বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত ৭ টি পন্থা যা আপনাকে সব সময় সুখে রাখবে।

বৈজ্ঞানিক

আপনি হয়তো ভাবছেন এটা কি-ভাবে সম্ভব ???

সত্যিই কি সব সময় সুখে থাকা যায় ???

কিভাবে এটা কাজ করে ??

উপরের লেখাটি পড়ার পর এই প্রশ্ন গুলো মাথায় ঘুরপাক খাবে এটাই স্বাভাবিক। এখন সেই ৭ টা পন্থা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো যা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত ।

ব্যায়াম করা

ব্যায়াম হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পন্থা যা একাধারে শরীর আর মন দুইই ভালো রাখতে সাহায্য করে। আপনি যখন ব্যায়াম করবেন তখন আপনার শরীরের কোষ গুলো সতেজ থাকবে আর আপনাকে করে তুলবে প্রাণচঞ্চল। যা আপনার মানসিক বিকাশে সহায়তা করবে। দ্যা ইউনিভার্সিটি অফ টরন্টো তাদের একটি গবেষণায় কিছু দুঃচিন্তা গ্রস্থ মানুষ কে তিনটি গ্রুপে ভাগ করে পরিক্ষা করে দেখলো ১ম গ্রুপ কে দিয়ে প্রতিদিন ব্যায়াম করানো হত, ২য় গ্রুপকে স্বাভাবিক ভাবে জীবন অতিবাহিত করতো এবং ৩য় গ্রুপ দুইটা মিলিত ভাবে করতো। তিন গ্রুপ স্বাভাবিক ভাবে সুখে ছিলেন কিন্তু ৬ মাস পর দেখা গেলে ১ম গ্রুপের ডিপ্রেশন ৯% অন্য গ্রুপ গুলো যথাক্রমে ২য় ও ৩য় ৩৮% থেকে ৩১%। তাই এটা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত যে প্রতিদিন ব্যায়াম আপনাকে মানসিক ভাবে সুস্থ্য রাখতে সাহায্য করবে।

ইতি-বাচক চিন্তা ভাবনা

ইতি-বাচক চিন্তাভাবনা আপনাকে নিজের প্রতি বিশ্বস্ত করে তুলবে। ইতি বাচক চিন্তা আপনার মস্তিষ্কের শক্তি বাড়ায় যা আপনার কাজ করার ক্ষমতা ৩১ গুন বাড়িয়ে দেয়। ধরুন আপনি একটা কাজ করার আগে চিন্তা করলেন কাজ টা অনেক সহজ তার মানে এই না যে সত্যি কাজ টা সহজ ছিলো। আপনার চিন্তা শক্তির প্রবলতার জন্য কাজ টা ৫০% সহজ হয়ে গেলো।

বিরূপ ধারনা বা চিন্তা পরিহার

গবেষণায় দেখা গেছে বিরূপ চিন্তা ভাবনার মানুষ গুলো অনেক বেশী অসুখী হয়ে থাকেন। কারন এক সময় এই মানুষ গুলো নিজের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। ইউনিভার্সিটি অফ মাদ্রিদ তাদের এক গবেষণায় বিরূপ চিন্তা গুলো একটা কাগজে লিখে সে গুলো পুড়ে ফেলত। প্রতিদিন এইভাবে পুড়তে পুড়তে দেখা গেলো এই ধরনে চিন্তা আর থাকে না এবং এটা অনেক বেশী কার্যকর। প্রতিদিন এই কাজ করার জন্য মনবিজ্ঞানীরা পরামর্শ দেন।

প্রতিদিন লিখবেন আপনি কি কি কারনে সুখী

বিজ্ঞানিরা আমাদের মস্তিষ্ক থেকে গবেষণা করে দেখলেন আমাদের খারাপ চিন্তা গুলো যেমন অসন্তোষ, ব্যার্থতা, অনেক বেশী চাহিদা এইসব কারন গুলো আমাদের অসুখী করে তোলে। তাই প্রতিদিন আপনি কি কারনে সুখী সে কারন গুলো কাগজে লিখে রাখবেন। প্রতিদিন কোন না কোন ভাবে মানুষ কে সহায্য করার চেষ্টা করবেন। ঘুম থেকে উঠার সময় তিনটা জিনিস মনে করার চেষ্টা করবেন গতকাল আপনি কি কি ভালো কাজ করেছিলেন এবং সে কাজ গুলো করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছেন। যেমন আপনি আপনার সহকর্মিকে তার কাজে সাহায্য করতে পারেন। তাকে মানসিক সাপোর্ট দিতে পারেন এই কাজ গুলো আপনাকে মানসিক শান্তি দিবে যা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত।

মনোযোগ সহকারে অনুশীলন করা

মনোযোগ সহকারে অনুশীলন বলতে বুঝায় আপনার বর্তমান সময়ের উপর পূর্ণ নজর দেয়া। যখন আপনি এটা প্রতিদিন অনুশীলন করবেন তখন এটা আপনার ব্যাবহার কে নিয়ন্ত্রণ করবে, চাপের মাত্রা কমাতে সাহায্য করবে এবং আপনাকে সুন্দর জীবন অতিবাহিত করতে সাহায্য করবে । আপনার সফলতার উপর মননিবেশ করুন যা আপনাকে অনেক ভালো অনুভূতি দিবে। হার্ভার গবেষক ম্যাট কিলিংসওর্থ  ১৫ হাজার মানুষের উপর গবেষণা করে তা প্রমাণ করেন।

প্রতিদিন নিয়মিত ঘুমানো

নিয়মিত ঘুম একজন মানুষের মস্তিষ্ককে শীতল রাখে যা একটা মানুষকে ভালো উদ্দীপনা দিতে সাহায্য করে। মানুষ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন তার নেতিবাচক ব্যাপার গুলো কম কাজ করে আর এভাবে নিয়মিত ঘুমালে নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা কমে যাবে। ডঃ রবার্ট স্টিকগোল্ড  একদল ছাত্রের উপর গবেষণা করেন। গবেষণায় ছাত্রদের একটা নেতিবাচক শব্দের তালিকা দেন তারপর তাদের তা মনে রাখার জন্য বলেন। যে ছাত্র গুলো নিয়মিত ঘুমাতো তারা মাত্র ৩১% মনে রাখতে পেরেছে আর যারা নিয়মিত ঘুমাতো না তারা ৮১% মনে রাখতে পেরেছে। তাই এই গবেষণা থেকে প্রমাণিত যে নিয়মিত ঘুম একটা মানুষের নেতিবাচক মনোভাব এর উপর প্রভাব ফেলে।

মানুষকে সাহায্য করতে নিজেকে উৎসর্গ করুন

মানুষকে সাহায্য করার মধ্যে যে মানসিক শান্তি থাকে তা অন্য কোথাও থেকে আসেনা। যে মানুষটি অনাহারে দিন কাটাচ্ছে তার মুখে এক মুঠো ভাত তুলে দিয়ে ঐ মানুষটিকে যেভাবে খুশি করতে পারবেন তা অন্য কোথাও পাবেন না। এভাবে ছোটছোট সাহায্য গুলো আপনাকে অনেক বেশী  মানসিক শান্তি দিতে পারবে।