রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নির্যাতন সম্পর্কে কতটুকু জানেন?

রোহিঙ্গা

রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে আমরা এখন কম বেশী সবাই জানি। নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত এই রোহিঙ্গারা যেন পৃথিবী থেকেও বিতাড়িত। কোন দেশ তাদের জায়গা দিতে চাচ্ছে না। মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হচ্ছে তারা। সাহায্য করার জন্য নেই কেউ। কি আছে মানুষ গুলোর কপালে? কেন তারা বিতাড়িত তাই নিয়ে কথা হবে আজ।

রোহিঙ্গাদের পরিচয়

রোহিঙ্গারা মায়ানমার রাখাইন রাজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী। এরা মূলত ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত। রোহিঙ্গা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিজস্ব কোন ভাষা নেই। থাকলেও তা অলিখিত। রোহিঙ্গাদের নিয়ে একটি প্রচলিত গল্প আছে। সপ্তম শতাব্দীতে বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া একটি জাহাজ থেকে বেঁচে যাওয়া লোকজন উপকূলে আশ্রয় নেয়। আশ্রয় নেয়ার পর তারা বলেন, “আল্লাহ্‌র রহমে বেঁচে গেছি”। এই রহম কথা থেকেই উৎপত্তি হয়েছে রোহিঙ্গা। বার্মার সরকার এদের পড়াশোনার সুযোগ দেয় না। তাই রোহিঙ্গারা ইসলাম শিক্ষাকেই একমাত্র পড়াশোনার বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বলা হয় বিশ্বের অন্যতম নিগৃহীত সংখ্যালঘু। ১৯৮২ সালে নাগরিকত্ব আইনের ফলে তারা নাগরিকত্ব থেকে বঞ্ছিত হয়। সরকারের অনুমতি ছাড়া তারা ভ্রমণ করতে পারে না, জমির মালিক হতে পারে না এমনকি এদের দুই সন্তানের অধিক নেয়া যাবে না এমন অঙ্গিকারনামায় স্বাক্ষর করতে হয়। এই জনগোষ্ঠী বহুবছর ধরে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে। অনেক রোহিঙ্গাকে বিনা পারিশ্রমিকে পরিশ্রম করতে হয়।

মিয়ানমার কি করছে এই আদিবাসী জনগোষ্ঠীদের সাথে?

২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর মিয়ানমার সীমান্তে তিনটি চেকপোস্টে অস্ত্রধারীদের হামলায় দেশটির ৯ জন পুলিশ নিহত হন। এই ঘটনাটির পর থেকে দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের উপর চড়াও হয়েছে। রোহিঙ্গাদের উপর সেনাবাহিনীর নির্যাতনের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। রাখাইন রাজ্যের মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে সে দেশের সেনাবাহিনী ‘শুদ্ধি অভিযান’ চালাচ্ছে। সেনাবাহিনীর দাবি, উগ্রপন্থী রোহিঙ্গাদের সঙ্গে প্রবাসী ইসলামপন্থীদেরও যোগসাজশ রয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির রিপোর্ট অনুযায়ী চেকপোস্টে অস্ত্রধারীদের হামলায় ঘটনার পর থেকে কথিত হামলাকারীদের খুঁজে বের করার অভিযানে অন্তত ৬৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মতে, চলমান সহিংসতায় বাস্তুহারা হয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অন্তত ৩০ হাজার মানুষ।

রোহিঙ্গা
দেশটির সেনাবাহিনী হত্যা যজ্ঞে মেতে উঠেছে

তখন থেকে হওয়া সেনাবাহিনীর এই অভিজান আজকের রোহিঙ্গা নির্যাতন, হত্যার সূত্রপাত। সেনাবাহিনীর এই হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন ভিডিও এবং ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পরেছে। সেখানে দেখা যায় কি করে হত্যা করা হচ্ছে রোহিঙ্গা নামক নিরীহ মানুষগুলোর। বাদ যায় না একটি শিশুও। কোন শিশুর আর্তনাদে কিছু যায় আসে না তাদের। গলা টিপে, আছড়ে হত্যা করা হচ্ছে বাচ্চা গুলোকে।

হত্যা করা হচ্ছে নারীদের। নারীদের হত্যা করা হচ্ছে বিভিন্ন পৈশাচিক পদ্ধতিতে। গণধর্ষণের শিকার হতে হচ্ছে। পুড়িয়ে হত্যা করে পৈশাচিক হাসি হাসে ওরা। মানুষের প্রতি এমন বর্বর আচরণ আগে কোথাও দেখা যায়নি।

বৌদ্ধ ধর্ম কি বলে?

বিশ্বময় মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের উপর যতটা আন্তর্জাতিক অনুরোধ এবং চাপ আছে ততটা মিয়ানমারের উপর আছে বলে মনে হয় না। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যাটি অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও রোহিঙ্গা নির্যাতন বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের। বিষয়টি ধর্মের নয়, মানবতার। মহামতি গৌতম বুদ্ধ বলেছেন, “জগতের সকল প্রাণী সুখী হউক।”

জগতের সব প্রাণীর মধ্যে নির্যাতিত রোহিঙ্গারাও আছে। বৌদ্ধদের পঞ্চশীলের প্রথম শীল হল, “প্রাণী হত্যা থেকে বিরত থাকব এই শিক্ষাপদ গ্রহণ করছি।” মানুষ তো দূরের কথা কোনো কীট-পতঙ্গকেও হত্যা করা যাবে না।

রোহিঙ্গা
বৌদ্ধ ধর্মে একটি প্রাণী নিধনেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা

বুদ্ধ করণীয় মৈত্রী সূত্রে বলেছেন, “দিটঠা বা য়েব অদিটঠা য়ে চ দূরে বসন্তি অবিদূরে, ভূতা বা সম্ভবেসা বা সব্বে সত্তা ভবন্ত সুখিত’ত্তা।” অর্থাৎ যেসব প্রাণী দৃশ্য-অদৃশ্য, দূরে-কাছে বাস করে, যারা জন্ম গ্রহণ করেছে, যারা জন্ম গ্রহণ করেনি, যারা মাতৃগর্ভে অথবা ডিম্বের ভেতরে আছে, সেখান থেকে বহির্গত হবে তারা সবাই সুখী হোক।

আরও বলা হয়েছে, “মাতা য়থা নিয়ং পুত্তং আয়ুসা এক পুত্ত মনুরক্খে, এবম্পি সব্বভুতেসু মানসম্ভাবয়ে অপরিমাণং।” অর্থাৎ মা যেমন তাঁর নিজের জীবন দিয়ে হলেও একমাত্র পুত্রকে রক্ষা করেন, তদ্রুপ সব প্রাণীর প্রতি অপ্রমেয় মৈত্রী পোষণ করবে।

মিয়ানমার এবং সে দেশের জনগণ বুদ্ধের বাণীকে মান্য করলে কিছুতেই এমন মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত হতে পারে না বা তা মেনে নিতে পারে না। মিয়ানমারের এই আচরণ সমগ্র বিশ্বের বৌদ্ধদের জন্য চরম লজ্জার। তাই এই সময়ে বৌদ্ধ রাষ্ট্রগুলোর উচিত মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কথা বলা।

 

রোহিঙ্গারা কোথায় যাবে?

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীরা আজ বলছে, “আমরা কোথায় যাবো? কার কাছে বিচার চাইব? আমাদের সাহায্য করার কেউ নেই। সৃষ্টিকর্তাকে ডাকা ছাড়া আমাদের কোন উপায় নেই।”

রোহিঙ্গা
যেখানেই যাক ফিরত আসছে লাশ হয়ে

প্রতিটি দেশ থেকে বিতাড়িত হচ্ছে রোহিঙ্গারা। আশ্রয় দিতে নারাজ সবাই। কারো দ্বার প্রান্তে গিয়ে এতটুকু সাহায্য মেলেনি তাদের। রোহিঙ্গা পরিবারে জন্ম নেয়া কি তাদের অপরাধ? কোথায় যাবে তারা?

মিয়ানমারের প্রধান সুচি এতদিন পর মুখ খুললেন

রোহিঙ্গা
নোবেল জয়ী এই নেত্রীর কাছ থেকে আশানুরূপ কোন কথা শোনা যায়নি

রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের বিষয়ে এই প্রথম মুখ খুললেন দেশটির স্টেট কাউন্সিলর ও নোবেল জয়ী নেত্রী অং সান সুচি। তার ভাষ্যমতে সরকার রাখাইন রাজ্যের সবাইকে রক্ষা করছে। সেই সাথে তিনি এও বলেছেন সন্ত্রাসীদের স্বার্থ রক্ষা করতে প্রচুর ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এগুলোর কোনটি সত্যি নয়। সুচির এই বক্তব্যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নতুন হাওয়া লেগেছে।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাসীদের উস্কে দিতে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত বিভেদ করার জন্য এই তথ্যগুলো ছড়ানো হচ্ছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শুরু হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে ১ লাখ ২৩ হাজারেরও বেশী রোহিঙ্গা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এছাড়া অনুপ্রবেশের জন্য নো মেন্স ল্যান্ডে অপেক্ষা করছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা।

পরিশেষে একটি কথা বলে শেষ করতে চাই। রোহিঙ্গাদের প্রতি ঘটে যাওয়া সহিংসতাগুলো আমাদের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে মনে করিয়ে দেয়। আমরা তখন নেতৃত্ব দেয়ার জন্য অনেক বড় বড় মানুষকে পেয়েছিলাম। কিন্তু এই নিপীড়িত জনগোষ্ঠীকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য কে আছে? রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে অনেকে ধর্ম কে টেনে আনে তাদের বলতে চাই, মানবতার যেখানে কোন ঠাই নেই সেখানে ধর্ম কি করতে পারে?

অনিয়মিত ঘুম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

ঘুম

সারা রাত পেঁচার মতো জেগে থেকে কর্মস্থলে এসে ঘুমিয়ে পরছেন। দিনের বেলা রাতের ঘুম পুষিয়ে নিয়ে ভাবছেন, ঘুম তো ঘুম সে দিনে হোক কিংবা রাতে। যাদের ওজন বেশী তারা ভাবেন রাতে কম ঘুমালে হয়তো ওজন কমে যায়। কিন্তু এটা অনেক বড় একটা ভুল। দিনের বেলার ঘুম আপানার স্বাস্থ্য খারাপ করে দেয়। অনিয়মিত ভাবে ঘুমানোর কারণে শরীরের ভেতরেও সৃষ্টি হয় অনিয়ম। বাসা বাধে নানান দুরারোগ্য ব্যাধি। সুতরাং সময় মতো পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে প্রতিদিন। অনেকে বলে রাতে ঘুম আসে না তাদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন পদ্ধতি।

ঘুম না আসার কারণ

অনেক রাত করে খাওয়া

অনেকে আছেন দেরীতে রাতের খাবার খান। দেখা যায় ঘুমানোর আধা ঘণ্টা আগে খেয়ে শুয়ে পরেন। এই কারণে একদিকে আপানার হজম শক্তি কমে যায় অন্য দিকে আপনার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। অবশ্যই ঘুমানোর ৩-৪ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন।

রাত জেগে বই পড়া

বই পড়া অনেক মানুষের শখ। বই পড়া অবশ্যই একটি ভালো কাজ কিন্তু এই ভালো কাজ খুব বেশী রাত জেগে না করাই ভালো। ঘুমের আগে বই পড়ার কারণে আপনার মাথায় বই সম্পর্কিত বিভিন্ন কথা মাথায় আসে এবং তা আপনাকে ঘুমাতে দেয় না। রাতে ঘুমানোর আগে বই পড়া যাবে না। রাত জেগে বই না পড়ে, দিনের বেলায় অথবা সন্ধ্যা বেলা বই পড়ুন।

ঘুমানোর আগে ধূমপান করা

ঘুমানোর আগে ধূমপান করলে নাকি ঘুম আসে। এমন ভুল ধারণা নিয়ে অনেকেই রাতে শোয়ার আগে ধূমপান করেন। কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না সিগারেটে থাকা নিকোটিন আপানার নার্ভগুলোকে চাঙ্গা করে দেয় ফলে ঘুম আসে না।

অধিক রাত পর্যন্ত মোবাইল অথবা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকা

মোবাইল, ল্যাপটপ তো আমাদের নিত্যদিনের বন্ধু। এদের ছাড়া আমাদের চলে না। রাতে ঘুমানোর সময় বেশিরভাগ মানুষের হাতে ফোন থাকে। ফোন নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে ঘুমিয়ে পরব এই ভাবনা নিয়ে থাকে তারা। কিন্তু এই জিনিসটা তাদের আরও বেশী ক্ষতি করে ফেলে। তারা এই জিনসটা বুঝতে পারেনা।

রাতে চা খাওয়া

সন্ধ্যার পর কোন ধরণের চা, কফি খাবেন না। এতে থাকা উপাদন গুলো আপনাকে সজীব করে। রাতে আপনার সজীবতার দরকার নেই, দরকার একটু শান্তির ঘুম।

অনিদ্রা আমাদের কি কি ক্ষতি করে?

মানসিক রোগ

যারা রাত জেগে থাকে অথবা রাতে ঠিক মতো ঘুমায় না তাদের বিভিন্ন ধরণের মানসিক রোগ দেখা যায়। যেমনঃ বিষণ্ণতা, উদ্বিগ্নতা, অস্থিরতা, হেলুসিনেসন ইত্যাদি। এই কারণে মানসিক সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে ঘুমের ওষুধ খেতে বলে।

স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া

সারাদিন আমরা নানান কিছু শিখি। সেগুলো আমাদের ব্রেইন স্মৃতি হিসেবে জমা রাখে। যখন আমরা কম ঘুমাই তখন আমাদের ব্রেইন এই কাজ করতে অক্ষম হয়ে যায়। এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যারা পর্যাপ্ত ঘুমায় তারা রাত জেগে থাকা মানুষের তুলনায় অধিক স্মৃতিশক্তির অধিকারী।

সতর্ক থাকার ক্ষমতা হারায়

এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কেউ যদি রাতে দেড় ঘণ্টা কম ঘুমায় পরের দিন তার সতর্ক থাকার ৩২% সক্ষমতা কমে যায়। এমন অসতর্কতায় মানুষ দুর্ঘটনা করে বসে।

আত্মহত্যার প্রবণতা

যেসকল মানসিক রোগীরা আত্মহত্যা করে তাদের বেশীরভাগ অনিদ্রায় ভুগতেন। গবেষকরা প্রমাণ করেছেন যেই কিশোর-কিশোরীরা ৫ ঘণ্টা ঘুমায় তাদের বিষণ্ণতায় ভোগার সম্ভবনা ৭১%।

ঘুম
পর্যাপ্ত ঘুম আপনাকে রাখবে সজীব

এছাড়াও যেই সমস্যাগুলো হয়

হার্টের সমস্যা

ডায়াবেটিস

ওজন বৃদ্ধি

দেহের বৃদ্ধি কমে যায়

ব্রেস্ট ও ওভারি ক্যান্সার

ক্ষত সারানো

মাথাব্যথা

চুল পাকে

ব্রণ উঠে

 

ঘুম ভালো হওয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি

ঘুমানোর আগে ব্যায়াম করুন

গরম দুধ খান

দুশ্চিন্তা করবেন না

উষ্ণ পানিতে গোসল

ঘুমের আগে ইতিবাচক চিন্তা

ঘরের ভালো আবহাওয়া

ধীরলয়ে সঙ্গীত

ঘড়ির শব্দ বন্ধ করুন

ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠুন

সত্যি কি প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে উচ্চতা বাড়ানো যায়?

উচ্চতা বৃদ্ধি

আসলেই কি সত্যি মানুষ খাদ্যাভ্যাস এবং কিছু শারীরিক পরিশ্রম দ্বারা উচ্চতা বৃদ্ধি করতে পারে?

জিনতত্ত্বের উপর বিশ্বাস করে আমরা বেশিরভাগ মানুষ ভেবে থাকি যে আমদের উচ্চতা বৃদ্ধি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে আমাদের বাবা মায়ের জিন এর উপর। অর্থাৎ আমরা জিনগত ভাবে ঠিক যতটুকু লম্বা হতে পারবো, তার থেকে বেড়ে উঠা হয়তো সম্বভ নয়। তবে বৈজ্ঞানিক ভাবে  প্রমানিত যে আমাদের বৃদ্ধির ৮০% নির্ভর করে আমাদের বাবা মায়ের জিন উপর। আর বাকি ২০% ই  আমাদের উপর বা অন্যান্য কিছু কৌশল বা পরিবেশের উপর নির্ভর করে। তাহলে দাঁড়ায় যে যদি একজন ব্যক্তির উচ্চতা হয় ৫ফুট তাহলে তার উচ্চতা ২০% করলে হয় ১ফুট আর এর থেকে পরিবেশ গত ভাবে ৬ ইঞ্চি ধরলেও আরও ৬ ইঞ্চি নিজে বাড়ার জন্য থেকে যায়।

প্রাকৃতিক উপায়ে কীভাবে উচ্চতা বৃদ্ধি করা যায়?

খাদ্যাভ্যাস

পর্যাপ্ত পরিমাণ চর্বিহীন প্রোটিন খাবার খান। চর্বিহীন প্রোটিন খাবার বলতে মুরগীর মাংস, মাছ, দুধ এই ধরনের খাবার খান। এগুলো আপনার পেশীর বৃদ্ধি এবং হাড়ের সঠিক বিকাশে সাহায্য করবে। ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খান। দুধ, দই, সবুজ শাকসবজীতে আপনি ক্যালসিয়াম পাবেন। প্রচুর পরিমাণে জিংক খেতে হবে। জিংক পাওয়া যায় কুমড়া, ওয়েস্টার, গম ও চিনাবাদামে। দুপুরে খাবার সময়ে অর্ধেকটা আভাকাডো দেহে বিভিন্ন পুষ্টি সরবরাহ করে থাকে। মটরশুটি,  ছোলা,  মসূর এই ধরনের খাবারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন,  ফাইবার,  অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, ভিটামিন বি এবং আয়রন রয়েছে যেগুলো শরীরের কোষ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ফলে লম্বা হতেও সাহায্য করে।

কোন ধরনের মাদক গ্রহণ করলে আপনার উচ্চতা বৃদ্ধি কমে যাবে।

শরীর চর্চা ও যোগ ব্যায়াম

প্রথমে দেয়ালের সাথে পিঠ লাগিয়ে দাঁড়ান। এভাবে দাড়িয়ে  নিজেকে দেয়ালের সমান্তরালে সোজা রাখবার চেষ্টা করুন। সেই সাথে চেষ্টা করতে  হবে,  আপনার শরীরের পেছন দিকটির পায়ের গোড়ালি থেকে শুরু করে মাথা পর্যন্ত যেন দেয়াল স্পর্শ করতে পারে। এভাবে দেয়াল স্পর্শ করে সোজা হয়ে স্ট্রেচ করার চেষ্টা করুন। এভারে ৮ থেকে ১০ বার করুন ব্যায়ামটি।

দড়ি লাফ দিবেন ২০ টি করে প্রতিদিন, আস্তে আস্তে দড়ি লাফের পরিমাণ বাড়াবেন।

রিং এ ঝুলুন যদি পারেন, সাইকেলিং করলে খুব জলদি উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। আপনি দৈনিক সাইকেল চালিয়ে ২-৩ ইঞ্চি বাড়াতে পারবেন।

সাঁতার হল উচ্চতা বৃদ্ধির আদর্শ ব্যায়াম, কেউ যদি দৈনিক সাঁতার কাটে তার উচ্চতা বৃদ্ধি সাধারণের এর চেয়ে ১০ গুণ বেড়ে যায়।

এভাবে সপ্তাহে ৩ দিন করে নিয়মিত ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। এগুলো মূলত স্ট্রেচিং ব্যায়াম যা আপনার শরীরের আড়ষ্টতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। শরীরের আড়ষ্টভাব কেটে গেলে উচ্চতা বাড়তে শুরু করে।

কিছু যোগ ব্যায়াম

ভুজঙ্গাসন (কোবরা পোজ)

উচ্চতা বৃদ্ধি
ভুজঙ্গাসন (কোবরা পোজ  )

উপুড় হয়ে শুয়ে সামনে মাথা তুলে যে ভুজঙ্গাসন করা হয় তাতে বুক, পেট ও কাঁধের পেশীতে টান পড়ে। এই আসন লম্বা হতে সাহায্য করে।

তাড়াসন (ট্রি পোজ)

উচ্চতা বৃদ্ধি
এই যোগব্যায়ামটি আপনাকে উচ্চতা বাড়াতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে

গাছের মতো ভঙ্গি মেরুদন্ডকে সোজা করে, শরীরকে টান টান করে। এই আসন লম্বা হবার জন্য খুব উপযোগী।

নটরাজাসন (শুয়ে শরীরকে মোড়া)

উচ্চতা বৃদ্ধি
নটরাজাসন

শুয়ে পড়ে শরীরকে মোচড় দেওয়া এই আসন পা, পায়ের পেশী, হাত, কবজি, মেরুদন্ড সব কিছুকে টানটান করে, বুকের পেশীকেও লম্বা করে টেনে ধরে, এই আসনও শরীরকে লম্বা করে।

সূর্য নমস্কার (সান স্যালুটেসন)

উচ্চতা বৃদ্ধি
সূর্যাসন উচ্চতা বাড়ানোর জন্য অনেক উপকারী একটি যোগাসন

সূর্য নমস্কার আসন খুব তাড়াতাড়ি শরীরের সব সন্ধিস্হলগুলিকে জড়তা মুক্ত করে, সহজ করে, পেটের ভেতরের যন্ত্রপাতিকে একবার টেনে ধরে, একবার ছেড়ে দিয়ে  প্রসারিত ও সঙ্কুচিত করে সবল করে তোলে, প্রাণবন্ত করে তোলে। বার বার সামনে ও পিছনে ঝোঁকার ফলে পিঠ ও মেরুদন্ড সুস্থ থাকে, আরো বেশী স্বাস্হ্যবান হয়ে ওঠে। এই ব্যায়ামে শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গে টান পড়ে বলে এটি শরীরকে লম্বা করে। এই ব্যায়াম শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।

ঘুম

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান প্রতিদিন। ঘুমের সময় শরীর বাড়ে। তাই পর্যাপ্ত ঘুমালে শরীর লম্বা হওয়ার মতো সময় পায়। কমপক্ষে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমান যদি আপনার বয়স ২০ এর কম হয়। শরীরের হরমোন গভীর ঘুমের সময় উৎপন্ন হয়। পিটুইটারী গ্লান্ড থেকে গ্রোথ হরমোন বের হতে সাহায্য করে।

সব তো করলাম তারপরও ফল পাইনা কেন?

খেয়াল রাখবেন যে অতিরিক্ত কোন কিছুই ভাল নয়। মাত্রাতিরিক্ত ব্যায়াম করলে দ্রুত উচ্চতা বাড়বে তা যদি ভেবে থাকেন তবে ভুল করবেন। বরং অতিরিক্ত ব্যায়াম অনেক সময় উচ্চতার বৃদ্ধি রোধ করে দেয়। তবে শুধু  ব্যায়াম করলেই হবেনা। সুষম খাদ্যও গ্রহন করতে হবে। সেই সাথে জীবনযাত্রায় আনতে হবে পজিটিভ মনোভাব।

 

 

মজার কিছু খেলে কিভাবে কমবে স্বাস্থ্য?

গরুর মাংস

প্রশ্নটা প্রায় সবার, মজার খাবার খেয়ে কীভাবে কমানো যায় স্বাস্থ্য?

এই আর্টিকেলটি তাদের জন্য। স্বাস্থ্য বেড়ে গেলে আমাদের আয়নার সামনে যেতে ইচ্ছে করে না। কোন কিছু করতে ইচ্ছে করে না। সব কিছুতে বিরক্ত লাগে। তারপর আমরা বিভিন্ন ধরনের অখাদ্য খাবার খেতে শুরু করি। যা খেতেও ভালো না এবং শরীরে ক্ষতি করবে। আবার মুখরোচক খাবার ও খাওয়া যাবে না ডায়েট নষ্ট হয়ে যাবার ভয়ে। কি করা যায়??

আজকের বিষয়টা হল কিছু মজাদার খাবার, যা খেতে যেমন মজাদার, তেমন যত খাবেন তত কমবে ওজন।

যে গরু শুধু ঘাস খায় সেই গরুর মাংস

নিউট্রিশন জার্নালের গবেষণায় এসেছে যে ঘাস খাওয়া গরুর মাংসে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ অনেক বেশি যা আমাদের হৃদপিণ্ডের সমস্যা থেকে রক্ষা করে থাকে। ঘাস খাওয়ানো গরুর মাংসে স্বাভাবিক ভাবেই ক্যালরি কম থাকে অন্যান্য মাংসের তুলনায়। কারণ একটি সাধারণ গরুর মাংসের টুকরায় ৩৮৬ ক্যালরি থাকে এবং ফ্যাট থাকে ১৬ গ্রাম ও একটি ঘাস খাওয়ানো গরুর মাংসের টুকরায় ২৩৪ ক্যালরি ও ফ্যাট থাকে মাত্র ৫ গ্রাম।

নাপাতি

মজার খাবার
নাশপাতির নানা গুন

আমারা অনেকে হয়তো এটা জানি না নাশপাতি খেলে ওজন কমে। বাংলার একটি পরিচিত সুস্বাদু ফল। এটি খেলে খুদা কম লাগে। এবং পেটের মেদ দ্রুত কাটে। এটি বিদেশী ফল আপেলের চেয়ে দ্বিগুণ ভিটামিন সি ও প্রোটিন সম্পন্ন। নাশপাতি পার্বত্য এলাকায় একটি নতুন সম্ভাবনাময় ফল হিসেবে কৃষকের মাঝে পরিচিতি পেয়েছে।

ডিম

মজার খাবার
ডিম খান প্রতিদিন

ছোট্ট একটা ডিম হাজারও ভিটামিনে ভরা। আপনি যা খাচ্ছেন সেই খাবারকে এনার্জি বা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে ডিমে থাকা ভিটামিন বি-১২। ডিমের সবচেয়ে বড় গুণ এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। ব্রেকফাস্টে রোজ একটি ডিম মানে সারা দিন আপনার ক্ষুধা কম হবে তাই খাওয়া হবে কম। গবেষণায় দেখা যায়, শরীর থেকে দিনে প্রায় ৪০০ ক্যালরি কমাতে পারে সকালে একটি ডিম খাওয়া। তার মানে মাসে ওজন কমার পরিমাণ প্রায় তিন পাউন্ড। সমীক্ষা বলছে, ৬৫ ভাগ বডি ওয়েট, ১৬ ভাগ বডি ফ্যাট, ৩৪ ভাগ কোমরে জমে থাকা মেদের পরিমাণ কমাতে পারে ডিম! নতুন সমীক্ষায় জানা গেছে, ডিম কোলেস্টেরল বাড়ায় না। দিনে দুটি ডিম শরীরের লিপিড প্রোফাইলে কোনো প্রভাব ফেলে না। বরং ডিম রক্তে লোহিতকণিকা তৈরি করে। ডিম প্রোটিনের খুব ভালো একটি উৎস। শরীরের জন্যও বেশ ভালো। ডায়েট যারা করেন তারা একটি ডিম রাখুন সকালের নাস্তায়। পুরো দিনে শরীরে কাজ করার  ক্ষমতা পাবেন। পাশাপাশি ওজন কমাতে পারবেন।

 

কালো বা ডার্ক চকলেট

মজার খাবার
ওজন কমাতে সহায়তা করে কালো চকলেট

চকলেট প্রেমীদের জন্য সুখবর আপনার পেটের মেদ কমাবে ডার্ক চকলেট। একটি গবেষণায় এসেছে যে কোন ব্যক্তি যদি ভারী কোন খাবার খাওয়ার আগে ৩.৫ গ্রাম ডার্ক চকলেট খেয়ে থাকেন এবং ঠিক একই সময়ে যদি কেউ মিল্ক চকলেট খেয়ে থাকে তাহলে যেই ব্যক্তি ভোজনের আগে ডার্ক চকলেট খেয়েছে তার ১৭ ক্যালরি খরচ হয়েছে। কারন গবেষণা বিশ্বাস করে যে ডার্ক চকলেটে আছে পিউর কোকো বাটার ও স্টিয়ারিক এসিড যা হজম গতি বৃদ্ধি করে। অন্য দিকে মিল্ক চকলেটে আছে ফ্যাট বাটার যা খুব দ্রুত ওজন বাড়িয়ে দেয়। আর ডার্ক চকলেট আমাদের ক্ষুধা নিবারণ করে ও দেহের ওজন কমাতে সাহায্য করে।

কাঠবাদাম

মজার খাবার
বাদাম মস্তিষ্ক বিকাশে সহায়তা করে

প্রতিদিন নিয়ম করে কাঠবাদাম খেতে পারলে ভালো কোলেস্টেরল অথবা এইচডিএল-এর (হাই ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন) মাত্রা বাড়াতে এবং খারাপ কোলেস্টেরল অথবা এলডিএল-এর (লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন) মাত্রা কম রাখতে সাহায্য করে। কাঠবাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

ডাক্তাররা শরীরের সুস্থতার পাশাপাশি দেহের চর্বি নিয়ন্ত্রণে কাঠবাদাম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে লবণাক্ত কাঠবাদাম এড়িয়ে চলুন।

মোনোপেজের পর নারীদের নিয়মিত কাঠবাদাম খাওয়া উচিত। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম যা মোনোপেজকালীন সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

আপেল

মজার খাবার
প্রতিদিন একটি আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না

আপেল খুবই পুষ্টিগুণে ভরপুর। আপেল খেলে খাদ্যের চাহিদার সাথে ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হয়। ফলে মেদ জমে না এবং স্বাস্থ্য সঠিক থাকে। আর প্রতিদিন গড়ে ৩টি আপেল খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব সহজ হয়। আপেলের শর্করা শক্তির উৎস। এই শর্করা খাদ্যনালীতে ধীরে-ধীরে ভেঙ্গে হজম হয় বলে শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে। প্রতিদিন আপেল খেলে হজমের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরী হয় পেটে। ফলে হজম শক্তি বাড়ে। যখন হুটহাট ক্ষুধা লাগে তখন অনেকেই অস্বাস্থ্যকর হাবিজাবি খাবার খান যা শরীরের জন্য ভালো না এবং ওজনও বাড়িয়ে তোলে। সুতরাং মুটিয়ে যাওয়া দূর করতে একটি আপেল রাখুন সাথে।

টমেটো

মজার খাবার
টমেটো খেলে আপনার ত্বকের সব সমস্যা দূর হবে

যাদের স্থুলতা নিয়ে চিন্তা, তারা এই প্রাকৃতিক খাদ্য গ্রহণ করতে পারেন। প্রতিদিনের প্রচুর পরিমাণে টমেটো আমাদের দেহের অতিরিক্ত চর্বি দূর করে এবং দেহে অতিরিক্ত মেদ জমতে দেয় না। যাদের উচ্চরক্তচাপের সমস্যা আছে, তাদের জন্য টমেটো অনেক বেশি ফলদায়ক। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, প্রতিদিন ২৫ গ্রাম টমেটো খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করাটা অনেক বেশি সহজ হয়ে যায়। পুরুষদের জন্য ২৫ গ্রাম এবং নারীদের জন্য ৩৫ গ্রাম টমেটো ফলপ্রসূ। চমৎকার ভাবে দেহের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে এই টমেটো।

মুগ ডাল

মজার খাবার
মুগ ডাল খেলেও ওজন কমে

মুগ ডালে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় ক্ষুধা কম লাগে। আর কম খেলে এমনিতেই ওজন কমে আসে। এছাড়া খাবারটিতে কম চর্বি এবং উচ্চ মাত্রার প্রোটিন থাকায় তা মাংসপেশীকেও চর্বিমুক্ত রাখে।

সামুদ্রিক মাছ

মজার খাবার
সামুদ্রিক মাছের তেল হার্ট ভালো থাকে

সামুদ্রিক মাছে থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এই অ্যাসিড মেদ বৃদ্ধিতে দায়ী চর্বি পোড়াতে এবং শরীরে ভালো চর্বির পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। সামুদ্রিক মাছ থেকে যে ফ্যাট পাওয়া যায় তার নাম ‘পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট’। বাদাম ও জলপাই তেলের মতো সামুদ্রিক মাছের ফ্যাটও ওজন হ্রাসে ভূমিকা রাখে।

মধু লেবু

মজার খাবার
মধু লেবু আপনার শরীরের টক্সিন বের করে দেয়

ওজন কমাতে দুটি প্রাকৃতিক উপাদান লেবু ও মধুর সম্পর্কে অনেকেই জানেন। ওজন কমানো ছাড়াও লেবু ও মধুর অনেক গুণাগুণ আছে। এটি শরীর থেকে টক্সিন বের করে। শরীরের ভেতরের নালীগুলোর সব ময়লা বের করে দেয়। মেটাবলিজম/হজম শক্তি বাড়ায়, ফলে ওজন কমে। ঠাণ্ডা লাগলে লেবু ও মধুর কফ বের করতে সাহায্য করে এবং ঠাণ্ডা লাগলে গলাব্যথা করলেও এটি উপকারী । এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

মধু

মজার খাবার
মধু মিষ্টি হলেও আপনার ক্ষতি করবে না

ওজন কমাতে মধুর উপকারিতা সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিন সকালে গরম পানির সাথে মধু মিশিয়ে কিছুদিন খেয়েই দেখুন, এর উপকারিতা নিজেই বুঝতে পারবেন।

কাঁচা মরিচ

মজার খাবার
কাঁচা মরিছ আপনার প্রতিদিনের ভিতামিন-সি এর অভাব দূর করবে

কাঁচা মরিচ মেটাবলিজম বাড়িয়ে ক্যালোরি পোড়াতে সহায়তা করে। ফলে নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। কাঁচা মরিচে অবস্থিত ক্যাপসাইসিন খাদ্যে থাকা উচ্চমাত্রার চর্বি শুষে নিয়ে শরীরে মেদ রোধ করতে সাহায্য করে। চর্বি জাতীয় খাবারের সঙ্গে কাঁচা মরিচ খেলে মোটা হওয়ার কোনা ভয় থাকে না। কারণ কাঁচা মরিচ খাদ্যের সঙ্গে থাকা চর্বিকে ধ্বংস করে। ফলে স্লিম থাকা যায়।

শেষের খাবারটা হয়তো কমবেশি সবাই খান তাই দিলাম।

আশা করি যারা খুব সহজ পদ্ধতিতে ওজন কমাতে চান তাদের উপকারে আসবে।

 

 

 

 

 

ওজন কমাতে চাইলে নিয়মগুলো মেনে চলুন

খাবার

কম খাচ্ছেন, পরিশ্রমও করছেন? কিন্তু ওজন কোনভাবে কমছে না। এই সমস্যাটি অনেক পরিচিত আমাদের কাছে। আপনারা যারা ওজন কমাতে উদগ্রীব হয়ে আছেন এবং অনেক বেশী হতাশায় ভুগছেন তাদের জন্য আজকে রয়েছে বৈজ্ঞানিক প্রমাণিত ওজন কমানোর পদ্ধতি সমূহ।

পানি পান করুন

পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ কাজ পানি পান করা। বাসার যে জায়গাটাতে আপনি থাকেন অথবা অফিস এর যেখানে আপনার বসতে হয় তার সাথেই পানির জগ অথবা বোতল রেখে দিন। শুধু ওজন কমানো নয় সুস্থ থাকার জন্য পানির বিকল্প নেই। সাধারণত বলা হয় ২ লিটার পানি পান করার কথা। কিন্তু আপনি যদি ৩ লিটার খান তবে জলদি উপকার পেতে শুরু করবেন। খাবারের আধাঘণ্টা আগে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিবেন। এখন থেকে মনে করবেন পানি একটি ঔষুধ। শরীরের সকল ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে দেয় পানি।

কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলুন

ভাত, রুটি, আলু এগুলো কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার। যতটুকু পারেন কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলুন। কার্বোহাইড্রেট আপনার শরীরে মেদ বাড়িয়ে দেবে। আর কার্বোহাইড্রেট থেকে যে মেদ শরীরে জমা হয় তা সহজে ঝরানো যায় না। সুতরাং যারা বলেন ভাত ছাড়া আমার চলে না তারা ভাতকে ভালোবাসা বন্ধ করে দিন। আপনাকে একবারে বাদ দিতে বলছি না। দুপুরে শুধু এক কাপ ভাত খেতে পারবেন।

প্রোটিন গ্রহণ করুন

কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে প্রোটিন এর পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। প্রোটিন আপনার ক্ষুধা কমিয়ে দেবে। অন্যদিকে আপনি ভালো পরিমাণের পুষ্টিও পাবেন। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় প্রোটিন থাকা আবশ্যক। প্রোটিন বললে আমাদের চোখের সামনে শুধু মাংস আর মাছ ভাসে। মাছ-মাংস ছাড়াও ভালো প্রোটিনের উৎস আছে এমন কিছু খাবার হল- যেকোনো ধরনের ডাল, কুমড়োর বিচি, কাঠবাদাম, ডিম ইত্যাদি। তবে ডিমের কুসুম এড়িয়ে চলাই ভালো।

শরীরচর্চা করুন

শরীরচর্চা
শরীরচর্চা করলে মন ভালো থাকে

শরীরের অপ্রয়োজনীয় মেদ বা ক্যালরি কমাতে শরীরচর্চা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরি। এটি আপনাকে ওজন নিয়ন্ত্রণের সাথে সুস্থ্যতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। জিমের সরঞ্জাম না থাকলে নিয়মিত ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করতে পারেন। শরীরচর্চা শুধু শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে তা না, এর ফলে আপনার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আর একটা জিনিস অবশ্যই মনে রাখবেন, ঘাম না ঝরলে সেই শরীরচর্চাতে আপনার কোন ক্যালরি খরচ হবে না।

দই খান

বাজারে যে দই পাওয়া যায় সেই দই না। বাসায় দই বানানোর চেষ্টা করুন। দই বানানোর সময় চিনি দিবেন না। এই খাবারটি আপনার রক্তে সুগারের পরিমাণ কমিয়ে দেয় এবং সাথে সাথে আপনার শরীর ঠাণ্ডা রাখে।

ক্যালরি পরিমাপ করে খান

যখন আপনি খাদ্য গ্রহণ করবেন তখন ক্যালরি হিসাব করে খাবেন। ওজন কমানোর সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি হল যতটুকু খাবেন তার থেকে বেশী ব্যায়াম করবেন। সুতরাং খাওয়ার সময় অবশ্যই হিসাব করবেন।

বসে থাকবেন না

অনেকক্ষণ একটানা বসে থাকবেন না। শরীরকে কোন না কোন কাজে নিয়জিত রাখুন। এক কথায় সবসময় ক্যালরি খরচ করতে হবে।

চিনিকে না বলুন

এক গবেষণায় আমেরিকার একদল বিজ্ঞানী বলেছেন চিনি হল ‘হোয়াইট পয়জন’। বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘সাদা বিষ’। চিনি বর্জন করুন। যাদের অতিরিক্ত মেদ আছে তাদের জন্য চিনি অনেক ক্ষতিকর। তবে মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করলে তা অবশ্যই পাপ নয়। যেদিন কোন মিষ্টিজাতীয় জিনিস খাবেন সেদিন বেশী করে ব্যায়াম করে ফেলবেন। আর চিনির পরিবর্তে মধু এবং জিরো ক্যাল খেতে পারেন। তাছাড়া মিষ্টি ফল গুলো খেলে তেমন কোন ক্ষতি হবে না আশা করি।

জুস খাবেন না

ওজন কমানোর মহাযুদ্ধে যে যোদ্ধারা আছেন তারা হয়তো ভাবছেন জুস তো আপনারা বাড়িতে তৈরি করে খান, বাইরের জুস খাওয়ার প্রশ্নই আসেনা। কিন্তু যারা বাড়িতে জুস তৈরি করে খান তারাও ভুল করেন। কোন ফল অথবা সবজি কখনই জুস করে খাবেন না। জুস করে খেলে আপনারা অনেকে ছেকে খান। যারা জুস ছেকে না খান তারাও ভুল করেন। সেটা হল সবজি ও ফল চিবিয়ে খেলে আপনার ফেসিয়াল ব্যায়াম হবে এবং দাঁত ভালো থাকবে।

লেবু পানি

লেবু পানি
লেবু পানি আপনাকে সতেজ করবে

লেবু পানি অনেক ওজন কমাতে পারে। আপনি তিন দিনের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারবেন। আপনার শরীর ফুরফুরে আর হালকা লাগতে শুরু করবে। শরীরের সকল টক্সিন দূর করে দেয় এই লেবু পানি। আপনার ত্বক ভালো রাখবে। সবচেয়ে উপকার হবে যদি কুসুম গরম পানির সাথে খান। খাওয়ার এক মাস পর ওজন মেপে দেখতে পারেন এটা কতো টুকু উপকারী। যারা সাধারণ ওজনের তারাও খেতে পারেন। তবে বেশী খাবেন না।

ডায়েট করার সময় ভুলে যাবেন না আপনার শরীর একটি ইঞ্জিন। আর ইঞ্জিনের চলতে হলে তেল লাগে। ঠিক মতো তেল না দিলে মাঝপথে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাবে। সুতরাং অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে খাবেন। তিন বেলা ঠিক মতো খেলে এবং ব্যায়াম করলে ওজন বৃদ্ধি পায় না। সুস্থ থাকার জন্যও আপনি উপরোক্ত নিয়মগুলো মেনে চলতে পারেন।

 

 

 

 

খান দেশী ফল, বাড়ান দেহের বল

পেয়ারা

দেহের পুষ্টি ঘাটতি পূরণে ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। ফল খেতে কে না পছন্দ করে। ছোট শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ আর অসুস্থ্য রোগী সবার জন্য ফল হচ্ছে মহৌষধ। ভিটামিন, পুষ্টি উপাদান, খনিজ লবণ, খাদ্য শক্তি ইত্যাদি সবচেয়ে বেশী ফল থেকে পাওয়া যা আমাদের কে শারীরিক ভাবে সুস্থ্য রাখতে সহায়তা করে। দেশীয় ফল সকল শ্রেণীর মানুষের হাতের নাগালে।
নিচে কয়েকটি দেশীয় ফলের নাম ও গুনাগুণ বর্ণনা করা হলো –

পেয়ারা

পেয়ারা একটি সহজলভ্য ফল। সাধারণ এই ফলকে আমরা অবহেলা করি। কিন্তু এর গুনাগুন উপকারিতা জানার পর আপনি আপনার ভুল বুঝতে পারবেন এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি।

পুষ্টিগুণ

পেয়ারা একটি ভিটামিন-সি আর ময়েশ্চারসমৃদ্ধ ফল। এর উচ্চমাত্রার ভিটামিন-এ ও ‘সি’ ত্বক, চুল ও চোখের পুষ্টি জোগায়, ঠান্ডাজনিত অসুখ দূর করে।

রোগ প্রতিরোধে পেয়ারার ভূমিকা

ডায়াবেটিকের ঝুঁকি হতে রক্ষা করে, চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে, রক্তচাপ কমায়, ট্রেস উপাদান কপার সমৃদ্ধ, ম্যাঙ্গানিজের ঐশ্বর্য, স্নায়বিক আরাম, রক্ত পরিষ্কার করে, ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ প্রতিরোধ করে, পাকস্থলীর স্বাস্থ্য ভালো রাখে, ওজন কমায়, চুল ভালো রাখে। পেয়ারায় রয়েছে ক্যারটিনয়েড, পলিফেনল, লিউকোসায়ানিডিন ও অ্যামরিটোসাইড নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ক্ষতস্থান শুকানোর জন্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

আম
এই ফলটির নাম শোনার পর জিহ্বায় পানি আসে না এমন মানুষ খুবী কম আছে। আর স্বাদের কথা নাই বা বললাম। অনেকে আম কে জাতীয় ফল হিসেবে ধরে। মধুময় ফলটি শুধু মাত্র স্বাদে নয় গুনেও অনেক ভরপুর।

আম
পাকা আমে ভিটামিন ‘এ’ থাকে

পুষ্টিগুণ
পাকা আমে ভিটামিন ‘এ’ থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম আমের ১০০০-১৫০০ আইইউ ভিটামিন ‘এ’ থাকে। আর ভিটামিন ‘এ’ অভাবে চোখের নানা রোগ, অন্ধত্ব, খসখসে চামড়া, হজমে সমস্যা, চুলপড়া ইত্যাদি দেখা দেয়। এছাড়াও ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, খনিজ লবণ, প্রচুর খাদ্য শক্তি এবং ক্যলসিয়াম এসব প্রচুর পরিমাণে আম থেকে পাওয়ায় যায়।
রোগ প্রতিরোধে আম
আমে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস যা আমাদের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও স্তন, লিউকেমিয়া ও কোলন সহ প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে থাকে। আমে অনেক বেশী এনজাইম পাওয়া যায়। আমরা অনেকে জানি আম ওজন বাড়াতে সাহায্য করে আর ওজন বাড়াতে বেশী আম খেতে হবে। তবে সবচেয়ে লক্ষণীয় ব্যাপার হলো আম খেলে ওজন বাড়লেও কোলেস্টোরল কমে যায়। আমে আছে অনেক বেশী ভিটামিন ‘সি’, ফাইবার ও ফলের শাঁস যা রক্তে বিদ্যমান খারাপ কোলেস্টোরল এর মাত্রা কমিয়ে দেয়। আম ত্বকের জন্য অনেক বেশী উপকারী। ত্বককে ভিতর ও বাহির থেকে সুন্দর রাখে, ত্বকের লোমের গোড়া পরিষ্কার রাখে যা ব্রন থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সহায়তা করে। আম দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। রাত কানা রোগ থেকে রক্ষা করে। হজমেও আমের ভূমিকা অনেক বেশী। আম শুধু স্বাদের দিক থেকে সুস্বাদু নয়, আম স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী।
কাঁঠাল
কাঁঠাল হচ্ছে আমাদের জাতীয় ফল কিন্তু এ সুস্বাদু ফলের গুনাগুণ সম্পর্কে আমরা অনেকে অবগত নই।

কাঁঠাল
বহুগুণে গুণান্বিত কাঁঠাল

পুষ্টিগুণ

পাকা কাঁঠালের প্রতি ১০০ গ্রামে ৯০ কিলোক্যালরি ও খনিজ লবণের পরিমাণ প্রায় ০.৯। পাকা কাঁঠালের তুলনায় কাঁচা কাঁঠালে ফাইবারের পরিমাণ অনেক গুন বেশী। তাই কাঁচা কাঁঠাল ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য খুব উপকারী। রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কাঁচা কাঁঠাল বেশ কার্যকরি। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে রয়েছে আমিষ ১ গ্রাম, চর্বি ০.৩ মিলিগ্রাম, শর্করা ২৪ গ্রাম, খাদ্য আঁশ ২ গ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ৩৭ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৩০৩ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৪ মিলিগ্রাম, ম্যাঙ্গানিজ ০.১৯৭ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ২৯৭ আই ইউ, ভিটামিন সি ৬.৭ মিলিগ্রাম, থায়ামিন ০.০৩ মিলিগ্রাম, ভিটা বি২ ০.১১ মিলিগ্রাম, ভিটা বি৩ ০.৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি৬ ০.১০৮ মিলিগ্রাম।

রোগ প্রতিরোধে কাঁঠাল
মানব দেহে কাঁঠাল খুব উপকারি এতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, আমিষ ও ভিটামিন রয়েছে। এ ফলে চর্বির পরিমাণ কম থাকে। এতে পটাশিয়াম রয়েছে যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। কাঁঠালে আছে ফাইটোনিউট্রীয়েন্টস যা ক্যান্সার, আলসার এবং বার্ধ্যক্য প্রতিরোধ করে। কাঁঠালে বিদ্যমান শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মানুষের দেহকে ক্ষতিকর ফ্রির‍্যাডিকেলস সুরক্ষিত রাখে। সর্দি-কাশি সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা করে, টেনশন ও নার্ভাসনেস কমায়।

তরমুজ
তরমুজ এ নামটি শুনলেই যেনো তৃষ্ণার্ত হয়ে যাই আমরা। গরমে শরীর কে ঠাণ্ডা রাখতে তরমুজের ভূমিকা অনেক। আমাদের শরীরের জন্য তরমুজের উপকারিতা অনেক বেশী।

পানি
তরমুজের ৯২ ভাগ পানি

পুষ্টিগুণ
প্রায় ৯২ ভাগ পানি রয়েছে এতে। এ জন্য তরমুজ খেলে পানির পিপাসা মিটে যায়। প্রতি দুই কাপ তরমুজ খেলে দেহে ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি-র ঘাটতি পূরণ হয়। তরমুজে ভিটামিন বি৬, ভিটামিন১ থাকে যা এনার্জি তৈরিতে সহায়তা করে।
রোগ প্রতিরোধে তরমুজ
তরমুজে ভিটামিন এ আছে যা ত্বক উজ্জ্বল করে এবং ত্বককে ইনফেকশন থেকে রক্ষা করে। কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায়। তরমুজের সবুজ খোসা এবং লাল অংশ উভয়ই ক্যান্সার রোগীদের জন্য খুব উপকারী। তরমুজ অ্যাজমা, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, হজমে সহায়তা করে এবং কিডনির কার্য ক্ষমতা বজায় রাখে।

পেঁপে
আরেকটা মজাদার আর খুব সুস্বাদু ফল হচ্ছে পেঁপে। পেঁপের আরেক নাম হলো ‘’পাওয়ার ফ্রুট’’। এতে আছে অনেক রোগের নিরাময় ক্ষমতা।

পেঁপে
পাকা পেঁপে ত্বকে লাবণ্য ধরে রাখে

পুষ্টিগুণ
প্রতি ১০০ গ্রাম পেঁপেতে ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে ১১১০ ইউনিট। তাছাড়া এ ফলে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন বি ও সি, শর্করা, খনিজ লবণ এবং খাদ্য শক্তি। অন্তত পুষ্টিকর সবজি হিসেবে কাঁচা পেঁপের জুড়ি নেই। আপেলের চেয়ে ১৩ গুন বেশী ভিটামিন সি থাকে পেঁপেতে। পেঁপের মধ্যে বিদ্যমান সাদা আঠায় প্যাপেইন নামক এনজাইম আছে। এই এনজাইম প্রোটিন পরিপাকে সহায়তা করে।

রোগ প্রতিরোধে পেঁপে
পেঁপে তে লাইকোপিন রয়েছে। আর গবেষকদের মতে লাইকোপিন ক্যান্সার প্রতিরোধী। পেঁপে পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার করে হজমে সাহায্য করে। ফ্যাট ভাঙতে পেঁপে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। ওজন কমাতে পেঁপের জুড়ি মেলা ভার অনেক সাহায্য করে। প্রতিদিন এক বাটি সিদ্ধ পেঁপে আপনার ওজন অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে।

আনারস
বাংলাদেশে চার ধরনের আনারস চাষ করে যেমন- কুইন, হরিচরণ ভিটা, জায়েন্ট কিউ ও বারুইপুর। সিলেট, চট্রগ্রাম, কুমিল্লা ও ঘোড়াশালে এই চার জাতের চাষ সব চেয়ে বেশী হয়। বছরে দুইবার আনারস তোলা হয়ে থাকে। শীত কালের আনারস ছোট ও টক হয়। বর্ষা কালে আনারস বড় ও অনেক মিষ্টি হয়।

পুষ্টিগুণ
পুষ্টিগুণ হিসেব করলে বলতে হয় আনারস অতুলনীয়। আনারসে ক্যালসিয়াম,  ভিটামিন এ, বি, সি এবং আরো অনেক প্রকার পুষ্টি উপাদান আছে। প্রতি ১০০ গ্রাম আনারসে রয়েছে ০.৬ ভাগ প্রোটিন, শ্বেতসার ৬.২ গ্রাম, ভিটামিন সি ২১ মিলিগ্রাম, ০.০৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন ২, ০.০২ ফসফরাস, ০.১ ভাগ সহজ পাচ্য ফ্যাত, ০.৫ খনিজ পদার্থ, ১২.০ গ্রাম শর্করা, ক্যালসিয়াম ১৮ মিলিগ্রাম, লোফ ১.২ মিলি গ্রাম।

রোগ প্রতিরোধে আনারস এর ভূমিকা
খালি পেটে আনারস কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে। জ্বর বা জ্বর-জ্বর ভাব দূর করে। আনারসে রয়েছে ব্যথানাশক উপাদান। এ ফল শরীরের ব্যথা দূর করার জন্য খুবী উপকারী। আনারস রক্ত পরিষ্কার করে যা হৃদপিণ্ডকে কাজ করতে সহায়তা করে। এতে অনেক বেশী ভিটামিন সি থাকে যা জিহ্বা, তালু, দাঁত, মাড়ির অনেক অসুখ নিরাময় করে। আনারস খেলে ঠাণ্ডা লাগা, গলা ব্যথা, সাইনোসাইটিস জাতীয় রোগ গুলো কম হয়। আনারসে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ হাড় ও চুল কে অনেক বেশী শক্তিশালী করে। এ ফল জন্ডিস রোগের জন্য বেশ উপকারী। আনারসে ফ্যাট কম, ওজন কমাতে সাহায্য করে।

 

বিশ্বায়নের আরেক নাম তথ্য প্রযুক্তি

প্রযুক্তি

একবিংশ শতাব্দীর বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার সর্বত্র বিস্তৃত। বাংলাদেশে দেরিতে হলেও তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার বহুলাংশে বিস্তৃতি লাভ করছে। গবেষণা থেকে শুরু করে শিক্ষা, চিকিৎসাব্যবস্থা, ব্যবসা, কৃষি, যোগাযোগসহ, মহাকাশে, মহাসমুদ্রে সর্বস্তরে প্রযুক্তির ছোঁয়া। জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতি সাধনের জন্যে তথ্য প্রযুক্তি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

তথ্য প্রযুক্তি কি?

বর্তমান যুগে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য বা দক্ষ ব্যাবস্থপনার জন্য তথ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, তথ্য আহরণ, তথ্য বিতরনের গুরুত্ব অপরিসীম। এসব তথ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, আহরণ এবং এর সাথে জড়িত সকল প্রকার কার্যাবলী পরিচালনার বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়া হলো তথ্য প্রযুক্তি। বর্তমান বিশ্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির দ্বারা একক তার বা একক লিঙ্ক পদ্ধতির মাধ্যমে অডিও-ভিজুয়াল, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও টেলিফোন নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে প্রযুক্তির বহির্প্রকাশ পায়। যার ফলে অনেক বড় অঙ্কের অর্থনৈতিক খরচ কমে যায়।

প্রযুক্তির ব্যবহারের বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলোর তফাৎ

প্রযুক্তির ব্যবহার উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ গুলোর মধ্যে অনেক তফাৎ রয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহারের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এই তফাৎ বিদ্যমান বলে জানিয়েছে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম। অর্থনৈতিক ফোরাম এর প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রযুক্তির ব্যবহার করে অর্থনৈতিক দিক থেকে সবচেয়ে বেশী সাফল্য অর্জনকারি দেশ গুলোর তালিকা শীর্ষে রয়েছে সুইডেন, সিঙ্গাপুর, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, অ্যামেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেন। এই তালিকার নিচের দিকে রয়েছে নেপাল, সিরিয়া, পূর্ব টিমর ও হাইতি। প্রযুক্তির ব্যবহারে ইউরোপ অনেক এগিয়ে রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় ভারতকে ছাড়িয়ে চীন উপরের দিকে উঠে এসেছে। এশিয়া মহাদেশে প্রযুক্তির ব্যবহারের দিক দিয়ে ভারত ছিল সবচেয়ে এগিয়ে। তবে চীন সরকার প্রযুক্তিখাতকে অনেক বেশী গুরুত্ব দেওয়ায় ভারতকে টপকে চীন এগিয়ে। ভারত ও চীন এগিয়ে থাকলেও এশিয়া মহাদেশের কয়েকটি দেশ এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে। এশিয়ায় পিছিয়ে থাকা দেশ গুলো হলো নেপাল, তাজিকিস্তান ও পাকিস্তান।

বাংলাদেশে দারিদ্রতা বিমোচনে তথ্যপ্রযুক্তির গুরুত্ব

বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির দিক দিয়ে আমরা অনেক পিছিয়ে। বাংলাদেশে বিজ্ঞান প্রযুক্তির মাধ্যমে দারিদ্রতা কমানো সম্ভব। প্রযুক্তির দ্বারা আমরা অনেক নতুন নতুন দক্ষতা অর্জন করতে পারি এবং তা কাজে লাগিয়ে জীবন জীবিকার মান উন্নয়ন করা সহজ। বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এ জন্য গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তথ্য ও প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি পদ্ধতি এনে দিতে পারে নতুন সম্ভাবনা। কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক সময়উপযোগী ও আধুনিক তথ্য, বাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ ইত্যাদি প্রযুক্তি ইন্টারনেট, মোবাইল এর মাধ্যমে সরবরাহ করা হলে তা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রযুক্তি
উন্নতি সাধন

বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি বাস্তবায়নের কৌশল

বাংলাদেশের কৃষি নীতিতে ই-কৃষি অন্তর্ভুক্তকরণ ও প্রত্যেক ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি তথ্য কেন্দ্র স্থাপন  এবং তা সঠিক ভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণ। কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষিতকরণ, আইসিটি কি সে বিষয়ে ধারণা ও উৎসাহ দেয়া। কৃষি কাজের জন্য ই-কৃষি  কন্টেন্ট তৈরি ও ব্যবহার। কৃষি চ্যানেল সম্প্রচার, ওয়েব টিভি, কৃষিভিত্তিক ওয়েবসাইট ও ওয়েব বেতার চালু করণ। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তি কর্মকান্ডের জন্য সরকার কে জোর দেওয়া।
যে দেশ তথ্য ও প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে যত এগিয়ে সে দেশ তত বেশী উন্নত এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ। প্রযুক্তির ব্যবহারে কারণে বর্তমানে অনেক কঠিন ও সময় ব্যয়বহুল কাজ সহজ এবং খুব কম সময়ে সম্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে। তথ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তি বৃদ্ধি, তথ্য আদান-প্রদান (টেলিযোগাযোগ, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট ইত্যাদি) প্রযুক্তি ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি এসব প্রযুক্তির ক্ষেত্রসমূহ সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত হলে উন্নয়নশীল দেশ গুলো খুব তাড়াতাড়ি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।

 

নিশ্চুপ বৃষ্টির হাজার কথন

বৃষ্টি

কাশটা যেন অনেক বিশাল চাদরে মুড়ে রেখেছে আমাদের এই ধরাকে। কখনো তার রং নীল, কখনো সাদা মেঘে আবার কখনো বিষণ্ণ কালো রং এ যেন নানা রুপের সাজ। গ্রীষ্মের খাঁ খাঁ রোদে মাঠ ঘাট, নদীনালা, খালবিল, পুকুরের পানি শুকিয়ে ফাটল ধরতে থাকে। পশু-পাখি, গাছ-পালা, মানুষ তৃষ্ণার্ত হয়ে উঠে আর আকুতি করতে থাকে একটু শান্তির বৃষ্টির জন্য। এ যেন তৃষ্ণার্তের শ্রষ্টার কাছে আকুল প্রার্থনা। সব কিছু যখন খুব ব্যাকুল হয়ে থাকে তখন বর্ষার আগমনের সময় হয়ে যায়। তখন তৃষ্ণার্ত প্রকৃতিকে অমৃতসুধায় ভরিয়ে দিতে আসে বর্ষাকাল।

বৃষ্টির ফোঁটা
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর

রিমঝিম বৃষ্টি নামার সময় হলে নীল আকাশটা কালো হয়ে যায় যেন তার রূপের পরিবর্তনের শুরু।  আর যখন বৃষ্টির আনাগোনা শুরু হয় তখন চারদিকে সবার প্রাণে নামে শান্তির নিঃশ্বাস। কখনো কখনো চারদিক অন্ধকার হয়ে আসে, বাতাস বয়ে যায় আর কিছুক্ষণ পর নামবে শান্তির বৃষ্টি। আকাশের ভাঁজে ভাঁজে মেঘ জমে আছে। রাখাল বালক ছুটে চলছে ঝড় শুরু হওয়ার আগে গরু গুলোকে ফিরিয়ে আনতে, পাখিরা এক ডাল থেকে অন্য ডালে ছুটাছুটি করছে, স্কুলে ছুটির ঘন্টা বেজে উঠলো ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আনন্দের মিছিলে নেমে পড়লো। বৃষ্টি নামলো প্রকৃতি যেন নিস্তব্ধ হয়ে আছে নতুন প্রাণের ছোঁয়ায়। ফুল গুলো আবার হাসা শুরু করছে এ যেন নতুন প্রাণের মেলা।

র্ষা এলে পাখিরা গাছের ডালে, পাতার ফাঁকে চুপচাপ বসে থাকে। জনশূন্য হয়ে থাকে মাঠঘাট পথ-প্রান্তর। উঠনে জমে থাকে পানি। কানায় কানায় ভরে উঠে নদনদী, খালবিল, পুকুর। চারদিকে পানির থৈ থৈ মেলা। দস্যিছেলেরা দল বেঁধে কলা গাছের ভেলা ভাসিয়ে মনের আনন্দে মেতে উঠে। বৃষ্টির পানিতে সব কিছু ধুয়ে মুছে পরিষ্কার হয়ে যায়। তখন ভেজা মাটির গন্ধে মন কেমন করে উঠে। সবুজে সবুজে এক অপরূপ সৌন্দর্যে সেজে উঠে প্রকৃতি আর পরিবেশ। বর্ষা কালে বিভিন্ন ফুলের গন্ধে মন মাতোয়ারা হয়ে যায়।

লস সময় কাটানোর জন্য সবাই চায়ের কাপ হাতে খোশগল্পে মেতে উঠে। অনেক পুরনো স্মৃতি  মনে পড়ে যায়। প্রকৃতির লীলা খেলার সঙ্গে মানুষের মনেও জেগে উঠে কামনা-বাসনা, প্রেম বিরহের আবহ। বর্ষা এলে শৈশবের অনেক মধুর স্মৃতিতে উদাসীন হয়ে যায় আমাদের মন। বর্ষার জোয়ারে ভাসতে ভাসতে কবিরা তাদের কবিতার মধ্যে প্রেমের ব্যাকুলতা, আবেগ, অনুভূতি প্রকাশ করেন। বর্ষা নিয়ে কবিরা কতশত কবিতা, গল্প, ছড়া রচনা করেছেন তার হিসাব নেই। কি মধুর সেসব কবিতা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বর্ষা নিয়ে লিখেছেন-

ব্যাকুল বেগে আজি বহে যায়,

বিজুলি থেকে থেকে চমকায়।

যে কথা এ জীবনে রহিয়া গেলো মনে

সে কথা আজি যেন বলে যায়

এমন ঘনঘোর বরষায়।।

বর্ষা এলে বাংলার মাঠঘাট ডুবে যায়। পানিতে সব কিছু টুইটুম্বর করে।  পানিতে ভাসমান গ্রামের বাড়ি গুলো যেনো এক একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। ডিঙি নৌকায় বা কলার ভেলায় চড়ে মানুষ এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি যায়। বর্ষায় অনেক ফুল ফোটে যার গন্ধ পাগল করার মত। কদম, কেয়া, হাসনাহেনা, কলমিলতা, নিলকলম, দোলনচাপা বিচিত্র ফুলে ফুলে ভরে যায় প্রকৃতি। বৃষ্টিরদিনে সবচেয়ে মজার বিষয় হল রংধনু। বৃষ্টির পর মনোমুগ্ধকর এক দৃশ্য এই রংধনু।

রংধনু
বৃষ্টি মানে আকাশের সাথে রংধনুর খেলা

বিরহ-বেদনাকে বর্ষা আরো বেশী বাড়িয়ে দেয়। অঝোরধারায় বৃষ্টির সময় কখনো কখনো বিরহের স্মৃতি মনকে ব্যকুল করে তোলে, আবার কখনো সুখের জোয়ারে ভাসিয়ে তোলে। এ সময়ে সেই ছোট বেলার গ্রামের কথা মনে পড়ে যায় স্কুল ছুটির পর বই রেখে থৈ থৈ জলের মধ্যে শাপলা তুলার জন্য ঝাপিয়ে পড়া, এই আনন্দ আর কিসে পাওয়া যায় তা জানা নেই। সবাই মিলে দল বেঁধে ফুল কুড়ানোর মিষ্টি মধুর সময় খুব বেশী মনে পড়ে যায়। সন্ধ্যা বেলার ব্যাঙের ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর মধুর ডাক অন্য কোন ঋতুতে শোনা যায় না।  রাতের বেলায় টিনের চালের উপর টিপ টিপ বৃষ্টির ফোটার শব্দ ঘুমকে করে তোলে শান্তিময়। জেলেরা নৌকা নিয়ে মাছ ধরে।

মাঝিরা তাদের নৌকায় নতুন পাল তোলে নদীর এপাড় থেকে ঐপাড়ে মানুষ পার করে। আর কোকিলের সুরে গান গায়। কবির ভাষায় বলতে হয়-
আষাঢ়ে বাদল নামে নদী ভরভর

মাতিয়া ছুটিয়া চলে ধারা খরতর।

মহাবেগে কলকল কোলাহল ওঠে,

ঘোলা জলে পাকগুলি ঘুরে ঘুরে ছোটে।

দুই কূলে বনে বনে পড়ে যায় সাড়া,

বরষার উৎসবে জেগে ওঠে পাড়া।

বজ্রপাত
বজ্রপাত

বর্ষার পানি বাড়তে থাকলে কৃষকের মনে অনেক চিন্তা কাজ করতে থাকে তাদের ফসলের জন্য। বর্ষা কাল যেমন প্রকৃতিকে সৌন্দর্য্য উপহার দেয় তেমনি অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে। এ সময়ে বন্যা, ঝড় তুফান হয়ে থাকে যার ফলে আমাদের জীবন যাত্রা অচল হয়ে যায়। অধিক পানির জন্য ফসলের অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে। আনন্দ বেদনা কত দিক রয়েছে বৃষ্টির। বৃষ্টি আমাদের অনেক সময় হাসায় আবার অনেক সময় কাঁদায়, আবার আবেগে আপ্লুত করে তুলে। বৃষ্টিতে জমে উঠে অনন্য প্রেম। বর্ষা কাল আমাদের যেন প্রেম-বিরহ-ভালোবাসার ঋতু। বর্ষা মানে বৃষ্টিতে ভেজা এক রমণীয় বাংলাদেশ।

সর্বপরি প্রিয় কবি হুমায়ূন আহমেদ– এর একটা উক্তি দিয়ে শেষ করতে চাই-

“পৃথিবীর সবচেয়ে আনন্দময় জিনসগুলির জন্যে কিন্তু টাকা লাগে না। বিনামূল্যে পাওয়া যায়। যেমনঃ জ্যোৎস্না, বর্ষার দিনের বৃষ্টি, মানুষের ভালোবাসা।”

সুস্থ থাকার জন্য কি ঘুম সত্যি অপরিহার্য??

Sleeping

দৈনন্দিন জীবনে আমাদের জন্য অপরিহার্য কি? হয়ত ভাবছেন খাদ্য, শিক্ষা,কিংবা স্বাস্থ্য? কিন্তু শারীরিক সুস্থ্যতার জন্য ঘুম অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত না ঘুমালে  আমাদের অনেক রকমের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন হজমে সমস্যা, শারীরিক সমস্যা, ওজন বৃদ্ধি, গাড়ি চালনায় সমস্যা, রোগের সম্ভাবনা, জেনেটিক গণ্ডগোল।

Medichin

হার্ট, লিভার, কিডনি, ব্রেইন, ফুসফুস মানব দেহের এসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতা যদি খুব ভালো ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় তাহলে দেখা যাবে একটি সুক্ষ্ম  সফটওয়ার এর মত  স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলো বিরামহীন ভাবে চলছে। তাই মানব দেহের সকল অঙ্গপ্রতঙ্গ গুলো  যথাযথ ভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজন নিয়তিম ঘুম। একজন মানুষকে তার দেহ, মন, মস্তিষ্ক সুস্থ্য রাখতে নিয়মিত ঘুমের বিকল্প কিছু নেই। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬-৭ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন।

গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়মিত তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পরেন এবং সকালে ঘুম থেকে উঠেন, তারা  কাজের প্রতি বেশী মনোযোগী, কাজ খুব নিখুঁত ভাবে সম্পাদন করতে পারেন, মানসিক ও শারীরিক সমস্যা অনেক কম হয়।

brain
ঠিক মতো ঘুম না হলে যেসব সমস্যা হতে পারে

পরিমিত ঘুম না হলে আমাদের অনেক সমস্যা দেখা দেয় যেমন স্মৃতি শক্তি লোপ পায় মনোযোগ ব্যাহত হয়ে থাকে। এ গুলো ছাড়াও যেমন আমাদের ব্যবহার খিটখিটে হয়ে যায়, কাজ কর্মের প্রতি অনীহা চলে আসে, ক্ষুধা মন্দা হয়ে যায়, সবকিছুতে বিতৃষ্ণা দেখা দেয়। ঘুম মানব দেহের  ইমিউন সিস্টেম বা অনাক্রম্যতার সাথে অনেকাংশে  জড়িত যা শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষের দেহের বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তু যেমন  নিউরোট্রান্সমিটারের অধিক পরিবর্তন হয়ে থাকে অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে।  ঘুমের সময় কিছু হরমোন নিঃসৃ্ত হয়ে থাকে যা আমাদের দৈহিক বৃদ্ধি ও মেটাবলিজমে সহায়তা করে থাকে যেমন – বৃদ্ধি হরমোন বা গ্রোথ হরমোন, থাইরয়েড হরমোন।

নিয়মিত ঘুম কেনো প্রয়োজন
ঘুম মানুষের দেহের শক্তি বৃদ্ধির কাজ করে থাকে। অর্থাৎ ঘুম আমাদের সারাদিনের ক্লান্তি কে দূর করে আমাদের মনকে নিয়ন্ত্রিত করে। ঠিক মত ঘুম না হলে চোখের নিচে কালো ছাপ পরে, চুল ঝড়তে শুরু করে, চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ে অনেক বাহ্যিক সমস্যা দেখা দেয়। তাই এই গুলো এড়াতে আমাদের নিয়মিত ঘুম অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণায় দেখা গেছে আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি তখন আমাদের দেহের স্নায়ুগুলো অনেক বেশী সক্রিয় অবস্থায় থাকে। সারাদিন যে সমস্ত কাজ করি অথবা আমরা যা কিছু শিখে থাকি সে গুলো সংরক্ষণের প্রক্রিয়াটি ঘুমের সময় বেশী হয়ে থাকে। আমাদের স্মৃতি শক্তিকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য নিয়মিত ও পরিমাণ মত ঘুম অনেক দরকার।
ঘুমের কারণে ওজন বেড়ে যেতে পারে, ওজন বেড়ে যাওয়া আমাদের জন্য কোনভাবেই ঠিক নয়।

নিয়মিত ঘুম না হলে শরীরের হরমোন নিঃসরণ  ঠিকভাবে  হয় না এর ফলে আমাদের শরীরে অনেক সমস্যা দেখা দেয়। অনেক দিন ঘুম ঠিক মত না হলে হাইপারটেনশন এর সৃষ্টি হয় যার ফলে দেহে অকারণে উদ্ধিগ্নতার সৃষ্টি করে। যা বেড়ে গিয়ে আমাদের হৃদরোগের সমস্যার কারণ হয়ে থাকে। ঘুমের অভাবে আমাদের শারীরিক অনেক প্রক্রিয়া তরান্বিত করে আর এসব প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ্য হলে আমাদের শরীরের কোষ গুলো নষ্ট হয়ে যায়। আমরা যখন রাতে ঘুমিয়ে থাকি তখন দেহের কোষ গুলো সক্রিয় হয়। শারীরিক দুর্বলতা সারিয়ে তোলার প্রক্রিয়াটি নিয়মিত ও ভালো ঘুমের উপর  নির্ভর করে।

ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা, শারীরিক বিপর্যয়, আয়ু কমে যাওয়া, শারীরিক ও মানসিক কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, দৃষ্টি শক্তি জনিত সমস্যা, মাইগ্রেনের সমস্যা হৃদরোগ জনিত সমস্যা এসব থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত ও পরিমিত ঘুম বজায় রাখুন।

time

পরিশেষে এটা বলা যায় সময় মত ঘুমাতে হবে, না অনেক রাত জেগে সকালে, না অনেক আগে যেমন সন্ধ্যায়। সঠিক সময় ঘুমালে সঠিক সময় উঠা যায়।
শেষ করছি কবি নজরুল এর কবিতা দিয়ে-

আমি হব সকাল বেলার পাখি

সবার আগে কুসুম বাগে উঠব আমি ডাকি।“

তাহলে কি ১৯৮৮ সালের বন্যাও ছাড়িয়ে যেতে পারে ২০১৭ সালের বন্যা?

শহর ডুবে যেতে পারে

’৮৮ সালের বন্যা বাংলাদেশে সংঘটিত ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি। এই বন্যা এতো ভয়াবহ ছিল যে বিশ্বব্যাপী গনমাদ্ধমগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। দেশের প্রায় ৬০% এলাকা ডুবে যায় এবং প্রায় ৮২,০০০ বর্গকিমি এলাকা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থায়িত্বকাল ছিল ১৫-২০ দিন। ২০১৭ সালের বন্যা ১৯৮৮ সালের বন্যার সকল রেকর্ড ভাঙছে প্রতিদিন। তাই ধারণা করা হচ্ছে ’৮৮ এর চেয়েও হয়তো ভয়ঙ্কর হবে এই বন্যা।

ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসনে চৌধুরী মায়া সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, “এখন পর্যন্ত দেশের ২০টি জেলার ৫৬টি উপজেলা বন্যা কবলিত৷ বন্যায় সারাদেশে মারা গেছেন ২০ জন,  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৬ লাখ মানুষ৷ এছাড়াও উত্তরাঞ্চলের বন্যার পানি মধ্যাঞ্চল দিয়ে প্রবাহতি হয়ে সাগরে নেমে যাবে৷ ফলে ঢাকার নিম্নাঞ্চলসহ আরও ৯টি জেলায় বন্যার আশঙ্কা আছে৷” তিনি আরও জানিয়েছেন, “১৯৮৮ সালরে চেয়ে বড় বন্যা হলেও মোকাবেলার প্রস্তুতি আছে সরকারের৷”

যমুনার পানি বেড়েই চলেছে
যমুনার পানি বেড়েই চলেছে

এদিকে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। যার ফলে সিরাজগঞ্জের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে যাচ্ছে। দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে পানি কমছে। বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, আজ সকালে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ  পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, “আজ সকাল ছয়টায় দেখা যায় বিপদসীমার ১৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে যমুনার পানি”। তিনি আরও জানান ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি বেড়েছে ১৯ সেন্টিমিটার। যার ফলে কাজীপুর, চৌহালি, শাহাজাদপুর এবং বেলকুচি উপজেলার নিচু এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি ১০ সেন্টিমিটার, ধরলার পানি ১৮ সেন্টিমিটার এবং তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার করে কমলেও কুড়িগ্রামে বন্যাক্রান্ত মানুষের দুর্দশা কমেনি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জায়েদুল হক বলেন, বন্যায় সুনামগঞ্জ জেলার কৃষকদের ৭,৭৭১ হেক্টর আমন ক্ষেত এবং ১,০০৬ হেক্টর বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। গত তিন দিনে বন্যায় দেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

হয়তো এসব কারনেই বন্যা হতে পারে

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এবারের বন্যার কারণ বাংলাদেশের উজান থেকে আসা পানির ঢল এবং অতিরিক্তি বৃষ্টি৷ ত্রাণমন্ত্রী বলেছেন, “উজানের দেশ চীন, ভারত, নেপাল ও ভুটানে এ বছর স্মরণকালের মধ্যে মারাত্মক বন্যা হয়েছে৷ এছাড়া উজনের  দেশগুলোতে বন্যা হলে ভাটির দেশ হিসাবে বাংলাদেশের ওপর    তার প্রভাব তো পড়বেই৷”

নদী ভাঙ্গন
নদী ভাঙ্গন source: www.dw.com

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, “আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার ভিতরে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার ভারত অংশে সর্বোচ্চ ২৫ সেমি পানি বৃদ্ধি পেলেও, বাংলাদেশ অংশে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ৪৫ সেমি পযন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে৷”

দেশের বন্যা কবলিত এলাকাগুলোর সড়ক পানিতে ডুবে গেছে তাই সড়ক যোগাযোগ বন্ধ আছে। কুড়িগ্রামে রেলসেতু পানিতে ডুবেছে। যেসব এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধ আছে সেগুলোতে পানি না ঢুকলেও ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সাধারণত বন্যার মৌসুমে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ১৮ ভাগ তলিয়ে যায়। ব্যাপক আকারে বন্যা হলে তা দাঁড়ায় ৫৫ ভাগে কিন্তু আশঙ্কা করা হচ্ছে এবার বন্যায় প্রায় ৭০ ভাগ ডুবে যাবে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং নদী ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত ডয়চে ভেলেকে বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্লোবাল ফ্লাড এওয়ারনেস সিস্টেম-এর (গ্লোফাস) তথ্য বিশ্লেষণ করলে এটা বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ানক বন্যার কবলে পড়তে যাচ্ছে৷ ১৫ তারিখের পরে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে৷ এই নদী দিয়ে এখন ২০ লাখ কিউসেক পানি প্রবাহিত হচ্ছে৷ আরো ৮-১০ দিন এই প্রবাহ থাকবে৷ কারণ পানি আসছে অসম-অরুণাচল থেকে৷ গঙ্গা বিপদসীমার নীচে থাকলেও নেপালে বৃষ্টির কারণে সেটাও বাড়ছে৷ গঙ্গা, যমুনা ও মেঘনার প্রবাহ যদি একসঙ্গে হয় তাহলে দেশের মধ্যাঞ্চলের জন্যও মহাবিপদ, যা ১৯৮৮ সালে হয়েছিল৷ এর সঙ্গে ২১ আগস্ট অমাবস্যা৷ আর যদি কোনোভাবে সাইক্লোন যুক্ত হয়, তাহলে আসলেই মহাবিপদ আছে সামনে৷”

ত্রাণমন্ত্রী বন্যা প্রতিরক্ষার বিষয়ে জানিয়েছেন, “এরইমধ্যে দশ হাজার মেট্রিক টন চাল, তিন কোটি ১০ লাখ টাকা এবং ৬০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে”। তিনি আরো বলেন, “যত বড় বন্যাই হোক মোকাবেলার প্রস্তুতি আমাদের আছে৷”

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি’র ২৯তম বৈঠকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশগুলো হচ্ছে-

১। এডিপিভুক্ত প্রকল্পের জলাবদ্ধতা দূরীকরণের লক্ষ্যে বর্ষা আসার আগে খাল পুন:খনন করা।

২। সীমান্ত নদী সংরক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা।

৩। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ড্রেজার পরিদপ্তরের চলমান ড্রেজিং কার্যক্রম তদারকি।

৪। ওয়ারপোর (ওয়াটার রিসোর্সেস প্লানিং আর্গানিজেশন) জনবল সমস্যা সমাধানে প্রত্যেক উপজেলায় জনবল নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

৫। জাতীয় পানি নীতির অনুকরণে হাওর সমূহের বাধ ব্যবস্থাপনা, তদারকির জন্য গ্রাম পর্যায়ে সমিতি, ইউনিয়ন পর্যায়ে এসোসিয়েশন এবং উপজেলা পর্যায়ে ফেডারেশন গঠনপূর্বক এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ফেডারেশনের উপর দেয়ার সুপারিশ করা হয়।

মানুষের দুর্ভোগ
মানুষের দুর্ভোগ Source: BBC

টানা বৃষ্টি ভয়ঙ্কর আকারের বন্যা নিয়ে আসে। বন্যার কারণে দেশের নিম্ন এলাকার মানুষরা চরম দুর্ভোগের মাঝ দিয়ে জীবন অতিবাহিত করে। ২০১৭ সালের বন্যা বাংলাদেশের সকল এলাকার মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।  

Source:

www.dailystar.com
www.dailyittefak.com
www.dw.com
www.bbc.com
wikipedia.com