রমজানে কিভাবে ঠিক রাখবেন নিজের শরীর

রমজান

রমজানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হল ইফতার। সারাদিন আল্লাহ্‌র জন্য ইবাদত করার পর ধর্ম প্রাণ মুসলমানরা এই সময় খাবার গ্রহণ করে। সুতরাং এই সময়ের খাবারটা খুবই পুষ্টিকর হওয়া উচিৎ। সারাদিন না খাওয়ার পর আমরা এমন কিছু খাবার খাই যা আমদের স্বাস্থ্যের জন্য হানিকারক। তাহলে জেনে নিন কোন কোন খাবারগুলো ইফতার বা সেহেরীতে খাওয়া উচিৎ না আর কোন খাবার গুলো খেলে আমাদের স্বাস্থ্য ভাল থাকবে। রোজা রাখতে গিয়ে রমজান মাসে অসুস্থ হলে চলবে না।

রমজান শুরু হলে কি খাবেন আর খাবেন না

রমজান

  • এবার রমজান এসেছে গ্রীষ্মের দাবদাহে। সারা দিন পানি ছাড়া থাকাটা অনেক কঠিন। এই গরমে তাই অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি না খেলে হজমের সমস্যা হবে। ইফতারের পর থেকে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত একটু পরপর পানি খেতে হবে।
  • বেগুনি, পিঁয়াজু, চপ, মাংসের আইটেম, হালিম, বিরিয়ানি এগুলো না খেয়ে বেশি করে ফল খেতে পারেন। যদি ভাজা পুরি খেতেই ইচ্ছে করে তবে কষ্ট করে বাসায় বানানো খাবার খাবেন।

রমজান

  • যে তেলে ভাজা হয় সেই তেল একবারের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। একই তেল বারবার আগুনে ফোটালে কয়েক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য (ট্রান্স ফ্যাট) তৈরি হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তেল বারবার ব্যবহারে পলি নিউক্লিয়ার হাইড্রোকার্বন তৈরি হয়, যার মধ্যে বেনজা পাইরিন নামক রাসায়নিক থেকে ক্যান্সারও হতে পারে। তা ছাড়া অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি খাবারে পেটের অসুখ হয়।

রমজান

  • খেজুর বা খোরমা অবশ্যই খাবেন। এতে আছে শর্করা, চিনি, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, কপার, সালফার, ম্যাঙ্গানিজ, সিলিকন, ক্লোরিন ফাইবার যা সারা দিন রোজা রাখার পর খুবই দরকারি।
  • চিনিযুক্ত খাবার বাদ দিলে ভালো হয়। এটা খুব তাড়াতাড়ি রক্তে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, ওজন বাড়ায়। তাই যথাসম্ভব চিনি ও চিনিযুক্ত খাবার কম খান।
  • সবজি ও ফল খেতে হবে নিয়ম মাফিক। তা না হলে এই সময়ে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে নিত্যসঙ্গী।

রমজান

  • প্রত্যেক বেলা মাংসের আইটেম রাখবেন না। মাছ বেশি খাওয়ার চেষ্টা করুন।
  • সারা দিন রোজা রাখা নাজুক পাকস্থলী ঠিকমতো হজম করতে পারবে এমন খাবার রাখুন। যেমন দই, চিরা, কলা।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য হলে খাদ্য তালিকায় তোকমা বা ইসুবগুলের ভুসি রাখুন।
  • আপনার যদি অনেক বেশি শরীর দুর্বল লাগে তাহলে ইফতারে ডাবের পানি রাখুন। ইফতারের পর স্যালাইন খান।
  • আঁশ সমৃদ্ধ খাবার খান। আপনার হজম শক্তি ভাল থাকবে, কোষ্ঠকাঠিন্য হবে না। আর আপনার রক্তে চিনির মাত্রাও বাড়বে না।
  • কোমল পানীয় ঘুমের সমস্যা, অ্যাসিডিটি, আলসার ইত্যাদির কারণ। তাই এ কোমলপানীয়কে সারা জীবনের জন্য পারলে বাদ দিন।
  • পাকস্থলীতে অধিক উত্তেজনা কিংবা অস্বস্তি সৃষ্টি করে এমন খাবার খাওয়া সঠিক নয়। কারণ গুরুপাক খাবার খেলে শরীরের বিপাকক্রিয়া বেড়ে যায়। অধিক চর্বিজাতীয় খাবার খেলে শরীর অসুস্থ হয়।
  • সেহেরীতে খুব কম বা বেশি খাওয়া উচিৎ না। কম খেলে সারাদিন আপনার দুর্বল লাগবে।

রমজান শুরু হলে শারীরিক ব্যায়াম কি করে করবেন

অনেকেই আমরা নিয়মিত ব্যায়াম করে থাকি। কিন্তু এই রোজার সময়ে আগের মতো ব্যায়াম করা সম্ভব হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলেন কোন ভাবেই রোজা করে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করা ঠিক যাবে না।

তবে শরীর সায় দিলে হালকা ব্যায়াম করা যায় তবে তা অবশ্যই সন্ধ্যার পর, শরীরের উপর চাপ পড়ে এমন কিছু করা যাবে না।

তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হেলথ ইন্সট্রাক্টর মোহাম্মদ ইউনুস বলছেন যারা রোজা করবেন তাদের জন্য নামাজ বিশেষ করে ইফতারির পর রাতে তারাবির নামাজ নিয়মিত আদায় করাটাই বড় ব্যায়াম হতে পারে। এছাড়া ইফতারি বা রাতের খাবারের পর হাঁটা চলাও ব্যায়াম হিসেবে কাজে দেবে।

ঘুম

রমজান

সেহেরীর জন্য আমরা অনেকটা সময় জেগে থাকি। তাই ঘুম যেন পরিপূর্ণ ভাবে হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর কঠিন শারীরিক পরিশ্রম হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

ইফতারের পর বা সেহেরীর পর ধূমপান থেকেও বিরত থাকা উচিত।

রমজান মাস হল সিয়াম সাধনের মাস। যতটুকু পারবেন এই মাসে নিজেকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখুন। পান, সিগারেট, জাঙ্কফুড, কোমল পানীয়, তামাকের মত বাজে জিনিস গুলো বাদ দিয়ে দিন। দেখবেন আপনি কতোটা সুস্থ অনুভব করছেন। ইংরেজি নতুন বর্ষে আমরা যেভাবে নিজেকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করি সেভাবে রমজান মাসও হতে পারে আমাদের পরিবর্তন করার একটি পবিত্র সময়।

সবাই ভাল থাকুন এবং সুস্থ থাকুন।

পৃথিবীর বিস্ময়কর বুদ্ধিমান কথা বলা পাখির দল

পাখি

মানুষের পর একমাত্র পাখিই আছে যারা কথা বলতে পারে।  মানুষের মত হুবুহু কণ্ঠ নকল করতে পারে এমন পাখিও আছে। বুদ্ধিমান প্রাণীদের তালিকায় ভাল একটা জায়গা দখল করে আছে এই পাখিরা। চলুন দেখে নেই পৃথিবীর বিস্ময়কর কিছু পাখি সম্পর্কে।

বাজ্রিগার

পাখি

বাজ্রিগার খুব পরিচিত একটি পোষা পাখি। বাজ্রিগার বাজি নামেই বেশ সুপরিচিত। ছোট প্রজাতির এই পাখিটি এর বুদ্ধিমত্তার জন্য জনপ্রিয়। শ্রবণ ক্ষমতা অনেক ভাল। খুব সহজে বড় শব্দ বা বাক্য মনে রাখতে পারে। পাখিগুলো অস্ট্রেলিয়াতে পাওয়া যায়। মালিকের থেকে কোন শব্দ শোনা মাত্র এরা মনে রাখতে পারে এবং বার বার তা বলতে থাকে। পুরুষ বাজ্রিগার মেয়ে বাজ্রিগারের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হয়। শেখার ক্ষমতাও তাই পুরুষ বাজ্রিগারের বেশি। এদের গড় আয়ু ৪-৫ বছর এবং খাঁচায় ১০-১২ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

সন্ন্যাসী টিয়া

পাখি

সন্ন্যাসী টিয়া একটি রঙিন পাখির প্রজাতি যা আসলে একটি ছোট টিয়া। এটি কোয়েক টিয়া নামেও পরিচিত। এই পাখিগুলি সুপরিচিত তাদের কয়েকটি বড় শব্দভাণ্ডার তৈরির ব্যাপক গুণের জন্য। এই সন্ন্যাসী টিয়া ইউরোপ এবং দক্ষিণ আমেরিকাতে পাওয়া যায়।

এদের প্রশিক্ষকদের বা মালিকদের থেকে শোনা শব্দ অনুকরণের একটি ক্ষমতা আছে। আশেপাশে যে সকল শব্দ এরা শুনতে পায় সব কিছু অনুকরণ করতে পারে।

ব্লু ফ্রন্টেড অ্যামাজন

পাখি

ব্লু ফ্রন্টেড অ্যামাজন সবচেয়ে জনপ্রিয় পাখিগুলির মধ্যে একটি। এই পাখি দক্ষিণ আমেরিকাতে পাওয়া যায়।

এদের নামকরণ এদের মাথার সুন্দর নীল রঙের উপর ভিত্তি করে রাখা হয়েছে।পাখিগুলো যেমন সুন্দর করে কথা বলতে পারে তেমন দেখতেও অনেক বেশি সুন্দর।

তারা সত্যিকারের মানুষের ভাষা নকল করতে পারে। তাদের মধ্যে এক ধরণের অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে সেটা হল তারা খুব রক্ষণশীল। তাই মানুষের প্রয়োজন তাদের সাথে একটি বন্ধন তৈরি করার।

এরা খেলনা দিয়ে খেলতে খুব ভালবাসে।

ইলেক্টাস

পাখি

এই পাখিটি টিয়া প্রজাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তারা নিউ গিনি দ্বীপপুঞ্জে থাকে। এরা এদের স্বচ্ছ বক্তৃতার জন্য সুপরিচিত। তারা বিশাল পরিসরের শব্দভান্ডার বুঝতে পারেন।

এই টিয়া পাখিগুলো বেশিরভাগ শব্দের অনুকরণ করে যা তারা শুনতে পায়। তারা গানও পছন্দ করে।

মালিকদের কখনও বোকা বানানো তাদের একটি অনন্য ক্ষমতা। এখানে উভয় পুরুষ এবং মহিলা কিছু মধুর কণ্ঠস্বর বের করতে পারে।

ককাটিয়েল

পাখি

ককাটিয়েল হল কাকাতুয়া পরিবারের একটি পাখি। ককাটিয়েলকে ক্যারিওন এবং উইরো নামেও ডাকা হয়। বাংলাদেশে এটি ককাটেল বা ককাটেল পাখি নামেই বেশি পরিচিত।

ককাটিয়েল মূলত অস্ট্রেলিয়া অঞ্চলের এন্ডেমিক প্রাণী। বন্য প্রজাতি হিসেবে একে অস্ট্রেলিয়া ছাড়া কোথাও পাওয়া না, গেলেও বিশ্বব্যাপি এটি খাঁচায় পোষা গৃহপালিত পাখি হিসেবে পালিত হয়।

সহজে বাচ্চা উৎপাদন, সৌন্দর্য ও আরও কিছু কারণে এটি বাজ্রিগারের পরে খাঁচায় পোষা দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রজাতি।

খাঁচাবন্দি ককাটিয়েল সাধারণত ১৬ থেকে ২৫ বছর বাঁচে। রেকর্ড অনুযায়ী কিছু কিছু ক্ষেত্রে ককাটিয়েল ১০ থেকে ১৫ বাঁচে; ককাটিয়েলের ৩২ বছর বেঁচে থাকারও রেকর্ড আছে। একটি ককাটিয়েল পাখি অবশ্য ৩৬ বছর বেঁচে ছিল। এগুলো সাধারণত নির্ভর করে খাবার, পরিবেশ আর উড়ার জায়গার উপর।

এরা খুব দ্রুত একসাথে অনেকগুলো শব্দ মনে রাখতে পারে। মানুষের কণ্ঠ নকল করে কথা বলতে পারে।

পাহাড়ি ময়না

পাখি

পাহাড়ি ময়না বিশ্বব্যাপী সর্বশ্রেষ্ঠ কথা বলার পাখি হিসাবে পরিচিত। এদের প্রধানত দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া জুড়ে পাওয়া যায়। এরা কথা বলতে এবং মানুষ যেভাবে কথা বলে ঠিক একই ভাবে কথা বলতে পারে। পাহাড়ি ময়না বিভিন্ন ধরনের শব্দের ডাকতে পারে। এরা কান্নাকাটিও করতে পারে। ময়না দুটি প্রজাতি আছে যা আরও শক্তিশালী উপায়ে কথা বলতে পারে। পাহাড়ি ময়নার অন্যান্য প্রজাতিও রয়েছে।

 ব্লু গোল্ড ম্যাকাও

পাখি

ব্লু গোল্ড ম্যাকাও তোতা পরিবারভূক্ত সর্ববৃহৎ ম্যাকাও গোত্রের অন্যতম সদস্য। অন্যান্য ম্যাকাও পাখির ন্যায় এটিও পোষ মানে। তবে পাখিটি বনাঞ্চল থেকে উল্লেখযোগ্য হারে শিকার হচ্ছে; ফলে এটি সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু এদের বংশবিস্তার কার্যক্রম ব্যাপকভাবে গ্রহণ করায় এটি এখনো প্রকৃতিতে বিদ্যমান।

ব্লু গোল্ড ম্যাকাওরা অন্যতম জনপ্রিয় পোষা পাখির মর্যাদায় অভিষিক্ত। নজরকাড়া রঙের ভিন্নতা, কথা বলায় দক্ষতা অর্জন, বাজারে সহজেই প্রাপ্যতা এবং মানুষের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলায় এ পাখিটি অসম্ভব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

বুনো অবস্থায় এ ধরনের ম্যাকাও বেশ আক্রমণাত্মক ভঙ্গী প্রদর্শন করে। কিন্তু ছোট বাচ্চা ম্যাকাও বেশ ক্রীড়ামোদী।

সঙ্গীকে নিয়ে সারাজীবন একত্রে থাকে এই পাখিটি। মৃত গাছে এদের বাসা থাকে। স্ত্রী পাখিটি সচরাচর দুই থেকে তিনটি ডিম পেড়ে থাকে। প্রায় আটাশ দিন স্ত্রী পাখিটি ডিমে তা দেয়।

কাকাতুয়া

পাখি

সকল কাকাতুয়ারই আকর্ষণীয় পালক এবং শক্তিশালী বাঁকানো ঠোঁট রয়েছে। অধিকাংশ প্রজাতিই সাদা রংয়ের। কিন্তু কিছু প্রজাতির গায়ের রঙ ধূসর, খয়েরী, উজ্জল কালো বর্ণের। কাকাতুয়া মাঝারি থেকে বড় বড় তোতা পাখির চেয়েও বড় হতে পারে।

উদ্ভিদজাত খাবার গ্রহণ করে এরা জীবনধারন করে। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনাঞ্চলের উঁচু বৃক্ষের গর্তে থাকতে পছন্দ করে এবং সেখানেই তারা বাসা বাঁধে। মূলত প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট পাখির গর্ত কিংবা পাহাড়ের গুহায় এরা বাসা তৈরী করে। স্ত্রীজাতীয় কাকাতুয়া দুইটি থেকে চারটি সাদা ডিম পারে। শাবকগুলো চোখ বোজা অবস্থায় থাকে এবং প্রায় তিন মাস শাবকদের বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্ত্রী-পুরুষ উভয় কাকাতুয়াই পালাক্রমে দেখাশোনা ও লালন-পালন করে। বাবা মা দুজনে মিলেই তাদের ছানার দেখা শোনা করে।

মানুষের কথা নকল করতে এরা খুব ভালবাসে। কাকাতুয়া খুব সামাজিক একটি পাখি। মালিককে খুব ভালবাসে এরা। ঠিক মত লালন পালন করলে এবং সেখালে এরা সব কিছুই আয়ত্তে আনতে পারে।

আফ্রিকান গ্রে প্যারট

পাখি

পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণীর লিস্টে ৩য় স্থানে রয়েছে আফ্রিকান গ্রে প্যারট। এদের পাখি জগতের আইনস্টাইন বলা হয়। এরা অত্যন্ত চালাক একটি পাখি।

গবেষনায় দেখা গেছে এরা বিমুর্ত এবং সিদ্ধান্তলব্ধ যুক্তি ক্ষমতার অধিকারী। এরা মানুষের কন্ঠ নকল করতে পারে এবং মানুষের নির্দেশনা বুঝে বিভিন্ন কাজ করতে পারে।

গবেষণা অনুযায়ী, এদের বুদ্ধিমত্তা ৪ থেকে ৬ বছর বয়সী মানুষের বাচ্চার বুদ্ধির সমমান।

আর এদের বুদ্ধিমত্তা, মানুষের মত কথা বলা ইত্যাদি কারনেই সমগ্র পৃথিবীতে এরা জনপ্রিয় পোষা পাখি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে।

কুকুর যদি খেতে না চায় তাহলে কি করবেন?

কুকুর

আমাদের ঘরের পোষা প্রাণীটি কিন্তু আমাদের কাছে বাচ্চা বা শিশুর মত প্রিয়। বাচ্চারা যখন খেতে না চায় তখন আপনি কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পারেন যে কেন ওর খাবারে অরুচি। কিন্তু আমাদের পোষা প্রাণীটির ক্ষেত্রে কি আমরা বুঝতে পারি তারা কেন খাচ্ছে না? আমরা আজ আমাদের সবচেয়ে প্রিয় পোষা প্রাণী কুকুরকে নিয়ে আলোচনা করব। কুকুর স্বভাবতই খেতে ভালবাসে।

যদি খাওয়া বন্ধ করে দেয় তাহলে বুঝতে হবে কোন শারীরিক কারণে এমনটা হচ্ছে। না খাওয়ার সঠিক কারণ বের করে এর জলদি সমাধান করুন।

কুকুর যদি অসুস্থ হয়

প্রথমেই আপনি আপনার কুকুরটির শরীরের তাপমাত্রা মেপে দেখুন। যদি ১০২ ডিগ্রির এক দাগও বেশি হয় তাহলে তা জ্বর বলে গণ্য হবে। জ্বর, ডায়রিয়া, কিডনির সমস্যা হলে কুকুর খেতে চায় না।

কুকুর

সমাধান- যত দ্রুত সম্ভব ভেটের কাছে নিয়ে যান। কুকুরদের সুস্থ হতে বেশি সময় লাগে না। আর ওকে অনেক সময় দিন ও অনেক ভালবাসুন।

কুকুরের যদি ক্রিমি হয়

এটা খুব বড় একটা সমস্যা। কুকুরের যদি শরীরে ক্রিমি থাকে তাহলে বমি করবে অনেক ক্ষেত্রে পাতলা পায়খানাও করতে পারে। সুতরাং এমতাবস্থায় অরুচি হওয়াটা খুব স্বাভাবিক।

কুকুর

সমাধান- এমন হলে জলদি ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। ডিওয়ারমিং ওষুধ অথবা ভেক্সিন করিয়ে নিন। এতে করে ও অনেক দিন ক্রিমি থেকে সুরক্ষিত থাকবে। বেশি দেরি হয়ে গেলে আপনার কুকুরটি মারাও যেতে পারে। সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন থাকবেন। কারণ এই ক্রিমি আপনাকেও আক্রান্ত করতে পারে।

কুকুরকে যদি স্পে বা নিউটার করানো হয়

স্পে বা নিউটার করালে কুকুরের অরুচি দেখা যায়। অনেক সময় ভ্যাক্সিনেশন করানোর ফলেও এমনটা হতে পারে। শরীরের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের ছেয়ে কিছুটা বেশি থাকে।

কুকুর

সমাধান- এমন হলে চিন্তার কোন কারণ নেই। কিছু দিন সময়দিন ও নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যাবে। ওকে একটু বেশি সময় দিন।

হিটিং টাইম হলে অরুচি হয়

যদি আপনার কুকুরের হিটিং টাইম হয়ে থাকে তাহলে ও ঠিক মত খাবে না, অযথা ডাকাডাকি করবে, যেখানে সেখানে পি(প্রস্রাব) করতে পারে।

সমাধান- এ ধরণের সমস্যা হলে জলদি ওর সঙ্গী আনার ব্যবস্থা করুন। অনেকে এমন সমস্যায় নিউটার করিয়ে দেন কিন্তু এতে করে ওর স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে।

দীর্ঘদিন একই খাবার খেলে

অনেকের অভিযোগ থাকে আমার কুকুর ছোট বেলায় অনেক খেত এখন কিছু খেতে চায় না। একদম খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে। সেক্ষেত্রে লক্ষ করুন আপনি ওকে দীর্ঘদিন একই খাবার দিচ্ছেন কিনা। যদি দিয়ে থাকেন তাহলে সমস্যাটা এখানেই।

কুকুর

সমাধান- আপনাকে যদি তিন বেলা ভাত আর ডাল খেতে দেয়া হয় অথবা প্রতিদিন পোলাও-মাংস দেয়া হয় আপনি কতদিন খেতে পারবেন? আপনার কুকুরের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা এমন। সুতরাং খাবারে বৈচিত্র্য আনুন। খাবারের তালিকায় ফল, চিজ, সবজি রাখুন। সব সময় পরিষ্কার, তাজা এবং ভাল খাবার খাওয়াতে হবে।

রোজা রাখলে শারীরিক ভাবে আমরা যেভাবে উপকৃত হই

রোজা

 

আমাদের দেশে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলমান। তাই রমজান মাসে অধিকাংশ মানুষই রোজা রাখেন। রমজান আত্মশুদ্ধি আর সংযমের মাস। রোজা শরীর মনকে যেমন সতেজ রাখে তেমনি অনেক বদ অভ্যাস ত্যাগ করতেও সহায়তা করে। অনেকে বলেন রোজা রাখলে গ্যাসের সমস্যা হয়, শরীর দুর্বল লাগে এছাড়াও নানান ধরণের সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না রোজা অনেক রোগের ঔষধ হিসেবে কাজ করে। যা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত।

রোজা রাখলে ওজন কমে

রোজা
যদি আপনি দ্রুত ওজন কমাতে চান তবে রোজা রাখুন। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন আপনার ধর্মীয় রীতি পালন করাও হবে আর আপনার শরীরের অতিরিক্ত মেদও ঝরে যাবে।

মিষ্টি ও তৈলাক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে দ্রুতই আপনার ওজন কমে যাবে। রোজায় সাধারণত দুই বেলা খাওয়া হয়।

আর এ সময় যদি পরিমাপ মতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়া যায় তবে রোজার মাস শেষ হওয়ার আগেই ওজন কমে যাবে।

কিন্তু আপনি যদি ইফতারের পর ইচ্ছে মত খেতে থাকেন ঘটনা কিন্তু উল্টো হতে পারে।

রোজা কলেস্টরল কমায়

রোজা
রোজার মাসে রোজাদাররা বেশিরভাগ সময়ই বাসার খাবার খেয়ে থাকেন। এটা সত্যি কথা বলতে আমাদের বাধ্য হয়েই করতে হয়।

বাইরের তৈলাক্ত এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকেন। ফলে শরীর কলেস্টরলের মাত্রা ঠিক রেখে বাড়তি কলেস্টরল ঝেড়ে ফেলে।

রোজা ভালো কোলেস্টেরলকে (এইচডিএল) বাড়াতে এবং মন্দ কোলেস্টেরল (এলডিএল) ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে। এর দরুন আমাদের উচ্চ রক্তচাপও নিয়ন্ত্রিত থাকে।

রোজা আমাদের আসক্তি কমায়

রোজা
পবিত্র রোজার মাসে রোজা পালনকারীরা ধূমপান, মদ্যপানের মতো বিভিন্ন আসক্তি থেকে বাধ্য হয়েই দূরে থাকেন। যা আপনার প্রতিদিনের অভ্যসকে ভেঙে দেয়। ফলে সহজেই আপনি এসব আসক্তি দূর করতে পারবেন। এক কথায় আপনার আয়ু কিছুটা বাড়িয়ে দেয়।

ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য রোজা

রোজা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে রোগীদের জন্য এক অন্যতম সুযোগ। এটা তাদের জন্য রহমত স্বরূপ। ডায়াবেটিক রোগীরা সঠিক নিয়মে রোজা রাখলে নানা রকম উপকার পেতে পারেন।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মূল উপায় হল খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, আর রোজা রাখা হতে পারে এক অন্যতম উপায়।

এতে সহজেই খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সহজ ও সুন্দরভাবে করা যায়। যারা ইনসুলিনের উপর নির্ভরশীল নন, তাদের ক্ষেত্রে রোজা রাখা হতে পারে আদর্শ চিকিৎসা ব্যবস্থা।

যারা ইনসুলিন নেন তাদের ক্ষেত্রেও রোজা অবস্থায় ওষুধের মাত্রা কমাতে সহায়ক। শুধু রক্তের গ্লুকোজই নয়, রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণেও রোজা মোক্ষম।

তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন এর ফলে হাইপো-গ্লায়সেমিয়া (শর্করা স্বল্পতা) আবার হয়ে না যায়।

পেপটিক আলসার

রোজা
এক সময় ধারণা ছিল পেপটিক আলসারে আক্রান্ত রোগীরা রোজা রাখতে পারবেন না, তাদের ঘনঘন খাওয়া খেতে হবে। অনেকক্ষন পেট খালি রাখা যাবে না। অনেকে মনে করেন রোজা পেপটিক আলসারের ক্ষতি করে এবং এসিডের মাত্রা বাড়ায়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এসব ধারণা ঠিক নয়। রোজায় নিয়ন্ত্রিত খাওয়া দাওয়ার ফলে এসিডের মাত্রা কমে যায়। তাই সঠিকভাবে রোজা রাখলে এবং সঠিক খাবার দিয়ে সেহেরী ও ইফতার করলে রোজা বরং আলসারের উপশম কম করে। অনেক সময় আলসার ভাল হয়ে যায়। এছাড়া রোজা গ্যাস্ট্রিইটিস, আইবিএস ইত্যাদি রোগের জন্যও  উপকারী।

শ্বাসকষ্ট ও এজমা রোগী

রোজা
যারা এই সমস্ত রোগে ভোগেন, তাদেরও রোজা রাখতে কোন অসুবিধা নেই। রোজায় এ ধরণের রোগ সাধারণত বৃদ্ধি পায় না। বরং চিন্তামুক্ত থাকায় এবং আল্লাহর প্রতি সরাসরি আত্মসর্মপনের ফলে এ রাগের প্রকোপ কমই থাকে। প্রয়োজনে রাতে একবার বা দুইবার ওষুধ খেয়ে নিবেন যা দীর্ঘক্ষণ শ্বাস নিয়ন্ত্রণে রাখে। এ ধরণের ওষুধ বাজারে সহজেই পাওয়া যায়। দিনের বেলায় প্রয়োজন পরলে ইনহেলার জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যায়, যা রোজার কোন ক্ষতি করবে না।

চর্মরোগরোজা

রোজা চর্ম রোগীদের জন্য ও বেশ কার্যকর, আর এটি হয়ে থাকে শরীর থেকে বিষাক্ত বর্জ বেরিয়ে যাওয়া এবং রক্ত পরিশুদ্ধু হবার ফলে।

এই হলো মোটামুটি বৈজ্ঞানিক কিংবা চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টির আলোকে রোজার উপকারিতা।

রোজা মানে কিন্তু শুধু খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে রাখা না সবকিছুকেই নিয়ন্ত্রণ করা।তার মানে এই সময়টাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময় যখন আপনি আপনার চরিত্রের অনেক কিছু চাইলে পরিবর্তন করতে পারবেন।

আর ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে রোযার উপকারিতা কি তা বলা খুব সহজ।

তাহলো এটি- ইসলামের ৫ টা স্তম্ভের মধ্যে এর অবস্থান ৩য়, তার মানে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ আর এটা একটা ইবাদত যার ফলে মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনও খুব ভালো ভাবে করা সম্ভব।

ভালোবাসার সাগরে সাঁতরাচ্ছেন কিনা বুঝবেন কি করে?

ভালোবাসার

পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী আর পবিত্র অনুভূতির নাম ভালোবাসা। বাংলায় ভালোবাসা, হিন্দিতে পিয়ার আর উর্দুতে বলা হয় মুহাব্বত। বাবা, মা, ভাই, বোন আর পরিবারকে জন্মের পর থেকেই আমরা ভালোবাসি। কিন্তু মানব জিবনে একটা নির্দিষ্ট বয়সে ভালোবাসার সুরটা যেন পাল্টে যায়। অনেকে তরুণ হওয়ার পরেও এই অনুভূতির সাথে পরিচিত হন না। তাই বুঝতেও পারেন না যে তিনি প্রেমে পরেছেন বা কাউকে ভালবেসেছেন কিনা। তাদের জন্যই আজকের এই লেখা। আশা করি লেখাটি আপনাকে উপকৃত করবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ১- প্রথম দেখা

ভালোবাসার

আপনি প্রথম যেদিন তাকে দেখেছেন সেই দিনের কথা আপনি চাইলেও ভুলতে পারবেন না। সেদিন সে কি পড়ে এসেছিল, কিভাবে কথা বলেছিল, কোন বিষয়ে কথা হয়েছিল সব কিছুই আপনার মনে থাকবে। সেদিনের কথা আজও মনে আসলে আপনার মনে একটা সুন্দর ভালো লাগার অনুভূতি ছড়িয়ে যাবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ২- অবসরে তার স্মৃতি বার বার চোখের সামনে আসবে

ভালোবাসার

একা যখন বসে বই পরছেন তখন হয়ত গল্পের কোন চরিত্র পছন্দ হলে তার সাথে মিলিয়ে ফেলবেন। গান শুনলে তার সাথে কাটানো কোন মুহূর্ত মনে পড়ে যাবে। অবসরে তার কথা ভাবতে আপনার ভীষণ ভালো লাগবে। একা একা হয়তবা তখন হেসেই দিবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৩- সব সময় তাকে সুরক্ষিত দেখতে চাইবেন

ভালোবাসার

আপনার প্রিয় মানুষটি যেন সবসময় সুরক্ষিত থাকে সে ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকতে দেখা যাবে আপনাকে। তার সুবিধা-অসুবিধাটা আপনার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাবে। আপনি চাইবেন তাকে যেন কোনভাবে বিপদ স্পর্শ না করে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৪- গায়ের গন্ধ

ভালোবাসার

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত আপনার পছন্দের মানুষটির গায়ের গন্ধ আপনার অনেক ভালো লাগবে।

এমন হতে পারে তার ঘামের গন্ধ আপনার কাছে খুব প্রিয়। তার ব্যবহৃত জিনিস ব্যবহার করতে আপনার খুব ভালো লাগবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৫- সে অসুস্থ হলে আপনি অনেক বেশি চিন্তিত হয়ে যাবেন

ভালোবাসার

তার ছোট ছোট অসুস্থতা আপনাকে অনেক বেশি চিন্তিত করে ফেলবে। অনেক বার ফোন দিয়ে খোঁজ নেবেন।

যদি তার সাথে কথা বলতে না পারেন তাহলে অন্য কারো মাধ্যমে তার বিষয়ে খোঁজ নেবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৬- তার সামনে নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে চাইবেন

ভালোবাসার

পৃথিবীর অন্য মানুষগুলোর সামনে আপনি কি সেটা আপনার মাথায় আর কাজ করবে না। মাথায় শুধু এটাই থাকবে তিনি আপনাকে কিভাবে দেখছেন।

তার সামনে সব সময় নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৭- মনের সব কথা তাকে বলতে ইচ্ছে করবে

ভালোবাসার

আমাদের মনের ভেতর নানা ধরনের কথা থাকে, সুপ্ত ইচ্ছা থাকে সেগুলো তার সাথে বলতে ভালো লাগবে।

সেটা পূরণ হোক বা না হোক ইচ্ছে করবে তাকে বলতে। তার সাথে আপনার সব পরিকল্পনা ভাগ করতে ভালো লাগবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৮- মানুষটির সাথে সময় পার করলে হিসেব থাকবে না আপনার

ভালোবাসার

অনেক মানুষ আছে যাদের সাথে থাকলে মনে হবে সময় এত বড় কেন? মিনিটকে মনে হয় ঘণ্টার সমান। কিন্তু এই বিশেষ ব্যক্তিটির সাথে সময় কাটালে মনে হবে, সময় অনেক দ্রুত চলে যায়। তার সাথে কথা বলা শেষে ঘড়ি দেখলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৯- অন্য কারো সাথে থাকলে ঈর্ষা অনুভব করবেন

ভালোবাসার

আপনার বিশেষ মানুষটি অন্য কারো সাথে যদি কাজেও একটু ব্যস্ত থাকে তাহলে আপনার ঈর্ষা অনুভূত হবে।

বিপরীত লিঙ্গ হলেই যে সেখানে খারাপ অনুভূতি হবে তা নয়। আপনার মনে হবে এতো টুকু সময় তো আপনার সাথে থাকতে পারতেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ১০- সে যদি আপনাকে নাও ভালোবাসে তবুও তার শুভকামনা করা

ভালোবাসার

সবাই ভালোবাসা চায়, কিন্তু এটা সবার ভাগ্যে থাকেনা। দুর্ভাগ্যবশত আপনার প্রিয় ব্যক্তিটি যদি অন্য কাউকে ভালোবাসে তাহলেও তার প্রতি ভালোবাসা বা শ্রদ্ধা এতোটুকু কমবে না। যদি আপনি তখন প্রতিশোধ নিতে চান অথবা আত্মহত্যার মত ঘৃণ্য কোন পদক্ষেপ নিতে চান তাহলে বলতেই হবে আপনি সত্যিকারের ভালোবাসার দেখা পাননি।

ভালোবাসার লক্ষণ ১১- জীবনকে মনে হবে ছোট আর অনেক দিন বাঁচতে ইচ্ছে করবে

ভালোবাসার

তাকে দেখার পর থেকে মনে হবে জীবন এতো ছোট কেন, এতো দ্রুত সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে কেন। মনে হবে কেন আরও আগে তার সাথে দেখা হল না।

জিবনে তখন বাঁচার কোন কারণ না থাকলেও আপনার খুব বাঁচতে ইচ্ছে করবে। মনে হবে জীবনটা অনেক সুন্দর।

ভালোবাসার লক্ষণ ১২- তার সাথে কোন কথা গোপন রাখতে পারবেন না

ভালোবাসার

কোন কথাই আপনি তার থেকে লুকাতে পারবেন না। তার সাথে কথা ভাগাভাগি করলে আপনি মানসিকভাবে শান্তি পাবেন।

তার বিষয়ে কোন ভুল ধারণা থাকলে অথবা তার বিষয়ে কোন কটু কথা শুনলে তা কখন মনে পুষিয়ে রাখতে পারবেন না।

কারণ আপনি বিশ্বাস করেন সে অনেক ভালো।

আরও অনেক লক্ষণ আছে যেগুলো দিয়ে বোঝা যায় আপনি কাউকে ভালোবাসেন কিনা। আজ কয়েকটি উপায় আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম।

এর ভেতর যদি একটিও মিলে যায় তাহলে কিন্তু আপনি সত্যি সত্যি প্রেমে পরেছেন অথবা অনেক ভালোবাসেন তাকে।

নিজের অনুভূতি সম্পর্কে জানুন। এবং আপনার ভালোবাসার মানুষকে অনেক বেশি ভালোবাসা উপহার দিন।

ডিম নিয়ে যত ভ্রান্ত ধারণা আছে জানতে হলে দেখে নিন

ডিম

শিশু বয়স থেকে ডিমের সাথে আমরা খুব উতপ্রত ভাবে জড়িত। ডিম একটি আদর্শ খাবার। আসুস্থ হলে, পরীক্ষা থাকলে বড়রা বেশী করে খেতে বলে। ছোট্ট একটি ডিম নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার হিসেবে বিশ্বজুড়ে ডিমের ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও ডিম নিয়ে মানুষের মনে রয়ে গেছে অনেক ভ্রান্ত ধারণা। আসুন এই ভুল ধারণা গুলো থেকে এবার বের হয়ে আসা যাক।

ডিম কেনা

অনেকে বলেন বড় শপিং মলের থেকে মুরগীর ফার্ম থেকে ডিম কেনা ভালো । এই চিন্তা করা আসলেই বৃথা। কারণ আপনি যেখান থেকে ডিম কিনুন না কেন এখানে মুরগীর স্বাস্থ্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ডিম অন্ধত্ব দূর করতে পারে না

ডিম চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে দেখে অনেকের ধারণা অন্ধ লোকের চোখের আলো ফেরাতে সক্ষম। কিন্তু এটি মোটেও সত্যি কথা নয়। কারণ চোখের স্বাস্থ্য ভালো  করার উৎস ডিমে রয়েছে তবে এতে অন্ধ মানুষ ঠিক হয়ে যাবে তা আশা করা ভুল।

ডিম ধুয়ে লাভ নেই

বাসায় ডিম আসলেই তা ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে রাখতে বলা হয়। কিন্তু ভালো  করে পানি দিয়ে ধুয়ে কোন লাভ নেই কারণ ডিমের কুসুমেই থাকে সালমনেলা নামের ব্যাকটেরিয়া।

কাঁচা ডিম= বেশী প্রোটিন

অনেকে মনে করেন রান্না করা ডিমের তুলনায় কাঁচা ডিমে বেশি প্রোটিন থাকে। তাই যারা স্বাস্থ্য বাড়াতে চান অথবা জিম করেন তারা কাঁচা ডিম খান। কিন্তু এর কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই। বরং কাঁচা খেলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

হাঁসের ডিম না মুরগীর ডিম

হাঁসের ডিম নাকি মুরগীর ডিমে বেশি প্রোটিন? এই নিয়ে অনেকের অনেক ধরণের মতবাদ রয়েছে। আসলে মুরগীর ডিমে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি ভালো। হাঁসের ডিম অনেক সময় রক্তের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে।

ডিম রক্তের কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে

অনেকে মনে করে থাকেন, ডিম মানুষের রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ উচ্চমাত্রায় বৃদ্ধি করে। পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে সব ধরনের কোলেস্টেরল দেহের জন্য সমান ক্ষতিকর নয়। ‘স্যাচুরেটেড ফ্যাট’ নামক খারাপ কোলেস্টেরল দেহের রক্তচাপ বাড়ায় এবং হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করে। ডিমে এই ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের উপস্থিতি কম। তাছাড়া ডিমের সাদা অংশ ও কুসুমে কোলেস্টেরলের পরিমাণ আলাদা। যারা হৃদযন্ত্র নিয়ে বিভিন্ন সমস্যায় ভোগেন তারা ডিমের কুসুম খাবেন না। ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি। কোলেস্টেরল একেবারেই পরিহার করতে চাইলে ডিমের সাদা অংশ নির্দ্বিধায় খাওয়া যেতে পারে। দিনে দু’টো ডিমের সাদা অংশ দেহের প্রয়োজনীয় প্রোটিন চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে মত দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। যারা ওজন কমাতে চান আর রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশী তারা ডিমের কুসুম পরিহার করুন।

কুকুর যখন মানুষের জীবন দানকারী

কুকুর

কুকুর যে মানুষের কত ভালো বন্ধু তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এই কুকুর যখন নিজের জীবন বিপন্ন করে মনিবকে বাঁচাতে যায় তখন তাকে শুধু বন্ধু উপাধিতে সীমাবদ্ধ করা যায় না। আসুন দেখে নেই এমন কয়েকজন বন্ধুকে।

খান বাঁচালো কারলটের জীবন

কুকুর

খান নামের একটি কুকুর কারলট নামের একটি ১৭ বছর বয়সী শিশুকে বিষাক্ত সাপের কামড় থেকে বাঁচায়।

মজার বিষয় খান মাত্র ৭ দিন আগেই ওদের বাসায় আসে। খানকে দত্তক নেয়া হয়।

ছোট্ট কারলটকে যখন সাপটি কামড় দিতে যাবে ঠিক সেই মুহূর্তে খান ওকে ধাক্কা দেয়। আর বিষধর সাপের কামড় লাগে খানের গায়।

বলে রাখা ভালো সাপটি ছিল কিং কোবরা। মন খারাপ করবেন না। খান বেঁচে যায়। তাকে এন্টি-ভেনম দেয়া হয়।

টাটরটট বাঁচালো মৃত্যুপথযাত্রীর জীবন

কুকুর

এখন যে কুকুররের কথা বলবো ওর নাম টাটরটট। পেটনের মা ক্রিস্টি পরিকল্পনা করলেন টাটরটটকে কিছুদিনের জন্য লালন পালন করবেন।

কয়েক সপ্তাহ পর খেয়াল করলেন যে কুকুরটি তার পরিবারের সাথে অনেক সুন্দর সখ্যতা করে ফেলেছে।

একদিন ক্রিস্টি পেটনকে ঘুম পাড়িয়ে অন্য রুমে বসে ছিল। ১/২ ঘণ্টা পর হঠাৎ করে টাটরটট পেটনের রুমের আশেপাশে দৌড়ানো শুরু করল এবং চিৎকার দিতে লাগলো। ক্রিস্টি কোনভাবেই ওকে থামাতে পারল না, যতক্ষণ না ও পেটনের কাছে গেলো। গিয়ে দেখল পেটন খুব ধীরে শ্বাস নিচ্ছে। দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার বলল পেটনের রক্তে সুগারের মাত্রা এতো বেশী কমে গিয়েছিলো যে ও মারা যেতে পারতো। টাটরটট ক্রিস্টির সবচেয়ে ভালো বন্ধু হয়ে গেলো। ক্রিস্টি বলে, এই কুকুর না থাকলে তার সন্তান হয়তো জীবিত থাকতো না।

কুকুর বাঁচালো সুনামি থেকে

কুকুর

বাবু নামের ১২ বছরের এক শিহতজু কুকুর তার ৮৩ বছরের মালিককে সুনামির হাত থেকে বাঁচায়। এটা এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।

হঠাৎ একদিন বাবু তার মালিককে বাইরে নেয়ার জন্য পাগল হয়ে যায়। এমনিতে বাবু বাইরে যেতে বা হাঁটতে পছন্দ করে না।

কিন্তু সেদিন ও তার মালিককে পাহাড়ে পর্যন্ত জোর করে উঠিয়ে নেয়। ওর মালিক যখন পাহাড় থেকে নিচের দিকে তাকায় তখন দেখে সুনামি এসে তার বাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

তার পোষা কুকুর বন্ধুটির জন্য বেঁচে গেলেন তিনি।

কুকুর মনিবের জীবন বাঁচাতে গিয়ে গুলি খেল

কুকুর

কাইলো নামের ১২ বছরের পিটবুল কুকুর। তার মনিবের বাসায় ডাকাত আসে। কাইলো তার মনিবকে বাঁচাতে ডাকাতদের উপর আক্রমণ করে।

ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় কাইলো ওদের পিছু নেয় তখন ওদের কেউ একজন কাইলোর মাথায় গুলি করে।

অলৌকিক ভাবে কাইলোর মাথায় গুলি লাগলেও তা ঘাড়ের পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। ওর মালিক দ্রুত ওকে হাসপাতাল নেয়।

এবং সৃষ্টিকর্তার দয়ায় কাইলো ৩ দিনের মধ্যে হাঁটতে সক্ষম হয়।

ক্যাটরিনা হ্যারিকেন থেকে বাঁচালো মানুষের জীবন

কুকুর

ক্যাটরিনা নামের কালো লেব্রেডর কুকুর হ্যারিকেনে এক মানুষকে ভেসে যেতে দেখল। মানুষটি ডুবে যাওয়ার আগে তাকে টেনে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায় ক্যাটরিনা। ধীরে ধীরে পানি বাড়তে থাকে। ক্যাটরিনা ততক্ষণ চিৎকার করতে থাকে যতক্ষণ না কোন উদ্ধার কর্মীর দল আসে।

জোজো বাঁচিয়েছে নুমুকে

জোজো নামের একটি বাংলাদেশী কুকুর তার মালিককে গ্যাস বিস্ফোরণের হাত থেকে বাঁচায়। বুদ্ধিমান জোজো সবসময় তাঁর মালিকের সাথেই থাকে। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠার পর নুমু (জোজোর মালিক) যখন জোজোর কাছে যায় তখন জোজো তাকে রান্না ঘরে নিয়ে যায়। নুমু রান্না ঘরে গিয়ে আবিষ্কার করেন গ্যাসের চুলা অন করা। শুধু একটি ম্যাচের কাঠি জ্বললেই সেদিন উড়ে যেতো পুরো বাড়ি। জোজোর এতো বড় উপকারে অনেক অনেক কৃতজ্ঞ নুমু। প্রথম ছবিটি জোজো আর নুমুর।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যেন এক মৃত্যুফাঁদ

ত্রিভুবন

১২ মার্চ ২০১৮ তে নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনাট। নিহত হয়েছে অন্তত ৪৯ জন। এদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন বাংলাদেশী। বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাইলটের সাথে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের কথপোকথনের সময় সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝি, বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি, পাইলটের ভুল ইত্যাদি নানান সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। সঠিক কারণ এখন বের করা সম্ভব হয়নি।

নেপাল দেশটি পর্যটনের জন্য বিখ্যাত। প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ এখানে ঘুরতে আসে পরিবার পরিজনদের নিয়ে। নেপাল আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ হওয়ার দরুন অনেক বাংলাদেশীরাই এখানে ঘুরতে যান।

ত্রিভুবনইউএস বাংলা ফ্লাইট বিএস ২২১ ফ্লাইটে করে যাচ্ছিলেন এমন অনেক ভ্রমণ পিয়াসু মানুষরা। বিমানবন্দরে অবতরণের আগে হয়তো মনে মনে পরিকল্পনা করছিলেন কিভাবে কোথায় ঘুরতে যাবেন। কিছুক্ষণের মধ্যে সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেলো।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বর্ণনা

নেপালের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হচ্ছে ত্রিভুবন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টটি। এই বিমানবন্দর ছাড়াও অনেকগুলো স্থানীয় বিমানবন্দর আছে।

এ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির অবস্থান রাজধানীর কেন্দ্র থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে কাঠমান্ডু উপত্যকায়।

সমুদ্র সমতল থেকে এর উচ্চতা ৪ হাজার ৪০০ ফুট এবং এর রানওয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্য।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিমানবন্দর বলার কারণ

এর চারিদিকে পাহাড়। প্রাকৃতিক কারণে বিমান অবতরণের সময় অনেক সমস্যা দেখা যায়। ঘটে যায় দুর্ঘটনা।

এখানে ‘ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম’ নেই। বিশেষ এই সিস্টেম থাকলে খারাপ আবহাওয়ার কারণে খালি চোখে রানওয়ে দেখা না গেলেও যন্ত্রের সাহায্যে রানওয়ের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

পর্বত ছাড়াও প্রায়ই ঘন কুয়াশা ঘিরে ফেলে ত্রিভুবন বিমানবন্দরকে। এ কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় বিপত্তিতে পড়তে হয় পাইলটদের।

কিন্তু বিমান সংস্থাগুলো লাভের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ এই বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা করে।

এখানে অবতরণের সময় প্রধান বাধা একটি বিশাল পাহাড়, এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮৭০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। নয় মাইল দূরে রয়েছে এই পাহাড়।

এ জন্য এই রানওয়েতে কোনো বিমানই সোজা অবতরণ করতে পারে না। ওই পাহাড় পেরোনোর পরপরই দ্রুত বিমান অবতরণ করাতে হয়।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা নিয়ে ডুমুরফুলের কিছু কথা

ত্রিভুবন

ইউএস বাংলা ফ্লাইট বিএস ২২১ ফ্লাইটটি ধ্বংস হওয়ার কারণ হিসেবে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অনেকাংশেই দায়ী।

কিন্তু ৪৯ টি প্রাণের আলো নিভে যাওয়ার দায়ভার কি ইউএস বাংলার নেই।

১৭ বছরের পুরনো বিমান দিয়ে কিভাবে ত্রিভুবনের মত একটি বিমানবন্দরে এতোগুলো মানুষ পাঠাতে পারে তারা।

নিজেদের লাভ ছাড়া আর কিছুই কি মূল্য রাখে না তাদের কাছে। একই পরিবারের কয়েকজন সদস্য মারা গেছে এই দুর্ঘটনায়।

যারা বেঁচে থাকবেন তারা হয়তো সারা জীবন এই আক্ষেপ করবেন মৃত্যু কেন আমাকে প্রত্যাখ্যান করল।

ইউএস বাংলা আপনাদের কাছে অনুরোধ রইলো এই মানুষগুলোর প্রশ্নের জবাব দিবেন।

স্টিফেন হকিং, হারিয়ে গেলেন সময়ের ব্ল্যাক হোলে

স্টিফেন

পদার্থবিদ্যা, ব্ল্যাক হোল, কোয়ান্টাম ফিজিক্স নিয়ে আলোচনা করলে যার চেহারা আমাদের চোখে ভাসতো সেই শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং আমাদের মাঝে নেই। জীবনের অর্ধশত বছর তিনি দুরারোগ্য এক ব্যাধির সাথে লড়াই করে বেঁচে ছিলেন।

১৪ মার্চ বুধবার সকালে ক্যামব্রিজে নিজ বাসভবনে মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৭৬ বছর। তার পরিবারের মুখপাত্রের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।

এ বছরই ৮ জানুয়ারিতে তিনি ৭৬ বছর বয়সে পা দিয়েছিলেন।

জেনে রাখা ভালো উনার জন্মদিন ছিল গ্যালিলিও’র ৩০০ তম মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে! এবং আইনস্টাইনের জন্মদিন ১৪ মার্চ!!

স্টিফেন হকিং ২১ বছর বয়স থেকেই অসুস্থ ছিলেন

২১ বছর বয়স থেকেই প্রাণঘাতী এএলএস(অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস) রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

দুরারোগ্য এই ব্যাধি হলে অর্ধেক মানুষ তিন বছর বা তার বেশি সময় বাঁচেন।

২০ শতাংশ বাঁচেন ৫ বছরের বেশি। আর ১০ বছরের বেশি বাঁচতে দেখা যায় মাত্র ১০ শতাংশ মানুষকে। কিন্তু স্টিফেন হকিং বেঁচে ছিলেন পরবর্তী ৫২ বছর।

এই রোগ ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের এবং সুষুম্নাকাণ্ডের স্নায়ুকোষ নষ্ট করে ফেলে। ফলে রোগী সময়ের সঙ্গে মোটোর ফাংশন হারায়, কিন্তু কগনিটিভ ফাংশন বজায় থাকে।

অর্থাৎ সে নড়াচড়া করতে পারে না কিন্তু সুস্থ মানুষের মতো চিন্তা করতে পারেন।

খাবার গিলতে সাহায্য করা পেশী কাজ করা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে পুষ্টিহীনতা ও পানিশূন্যতায় মারা যেতে পারেন এই রোগে আক্রান্ত রোগীরা।

স্টিফেন হকিং এর জীবনযাত্রা

কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন ১৯৮৫ সালে। এর পর তিনি কম্পিউটার সিস্টেমের সাহায্যে কথা বলা শুরু করেন।

হকিং নিজের বেশিরভাগ পেশী ব্যবহার করতে অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন। একটি মোটোরাইজড হুইলচেয়ারের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন তিনি।

এমন ভয়ঙ্কর রোগের সাথে বসবাস করেও তিনি জ্ঞান অন্বেষণে ত্রুটি রাখেননি।

স্টিফেন হকিং এর সবচেয়ে বড় সাফল্য

১৯৭০ সালে তিনি সবচেয়ে বড় সাফল্যটি অর্জন করেন। তিনি এবং তার সহ-গবেষক রজার পেনরোজ দেখান একটি মাত্র বিন্দু থেকেই বিগ ব্যাং এর সূত্রপাত এবং সেখানেই আমাদের মহাবিশ্বের জন্ম।

স্টিফেন

মহাবিশ্বের একটি ভয়ঙ্কর আবিষ্কার হল ব্ল্যাক হোল।

তিনি কোয়ান্টাম থিউরি ব্যবহার করে জানান ব্ল্যাক হোল থেকে তাপ উৎপন্ন হয় এবং তা একসময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয় ‘অ্যা ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’ বইটি।

বইটি ২৩৭ সপ্তাহ ধরে সানডে টাইমস বেস্ট সেলার থাকার কারণে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে ঠাঁই পায়।

এখনো এটি পদার্থবিদ্যার অন্যতম জনপ্রিয় একটি বই।

স্টিফেন হকিং এর কিছু উক্তি

সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে

হয়তো সৃষ্টিকর্তা আছেন কিন্তু বিজ্ঞান সৃষ্টিকর্তার প্রয়োজন ছাড়া মহাবিশ্বকে ব্যাখ্যা করতে পারে

নারীর উদ্দেশ্যে

আমার চিকিৎসক সহকারী আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে যদিও আমার পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি আছে, তবুও নারীদের একটি রহস্য থাকা উচিত।

অস্কারজয়ী অভিনেতা এডি যখন তার চরিত্র নিয়ে অভিনয় করেছিলেন

দুর্ভাগ্যবশত, এডি [রেডময়েইন] আমার ভাল চেহারা উত্তরাধিকারী হয়নি।

মৃত্যুর উদ্দেশ্যে

আমি মস্তিষ্ককে একটি কম্পিউটার হিসাবে বিবেচনা করি, যা তার উপাদানগুলি ব্যর্থ হলে কাজ বন্ধ করে দেবে। ভাঙা কম্পিউটারের জন্য কোন স্বর্গ বা পরের জীবন নেই; যে অন্ধকারের ভয় মানুষ পেয়ে আসছে তা শুধু মাত্রই গল্প।

বিজ্ঞানের জগতে তাঁর অবদান কোনদিন নিঃশেষ হবে না। সময়ের ব্ল্যাক হোলে হারিয়ে গেলেন পৃথিবীর উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্কদের একজন।

মসলা চা খেয়েছেন কখন? বাসায় চেষ্টা করে দেখুন

মসলা

দারজিলিং-এর মসলা চা সম্পর্কে শোনেনি এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম। কিন্তু খেয়েছেন কয়জন। তাই আপনাদের সামনে আজ হাজির করছি বিখ্যাত চায়ের রেসিপি। বলা হয়ে থাকে স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী এই পানীয়টি

মসলা চায়ের উপকরণ

দারুচিনি- ১ টুকরা

এলাচি- ৫ টি

লবঙ্গ- ৫ টি

কালো গোলমরিচ- ৩ টি

পানি- ৪০০ মিলি

আদা- ১/২ চা চামচ

কড়া চা পাতা- ২ টেবিল চামচ

দুধ- ২০০ মিলি

রাম(একধরণের পানীয়)- ৬ থেকে ৭ মিলি

মসলাচায়ের প্রণালী

ক) আদা ছাড়া সব মসলা এক সাথে গুড়া করুন।

খ) একটি পাত্রে পানি ফুটতে দিন। এখন ফুটন্ত পানিতে চা ও আদাসহ সব মসলাগুলো দিয়ে দিন। এভাবে ৬/৭ মিনিট রাখুন।

গ) দুধ আর রাম একসাথে যোগ করুন। এভাবে ১ মিনিট রাখুন।

ঘ) চা কাপে পরিবেশন করার পর উপরে হাল্কা গুড়া মসলাগুলো ছিটিয়ে দিন।

গরম গরম উপভোগ করুন।

উপকারিতা

মশলা চায়ে ব্যবহার্য সকল মশলাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন। শুধু গরম মশলার ব্যবহার যেন এক কাপ চা পানের উপকারিতা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। চায়ে ভেষজ বা মশলা ব্যবহারের ফলে এরা পরিপাকে সাহায্য করে।এতে অল্প মাত্রায় ক্যাফেইন থাকে বলে সাধারণ দুধ চা অপেক্ষা এই চা কম ক্ষতিকর। মৌসুমি সর্দি ও কাশি প্রতিরোধেও এই চা অত্যন্ত চমৎকার কাজ দেয়। মশলা চায়ে একই সঙ্গে হরেক রকম মশলার উপস্থিতি হতে পারে আপনার নানাবিধ সমস্যার সমাধান।
মশলা চা গরম বা ঠান্ডা অবস্থায় পান করা যেতে পারে। তবে গরম অবস্থায় পান করাই শ্রেয়। সুস্বাস্থ্যকর এই মশলা চা তৈরি করা বেশ সহজ। আসুন জেনে নেই অল্প সময়ে কিভাবে মশলা চা তৈরি করা যা।

জার্মানির বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ১৬ জন মহিলার উপর একটি গবেষনা করেন ।তাদের প্রত্যেককে একবার করে রঙ চা, দুধ চা এবং শুধু গরম পানি পান করতে দেয়া হয় এবং প্রতিবার-ই আল্ট্রাসাউন্ড পদ্ধতিতে তাদের রক্তনালীর প্রসারন মাপা হয়।এতে দেখা যায় যে, রঙ চা রক্তনালীর প্রসারন ঘটায় যা উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রনের জন্য অত্যন্ত জরুরী। চায়ের মধ্যে থাকা ক্যাটেচিন এর জন্য দায়ী। দুধের মধ্যে থাকা ক্যাসেইন নামক একটি পদার্থ চায়ের মধ্যে থাকা ক্যাটেচিন কে বাধাগ্রস্থ করে ফেলে। ফলে চায়ে দুধ মেশালে চায়ের রক্তনালী প্রসারনের ক্ষমতা একবারেই চলে যায়।রঙ চা উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রনে অত্যন্ত কার্যকরী কিন্তু দুধ চা নয়।চা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও দেহের জীবকোষের ক্ষয় রোধ করে। কিন্তু চায়ে দুধ মেশালে এর কিছু গুন কমে যেতে পারে।