি বিউটি পার্লার ও প্রসাধনীতে এখন প্রচুর ভেষজ উপাদান ব্যবহৃত হচ্ছে।
বাংলাদেশে স্বল্পসময়ে কম জমিতে অধিক হারে উৎপাদন করে অধিক মুনাফা অর্জন করা সম্ভব এমন ঔষধি রয়েছে ২৫টির মতো। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পুদিনা, ঘৃতকুমারী, থানকুনি, অর্জুন, আমলকী, হরীতকী, কালমেঘ, নিম, বহেড়া, কালিজিরা, বসাক, উলটকমল, অশ্বগন্ধা, সর্পগন্ধা, তুলসী, মেথি, সোনাপাতা, যষ্টিমধু, বাবলা, শতমূলী, ইসবগুল, আদা, রসুন, হলুদ, পিঁয়াজ ইত্যাদি।

বাসক

বাসক একটি ভারতীয় উপমহাদেশের গাছ। আর্দ্র, সমতলভূমিতে এটি বেশী জন্মে। লোকালয়ের কাছেই জন্মে বেশী। হালক  হলুদে রংয়ের ডালপালায়ক্ত ১ থেকে ২ মি. উঁচু গাছ, ঋতুভেদে সর্ব্বদাই প্রায় সবুজ থাকে। বল্লমাকারের পাতা বেশ বড়। ফুল ঘন, ছোট স্পাইকের ওপর ফোটে। স্পাইকের বৃন্ত পাতার চেয়ে ছোট। স্পাইকের ওপর পাতার আকারে উপপত্র থাকে যার গায়ে ঘন এবং মোটা শিরা থাকে।

চিনবেন কি করে?

বাসক মাঝারি মাপের গাছ। গাঢ় সবুজ রঙের উদ্ভিদ এবং চেহারায় তেমন কোন বিশেষত্ব নেই। ৫-৬ ফুট পর্যনত্ম সাধারণত লম্বা হয় এবং বাংলাদেশের সর্বত্রই মেলে। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে ছোট ছোট সাদা ফুল ফোটে। অন্য এক প্রকার বাসক গাছও আছে যাতে হলদেটে লাল রঙের ফুল ধরে।

উপকারিতা

১। বাসকের ছাল খেলে কৃমি মরে যায়।

২। যাদের গায়ে ঘামের গন্ধ হয় তারা বাসক পাতার রস গায়ে লাগালে দুর্গন্ধ দূর হবে।

৩। যাদের শ্বাসকষ্ট আছে বাসক পাতা বিড়ি বা চুরম্নট জাতীয় পাকিয়ে তার সাহায্যে ধূমপান করলে শ্বাসকষ্ট প্রশমিত হয়।

৪। গায়ের রঙ ফর্সা করতে চাইলে বাসক পাতা ব্যাবহার করতে পারেন।

৫। পানি ফিল্টার করতে বাসক পাতা ব্যাবহার করতে পারেন।

তেলাকুচা

তেলাকুচা একপ্রকারের ভেষজ উদ্ভিদ। বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে একে ‘কুচিলা’, তেলা, তেলাকচু, তেলাহচি, তেলাচোরা কেলাকচু, তেলাকুচা বিম্বী ইত্যাদি নামে ডাকা হয়। অনেক অঞ্চলে এটি সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। গাছটির ভেষজ ব্যবহারের জন্য এর পাতা, লতা, মূল ও ফল ব্যবহৃত হয়। এটি লতানো উদ্ভিদ। এটি গাঢ় সবুজ রঙের নরম পাতা ও কাণ্ডবিশিষ্ট একটি লতাজাতীয় বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। লতার কাণ্ড থেকে আকশীর সাহায্যে অন্য গাছকে জড়িয়ে উপরে উঠে। পঞ্চভূজ আকারের পাতা গজায়, পাতা ও লতার রং সবুজ। এর ফল ও কচি ডগা খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় সেখানে। তেলাকুচায় প্রচুর বিটা-ক্যারোটিন আছে।

চিনবেন কি করে?

১ সে.মি. লম্বা ফুলের রং গোলাপী। দেড় থেকে দু সে.মি. লম্বা ফল অনেকটা চিলগোজার মতন দেখতে।শিকড় ব্যতীত কালমেঘ গাছটির সব অংশই ঔষুধের কাজে লাগে। কালমেঘ অত্যন্ত তেতো এবং পুষ্টিকর।

উপকারিতা

১। শিশুদের যকৃৎ রোগে এবং হজমের সমস্যায় কালমেঘ ফলপ্রদ।

২। টাইফয়েড রোগে এবং জীবানুরোধে কালমেঘ কার্য্করী।

৩। কালমেঘ গাছ বেটে সরষের তেলে চুবিয়ে নিয়ে চুলকানিতে লাগানো হয়।

৪। গাছের পাতার রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও লিভার রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।

অর্জুন

ভেষজশাস্ত্রে ঔষধি গাছ হিসাবে আর্জুনের ব্যবহার অগনিত।বলা হয়ে থাকে, বাড়িতে একটি অর্জুন গাছ থাকা আর এক জন ডাক্তার থাকা একই কথা।এর ঔষধি গুন মানবসমাজের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে সুপ্রাচীন কাল থেকেই।শরীরের বল ফিরিয়ে আনা এবং রণাঙ্গনে মনকে উজ্জীবিত রাখতে অর্জুন ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে মহাভারত ও বেদ-সংহিতায়।তার পর যত দিন যাচ্ছে ততই অর্জুনের উপকারী দিক উদ্ভাবিত হচ্ছে।

চিনবেন কি করে?

অর্জুন একটি বৃক্ষ। গাছটি অনেক বড় হয়। ছাল মোটা থাকে।

উপকারিতা

১। উচ্চ রক্তচাপ কমায়।

২। অর্জুনের ছাল বেটে খেলে হৃৎপিণ্ডের পেশী শক্তিশালী হয়।

৩। বিচুর্ণ ফল মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে এবং লিভারসিরোসিসের টনিক হিসাবে ব্যাবহৃত হয়।

৪। অর্জুনের ছাল হাঁপানি, আমাশয়, ঋতুস্রাবজনিত সমস্যা, ব্যথ্যা ,প্রদর ইত্যাদি চিকিৎসায়ও উপকারী।

৫। হজম ক্ষমতা বাড়ায়।

তুলসী

তুলসী একটি ঔষধিগাছ। তুলসী অর্থ যার তুলনা নেই। সুগন্ধিযুক্ত, কটু তিক্তরস, রুচিকর। এটি সর্দি, কাশি, কৃমি ও বায়ুনাশক এবং মুত্রকর, হজমকারক ও এন্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে বিশেষ করে কফের প্রাধান্যে যে সব রোগ সৃষ্টি হয় সে ক্ষেত্রে তুলসী বেশ ফলদায়ক।

চিনবেন কি করে?

তুলসী একটি গুল্ম জাতীয় গাছ। গাছটিতে অনেক পাতা হয়।

উপকারিতা

১। সর্দি-ঠাণ্ডা কমানোর জন্য সব মায়েরাই ব্যাবহার করে তুলসী।

২। পেট খারাপ হলে তুলসীর ১০ টা পাতা সামান্য জিরের সঙ্গে পিষে ৩-৪ বার খান ৷ পায়খানা একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে, মানে পায়খানার ওই সমস্যাটা আর কি!

৩। মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে দিনে ৪-৫ বার তুলসী পাতা চেবান৷

৪। শরীরের কোন অংশ যদি পুড়ে যায় তাহলে তুলসীর রস এবং নারকেলের তেল ফেটিয়ে লাগান, এতে জ্বালা কমবে৷ পোড়া জায়গাটা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে৷ সেখানে কোন দাগ থাকবে না৷

৫। বুদ্ধি এবং স্মরণশক্তি বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন ৫-৭ টা তুলসী পাতা চিবান৷

হরিতকী

হরীতকী মধ্যম থেকে বৃহদাকার চিরসবুজ বৃক্ষ। ত্রিফলার অন্যতম ফল হচ্ছে হরীতকী। হরীতকী গাছকে ভেষজ চিকিৎসকরা মায়ের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন। তারা বলেন, মানুষের কাছে এ বৃক্ষ মায়ের মতোই আপন। মানুষের শরীরে সংক্রামিত প্রায় সব রোগ-ব্যাধির ওষুধ হিসেবে হরীতকীর ব্যবহার রয়েছে। অর্শরোগে, রক্তার্শে, চোখের রোগ, পিত্তবেদনা, গলার স্বর বসে যাওয়া, হৃদরোগ, বদহজম, আমাশয়, জন্ডিস, ঋতুস্রাবের ব্যথা, জ্বর, কাশি, হাঁপানি, পেটফাঁপা, ঢেঁকুর ওঠা, বর্ধিত যকৃত ও প্লীহা, বাতরোগ, মহৃত্রনালীর অসুখ, ফুসফুস, শ্বাসনালীঘটিত রোগে হরীতকী ফলের গুঁড়া ব্যবহৃত হয়।

চিনবেন কি করে?

হরিতকী একটি বৃক্ষ। বৃক্ষের ফল ব্যাবহার করা হয়।

উপকারিতা

১। হরীতকী দেহের অন্ত্র পরিষ্কার করে এবং একই সঙ্গে দেহের শক্তি বৃদ্ধি করে।

২। অ্যালার্জি দূর করতে হরীতকী বিশেষ উপকারী।

৩। কোষ্ঠকাঠিন্য, স্নায়বিক দুর্বলতা, অবসাদ এবং অধিক ওজনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

৪। হরীতকীর গুঁড়া নারিকেল তেলের সঙ্গে ফুটিয়ে মাথায় লাগালে চুল ভালো থাকবে।

৫। দাঁতে ব্যথা হলে হরীতকী গুঁড়া লাগান, ব্যথা দূর হবে।

ওজন বাড়াতে চান? তাহলে দেখে নিন নিয়ম গুলো।

ওজন

 

আমরা নিজেকে অন্যদের সামনে খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার জন্য কত কিছু করি। কে না চায় নিজেকে অন্য জনের সামনে খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরতে?

আমরা অনেকেই ওজন কমানোর জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে আছি। কিন্তু কখনো লক্ষ্য করেছি কি এই পৃথিবীতে এমনও মানুষ আছে যারা ওজন বাড়ানোর জন্য কত কিছুই না করে যাচ্ছে। কিন্তু কোন ভাবেই সফল হচ্ছে না। আর এর পেছনে মূল কারণ হলো আমাদের সঠিক নিয়ম মেনে না চলা। ওজন বাড়ানোর জন্য বেশী কিছু নয় শুধু সঠিক নিয়ম মেনে খাবার খাওয়া দরকার যেন খাবারটি আমাদের শরীরে লাগে। আজ আপনাদের সামনে কিছু সঠিক নিয়ম বা সঠিক উপায় তুলে ধরলাম। আশা করি তা মেনে চললে আপনি খুব কম সময়ে নিজের স্বাস্থ্যের পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

তাহলে আর দেরী কেনো চলুন জেনে নেওয়া যাক উপায় গুলো।

ওজন বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া শুরু করুন

ওজন
স্বাস্থ্য ভালো করতে চাইলে খেতে হবে পুষ্টিকর খাদ্য।

আমরা অনেক সময় স্বাস্থ্য বাড়ানোর জন্য প্রচুর পরিমাণ খাবার খেয়ে থাকি কিন্তু তারপরও আমাদের স্বাস্থ্য বাড়ে না। এর কারণ হলো আমরা নিয়ম মেনে খাবারটি খাচ্ছি না শুধু পেট ভরছি। তাই উপযুক্ত খাবার খেতে হবে। আমাদের শরীরে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণে প্রোটিন, কার্বন ও ফ্যাট এর প্রয়োজন হয় এগুলোর ঘাটতি পড়লে আমাদের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব পড়ে। এর জন্য প্রতিদিন বাদাম আর দুগ্ধজাত খাবার খান। দেহের পেশী গঠনে প্রোটিন যুক্ত খাবার দরকার। এটি শরীরের ওজন বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ মাংস, ডিম, পনির ও পর্যাপ্ত পরিমাণে ভাত, রুটি-আলু গ্রহণ করুন। ওজন বাড়ানোর জন্য বসা ভাতের উপকারিতা অনেক বেশী। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর ক্যালোরি। মাছ, মুরগি এ গুলো প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় রাখুন। টুনা মাছও খেতে পারেন।

তরল জাতীয় খাবার বেশী খান

কিছুক্ষণ পর পর তরল জাতীয় খাবার খান যা আপনার ক্ষুধা বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে এটা মনে রাখা আমাদের খুব জরুরী ভারি খাবার খাওয়ার আগে বা খাবারের মাঝখানে পানি খাওয়া ভালো নয়। কারণ খাবারে মাঝখানে বেশী পানি খেলে আপনার ক্ষুধা নিবারণ হয়ে যাবে তখন ভারি খাবার খাওয়ার ইচ্ছে নষ্ট হয়ে যাবে। তাছাড়া খাওয়ার মাঝে বেশী পানি খেলে খাবার হজমে সমস্যা হয়।

ওজন বাড়াতে ঘন ঘন খাবার খান

আপনি যদি দেহের ওজন বাড়াতে আগ্রহি হয়ে থাকেন তাহলে প্রতিদিন ২-৩ ঘন্টা অন্তর অন্তর ৫ থেকে ৭ বার পরিমিত পরিমাণে খাবার গ্রহণ করুন।

আমরা সাধারণত দিনে ৩ বার খাবার খেয়ে থাকি। আপনি দিনে ৬ বার খাবার গ্রহণ করেন তবে পরিমাণটি যাতে নির্দিষ্ট হয় সে দিকে খেয়াল রাখবেন।

কলা, আম ইত্যাদি ফল বেশী পরিমাণ খেতে হবে। এতে করে আপনার খেতে কোন সমস্যা হবে না। ভাজা খাবার পরিহার করুন। ক্যালোরি যুক্ত খাবারগুলো বেঁছে বেঁছে প্রচুর পরিমাণে খান।

তাজা ও শুকনো ফল এবং বাদাম খান

ওজন
কিছুক্ষণ পর পর বাদাম খেতে পারেন।

দুধের সাথে খেজুর, বাদাম, আম ইত্যাদি খেলে আপনার শরীরের ওজন বাড়াতে পারে।

এছাড়া এই ফল গুলো দুধ ছাড়া খেতে পারেন।

খাবারের তালিকায় নিয়মিত  কিশমিশ ও শুঁকনো ফল দেওয়া গাজরের হালুয়া, ক্ষীর, সেমাই রাখুন।

ফলের জুস

ওজন
ফল খেতে ইচ্ছে না করলে জুস খেতে পারেন।

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বেশী ক্যালোরি যুক্ত ফলের জুস (যেমন আম, আঙ্গুর)  রাখুন।

এসব ফলের জুস আপনার শরীরের ওজন বাড়াবে এবং স্বাস্থ্যকর ক্যালোরি প্রদান করবে।

নিরমিত কলা ও দুধ খাবেন

ওজন
কলা খেলে ওজন বাড়বেই কারণ এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি।

কলা ওজন বাড়ানোর জন্য খুব উপকারী একটা ফল তাই প্রতিদিন ৬-৭ টি কলা দুধের সাথে সকালের নাস্তায় খেতে পারেন।

তাছাড়া প্রতিবার খাবার গ্রহণের পর একটি কলা খেতে পারনে যা আপনার হজম ক্রিয়া বাড়াতে সাহায্য করবে।

বেশী পরিমাণ পানি পান করুন

ওজন
পানি পান করার পরিমাণ বাড়িয়ে দিন।

শরীরকে পরিবর্তন করতে চাইলে শরীরকে আর্দ্র রাখা খুব প্রয়োজন।

তাই প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুন।

প্রতদিন ২-৩ লিটার পানি পান করুন।

পর্যাপ্ত ঘুমান


ঘুম দেহ গঠনের জন্য আবশ্যক তাই প্রতিদিন কম পক্ষে ৭-৮ ঘন্টা ঘুমান। রাতে কখনো দেরী করে ঘুমাবেন না। আবার সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে যান। আপনি যতই খাবার খেয়ে থাকেন তা উপকারে আসবে না। কারণ ঘুমের সময় দেহ কোষ গঠনের কাজ চলে আর ভালো ঘুম না হলে পরিপাক ক্রিয়ায় সমস্যা দেখা যায়।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন

আপনি হয়তো ভাবছেন রোগা পাতলা মানুষের কিসের ব্যায়াম? তাহলে এটা জেনে রাখুন আপনি ভুলের সাগরে বাস করছেন, কিছু বিশেষ ব্যায়ামে আপনার পেশী তৈরি ও ওজন বাড়িয়ে দিবে। ব্যায়াম ক্ষুধা বাড়াতে সাহায্য করে। শরীরকে ফিট রাখতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৪৫ মিনিট ব্যায়াম করুন। হাঁটতে পারেন বা ওজন বাড়ানোর ব্যায়াম গুলো করতে পারেন। এছাড়া আউটডোর খেলায় অংশ গ্রহণ করতে পারেন। শরীরের ওজন বাড়াতে খাবারের তালিকায় উচ্চ ক্যালোরি যুক্ত খাবার রাখতে হবে। তবে এটা মনে রাখেন এই ধরনের বাড়তি ক্যালরি গুলো অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে নিতে হবে। যেসব খাবার প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ যুক্ত সে সব খাবার গুলো খাবেন। এসব খাবার আপনার শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করবে ও ওজন বাড়াবে। এর সাথে দৈহিক ব্যায়াম আপনার দেহের সুস্থ্যতা নিশ্চিত করবে।

আমাদের সমস্যা হল আমরা ২/৩ দিন ঠিক মত চলার পর আবার আগের রুটিন মত চলতে থাকি।

ফলাফল আমরা আমাদের শরীরের কোন পরিবর্তন দেখতে পাই না।

একটা জিনিস সবসময় মনে রাখতে হবে কষ্ট না করলে ভালো কোন ফলাফল পাওয়া যায় না। সুতরাং নিয়ম মেনে চলুন।

আশা করি এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনাদের উপকার হবে।