পৃথিবী বিখ্যাত মানুষদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শেষকথা

শেষকথা

পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতার নাম মৃত্যু। যার জন্ম হয়েছে তার মৃত্যু অবধারিত। কেউ তা কোন ভাবে ঠেকাতে পারবে না। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে অনেকেই অনেক কথা বলে থাকেন। কারো কারো কাছে এই শেষকথা অর্থহীন মনে হতে পারে। কিন্তু কথাগুলো কি আসলেই তাৎপর্যহীন? আমাদের সবার পরিচিত কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে উচ্চারিত কিছু কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।

বব মার্লে

শেষকথা

আধুনিক সময়ে এসেও বব মার্লেকে মানা হয় তারুণ্যের প্রতীক, বিপ্লবের প্রতীক হিসেবে। মৃত্যুর এতো বছর পরও তার জনপ্রিয়তা কোন অংশে কমেনি। তিনি অধিকার বঞ্চিত মানুষের গান গাইতেন। মৃত্যুর আগে তার শেষ কথা ছিল,

“জন্মভূমি জ্যামাইকাতেই মরতে চাই।”

জীবনের শেষ মুহূর্ত গুলো তিনি চেয়েছিলেন মাতৃভূমি জ্যামাইকাতে থাকতে। তার শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য তাঁকে জ্যামাইকাতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শরীরের নাজুক অবস্থার কারণে ১৯৮১ সালের ১১ মে পথেই তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুকালে বব মার্লের বয়স ছিল মাত্র ছত্রিশ বছর। পুত্র জিগি মার্লেকে উদ্দেশ্য করে তার শেষ কথাগুলো ছিল, “অর্থ জীবন কিনতে পারে না।”

মহাত্মা গান্ধী

শেষকথা

ভারতের অহিংস আন্দোলনের পথিকৃত মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। আমরা যাকে মহাত্মা গান্ধী নামে চিনি। তিনি খুবই সাধাসিধে জীবনযাপন করতেন। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারিতে নয়া দিল্লীর বিরলা ভবনে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন তিনি।

আততায়ী ছিলেন নাথুরাম গডসে। মৃত্যুর পূর্বমূহুর্তে মহাত্মা গান্ধী শুধু বলেছিলেন “হা রাম।” তার পরপরই সব কিছু শেষ হয়ে গেলো।

আর্কিমিডিস

শেষকথা

আর্কিমিডিস সম্পর্কে কম বেশি সবাই তো জানি। একদিন গণিতের সূত্র নিয়ে বাড়ির উঠোনে দাগ কেটে হিসেব কষছিলেন গ্রিক পন্ডিত আর্কিমিডিস।

তখন রোমান সৈন্যরা গ্রিস আক্রমণ করেছিলো।

গ্রিস জেতার পর রোমান সেনাপতি মার্সেলাস চাইলেন মহাজ্ঞানী আর্কিমিডিসের সাথে দেখা করতে। তিনি ছিলেন গুণের সমঝদার ব্যক্তি।

সৈন্য পাঠিয়ে দিলেন আর্কিমিডিসকে খুঁজে সসম্মানে তার কাছে নিয়ে আসতে।

সৈন্যরা আর্কিমিডিসের কাছে এলো। কিন্তু আর্কিমিডিসের সেদিকে খেয়াল নেই। আর্কিমিডিস তার কাজ নিয়েই ব্যস্ত।

সৈন্যরা তাকে ডাকতেই তিনি বললেন, “আমার নকশা থেকে দূরে সরে দাঁড়াও।”

এই কথাটাই তার শেষ কথা ছিল। পরাজিত নাগরিকের এমন কথা শুনে সৈন্যটি আর নিজেকে স্থির রাখতে পারলো না।

মূর্খ সেই সৈন্যের তরোয়ালের এক কোপে দ্বিখণ্ডিত হলো মহান এই গণিতবিদের শির।

অগাস্টাস সিজার

মৃত্যুর আগে তার প্রজাদের উদ্দেশ্যে বারবার একটি কথা বলছিলেন রোম সাম্রাজ্যের প্রথম সম্রাট অগাস্টাস সিজার।

“আমি কাদা-মাটির রোমকে পেয়েছিলাম। তোমাদের কাছে একে মর্মর বানিয়ে দিয়ে গেলাম“।

অগাস্টাস সিজার তার কাছের মানুষদের বলেছিলেন, “আমি কি আমার দায়িত্ব ঠিকমতন সম্পন্ন করতে পেরেছি? যদি পেরে থাকি, তবে চলে যাওয়ার পর আমাকে স্মরণ করো।“

চার্লস ডিকেন্স

শেষকথা

১৮১২ সালে ৭ ফেব্রুয়ারি মাসে জন্ম নেন ডিকেন্স। তিনি ছিলেন ঊনবিংশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইংরেজ ঔপন্যাসিক।

চার্লস ডিকেন্সকে ভিক্টোরিয়ান যুগের শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক হিসেবে মনে করা হয়।

আধুনিক সময়তো বটেই ডিকেন্স জীবদ্দশাতেই তার পূর্বসূরি লেখকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অনেক বেশি জনপ্রিয়তা ও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

অলিভার টুইস্টের, গ্রেট এক্সপেকটেশন, হার্ড টাইমস এবং ডেভিড কপারফিল্ডের মতো অসংখ্য জনপ্রিয় উপন্যাসের স্রষ্টা তিনি। তিনি খুব সুন্দর কথা বলেছিলেন শেষ সময়ে।

“আমার মৃত্যুর পর স্মরণ সভায় শোক প্রকাশের জন্য কালো বস্ত্র, স্কার্ফ পরিধান করে আসার কোনো দরকার নেই”

তার কাছে এইসব কিছুই অর্থহীন মনে হয়।

সম্রাট আওরঙ্গজেব

মুঘল এই সম্রাট মৃত্যুর আগে তার কৃত কর্মের জন্য অনেক বেশি অনুতপ্ত ছিলেন। তিনি ছেলের কাছে একটি শেষ চিঠি লিখেছিলেন। তার শেষ কথা ছিল,

“আমার জীবনে অনেক পাপ করেছি। জানি না, কত শাস্তি আমার জন্য অপেক্ষা করছে”

হয়তোবা তিনি অনুভব করতে পেরেছিলেন কেউ তার কর্মফল ভোগ না করে পালাতে পারবেনা।

মৃত্যুর ওপাড়ে কি আছে তা হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *