ভালোবাসার সাগরে সাঁতরাচ্ছেন কিনা বুঝবেন কি করে?

ভালোবাসার

পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী আর পবিত্র অনুভূতির নাম ভালোবাসা। বাংলায় ভালোবাসা, হিন্দিতে পিয়ার আর উর্দুতে বলা হয় মুহাব্বত। বাবা, মা, ভাই, বোন আর পরিবারকে জন্মের পর থেকেই আমরা ভালোবাসি। কিন্তু মানব জিবনে একটা নির্দিষ্ট বয়সে ভালোবাসার সুরটা যেন পাল্টে যায়। অনেকে তরুণ হওয়ার পরেও এই অনুভূতির সাথে পরিচিত হন না। তাই বুঝতেও পারেন না যে তিনি প্রেমে পরেছেন বা কাউকে ভালবেসেছেন কিনা। তাদের জন্যই আজকের এই লেখা। আশা করি লেখাটি আপনাকে উপকৃত করবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ১- প্রথম দেখা

ভালোবাসার

আপনি প্রথম যেদিন তাকে দেখেছেন সেই দিনের কথা আপনি চাইলেও ভুলতে পারবেন না। সেদিন সে কি পড়ে এসেছিল, কিভাবে কথা বলেছিল, কোন বিষয়ে কথা হয়েছিল সব কিছুই আপনার মনে থাকবে। সেদিনের কথা আজও মনে আসলে আপনার মনে একটা সুন্দর ভালো লাগার অনুভূতি ছড়িয়ে যাবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ২- অবসরে তার স্মৃতি বার বার চোখের সামনে আসবে

ভালোবাসার

একা যখন বসে বই পরছেন তখন হয়ত গল্পের কোন চরিত্র পছন্দ হলে তার সাথে মিলিয়ে ফেলবেন। গান শুনলে তার সাথে কাটানো কোন মুহূর্ত মনে পড়ে যাবে। অবসরে তার কথা ভাবতে আপনার ভীষণ ভালো লাগবে। একা একা হয়তবা তখন হেসেই দিবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৩- সব সময় তাকে সুরক্ষিত দেখতে চাইবেন

ভালোবাসার

আপনার প্রিয় মানুষটি যেন সবসময় সুরক্ষিত থাকে সে ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকতে দেখা যাবে আপনাকে। তার সুবিধা-অসুবিধাটা আপনার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাবে। আপনি চাইবেন তাকে যেন কোনভাবে বিপদ স্পর্শ না করে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৪- গায়ের গন্ধ

ভালোবাসার

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত আপনার পছন্দের মানুষটির গায়ের গন্ধ আপনার অনেক ভালো লাগবে।

এমন হতে পারে তার ঘামের গন্ধ আপনার কাছে খুব প্রিয়। তার ব্যবহৃত জিনিস ব্যবহার করতে আপনার খুব ভালো লাগবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৫- সে অসুস্থ হলে আপনি অনেক বেশি চিন্তিত হয়ে যাবেন

ভালোবাসার

তার ছোট ছোট অসুস্থতা আপনাকে অনেক বেশি চিন্তিত করে ফেলবে। অনেক বার ফোন দিয়ে খোঁজ নেবেন।

যদি তার সাথে কথা বলতে না পারেন তাহলে অন্য কারো মাধ্যমে তার বিষয়ে খোঁজ নেবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৬- তার সামনে নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে চাইবেন

ভালোবাসার

পৃথিবীর অন্য মানুষগুলোর সামনে আপনি কি সেটা আপনার মাথায় আর কাজ করবে না। মাথায় শুধু এটাই থাকবে তিনি আপনাকে কিভাবে দেখছেন।

তার সামনে সব সময় নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৭- মনের সব কথা তাকে বলতে ইচ্ছে করবে

ভালোবাসার

আমাদের মনের ভেতর নানা ধরনের কথা থাকে, সুপ্ত ইচ্ছা থাকে সেগুলো তার সাথে বলতে ভালো লাগবে।

সেটা পূরণ হোক বা না হোক ইচ্ছে করবে তাকে বলতে। তার সাথে আপনার সব পরিকল্পনা ভাগ করতে ভালো লাগবে।

ভালোবাসার লক্ষণ ৮- মানুষটির সাথে সময় পার করলে হিসেব থাকবে না আপনার

ভালোবাসার

অনেক মানুষ আছে যাদের সাথে থাকলে মনে হবে সময় এত বড় কেন? মিনিটকে মনে হয় ঘণ্টার সমান। কিন্তু এই বিশেষ ব্যক্তিটির সাথে সময় কাটালে মনে হবে, সময় অনেক দ্রুত চলে যায়। তার সাথে কথা বলা শেষে ঘড়ি দেখলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ৯- অন্য কারো সাথে থাকলে ঈর্ষা অনুভব করবেন

ভালোবাসার

আপনার বিশেষ মানুষটি অন্য কারো সাথে যদি কাজেও একটু ব্যস্ত থাকে তাহলে আপনার ঈর্ষা অনুভূত হবে।

বিপরীত লিঙ্গ হলেই যে সেখানে খারাপ অনুভূতি হবে তা নয়। আপনার মনে হবে এতো টুকু সময় তো আপনার সাথে থাকতে পারতেন।

ভালোবাসার লক্ষণ ১০- সে যদি আপনাকে নাও ভালোবাসে তবুও তার শুভকামনা করা

ভালোবাসার

সবাই ভালোবাসা চায়, কিন্তু এটা সবার ভাগ্যে থাকেনা। দুর্ভাগ্যবশত আপনার প্রিয় ব্যক্তিটি যদি অন্য কাউকে ভালোবাসে তাহলেও তার প্রতি ভালোবাসা বা শ্রদ্ধা এতোটুকু কমবে না। যদি আপনি তখন প্রতিশোধ নিতে চান অথবা আত্মহত্যার মত ঘৃণ্য কোন পদক্ষেপ নিতে চান তাহলে বলতেই হবে আপনি সত্যিকারের ভালোবাসার দেখা পাননি।

ভালোবাসার লক্ষণ ১১- জীবনকে মনে হবে ছোট আর অনেক দিন বাঁচতে ইচ্ছে করবে

ভালোবাসার

তাকে দেখার পর থেকে মনে হবে জীবন এতো ছোট কেন, এতো দ্রুত সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে কেন। মনে হবে কেন আরও আগে তার সাথে দেখা হল না।

জিবনে তখন বাঁচার কোন কারণ না থাকলেও আপনার খুব বাঁচতে ইচ্ছে করবে। মনে হবে জীবনটা অনেক সুন্দর।

ভালোবাসার লক্ষণ ১২- তার সাথে কোন কথা গোপন রাখতে পারবেন না

ভালোবাসার

কোন কথাই আপনি তার থেকে লুকাতে পারবেন না। তার সাথে কথা ভাগাভাগি করলে আপনি মানসিকভাবে শান্তি পাবেন।

তার বিষয়ে কোন ভুল ধারণা থাকলে অথবা তার বিষয়ে কোন কটু কথা শুনলে তা কখন মনে পুষিয়ে রাখতে পারবেন না।

কারণ আপনি বিশ্বাস করেন সে অনেক ভালো।

আরও অনেক লক্ষণ আছে যেগুলো দিয়ে বোঝা যায় আপনি কাউকে ভালোবাসেন কিনা। আজ কয়েকটি উপায় আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম।

এর ভেতর যদি একটিও মিলে যায় তাহলে কিন্তু আপনি সত্যি সত্যি প্রেমে পরেছেন অথবা অনেক ভালোবাসেন তাকে।

নিজের অনুভূতি সম্পর্কে জানুন। এবং আপনার ভালোবাসার মানুষকে অনেক বেশি ভালোবাসা উপহার দিন।

কুকুর পালতে চাইলে জানতে হবে যে বিষয়গুলো

কুকুর

কুকুর অনেকেই পছন্দ করে। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই কুকুর পালতে দেখা যায়। শহরেও দেখা যায় কুকুর পালতে। কিন্তু শহর আর গ্রামের পালার ভেতর পালার মধ্যে পার্থক্য আছে। অনেকেই এখন কুকুরকে ঘরের একজন সদস্য হিসেবে পালেন। তাই একটি কুকুর বাসায় আনার জন্য থাকতে হয় নানান প্রস্তুতি। আজ কথা বলবো তাই নিয়ে।

কুকুর নিয়ে পরিবারের মতামত

বাসায় কুকুর নিয়ে আসার আগে পরিবারের সবার মতামত নিন। কারও আপত্তি আছে কিনা বা কুকুরের কারণে কারও কোনো ধরনের অ্যালার্জির সমস্যা হয় কিনা- সেই সব বিষয়ে জানতে হবে।

পাশাপাশি বাড়িওয়ালা এবং প্রতিবেশীদের মতামতও জেনে নেওয়া জরুরি। কারণ আপনার জন্য কেউ বিরক্ত হলে সেটা ভালো হবে না।

যত্ন নেয়া

পোষা প্রাণীর যত্ন নেওয়ার ব্যপারটি মাথায় রাখতে হবে। আপনার ওদেরকে দেয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় আছে কিনা সেই বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

একটি ছোট শিশুর মতোই একটি কুকুরের যত্ন নিতে হবে।

তাকে সময় দিতে হবে এবং প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এর জন্য যে আলাদা সময় দরকার তা দিতে পারবেন কিনা সেই বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে।

কুকুর পালার জন্য পরিবেশ

যেই পরিবেশে কুকুরকে রাখবেন সেটা খেয়াল করুন। বড় আকারের কুকুরের জন্য প্রচুর জায়গা প্রয়োজন।

তাই অ্যাপার্টমেন্টে পালার জন্য ছোট আকারের কুকুর বেছে নেওয়াই ভালো।

বড় কুকুরকে যদি ছোট জায়গায় রাখেন তাহলে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।

একটি প্রাণীকে পালতে এনে তাকে অসুস্থ করার অধিকার আপনার নেই। সুতরাং অবশ্যই এই দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

চিকিৎসা

সময় করে কুকুরের ভ্যাক্সিন দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। দিনে একবার দাঁত মাজাতে হবে এবং মাসে একবার নখ কেটে দিতে হবে।

যতটা জলদি সম্ভব কুকুরের ‘নিউটার’ বন্ধ্যা করানোর ব্যবস্থাও নিতে হবে। কুকুরের যেন কৃমি না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

গ্রুমিং

গ্রুমিং হচ্ছে কুকুরকে পরিষ্কার করা এবং সৌন্দর্য রক্ষা করা। অনেক কুকুরের লোম লম্বা থাকে সেইক্ষেত্রে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যেন গায়ে উকুন না হয়।

চামড়ায় যেন কোন ইনফেকশন না হয়। নিয়মিত গোসল করাতে হবে। ওদের জন্য আলাদা শ্যাম্পু আছে সেগুলো ব্যবহার করতে হবে।

ক্ষতিকর জিনিস দূরে রাখুন

একটি দুই বছরের মানব শিশুর যেমন বুদ্ধিমত্তা একটি কুকুরেরও তেমন।

কুকুরেরা না বুঝেই সব কিছু মুখে দেয়। তাই ক্ষতিকর জিনিসগুলো কুকুরের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।

খেলতে হবে

প্রতিটি কুকুরকেই দিনের কিছুটা সময় বাইরে খেলাধুলা ও হাঁটাতে নিয়ে যেতে হয়।

আকার অনুযায়ী আধা ঘণ্টা থেকে দিনে সম্ভব হলে দু’বার এদের খেলার সময় দিতে হয়।

এই সময়ও দিতে পারবেন কিনা তা বুঝে নিতে হবে।

বাসায় যেই কুকুরগুলো পালা হয় তাদের অনেক বেশি মনোযোগ লাগে। সুতরাং তাদেরকে অবশ্যই সময় দিবেন।

যারা বলেন বাংলা সিনেমাতে কিছু নেই এই সিনেমাগুলো তাদের জন্য

বাংলাদেশের সিনেমা ব্যবস্থা নিয়ে আমরা অনেক হতাশ। খুব বিরক্ত আমরা। অনেক ভালো ভালো সিনেমা হল আজ ধ্বংসের পথে শুধুমাত্র ভালো সিনেমা নেই বলে। কিন্তু যারা এই বিরক্ত থেকে একদম বাংলা সিনেমা দেখা বন্ধ করে দিয়েছেন তাদের জন্য রয়েছে বাংলা কিছু সিনেমার রিভিউ। আশা করি আপনারা অনুপ্রাণিত হবেন।

আয়নাবাজি

সিনেমা
আয়নাবাজি

২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া একটি অপরাধধর্মী থ্রিলার সিনেমা। মূল চরিত্রে আছেন চঞ্চল চৌধুরী। সিনেমাটির পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরী। বরাবরই আমরা এই বরেণ্য পরিচালকের কাছ থেকে চমৎকার সব সিনেমা উপহার পেয়ে আসছি। আয়ণাবাজিও সেই ধারার উপর বহমান একটি সিনেমা। এখানে এক শহরের গল্প বলা হয়েছে। এই শহরে সকালে দুধওয়ালা আসে, ফেরিওয়ালারা হাঁকডাক দেয়, বাচ্চারা দল বেঁধে নাটক শিখতে যায়। আয়না সেই শহরের একজন বাসিন্দা। অভিনয় যার নেশা। বাচ্চাদের নাটক শেখায়।

হৃদি নামের এক মেয়ের সাথে পরিচয় হয়, পরে তা প্রেমে রূপ নেয়। পাল্টাতে থাকে আয়নার জীবন। সে আটকে যায় নানা রকম মুখোশে। একসময় ফিরে আসতে চায় মহল্লার অতি চেনা আয়না হয়ে। কিন্তু ফেলে আসা প্রেম ও নাটকের স্কুলে ফিরে যেতে পারে না সে। অপরাধ জগতে আটকে যেতে থাকে আয়না। সে কি ফিরতে পারবে। জানতে হলে দেখে নিন। ১৯তম মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে ছবিটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ ছয়টি বিভাগে পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয় ও তিনটি বিভাগে পুরস্কার লাভ করে। এছাড়া ছবিটি সিয়াটল সাউথ এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভালে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র এবং ১৬তম টেলি সিনে পুরস্কারে সেরা ছবির সম্মান লাভ করে।

অজ্ঞাতনামা

সিনেমা
অজ্ঞাতনামা

সিনেমাটি ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া আর একটি অনবদ্য সিনেমা। পরিচালককে আপনারা ক্যামেরার সামনে অনেক কাজ করতে দেখেছেন কিন্তু তিনি ক্যামেরার পেছনেও যে কতোটা প্রতিভাধর তা জানতে হলে সিনেমাটি দেখে নিন। এখানে সেই মানুষদের গল্প বলা হয়েছে যারা নিজেদের সব সম্পতি বিক্রি করে লাশ হয়ে দেশে ফিরে নিজের সর্বস্ব বিক্রি করে বিদেশ যাওয়া মানুষদের মাঝে কেও যখন মারা যায়, তখন তার লাশ এই দেশে আসলে সেটা নিয়ে কি কি সমস্যা হয়  এবং এই এক লাশকে কেন্দ্র করে কীভাবে আমাদের দেশের আদম ব্যবসা থেকে শুরু করে উপরের মহলের মুখোশ উন্মোচিত করা হয়েছে- সেটা দেখবেন এই সিনেমা। চলচ্চিত্রটি ইতালির গালফ অফ ন্যাপলস ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভালে ২১ মে প্রদর্শিত হয় এবং জুরি স্পেশাল মেনশন পুরস্কার অর্জন করে।

কৃষ্ণপক্ষ

সিনেমা
কৃষ্ণপক্ষ

হুমায়ূন আহমেদের লিখিত এই গল্পটি কম বেশি সবার পড়া আছে। কিন্তু তা যদি সিনেমায় রূপ ধারণ করত তাহলে কেমন হত?

এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন কৃষ্ণপক্ষের পরিচালক মেহের আফরোজ শাওন। ‘

হুমায়ূন আহমেদের পর কেউ যদি তার চলচ্চিত্রের ধারা ধরে রাখতে পারে তাহলে তা শাওন ছাড়া আর কেও নন।

সিনেমাটি নিয়ে আর কিছু বলতে চাই না।

নায়ক হিসেবে ছিলেন রিয়াজ, তাঁর অভিনয় তো বরাবর দেখে আসছি কিন্তু নায়িকা হিসেবে মাহীয়া মাহি ছিল একটি চমৎকার নির্বচন।

ড্রেসিং টেবিল

আবু সাইয়ীদ পরিচালিত ২০১৬ সালের রহস্য চলচ্চিত্র। ছবিটির কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন পরিচালক আবু সাইয়ীদ নিজেই।  ছবিটি প্রযোজনা ও পরিবেশনা করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম

শিলা আর রুহুল সম্প্রতি বিয়ে করেছে। নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের অভাব অনটনের সংসার। গুছিয়ে তুলতে পারে নি অনেক কিছু। গৃহস্থালীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস এখনো কেনা হয় নি তাদের।

তেমনি একটি আসবাব হল ড্রেসিং টেবিল। একদিন রুহুল একটি পুরাতন ড্রেসিং টেবিল নিয়ে বাড়িতে ফিরে। শিলা খুশি হয়।

পরে পরিস্কার করতে গিয়ে ড্রয়ারে সে একটি পুরনো ডায়েরি পায়। প্রথমে একটু সংকোচ বোধ করলেও পরে এক রাতে সে ডায়েরিটা পড়া শুরু করে।

২-৩ পৃষ্ঠা পড়ার পর কৌতূহল থেকে সে পুরো ডায়েরি পড়ে। ডায়েরি পড়ে সে অনেক কিছু জানতে পারে এবং পড়া শেষে সে ড্রেসিং টেবিলের সামনে যায়।

সে ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় নিজেকে আবিস্কার করে। শুরু হয় তার নতুন জীবন।

এতক্ষণ বাংলাদেশের সিনেমা নিয়ে বলছিলাম এখন আসুন যেনে নেই ওপার বাংলায় সিনেমার কি হাল।

ডবল ফেলুদা

সিনেমা
ডবল ফেলুদা

পঞ্চাশ বছর হয়ে গেছে গোয়েন্দা প্রদোষচন্দ্র মিত্রের। এই পঞ্চাশ বছরে ফেলুদার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য ডবল ফেলুদা।

যে দুটো গল্প এবার পরিচালক সন্দীপ রায় বেছেছেন- ‘সমাদ্দারের চাবি’ আর ‘গোলকধাম রহস্য’- দুটোই সত্যজিত্ রায়ের অত্যন্ত প্রিয় গল্প৷

ছবির আঙ্গিকও চমত্কার৷ ইন্টারভ্যালের আগে ‘সমাদ্দারের চাবি’৷ পরে ‘গোলকধাম রহস্য’৷

যদিও এমন আঙ্গিক সন্দীপ রায় ‘চার’ এ রেখেছিলেন, তবুও ফেলুদার ছবির প্রেক্ষিতে এটি প্রথম৷ সব মিলিয়ে ছিমছাম ১০২ মিনিটের টানটান উত্তেজনা৷

ছবির সব থেকে বড় গুণ ‘সিমপ্লিসিটি’৷ এবং আদ্যন্ত সাবলীল বাঙালিয়ানা৷ যেটা সন্দীপ রায়ের ফেলুদা ছবিতে থেকে থাকে৷

তা সত্ত্বেও বলতে হয় সেই সাবলীলতার ছাপ রজনী সেন লেনে গোয়েন্দার বসার থেকে শুরু করে প্রত্যেক চরিত্রের পোশাকে , কথাবার্তায়, চলাফেরায়, ব্যবহারে বিদ্যমান৷

কোথাও এক ফোঁটা বাড়াবাড়ি নেই৷ এবং গুরুত্বপূর্ণভাবে এই সমস্তটা গিয়ে ফিল্টার হয় বিশ্বাসযোগ্যতায়৷

সিনেমাটি দেখতে হলে আপনাকে ক্রিসমাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

সিনেমাওয়ালা

ছোট্ট এক শহরের সিনেমা প্রদর্শক প্রণবেন্দু দাসকে (পরাণ বন্দোপাধ্যায়) ঘিরে ‘সিনেমাওয়ালা’র কাহিনি গড়ে।

সিনেমার মূল চরিত্র হচ্ছে “কমলিনী” নামের সিনেমাহল যার কোন কদর নেই পাইরেটেড ডিভিডি ডিস্ক এবং ডিজিটাল থিয়েটার বা প্রজেক্টরের কারনে। আগের দিন ফুরিয়ে গেছে।

প্রণবেন্দুর নিজের ছেলেই (পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়) পাইরেটেড ডিভিডি ডিস্ক স্বল্পদামে কিনে বিক্রি করে। তাই নিজের ছেলের সাথে তার মনোমালিন্য।

কেননা প্রণবেন্দুর ধারণা এভাবে পাইরেটেড ডিস্ক বিক্রির কারণেই মানুষ হলে গিয়ে ছবি দেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এবং হলগুলো অচল হয়ে যাচ্ছে। যে কারণে তার নিজের হল কমলিনীও অচল।

একসময় প্রণবেন্দু কমলিনীর প্রজেক্টর বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রণবেন্দুর সহচারী হরি। যিনি এই হলের একজন প্রজেকশনিস্ট ছিলেন।

২৩ বছর বয়স থেকে কমলিনীর প্রজেক্টর চালান। এই প্রজেক্টর তার সন্তানের মত।

তার সন্তান তাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। সন্তানকে জড়িয়ে ধরে আছেন তিনি।

একটু পরই সন্তান চলে যাবে। সন্তানের শোকে হরি প্রজেকশন রুমে আত্মহত্যা করেন।

তার এই আত্মহত্যা গল্পের মোড় কোনদিকে ঘুরায় জানতে হলে দেখুন “সিনেমাওয়ালা”

শঙ্খচিল

সিনেমা
শঙ্খচিল

একটি পরিবারের অসহায়ত্ব দিয়ে গোটা বাংলার হৃদয়ের ক্ষত উঠিয়ে আনতে চেয়েছেন নির্মাতা গৌতম ঘোষ তার শঙ্খচিলের মাধ্যমে।

পরিবারটির গল্পের পাশাপাশি আরো নানা ভাবেই উদ্ভট দেশভাগের কথা এসেছে ছবিতে।

আর মূল গল্পের পাশাপাশি ডকুমেন্টারী আকারে আসা দেশভাগের দৃশ্যপট ছবিটিকে শক্ত ভিত্তি দিয়েছে। ছবির চিত্রনাট্য হয়তো একটু বেশীই সরল; তবে শক্তিশালী বর্ননা ছবিকে ভিন্নতার স্বাদ দিয়েছে।

বিশেষ করে চরিত্রের ভাব প্রকাশে মাঝে মাঝে বাংলা কবিতা এবং গানের ব্যাবহার; কিংবা প্রকৃতিকে বার বার বিষন্ন রুপে নিয়ে আসা এক কথায় অসাধারন ছিলো। ছবির চিত্রায়ন বা সিনেমাটোগ্রাফী কিছু কিছু যায়গায় চোখ এবং মন দুটোই জুড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বেশী ভালো লাগে বাংলার সরল প্রকৃতিকে এমন সুন্দর ভাবে পর্দায় দেখে। আর অসম্ভব সুন্দর সম্পাদনা তো আছেই। ছবির ডায়লগ খুব অসাধারন কিছু না হলেও চলনসই ছিলো। কবিতা আর গানের ব্যাবহার ডায়লগের সাধারনত্বকে ঢেকে দিয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছবির পরিবেশকে ভালোভাবেই ফুটিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। দেশভাগের আর্তনাদ যে এখনো শেষ হয়নি বরং বাঙ্গালী জাতিটিকে এই আর্তনাদ বয়ে বেড়াতে হবে আরো অনেক অনেক কাল; শঙ্খচিল যেন তারই গল্প বলে যায়।

ভালোবাসার আগে একটু ভেবে নিতে হবে

ভালোবাসা

তমা(ছদ্মনাম) ও অনির্বাণ(ছদ্মনাম) দুজনই উচ্চশিক্ষিত, ভালপরিবারের, একই ধর্মের এবং ভালো জব করে। তাদের ভেতর একটা ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়। তারা এই সম্পর্কে শুধু ভালোবাসার জন্য আসেনি, ভালোবাসাকে সম্পূর্ণ করে পারিবারিকভাবে বিয়ে করার মত চিন্তাও করেছে। সবাই খুশির মনেই বিয়েটা মেনে নেবে। কিন্তু হঠাৎ যেন কি হয়ে গেলো। অনির্বাণকে তমার বোরিং মানুষ মনে হচ্ছে, মানিয়ে নিতে না পেরে অন্য ছেলেদের সাথে কথা বলে মিলিয়ে দেখেছে আসলেই অনির্বাণ কতোটা বোরিং ছেলে। আর এদিকে বেচারা অনির্বাণ কষ্ট পাচ্ছে তমার ব্যবহার গুলোতে। অনির্বাণ তমার কথার সাথে মানিয়ে নিতে পারছে না আর তমাও পারছে না এভাবে থাকতে, একদিন সব শেষ হয়ে যায়। অনির্বাণ মনে মনে ভেবে নেয় আর না। তমা শেষ চেষ্টা করে কিন্তু তার মত থেকে সরে আসে না।

অবশেষে ব্রেকাপ। এভাবে প্রতিদিন অনেক তরুণ তরুণীর সম্পর্ক শেষ হয়ে যাচ্ছে। শুধু শেষ না এতে যে কতটা মানসিক ক্ষতি হয় তার হিসেব নেই। কাজ করতে ইচ্ছে করেনা, কারো সাথে কথা বলতে ভাল লাগেনা এক কথায় থমকে যেতে চায় চলমান জীবন। জীবনে নতুন কেউ এলে তাকে মানা যায় না, মনে পড়ে যায় আগের সেই মানুষের কথা যার সাথে কাটিয়েছে অনেকগুলো সময়।

ব্রেকাপ
                                                                             ব্রেকাপ

কাউকে ভালোবাসার আগে কি কি বিষয় গুলো খেয়াল রাখা আবশ্যক??

পরিবার ও ধর্ম

পরিবার
                           পরিবার আমাদের জীবনে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ

কাউকে হুট করেই ভালোবেসে ফেললাম তারপর দেখা গেলো তার অথবা আপনার পরিবার থেকে মেনে নিচ্ছে না। অবশেষে ব্রেকাপ, মন ভাঙ্গা, এমন কি আত্মহত্যাও করে ফেলে অনেক মানুষ। তাহলে আমাদের এমন কোন মানুষকে জীবনে আনতে হবে যাকে আমাদের পরিবার মেনে নেয়। যার ধর্মের সাথে আমাদের ধর্ম মেলে কারণ এখন এমন মুসলিম পরিবার আছে যারা হিন্দু বা অন্য ধর্মের মানুষদের সাথে আত্মীয় করবে না এবং হিন্দু পরিবার আছে যারা এসব বিষয়ে আরও বেশী স্পর্শ কাতর। পরিবার এর সাথে নিজের মত মেলার পর ই বিয়ের মত বড় একটা সিদ্ধান্তে নেওয়া উচিৎ কারণ বিয়ে শুধু দুটি মানুষ এর ভেতর সম্পর্ক তৈরি করে না। এখানে দুটি  পরিবার অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত।

সততা

ট্রাস্ট
                                                             সততা সম্পর্কের মূল মন্ত্র

যে কোন সম্পর্কের ভেতর অবশ্যই বিশ্বাস ও সততা থাকতে হবে। কারণ বিশ্বাস না থাকলে কখন কোন সম্পর্ক টিকে থাকে না। “তোমাকে পেলে আমার আর কিছু চাই না” বলার আগে নিজেকেই প্রশ্ন করা দরকার, সত্যিই কি তাই? তাকে পেলেই কি অন্ন, বস্ত্র,  আশ্রয়, অর্থসহ অন্য সব অভাব মিটে যাবে? যায় না। যায় না বলেই যদি এভাবে বলা যায়, “আমার জীবনের সুখকে সমৃদ্ধ করার জন্য তোমাকে চাই”  তাহলেই কি সংলাপ যুক্তিসঙ্গত হয়ে  ওঠে না?
“তোমার চেয়ে বেশি সুন্দর আর কেউ নয়”  তাকে খুশি করার জন্য এ রকম কথা না  বলে যদি বলা হয়, “তোমাকে আমার কাছে ভারি সুন্দর লাগে”  তাহলেই কি তা সত্যতায় অনন্য হয়ে ওঠে না?
“আমি কোনদিন তোমাকে ছেড়ে যাব না”  না বলে,  যদি বলা হয় “যত দিন সম্ভব তোমার কাছেই থাকব’” তবে কী তা মিথ্যা বলা হবে?
“সারাজীবন তোমাকে ভালবাসব”  বলার মতো নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি  কী কেউ কাউকে  দিতে পারেন আসলে?  পারেন না। কারণ মানুষের জীবনের সব কিছুই হচ্ছে বাস্তবতা।  প্রায় সব কিছুই নির্ভর করে অন্য কিছুর উপর। যাকে মানুষ ভালবাসে, তার  প্রতিমুহূর্তের আচরণের ওপর নির্ভর করে,  তাকে কতটা ভালবাসা যায় এবং কতদিন তা স্থায়ী হবে।  তাই  সঠিক হতে হবে সংলাপ।  যদি বলা হয়, “এই মুহূর্তে তোমাকে আমি আমার  সমস্ত অনুভূতি দিয়ে ভালবাসি, এখন এটাই সত্যি”।

ছেলে এবং মেয়ে উভয়কেই তাদের ভালোবাসার মানুষদের কাছে সৎ থাকা উচিৎ। কারণ সততা সব কিছুর উপরে। সততা সম্পর্ক কে ভালো রাখে।

মনের মিল বা মানসিক  ভাবে মিল থাকা

বাচ্চা
    ডিভোর্স বাচ্চাদের জীবনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে।

কোন সম্পর্ক শুরু করার আগে ভাবতে হবে দুজনের মানসিক দিক গুলো মিলে কিনা, তাদের চিন্তা ভাবনার মিল কতটুকু যদি ৫০% ও মিলে যায় তাহলে হয়তো সম্পর্কটা টিকে থাকে কিন্তু যদি ২০% ও না মিলে তাহলে শুধু কম্প্রোমাইজ করেই জীবন কাটাতে হবে, শুরু হবে অশান্তি, ঝগড়া, এক সময় ডিভোর্স। আর যদি এই সম্পর্কে পৃথিবীতে কোন প্রাণ আসে তাহলে তার জীবনটা শেষ হয়ে যাবে সবার আগে।

তাহলে এটা বলা যায় কোন সম্পর্ক শুরু করার আগে অবশ্যই মনের মিল, মানসিক অবস্থা সব কিছু মাথায় রাখতে হবে।

আপনি যখন আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনীর ওপর বিরক্ত, তখন হয়তো সামান্য কারণেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন। এটা আপনার জন্য বুমেরাং হয়ে আসতে পারে। তাই সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে কথা বলার আগে ঠাণ্ডা হয়ে বসে সমস্যাটি নিয়ে ভালভাবে ভাবুন। তারপর তার সঙ্গে কথা বলুন। দেখবেন আসলে সম্পর্ক ততোটা তিক্ত নয়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকগুলো বিষয় ঠিক হয়ে আসতে শুরু করে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিষয়টা অকাট্য সত্য। আপনারা যখন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবেন,  দেখবেন সমাধান হাতের নাগালেই।

তারপর ও বলা যায় না ভালোবাসা স্নিগ্ধ হাওয়ার মত কখন কীভাবে এসে গায়ে লাগে। কিন্তু একটু ভেবে চিন্তে আগাতে দোষ কোথায়।

ভালোবাসা
                          এক সাথে সারাজীবন পার করা

ভালোবাসার পরিসমাপ্তি যেন কখনই ডিভোর্স অথবা ব্রেকাপ নামক শব্দ দিয়ে শেষ না হয়। ভালোবাসার পরিসমাপ্তি যেন শেষ বয়স পর্যন্ত এক সাথেই কাটে।

আমার ভালোলাগা একটি গান দিয়ে শেষ করছি। চাইলে শুনে দেখতে পারেন।

আমার রাতজাগা তারা
তোমার আকাশ ছোয়া বাড়ি
আমি পাইনা ছুঁতে তোমায়
আমার একলা লাগে ভারী…

                                     

                                                                                                         (গান-ভিন দেশী তারা, মুভি-অন্তহীন)