গাছ আপনার মতো অনুভব করতে পারে, তাদের বুঝতে চেষ্টা করুন

যেখানে প্রাণ আছে সেখানে অনুভূতি থাকবে। গাছ এর প্রাণ আছে সেটা অনেক আগেই আবিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু গাছের যে অনুভূতি প্রখর তা আমরা ভালোভাবে জানতাম না। আসুন জেনে নেই এই বিষয়ে।

বৃক্ষের জীবন আছে কিন্তু ব্রেইন কিংবা মানুষ কিংবা অন্যান্য প্রানীর মত কোন নার্ভ সেল না থাকার কারনে তাদের অনুভূতির অভিব্যক্তিটাও অন্যভাবে প্রকাশ করে।

কোন গাছ যদি পুরোপুরি গোড়া থেকে কেটে ফেলা হয় তবে সেই গাছ তার সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলে।

গাছের সংবেদনশীলতা তার কান্ড-প্রকান্ডে থাকে তাই গাছের কোন কান্ড অংশ কেটে ফেললে তার আশে পাশের কান্ডের পাতা কিংবা ফুল ফলের উপর কিছুটা প্রভাব পরিলক্ষিত হয় কিন্তু সঠিক যত্নের কারনে তা আবার পুনরায় সংবেদনশীলতা ধারন এবং রক্ষা করতে শুরু করে।

স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু (নভেম্বর ৩০, ১৮৫৮ – নভেম্বর ২৩, ১৯৩৭) একজন সফল বাঙালি বিজ্ঞানী। তার গবেষণার প্রধান দিক ছিল উদ্ভিদ ও তড়িৎ চৌম্বক। তার আবিষ্কারের মধ্যে উদ্ভিদের বৃদ্ধিমাপক যন্ত্র ক্রেস্কোগ্রাফ, উদ্ভিদের দেহের উত্তেজনার বেগ নিরুপক সমতল তরুলিপি যন্ত্র রিজোনাষ্ট রেকর্ডার অন্যতম। জগদীশ চন্দ্র প্রচুর পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন যে, উদ্ভিদ এ প্রাণী জীবনের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য রয়েছে; এক কথায় উদ্ভিদজীবন প্রাণীজীবনের ছায়া মাত্র।

গাছ
জগদীশ চন্দ্র বসু আবিষ্কার করেন গাছের প্রাণ আছে।

আমাদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের পশুপাখি পালন করে থাকি।

অনেকে আবার বাগান করতে অথবা গাছ পরিচর্যা করতে ভালবাসি। কিন্তু মাঝেমধ্যে তাদের চাহিদা বুঝতে না পারার কারনে তাদেরকে আমরা জীবিত রাখতে পারি না।

পশুপাখি তো কিছু না কিছু খেয়ে বেছে থাকে কিন্তু গাছ, সে তো নড়াচড়া করতে পারে না।

কেমন হয় যদি আমরা গাছ-প্রেমীরা গাছের কথা বুঝতে পারি। তারা কি চায় আমরা তা সাথে সাথে জানতে পারি।

গাছের প্রাণ আছে, বাঙালী বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু আবিষ্কার করেছিলেন।

নিশ্চই এই আবিষ্কার আমাদের সকলকে অবাক করে দিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা আরো কিছু আবিষ্কার করেছেন যে তাদের কুঁড়ি বা পাতা খেকোদের প্রতিরোধ করে পারে এমন কিছু।

এতে বলা হচ্ছে গাছেরা ঝড়ো বাতাসে বা কোন হরিণদের দ্বারা আক্রান্ত হলে সেটা তারা বুঝতে পারে এবং প্রতিরোধ করতে পারে।

গাছ যখন বুদ্ধিমান

উদ্ভিদ এবং তার শিকারীর উদ্ভব হয়েছে একই ধাপে একে অপরের হাত ধরে যখন থেকে মাটিতে মস আর ফার্ন প্রথম জন্ম হয়েছিল।

কাঁটা দিয়ে নিজেদের আচ্ছাদিত করা এবং ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ উৎপাদন করা তাদের বেশ ভাল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

তবে উদ্ভিদেরা তৃণভোজীদের সাথে দ্বন্দ্বে আমরা যা ভাবি তার চেয়েও আরো বেশি সক্রিয়।

নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে  কঁচি চারাগাছ গুলো আবহাওয়া অথবা ঝড়ে তাদের কুঁড়িগুলো ক্ষতি হয়েছে কি না অথবা হরিণে খেল কি না তা বলতে সক্ষম।

গাছ
গাছেরা অনেক সংবেদনশীল তাই নিজেদের অন্য প্রাণীদের থেকে বাঁচিয়ে রাখার পদ্ধতি অবলম্বন করে।

যেহেতু তরুন গাছগুলো অতটা বড় থাকে না, একটি ক্ষুধার্ত হরিণের ধ্বংসাত্মক ক্ষুধা এদের ধ্বংস করে, এবং অবশেষে এদের অস্তিত্ব নিয়ে টানাটানিতে পড়ে যায়।

কিন্তু  চারাগাছগুলো যুদ্ধ ছাড়া নিজেদের হেরে যেতে দেয় না, যেমন প্রতিরোধ হিসেবে এগুলো তৃণভোজী প্রাণীদের এস্ট্রিজেন টানিন রাসায়নিক নিঃস্বরণ করে, যাতে কুঁড়ির স্বাদ খারাপ হয়ে যায় এবং তৃণভোজী প্রাণীরা খাওয়া বন্ধ করে। কিন্তু গাছের জানার প্রয়োজন হয় তার কুঁড়িদেরকে হরিণ কোন ক্ষতি করছে কি না, অথবা ঝড়ো হাওয়ায় ক্ষতি হচ্ছে কি না।

যখন কুঁড়িটা নষ্ট হয় তখন তারা এই রাসায়নিকটা ছাড়ে। প্রাণীদের মুখের লালা কুঁড়ির ক্ষতে লেগে থাকা উদ্ভিদ বুঝতে পারে।

যখন বুঝতে পারে, চারাটি প্রতিক্রিয়া দেখানো শুরু করে এবং স্যালিসাইলিক এসিড নামক একটি হরমোন উৎপাদন করে।

এ কারণে গাছের সেই অংশে ট্যানিনস এর ঘনত্ব বাড়তে থাকে।

শুধু তাই নয়, হরিণে খাওয়ায় হারানো কুড়িগুলো গাছকে আরো উদ্দীপ্ত করে আরো হরমোন জোগাতে।

তার ফলে কুড়িগুলো পরবর্তীতে আরো শক্তিশালীভাবে বড় হয়।

গাছ কি ভাবে জানতে পারবেন

এবার আপনাদের জন্য রয়েছে একটি চমক।

সম্প্রতি Junyi Heo নামে এক জাপানিস কোম্পানি উচ্চপ্রযুক্তি সম্পন্ন এমন এক পড (গাছ রাখার পাত্র) তৈরী করেছেন যার মাধ্যমে আমরা গাছের সাথে যোগাযোগ করতে পারব।

গাছ
গাছ রাখার সেই পড

এই পডটি মাটির অবস্থা, তাপমাত্রা, জলবায়ু এবং মাটিতে পানির পরিমান সম্পর্কে ধারণা নিতে পারে।

এটি পডে লাগানো গাছটির চাহিদা বুঝতে পারে এবং তার বর্তমান অবস্থা একটি LED Display এর মাধ্যমে দেখিয়ে দেয়।

পডটি আরো অনেক কিছু দেখায়, যেমন: আপনি কি গাছে পানি বেশি দিয়ে ফেলেছেন নাকি।

যদি দিয়ে থাকেন তাহলে এটি অতিরিক্ত পানি শুষে নিয়ে এর নিচে আলাদা একটি পাত্রে জমা করে।

আপনার শুধু পডটিকে একটি USB কানেক্টর এর সাহায্যে PC এর সাথে কানেক্ট করতে হবে।

এই যোগান্তকারী আবিষ্কারটির পিছনে সবচে বড় কারণ হচ্ছে, মানুষ যাতে গাছ ধ্বংস না করে।

হয়ত আপনি এটিকে কাটতে গেলে এটি ডিসপ্লেতে ছুরি দেখাবে অথবা কাওকে ছুরি দিয়ে আঘাত করছেন সেটি দেখাবে।

যাই হোক, এটির মাধ্যমে আপনি আপনার গাছের অনুভূতি সম্পর্কে জানতে পারবেন। এর জন্য আপনি শুধু display তে তাকালেই হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *