রমজানে কিভাবে ঠিক রাখবেন নিজের শরীর

রমজান

রমজানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হল ইফতার। সারাদিন আল্লাহ্‌র জন্য ইবাদত করার পর ধর্ম প্রাণ মুসলমানরা এই সময় খাবার গ্রহণ করে। সুতরাং এই সময়ের খাবারটা খুবই পুষ্টিকর হওয়া উচিৎ। সারাদিন না খাওয়ার পর আমরা এমন কিছু খাবার খাই যা আমদের স্বাস্থ্যের জন্য হানিকারক। তাহলে জেনে নিন কোন কোন খাবারগুলো ইফতার বা সেহেরীতে খাওয়া উচিৎ না আর কোন খাবার গুলো খেলে আমাদের স্বাস্থ্য ভাল থাকবে। রোজা রাখতে গিয়ে রমজান মাসে অসুস্থ হলে চলবে না।

রমজান শুরু হলে কি খাবেন আর খাবেন না

রমজান

  • এবার রমজান এসেছে গ্রীষ্মের দাবদাহে। সারা দিন পানি ছাড়া থাকাটা অনেক কঠিন। এই গরমে তাই অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি না খেলে হজমের সমস্যা হবে। ইফতারের পর থেকে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত একটু পরপর পানি খেতে হবে।
  • বেগুনি, পিঁয়াজু, চপ, মাংসের আইটেম, হালিম, বিরিয়ানি এগুলো না খেয়ে বেশি করে ফল খেতে পারেন। যদি ভাজা পুরি খেতেই ইচ্ছে করে তবে কষ্ট করে বাসায় বানানো খাবার খাবেন।

রমজান

  • যে তেলে ভাজা হয় সেই তেল একবারের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। একই তেল বারবার আগুনে ফোটালে কয়েক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য (ট্রান্স ফ্যাট) তৈরি হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তেল বারবার ব্যবহারে পলি নিউক্লিয়ার হাইড্রোকার্বন তৈরি হয়, যার মধ্যে বেনজা পাইরিন নামক রাসায়নিক থেকে ক্যান্সারও হতে পারে। তা ছাড়া অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি খাবারে পেটের অসুখ হয়।

রমজান

  • খেজুর বা খোরমা অবশ্যই খাবেন। এতে আছে শর্করা, চিনি, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, কপার, সালফার, ম্যাঙ্গানিজ, সিলিকন, ক্লোরিন ফাইবার যা সারা দিন রোজা রাখার পর খুবই দরকারি।
  • চিনিযুক্ত খাবার বাদ দিলে ভালো হয়। এটা খুব তাড়াতাড়ি রক্তে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, ওজন বাড়ায়। তাই যথাসম্ভব চিনি ও চিনিযুক্ত খাবার কম খান।
  • সবজি ও ফল খেতে হবে নিয়ম মাফিক। তা না হলে এই সময়ে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে নিত্যসঙ্গী।

রমজান

  • প্রত্যেক বেলা মাংসের আইটেম রাখবেন না। মাছ বেশি খাওয়ার চেষ্টা করুন।
  • সারা দিন রোজা রাখা নাজুক পাকস্থলী ঠিকমতো হজম করতে পারবে এমন খাবার রাখুন। যেমন দই, চিরা, কলা।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য হলে খাদ্য তালিকায় তোকমা বা ইসুবগুলের ভুসি রাখুন।
  • আপনার যদি অনেক বেশি শরীর দুর্বল লাগে তাহলে ইফতারে ডাবের পানি রাখুন। ইফতারের পর স্যালাইন খান।
  • আঁশ সমৃদ্ধ খাবার খান। আপনার হজম শক্তি ভাল থাকবে, কোষ্ঠকাঠিন্য হবে না। আর আপনার রক্তে চিনির মাত্রাও বাড়বে না।
  • কোমল পানীয় ঘুমের সমস্যা, অ্যাসিডিটি, আলসার ইত্যাদির কারণ। তাই এ কোমলপানীয়কে সারা জীবনের জন্য পারলে বাদ দিন।
  • পাকস্থলীতে অধিক উত্তেজনা কিংবা অস্বস্তি সৃষ্টি করে এমন খাবার খাওয়া সঠিক নয়। কারণ গুরুপাক খাবার খেলে শরীরের বিপাকক্রিয়া বেড়ে যায়। অধিক চর্বিজাতীয় খাবার খেলে শরীর অসুস্থ হয়।
  • সেহেরীতে খুব কম বা বেশি খাওয়া উচিৎ না। কম খেলে সারাদিন আপনার দুর্বল লাগবে।

রমজান শুরু হলে শারীরিক ব্যায়াম কি করে করবেন

অনেকেই আমরা নিয়মিত ব্যায়াম করে থাকি। কিন্তু এই রোজার সময়ে আগের মতো ব্যায়াম করা সম্ভব হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলেন কোন ভাবেই রোজা করে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করা ঠিক যাবে না।

তবে শরীর সায় দিলে হালকা ব্যায়াম করা যায় তবে তা অবশ্যই সন্ধ্যার পর, শরীরের উপর চাপ পড়ে এমন কিছু করা যাবে না।

তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হেলথ ইন্সট্রাক্টর মোহাম্মদ ইউনুস বলছেন যারা রোজা করবেন তাদের জন্য নামাজ বিশেষ করে ইফতারির পর রাতে তারাবির নামাজ নিয়মিত আদায় করাটাই বড় ব্যায়াম হতে পারে। এছাড়া ইফতারি বা রাতের খাবারের পর হাঁটা চলাও ব্যায়াম হিসেবে কাজে দেবে।

ঘুম

রমজান

সেহেরীর জন্য আমরা অনেকটা সময় জেগে থাকি। তাই ঘুম যেন পরিপূর্ণ ভাবে হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর কঠিন শারীরিক পরিশ্রম হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

ইফতারের পর বা সেহেরীর পর ধূমপান থেকেও বিরত থাকা উচিত।

রমজান মাস হল সিয়াম সাধনের মাস। যতটুকু পারবেন এই মাসে নিজেকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখুন। পান, সিগারেট, জাঙ্কফুড, কোমল পানীয়, তামাকের মত বাজে জিনিস গুলো বাদ দিয়ে দিন। দেখবেন আপনি কতোটা সুস্থ অনুভব করছেন। ইংরেজি নতুন বর্ষে আমরা যেভাবে নিজেকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করি সেভাবে রমজান মাসও হতে পারে আমাদের পরিবর্তন করার একটি পবিত্র সময়।

সবাই ভাল থাকুন এবং সুস্থ থাকুন।

কুকুর যদি খেতে না চায় তাহলে কি করবেন?

কুকুর

আমাদের ঘরের পোষা প্রাণীটি কিন্তু আমাদের কাছে বাচ্চা বা শিশুর মত প্রিয়। বাচ্চারা যখন খেতে না চায় তখন আপনি কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পারেন যে কেন ওর খাবারে অরুচি। কিন্তু আমাদের পোষা প্রাণীটির ক্ষেত্রে কি আমরা বুঝতে পারি তারা কেন খাচ্ছে না? আমরা আজ আমাদের সবচেয়ে প্রিয় পোষা প্রাণী কুকুরকে নিয়ে আলোচনা করব। কুকুর স্বভাবতই খেতে ভালবাসে।

যদি খাওয়া বন্ধ করে দেয় তাহলে বুঝতে হবে কোন শারীরিক কারণে এমনটা হচ্ছে। না খাওয়ার সঠিক কারণ বের করে এর জলদি সমাধান করুন।

কুকুর যদি অসুস্থ হয়

প্রথমেই আপনি আপনার কুকুরটির শরীরের তাপমাত্রা মেপে দেখুন। যদি ১০২ ডিগ্রির এক দাগও বেশি হয় তাহলে তা জ্বর বলে গণ্য হবে। জ্বর, ডায়রিয়া, কিডনির সমস্যা হলে কুকুর খেতে চায় না।

কুকুর

সমাধান- যত দ্রুত সম্ভব ভেটের কাছে নিয়ে যান। কুকুরদের সুস্থ হতে বেশি সময় লাগে না। আর ওকে অনেক সময় দিন ও অনেক ভালবাসুন।

কুকুরের যদি ক্রিমি হয়

এটা খুব বড় একটা সমস্যা। কুকুরের যদি শরীরে ক্রিমি থাকে তাহলে বমি করবে অনেক ক্ষেত্রে পাতলা পায়খানাও করতে পারে। সুতরাং এমতাবস্থায় অরুচি হওয়াটা খুব স্বাভাবিক।

কুকুর

সমাধান- এমন হলে জলদি ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। ডিওয়ারমিং ওষুধ অথবা ভেক্সিন করিয়ে নিন। এতে করে ও অনেক দিন ক্রিমি থেকে সুরক্ষিত থাকবে। বেশি দেরি হয়ে গেলে আপনার কুকুরটি মারাও যেতে পারে। সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন থাকবেন। কারণ এই ক্রিমি আপনাকেও আক্রান্ত করতে পারে।

কুকুরকে যদি স্পে বা নিউটার করানো হয়

স্পে বা নিউটার করালে কুকুরের অরুচি দেখা যায়। অনেক সময় ভ্যাক্সিনেশন করানোর ফলেও এমনটা হতে পারে। শরীরের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের ছেয়ে কিছুটা বেশি থাকে।

কুকুর

সমাধান- এমন হলে চিন্তার কোন কারণ নেই। কিছু দিন সময়দিন ও নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যাবে। ওকে একটু বেশি সময় দিন।

হিটিং টাইম হলে অরুচি হয়

যদি আপনার কুকুরের হিটিং টাইম হয়ে থাকে তাহলে ও ঠিক মত খাবে না, অযথা ডাকাডাকি করবে, যেখানে সেখানে পি(প্রস্রাব) করতে পারে।

সমাধান- এ ধরণের সমস্যা হলে জলদি ওর সঙ্গী আনার ব্যবস্থা করুন। অনেকে এমন সমস্যায় নিউটার করিয়ে দেন কিন্তু এতে করে ওর স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে।

দীর্ঘদিন একই খাবার খেলে

অনেকের অভিযোগ থাকে আমার কুকুর ছোট বেলায় অনেক খেত এখন কিছু খেতে চায় না। একদম খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে। সেক্ষেত্রে লক্ষ করুন আপনি ওকে দীর্ঘদিন একই খাবার দিচ্ছেন কিনা। যদি দিয়ে থাকেন তাহলে সমস্যাটা এখানেই।

কুকুর

সমাধান- আপনাকে যদি তিন বেলা ভাত আর ডাল খেতে দেয়া হয় অথবা প্রতিদিন পোলাও-মাংস দেয়া হয় আপনি কতদিন খেতে পারবেন? আপনার কুকুরের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা এমন। সুতরাং খাবারে বৈচিত্র্য আনুন। খাবারের তালিকায় ফল, চিজ, সবজি রাখুন। সব সময় পরিষ্কার, তাজা এবং ভাল খাবার খাওয়াতে হবে।

রোজা রাখলে শারীরিক ভাবে আমরা যেভাবে উপকৃত হই

রোজা

 

আমাদের দেশে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলমান। তাই রমজান মাসে অধিকাংশ মানুষই রোজা রাখেন। রমজান আত্মশুদ্ধি আর সংযমের মাস। রোজা শরীর মনকে যেমন সতেজ রাখে তেমনি অনেক বদ অভ্যাস ত্যাগ করতেও সহায়তা করে। অনেকে বলেন রোজা রাখলে গ্যাসের সমস্যা হয়, শরীর দুর্বল লাগে এছাড়াও নানান ধরণের সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না রোজা অনেক রোগের ঔষধ হিসেবে কাজ করে। যা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত।

রোজা রাখলে ওজন কমে

রোজা
যদি আপনি দ্রুত ওজন কমাতে চান তবে রোজা রাখুন। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন আপনার ধর্মীয় রীতি পালন করাও হবে আর আপনার শরীরের অতিরিক্ত মেদও ঝরে যাবে।

মিষ্টি ও তৈলাক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে দ্রুতই আপনার ওজন কমে যাবে। রোজায় সাধারণত দুই বেলা খাওয়া হয়।

আর এ সময় যদি পরিমাপ মতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়া যায় তবে রোজার মাস শেষ হওয়ার আগেই ওজন কমে যাবে।

কিন্তু আপনি যদি ইফতারের পর ইচ্ছে মত খেতে থাকেন ঘটনা কিন্তু উল্টো হতে পারে।

রোজা কলেস্টরল কমায়

রোজা
রোজার মাসে রোজাদাররা বেশিরভাগ সময়ই বাসার খাবার খেয়ে থাকেন। এটা সত্যি কথা বলতে আমাদের বাধ্য হয়েই করতে হয়।

বাইরের তৈলাক্ত এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকেন। ফলে শরীর কলেস্টরলের মাত্রা ঠিক রেখে বাড়তি কলেস্টরল ঝেড়ে ফেলে।

রোজা ভালো কোলেস্টেরলকে (এইচডিএল) বাড়াতে এবং মন্দ কোলেস্টেরল (এলডিএল) ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে। এর দরুন আমাদের উচ্চ রক্তচাপও নিয়ন্ত্রিত থাকে।

রোজা আমাদের আসক্তি কমায়

রোজা
পবিত্র রোজার মাসে রোজা পালনকারীরা ধূমপান, মদ্যপানের মতো বিভিন্ন আসক্তি থেকে বাধ্য হয়েই দূরে থাকেন। যা আপনার প্রতিদিনের অভ্যসকে ভেঙে দেয়। ফলে সহজেই আপনি এসব আসক্তি দূর করতে পারবেন। এক কথায় আপনার আয়ু কিছুটা বাড়িয়ে দেয়।

ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য রোজা

রোজা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে রোগীদের জন্য এক অন্যতম সুযোগ। এটা তাদের জন্য রহমত স্বরূপ। ডায়াবেটিক রোগীরা সঠিক নিয়মে রোজা রাখলে নানা রকম উপকার পেতে পারেন।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মূল উপায় হল খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, আর রোজা রাখা হতে পারে এক অন্যতম উপায়।

এতে সহজেই খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সহজ ও সুন্দরভাবে করা যায়। যারা ইনসুলিনের উপর নির্ভরশীল নন, তাদের ক্ষেত্রে রোজা রাখা হতে পারে আদর্শ চিকিৎসা ব্যবস্থা।

যারা ইনসুলিন নেন তাদের ক্ষেত্রেও রোজা অবস্থায় ওষুধের মাত্রা কমাতে সহায়ক। শুধু রক্তের গ্লুকোজই নয়, রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণেও রোজা মোক্ষম।

তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন এর ফলে হাইপো-গ্লায়সেমিয়া (শর্করা স্বল্পতা) আবার হয়ে না যায়।

পেপটিক আলসার

রোজা
এক সময় ধারণা ছিল পেপটিক আলসারে আক্রান্ত রোগীরা রোজা রাখতে পারবেন না, তাদের ঘনঘন খাওয়া খেতে হবে। অনেকক্ষন পেট খালি রাখা যাবে না। অনেকে মনে করেন রোজা পেপটিক আলসারের ক্ষতি করে এবং এসিডের মাত্রা বাড়ায়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এসব ধারণা ঠিক নয়। রোজায় নিয়ন্ত্রিত খাওয়া দাওয়ার ফলে এসিডের মাত্রা কমে যায়। তাই সঠিকভাবে রোজা রাখলে এবং সঠিক খাবার দিয়ে সেহেরী ও ইফতার করলে রোজা বরং আলসারের উপশম কম করে। অনেক সময় আলসার ভাল হয়ে যায়। এছাড়া রোজা গ্যাস্ট্রিইটিস, আইবিএস ইত্যাদি রোগের জন্যও  উপকারী।

শ্বাসকষ্ট ও এজমা রোগী

রোজা
যারা এই সমস্ত রোগে ভোগেন, তাদেরও রোজা রাখতে কোন অসুবিধা নেই। রোজায় এ ধরণের রোগ সাধারণত বৃদ্ধি পায় না। বরং চিন্তামুক্ত থাকায় এবং আল্লাহর প্রতি সরাসরি আত্মসর্মপনের ফলে এ রাগের প্রকোপ কমই থাকে। প্রয়োজনে রাতে একবার বা দুইবার ওষুধ খেয়ে নিবেন যা দীর্ঘক্ষণ শ্বাস নিয়ন্ত্রণে রাখে। এ ধরণের ওষুধ বাজারে সহজেই পাওয়া যায়। দিনের বেলায় প্রয়োজন পরলে ইনহেলার জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যায়, যা রোজার কোন ক্ষতি করবে না।

চর্মরোগরোজা

রোজা চর্ম রোগীদের জন্য ও বেশ কার্যকর, আর এটি হয়ে থাকে শরীর থেকে বিষাক্ত বর্জ বেরিয়ে যাওয়া এবং রক্ত পরিশুদ্ধু হবার ফলে।

এই হলো মোটামুটি বৈজ্ঞানিক কিংবা চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টির আলোকে রোজার উপকারিতা।

রোজা মানে কিন্তু শুধু খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে রাখা না সবকিছুকেই নিয়ন্ত্রণ করা।তার মানে এই সময়টাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময় যখন আপনি আপনার চরিত্রের অনেক কিছু চাইলে পরিবর্তন করতে পারবেন।

আর ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে রোযার উপকারিতা কি তা বলা খুব সহজ।

তাহলো এটি- ইসলামের ৫ টা স্তম্ভের মধ্যে এর অবস্থান ৩য়, তার মানে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ আর এটা একটা ইবাদত যার ফলে মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনও খুব ভালো ভাবে করা সম্ভব।

ডিম নিয়ে যত ভ্রান্ত ধারণা আছে জানতে হলে দেখে নিন

ডিম

শিশু বয়স থেকে ডিমের সাথে আমরা খুব উতপ্রত ভাবে জড়িত। ডিম একটি আদর্শ খাবার। আসুস্থ হলে, পরীক্ষা থাকলে বড়রা বেশী করে খেতে বলে। ছোট্ট একটি ডিম নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার হিসেবে বিশ্বজুড়ে ডিমের ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও ডিম নিয়ে মানুষের মনে রয়ে গেছে অনেক ভ্রান্ত ধারণা। আসুন এই ভুল ধারণা গুলো থেকে এবার বের হয়ে আসা যাক।

ডিম কেনা

অনেকে বলেন বড় শপিং মলের থেকে মুরগীর ফার্ম থেকে ডিম কেনা ভালো । এই চিন্তা করা আসলেই বৃথা। কারণ আপনি যেখান থেকে ডিম কিনুন না কেন এখানে মুরগীর স্বাস্থ্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ডিম অন্ধত্ব দূর করতে পারে না

ডিম চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে দেখে অনেকের ধারণা অন্ধ লোকের চোখের আলো ফেরাতে সক্ষম। কিন্তু এটি মোটেও সত্যি কথা নয়। কারণ চোখের স্বাস্থ্য ভালো  করার উৎস ডিমে রয়েছে তবে এতে অন্ধ মানুষ ঠিক হয়ে যাবে তা আশা করা ভুল।

ডিম ধুয়ে লাভ নেই

বাসায় ডিম আসলেই তা ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে রাখতে বলা হয়। কিন্তু ভালো  করে পানি দিয়ে ধুয়ে কোন লাভ নেই কারণ ডিমের কুসুমেই থাকে সালমনেলা নামের ব্যাকটেরিয়া।

কাঁচা ডিম= বেশী প্রোটিন

অনেকে মনে করেন রান্না করা ডিমের তুলনায় কাঁচা ডিমে বেশি প্রোটিন থাকে। তাই যারা স্বাস্থ্য বাড়াতে চান অথবা জিম করেন তারা কাঁচা ডিম খান। কিন্তু এর কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই। বরং কাঁচা খেলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

হাঁসের ডিম না মুরগীর ডিম

হাঁসের ডিম নাকি মুরগীর ডিমে বেশি প্রোটিন? এই নিয়ে অনেকের অনেক ধরণের মতবাদ রয়েছে। আসলে মুরগীর ডিমে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি ভালো। হাঁসের ডিম অনেক সময় রক্তের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে।

ডিম রক্তের কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে

অনেকে মনে করে থাকেন, ডিম মানুষের রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ উচ্চমাত্রায় বৃদ্ধি করে। পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে সব ধরনের কোলেস্টেরল দেহের জন্য সমান ক্ষতিকর নয়। ‘স্যাচুরেটেড ফ্যাট’ নামক খারাপ কোলেস্টেরল দেহের রক্তচাপ বাড়ায় এবং হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করে। ডিমে এই ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের উপস্থিতি কম। তাছাড়া ডিমের সাদা অংশ ও কুসুমে কোলেস্টেরলের পরিমাণ আলাদা। যারা হৃদযন্ত্র নিয়ে বিভিন্ন সমস্যায় ভোগেন তারা ডিমের কুসুম খাবেন না। ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি। কোলেস্টেরল একেবারেই পরিহার করতে চাইলে ডিমের সাদা অংশ নির্দ্বিধায় খাওয়া যেতে পারে। দিনে দু’টো ডিমের সাদা অংশ দেহের প্রয়োজনীয় প্রোটিন চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে মত দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। যারা ওজন কমাতে চান আর রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশী তারা ডিমের কুসুম পরিহার করুন।