হার্ট যা খেলে হবে শক্তিশালী, জেনে রাখুন সেই খাদ্য তালিকা

হার্ট

প্রতিদিন সকালে উঠে আমরা হাত-মুখ, দাঁত, চোখ সহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরিষ্কার করি, যত্ন করি। কিন্তু আমাদের শরীরের ভেতরের অঙ্গগুলোর কি কোন যত্ন নেই? হাত-মুখ, দাঁত এর মত হার্ট, কিডনি, ফুসফুসের যত্ন তো নেয়া যাবে না। তাহলে কি করা যায়?

কি করে নেবেন হার্টের যত্ন? কিভাবে হার্টকে শক্তিশালী করবেন? কি খেলে আপনার হার্ট সব সময় ভালো থাকবে? আসুন সব গুলো প্রশ্নের উত্তর জেনে আসি।

সুর্যমুখী তেল বা সুর্যমুখী বীজ

হার্ট

সূর্যমুখী তেল ভিটামিন ই সমৃদ্ধ, যা শরীরের এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে। এটি সরাসরি হৃদরোগ প্রতিরোধ এবং আপনার ইমিউন সিস্টেম বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। যদিও ডাক্তাররা বলেন যেকোনো তেলই শরীরের জন্য ভালো না। হার্টকে ভালো রাখতে হলে খাবারে তেলের পরিমাণ কমিয়ে দিন। এন্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ই সমৃদ্ধ সূর্যমুখী তেল গ্রহণ করলে আপনার ত্বক সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে সুরক্ষিত হবে। হাঁপানি (অ্যাজমা), আর্থ্রাইটিস এর তীব্রতা হ্রাস করতেও সূর্যমুখী তেল বিশেষ ভূমিকা রাখে। 

মাছ

হার্ট

কিছু মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩, যেমন স্যালমন, ম্যাকরেল এবং টুনামাছ। সপ্তাহে অন্তত দুইদিন মাছ রাখুন খাদ্য তালিকায়। নির্দ্বিধায় খাওয়া যাবে ছোট মাছ যেমন- মলা, কাচকি, টাকি, বেলে ইত্যাদি। এছাড়াও বেছে নেওয়া যেতে পারে পাবদা, শিং, কৈ ও মাগুরকে। ইলিশ মাছ বেশি করে খাবেন এতে উপকারী চর্বি ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড বেশি পরিমাণে থাকে। হাইব্রিড মাছগুলো খাওয়া থেকে এড়িয়ে চলুন। যে মাছগুলো বাদ দেবেন- পাঙ্গাস, হাইব্রিড তেলাপিয়া, রুই। গবেষকরা মনে করেন, সামুদ্রিক মাছ হৃৎপিন্ডের সুস্থতা রক্ষায় সহায়ক। নদীর মিঠা পানির বড় মাছের চর্বি বাদ দিয়ে শুধু মাছটুকু খাওয়া যাবে।

সয়াফুড

হার্ট

সয়বিন থেকে তৈরি পণ্যকে সয়া ফুড বা সয়া প্রোডাক্ট বলে । সয়া প্রোডাক্ট যেমন- সয়া দুধ, সয়া বিন, টফু ইত্যাদি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন। এই খাবারগুলো শরীরের থেকে কোলেস্টেরল এবং অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট দূর করে থাকে।

সয়া ফুড কেবল কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে তা নয়, ভাস্কুলার ফাংশন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। তাই খাবার মেন্যুতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সয়াবিন রাখুন। সয়াবিন ভালো করে সেদ্ধ করে খান। কারণ হজমে সাহায্যকারী এনজাইম ট্রিপসিনের কার্যকলাপ কিছুটা ব্যাহত করে সয়াবিন। আঁশ সমৃদ্ধ সয়াবিন হার্টের জন্য খুব ভালো। প্রতি ১০০ গ্রাম সয়াবিনে পাওয়া যায় ৪৩ গ্রাম প্রোটিন।

কাঠবাদাম

হার্ট

কাঠবাদামের মনো স্যাচুরেটেড ফ্যাট, প্রোটিন ও পটাশিয়াম হার্ট ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কাঠবাদামের ভিটামিন ই হার্টের বিভিন্ন রকম রোগ হবার আশঙ্কা দূরে রাখে। কাঠবাদামে উপস্থিত ম্যাগনেসিয়াম হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করে এবং পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। যেমন  অ্যালমন্ড, ছোলা এবং আখরোট ফল।

অলিভ অয়েল

হার্ট

ডায়াবেটিকসের ঝুঁকি কমানো ও ক্যানসার প্রতিরোধের পাশাপাশি দুর্বল হার্টের রোগীদের জন্য অলিভ অয়েল খুবই উপকারী। সম্প্রতি এক গবেষণায় বিষয়টি প্রমাণ করেছেন গবেষকরা। স্বাস্থ্য সাময়িকী সার্কুলেশনে প্রকাশিত নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দুর্বল হার্টের জন্য জ্বালানি হিসেবে প্রয়োজনীয় চর্বির যোগান দেয় অলিভ অয়েল।

সাধারণত একটি হৃদপিণ্ড তার স্বাভাবিক সংকোচন ও প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি নেয় শরীরে জমা চর্বি থেকে। কিন্তু দুর্বল হার্ট এই চর্বি গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে হার্ট শুধু ভালোভাবে কাজ করতে পারে না তা নয়, বরং গ্রহণ করতে না পারা চর্বি জমে হৃদপিন্ডের আর্টারিতে ব্লক বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। অথচ অলিভ অয়েলে আছে ওলিয়েট নামের এক ধরনের উপকারী ফ্যাট যার সহায়তায় দুর্বল হার্ট সহজেই প্রয়োজনীয় চর্বি গ্রহণ করতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় এর সিনিয়র গবেষক ই ডগলাস লিওয়ানডোস্কি বলেন, ওলিয়েট হৃদপিণ্ডের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এমনকি ওই হার্ট যদি আগে থেকেও দুর্বল থাকে তবুও স্বাচ্ছন্দ্যে হৃদপিণ্ডে প্রয়োজনীয় শক্তির যোগান দিতে পারে ওলিয়েট।

শিম

হার্ট

করোনারি হার্ট ডিজিস কমাতে সহায়ক হয়ে ওঠে ম্যাগনেশিয়ামপূর্ণ শিম, শস্য এবং সবুজ পাতাবহুল শাক-সবজি। এসব খাবারে স্ট্রোক এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিস এর ঝুঁকিও কমে আসে। এক গবেষণায় এসব তথ্য দেওয়া হয়। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছিল জার্নাল বিএমসি।

আমলকি

হার্ট

হার্টকে ভালো রাখার জন্য আমলকি সন্দেহাতীতভাবে সবচেয়েভালো ওষুধ হিসেবে কাজ করে।

প্রায় সব ধরনের কার্ডিওভাসকুলার রোগ প্রতিরোধ করার এক অদ্ভূত ক্ষমতা রয়েছে আমলকির।

হলুদ  

হার্ট

হার্টের অসুখে হলুদও কার্যকারী ভূমিকা রাখে। এতে এমন এক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টরয়েছে যা প্রদাহজনিত আক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে।

রসুন

হার্ট

রসুন কার্ডিওভাস্কুলার রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমায় এবং প্রাকৃতিকভাবেই এটা হার্টের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটা শুধু রক্ত চলাচলকেই স্বাভাবিক রাখে না; একইসাথে হার্টকেও সুস্থ রাখে।

আদা

হার্ট

আদা এমন একটি ওষুধি উদ্ভিদ যা রক্তনালীকে বিশ্রাম দেয় এবং রক্ত প্রবাহকে চালু রাখতে সাহায্য করে। হার্টের অসুখের বিরুদ্ধে অ্যান্টি ফ্ল্যামেটরি হিসেবেও যুদ্ধ করে আদা।

বিলবেরি  

হার্ট

এটি ব্ল্যাকবেরির মতোই একটি ফল। এটিও হার্টের জন্য অত্যন্ত উপকারি।

নিয়মিত এ ফল খেলে হার্টের যে কোনো সমস্যার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকা যায়। এমনকি এ ফলটি রক্ত চলাচলকেও সচল থাকে।

 হার্ট ভালো রাখে লাল মরিচ

হার্ট

লাল মরিচ হার্টের সঠিক ওষুধের কাজ করে। এটা হার্টের জন্য পুষ্টিকর খাবারও বটে। কারণ হার্টের জন্যএর প্রভাব কাঁচামরিচ থেকে ভালো।

সবুজ চা

হার্ট

বর্তমান সময়ে হার্টের জন্য সবচেয়ে বেশি ওষুধের কাজ করে সবুজ চা। এটা শুধু রক্তের শিরাকেই সচল রাখে না; শিরাকে রক্ষাও করে। বর্তমান সময়ে হার্টের জন্য সবচেয়ে বেশি ওষুধের কাজ করে সবুজ চা। এটা শুধু রক্তের শিরাকেই সচল রাখে না, শিরাকে রক্ষাও করে। গবেষকদের ধারণা, রক্তনালীর উপর গ্রিন টি’র প্রভাব রয়েছে। নিয়মিত গ্রীন টি গ্রহণ করা হলে রক্তনালী শিথিল হয় এবং রক্তচাপের পরিবর্তন হলেও তা স্বাভাবিক থাকতে পারে। এর ফলে রক্ত জমাট বেঁধে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

হার্ট ভালো রাখে পুদিনা পাতা

হার্ট

এটি হার্টের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। পুদিনা রক্তের শিরায় অক্সিজেন চলাচলে সাহায্য করে। এছাড়া এটি খেলে হার্টেররোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা একদমই থাকে না।

উপরোক্ত খাবারগুলোর সাথে সাথে নিয়মিত কিছু কাজ করতে হবে। এখনই খাতায় লিখে রাখতে পারেন।

নিয়মিত দৌড়ান

ধূমপান ছেড়ে দিন

ওজন কমান

দূষিত বায়ু এড়িয়ে চলুন

মুঠোর ব্যায়াম করুন

শ্বাসের ব্যায়াম করুন  

সময়মতো ঘুমান

কম চর্বি যুক্ত খাবার খান

এনার্জি ড্রিংকস থেকে বিরত থাকুন

গান গান

প্রতিদিন নাচুন

সামাজিক যোগাযোগ বাড়ান

হার্টের সমস্যা শুধু বয়স্ক, মোটা মানুষদের হতে পারে এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন। এই সমস্যা যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে।

তাই রোগ প্রতিকারের আগে প্রতিরোধ করুন। সবাই সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন। সবার আগে যত্ন নিন নিজের।

দারুচিনি শুধু রান্নায় নয় ত্বকের যত্নেও ব্যবহার করুন

দারুচিনি

দারুচিনি এশিয়া মহাদেশের একটি অনন্য সুগন্ধি মশলা। যা খাবারে দেয় আলাদা এক স্বাদ। এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ম্যাঙ্গানিজ, ক্যালসিয়াম ও আয়রন থাকে। প্রাচীন যুগে আয়ুর্বেদিক ও চীনা ওষুধ তৈরিতে এটি ব্যবহার করা হতো।

আমরা অনেকেই হয়তো জানি দারুচিনি মশলা এবং ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু অনেকে হয়তো এটা জানেন না ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এটি কি পরিমাণ সাহায্য করে।

আপনাদের আজ জানিয়ে দেব আপনার ত্বকের কোন সমস্যায় কিভাবে ব্যবহার করবেন।

দারুচিনি ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে

দারুচিনি মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশের ব্রণ ও মেছতা দূর করতে সাহায্য করে। মেছতা আর ব্রণ নিয়ে অনেকেই বিব্রত বোধ করেন। অনেক কিছু চেষ্টা করেও এর থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছেন না।

এর জন্য যা যা করতে হবে তা হলো, তিন টেবিল চামচ মধুর সঙ্গে এক টেবিল চামচ দারুচিনি গুঁড়া ভালো করে মেশান।

মিশ্রণটি আপনার ব্রণ আক্রান্ত অংশে লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিন। আবার ২০ মিনিটের জন্য রেখে পানি দিয়ে ধুয়েও নিতে পারেন।

নিয়মিত ব্যবহার করুন অবশ্যই ফল পাবেন। প্রাকৃতিক উপাদান তাই কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

দারুচিনি মৃত কোষ দূর করতে পারে

মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা ও মসৃণতা ফিরিয়ে আনে। ত্বক খুব মসৃণ রাখে।

এই স্ক্রাব তৈরি করতে যা যা লাগবে:

লবণ, বাদামের তেল, অলিভ অয়েল, মধু ও দারুচিনি একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিন।

মুখে লাগিয়ে পাঁচ মিনিট হালকাভাবে ম্যাসাজ করুন।

এখন পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ত্বক উজ্জ্বল করতে

দারুচিনিতে আছে অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল নামক দুটি উপাদান, যা ত্বককে উজ্জ্বল ও ফর্সা করতে সাহায্য করে।

এই প্যাক তৈরি করতে যা যা লাগবে: একটি পাত্রে ছোট একটি কলা থেঁতলে নিন। সঙ্গে মেশান টক দই, দারুচিনি গুঁড়া ও লেবুর রস।

এবার মিশ্রণটি পরিষ্কার মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন। তারপর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

বলিরেখা দূর করতে

ত্বকের স্বাভাবিক রক্ত এবং অক্সিজেনের প্রবাহ বজায় রাখে।

কয়েক ফোঁটা দারুচিনির তেলের সঙ্গে পেট্রোলিয়াম জেলি মিশিয়ে মুখে লাগান।

মুখে যা-ই লাগান না কেন, অবশ্যই চোখে যেন প্রবেশ না করে খেয়াল রাখবেন। এখন হালকা ম্যাসাজ করুন। এবার ধুয়ে ফেলুন।

রুক্ষ পায়ের যত্নে

পায়ের রুক্ষ ও শুষ্ক ত্বককে মসৃণ করতে সাহায্য করে। পায়ের মৃত চামড়া গুলো খুব সহজে উঠে যায়।

পায়ের যত্নে যা যা লাগবে:

পাঁচটি লেবুর রস, এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, এক কাপ দুধ, আধা কাপ পানি ও দুই টেবিল চামচ দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে সেই মিশ্রণে পা দুটি ১৫ মিনিটের জন্য ডুবিয়ে রাখুন।

এটি আপনার পা নরম ও মসৃণ করতে বেশ সাহায্য করবে।

দারুচিনির আরও কিছু উপকারিতা

নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করতে

এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ১ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে গার্গল করুন। দিনভর থাকবে সজীব নিঃশ্বাস।

পায়ের যত্নে

১ কাপ কুসুম গরম পানিতে ৫ ফোঁটা লেবুর রস ও ৫ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল মেশান। ১ চা চামচ মধু ও ১ টেবিল চামচ দারুচিনি গুঁড়া দিয়ে পা ভিজিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট।

পা ধুয়ে ফেলার আগে স্ক্রাব করে নিন শক্ত ব্রাশ দিয়ে। অবশ্যই পা ধোয়ার পর মশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন।

চুলের যত্নে

২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল গরম করে নিন। কিছুটা ঠাণ্ডা হওয়ার পর ১ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া এবং ১০ ফোঁটা আমন্ড তেল মেশান।

কুসুম গরম থাকা অবস্থায় তেল ম্যাসাজ করুন মাথার ত্বকে। ১৫ মিনিট পর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুল হবে ঝলমলে।