বিশ্বায়নের আরেক নাম তথ্য প্রযুক্তি

প্রযুক্তি

একবিংশ শতাব্দীর বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার সর্বত্র বিস্তৃত। বাংলাদেশে দেরিতে হলেও তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার বহুলাংশে বিস্তৃতি লাভ করছে। গবেষণা থেকে শুরু করে শিক্ষা, চিকিৎসাব্যবস্থা, ব্যবসা, কৃষি, যোগাযোগসহ, মহাকাশে, মহাসমুদ্রে সর্বস্তরে প্রযুক্তির ছোঁয়া। জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতি সাধনের জন্যে তথ্য প্রযুক্তি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

তথ্য প্রযুক্তি কি?

বর্তমান যুগে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য বা দক্ষ ব্যাবস্থপনার জন্য তথ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, তথ্য আহরণ, তথ্য বিতরনের গুরুত্ব অপরিসীম। এসব তথ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, আহরণ এবং এর সাথে জড়িত সকল প্রকার কার্যাবলী পরিচালনার বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়া হলো তথ্য প্রযুক্তি। বর্তমান বিশ্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির দ্বারা একক তার বা একক লিঙ্ক পদ্ধতির মাধ্যমে অডিও-ভিজুয়াল, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও টেলিফোন নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে প্রযুক্তির বহির্প্রকাশ পায়। যার ফলে অনেক বড় অঙ্কের অর্থনৈতিক খরচ কমে যায়।

প্রযুক্তির ব্যবহারের বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলোর তফাৎ

প্রযুক্তির ব্যবহার উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ গুলোর মধ্যে অনেক তফাৎ রয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহারের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এই তফাৎ বিদ্যমান বলে জানিয়েছে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম। অর্থনৈতিক ফোরাম এর প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রযুক্তির ব্যবহার করে অর্থনৈতিক দিক থেকে সবচেয়ে বেশী সাফল্য অর্জনকারি দেশ গুলোর তালিকা শীর্ষে রয়েছে সুইডেন, সিঙ্গাপুর, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, অ্যামেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেন। এই তালিকার নিচের দিকে রয়েছে নেপাল, সিরিয়া, পূর্ব টিমর ও হাইতি। প্রযুক্তির ব্যবহারে ইউরোপ অনেক এগিয়ে রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় ভারতকে ছাড়িয়ে চীন উপরের দিকে উঠে এসেছে। এশিয়া মহাদেশে প্রযুক্তির ব্যবহারের দিক দিয়ে ভারত ছিল সবচেয়ে এগিয়ে। তবে চীন সরকার প্রযুক্তিখাতকে অনেক বেশী গুরুত্ব দেওয়ায় ভারতকে টপকে চীন এগিয়ে। ভারত ও চীন এগিয়ে থাকলেও এশিয়া মহাদেশের কয়েকটি দেশ এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে। এশিয়ায় পিছিয়ে থাকা দেশ গুলো হলো নেপাল, তাজিকিস্তান ও পাকিস্তান।

বাংলাদেশে দারিদ্রতা বিমোচনে তথ্যপ্রযুক্তির গুরুত্ব

বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির দিক দিয়ে আমরা অনেক পিছিয়ে। বাংলাদেশে বিজ্ঞান প্রযুক্তির মাধ্যমে দারিদ্রতা কমানো সম্ভব। প্রযুক্তির দ্বারা আমরা অনেক নতুন নতুন দক্ষতা অর্জন করতে পারি এবং তা কাজে লাগিয়ে জীবন জীবিকার মান উন্নয়ন করা সহজ। বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এ জন্য গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তথ্য ও প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি পদ্ধতি এনে দিতে পারে নতুন সম্ভাবনা। কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক সময়উপযোগী ও আধুনিক তথ্য, বাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ ইত্যাদি প্রযুক্তি ইন্টারনেট, মোবাইল এর মাধ্যমে সরবরাহ করা হলে তা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রযুক্তি
উন্নতি সাধন

বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি বাস্তবায়নের কৌশল

বাংলাদেশের কৃষি নীতিতে ই-কৃষি অন্তর্ভুক্তকরণ ও প্রত্যেক ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি তথ্য কেন্দ্র স্থাপন  এবং তা সঠিক ভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণ। কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষিতকরণ, আইসিটি কি সে বিষয়ে ধারণা ও উৎসাহ দেয়া। কৃষি কাজের জন্য ই-কৃষি  কন্টেন্ট তৈরি ও ব্যবহার। কৃষি চ্যানেল সম্প্রচার, ওয়েব টিভি, কৃষিভিত্তিক ওয়েবসাইট ও ওয়েব বেতার চালু করণ। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তি কর্মকান্ডের জন্য সরকার কে জোর দেওয়া।
যে দেশ তথ্য ও প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে যত এগিয়ে সে দেশ তত বেশী উন্নত এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ। প্রযুক্তির ব্যবহারে কারণে বর্তমানে অনেক কঠিন ও সময় ব্যয়বহুল কাজ সহজ এবং খুব কম সময়ে সম্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে। তথ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তি বৃদ্ধি, তথ্য আদান-প্রদান (টেলিযোগাযোগ, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট ইত্যাদি) প্রযুক্তি ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি এসব প্রযুক্তির ক্ষেত্রসমূহ সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত হলে উন্নয়নশীল দেশ গুলো খুব তাড়াতাড়ি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।

 

নিশ্চুপ বৃষ্টির হাজার কথন

বৃষ্টি

কাশটা যেন অনেক বিশাল চাদরে মুড়ে রেখেছে আমাদের এই ধরাকে। কখনো তার রং নীল, কখনো সাদা মেঘে আবার কখনো বিষণ্ণ কালো রং এ যেন নানা রুপের সাজ। গ্রীষ্মের খাঁ খাঁ রোদে মাঠ ঘাট, নদীনালা, খালবিল, পুকুরের পানি শুকিয়ে ফাটল ধরতে থাকে। পশু-পাখি, গাছ-পালা, মানুষ তৃষ্ণার্ত হয়ে উঠে আর আকুতি করতে থাকে একটু শান্তির বৃষ্টির জন্য। এ যেন তৃষ্ণার্তের শ্রষ্টার কাছে আকুল প্রার্থনা। সব কিছু যখন খুব ব্যাকুল হয়ে থাকে তখন বর্ষার আগমনের সময় হয়ে যায়। তখন তৃষ্ণার্ত প্রকৃতিকে অমৃতসুধায় ভরিয়ে দিতে আসে বর্ষাকাল।

বৃষ্টির ফোঁটা
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর

রিমঝিম বৃষ্টি নামার সময় হলে নীল আকাশটা কালো হয়ে যায় যেন তার রূপের পরিবর্তনের শুরু।  আর যখন বৃষ্টির আনাগোনা শুরু হয় তখন চারদিকে সবার প্রাণে নামে শান্তির নিঃশ্বাস। কখনো কখনো চারদিক অন্ধকার হয়ে আসে, বাতাস বয়ে যায় আর কিছুক্ষণ পর নামবে শান্তির বৃষ্টি। আকাশের ভাঁজে ভাঁজে মেঘ জমে আছে। রাখাল বালক ছুটে চলছে ঝড় শুরু হওয়ার আগে গরু গুলোকে ফিরিয়ে আনতে, পাখিরা এক ডাল থেকে অন্য ডালে ছুটাছুটি করছে, স্কুলে ছুটির ঘন্টা বেজে উঠলো ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আনন্দের মিছিলে নেমে পড়লো। বৃষ্টি নামলো প্রকৃতি যেন নিস্তব্ধ হয়ে আছে নতুন প্রাণের ছোঁয়ায়। ফুল গুলো আবার হাসা শুরু করছে এ যেন নতুন প্রাণের মেলা।

র্ষা এলে পাখিরা গাছের ডালে, পাতার ফাঁকে চুপচাপ বসে থাকে। জনশূন্য হয়ে থাকে মাঠঘাট পথ-প্রান্তর। উঠনে জমে থাকে পানি। কানায় কানায় ভরে উঠে নদনদী, খালবিল, পুকুর। চারদিকে পানির থৈ থৈ মেলা। দস্যিছেলেরা দল বেঁধে কলা গাছের ভেলা ভাসিয়ে মনের আনন্দে মেতে উঠে। বৃষ্টির পানিতে সব কিছু ধুয়ে মুছে পরিষ্কার হয়ে যায়। তখন ভেজা মাটির গন্ধে মন কেমন করে উঠে। সবুজে সবুজে এক অপরূপ সৌন্দর্যে সেজে উঠে প্রকৃতি আর পরিবেশ। বর্ষা কালে বিভিন্ন ফুলের গন্ধে মন মাতোয়ারা হয়ে যায়।

লস সময় কাটানোর জন্য সবাই চায়ের কাপ হাতে খোশগল্পে মেতে উঠে। অনেক পুরনো স্মৃতি  মনে পড়ে যায়। প্রকৃতির লীলা খেলার সঙ্গে মানুষের মনেও জেগে উঠে কামনা-বাসনা, প্রেম বিরহের আবহ। বর্ষা এলে শৈশবের অনেক মধুর স্মৃতিতে উদাসীন হয়ে যায় আমাদের মন। বর্ষার জোয়ারে ভাসতে ভাসতে কবিরা তাদের কবিতার মধ্যে প্রেমের ব্যাকুলতা, আবেগ, অনুভূতি প্রকাশ করেন। বর্ষা নিয়ে কবিরা কতশত কবিতা, গল্প, ছড়া রচনা করেছেন তার হিসাব নেই। কি মধুর সেসব কবিতা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বর্ষা নিয়ে লিখেছেন-

ব্যাকুল বেগে আজি বহে যায়,

বিজুলি থেকে থেকে চমকায়।

যে কথা এ জীবনে রহিয়া গেলো মনে

সে কথা আজি যেন বলে যায়

এমন ঘনঘোর বরষায়।।

বর্ষা এলে বাংলার মাঠঘাট ডুবে যায়। পানিতে সব কিছু টুইটুম্বর করে।  পানিতে ভাসমান গ্রামের বাড়ি গুলো যেনো এক একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। ডিঙি নৌকায় বা কলার ভেলায় চড়ে মানুষ এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি যায়। বর্ষায় অনেক ফুল ফোটে যার গন্ধ পাগল করার মত। কদম, কেয়া, হাসনাহেনা, কলমিলতা, নিলকলম, দোলনচাপা বিচিত্র ফুলে ফুলে ভরে যায় প্রকৃতি। বৃষ্টিরদিনে সবচেয়ে মজার বিষয় হল রংধনু। বৃষ্টির পর মনোমুগ্ধকর এক দৃশ্য এই রংধনু।

রংধনু
বৃষ্টি মানে আকাশের সাথে রংধনুর খেলা

বিরহ-বেদনাকে বর্ষা আরো বেশী বাড়িয়ে দেয়। অঝোরধারায় বৃষ্টির সময় কখনো কখনো বিরহের স্মৃতি মনকে ব্যকুল করে তোলে, আবার কখনো সুখের জোয়ারে ভাসিয়ে তোলে। এ সময়ে সেই ছোট বেলার গ্রামের কথা মনে পড়ে যায় স্কুল ছুটির পর বই রেখে থৈ থৈ জলের মধ্যে শাপলা তুলার জন্য ঝাপিয়ে পড়া, এই আনন্দ আর কিসে পাওয়া যায় তা জানা নেই। সবাই মিলে দল বেঁধে ফুল কুড়ানোর মিষ্টি মধুর সময় খুব বেশী মনে পড়ে যায়। সন্ধ্যা বেলার ব্যাঙের ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর মধুর ডাক অন্য কোন ঋতুতে শোনা যায় না।  রাতের বেলায় টিনের চালের উপর টিপ টিপ বৃষ্টির ফোটার শব্দ ঘুমকে করে তোলে শান্তিময়। জেলেরা নৌকা নিয়ে মাছ ধরে।

মাঝিরা তাদের নৌকায় নতুন পাল তোলে নদীর এপাড় থেকে ঐপাড়ে মানুষ পার করে। আর কোকিলের সুরে গান গায়। কবির ভাষায় বলতে হয়-
আষাঢ়ে বাদল নামে নদী ভরভর

মাতিয়া ছুটিয়া চলে ধারা খরতর।

মহাবেগে কলকল কোলাহল ওঠে,

ঘোলা জলে পাকগুলি ঘুরে ঘুরে ছোটে।

দুই কূলে বনে বনে পড়ে যায় সাড়া,

বরষার উৎসবে জেগে ওঠে পাড়া।

বজ্রপাত
বজ্রপাত

বর্ষার পানি বাড়তে থাকলে কৃষকের মনে অনেক চিন্তা কাজ করতে থাকে তাদের ফসলের জন্য। বর্ষা কাল যেমন প্রকৃতিকে সৌন্দর্য্য উপহার দেয় তেমনি অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে। এ সময়ে বন্যা, ঝড় তুফান হয়ে থাকে যার ফলে আমাদের জীবন যাত্রা অচল হয়ে যায়। অধিক পানির জন্য ফসলের অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে। আনন্দ বেদনা কত দিক রয়েছে বৃষ্টির। বৃষ্টি আমাদের অনেক সময় হাসায় আবার অনেক সময় কাঁদায়, আবার আবেগে আপ্লুত করে তুলে। বৃষ্টিতে জমে উঠে অনন্য প্রেম। বর্ষা কাল আমাদের যেন প্রেম-বিরহ-ভালোবাসার ঋতু। বর্ষা মানে বৃষ্টিতে ভেজা এক রমণীয় বাংলাদেশ।

সর্বপরি প্রিয় কবি হুমায়ূন আহমেদ– এর একটা উক্তি দিয়ে শেষ করতে চাই-

“পৃথিবীর সবচেয়ে আনন্দময় জিনসগুলির জন্যে কিন্তু টাকা লাগে না। বিনামূল্যে পাওয়া যায়। যেমনঃ জ্যোৎস্না, বর্ষার দিনের বৃষ্টি, মানুষের ভালোবাসা।”

সুস্থ থাকার জন্য কি ঘুম সত্যি অপরিহার্য??

Sleeping

দৈনন্দিন জীবনে আমাদের জন্য অপরিহার্য কি? হয়ত ভাবছেন খাদ্য, শিক্ষা,কিংবা স্বাস্থ্য? কিন্তু শারীরিক সুস্থ্যতার জন্য ঘুম অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত না ঘুমালে  আমাদের অনেক রকমের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন হজমে সমস্যা, শারীরিক সমস্যা, ওজন বৃদ্ধি, গাড়ি চালনায় সমস্যা, রোগের সম্ভাবনা, জেনেটিক গণ্ডগোল।

Medichin

হার্ট, লিভার, কিডনি, ব্রেইন, ফুসফুস মানব দেহের এসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতা যদি খুব ভালো ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় তাহলে দেখা যাবে একটি সুক্ষ্ম  সফটওয়ার এর মত  স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলো বিরামহীন ভাবে চলছে। তাই মানব দেহের সকল অঙ্গপ্রতঙ্গ গুলো  যথাযথ ভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজন নিয়তিম ঘুম। একজন মানুষকে তার দেহ, মন, মস্তিষ্ক সুস্থ্য রাখতে নিয়মিত ঘুমের বিকল্প কিছু নেই। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬-৭ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন।

গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়মিত তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পরেন এবং সকালে ঘুম থেকে উঠেন, তারা  কাজের প্রতি বেশী মনোযোগী, কাজ খুব নিখুঁত ভাবে সম্পাদন করতে পারেন, মানসিক ও শারীরিক সমস্যা অনেক কম হয়।

brain
ঠিক মতো ঘুম না হলে যেসব সমস্যা হতে পারে

পরিমিত ঘুম না হলে আমাদের অনেক সমস্যা দেখা দেয় যেমন স্মৃতি শক্তি লোপ পায় মনোযোগ ব্যাহত হয়ে থাকে। এ গুলো ছাড়াও যেমন আমাদের ব্যবহার খিটখিটে হয়ে যায়, কাজ কর্মের প্রতি অনীহা চলে আসে, ক্ষুধা মন্দা হয়ে যায়, সবকিছুতে বিতৃষ্ণা দেখা দেয়। ঘুম মানব দেহের  ইমিউন সিস্টেম বা অনাক্রম্যতার সাথে অনেকাংশে  জড়িত যা শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষের দেহের বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তু যেমন  নিউরোট্রান্সমিটারের অধিক পরিবর্তন হয়ে থাকে অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে।  ঘুমের সময় কিছু হরমোন নিঃসৃ্ত হয়ে থাকে যা আমাদের দৈহিক বৃদ্ধি ও মেটাবলিজমে সহায়তা করে থাকে যেমন – বৃদ্ধি হরমোন বা গ্রোথ হরমোন, থাইরয়েড হরমোন।

নিয়মিত ঘুম কেনো প্রয়োজন
ঘুম মানুষের দেহের শক্তি বৃদ্ধির কাজ করে থাকে। অর্থাৎ ঘুম আমাদের সারাদিনের ক্লান্তি কে দূর করে আমাদের মনকে নিয়ন্ত্রিত করে। ঠিক মত ঘুম না হলে চোখের নিচে কালো ছাপ পরে, চুল ঝড়তে শুরু করে, চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ে অনেক বাহ্যিক সমস্যা দেখা দেয়। তাই এই গুলো এড়াতে আমাদের নিয়মিত ঘুম অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণায় দেখা গেছে আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি তখন আমাদের দেহের স্নায়ুগুলো অনেক বেশী সক্রিয় অবস্থায় থাকে। সারাদিন যে সমস্ত কাজ করি অথবা আমরা যা কিছু শিখে থাকি সে গুলো সংরক্ষণের প্রক্রিয়াটি ঘুমের সময় বেশী হয়ে থাকে। আমাদের স্মৃতি শক্তিকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য নিয়মিত ও পরিমাণ মত ঘুম অনেক দরকার।
ঘুমের কারণে ওজন বেড়ে যেতে পারে, ওজন বেড়ে যাওয়া আমাদের জন্য কোনভাবেই ঠিক নয়।

নিয়মিত ঘুম না হলে শরীরের হরমোন নিঃসরণ  ঠিকভাবে  হয় না এর ফলে আমাদের শরীরে অনেক সমস্যা দেখা দেয়। অনেক দিন ঘুম ঠিক মত না হলে হাইপারটেনশন এর সৃষ্টি হয় যার ফলে দেহে অকারণে উদ্ধিগ্নতার সৃষ্টি করে। যা বেড়ে গিয়ে আমাদের হৃদরোগের সমস্যার কারণ হয়ে থাকে। ঘুমের অভাবে আমাদের শারীরিক অনেক প্রক্রিয়া তরান্বিত করে আর এসব প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ্য হলে আমাদের শরীরের কোষ গুলো নষ্ট হয়ে যায়। আমরা যখন রাতে ঘুমিয়ে থাকি তখন দেহের কোষ গুলো সক্রিয় হয়। শারীরিক দুর্বলতা সারিয়ে তোলার প্রক্রিয়াটি নিয়মিত ও ভালো ঘুমের উপর  নির্ভর করে।

ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা, শারীরিক বিপর্যয়, আয়ু কমে যাওয়া, শারীরিক ও মানসিক কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, দৃষ্টি শক্তি জনিত সমস্যা, মাইগ্রেনের সমস্যা হৃদরোগ জনিত সমস্যা এসব থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত ও পরিমিত ঘুম বজায় রাখুন।

time

পরিশেষে এটা বলা যায় সময় মত ঘুমাতে হবে, না অনেক রাত জেগে সকালে, না অনেক আগে যেমন সন্ধ্যায়। সঠিক সময় ঘুমালে সঠিক সময় উঠা যায়।
শেষ করছি কবি নজরুল এর কবিতা দিয়ে-

আমি হব সকাল বেলার পাখি

সবার আগে কুসুম বাগে উঠব আমি ডাকি।“

তাহলে কি ১৯৮৮ সালের বন্যাও ছাড়িয়ে যেতে পারে ২০১৭ সালের বন্যা?

শহর ডুবে যেতে পারে

’৮৮ সালের বন্যা বাংলাদেশে সংঘটিত ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি। এই বন্যা এতো ভয়াবহ ছিল যে বিশ্বব্যাপী গনমাদ্ধমগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। দেশের প্রায় ৬০% এলাকা ডুবে যায় এবং প্রায় ৮২,০০০ বর্গকিমি এলাকা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থায়িত্বকাল ছিল ১৫-২০ দিন। ২০১৭ সালের বন্যা ১৯৮৮ সালের বন্যার সকল রেকর্ড ভাঙছে প্রতিদিন। তাই ধারণা করা হচ্ছে ’৮৮ এর চেয়েও হয়তো ভয়ঙ্কর হবে এই বন্যা।

ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসনে চৌধুরী মায়া সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, “এখন পর্যন্ত দেশের ২০টি জেলার ৫৬টি উপজেলা বন্যা কবলিত৷ বন্যায় সারাদেশে মারা গেছেন ২০ জন,  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৬ লাখ মানুষ৷ এছাড়াও উত্তরাঞ্চলের বন্যার পানি মধ্যাঞ্চল দিয়ে প্রবাহতি হয়ে সাগরে নেমে যাবে৷ ফলে ঢাকার নিম্নাঞ্চলসহ আরও ৯টি জেলায় বন্যার আশঙ্কা আছে৷” তিনি আরও জানিয়েছেন, “১৯৮৮ সালরে চেয়ে বড় বন্যা হলেও মোকাবেলার প্রস্তুতি আছে সরকারের৷”

যমুনার পানি বেড়েই চলেছে
যমুনার পানি বেড়েই চলেছে

এদিকে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। যার ফলে সিরাজগঞ্জের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে যাচ্ছে। দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে পানি কমছে। বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, আজ সকালে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ  পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, “আজ সকাল ছয়টায় দেখা যায় বিপদসীমার ১৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে যমুনার পানি”। তিনি আরও জানান ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি বেড়েছে ১৯ সেন্টিমিটার। যার ফলে কাজীপুর, চৌহালি, শাহাজাদপুর এবং বেলকুচি উপজেলার নিচু এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি ১০ সেন্টিমিটার, ধরলার পানি ১৮ সেন্টিমিটার এবং তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার করে কমলেও কুড়িগ্রামে বন্যাক্রান্ত মানুষের দুর্দশা কমেনি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জায়েদুল হক বলেন, বন্যায় সুনামগঞ্জ জেলার কৃষকদের ৭,৭৭১ হেক্টর আমন ক্ষেত এবং ১,০০৬ হেক্টর বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। গত তিন দিনে বন্যায় দেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

হয়তো এসব কারনেই বন্যা হতে পারে

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এবারের বন্যার কারণ বাংলাদেশের উজান থেকে আসা পানির ঢল এবং অতিরিক্তি বৃষ্টি৷ ত্রাণমন্ত্রী বলেছেন, “উজানের দেশ চীন, ভারত, নেপাল ও ভুটানে এ বছর স্মরণকালের মধ্যে মারাত্মক বন্যা হয়েছে৷ এছাড়া উজনের  দেশগুলোতে বন্যা হলে ভাটির দেশ হিসাবে বাংলাদেশের ওপর    তার প্রভাব তো পড়বেই৷”

নদী ভাঙ্গন
নদী ভাঙ্গন source: www.dw.com

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, “আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার ভিতরে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার ভারত অংশে সর্বোচ্চ ২৫ সেমি পানি বৃদ্ধি পেলেও, বাংলাদেশ অংশে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ৪৫ সেমি পযন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে৷”

দেশের বন্যা কবলিত এলাকাগুলোর সড়ক পানিতে ডুবে গেছে তাই সড়ক যোগাযোগ বন্ধ আছে। কুড়িগ্রামে রেলসেতু পানিতে ডুবেছে। যেসব এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধ আছে সেগুলোতে পানি না ঢুকলেও ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সাধারণত বন্যার মৌসুমে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ১৮ ভাগ তলিয়ে যায়। ব্যাপক আকারে বন্যা হলে তা দাঁড়ায় ৫৫ ভাগে কিন্তু আশঙ্কা করা হচ্ছে এবার বন্যায় প্রায় ৭০ ভাগ ডুবে যাবে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং নদী ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত ডয়চে ভেলেকে বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্লোবাল ফ্লাড এওয়ারনেস সিস্টেম-এর (গ্লোফাস) তথ্য বিশ্লেষণ করলে এটা বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ানক বন্যার কবলে পড়তে যাচ্ছে৷ ১৫ তারিখের পরে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে৷ এই নদী দিয়ে এখন ২০ লাখ কিউসেক পানি প্রবাহিত হচ্ছে৷ আরো ৮-১০ দিন এই প্রবাহ থাকবে৷ কারণ পানি আসছে অসম-অরুণাচল থেকে৷ গঙ্গা বিপদসীমার নীচে থাকলেও নেপালে বৃষ্টির কারণে সেটাও বাড়ছে৷ গঙ্গা, যমুনা ও মেঘনার প্রবাহ যদি একসঙ্গে হয় তাহলে দেশের মধ্যাঞ্চলের জন্যও মহাবিপদ, যা ১৯৮৮ সালে হয়েছিল৷ এর সঙ্গে ২১ আগস্ট অমাবস্যা৷ আর যদি কোনোভাবে সাইক্লোন যুক্ত হয়, তাহলে আসলেই মহাবিপদ আছে সামনে৷”

ত্রাণমন্ত্রী বন্যা প্রতিরক্ষার বিষয়ে জানিয়েছেন, “এরইমধ্যে দশ হাজার মেট্রিক টন চাল, তিন কোটি ১০ লাখ টাকা এবং ৬০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে”। তিনি আরো বলেন, “যত বড় বন্যাই হোক মোকাবেলার প্রস্তুতি আমাদের আছে৷”

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি’র ২৯তম বৈঠকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশগুলো হচ্ছে-

১। এডিপিভুক্ত প্রকল্পের জলাবদ্ধতা দূরীকরণের লক্ষ্যে বর্ষা আসার আগে খাল পুন:খনন করা।

২। সীমান্ত নদী সংরক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা।

৩। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ড্রেজার পরিদপ্তরের চলমান ড্রেজিং কার্যক্রম তদারকি।

৪। ওয়ারপোর (ওয়াটার রিসোর্সেস প্লানিং আর্গানিজেশন) জনবল সমস্যা সমাধানে প্রত্যেক উপজেলায় জনবল নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

৫। জাতীয় পানি নীতির অনুকরণে হাওর সমূহের বাধ ব্যবস্থাপনা, তদারকির জন্য গ্রাম পর্যায়ে সমিতি, ইউনিয়ন পর্যায়ে এসোসিয়েশন এবং উপজেলা পর্যায়ে ফেডারেশন গঠনপূর্বক এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ফেডারেশনের উপর দেয়ার সুপারিশ করা হয়।

মানুষের দুর্ভোগ
মানুষের দুর্ভোগ Source: BBC

টানা বৃষ্টি ভয়ঙ্কর আকারের বন্যা নিয়ে আসে। বন্যার কারণে দেশের নিম্ন এলাকার মানুষরা চরম দুর্ভোগের মাঝ দিয়ে জীবন অতিবাহিত করে। ২০১৭ সালের বন্যা বাংলাদেশের সকল এলাকার মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।  

Source:

www.dailystar.com
www.dailyittefak.com
www.dw.com
www.bbc.com
wikipedia.com

কিছু অসাধারণ মানুষের উক্তি, হয়তো আপানার পথ সহজ করবে।

bucket quotes

আমরা জীবনের বেশীর ভাগ সময় অনেক হতাশাগ্রস্থ্য হতে থাকি আমাদের সাথে ঘটে যাওয়া কিছু অপ্রত্যাশিত কারণে। আর আমরা চিন্তা করতে থাকি আমাদের জীবন আমাদের শুধু শোষণ করে তাই আমরা অনেক বেশী ভেঙ্গে পড়ি। প্রত্যেক মানুষের কিছু না কিছু সমস্যা থেকে থাকে কোন মানুষ পরিপূর্ণ না। যদি আমরা এটা বোঝার চেষ্টা না করি তাহলে আমাদের পূর্বের অবস্থার চেয়ে খারাপ এবং আরও বেশী খারাপ হতে থাকবে। তাই এমন কিছু উক্তি পড়তে পারেন যা বিভিন্ন মনীষী আর গুনীজেনরা বলে ছিলেন। এই উক্তি গুলো পড়লে আপনার জীবনে অনেক বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

earth quote

  • সব মানুষের জীবনেই অপূর্নতা থাকবে। অতি পরিপূর্ন যে মানুষ তাকে জিজ্ঞেস করেলেও সে অতি দুঃখের সাথে তার অপূর্নতার কথা বলবে। অপূর্নতা থাকে না শুধু বড় বড় সাধক আর মহা পুরুষদের।

– হুমায়ূন আহমেদ

  • সফল্যের মূলমন্ত্র হলো যা আমরা ভয় পাই তার উপর নয় বরং আমরা যা চাই তার উপর আমাদের চেতন মনকে কেন্দ্রীভুত করা।

-ব্রায়ান ট্রেসি

  • সাফল্য অনেকটা উস্কানি দেয়া শিক্ষকদের মত। এটা দক্ষ ও বুদ্ধিমান লোকদের চিন্তা করতে বাধ্য করায় যে তারা কখনো হারবে না।

-বিল গেটস

  • যদি আমাকে একটি সমস্যা সমাধানের জন্য এক ঘন্টা বেঁধে দেয়া হয়, আমি তা ৫৫ মিনিট সমস্যা নিয়ে চিন্তা করি এবং বাকী ৫ মিনিট সমাধানটা নিয়ে চিন্তা করি।

– আলবার্ট আইনস্টাইন

  • দুঃখ গুলোকে অনেক বড় মনে হয়, সুখ গুলোর চেয়ে। কিন্তু একটি সফলতাকে অনেক বড় মনে হয়, হাজার ব্যার্থতার চেয়ে।

– সুজন মজুমদার

  • যদি তুমি তোমার কাজকে স্যালুট কর, দেখো তোমায় আর কাউকে স্যালুট করতে হবে না। কিন্তু তুমি যদি তোমার কাজকে অসম্মান কর, অমর্যাদা কর, ফাঁকি দাও, তাহলে তোমার সবাইকে স্যালুট করতে হবে ।

– এ পি জে আবুল কালাম

  • বোকা মানুষ গুলো হয়তো অন্যকে বিরক্ত করতে জানে। কিন্তু কখনো কাউকে ঠকাতে জানে না।

-হুমায়ূন আহমেদ

  • যখন তোমার পকেট ভর্তি টকা থাকবে তখন শুধু মাত্র তুমি ভুলে যাবে যে “তুমি কে” কিন্তু যখন তোমার পকেট ফাঁকা থাকবে অখন সমগ্র দুনিয়া ভুলে যাবে “তুমি কে”!

বিল গেটস

  • যারা নিজেকে নিয়ে ব্যাস্ত থাকে তারা কখনো অন্যের দুঃখ কষ্টকে উপলদ্ধি করতে পারে না।

-রেদয়ান মাসুদ

  • আমি ভাবতাম, আমি গরিব। তারা বলল, আমি গরিব নই, অভাবগ্রস্ত। তারা বলেছিল, নিজেকে অভাবগ্রস্ত ভাবাটা আত্মপ্রবঞ্চনা। আমি বঞ্চিত। ওহ্, না। ঠিক বঞ্চিত না, স্বল্প অধিকারপ্রাপ্ত। তারপর তারা বলল, স্বল্প অধিকারপ্রাপ্ত কথাটা ব্যবহারজীর্ণ। আমি হলাম সাফল্যের পথে বাধাপ্রাপ্ত। আমার কাছে এখনো একটা পয়সাও নেই। কিন্তু আমার শব্দভান্ডার বেশ সমৃদ্ধ হয়েছে।

– জুল ফেইকার

  • নিজের লক্ষ্য ও স্বপ্নকে আপনার আত্মার সন্তান হিসেবে লালন করুন, এগুলোই আপনার চূড়ান্ত সাফল্যের নকশা হবে।

-নেপোলিয়ন হিল

  • যে পুরুষ কখনো দুঃখকষ্ট ভোগ করেনি এবং পোড় খাওয়া মানুষ নয়, মেয়েদের কাছে সে তেমন বাঞ্ছনীয় না। কারণ দুঃখকষ্ট পুরুষকে দরদি ও সহনশীল করে তোলে।

– ডেনিস রবিনস

  • আপনি যদি গরীব হয়ে জন্ম নেন তাহলে এটা আপনার দোষ নয়, কিন্তু যদি গরীব থেকেই মারা যান তবে সেটা আপনার দোষ।

-বিল গেটস

  • দ্রুত কাজ করে অন্যকে অতিক্রম করুন। আপনি যদি সেটি না পারেন, তাহলে বুঝতে হবে আপনি খুব দ্রুত কাজ করতে পারছেন না।

-মার্ক জাকারবার্গ

happy quoets

যে কাজে আপনি ব্যার্থ হয়ে হতাশাগ্রস্থ্য তা এড়িয়ে না চলে তার সমাধান খুঁজে বের করুন। আবার চেষ্টা করুন। ব্যার্থতা আসলে ভেঙ্গে পড়লে চলবে না। সেটাকে সাহসিকতার সাথে মোকাবেলা করতে হবে।

 

বাচ্চা ভালোবাসি, কিন্তু মায়ের যত্ন কি ঠিক ভাবে নিচ্ছি?

pregnant Woman

গর্ভবতী মায়ের সুস্থ্যতার উপর নির্ভর করে একটি সুস্থ্য সন্তান। গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের অপর্যাপ্ত খাদ্য ও অপুষ্টি, মা এবং সন্তানের জন্য অনেক মারাত্মক হুমকির কারণ হতে পারে। গর্ভকালিন সময়ে মা অপুষ্টিতে আক্রান্ত থাকলে অনাগত শিশুর ওজন কম হয়, বুদ্ধির বিকাশে বাধা প্রাপ্ত হয়ে থাকে এবং সাস্থ্য ভালো থাকে না। গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীর থেকে সন্তান প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান গ্রহন করে যা গর্ভের সন্তান কে পরিপূর্ণ ভাবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করে। তাই মায়ের পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টিকর খাদ্যের দরকার যা মায়ের দেহের ঘাটতি পূরণ করে। গর্ভবতী মায়ের স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশী খাবার খেতে হয়। আমাদের বাংলাদেশের বেশীর ভাগ মেয়েরা খুব কম বয়সে গর্ভধারন করে থাকে এবং অপুষ্টি জনিত সমস্যার সম্মুখীন হয়। এ কারণে অনেক সময় মৃত সন্তান প্রসব করে বা অপুষ্ট সন্তান জন্ম গ্রহন করে।

গর্ভকালিন সেবা ও খাবারে তালিকা

-গর্ভবস্থায় ২টি টিটি টিকা দিতে হবে।

-দুপুরের খাবারের পর অন্তত ২ ঘন্টা নিয়মিত বিশ্রাম নিতে হবে।

– দুধ, ডিম, মাছ-মাংস, ঘন ডাল, কলিজা, সবুজ শাকসবজি এবং দেশীয় ফল খেতে হবে।

– গর্ভাবস্থায় ভিটামিন সি যুক্ত খাবার বেশী খেতে হবে।

-প্রতিদিনের তিন বেলা খাবারের সময় অন্তত তিন এক মুঠ খাবার বেশী খেতে হবে।

-গর্ভকালিন সময়ে তিন মাস পর থেকে প্রতিদিন (সকালে ও দুপুরে) ২টি করে ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট ভরা পেটে খেতে হবে।

– গর্ভবতি মায়ের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে হবে।

-আয়োডিন যুক্ত লবণ খেতে হবে।

– বেশী করে পানি খেতে হবে।

-পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।

গর্ভাবস্থায় কিছু চিকিৎসা

মায়ের ওজন, রক্তস্বপ্লতা, রক্তচাপ, গর্ভে শিশুর অবস্থান অন্তত চারবার পরীক্ষা করতে হবে।

-১ম স্বাস্থ্য পরীক্ষা ৪ মাসে

-২য় স্বাস্থ্য পরিক্ষা ২৫-২৮ সপ্তাহে

-৩য় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ৩২ সপ্তাহে

-৪র্থ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ৩৬ সপ্তাহে

গর্ভবতী অবস্থায় যে কাজ গুলো করা যাবে না

-বাড়ীর কঠিন কোন কাজ করা যাবে না।

-ভারী কোন কিছু তোলা যাবে না।

-অনেক দূরের যাত্রা থেকে বিরত থাকতে হবে।

-মায়ের সাথে কোন প্রকার উচ্চস্বরে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

-মায়ের শরীরের ঝাঁকি লাগতে পারে এমন কোন কাজ করা যাবে না।

-ধূমপায়ী থেকে দূরে থাকতে হবে।

-তামাক জাতীয় যেমন জর্দা, সাদা পাতা খাওয়া যাবে না।

-স্বাস্থ্য কর্মী বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ধরনের ঔষধ খাওয়া যাবে না।

প্রসবকালীন ও পরবর্তি যত্ন

-দুগ্ধদানকারি মাকে সকল পুষ্টিকর (আয়রন, ভিটামিন-এ, আয়োডিন, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি) খাবার খেতে হবে।

-পরিবারের সবাইকে মায়ের কাজে সাহায্য করতে হবে।
-গর্ভবতী মাকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত রাখতে হবে। তাকে অনেক সাহস দিতে হবে।

-নিরাপদ প্রসব বাড়িতে না স্বাস্থ্যকেন্দ্রে করবেন তা আগে থেকে ঠিক করে রাখতে হবে।
-মাকে সব সময় হাসি খুশি রাখতে হবে।

-দুগ্ধদানকারি মাকে বেশী বেশী খাবার খেতে উৎসাহিত করতে হবে।
-মা যাতে অনেক সময় নিয়ে শিশু কে দুধ খাওয়াতে পারে তার জন্য মাকে সুযোগ করে দেয়া।

-শিশুর জন্মের পর সাথে সাথে তাকে শাল দুধ খাওয়ানোর জন্য মায়ের কাছে দিতে হবে।
-মায়ের দুধ জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে শাল দুধ খাওয়াতে হবে।

গর্ভকালিন সময়ে ৪টি গুরুত্বপুর্ন ব্যবস্থা

-প্রসবের জন্য আগে থেকে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ধাত্রী বা স্বাস্থ্য সেবা দানকারী ঠিক করে রাখতে হবে।
-এ সময়ের জন্য বাড়তি খরচ আগে থেকে ব্যবস্থা করে রাখতে হবে।

-প্রসবের সময়ে মায়ের অতিরিক্ত রক্তের দরকার হতে পারে। তাই আগে থেকে মায়ের রক্তের গ্রুপের সাথে মিল আছে এমন তিন জন সুস্থ্য ব্যক্তিকে রক্ত দানের জন্য ঠিক করে রাখতে হবে।

-গর্ভকালিন সময়ে দ্রুত হাসপতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করে রাখতে হবে যাতে কোন প্রকার জটিলতা দেখা দিলে সমস্যা না হয়। এজন্য যানবাহন আগে থেকে ঠিক করতে হবে।

baby shoes
একজন সুস্থ্য মা মানে একটা সুস্থ্য সন্তান আর একটা সুস্থ্য সন্তান মানে একটা সুন্দর সুস্থ্য জাতি। 

 

 

আমি লজ্জিত, আমি পুরুষ

নারী তুমি মহান

বাহিরের কাজ সেরে পাড়ার রাস্তা ধরে হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরছি। আমার ঠিক বিশ পঁচিশ কদম সামনে একজন মা(২৮ বছর আনুমানিক) তাঁর স্কুল ফেরত বাচ্চা নিয়ে চৌরাস্তার মোড় পেড়িয়ে হাঁটছেন। স্বভাবগত ভাবে পুরুষের হাঁটার গতিবেগ নারীর চেয়ে খানিক একটু বেশি। স্বাভাবিক ভাবে আমি উনাকে পেছন ফেলেই হেঁটে যাচ্ছিলাম। যেই আমি হাঁটতে হাঁটতে উনার সমান্তরাল হয়ে যাই ঠিক ঐ মূহুর্তে তিনি তার হাঁটার গতিবেগ দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে ফেলেন। (সাধারণত একজন পুরুষ অনেক গুলো নারীর মধ্যে তদ্রুপ একজন নারীও অনেক গুলো পুরুষের আনাগোনার মধ্যে অস্বস্তিবোধ করাটাই স্বাভাবিক) ততক্ষণে প্রায় বাসার গেইটে চলে এসেছি। দুটা গেইট খুলে বাসায় ঢুকতে হয়। ১ম গেইট শুধু খিল লাগানো থাকে আর নিরাপত্তার জন্যে ভেতরের গেইটে সবসময় তালা দেয়া থাকে। তবে বাসার সবার কাছেই এই তালার গণহারে চাবি আছে। যাথারীতি আমি ১ম গেইট শেষে ২য় গেইটটা চাবি দিয়ে খুলে প্রবেশ করছি। দেখি সেই স্কুলপড়ুয়া বাচ্চাটাও আমার পেছনে পেছনে ঢুকবার জন্যে দৌড়ে আসছে। তখন মা ১ম গেইটের আড়ালে দাঁড়িয়ে বলছেন “দাঁড়াও বাবা, আমরা একটু পরে ঢুকবো” আমি জানিনা উনারা একই বাসায় থাকেন আমাদের সাথে। মনে মনে একটু ধাক্কা খেলাম আড়াল দাঁড়িয়ে বাচ্চাকে বারণ করা দেখে। একটু সৎসাহস নিয়ে বললাম ‘ভিতরে ঢুকবেন? আসেন।” মহিলাটি আর বাইরে আড়ালে দাঁড়িয়ে না থেকে বাসায় ঢুকেন, যাওয়ার সময় ছোট্ট একটা শব্দ থ্যাংকস বলে সিঁড়ি বেয়ে উপড়ে চলে যান। ওয়েলকাম শব্দটা শত চেষ্টা করেও কণ্ঠনালীর উপরে আনতে পারি নাই। কারণ আমি পুরুষ, আমাকে দেখে নারী অস্বস্তিবোধ করেন, নিজেকে আড়াল রাখেন। ভীষণ লজ্জা পেলাম। ভাবলাম উনারা চোখে-মনে পুষে রাখেন পুরুষ মানেই হিংস্র জন্তুজানোয়ার।

আমি কি তাহলে অনেক নারীর চোখেই হিংস্র জানোয়ার, পুরুষ বলে? কেমন যেন মন খারাপ লাগছে। আমরা পুরুষেরা নিজেদের কোথায় নিয়ে এসে দাড় করিয়েছি? একবারও কি ভেবে দেখেছি। দেশটা হয়তোবা পুরুষতান্ত্রিক, পুরুষদের সব জায়গাতেই অগ্রাধিকার। তাই বলে আমরা যা খুশি তাই করে বেরাতে পারিনা। এই জিনিসটা আমরা ভুলে গেছি। খুব মন খারাপ হয়ে যায় যখন জাতিগত কারণে আমি কারো ঘৃণার পাত্র হয়ে যাই। পুরুষ হিসেবে আমি খুবই লজ্জিত। মায়ের জাতের সম্মান আমরা কখন করতে পারিনি। সত্যি বলতে আমরা বেশির ভাগ পুরুষরা জানোয়ার। কিন্তু সবাই খারাপ না। যদিও ১০০ এর ভেতর ৯০ ভাগ খারাপ থাকলে তাকে খারাপ বলা যায়। যেই মায়ের থেকে আমাদের সৃষ্টি সেই মায়ের জাতিকে ন্যূনতম সম্মান দেয়ার যোগ্যতা নেই আমদের। বড়ই নিকৃষ্ট আমরা।

লেখকঃ একজন লজ্জিত পুরুষ

 

লিভারের যত্ন

শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ

দেহের সর্ববৃহৎ অঙ্গের নাম লিভার। শরীরের প্রয়োজনীয়তার দিক থেকে লিভার অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যন্ত্র বা মেশিনের মত আমাদের শরীর চলে শক্তির সাহায্যে। এ শক্তির উৎস হচ্ছে খাদ্য। আমরা যা খেয়ে থাকি তা সরাসরি শক্তি উৎপাদন করতে পারে না। খাবার গুলো লিভারে প্রক্রিয়াজাত হয়ে জমা থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কোষে কোষে পৌঁছে শক্তি উৎপন্ন করে। লিভারে পিত্ত তৈরি হয়, পিত্ত এক প্রকার ক্ষারীয় যৌগ যা পরিপাকে সহায়তা করে। তাই লিভার কে বলা হয় “পাওয়ার অফ হাউজ”। ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত কোন বিষাক্ত জিনিস শরীরে প্রবেশ করলে তা বিষমুক্ত করে। প্লাজমা প্রোটিন সংশ্লেষণ, ঔষধ, গ্লাইকোজেনের সঞ্চয় বা অন্যান্য রাসায়নিক বিশুদ্ধ করনে লিভার গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। লিভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন উৎপন্ন করে।

লিভার জনিত রোগ গুলো নাম

লিভার জনিত রোগে প্রতিবছর সারা বিশ্বে প্রায় এক লাখ মানুষ মারা যায়। সাধারণত লিভারে যে রোগ গুলো হয়ে থাকে যেমন– লিভারের ফোঁড়া, পিত্তথলি বা পিত্তনালীর রোগ, লিভার ক্যান্সার, ভাইরাল হ্যাপাটাইটিস যা জন্ডিস নামে পরিচিত, লিভার সিরোসিস ইত্যাদি।

লিভার সমস্যার লক্ষণ

অনেকে দেখা যায় প্রস্রাব বা পায়খানার রং ও প্রবাহ খেয়াল করেন না, বিশেষজ্ঞদের মতে এটা লক্ষ্য করার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন ধরুন প্রস্রাবের রং যদি গাঢ় ও ফেনাযুক্ত হয় এবং পায়খানা পাতলা ও ম্লান রঙের হয়ে থাকে তাহলে লিভারের পরীক্ষা করতে হবে। কারণ এ গুলো লিভারে জনিত সমস্যার লক্ষণ। অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহনের পর এসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা হয়। পাশাপাশি বমি বমি ভাব হয়ে থাকলে লিভার ডিসিসের লক্ষণ এবং বুঝতে হবে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পিত্ত সংক্রান্ত সমস্যায় জিহ্বায় হলদে ভাব দেখা যায়। এ গুলো ছাড়াও জন্ডিস, পিত্ত পাথুরি, হেপাটাইটিস বি-ভাইরাস জনিত কারণে  জিহ্বা হলদে ভাব দেখা দিয়ে থাকে। এমন উপসর্গ গুলো দেখা দিলে বুঝতে হবে লিভার জনিত কোন সমস্যা হয়েছে। নিম্নে আরো কিছু লক্ষণ দেওয়া হলো–

১। চোখের উপরে ব্যাথা হয়ে থাকে অথবা বিবর্ন হয়ে যাওয়া।
২। ফ্যাকাসে পায়খানা হওয়া।
৩। পিত্তথলিতে সমস্যা ও খাবার পর মুখে তিক্তকর ভাব।
৪। খাবার পর পেট ব্যাথা করা।
৫। জন্ডিসের সময় হঠাৎ হঠাৎ বমির ভাব বা তীব্র ভাবে বমি হওয়া।
৬। অনেক বেশী অবসন্নতা অনুভব করা।
৭। পা ফুলে যাওয়া।
৮। লিভারের সমস্যা দেখা দিলে জিহ্বায় কালচে আবরনের তৈরি হয়।
১০।  খাবার গ্রহণে অনিচ্ছা, অনীহা অথবা দুর্বলতা, মাঝে মাঝে জ্বর জ্বর ভাব। জ্বরের মাধ্যমেও লিভারের রোগের সূত্রপাত হয়ে থাকে।

লিভার রোগ প্রতিরোধে করণীয়

১। ঝুঁকিপূর্ণ  কাজ থেকে বিরত থাকুন (যেমন অনিরাপদ যৌনতা, একই সুঁই বা সিরিজ একাদিক বার ব্যাবহার করা)।
২। অ্যালকোহল ও অন্যান্য নেশা জাতীয় দ্রব্য থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। অ্যালকোহলের কারণে অ্যালকোহলিক লিভার সিরোসিস হয়ে থাকে।
৩। ব্লেড, রেজার, ব্রাশ, খুর এ ধরনের নিত্য ব্যাবহারিত জিনিস এক জনের অধিক ব্যাবহারের অভ্যাস পরিহার করুন।
৪। হেপাটাইটিস বি-এর টীকা দিতে হবে।
৫। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রন রাখতে হবে। কারণ স্থূলতা লিভারে চর্বি জমায়।
৬। চর্বি যুক্ত খাবার কম খেতে হবে। কারণ শর্করা জাতীয় খাবারে আধিক্যের কারণে লিভার মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
৭। বেশী বেশী ফলমূল শাকসবজি খেতে হবে।
৮। বিশুদ্ধ পানি পান করুন ও খাবারে লবন গ্রহণ করুন।

৯। ডায়াবেটিস যাতে নিয়ন্ত্রণের বাহিরে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
১০। নিজেকে সবসময় পরিস্কার পরিছন্ন রাখুন।
১১। ব্লাডপ্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখুন কারণ উচ্চ রক্তচাপ লিভারের কার্যক্ষমতা কে বাধাগ্রস্থ্য করে।
১২। নিয়মিত ব্যায়াম করুন (যেমন- হাঁটা, যোগব্যায়াম ইত্যাদি)।
 

“সেদিন থেকে রিকশাচালকদের উপর একটা সম্মান কাজ করে”

রিকশাচালকদের সম্মান দিন।

 

বৃহস্পতিবার অফিস ডিউটির শেষার্ধে কাজ করতে একদমই মন বসেনা, আলসেমিতে পেয়ে বসে কখন বের হব কখন বের হব একটা টান মাথায় ঘুরতে থাকে। আমার মত কাজ ফাঁকিবাজ লোকদের ক্ষেত্রে এমনটা হয়। অবশ্য ভাল চাকুরীজীবিদের ক্ষেত্রে নাও হতে পারে এমন। কিছুতেই আর মন বসছিলোনা কর্মক্ষেত্রে তাই নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘন্টা আগেই বেরিয়ে পরেছি।

  • আমার মায়ের বাপ মুমূর্ষ অবস্থায় ভর্তি একটা প্রাইভেট হসপিটালে প্রায় অনেকদিন যাবৎ। তাই নিয়ম মাফিক একবার অফিস শেষে যেয়ে দেখে আসতে হয় প্রতিদিন। কর্তব্যবোধ বলতে একটা ব্যাপার আছে নাহ্! নানায় যদি আম্মাকে পয়দা না করতো তাইলে আমি আসতাম কোত্থেকে।
  • নানার সাথে দেখা করে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিবো জম্পেশ। সারা সপ্তাহের উশুল একদিনে। তাই একটা তাড়নাবোধ কাজ করছিলো। সন্ধ্যা বেলা রিকশা পাওয়া চাঁদ কপালের ব্যাপার। এদিকওদিক রিকশার জন্য চোখ বুলাচ্ছি। তখনি সামনে এসে থামলো একটি রিকশা। যাবেন?মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো এবং ইশারায় উঠে বসতে বল্লো,কোথায় যাবো ফিরতি প্রশ্ন না করেই। বিষয়টা অবাক ও ভাল লাগলো।
  • একটু পরেই সব ভাললাগা মলিন হতে চললো। এমনিতেই তাড়াহুড়া এর মধ্যে উনি রিকশাটি কচ্ছপ গতিতে চালাতে লাগলেন সারাটি পথ। মেজাজতো বেজায় এক লাফে ২° ডিগ্রি থেকে ৩৫৯° ডিগ্রিতে গিয়ে টগবগে অবস্থা। মনে মনে ভাবলাম, নাহ রাগ প্রকাশ করা যাবেনা, দেখি এর শেষ কোথায় কি হয়! জিভ-ঠোঁট চেপে বসে আছি আসনে।
  • রিকশা থেকে নেমে ভাড়ার দ্বিগুণ একটা নোট হাতে ধরিয়ে জিজ্ঞাসিলাম-

-মামা! নাম কি আপনার? (মানুষের নাম জানা আমার একটা শখ, স্বভাবও বলতে পারেন, যদিও পাঁচ মিনিট পরে মনে থাকেনা)

-নুদ্দিন, আরেহ মামা নুদ্দিন নাহ! নুরদ্দিন,  নূর উদ্দিন। (তৃতীয়বার উচ্চারণের সময় ঠিক করে বললেন)

-খুব সুন্দর নাম! -হ মামা সুন্দর! আম্মায়ও বলে। আপনি বোধয় মনে মনে রাগছেন রিকশা আস্তে আস্তে চালানোর জন্য?

-আরেহ নাহ মামা! রাগি নাই (মিষ্টি একটা মুচকি হাসি দিয়ে)

-আসলে মামা, আমার পা একটা অবস টাইফয়েড জ্বরে। তাই এ অবস্থা। (ততোক্ষণে রাগ ভ্যানিস)

-নাহ ঠিক আছে, কর্ম করে খান চুরি কিংবা অন্যকিছু তো আর করছেন না। কিংবা কারও দ্বারস্থ হচ্ছেন না অন্ততপক্ষে। আচ্ছা আপনি অন্য কোন কাজ করতে পারেন নাহ্? যেটাতে আপনার পা-এ প্রেশার না পরে।

-ছিল মামা। এখন আর নাই, সিজনাল কাম তো! বেকার না থেকে তাই রিকশা চালাতে চলে এলাম, বৌ-বাচ্চা খাওয়াতে চলে এলাম।

  • এভাবেই অনেক নুদ্দিন,নুরদ্দিন, নূর উদ্দিন আছেন আমাদের দৃষ্টির পাশে এবং আড়ালে। জীবনঘানি টেনে যাচ্ছেন শরীরের বিশেষ কোন অঙ্গ অবস-অকেজো থাকা সত্বেও। আর আবার অনেকে সর্বাঙ্গ সুস্থ্য-সবল থাকা পরেও মা-বাবা-অন্যের উপরে পা এলিয়ে খাই।এসব শরীরের রক্ত পানি করা খেটেখুটে খাওয়া মানুষগুলো আপনার আমার কাছে আহামরি কিছু চান-না,তাদের ন্যায্য পাওনা পেলেই খুশি। হর-হামেশা অনেকে আবার ৫/১০ টাকার জন্যে অনেক রিকশাচালক কে ধমকা-ধমকি এবং মারতেও দেখেছি। সার্বভৌম বাংলাদেশে আপনি যেমন নাগরিক তারাও কিন্তু নাগরিক। আপনার যদি কোন কিছুতে মতামত দেয়ার অথবা প্রতিবাদ করার অধিকার থাকে তাহলে তাদের ও আছে। অনেকে আছেন তাদের তুই/তুমি করে কথা বলেন। আপনার বয়সে বড় কোন মানুষের পেশা যাই হোক না কেন তাকে তুই/তুমি বলে সম্বোধন করার কোন অধিকার আপনার নেই। আমার, আপনার কাছ থেকে তারা যদি একটু ভালো ব্যবহার পান, দেখবেন এই মানুষটি’ই পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সুখী ঠিক ঐ মুহূর্তে। তাদের সাথে সম্মান দিয়ে কথা বললে আপনার সম্মান কিন্তু কোন অংশে কমে যাবেনা।

ঢাকার রাস্তায় চলাফেরা মানেই রিকশা। রিকশা ছাড়া একটা দিন কি কখন ভেবে দেখেছেন। রোদ, ঝড়, বৃষ্টি কোন দুর্যোগ রিকশাওয়ালাদের আটকে রাখতে পারেনা। আমরা কি পারিনা তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্যটা দিতে। আপনি হয়তো বলবেন যা দেন সেটাই ন্যায্য। ভিক্ষুকদের টাকা না দিয়ে এই মানুষগুলোকে টাকা দিন। আপনার খুশি হয়ে দেয়া টাকায় এরা খুব বড়লোক হয়ে যাবেনা, খুব বেশি হলে হয়তো দুবেলা পরিবারকে ঠিক মত খাওয়াতে পারবে।

  • লেখকঃ ক্ষণিকের রাগান্বিত রিকশা আরোহী।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে কিছু জরুরি কথা

সন্তানদের সাথে কথা বলুন

“বাবা-মা”

আমি তোমাদের অনেক কষ্ট দিয়েছি। আমার কারণে তোমারা কারো কাছে মুখ দেখাতে পারছ না। আমি শুধু তোমাদের কষ্টই দিলাম। বিশ্বাস কর আমি অনেক পড়েছিলাম কিন্তু কি হল বুঝতে পারলাম না। রেজাল্ট শোনার পর থেকে মনে হচ্ছিল পৃথিবীটা কেমন দুলছে। একটু আগে তোমারা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলছিলে যাই রেজাল্ট হোক। দুশ্চিন্তা কর না। সেই তোমরা হঠাৎ করে কেমন যেন হয়ে গেলে। আমাকে একটুও বুঝলে না। আমি কি এতই খারাপ যে আমার কথাটাও শুনলে না। আমি আর তোমাদের কষ্ট দিতে চাইনা। আজকের পর থেকে আমাকে নিয়ে আর তোমাদের লজ্জা পেতে হবে না। ভালো থেকো তোমরা।

ইতি

তোমাদের…।

চিঠিটা কি পরিচিত লাগছে আপনাদের কাছে?

২০১৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের পর বেড়েছে আত্মহত্যার সংখ্যা। অনেক ছোট ছোট ভাইবোনেরা চলে গেছে না ফেরার দেশে। অনেকে আত্মহত্যা করেছে এ প্লাস না পেয়ে অনেকে আত্মহত্যা করেছে ফেল করে। ওদের এই চলে যাওয়ার পেছনে কাদের দায়টা সবচেয়ে বেশি? বলতে পারবেন??

আমাদের বয়স যখন স্কুলে পড়ার তখন থেকে প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দেন অভিভাবকরা। “তোমাকে এই স্কুলে পড়তেই হবে”। অনেকে কাঙ্ক্ষিত স্কুলে পড়ানোর জন্য ক্লাস ড্রপ দেয়ায় নিজের সন্তানকে। তখন এটা মাথায় একবারও আসে না সে কি অনুভব করছে? সে কি এতো চাপ নিতে পারবে? সেই যে শুরু হয় শিক্ষা যুদ্ধ তা চাকরি যুদ্ধে গিয়েও যেন শেষ হতে চায় না।

প্রতি ক্লাসে তোমাকে প্রথম হতে হবে। ও পারলে তুমি কেন পারবে না? এমন হাজারও প্রশ্নের ভেতরে সন্তানের মনের কথা শোনার মত সময় কারো থাকে না। তাই হয়তো তাদের মৃত্যুর পর তাদের কথা গুলো চিঠির মাধ্যমে দেখতে পান। কোন ছাত্র যদি পরীক্ষায় ১০০ তে ৫০ পায় তাহলে তাকে বকা অথবা অপমান না করে এটা অনুসন্ধান করুন সে কেন কম পেয়েছে? কম পাওয়ার কয়েকটা কারণ থাকাতে পারে। যেমনঃ

১। ঐ বিষয়ে সে মনোযোগী ছিল না।

২। সে ফাঁকি বাজি করেছে।

৩। তার এই বিষয়ে পড়তে ভালো লাগে না।

৪। কোন কারণে সে মানসিক ভাবে ভালো নেই।

উপরের কারণ গুলোর ভেতরে শুধু ২ নম্বর কারণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের বকা দেয়া হয়। কিন্তু কখন বাকি গুলো নিয়ে চিন্তা আসে না। সব গুলো বিষয় নিয়ে তার সাথে কথা বলা দরকার। বকা দিয়ে কখন কোন ভালো কিছু হয় না। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় প্রতিটি শিক্ষার্থী এক ভিন্ন মানসিকতার মধ্য দিয়ে যায়। খুব নড়বড়ে থাকে চিন্তা চেতনাগুলো। উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল অনেক কিছু নির্বাচন করে দেয়। ফলাফল পেয়ে তাই অনেকে হতাশায় পরে যায়। সেই মুহূর্তে তার পাশে না দাড়িয়ে তার সাথে অপমানসূচক কথা বলা সত্যি নির্মম।

পাড়া-প্রতিবেশি এবং আত্মীয়রা বিভিন্ন ধরনের উস্কানিমূলক কথা বলে ফেলেন অভিভাবকদের সাথে। একবার কি এটা তাদের মাথায় আসে না এই কথা গুলোর প্রভাব অন্য কারো উপর আসতে পারে। সবচেয়ে অবাক লাগে যখন তাদের কথা শুনে অভিভাবকরা খারাপ ব্যাবহার করেন। যারা আপনার সন্তানকে খাওয়ায় না, পড়ায় না তাদের কথা শুনে আপনি আপনার সন্তানের সাথে খারাপ ব্যাবহার করেন, মারধোর করে। একজন শিক্ষার্থী যখন খারাপ ফলাফলের পর মাথা নিচু করে থাকে তখন তাকে কি বলার থাকে। সে যদি যথেষ্ট পরিশ্রম করে থাকে তাহলে তার ফলাফলে আপনি তার চেয়ে বেশি দুখী হতে পারেন না। সুইসাইড নোটগুলো পড়ে অনেক বেশি খারাপ লেগেছে অভিভাবকদের কথা ভেবে। আপনারা কি সন্তানকে আর একটা সুযোগ দিতে পারতেন না। আপনাদের সন্তান আপনাদের ভবিষ্যৎ। তাদের অবহেলা করবেন না। আপনারা ক্ষমা না করলে আর কেউ নেই পৃথিবীতে ক্ষমা করার। সৃষ্টিকর্তার পর আপনারাই সন্তানের কাছে সব কিছু।

আপনি যদি চেষ্টা করেন তাহলে খুব সহজেই আপনার সন্তানের বন্ধু হতে পারেন। রাগ দেখিয়ে আপনি তাকে হয়তো বাধ্য রাখতে পারবেন, ভয় দেখাতে পারবেন। কিন্তু সে আপনাকে কখন বন্ধু ভাববে না। আর এটাই সবচেয়ে বড় ভুল। ভালবাসা দিয়ে একবার বলেই দেখুন সে আপনার জন্য কি করতে পারে।

আজ সারাবিশ্বে আইএস সন্ত্রাসীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। এই সংগঠনটির মূল নিশানা তরুণ তরুণী। কারণ এই সময় একজন মানুষের মানসিক অবস্থা দোদুল্যমান থাকে। খুব সহজে তাদের প্ররোচিত করা যায়। অভিভাবকরা যদি একটু সচেতন হতেন তাদের সন্তানের ব্যাপারে তাহলে আজ নিবরাস ইসলাম, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ  এর মত জঙ্গিদের সৃষ্টি হতনা। হলি আর্টিজানের  হামলায় অভিভাবকদের অবহেলা এবং সচেতনতা দুই দিকই ফুটে উঠেছে।

বাবামায়ের ভালবাসার উদাহরণ যেখানে আয়াজের মত বীর সেখানে অবহেলার উদাহরণ হিসেবে আছে নিবরাসের মত জঙ্গি। এখানে দুজনের বয়সই একরকম।