ওজন বাড়াতে চান? তাহলে দেখে নিন নিয়ম গুলো।

ওজন

 

আমরা নিজেকে অন্যদের সামনে খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার জন্য কত কিছু করি। কে না চায় নিজেকে অন্য জনের সামনে খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরতে?

আমরা অনেকেই ওজন কমানোর জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে আছি। কিন্তু কখনো লক্ষ্য করেছি কি এই পৃথিবীতে এমনও মানুষ আছে যারা ওজন বাড়ানোর জন্য কত কিছুই না করে যাচ্ছে। কিন্তু কোন ভাবেই সফল হচ্ছে না। আর এর পেছনে মূল কারণ হলো আমাদের সঠিক নিয়ম মেনে না চলা। ওজন বাড়ানোর জন্য বেশী কিছু নয় শুধু সঠিক নিয়ম মেনে খাবার খাওয়া দরকার যেন খাবারটি আমাদের শরীরে লাগে। আজ আপনাদের সামনে কিছু সঠিক নিয়ম বা সঠিক উপায় তুলে ধরলাম। আশা করি তা মেনে চললে আপনি খুব কম সময়ে নিজের স্বাস্থ্যের পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

তাহলে আর দেরী কেনো চলুন জেনে নেওয়া যাক উপায় গুলো।

ওজন বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া শুরু করুন

ওজন
স্বাস্থ্য ভালো করতে চাইলে খেতে হবে পুষ্টিকর খাদ্য।

আমরা অনেক সময় স্বাস্থ্য বাড়ানোর জন্য প্রচুর পরিমাণ খাবার খেয়ে থাকি কিন্তু তারপরও আমাদের স্বাস্থ্য বাড়ে না। এর কারণ হলো আমরা নিয়ম মেনে খাবারটি খাচ্ছি না শুধু পেট ভরছি। তাই উপযুক্ত খাবার খেতে হবে। আমাদের শরীরে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণে প্রোটিন, কার্বন ও ফ্যাট এর প্রয়োজন হয় এগুলোর ঘাটতি পড়লে আমাদের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব পড়ে। এর জন্য প্রতিদিন বাদাম আর দুগ্ধজাত খাবার খান। দেহের পেশী গঠনে প্রোটিন যুক্ত খাবার দরকার। এটি শরীরের ওজন বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ মাংস, ডিম, পনির ও পর্যাপ্ত পরিমাণে ভাত, রুটি-আলু গ্রহণ করুন। ওজন বাড়ানোর জন্য বসা ভাতের উপকারিতা অনেক বেশী। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর ক্যালোরি। মাছ, মুরগি এ গুলো প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় রাখুন। টুনা মাছও খেতে পারেন।

তরল জাতীয় খাবার বেশী খান

কিছুক্ষণ পর পর তরল জাতীয় খাবার খান যা আপনার ক্ষুধা বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে এটা মনে রাখা আমাদের খুব জরুরী ভারি খাবার খাওয়ার আগে বা খাবারের মাঝখানে পানি খাওয়া ভালো নয়। কারণ খাবারে মাঝখানে বেশী পানি খেলে আপনার ক্ষুধা নিবারণ হয়ে যাবে তখন ভারি খাবার খাওয়ার ইচ্ছে নষ্ট হয়ে যাবে। তাছাড়া খাওয়ার মাঝে বেশী পানি খেলে খাবার হজমে সমস্যা হয়।

ওজন বাড়াতে ঘন ঘন খাবার খান

আপনি যদি দেহের ওজন বাড়াতে আগ্রহি হয়ে থাকেন তাহলে প্রতিদিন ২-৩ ঘন্টা অন্তর অন্তর ৫ থেকে ৭ বার পরিমিত পরিমাণে খাবার গ্রহণ করুন।

আমরা সাধারণত দিনে ৩ বার খাবার খেয়ে থাকি। আপনি দিনে ৬ বার খাবার গ্রহণ করেন তবে পরিমাণটি যাতে নির্দিষ্ট হয় সে দিকে খেয়াল রাখবেন।

কলা, আম ইত্যাদি ফল বেশী পরিমাণ খেতে হবে। এতে করে আপনার খেতে কোন সমস্যা হবে না। ভাজা খাবার পরিহার করুন। ক্যালোরি যুক্ত খাবারগুলো বেঁছে বেঁছে প্রচুর পরিমাণে খান।

তাজা ও শুকনো ফল এবং বাদাম খান

ওজন
কিছুক্ষণ পর পর বাদাম খেতে পারেন।

দুধের সাথে খেজুর, বাদাম, আম ইত্যাদি খেলে আপনার শরীরের ওজন বাড়াতে পারে।

এছাড়া এই ফল গুলো দুধ ছাড়া খেতে পারেন।

খাবারের তালিকায় নিয়মিত  কিশমিশ ও শুঁকনো ফল দেওয়া গাজরের হালুয়া, ক্ষীর, সেমাই রাখুন।

ফলের জুস

ওজন
ফল খেতে ইচ্ছে না করলে জুস খেতে পারেন।

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বেশী ক্যালোরি যুক্ত ফলের জুস (যেমন আম, আঙ্গুর)  রাখুন।

এসব ফলের জুস আপনার শরীরের ওজন বাড়াবে এবং স্বাস্থ্যকর ক্যালোরি প্রদান করবে।

নিরমিত কলা ও দুধ খাবেন

ওজন
কলা খেলে ওজন বাড়বেই কারণ এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি।

কলা ওজন বাড়ানোর জন্য খুব উপকারী একটা ফল তাই প্রতিদিন ৬-৭ টি কলা দুধের সাথে সকালের নাস্তায় খেতে পারেন।

তাছাড়া প্রতিবার খাবার গ্রহণের পর একটি কলা খেতে পারনে যা আপনার হজম ক্রিয়া বাড়াতে সাহায্য করবে।

বেশী পরিমাণ পানি পান করুন

ওজন
পানি পান করার পরিমাণ বাড়িয়ে দিন।

শরীরকে পরিবর্তন করতে চাইলে শরীরকে আর্দ্র রাখা খুব প্রয়োজন।

তাই প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুন।

প্রতদিন ২-৩ লিটার পানি পান করুন।

পর্যাপ্ত ঘুমান


ঘুম দেহ গঠনের জন্য আবশ্যক তাই প্রতিদিন কম পক্ষে ৭-৮ ঘন্টা ঘুমান। রাতে কখনো দেরী করে ঘুমাবেন না। আবার সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে যান। আপনি যতই খাবার খেয়ে থাকেন তা উপকারে আসবে না। কারণ ঘুমের সময় দেহ কোষ গঠনের কাজ চলে আর ভালো ঘুম না হলে পরিপাক ক্রিয়ায় সমস্যা দেখা যায়।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন

আপনি হয়তো ভাবছেন রোগা পাতলা মানুষের কিসের ব্যায়াম? তাহলে এটা জেনে রাখুন আপনি ভুলের সাগরে বাস করছেন, কিছু বিশেষ ব্যায়ামে আপনার পেশী তৈরি ও ওজন বাড়িয়ে দিবে। ব্যায়াম ক্ষুধা বাড়াতে সাহায্য করে। শরীরকে ফিট রাখতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৪৫ মিনিট ব্যায়াম করুন। হাঁটতে পারেন বা ওজন বাড়ানোর ব্যায়াম গুলো করতে পারেন। এছাড়া আউটডোর খেলায় অংশ গ্রহণ করতে পারেন। শরীরের ওজন বাড়াতে খাবারের তালিকায় উচ্চ ক্যালোরি যুক্ত খাবার রাখতে হবে। তবে এটা মনে রাখেন এই ধরনের বাড়তি ক্যালরি গুলো অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে নিতে হবে। যেসব খাবার প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ যুক্ত সে সব খাবার গুলো খাবেন। এসব খাবার আপনার শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করবে ও ওজন বাড়াবে। এর সাথে দৈহিক ব্যায়াম আপনার দেহের সুস্থ্যতা নিশ্চিত করবে।

আমাদের সমস্যা হল আমরা ২/৩ দিন ঠিক মত চলার পর আবার আগের রুটিন মত চলতে থাকি।

ফলাফল আমরা আমাদের শরীরের কোন পরিবর্তন দেখতে পাই না।

একটা জিনিস সবসময় মনে রাখতে হবে কষ্ট না করলে ভালো কোন ফলাফল পাওয়া যায় না। সুতরাং নিয়ম মেনে চলুন।

আশা করি এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনাদের উপকার হবে।

কোমল পানীয়: এক নীরব ঘাতক

কোমল পানীয়

আমরা বেশীর ভাগ মানুষ আজকাল কম বা বেশী কোমল পানীয় পান করি। বিভিন্ন  স্বাদে বিভিন্ন কোম্পানি বাজারে নিয়ে এসেছে অনেক রকমের পানীয়। এর কারণ কোমল পানীয়র প্রতি মানুষের অনেক বেশী চাহিদা। কোমল পানীয় কে পছন্দ না করে, কে না চায় একটু কোমল পানীয় পান করে গলা ভেজাতে?? এই কোমল পানীয় অনেক সহজলভ্য তাই সবাই কিনতে পারি। কিন্তু আমরা কি জানি এই প্রাণঘাতী পানীয় আমাদের ধীরে ধীরে প্রাণনাশের পথে নিয়ে যাচ্ছে? এটা অনেক লোভনীয় চোখের সামনে বা হাতের নাগালে থাকলে আমরা তার লোভ সামলাতে পারি না। আমাদের জীবনে ভোগ বিলাসিতার চাহিদা কখনো পরিপূর্ণ হয় না। অনেক সময় আমাদের ক্ষণিকের শান্তি বা সামান্যতম সময়ের সুখের জন্য আমরা আমাদের জীবনকে নিজের অজান্তে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেই। আবার দেখা যায় আমরা অনেকেই জেনে শুনে ক্ষতির দিকে পা বাড়িয়ে থাকি খামখেয়ালীপনার জন্য তখন আমরা ভুলে যাই কি করতে যাচ্ছি বা কি হতে যাচ্ছে। আসুন নিজে বাঁচি নিজে সচেতন হই এবং অন্য কে বাঁচাতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই। মরনঘাতী কোমল পানীয় সম্পর্কে জেনে নেই কিছু অজানা তথ্য যা শুনলে আপনি বিশ্বাস করতে পারবেন না এতদিন আপনি কিভাবে প্রতিনিয়ত নিজের ক্ষতি করে যাচ্ছেন। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক ক্ষতিকর দিক গুলোঃ-

এসিডিটি বা অম্লত্বঃ

কোমল পানীয়
কোমল পানীয় অ্যাসিডটি বাড়িয়ে দেয়।

কার্বনেটেড পানীয় গুলো দ্রবীভূত কার্বন ডাই অক্সাইড বহন করে থাকে যার কারণে পাকস্থলীতে গ্যাস তৈরি হয় যখন কোমল পানীয় আপনার পেটে শরীরের তাপমাত্রায় পৌঁছায়। আর পেটে জমে থাকা গ্যাসের কারণে আপনার পেটে ক্ষতের সৃষ্টি করে যা একসময় আপনার পেটের আলসারে পরিণত করতে পারে। অনেক সময় আলসার থেকে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়ঃ

কার্বনেটেড পানীয় খাদ্যে অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করে এ জন্য দেহের ওজন এবং স্থূলতার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। ২০০৭ সালে “আমেরিকান জার্নাল অব পাবলিক হেলথ” এর একটি লেখায় ড.লেনি ভার্টনিয়ান বলেছিলেন যে, কোমল পানীয় পান করার কারণে যে স্থূলতা-ঝুঁকির সৃষ্টি হয়ে থাকে তা শিশু, কিশোর ও পুরুষের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের বেশী হয়। প্রয়োজনের অধিক ওজন বা স্থুলতা টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হাড়ের বাত রোগ সহ অনেক রোগের উৎস হিসেবে কাজ করে থাকে।

কোমল পানীয়
কেউ খেতে বললে আমাদের মানা করা শিখতে হবে।

নগণ্য পুষ্টিকর উপাদান

আমাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণের উপর অনেক বেশী প্রতিকূল প্রভাব ফেলে কার্বনেটেড কোমল পানীয়র ফ্যাট। এ ধরনের পানীয় পান করার কারণে  দেহে প্রোটিন, স্টার্চ, ডায়াবেটিস ফাইবার, ভিটামিন বি-২ এগুলোর মাত্রা আসতে আসতে কমে যাওয়ার  শুরু করে।

দাঁতের ক্ষতের সৃষ্টি করেঃ-

কার্বনেটেড কোমল পানীয় আমাদের দাঁতের ক্ষতি করে থাকে। আমরা যখন মিষ্টি জাতীয় কোমল পানীয় গুলো পান করে থাকি তখন এর মধ্যে অবস্থিত চিনি আমাদের মুখে থেকে যায়। আমাদের মুখে অবস্থিত ব্যাকটেরিয়া চিনি থেকে খাবার সংগ্রহ করে ও রাসায়নিক উৎপাদকের সাহায্যে তা আমাদের দাঁতের শক্ত স্তর (এনামেল) ভেঙে ফেলতে থাকে। পরবর্তিতে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হতে হতে দাঁতের মধ্যে গর্তের সৃষ্টি করে। দাঁত আমাদের শরীরের অমূল্য সম্পদ। শরীরের এই অংশ একবার নষ্ট হলে আর ঠিক হয় না। তাই সময় থাকতে দাঁতের যত্ন নিন। দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝার চেষ্টা করুন।

হাড়ের শক্তি ক্ষয় করেঃ

কোমল বা কার্বনেটেড পানীয় হাড়ের শক্তি কমিয়ে দেয় যা মহিলাদের জন্য সবচেয়ে বেশী ক্ষতিকর। হাড় গঠিত হয় আমিষ, কোলাজেন ও ক্যালসিয়াম দ্বারা। কোমল পানীয়র কার্বনেটেড এসিড হাড়ের এমন উপাদান গুলোর ক্ষতি করে। এ জন্য কোমল পানীয় সব বয়সের মানুষের জন্য ক্ষতিকর তবে মধ্য বয়সের মানুষের জন্য এটি খুবই ক্ষতিকর। কেননা মধ্য বয়সের মানুষের মানে যাদের বয়স ত্রিশ এর উপরে তাদের হাড়ের ঘনত্ব ও পরিমাণ এমনিতেই কমতে থাকে।  “দ্যা আমেরিকান জার্নাল  অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশান” এর পুষ্টি বিজ্ঞানী ড.ক্যাথেরিন টাকার’ বলেন যে সকল মহিলারা কোমল পানীয় পান করেন তাদের চেয়ে যারা পান করে না তাদের পশ্চাৎ দেশের হাড় বেশী দুর্বল হয়ে যায়।

এ লেখাটি যদি আপনি মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে এখন থেকে কোমল পানীয় কে না বলুন। সকল প্রকার কোমল পানীয় কে যতোটুকু পারেন এড়িয়ে চলুন।

আপনার এবং আপনার পরিবারের তথা দেশের মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসুন। আমাদের সাথেই থাকুন।

 

বলা হয়নি তোমাকে অনেক ভালোবাসি মা

মা

আমি আইজ মির্জা একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যয়নরত। আমার এতো দূর আসতে অনেক ঝড়, বাধা, সংগ্রাম পার করতে হয়েছে। একটা জীবনের প্রতিটা সময়ের হিসাব কিভাবে কষতে হয় তা আমি জানি বা আমার মত যারা তারাই কেবল জানে। জীবনের প্রতি পদক্ষেপে পা রাখার জন্য চিন্তা করতে হতো এবার না আমাকে আবার পিছলে পরতে হয়। জীবন মানে হলো লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য দৌড়ানো। যদি হোঁচট খেয়ে পড়ে যান তবে যেখান থেকে হোঁচট খেয়ে পড়ছেন সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার দৌড় শুরু করা। যাই হোক এভাবে জীবনের অনেকটা পথা পাড়ি দিয়েছি হয়তো বা আরো দিতে হবে।

যখন খুব ছোট ছিলাম বোঝার মত বয়স হয়নি তখন জীবনের দু’টি মূল্যবান জিনিসের মধ্যে একটি হারাতে হয়। ঐ সময় বুঝতে পারিনি হারানোর ব্যাথা এবং কি হারালাম তার মর্যাদা।

মা
মা বাবা একটি সুখী পরিবারের দুটি প্রাণ।

ধীরে ধীরে যখন বুঝতে শুরু করি তখন টের পেতে থাকি ঐ মানুষটার অভাব। কিন্তু তখন পুরোপুরি বুঝতে দেয়নি আমার মা। তিনি একাধারে বাবা-মা দুজনের দায়িত্ব পালন করতেন। সারাদিন কাজের ব্যস্ততার মাঝে থেকেও আমাকে আমার বাবার অভাব অনুভব করতে দেননি। আমি এমন ছিলাম যে আমার মাকে না দেখলে মনে হতো আমি কোথায় আছি এখন?

মা
মা ছাড়া আমার পৃথিবী অন্ধকার।

মাকে ছাড়া পুরো পৃথিবীতে অন্ধকার নেমে আসতো। এক মুহূর্তের জন্যও ভাবতে পারতাম না উনাকে ছাড়া আমি থাকবো। এতোটাই স্বার্থপরতা কাজ করতো আমার ভিতর। এভাবে বাড়তে পারতো আমার বয়স আরো কতশত দিন কাটাতে পারতাম আমার মা জননীর সাথে। কিন্তু সেটাও বেশী দিন স্থায়ী হলো না। বাবা চলে যাওয়ার মাত্র দেড় বছর পর কোন এক অজানা কারণে জীবন থেকে হারিয়ে যায় আমার সেই মমতাময়ী মা। আমাকে এতো ভালোবাসতো কিন্তু যাওয়ার সময় একবারের জন্যও বলে যায়নি বাবা আমি চলে যাচ্ছি তুই নিজের খেয়াল রাখিস, যত্ন নিস, সময় মত খাবার খেয়ে নিস, বেশী দুষ্টামি করিস না, সন্ধ্যার আগে বাসায় ফিরে আসবি, ঠিক মত পড়াশুনা করবি। আমি দূর থেকে তোর ভালো থাকা দেখে শান্তি পাবো। একবারো ভাবেনি আমার বুকের মানিকটা কিভাবে একা একা নিজের জীবনটা গুছিয়ে নিবে, পারবে তো আমার মানিকটা??!!

মা
যার মা নেই সে সব সুখ থেকে বঞ্চিত।

হয়তো উনার ভালো থাকাটা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ ছিলো আমার ভালো থাকার চেয়ে। কত যায়গায় যেতাম অনেক খুঁজেছি প্রতিদিন ভাবতাম আজ হয়তো আমার মা আমাকে দেখতে চলে আসবে আমিও উনাকে আবার দেখতে পাবো। কিন্তু দেখা আর হয়ে উঠলো না। রাস্তা যখন হাঁটতাম তখন সবার মায়ের মুখে তাকিয়ে থাকতাম উনাদের মাঝে মাকে খুঁজে বেড়াতাম। সবার মা যখন রাতে দুধের গ্লাস নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে বাবা পুরোটা খেয়ে নে, না হয় তুই পড়ালেখায় মন দিতে পারবি না আর তখন আমার রাতের খাবারে পেট ভরেছে কিনা তা জানার মত কেউ ছিলো না। সকালে সবার মা নাস্তা নিয়ে রেডি আর চিন্তা করে আমার ছেলে কিভাবে না খেয়ে পড়াশুনা করবে সারাদিন বাহিরে থাকবে, কি না কি খাবে এসব নিয়ে চিন্তায় ব্যস্ত তখন আমার ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিয়ে স্কুলে পাঠানোর মত কেউ ছিলো না। একটা সন্তান তার সব কিছু মায়ের কাছে কোন সমস্যা ছাড়াই বলতে পারে দুঃখ ভাগ করে নিতে পারে। কিন্তু কোন কারণে যদি আমার মন খারাপ হতো কারো কাছে বলার মত মানুষ ছিলো না। তখন হয়তো কোন দুষ্টামি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যেতাম আর সব ভুলে যেতাম। তাই সব কিছু ভিতরে রাখতে রাখতে আর হালকা হয়ে উঠা হয়নি অনেক বেশী গম্ভীর হতে থাকি।

মা
দুঃখগুলো কেউ বুঝবে না মা ছাড়া।

এভাবে চলতে থাকলো জীবন। আমারও বয়স বাড়তে থাকে একা একা হীনমানসিকতা আমাকে ঘিরে ধরে। একটা মানুষ অনেক কিছু শিক্ষা গ্রহণ করে তার পরিবার থেকে আর পরিবারের প্রধান শিক্ষক হলো মা কারণ বাবা তার পেশা নিয়েই পড়ে থাকে খুব বেশী সময় দিতে পারে না কিন্তু মা তার পরিবারকে ধরে রাখে সন্তান কে সঠিক পথ প্রদর্শন করে। যখন একটা মানুষ তার দুই অংশ থেকে বিতাড়িত বা বঞ্চিত হয় তখন নিজেকে সামলে নিতে অনেক কষ্টকর হয়ে পড়ে। এখান থেকে অনেকে কেটে উঠতে পারে আবার অনেকে ঝরে পড়ে। এভাবে হারানোর ভয়টা বাড়তে থাকে আর বাড়তে বাড়তে এমন হয়ে গেছে যে আমি আমার জীবনে প্রতিটা মানুষকে হারানোর ভয় কাজ করে। আর ভয়টাই আমার হারানোর আরকেটা কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি আমার মাকে অনেক বেশী ভালোবাসি যার জন্য আমি পাগল ছিলাম আর সেই ভালোবাসা শুধু ভিতরেই রেখে দিয়েছি প্রকাশ করতে পারিনি।

মা খুবী ছোট একটা শব্দ কিন্তু এই ছোট শব্দের টানটা নাড়ী থেকে উৎপন্ন হয়। “মা” আওয়াজটি কানে প্রবেশ করলেই যেনো মনের ভিতরে মায়া ভালোবাসার মাত্রা অসম্ভব ভাবে বেড়ে যায়। এর ভার এতই বেশী যে অন্য কোন মানুষের তা বইবার সামর্থ্য নেই এবং সে ক্ষমতা অন্য কাউকে দেওয়াও হয় নি। মায়েদের কোন জাতে ভাগ করা যায় না “মা মানেই মা”। একজন মা তার সন্তানকে মমতা আর ভালোবাসার রক্ষাকারী দেওয়ালের মত সব সময় ঘিরে রাখে যাতে বাহ্যিক কোন আঘাত তার সন্তানের উপর হানা দিতে না পারে।

মা
মা চান তাঁর সন্তান সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় থাকবে।

আপনি যখন অন্যায় বা ভুল পথে পা বাড়াবেন তখন আপনার কাছের মানুষ গুলো একবার, দুইবার, তিনবার বা তার চেয়ে বেশী বার পথ দেখাবে কিন্তু এক সময় তারা সহ্য না করতে পেরে আপনার উপর রাগ করে আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে। অন্য দিকে দয়ার সাগর “মা” আপনাকে তার শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত আপনার সব কিছু কে সামলে রেখে আপনার পাশে থেকে যাবে আর আল্লাহ্‌র কাছে কাঁদতে থাকবে আপনার জন্য। কোথাও খুঁজে পাবেন না এমন মানুষ শত হাহাকার করলেও পাওয়া যাবে না। যদি পৃথিবীতে নিঃস্বার্থ ভালো কেউ বেসে থাকে তিনি হলেন মা জননী। অনেক কনকনে শীতের রাতেও আপনার ভেজা কাঁথাটি নিজে গায়ে না দিয়ে নিজের গরম কাঁথাটি আপনার গায়ে দিয়ে দিতেন, তিনিই হলেন সে দরদী মা যিনি নিজের আরামের কথা চিন্তা না করে তার আদরের মানিকটা কে যত্নে রাখতেন। একমাত্র একজন মানুষ এই ধরার বুকে আপনাকে ঠকাবে না তিনি আর কেউ নয় মা। কারণ মা আপনাকে তিলে তিলে নিজে কোটি বার কষ্ট সহ্য করে আপনাকে পৃথিবীতে নিয়ে এসেছেন, আর যাই হয়ে যাক সে মা আপনার প্রতি তার মায়ার দেয়াল ভাঙতে দিবে না।
মাকে কোথাও হারাতে দিবেন না। কারণ হারালেই বুঝবেন মা কেমন জিনিস। সে আপনাকে যেভাবে যত্ন করে মানুষ করেছে ঠিক সেভাবে তাকে যত্ন করে ধরে রাখবেন। মায়ের ভালোবাসা পেতে যেমন আনন্দ লাগে দেখবেন তাঁকে ভালোবাসা দিলেও মনে শান্তি লাগে। পৃথিবীর সব মাকে শ্রদ্ধা জানাই।

বাবা (যন্ত্র মানব) বা জনক, সকল সুখের মূল যিনি

বাবা

আজ আমার পরীক্ষা ছিলো তাই গতকাল রাতে একটু বেশি ব্যস্ত ছিলাম তাই পড়া শেষ করে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম যাতে সকালে ঘুম থেকে উঠতে ক্লান্তি না লাগে। অনেক ঘুমের চাপে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম শান্তির নিদ্রায়। হঠাৎ ঘুম ভাঙ্গলো ফজরের সময় হয়ে গেলো চারদিকে আযানের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। আযানের ধ্বনি আমার কানে না, মনে হচ্ছিলো আমার বুকে আঘাত করছে। বুকটা তখন কাঁপছিল কেন জানি খুব জোরে কান্না করতে ইচ্ছে করছিলো।

বাবা
ভালো থেকো বাবা যেখানেই থাকো।

এমন অনুভূতির কারণ কয়েকদিন যাবত কিছু ব্যাক্তিগত সমস্যার জন্য দিন গুলো খারাপ যাচ্ছে। জীবন থেকে অনেক মূল্যবান জিনিস হারাতে বসছি সব কিছু মিলিয়ে মন খুব ভার হয়ে আছে। ঘুম ভাঙলে বুক ব্যাথার অনুভব হয়। তাই নিজেকে সময়ের সাথে মানিয়ে চলার চেষ্টা করছি। বাবার কথা মনে পড়ছে খুব। এসময় উনি থাকলে আমাকে অনেক মানসিক সাপোর্ট দিতো। আমি যখন খুব ছোট তখন ফজরের নামাজের সময় আমার বাবা আমাকে ডেকে তার সঙ্গে মসজিদে নিয়ে যেত। খুব আরামের ঘুম তবুও উঠে যেতাম। নামাজ পড়া শেষে মনে হত না আরামের ঘুম ভেঙ্গে উঠা আমার জন্য খারাপ হয়েছে বরং মনে অনেক শান্তি লাগতো। তাই আজ আযানের সূর যখন কানে এলো তখন বিছানায় শুয়ে শুয়ে সেই দিন গুলোর কথা মনে করতে থাকলাম। আর মনে মনে নিজেকে নিজে বলতে থাকলাম আজ যদি সেই মানুষটি থাকতো তাহলে হয়তো উনার মধুর কণ্ঠের ডাক শুনে ঘুম থেকে উঠতে হতো।

বাবা
বাবা এক বিশাল বটবৃক্ষের নাম।

সেই সৌভাগ্য অনেক আগেই হারাতে হয়েছে। খুব অল্প বয়সে আমাকে বাবার শাসন, আদর, স্নেহ ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে।

আমি যখন ৩য় শ্রেণিতে পড়ি তখন আমাকে হারাতে হয় বাবা নামের মায়া ভালোবাসায় ঘেরা বটবৃক্ষকে। আমার বাবার সাথে আমার খুব বেশী স্মৃতি নাই।

খুব কম সময়ের জন্য উনাকে কাছে পেয়েছি। যতোটুকু সময়ে পেয়েছি তার মধ্যে মনে পড়ার মত খুব কম স্মৃতি আমার আছে।

শুধু এটা জানি আমারও এমন একজন মানুষ ছিলো যার জন্য এখনো আমার বুকের কোণে খালি খালি লাগে।

স্কুলে যখন সবার বাবা তার ছেলেকে স্কুলে দিয়ে যেত তখন আমি একা একা ব্যাস্ত রাস্তা পার হয়ে স্কুলে প্রবেশ করতাম। আবার যখন স্কুল ছুটি হতো সবার বাবা-মা এসে উনাদের সন্তান কে আদর করে বাসায় নিয়ে যেতো আর আমি অনেক ক্লান্তি নিয়ে বাসায় যেতাম। স্কুলের যেকোন অনুষ্ঠানে প্রত্যেক সন্তানের বাবা উপস্থিত হতো তার সন্তানকে পাশে নিয়ে বসতো আর আমাকে তখন একটা টেবিলের এক কোণে চুপ করে বসে থাকতে হতো।

বাবা
বাবা ছাড়া বড্ড একা আমরা।

এভাবে পার হয়ে যায় স্কুল জীবন। যখন স্কুল জীবন পার হয় কলেজে পা রাখি তখন বাবার অভাবটা আরো বেশী করে বুঝার শুরু করি।

বাবা শুধুই যে ভালোবাসা, আদর, স্নেহে, শাসন করার জন্য তাই নয় বাবা হচ্ছে আর্থিক যোগান দাতা।

কলেজে সবাই প্রতিদিন নতুন নতুন জামা পড়ে আসে আর আমি একই জামা পড়ে পরের দিনেও কলেজে যেতাম।

সবার মাঝে যখন প্রতিযোগিতা দামী ঘড়ি, দামী জামা কাপড়, দামী জুতা কিনার তখন আমি পরের মাসের খাবারের চিন্তা করতাম।

বাবা
বাবার মত কেউ কি আমাদের অভাব গুলো পূরণ করতে পারবে ?

সত্যি বাবা না থাকলে একটা সন্তান কে অনেক কঠিন সময়ের সম্মুখীন হতে হয়।

এখনো স্বপ্ন দেখি এখনো ভাবি যদি আরেকটা বারের জন্য উনাকে পেতাম বুকের সবটা দিয়ে খুব শক্ত করে চেপে জড়িয়ে ধরতাম।

আর বলতাম বাবা তখন তোমার চলে যাওয়াটাই যে শেষ যাওয়া সেটা বোঝার ক্ষমতা তখনও আমার হয়নি।

বাবা সবচেয়ে আপনজন, বাবা মানে নির্ভরতার সিঁড়ি, বাবা মানে প্রখর রোদে ছায়া দেয়া খুব উঁচু বটবৃক্ষ যেখানে ক্লান্ত পরিবার আশ্রয়ের জন্য মাথা গোঁজে।
ভালো ভাবে কথা বলার আগেই সকল শিশুই আধো আধো স্বরে বা-বা বলে ডাকা শুরু করে মায়ের কোলে থেকেই।

সারা দিন ব্যাস্ততার পর কর্মস্থল থেকে বাবা ফিরলে জায়গা করে নেয় তার কোলে। তারপর হাত দিয়ে ইশারা দেয় ঘরের বাইরে নিয়ে যেতে।

ক্লান্ত বাবাও পরম আনন্দে তার সন্তানের ইচ্ছে পূরণ করতে উঠে পড়ে লাগে তখন বাবা ভুলে যায় তার সারাদিনের ক্লান্তির কথা।

সন্তান যখন এক পা দুই পা করে হাঁটি হাঁটি হতে যাচ্ছে তখন বাবার হাত ধরে বাড়ির আঙ্গিনায় হেটে বেড়ায়।

বাবা নিজের কতশত স্বপ্নকে স্বপ্ন রেখে দিয়ে সন্তানকে কতশত নতুন স্বপ্ন সত্যি হওয়ার পথ দেখিয়ে যায়।

এই মানুষটা সারাজীবন শুধু ত্যাগ করেই যায় বিনিময়ে কিছু পাওয়ার আশা না করে।

বাবা নিয়ে এই গানটা সত্যি সব মরে যাওয়া ইচ্ছে কে আবার জাগ্রত করে —

চশমাটা তেমনি আছে, আছে লাঠি ও পাঞ্জাবী তোমার
ইজিচেয়ারটাও আছে, নেই সেখানে অলস দেহ শুধু তোমার
আযানের ধ্বনি আজো শুনি, ভোরে ভাঙ্গাবেনা ঘুম তুমি জানি
শুধু শুনিনা তোমার সেই দরাজ কন্ঠে পড়া পবিত্র কোরআনের বানী…
বাবা কতদিন কতদিন দেখিনা তোমায়,
কেউ বলেনা তোমার মত কোথায় খোকা ওরে বুকে আয়
বাবা কতরাত কতরাত দেখিনা তোমায়,
কেউ বলেনা মানিক কোথায় আমার ওরে বুকে আয়॥

বাবা
তুমি সাথে থাকলে আমার কোন ভয় লাগে না বাবা।

বাবা শব্দটা কানে আসলেই কেমন জানি একটা ভালোবাসার অনুভূতির সাড়া জাগে।

বাবা মানে সাধারণ একজন মানুষ নয় বাবা মানে এক পৃথিবী ত্যাগের প্রতীক। নিজের সুখ কে বিসর্জন দিয়ে, নিজের চাহিদাকে মাটি চাপা দিয়ে, নিজের মনের ইচ্ছে গুলোকে মনের ভিতর লুকিয়ে রেখে হাসিমুখে পরিবারের সবার চাহিদা মেটানো যন্ত্র মানব হচ্ছে বাবা।

সবার মুখে হাসি ফুটানো, সবাই কে আগলে রাখা, সবার মাথার উপর বটবৃক্ষের মত ছায়া হয়ে থাকা এটাই যেনো বাবা নামের যন্ত্র মানবের আত্মার সুখ।

বাবা হলো একটা পরিবারের খুঁটি যতই ঝড় তুফান আসুক শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে সবাই নিরাপদে রাখা।

সুখে থাকুক সকল বাবা তাঁর মানিকদের নিয়ে।

লেখক- বাবা হারা এক মানিক।

নোবেল পুরস্কারের বিস্ময়কর অজানা তথ্যগুলো হয়তো জানেন না

নোবেল

প্রতি বছরের মত এ বছরও নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন নানা গুণীজনেরা। কম বেশী সবাই জানি এই পুরস্কার সম্পর্কে। বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার এবছরের নোবেল বিজয়ীদের তালিকাও মোটামুটি জেনে গেছেন সবাই। কিন্তু কিছু গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অজানা তথ্য আছে যা আমরা জানি না। সেই সব মজার তথ্য জানার জন্য পড়তে থাকুন আর্টিকেলটি।

নোবেল পুরস্কারের জনক আলফ্রেড নোবেল

নোবেল
আলফ্রেড নোবেল তাঁর সব সম্পত্তি নোবেল পুরস্কার প্রদানের জন্য দান করে দিয়েছিলেন।

আলফ্রেড নোবেল অনেক বিত্তবান একজন বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি শুধু বিজ্ঞানীই ছিলেন না, একাধারে ছিলন রসায়নবিদ, প্রকৌশলী এবং সফল শিল্পপতিও। এই ভদ্রলোক মাত্র ১৭ বছর বয়সেই পাঁচটি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারতেন। অনেক গবেষণার পর ১৮৬৬ সালে প্রচণ্ড শক্তিধর বিস্টেম্ফারক ডিনামাইট আবিষ্কার করেন। সে সময় বিভিন্ন দেশে পাহাড়-পর্বত, বন-জঙ্গল ধ্বংস করে রাস্তাঘাট, শহর-বন্দর গড়ে তোলার হিড়িক পড়েছিল।

ডিনামাইটের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা বেশি থাকায় তা রাতারাতি বিশ্বস্ততা অর্জন করে। খুব জলদি বড়লোক হয়ে যান নোবেল। অকল্পনীয় ভাবে বিত্তবান হয়ে যাওয়া নোবেল একসময় অপরাধবোধে ভুগতে থাকেন। নোবেলের জীবদ্দশায়ই জার্মানরাও ব্যাপক হারে ডিনামাইট বোমা নির্মাণ করে শত্রুদের ওপর নিক্ষেপ করেছে। সেই দুঃখবোধ ও বিবেকের যন্ত্রণা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্যই তিনি তার অর্থকড়ি ও যাবতীয় সম্পদ মানবকল্যাণে ব্যয় করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন।

নোবেল পুরস্কার প্রদানের জন্যে তিনি তার প্রায় পুরো সম্পত্তি দান করে যান, যার পরিমান ছিল প্রায় ৩১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার, এখনকার হিসেবে ২৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার!

গনিতে নেই নোবেল পুরস্কার

নোবেল

গনিতে কোন নোবেল দেয়া হয়না। তাদের মতে গনিতের কোন কিছু মানব কল্যাণে অথবা মানব জীবনে কোন বড় ভূমিকা রাখেনা। কোন একটা বিচিত্র কারণে তাঁর মনে হয়েছিল গণিত জিনিসটার তেমন কোন ব্যাবহারিক গুরুত্ব নেই! নোবেলের গনিতবিদ প্রেমিকা তাকে ধোঁকা দিয়েছিল বলে তিনি রাগ করে গণিতে নোবেল প্রাইজ রাখেননি বলে যে গল্প প্রচলিত আছে সেটা ভিত্তিহীন।

নোবেল জয়ী পরিবার

নোবেল
ছবিটিতে আলবার্ট আইনস্টাইন ও মাদাম কুরি আছেন।

নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে মাদাম কুরির পরিবারের সদস্যরা বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন। তাঁর স্বামী পিয়েরে কুরি ছিলেন স্বনামখ্যাত বিজ্ঞানী।

স্ত্রী মাদাম কুরির সঙ্গে ১৯০৩ সালে তিনি রসায়ন শাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।

এ ঘটনার আট বছর পর ১৯১১ সালে মাদাম কুরি আবার এই পুরস্কার অর্জন করেন।

এবার তাকে পুরস্কার দেওয়া হয় রসায়ন শাস্ত্রে, বিশুদ্ধ রেডিয়াম পৃথকীকরণের জন্য।

নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে মাদাম কুরি ছাড়া অন্য কোনো মহিলা বিজ্ঞানী দু’বার নোবেল পুরস্কার পাননি।

আরও একটি কারণে মাদাম কুরি পরিবারের নাম নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

মাদাম কুরির বড় মেয়ে আইরিন জুলিও কুরি মায়ের মতোই স্বামী ফ্রেডারিক জুলিওর সঙ্গে যৌথভাবে রসায়ন শাস্ত্রে এই পুরস্কার অর্জন করেন।

এখানেই প্রতিভাদীপ্ত এ পরিবারের সাফল্যের শেষ নয়।

মাদাম কুরির কনিষ্ঠ কন্যা ইভ কুরির স্বামী হেনরি ল্যাবোসে ১৯৬৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

ভাবতে অবাক লাগে, এই পুরস্কারটি মাদাম কুরি পরিবারের সদস্যরা যেন নিজস্ব করে নিয়েছিলেন।

মনোনয়ন পেয়েও নোবেল পুরস্কার পাননি যারা

নোবেল
পাঁচবার মনোনীত হয়েও নোবেল পুরস্কার পাননি মহাত্মা গান্ধী।

মনোনয়ন পেয়েছেন অনেকবার কিন্তু নোবেল পাননি এমন ব্যক্তির সংখ্যা কম নয়। এদের মধ্যে প্রথমে আসে রুশ ঔপন্যাসিক লিও টলস্টয়ের নাম। ১৯০১ সালে যখন এই পুরস্কার দেওয়া শুরু হয় তখনই তিনি সাহিত্য বিভাগে নোবেল পাওয়ার জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। এর পরের বছর অর্থাৎ ১৯০২ সালেও টলস্টয়কে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার জন্য মনোনীত করা হয়। এরপর আসে মহাত্মা গান্ধীর নাম। ১৯৩৭, ১৯৩৮, ১৯৩৯ ও ১৯৪৭ সালে গান্ধীকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার জন্য মনোনীত করা হয়। কিন্তু প্রতিবারই তার নাম বাদ দেওয়া হয়। এমনকি মহাত্মা গান্ধী মারা যাওয়ার পর ১৯৪৮ সালেও তাকে পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। অথচ সেবারও তাকে পুরস্কারপ্রাপ্তির সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত করা হয়। এমনকি অনেকবার মনোনীত হওয়ার পরও এই মহামূল্যবান পুরষ্কারটি পাননি ফ্রয়েড।

নোবেল বিজয়ীদের বয়স

নোবেল পুরস্কারের ছ’টি বিভাগ একসঙ্গে ধরলে পুরস্কার জয়ের সময় নোবেল বিজয়ীদের বয়স দাঁড়ায় গড়ে ৫৯ বছর৷ বিজ্ঞান বিষয়ক নোবেলগুলির ক্ষেত্রে বিজয়ীদের গড় বয়স ৫৭, চিকিৎসাবিদ্যায় আরো কম, ৫৫ বছর। নোবেলের ইতিহাসে তরুণতম বিজয়ী ছিলেন লরান্স ব্র্যাগ, যিনি ১৯১৫ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পান৷ তখন তাঁর বয়স ছিল ২৫ বছর৷ কিন্তু এখন সেই স্থান দখল করেছেন মালালা ইউসুফজাই। যিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে নোবেল পুরস্কার পান। অপরদিকে বিজ্ঞান বিষয়ক নোবেলগুলির ইতিহাসে প্রবীণতম বিজয়ী হলেন ৮৮ বছর বয়সি পদার্থবিদ রেমন্ড ডেভিস জুনিয়র৷ তবে তার চাইতেও বেশি বয়সের মানুষ এই পুরস্কার জিতেছেন, যেমন দুই অর্থনীতিবিদ লেওনিড হুরউইৎস ও লয়েড শেপলি, যাদের বয়স ছিল ৯০ এবং ৮৯৷

এয়ারপোর্টে নোবেলজয়ীর বিপত্তি

২০১১ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল বিজয়ী ব্রায়ান শ্মিট তার স্বর্ণের পদকটি এয়ারপোর্টের চেকিং থেকে বের করতে বেশ বেগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।

ব্রায়ান ডার্ক এনার্জির অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারার জন্য এই পদকে ভূষিত হন।

তিনি বলেন, “আপনি যত বড় মাপের পদকপ্রাপ্ত হন না কে, এয়ারপোর্টে আপনার নিস্তার নেই।”

কারাগারে থেকে নোবেলজয়ী

তিনজন নোবেল বিজয়ী তাদের পুরস্কারের খবর জানতে পেরেছিলেন কারাগারে থাকাকালীন সময়ে। এদের প্রত্যেকেই নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন শান্তি স্থাপনের জন্য।

তাদের তিনজন হলেন জার্মান সাংবাদিক কার্ল ভন অজিটস্কি (১৯৩৫ সাল), বার্মিজ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অং সান সু চি (১৯৯১ সাল) এবং চৈনিক মানবাধিকার কর্মী লিও জিয়াওবো (২০১০ সাল)।

অং সান সু চির নোবেল পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন তাঁর এই পুরস্কার ফিরিয়ে নেয়া হোক।

এ বিষয়ে আপনাদের মতামত আশা করছি। ইচ্ছে করলে নিচে কমেন্ট করতে পারেন।

আমাদের সাথেই থাকুন ফিরে আসব নতুন কোন তথ্য নিয়ে।

 

বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করতে পারে

বই

 জ্ঞান ছাড়া প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না আর জ্ঞানের উৎস হলো বই। মানুষ দুই প্রকারের হয় এক জ্ঞানী মানুষ এবং দুই জ্ঞানশূন্য মানুষ।

সত্যিকার অর্থে আমাদের সবার মাঝে কম বেশী জ্ঞান আছে কিন্তু আমরা তার সঠিক চর্চা করতে জানি না। তাই আমাদের মধ্যে এই ধরনের প্রকারভেদ দেখা যায়।জ্ঞানকে প্রসারিত করতে অনেকেই আপ্রাণ চেষ্টা করি কিন্তু মনে কি প্রশ্ন জাগে? সঠিক উপায় কয়জন অবলম্বন করি। জ্ঞান অর্জনের জন্য মানুষের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো বই।বই পড়া ছাড়া একজন মানুষের জীবন ৮০ শতাংশই বৃথা।কেননা বই একজন মানুষকে তার ভিতরে লুকিয়ে থাকা ঘুমন্ত মানুষটিকে জাগিয়ে তোলে, মনের চক্ষু খুলে দেয়, জ্ঞান ও বুদ্ধিকে প্রসারিত ও বিকশিত করে এবং ভিতরে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে।

মনুষ্যত্ব অর্জনের সবচেয়ে বড় ও সঠিক পথ হচ্ছে বই পড়া।

বই পড়ে হারিয়ে যেতে পারেন অদেখা কোন জায়গায়

এটি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে ও অনুভূতিকে সতেজ করে তোলে। বিভিন্ন ধরনের বই বিভিন্ন ধরনের জ্ঞানের সমারোহ বহন করে।

বর্তমানে বাংলাদেশ সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পড়ালেখায় অনেক নতুন নতুন পদ্ধতি চালু করেছে কিন্তু কার্যত কোন উপকার পাওয়া যাচ্ছে না।

এ সমস্যার কারণ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক ত্রুটি রয়ে গেছে এখনো সেটা হচ্ছে পাঠ্য বইয়ের বাহিরে কিছু শিক্ষা দেওয়া হয় না।

আমরা শুধু পাঠ্য বই পড়ি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য আবার পরীক্ষা শেষ হলে কি পড়েছি তা ভুলেও যাই।

তাই আমাদের জ্ঞানের পরিধি সীমাবদ্ধ থেকে যায়। এ জন্য আমাদের পাঠ্য পুস্তক এর পাশাপাশি জ্ঞান মূলক কিছু পড়া উচিৎ যা আমাদের জ্ঞানকে প্রসারিত করতে সাহায্য করবে।

শুধু মানুষ হলেই চলবে না প্রকৃত মানুষ হতে হবে আর নিজেকে জানতে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পড়ার বিকল্প কিছু নেই।

এটি পড়লে শুধু জ্ঞানই বাড়বে না বরং আপনি একটা ভালো বন্ধুও পেয়ে যাবেন নিজেকে সময় দেওয়ার। যে আপনাকে কখনো ছেড়ে যাবে না।

গবেষণায় পাওয়া বই পড়ার উপকারিতা সমূহ

চাপ কমায়ঃ

মানসিক চাপ কমাতে পারে বই

আপনি অনেক বেশী মানসিক চাপে আছেন? চাপে থেকে কি করেন হয়তো কফি পান করেন, একটু হেঁটে আসেন বা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে থাকেন।

সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে- বই পড়া এর চেয়ে বেশী কার্যকর।

গান শোনা, হাঁটাহাঁটি করা বা কফি পান করার চেয়ে বই পড়া খুব দ্রুত মানসিক চাপ কমায়, মনযোগ অন্য দিকে ধাবিত কর, সতেজ অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

মনকে সহানুভূতিশীল করেঃ

বই পড়লে এমন অনুভূতি জাগে মনে হবে গল্পকাহিনীর মত আপনি গল্পের নায়ক বা গল্পের অংশ হয়ে গেছেন।

এটি আমাদের মধ্যে এমন একটা আবেগের অনুভুতি সৃষ্টি করে, তখন আপনি গল্পের সাথে সংযুক্ত হতে শুরু করবেন।

এভাবে যদি নিয়মিত পড়া যায় তাহলে আপনার বাস্তব জীবনকেও প্রভাবিত করবে এবং আপনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক গুলোর প্রতি আরো সহানুভিতিশীল হয়ে উঠবেন।

ইনসমনিয়া থেকে মুক্তিঃ

গবেষণায় এটা প্রমাণিত যে বই পড়া আপনার ঘুম না হওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

যদি আপনি ইনসমনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে বই পড়াই হবে আপনার জন্য কার্যকরি চিকিৎসা।

আপনার ঘুম ফিরিয়ে আনতে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ

ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা যায়- বই পড়া আমাদের দিনে দিনে আরো বেশী তীক্ষ্ণ ও চটপটে করে তোলে।

একটা পড়ে শেষ করার পর বহুদিন পর্যন্ত বইটির ইতিবাচক প্রভাব থেকে যায়।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, কিছু পড়ার সময় মানুষের মস্তিস্ক এমন ভাবে কাজ করে যে তা নিউরোলজিকাল পরিবর্তন ঘটায় ও মেমোরি মাসলকে উজ্জীবিত করে।

বিষণ্ণতা দূর করেঃ

আমরা অনেক বিষণ্ণতা দূর করতে বাজে পথে চলে যাই, বাজে আড্ডা দিয়ে থাকে নেশার পথ খুঁজি। কিন্তু বই পড়া এমন একটা নেশা যা সকল নেশাকে হার মানাতে পারে।

এটি জীবনের মূল লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করে এবং জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেয়।

তাই বিষণ্ণতা দূর করতে আজ থেকে পড়ার অভ্যাস করুন আর এই অভ্যাসকে নেশাতে পরিণত করুন।

বই পড়া নিয়ে মনীষীদের উক্তি

১. ভালো খাদ্য বস্তু পেট ভরে কিন্ত ভাল বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করে। – স্পিনোজা

২. ভালো বই পড়া মানে গত শতাব্দীর সেরা মানুষদের সাথে কথা বলা। – দেকার্তে

৩. অন্তত ষাট হাজার বই সঙ্গে না থাকলে জীবন অচল। – নেপোলিয়ান

৪. প্রচুর বই নিয়ে গরীব হয়ে চিলোকোঠায় বসবাস করব তবু এমন রাজা হতে চাই না যে বই পড়তে ভালবাসে না। – জন মেকলে

৫. আমি চাই যে বই পাঠরত অবস্থায় যেন আমার মৃত্যু হয়। – নর্মান মেলর

৬. একটি ভালো বইয়ের কখনোই শেষ বলতে কিছু থাকে না। – আর ডি কামিং

৭. একটি বই পড়া মানে হলো একটি সবুজ বাগানকে পকেটে নিয়ে ঘোরা। – চীনা প্রবাদ

৮. একজন মানুষ ভবিষ্যতে কী হবেন সেটি অন্য কিছু দিয়ে বোঝা না গেলেও তার পড়া বইয়ের ধরন দেখে তা অনেকাংশেই বোঝা যায়। – অস্কার ওয়াইল্ড

৯. বই হলো এমন এক মৌমাছি যা অন্যদের সুন্দর মন থেকে মধু সংগ্রহ করে পাঠকের জন্য নিয়ে আসে। – জেমস রাসেল

১০. আমাদের আত্মার মাঝে যে জমাট বাধা সমুদ্র সেই সমুদ্রের বরফ ভাঙার কুঠার হলো বই। – ফ্রাঞ্জ কাফকা

১১. পড়, পড় এবং পড়। – মাও সেতুং

১২.জীবনে তিনটি জিনিসের প্রয়োজন- বই, বই এবং বই। – ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

১৩. বই হচ্ছে অতীত আর বর্তমানের মধ্যে বেঁধে দেয়া সাঁকো। – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মানসিক রোগ কতটা ভয়ানক হতে পারে??

মানসিক রোগ

“পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় লক্ষ লক্ষ মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। আর এই মানসিক রোগ তাদের আপনজনদের জীবনের উপর অনেক বেশী প্রভাব ফেলে। প্রতি চারজনের মধ্যে একজন তাদের জীবনের কোনো এক সময়ে এসে এই রোগে আক্রান্ত হবে। সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা এমন মানসিক অসুস্থতার পিছনে একটা উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে অবসাদ। মানসিক রোগ গুলোর মধ্যে সিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার ডিসঅর্ডার হচ্ছে সবচেয়ে দুঃসহ ও ক্ষতিকর মানসিক রোগ। যদিও অনেক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে তবুও তারা এই মানসিক রোগকে সবার থেকে আড়াল করে রাখে, উপেক্ষা করে ও এই রোগ কে কুদৃষ্টিতে দেখে।”—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।
ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অন মেন্টাল ইলনেস রিপোর্ট অনুযায়ী– বেশীর ভাগ মানসিক রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব, কিন্তু গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬০% প্রাপ্তবয়স্ক ও প্রায় ৫০% অল্প বয়সি, যাদের বয়স ৮-১৫ বছরের মধ্যে ছিলো এবং তারা কোন প্রকার চিকিৎসায় উন্নতি লাভ করেনি।

মানসিক রোগ কি ?

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, মানসিক রোগ হচ্ছে একজন মানুষের সুস্থভাবে চিন্তা করতে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সঠিক ভাবে আচরণ করতে না পারা। এমন অবস্থায় বেশীর ভাগ সময় একজন মানুষের অন্যদের সাথে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার ও জীবন কে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সাথে মোকাবিলা করার ক্ষমতা বাধাপ্রাপ্ত হয়। এটি কোন ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা চারিত্রিক সমস্যার কারণ নয়।

মানসিক রোগ
বিশ্বে প্রতি চারজনে একজন মানসিক রোগে আক্রান্ত হন।

মানসিক রোগের প্রাথমিক লক্ষন

– অকারনে তীব্র টেনশন।

– ঘুম কমে যাওয়া।

– মনোসংযোগে সমস্যা

সমস্যা আরো গভীর হলেঃ

মানসিক রোগ
অনেক বেশী সমস্যার আগে চিকিৎসকের নিকটে যান।

– আবেগ অনুভূতি হারিয়ে ফেলা।

– অবাস্তব কিছুতে তীব্র বিশ্বাস।

– অবাস্তব কিছু দেখা বা শোনার দাবী করা (হ্যালুসিনেশন)।

– মনোসংযোগে তীব্র সমস্যা, অসংলগ্ন বা অপ্রাসংগিক কথা বলা।

– অদ্ভুত আচরণ।

সিজোফ্রেনিয়া আবার কয়েক রকমের হতে পারে। যার মাঝে প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়া রোগে অনেকেই ভোগেন, যাতে মনে হয় যে আশেপাশের সবাই রোগীর শত্রু। সিজোফ্রেনিয়া রোগ মেডিকেশনে নিরাময় সম্ভব।

কিছু ভুল ধারনা আমাদের আছে যেগুলি নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। অনেকেরই এখনো ধারনা আছে যে মনোরোগ কেবল ধনী লোকদেরই হয়। এই ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। মনোরোগের কোন সামাজিক শ্রেনী বিন্যাস নেই। গরীব লোকে সেটা জানতেও পারে না  সেটা ভিন্ন কথা। যেমন ষ্টাডিতে দেখা যায় যে বাংলাদেশসহ গরীব দেশগুলিতে গর্ভবতী মহিলারা অনেক সময়ই আর্থ সামাজিক কারণে প্রচন্ড ডিপ্রেশনে ভোগেন, এতেই শেষ নয়। এই ডিপ্রেশনের প্রভাব ছড়িয়ে যেতে পারে তার অনাগত শিশুর জীবনে, শিশুর শারীরিক মানসিক বৃদ্ধিও হতে পারে মারাত্মকভাবে ব্যাহত। আমাদের দেশের কত লোকে এভাবে আজন্ম ভোগে কে তার হিসেব রাখে।

এ ছাড়াও আরেকটি ভুল ধারনা আছে যে মানসিক রোগ কেবল প্রাপ্ত বয়ষ্কদেরই হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য যে শিশুদেরও,  এমনকি সদ্যজাত থেকে ৩ বছর বয়সী।

মানসিক রোগ
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখুন।

শিশুদেরও  মানসিক সমস্যা হতে পারে। এই বয়সের একটি সাধারণ রোগের লক্ষন হল শিশুদের বাবা মার সাথে কম ঘেষার প্রবণতা, যাকে এটাচমেন্ট প্রবলেম বলে। এ ছাড়াও বাইপোলার ডিজ অর্ডার (ঘন ঘন মুডের পরিবর্তন),  এংক্সাইটি ডিজ অর্ডার, ডিপ্রেশন এসব রোগে বড়দের মত শিশুরাও ভুগতে পারে। অটিজমের কথা তো এখন সবাই নিশ্চয়ই জানেন।  এ ছাড়াও খুব সাধারণ কিছু সমস্যা যেমন বিছানায় মলমূত্র ত্যাগ,  স্কুল পালানো এসবও ক্রনিক মানসিক রোগ হতে পারে। সময়মত সুচিকিৎসা করা না  হলে রোগী ভুগবে সারা জীবন, রোগ হবে জটিল থেকে জটিলতর।

বিশ্বে এমন কিছু জটিল মানসিক রোগ রয়েছে,  যেগুলির বিবরণ শুনে বিশ্বাস করা কঠিন।

তিনটি ঘটনা দেয়া হল

ফরেইন অ্যাকসেন্ট সিনড্রোম :‌ ফ্রান্সের তরুণী অ্যাস্ট্রিড এল ফরাসি ভাষার বাইরে শুধু ভাঙা ভাঙা ইংরেজী ভাষায় কথা বলতে পারতেন।

এছাড়া কোনও ভাষাই তিনি জানতেন না। হঠাৎ একদিন ঘুম থেকে উঠে তিনি খাঁটি জার্মান ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। মেয়ের পরিবর্তন দেখে আঁতকে ওঠেন অ্যাস্ট্রিডের মা-‌বাবা। এমন অবস্থা হয়, যে তিনি ফরাসিতে কথা বলাই বন্ধ করে দেন। বেশ কিছু বছর আগে উত্তরপ্রদেশেও এক নাবালক এই রোগের শিকার হয়। যে কোনওদিন স্থানীয় ভাষার বাইরে কিছু জানত না, সে হঠাৎ ব্রিটিশ কায়দায় ইংরেজী বলতে শুরু করে।

অটোফাজিয়া :‌ “আজ কী খেতে ইচ্ছে করছে?”‌, অটোফাজিয়ায় আক্রান্ত রোগীর উত্তর হয় “‌নিজেকে”। হ্যাঁ, ভয়ানক এই রোগের লক্ষণ হল নিজেকে খেয়ে ফেলার ইচ্ছে। শুনে কি খুব বিরল রোগ মনে হচ্ছে? মনোচিকিৎসকরা বলছেন, নখ খাওয়ার অভ্যেসই এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। নখ খেতে খেতে রোগী আঙুলে কামড় বসানো শুরু করে। অসুস্থতা বাড়লে তা আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। সেই কারণেই বাচ্চাদের নখ খাওয়ার অভ্যেস হচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর দিতে বলেন চিকিৎসকরা।

কোটার্ড সিনড্রোম :‌ আরেকটি ভয়ানক রোগ। কোটার্ড সিনড্রোমে আক্রান্তরা নিজেদের মৃত বলে মনে করে। সিজোফ্রেনিয়া কিংবা গভীর অবসাদ থেকে এই রোগ দেখা দিতে পারে। পৃথিবীর কোনও কিছুর প্রতি তাদের মোহ-‌মায়া থাকে না। জীবন্ত মৃতদেহের মতো দিন কাটায়।

মানসিক রোগের চিকিৎসা

মানসিক রোগ
সময়মত চিকিৎসা করালে আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন


মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা সফলতার সাথে অনেক মানসিক রোগের চিকিৎসা করতে পারেন। এ জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে কোন অভিজ্ঞ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া এবং সম্পূর্ণ চেক আপ করা। এ ধরনের রোগীরা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে তখনি উপকৃত হবে যখন তারা উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করবে। তবে এর জন্য রোগিকে তার মানসিক সমস্যা সম্পর্কে অন্যদের সাথে কথা বলার অনিচ্ছা দূর করতে হবে। ডাক্তারের সাথে খোলামেলা কথা বলতে হবে রোগীকে যেমন দৈনন্দিন সমস্যার কথা বা কোন গোপনীয়তা না রেখে ডাক্তারকে জানাতে হবে।
বিশেষজ্ঞের দেওয়া নিয়মানুযায়ী চলতে হবে অবশ্যই এর জন্য ডাক্তারের সাথে পরিবারের মানুষদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। রোগীকে মানসিক ভাবে সাপোর্ট দিতে তার পরিবারের বা আপনজনদের সহযোগিতা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। যা অন্যান্য চিকিৎসার চেয়ে অনেকাংশে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে দেখেন যে পারিবারিক অশান্তি, সম্পর্কের ফাটল, ঝগড়া বিবাদ, অনেক সময় নিজের সঙ্গীর সাথে ভুল বুঝাবুঝি, কোন কাজে ব্যর্থতা, একাকী থাকা, হীনমানসিকতা  ইত্যাদি কারণে মানসিক ভাবে অনেক বেশী বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই এ সকল সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য হিতাকাঙ্ক্ষীদের পরিচর্যাই হচ্ছে একমাত্র ভরসা।

যখন কোন মানুষ সাময়িক বা দির্ঘস্থায়ী শারীরিক বা মানসিক সমস্যার জন্যে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে ব্যর্থ হয়, তখন তাকে কাছের মানুষের উপর নির্ভর করতে হয়। মানসিক অসুস্থতার কারণে তাকে কারো না কারো সাহায্য নিয়ে দিন পার করতে হয়। আর এভাবে আপনজনদের বা শুভাকাঙ্ক্ষীদের থেকে মানসিক বা শারীরিক সহযোগিতার মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে মানসিক রোগ থেকে মুক্তি লাভ করতে সক্ষম হয়। পরিবার পরিজনদের দায়িত্ব শুধু মানসিক রোগীর সমস্যা সমাধান করা না বরং রোগীকে তার জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ নিশ্চিত করা।

একজন মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ব্যাক্তিকে ঔষধ বা থেরাপি দিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেয়ে, তাকে মানসিক ভাবে সাপোর্ট দিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কার্যকারিতা অনেক বেশী।

কিভাবে মানসিক রোগের সঙ্গে মোকাবিলা করা যায়

-অভিজ্ঞ  মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী চলুন এবং চিকিৎসা করান।

-ভারসাম্যপুর্ন ও স্থায়ী দৈনন্দিন তালিকা মেনে চলুন

-নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখুন।

-একমুখী চিন্তা পরিহার করুন।

-নিজেকে সময় দিন আরাম করার জন্য সময় নিন।

-পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খান।
-মদ্যপান করা ও যেকোন নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।

মানসিক রোগ
কোনপ্রকার মাদকদ্রব্য গ্রহণ করা যাবে না

-নিজেকে স্বল্প পরিসরে না রেখে সবার সাথে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। অন্যদের সময় দিন।
-আপনার প্রয়োজনীয়তার দিকে মননিবেশ করুন।

 

আসুন একটু হৃদয়ের যত্ন নেই

হার্ট

“প্রায় বুকে চিন চিন করে ব্যথা করে কবির সাহেবের, তিনি ভাবেন এটা গ্যাস্টিকের ব্যথা হয়ত। তাই দুই টাকা দামের একটা গ্যাস্টিকের ট্যাবলেট খেয়ে সাময়িক ভাবে ব্যথা উপশম করেন।“

আমাদের সমাজে এমন কবির সাহেব আছেন হাজারেরও বেশি। হার্ট অ্যাটাকের আগে কেউ ডাক্তার দেখাতে যায় না। বার বার শরীরের প্রয়োজন কে অবহেলা করি আমারা। ফলাফল হার্ট অ্যাটাক নাহয় মৃত্যু। একটা মৃত্যু বা হার্ট অ্যাটাকের চাপ একটা পরিবারকে যে কতটা ভেঙ্গে ফেলে লিখে শেষ করা যাবে না।

আজ তাই চেষ্টা করলাম এই বিষয় অজানা কিছু তথ্য জানাতে। সব শেষে থাকছে একটি সারপ্রাইজ। আসা করি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি নিজ স্বার্থে পড়বেন।

হৃৎপিণ্ড আমাদের দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। মাদার বোর্ড ছাড়া যেমন কম্পিউটার চলে না। তেমনই হৃৎপিণ্ড ছাড়া শরীর চলতে পারেনা। কিন্তু ব্যস্ততার বা অবহেলার কারণে শরীরের এ গুরুত্বপূর্ণ অংশটির যত্ন নেওয়ার কথা ভুলে যাই আমরা। বর্তমান সময়ে পরিবেশ যেভাবে দূষিত হচ্ছে, রোগের বয়স এর পার্থক্য কমে যাচ্ছে। যে কোনো বয়সের মানুষেরই হতে পারে যে কোনো রোগ। বিশেষ করে হার্টের রোগ। একটু সতর্ক হলেই কিন্তু এই সব অসুখ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। হার্টের অসুখের ঝুঁকি আপনার জীবনে একটু কমাতে চাইলে কিছু বিষয় অবশ্যই মানতে হবে।

ধূমপানের অভ্যাস থাকলে ছেড়ে দিন। ধূমপান না করলে আপনার হার্টের অসুখের ঝুঁকিও অনেক কমে যাবে। একটু ব্যায়াম করুন। সময় সুযোগ মতো নিয়ম করে করুন ব্যায়াম। হার্টের অসুখের ঝুঁকি কমবে। আপনার উচ্চতা এবং বয়সের সঙ্গে মানানসই এমন ওজন বজায় রাখুন।

হার্ট
ধূমপান বাদ দিতে না পারলে হৃদরোগ হবেই।

ব্যায়ামের উপকারিতা

১।  দেহে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয় ও কোষগুলোকে অক্সিজেন ব্যবহার করতে সহায়তা করে।

২।  হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে।

৩।  ব্লাডপ্রেশার বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

হার্ট
রক্তচাপ বেশি থাকলে দ্রুত কমানোর ব্যাবস্থা করুন।

৪। হার্ট ফেইলিওরের উপসর্গ কমায়।
৫। হার্টের পাম্প ক্ষমতা বাড়ায়।
৬। মাংসপেশি, অস্থিসন্ধি ও হাড়কে শক্তিশালী করে।
৭। রক্তনালিতে অতিরিক্ত চর্বি বা কোলেস্টেরল জমা হতে দেয় না।
৮। রক্তের সুগারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে ও দেহের কোষের ওপর ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

৯।  শরীরের বাড়তি ওজন কমায়। কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে সহজে ক্লান্ত হওয়া, হাঁপিয়ে যাওয়া ইত্যাদি কমে যায়।

হার্ট
ব্যায়াম শুধু হার্ট না সারা শরীরও ভালো রাখে।

১০। ঘুম স্বাভাবিক ও আরামদায়ক হয়, শারীরিক ও মানসিক অবসাদ দূর হয়।
দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা ও বিষণ্নতা কমে।

দৈনন্দিন ব্যায়াম এমন কিছু ব্যায়াম আছে, যা ঠিক ব্যায়ামের তালিকায় পড়ে না কিন্তু ব্যায়ামের মতোই শরীরে কাজ করে। এতে ব্যায়ামের মতোই উপকার পাওয়া যায়।
সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা, লিফটের ব্যবহার যথাসম্ভব কম করা।

হার্ট
ভুলে যান লিফট আর একসিলেটরের কথা।

অল্প দূরত্বে যেতে হেঁটে যাওয়া।
বাড়িঘর পরিষ্কারের কাজ নিজেই করা।

ভুল ধারণা


বয়স্কদের ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। বয়স্ক, প্রৌঢ় সবারই ব্যায়ামের প্রয়োজন আছে। তবে ব্যায়ামের সময় এত বেশি হাঁপিয়ে ওঠা যাবে না,  যাতে কথা বলতে কষ্ট না হয়।
হার্টের অসুখ হলে ব্যায়াম করা যাবে না। হার্টের সমস্যা হলেও ব্যায়াম করা যাবে। শুধু তাই নয়, ব্যায়াম করতেই হবে। তবে কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ অনুসারে ব্যায়ামের সময়, ধরন ঠিক করে নিতে হবে। এমন স্থানে ব্যায়াম করবেন, যেখানে পরিচিত অনেকেই আছেন।
ব্যায়ামের জন্য জিমে যেতেই হবে। ব্যায়াম করতে হলে জিম বা ব্যায়ামাগারে যেতে হবে এমন কোনো  কথা নেই। তবে কোনো হেলথ ক্লাব বা হাঁটার জন্য বন্ধু বা প্রতিবেশী সঙ্গে  থাকলে ব্যায়ামের নিয়মানুবর্তিতা বজায় থাকে। না হলে আলস্যের কারণে অনেক সময় ব্যায়াম বাদ পড়ে।
ব্যায়াম নিয়মিত করলে খাবার নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নেই। হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালি ভালো রাখতে হলে শুধু ব্যায়াম করলেই হবে না,  তেল ও  চর্বিজাতীয় খাবার,  গরু ও খাসির মাংস, মগজ, ডিমের কুসুম, বেশি মিষ্টি, আইসক্রিম, চকোলেট, ফাস্ট ফুড পরিহার করে ব্যালান্সড ডায়েট খেতে হবে।

কিছু খাবার আছে যা আমরা প্রতিদিন খাই কিন্তু এটা জানিনা যে এগুলো আসলে খাবার এর নামে বিষ।

এর ভেতর এক নাম্বার এ আছে কাঁচা লবণ, চিনি দুধ চা, ঘন ডাল। এই খাবার গুলো হার্টের জন্য নীরব ঘাতক।

কিছু সহজলভ্য ও পরিচিত খাবার আছে যেগুলো আমাদের রক্তনালী পরিষ্কার করে আমাদের হার্ট ভালো রাখে।

পানি

জল চিকিৎসা নামে একটি চিকিৎসা পদ্ধতি জাপানী মেডিকেল বোর্ড খুঁজে বের করেছে যা শতভাগ সুস্থতা প্রদানে সক্ষম বলে দাবি করেন তারা।
সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে চার গ্লাস পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। প্রথম দিকে এটা অনেক বেশি মনে হলেও কিছুদিন এভাবে পানি পান করলে বিষয়টি সহজেই আয়ত্ত হয়ে যায় এবং উপকারও টের পাওয়া যায়। পানি খাওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আর অন্য কিছু মুখে না দেওয়াই ভালো। এ উপায়ের কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং এটি পরিপাক ক্রিয়ার জন্য খুবই উপকারী। গবেষকেরা বলেছেন, সকালে খালি পেটে পানি কেবল পাকস্থলী পরিষ্কারই নয়,  শরীরের  বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি থেকেও বাঁচাতে সাহায্য করে।

শাকসবজি ও ফলমূল

 

হার্ট
শাকসবজি হবে আপনার প্রতিদিনের খাদ্য।

সবজি- শিম,  বরবটি, পিয়াজপাতা, পুঁইশাক, মানকচু, কচুরলতি, রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এগুলো রাখতে পারেন ওষুধ বিবেচনায়ও। মৌসুমি শাকসবজি কিনতে তেমন খরচও হয়না এবং এগুলোতে কীটনাশক কম থাকে।

পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার- প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ক্রমাগতভাবে যুক্ত করতে থাকুন পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণ। এ ক্ষেত্রে কলা এবং মিষ্টি আলুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা।

সবুজ বাহারি সালাদ- খাবারে যদি সবুজ সালাদ থাকে তাহলে আপনার রসনা তৃপ্তির পাশাপাশি হার্টও খুশি থাকবে। তাই বেশি বেশি যুক্ত থাকুন ভিনেগার, জলপাইয়ের তেল কিংবা লেবুর শরবতের সঙ্গে।

আপেল- হার্টের জন্য আপেলকে কার্যকারী ওষুধ বলা যায়। তা ছাড়া কোলেস্টেরলের মাত্রা কম রাখতে আপেল যথেষ্ট উপকারী। যারা প্রতিদিন দুটো আপেল খায়, তাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা অন্যদের থেকে কম থাকে।

হার্ট
প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না।

 

কিছু মজার তথ্য

ডিমের প্রতি ভালোবাসা- যাঁরা বলছেন, বেশি বেশি ডিম খেলে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ে তাঁদের জন্য দুঃসংবাদ। কেননা ব্রাজিলীয়ান গবেষকরা জানিয়েছেন, ডিমের কুসুমে থাকা ভিটামিন ই, বি-১২ এবং ফলেট করোনারি আর্টারিকে পরিষ্কার রাখে। তবে কেউ যদি দিনে চারটি করে ডিম খেতে থাকেন,  তবে তাঁকে এসব গবেষণার কথা ভুলে যেতে হবে।

হার্ট
ডিম খেলে অনেকক্ষণ ক্ষুধা লাগেনা।

অবসাদ কে দিন বিদায়- কোনোভাবেই কাজের ক্লান্তিকে আপনার ওপর চেপে বসতে দেবেন না। এ জন্য মাঝেমধ্যেই অবসাদ দূর করতে আপনার পছন্দকে গুরুত্ব দিন। সুইজারল্যান্ডের এক গবেষণা জানিয়েছে, অবসাদ দূর করার তৎপরতা হৃদযন্ত্রের সংকট কাটায় ৫৭ শতাংশের কাছাকাছি।

বালিশে মাথা রাখুন সময়মতো যাদের অনিদ্রা নামক রাজরোগ আছে,  তারা অন্যদের চেয়ে ৪৫ শতাংশ বেশি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ঘুমের জন্য প্রতিদিন বেশি বেশি শারীরিক পরিশ্রম করার আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

অধিক ঘুম কে বলুন “না”- এমনকি যারা বেশি বেশি ঘুমকাতুরে তাদেরও সাবধান করে দিয়েছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, দিনে ১০ ঘণ্টা কিংবা তার বেশি সময় যাদের ঘুমে কাটে তাদের স্থূলতার পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকে, কমতে থাকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। সুতরাং অধিক ঘুম কে না।

হার্ট
অধিক ঘুম হার্টকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

পান করুন গরুর দুধ গরুর দুধে থাকা লো ফ্যাট হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াবিরোধী কম ঘনত্বসম্পন্ন লিপ্রোপ্রোটিনের হার কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দুধে থাকা ক্যালসিয়াম শরীরে জমে থাকা পুরু চর্বির স্তর কাটতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু দুধচা খাবেন না। বিশেষ করে ভাত খাওয়ার পর দুধচা খাওয়াকে একদম নিষেধ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

হার্ট
সপ্তাহে তিন দিন ননি বিহীন দুধ খাওয়ার অভ্যাস করেন।

গান গাইতেই হবে- হৃৎপিণ্ড ভালো রাখতে গলা ছেড়ে গান গাইতেও উৎসাহিত করেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, দলবদ্ধ সংগীত কিংবা কারাওকে হাসিখুশি রাখে হৃদযন্ত্রকে।

হাসিখুশি থাকতে হবে- হাসিখুশি আর প্রাণবন্ত মুখাবয়ব শুধু স্টাইল বা ফ্যাশন আইকনই আপনাকে করে তুলবে না, বাড়িয়ে দেবে আপনার নীরোগ থাকার প্রবণতাও। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রাণবন্ত উপস্থিতি আপনার অবসাদ ও অভ্যন্তরীণ প্রদাহকে ছুটি দিয়ে দেবে এবং অলিন্দ ও নিলয়ের প্রকোষ্ঠকে সুঠাম রাখবে।

হার্ট
হাসি খুশি থাকলে কোন রোগই দেহে বাসা বাঁধতে পারবে না।

এখন সেই সারপ্রাইজ এর পালা।

এটা এমন একটা রেসিপি যা খুব সহজে ঘরে বসে তৈরি করা যায়। এটি একটি মহা ঔষধ। গবেষণায় দেখা গেছে যারা প্রতিদিন এটি পান করে তাদের হার্ট অ্যাটাক এর ঝুঁকি ৯৭% কম।

সারপ্রাইজ রেসিপি

উপাদান

১। আদা

২। রসুন

৩। আপেল সিডার ভিনেগার(সুপারসপ গুলোতে পাবেন)

৪। লেবু

৫। মধু

প্রণালী

মধু ছাড়া বাকি সবগুলো উপাদানের রস বের করতে হবে। আদা, রসুন, লেবু ও আপেল সিডার ভিনেগার সম পরিমাণ নিতে হবে। এখন একটি পাত্রে সব মিশিয়ে (মধু ছাড়া) চুলায় বসিয়ে দিন। মৃদু আঁচে হাল্কা করে জ্বাল দিন। ২০ মিনিট পর নামিয়ে ফেলুন। এটা কিছুটা হলুদাভ বর্ণ ধারণ করবে। চুলা থেকে নামিয়ে মধু মিশিয়ে নিন (যে পরিমাণ আদা, রসুন, লেবু ও আপেল সিডার ভিনেগার নিয়েছেন মধুও সেই পরিমাণ নিতে হবে)। তারপর ঠাণ্ডা করে সংরক্ষণ করুন ফ্রিজে। আপনি এটি ফ্রিজে ১-২ মাস সংরক্ষণ করতে পারবেন।

খাবারের নিয়ম

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১ টেবিল চামচ ও রাতে ঘুমানোর আগে ১ টেবিল চামচ করে খাবেন। আর ভালো ফলাফল পেতে দুপুরেও খেতে পারেন।

সবাই হৃদয়ের প্রতি যত্নবান হন। যত্নশীল নাহলে হার্ট অ্যাটাকের মত দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

 

 

 

 

 

 

 

কাজের চাপে ভুলে যাচ্ছেন পরিবারকে, মানসিকভাবে হচ্ছেন দুর্বল

পরিবার

ঘর ছেড়েছে সেই কবে গাড়িঘোড়া (উড়োজাহাজও অন্তর্ভুক্ত) চড়বার আশায়। সবে অ আ ক খ যখন বলতে শুরু করেছি মা আর দাদা-দাদীর কাছে তখন থেকেই আরেকটা লোভের সাথে পরিচয় হয় আমাদের

“পড়ালেখা করে যে,

গাড়িঘোড়া চড়ে সে”

ধীরেধীরে সেই লোভ ঘরবাড়ী আর পরিবার (মা-বাবা, ভাই আর বোন) ছাড়া করেছে অতি যতনে দৃশ্যমান গোপনে। নব্য প্রাপ্ত স্বাধীনতা আর ননিরপুতুল টাইপের আদরযত্ন বিহীন হয়ে কাটতে থাকে রাতদিন।

পরিবার
বন্ধনগুলোকে মজবুত করুন

পরিবারের প্রতি সবারই একটা গভীর দুর্বলতা কাজ করে। আমি-আপনি কেউ-ই এর বাইরে নই। যখনি অসুস্থতা ভর করে তখনি সামলে রাখতে পারিনা নিজেকে পরিবারের প্রয়োজন অনুভব থেকে। দুধের স্বাধ কি আর ঘোলে মিটে? নাহ! ফোনকল দেই একেক করে সবাই কে..
-হ্যালো আম্মা কেমন আছো?
-তুই কেমন আছিস রে? তোর গলাটা এতো ভারী আর আস্তে কথা বলছিস কেনো? শরীর খারাপ? (উনি কেমন আছেন সেটার উত্তরটা কিন্তু দেন নি)
-নাহ কিচ্ছু হয়নি! বলোনা কেমন আছো?
-বললাম তো ভাল। কত বার বলি!
-নাহ তুমি বলোনি তাই আবার জিজ্ঞেস করলাম।
-বলতো সত্যি কইরা, কি হইসে?
-নাহ তেমন কিছুনা! হাল্কা ঠা-ন-ডা.. (এই পর্যন্ত বইলা “লাগছে” শব্দটা বলার আর সুযোগ পাইনাই)
-আমিতো জানি তুই এরকম..সেরকম.. কতরকম..
কিছু ইচ্ছেমত বাণী প্রকাশ এবং জাহির করিলেন। আমিও কম নাহ! মনোযোগ সহকারে গিলতে লাগলাম মায়ের ভালোবাসা মাখা বকুনি গুলো।
অতঃপর ঔষধ এনে নিয়মিত খাবো প্রতিজ্ঞায় পাড় পেলাম। (বরাবরি ঔষধ অনিয়মিত খাওয়ায় আমি খুবি সবল)

পরিবার
মা তোমার মত কেউ হয়না

মা তোমাকে অনেক ভালোবাসি। আমার গাড়িঘোড়া চড়বার সেই লোভটা মলিন হয়ে গিয়েছে আজকাল। মাঝে মাঝে তোমার গায়ের গন্ধ নিতে ইচ্ছে করে। এখন আমার শুধু তোমার কোলে মাথাগুজে ঘুমুতে বড্ড ইচ্ছে করে আজকাল।

উপরের যে কথাগুলো বলছিলাম আপনার আমার প্রত্যেকটা সন্তানের কথা। এই ছোটখাটো বিষয় গুলো সবার সাথেই হয়ে থাকে।
আপনি জানেন কি?
প্রয়োজন, তাগিদ, আশা কতটুকু দূরে নিয়ে যাচ্ছে আমাদের আপনজনদের কাছ থেকে! মা’কে সময় দিন, পরিবার কে সময় দিন, আপনজনদের সময় দিন। দেখবেন অনেক রোগ’ই কমে গেছে আপনার। অনেকে আবার সময় দেয়ার জায়গা পান না।

 

দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বুঝতে চেষ্টা করুন

দাঁত

আমরা হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ি। ডাক্তারের কাছে যেতে হয় শরীর সুস্থ করতে। অনেকে আছে ৬ মাস পর পর স্বাস্থ্য চেক আপ করতে যান ডাক্তারের কাছে। কিন্তু আমরা আমাদের শরীরের একটি অঙ্গ নিয়ে কখনই চিন্তা করি না। সেটা হল দাঁত। যখন দাঁত থেকে রক্ত পড়ে অথবা ব্যথায় গাল ফুলে যায় তখন আমরা ডাক্তারের কাছে যাই। দাঁতের সমস্যা দূর করতে অনেকে বাসায় চেষ্টা করেন। শরীরের এই বিশেষ অঙ্গটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগে অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কি করণীয় তা নিয়ে কথা হবে।

আয়নার সামনে গিয়ে ফোনের ফ্ল্যাশলাইটটি অন করুন। এখন মুখ হা করে লাইট দিয়ে ভালো করে দুই পাটি দাঁত দেখুন। নিচে কয়েকটি সমস্যার কথা বলা হল মিলিয়ে দেখুন। সাথে পাবেন সমস্যার সমাধান।

১) আপনার দাঁতের গোঁড়ায় সাদা, হলুদ, কালো অথবা খয়েরী রঙের আবরণ দেখেন তাহলে বুঝতে হবে আপনার দাঁতে প্লাগ হয়েছে। যা আপনার মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে।

দাঁত
প্লাগের কারণে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হয়।

যদি প্লাগ অনেক বেশী হয় তাহলে আপনাকে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। সে ক্ষেত্রে ডেন্টিস্ট আপনাকে স্কেলিং করতে বলতে পারে। স্কেলিং করতে বেশী খরচ হয় না।

তবে এটা আপনার দাঁতের গঠন ও প্লাগের পরিমাণের উপর নির্ভর করে। আর যদি প্লাগের পরিমাণ কম হয় তাহলে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি অবলম্বন প্লাগ সরাতে পারেন। তবে ডাক্তারের কাছে যাওয়াই বেশী ভালো। এখন আসুন জেনে নেই ঘরে বসে কীভাবে প্লাগ দূর করবেন।

প্লাগ দূর করার ঘরোয়া পদ্ধতি- পরিমাণ মত বেকিং সোডা, লবণ আর প্রতিদিন ব্যাবহারকৃত পেস্ট একসাথে মিশিয়ে তা ব্রাশ দিয়ে দাঁতের প্রতিটি মাড়িতে ভালো করে মাজতে হবে।

গোঁড়া গুলোতে ভালো করে মাজতে হবে। ৩-৪ দিন পর পর এভাবে মাজলে দাঁতের প্লাগ দূর হয়ে যাবে।

২) আপনার দাঁতে যদি কালো কালো দাগ দেখেন এবং তা যদি ব্রাশ করার পরেও না যায় তাহলে বুঝতে হবে সেই জায়গায় ক্ষয় হচ্ছে। যাকে ক্যারিজ বলে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে দাঁতের ক্ষয় বা ক্যারিজ রোধ করা গেলেও তা আর আগের মত সারানো যায় না।

দাঁত
দাঁতের ক্ষয় একসময় দাঁতের মৃত্যু ডেকে আনে।

কিন্তু সচেতন আপনি যদি সচেতন না হন তাহলে দাঁতের ক্ষয় হতে হতে তা অনেক ভেতরে চলে যায়। তখন দাঁতের রুট ক্যানেল করতে হয়। যা একদিকে যেমন ব্যয়বহুল অন্যদিকে অনেক কষ্টকর। দাঁতের এই কালো দাগ গুলো দেখলেই অতিসত্বর ডেন্টিস্ট এর কাছে যান। সঠিক সময় গেলে হয়তো শুধু ফিলিং করলেই দাঁতটা ভালো হয়ে যেতে পারে।

ফিলিং হচ্ছে দাঁত ক্ষয় অথবা ভেঙ্গে গেলে দাঁতের সমতা আনানো। এই ক্ষেত্রে গাটা পার্চা দিয়ে দাঁতের ক্ষয় হয়ে যাওয়া অংশ ফিলিং করে দেয়। আর রুট ক্যানেল এ দাঁতের মধ্যে থাকা নষ্ট হয়ে যাওয়া পাল্পকে বের করে আনা হয় বিশেষ রকমের কিছু ইনস্ট্রুমেন্ট দিয়ে। এটি ব্রচ নামে পরিচিত।

এরপর দাঁতের পাল্প চেম্বার ও দাঁতের রুটের ভেতরে থাকা ক্যানাল বা ক্যানালগুলো পরিষ্কার করতে হয় রিমার, ফাইল- এগুলোর সাহায্যে। এরপর পরিষ্কার করা ও জীবাণুমুক্ত করা রুট ক্যানাল সিল করে দেওয়া হয় গাটা পার্চা দিয়ে। আর সঙ্গে সিলার হিসেবে ব্যবহার করা হয় বহু ধরনের সিলার। যেমন ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড সমৃদ্ধ সিলার, রেসিন বেসড এএইচ, জিংক অক্সাইড ইউজেনল ইত্যাদি।

এমনভাবে সিল করতে হয়, যাঁতে পরে দাঁতের বাইরে থেকে বা ভেতর থেকে কিছুতেই জীবাণু রুট ক্যানালে ঢুকতে না পারে। এরপর ফিলিং দিয়ে দাঁতের গর্ত ভরাট করে দেওয়া হয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রুট ক্যানাল করা দাঁতটিতে কৃত্রিম ক্রাউন বা ক্যাপ বসাতে হয়।

৩) আপনার দাঁত অনেক উঁচুনিচু হলে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা ময়লা আপনার চোখে পড়বে না। সেই ক্ষেত্রে ভালো মানের ব্রাশ ব্যাবহার করতে হবে এবং প্রতিবার খাবারের পরে কুলি করতে হবে। ডাক্তারের কাছে গিয়ে দাঁত সমান্তরাল করতে পারেন অথবা অতিরিক্ত দাঁত ফেলে দিতে পারেন।

দাঁত
৬ মাস পর পর ডেন্টিস্ট এর কাছে যাওয়া উচিৎ।

দাঁত রক্ষা করার কিছু পদ্ধতি জেনে নিন-

ক) প্রতিদিন সকালে খাবারের পর ও রাতে খাওয়ার পর (ঘুমানোর আগে) ভালোভাবে দাঁত ব্রাশ করা উচিত।

খ) খাবার পানি ফুটিয়ে পান করা উচিত। ফুটানো সম্ভব নাহলে নলকূপের পানি সংগ্রহ করুন।

গ) ব্রাশের সমান্তরাল স্টিকের পরিবর্তে বাঁকা হওয়া দরকার। এতের মুখের ভেতরের দাঁতগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার হবে।

ঘ) দাঁতের ফাঁকের ময়লাগুলো দীর্ঘদিন ধরে জমে ক্ষুদ্র পাথর কণায় পরিণত হয়। তখন দাঁতের উপরিভাগে কালো দাগ পড়ে। এটা ভীষণ দৃষ্টিকটু দেখায়। এ জন্য প্রতি ছয় মাস পরপর দাঁতের স্কেলিং করানো উচিত। বয়স ৪০-এর উর্ধ্বে হলে এক বছর পরপর করাতে হবে। নতুবা স্কেলিংয়ে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক যন্ত্রের ফলে দাঁতের গোড়া দূর্বল হয়ে যাবে। কারণ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দাঁতের মাড়িও ক্ষয় হতে থাকে।

ঙ) অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম পানীয় দাঁতের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। দুটো পানীয় একই সঙ্গে গ্রহণ করা অনুচিত। খুব গরম চা বা কফি পানের অন্তত ১ ঘন্টা পরে স্বাভাবিক পানি পান করুন।

চ) গ্যাসট্রিকের সমস্যা থাকলে মুখে দুর্গন্ধ হয়। ফলে দাঁতের হলুদাভ আবরণ আসে। নিয়মিত গ্যাসট্রিকে ঠোঁটের দুই কোণে কালো হয়ে যায়। এ জন্য প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুন।

ছ) পান, সুপারি, জর্দা বা গুল পরিহার করুন। এসবে আসক্তি থাকলে খাবার পরে দাঁত ব্রাশ করে ফেলুন। পানে চুনের পরিমাণ যত কম হয় ততই ভালো। মাত্রাতিরিক্ত চুন দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে।

জ) প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটা ভিটামিন-সি ট্যাবলেট খান।

ঝ) অনেকেই বিভিন্ন গাছের দাঁতন ব্যবহার করে থাকেন। এতে মনোযোগী হতে হবে যেন দাঁতনের আঁশ দাঁতের দাঁতের গোড়ায় আটকে না থাকে। টুথপিক ব্যবহারে মাড়িতে ফুটো হলে ইনফেকশন হয়। তাই সতর্কতার সঙ্গে টুথপিক ব্যবহার করুন।

ঞ) প্রতি ৪-৫ মাস অন্তর ব্রাশ পরিবর্তন করুন।

ট) জিকজ্যাক পদ্ধতিতে (উপরে, নিচে, ভেতরে, বাইরে) দাঁত পরিষ্কার করতে হবে।

দাঁত
সুস্থ দাঁত আপনার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে।

ঠ) বাঁধানো দাঁত বা কৃত্রিম দাঁতের প্রতি বিশেষ যত্ন নিন। প্রায়ই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেগুলো খুলে পরিষ্কার করুন।

বছরে অন্তত একবার পুরো দেহের চেক আপ করান।

এতে লুকায়িত কোন রোগ জীবাণু থাকলে ধরা পড়বে। দেহের প্রতিটি অঙ্গ পরস্পরের উপর নির্ভরশীল।

তাই সুস্থ্য দাঁত ও সুস্থ্য দেহের জন্য পুরো দেহ রোগমুক্ত থাকাটা ভীষণ জরুরী।