কোমল পানীয়: এক নীরব ঘাতক

কোমল পানীয়

আমরা বেশীর ভাগ মানুষ আজকাল কম বা বেশী কোমল পানীয় পান করি। বিভিন্ন  স্বাদে বিভিন্ন কোম্পানি বাজারে নিয়ে এসেছে অনেক রকমের পানীয়। এর কারণ কোমল পানীয়র প্রতি মানুষের অনেক বেশী চাহিদা। কোমল পানীয় কে পছন্দ না করে, কে না চায় একটু কোমল পানীয় পান করে গলা ভেজাতে?? এই কোমল পানীয় অনেক সহজলভ্য তাই সবাই কিনতে পারি। কিন্তু আমরা কি জানি এই প্রাণঘাতী পানীয় আমাদের ধীরে ধীরে প্রাণনাশের পথে নিয়ে যাচ্ছে? এটা অনেক লোভনীয় চোখের সামনে বা হাতের নাগালে থাকলে আমরা তার লোভ সামলাতে পারি না। আমাদের জীবনে ভোগ বিলাসিতার চাহিদা কখনো পরিপূর্ণ হয় না। অনেক সময় আমাদের ক্ষণিকের শান্তি বা সামান্যতম সময়ের সুখের জন্য আমরা আমাদের জীবনকে নিজের অজান্তে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেই। আবার দেখা যায় আমরা অনেকেই জেনে শুনে ক্ষতির দিকে পা বাড়িয়ে থাকি খামখেয়ালীপনার জন্য তখন আমরা ভুলে যাই কি করতে যাচ্ছি বা কি হতে যাচ্ছে। আসুন নিজে বাঁচি নিজে সচেতন হই এবং অন্য কে বাঁচাতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই। মরনঘাতী কোমল পানীয় সম্পর্কে জেনে নেই কিছু অজানা তথ্য যা শুনলে আপনি বিশ্বাস করতে পারবেন না এতদিন আপনি কিভাবে প্রতিনিয়ত নিজের ক্ষতি করে যাচ্ছেন। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক ক্ষতিকর দিক গুলোঃ-

এসিডিটি বা অম্লত্বঃ

কোমল পানীয়
কোমল পানীয় অ্যাসিডটি বাড়িয়ে দেয়।

কার্বনেটেড পানীয় গুলো দ্রবীভূত কার্বন ডাই অক্সাইড বহন করে থাকে যার কারণে পাকস্থলীতে গ্যাস তৈরি হয় যখন কোমল পানীয় আপনার পেটে শরীরের তাপমাত্রায় পৌঁছায়। আর পেটে জমে থাকা গ্যাসের কারণে আপনার পেটে ক্ষতের সৃষ্টি করে যা একসময় আপনার পেটের আলসারে পরিণত করতে পারে। অনেক সময় আলসার থেকে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়ঃ

কার্বনেটেড পানীয় খাদ্যে অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করে এ জন্য দেহের ওজন এবং স্থূলতার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। ২০০৭ সালে “আমেরিকান জার্নাল অব পাবলিক হেলথ” এর একটি লেখায় ড.লেনি ভার্টনিয়ান বলেছিলেন যে, কোমল পানীয় পান করার কারণে যে স্থূলতা-ঝুঁকির সৃষ্টি হয়ে থাকে তা শিশু, কিশোর ও পুরুষের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের বেশী হয়। প্রয়োজনের অধিক ওজন বা স্থুলতা টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হাড়ের বাত রোগ সহ অনেক রোগের উৎস হিসেবে কাজ করে থাকে।

কোমল পানীয়
কেউ খেতে বললে আমাদের মানা করা শিখতে হবে।

নগণ্য পুষ্টিকর উপাদান

আমাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণের উপর অনেক বেশী প্রতিকূল প্রভাব ফেলে কার্বনেটেড কোমল পানীয়র ফ্যাট। এ ধরনের পানীয় পান করার কারণে  দেহে প্রোটিন, স্টার্চ, ডায়াবেটিস ফাইবার, ভিটামিন বি-২ এগুলোর মাত্রা আসতে আসতে কমে যাওয়ার  শুরু করে।

দাঁতের ক্ষতের সৃষ্টি করেঃ-

কার্বনেটেড কোমল পানীয় আমাদের দাঁতের ক্ষতি করে থাকে। আমরা যখন মিষ্টি জাতীয় কোমল পানীয় গুলো পান করে থাকি তখন এর মধ্যে অবস্থিত চিনি আমাদের মুখে থেকে যায়। আমাদের মুখে অবস্থিত ব্যাকটেরিয়া চিনি থেকে খাবার সংগ্রহ করে ও রাসায়নিক উৎপাদকের সাহায্যে তা আমাদের দাঁতের শক্ত স্তর (এনামেল) ভেঙে ফেলতে থাকে। পরবর্তিতে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হতে হতে দাঁতের মধ্যে গর্তের সৃষ্টি করে। দাঁত আমাদের শরীরের অমূল্য সম্পদ। শরীরের এই অংশ একবার নষ্ট হলে আর ঠিক হয় না। তাই সময় থাকতে দাঁতের যত্ন নিন। দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝার চেষ্টা করুন।

হাড়ের শক্তি ক্ষয় করেঃ

কোমল বা কার্বনেটেড পানীয় হাড়ের শক্তি কমিয়ে দেয় যা মহিলাদের জন্য সবচেয়ে বেশী ক্ষতিকর। হাড় গঠিত হয় আমিষ, কোলাজেন ও ক্যালসিয়াম দ্বারা। কোমল পানীয়র কার্বনেটেড এসিড হাড়ের এমন উপাদান গুলোর ক্ষতি করে। এ জন্য কোমল পানীয় সব বয়সের মানুষের জন্য ক্ষতিকর তবে মধ্য বয়সের মানুষের জন্য এটি খুবই ক্ষতিকর। কেননা মধ্য বয়সের মানুষের মানে যাদের বয়স ত্রিশ এর উপরে তাদের হাড়ের ঘনত্ব ও পরিমাণ এমনিতেই কমতে থাকে।  “দ্যা আমেরিকান জার্নাল  অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশান” এর পুষ্টি বিজ্ঞানী ড.ক্যাথেরিন টাকার’ বলেন যে সকল মহিলারা কোমল পানীয় পান করেন তাদের চেয়ে যারা পান করে না তাদের পশ্চাৎ দেশের হাড় বেশী দুর্বল হয়ে যায়।

এ লেখাটি যদি আপনি মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে এখন থেকে কোমল পানীয় কে না বলুন। সকল প্রকার কোমল পানীয় কে যতোটুকু পারেন এড়িয়ে চলুন।

আপনার এবং আপনার পরিবারের তথা দেশের মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসুন। আমাদের সাথেই থাকুন।

 

মানসিক রোগ কতটা ভয়ানক হতে পারে??

মানসিক রোগ

“পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় লক্ষ লক্ষ মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। আর এই মানসিক রোগ তাদের আপনজনদের জীবনের উপর অনেক বেশী প্রভাব ফেলে। প্রতি চারজনের মধ্যে একজন তাদের জীবনের কোনো এক সময়ে এসে এই রোগে আক্রান্ত হবে। সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা এমন মানসিক অসুস্থতার পিছনে একটা উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে অবসাদ। মানসিক রোগ গুলোর মধ্যে সিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার ডিসঅর্ডার হচ্ছে সবচেয়ে দুঃসহ ও ক্ষতিকর মানসিক রোগ। যদিও অনেক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে তবুও তারা এই মানসিক রোগকে সবার থেকে আড়াল করে রাখে, উপেক্ষা করে ও এই রোগ কে কুদৃষ্টিতে দেখে।”—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।
ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অন মেন্টাল ইলনেস রিপোর্ট অনুযায়ী– বেশীর ভাগ মানসিক রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব, কিন্তু গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬০% প্রাপ্তবয়স্ক ও প্রায় ৫০% অল্প বয়সি, যাদের বয়স ৮-১৫ বছরের মধ্যে ছিলো এবং তারা কোন প্রকার চিকিৎসায় উন্নতি লাভ করেনি।

মানসিক রোগ কি ?

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, মানসিক রোগ হচ্ছে একজন মানুষের সুস্থভাবে চিন্তা করতে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সঠিক ভাবে আচরণ করতে না পারা। এমন অবস্থায় বেশীর ভাগ সময় একজন মানুষের অন্যদের সাথে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার ও জীবন কে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সাথে মোকাবিলা করার ক্ষমতা বাধাপ্রাপ্ত হয়। এটি কোন ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা চারিত্রিক সমস্যার কারণ নয়।

মানসিক রোগ
বিশ্বে প্রতি চারজনে একজন মানসিক রোগে আক্রান্ত হন।

মানসিক রোগের প্রাথমিক লক্ষন

– অকারনে তীব্র টেনশন।

– ঘুম কমে যাওয়া।

– মনোসংযোগে সমস্যা

সমস্যা আরো গভীর হলেঃ

মানসিক রোগ
অনেক বেশী সমস্যার আগে চিকিৎসকের নিকটে যান।

– আবেগ অনুভূতি হারিয়ে ফেলা।

– অবাস্তব কিছুতে তীব্র বিশ্বাস।

– অবাস্তব কিছু দেখা বা শোনার দাবী করা (হ্যালুসিনেশন)।

– মনোসংযোগে তীব্র সমস্যা, অসংলগ্ন বা অপ্রাসংগিক কথা বলা।

– অদ্ভুত আচরণ।

সিজোফ্রেনিয়া আবার কয়েক রকমের হতে পারে। যার মাঝে প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়া রোগে অনেকেই ভোগেন, যাতে মনে হয় যে আশেপাশের সবাই রোগীর শত্রু। সিজোফ্রেনিয়া রোগ মেডিকেশনে নিরাময় সম্ভব।

কিছু ভুল ধারনা আমাদের আছে যেগুলি নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। অনেকেরই এখনো ধারনা আছে যে মনোরোগ কেবল ধনী লোকদেরই হয়। এই ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। মনোরোগের কোন সামাজিক শ্রেনী বিন্যাস নেই। গরীব লোকে সেটা জানতেও পারে না  সেটা ভিন্ন কথা। যেমন ষ্টাডিতে দেখা যায় যে বাংলাদেশসহ গরীব দেশগুলিতে গর্ভবতী মহিলারা অনেক সময়ই আর্থ সামাজিক কারণে প্রচন্ড ডিপ্রেশনে ভোগেন, এতেই শেষ নয়। এই ডিপ্রেশনের প্রভাব ছড়িয়ে যেতে পারে তার অনাগত শিশুর জীবনে, শিশুর শারীরিক মানসিক বৃদ্ধিও হতে পারে মারাত্মকভাবে ব্যাহত। আমাদের দেশের কত লোকে এভাবে আজন্ম ভোগে কে তার হিসেব রাখে।

এ ছাড়াও আরেকটি ভুল ধারনা আছে যে মানসিক রোগ কেবল প্রাপ্ত বয়ষ্কদেরই হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য যে শিশুদেরও,  এমনকি সদ্যজাত থেকে ৩ বছর বয়সী।

মানসিক রোগ
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখুন।

শিশুদেরও  মানসিক সমস্যা হতে পারে। এই বয়সের একটি সাধারণ রোগের লক্ষন হল শিশুদের বাবা মার সাথে কম ঘেষার প্রবণতা, যাকে এটাচমেন্ট প্রবলেম বলে। এ ছাড়াও বাইপোলার ডিজ অর্ডার (ঘন ঘন মুডের পরিবর্তন),  এংক্সাইটি ডিজ অর্ডার, ডিপ্রেশন এসব রোগে বড়দের মত শিশুরাও ভুগতে পারে। অটিজমের কথা তো এখন সবাই নিশ্চয়ই জানেন।  এ ছাড়াও খুব সাধারণ কিছু সমস্যা যেমন বিছানায় মলমূত্র ত্যাগ,  স্কুল পালানো এসবও ক্রনিক মানসিক রোগ হতে পারে। সময়মত সুচিকিৎসা করা না  হলে রোগী ভুগবে সারা জীবন, রোগ হবে জটিল থেকে জটিলতর।

বিশ্বে এমন কিছু জটিল মানসিক রোগ রয়েছে,  যেগুলির বিবরণ শুনে বিশ্বাস করা কঠিন।

তিনটি ঘটনা দেয়া হল

ফরেইন অ্যাকসেন্ট সিনড্রোম :‌ ফ্রান্সের তরুণী অ্যাস্ট্রিড এল ফরাসি ভাষার বাইরে শুধু ভাঙা ভাঙা ইংরেজী ভাষায় কথা বলতে পারতেন।

এছাড়া কোনও ভাষাই তিনি জানতেন না। হঠাৎ একদিন ঘুম থেকে উঠে তিনি খাঁটি জার্মান ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। মেয়ের পরিবর্তন দেখে আঁতকে ওঠেন অ্যাস্ট্রিডের মা-‌বাবা। এমন অবস্থা হয়, যে তিনি ফরাসিতে কথা বলাই বন্ধ করে দেন। বেশ কিছু বছর আগে উত্তরপ্রদেশেও এক নাবালক এই রোগের শিকার হয়। যে কোনওদিন স্থানীয় ভাষার বাইরে কিছু জানত না, সে হঠাৎ ব্রিটিশ কায়দায় ইংরেজী বলতে শুরু করে।

অটোফাজিয়া :‌ “আজ কী খেতে ইচ্ছে করছে?”‌, অটোফাজিয়ায় আক্রান্ত রোগীর উত্তর হয় “‌নিজেকে”। হ্যাঁ, ভয়ানক এই রোগের লক্ষণ হল নিজেকে খেয়ে ফেলার ইচ্ছে। শুনে কি খুব বিরল রোগ মনে হচ্ছে? মনোচিকিৎসকরা বলছেন, নখ খাওয়ার অভ্যেসই এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। নখ খেতে খেতে রোগী আঙুলে কামড় বসানো শুরু করে। অসুস্থতা বাড়লে তা আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। সেই কারণেই বাচ্চাদের নখ খাওয়ার অভ্যেস হচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর দিতে বলেন চিকিৎসকরা।

কোটার্ড সিনড্রোম :‌ আরেকটি ভয়ানক রোগ। কোটার্ড সিনড্রোমে আক্রান্তরা নিজেদের মৃত বলে মনে করে। সিজোফ্রেনিয়া কিংবা গভীর অবসাদ থেকে এই রোগ দেখা দিতে পারে। পৃথিবীর কোনও কিছুর প্রতি তাদের মোহ-‌মায়া থাকে না। জীবন্ত মৃতদেহের মতো দিন কাটায়।

মানসিক রোগের চিকিৎসা

মানসিক রোগ
সময়মত চিকিৎসা করালে আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন


মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা সফলতার সাথে অনেক মানসিক রোগের চিকিৎসা করতে পারেন। এ জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে কোন অভিজ্ঞ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া এবং সম্পূর্ণ চেক আপ করা। এ ধরনের রোগীরা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে তখনি উপকৃত হবে যখন তারা উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করবে। তবে এর জন্য রোগিকে তার মানসিক সমস্যা সম্পর্কে অন্যদের সাথে কথা বলার অনিচ্ছা দূর করতে হবে। ডাক্তারের সাথে খোলামেলা কথা বলতে হবে রোগীকে যেমন দৈনন্দিন সমস্যার কথা বা কোন গোপনীয়তা না রেখে ডাক্তারকে জানাতে হবে।
বিশেষজ্ঞের দেওয়া নিয়মানুযায়ী চলতে হবে অবশ্যই এর জন্য ডাক্তারের সাথে পরিবারের মানুষদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। রোগীকে মানসিক ভাবে সাপোর্ট দিতে তার পরিবারের বা আপনজনদের সহযোগিতা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। যা অন্যান্য চিকিৎসার চেয়ে অনেকাংশে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে দেখেন যে পারিবারিক অশান্তি, সম্পর্কের ফাটল, ঝগড়া বিবাদ, অনেক সময় নিজের সঙ্গীর সাথে ভুল বুঝাবুঝি, কোন কাজে ব্যর্থতা, একাকী থাকা, হীনমানসিকতা  ইত্যাদি কারণে মানসিক ভাবে অনেক বেশী বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই এ সকল সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য হিতাকাঙ্ক্ষীদের পরিচর্যাই হচ্ছে একমাত্র ভরসা।

যখন কোন মানুষ সাময়িক বা দির্ঘস্থায়ী শারীরিক বা মানসিক সমস্যার জন্যে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে ব্যর্থ হয়, তখন তাকে কাছের মানুষের উপর নির্ভর করতে হয়। মানসিক অসুস্থতার কারণে তাকে কারো না কারো সাহায্য নিয়ে দিন পার করতে হয়। আর এভাবে আপনজনদের বা শুভাকাঙ্ক্ষীদের থেকে মানসিক বা শারীরিক সহযোগিতার মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে মানসিক রোগ থেকে মুক্তি লাভ করতে সক্ষম হয়। পরিবার পরিজনদের দায়িত্ব শুধু মানসিক রোগীর সমস্যা সমাধান করা না বরং রোগীকে তার জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ নিশ্চিত করা।

একজন মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ব্যাক্তিকে ঔষধ বা থেরাপি দিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেয়ে, তাকে মানসিক ভাবে সাপোর্ট দিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কার্যকারিতা অনেক বেশী।

কিভাবে মানসিক রোগের সঙ্গে মোকাবিলা করা যায়

-অভিজ্ঞ  মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী চলুন এবং চিকিৎসা করান।

-ভারসাম্যপুর্ন ও স্থায়ী দৈনন্দিন তালিকা মেনে চলুন

-নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখুন।

-একমুখী চিন্তা পরিহার করুন।

-নিজেকে সময় দিন আরাম করার জন্য সময় নিন।

-পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খান।
-মদ্যপান করা ও যেকোন নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।

মানসিক রোগ
কোনপ্রকার মাদকদ্রব্য গ্রহণ করা যাবে না

-নিজেকে স্বল্প পরিসরে না রেখে সবার সাথে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। অন্যদের সময় দিন।
-আপনার প্রয়োজনীয়তার দিকে মননিবেশ করুন।

 

আসুন একটু হৃদয়ের যত্ন নেই

হার্ট

“প্রায় বুকে চিন চিন করে ব্যথা করে কবির সাহেবের, তিনি ভাবেন এটা গ্যাস্টিকের ব্যথা হয়ত। তাই দুই টাকা দামের একটা গ্যাস্টিকের ট্যাবলেট খেয়ে সাময়িক ভাবে ব্যথা উপশম করেন।“

আমাদের সমাজে এমন কবির সাহেব আছেন হাজারেরও বেশি। হার্ট অ্যাটাকের আগে কেউ ডাক্তার দেখাতে যায় না। বার বার শরীরের প্রয়োজন কে অবহেলা করি আমারা। ফলাফল হার্ট অ্যাটাক নাহয় মৃত্যু। একটা মৃত্যু বা হার্ট অ্যাটাকের চাপ একটা পরিবারকে যে কতটা ভেঙ্গে ফেলে লিখে শেষ করা যাবে না।

আজ তাই চেষ্টা করলাম এই বিষয় অজানা কিছু তথ্য জানাতে। সব শেষে থাকছে একটি সারপ্রাইজ। আসা করি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি নিজ স্বার্থে পড়বেন।

হৃৎপিণ্ড আমাদের দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। মাদার বোর্ড ছাড়া যেমন কম্পিউটার চলে না। তেমনই হৃৎপিণ্ড ছাড়া শরীর চলতে পারেনা। কিন্তু ব্যস্ততার বা অবহেলার কারণে শরীরের এ গুরুত্বপূর্ণ অংশটির যত্ন নেওয়ার কথা ভুলে যাই আমরা। বর্তমান সময়ে পরিবেশ যেভাবে দূষিত হচ্ছে, রোগের বয়স এর পার্থক্য কমে যাচ্ছে। যে কোনো বয়সের মানুষেরই হতে পারে যে কোনো রোগ। বিশেষ করে হার্টের রোগ। একটু সতর্ক হলেই কিন্তু এই সব অসুখ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। হার্টের অসুখের ঝুঁকি আপনার জীবনে একটু কমাতে চাইলে কিছু বিষয় অবশ্যই মানতে হবে।

ধূমপানের অভ্যাস থাকলে ছেড়ে দিন। ধূমপান না করলে আপনার হার্টের অসুখের ঝুঁকিও অনেক কমে যাবে। একটু ব্যায়াম করুন। সময় সুযোগ মতো নিয়ম করে করুন ব্যায়াম। হার্টের অসুখের ঝুঁকি কমবে। আপনার উচ্চতা এবং বয়সের সঙ্গে মানানসই এমন ওজন বজায় রাখুন।

হার্ট
ধূমপান বাদ দিতে না পারলে হৃদরোগ হবেই।

ব্যায়ামের উপকারিতা

১।  দেহে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয় ও কোষগুলোকে অক্সিজেন ব্যবহার করতে সহায়তা করে।

২।  হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে।

৩।  ব্লাডপ্রেশার বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

হার্ট
রক্তচাপ বেশি থাকলে দ্রুত কমানোর ব্যাবস্থা করুন।

৪। হার্ট ফেইলিওরের উপসর্গ কমায়।
৫। হার্টের পাম্প ক্ষমতা বাড়ায়।
৬। মাংসপেশি, অস্থিসন্ধি ও হাড়কে শক্তিশালী করে।
৭। রক্তনালিতে অতিরিক্ত চর্বি বা কোলেস্টেরল জমা হতে দেয় না।
৮। রক্তের সুগারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে ও দেহের কোষের ওপর ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

৯।  শরীরের বাড়তি ওজন কমায়। কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে সহজে ক্লান্ত হওয়া, হাঁপিয়ে যাওয়া ইত্যাদি কমে যায়।

হার্ট
ব্যায়াম শুধু হার্ট না সারা শরীরও ভালো রাখে।

১০। ঘুম স্বাভাবিক ও আরামদায়ক হয়, শারীরিক ও মানসিক অবসাদ দূর হয়।
দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা ও বিষণ্নতা কমে।

দৈনন্দিন ব্যায়াম এমন কিছু ব্যায়াম আছে, যা ঠিক ব্যায়ামের তালিকায় পড়ে না কিন্তু ব্যায়ামের মতোই শরীরে কাজ করে। এতে ব্যায়ামের মতোই উপকার পাওয়া যায়।
সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা, লিফটের ব্যবহার যথাসম্ভব কম করা।

হার্ট
ভুলে যান লিফট আর একসিলেটরের কথা।

অল্প দূরত্বে যেতে হেঁটে যাওয়া।
বাড়িঘর পরিষ্কারের কাজ নিজেই করা।

ভুল ধারণা


বয়স্কদের ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। বয়স্ক, প্রৌঢ় সবারই ব্যায়ামের প্রয়োজন আছে। তবে ব্যায়ামের সময় এত বেশি হাঁপিয়ে ওঠা যাবে না,  যাতে কথা বলতে কষ্ট না হয়।
হার্টের অসুখ হলে ব্যায়াম করা যাবে না। হার্টের সমস্যা হলেও ব্যায়াম করা যাবে। শুধু তাই নয়, ব্যায়াম করতেই হবে। তবে কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ অনুসারে ব্যায়ামের সময়, ধরন ঠিক করে নিতে হবে। এমন স্থানে ব্যায়াম করবেন, যেখানে পরিচিত অনেকেই আছেন।
ব্যায়ামের জন্য জিমে যেতেই হবে। ব্যায়াম করতে হলে জিম বা ব্যায়ামাগারে যেতে হবে এমন কোনো  কথা নেই। তবে কোনো হেলথ ক্লাব বা হাঁটার জন্য বন্ধু বা প্রতিবেশী সঙ্গে  থাকলে ব্যায়ামের নিয়মানুবর্তিতা বজায় থাকে। না হলে আলস্যের কারণে অনেক সময় ব্যায়াম বাদ পড়ে।
ব্যায়াম নিয়মিত করলে খাবার নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নেই। হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালি ভালো রাখতে হলে শুধু ব্যায়াম করলেই হবে না,  তেল ও  চর্বিজাতীয় খাবার,  গরু ও খাসির মাংস, মগজ, ডিমের কুসুম, বেশি মিষ্টি, আইসক্রিম, চকোলেট, ফাস্ট ফুড পরিহার করে ব্যালান্সড ডায়েট খেতে হবে।

কিছু খাবার আছে যা আমরা প্রতিদিন খাই কিন্তু এটা জানিনা যে এগুলো আসলে খাবার এর নামে বিষ।

এর ভেতর এক নাম্বার এ আছে কাঁচা লবণ, চিনি দুধ চা, ঘন ডাল। এই খাবার গুলো হার্টের জন্য নীরব ঘাতক।

কিছু সহজলভ্য ও পরিচিত খাবার আছে যেগুলো আমাদের রক্তনালী পরিষ্কার করে আমাদের হার্ট ভালো রাখে।

পানি

জল চিকিৎসা নামে একটি চিকিৎসা পদ্ধতি জাপানী মেডিকেল বোর্ড খুঁজে বের করেছে যা শতভাগ সুস্থতা প্রদানে সক্ষম বলে দাবি করেন তারা।
সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে চার গ্লাস পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। প্রথম দিকে এটা অনেক বেশি মনে হলেও কিছুদিন এভাবে পানি পান করলে বিষয়টি সহজেই আয়ত্ত হয়ে যায় এবং উপকারও টের পাওয়া যায়। পানি খাওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আর অন্য কিছু মুখে না দেওয়াই ভালো। এ উপায়ের কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং এটি পরিপাক ক্রিয়ার জন্য খুবই উপকারী। গবেষকেরা বলেছেন, সকালে খালি পেটে পানি কেবল পাকস্থলী পরিষ্কারই নয়,  শরীরের  বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি থেকেও বাঁচাতে সাহায্য করে।

শাকসবজি ও ফলমূল

 

হার্ট
শাকসবজি হবে আপনার প্রতিদিনের খাদ্য।

সবজি- শিম,  বরবটি, পিয়াজপাতা, পুঁইশাক, মানকচু, কচুরলতি, রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এগুলো রাখতে পারেন ওষুধ বিবেচনায়ও। মৌসুমি শাকসবজি কিনতে তেমন খরচও হয়না এবং এগুলোতে কীটনাশক কম থাকে।

পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার- প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ক্রমাগতভাবে যুক্ত করতে থাকুন পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণ। এ ক্ষেত্রে কলা এবং মিষ্টি আলুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা।

সবুজ বাহারি সালাদ- খাবারে যদি সবুজ সালাদ থাকে তাহলে আপনার রসনা তৃপ্তির পাশাপাশি হার্টও খুশি থাকবে। তাই বেশি বেশি যুক্ত থাকুন ভিনেগার, জলপাইয়ের তেল কিংবা লেবুর শরবতের সঙ্গে।

আপেল- হার্টের জন্য আপেলকে কার্যকারী ওষুধ বলা যায়। তা ছাড়া কোলেস্টেরলের মাত্রা কম রাখতে আপেল যথেষ্ট উপকারী। যারা প্রতিদিন দুটো আপেল খায়, তাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা অন্যদের থেকে কম থাকে।

হার্ট
প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না।

 

কিছু মজার তথ্য

ডিমের প্রতি ভালোবাসা- যাঁরা বলছেন, বেশি বেশি ডিম খেলে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ে তাঁদের জন্য দুঃসংবাদ। কেননা ব্রাজিলীয়ান গবেষকরা জানিয়েছেন, ডিমের কুসুমে থাকা ভিটামিন ই, বি-১২ এবং ফলেট করোনারি আর্টারিকে পরিষ্কার রাখে। তবে কেউ যদি দিনে চারটি করে ডিম খেতে থাকেন,  তবে তাঁকে এসব গবেষণার কথা ভুলে যেতে হবে।

হার্ট
ডিম খেলে অনেকক্ষণ ক্ষুধা লাগেনা।

অবসাদ কে দিন বিদায়- কোনোভাবেই কাজের ক্লান্তিকে আপনার ওপর চেপে বসতে দেবেন না। এ জন্য মাঝেমধ্যেই অবসাদ দূর করতে আপনার পছন্দকে গুরুত্ব দিন। সুইজারল্যান্ডের এক গবেষণা জানিয়েছে, অবসাদ দূর করার তৎপরতা হৃদযন্ত্রের সংকট কাটায় ৫৭ শতাংশের কাছাকাছি।

বালিশে মাথা রাখুন সময়মতো যাদের অনিদ্রা নামক রাজরোগ আছে,  তারা অন্যদের চেয়ে ৪৫ শতাংশ বেশি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ঘুমের জন্য প্রতিদিন বেশি বেশি শারীরিক পরিশ্রম করার আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

অধিক ঘুম কে বলুন “না”- এমনকি যারা বেশি বেশি ঘুমকাতুরে তাদেরও সাবধান করে দিয়েছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, দিনে ১০ ঘণ্টা কিংবা তার বেশি সময় যাদের ঘুমে কাটে তাদের স্থূলতার পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকে, কমতে থাকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। সুতরাং অধিক ঘুম কে না।

হার্ট
অধিক ঘুম হার্টকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

পান করুন গরুর দুধ গরুর দুধে থাকা লো ফ্যাট হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াবিরোধী কম ঘনত্বসম্পন্ন লিপ্রোপ্রোটিনের হার কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দুধে থাকা ক্যালসিয়াম শরীরে জমে থাকা পুরু চর্বির স্তর কাটতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু দুধচা খাবেন না। বিশেষ করে ভাত খাওয়ার পর দুধচা খাওয়াকে একদম নিষেধ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

হার্ট
সপ্তাহে তিন দিন ননি বিহীন দুধ খাওয়ার অভ্যাস করেন।

গান গাইতেই হবে- হৃৎপিণ্ড ভালো রাখতে গলা ছেড়ে গান গাইতেও উৎসাহিত করেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, দলবদ্ধ সংগীত কিংবা কারাওকে হাসিখুশি রাখে হৃদযন্ত্রকে।

হাসিখুশি থাকতে হবে- হাসিখুশি আর প্রাণবন্ত মুখাবয়ব শুধু স্টাইল বা ফ্যাশন আইকনই আপনাকে করে তুলবে না, বাড়িয়ে দেবে আপনার নীরোগ থাকার প্রবণতাও। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রাণবন্ত উপস্থিতি আপনার অবসাদ ও অভ্যন্তরীণ প্রদাহকে ছুটি দিয়ে দেবে এবং অলিন্দ ও নিলয়ের প্রকোষ্ঠকে সুঠাম রাখবে।

হার্ট
হাসি খুশি থাকলে কোন রোগই দেহে বাসা বাঁধতে পারবে না।

এখন সেই সারপ্রাইজ এর পালা।

এটা এমন একটা রেসিপি যা খুব সহজে ঘরে বসে তৈরি করা যায়। এটি একটি মহা ঔষধ। গবেষণায় দেখা গেছে যারা প্রতিদিন এটি পান করে তাদের হার্ট অ্যাটাক এর ঝুঁকি ৯৭% কম।

সারপ্রাইজ রেসিপি

উপাদান

১। আদা

২। রসুন

৩। আপেল সিডার ভিনেগার(সুপারসপ গুলোতে পাবেন)

৪। লেবু

৫। মধু

প্রণালী

মধু ছাড়া বাকি সবগুলো উপাদানের রস বের করতে হবে। আদা, রসুন, লেবু ও আপেল সিডার ভিনেগার সম পরিমাণ নিতে হবে। এখন একটি পাত্রে সব মিশিয়ে (মধু ছাড়া) চুলায় বসিয়ে দিন। মৃদু আঁচে হাল্কা করে জ্বাল দিন। ২০ মিনিট পর নামিয়ে ফেলুন। এটা কিছুটা হলুদাভ বর্ণ ধারণ করবে। চুলা থেকে নামিয়ে মধু মিশিয়ে নিন (যে পরিমাণ আদা, রসুন, লেবু ও আপেল সিডার ভিনেগার নিয়েছেন মধুও সেই পরিমাণ নিতে হবে)। তারপর ঠাণ্ডা করে সংরক্ষণ করুন ফ্রিজে। আপনি এটি ফ্রিজে ১-২ মাস সংরক্ষণ করতে পারবেন।

খাবারের নিয়ম

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১ টেবিল চামচ ও রাতে ঘুমানোর আগে ১ টেবিল চামচ করে খাবেন। আর ভালো ফলাফল পেতে দুপুরেও খেতে পারেন।

সবাই হৃদয়ের প্রতি যত্নবান হন। যত্নশীল নাহলে হার্ট অ্যাটাকের মত দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

 

 

 

 

 

 

 

দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বুঝতে চেষ্টা করুন

দাঁত

আমরা হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ি। ডাক্তারের কাছে যেতে হয় শরীর সুস্থ করতে। অনেকে আছে ৬ মাস পর পর স্বাস্থ্য চেক আপ করতে যান ডাক্তারের কাছে। কিন্তু আমরা আমাদের শরীরের একটি অঙ্গ নিয়ে কখনই চিন্তা করি না। সেটা হল দাঁত। যখন দাঁত থেকে রক্ত পড়ে অথবা ব্যথায় গাল ফুলে যায় তখন আমরা ডাক্তারের কাছে যাই। দাঁতের সমস্যা দূর করতে অনেকে বাসায় চেষ্টা করেন। শরীরের এই বিশেষ অঙ্গটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগে অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কি করণীয় তা নিয়ে কথা হবে।

আয়নার সামনে গিয়ে ফোনের ফ্ল্যাশলাইটটি অন করুন। এখন মুখ হা করে লাইট দিয়ে ভালো করে দুই পাটি দাঁত দেখুন। নিচে কয়েকটি সমস্যার কথা বলা হল মিলিয়ে দেখুন। সাথে পাবেন সমস্যার সমাধান।

১) আপনার দাঁতের গোঁড়ায় সাদা, হলুদ, কালো অথবা খয়েরী রঙের আবরণ দেখেন তাহলে বুঝতে হবে আপনার দাঁতে প্লাগ হয়েছে। যা আপনার মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে।

দাঁত
প্লাগের কারণে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হয়।

যদি প্লাগ অনেক বেশী হয় তাহলে আপনাকে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। সে ক্ষেত্রে ডেন্টিস্ট আপনাকে স্কেলিং করতে বলতে পারে। স্কেলিং করতে বেশী খরচ হয় না।

তবে এটা আপনার দাঁতের গঠন ও প্লাগের পরিমাণের উপর নির্ভর করে। আর যদি প্লাগের পরিমাণ কম হয় তাহলে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি অবলম্বন প্লাগ সরাতে পারেন। তবে ডাক্তারের কাছে যাওয়াই বেশী ভালো। এখন আসুন জেনে নেই ঘরে বসে কীভাবে প্লাগ দূর করবেন।

প্লাগ দূর করার ঘরোয়া পদ্ধতি- পরিমাণ মত বেকিং সোডা, লবণ আর প্রতিদিন ব্যাবহারকৃত পেস্ট একসাথে মিশিয়ে তা ব্রাশ দিয়ে দাঁতের প্রতিটি মাড়িতে ভালো করে মাজতে হবে।

গোঁড়া গুলোতে ভালো করে মাজতে হবে। ৩-৪ দিন পর পর এভাবে মাজলে দাঁতের প্লাগ দূর হয়ে যাবে।

২) আপনার দাঁতে যদি কালো কালো দাগ দেখেন এবং তা যদি ব্রাশ করার পরেও না যায় তাহলে বুঝতে হবে সেই জায়গায় ক্ষয় হচ্ছে। যাকে ক্যারিজ বলে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে দাঁতের ক্ষয় বা ক্যারিজ রোধ করা গেলেও তা আর আগের মত সারানো যায় না।

দাঁত
দাঁতের ক্ষয় একসময় দাঁতের মৃত্যু ডেকে আনে।

কিন্তু সচেতন আপনি যদি সচেতন না হন তাহলে দাঁতের ক্ষয় হতে হতে তা অনেক ভেতরে চলে যায়। তখন দাঁতের রুট ক্যানেল করতে হয়। যা একদিকে যেমন ব্যয়বহুল অন্যদিকে অনেক কষ্টকর। দাঁতের এই কালো দাগ গুলো দেখলেই অতিসত্বর ডেন্টিস্ট এর কাছে যান। সঠিক সময় গেলে হয়তো শুধু ফিলিং করলেই দাঁতটা ভালো হয়ে যেতে পারে।

ফিলিং হচ্ছে দাঁত ক্ষয় অথবা ভেঙ্গে গেলে দাঁতের সমতা আনানো। এই ক্ষেত্রে গাটা পার্চা দিয়ে দাঁতের ক্ষয় হয়ে যাওয়া অংশ ফিলিং করে দেয়। আর রুট ক্যানেল এ দাঁতের মধ্যে থাকা নষ্ট হয়ে যাওয়া পাল্পকে বের করে আনা হয় বিশেষ রকমের কিছু ইনস্ট্রুমেন্ট দিয়ে। এটি ব্রচ নামে পরিচিত।

এরপর দাঁতের পাল্প চেম্বার ও দাঁতের রুটের ভেতরে থাকা ক্যানাল বা ক্যানালগুলো পরিষ্কার করতে হয় রিমার, ফাইল- এগুলোর সাহায্যে। এরপর পরিষ্কার করা ও জীবাণুমুক্ত করা রুট ক্যানাল সিল করে দেওয়া হয় গাটা পার্চা দিয়ে। আর সঙ্গে সিলার হিসেবে ব্যবহার করা হয় বহু ধরনের সিলার। যেমন ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড সমৃদ্ধ সিলার, রেসিন বেসড এএইচ, জিংক অক্সাইড ইউজেনল ইত্যাদি।

এমনভাবে সিল করতে হয়, যাঁতে পরে দাঁতের বাইরে থেকে বা ভেতর থেকে কিছুতেই জীবাণু রুট ক্যানালে ঢুকতে না পারে। এরপর ফিলিং দিয়ে দাঁতের গর্ত ভরাট করে দেওয়া হয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রুট ক্যানাল করা দাঁতটিতে কৃত্রিম ক্রাউন বা ক্যাপ বসাতে হয়।

৩) আপনার দাঁত অনেক উঁচুনিচু হলে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা ময়লা আপনার চোখে পড়বে না। সেই ক্ষেত্রে ভালো মানের ব্রাশ ব্যাবহার করতে হবে এবং প্রতিবার খাবারের পরে কুলি করতে হবে। ডাক্তারের কাছে গিয়ে দাঁত সমান্তরাল করতে পারেন অথবা অতিরিক্ত দাঁত ফেলে দিতে পারেন।

দাঁত
৬ মাস পর পর ডেন্টিস্ট এর কাছে যাওয়া উচিৎ।

দাঁত রক্ষা করার কিছু পদ্ধতি জেনে নিন-

ক) প্রতিদিন সকালে খাবারের পর ও রাতে খাওয়ার পর (ঘুমানোর আগে) ভালোভাবে দাঁত ব্রাশ করা উচিত।

খ) খাবার পানি ফুটিয়ে পান করা উচিত। ফুটানো সম্ভব নাহলে নলকূপের পানি সংগ্রহ করুন।

গ) ব্রাশের সমান্তরাল স্টিকের পরিবর্তে বাঁকা হওয়া দরকার। এতের মুখের ভেতরের দাঁতগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার হবে।

ঘ) দাঁতের ফাঁকের ময়লাগুলো দীর্ঘদিন ধরে জমে ক্ষুদ্র পাথর কণায় পরিণত হয়। তখন দাঁতের উপরিভাগে কালো দাগ পড়ে। এটা ভীষণ দৃষ্টিকটু দেখায়। এ জন্য প্রতি ছয় মাস পরপর দাঁতের স্কেলিং করানো উচিত। বয়স ৪০-এর উর্ধ্বে হলে এক বছর পরপর করাতে হবে। নতুবা স্কেলিংয়ে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক যন্ত্রের ফলে দাঁতের গোড়া দূর্বল হয়ে যাবে। কারণ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দাঁতের মাড়িও ক্ষয় হতে থাকে।

ঙ) অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম পানীয় দাঁতের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। দুটো পানীয় একই সঙ্গে গ্রহণ করা অনুচিত। খুব গরম চা বা কফি পানের অন্তত ১ ঘন্টা পরে স্বাভাবিক পানি পান করুন।

চ) গ্যাসট্রিকের সমস্যা থাকলে মুখে দুর্গন্ধ হয়। ফলে দাঁতের হলুদাভ আবরণ আসে। নিয়মিত গ্যাসট্রিকে ঠোঁটের দুই কোণে কালো হয়ে যায়। এ জন্য প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুন।

ছ) পান, সুপারি, জর্দা বা গুল পরিহার করুন। এসবে আসক্তি থাকলে খাবার পরে দাঁত ব্রাশ করে ফেলুন। পানে চুনের পরিমাণ যত কম হয় ততই ভালো। মাত্রাতিরিক্ত চুন দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে।

জ) প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটা ভিটামিন-সি ট্যাবলেট খান।

ঝ) অনেকেই বিভিন্ন গাছের দাঁতন ব্যবহার করে থাকেন। এতে মনোযোগী হতে হবে যেন দাঁতনের আঁশ দাঁতের দাঁতের গোড়ায় আটকে না থাকে। টুথপিক ব্যবহারে মাড়িতে ফুটো হলে ইনফেকশন হয়। তাই সতর্কতার সঙ্গে টুথপিক ব্যবহার করুন।

ঞ) প্রতি ৪-৫ মাস অন্তর ব্রাশ পরিবর্তন করুন।

ট) জিকজ্যাক পদ্ধতিতে (উপরে, নিচে, ভেতরে, বাইরে) দাঁত পরিষ্কার করতে হবে।

দাঁত
সুস্থ দাঁত আপনার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে।

ঠ) বাঁধানো দাঁত বা কৃত্রিম দাঁতের প্রতি বিশেষ যত্ন নিন। প্রায়ই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেগুলো খুলে পরিষ্কার করুন।

বছরে অন্তত একবার পুরো দেহের চেক আপ করান।

এতে লুকায়িত কোন রোগ জীবাণু থাকলে ধরা পড়বে। দেহের প্রতিটি অঙ্গ পরস্পরের উপর নির্ভরশীল।

তাই সুস্থ্য দাঁত ও সুস্থ্য দেহের জন্য পুরো দেহ রোগমুক্ত থাকাটা ভীষণ জরুরী।

সঙ্গীত শুধু মনের খোরাক নয়, কেন? জেনে নিন।

সঙ্গীত

যদি আপনি গান শুনতে ভালোবাসেন তাহলে আপনি মানসিক এবং শারীরিকভাবে ভালো আছেন। চার্লস ডারউইন বলেছিলেন, “যদি আমি আবার জীবিত থাকি, তবে আমি কিছু কবিতা পড়তে এবং কমপক্ষে একবার প্রতি সপ্তাহে কিছু সঙ্গীত শুনতে চাইতাম”। অ্যালবার্ট আইনস্টাইন ঘোষণা করেছিলেন, “যদি আমি একজন পদার্থবিদ না হতাম, আমি সম্ভবত একটি সুরকার হতাম”। জিমি হেন্ডরিক্স বলেছেন সঙ্গীত তার ধর্ম। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে, সংগীত শোনার ফলে আপনার মানসিক অবস্থার উন্নতি সাধন হয়। এছাড়া শারীরিক স্বাস্থ্যেরও বিস্ময়কর পরিবর্তন দেখা যায়। আপনি যদি বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখেন তাহলে আপনার আইকিউ বাড়বে। আরও কিছু উপকার করে সঙ্গীত।

সংগীত আপনাকে খুশী রাখে

সঙ্গীত
গান শুনলে মন প্রফুল্ল থাকে

একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে আপনি যখন গান শুনবেন আপনার মস্তিষ্কটি ডোপামাইন নির্গত করে যা সুখের অনুভূতি সৃষ্টি করে। আপনার মানসিক বিকাশে যা অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। সুতরাং দৈনিক ১৫ মিনিট গান শোনার অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।

সংগীত আপনার কাজের দক্ষতা বাড়িয়ে দেয়

সঙ্গীত
মানসিক দক্ষতা বাড়ায়

কেউ যদি আমার সংগীত থেকে কিছু নেয় তা অবশ্যই প্রেরণা হবে। সেটা হল কাজ করে যাওয়া যতক্ষণ সম্ভব এবং পেছনে ফিরে তাকানো যাবে না” –এমিনেম।নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে গান শুনুন। আপনার কাজকে গতিময় করতে গানের বিকল্প আর কিছু নেই। কিছু দৌড়বিদের উপর গবেষণা করে দেখা গেছে যারা নিজের পছন্দের গান শুনে দৌড়েছেন তারা নিজেদের আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন।

মানসিক চাপ কমায় এবং স্বাস্থ্যের উন্নতি করে

সংগীত শোনার ফলে আপনার মানসিক ধকল কমে যায়। শরীরের স্ট্রেস হরমোন কর্টিসোলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। মানসিক চাপ আমাদের ৬০% রোগের জন্য দায়ী। এক গবেষণায় দেখানো হয়েছে যারা সক্রিয় ভাবে গান শোনেন তাদের ইমিউন সিস্টেম আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে যায়। শান্ত ও সুস্থ থাকার জন্য আপনার কক্ষে গান ছেড়ে দিন এবং আরও ভালো ফলাফল পেতে তালে তাল মিলিয়ে একটু পা দোলানোর চেষ্টা করুন।

অনিদ্রা দূর করে

৩০% এরও বেশী আমেরিকান অনিদ্রায় ভোগেন। যেই শিক্ষার্থীরা ঘুমানোর আগে গান শোনেন তারা অনেক বেশী সক্রিয় হন যারা তেমন কিছুই করেন না তাদের থেকে। সংগীত অনিদ্রার সমস্যা দূর করতে পারে। যদি আপনার ঘুমাতে সমস্যা হয় আপনি ঘুমানোর আগে গান শুনুন, ভালো ফলাফল পাবেন অবশ্যই।

কম খেতে সাহায্য করে

জর্জিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাটি দেখিয়েছে যে, আলো এবং সঙ্গীতকে নরম করে তোলার সময় লোকেরা কম ক্যালোরি খায়। আপনি যদি আপনার খাদ্যগ্রহণ নিয়ন্ত্রণে আনতে চান তাহলে খাবারের সময় গান শুনুন।

সংগীত আপনার ব্যথা দূর করে হোক সেটা শারীরিক অথবা মানসিক

বব মারলে-এর একটা কথা আছে-

“সংগীতের একটি ভালো দিক হল, যখন এটি আঘাত করবে আপনি কোন ব্যথা পাবেন না।” ফিলাডেলফিয়ার ড্রেক্সেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে যে ক্যান্সারের রোগীদের মধ্যে প্রাক-রেকর্ডিং সঙ্গীত মানসিক চাপের চেয়েও ব্যথা কমিয়ে দেয়। অন্য গবেষণা দেখিয়েছে যে, গান নিবিড় পরিচর্যা রোগীদের এবং জেরিয়াটিক কেয়ার রোগীদের মধ্যে ব্যথা হ্রাস করতে পারে। কিন্তু নির্বাচিতো ক্লাসিক গান প্রয়োজন। ধ্যানমগ্ন সঙ্গীত বা রোগীর পছন্দের সংগীত।

বব মার্লি এই বিষয়ে সঠিক ছিলেন, “আপনার ব্যথা দূর করার জন্য আপনার ভালো লেগেছে এমন গান শুনুন”।

স্ট্রোক করেছেন এমন রোগীদের জন্য গান

সঙ্গীত
স্ট্রোক এড়াতে গান শুনুন

হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, স্ট্রোক রোগীদের যারা দিনে দুই ঘন্টা নিজেদেরকে বেছে নিয়েছে সঙ্গীত শোনার জন্য, তারা মস্তিষ্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি লাভ করেছে। গান শোনার কারণে তাদের শ্রবণ ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। স্ট্রোক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 5 নম্বর মৃত্যুর কারণ। আপনি যদি স্ট্রোক ভোগ করেন এমন কেউকে জানেন তাহলে অতিশীঘ্র তাকে তার পছন্দের গান গুলো শুনতে বলুন। আশানুরূপ ফোল পাবে। কেউ যদি গান ভালোবাসে তাহলে সে অপরাধ থেকে দূরে থাকে। বেনিংটন এর গানের লাইন দিয়ে শেষ করছি-

“In this farewell

There’s no blood

There’s no alibi

‘Cause I’ve drawn regret

From the truth

Of a thousand lies”

 

 

 

 

 

 

অনিয়মিত ঘুম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

ঘুম

সারা রাত পেঁচার মতো জেগে থেকে কর্মস্থলে এসে ঘুমিয়ে পরছেন। দিনের বেলা রাতের ঘুম পুষিয়ে নিয়ে ভাবছেন, ঘুম তো ঘুম সে দিনে হোক কিংবা রাতে। যাদের ওজন বেশী তারা ভাবেন রাতে কম ঘুমালে হয়তো ওজন কমে যায়। কিন্তু এটা অনেক বড় একটা ভুল। দিনের বেলার ঘুম আপানার স্বাস্থ্য খারাপ করে দেয়। অনিয়মিত ভাবে ঘুমানোর কারণে শরীরের ভেতরেও সৃষ্টি হয় অনিয়ম। বাসা বাধে নানান দুরারোগ্য ব্যাধি। সুতরাং সময় মতো পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে প্রতিদিন। অনেকে বলে রাতে ঘুম আসে না তাদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন পদ্ধতি।

ঘুম না আসার কারণ

অনেক রাত করে খাওয়া

অনেকে আছেন দেরীতে রাতের খাবার খান। দেখা যায় ঘুমানোর আধা ঘণ্টা আগে খেয়ে শুয়ে পরেন। এই কারণে একদিকে আপানার হজম শক্তি কমে যায় অন্য দিকে আপনার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। অবশ্যই ঘুমানোর ৩-৪ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন।

রাত জেগে বই পড়া

বই পড়া অনেক মানুষের শখ। বই পড়া অবশ্যই একটি ভালো কাজ কিন্তু এই ভালো কাজ খুব বেশী রাত জেগে না করাই ভালো। ঘুমের আগে বই পড়ার কারণে আপনার মাথায় বই সম্পর্কিত বিভিন্ন কথা মাথায় আসে এবং তা আপনাকে ঘুমাতে দেয় না। রাতে ঘুমানোর আগে বই পড়া যাবে না। রাত জেগে বই না পড়ে, দিনের বেলায় অথবা সন্ধ্যা বেলা বই পড়ুন।

ঘুমানোর আগে ধূমপান করা

ঘুমানোর আগে ধূমপান করলে নাকি ঘুম আসে। এমন ভুল ধারণা নিয়ে অনেকেই রাতে শোয়ার আগে ধূমপান করেন। কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না সিগারেটে থাকা নিকোটিন আপানার নার্ভগুলোকে চাঙ্গা করে দেয় ফলে ঘুম আসে না।

অধিক রাত পর্যন্ত মোবাইল অথবা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকা

মোবাইল, ল্যাপটপ তো আমাদের নিত্যদিনের বন্ধু। এদের ছাড়া আমাদের চলে না। রাতে ঘুমানোর সময় বেশিরভাগ মানুষের হাতে ফোন থাকে। ফোন নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে ঘুমিয়ে পরব এই ভাবনা নিয়ে থাকে তারা। কিন্তু এই জিনিসটা তাদের আরও বেশী ক্ষতি করে ফেলে। তারা এই জিনসটা বুঝতে পারেনা।

রাতে চা খাওয়া

সন্ধ্যার পর কোন ধরণের চা, কফি খাবেন না। এতে থাকা উপাদন গুলো আপনাকে সজীব করে। রাতে আপনার সজীবতার দরকার নেই, দরকার একটু শান্তির ঘুম।

অনিদ্রা আমাদের কি কি ক্ষতি করে?

মানসিক রোগ

যারা রাত জেগে থাকে অথবা রাতে ঠিক মতো ঘুমায় না তাদের বিভিন্ন ধরণের মানসিক রোগ দেখা যায়। যেমনঃ বিষণ্ণতা, উদ্বিগ্নতা, অস্থিরতা, হেলুসিনেসন ইত্যাদি। এই কারণে মানসিক সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে ঘুমের ওষুধ খেতে বলে।

স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া

সারাদিন আমরা নানান কিছু শিখি। সেগুলো আমাদের ব্রেইন স্মৃতি হিসেবে জমা রাখে। যখন আমরা কম ঘুমাই তখন আমাদের ব্রেইন এই কাজ করতে অক্ষম হয়ে যায়। এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যারা পর্যাপ্ত ঘুমায় তারা রাত জেগে থাকা মানুষের তুলনায় অধিক স্মৃতিশক্তির অধিকারী।

সতর্ক থাকার ক্ষমতা হারায়

এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কেউ যদি রাতে দেড় ঘণ্টা কম ঘুমায় পরের দিন তার সতর্ক থাকার ৩২% সক্ষমতা কমে যায়। এমন অসতর্কতায় মানুষ দুর্ঘটনা করে বসে।

আত্মহত্যার প্রবণতা

যেসকল মানসিক রোগীরা আত্মহত্যা করে তাদের বেশীরভাগ অনিদ্রায় ভুগতেন। গবেষকরা প্রমাণ করেছেন যেই কিশোর-কিশোরীরা ৫ ঘণ্টা ঘুমায় তাদের বিষণ্ণতায় ভোগার সম্ভবনা ৭১%।

ঘুম
পর্যাপ্ত ঘুম আপনাকে রাখবে সজীব

এছাড়াও যেই সমস্যাগুলো হয়

হার্টের সমস্যা

ডায়াবেটিস

ওজন বৃদ্ধি

দেহের বৃদ্ধি কমে যায়

ব্রেস্ট ও ওভারি ক্যান্সার

ক্ষত সারানো

মাথাব্যথা

চুল পাকে

ব্রণ উঠে

 

ঘুম ভালো হওয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি

ঘুমানোর আগে ব্যায়াম করুন

গরম দুধ খান

দুশ্চিন্তা করবেন না

উষ্ণ পানিতে গোসল

ঘুমের আগে ইতিবাচক চিন্তা

ঘরের ভালো আবহাওয়া

ধীরলয়ে সঙ্গীত

ঘড়ির শব্দ বন্ধ করুন

ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠুন

সত্যি কি প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে উচ্চতা বাড়ানো যায়?

উচ্চতা বৃদ্ধি

আসলেই কি সত্যি মানুষ খাদ্যাভ্যাস এবং কিছু শারীরিক পরিশ্রম দ্বারা উচ্চতা বৃদ্ধি করতে পারে?

জিনতত্ত্বের উপর বিশ্বাস করে আমরা বেশিরভাগ মানুষ ভেবে থাকি যে আমদের উচ্চতা বৃদ্ধি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে আমাদের বাবা মায়ের জিন এর উপর। অর্থাৎ আমরা জিনগত ভাবে ঠিক যতটুকু লম্বা হতে পারবো, তার থেকে বেড়ে উঠা হয়তো সম্বভ নয়। তবে বৈজ্ঞানিক ভাবে  প্রমানিত যে আমাদের বৃদ্ধির ৮০% নির্ভর করে আমাদের বাবা মায়ের জিন উপর। আর বাকি ২০% ই  আমাদের উপর বা অন্যান্য কিছু কৌশল বা পরিবেশের উপর নির্ভর করে। তাহলে দাঁড়ায় যে যদি একজন ব্যক্তির উচ্চতা হয় ৫ফুট তাহলে তার উচ্চতা ২০% করলে হয় ১ফুট আর এর থেকে পরিবেশ গত ভাবে ৬ ইঞ্চি ধরলেও আরও ৬ ইঞ্চি নিজে বাড়ার জন্য থেকে যায়।

প্রাকৃতিক উপায়ে কীভাবে উচ্চতা বৃদ্ধি করা যায়?

খাদ্যাভ্যাস

পর্যাপ্ত পরিমাণ চর্বিহীন প্রোটিন খাবার খান। চর্বিহীন প্রোটিন খাবার বলতে মুরগীর মাংস, মাছ, দুধ এই ধরনের খাবার খান। এগুলো আপনার পেশীর বৃদ্ধি এবং হাড়ের সঠিক বিকাশে সাহায্য করবে। ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খান। দুধ, দই, সবুজ শাকসবজীতে আপনি ক্যালসিয়াম পাবেন। প্রচুর পরিমাণে জিংক খেতে হবে। জিংক পাওয়া যায় কুমড়া, ওয়েস্টার, গম ও চিনাবাদামে। দুপুরে খাবার সময়ে অর্ধেকটা আভাকাডো দেহে বিভিন্ন পুষ্টি সরবরাহ করে থাকে। মটরশুটি,  ছোলা,  মসূর এই ধরনের খাবারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন,  ফাইবার,  অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, ভিটামিন বি এবং আয়রন রয়েছে যেগুলো শরীরের কোষ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ফলে লম্বা হতেও সাহায্য করে।

কোন ধরনের মাদক গ্রহণ করলে আপনার উচ্চতা বৃদ্ধি কমে যাবে।

শরীর চর্চা ও যোগ ব্যায়াম

প্রথমে দেয়ালের সাথে পিঠ লাগিয়ে দাঁড়ান। এভাবে দাড়িয়ে  নিজেকে দেয়ালের সমান্তরালে সোজা রাখবার চেষ্টা করুন। সেই সাথে চেষ্টা করতে  হবে,  আপনার শরীরের পেছন দিকটির পায়ের গোড়ালি থেকে শুরু করে মাথা পর্যন্ত যেন দেয়াল স্পর্শ করতে পারে। এভাবে দেয়াল স্পর্শ করে সোজা হয়ে স্ট্রেচ করার চেষ্টা করুন। এভারে ৮ থেকে ১০ বার করুন ব্যায়ামটি।

দড়ি লাফ দিবেন ২০ টি করে প্রতিদিন, আস্তে আস্তে দড়ি লাফের পরিমাণ বাড়াবেন।

রিং এ ঝুলুন যদি পারেন, সাইকেলিং করলে খুব জলদি উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। আপনি দৈনিক সাইকেল চালিয়ে ২-৩ ইঞ্চি বাড়াতে পারবেন।

সাঁতার হল উচ্চতা বৃদ্ধির আদর্শ ব্যায়াম, কেউ যদি দৈনিক সাঁতার কাটে তার উচ্চতা বৃদ্ধি সাধারণের এর চেয়ে ১০ গুণ বেড়ে যায়।

এভাবে সপ্তাহে ৩ দিন করে নিয়মিত ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। এগুলো মূলত স্ট্রেচিং ব্যায়াম যা আপনার শরীরের আড়ষ্টতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। শরীরের আড়ষ্টভাব কেটে গেলে উচ্চতা বাড়তে শুরু করে।

কিছু যোগ ব্যায়াম

ভুজঙ্গাসন (কোবরা পোজ)

উচ্চতা বৃদ্ধি
ভুজঙ্গাসন (কোবরা পোজ  )

উপুড় হয়ে শুয়ে সামনে মাথা তুলে যে ভুজঙ্গাসন করা হয় তাতে বুক, পেট ও কাঁধের পেশীতে টান পড়ে। এই আসন লম্বা হতে সাহায্য করে।

তাড়াসন (ট্রি পোজ)

উচ্চতা বৃদ্ধি
এই যোগব্যায়ামটি আপনাকে উচ্চতা বাড়াতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে

গাছের মতো ভঙ্গি মেরুদন্ডকে সোজা করে, শরীরকে টান টান করে। এই আসন লম্বা হবার জন্য খুব উপযোগী।

নটরাজাসন (শুয়ে শরীরকে মোড়া)

উচ্চতা বৃদ্ধি
নটরাজাসন

শুয়ে পড়ে শরীরকে মোচড় দেওয়া এই আসন পা, পায়ের পেশী, হাত, কবজি, মেরুদন্ড সব কিছুকে টানটান করে, বুকের পেশীকেও লম্বা করে টেনে ধরে, এই আসনও শরীরকে লম্বা করে।

সূর্য নমস্কার (সান স্যালুটেসন)

উচ্চতা বৃদ্ধি
সূর্যাসন উচ্চতা বাড়ানোর জন্য অনেক উপকারী একটি যোগাসন

সূর্য নমস্কার আসন খুব তাড়াতাড়ি শরীরের সব সন্ধিস্হলগুলিকে জড়তা মুক্ত করে, সহজ করে, পেটের ভেতরের যন্ত্রপাতিকে একবার টেনে ধরে, একবার ছেড়ে দিয়ে  প্রসারিত ও সঙ্কুচিত করে সবল করে তোলে, প্রাণবন্ত করে তোলে। বার বার সামনে ও পিছনে ঝোঁকার ফলে পিঠ ও মেরুদন্ড সুস্থ থাকে, আরো বেশী স্বাস্হ্যবান হয়ে ওঠে। এই ব্যায়ামে শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গে টান পড়ে বলে এটি শরীরকে লম্বা করে। এই ব্যায়াম শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।

ঘুম

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান প্রতিদিন। ঘুমের সময় শরীর বাড়ে। তাই পর্যাপ্ত ঘুমালে শরীর লম্বা হওয়ার মতো সময় পায়। কমপক্ষে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমান যদি আপনার বয়স ২০ এর কম হয়। শরীরের হরমোন গভীর ঘুমের সময় উৎপন্ন হয়। পিটুইটারী গ্লান্ড থেকে গ্রোথ হরমোন বের হতে সাহায্য করে।

সব তো করলাম তারপরও ফল পাইনা কেন?

খেয়াল রাখবেন যে অতিরিক্ত কোন কিছুই ভাল নয়। মাত্রাতিরিক্ত ব্যায়াম করলে দ্রুত উচ্চতা বাড়বে তা যদি ভেবে থাকেন তবে ভুল করবেন। বরং অতিরিক্ত ব্যায়াম অনেক সময় উচ্চতার বৃদ্ধি রোধ করে দেয়। তবে শুধু  ব্যায়াম করলেই হবেনা। সুষম খাদ্যও গ্রহন করতে হবে। সেই সাথে জীবনযাত্রায় আনতে হবে পজিটিভ মনোভাব।

 

 

মজার কিছু খেলে কিভাবে কমবে স্বাস্থ্য?

গরুর মাংস

প্রশ্নটা প্রায় সবার, মজার খাবার খেয়ে কীভাবে কমানো যায় স্বাস্থ্য?

এই আর্টিকেলটি তাদের জন্য। স্বাস্থ্য বেড়ে গেলে আমাদের আয়নার সামনে যেতে ইচ্ছে করে না। কোন কিছু করতে ইচ্ছে করে না। সব কিছুতে বিরক্ত লাগে। তারপর আমরা বিভিন্ন ধরনের অখাদ্য খাবার খেতে শুরু করি। যা খেতেও ভালো না এবং শরীরে ক্ষতি করবে। আবার মুখরোচক খাবার ও খাওয়া যাবে না ডায়েট নষ্ট হয়ে যাবার ভয়ে। কি করা যায়??

আজকের বিষয়টা হল কিছু মজাদার খাবার, যা খেতে যেমন মজাদার, তেমন যত খাবেন তত কমবে ওজন।

যে গরু শুধু ঘাস খায় সেই গরুর মাংস

নিউট্রিশন জার্নালের গবেষণায় এসেছে যে ঘাস খাওয়া গরুর মাংসে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ অনেক বেশি যা আমাদের হৃদপিণ্ডের সমস্যা থেকে রক্ষা করে থাকে। ঘাস খাওয়ানো গরুর মাংসে স্বাভাবিক ভাবেই ক্যালরি কম থাকে অন্যান্য মাংসের তুলনায়। কারণ একটি সাধারণ গরুর মাংসের টুকরায় ৩৮৬ ক্যালরি থাকে এবং ফ্যাট থাকে ১৬ গ্রাম ও একটি ঘাস খাওয়ানো গরুর মাংসের টুকরায় ২৩৪ ক্যালরি ও ফ্যাট থাকে মাত্র ৫ গ্রাম।

নাপাতি

মজার খাবার
নাশপাতির নানা গুন

আমারা অনেকে হয়তো এটা জানি না নাশপাতি খেলে ওজন কমে। বাংলার একটি পরিচিত সুস্বাদু ফল। এটি খেলে খুদা কম লাগে। এবং পেটের মেদ দ্রুত কাটে। এটি বিদেশী ফল আপেলের চেয়ে দ্বিগুণ ভিটামিন সি ও প্রোটিন সম্পন্ন। নাশপাতি পার্বত্য এলাকায় একটি নতুন সম্ভাবনাময় ফল হিসেবে কৃষকের মাঝে পরিচিতি পেয়েছে।

ডিম

মজার খাবার
ডিম খান প্রতিদিন

ছোট্ট একটা ডিম হাজারও ভিটামিনে ভরা। আপনি যা খাচ্ছেন সেই খাবারকে এনার্জি বা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে ডিমে থাকা ভিটামিন বি-১২। ডিমের সবচেয়ে বড় গুণ এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। ব্রেকফাস্টে রোজ একটি ডিম মানে সারা দিন আপনার ক্ষুধা কম হবে তাই খাওয়া হবে কম। গবেষণায় দেখা যায়, শরীর থেকে দিনে প্রায় ৪০০ ক্যালরি কমাতে পারে সকালে একটি ডিম খাওয়া। তার মানে মাসে ওজন কমার পরিমাণ প্রায় তিন পাউন্ড। সমীক্ষা বলছে, ৬৫ ভাগ বডি ওয়েট, ১৬ ভাগ বডি ফ্যাট, ৩৪ ভাগ কোমরে জমে থাকা মেদের পরিমাণ কমাতে পারে ডিম! নতুন সমীক্ষায় জানা গেছে, ডিম কোলেস্টেরল বাড়ায় না। দিনে দুটি ডিম শরীরের লিপিড প্রোফাইলে কোনো প্রভাব ফেলে না। বরং ডিম রক্তে লোহিতকণিকা তৈরি করে। ডিম প্রোটিনের খুব ভালো একটি উৎস। শরীরের জন্যও বেশ ভালো। ডায়েট যারা করেন তারা একটি ডিম রাখুন সকালের নাস্তায়। পুরো দিনে শরীরে কাজ করার  ক্ষমতা পাবেন। পাশাপাশি ওজন কমাতে পারবেন।

 

কালো বা ডার্ক চকলেট

মজার খাবার
ওজন কমাতে সহায়তা করে কালো চকলেট

চকলেট প্রেমীদের জন্য সুখবর আপনার পেটের মেদ কমাবে ডার্ক চকলেট। একটি গবেষণায় এসেছে যে কোন ব্যক্তি যদি ভারী কোন খাবার খাওয়ার আগে ৩.৫ গ্রাম ডার্ক চকলেট খেয়ে থাকেন এবং ঠিক একই সময়ে যদি কেউ মিল্ক চকলেট খেয়ে থাকে তাহলে যেই ব্যক্তি ভোজনের আগে ডার্ক চকলেট খেয়েছে তার ১৭ ক্যালরি খরচ হয়েছে। কারন গবেষণা বিশ্বাস করে যে ডার্ক চকলেটে আছে পিউর কোকো বাটার ও স্টিয়ারিক এসিড যা হজম গতি বৃদ্ধি করে। অন্য দিকে মিল্ক চকলেটে আছে ফ্যাট বাটার যা খুব দ্রুত ওজন বাড়িয়ে দেয়। আর ডার্ক চকলেট আমাদের ক্ষুধা নিবারণ করে ও দেহের ওজন কমাতে সাহায্য করে।

কাঠবাদাম

মজার খাবার
বাদাম মস্তিষ্ক বিকাশে সহায়তা করে

প্রতিদিন নিয়ম করে কাঠবাদাম খেতে পারলে ভালো কোলেস্টেরল অথবা এইচডিএল-এর (হাই ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন) মাত্রা বাড়াতে এবং খারাপ কোলেস্টেরল অথবা এলডিএল-এর (লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন) মাত্রা কম রাখতে সাহায্য করে। কাঠবাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

ডাক্তাররা শরীরের সুস্থতার পাশাপাশি দেহের চর্বি নিয়ন্ত্রণে কাঠবাদাম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে লবণাক্ত কাঠবাদাম এড়িয়ে চলুন।

মোনোপেজের পর নারীদের নিয়মিত কাঠবাদাম খাওয়া উচিত। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম যা মোনোপেজকালীন সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

আপেল

মজার খাবার
প্রতিদিন একটি আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না

আপেল খুবই পুষ্টিগুণে ভরপুর। আপেল খেলে খাদ্যের চাহিদার সাথে ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হয়। ফলে মেদ জমে না এবং স্বাস্থ্য সঠিক থাকে। আর প্রতিদিন গড়ে ৩টি আপেল খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব সহজ হয়। আপেলের শর্করা শক্তির উৎস। এই শর্করা খাদ্যনালীতে ধীরে-ধীরে ভেঙ্গে হজম হয় বলে শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে। প্রতিদিন আপেল খেলে হজমের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরী হয় পেটে। ফলে হজম শক্তি বাড়ে। যখন হুটহাট ক্ষুধা লাগে তখন অনেকেই অস্বাস্থ্যকর হাবিজাবি খাবার খান যা শরীরের জন্য ভালো না এবং ওজনও বাড়িয়ে তোলে। সুতরাং মুটিয়ে যাওয়া দূর করতে একটি আপেল রাখুন সাথে।

টমেটো

মজার খাবার
টমেটো খেলে আপনার ত্বকের সব সমস্যা দূর হবে

যাদের স্থুলতা নিয়ে চিন্তা, তারা এই প্রাকৃতিক খাদ্য গ্রহণ করতে পারেন। প্রতিদিনের প্রচুর পরিমাণে টমেটো আমাদের দেহের অতিরিক্ত চর্বি দূর করে এবং দেহে অতিরিক্ত মেদ জমতে দেয় না। যাদের উচ্চরক্তচাপের সমস্যা আছে, তাদের জন্য টমেটো অনেক বেশি ফলদায়ক। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, প্রতিদিন ২৫ গ্রাম টমেটো খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করাটা অনেক বেশি সহজ হয়ে যায়। পুরুষদের জন্য ২৫ গ্রাম এবং নারীদের জন্য ৩৫ গ্রাম টমেটো ফলপ্রসূ। চমৎকার ভাবে দেহের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে এই টমেটো।

মুগ ডাল

মজার খাবার
মুগ ডাল খেলেও ওজন কমে

মুগ ডালে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় ক্ষুধা কম লাগে। আর কম খেলে এমনিতেই ওজন কমে আসে। এছাড়া খাবারটিতে কম চর্বি এবং উচ্চ মাত্রার প্রোটিন থাকায় তা মাংসপেশীকেও চর্বিমুক্ত রাখে।

সামুদ্রিক মাছ

মজার খাবার
সামুদ্রিক মাছের তেল হার্ট ভালো থাকে

সামুদ্রিক মাছে থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এই অ্যাসিড মেদ বৃদ্ধিতে দায়ী চর্বি পোড়াতে এবং শরীরে ভালো চর্বির পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। সামুদ্রিক মাছ থেকে যে ফ্যাট পাওয়া যায় তার নাম ‘পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট’। বাদাম ও জলপাই তেলের মতো সামুদ্রিক মাছের ফ্যাটও ওজন হ্রাসে ভূমিকা রাখে।

মধু লেবু

মজার খাবার
মধু লেবু আপনার শরীরের টক্সিন বের করে দেয়

ওজন কমাতে দুটি প্রাকৃতিক উপাদান লেবু ও মধুর সম্পর্কে অনেকেই জানেন। ওজন কমানো ছাড়াও লেবু ও মধুর অনেক গুণাগুণ আছে। এটি শরীর থেকে টক্সিন বের করে। শরীরের ভেতরের নালীগুলোর সব ময়লা বের করে দেয়। মেটাবলিজম/হজম শক্তি বাড়ায়, ফলে ওজন কমে। ঠাণ্ডা লাগলে লেবু ও মধুর কফ বের করতে সাহায্য করে এবং ঠাণ্ডা লাগলে গলাব্যথা করলেও এটি উপকারী । এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

মধু

মজার খাবার
মধু মিষ্টি হলেও আপনার ক্ষতি করবে না

ওজন কমাতে মধুর উপকারিতা সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিন সকালে গরম পানির সাথে মধু মিশিয়ে কিছুদিন খেয়েই দেখুন, এর উপকারিতা নিজেই বুঝতে পারবেন।

কাঁচা মরিচ

মজার খাবার
কাঁচা মরিছ আপনার প্রতিদিনের ভিতামিন-সি এর অভাব দূর করবে

কাঁচা মরিচ মেটাবলিজম বাড়িয়ে ক্যালোরি পোড়াতে সহায়তা করে। ফলে নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। কাঁচা মরিচে অবস্থিত ক্যাপসাইসিন খাদ্যে থাকা উচ্চমাত্রার চর্বি শুষে নিয়ে শরীরে মেদ রোধ করতে সাহায্য করে। চর্বি জাতীয় খাবারের সঙ্গে কাঁচা মরিচ খেলে মোটা হওয়ার কোনা ভয় থাকে না। কারণ কাঁচা মরিচ খাদ্যের সঙ্গে থাকা চর্বিকে ধ্বংস করে। ফলে স্লিম থাকা যায়।

শেষের খাবারটা হয়তো কমবেশি সবাই খান তাই দিলাম।

আশা করি যারা খুব সহজ পদ্ধতিতে ওজন কমাতে চান তাদের উপকারে আসবে।

 

 

 

 

 

ওজন কমাতে চাইলে নিয়মগুলো মেনে চলুন

খাবার

কম খাচ্ছেন, পরিশ্রমও করছেন? কিন্তু ওজন কোনভাবে কমছে না। এই সমস্যাটি অনেক পরিচিত আমাদের কাছে। আপনারা যারা ওজন কমাতে উদগ্রীব হয়ে আছেন এবং অনেক বেশী হতাশায় ভুগছেন তাদের জন্য আজকে রয়েছে বৈজ্ঞানিক প্রমাণিত ওজন কমানোর পদ্ধতি সমূহ।

পানি পান করুন

পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ কাজ পানি পান করা। বাসার যে জায়গাটাতে আপনি থাকেন অথবা অফিস এর যেখানে আপনার বসতে হয় তার সাথেই পানির জগ অথবা বোতল রেখে দিন। শুধু ওজন কমানো নয় সুস্থ থাকার জন্য পানির বিকল্প নেই। সাধারণত বলা হয় ২ লিটার পানি পান করার কথা। কিন্তু আপনি যদি ৩ লিটার খান তবে জলদি উপকার পেতে শুরু করবেন। খাবারের আধাঘণ্টা আগে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিবেন। এখন থেকে মনে করবেন পানি একটি ঔষুধ। শরীরের সকল ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে দেয় পানি।

কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলুন

ভাত, রুটি, আলু এগুলো কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার। যতটুকু পারেন কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলুন। কার্বোহাইড্রেট আপনার শরীরে মেদ বাড়িয়ে দেবে। আর কার্বোহাইড্রেট থেকে যে মেদ শরীরে জমা হয় তা সহজে ঝরানো যায় না। সুতরাং যারা বলেন ভাত ছাড়া আমার চলে না তারা ভাতকে ভালোবাসা বন্ধ করে দিন। আপনাকে একবারে বাদ দিতে বলছি না। দুপুরে শুধু এক কাপ ভাত খেতে পারবেন।

প্রোটিন গ্রহণ করুন

কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে প্রোটিন এর পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। প্রোটিন আপনার ক্ষুধা কমিয়ে দেবে। অন্যদিকে আপনি ভালো পরিমাণের পুষ্টিও পাবেন। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় প্রোটিন থাকা আবশ্যক। প্রোটিন বললে আমাদের চোখের সামনে শুধু মাংস আর মাছ ভাসে। মাছ-মাংস ছাড়াও ভালো প্রোটিনের উৎস আছে এমন কিছু খাবার হল- যেকোনো ধরনের ডাল, কুমড়োর বিচি, কাঠবাদাম, ডিম ইত্যাদি। তবে ডিমের কুসুম এড়িয়ে চলাই ভালো।

শরীরচর্চা করুন

শরীরচর্চা
শরীরচর্চা করলে মন ভালো থাকে

শরীরের অপ্রয়োজনীয় মেদ বা ক্যালরি কমাতে শরীরচর্চা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরি। এটি আপনাকে ওজন নিয়ন্ত্রণের সাথে সুস্থ্যতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। জিমের সরঞ্জাম না থাকলে নিয়মিত ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করতে পারেন। শরীরচর্চা শুধু শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে তা না, এর ফলে আপনার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আর একটা জিনিস অবশ্যই মনে রাখবেন, ঘাম না ঝরলে সেই শরীরচর্চাতে আপনার কোন ক্যালরি খরচ হবে না।

দই খান

বাজারে যে দই পাওয়া যায় সেই দই না। বাসায় দই বানানোর চেষ্টা করুন। দই বানানোর সময় চিনি দিবেন না। এই খাবারটি আপনার রক্তে সুগারের পরিমাণ কমিয়ে দেয় এবং সাথে সাথে আপনার শরীর ঠাণ্ডা রাখে।

ক্যালরি পরিমাপ করে খান

যখন আপনি খাদ্য গ্রহণ করবেন তখন ক্যালরি হিসাব করে খাবেন। ওজন কমানোর সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি হল যতটুকু খাবেন তার থেকে বেশী ব্যায়াম করবেন। সুতরাং খাওয়ার সময় অবশ্যই হিসাব করবেন।

বসে থাকবেন না

অনেকক্ষণ একটানা বসে থাকবেন না। শরীরকে কোন না কোন কাজে নিয়জিত রাখুন। এক কথায় সবসময় ক্যালরি খরচ করতে হবে।

চিনিকে না বলুন

এক গবেষণায় আমেরিকার একদল বিজ্ঞানী বলেছেন চিনি হল ‘হোয়াইট পয়জন’। বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘সাদা বিষ’। চিনি বর্জন করুন। যাদের অতিরিক্ত মেদ আছে তাদের জন্য চিনি অনেক ক্ষতিকর। তবে মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করলে তা অবশ্যই পাপ নয়। যেদিন কোন মিষ্টিজাতীয় জিনিস খাবেন সেদিন বেশী করে ব্যায়াম করে ফেলবেন। আর চিনির পরিবর্তে মধু এবং জিরো ক্যাল খেতে পারেন। তাছাড়া মিষ্টি ফল গুলো খেলে তেমন কোন ক্ষতি হবে না আশা করি।

জুস খাবেন না

ওজন কমানোর মহাযুদ্ধে যে যোদ্ধারা আছেন তারা হয়তো ভাবছেন জুস তো আপনারা বাড়িতে তৈরি করে খান, বাইরের জুস খাওয়ার প্রশ্নই আসেনা। কিন্তু যারা বাড়িতে জুস তৈরি করে খান তারাও ভুল করেন। কোন ফল অথবা সবজি কখনই জুস করে খাবেন না। জুস করে খেলে আপনারা অনেকে ছেকে খান। যারা জুস ছেকে না খান তারাও ভুল করেন। সেটা হল সবজি ও ফল চিবিয়ে খেলে আপনার ফেসিয়াল ব্যায়াম হবে এবং দাঁত ভালো থাকবে।

লেবু পানি

লেবু পানি
লেবু পানি আপনাকে সতেজ করবে

লেবু পানি অনেক ওজন কমাতে পারে। আপনি তিন দিনের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারবেন। আপনার শরীর ফুরফুরে আর হালকা লাগতে শুরু করবে। শরীরের সকল টক্সিন দূর করে দেয় এই লেবু পানি। আপনার ত্বক ভালো রাখবে। সবচেয়ে উপকার হবে যদি কুসুম গরম পানির সাথে খান। খাওয়ার এক মাস পর ওজন মেপে দেখতে পারেন এটা কতো টুকু উপকারী। যারা সাধারণ ওজনের তারাও খেতে পারেন। তবে বেশী খাবেন না।

ডায়েট করার সময় ভুলে যাবেন না আপনার শরীর একটি ইঞ্জিন। আর ইঞ্জিনের চলতে হলে তেল লাগে। ঠিক মতো তেল না দিলে মাঝপথে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাবে। সুতরাং অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে খাবেন। তিন বেলা ঠিক মতো খেলে এবং ব্যায়াম করলে ওজন বৃদ্ধি পায় না। সুস্থ থাকার জন্যও আপনি উপরোক্ত নিয়মগুলো মেনে চলতে পারেন।

 

 

 

 

খান দেশী ফল, বাড়ান দেহের বল

পেয়ারা

দেহের পুষ্টি ঘাটতি পূরণে ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। ফল খেতে কে না পছন্দ করে। ছোট শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ আর অসুস্থ্য রোগী সবার জন্য ফল হচ্ছে মহৌষধ। ভিটামিন, পুষ্টি উপাদান, খনিজ লবণ, খাদ্য শক্তি ইত্যাদি সবচেয়ে বেশী ফল থেকে পাওয়া যা আমাদের কে শারীরিক ভাবে সুস্থ্য রাখতে সহায়তা করে। দেশীয় ফল সকল শ্রেণীর মানুষের হাতের নাগালে।
নিচে কয়েকটি দেশীয় ফলের নাম ও গুনাগুণ বর্ণনা করা হলো –

পেয়ারা

পেয়ারা একটি সহজলভ্য ফল। সাধারণ এই ফলকে আমরা অবহেলা করি। কিন্তু এর গুনাগুন উপকারিতা জানার পর আপনি আপনার ভুল বুঝতে পারবেন এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি।

পুষ্টিগুণ

পেয়ারা একটি ভিটামিন-সি আর ময়েশ্চারসমৃদ্ধ ফল। এর উচ্চমাত্রার ভিটামিন-এ ও ‘সি’ ত্বক, চুল ও চোখের পুষ্টি জোগায়, ঠান্ডাজনিত অসুখ দূর করে।

রোগ প্রতিরোধে পেয়ারার ভূমিকা

ডায়াবেটিকের ঝুঁকি হতে রক্ষা করে, চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে, রক্তচাপ কমায়, ট্রেস উপাদান কপার সমৃদ্ধ, ম্যাঙ্গানিজের ঐশ্বর্য, স্নায়বিক আরাম, রক্ত পরিষ্কার করে, ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ প্রতিরোধ করে, পাকস্থলীর স্বাস্থ্য ভালো রাখে, ওজন কমায়, চুল ভালো রাখে। পেয়ারায় রয়েছে ক্যারটিনয়েড, পলিফেনল, লিউকোসায়ানিডিন ও অ্যামরিটোসাইড নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ক্ষতস্থান শুকানোর জন্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

আম
এই ফলটির নাম শোনার পর জিহ্বায় পানি আসে না এমন মানুষ খুবী কম আছে। আর স্বাদের কথা নাই বা বললাম। অনেকে আম কে জাতীয় ফল হিসেবে ধরে। মধুময় ফলটি শুধু মাত্র স্বাদে নয় গুনেও অনেক ভরপুর।

আম
পাকা আমে ভিটামিন ‘এ’ থাকে

পুষ্টিগুণ
পাকা আমে ভিটামিন ‘এ’ থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম আমের ১০০০-১৫০০ আইইউ ভিটামিন ‘এ’ থাকে। আর ভিটামিন ‘এ’ অভাবে চোখের নানা রোগ, অন্ধত্ব, খসখসে চামড়া, হজমে সমস্যা, চুলপড়া ইত্যাদি দেখা দেয়। এছাড়াও ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, খনিজ লবণ, প্রচুর খাদ্য শক্তি এবং ক্যলসিয়াম এসব প্রচুর পরিমাণে আম থেকে পাওয়ায় যায়।
রোগ প্রতিরোধে আম
আমে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস যা আমাদের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও স্তন, লিউকেমিয়া ও কোলন সহ প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে থাকে। আমে অনেক বেশী এনজাইম পাওয়া যায়। আমরা অনেকে জানি আম ওজন বাড়াতে সাহায্য করে আর ওজন বাড়াতে বেশী আম খেতে হবে। তবে সবচেয়ে লক্ষণীয় ব্যাপার হলো আম খেলে ওজন বাড়লেও কোলেস্টোরল কমে যায়। আমে আছে অনেক বেশী ভিটামিন ‘সি’, ফাইবার ও ফলের শাঁস যা রক্তে বিদ্যমান খারাপ কোলেস্টোরল এর মাত্রা কমিয়ে দেয়। আম ত্বকের জন্য অনেক বেশী উপকারী। ত্বককে ভিতর ও বাহির থেকে সুন্দর রাখে, ত্বকের লোমের গোড়া পরিষ্কার রাখে যা ব্রন থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সহায়তা করে। আম দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। রাত কানা রোগ থেকে রক্ষা করে। হজমেও আমের ভূমিকা অনেক বেশী। আম শুধু স্বাদের দিক থেকে সুস্বাদু নয়, আম স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী।
কাঁঠাল
কাঁঠাল হচ্ছে আমাদের জাতীয় ফল কিন্তু এ সুস্বাদু ফলের গুনাগুণ সম্পর্কে আমরা অনেকে অবগত নই।

কাঁঠাল
বহুগুণে গুণান্বিত কাঁঠাল

পুষ্টিগুণ

পাকা কাঁঠালের প্রতি ১০০ গ্রামে ৯০ কিলোক্যালরি ও খনিজ লবণের পরিমাণ প্রায় ০.৯। পাকা কাঁঠালের তুলনায় কাঁচা কাঁঠালে ফাইবারের পরিমাণ অনেক গুন বেশী। তাই কাঁচা কাঁঠাল ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য খুব উপকারী। রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কাঁচা কাঁঠাল বেশ কার্যকরি। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে রয়েছে আমিষ ১ গ্রাম, চর্বি ০.৩ মিলিগ্রাম, শর্করা ২৪ গ্রাম, খাদ্য আঁশ ২ গ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ৩৭ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৩০৩ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৪ মিলিগ্রাম, ম্যাঙ্গানিজ ০.১৯৭ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ২৯৭ আই ইউ, ভিটামিন সি ৬.৭ মিলিগ্রাম, থায়ামিন ০.০৩ মিলিগ্রাম, ভিটা বি২ ০.১১ মিলিগ্রাম, ভিটা বি৩ ০.৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি৬ ০.১০৮ মিলিগ্রাম।

রোগ প্রতিরোধে কাঁঠাল
মানব দেহে কাঁঠাল খুব উপকারি এতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, আমিষ ও ভিটামিন রয়েছে। এ ফলে চর্বির পরিমাণ কম থাকে। এতে পটাশিয়াম রয়েছে যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। কাঁঠালে আছে ফাইটোনিউট্রীয়েন্টস যা ক্যান্সার, আলসার এবং বার্ধ্যক্য প্রতিরোধ করে। কাঁঠালে বিদ্যমান শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মানুষের দেহকে ক্ষতিকর ফ্রির‍্যাডিকেলস সুরক্ষিত রাখে। সর্দি-কাশি সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা করে, টেনশন ও নার্ভাসনেস কমায়।

তরমুজ
তরমুজ এ নামটি শুনলেই যেনো তৃষ্ণার্ত হয়ে যাই আমরা। গরমে শরীর কে ঠাণ্ডা রাখতে তরমুজের ভূমিকা অনেক। আমাদের শরীরের জন্য তরমুজের উপকারিতা অনেক বেশী।

পানি
তরমুজের ৯২ ভাগ পানি

পুষ্টিগুণ
প্রায় ৯২ ভাগ পানি রয়েছে এতে। এ জন্য তরমুজ খেলে পানির পিপাসা মিটে যায়। প্রতি দুই কাপ তরমুজ খেলে দেহে ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি-র ঘাটতি পূরণ হয়। তরমুজে ভিটামিন বি৬, ভিটামিন১ থাকে যা এনার্জি তৈরিতে সহায়তা করে।
রোগ প্রতিরোধে তরমুজ
তরমুজে ভিটামিন এ আছে যা ত্বক উজ্জ্বল করে এবং ত্বককে ইনফেকশন থেকে রক্ষা করে। কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায়। তরমুজের সবুজ খোসা এবং লাল অংশ উভয়ই ক্যান্সার রোগীদের জন্য খুব উপকারী। তরমুজ অ্যাজমা, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, হজমে সহায়তা করে এবং কিডনির কার্য ক্ষমতা বজায় রাখে।

পেঁপে
আরেকটা মজাদার আর খুব সুস্বাদু ফল হচ্ছে পেঁপে। পেঁপের আরেক নাম হলো ‘’পাওয়ার ফ্রুট’’। এতে আছে অনেক রোগের নিরাময় ক্ষমতা।

পেঁপে
পাকা পেঁপে ত্বকে লাবণ্য ধরে রাখে

পুষ্টিগুণ
প্রতি ১০০ গ্রাম পেঁপেতে ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে ১১১০ ইউনিট। তাছাড়া এ ফলে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন বি ও সি, শর্করা, খনিজ লবণ এবং খাদ্য শক্তি। অন্তত পুষ্টিকর সবজি হিসেবে কাঁচা পেঁপের জুড়ি নেই। আপেলের চেয়ে ১৩ গুন বেশী ভিটামিন সি থাকে পেঁপেতে। পেঁপের মধ্যে বিদ্যমান সাদা আঠায় প্যাপেইন নামক এনজাইম আছে। এই এনজাইম প্রোটিন পরিপাকে সহায়তা করে।

রোগ প্রতিরোধে পেঁপে
পেঁপে তে লাইকোপিন রয়েছে। আর গবেষকদের মতে লাইকোপিন ক্যান্সার প্রতিরোধী। পেঁপে পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার করে হজমে সাহায্য করে। ফ্যাট ভাঙতে পেঁপে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। ওজন কমাতে পেঁপের জুড়ি মেলা ভার অনেক সাহায্য করে। প্রতিদিন এক বাটি সিদ্ধ পেঁপে আপনার ওজন অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে।

আনারস
বাংলাদেশে চার ধরনের আনারস চাষ করে যেমন- কুইন, হরিচরণ ভিটা, জায়েন্ট কিউ ও বারুইপুর। সিলেট, চট্রগ্রাম, কুমিল্লা ও ঘোড়াশালে এই চার জাতের চাষ সব চেয়ে বেশী হয়। বছরে দুইবার আনারস তোলা হয়ে থাকে। শীত কালের আনারস ছোট ও টক হয়। বর্ষা কালে আনারস বড় ও অনেক মিষ্টি হয়।

পুষ্টিগুণ
পুষ্টিগুণ হিসেব করলে বলতে হয় আনারস অতুলনীয়। আনারসে ক্যালসিয়াম,  ভিটামিন এ, বি, সি এবং আরো অনেক প্রকার পুষ্টি উপাদান আছে। প্রতি ১০০ গ্রাম আনারসে রয়েছে ০.৬ ভাগ প্রোটিন, শ্বেতসার ৬.২ গ্রাম, ভিটামিন সি ২১ মিলিগ্রাম, ০.০৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন ২, ০.০২ ফসফরাস, ০.১ ভাগ সহজ পাচ্য ফ্যাত, ০.৫ খনিজ পদার্থ, ১২.০ গ্রাম শর্করা, ক্যালসিয়াম ১৮ মিলিগ্রাম, লোফ ১.২ মিলি গ্রাম।

রোগ প্রতিরোধে আনারস এর ভূমিকা
খালি পেটে আনারস কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে। জ্বর বা জ্বর-জ্বর ভাব দূর করে। আনারসে রয়েছে ব্যথানাশক উপাদান। এ ফল শরীরের ব্যথা দূর করার জন্য খুবী উপকারী। আনারস রক্ত পরিষ্কার করে যা হৃদপিণ্ডকে কাজ করতে সহায়তা করে। এতে অনেক বেশী ভিটামিন সি থাকে যা জিহ্বা, তালু, দাঁত, মাড়ির অনেক অসুখ নিরাময় করে। আনারস খেলে ঠাণ্ডা লাগা, গলা ব্যথা, সাইনোসাইটিস জাতীয় রোগ গুলো কম হয়। আনারসে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ হাড় ও চুল কে অনেক বেশী শক্তিশালী করে। এ ফল জন্ডিস রোগের জন্য বেশ উপকারী। আনারসে ফ্যাট কম, ওজন কমাতে সাহায্য করে।