বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করতে পারে

বই

 জ্ঞান ছাড়া প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না আর জ্ঞানের উৎস হলো বই। মানুষ দুই প্রকারের হয় এক জ্ঞানী মানুষ এবং দুই জ্ঞানশূন্য মানুষ।

সত্যিকার অর্থে আমাদের সবার মাঝে কম বেশী জ্ঞান আছে কিন্তু আমরা তার সঠিক চর্চা করতে জানি না। তাই আমাদের মধ্যে এই ধরনের প্রকারভেদ দেখা যায়।জ্ঞানকে প্রসারিত করতে অনেকেই আপ্রাণ চেষ্টা করি কিন্তু মনে কি প্রশ্ন জাগে? সঠিক উপায় কয়জন অবলম্বন করি। জ্ঞান অর্জনের জন্য মানুষের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো বই।বই পড়া ছাড়া একজন মানুষের জীবন ৮০ শতাংশই বৃথা।কেননা বই একজন মানুষকে তার ভিতরে লুকিয়ে থাকা ঘুমন্ত মানুষটিকে জাগিয়ে তোলে, মনের চক্ষু খুলে দেয়, জ্ঞান ও বুদ্ধিকে প্রসারিত ও বিকশিত করে এবং ভিতরে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে।

মনুষ্যত্ব অর্জনের সবচেয়ে বড় ও সঠিক পথ হচ্ছে বই পড়া।

বই পড়ে হারিয়ে যেতে পারেন অদেখা কোন জায়গায়

এটি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে ও অনুভূতিকে সতেজ করে তোলে। বিভিন্ন ধরনের বই বিভিন্ন ধরনের জ্ঞানের সমারোহ বহন করে।

বর্তমানে বাংলাদেশ সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পড়ালেখায় অনেক নতুন নতুন পদ্ধতি চালু করেছে কিন্তু কার্যত কোন উপকার পাওয়া যাচ্ছে না।

এ সমস্যার কারণ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক ত্রুটি রয়ে গেছে এখনো সেটা হচ্ছে পাঠ্য বইয়ের বাহিরে কিছু শিক্ষা দেওয়া হয় না।

আমরা শুধু পাঠ্য বই পড়ি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য আবার পরীক্ষা শেষ হলে কি পড়েছি তা ভুলেও যাই।

তাই আমাদের জ্ঞানের পরিধি সীমাবদ্ধ থেকে যায়। এ জন্য আমাদের পাঠ্য পুস্তক এর পাশাপাশি জ্ঞান মূলক কিছু পড়া উচিৎ যা আমাদের জ্ঞানকে প্রসারিত করতে সাহায্য করবে।

শুধু মানুষ হলেই চলবে না প্রকৃত মানুষ হতে হবে আর নিজেকে জানতে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পড়ার বিকল্প কিছু নেই।

এটি পড়লে শুধু জ্ঞানই বাড়বে না বরং আপনি একটা ভালো বন্ধুও পেয়ে যাবেন নিজেকে সময় দেওয়ার। যে আপনাকে কখনো ছেড়ে যাবে না।

গবেষণায় পাওয়া বই পড়ার উপকারিতা সমূহ

চাপ কমায়ঃ

মানসিক চাপ কমাতে পারে বই

আপনি অনেক বেশী মানসিক চাপে আছেন? চাপে থেকে কি করেন হয়তো কফি পান করেন, একটু হেঁটে আসেন বা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে থাকেন।

সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে- বই পড়া এর চেয়ে বেশী কার্যকর।

গান শোনা, হাঁটাহাঁটি করা বা কফি পান করার চেয়ে বই পড়া খুব দ্রুত মানসিক চাপ কমায়, মনযোগ অন্য দিকে ধাবিত কর, সতেজ অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

মনকে সহানুভূতিশীল করেঃ

বই পড়লে এমন অনুভূতি জাগে মনে হবে গল্পকাহিনীর মত আপনি গল্পের নায়ক বা গল্পের অংশ হয়ে গেছেন।

এটি আমাদের মধ্যে এমন একটা আবেগের অনুভুতি সৃষ্টি করে, তখন আপনি গল্পের সাথে সংযুক্ত হতে শুরু করবেন।

এভাবে যদি নিয়মিত পড়া যায় তাহলে আপনার বাস্তব জীবনকেও প্রভাবিত করবে এবং আপনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক গুলোর প্রতি আরো সহানুভিতিশীল হয়ে উঠবেন।

ইনসমনিয়া থেকে মুক্তিঃ

গবেষণায় এটা প্রমাণিত যে বই পড়া আপনার ঘুম না হওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

যদি আপনি ইনসমনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে বই পড়াই হবে আপনার জন্য কার্যকরি চিকিৎসা।

আপনার ঘুম ফিরিয়ে আনতে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ

ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা যায়- বই পড়া আমাদের দিনে দিনে আরো বেশী তীক্ষ্ণ ও চটপটে করে তোলে।

একটা পড়ে শেষ করার পর বহুদিন পর্যন্ত বইটির ইতিবাচক প্রভাব থেকে যায়।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, কিছু পড়ার সময় মানুষের মস্তিস্ক এমন ভাবে কাজ করে যে তা নিউরোলজিকাল পরিবর্তন ঘটায় ও মেমোরি মাসলকে উজ্জীবিত করে।

বিষণ্ণতা দূর করেঃ

আমরা অনেক বিষণ্ণতা দূর করতে বাজে পথে চলে যাই, বাজে আড্ডা দিয়ে থাকে নেশার পথ খুঁজি। কিন্তু বই পড়া এমন একটা নেশা যা সকল নেশাকে হার মানাতে পারে।

এটি জীবনের মূল লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করে এবং জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেয়।

তাই বিষণ্ণতা দূর করতে আজ থেকে পড়ার অভ্যাস করুন আর এই অভ্যাসকে নেশাতে পরিণত করুন।

বই পড়া নিয়ে মনীষীদের উক্তি

১. ভালো খাদ্য বস্তু পেট ভরে কিন্ত ভাল বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করে। – স্পিনোজা

২. ভালো বই পড়া মানে গত শতাব্দীর সেরা মানুষদের সাথে কথা বলা। – দেকার্তে

৩. অন্তত ষাট হাজার বই সঙ্গে না থাকলে জীবন অচল। – নেপোলিয়ান

৪. প্রচুর বই নিয়ে গরীব হয়ে চিলোকোঠায় বসবাস করব তবু এমন রাজা হতে চাই না যে বই পড়তে ভালবাসে না। – জন মেকলে

৫. আমি চাই যে বই পাঠরত অবস্থায় যেন আমার মৃত্যু হয়। – নর্মান মেলর

৬. একটি ভালো বইয়ের কখনোই শেষ বলতে কিছু থাকে না। – আর ডি কামিং

৭. একটি বই পড়া মানে হলো একটি সবুজ বাগানকে পকেটে নিয়ে ঘোরা। – চীনা প্রবাদ

৮. একজন মানুষ ভবিষ্যতে কী হবেন সেটি অন্য কিছু দিয়ে বোঝা না গেলেও তার পড়া বইয়ের ধরন দেখে তা অনেকাংশেই বোঝা যায়। – অস্কার ওয়াইল্ড

৯. বই হলো এমন এক মৌমাছি যা অন্যদের সুন্দর মন থেকে মধু সংগ্রহ করে পাঠকের জন্য নিয়ে আসে। – জেমস রাসেল

১০. আমাদের আত্মার মাঝে যে জমাট বাধা সমুদ্র সেই সমুদ্রের বরফ ভাঙার কুঠার হলো বই। – ফ্রাঞ্জ কাফকা

১১. পড়, পড় এবং পড়। – মাও সেতুং

১২.জীবনে তিনটি জিনিসের প্রয়োজন- বই, বই এবং বই। – ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

১৩. বই হচ্ছে অতীত আর বর্তমানের মধ্যে বেঁধে দেয়া সাঁকো। – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মানসিক রোগ কতটা ভয়ানক হতে পারে??

মানসিক রোগ

“পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় লক্ষ লক্ষ মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। আর এই মানসিক রোগ তাদের আপনজনদের জীবনের উপর অনেক বেশী প্রভাব ফেলে। প্রতি চারজনের মধ্যে একজন তাদের জীবনের কোনো এক সময়ে এসে এই রোগে আক্রান্ত হবে। সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা এমন মানসিক অসুস্থতার পিছনে একটা উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে অবসাদ। মানসিক রোগ গুলোর মধ্যে সিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার ডিসঅর্ডার হচ্ছে সবচেয়ে দুঃসহ ও ক্ষতিকর মানসিক রোগ। যদিও অনেক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে তবুও তারা এই মানসিক রোগকে সবার থেকে আড়াল করে রাখে, উপেক্ষা করে ও এই রোগ কে কুদৃষ্টিতে দেখে।”—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।
ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অন মেন্টাল ইলনেস রিপোর্ট অনুযায়ী– বেশীর ভাগ মানসিক রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব, কিন্তু গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬০% প্রাপ্তবয়স্ক ও প্রায় ৫০% অল্প বয়সি, যাদের বয়স ৮-১৫ বছরের মধ্যে ছিলো এবং তারা কোন প্রকার চিকিৎসায় উন্নতি লাভ করেনি।

মানসিক রোগ কি ?

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, মানসিক রোগ হচ্ছে একজন মানুষের সুস্থভাবে চিন্তা করতে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সঠিক ভাবে আচরণ করতে না পারা। এমন অবস্থায় বেশীর ভাগ সময় একজন মানুষের অন্যদের সাথে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার ও জীবন কে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সাথে মোকাবিলা করার ক্ষমতা বাধাপ্রাপ্ত হয়। এটি কোন ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা চারিত্রিক সমস্যার কারণ নয়।

মানসিক রোগ
বিশ্বে প্রতি চারজনে একজন মানসিক রোগে আক্রান্ত হন।

মানসিক রোগের প্রাথমিক লক্ষন

– অকারনে তীব্র টেনশন।

– ঘুম কমে যাওয়া।

– মনোসংযোগে সমস্যা

সমস্যা আরো গভীর হলেঃ

মানসিক রোগ
অনেক বেশী সমস্যার আগে চিকিৎসকের নিকটে যান।

– আবেগ অনুভূতি হারিয়ে ফেলা।

– অবাস্তব কিছুতে তীব্র বিশ্বাস।

– অবাস্তব কিছু দেখা বা শোনার দাবী করা (হ্যালুসিনেশন)।

– মনোসংযোগে তীব্র সমস্যা, অসংলগ্ন বা অপ্রাসংগিক কথা বলা।

– অদ্ভুত আচরণ।

সিজোফ্রেনিয়া আবার কয়েক রকমের হতে পারে। যার মাঝে প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়া রোগে অনেকেই ভোগেন, যাতে মনে হয় যে আশেপাশের সবাই রোগীর শত্রু। সিজোফ্রেনিয়া রোগ মেডিকেশনে নিরাময় সম্ভব।

কিছু ভুল ধারনা আমাদের আছে যেগুলি নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। অনেকেরই এখনো ধারনা আছে যে মনোরোগ কেবল ধনী লোকদেরই হয়। এই ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। মনোরোগের কোন সামাজিক শ্রেনী বিন্যাস নেই। গরীব লোকে সেটা জানতেও পারে না  সেটা ভিন্ন কথা। যেমন ষ্টাডিতে দেখা যায় যে বাংলাদেশসহ গরীব দেশগুলিতে গর্ভবতী মহিলারা অনেক সময়ই আর্থ সামাজিক কারণে প্রচন্ড ডিপ্রেশনে ভোগেন, এতেই শেষ নয়। এই ডিপ্রেশনের প্রভাব ছড়িয়ে যেতে পারে তার অনাগত শিশুর জীবনে, শিশুর শারীরিক মানসিক বৃদ্ধিও হতে পারে মারাত্মকভাবে ব্যাহত। আমাদের দেশের কত লোকে এভাবে আজন্ম ভোগে কে তার হিসেব রাখে।

এ ছাড়াও আরেকটি ভুল ধারনা আছে যে মানসিক রোগ কেবল প্রাপ্ত বয়ষ্কদেরই হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য যে শিশুদেরও,  এমনকি সদ্যজাত থেকে ৩ বছর বয়সী।

মানসিক রোগ
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখুন।

শিশুদেরও  মানসিক সমস্যা হতে পারে। এই বয়সের একটি সাধারণ রোগের লক্ষন হল শিশুদের বাবা মার সাথে কম ঘেষার প্রবণতা, যাকে এটাচমেন্ট প্রবলেম বলে। এ ছাড়াও বাইপোলার ডিজ অর্ডার (ঘন ঘন মুডের পরিবর্তন),  এংক্সাইটি ডিজ অর্ডার, ডিপ্রেশন এসব রোগে বড়দের মত শিশুরাও ভুগতে পারে। অটিজমের কথা তো এখন সবাই নিশ্চয়ই জানেন।  এ ছাড়াও খুব সাধারণ কিছু সমস্যা যেমন বিছানায় মলমূত্র ত্যাগ,  স্কুল পালানো এসবও ক্রনিক মানসিক রোগ হতে পারে। সময়মত সুচিকিৎসা করা না  হলে রোগী ভুগবে সারা জীবন, রোগ হবে জটিল থেকে জটিলতর।

বিশ্বে এমন কিছু জটিল মানসিক রোগ রয়েছে,  যেগুলির বিবরণ শুনে বিশ্বাস করা কঠিন।

তিনটি ঘটনা দেয়া হল

ফরেইন অ্যাকসেন্ট সিনড্রোম :‌ ফ্রান্সের তরুণী অ্যাস্ট্রিড এল ফরাসি ভাষার বাইরে শুধু ভাঙা ভাঙা ইংরেজী ভাষায় কথা বলতে পারতেন।

এছাড়া কোনও ভাষাই তিনি জানতেন না। হঠাৎ একদিন ঘুম থেকে উঠে তিনি খাঁটি জার্মান ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। মেয়ের পরিবর্তন দেখে আঁতকে ওঠেন অ্যাস্ট্রিডের মা-‌বাবা। এমন অবস্থা হয়, যে তিনি ফরাসিতে কথা বলাই বন্ধ করে দেন। বেশ কিছু বছর আগে উত্তরপ্রদেশেও এক নাবালক এই রোগের শিকার হয়। যে কোনওদিন স্থানীয় ভাষার বাইরে কিছু জানত না, সে হঠাৎ ব্রিটিশ কায়দায় ইংরেজী বলতে শুরু করে।

অটোফাজিয়া :‌ “আজ কী খেতে ইচ্ছে করছে?”‌, অটোফাজিয়ায় আক্রান্ত রোগীর উত্তর হয় “‌নিজেকে”। হ্যাঁ, ভয়ানক এই রোগের লক্ষণ হল নিজেকে খেয়ে ফেলার ইচ্ছে। শুনে কি খুব বিরল রোগ মনে হচ্ছে? মনোচিকিৎসকরা বলছেন, নখ খাওয়ার অভ্যেসই এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। নখ খেতে খেতে রোগী আঙুলে কামড় বসানো শুরু করে। অসুস্থতা বাড়লে তা আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। সেই কারণেই বাচ্চাদের নখ খাওয়ার অভ্যেস হচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর দিতে বলেন চিকিৎসকরা।

কোটার্ড সিনড্রোম :‌ আরেকটি ভয়ানক রোগ। কোটার্ড সিনড্রোমে আক্রান্তরা নিজেদের মৃত বলে মনে করে। সিজোফ্রেনিয়া কিংবা গভীর অবসাদ থেকে এই রোগ দেখা দিতে পারে। পৃথিবীর কোনও কিছুর প্রতি তাদের মোহ-‌মায়া থাকে না। জীবন্ত মৃতদেহের মতো দিন কাটায়।

মানসিক রোগের চিকিৎসা

মানসিক রোগ
সময়মত চিকিৎসা করালে আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন


মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা সফলতার সাথে অনেক মানসিক রোগের চিকিৎসা করতে পারেন। এ জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে কোন অভিজ্ঞ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া এবং সম্পূর্ণ চেক আপ করা। এ ধরনের রোগীরা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে তখনি উপকৃত হবে যখন তারা উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করবে। তবে এর জন্য রোগিকে তার মানসিক সমস্যা সম্পর্কে অন্যদের সাথে কথা বলার অনিচ্ছা দূর করতে হবে। ডাক্তারের সাথে খোলামেলা কথা বলতে হবে রোগীকে যেমন দৈনন্দিন সমস্যার কথা বা কোন গোপনীয়তা না রেখে ডাক্তারকে জানাতে হবে।
বিশেষজ্ঞের দেওয়া নিয়মানুযায়ী চলতে হবে অবশ্যই এর জন্য ডাক্তারের সাথে পরিবারের মানুষদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। রোগীকে মানসিক ভাবে সাপোর্ট দিতে তার পরিবারের বা আপনজনদের সহযোগিতা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। যা অন্যান্য চিকিৎসার চেয়ে অনেকাংশে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে দেখেন যে পারিবারিক অশান্তি, সম্পর্কের ফাটল, ঝগড়া বিবাদ, অনেক সময় নিজের সঙ্গীর সাথে ভুল বুঝাবুঝি, কোন কাজে ব্যর্থতা, একাকী থাকা, হীনমানসিকতা  ইত্যাদি কারণে মানসিক ভাবে অনেক বেশী বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই এ সকল সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য হিতাকাঙ্ক্ষীদের পরিচর্যাই হচ্ছে একমাত্র ভরসা।

যখন কোন মানুষ সাময়িক বা দির্ঘস্থায়ী শারীরিক বা মানসিক সমস্যার জন্যে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে ব্যর্থ হয়, তখন তাকে কাছের মানুষের উপর নির্ভর করতে হয়। মানসিক অসুস্থতার কারণে তাকে কারো না কারো সাহায্য নিয়ে দিন পার করতে হয়। আর এভাবে আপনজনদের বা শুভাকাঙ্ক্ষীদের থেকে মানসিক বা শারীরিক সহযোগিতার মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে মানসিক রোগ থেকে মুক্তি লাভ করতে সক্ষম হয়। পরিবার পরিজনদের দায়িত্ব শুধু মানসিক রোগীর সমস্যা সমাধান করা না বরং রোগীকে তার জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ নিশ্চিত করা।

একজন মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ব্যাক্তিকে ঔষধ বা থেরাপি দিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেয়ে, তাকে মানসিক ভাবে সাপোর্ট দিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কার্যকারিতা অনেক বেশী।

কিভাবে মানসিক রোগের সঙ্গে মোকাবিলা করা যায়

-অভিজ্ঞ  মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী চলুন এবং চিকিৎসা করান।

-ভারসাম্যপুর্ন ও স্থায়ী দৈনন্দিন তালিকা মেনে চলুন

-নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখুন।

-একমুখী চিন্তা পরিহার করুন।

-নিজেকে সময় দিন আরাম করার জন্য সময় নিন।

-পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খান।
-মদ্যপান করা ও যেকোন নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।

মানসিক রোগ
কোনপ্রকার মাদকদ্রব্য গ্রহণ করা যাবে না

-নিজেকে স্বল্প পরিসরে না রেখে সবার সাথে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। অন্যদের সময় দিন।
-আপনার প্রয়োজনীয়তার দিকে মননিবেশ করুন।

 

আসুন একটু হৃদয়ের যত্ন নেই

হার্ট

“প্রায় বুকে চিন চিন করে ব্যথা করে কবির সাহেবের, তিনি ভাবেন এটা গ্যাস্টিকের ব্যথা হয়ত। তাই দুই টাকা দামের একটা গ্যাস্টিকের ট্যাবলেট খেয়ে সাময়িক ভাবে ব্যথা উপশম করেন।“

আমাদের সমাজে এমন কবির সাহেব আছেন হাজারেরও বেশি। হার্ট অ্যাটাকের আগে কেউ ডাক্তার দেখাতে যায় না। বার বার শরীরের প্রয়োজন কে অবহেলা করি আমারা। ফলাফল হার্ট অ্যাটাক নাহয় মৃত্যু। একটা মৃত্যু বা হার্ট অ্যাটাকের চাপ একটা পরিবারকে যে কতটা ভেঙ্গে ফেলে লিখে শেষ করা যাবে না।

আজ তাই চেষ্টা করলাম এই বিষয় অজানা কিছু তথ্য জানাতে। সব শেষে থাকছে একটি সারপ্রাইজ। আসা করি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি নিজ স্বার্থে পড়বেন।

হৃৎপিণ্ড আমাদের দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। মাদার বোর্ড ছাড়া যেমন কম্পিউটার চলে না। তেমনই হৃৎপিণ্ড ছাড়া শরীর চলতে পারেনা। কিন্তু ব্যস্ততার বা অবহেলার কারণে শরীরের এ গুরুত্বপূর্ণ অংশটির যত্ন নেওয়ার কথা ভুলে যাই আমরা। বর্তমান সময়ে পরিবেশ যেভাবে দূষিত হচ্ছে, রোগের বয়স এর পার্থক্য কমে যাচ্ছে। যে কোনো বয়সের মানুষেরই হতে পারে যে কোনো রোগ। বিশেষ করে হার্টের রোগ। একটু সতর্ক হলেই কিন্তু এই সব অসুখ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। হার্টের অসুখের ঝুঁকি আপনার জীবনে একটু কমাতে চাইলে কিছু বিষয় অবশ্যই মানতে হবে।

ধূমপানের অভ্যাস থাকলে ছেড়ে দিন। ধূমপান না করলে আপনার হার্টের অসুখের ঝুঁকিও অনেক কমে যাবে। একটু ব্যায়াম করুন। সময় সুযোগ মতো নিয়ম করে করুন ব্যায়াম। হার্টের অসুখের ঝুঁকি কমবে। আপনার উচ্চতা এবং বয়সের সঙ্গে মানানসই এমন ওজন বজায় রাখুন।

হার্ট
ধূমপান বাদ দিতে না পারলে হৃদরোগ হবেই।

ব্যায়ামের উপকারিতা

১।  দেহে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয় ও কোষগুলোকে অক্সিজেন ব্যবহার করতে সহায়তা করে।

২।  হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে।

৩।  ব্লাডপ্রেশার বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

হার্ট
রক্তচাপ বেশি থাকলে দ্রুত কমানোর ব্যাবস্থা করুন।

৪। হার্ট ফেইলিওরের উপসর্গ কমায়।
৫। হার্টের পাম্প ক্ষমতা বাড়ায়।
৬। মাংসপেশি, অস্থিসন্ধি ও হাড়কে শক্তিশালী করে।
৭। রক্তনালিতে অতিরিক্ত চর্বি বা কোলেস্টেরল জমা হতে দেয় না।
৮। রক্তের সুগারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে ও দেহের কোষের ওপর ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

৯।  শরীরের বাড়তি ওজন কমায়। কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে সহজে ক্লান্ত হওয়া, হাঁপিয়ে যাওয়া ইত্যাদি কমে যায়।

হার্ট
ব্যায়াম শুধু হার্ট না সারা শরীরও ভালো রাখে।

১০। ঘুম স্বাভাবিক ও আরামদায়ক হয়, শারীরিক ও মানসিক অবসাদ দূর হয়।
দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা ও বিষণ্নতা কমে।

দৈনন্দিন ব্যায়াম এমন কিছু ব্যায়াম আছে, যা ঠিক ব্যায়ামের তালিকায় পড়ে না কিন্তু ব্যায়ামের মতোই শরীরে কাজ করে। এতে ব্যায়ামের মতোই উপকার পাওয়া যায়।
সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা, লিফটের ব্যবহার যথাসম্ভব কম করা।

হার্ট
ভুলে যান লিফট আর একসিলেটরের কথা।

অল্প দূরত্বে যেতে হেঁটে যাওয়া।
বাড়িঘর পরিষ্কারের কাজ নিজেই করা।

ভুল ধারণা


বয়স্কদের ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। বয়স্ক, প্রৌঢ় সবারই ব্যায়ামের প্রয়োজন আছে। তবে ব্যায়ামের সময় এত বেশি হাঁপিয়ে ওঠা যাবে না,  যাতে কথা বলতে কষ্ট না হয়।
হার্টের অসুখ হলে ব্যায়াম করা যাবে না। হার্টের সমস্যা হলেও ব্যায়াম করা যাবে। শুধু তাই নয়, ব্যায়াম করতেই হবে। তবে কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ অনুসারে ব্যায়ামের সময়, ধরন ঠিক করে নিতে হবে। এমন স্থানে ব্যায়াম করবেন, যেখানে পরিচিত অনেকেই আছেন।
ব্যায়ামের জন্য জিমে যেতেই হবে। ব্যায়াম করতে হলে জিম বা ব্যায়ামাগারে যেতে হবে এমন কোনো  কথা নেই। তবে কোনো হেলথ ক্লাব বা হাঁটার জন্য বন্ধু বা প্রতিবেশী সঙ্গে  থাকলে ব্যায়ামের নিয়মানুবর্তিতা বজায় থাকে। না হলে আলস্যের কারণে অনেক সময় ব্যায়াম বাদ পড়ে।
ব্যায়াম নিয়মিত করলে খাবার নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নেই। হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালি ভালো রাখতে হলে শুধু ব্যায়াম করলেই হবে না,  তেল ও  চর্বিজাতীয় খাবার,  গরু ও খাসির মাংস, মগজ, ডিমের কুসুম, বেশি মিষ্টি, আইসক্রিম, চকোলেট, ফাস্ট ফুড পরিহার করে ব্যালান্সড ডায়েট খেতে হবে।

কিছু খাবার আছে যা আমরা প্রতিদিন খাই কিন্তু এটা জানিনা যে এগুলো আসলে খাবার এর নামে বিষ।

এর ভেতর এক নাম্বার এ আছে কাঁচা লবণ, চিনি দুধ চা, ঘন ডাল। এই খাবার গুলো হার্টের জন্য নীরব ঘাতক।

কিছু সহজলভ্য ও পরিচিত খাবার আছে যেগুলো আমাদের রক্তনালী পরিষ্কার করে আমাদের হার্ট ভালো রাখে।

পানি

জল চিকিৎসা নামে একটি চিকিৎসা পদ্ধতি জাপানী মেডিকেল বোর্ড খুঁজে বের করেছে যা শতভাগ সুস্থতা প্রদানে সক্ষম বলে দাবি করেন তারা।
সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে চার গ্লাস পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। প্রথম দিকে এটা অনেক বেশি মনে হলেও কিছুদিন এভাবে পানি পান করলে বিষয়টি সহজেই আয়ত্ত হয়ে যায় এবং উপকারও টের পাওয়া যায়। পানি খাওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আর অন্য কিছু মুখে না দেওয়াই ভালো। এ উপায়ের কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং এটি পরিপাক ক্রিয়ার জন্য খুবই উপকারী। গবেষকেরা বলেছেন, সকালে খালি পেটে পানি কেবল পাকস্থলী পরিষ্কারই নয়,  শরীরের  বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি থেকেও বাঁচাতে সাহায্য করে।

শাকসবজি ও ফলমূল

 

হার্ট
শাকসবজি হবে আপনার প্রতিদিনের খাদ্য।

সবজি- শিম,  বরবটি, পিয়াজপাতা, পুঁইশাক, মানকচু, কচুরলতি, রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এগুলো রাখতে পারেন ওষুধ বিবেচনায়ও। মৌসুমি শাকসবজি কিনতে তেমন খরচও হয়না এবং এগুলোতে কীটনাশক কম থাকে।

পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার- প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ক্রমাগতভাবে যুক্ত করতে থাকুন পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণ। এ ক্ষেত্রে কলা এবং মিষ্টি আলুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা।

সবুজ বাহারি সালাদ- খাবারে যদি সবুজ সালাদ থাকে তাহলে আপনার রসনা তৃপ্তির পাশাপাশি হার্টও খুশি থাকবে। তাই বেশি বেশি যুক্ত থাকুন ভিনেগার, জলপাইয়ের তেল কিংবা লেবুর শরবতের সঙ্গে।

আপেল- হার্টের জন্য আপেলকে কার্যকারী ওষুধ বলা যায়। তা ছাড়া কোলেস্টেরলের মাত্রা কম রাখতে আপেল যথেষ্ট উপকারী। যারা প্রতিদিন দুটো আপেল খায়, তাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা অন্যদের থেকে কম থাকে।

হার্ট
প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না।

 

কিছু মজার তথ্য

ডিমের প্রতি ভালোবাসা- যাঁরা বলছেন, বেশি বেশি ডিম খেলে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ে তাঁদের জন্য দুঃসংবাদ। কেননা ব্রাজিলীয়ান গবেষকরা জানিয়েছেন, ডিমের কুসুমে থাকা ভিটামিন ই, বি-১২ এবং ফলেট করোনারি আর্টারিকে পরিষ্কার রাখে। তবে কেউ যদি দিনে চারটি করে ডিম খেতে থাকেন,  তবে তাঁকে এসব গবেষণার কথা ভুলে যেতে হবে।

হার্ট
ডিম খেলে অনেকক্ষণ ক্ষুধা লাগেনা।

অবসাদ কে দিন বিদায়- কোনোভাবেই কাজের ক্লান্তিকে আপনার ওপর চেপে বসতে দেবেন না। এ জন্য মাঝেমধ্যেই অবসাদ দূর করতে আপনার পছন্দকে গুরুত্ব দিন। সুইজারল্যান্ডের এক গবেষণা জানিয়েছে, অবসাদ দূর করার তৎপরতা হৃদযন্ত্রের সংকট কাটায় ৫৭ শতাংশের কাছাকাছি।

বালিশে মাথা রাখুন সময়মতো যাদের অনিদ্রা নামক রাজরোগ আছে,  তারা অন্যদের চেয়ে ৪৫ শতাংশ বেশি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ঘুমের জন্য প্রতিদিন বেশি বেশি শারীরিক পরিশ্রম করার আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

অধিক ঘুম কে বলুন “না”- এমনকি যারা বেশি বেশি ঘুমকাতুরে তাদেরও সাবধান করে দিয়েছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, দিনে ১০ ঘণ্টা কিংবা তার বেশি সময় যাদের ঘুমে কাটে তাদের স্থূলতার পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকে, কমতে থাকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। সুতরাং অধিক ঘুম কে না।

হার্ট
অধিক ঘুম হার্টকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

পান করুন গরুর দুধ গরুর দুধে থাকা লো ফ্যাট হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াবিরোধী কম ঘনত্বসম্পন্ন লিপ্রোপ্রোটিনের হার কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দুধে থাকা ক্যালসিয়াম শরীরে জমে থাকা পুরু চর্বির স্তর কাটতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু দুধচা খাবেন না। বিশেষ করে ভাত খাওয়ার পর দুধচা খাওয়াকে একদম নিষেধ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

হার্ট
সপ্তাহে তিন দিন ননি বিহীন দুধ খাওয়ার অভ্যাস করেন।

গান গাইতেই হবে- হৃৎপিণ্ড ভালো রাখতে গলা ছেড়ে গান গাইতেও উৎসাহিত করেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, দলবদ্ধ সংগীত কিংবা কারাওকে হাসিখুশি রাখে হৃদযন্ত্রকে।

হাসিখুশি থাকতে হবে- হাসিখুশি আর প্রাণবন্ত মুখাবয়ব শুধু স্টাইল বা ফ্যাশন আইকনই আপনাকে করে তুলবে না, বাড়িয়ে দেবে আপনার নীরোগ থাকার প্রবণতাও। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রাণবন্ত উপস্থিতি আপনার অবসাদ ও অভ্যন্তরীণ প্রদাহকে ছুটি দিয়ে দেবে এবং অলিন্দ ও নিলয়ের প্রকোষ্ঠকে সুঠাম রাখবে।

হার্ট
হাসি খুশি থাকলে কোন রোগই দেহে বাসা বাঁধতে পারবে না।

এখন সেই সারপ্রাইজ এর পালা।

এটা এমন একটা রেসিপি যা খুব সহজে ঘরে বসে তৈরি করা যায়। এটি একটি মহা ঔষধ। গবেষণায় দেখা গেছে যারা প্রতিদিন এটি পান করে তাদের হার্ট অ্যাটাক এর ঝুঁকি ৯৭% কম।

সারপ্রাইজ রেসিপি

উপাদান

১। আদা

২। রসুন

৩। আপেল সিডার ভিনেগার(সুপারসপ গুলোতে পাবেন)

৪। লেবু

৫। মধু

প্রণালী

মধু ছাড়া বাকি সবগুলো উপাদানের রস বের করতে হবে। আদা, রসুন, লেবু ও আপেল সিডার ভিনেগার সম পরিমাণ নিতে হবে। এখন একটি পাত্রে সব মিশিয়ে (মধু ছাড়া) চুলায় বসিয়ে দিন। মৃদু আঁচে হাল্কা করে জ্বাল দিন। ২০ মিনিট পর নামিয়ে ফেলুন। এটা কিছুটা হলুদাভ বর্ণ ধারণ করবে। চুলা থেকে নামিয়ে মধু মিশিয়ে নিন (যে পরিমাণ আদা, রসুন, লেবু ও আপেল সিডার ভিনেগার নিয়েছেন মধুও সেই পরিমাণ নিতে হবে)। তারপর ঠাণ্ডা করে সংরক্ষণ করুন ফ্রিজে। আপনি এটি ফ্রিজে ১-২ মাস সংরক্ষণ করতে পারবেন।

খাবারের নিয়ম

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১ টেবিল চামচ ও রাতে ঘুমানোর আগে ১ টেবিল চামচ করে খাবেন। আর ভালো ফলাফল পেতে দুপুরেও খেতে পারেন।

সবাই হৃদয়ের প্রতি যত্নবান হন। যত্নশীল নাহলে হার্ট অ্যাটাকের মত দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

 

 

 

 

 

 

 

কাজের চাপে ভুলে যাচ্ছেন পরিবারকে, মানসিকভাবে হচ্ছেন দুর্বল

পরিবার

ঘর ছেড়েছে সেই কবে গাড়িঘোড়া (উড়োজাহাজও অন্তর্ভুক্ত) চড়বার আশায়। সবে অ আ ক খ যখন বলতে শুরু করেছি মা আর দাদা-দাদীর কাছে তখন থেকেই আরেকটা লোভের সাথে পরিচয় হয় আমাদের

“পড়ালেখা করে যে,

গাড়িঘোড়া চড়ে সে”

ধীরেধীরে সেই লোভ ঘরবাড়ী আর পরিবার (মা-বাবা, ভাই আর বোন) ছাড়া করেছে অতি যতনে দৃশ্যমান গোপনে। নব্য প্রাপ্ত স্বাধীনতা আর ননিরপুতুল টাইপের আদরযত্ন বিহীন হয়ে কাটতে থাকে রাতদিন।

পরিবার
বন্ধনগুলোকে মজবুত করুন

পরিবারের প্রতি সবারই একটা গভীর দুর্বলতা কাজ করে। আমি-আপনি কেউ-ই এর বাইরে নই। যখনি অসুস্থতা ভর করে তখনি সামলে রাখতে পারিনা নিজেকে পরিবারের প্রয়োজন অনুভব থেকে। দুধের স্বাধ কি আর ঘোলে মিটে? নাহ! ফোনকল দেই একেক করে সবাই কে..
-হ্যালো আম্মা কেমন আছো?
-তুই কেমন আছিস রে? তোর গলাটা এতো ভারী আর আস্তে কথা বলছিস কেনো? শরীর খারাপ? (উনি কেমন আছেন সেটার উত্তরটা কিন্তু দেন নি)
-নাহ কিচ্ছু হয়নি! বলোনা কেমন আছো?
-বললাম তো ভাল। কত বার বলি!
-নাহ তুমি বলোনি তাই আবার জিজ্ঞেস করলাম।
-বলতো সত্যি কইরা, কি হইসে?
-নাহ তেমন কিছুনা! হাল্কা ঠা-ন-ডা.. (এই পর্যন্ত বইলা “লাগছে” শব্দটা বলার আর সুযোগ পাইনাই)
-আমিতো জানি তুই এরকম..সেরকম.. কতরকম..
কিছু ইচ্ছেমত বাণী প্রকাশ এবং জাহির করিলেন। আমিও কম নাহ! মনোযোগ সহকারে গিলতে লাগলাম মায়ের ভালোবাসা মাখা বকুনি গুলো।
অতঃপর ঔষধ এনে নিয়মিত খাবো প্রতিজ্ঞায় পাড় পেলাম। (বরাবরি ঔষধ অনিয়মিত খাওয়ায় আমি খুবি সবল)

পরিবার
মা তোমার মত কেউ হয়না

মা তোমাকে অনেক ভালোবাসি। আমার গাড়িঘোড়া চড়বার সেই লোভটা মলিন হয়ে গিয়েছে আজকাল। মাঝে মাঝে তোমার গায়ের গন্ধ নিতে ইচ্ছে করে। এখন আমার শুধু তোমার কোলে মাথাগুজে ঘুমুতে বড্ড ইচ্ছে করে আজকাল।

উপরের যে কথাগুলো বলছিলাম আপনার আমার প্রত্যেকটা সন্তানের কথা। এই ছোটখাটো বিষয় গুলো সবার সাথেই হয়ে থাকে।
আপনি জানেন কি?
প্রয়োজন, তাগিদ, আশা কতটুকু দূরে নিয়ে যাচ্ছে আমাদের আপনজনদের কাছ থেকে! মা’কে সময় দিন, পরিবার কে সময় দিন, আপনজনদের সময় দিন। দেখবেন অনেক রোগ’ই কমে গেছে আপনার। অনেকে আবার সময় দেয়ার জায়গা পান না।

 

দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বুঝতে চেষ্টা করুন

দাঁত

আমরা হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ি। ডাক্তারের কাছে যেতে হয় শরীর সুস্থ করতে। অনেকে আছে ৬ মাস পর পর স্বাস্থ্য চেক আপ করতে যান ডাক্তারের কাছে। কিন্তু আমরা আমাদের শরীরের একটি অঙ্গ নিয়ে কখনই চিন্তা করি না। সেটা হল দাঁত। যখন দাঁত থেকে রক্ত পড়ে অথবা ব্যথায় গাল ফুলে যায় তখন আমরা ডাক্তারের কাছে যাই। দাঁতের সমস্যা দূর করতে অনেকে বাসায় চেষ্টা করেন। শরীরের এই বিশেষ অঙ্গটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগে অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কি করণীয় তা নিয়ে কথা হবে।

আয়নার সামনে গিয়ে ফোনের ফ্ল্যাশলাইটটি অন করুন। এখন মুখ হা করে লাইট দিয়ে ভালো করে দুই পাটি দাঁত দেখুন। নিচে কয়েকটি সমস্যার কথা বলা হল মিলিয়ে দেখুন। সাথে পাবেন সমস্যার সমাধান।

১) আপনার দাঁতের গোঁড়ায় সাদা, হলুদ, কালো অথবা খয়েরী রঙের আবরণ দেখেন তাহলে বুঝতে হবে আপনার দাঁতে প্লাগ হয়েছে। যা আপনার মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে।

দাঁত
প্লাগের কারণে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হয়।

যদি প্লাগ অনেক বেশী হয় তাহলে আপনাকে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। সে ক্ষেত্রে ডেন্টিস্ট আপনাকে স্কেলিং করতে বলতে পারে। স্কেলিং করতে বেশী খরচ হয় না।

তবে এটা আপনার দাঁতের গঠন ও প্লাগের পরিমাণের উপর নির্ভর করে। আর যদি প্লাগের পরিমাণ কম হয় তাহলে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি অবলম্বন প্লাগ সরাতে পারেন। তবে ডাক্তারের কাছে যাওয়াই বেশী ভালো। এখন আসুন জেনে নেই ঘরে বসে কীভাবে প্লাগ দূর করবেন।

প্লাগ দূর করার ঘরোয়া পদ্ধতি- পরিমাণ মত বেকিং সোডা, লবণ আর প্রতিদিন ব্যাবহারকৃত পেস্ট একসাথে মিশিয়ে তা ব্রাশ দিয়ে দাঁতের প্রতিটি মাড়িতে ভালো করে মাজতে হবে।

গোঁড়া গুলোতে ভালো করে মাজতে হবে। ৩-৪ দিন পর পর এভাবে মাজলে দাঁতের প্লাগ দূর হয়ে যাবে।

২) আপনার দাঁতে যদি কালো কালো দাগ দেখেন এবং তা যদি ব্রাশ করার পরেও না যায় তাহলে বুঝতে হবে সেই জায়গায় ক্ষয় হচ্ছে। যাকে ক্যারিজ বলে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে দাঁতের ক্ষয় বা ক্যারিজ রোধ করা গেলেও তা আর আগের মত সারানো যায় না।

দাঁত
দাঁতের ক্ষয় একসময় দাঁতের মৃত্যু ডেকে আনে।

কিন্তু সচেতন আপনি যদি সচেতন না হন তাহলে দাঁতের ক্ষয় হতে হতে তা অনেক ভেতরে চলে যায়। তখন দাঁতের রুট ক্যানেল করতে হয়। যা একদিকে যেমন ব্যয়বহুল অন্যদিকে অনেক কষ্টকর। দাঁতের এই কালো দাগ গুলো দেখলেই অতিসত্বর ডেন্টিস্ট এর কাছে যান। সঠিক সময় গেলে হয়তো শুধু ফিলিং করলেই দাঁতটা ভালো হয়ে যেতে পারে।

ফিলিং হচ্ছে দাঁত ক্ষয় অথবা ভেঙ্গে গেলে দাঁতের সমতা আনানো। এই ক্ষেত্রে গাটা পার্চা দিয়ে দাঁতের ক্ষয় হয়ে যাওয়া অংশ ফিলিং করে দেয়। আর রুট ক্যানেল এ দাঁতের মধ্যে থাকা নষ্ট হয়ে যাওয়া পাল্পকে বের করে আনা হয় বিশেষ রকমের কিছু ইনস্ট্রুমেন্ট দিয়ে। এটি ব্রচ নামে পরিচিত।

এরপর দাঁতের পাল্প চেম্বার ও দাঁতের রুটের ভেতরে থাকা ক্যানাল বা ক্যানালগুলো পরিষ্কার করতে হয় রিমার, ফাইল- এগুলোর সাহায্যে। এরপর পরিষ্কার করা ও জীবাণুমুক্ত করা রুট ক্যানাল সিল করে দেওয়া হয় গাটা পার্চা দিয়ে। আর সঙ্গে সিলার হিসেবে ব্যবহার করা হয় বহু ধরনের সিলার। যেমন ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড সমৃদ্ধ সিলার, রেসিন বেসড এএইচ, জিংক অক্সাইড ইউজেনল ইত্যাদি।

এমনভাবে সিল করতে হয়, যাঁতে পরে দাঁতের বাইরে থেকে বা ভেতর থেকে কিছুতেই জীবাণু রুট ক্যানালে ঢুকতে না পারে। এরপর ফিলিং দিয়ে দাঁতের গর্ত ভরাট করে দেওয়া হয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রুট ক্যানাল করা দাঁতটিতে কৃত্রিম ক্রাউন বা ক্যাপ বসাতে হয়।

৩) আপনার দাঁত অনেক উঁচুনিচু হলে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা ময়লা আপনার চোখে পড়বে না। সেই ক্ষেত্রে ভালো মানের ব্রাশ ব্যাবহার করতে হবে এবং প্রতিবার খাবারের পরে কুলি করতে হবে। ডাক্তারের কাছে গিয়ে দাঁত সমান্তরাল করতে পারেন অথবা অতিরিক্ত দাঁত ফেলে দিতে পারেন।

দাঁত
৬ মাস পর পর ডেন্টিস্ট এর কাছে যাওয়া উচিৎ।

দাঁত রক্ষা করার কিছু পদ্ধতি জেনে নিন-

ক) প্রতিদিন সকালে খাবারের পর ও রাতে খাওয়ার পর (ঘুমানোর আগে) ভালোভাবে দাঁত ব্রাশ করা উচিত।

খ) খাবার পানি ফুটিয়ে পান করা উচিত। ফুটানো সম্ভব নাহলে নলকূপের পানি সংগ্রহ করুন।

গ) ব্রাশের সমান্তরাল স্টিকের পরিবর্তে বাঁকা হওয়া দরকার। এতের মুখের ভেতরের দাঁতগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার হবে।

ঘ) দাঁতের ফাঁকের ময়লাগুলো দীর্ঘদিন ধরে জমে ক্ষুদ্র পাথর কণায় পরিণত হয়। তখন দাঁতের উপরিভাগে কালো দাগ পড়ে। এটা ভীষণ দৃষ্টিকটু দেখায়। এ জন্য প্রতি ছয় মাস পরপর দাঁতের স্কেলিং করানো উচিত। বয়স ৪০-এর উর্ধ্বে হলে এক বছর পরপর করাতে হবে। নতুবা স্কেলিংয়ে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক যন্ত্রের ফলে দাঁতের গোড়া দূর্বল হয়ে যাবে। কারণ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দাঁতের মাড়িও ক্ষয় হতে থাকে।

ঙ) অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম পানীয় দাঁতের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। দুটো পানীয় একই সঙ্গে গ্রহণ করা অনুচিত। খুব গরম চা বা কফি পানের অন্তত ১ ঘন্টা পরে স্বাভাবিক পানি পান করুন।

চ) গ্যাসট্রিকের সমস্যা থাকলে মুখে দুর্গন্ধ হয়। ফলে দাঁতের হলুদাভ আবরণ আসে। নিয়মিত গ্যাসট্রিকে ঠোঁটের দুই কোণে কালো হয়ে যায়। এ জন্য প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুন।

ছ) পান, সুপারি, জর্দা বা গুল পরিহার করুন। এসবে আসক্তি থাকলে খাবার পরে দাঁত ব্রাশ করে ফেলুন। পানে চুনের পরিমাণ যত কম হয় ততই ভালো। মাত্রাতিরিক্ত চুন দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে।

জ) প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটা ভিটামিন-সি ট্যাবলেট খান।

ঝ) অনেকেই বিভিন্ন গাছের দাঁতন ব্যবহার করে থাকেন। এতে মনোযোগী হতে হবে যেন দাঁতনের আঁশ দাঁতের দাঁতের গোড়ায় আটকে না থাকে। টুথপিক ব্যবহারে মাড়িতে ফুটো হলে ইনফেকশন হয়। তাই সতর্কতার সঙ্গে টুথপিক ব্যবহার করুন।

ঞ) প্রতি ৪-৫ মাস অন্তর ব্রাশ পরিবর্তন করুন।

ট) জিকজ্যাক পদ্ধতিতে (উপরে, নিচে, ভেতরে, বাইরে) দাঁত পরিষ্কার করতে হবে।

দাঁত
সুস্থ দাঁত আপনার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে।

ঠ) বাঁধানো দাঁত বা কৃত্রিম দাঁতের প্রতি বিশেষ যত্ন নিন। প্রায়ই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেগুলো খুলে পরিষ্কার করুন।

বছরে অন্তত একবার পুরো দেহের চেক আপ করান।

এতে লুকায়িত কোন রোগ জীবাণু থাকলে ধরা পড়বে। দেহের প্রতিটি অঙ্গ পরস্পরের উপর নির্ভরশীল।

তাই সুস্থ্য দাঁত ও সুস্থ্য দেহের জন্য পুরো দেহ রোগমুক্ত থাকাটা ভীষণ জরুরী।

সত্যিকারের ভূত দেখার অনুভূতি, গল্প নয়।

ভূত

গাইবান্ধা জেলায় শরিয়তপুর নামের একটা ছোট্ট গ্রাম আছে। গ্রামটার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে একটা নদী। প্রচুর মাছ পাওয়া যায় সেখানে। গ্রামের মানুষ অনেক মাছ ধরে সেখান থেকে। গ্রামের অন্যতম দুই দস্যু ছেলের নাম হানিফ আর ফরিদ। দুজন সমবয়সী। বয়স ৮/১০ বছর হবে। অনেক দুষ্ট আর দুরন্ত ছেলে দুটো। ঐ নদী থেকে শুধু বাংলা বছরের কার্তিক মাসে মাছ ধরা নিষেধ। ছেলেগুলোর এই মাসেই যেন সবচেয়ে বেশী মাছ ধরতে ভালো লাগে। কারো নিষেধ শোনে না। এই নিশেদ্ধাজ্ঞা যেনতেন কেউ দেয় নি। গ্রামকে বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে রক্ষা করে এমন কয়েকজন সাধু সন্ন্যাসীরা নিষেধ করেছে মাছ ধরতে। তখন গ্রামগুলোতে কলেরার প্রাদুর্ভাব ছিল প্রচণ্ড। মানুষ অনেক মারা যেত কারণ কোন প্রতিষেধক ছিল না। যেই বাড়িতে কলেরা হত সেই বাড়িটা হয় কবরস্থান নাহলে শ্মশান হয়ে যেত। তাই মানুষ খুব মানত সন্ন্যাসীদের কথা।

এখন হানিফ আর ফরিদ চুপি চুপি কথা বলছে। কেউ শুনলে যেতে তো পারবেই না সাথে কয়েকটা উত্তম মধ্যম পড়বে পিঠে।

হানিফ- দেখ ভাই সামনের রাস্তা দিয়ে গেলে জালটা নিতে পারব না। বড়শি দিয়ে বেশী মাছ ধরা যায় না।

ফরিদ- ঠিক বলছিস ভাই। আমি বাবার জালটা নিয়ে আসতে পারবো কিন্তু নদীর কাছে নিব কি করে? সেই বুদ্ধি বের কর।

হানিফ- আচ্ছা তুই নিয়ে আয়, বাকিটা আমি দেখছি।

ফরিদ- মার খেতে হবে না তো ধরা পড়ে?

হানিফ- দেখ ভাই আমি কাঁচা কাজ করি না। এখন সবাই দুপুরে খেয়ে ঘুমাচ্ছে সুযোগটা হাতছাড়া করা ঠিক হবে না।

যেই কথা সেই কাজ। ফরিদ চলে গেলো বাবার জাল চুরি করতে। আর হানিফ কীভাবে জালটা নদীর দিকে নেয়া যায় সেই রাস্তা খুঁজতে লাগলো। ২০/২৫ মিনিট পর ফরিদ এলো। বেচারা হাঁপাচ্ছে, দৌরে এসেছে।

ফরিদ- এই নে। জাল অনেক ভারি। আনতে অনেক কষ্ট হইছে আমার।

হানিফ- কষ্ট না করলে ভালো কিছু হয় না। দেখবি আজ কতো মাছ পাই। আমাকে অনুসরণ কর। রাস্তা পেয়েছি।

হানিফ গোয়াল ঘরের দিকে যেতে লাগলো। ওদের গোয়াল ঘরের বাইরেই নদীর রাস্তা। ও জালটা বেড়ার নিচের খালি জায়গা দিয়ে বাইরে ফেলে দিল। তারপর ধীরে ধীরে বাড়ি থেকে বের হয়ে নদীর দিকে গেলো।

দুই বন্ধুর আনন্দ দেখে কে। চোখে মুখে বিশ্ব জয়ের হাসি। নদীতে নেমে গেলো জাল নিয়ে। অনেক বেশী মাছ পাবে ওরা দুজন। কারণ কেউ মাছ ধরছে না।

প্রথমে জালটা ছুড়ে দিল নদীতে তারপর ধীরে ধীরে সাঁতরে জালের শেষ প্রান্তে গেলো। জালের ভেতর মাছেরা আওয়াজ করছে।

অনেক মাছ পাওয়া যাবে আজ, সেই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। জাল তীরে এনে ভেতরে মাছ খুঁজতে গিয়ে দুজনের চোখ চড়কগাছ হয়ে গেছে।

কি অদ্ভুত!! দুজন আবার চেষ্টা করল এবারও একই অবস্থা। এভাবে ৪-৫ বার চেষ্টা করল। খুব বেশী বিরক্ত হয়ে দুজন নদীর পাড়ে দাঁড়ালো। হানিফের কেমন যেন একটা ঠাণ্ডা বাতাস শরীরে লাগলো। চারিদিকে একটা হিম হিম ভাব। হঠাৎ করে হানিফ একটা অপরিচিত ছেলেকে দেখল। ওদের সমবয়সী। ছেলেটা ওদের গ্রামের না, হলে চিনত। ছেলেটা দেখতে কালো আর এতো লিকলিকে যে হানিফ কখন এমন মানুষ দেখেনি। চোখ দুটো যেন কোটর থেকে বের হয়ে আসবে, চোখের নিচে কালি। চোখ দুটো রক্তলাল। দুই বন্ধুর তখন অনেক মেজাজ খারাপ। ছেলেটাকে দুজন মিলে পাকড়াও করলো।

হানিফ- এই ছেলে তুমি আমাদের জালের মাছ নিয়ে গেছ তাইনা?

ফরিদ- এই তুই কোন এলাকার? নিজে মাছ ধরতে পারিস না?

দুজনে মিলে অনেক কিছু বলল। কিন্তু ছেলেটা কিছুই বলে না। চুপ করে আছে। ফরিদ তখন ওকে মারতে গেলো। হানিফ জলদি ফরিদকে থামিয়ে দিল। মারামারি থামাতে গিয়ে ওর হাত ঐ ছেলেটার কাঁধে লাগলো। হানিফ যেন ছিটকে উঠল। এতো ঠাণ্ডা কোন মানুষের শরীর থাকতে পারেনা। এতো ঠাণ্ডা অনুভূতি ও কখনো পায়নি। হানিফ নিজেও পানিতে ছিল এতক্ষণ। সুতরাং পানিতে থাকলে শরীর যে পরিমাণ ঠাণ্ডা হয় তা এতো অদ্ভুত লাগার কথা না।

ছেলেটা মার খাবার ভয়ে কেমন যেন নেকে গলায় বলতে লাগলো-

আমাকে মেরো না। আমাকে মেরো না। আমি আর মাছ নেব না।

হানিফ- এই ছেলে তুমি এখান থেকে দূরে চলে যাও। ঐ দিকে চলে যাও (হাত দিয়ে ইশারা করলো)। আর কখনো এদিকে আসবে না। এখানে যেন আর না দেখি।

ছেলেটা কৃতজ্ঞতার দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকাল। আর চলে যেতে লাগলো। হানিফ ফরিদকে ওদিকে তাকাতে মানা করলো। এরপর ওরা আবার মাছ ধরতে জাল ফেলল। এইবার জালে ঠিক আগের মত শব্দ হল। তীরে নিয়ে দেখল জাল ভর্তি মাছ। ঐদিন দুইজনে মিলে অনেক মাছ ধরল।

সবই ঠিক আছে ওদের জীবনে। কিন্তু হানিফ আজও ভুলতে পারেনি সেই শিরশিরে ভয়ঙ্কর ঠাণ্ডা অনুভূতি। আর কোন দিন তাকে দেখেনি। কে ছিল ছেলেটা?? মানুষ নাকি মানুষরূপী…।

(অদ্ভুতুড়ে এমনসব গল্পের জন্য চোখ রাখুন dumurful.com এ )

ভালোবাসার আগে একটু ভেবে নিতে হবে

ভালোবাসা

তমা(ছদ্মনাম) ও অনির্বাণ(ছদ্মনাম) দুজনই উচ্চশিক্ষিত, ভালপরিবারের, একই ধর্মের এবং ভালো জব করে। তাদের ভেতর একটা ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়। তারা এই সম্পর্কে শুধু ভালোবাসার জন্য আসেনি, ভালোবাসাকে সম্পূর্ণ করে পারিবারিকভাবে বিয়ে করার মত চিন্তাও করেছে। সবাই খুশির মনেই বিয়েটা মেনে নেবে। কিন্তু হঠাৎ যেন কি হয়ে গেলো। অনির্বাণকে তমার বোরিং মানুষ মনে হচ্ছে, মানিয়ে নিতে না পেরে অন্য ছেলেদের সাথে কথা বলে মিলিয়ে দেখেছে আসলেই অনির্বাণ কতোটা বোরিং ছেলে। আর এদিকে বেচারা অনির্বাণ কষ্ট পাচ্ছে তমার ব্যবহার গুলোতে। অনির্বাণ তমার কথার সাথে মানিয়ে নিতে পারছে না আর তমাও পারছে না এভাবে থাকতে, একদিন সব শেষ হয়ে যায়। অনির্বাণ মনে মনে ভেবে নেয় আর না। তমা শেষ চেষ্টা করে কিন্তু তার মত থেকে সরে আসে না।

অবশেষে ব্রেকাপ। এভাবে প্রতিদিন অনেক তরুণ তরুণীর সম্পর্ক শেষ হয়ে যাচ্ছে। শুধু শেষ না এতে যে কতটা মানসিক ক্ষতি হয় তার হিসেব নেই। কাজ করতে ইচ্ছে করেনা, কারো সাথে কথা বলতে ভাল লাগেনা এক কথায় থমকে যেতে চায় চলমান জীবন। জীবনে নতুন কেউ এলে তাকে মানা যায় না, মনে পড়ে যায় আগের সেই মানুষের কথা যার সাথে কাটিয়েছে অনেকগুলো সময়।

ব্রেকাপ
                                                                             ব্রেকাপ

কাউকে ভালোবাসার আগে কি কি বিষয় গুলো খেয়াল রাখা আবশ্যক??

পরিবার ও ধর্ম

পরিবার
                           পরিবার আমাদের জীবনে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ

কাউকে হুট করেই ভালোবেসে ফেললাম তারপর দেখা গেলো তার অথবা আপনার পরিবার থেকে মেনে নিচ্ছে না। অবশেষে ব্রেকাপ, মন ভাঙ্গা, এমন কি আত্মহত্যাও করে ফেলে অনেক মানুষ। তাহলে আমাদের এমন কোন মানুষকে জীবনে আনতে হবে যাকে আমাদের পরিবার মেনে নেয়। যার ধর্মের সাথে আমাদের ধর্ম মেলে কারণ এখন এমন মুসলিম পরিবার আছে যারা হিন্দু বা অন্য ধর্মের মানুষদের সাথে আত্মীয় করবে না এবং হিন্দু পরিবার আছে যারা এসব বিষয়ে আরও বেশী স্পর্শ কাতর। পরিবার এর সাথে নিজের মত মেলার পর ই বিয়ের মত বড় একটা সিদ্ধান্তে নেওয়া উচিৎ কারণ বিয়ে শুধু দুটি মানুষ এর ভেতর সম্পর্ক তৈরি করে না। এখানে দুটি  পরিবার অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত।

সততা

ট্রাস্ট
                                                             সততা সম্পর্কের মূল মন্ত্র

যে কোন সম্পর্কের ভেতর অবশ্যই বিশ্বাস ও সততা থাকতে হবে। কারণ বিশ্বাস না থাকলে কখন কোন সম্পর্ক টিকে থাকে না। “তোমাকে পেলে আমার আর কিছু চাই না” বলার আগে নিজেকেই প্রশ্ন করা দরকার, সত্যিই কি তাই? তাকে পেলেই কি অন্ন, বস্ত্র,  আশ্রয়, অর্থসহ অন্য সব অভাব মিটে যাবে? যায় না। যায় না বলেই যদি এভাবে বলা যায়, “আমার জীবনের সুখকে সমৃদ্ধ করার জন্য তোমাকে চাই”  তাহলেই কি সংলাপ যুক্তিসঙ্গত হয়ে  ওঠে না?
“তোমার চেয়ে বেশি সুন্দর আর কেউ নয়”  তাকে খুশি করার জন্য এ রকম কথা না  বলে যদি বলা হয়, “তোমাকে আমার কাছে ভারি সুন্দর লাগে”  তাহলেই কি তা সত্যতায় অনন্য হয়ে ওঠে না?
“আমি কোনদিন তোমাকে ছেড়ে যাব না”  না বলে,  যদি বলা হয় “যত দিন সম্ভব তোমার কাছেই থাকব’” তবে কী তা মিথ্যা বলা হবে?
“সারাজীবন তোমাকে ভালবাসব”  বলার মতো নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি  কী কেউ কাউকে  দিতে পারেন আসলে?  পারেন না। কারণ মানুষের জীবনের সব কিছুই হচ্ছে বাস্তবতা।  প্রায় সব কিছুই নির্ভর করে অন্য কিছুর উপর। যাকে মানুষ ভালবাসে, তার  প্রতিমুহূর্তের আচরণের ওপর নির্ভর করে,  তাকে কতটা ভালবাসা যায় এবং কতদিন তা স্থায়ী হবে।  তাই  সঠিক হতে হবে সংলাপ।  যদি বলা হয়, “এই মুহূর্তে তোমাকে আমি আমার  সমস্ত অনুভূতি দিয়ে ভালবাসি, এখন এটাই সত্যি”।

ছেলে এবং মেয়ে উভয়কেই তাদের ভালোবাসার মানুষদের কাছে সৎ থাকা উচিৎ। কারণ সততা সব কিছুর উপরে। সততা সম্পর্ক কে ভালো রাখে।

মনের মিল বা মানসিক  ভাবে মিল থাকা

বাচ্চা
    ডিভোর্স বাচ্চাদের জীবনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে।

কোন সম্পর্ক শুরু করার আগে ভাবতে হবে দুজনের মানসিক দিক গুলো মিলে কিনা, তাদের চিন্তা ভাবনার মিল কতটুকু যদি ৫০% ও মিলে যায় তাহলে হয়তো সম্পর্কটা টিকে থাকে কিন্তু যদি ২০% ও না মিলে তাহলে শুধু কম্প্রোমাইজ করেই জীবন কাটাতে হবে, শুরু হবে অশান্তি, ঝগড়া, এক সময় ডিভোর্স। আর যদি এই সম্পর্কে পৃথিবীতে কোন প্রাণ আসে তাহলে তার জীবনটা শেষ হয়ে যাবে সবার আগে।

তাহলে এটা বলা যায় কোন সম্পর্ক শুরু করার আগে অবশ্যই মনের মিল, মানসিক অবস্থা সব কিছু মাথায় রাখতে হবে।

আপনি যখন আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনীর ওপর বিরক্ত, তখন হয়তো সামান্য কারণেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন। এটা আপনার জন্য বুমেরাং হয়ে আসতে পারে। তাই সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে কথা বলার আগে ঠাণ্ডা হয়ে বসে সমস্যাটি নিয়ে ভালভাবে ভাবুন। তারপর তার সঙ্গে কথা বলুন। দেখবেন আসলে সম্পর্ক ততোটা তিক্ত নয়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকগুলো বিষয় ঠিক হয়ে আসতে শুরু করে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিষয়টা অকাট্য সত্য। আপনারা যখন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবেন,  দেখবেন সমাধান হাতের নাগালেই।

তারপর ও বলা যায় না ভালোবাসা স্নিগ্ধ হাওয়ার মত কখন কীভাবে এসে গায়ে লাগে। কিন্তু একটু ভেবে চিন্তে আগাতে দোষ কোথায়।

ভালোবাসা
                          এক সাথে সারাজীবন পার করা

ভালোবাসার পরিসমাপ্তি যেন কখনই ডিভোর্স অথবা ব্রেকাপ নামক শব্দ দিয়ে শেষ না হয়। ভালোবাসার পরিসমাপ্তি যেন শেষ বয়স পর্যন্ত এক সাথেই কাটে।

আমার ভালোলাগা একটি গান দিয়ে শেষ করছি। চাইলে শুনে দেখতে পারেন।

আমার রাতজাগা তারা
তোমার আকাশ ছোয়া বাড়ি
আমি পাইনা ছুঁতে তোমায়
আমার একলা লাগে ভারী…

                                     

                                                                                                         (গান-ভিন দেশী তারা, মুভি-অন্তহীন)

সঙ্গীত শুধু মনের খোরাক নয়, কেন? জেনে নিন।

সঙ্গীত

যদি আপনি গান শুনতে ভালোবাসেন তাহলে আপনি মানসিক এবং শারীরিকভাবে ভালো আছেন। চার্লস ডারউইন বলেছিলেন, “যদি আমি আবার জীবিত থাকি, তবে আমি কিছু কবিতা পড়তে এবং কমপক্ষে একবার প্রতি সপ্তাহে কিছু সঙ্গীত শুনতে চাইতাম”। অ্যালবার্ট আইনস্টাইন ঘোষণা করেছিলেন, “যদি আমি একজন পদার্থবিদ না হতাম, আমি সম্ভবত একটি সুরকার হতাম”। জিমি হেন্ডরিক্স বলেছেন সঙ্গীত তার ধর্ম। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে, সংগীত শোনার ফলে আপনার মানসিক অবস্থার উন্নতি সাধন হয়। এছাড়া শারীরিক স্বাস্থ্যেরও বিস্ময়কর পরিবর্তন দেখা যায়। আপনি যদি বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখেন তাহলে আপনার আইকিউ বাড়বে। আরও কিছু উপকার করে সঙ্গীত।

সংগীত আপনাকে খুশী রাখে

সঙ্গীত
গান শুনলে মন প্রফুল্ল থাকে

একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে আপনি যখন গান শুনবেন আপনার মস্তিষ্কটি ডোপামাইন নির্গত করে যা সুখের অনুভূতি সৃষ্টি করে। আপনার মানসিক বিকাশে যা অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। সুতরাং দৈনিক ১৫ মিনিট গান শোনার অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।

সংগীত আপনার কাজের দক্ষতা বাড়িয়ে দেয়

সঙ্গীত
মানসিক দক্ষতা বাড়ায়

কেউ যদি আমার সংগীত থেকে কিছু নেয় তা অবশ্যই প্রেরণা হবে। সেটা হল কাজ করে যাওয়া যতক্ষণ সম্ভব এবং পেছনে ফিরে তাকানো যাবে না” –এমিনেম।নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে গান শুনুন। আপনার কাজকে গতিময় করতে গানের বিকল্প আর কিছু নেই। কিছু দৌড়বিদের উপর গবেষণা করে দেখা গেছে যারা নিজের পছন্দের গান শুনে দৌড়েছেন তারা নিজেদের আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন।

মানসিক চাপ কমায় এবং স্বাস্থ্যের উন্নতি করে

সংগীত শোনার ফলে আপনার মানসিক ধকল কমে যায়। শরীরের স্ট্রেস হরমোন কর্টিসোলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। মানসিক চাপ আমাদের ৬০% রোগের জন্য দায়ী। এক গবেষণায় দেখানো হয়েছে যারা সক্রিয় ভাবে গান শোনেন তাদের ইমিউন সিস্টেম আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে যায়। শান্ত ও সুস্থ থাকার জন্য আপনার কক্ষে গান ছেড়ে দিন এবং আরও ভালো ফলাফল পেতে তালে তাল মিলিয়ে একটু পা দোলানোর চেষ্টা করুন।

অনিদ্রা দূর করে

৩০% এরও বেশী আমেরিকান অনিদ্রায় ভোগেন। যেই শিক্ষার্থীরা ঘুমানোর আগে গান শোনেন তারা অনেক বেশী সক্রিয় হন যারা তেমন কিছুই করেন না তাদের থেকে। সংগীত অনিদ্রার সমস্যা দূর করতে পারে। যদি আপনার ঘুমাতে সমস্যা হয় আপনি ঘুমানোর আগে গান শুনুন, ভালো ফলাফল পাবেন অবশ্যই।

কম খেতে সাহায্য করে

জর্জিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাটি দেখিয়েছে যে, আলো এবং সঙ্গীতকে নরম করে তোলার সময় লোকেরা কম ক্যালোরি খায়। আপনি যদি আপনার খাদ্যগ্রহণ নিয়ন্ত্রণে আনতে চান তাহলে খাবারের সময় গান শুনুন।

সংগীত আপনার ব্যথা দূর করে হোক সেটা শারীরিক অথবা মানসিক

বব মারলে-এর একটা কথা আছে-

“সংগীতের একটি ভালো দিক হল, যখন এটি আঘাত করবে আপনি কোন ব্যথা পাবেন না।” ফিলাডেলফিয়ার ড্রেক্সেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে যে ক্যান্সারের রোগীদের মধ্যে প্রাক-রেকর্ডিং সঙ্গীত মানসিক চাপের চেয়েও ব্যথা কমিয়ে দেয়। অন্য গবেষণা দেখিয়েছে যে, গান নিবিড় পরিচর্যা রোগীদের এবং জেরিয়াটিক কেয়ার রোগীদের মধ্যে ব্যথা হ্রাস করতে পারে। কিন্তু নির্বাচিতো ক্লাসিক গান প্রয়োজন। ধ্যানমগ্ন সঙ্গীত বা রোগীর পছন্দের সংগীত।

বব মার্লি এই বিষয়ে সঠিক ছিলেন, “আপনার ব্যথা দূর করার জন্য আপনার ভালো লেগেছে এমন গান শুনুন”।

স্ট্রোক করেছেন এমন রোগীদের জন্য গান

সঙ্গীত
স্ট্রোক এড়াতে গান শুনুন

হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, স্ট্রোক রোগীদের যারা দিনে দুই ঘন্টা নিজেদেরকে বেছে নিয়েছে সঙ্গীত শোনার জন্য, তারা মস্তিষ্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি লাভ করেছে। গান শোনার কারণে তাদের শ্রবণ ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। স্ট্রোক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 5 নম্বর মৃত্যুর কারণ। আপনি যদি স্ট্রোক ভোগ করেন এমন কেউকে জানেন তাহলে অতিশীঘ্র তাকে তার পছন্দের গান গুলো শুনতে বলুন। আশানুরূপ ফোল পাবে। কেউ যদি গান ভালোবাসে তাহলে সে অপরাধ থেকে দূরে থাকে। বেনিংটন এর গানের লাইন দিয়ে শেষ করছি-

“In this farewell

There’s no blood

There’s no alibi

‘Cause I’ve drawn regret

From the truth

Of a thousand lies”

 

 

 

 

 

 

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নির্যাতন সম্পর্কে কতটুকু জানেন?

রোহিঙ্গা

রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে আমরা এখন কম বেশী সবাই জানি। নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত এই রোহিঙ্গারা যেন পৃথিবী থেকেও বিতাড়িত। কোন দেশ তাদের জায়গা দিতে চাচ্ছে না। মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হচ্ছে তারা। সাহায্য করার জন্য নেই কেউ। কি আছে মানুষ গুলোর কপালে? কেন তারা বিতাড়িত তাই নিয়ে কথা হবে আজ।

রোহিঙ্গাদের পরিচয়

রোহিঙ্গারা মায়ানমার রাখাইন রাজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী। এরা মূলত ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত। রোহিঙ্গা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিজস্ব কোন ভাষা নেই। থাকলেও তা অলিখিত। রোহিঙ্গাদের নিয়ে একটি প্রচলিত গল্প আছে। সপ্তম শতাব্দীতে বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া একটি জাহাজ থেকে বেঁচে যাওয়া লোকজন উপকূলে আশ্রয় নেয়। আশ্রয় নেয়ার পর তারা বলেন, “আল্লাহ্‌র রহমে বেঁচে গেছি”। এই রহম কথা থেকেই উৎপত্তি হয়েছে রোহিঙ্গা। বার্মার সরকার এদের পড়াশোনার সুযোগ দেয় না। তাই রোহিঙ্গারা ইসলাম শিক্ষাকেই একমাত্র পড়াশোনার বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বলা হয় বিশ্বের অন্যতম নিগৃহীত সংখ্যালঘু। ১৯৮২ সালে নাগরিকত্ব আইনের ফলে তারা নাগরিকত্ব থেকে বঞ্ছিত হয়। সরকারের অনুমতি ছাড়া তারা ভ্রমণ করতে পারে না, জমির মালিক হতে পারে না এমনকি এদের দুই সন্তানের অধিক নেয়া যাবে না এমন অঙ্গিকারনামায় স্বাক্ষর করতে হয়। এই জনগোষ্ঠী বহুবছর ধরে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে। অনেক রোহিঙ্গাকে বিনা পারিশ্রমিকে পরিশ্রম করতে হয়।

মিয়ানমার কি করছে এই আদিবাসী জনগোষ্ঠীদের সাথে?

২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর মিয়ানমার সীমান্তে তিনটি চেকপোস্টে অস্ত্রধারীদের হামলায় দেশটির ৯ জন পুলিশ নিহত হন। এই ঘটনাটির পর থেকে দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের উপর চড়াও হয়েছে। রোহিঙ্গাদের উপর সেনাবাহিনীর নির্যাতনের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। রাখাইন রাজ্যের মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে সে দেশের সেনাবাহিনী ‘শুদ্ধি অভিযান’ চালাচ্ছে। সেনাবাহিনীর দাবি, উগ্রপন্থী রোহিঙ্গাদের সঙ্গে প্রবাসী ইসলামপন্থীদেরও যোগসাজশ রয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির রিপোর্ট অনুযায়ী চেকপোস্টে অস্ত্রধারীদের হামলায় ঘটনার পর থেকে কথিত হামলাকারীদের খুঁজে বের করার অভিযানে অন্তত ৬৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মতে, চলমান সহিংসতায় বাস্তুহারা হয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অন্তত ৩০ হাজার মানুষ।

রোহিঙ্গা
দেশটির সেনাবাহিনী হত্যা যজ্ঞে মেতে উঠেছে

তখন থেকে হওয়া সেনাবাহিনীর এই অভিজান আজকের রোহিঙ্গা নির্যাতন, হত্যার সূত্রপাত। সেনাবাহিনীর এই হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন ভিডিও এবং ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পরেছে। সেখানে দেখা যায় কি করে হত্যা করা হচ্ছে রোহিঙ্গা নামক নিরীহ মানুষগুলোর। বাদ যায় না একটি শিশুও। কোন শিশুর আর্তনাদে কিছু যায় আসে না তাদের। গলা টিপে, আছড়ে হত্যা করা হচ্ছে বাচ্চা গুলোকে।

হত্যা করা হচ্ছে নারীদের। নারীদের হত্যা করা হচ্ছে বিভিন্ন পৈশাচিক পদ্ধতিতে। গণধর্ষণের শিকার হতে হচ্ছে। পুড়িয়ে হত্যা করে পৈশাচিক হাসি হাসে ওরা। মানুষের প্রতি এমন বর্বর আচরণ আগে কোথাও দেখা যায়নি।

বৌদ্ধ ধর্ম কি বলে?

বিশ্বময় মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের উপর যতটা আন্তর্জাতিক অনুরোধ এবং চাপ আছে ততটা মিয়ানমারের উপর আছে বলে মনে হয় না। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যাটি অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও রোহিঙ্গা নির্যাতন বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের। বিষয়টি ধর্মের নয়, মানবতার। মহামতি গৌতম বুদ্ধ বলেছেন, “জগতের সকল প্রাণী সুখী হউক।”

জগতের সব প্রাণীর মধ্যে নির্যাতিত রোহিঙ্গারাও আছে। বৌদ্ধদের পঞ্চশীলের প্রথম শীল হল, “প্রাণী হত্যা থেকে বিরত থাকব এই শিক্ষাপদ গ্রহণ করছি।” মানুষ তো দূরের কথা কোনো কীট-পতঙ্গকেও হত্যা করা যাবে না।

রোহিঙ্গা
বৌদ্ধ ধর্মে একটি প্রাণী নিধনেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা

বুদ্ধ করণীয় মৈত্রী সূত্রে বলেছেন, “দিটঠা বা য়েব অদিটঠা য়ে চ দূরে বসন্তি অবিদূরে, ভূতা বা সম্ভবেসা বা সব্বে সত্তা ভবন্ত সুখিত’ত্তা।” অর্থাৎ যেসব প্রাণী দৃশ্য-অদৃশ্য, দূরে-কাছে বাস করে, যারা জন্ম গ্রহণ করেছে, যারা জন্ম গ্রহণ করেনি, যারা মাতৃগর্ভে অথবা ডিম্বের ভেতরে আছে, সেখান থেকে বহির্গত হবে তারা সবাই সুখী হোক।

আরও বলা হয়েছে, “মাতা য়থা নিয়ং পুত্তং আয়ুসা এক পুত্ত মনুরক্খে, এবম্পি সব্বভুতেসু মানসম্ভাবয়ে অপরিমাণং।” অর্থাৎ মা যেমন তাঁর নিজের জীবন দিয়ে হলেও একমাত্র পুত্রকে রক্ষা করেন, তদ্রুপ সব প্রাণীর প্রতি অপ্রমেয় মৈত্রী পোষণ করবে।

মিয়ানমার এবং সে দেশের জনগণ বুদ্ধের বাণীকে মান্য করলে কিছুতেই এমন মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত হতে পারে না বা তা মেনে নিতে পারে না। মিয়ানমারের এই আচরণ সমগ্র বিশ্বের বৌদ্ধদের জন্য চরম লজ্জার। তাই এই সময়ে বৌদ্ধ রাষ্ট্রগুলোর উচিত মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কথা বলা।

 

রোহিঙ্গারা কোথায় যাবে?

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীরা আজ বলছে, “আমরা কোথায় যাবো? কার কাছে বিচার চাইব? আমাদের সাহায্য করার কেউ নেই। সৃষ্টিকর্তাকে ডাকা ছাড়া আমাদের কোন উপায় নেই।”

রোহিঙ্গা
যেখানেই যাক ফিরত আসছে লাশ হয়ে

প্রতিটি দেশ থেকে বিতাড়িত হচ্ছে রোহিঙ্গারা। আশ্রয় দিতে নারাজ সবাই। কারো দ্বার প্রান্তে গিয়ে এতটুকু সাহায্য মেলেনি তাদের। রোহিঙ্গা পরিবারে জন্ম নেয়া কি তাদের অপরাধ? কোথায় যাবে তারা?

মিয়ানমারের প্রধান সুচি এতদিন পর মুখ খুললেন

রোহিঙ্গা
নোবেল জয়ী এই নেত্রীর কাছ থেকে আশানুরূপ কোন কথা শোনা যায়নি

রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের বিষয়ে এই প্রথম মুখ খুললেন দেশটির স্টেট কাউন্সিলর ও নোবেল জয়ী নেত্রী অং সান সুচি। তার ভাষ্যমতে সরকার রাখাইন রাজ্যের সবাইকে রক্ষা করছে। সেই সাথে তিনি এও বলেছেন সন্ত্রাসীদের স্বার্থ রক্ষা করতে প্রচুর ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এগুলোর কোনটি সত্যি নয়। সুচির এই বক্তব্যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নতুন হাওয়া লেগেছে।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাসীদের উস্কে দিতে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত বিভেদ করার জন্য এই তথ্যগুলো ছড়ানো হচ্ছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শুরু হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে ১ লাখ ২৩ হাজারেরও বেশী রোহিঙ্গা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এছাড়া অনুপ্রবেশের জন্য নো মেন্স ল্যান্ডে অপেক্ষা করছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা।

পরিশেষে একটি কথা বলে শেষ করতে চাই। রোহিঙ্গাদের প্রতি ঘটে যাওয়া সহিংসতাগুলো আমাদের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে মনে করিয়ে দেয়। আমরা তখন নেতৃত্ব দেয়ার জন্য অনেক বড় বড় মানুষকে পেয়েছিলাম। কিন্তু এই নিপীড়িত জনগোষ্ঠীকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য কে আছে? রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে অনেকে ধর্ম কে টেনে আনে তাদের বলতে চাই, মানবতার যেখানে কোন ঠাই নেই সেখানে ধর্ম কি করতে পারে?

অনিয়মিত ঘুম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

ঘুম

সারা রাত পেঁচার মতো জেগে থেকে কর্মস্থলে এসে ঘুমিয়ে পরছেন। দিনের বেলা রাতের ঘুম পুষিয়ে নিয়ে ভাবছেন, ঘুম তো ঘুম সে দিনে হোক কিংবা রাতে। যাদের ওজন বেশী তারা ভাবেন রাতে কম ঘুমালে হয়তো ওজন কমে যায়। কিন্তু এটা অনেক বড় একটা ভুল। দিনের বেলার ঘুম আপানার স্বাস্থ্য খারাপ করে দেয়। অনিয়মিত ভাবে ঘুমানোর কারণে শরীরের ভেতরেও সৃষ্টি হয় অনিয়ম। বাসা বাধে নানান দুরারোগ্য ব্যাধি। সুতরাং সময় মতো পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে প্রতিদিন। অনেকে বলে রাতে ঘুম আসে না তাদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন পদ্ধতি।

ঘুম না আসার কারণ

অনেক রাত করে খাওয়া

অনেকে আছেন দেরীতে রাতের খাবার খান। দেখা যায় ঘুমানোর আধা ঘণ্টা আগে খেয়ে শুয়ে পরেন। এই কারণে একদিকে আপানার হজম শক্তি কমে যায় অন্য দিকে আপনার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। অবশ্যই ঘুমানোর ৩-৪ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন।

রাত জেগে বই পড়া

বই পড়া অনেক মানুষের শখ। বই পড়া অবশ্যই একটি ভালো কাজ কিন্তু এই ভালো কাজ খুব বেশী রাত জেগে না করাই ভালো। ঘুমের আগে বই পড়ার কারণে আপনার মাথায় বই সম্পর্কিত বিভিন্ন কথা মাথায় আসে এবং তা আপনাকে ঘুমাতে দেয় না। রাতে ঘুমানোর আগে বই পড়া যাবে না। রাত জেগে বই না পড়ে, দিনের বেলায় অথবা সন্ধ্যা বেলা বই পড়ুন।

ঘুমানোর আগে ধূমপান করা

ঘুমানোর আগে ধূমপান করলে নাকি ঘুম আসে। এমন ভুল ধারণা নিয়ে অনেকেই রাতে শোয়ার আগে ধূমপান করেন। কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না সিগারেটে থাকা নিকোটিন আপানার নার্ভগুলোকে চাঙ্গা করে দেয় ফলে ঘুম আসে না।

অধিক রাত পর্যন্ত মোবাইল অথবা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকা

মোবাইল, ল্যাপটপ তো আমাদের নিত্যদিনের বন্ধু। এদের ছাড়া আমাদের চলে না। রাতে ঘুমানোর সময় বেশিরভাগ মানুষের হাতে ফোন থাকে। ফোন নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে ঘুমিয়ে পরব এই ভাবনা নিয়ে থাকে তারা। কিন্তু এই জিনিসটা তাদের আরও বেশী ক্ষতি করে ফেলে। তারা এই জিনসটা বুঝতে পারেনা।

রাতে চা খাওয়া

সন্ধ্যার পর কোন ধরণের চা, কফি খাবেন না। এতে থাকা উপাদন গুলো আপনাকে সজীব করে। রাতে আপনার সজীবতার দরকার নেই, দরকার একটু শান্তির ঘুম।

অনিদ্রা আমাদের কি কি ক্ষতি করে?

মানসিক রোগ

যারা রাত জেগে থাকে অথবা রাতে ঠিক মতো ঘুমায় না তাদের বিভিন্ন ধরণের মানসিক রোগ দেখা যায়। যেমনঃ বিষণ্ণতা, উদ্বিগ্নতা, অস্থিরতা, হেলুসিনেসন ইত্যাদি। এই কারণে মানসিক সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে ঘুমের ওষুধ খেতে বলে।

স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া

সারাদিন আমরা নানান কিছু শিখি। সেগুলো আমাদের ব্রেইন স্মৃতি হিসেবে জমা রাখে। যখন আমরা কম ঘুমাই তখন আমাদের ব্রেইন এই কাজ করতে অক্ষম হয়ে যায়। এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যারা পর্যাপ্ত ঘুমায় তারা রাত জেগে থাকা মানুষের তুলনায় অধিক স্মৃতিশক্তির অধিকারী।

সতর্ক থাকার ক্ষমতা হারায়

এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কেউ যদি রাতে দেড় ঘণ্টা কম ঘুমায় পরের দিন তার সতর্ক থাকার ৩২% সক্ষমতা কমে যায়। এমন অসতর্কতায় মানুষ দুর্ঘটনা করে বসে।

আত্মহত্যার প্রবণতা

যেসকল মানসিক রোগীরা আত্মহত্যা করে তাদের বেশীরভাগ অনিদ্রায় ভুগতেন। গবেষকরা প্রমাণ করেছেন যেই কিশোর-কিশোরীরা ৫ ঘণ্টা ঘুমায় তাদের বিষণ্ণতায় ভোগার সম্ভবনা ৭১%।

ঘুম
পর্যাপ্ত ঘুম আপনাকে রাখবে সজীব

এছাড়াও যেই সমস্যাগুলো হয়

হার্টের সমস্যা

ডায়াবেটিস

ওজন বৃদ্ধি

দেহের বৃদ্ধি কমে যায়

ব্রেস্ট ও ওভারি ক্যান্সার

ক্ষত সারানো

মাথাব্যথা

চুল পাকে

ব্রণ উঠে

 

ঘুম ভালো হওয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি

ঘুমানোর আগে ব্যায়াম করুন

গরম দুধ খান

দুশ্চিন্তা করবেন না

উষ্ণ পানিতে গোসল

ঘুমের আগে ইতিবাচক চিন্তা

ঘরের ভালো আবহাওয়া

ধীরলয়ে সঙ্গীত

ঘড়ির শব্দ বন্ধ করুন

ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠুন