অভিভাবক-দের উদ্দেশ্যে কিছু জরুরি কথা।

অভিভাবক

“বাবা-মা”

আমি তোমাদের অনেক কষ্ট দিয়েছি। আমার কারণে তোমারা কারো কাছে মুখ দেখাতে পারছ না। আমি শুধু তোমাদের কষ্টই দিলাম। বিশ্বাস কর আমি অনেক পড়েছিলাম কিন্তু কি হল বুঝতে পারলাম না। রেজাল্ট শোনার পর থেকে মনে হচ্ছিল পৃথিবীটা কেমন দুলছে। একটু আগে তোমারা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলছিলে যাই রেজাল্ট হোক। দুশ্চিন্তা কর না। সেই তোমরা হঠাৎ করে কেমন যেন হয়ে গেলে। আমাকে একটুও বুঝলে না। আমি কি এতই খারাপ যে আমার কথাটাও শুনলে না? আমি আর তোমাদের কষ্ট দিতে চাইনা। আজকের পর থেকে আমাকে নিয়ে আর তোমাদের লজ্জা পেতে হবে না। ভালো থেকো তোমরা।

ইতি

তোমাদের…।

চিঠিটা কি পরিচিত লাগছে আপনাদের কাছে?

২০১৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের পর বেড়েছে আত্মহত্যার সংখ্যা। অনেক ছোট ছোট ভাইবোনেরা চলে গেছে না ফেরার দেশে। অনেকে আত্মহত্যা করেছে এ প্লাস না পেয়ে অনেকে আত্মহত্যা করেছে ফেল করে। ওদের এই চলে যাওয়ার পেছনে কাদের দায়টা সবচেয়ে বেশি? বলতে পারবেন??

আমাদের বয়স যখন স্কুলে পড়ার তখন থেকে প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দেন অভিভাবক। “তোমাকে এই স্কুলে পড়তেই হবে”। অনেকে কাঙ্ক্ষিত স্কুলে পড়ানোর জন্য ক্লাস ড্রপ দেয়ায় নিজের সন্তানকে। তখন এটা মাথায় একবারও আসে না সে কি অনুভব করছে? সে কি এতো চাপ নিতে পারবে? সেই যে শুরু হয় শিক্ষা যুদ্ধ তা চাকরি যুদ্ধে গিয়েও যেন শেষ হতে চায় না।

প্রতি ক্লাসে তোমাকে প্রথম হতে হবে। ও পারলে তুমি কেন পারবে না? এমন হাজারও প্রশ্নের ভেতরে সন্তানের মনের কথা শোনার মত সময় কারো থাকে না। তাই হয়তো তাদের মৃত্যুর পর তাদের কথা গুলো চিঠির মাধ্যমে দেখতে পান। কোন ছাত্র যদি পরীক্ষায় ১০০ তে ৫০ পায় তাহলে তাকে বকা অথবা অপমান না করে এটা অনুসন্ধান করুন সে কেন কম পেয়েছে? কম পাওয়ার কয়েকটা কারণ থাকাতে পারে। যেমনঃ

১। ঐ বিষয়ে সে মনোযোগী ছিল না।

২। সে ফাঁকি বাজি করেছে।

৩। তার এই বিষয়ে পড়তে ভালো লাগে না।

৪। কোন কারণে সে মানসিক ভাবে ভালো নেই।

উপরের কারণ গুলোর ভেতরে শুধু ২ নম্বর কারণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের বকা দেয়া হয়। কিন্তু কখন বাকি গুলো নিয়ে চিন্তা আসে না। সব গুলো বিষয় নিয়ে তার সাথে কথা বলা দরকার। বকা দিয়ে কখন কোন ভালো কিছু হয় না। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় প্রতিটি শিক্ষার্থী এক ভিন্ন মানসিকতার মধ্য দিয়ে যায়। খুব নড়বড়ে থাকে চিন্তা চেতনাগুলো। উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল অনেক কিছু নির্বাচন করে দেয়। ফলাফল পেয়ে তাই অনেকে হতাশায় পরে যায়। সেই মুহূর্তে তার পাশে না দাড়িয়ে তার সাথে অপমানসূচক কথা বলা সত্যি নির্মম।

পাড়া-প্রতিবেশী এবং আত্মীয়রা বিভিন্ন ধরনের উস্কানিমূলক কথা বলে ফেলেন কোন আশানুরূপ ফল না পাওয়া অভিভাবক দের সাথে। একবার কি এটা তাদের মাথায় আসে না এই কথা গুলোর প্রভাব অন্য কারো উপর আসতে পারে।

সবচেয়ে অবাক লাগে যখন তাদের কথা শুনে আমাদের অভিভাবক খারাপ ব্যাবহার করেন। যারা আপনার সন্তানকে খাওয়ায় না, পড়ায় না তাদের কথা শুনে আপনি আপনার সন্তানের সাথে খারাপ ব্যাবহার করেন, মারধর করেন। একজন শিক্ষার্থী যখন খারাপ ফলাফলের পর মাথা নিচু করে থাকে তখন তাকে আর কি বলার থাকতে পারে। সে যদি যথেষ্ট পরিশ্রম করে থাকে তাহলে তার ফলাফলে আপনি তার চেয়ে বেশি দুখী হতে পারেন না। সুইসাইড নোটগুলো পড়ে অনেক বেশি খারাপ লেগেছে অভিভাবকদের কথা ভেবে। আপনারা কি সন্তানকে আর একটা সুযোগ দিতে পারতেন না। আপনাদের সন্তান আপনাদের ভবিষ্যৎ। তাদের অবহেলা করবেন না।

আপনারা ক্ষমা না করলে আর কেউ নেই পৃথিবীতে ক্ষমা করার। সৃষ্টিকর্তার পর আপনারাই সন্তানের কাছে সব কিছু।

আপনি যদি চেষ্টা করেন তাহলে খুব সহজেই আপনার সন্তানের বন্ধু হতে পারেন। রাগ দেখিয়ে আপনি তাকে হয়তো বাধ্য রাখতে পারবেন, ভয় দেখাতে পারবেন। কিন্তু সে আপনাকে কখন বন্ধু ভাববে না। আর এটাই সবচেয়ে বড় ভুল। ভালবাসা দিয়ে একবার বলেই দেখুন সে আপনার জন্য কি করতে পারে।

আজ সারাবিশ্বে আইএস সন্ত্রাসীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। এই সংগঠনটির মূল নিশানা তরুণ তরুণী। কারণ এই সময় একজন মানুষের মানসিক অবস্থা দোদুল্যমান থাকে। খুব সহজে তাদের প্ররোচিত করা যায়। অভিভাবকরা যদি একটু সচেতন হতেন তাদের সন্তানের ব্যাপারে তাহলে আজ নিবরাস ইসলাম, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ  এর মত জঙ্গিদের সৃষ্টি হতনা। হলি আর্টিজানের  হামলায় অভিভাবকদের অবহেলা এবং সচেতনতা দুই দিকই ফুটে উঠেছে।

বাবামায়ের ভালবাসার উদাহরণ যেখানে আয়াজের মত বীর সেখানে অবহেলার উদাহরণ হিসেবে আছে নিবরাসের মত জঙ্গি। এখানে দুজনের বয়সই একরকম।

নিত্যদিনের বন্ধু ইন্টারনেট সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি?

ইন্টারনেট

বিজ্ঞানের অন্যতম আবিষ্কার গুলোর মধ্যে অন্যতম আবিষ্কার হলো ইন্টারনেট যা মানব সভ্যতা বিকাশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। বিশ্বের যোগাযোগ ব্যবস্থা দিন দিন অনেক উন্নতির সাথে সাথে বেড়েই চলেছে, এসব উন্নতির মূল সহায়কের নাম ইন্টারনেট। আমরা সবাই মনে করি ইন্টারনেট মানে অনলাইনে চলে যাওয়া সত্যিকার অর্থে এটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ছাড়া কিছু নয়। খুব কম সময়ের মধ্যে ইন্টারনেটের প্রসার ২১০টি আলাদা দেশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

শুধু উন্নত দেশ গুলো নয় দরিদ্র দেশ গুলোও ইন্টারনেটের আওতায় চলে এসেছে।

বিভিন্ন কম্পিউটারের মাধ্যমে ডাটা স্থানান্তরিত হয়ে তার গন্তব্যে পৌছানো হচ্ছে ইন্টারনেটের মূল ভিত্তি।

এক একটা আলাদা কম্পপিউটার একসাথে সংযুক্ত করার নাম হচ্ছে ইন্টারনেট।

একটি কম্পিউটার অন্য আরেকটির সাথে অনেক ভাবে সংযুক্ত হয়ে থাকে।

কিছু কম্পিউটার পুরাতন কপার ক্যাবল দ্বারা আবার কোন কম্পিউটার ফাইবার ক্যাবল দ্বারা কোন কম্পিউটার বেতার মানে তার বিহীন, এটি রেডিও তরঙ্গের  মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করে এবং কোন কম্পিউটার স্যাটেলাইটের সাথে সংযুক্ত থাকে।

এ কারণে আমরা খুব কম সময়ে ম্যাসেজ সুবিধা, ইমেইল সেবা আর বিভিন্ন মিউজিক ফাইলস ডাউনলোড করতে পারি।

ইন্টারনেট কিভাবে  উৎপন্ন হল

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ১৯৬৯ সালে ইন্টারনেট আবিষ্কার করেন।

টেলিফোনের বিকল্প হিসেবে যোগাযোগের জন্য গোপন এবং নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে এটী প্রতিরক্ষা বিভাগের গবেষণাগারে স্থান করে নেয়। এটি একটি টেলিফোন লাইন নির্ভর যোগাযোগ পদ্ধতি।

টেলিনেটওয়ার্কের সাথে কম্পিউটারের সংযুক্তি ঘটে ডেস্কটপ কম্পিউটার আবিষ্কার হওয়ার পর। ARPANET ছিলো এর নাম।

কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যেমে এক সময় নেটওয়ার্কের অনেক পরিবর্তন ঘটে। ইন্টারনেট ১৯৯০ এর দশকে ব্যাপক আকারে বিস্তার লাভ করে।

ইন্টারনেটের এই বিপ্লবে অপ্টিকেল ফাইবারের সহায়ক ভুমিকা অনেক বেশী। মাত্র ৮ টি কম্পিউটারের সংযোগ ঘটিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ যে ব্যবস্থা শুরু করে ছিলেন তা পরের তিন বছরের মধ্যে বেড়ে ৩৬টিতে দাঁড়ায়।

মার্কিন ন্যাশনাল সাইন্স ফাউন্ডেশন ১৯৮৪ সালে সর্বসাধারনের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালু করে যা সারাবিশ্বে খুব কম সময়ে ছড়িয়ে পড়ে।

ইন্টারনেট বাণিজ্যিক ভাবে শুরু হয় ১৯৯৩ সালে। খুব স্বল্প সময়ে এটি অনেক বিস্তার লাভ করে।

ইন্টারনেটের সৃষ্টি ১৯৬৯

ইন্টারনেট দিয়ে যেভাবে তথ্য আদান প্রদান হয়ে থাকে

আপনি যখন অন্য একজন কে রিং করেন টেলিফোনের মাধ্যমে তখন আপনি যাকে কল করেছেন তার আর আপনার মধ্যে সরাসরি কানেকশান(বা সার্কিট) স্থাপন হয়।

আপনি যতক্ষণ লাইনে থাকবেন ততক্ষণ এ সার্কিটটি ওপেন থাকবে। এ পদ্ধতির নাম সার্কিট সুইচিং।

কোন সময়ে কার কথা পাঠানো হবে বা শোনা যাবে তা নিয়ন্ত্রিত হয় টেলিফোন এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে। এখানে একটা ব্যাপার লক্ষণীয় যখন আপনি অন্য একজনের সাথে ফোন কলে আছেন তখন অন্য কেউ সংযুক্ত হতে পারবে না। বা ধরুন আপনি কলে রেখে অন্য একটা কাজে ব্যাস্ত হয়ে গেলেন আপনার থেকে অন্য পাশে কোন তথ্য যাচ্ছে না তবুও আপনার প্রত্যেক সেকেন্ডের জন্য চার্জ কাটা হবে।

ইন্টারনেট টেলিফোন নেটওয়ার্কের মত কাজ করে।

তাই টেলিফোন নেটওয়ার্ক বা সার্কিট সুইচিং পদ্ধতি আদর্শ নেটওয়ার্ক হতে পারে না।
ইন্টারনেট কানেকশন ক্যাবল
তাহলে এখন জেনে নেওয়া যাক ইন্টারনেট কিভাবে তথ্য বহন করে- ইন্টারনেট যে পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে তা হলো প্যাকেট সুইচিং বেশীর ভাগ ইন্টারনেট তথ্য আদান প্রধান করে প্যাকেট সুইচিং এর মাধ্যমে।

এ পদ্ধতির মাধ্যমে আপনি ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকলেও কোন চার্জ কাটা হয় না।

যেমন ধরুন আপনি কাউকে একটা মেইল করবেন তার জন্য আপনি ইন্টারনেট চালু রেখে মেইলটি লিখতে থাকবেন তার জন্য অনেক সময় লাগতে পারে, আর এই সময়ের জন্য কোন চার্জ আপনাকে দিতে হবে না। আবার আপনি কাউকে একটা মেইল পাঠাবেন তাকে আপনার সাথে কানেক্টেড থাকতে হবে না সম্পুর্ন মেইলটি পাওয়ার জন্য।

মেইলটি পাঠানোর পরে প্যাকেট সুইচিং অনেক গুলো খন্ডে বিভক্ত হয়ে যায় আর একে বলে প্যাকেটস।

প্রত্যেকটি প্যাকেট আলাদা আলাদা পথে ভ্রমণ করতে পারে এবং প্যাকেটস গুলোতে ট্যাগ করা থাকে তাদের কোথায় কোথায় যেতে হবে।

খণ্ডগুলো গন্তব্যে পৌঁছানোর পর আবার একসাথে একত্রিত হয় যাতে তা মেইল রুপে রুপান্তরিত হয়।

ইন্টারনেট অনেক সময় সার্কিট সুইচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে।

যদি ডায়াল-আপ কানেকশান যেমন সধারন টেলিফোন কলের মত ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন্য একজনের সাথে সংযুক্ত হতে হলে আপনি এবং যার সাথে যুক্ত হবেন তাকেও ইন্টারনেটের সংযোগে থাকতে হবে।

ইন্টারনেটের ব্যবহার

– ওয়েব: কম্পিউটারে রাখা তথ্যাবলি ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে দেখার পদ্ধতি হচ্ছে ওয়েব।

–  চ্যাট: দুই বা ততোধিক ব্যক্তির অনলাইনে কথা বা  আড্ডা দেওয়া।

–  নেট নিউজ: রক্ষিত সংবাদ যা ইন্টারনেটের তথ্য ভান্ডারে  রক্ষিত থাকে।

– ই-ক্যাশ: অর্থনৈতিক লেনদেন ও বাণিজ্যিক সুবিধা।

–  ইউজনেট: সবার জন্য উন্মুক্ত তথ্য ভান্ডার।

–  ই.মেইল: ইলেকট্রনিক্স মেইল বা ই-মেইল হচ্ছে খুব কম এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম।

ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক যার সংক্ষিপ্ত নাম হচ্ছে ইন্টারনেট। বর্তমান সময়ের যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি বহুল জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ইন্টারনেট।

এই পদ্ধতিটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণাগার, সংবাদ সংস্থা, ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান সমুহ লাখ লাখ গ্রাহক ইন্টারনেটের মাধ্যেমে যুক্ত হয়ে তাদের পরস্পরের সাথে অনেক বড় পরিসরে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।

কম্পিউটার, মোবাইল ফোন বা অনুরূপ ডিভাইস দিয়ে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত তথ্য সংগ্রহ খুব দ্রুততার সাথে করা যায়।

ইন্টারনেটের জন্য দরকার কম্পিউটার বা সমমানের ডিভাইস, মডেম আর ইন্টারনেট সংযোগ।

সারাদেশে চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব, জেনে নিন এই নতুন রোগের সম্পর্কে

চিকুনগুনিয়ার জন্য এডিস মশা দায়ী

চিকুনগুনিয়া একটি মশা বাহিত রোগ।২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশের কিছু এলাকায় চিকুনগুনিয়া রোগটি দেখা দিয়েছিলো। কিন্তু সম্প্রতি এ রোগটি ব্যাপক হারে বাংলাদেশের বেশীর ভাগ জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। চিকুনগুনিয়া রোগের বাহক হচ্ছে এডিস মশা যা ডেঙ্গু জরের বাহক। মানব দেহ থেকে মশায় আর মশা থেকে মানব দেহে ছড়িয়ে থাকে। তবে খুব ভয়ের কিছু নেই কারণ চিকিৎসকরা বলেছেন চিকুনগুনিয়া ডেঙ্গু জ্বরের মত প্রাণঘাতী না। আগে নিশ্চিত হওয়া দরকার আপনার এ রোগটি হয়েছে কিনা আর যখনি আপনার শরীরে চিকুনগুনিয়া ধরা পরবে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা করাতে হবে। চিকিৎসার পাশাপাশি চিকুনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত রোগীর অনেক বেশী বিশ্রাম নিতে হবে। চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত রোগীকে কোনভাবে যাতে আন্টিবায়েটিক দেওয়া না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

চিকুনগুনিয়া কি ?

এ রোগটি প্রথমে তানজানিয়া নামে আফ্রিকান একটি দেশে দেখা যায়।তাই এ রোগের নাম দেওয়া হয় চিকুনগুনিয়া। চিকুনগুনিয়া শব্দটি এসেছে ঐ দেশের ভাষা থেকে যার অর্থ বেঁকে যাওয়া। চিকুনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত রোগিদের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বেঁকে যায়। তাই এমন নাম করণ করা হয়েছে। এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ।এই ভাইরাস রক্তের লোহিত কণিকা যেমন ফাইব্রোব্লাস্ট মেকরোফেজ নামক রক্ত কণিকাকে আক্রমণ করে। ভারতের কলকাতা থেকে এই ভাইরাসটি বাংলাদেশে আসে যদিও এটির উৎপত্তি আফ্রিকায়। এখন এ রোগটি বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলে বিস্তার লাভ করছে। রাজধানী ঢাকায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে।

চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ গুলো

১। পা থেকে মাথা পর্যন্ত সারা শরীরে লাল দাগ দেখা দেওয়া। এ লাল দাগ গুলো প্রথম দিকে অনেক বেশী চুলকায় ।
২। হাঁটু এবং পায়ের পাতা অনেক ব্যাথা হয় যার কারণে হাঁটা অনেক কষ্টকর হয়ে যায়।
৩। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অসহ্যকর ব্যথা হয়। হাত পা বেঁকে আসে। পায়ের আঙ্গুল, হাতের আঙ্গুল ব্যথার কারণে অনেক বেশি ফুলে যায়।

৪। অনেক বেশী তাপমাত্রা বেড়ে যায় যার পরিমাণ ১০৪ ডিগ্রি হবে।
৫। অনেক জনের ক্ষেত্রে মেরুদণ্ড ব্যথা হতে পারে। তাই বিছানা থেকে উঠা অনেক কষ্টকর হয়ে যায়।

 

চিকুনগুনিয়ার চিকিৎসা

চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত রোগীর চলফেরা অর্থাৎ হাঁটা একদম নিষেধ। যদি কোন বিশেষ প্রয়োজনে হাঁটতে হয় তবে সিঁড়ি বেয়ে উঠানামা করা সম্পূর্ণ নিষেধ। উঁচু কোন জায়াগায় উঠানামা নিষেধ। উপরে লক্ষণ গুলো আপনার মধ্যে দেখা গেলে বুঝে নিতে হবে আপনি চিকুনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। খুব বেশী ভেঙ্গে পড়বেন না। কারণ চিকুনগুনিয়া জ্বর সাত থেকে আট দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। আর এ জন্য সাত থেকে আটদিন শরীরের বিভিন্ন অংশে অনেক বেশী ব্যথা থাকতে পারে। এ ব্যথা এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। মাঝে মাঝে অনেক চিকিৎসক প্যারাসিট্যামল খাওয়ার পরামর্শ দেন। এখন পর্যন্ত জ্বর কমানোর জন্য কোন ঔষধ আবিষ্কার হয়নি। ব্যথা কমানোর জন্য কোনভাবেই আন্টীবায়েটিক সেবন করা যাবে না। চিকুনগুনিয়ায় মৃত্যু ঝুঁকি নেই। চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত হলে খুব বেশী উদ্বিগ্ন না হয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে
১। ঘরের আশেপাশে ফুলের টবে বা ড্রেনে জমে থাকা পানি প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে।

২। মশারী ব্যবহার করতে হবে।

৩। বাসার আশেপাশে ময়লা আবর্জনা স্তূপ থাকলে তা অনেক দিন জমিয়ে না রেখে আগুনে পুড়ে ফেলা উচিৎ, বা গর্ত করে পুতে ফেলতে হবে।

ঘর বাড়ি সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে

৪। ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে হবে।

৫। সরকারকে  জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম চালু করতে হবে এবং দেশের পরিবশের উপর নজরদারি বাড়াতে হবে।

 

আপনি পারেন আপনার নিজের আর চারপাশের মানুষ গুলোকে এই রোগ থেকে বাঁচাতে। কারণ একটু সচেতন হলে এ রোগের সংক্রমণ কমে যাবে সবাই যদি একসাথে এগিয়ে না আসি তাহলে এই রোগটি আরও খারাপ ভাবে ছড়িয়ে পড়বে।

 

 

চেস্টার বেনিংটন- Name of My inspiration

চেস্টার

বেনিংটন” নামটার সাথে এখন তো সবাই পরিচিত। যারা চেষ্টারের গান শোনেনি তারাও এখন খুব ভালো করে চেনেন। আমি লিঙ্কিন পার্কের গান শুনেছি যখন আমার বয়স ১৪/১৫। যখন চেষ্টারের গান শুনতাম সত্যি বলতে জানতাম না চেষ্টার কে। লিঙ্কিন পার্ক ব্যান্ডের নামটাই শুধু পরিচিত ছিল আমার কাছে। রকস্টার আর রক গান কি তা এই গায়ক আমাদের বুঝিয়েছে। অনেক ধরনের গান আছে যেগুলো গাইতে কণ্ঠে অনেক সুর থাকতে হয় কিন্তু রকগান গাওয়ার জন্য শুধু কণ্ঠ থাকলে হয়না থাকতে হয় অসম্ভব আবেগ।

Chester Bennington
Chester Bennington
সূত্রঃ hdwallpaperbackgrounds.net

হিন্দি “রকস্টার” সিনেমা তে দুইটা ডায়ালগ আছে প্রথমটার বাংলা করলে দাড়ায়- “ভেঙ্গে যাওয়া হৃদয় থেকেই গান আসে, যখন হৃদয় ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যায় তখনি বাজে গানের ঝঙ্কার”। আর দ্বিতীয়টা- “যতদিন জীবনে কষ্ট না আসে কেউ জীবনে বড় হতে পারে না”।

-Imtiaz Ali film Dialogues, Rockstar
Rockstar Movie
সূত্রঃ lifenlesson.com

কথাগুলো যেন মিলে যায় প্রয়াত চেস্টার সাথে। তাঁর জীবনের আদ্যোপান্ত লক্ষ্য করলে বোঝা যায় কতটুকু কষ্টের ভেতর দিয়ে পার করেছে ৪১ বছর। ৭ বছর বয়সে প্রথম ধাক্কা পায় জীবন থেকে। যৌন নিপীড়নের শিকার হন চেষ্টার এবং তা চলতে থাকে কয়েক বছর ধরে, শিশু মনে ভীষণ দাগ কাটে ঘটনাটি। স্কুলের বন্ধুদের দ্বারাও নিপীড়নের শিকার হন তিনি। ১১ বছর বয়সে দেখেন বাবা মার বিচ্ছেদ। যার শৈশব এতো কষ্টের ছিল সে কি করে জীবনে ভালো থাকবে। একাকীত্ব গ্রাস করে তাঁকে। বাবা মার বিচ্ছেদের পর চেষ্টার তাঁর বাবার সাথেই থাকতে লাগলেন। শৈশব কালে তিনি কোন প্রকার মাদকের শরণাপন্ন হননি। অভিভাবক, বন্ধুহীন এবং একাকীত্ব জীবনের জন্য মাদকদ্রব্য হয়ে যায় তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী। একসময় তিনি এ মরণ ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসেন কিন্তু পরবর্তিতে নিজের কাছে হেরে যান আবার একই পথ বেছে নেন তিনি। তার জন্মস্থান এরিজোনা থেকে একসময় তিনি লস এঞ্জেলেসে চলে আসেন।

 

Rockstar Chester Bennington Quotes
Rockstar Chester Bennington
সূত্রঃ pinterest.com

চেস্টার-এর গান নিয়ে পথ চলা

ব্বইয়ের দশকে লিঙ্কিন পার্কের সাথে যুক্ত হয়ে অনেক যশ কামান, মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন চেস্টার। তার প্রথম এ্যালবামের নাম ছিল “হাইব্রিড থিওরি”। এই এ্যালবামের সাড়া জাগানো গান গুলো হচ্ছে ‘’ক্রলিং’’, ‘’ওয়ান স্টেপ ক্লোজার’’, ‘’ইন দ্যা এন্ড‘’ এবং ‘’পেপারকাট’’ যা অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করে। সফলতার স্বর্ণ শিখরে এসেই পুনরায় মাদকাসক্ত জীবনে ফিরে যান তিনি। আবার ২০০৬ সালে ত্যাগ করেন। ধরা হয় মাদকতা আর একাকীত্ব তার আত্মহত্যার কারণ। হয়তবা সে সুন্দর জীবন পেতে পারত কিন্তু অভাব ছিল ভালবাসার

চেস্টার-এর বৈবাহিক জীবন

মানুষটির জীবনে দরকার ছিল অঢেল ভালবাসার। ১৯৯৬ সালে ২৩ বছর বয়সে সামান্থা অলিট নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিচ্ছেদ তো চেস্টার এর সঙ্গী, ২০০৫ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয় তাদের। অনেক কষ্ট পান তিনি। ২০০৬ সালে তালিন্দা বেন্টলিকে বিয়ে করেন। তাঁর তিন জন সন্তান রয়েছে তালিন্দার সাথে। কিন্তু তারপরও সুখ আসেনি তাঁর জীবনে হতাশা থেকে তিনি উঠে দাড়াতে পারেননি। চেষ্টারের লিখিত অনেক গান আছে। ২০১৭ তে প্রকাশ পাওয়া “হেভি” গানের কথাগুলো ছিল বেনিংটনের হৃদয়ের কথা।

Linkin Park "Heavy" featuring Kiiara
Linkin Park “Heavy” featuring Kiiara
সূত্রঃ breatheheavy.com

I’m holding on

Why is everything so heavy?

Holding on

To so much more than I can carry

জীবন ধারন করা তাঁর জন্য হয়ে গিয়েছিল অনেক ভারি, নিজে যতটুকু বহন করতে পারে তাঁর চেয়েও যেন অনেক ভারি ছিল সব কিছু। গানটির ভিডিওতে দেখা যায় চেষ্টার নিজের সাথে নিজে যুদ্ধ করছেন। ক্লান্ত হয়ে যান এক পর্যায়ে। কিন্তু সেই যুদ্ধের শেষ হয়নি।

“হাফ এওয়ে রাইট” গানটির কথা তাঁর মানসিক অবস্থার বহিঃপ্রকাশ। প্রথম লাইন বাংলানুবাদ করলে দাড়ায়- “আমি নিজের সাথে চিৎকার করি যখন আর কেউ থাকে না লড়াই করার জন্য।”

I scream at myself when there’s nobody else to fight

I don’t lose, I don’t win, if I’m wrong, then I’m halfway right

“নোবডি কেন সেভ মি” গানটিও বেনিংটনের লেখা। খেয়াল করে দেখুন কি বলতে চেয়েছেন তিনি। এটা তাঁর সর্বশেষ অ্যালবামের একটি অন্যতম জনপ্রিয় গান।

I’m holding up a light

Chasing out the darkness inside

‘Cause nobody can save me

মন অনেক গানেই খুঁজে পাওয়া যাবে তাঁর হৃদয়ের আর্তনাদ। খুঁজে দেখতে পারেন। পারিবারিক ভাবে সুখী ছিলেন না সেটা আর বুঝতে বাকি নেই। ভালবাসার বন্ধন যদি তীব্র আর জোরালো হত তাহলে হারিয়ে যেতে পারতেন না তিনি। তাঁর প্রতিটি গানে বাঁচার ইচ্ছে ছিল কিন্তু কাউকে হয়তো পাননি সাহায্যকারী হিসেবে। গান ই ছিল তাঁর বাঁচার অবলম্বন। তাই চেষ্টার বেনিংটনকে এখন পাওয়া যাবে তাঁর গানের ভেতর। সঙ্গীত জীবনে গ্র্যামি এ্যাওয়ার্ড সহ অসংখ্য পুরুস্কার পাওয়া এই কিংবদন্তী মানুষ হিসেবে অসাধারণ ছিলেন।

“পেটা” নামক প্রাণী সংরক্ষণ মূলক সংস্থাটির সাথে উতপ্রত ভাবে জরিত ছিলেন, উনি মাছমাংস খাওয়া বন্ধ করে দেন। শরীরে উল্কি আঁকেন প্রাণীদের জন্য।

ছোট বেলার বেনিংটন
ছোট বেলার বেনিংটন
সূত্রঃ pinterest.com

চেস্টার- এর শৈশব

শৈশবে যেই মানুষ গুলো নির্যাতনের শিকার হয় তারা বড় হয়ে অপরাধের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। কিন্তু চেস্টার যেন অন্য ধাতুর তৈরি এক মহামানব। যেই ছেলেটির দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হন তাঁর ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। কারণ তিনি পরে জানতে পারেন যে ওই ছেলেটিও তাঁর মত নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। মানুষদের অনেক ভালবাসা দিয়েছেন যতোটুকু না পেয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর পর লিঙ্কিন পার্কের একটি খোলা চিঠিতে লেখা ছিল “আমাদের জীবনে তুমি হাসিখুশি এনে দিয়েছ। তোমার চলে যাওয়া আমাদের স্তব্ধ করেছে, হৃদয় ভেঙ্গে দিয়েছে”।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “যতক্ষণ আমি আমার বাইরে থাকি আমি ভালো থাকি কিন্তু যখন আমি আমার ভেতর থাকি আমি ভালো থাকি না। আমার হতাশা আমাকে ভালো থাকতে দেয়না, এটা শুধুই আমাকে নিচে নিয়ে যায়। আমি আমার সাথে সব সময় যুদ্ধ করি, যুদ্ধে হেরে গেলে আমি হয়তো আর বাঁচব না।”

পরিবারের শাথে বেনিংটন
পরিবারের শাথে বেনিংটন
সূত্রঃ pinterest.com

পারিবারিক ভাবে সুখে না থাকলেও পরিবারে জন্য তিনি সবটা করার চেষ্টা করেছেন। ২.৫ মিলিওন ডলারের একটি বাড়ি ক্রয় করেছেন গত মে মাসে। মে মাসের ১৮ তারিখে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ক্রিস আত্মহত্যা করে মারা যান।

চেস্টার সব দুঃখ সয়েছেন, হয়তো এই দুঃখটা তাঁকে আর ঠিক থাকতে দেয়নি। আমার মতে তাঁর আত্মহত্যার পেছনে এটাও একটা উল্লেখযোগ্য কারণ। ২০ জুলাই তাঁর গৃহকর্মী তাঁকে ফ্যানের সাথে ঝুলে থাকতে দেখে ড্রাইভারকে বলেন। ড্রাইভার ৯১১ এ সাহায্যের জন্য ফোন করেন। পুলিশ এসে দরজা ভেঙ্গে মৃতদেহ উদ্ধার করে।

প্রিয় বন্ধু ক্রিসের জন্মদিনে মারা যান তিনি। সব কিছু কি তাহলে তাঁর পরিকল্পনায় ছিল?

“চেস্টার বেনিংটন” তোমার শুধু শরীরের মৃত্যু হয়েছে কিন্তু তুমি চিরদিন বেঁচে থাকবে ভক্তের হৃদয়ে, বেঁচে থাকবে তোমার গানের কথা আর সুরে। আর তোমাকে জীবন বাঁচানোর যুদ্ধ করতে হবে না। যেখানে আছো ভালো থেকো। আর কোন কষ্ট যেন তোমাকে ছুঁতে না পারে। আত্মহত্যা নামক যে ভয়ঙ্কর কাজ তুমি করেছ তাঁর জন্য সৃষ্টিকর্তা তোমাকে ক্ষমা করুন সেই প্রার্থনা করি।

চেস্টারের একটা শখ আছে। মোটে একটাই শখ বেচারার। সেটা হল নতুন জুতা। এটার ভেতরেই আনন্দ খুঁজে পেত সে। কেউ নতুন জুতা উপহার দিলে অনেক খুশি হত।

chester bennington
Chester bennington quotes

পরিশেষে একটি কথা না বললেই নয়। আমার সপ্তম শ্রেণী পড়ুয়া একমাত্র ছোট বোনের জন্মদিন ছিল ২০ জুলাই। ও তোমার মস্ত বড় ভক্ত। এই তারিখটাকে অনেক বেশি মূল্যবান করে ফেলেছ তুমি। ভালো থেকো বন্ধু। যত দিন রক গান থাকবে এই পৃথিবীতে তার চেয়েও বেশি দিন মনে পড়বে তোমার কথা।

বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত ৭ টি পন্থা যা আপনাকে সব সময় সুখে রাখবে।

বৈজ্ঞানিক

আপনি হয়তো ভাবছেন এটা কি-ভাবে সম্ভব ???

সত্যিই কি সব সময় সুখে থাকা যায় ???

কিভাবে এটা কাজ করে ??

উপরের লেখাটি পড়ার পর এই প্রশ্ন গুলো মাথায় ঘুরপাক খাবে এটাই স্বাভাবিক। এখন সেই ৭ টা পন্থা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো যা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত ।

ব্যায়াম করা

ব্যায়াম হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পন্থা যা একাধারে শরীর আর মন দুইই ভালো রাখতে সাহায্য করে। আপনি যখন ব্যায়াম করবেন তখন আপনার শরীরের কোষ গুলো সতেজ থাকবে আর আপনাকে করে তুলবে প্রাণচঞ্চল। যা আপনার মানসিক বিকাশে সহায়তা করবে। দ্যা ইউনিভার্সিটি অফ টরন্টো তাদের একটি গবেষণায় কিছু দুঃচিন্তা গ্রস্থ মানুষ কে তিনটি গ্রুপে ভাগ করে পরিক্ষা করে দেখলো ১ম গ্রুপ কে দিয়ে প্রতিদিন ব্যায়াম করানো হত, ২য় গ্রুপকে স্বাভাবিক ভাবে জীবন অতিবাহিত করতো এবং ৩য় গ্রুপ দুইটা মিলিত ভাবে করতো। তিন গ্রুপ স্বাভাবিক ভাবে সুখে ছিলেন কিন্তু ৬ মাস পর দেখা গেলে ১ম গ্রুপের ডিপ্রেশন ৯% অন্য গ্রুপ গুলো যথাক্রমে ২য় ও ৩য় ৩৮% থেকে ৩১%। তাই এটা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত যে প্রতিদিন ব্যায়াম আপনাকে মানসিক ভাবে সুস্থ্য রাখতে সাহায্য করবে।

ইতি-বাচক চিন্তা ভাবনা

ইতি-বাচক চিন্তাভাবনা আপনাকে নিজের প্রতি বিশ্বস্ত করে তুলবে। ইতি বাচক চিন্তা আপনার মস্তিষ্কের শক্তি বাড়ায় যা আপনার কাজ করার ক্ষমতা ৩১ গুন বাড়িয়ে দেয়। ধরুন আপনি একটা কাজ করার আগে চিন্তা করলেন কাজ টা অনেক সহজ তার মানে এই না যে সত্যি কাজ টা সহজ ছিলো। আপনার চিন্তা শক্তির প্রবলতার জন্য কাজ টা ৫০% সহজ হয়ে গেলো।

বিরূপ ধারনা বা চিন্তা পরিহার

গবেষণায় দেখা গেছে বিরূপ চিন্তা ভাবনার মানুষ গুলো অনেক বেশী অসুখী হয়ে থাকেন। কারন এক সময় এই মানুষ গুলো নিজের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। ইউনিভার্সিটি অফ মাদ্রিদ তাদের এক গবেষণায় বিরূপ চিন্তা গুলো একটা কাগজে লিখে সে গুলো পুড়ে ফেলত। প্রতিদিন এইভাবে পুড়তে পুড়তে দেখা গেলো এই ধরনে চিন্তা আর থাকে না এবং এটা অনেক বেশী কার্যকর। প্রতিদিন এই কাজ করার জন্য মনবিজ্ঞানীরা পরামর্শ দেন।

প্রতিদিন লিখবেন আপনি কি কি কারনে সুখী

বিজ্ঞানিরা আমাদের মস্তিষ্ক থেকে গবেষণা করে দেখলেন আমাদের খারাপ চিন্তা গুলো যেমন অসন্তোষ, ব্যার্থতা, অনেক বেশী চাহিদা এইসব কারন গুলো আমাদের অসুখী করে তোলে। তাই প্রতিদিন আপনি কি কারনে সুখী সে কারন গুলো কাগজে লিখে রাখবেন। প্রতিদিন কোন না কোন ভাবে মানুষ কে সহায্য করার চেষ্টা করবেন। ঘুম থেকে উঠার সময় তিনটা জিনিস মনে করার চেষ্টা করবেন গতকাল আপনি কি কি ভালো কাজ করেছিলেন এবং সে কাজ গুলো করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছেন। যেমন আপনি আপনার সহকর্মিকে তার কাজে সাহায্য করতে পারেন। তাকে মানসিক সাপোর্ট দিতে পারেন এই কাজ গুলো আপনাকে মানসিক শান্তি দিবে যা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত।

মনোযোগ সহকারে অনুশীলন করা

মনোযোগ সহকারে অনুশীলন বলতে বুঝায় আপনার বর্তমান সময়ের উপর পূর্ণ নজর দেয়া। যখন আপনি এটা প্রতিদিন অনুশীলন করবেন তখন এটা আপনার ব্যাবহার কে নিয়ন্ত্রণ করবে, চাপের মাত্রা কমাতে সাহায্য করবে এবং আপনাকে সুন্দর জীবন অতিবাহিত করতে সাহায্য করবে । আপনার সফলতার উপর মননিবেশ করুন যা আপনাকে অনেক ভালো অনুভূতি দিবে। হার্ভার গবেষক ম্যাট কিলিংসওর্থ  ১৫ হাজার মানুষের উপর গবেষণা করে তা প্রমাণ করেন।

প্রতিদিন নিয়মিত ঘুমানো

নিয়মিত ঘুম একজন মানুষের মস্তিষ্ককে শীতল রাখে যা একটা মানুষকে ভালো উদ্দীপনা দিতে সাহায্য করে। মানুষ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন তার নেতিবাচক ব্যাপার গুলো কম কাজ করে আর এভাবে নিয়মিত ঘুমালে নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা কমে যাবে। ডঃ রবার্ট স্টিকগোল্ড  একদল ছাত্রের উপর গবেষণা করেন। গবেষণায় ছাত্রদের একটা নেতিবাচক শব্দের তালিকা দেন তারপর তাদের তা মনে রাখার জন্য বলেন। যে ছাত্র গুলো নিয়মিত ঘুমাতো তারা মাত্র ৩১% মনে রাখতে পেরেছে আর যারা নিয়মিত ঘুমাতো না তারা ৮১% মনে রাখতে পেরেছে। তাই এই গবেষণা থেকে প্রমাণিত যে নিয়মিত ঘুম একটা মানুষের নেতিবাচক মনোভাব এর উপর প্রভাব ফেলে।

মানুষকে সাহায্য করতে নিজেকে উৎসর্গ করুন

মানুষকে সাহায্য করার মধ্যে যে মানসিক শান্তি থাকে তা অন্য কোথাও থেকে আসেনা। যে মানুষটি অনাহারে দিন কাটাচ্ছে তার মুখে এক মুঠো ভাত তুলে দিয়ে ঐ মানুষটিকে যেভাবে খুশি করতে পারবেন তা অন্য কোথাও পাবেন না। এভাবে ছোটছোট সাহায্য গুলো আপনাকে অনেক বেশী  মানসিক শান্তি দিতে পারবে।

 

যে নয়টি উপায়ে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ানো যায়।

আপনার শরীর ঠিক রাখতে আপনি জিমে যান। শরীরের পেশীর সহনশীলতার জন্য পাহাড়ে উঠেন। অথবা এগুলোর কোনটাই হয়তো করেন না কিন্তু আপনি চান আপনার শরীর যাতে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করে। আপনি কি আপনার শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি নিয়ে এভাবে চিন্তা করেছেন? যদি না করে থাকেন তাহলে এখনি করা শুরু করুন।

চলুন দেখে নেই কি করে আপনি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দ্রুত কোন কিছু খুব জলদি শিখে ফেলতে পারবেন।

স্মৃতিশক্তি বাড়ানো

মানুষের মস্তিষ্ক অদ্ভুত এক জিনিস। যদি কারো ইচ্ছা শক্তি থাকে তাহলে সে তার মস্তিষ্কে অনেক তথ্য রাখতে পারে। এর মাধ্যমে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বেড়ে যায়। স্মৃতিচারণা মস্তিষ্কের খুব ভালো একটি ব্যায়াম। এতে করে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত হয়। আপনি হয়তো একজন ভালো নৃত্যশিল্পী নন কিন্তু আপনি আপনার বন্ধুদের কোন অনুষ্ঠানে দেখে আসা নৃত্য পরিবেশনার বিষয়ে খুঁটিনাটি সবকিছু বলতে পারেন। অথবা তারা জিজ্ঞেস করতে পারে আপনি জাদুঘরে কি কি দেখে এসেছেন। এই ধরনের অনুশীলন গুলো মস্তিষ্ককে অধিক কার্যকর করে তোলে।

প্রতিদিন নতুন কিছু শেখা

আপনি যত আপনার মস্তিষ্ককে কাজে লাগাবেন তত ভালো ফলাফল পাবেন। প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন। নিয়ম করে কিছু একটা শিখতে থাকুন যা আপনাকে প্রতিদিন নতুন কোন চ্যালেঞ্জে দেবে। উদাহরণস্বরূপ আপনি নতুন কোন ভাষা শিখতে পারেন অথবা বাদ্যযন্ত্র চালানো শিখতে পারেন।

চিনি এড়িয়ে চলুন

দীর্ঘমেয়াদী উচ্চ ফ্রুক্টোজ খাদ্য খাওয়া আপনার মস্তিষ্কের তথ্য স্মরণ করার ক্ষমতা পরিবর্তন করতে পারে। মস্তিষ্কে প্রচুর পরিমাণে মিষ্টি জাতীয় খাদ্য সংশ্লেষণমূলক কার্যকলাপকে ব্যাহত করতে পারে, যা পরিষ্কারভাবে ভাবতে ব্যাঘাত ঘটায়। ঠাণ্ডা পানীয়, চকলেট, আইসক্রিম এর পরিবর্তে দই অথবা মিষ্টি ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ুন।

মাছ খাওয়ার অভ্যাস গড়ুন

ওমেগা-৩ আমাদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়। এই খাদ্য উপাদানটি তৈলাক্ত মাছে পাওয়া যায়। সুইডেনে পরিচালিত ৪,০০০ টি কিশোর ছেলেদের একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে সপ্তাহে দুবার মাছ খাওয়ার কারণে ১০ শতাংশেরও বেশি বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধি পায়। বেশিরভাগ সামুদ্রিক মাছেই ওমেগা-৩ পাওয়া যায়। মানসিক কর্মক্ষমতা উন্নতি করার জন্য মাছের তেলের ক্ষমতার পিছনে সঠিক প্রক্রিয়া এখনও জানা যায়নি।

 পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান

আপনি হয়তো অনেক বেশি কর্মব্যস্ত তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে পারেন না। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা তাহলে ধীরে ধীরে কমে যাবে। আপনাকে অবশ্যই ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। যখন লুইবিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মান গবেষকরা ১৮ এবং ৩২ বছর বয়সে জটিল গণিত সমস্যার একটি গ্রুপে পুরুষদের এবং মহিলাদের একটি গ্রুপ দিয়েছেন, তখন তারা দেখেছে যে যারা পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমিয়েছে তারা সবচেয়ে দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধান করেছেন। নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা যথেষ্ট ঘুম নেবে তাদের দৃষ্টিশক্তি, স্মরণশক্তি এবং পুরুষ ও নারীর আবেগপূর্ণ তথ্য প্রেরণ প্রক্রিয়া সবচেয়ে ভালো।

 সাঁতার কাটুন

সাঁতার কাটার সময় শ্বাস ধরে রাখা আপনার মস্তিষ্কের রক্ত ​​প্রবাহ উন্নত করে। মস্তিষ্কে অনেক অক্সিজেন সরবরাহ করে যা এটা কে আরও বেশি কার্যকর করে তুলে। তাছাড়া আপনার পেশী শক্তিও বৃদ্ধি পাবে। সাঁতারকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যায়াম বলা হয়।

নেতিবাচক চিন্তা বন্ধ করুন

আপনার নিজের উপর বিশ্বাস করা শুধুমাত্র আপনার সামগ্রিক মঙ্গল জন্য ভাল নয় এটি আপনার মস্তিষ্ক বিভিন্ন অবস্থায় কতটা ভালভাবে সঞ্চালন করে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকরা পরীক্ষা-গ্রহণকারীদের প্রেরণা স্তর এবং আইকিউ পরীক্ষায় দক্ষতা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে সেরা, তারাও বেশ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেছেন। মনে রাখবেন ইতিবাচকতা আপনার মস্তিষ্ককে বেশী কার্যকর করে তোলে।

পানি পান করুন

অনেকক্ষণ ঘর্মাক্ত হয়ে কাজ করার ফলে আপনার মস্তিষ্ক খুলি থেকে কিছুটা সঙ্কুচিত হতে পারে। পানিশূন্যতার কারণে মাথা ঝিমঝিম, বমিবমি ভাব হওয়া এবং মস্তিষ্ক কার্যক্ষমতা হারাতে পারে। দৈনিক অবশ্যই ২-৩ লিটার পানি পান করুন। পানির অভাবে রক্ত সঞ্চালন কমে যায় ফলে মস্তিষ্ক যথেষ্ট পরিমাণে অক্সিজেন পায় না।

আজই ধূমপান ত্যাগ করুন

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা যখন ১৭২ জন পুরুষের আইকিউ পরীক্ষা করেছিলেন তখন তাদের মধ্যে কয়েকজন নিয়মিত ধূমপান করতেন এবং দেখা গেছে অধূমপায়ীরা ধূমপায়ীদের তুলনায় ভালো করেছে। তাদের গবেষণার মতে, তামাক ব্যবহারকারীর মানসিক কর্মক্ষমতা নিবিষ্ট মনে হচ্ছে। ধূমপান একজন ব্যক্তির সামগ্রিক চিন্তাভাবনার গতি মন্থর করে।

প্রিয় মানুষদের সাথে থাকুন

যদি আপনি উপযুক্ত জ্ঞানীয় দক্ষতা চান, তাহলে আপনার জীবনে অর্থপূর্ণ সম্পর্ক থাকতে হবে। অন্যদের সাথে কথা বলুন এবং আপনার প্রিয়জনের সাথে জড়িত থাকুন যা আপনাকে আরও স্পষ্টভাবে ভাবতে সহায়তা করবে এবং এটি আপনার মেজাজ তুলে ধরতে পারে। মানসিক শান্তি আপনাকে আরও বেশী দৃঢ় করে তুলতে পারে।

 

 

সত্যিকারের ভালবাসার সন্ধানে

সবাই হয়তো শুনে এসেছেন, ভালবাসার সংজ্ঞা নেই। অনেক মনীষী, মহারথীরাও একই কথা বলেছেন। কিন্তু আমি বলব ভালবাসার সংজ্ঞা অবশ্য আছে। সবাই এর গভীরতা উপলব্ধি করতে পারে না বিধায় এই কথা বলে। তাই হয়তো মানুষ সত্যিকারের ভালবাসার সন্ধান পায়না।

ভালোবাসা শব্দটা শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়। এই কথাটা আমরা ভুলে যাই। বাবা-মার ভালবাসাই আমাদের জীবনের প্রথম ভালবাসার অনুভূতি সৃষ্টি করে। এই লেখাটির মাধ্যমে আমি পাঠকদের বলতে চাই ভালবাসাকে শুধু সম্পর্ক কেন্দ্রিক না করে তার বিশালতাকে জানার চেষ্টা করুন।

বাবা-মা ও সন্তান

পৃথিবী মানুষগুলো এখন আর আগের মত নেই। কারো কাছে এখন কারো জন্য সময় থাকে না। দুঃখের বিষয় অভিভাবকদেরও সময় থাকে না তাদের সন্তানের ব্যাপারে। শুধু টাকাপয়সা দিয়ে দায়িত্ব পূরণ করা যায় না। সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখা, তাদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখা, পরীক্ষায় খারাপ ফলাফলের জন্য বকা না দেয়া এই কাজ গুলো করা হয়না। এখানে বাবামারা কিছু ভুল করে ফেলেন। আমি সবাইকে বলছিনা কিন্তু অধিকাংশের ক্ষেত্রে এরকমই হয়। অনেক বাবা-মা আছেন যারা সন্তানের জন্য সব কিছু করেন, অনেক ভালোবাসেন কিন্তু সেই ভালবাসা প্রকাশ করতে পারেননা। যা একদমই ঠিক না। আপনার ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ আপনার সন্তানকে মানসিকভাবে অনেক শক্ত করে তুলবে। কোন পরিস্থিতিতে সে হার মানবে না, তৈরি হয়ে উঠবে আপনার শক্তিশালী ঢাল হিসেবে।

সৃষ্টিকর্তার পর যাদের কাছে আমরা চিরঋণী, চিরকৃতজ্ঞ তারা হলেন বাবা-মা। তাদের ছাড়া আমাদের অস্তিত্বই সৃষ্টি হতোনা। তাদের যত্ন আর ভালবাসা না পেলে আমরা মানুষ হতাম না। বর্তমান সন্তানরা তাদের বাবা-মাকে সেই ভালবাসা ও সম্মানটা দিতে পারেনা যেটা তাদের দেয়া উচিৎ। মমতাময়ী মায়ের আঁচলে বড় হওয়া ছেলে-মেয়েগুলো ভুলে যায় মা না থাকলে তার কি হতো। মা যখন কাজ করে তখন খুব কম সন্তানই আছে তাকে সাহায্য করে। সন্তানের উচিৎ মায়ের সকল কাজে মাকে সাহায্য করা। যে মা সারাদিন কাজ করে তার শরীরের যত্ন নেয়া। একটা বয়সে মায়েদের হাড় ক্ষয় হতে থাকে তার জন্য তাকে ঠিক মত খাবার খাওয়ানো। তার যেকোনো দুঃখের সময় তার পাশে দাঁড়ানো। আমরা তাদের টাকাপয়সা দিয়ে সাহায্য করতে না পারলেও মানসিকভাবে শান্তি দিতে পারি। বাবা নামের মানুষ গুলো সারা জীবন আমাদের আগলে রাখতে চায়। তারা কিছুই চায় না সন্তানের থেকে। বাবা-মায়ের মর্ম আমরা বুঝতে পারিনা। অনেকে বুঝতে পারে যখন তারা আর পৃথিবীতে থাকে না। শুধু বাবা অথবা মা দিবসে তাদের ভালোবাসি বলা আমার মতে অন্যায়। যার বাবা-মার সাথে সম্পর্ক ভালো না সে আর যাই করুক না কেন ভাল মানুষ হতে পারবে না। বাবা-মা একটা সময় তাদের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। বাবা-মার প্রতি সত্যিকারের ভালবাসা নেই বলেই বৃদ্ধাশ্রম গুলো আজ সংখ্যায় বেড়েই চলছে।

ভাইবোন

বাবা-মার পর সবচেয়ে কাছের সম্পর্ক হল ভাইবোনের সম্পর্ক। এই সম্পর্কটা আমাদের কঠিন পথে চলতে সাহায্য করে। সত্যিকারের ভালবাসার মূলমন্ত্র হল নিঃস্বার্থতা। যা আমরা এখন ভুলে গেছি। ছোটোবেলায় যখন একসাথে থাকা হত তখন সম্পর্কের গভীরতা বোঝা যায় না। ধীরে ধীরে যখন মানুষ বড় হয় তখন তার মানসিকতা আর মূল্যবোধ পরিবর্তিত হয়। কারো ভাল দিকে হয় আবার কারো খারাপ দিকে। যখন সম্পর্কের ভেতর স্বার্থপরতা চলে আসবে তখনই সেখানে আর ভালবাসা থাকবেনা। ভাইবোনরা একে অপরের সাহায্যকারী। অধিকাংশ ভাইবোনের সম্পর্ক ভেঙে যায় সম্পত্তির ভাগ নিয়ে। সেটা যদিও অনেক নিচু মন মানসিকতার পরিচয় দেয় কিন্তু মানুষ সেটা করতে পিছপা হয় না। আপনারা একে অন্যকে আগলে রাখলে কেউ আপনাদের ক্ষতি করতে পারবেনা।

স্বামী-স্ত্রী

জীবনে জন্ম ও মৃত্যুর সাথে আর একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বিয়ে। বাবা-মা, ভাইবোনের সাথে আমরা আজীবন থাকি না। সাধারণত একজন ৭০ বছর বয়সের বিবাহিত মানুষের কাছে যদি জিজ্ঞেস করেন আপনার বৈবাহিক জীবন কতদিনের সে উত্তর দেবে ৪০-৫০ বছর। সুতরাং বুঝতেই পারছেন এই সম্পর্কটি আপনার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আপনার সাথে থাকবে যা আপনার পরিবার করতে পারবে না। বৈবাহিক সম্পর্ক শুধু কিছু চাহিদা পূরণের জন্য তৈরি হয়নি। এটা তৈরি হয়েছে আপনার সারা জীবনের ভালবাসার জন্য। মানুষ এখন যান্ত্রিক হয়ে গেছে। একজন আরেকজনের খোঁজ নেয়ার সময় পাননা, ভালবাসাতো অনেক দূরের কথা। যদি স্ত্রী গৃহিণী হয় তবে তাকে কখনই নিচু করে কথা বলা ঠিক না। সে তার নিজের পরিবার ছেড়ে আপনার পরিবারকে নিজের আপন করে নিয়েছে। তার সম্মানের প্রতি খেয়ালটা তাই আপনাকেই নিতে হবে। তাকে পর্যাপ্ত সময় দেয়া, তার শরীরের প্রতি খেয়াল রাখা আপনার কর্তব্য। সে গৃহিণী বলে সন্তানের দায়িত্ব শুধু তার নয়। আপনাকেও তাদের খেয়াল রাখা উচিৎ। যদি স্ত্রী চাকরিজীবী হয় তাহলে সাংসারিক কাজ গুলো ভাগ করে নেবেন। সন্তানদের দায়িত্বও। মোট কথা ভালবেসে তাকে আগলে রাখুন। জীবোনে সুখী হতে পারবেন।

স্ত্রী হিসেবে একজন মেয়ের অনেক দায়িত্ব থাকে। কারণ সেই তো পরিবারের চালিকা শক্তি। অনেক নারীবাদী নারীরা বলবেন মেয়েরা কেন এতো দায়িত্ব নেবে? একবার ভেবে দেখুন যার সাথে আপনার বিয়ে হয়েছে এবং আপনার সন্তানেরা আপনার জীবনের সব চেয়ে বড় শক্তি। তাদের দেখে রাখা আপনারই দায়িত্ব। আপনি যদি আপনার মমতা দিয়ে আপনার স্বামীকে আগলে রাখতে পারেন তাহলে জীবনের শেষ বয়সের হিসেবের খাতায় অনেক কিছুই লিখতে পারবেন। বেঁচে থাকাটা মনে হবে আশীর্বাদ। একটা পরিবারের কর্তা কখনই একজন পুরুষ হতে পারেনা। সেটা আমার সমাজ বললেও আমি বলবো না। প্রকৃত পক্ষে নারীরাই আমাদের পৃথিবীর চালিকা শক্তি।

পরিশেষে একটি কথা বলতে চাই, জীবনের প্রতিটি সম্পর্ককে আগলে রাখুন। ভালবাসা না থাকলে সম্পর্ক জীবিত থাকেনা, মরে যায় আকর্ষণ। আপনি যদি কাউকে সবচেয়ে ভাল উপহার দিতে চান তাহলে তাকে দিন, নিঃশর্ত ভালবাসা।