আত্মবিশ্বাসী নারী কি কি বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন? নিজের সাথে মিলিয়ে দেখুন

নারী

আমাদের জীবনে নারী হিসেবে প্রথমে যাকে দেখি সে হল “মা”। এরপর যাকে দেখি সে হতে পারে “বোন”। আজ কথা বলবো যারা হাজার ঝড়-ঝঞ্ঝা মাথায় নিয়ে নিজেদের মমতা দিয়ে আমাদের সাথে পথ চলছেন। সেই সকল নারীদের কথা বলবো যারা অনেক দৃঢ় চিত্তের এবং আত্মবিশ্বাসী। তাদের সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরবো। আপনি নারী হিসেবে কেমন মিলিয়ে দেখলে বুঝতে পারবেন।

নারী যখন চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসে

সাধারণত নারীরা কোন ধরণের ঝুঁকি অথবা ঝামেলা পছন্দ করে না। কিন্তু মানসিক ভাবে দৃঢ় নারীরা সব কিছুতেই ঝুঁকি নিতে পারে, চ্যালেঞ্জ নিতে ভয় পায়না। চ্যালেঞ্জ কে তারা বড্ড ভালবাসেন। আপনি যদি এমন হয়ে থাকেন তাহলে আপনি ১০ জন মেয়ের মধ্যে সেই ২ জন যাদের সচরাচর পাওয়া যায় না।

নারী যখন পরনির্ভরশীল হতে পারে না

শুধু আমাদের সমাজে নয় সারা পৃথিবীতে অধিকাংশ নারীই নির্ভরশীল হতে পছন্দ করে।

তাদের ভেতরই কয়েকজন আছেন যারা নির্ভরশীল হতে পছন্দ করেন না।

তারা নিজেদের এমন ভাবে গড়তে চান যাতে অন্যরা তাদের উপর নির্ভর করতে পারে।

নির্ভরশীলতা যেন তাদের কাছে একটা পঙ্গুত্বের মতো।

নিজের অতীত বলতে ভয় পান না

প্রতিটা মানুষের জীবনেই অতীত থাকে। সবার অতীত যে মধুর হবে এমন নয়।

মানুষ তার তিক্ত অতীত নিয়ে অনেক বিব্রত বোধ করে। সব সময় লুকিয়ে রাখতে চায়।

অতীতের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা যদি তার ভুলের কারণে হয়ে থাকে তাহলে সে তা স্বীকার করতে কুণ্ঠাবোধ করে না।

অতীত ও অতীতের ভুলকে নিজের শত্রু নয়, নিজের হাতিয়ার করে তারা নতুনভাবে নিজেদের গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করতে থাকেন সর্বদা।

এই নারীরা প্রত্যাখ্যানকে ইতিবাচক ভাবে দেখেন

আত্মবিশ্বাসী নারীরা প্রত্যাখ্যানকে কখন ভয় পান না। প্রত্যাখ্যান হওয়ার কারণ টা নিয়ে চিন্তা করেন।

নিজের কমতিটাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে বদ্ধপরিকর হয়ে যান তারা।

তারা খুব ভালো করে জানেন যে সাপের মাথার মণি পেতে হলে সাপের ছোবল খেতেই হবে।

তাই নিজেকে সেভাবেই গড়ে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পরেন।

নারী যখন সৃজনশীল মনের অধিকারী

একঘেয়েমি জীবনে তারা অভ্যস্ত হতে পারেনা। সৃজনশীল মননের অধিকারী হন তারা।

নিজের ভেতরের প্রতিভাকে কাজে লাগাতে কখনো বিলম্ব করেন না।

শুধু নিজের নয় পাশে থাকা মানুষটার প্রতিভা এবং সৃজনশীলতা প্রকাশের চেষ্টা করে।

সমাজ, পৃথিবী আর জীবনকে এক মাত্রায় দেখে না।

ভালো নেতৃত্ব দান করতে পারে

তারা যে পরিবেশেই যাক না কেন সেখানে নিজেকে মানিয়ে নেয়। তার ব্যবহার, বুদ্ধিমত্তা এবং মিষ্টি ভাষার জন্য সে ভালো নেতৃত্ব দান করতে পারে।

তার সাথে উপস্থিত সবাই ই চায় যেন এই পরিবেষটাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখে।

কুৎসা না রটিয়ে অন্য নারীর সাহায্য করেন

সাধারণত নারীরা অন্যের কুৎসা রটিয়ে সুখ খুঁজে পায়। কিন্তু ব্যতিক্রমধর্মী এই নারীরা অন্যের কোন দোষ দেখলে তা নিয়ে অপমান না করে সেটা তাকে ভালো করে বুঝিয়ে বলেন।

সাহায্য করেন তার ত্রুটি কাটীয়ে উঠতে।

অন্যান্য সকলের কাছে তারা প্রকৃষ্ট উদাহরণ

মানসিকভাবে দৃঢ় নারীরা স্বভাবগতভাবেই অনেক বেশী শক্ত মানসিকতার মানুষ হয়ে থাকেন।

অন্যান্য সকলের চাইতে অনেক বেশী জেদি ও সংকল্পবদ্ধ মানুষ হয়ে থাকেন তারা। যা অনেক ক্ষেত্রে ও অনেকের জন্যে অনিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে মনে হতে পারে।

তবে সত্য কথা হচ্ছে, তাদের এমন নাছোড়বান্দা আচরণ ও স্বভাবের জন্যে তারা অন্য সকলের কাছে দারুণ ও অনুপ্রেরনাদায়ক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হন।

এমন স্বভাবের নারীকেই সকলে ‘রোল মডেল’ হিসেবে বিবেচিত করে থাকেন। প্রকৃত ‘লিডার’ হবার সকল যোগ্যতা তাদের মাঝে খুব পরিষ্কারভাবেই পরিলক্ষিত হয়। লিডার হলেও তারা কখনোই হুকুম করে বা জোর করে কারোর কাছ থেকে কাজ আদায় করার ক্ষেত্রে বিশ্বাসী নন।

তারা সকলকে ইতিবাচকভাবে এবং ভালো আচরণ দ্বারা বুঝিয়ে কাজ আদায় করার ক্ষেত্রে বিশ্বাসী।

নতুন বছরের অজানা কিছু তথ্য জেনে নিন

নতুন

আজকের পর আসছে নতুন বছর। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ ইংরেজি নববর্ষ পালন করেন। অনেকে আমরা থার্টি ফার্স্ট নাইট পালন করি।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মানুষরা কিন্তু নানা ধরণের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান পালন করেন।

ইংরেজি নববর্ষের আছে কিছু ইতিহাস। যেগুলো সম্পর্কে আপনারা অনেকেই অবগত নন।

তাহলে আসুন জেনে নেয়া যাক।

নববর্ষ উদযাপনের রীতিনীতি চালু হয়ে ছিল ৪০০০ বছর আগে

তৎকালীন রোমান প্রধান জুলিয়াস সিজার প্রথম জানুয়ারী মাসের নাম করণ করেন।

রোমান দেবতা জেনাস এর নামকরণে এই মাসের নাম দেয়া হয়। এই দেবতা রোম এর প্রবেশ দরজায় থাকেন।

জেনাসের দুটি মুখ একটি পেছনে এবং অন্যটি সামনে। তাই সিজার ভাবলেন বছরের শুরুর মাসটির নাম এই দেবতার নামেই করা উচিত।

নতুন বছরের শুরুতে অনেক বেশি সবুজ সবজি খান

বলা হয়ে থাকে যে বছরের প্রথমে যত বেশী সবুজ সবজি খাবেন আপনার বছর তত ভালো যাবে। বছরের প্রথম দিন অনেকেই তাই বীন, মটরশুঁটি খেয়ে উদযাপন করেন।

পৃথিবীর কতজন মানুষ মদের বোতল খুলে নববর্ষ পালন করেন

আমেরিকানরা প্রায় ৩৬০ মিলিয়ন গ্লাস মদ খায় এই সময়। এই উদযাপন মনে করিয়ে দেয় সতেরশো শতাব্দীর ইতিহাস।

নিউইয়র্ক টাইমস স্কয়ারের বল ড্রপ

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ টি রাজ্যের মধ্যে নিউইয়র্ক একটি খুব জাঁকজমক পূর্ণ শহর। এই স্থানটি বিশ্বের সন্ধিস্থল হিসেবেও পরিচিত।

টাইমস বিল্ডিং-এর সামনে নববর্ষের উৎসব হয়। বছরের প্রথম দিনের শুরুতে রাত ১২টায় বার্ষিক উৎসব হয়। ৩১ ডিসেম্বর ১৯০৭ সাল থেকে শুরু হয়ে আজ অবধি তা চলছে।

এ উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ‘বল ড্রপ’ প্রতি নববর্ষের আগের দিন ১০ লাখেরও বেশি দর্শনার্থীকে টাইমস স্কয়ারে টেনে আনে।

অনেক দর্শনার্থী শুধু বল ড্রপ দেখার জন্য এবং বছরের শেষ রাত কাটানোর জন্য ৩/৪ গুণ বেশী ভাড়া দিয়ে নিউইয়র্কের হোটেলগুলোতে রুম ভাড়া করে।

বছর শুরু নিয়ে ডেনমার্কের ঐতিহ্য

বিভিন্ন দেশে নানান ধরণের ঐতিহ্য পালন করা হয়। কিছু কিছু দেশে নববর্ষ নিয়ে তাই মজাদার সব ঐতিহ্য পালন করা হয়।

ডেনমার্কের মানুষেরা দরজায় থালা বাসন ছুঁড়ে মারে।

এর পেছনে কারণ হল ডেনমার্কের মানুষের বিশ্বাস যার দরজায় যত বেশী থালা বাসন ছোঁড়া হবে তার সেই বছর তত বেশী নতুন বন্ধু হয়।

বছর শুরু নিয়ে স্প্যানিশের ঐতিহ্য

ডেনমার্কের মতো স্প্যানিশরাও একটা ঐতিহ্য পালন করেন।

৩১ ডিসেম্বরের রাতে সবাই ১২ টা করে আঙ্গুর খায়।

তাদের বিশ্বাস যারা এটা করবে বছর জুড়ে তাদের ভালো ভাগ্য থাকবে।

১৮৯৫ সাল থেকে এই ঐতিহ্য পালন করে আসছে স্প্যানিশরা।

কুকুর পাললে আপনার জীবনে আসবে অবিশ্বাস্য পরিবর্তন

কুকুর

আমাদের দেশে বেশির ভাগ পরিবারে কুকুর পোষাটা গ্রহণযোগ্য নয়। সিংহ ভাগ মানুষ কুকুর পালতে নারাজ। অনেকের এই প্রাণিটির প্রতি এক ধরনের ভয়ও কাজ করে। বাচ্চাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এই কুকুর কিন্তু রাখতে পারে বিশেষ ভূমিকা। শুধু বাচ্চাদের জন্য নয় সব বয়সী মানুষদের জন্য এই প্রাণী অনেক ভালো একটি সঙ্গী।

কুকুর জড়তা দূর করে

মানসিক চাপের জন্য আমাদের মন খারাপ থাকে। অবসাদ নামে জীবনে। অনেকের জীবনে হতাশার কারণে হীনমন্যতায় ভোগে।

কুকুর

কিন্তু যদি কোন প্রাণী আপনার চারপাশে লেজ নাড়িয়ে আপনার আদর পাওয়ার জন্য ঘোরে তাহলে আপনি কি আর মন খারাপ করে থাকতে পারবেন?

পোষা প্রাণীর সঙ্গে খেলা করলে আমাদের মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন নামের এক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ কমিয়ে আন্তরিক হতে সাহায্য করে।

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ছোটবেলায় বাচ্চাদের মধ্যে যে জড়তা তাকে তা পোষা কুকুর দূর করতে পারে।

কুকুর ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

প্রথমে আপনি হয়তো হয়তো বিশ্বাস করবেন না। কিন্তু গবেষণায় বের হয়েছে যে কুকুর তার মালিকের স্বাস্থ্যের অসঙ্গতি লক্ষ্য করে।

সে তখন মালিকের শরীরের সেই অংশে বারবার চাটতে থাকে। এমন হলে জলদি ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

হতে পারে শরীরের সেই জায়গায় ক্যান্সার সেল জন্ম নিতে শুরু করেছে।

হাঁপানি হতে পারেনা

সুইডেনের এক গবেষণায় পাওয়া গেছে, নবজাতক শিশু যদি প্রথম এক বছর পোষা কুকুরের সঙ্গে বেড়ে ওঠে তাহলে তার শরীরে হাঁপানি রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়।

বয়স ছয় হতে হতে হাঁপানির ঝুঁকি কমে যায় অনেকটাই।

ফুসফুস জনিত যেকোনো রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

যদি বাচ্চার আগে থেকেই অ্যালার্জি কিংবা হাঁপানি থাকেলে লোমশ কিছু না পোষাই ভাল।

শিশুকে দায়িত্বশীল করে তোলে

কুকুর

দায়িত্বশীলতা, কর্তব্যপরায়ণ হিসেবে গড়ে তোলার সময় শিশু সময়েই।

বাড়িতে প্রাণী পোষা কিন্তু অনেক বেশি দায়িত্বশীলতার প্রমাণ দেয়।

বাবা মার দেখা দেখি বাসার পোষা প্রাণীটির প্রতি সেও যত্নশীল হতে শুরু করে।

কিভাবে বন্ধু বানাতে হয় শিখে যায়। চারপেয়ে এই বন্ধুর বদৌলতে ছোটবেলা থেকে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন অনেকেই।

অতিরিক্ত কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়

কুকুর

বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে এই প্রাণীর শরীরে থাকা বেশ কিছু উপকারি ব্যাকটেরিয়া আমাদের শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে একদিকে যেমন ট্রাইগ্লিসারাইড এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে, তেমনি শরীরের অন্দরের ক্ষমতাও মারাত্মক বৃদ্ধি পায়।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই সুস্থ জীবনের স্বপ্ন পূরণ হতে সময় লাগে না।

হার্ট ভালো থাকে

কুকুর

যেমনটা একেবারে শুরুতেই আলোচনা করা হয়েছে যে হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে কুকুর পোষার সরাসরি যোগ রয়েছে।

আসলে পোষ্যের সান্নিধ্যে থাকলে শারীরিক সচলচা এতটা বেড়ে যায় যে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে।

সেই সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কাও চোখে পরার মতো কমে যায়।

শিশু স্বাস্থ্য হারাতে পারে যে সকল শীতকালীন রোগে

শিশু

আমাদের দেশের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ। জীবন ধারণের জন্য অনেক জনপ্রিয় এই আবহাওয়া।

গ্রীনহাউস এফেক্ট আর বৈশ্বিক পরিবর্তন আমাদের প্রকৃতি নষ্ট করছে।

এই জন্য একদিকে আমাদের দেশের গরমকালে তাপমাত্রা অনেক বেড়েছে আবার অন্য দিকে বেড়েছে শীতের প্রকোপ।

তাপমাত্রার এমন আকস্মিক উঠানামার কারণে দেখা দিচ্ছে নানান ধরণের রোগ। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু।

শীতের মৌসুমে এমন কিছু রোগ আছে যেগুলো একটি শিশুকে সারা জীবন ভোগাতে পারে। সাবধানতা অবলম্বন করলে বেঁচে যেতে পারে আপনার ছোট্ট মানিক।

আসুন জেনে নেই রোগগুলোর সম্পর্কে।

নিউমোনিয়া

শিশুর জন্য ভয়ংকর এক রোগের নাম নিউমোনিয়া। এই রোগে এখন পর্যন্ত অনেক শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

নিউমোনিয়া হলে ফুসফুস ফুলে ওঠে এবং ফুসফুসের ভিতর তরল পদার্থ জমা হয় যার ফলে বাচ্চারা একটানা কাশিতে ভুগতে পারে, এমন কি শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়াও আশ্চর্য নয়।

নিউমোনিয়া কি সেই সম্পরকেই জানেনা অনেকে। ঠাণ্ডা থেকেই হয় এই রোগটি। তাই মাকে অবশ্যই শীতকালে অনেক বেশি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

বাচ্চা যেন প্রস্রাবে ঘুমিয়ে না থাকে, জামা কাপড় যেন সব সময় শুষ্ক থাকে। এই সব দিকে খেয়াল রাখতে হবে। ভুলেও যেন বাচ্চার মাথায় কুয়াশা না লাগে।

শিশুর হাঁচি কাশি বেশি দিন স্থায়ি হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে।

যদি দেখেন অতিরিক্ত সর্দির জন্য শিশু স্তন্য পান করতে পারছে না তাহলে যত জলদি পারেন ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন বের হয়েছে। এই ভ্যাকসিন দিলে শিশুর নিউমোনিয়া আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।

এই রোগ ছোঁয়াচে সুতরাং শিশুকে সাবধানে রাখবেন।

ব্রংকিওলাইটিস

ব্রংকিওলাইটিস শিশুদের ফুসফুসের একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যাতে আক্রান্ত শিশুরা ভয়ানক কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভোগে। সাধারণত ২ বছরের কম বয়সী শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়।

কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশু এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করলেও এই রোগ হতে পারে। নবজাতক কে কখনই স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে রাখা ঠিক নয়।

প্রাথমিক ভাবে হালকা জ্বর, হাঁচি কাশি আর সর্দি থাকতে পারে। আক্রান্ত শিশুরা অতিরিক্ত কান্নাকাটি করে, অস্থির থাকে।

শ্বাসকষ্টের জন্য তাদের খেতে ও ঘুমাতে সমস্যা হতে পারে। কারও কারও দ্রুত শ্বাসের সঙ্গে হৃদ স্পন্দন বেড়ে যায়।

উপসর্গ দেখেই এই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। রক্ত পরীক্ষা এবং বুকের এক্স-রে রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করে।

জরুরী ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি করুন।

এজমা অথবা হাঁপানি

হাঁপানি রোগটি সহজে নির্ণয় করা যায় না। এর তীব্রতা যখন বেড়ে যায় তখন বোঝা যায়।

সময় মতো নিরাময় না করলে সারা জীবন ভুগতে হয় এই রোগে। কিন্তু নির্ণয় করা অনেক সহজ।

শিশু যখন শ্বাস প্রশ্বাস নেয় তখন অনেক কষ্ট হয়, বুকে কান রাখলে বাঁশির মতো আওয়াজ শোনা যায়। শ্বাস নেয়ার সময় বুক একদম দেবে যায়।

কিছু খাবারে এলার্জি দেখা যায়। খুসখুসে কাশি থাকে। এই উপসর্গ দেখা দিলেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন। নয়তবা আপনার অসাবধানতার জন্য শিশুটির সারা জীবন এই রোগ বহন  করে চলতে হবে।

হাম

হাম এক অত্যন্ত সংক্রামক রোগ আর এটা ছড়ায় যে কোনও সংক্রমিত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে। শুরুর দিকে সর্দিকাশি আর জ্বর থাকে।

দুদিনের মাথায় দেখা দেয় অন্যান্য সমস্যা যেমন শ্বাসনালীর বন্ধ হয়ে আসা মানে ব্রঙ্কাইটিস, ফুসফুসে সংক্রমণ মানে ব্রোঙ্কিওলাইটিস, কানের সংক্রমণ বা বাচ্চাদের গলা ফুলে যাওয়ার মত উপসর্গ।

আপনার শিশুর হাম হলে তাকে অন্য বাচ্চাদের সাথে মেশা থেকে বিরত রাখুন নাহলে অন্যরাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

চিকেন পক্স

চিকেন পক্স বাচ্চাদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়। সারা গায়ে দেখা দেয় পক্সের দানা যেগুলো বিশ্রী রকমের চুলকানির উৎস হয়ে দাঁড়ায়।

পক্সের সময় হালকা ফ্লুয়ের লক্ষণও দেখা দেয়।

জ্বর আসে গায়ে। জ্বরের মাত্রা তীব্র হতে পারে। ভয় পাবার কারণ নেই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

তবে আশার কথা এই যে শিশুদের একবার চিকেন পক্স হয়ে গেলে ভবিষ্যতে ফের এই রোগের পাল্লায় পড়ার সম্ভাবনা বেশ কম।

এ রোগ হলে আপনার বাচ্চাকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। আপনাকে অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে কারণ এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ।

আপনার শিশুর কোন খেলার সঙ্গীর পক্স হলে তার হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সুতরাং আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে এসব বিষয়ে।

চর্ম রোগ

শীত এলে শিশুর ত্বকে চর্ম রোগ হতে পারে। শীতের শুষ্ক বাতাসে নানা ধরণের রোগ জীবাণু ঘুরে বেরায়।

খেলায় মত্ত থাকা আপনার বাচ্চাকে সব সময় পরিষ্কার করে রাখাটা হয়তো খুব কষ্টকর। কিন্তু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবে বিভিন্ন ধরণের চর্মরোগ হয়।

আর একটি রোগ আছে যার নাম আমরা প্রায় সবাই জানি।

রোগটি হচ্ছে স্কেবিস। বাংলায় খুজলি পাঁচড়াও বলে থাকেন অনেকেই।

এটির সঙ্গে যদিও সরাসরি শীতের বা বাতাসের আর্দ্রতার কোনো সম্পর্কের কথা জানা যায় না তবুও দেখা গেছে এ রোগটি শীত এলেই ব্যাপক আকারে দেখা দেয়।

বিশেষ করে শিশুরা এতে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হতে থাকে।

শীতকালে যেহেতু এক বিছানায় একত্রে অনেকেই চাপাচাপি করে শোয় সে কারণে রোগটি এ সময়ে ব্যাপকভাবে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারে।

এ রোগটি আমাদের দেশের গরিব শ্রেণীর মধ্যে বেশি হতে দেখা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যে সব শিশু স্কুলে যায় তারাই এতে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

এটি একটি জীবাণুবাহিত রোগ। যে কীটটি দিয়ে এ রোগটি হয় তার নাম হচ্ছে স্কেবিয়াইসারকপটিস স্কেরিবাই।

এক্ষেত্রে শরীরে অসম্ভব রকম চুলকানি হতে দেখা যায় এবং রাতে চুলকানির তীব্রতা আরো বাড়ে।

ডাক্তারের পরামর্শে ক্রিম ব্যবহার করলে সহজেই পরিত্রাণ পেতে পারেন।

মুখের দুর্গন্ধ দিয়ে অবহেলা নয়, এর মাধ্যমে অনেক রোগ ধরা যায়

দুর্গন্ধ

মুখে দুর্গন্ধ নিয়ে আমরা অনেকেই বিভিন্ন বিব্রতকর অবস্থায় পড়ি। দেখা যায় অনেক সময় আপনি ঠিক মত ব্রাশ করেও মখে দুর্গন্ধ পাচ্ছেন। এমন অবস্থায় অন্যের সাথে কথা বলতেও ভয় লাগে এই বুঝি আমরা মুখের দুর্গন্ধ পাবে!

আপনি কি জানেন মুখের দুর্গন্ধ শুধু দাঁতের কারণে হয় না। অনেক সময় মুখের গন্ধ দিয়ে শারীরিক অসুস্থতা ধরা পড়ে।

যদি মুখের দুর্গন্ধ কিছুটা প্রসাবের মতো গন্ধ হতে থাকে তাহলে সতর্ক হয়ে যান। কারণ এই ধরনের দুর্গন্ধ বলে দেয় আপনার টাইপ-১ ডায়বেটিসের সমস্যা হয়েছে।

এই গন্ধের মূল কারণ হচ্ছে ডায়বেটিসের কারণে দেহে ইনসুলিনের অভাব।

আপনার নিঃশ্বাসে যদি দুর্গন্ধ পান তাহলে বুঝে নেবেন আপনার সাইনাসে সমস্যা রয়েছে।

এর কারণ হচ্ছে নাকে ও গলায় মিউকাস জমে থাকা।

টক দুধের মতো টক টক ধরনের গন্ধ পান আপনার নিঃশ্বাসে আপনার খাবারে প্রোটিনের মাত্রা অতিরিক্ত বেশি হয়েছে।

এর কারণ হচ্ছে কিটোনের ভাঙন।

যদি আপনার নিঃশ্বাসে পচে যাওয়া মাংসের মতো দুর্গন্ধ পান তাহলে বুঝে নেবেন আপনার টনসিলের সমস্যা হয়েছে।

টনসিলের কারণে সালফার উৎপন্নকারী ব্যাকটেরিয়া অধিক জন্ম নিচ্ছে যার কারণেই নিঃশ্বাসে এই ধরনের দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে।

আপনার নিঃশ্বাসে দিনের প্রত্যেকটা সময় যদি সকালে ঘুম থেকে উঠার পর যেমন গন্ধ থাকে তেমন গন্ধ পান তাহলে আপনার মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে।

মুখে ভেতরের স্যালিভা বা লালা শুকিয়ে গেলে ব্যাকটেরিয়া উৎপন্ন হতে থাকে যা এই ধরনের দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে।

যদি আপনার নিঃশ্বাসে আঁশটে গন্ধ হয় তাহলে বুঝে নেবেন আপনার কিডনি সমস্যা হয়েছে।

কিডনিতে সমস্যা হলে এবং কিডনি সঠিকভাবে কাজ না করলে নাইট্রোজেন উৎপন্ন হয় যা এই ধরনের দুর্গন্ধের জন্য দায়ী।

খুবই বাজে ধরনের দুর্গন্ধ এবং বাথরুমের মতো গন্ধ পেলে বুঝে নেবেন আপনার মাড়িতে ইনফেকশন হয়েছে।

সুতরাং সাবধান। শারীরিক সমস্যা যদি বুঝে নিতে পারেন নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ থেকে, তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

দিনে অবশ্যই দুইবার সঠিক পদ্ধতিতে দাঁত ব্রাশ করুন। মাউথ ওয়াশ এবং ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করুন। যদি সম্ভব হয় প্রতিবার খাবার গ্রহণের পড়ে দাঁত ব্রাশ করুন।

নিয়মিত দাঁত, মাড়ি, জিহ্বা পরিষ্কার করুন

পর্যাপ্ত পানি পান

নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করা শরীরের জন্য শুধু উপকারীই না, এটা প্রয়োজনীয়। শুকনো মুখেই ব্যাকটেরিয়াগুলো বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

আর পানি খেলে গন্ধযুক্ত বিশেষ সালফার যৌগ অনেকটাই পানিতে মিশে যায়। ফলে গন্ধও কমে।

তাজা সবজি ও ফল খান

মৌসুমি তাজা ফল ও সবজি জুস করে না খেয়ে চিবিয়ে খান। এতে শরীরে যেমন প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান হবে তেমনি তা মুখের গন্ধও দূর করবে।

ফল-সবজি খেলে মুখে লালার প্রবাহ বাড়ে বলে মুখ ভেজা থাকে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দুর্বল হয়ে যায়।

কফি খাওয়া কমান

বেশি বেশি কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সেটা কমান। কফি জিহ্বার ওপর প্রলেপ ফেলে দেয় যা অক্সিজেনের চলাচল বন্ধ করে দেয়।

এটা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ক্যাফেইন প্রয়োজন হলে আপনি চা পান করুন।

চিনিহীন চুইংগাম

মুখের গন্ধ থেকে বাঁচতে তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে চুইং গাম চিবাতে পারেন। মুখের ভেতরটা ভেজা রেখে লালার প্রবাহ চালু রাখতে সাহায্য করবে এটা।

তবে, চিনি আছে এমন মিন্টজাতীয় গাম না চিবানোই ভালো।

কারণ চিনি দাঁতে লেগে থাকলে তা আপনার এনামেল ক্ষয় করবে।

দই খান

বেশীর ভাগ মানুষের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, দিনে একবার কিছুটা দই খাওয়া হজমে সহায়ক এবং তা মুখ থেকে এমন গন্ধ দূর করতেও সাহায্য করে।

মুখের এমন ব্যাকটেরিয়া দূর করতেও খুবই সহায়ক দই।

ভিটামিন প্রয়োজন

ভিটামিন-ডি মুখের এমন ব্যাকটেরিয়ার জন্য ক্ষতিকর। দুধ ও দুধজাতীয় খাবারে ভিটামিন-ডি আছে আর সূর্যালোক তো আছেই। ভিটামিন-সির পর্যাপ্ত জোগানও আপনার মুখ সতেজ রাখবে।

আর এ দুটো ভিটামিন মুখে গন্ধের সমস্যার পাশাপাশি আপনার মুখের অন্যান্য রোগ প্রতিরোধেও প্রয়োজনীয়।

আপনার যদি এসিডিটি থাকে তবে ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেল মশলাযুক্ত খাবার খাবেন না, রাতে ঘুমানোর দুই ঘন্টা আগে খাবার খাবেন, রাতে ঘুমানোর আগে হাঁটাহাঁটি করবেন।

তামাক বর্জন করুন

সিগারেটই হোক বা জর্দা দেওয়া পান। যেকোনো তামাকজাতীয় দ্রব্য সেবন মুখে গন্ধসহ অনেক ধরনের রোগ হতে পারে। ফলে, এমন অভ্যাস থাকলে সেটা ত্যাগ করুন।

 

পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত প্রাণীরা

বিষাক্ত

বিষাক্ত প্রাণী বলতে আমরা শুধু সাপকেই বুঝি। কিন্তু সাপ ছাড়া পৃথিবীতে রয়েছে আরও অনেক বিষধর সাপ। তাদের নিয়েই আজকের এই আয়োজন। এদের বেশির ভাগই পৃথিবীর গভীরতম অঞ্চলে বসবাস করে।

বক্স জেলিফিশ

বিষাক্ত

জেলিফিশ দেখতে খুব সুন্দর। সমুদ্রের ঢেউয়ে তাল মিলিয়ে চলা ফেরা করে এরা।

সাধারণ জেলিফিশেও কিন্তু বিষ থাকে। কিন্তু এই বক্স জেলিফিশের বিষ এত তীব্র যে অনায়াসে আক্রান্তের মৃত্যু হয়ে যাবে। তাইতো একে মৃত্যুর বাক্স বলে ডাকা হয়।

লম্বা কর্ষিকা বিশিষ্ট প্রাণীটি নেমাটোসিস্ট ও বিষ বহন করে। দ্রুত চিকিৎসা না নিলে এর বিষ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া মুশকিল।

আক্রান্ত হওয়ার ৩০ সেকেন্ডের ভেতর ভিনেগার গ্রহণ করতে হবে। এর বিষ হৃৎপিণ্ড, স্নায়ুতন্ত্র এবং ত্বকের কোষ আক্রমণ করে।

বক্স জেলিফিশ দৈর্ঘ্যে ৩ মিটার এবং প্রস্থে ২৫ সেমি। ওজন ২ কেজি।

সাধারণত উত্তর অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রে এবং ইন্দো প্রশান্ত মহাসাগরে বাস করে। পেটে অনেকগুলো চোখ থাকায় একে খুব ভয়ঙ্কর দেখায়।

মাড়বেল-কোণ শামুক

বিষাক্ত

আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, শামুক কি করে বিষাক্ত হবে? আসলে সাধারণ শামুক গুলো বিষাক্ত নয় কিন্তু যে শামুক গুলো কোণ সেগুলো ভয়ানক বিষাক্ত হয়ে থাকে। মাড়বেল-কোণ শামুক পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর প্রাণীর মধ্যে ৩য় স্থানে রয়েছে।

দেখতে অনেক সুন্দর এই শামুক। মনে হয় যেন মারবেল পাথর দিয়ে মোজাইক করা। তাই তো এর এমন নামকরণ।

অস্ট্রেলিয়ার উষ্ণ লবণাক্ত সামুদ্রিক জলরাশিতে এদের দেখা মিলবে।

ব্লু-রিংড অক্টোপাস

বিষাক্ত

সব বিষাক্ত জিনিসই আকর্ষণীয় হয়। সেই ধারা মোতাবেক ব্লু-রিংড অক্টোপাস আপনার মন কেড়ে নেবে। দেখতে অনেক ছোট, একটা গলফ বলের সমান হবে। তার উপর গায়ে নীল রঙের গোল গোল রিং এর দাগ। কার না ইচ্ছে করবে ধরতে।

একটি ব্লু-রিংড অক্টোপাসে যে পরিমাণ বিষ আছে তা ২৬ জন মানুষকে মারার জন্য যথেষ্ট। বলে রাখি ব্লু-রিংড অক্টোপাসের বিষের কোন প্রতিষেধক নেই।

ও যখন আপনাকে কামড় দেবে তখন একটুও ব্যথা পাবেন না কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে আপনার শরীর অসাড় করে দেবে, পেশী দুর্বল করে তুলবে এবং শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যাঘাত ঘটাবে।

জাপান থেকে অস্ট্রেলিয়া মধ্যকার প্রশান্ত মহাসাগরে এদের বিচরণ।

মরণ কাঁকড়া বিছে

এই বিছের বিষ সম্পর্কে কম বেশি সবাই জানেন। খুব ছোট এই বিছে মারাত্মক বিষ বহন করে।

এই প্রাণীটি একবার কোন মানুষকে হুল ফুটালে বিষ সরাসরি তার স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমন করে। অবশেষে অসহ্য যন্ত্রণা এবং মাংশপেশির প্রবল সংকোচনের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটে।

সাহারা, আরাবিয়ান মরুভূমিতে এর দেখা মেলে।

তবে এর বিষ নিয়ে বিজ্ঞানীরা কিছু আশার বাণী শুনিয়েছেন। এই প্রাণীর বিষ দিয়ে ব্রেইন টিউমার এবং ডায়াবেটিস সারানো সম্ভব।

স্টোন ফিশ

বিষাক্ত

বিষধর প্রাণীরা সাধারণত দেখতে সুন্দর হলেও স্টোন ফিশ সেই ধারা বজায় রাখেনি। দেখতে খুব কুৎসিত এই মাছটি।

এরা চুপ করে পাথরের মতো পড়ে থাকে বলে এদের এমন নামকরণ হয়েছে।

চিংড়ি, ছোট ছোট মাছ গুলো পাথর ভেবে এর আশেপাশে যখন ঘোরে অথবা এর উপর বসে তখন টুপ করে ওদের গিলে ফেলে। মাছের মধ্যে এরাই সবচেয়ে বিষধর।

বিষের আক্রমণে প্রথমেই প্রাণী হঠাৎ আঘাত পায়, এর পর প্যারালাইসিস হয়ে প্রাণীদেহের কোষগুলোর মৃত্যু ঘটে। পরিশেষে প্রাণীটির মৃত্যু ঘটে।

ব্রাজিলিয়ান অয়ান্ডেরিং স্পাইডার

বিষাক্ত

মাকড়সারা সাধারণত নির্দিষ্ট কোন জায়গায় জাল পেতে বসে থাকে শিকারের জন্য। কিন্তু এই মাকড়সারা এমন নয়।

সব জায়গায় এদের পদ চারণা লক্ষ্য করা যায়। ২০০৭ সালে ‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’ এ জায়গা করে নিয়েছিলো।

এটা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর মাকড়সা। শুধু তাই নয়, মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী মাকড়সাদের মধ্যে এরাই সবচেয়ে এগিয়ে। মানুষের আশে পাশেই এরা ঘোরাফেরা করে।

পয়জন ডার্ট ফ্রগ

বিষাক্ত

খুব সুন্দর ও ছোট আকৃতির এই ব্যাঙ বিষে ভরপুর। ১.৫-৬ সেমি দৈর্ঘ্য হয়ে থাকে।

আমাজন জঙ্গলে ব্যাঙ গুলোর দেখা মিলে। স্থানীয় আদিবাসীরা তীরের ডগায় এই ব্যাঙের বিষ ব্যাবহার করে শিকার করে।

এই ব্যাঙের মাত্র ২ মাইক্রোগ্রাম বিষ একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে মেরে ফেলার জন্য যথেষ্ট।

 

 

 

আইফোন এস ই (SE) যখন আইফোন সেভেন (7) এর থেকে ভালো

আইফোন

আইফোনের জন্য পাগল নয় এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। অ্যাপল কোম্পানির এই ফোনের জন্য অনেক মানুষ তো কিডনি পর্যন্ত বিক্রি করতে চেয়েছে। প্রত্যেক বার যখন এই কোম্পানি ফোন বের করে সারা পৃথিবীতে তখন ভয়ঙ্কর তোলপাড় পড়ে যায়। সাধারণত ফোনটি পারফরমেন্স এবং লুকের জন্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। আজ আপনাদের জানাবো ২০১৬ সালের ২১ মার্চ রিলিজ হওয়া আইফোন এস ই এবং ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রিলিজ হওয়া আইফোন সেভেন এর ভেতর পার্থক্য। জেনে অবাক হবেন যে SE is better than seven. তর্ক করার আগে যা বলি তা ভালো করে শুনুন। বিশ্বাস না হলে গুগল করে নেবেন। পার্থক্য গুলো তুলে ধরছি বিবেচনা করার দায়িত্ব আপনাদের।

ডিজাইন ও সাইজ

iPhone SE – 123.8 x 58.6 x 7.6 mm (4.87 x 2.31 x 0.30 in), 113g

iPhone 7 – 138.3 x 67.1 x 7.1 mm (5.44 x 2.64 x 0.28 in) and 138g

আইফোন

SE ফোনটার সাইজটা অসাধারণ। SE এর মানে হচ্ছে স্পেশাল এডিশন। এটি একটি শক্তিশালী ছোট ফোন। সাইজের প্রেক্ষিতে ফোনটি অসাধারণ কাজ করে।

ডিসপ্লে

iPhone SE – 4-inch LED-backlit IPS LCD, 1136 x 640 pixels (326 ppi pixel density), 60.8% screen-to-body ratio

iPhone 7 – 4.7-inch LED-backlit IPS LCD, 1334 x 750 pixels (326 ppi), 65.6% screen-to-body ratio. 3D Touch

ডিসপ্লে দেখে আমি সবচেয়ে অবাক হয়েছি পিক্সেল ডেনসিটি একি রকম ৩২৬। দুটাই LED-backlit IPS LCD. আইফোন সেভেন এ আকর্ষণীয়তা বলতে থ্রিডি টাচ আর কিছু দেখছি না। বাকি পরিবর্তনগুলো শুধু নামে মাত্র ছাড়া কিছু না।

পারফরমেন্স

iPhone SE – Apple A9, CPU: Dual-core 1.84 GHz Twister, GPU: PowerVR GT7600 (six-core graphics), 2GB RAM

iPhone 7 – Apple A10 Fusion: Quad Core CPU, Six Core GPU, 2GB RAM

চিপসেট আর প্রসেসর ছাড়া কোন পরিবর্তন লক্ষণীয় নয়।

আপনি জেনে হয়তো বিশ্বাস করবেন না SE  ব্যাটারি পারফরমেন্স সেভেনের থেকে অনেক ভালো।

ক্যামেরা

iPhone SE – Rear: 12 megapixel sensor, f2.2 aperture, Focus Pixels, EIS, dual-LED flash, 4K video recording. Front: 1.2MP Front Camera, f2.4 aperture, 720p video recording

iPhone 7 – Rear: 12 megapixel wide angle sensor, f/1.8 aperture, Focus Pixels, Optical Image Stabilization, quad-LED (dual tone) flash, 4K video recording. Front: 7MP sensor, f/2.2 aperture, 1080p recording

SE পর অনেক ফোন আসলো। কিন্তু এই ১২ মেগাপিক্সেল বাড়ানো হল না অ্যাপল কোম্পানির। ক্যামেরাতে অনেক সেন্সর এনেছে কিন্তু আরও অনেক পরিবর্তন আশা ছিল।

দাম এবং মেমোরি

iPhone SE – 16GB ($399), 32 GB ($349)64GB ($499)

iPhone 7 – 32GB ($649), 128GB ($749), 256GB ($849)

যে পরিবর্তন গুলো আমরা দেখলাম সেই অনুযায়ী কি এত দামের পার্থক্য ঠিক? আপনাদের সবার মতামত আশা করছি। যদি রিয়েল আইফোন SE কিনতে চান তাহলে অবশ্যই ঢু মারুন GADGET MONKEY BD তে। তাদের সার্ভিস এবং ব্যবহার আপনাকে মুগ্ধ করবে। রোস গোল্ড কালার আছে কিন্তু সেটা অবশ্যই রিফারবিস হবে। সুতরাং বুঝে কিনুন।

 

 

 

 

 

 

মস্তিষ্কের সজীবতা ধরে রাখতে গড়ে তলুন ৭ টি অভ্যাস

মস্তিষ্কের

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা শুধু বয়স বাড়লেই কমে না আপনি যদি মস্তিষ্কের সঠিক যত্ন না করেন তখনও এমনটা হতে পারে। মাঝ বয়সেও এমনটা হতে পারে অনেকের শেষ বয়স পর্যন্ত মস্তিস্ক প্রখর থাকে। মস্তিষ্কের কোষ সজীব রাখার কিছু অজানা কিন্তু সহজ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব। আশা করি আপনারা উপকৃত হবেন।

ফলের তালিকায় রাখুন জাম এবং স্ট্রবেরি

প্রথমেই আপনাদের মাথায় এসেছে জাম তো সব সময় পাওয়া যায় না। আর স্ট্রবেরিও।

কিন্তু যখন এই মৌসুমি ফল গুলো হাতের নাগালে থাকে তখন কি আমরা ঠিক মতো খাই?

জামে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বা ফ্ল্যাভানওয়েডস মস্তিষ্কের কোষগুলোকে রক্ষা করে। ফলে ভুলে যাওয়ার সমস্যা থেকে রেহাই মেলে।

ঘরের কাজে হাত লাগান

সারাদিন আলসেমি করে কাটাবেন না। এতে করে আপনার মস্তিস্ক কার্যক্ষমতা হারাতে থাকে। তাই ঘরের ছোটখাটো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।

যেমন- ঘর গোছানো, রান্নাবান্না করা, বাসন ধোয়া ইত্যাদি।

লুডু, দাবা খেলেও কাটাতে পারেন অবসর সময়। মস্তিষ্ক সতেজ থাকলে অ্যালজ়াইমারের আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যায়।

নতুন ভাষা শিখুন

নতুন কিছু শেখার প্রতি আগ্রহী হন। নিজের ভাষার সাথে সাথে অন্য একটা ভাষাকেও করতে পারেন আপনার দ্বিতীয় ভাষা।

এক কথায় মস্তিষ্ককে সব সময় কাজে লাগান। জানেন তো অলস মস্তিস্ক শয়তানের বন্ধু।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার জন্য নিয়মিত ভাবুন

প্রতিদিন দিনশেষে সারাদিনে কী কী করেছেন তা ধারাবাহিকভাবে মনে করার চেষ্টা করুন। মোটেও লিখে রাখবেন না।

মস্তিস্কে সব মেমোরি জমা করে রাখুন। প্রয়োজনে আধা ঘণ্টার জন্য নিরিবিলি কোথাও চলে যান। এরপর ভাবুন। এটা প্রতিদিন করুন। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়বে।

রাগ করা চলবে না

রাগ মানুষের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। আপনি যদি বদ মেজাজি হয়ে থাকেন তাহলে আপনার মেজাজকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন। রাগ কখনই ভালো কিছু এনে দেয় না এটা সব সময় মনে রাখবেন। অতিরিক্ত রাগ কিন্তু হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

যতটা সম্ভব রাগ, পারিবারিক কলহ এড়িয়ে চলুন। এমন পরিস্থিতি দেখলে ওই স্থান থেকে প্রয়োজনে কিছু সময়ের জন্য বাইরে চলে যান।

ধর্ম নিয়ে চিন্তা করুন

ধর্মীয় বিভিন্ন রীতিনীতি পালনেও মস্তিষ্ক শীতল হয়। কর্মক্ষমতা বাড়ে।

মুসলমানরা নামাজের সময় যখন সিজদায় যায় তখন মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। এতে স্মৃতিশক্তি ভালো থাকাসহ ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।

ধর্মীয় নিয়ম গুলো পালন করা একধরণের মেডিটেশন। সকল ধর্মে মানুষ যখন সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করে একনিষ্ঠভাবে প্রার্থনা-পূজা-অর্চনা করে, তখন তা মেডিটেশনের কাজ করে।

এতে মস্তিষ্ক শীতল হয় ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে।

ব্যায়াম

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কেও রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে মস্তিষ্কের কোষগুলো সতেজ থাকে। স্মৃতিশক্তিও ভালো থাকে। সকালে উঠেই ব্যায়াম করতে হবে এমন নয়। আপনার যখন সুবিধা হয় তখন করবেন।

আনিসুল হকের চলে যাওয়া ঢাকা তথা বাংলাদেশের অনেক বড় ক্ষতির কারণ

আনিসুল

পরিবারের সাথে ঘুরতে দেশের বাইরে গিয়েছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। কিছু দিন আগেই চলে গেলেন গুণী শিল্পী বারী সিদ্দিকী। সেই শোক শেষ হতে না হতেই আর একটি শোক সংবাদ পেতে হল বাংলাদেশ বাসীদের।

লন্ডনের একটি হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্তায় মারা গেলেন মেয়র আনিসুল হক (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আনিসুল হকের একান্ত সচিব এ কে এম মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের সময় ১০ টা ২৩ মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তারপর তার কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের যন্ত্রটি খুলে ফেলা হয়।

আনিসুল হক মস্তিষ্কের রক্তনালির প্রদাহজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

চিকিৎসকেরা তাঁর মস্তিস্কে সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস সনাক্ত করেন। তাছাড়া তাঁর ফুসফুসেও সমস্যা দেখা দেয়। গত কয়েকমাস ধরে তিনি এ রোগে ভুগছিলেন।

আনিসুল হকের বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। মৃত্যুর সময় স্ত্রী রুবানা হক ও সন্তানরা তার পাশে ছিলেন।

বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে আনিসুল হকের মরদেহ শনিবার সকাল ১১ টা ২০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছবে বলে জানিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ওই দিনই বাদ আসর আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে আনিসুল হককে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

গত ২৮ জুলাই পারিবারিক কাজে লন্ডনে যান মেয়র আনিসুল হক।

২৯ জুলাই তাঁর নাতির জন্মদিন ছিল। যাওয়ার পর হঠাৎ বেশি অসুস্থ হয় পড়লে ১৩ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে রেখেই চলতে থাকে তার চিকিৎসা।

গত ৩১ অক্টোবর আইসিইউ থেকে রিহ্যাবিলিটেশনে স্থানান্তর করা হয়েছিল। ১ মাস পর আবার অবস্থার অবনতি হলে ২৭ নভেম্বর তাকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে আইসিইউতে নিয়ে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। আর সেখানেই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

 আনিসুল

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন গঠিত হয় ২০১১ সালের ১ ডিসেম্বর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে তাকে ফোন করে নির্বাচনের কথা বলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে তিনি আশীর্বাদ বলেছেন।নির্বাচন হয় ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে আনিসুল হক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন।

অচল এই ঢাকার কিছুটা গতি ফিরিয়ে এনেছিলেন। তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল সিটি কর্পোরেশন কেন্দ্রিক টেন্ডার বাণিজ্য বন্ধ করে ক্রয়খাতে স্বচ্ছতা আনা।

আনিসুল হক একজন উদ্যোক্তা ছিলেন। তিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি ছিলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় একাধিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনাও করেছেন।

সম্প্রতি অনেক নামী দামী ব্যক্তিত্ব হারিয়ে গেছে আমাদের দেশ থেকে। কিন্তু আনিসুল হকের জন্য কেন এত হাহাকার? তাঁর চলে যাওয়াটা মেনে নিতে পারছে না ঢাকাবাসী। অনেককেই প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি কি করেছেন ঢাকার জন্য? আসুন উত্তর গুলো জেনে নেয়া যাক।

আনিসুল
বাংলাদেশ টেলিভিশনে উপস্থাপনায় আনিসুল হক

আনিসুল হককে নিয়ে জনপ্রিয় টেলিভিশন সংবাদ উপস্থাপক ফারাবি হাফিজ লিখেছেন,

‘বহু কিছু। আমার পারসোনাল লাইফে তার সাথে সখ্যতা সেটা একটা। আর গুরুত্বপূর্ণ একটা হচ্ছে আমার বাসার সামনের একলেনের ভাঙা রাস্তাকে উনি চারলেনের বিশাল হাইওয়ে বানিয়ে দিয়েছেন। যেটা মূলত অন্যদের দখলে ছিল’।

সদ্য সাবেক সেলিব্রিটি সাংবাদিক শরিফুল হাসান নিলয়ের পোস্টে লিখেছেন,

‘ট্রাক চালক মা‌লিক, সিএনজি চালক, মা‌লিক, টেন্ডারবাজ এরা নিজে‌দের মাস্তান ম‌নে ক‌রে।

নেতারা সেই মাস্তান‌দের ক্ষেপান না কারণ সাহস নেই বা স্বার্থ আছে। আনিস ভাই সেই সাহস দে‌খি‌য়ে‌ছি‌লেন’।

রাজধানীর কুনিপাড়া এলাকায় সংস্কার প্রসঙ্গে জেসমিন পাপড়ি নামের একজন কর্মজীবী নারী লিখেছেন,

‘দীর্ঘদিন কুনিপাড়ায় অফিস করতে গিয়ে যত যন্ত্রণার শিকার হয়েছি তাতে এটা আমার কাছে অনেক বড় একটা ব্যাপার’।

মাইনউদ্দিন আহাম্মেদ সেলিম লিখেছেন,

‘যাহা সরকার, প্রশাসন করতে সাহস করেনি আনিসুল তা করে ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন।

সে জন্য ঢাকা উত্তর সিটিতে যারা বসবাস করছেন এবং ভবিষ্যতে করবেন তারা তাকে স্মরণ করতেই হবে।

সাংবাদিক নিলয়ের আরেক ফেসবুক বন্ধু রাসেল আহমেদ লিখেছেন,

‘গুলশানে প্রতিবছর আইল্যান্ড বানানো বন্ধ করে স্থায়ী সমাধান দিয়েছেন। মার্কেটের সামনে হকার উঠিয়েছেন।

আনিসুল

এয়ারপোর্ট রোডে বনসাই লাগানোর বিরোধীতা তিনি শুরু করেছেন। আরো অনেক যা অন্যেরা বলেছেন’।

আরেক মন্তব্যকারী ফয়সাল আতিক লিখেছেন,

‘তিনি সাহস দেখিয়েছেন। তার জীবন ছিল উচ্চ গতির। বনায়ন, ঢাকাকে যানজটমুক্ত করার প্ল্যান, বর্জ্য অপসারণে আধুনিক ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন টয়লেট।

আনিসুল

স্বল্প সময়ে এমন আরও অনেক কিছু। তিনি পরিকল্পনাগুলো কাগজে আঁকার পাশাপাশি মনেও রাখতেন সবসময়’।

এমন একজন ব্যক্তিত্বকে হারিয়ে সত্যি আমাদের দেশের অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হল। জানি না তাঁর জায়গায় কে আসবে? কিন্তু আমরা ঢাকাবাসী তথা পুরো দেশবাসী তাঁকে অনেক মিস করব।

ভালো থাকবেন যেখানেই থাকবেন। আপনার মত আর কেউ হবে না।

 

চির সবুজ থাকতে চান? এই খাবার গুলো তাহলে আপনার জন্য।

চির

চেহারার লাবণ্যতা ধরে রাখার জন্য আপনি হয়তো বিউটি সেলুনের শরণাপন্ন হন। অনেক ধরণের বিউটি প্রডাক্টস কেনেন এবং নিজের চেহারায় প্রয়োগ করেন। কিন্তু উপকার পাচ্ছেন না। পেলেও তা ক্ষণস্থায়ী।

যদি নিজের যৌবন ধরে রাখতে চান আর বেঁচে থাকতে চান সুন্দর ত্বক নিয়ে তাহলে আপনাকে খেতে হবে কিছু খাবার যা আপনাকে ভেতর থেকে সুন্দর করে তুলবে।

চির যৌবন চাইলে খেতে হবে ডিম

চির

ডিম সিদ্ধ হোক কিংবা ভাজি, সব ভাবেই ডিম শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার। ডিমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-৫ ও বি-৬ আছে যা শরীরের হরমোনের কার্যক্রম ঠিক রাখে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

প্রতিদিনের সকালের নাস্তায় একটি করে ডিম রাখুন। ডিম খেলে অনেকক্ষণ ক্ষুধা লাগে না।

এতে আপনার শরীর শক্তি পাবে এবং যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

লাবণ্যতা ধরে রাখে মধু

চির

মধুর রয়েছে অসংখ্য উপকারিতা।

সকালে খালি পেটে জিহ্বা দ্বারা মধু চেটে খেলে কফ দূর হয়, পাকস্থলী পরিস্কার হয়, দেহের অতিরিক্ত দূষিত পদার্থ বের হয়, গ্রন্থ খুলে দেয়, পাকস্থলী স্বাভাবিক হয়ে যায়, মস্তিস্ক শক্তি লাভ করে, স্বাভাবিক তাপে শক্তি আসে, জ্যোতি শক্তি বৃদ্ধি হয়, মূত্রথলির পাথর দূর করে, প্রস্রাব স্বাভাবিক হয়, গ্যাস নির্গত হয় ও ক্ষুধা বাড়ায়।

প্যারালাইসিসের জন্যও মধু উপকারী। মধু হল হাজারো রকম ফুল ও দানার নির্যাস। দুনিয়ার সকল গবেষকগণ একত্রিত হয়ে এমন নির্যাস প্রস্তুত করতে চাইলেও কখনো বানাতে পারবে কিনা এ বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে দুধ

যৌবন ধরে রাখতে দুধের ভূমিকা অতুলনীয়। বিশেষ করে শরীরের পেশী বৃদ্ধিতে দুধের তুলনা হয়না। চেহারায় লাল বর্ণ তৈরী করে, দেহের অপ্রয়োজনীয় দূষিত পদার্থ বের করে দেয় এবং মস্তিস্ক শক্তিশালী করে।

বাদাম ও বিভিন্ন বীজ

চির

কুমড়ার বীজ, সূর্যমূখীর বীজ, চিনা বাদাম, কাজু বাদাম, পেস্তা বাদাম ইত্যাদিতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে এবং এগুলো শরীরে উপকারী কোলেস্টেরল তৈরী করে।

শরীরের হরমোনগুলো ঠিক মতো কাজ করার জন্য এই কোলেস্টেরল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই প্রতিদিন অল্প করে হলেও বাদাম খাওয়ার চেষ্টা করুন।

এতে আপনার শারীরিক ও মানসিক ভালো স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। এই বীজগুলো মস্তিস্ক বিকাশে সাহায্য করে।

চিনি ছাড়া চা

চির

প্রতিদিন দুধ-চিনি ছাড়া চা পান করলে শরীরে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়।

চা ব্রেইন কে সচল করে, রক্ত চলাচল বাড়ায় ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।

প্রতিদিন অন্তত তিন থেকে ৫ কাপ পর্যন্ত চিনি ছাড়া সবুজ চা বা রঙ চা খেলে শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং শরীরের ওজন কিছুটা হলেও কমে যায়।

রঙিন ফল

চির

শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চাইলে প্রতিদিন খাবার তালিকায় রঙিন ফলমূল রাখুন।

আঙ্গুর, কলা, কমলা লেবু, তরমুজ, পিচ ইত্যাদি ফল যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপকারী।

ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাসের মেডিকেল টিমের গবেষণা অনুযায়ী একজন পুরুষের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় অন্তত ২০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকলে তার স্পার্মের কোয়ালিটি উন্নত হয়।

আবার টেক্সাসের A&M ইউনিভার্সিটির মতে তরমুজ শরীরে শারীরিক উদ্দীপনা বৃদ্ধি করে। শরীরে আনে কর্ম উদ্দীপনা।

রসুন

এতে রোগ নিরাময় হয়। রসুনে অনেক উপকারিতা রয়েছে।

রসুন ফোড়া ভালো করে, ঋতুস্রাব চালু করে, প্রস্রাব স্বাভাবিক করে, পাকস্থলী থেকে গ্যাস নির্গত করে, নিস্তেজ লোকদের মধ্যে শারীরিক ক্ষমতা সৃষ্টি করে, পাকস্থলীর ব্যাথা উপকার সাধন করে।

এ্যাজমা এবং কাঁপুনি রোগেও উপকার সাধন করে। তবে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অধিক রসুন ব্যবহার ক্ষতিকর।

এই রসুনকে আবে হায়াত বলেও আখ্যা দেয়া হয়।

তৈলাক্ত মাছ

চির

তৈলাক্ত মাছে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যা সুস্থ শারীরিক জীবনের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সামুদ্রিক মাছেও প্রচুর পরিমাণে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড থাকে।

ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড DHA O EPA শরীরে ডোপামিন বাড়িয়ে দেয় এবং মস্তিষ্কে উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে।

তৈলাক্ত ও সামুদ্রিক মাছ খেলে শরীরের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং গ্রোথ হরমোনের নিঃসরণ হয়। ফলে শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

পালং শাক ও অন্যান্য সবজি

পালং শাকে আছে প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম। ম্যাগনেসিয়াম শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে।

জাপানের গবেষকদের মতে শরীরে রক্ত চলাচল বাড়লে শারীরিক উদ্দীপনাও বাড়ে।

পালং শাক ও অন্যান্য বিভিন্ন রকম শাক, ব্রকলি, লেটুস, ফুলকপি, বাঁধাকপি এগুলোতে রয়েছে ফলেট, ভিটামিন বি সহ অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

এগুলো সুস্থ শারীরিক জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিছু উপাদান।

জিরা

জিরাতে থাকা আয়রন রক্তস্রোতে অক্সিজেন বহনকারী হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।

এছাড়া জিরা পানি আয়রনের অভাবজনিত রক্তশূন্যতার জন্য বেশ উপকারী।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের বেশি করে জিরা খাওয়া দরকার।

মসলাটি শুধু তাদের ডায়েটকে নিয়ন্ত্রণে রাখে না, একইসাথে রক্তে চিনির পরিমাণও কমিয়ে দেয়।

লাল লাল ফুসকুড়ি, ব্রণ ইত্যাদি শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দেওয়ার জন্য হয়।

বিপাক ক্রিয়ার মাধ্যমে শরীর থেকে দূষিত পদার্থগুলো বের হয়ে গেলে ত্বকের উপর এর প্রভাব কমে আসে।

জিরা পাচনতন্ত্রের যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে ত্বকের সুরক্ষাও দিয়ে থাকে।

চির

কালো জিরা

ডায়াবেটিকস রোগিরা এক চিমটি পরিমাণ কালোজিরা এক  গ্লাস পানির সঙ্গে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেয়ে দেখুন।

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে একসময় ডায়াবেটিকস কমে যাবে।

নিয়মিত কালোজিরা খান। এটি মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয়।

যার দরুন স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়। এর সঙ্গে এটি প্রাণশক্তি বাড়ায় ও ক্লান্তি দুর করে।

স্নায়ুবিক দুর্বলতায় আক্রান্ত রোগীদের জন্যও অতি উৎকৃষ্ট ঔষুধ।