মাথা ব্যথা দূর করার পদ্ধতিগুলো দেখে নিন

মাথা ব্যথা

অন্যান্য জায়গাতে ব্যথা হলে যে কষ্ট লাগে- মাথা ব্যথা হলে সব চেয়ে বেশি খারাপ লাগে।মাঝে মাঝে প্রচণ্ড মাথা ব্যথায় পৃথিবী অন্ধকার লাগে।

শরীরের অন্যান্য অঙ্গ গুলোর ভেতর মাথা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। মাথা ছাড়া শরীর কি কাজ করতে পারে?

এইসময় গুলোতে হাতের কাছের কিছু উপকরণ ও পদ্ধতি দিয়ে ব্যথা কমানো সম্ভব। চলুন জেনে নেই তাৎক্ষণিক ভাবে মাথা ব্যথা দূর করার পদ্ধতি গুলো।

মাথা ব্যথা দূর করে আকুপ্রেশার

মাথা ব্যথা
এই পদ্ধতিটি বিজ্ঞানসম্মত এবং প্রমাণিত। চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

বহুবছর ধরে মাথা ব্যথা দূর করতে অনেকেই আকুপ্রেশার পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছেন। এই ছোট্ট ঘরোয়া পদ্ধতিটি আপনাকে এক মিনিটের মধ্যে মাথা ব্যথা সারাতে সাহায্য করবে। বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং তর্জনির মাঝখানের অংশে অন্য হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনি দিয়ে চাপ দিন এবং ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ম্যাসাজ করুন। একই ভাবে ডান হাতেও করুন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আশা করা যায় এতে এক মিনিটেই মাথা ব্যথা সারবে।

পানি পান করুন

মাথা ব্যথা
পানি সকল রোগের ওষুধ।

একচুমুক পানি পানও আপনাকে এক মিনিটের মধ্যে মাথা ব্যথা সারাতে কাজে দেবে।

যখন আমাদের শরীর আর্দ্র হতে থাকে তখন ব্যথা ধীরে ধীরে কমে।

লবঙ্গ

মাথা ব্যথা
মাথা ব্যথা দূর করা ছাড়াও লবঙ্গ আরও অনেক উপকার করে।

কিছু লবঙ্গ তাওয়ার মধ্যে গরম করে নিন।

গরম লবঙ্গ একটি রুমালের মধ্যে নিন।

এক মিনিট এর ঘ্রাণ নিন এবং দেখুন মাথা ব্যথা চলে গেছে।

লবণযুক্ত আপেল

মাথা ব্যথা
এই কারণেই হয়ত বলা হয় প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে জেতে হবে না।

ব্যথা যদি বেশি হয় তবে এই ঘরোয়া পদ্ধতিটি চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

এক টুকরো আপেল চিবুতে পারেন তবে এতে একটু লবণ ছিটিয়ে নেবেন।

এটা দ্রুত ব্যথা মুক্ত করতে সাহায্য করবে।

আদা চিবুতে পারেন

মাথা ব্যথা
আদা খেলে ঠাণ্ডাও লাগতে পারেনা।

এক পিস টাটকা আদা চিবুতে পারেন এতে ৬০ সেকেন্ডে মাথা ব্যথা দূর হবে।

আদা একটু বাজে গন্ধের হলেও পদ্ধতিটি কাজের।

আদার ঝাঁজ এবং ঝাল মাথায় গিয়ে লাগে তখন মাথা ব্যথা কমে আসতে শুরু করে।

গান শোনা

মাথা ব্যথা
গান শুনলে মাথার নিওরন গুলো আরাম পায়।

মন ভালো করার পাশাপাশি মাথা ব্যথা উপশমে সব চাইতে ভালো কাজ হচ্ছে গান শোনা। ‘জার্নাল অফ পেইন’ গবেষণাপত্রে প্রকাশ হয় গান শোনা প্রায় ১৭% ব্যথা কমিয়ে দিতে সহায়তা করে। কারণ গান মনোযোগ দিয়ে শোনার সময় আমাদের লক্ষ্য মাথা ব্যথা থেকে সরে যায় যা আমাদের মাথা ব্যথার কথা অনেক সময় ভুলিয়ে দেয়। এতে করেই সেরে উঠে মাথা ব্যথা।

মিষ্টিকুমড়োর বিচি খান

মাথা ব্যথা
কুমড়ার বিচি।

মিষ্টি কুমড়োর বিচি ভেজে খেলে এই ব্যথার সমস্যা থেকে দুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কারণ মিষ্টি কুমড়োর বিচিতে হয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম সালফেট যা মাথা ব্যথা উপশমে কাজ করে থাকে।

কাঠবাদাম খাওয়ার অভ্যাস রাখুন

মাথা ব্যথা
কাঠবাদাম খেলে স্মৃতি শক্তিও বৃদ্ধি পায়।

অনেক সময় আবহাওয়া, ধুলোবালির কারণে মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যায়, আবার অনেক সময় মানসিক চাপের কারণেও মাথা ব্যথা শুরু হয়। এই সকল ধরনের ব্যথা কমানোর জন্য একমুঠো বা দুইমুঠো কাঠবাদাম চিবিয়ে খান। কাঠবাদামে রয়েছে ‘স্যালিসিন’ যা ব্যথা উপশমে কাজ করে রবং দ্রুত ব্যথা নিরাময় করে।

মনিটরে তাকিয়ে থাকা কমাতে হবে

মনিটরে একদিকে তাকিয়ে থাকলে একসময় চোখ, মাথা একসাথে কষ্ট দেয়। সুতরাং ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যাবহারের ক্ষেত্রে সময় মেনে চলতে হবে।

পরিচিত দেশীয় ভেষজ গাছের অজানা উপকারিতাগুলো জেনে নিন

আমাদের চারপাশে নানা ধরণের গাছগাছালি আছে। এদের ভেতর কিছু ওষধি গাছ আছে। প্রত্যকটি ভেজষ উদ্ভিদেরই কিছু না কিছু ঔষধী গুণ রয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ হাজার উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাড়ে পাঁচশ ঔষধি উদ্ভিদ প্রজাতি বা ভেষজ। ঔষুধ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ভেষজ উদ্ভিদের চাহিদা সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশে ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ইউনানি, আয়ুর্বেদ ও হোমিওপ্যাথি ওষুধ উৎপাদনে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি বিউটি পার্লার ও প্রসাধনীতে এখন প্রচুর ভেষজ উপাদান ব্যবহৃত হচ্ছে।
বাংলাদেশে স্বল্পসময়ে কম জমিতে অধিক হারে উৎপাদন করে অধিক মুনাফা অর্জন করা সম্ভব এমন ঔষধি রয়েছে ২৫টির মতো। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পুদিনা, ঘৃতকুমারী, থানকুনি, অর্জুন, আমলকী, হরীতকী, কালমেঘ, নিম, বহেড়া, কালিজিরা, বসাক, উলটকমল, অশ্বগন্ধা, সর্পগন্ধা, তুলসী, মেথি, সোনাপাতা, যষ্টিমধু, বাবলা, শতমূলী, ইসবগুল, আদা, রসুন, হলুদ, পিঁয়াজ ইত্যাদি।

বাসক

বাসক একটি ভারতীয় উপমহাদেশের গাছ। আর্দ্র, সমতলভূমিতে এটি বেশী জন্মে। লোকালয়ের কাছেই জন্মে বেশী। হালক  হলুদে রংয়ের ডালপালায়ক্ত ১ থেকে ২ মি. উঁচু গাছ, ঋতুভেদে সর্ব্বদাই প্রায় সবুজ থাকে। বল্লমাকারের পাতা বেশ বড়। ফুল ঘন, ছোট স্পাইকের ওপর ফোটে। স্পাইকের বৃন্ত পাতার চেয়ে ছোট। স্পাইকের ওপর পাতার আকারে উপপত্র থাকে যার গায়ে ঘন এবং মোটা শিরা থাকে।

চিনবেন কি করে?

বাসক মাঝারি মাপের গাছ। গাঢ় সবুজ রঙের উদ্ভিদ এবং চেহারায় তেমন কোন বিশেষত্ব নেই। ৫-৬ ফুট পর্যনত্ম সাধারণত লম্বা হয় এবং বাংলাদেশের সর্বত্রই মেলে। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে ছোট ছোট সাদা ফুল ফোটে। অন্য এক প্রকার বাসক গাছও আছে যাতে হলদেটে লাল রঙের ফুল ধরে।

উপকারিতা

১। বাসকের ছাল খেলে কৃমি মরে যায়।

২। যাদের গায়ে ঘামের গন্ধ হয় তারা বাসক পাতার রস গায়ে লাগালে দুর্গন্ধ দূর হবে।

৩। যাদের শ্বাসকষ্ট আছে বাসক পাতা বিড়ি বা চুরম্নট জাতীয় পাকিয়ে তার সাহায্যে ধূমপান করলে শ্বাসকষ্ট প্রশমিত হয়।

৪। গায়ের রঙ ফর্সা করতে চাইলে বাসক পাতা ব্যাবহার করতে পারেন।

৫। পানি ফিল্টার করতে বাসক পাতা ব্যাবহার করতে পারেন।

তেলাকুচা

তেলাকুচা একপ্রকারের ভেষজ উদ্ভিদ। বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে একে ‘কুচিলা’, তেলা, তেলাকচু, তেলাহচি, তেলাচোরা কেলাকচু, তেলাকুচা বিম্বী ইত্যাদি নামে ডাকা হয়। অনেক অঞ্চলে এটি সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। গাছটির ভেষজ ব্যবহারের জন্য এর পাতা, লতা, মূল ও ফল ব্যবহৃত হয়। এটি লতানো উদ্ভিদ। এটি গাঢ় সবুজ রঙের নরম পাতা ও কাণ্ডবিশিষ্ট একটি লতাজাতীয় বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। লতার কাণ্ড থেকে আকশীর সাহায্যে অন্য গাছকে জড়িয়ে উপরে উঠে। পঞ্চভূজ আকারের পাতা গজায়, পাতা ও লতার রং সবুজ। এর ফল ও কচি ডগা খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় সেখানে। তেলাকুচায় প্রচুর বিটা-ক্যারোটিন আছে।

চিনবেন কি করে?

১ সে.মি. লম্বা ফুলের রং গোলাপী। দেড় থেকে দু সে.মি. লম্বা ফল অনেকটা চিলগোজার মতন দেখতে।শিকড় ব্যতীত কালমেঘ গাছটির সব অংশই ঔষুধের কাজে লাগে। কালমেঘ অত্যন্ত তেতো এবং পুষ্টিকর।

উপকারিতা

১। শিশুদের যকৃৎ রোগে এবং হজমের সমস্যায় কালমেঘ ফলপ্রদ।

২। টাইফয়েড রোগে এবং জীবানুরোধে কালমেঘ কার্য্করী।

৩। কালমেঘ গাছ বেটে সরষের তেলে চুবিয়ে নিয়ে চুলকানিতে লাগানো হয়।

৪। গাছের পাতার রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও লিভার রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।

অর্জুন

ভেষজশাস্ত্রে ঔষধি গাছ হিসাবে আর্জুনের ব্যবহার অগনিত।বলা হয়ে থাকে, বাড়িতে একটি অর্জুন গাছ থাকা আর এক জন ডাক্তার থাকা একই কথা।এর ঔষধি গুন মানবসমাজের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে সুপ্রাচীন কাল থেকেই।শরীরের বল ফিরিয়ে আনা এবং রণাঙ্গনে মনকে উজ্জীবিত রাখতে অর্জুন ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে মহাভারত ও বেদ-সংহিতায়।তার পর যত দিন যাচ্ছে ততই অর্জুনের উপকারী দিক উদ্ভাবিত হচ্ছে।

চিনবেন কি করে?

অর্জুন একটি বৃক্ষ। গাছটি অনেক বড় হয়। ছাল মোটা থাকে।

উপকারিতা

১। উচ্চ রক্তচাপ কমায়।

২। অর্জুনের ছাল বেটে খেলে হৃৎপিণ্ডের পেশী শক্তিশালী হয়।

৩। বিচুর্ণ ফল মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে এবং লিভারসিরোসিসের টনিক হিসাবে ব্যাবহৃত হয়।

৪। অর্জুনের ছাল হাঁপানি, আমাশয়, ঋতুস্রাবজনিত সমস্যা, ব্যথ্যা ,প্রদর ইত্যাদি চিকিৎসায়ও উপকারী।

৫। হজম ক্ষমতা বাড়ায়।

তুলসী

তুলসী একটি ঔষধিগাছ। তুলসী অর্থ যার তুলনা নেই। সুগন্ধিযুক্ত, কটু তিক্তরস, রুচিকর। এটি সর্দি, কাশি, কৃমি ও বায়ুনাশক এবং মুত্রকর, হজমকারক ও এন্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে বিশেষ করে কফের প্রাধান্যে যে সব রোগ সৃষ্টি হয় সে ক্ষেত্রে তুলসী বেশ ফলদায়ক।

চিনবেন কি করে?

তুলসী একটি গুল্ম জাতীয় গাছ। গাছটিতে অনেক পাতা হয়।

উপকারিতা

১। সর্দি-ঠাণ্ডা কমানোর জন্য সব মায়েরাই ব্যাবহার করে তুলসী।

২। পেট খারাপ হলে তুলসীর ১০ টা পাতা সামান্য জিরের সঙ্গে পিষে ৩-৪ বার খান ৷ পায়খানা একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে, মানে পায়খানার ওই সমস্যাটা আর কি!

৩। মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে দিনে ৪-৫ বার তুলসী পাতা চেবান৷

৪। শরীরের কোন অংশ যদি পুড়ে যায় তাহলে তুলসীর রস এবং নারকেলের তেল ফেটিয়ে লাগান, এতে জ্বালা কমবে৷ পোড়া জায়গাটা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে৷ সেখানে কোন দাগ থাকবে না৷

৫। বুদ্ধি এবং স্মরণশক্তি বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন ৫-৭ টা তুলসী পাতা চিবান৷

হরিতকী

হরীতকী মধ্যম থেকে বৃহদাকার চিরসবুজ বৃক্ষ। ত্রিফলার অন্যতম ফল হচ্ছে হরীতকী। হরীতকী গাছকে ভেষজ চিকিৎসকরা মায়ের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন। তারা বলেন, মানুষের কাছে এ বৃক্ষ মায়ের মতোই আপন। মানুষের শরীরে সংক্রামিত প্রায় সব রোগ-ব্যাধির ওষুধ হিসেবে হরীতকীর ব্যবহার রয়েছে। অর্শরোগে, রক্তার্শে, চোখের রোগ, পিত্তবেদনা, গলার স্বর বসে যাওয়া, হৃদরোগ, বদহজম, আমাশয়, জন্ডিস, ঋতুস্রাবের ব্যথা, জ্বর, কাশি, হাঁপানি, পেটফাঁপা, ঢেঁকুর ওঠা, বর্ধিত যকৃত ও প্লীহা, বাতরোগ, মহৃত্রনালীর অসুখ, ফুসফুস, শ্বাসনালীঘটিত রোগে হরীতকী ফলের গুঁড়া ব্যবহৃত হয়।

চিনবেন কি করে?

হরিতকী একটি বৃক্ষ। বৃক্ষের ফল ব্যাবহার করা হয়।

উপকারিতা

১। হরীতকী দেহের অন্ত্র পরিষ্কার করে এবং একই সঙ্গে দেহের শক্তি বৃদ্ধি করে।

২। অ্যালার্জি দূর করতে হরীতকী বিশেষ উপকারী।

৩। কোষ্ঠকাঠিন্য, স্নায়বিক দুর্বলতা, অবসাদ এবং অধিক ওজনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

৪। হরীতকীর গুঁড়া নারিকেল তেলের সঙ্গে ফুটিয়ে মাথায় লাগালে চুল ভালো থাকবে।

৫। দাঁতে ব্যথা হলে হরীতকী গুঁড়া লাগান, ব্যথা দূর হবে।

ওজন বাড়াতে চান? তাহলে দেখে নিন নিয়ম গুলো।

ওজন

 

আমরা নিজেকে অন্যদের সামনে খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার জন্য কত কিছু করি। কে না চায় নিজেকে অন্য জনের সামনে খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরতে?

আমরা অনেকেই ওজন কমানোর জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে আছি। কিন্তু কখনো লক্ষ্য করেছি কি এই পৃথিবীতে এমনও মানুষ আছে যারা ওজন বাড়ানোর জন্য কত কিছুই না করে যাচ্ছে। কিন্তু কোন ভাবেই সফল হচ্ছে না। আর এর পেছনে মূল কারণ হলো আমাদের সঠিক নিয়ম মেনে না চলা। ওজন বাড়ানোর জন্য বেশী কিছু নয় শুধু সঠিক নিয়ম মেনে খাবার খাওয়া দরকার যেন খাবারটি আমাদের শরীরে লাগে। আজ আপনাদের সামনে কিছু সঠিক নিয়ম বা সঠিক উপায় তুলে ধরলাম। আশা করি তা মেনে চললে আপনি খুব কম সময়ে নিজের স্বাস্থ্যের পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

তাহলে আর দেরী কেনো চলুন জেনে নেওয়া যাক উপায় গুলো।

ওজন বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া শুরু করুন

ওজন
স্বাস্থ্য ভালো করতে চাইলে খেতে হবে পুষ্টিকর খাদ্য।

আমরা অনেক সময় স্বাস্থ্য বাড়ানোর জন্য প্রচুর পরিমাণ খাবার খেয়ে থাকি কিন্তু তারপরও আমাদের স্বাস্থ্য বাড়ে না। এর কারণ হলো আমরা নিয়ম মেনে খাবারটি খাচ্ছি না শুধু পেট ভরছি। তাই উপযুক্ত খাবার খেতে হবে। আমাদের শরীরে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণে প্রোটিন, কার্বন ও ফ্যাট এর প্রয়োজন হয় এগুলোর ঘাটতি পড়লে আমাদের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব পড়ে। এর জন্য প্রতিদিন বাদাম আর দুগ্ধজাত খাবার খান। দেহের পেশী গঠনে প্রোটিন যুক্ত খাবার দরকার। এটি শরীরের ওজন বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ মাংস, ডিম, পনির ও পর্যাপ্ত পরিমাণে ভাত, রুটি-আলু গ্রহণ করুন। ওজন বাড়ানোর জন্য বসা ভাতের উপকারিতা অনেক বেশী। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর ক্যালোরি। মাছ, মুরগি এ গুলো প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় রাখুন। টুনা মাছও খেতে পারেন।

তরল জাতীয় খাবার বেশী খান

কিছুক্ষণ পর পর তরল জাতীয় খাবার খান যা আপনার ক্ষুধা বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে এটা মনে রাখা আমাদের খুব জরুরী ভারি খাবার খাওয়ার আগে বা খাবারের মাঝখানে পানি খাওয়া ভালো নয়। কারণ খাবারে মাঝখানে বেশী পানি খেলে আপনার ক্ষুধা নিবারণ হয়ে যাবে তখন ভারি খাবার খাওয়ার ইচ্ছে নষ্ট হয়ে যাবে। তাছাড়া খাওয়ার মাঝে বেশী পানি খেলে খাবার হজমে সমস্যা হয়।

ওজন বাড়াতে ঘন ঘন খাবার খান

আপনি যদি দেহের ওজন বাড়াতে আগ্রহি হয়ে থাকেন তাহলে প্রতিদিন ২-৩ ঘন্টা অন্তর অন্তর ৫ থেকে ৭ বার পরিমিত পরিমাণে খাবার গ্রহণ করুন।

আমরা সাধারণত দিনে ৩ বার খাবার খেয়ে থাকি। আপনি দিনে ৬ বার খাবার গ্রহণ করেন তবে পরিমাণটি যাতে নির্দিষ্ট হয় সে দিকে খেয়াল রাখবেন।

কলা, আম ইত্যাদি ফল বেশী পরিমাণ খেতে হবে। এতে করে আপনার খেতে কোন সমস্যা হবে না। ভাজা খাবার পরিহার করুন। ক্যালোরি যুক্ত খাবারগুলো বেঁছে বেঁছে প্রচুর পরিমাণে খান।

তাজা ও শুকনো ফল এবং বাদাম খান

ওজন
কিছুক্ষণ পর পর বাদাম খেতে পারেন।

দুধের সাথে খেজুর, বাদাম, আম ইত্যাদি খেলে আপনার শরীরের ওজন বাড়াতে পারে।

এছাড়া এই ফল গুলো দুধ ছাড়া খেতে পারেন।

খাবারের তালিকায় নিয়মিত  কিশমিশ ও শুঁকনো ফল দেওয়া গাজরের হালুয়া, ক্ষীর, সেমাই রাখুন।

ফলের জুস

ওজন
ফল খেতে ইচ্ছে না করলে জুস খেতে পারেন।

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বেশী ক্যালোরি যুক্ত ফলের জুস (যেমন আম, আঙ্গুর)  রাখুন।

এসব ফলের জুস আপনার শরীরের ওজন বাড়াবে এবং স্বাস্থ্যকর ক্যালোরি প্রদান করবে।

নিরমিত কলা ও দুধ খাবেন

ওজন
কলা খেলে ওজন বাড়বেই কারণ এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি।

কলা ওজন বাড়ানোর জন্য খুব উপকারী একটা ফল তাই প্রতিদিন ৬-৭ টি কলা দুধের সাথে সকালের নাস্তায় খেতে পারেন।

তাছাড়া প্রতিবার খাবার গ্রহণের পর একটি কলা খেতে পারনে যা আপনার হজম ক্রিয়া বাড়াতে সাহায্য করবে।

বেশী পরিমাণ পানি পান করুন

ওজন
পানি পান করার পরিমাণ বাড়িয়ে দিন।

শরীরকে পরিবর্তন করতে চাইলে শরীরকে আর্দ্র রাখা খুব প্রয়োজন।

তাই প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুন।

প্রতদিন ২-৩ লিটার পানি পান করুন।

পর্যাপ্ত ঘুমান


ঘুম দেহ গঠনের জন্য আবশ্যক তাই প্রতিদিন কম পক্ষে ৭-৮ ঘন্টা ঘুমান। রাতে কখনো দেরী করে ঘুমাবেন না। আবার সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে যান। আপনি যতই খাবার খেয়ে থাকেন তা উপকারে আসবে না। কারণ ঘুমের সময় দেহ কোষ গঠনের কাজ চলে আর ভালো ঘুম না হলে পরিপাক ক্রিয়ায় সমস্যা দেখা যায়।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন

আপনি হয়তো ভাবছেন রোগা পাতলা মানুষের কিসের ব্যায়াম? তাহলে এটা জেনে রাখুন আপনি ভুলের সাগরে বাস করছেন, কিছু বিশেষ ব্যায়ামে আপনার পেশী তৈরি ও ওজন বাড়িয়ে দিবে। ব্যায়াম ক্ষুধা বাড়াতে সাহায্য করে। শরীরকে ফিট রাখতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৪৫ মিনিট ব্যায়াম করুন। হাঁটতে পারেন বা ওজন বাড়ানোর ব্যায়াম গুলো করতে পারেন। এছাড়া আউটডোর খেলায় অংশ গ্রহণ করতে পারেন। শরীরের ওজন বাড়াতে খাবারের তালিকায় উচ্চ ক্যালোরি যুক্ত খাবার রাখতে হবে। তবে এটা মনে রাখেন এই ধরনের বাড়তি ক্যালরি গুলো অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে নিতে হবে। যেসব খাবার প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ যুক্ত সে সব খাবার গুলো খাবেন। এসব খাবার আপনার শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করবে ও ওজন বাড়াবে। এর সাথে দৈহিক ব্যায়াম আপনার দেহের সুস্থ্যতা নিশ্চিত করবে।

আমাদের সমস্যা হল আমরা ২/৩ দিন ঠিক মত চলার পর আবার আগের রুটিন মত চলতে থাকি।

ফলাফল আমরা আমাদের শরীরের কোন পরিবর্তন দেখতে পাই না।

একটা জিনিস সবসময় মনে রাখতে হবে কষ্ট না করলে ভালো কোন ফলাফল পাওয়া যায় না। সুতরাং নিয়ম মেনে চলুন।

আশা করি এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনাদের উপকার হবে।

কোমল পানীয়: এক নীরব ঘাতক

কোমল পানীয়

আমরা বেশীর ভাগ মানুষ আজকাল কম বা বেশী কোমল পানীয় পান করি। বিভিন্ন  স্বাদে বিভিন্ন কোম্পানি বাজারে নিয়ে এসেছে অনেক রকমের পানীয়। এর কারণ কোমল পানীয়র প্রতি মানুষের অনেক বেশী চাহিদা। কোমল পানীয় কে পছন্দ না করে, কে না চায় একটু কোমল পানীয় পান করে গলা ভেজাতে?? এই কোমল পানীয় অনেক সহজলভ্য তাই সবাই কিনতে পারি। কিন্তু আমরা কি জানি এই প্রাণঘাতী পানীয় আমাদের ধীরে ধীরে প্রাণনাশের পথে নিয়ে যাচ্ছে? এটা অনেক লোভনীয় চোখের সামনে বা হাতের নাগালে থাকলে আমরা তার লোভ সামলাতে পারি না। আমাদের জীবনে ভোগ বিলাসিতার চাহিদা কখনো পরিপূর্ণ হয় না। অনেক সময় আমাদের ক্ষণিকের শান্তি বা সামান্যতম সময়ের সুখের জন্য আমরা আমাদের জীবনকে নিজের অজান্তে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেই। আবার দেখা যায় আমরা অনেকেই জেনে শুনে ক্ষতির দিকে পা বাড়িয়ে থাকি খামখেয়ালীপনার জন্য তখন আমরা ভুলে যাই কি করতে যাচ্ছি বা কি হতে যাচ্ছে। আসুন নিজে বাঁচি নিজে সচেতন হই এবং অন্য কে বাঁচাতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই। মরনঘাতী কোমল পানীয় সম্পর্কে জেনে নেই কিছু অজানা তথ্য যা শুনলে আপনি বিশ্বাস করতে পারবেন না এতদিন আপনি কিভাবে প্রতিনিয়ত নিজের ক্ষতি করে যাচ্ছেন। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক ক্ষতিকর দিক গুলোঃ-

এসিডিটি বা অম্লত্বঃ

কোমল পানীয়
কোমল পানীয় অ্যাসিডটি বাড়িয়ে দেয়।

কার্বনেটেড পানীয় গুলো দ্রবীভূত কার্বন ডাই অক্সাইড বহন করে থাকে যার কারণে পাকস্থলীতে গ্যাস তৈরি হয় যখন কোমল পানীয় আপনার পেটে শরীরের তাপমাত্রায় পৌঁছায়। আর পেটে জমে থাকা গ্যাসের কারণে আপনার পেটে ক্ষতের সৃষ্টি করে যা একসময় আপনার পেটের আলসারে পরিণত করতে পারে। অনেক সময় আলসার থেকে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়ঃ

কার্বনেটেড পানীয় খাদ্যে অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করে এ জন্য দেহের ওজন এবং স্থূলতার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। ২০০৭ সালে “আমেরিকান জার্নাল অব পাবলিক হেলথ” এর একটি লেখায় ড.লেনি ভার্টনিয়ান বলেছিলেন যে, কোমল পানীয় পান করার কারণে যে স্থূলতা-ঝুঁকির সৃষ্টি হয়ে থাকে তা শিশু, কিশোর ও পুরুষের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের বেশী হয়। প্রয়োজনের অধিক ওজন বা স্থুলতা টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হাড়ের বাত রোগ সহ অনেক রোগের উৎস হিসেবে কাজ করে থাকে।

কোমল পানীয়
কেউ খেতে বললে আমাদের মানা করা শিখতে হবে।

নগণ্য পুষ্টিকর উপাদান

আমাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণের উপর অনেক বেশী প্রতিকূল প্রভাব ফেলে কার্বনেটেড কোমল পানীয়র ফ্যাট। এ ধরনের পানীয় পান করার কারণে  দেহে প্রোটিন, স্টার্চ, ডায়াবেটিস ফাইবার, ভিটামিন বি-২ এগুলোর মাত্রা আসতে আসতে কমে যাওয়ার  শুরু করে।

দাঁতের ক্ষতের সৃষ্টি করেঃ-

কার্বনেটেড কোমল পানীয় আমাদের দাঁতের ক্ষতি করে থাকে। আমরা যখন মিষ্টি জাতীয় কোমল পানীয় গুলো পান করে থাকি তখন এর মধ্যে অবস্থিত চিনি আমাদের মুখে থেকে যায়। আমাদের মুখে অবস্থিত ব্যাকটেরিয়া চিনি থেকে খাবার সংগ্রহ করে ও রাসায়নিক উৎপাদকের সাহায্যে তা আমাদের দাঁতের শক্ত স্তর (এনামেল) ভেঙে ফেলতে থাকে। পরবর্তিতে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হতে হতে দাঁতের মধ্যে গর্তের সৃষ্টি করে। দাঁত আমাদের শরীরের অমূল্য সম্পদ। শরীরের এই অংশ একবার নষ্ট হলে আর ঠিক হয় না। তাই সময় থাকতে দাঁতের যত্ন নিন। দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝার চেষ্টা করুন।

হাড়ের শক্তি ক্ষয় করেঃ

কোমল বা কার্বনেটেড পানীয় হাড়ের শক্তি কমিয়ে দেয় যা মহিলাদের জন্য সবচেয়ে বেশী ক্ষতিকর। হাড় গঠিত হয় আমিষ, কোলাজেন ও ক্যালসিয়াম দ্বারা। কোমল পানীয়র কার্বনেটেড এসিড হাড়ের এমন উপাদান গুলোর ক্ষতি করে। এ জন্য কোমল পানীয় সব বয়সের মানুষের জন্য ক্ষতিকর তবে মধ্য বয়সের মানুষের জন্য এটি খুবই ক্ষতিকর। কেননা মধ্য বয়সের মানুষের মানে যাদের বয়স ত্রিশ এর উপরে তাদের হাড়ের ঘনত্ব ও পরিমাণ এমনিতেই কমতে থাকে।  “দ্যা আমেরিকান জার্নাল  অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশান” এর পুষ্টি বিজ্ঞানী ড.ক্যাথেরিন টাকার’ বলেন যে সকল মহিলারা কোমল পানীয় পান করেন তাদের চেয়ে যারা পান করে না তাদের পশ্চাৎ দেশের হাড় বেশী দুর্বল হয়ে যায়।

এ লেখাটি যদি আপনি মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে এখন থেকে কোমল পানীয় কে না বলুন। সকল প্রকার কোমল পানীয় কে যতোটুকু পারেন এড়িয়ে চলুন।

আপনার এবং আপনার পরিবারের তথা দেশের মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসুন। আমাদের সাথেই থাকুন।

 

মানসিক রোগ কতটা ভয়ানক হতে পারে??

মানসিক রোগ

“পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় লক্ষ লক্ষ মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। আর এই মানসিক রোগ তাদের আপনজনদের জীবনের উপর অনেক বেশী প্রভাব ফেলে। প্রতি চারজনের মধ্যে একজন তাদের জীবনের কোনো এক সময়ে এসে এই রোগে আক্রান্ত হবে। সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা এমন মানসিক অসুস্থতার পিছনে একটা উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে অবসাদ। মানসিক রোগ গুলোর মধ্যে সিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার ডিসঅর্ডার হচ্ছে সবচেয়ে দুঃসহ ও ক্ষতিকর মানসিক রোগ। যদিও অনেক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে তবুও তারা এই মানসিক রোগকে সবার থেকে আড়াল করে রাখে, উপেক্ষা করে ও এই রোগ কে কুদৃষ্টিতে দেখে।”—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।
ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অন মেন্টাল ইলনেস রিপোর্ট অনুযায়ী– বেশীর ভাগ মানসিক রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব, কিন্তু গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬০% প্রাপ্তবয়স্ক ও প্রায় ৫০% অল্প বয়সি, যাদের বয়স ৮-১৫ বছরের মধ্যে ছিলো এবং তারা কোন প্রকার চিকিৎসায় উন্নতি লাভ করেনি।

মানসিক রোগ কি ?

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, মানসিক রোগ হচ্ছে একজন মানুষের সুস্থভাবে চিন্তা করতে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সঠিক ভাবে আচরণ করতে না পারা। এমন অবস্থায় বেশীর ভাগ সময় একজন মানুষের অন্যদের সাথে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার ও জীবন কে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সাথে মোকাবিলা করার ক্ষমতা বাধাপ্রাপ্ত হয়। এটি কোন ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা চারিত্রিক সমস্যার কারণ নয়।

মানসিক রোগ
বিশ্বে প্রতি চারজনে একজন মানসিক রোগে আক্রান্ত হন।

মানসিক রোগের প্রাথমিক লক্ষন

– অকারনে তীব্র টেনশন।

– ঘুম কমে যাওয়া।

– মনোসংযোগে সমস্যা

সমস্যা আরো গভীর হলেঃ

মানসিক রোগ
অনেক বেশী সমস্যার আগে চিকিৎসকের নিকটে যান।

– আবেগ অনুভূতি হারিয়ে ফেলা।

– অবাস্তব কিছুতে তীব্র বিশ্বাস।

– অবাস্তব কিছু দেখা বা শোনার দাবী করা (হ্যালুসিনেশন)।

– মনোসংযোগে তীব্র সমস্যা, অসংলগ্ন বা অপ্রাসংগিক কথা বলা।

– অদ্ভুত আচরণ।

সিজোফ্রেনিয়া আবার কয়েক রকমের হতে পারে। যার মাঝে প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়া রোগে অনেকেই ভোগেন, যাতে মনে হয় যে আশেপাশের সবাই রোগীর শত্রু। সিজোফ্রেনিয়া রোগ মেডিকেশনে নিরাময় সম্ভব।

কিছু ভুল ধারনা আমাদের আছে যেগুলি নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। অনেকেরই এখনো ধারনা আছে যে মনোরোগ কেবল ধনী লোকদেরই হয়। এই ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। মনোরোগের কোন সামাজিক শ্রেনী বিন্যাস নেই। গরীব লোকে সেটা জানতেও পারে না  সেটা ভিন্ন কথা। যেমন ষ্টাডিতে দেখা যায় যে বাংলাদেশসহ গরীব দেশগুলিতে গর্ভবতী মহিলারা অনেক সময়ই আর্থ সামাজিক কারণে প্রচন্ড ডিপ্রেশনে ভোগেন, এতেই শেষ নয়। এই ডিপ্রেশনের প্রভাব ছড়িয়ে যেতে পারে তার অনাগত শিশুর জীবনে, শিশুর শারীরিক মানসিক বৃদ্ধিও হতে পারে মারাত্মকভাবে ব্যাহত। আমাদের দেশের কত লোকে এভাবে আজন্ম ভোগে কে তার হিসেব রাখে।

এ ছাড়াও আরেকটি ভুল ধারনা আছে যে মানসিক রোগ কেবল প্রাপ্ত বয়ষ্কদেরই হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য যে শিশুদেরও,  এমনকি সদ্যজাত থেকে ৩ বছর বয়সী।

মানসিক রোগ
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখুন।

শিশুদেরও  মানসিক সমস্যা হতে পারে। এই বয়সের একটি সাধারণ রোগের লক্ষন হল শিশুদের বাবা মার সাথে কম ঘেষার প্রবণতা, যাকে এটাচমেন্ট প্রবলেম বলে। এ ছাড়াও বাইপোলার ডিজ অর্ডার (ঘন ঘন মুডের পরিবর্তন),  এংক্সাইটি ডিজ অর্ডার, ডিপ্রেশন এসব রোগে বড়দের মত শিশুরাও ভুগতে পারে। অটিজমের কথা তো এখন সবাই নিশ্চয়ই জানেন।  এ ছাড়াও খুব সাধারণ কিছু সমস্যা যেমন বিছানায় মলমূত্র ত্যাগ,  স্কুল পালানো এসবও ক্রনিক মানসিক রোগ হতে পারে। সময়মত সুচিকিৎসা করা না  হলে রোগী ভুগবে সারা জীবন, রোগ হবে জটিল থেকে জটিলতর।

বিশ্বে এমন কিছু জটিল মানসিক রোগ রয়েছে,  যেগুলির বিবরণ শুনে বিশ্বাস করা কঠিন।

তিনটি ঘটনা দেয়া হল

ফরেইন অ্যাকসেন্ট সিনড্রোম :‌ ফ্রান্সের তরুণী অ্যাস্ট্রিড এল ফরাসি ভাষার বাইরে শুধু ভাঙা ভাঙা ইংরেজী ভাষায় কথা বলতে পারতেন।

এছাড়া কোনও ভাষাই তিনি জানতেন না। হঠাৎ একদিন ঘুম থেকে উঠে তিনি খাঁটি জার্মান ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। মেয়ের পরিবর্তন দেখে আঁতকে ওঠেন অ্যাস্ট্রিডের মা-‌বাবা। এমন অবস্থা হয়, যে তিনি ফরাসিতে কথা বলাই বন্ধ করে দেন। বেশ কিছু বছর আগে উত্তরপ্রদেশেও এক নাবালক এই রোগের শিকার হয়। যে কোনওদিন স্থানীয় ভাষার বাইরে কিছু জানত না, সে হঠাৎ ব্রিটিশ কায়দায় ইংরেজী বলতে শুরু করে।

অটোফাজিয়া :‌ “আজ কী খেতে ইচ্ছে করছে?”‌, অটোফাজিয়ায় আক্রান্ত রোগীর উত্তর হয় “‌নিজেকে”। হ্যাঁ, ভয়ানক এই রোগের লক্ষণ হল নিজেকে খেয়ে ফেলার ইচ্ছে। শুনে কি খুব বিরল রোগ মনে হচ্ছে? মনোচিকিৎসকরা বলছেন, নখ খাওয়ার অভ্যেসই এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। নখ খেতে খেতে রোগী আঙুলে কামড় বসানো শুরু করে। অসুস্থতা বাড়লে তা আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। সেই কারণেই বাচ্চাদের নখ খাওয়ার অভ্যেস হচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর দিতে বলেন চিকিৎসকরা।

কোটার্ড সিনড্রোম :‌ আরেকটি ভয়ানক রোগ। কোটার্ড সিনড্রোমে আক্রান্তরা নিজেদের মৃত বলে মনে করে। সিজোফ্রেনিয়া কিংবা গভীর অবসাদ থেকে এই রোগ দেখা দিতে পারে। পৃথিবীর কোনও কিছুর প্রতি তাদের মোহ-‌মায়া থাকে না। জীবন্ত মৃতদেহের মতো দিন কাটায়।

মানসিক রোগের চিকিৎসা

মানসিক রোগ
সময়মত চিকিৎসা করালে আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন


মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা সফলতার সাথে অনেক মানসিক রোগের চিকিৎসা করতে পারেন। এ জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে কোন অভিজ্ঞ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া এবং সম্পূর্ণ চেক আপ করা। এ ধরনের রোগীরা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে তখনি উপকৃত হবে যখন তারা উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করবে। তবে এর জন্য রোগিকে তার মানসিক সমস্যা সম্পর্কে অন্যদের সাথে কথা বলার অনিচ্ছা দূর করতে হবে। ডাক্তারের সাথে খোলামেলা কথা বলতে হবে রোগীকে যেমন দৈনন্দিন সমস্যার কথা বা কোন গোপনীয়তা না রেখে ডাক্তারকে জানাতে হবে।
বিশেষজ্ঞের দেওয়া নিয়মানুযায়ী চলতে হবে অবশ্যই এর জন্য ডাক্তারের সাথে পরিবারের মানুষদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। রোগীকে মানসিক ভাবে সাপোর্ট দিতে তার পরিবারের বা আপনজনদের সহযোগিতা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। যা অন্যান্য চিকিৎসার চেয়ে অনেকাংশে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে দেখেন যে পারিবারিক অশান্তি, সম্পর্কের ফাটল, ঝগড়া বিবাদ, অনেক সময় নিজের সঙ্গীর সাথে ভুল বুঝাবুঝি, কোন কাজে ব্যর্থতা, একাকী থাকা, হীনমানসিকতা  ইত্যাদি কারণে মানসিক ভাবে অনেক বেশী বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই এ সকল সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য হিতাকাঙ্ক্ষীদের পরিচর্যাই হচ্ছে একমাত্র ভরসা।

যখন কোন মানুষ সাময়িক বা দির্ঘস্থায়ী শারীরিক বা মানসিক সমস্যার জন্যে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে ব্যর্থ হয়, তখন তাকে কাছের মানুষের উপর নির্ভর করতে হয়। মানসিক অসুস্থতার কারণে তাকে কারো না কারো সাহায্য নিয়ে দিন পার করতে হয়। আর এভাবে আপনজনদের বা শুভাকাঙ্ক্ষীদের থেকে মানসিক বা শারীরিক সহযোগিতার মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে মানসিক রোগ থেকে মুক্তি লাভ করতে সক্ষম হয়। পরিবার পরিজনদের দায়িত্ব শুধু মানসিক রোগীর সমস্যা সমাধান করা না বরং রোগীকে তার জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ নিশ্চিত করা।

একজন মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ব্যাক্তিকে ঔষধ বা থেরাপি দিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেয়ে, তাকে মানসিক ভাবে সাপোর্ট দিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কার্যকারিতা অনেক বেশী।

কিভাবে মানসিক রোগের সঙ্গে মোকাবিলা করা যায়

-অভিজ্ঞ  মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী চলুন এবং চিকিৎসা করান।

-ভারসাম্যপুর্ন ও স্থায়ী দৈনন্দিন তালিকা মেনে চলুন

-নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখুন।

-একমুখী চিন্তা পরিহার করুন।

-নিজেকে সময় দিন আরাম করার জন্য সময় নিন।

-পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খান।
-মদ্যপান করা ও যেকোন নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।

মানসিক রোগ
কোনপ্রকার মাদকদ্রব্য গ্রহণ করা যাবে না

-নিজেকে স্বল্প পরিসরে না রেখে সবার সাথে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। অন্যদের সময় দিন।
-আপনার প্রয়োজনীয়তার দিকে মননিবেশ করুন।

 

আসুন একটু হৃদয়ের যত্ন নেই

হার্ট

“প্রায় বুকে চিন চিন করে ব্যথা করে কবির সাহেবের, তিনি ভাবেন এটা গ্যাস্টিকের ব্যথা হয়ত। তাই দুই টাকা দামের একটা গ্যাস্টিকের ট্যাবলেট খেয়ে সাময়িক ভাবে ব্যথা উপশম করেন।“

আমাদের সমাজে এমন কবির সাহেব আছেন হাজারেরও বেশি। হার্ট অ্যাটাকের আগে কেউ ডাক্তার দেখাতে যায় না। বার বার শরীরের প্রয়োজন কে অবহেলা করি আমারা। ফলাফল হার্ট অ্যাটাক নাহয় মৃত্যু। একটা মৃত্যু বা হার্ট অ্যাটাকের চাপ একটা পরিবারকে যে কতটা ভেঙ্গে ফেলে লিখে শেষ করা যাবে না।

আজ তাই চেষ্টা করলাম এই বিষয় অজানা কিছু তথ্য জানাতে। সব শেষে থাকছে একটি সারপ্রাইজ। আসা করি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি নিজ স্বার্থে পড়বেন।

হৃৎপিণ্ড আমাদের দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। মাদার বোর্ড ছাড়া যেমন কম্পিউটার চলে না। তেমনই হৃৎপিণ্ড ছাড়া শরীর চলতে পারেনা। কিন্তু ব্যস্ততার বা অবহেলার কারণে শরীরের এ গুরুত্বপূর্ণ অংশটির যত্ন নেওয়ার কথা ভুলে যাই আমরা। বর্তমান সময়ে পরিবেশ যেভাবে দূষিত হচ্ছে, রোগের বয়স এর পার্থক্য কমে যাচ্ছে। যে কোনো বয়সের মানুষেরই হতে পারে যে কোনো রোগ। বিশেষ করে হার্টের রোগ। একটু সতর্ক হলেই কিন্তু এই সব অসুখ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। হার্টের অসুখের ঝুঁকি আপনার জীবনে একটু কমাতে চাইলে কিছু বিষয় অবশ্যই মানতে হবে।

ধূমপানের অভ্যাস থাকলে ছেড়ে দিন। ধূমপান না করলে আপনার হার্টের অসুখের ঝুঁকিও অনেক কমে যাবে। একটু ব্যায়াম করুন। সময় সুযোগ মতো নিয়ম করে করুন ব্যায়াম। হার্টের অসুখের ঝুঁকি কমবে। আপনার উচ্চতা এবং বয়সের সঙ্গে মানানসই এমন ওজন বজায় রাখুন।

হার্ট
ধূমপান বাদ দিতে না পারলে হৃদরোগ হবেই।

ব্যায়ামের উপকারিতা

১।  দেহে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয় ও কোষগুলোকে অক্সিজেন ব্যবহার করতে সহায়তা করে।

২।  হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে।

৩।  ব্লাডপ্রেশার বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

হার্ট
রক্তচাপ বেশি থাকলে দ্রুত কমানোর ব্যাবস্থা করুন।

৪। হার্ট ফেইলিওরের উপসর্গ কমায়।
৫। হার্টের পাম্প ক্ষমতা বাড়ায়।
৬। মাংসপেশি, অস্থিসন্ধি ও হাড়কে শক্তিশালী করে।
৭। রক্তনালিতে অতিরিক্ত চর্বি বা কোলেস্টেরল জমা হতে দেয় না।
৮। রক্তের সুগারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে ও দেহের কোষের ওপর ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

৯।  শরীরের বাড়তি ওজন কমায়। কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে সহজে ক্লান্ত হওয়া, হাঁপিয়ে যাওয়া ইত্যাদি কমে যায়।

হার্ট
ব্যায়াম শুধু হার্ট না সারা শরীরও ভালো রাখে।

১০। ঘুম স্বাভাবিক ও আরামদায়ক হয়, শারীরিক ও মানসিক অবসাদ দূর হয়।
দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা ও বিষণ্নতা কমে।

দৈনন্দিন ব্যায়াম এমন কিছু ব্যায়াম আছে, যা ঠিক ব্যায়ামের তালিকায় পড়ে না কিন্তু ব্যায়ামের মতোই শরীরে কাজ করে। এতে ব্যায়ামের মতোই উপকার পাওয়া যায়।
সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা, লিফটের ব্যবহার যথাসম্ভব কম করা।

হার্ট
ভুলে যান লিফট আর একসিলেটরের কথা।

অল্প দূরত্বে যেতে হেঁটে যাওয়া।
বাড়িঘর পরিষ্কারের কাজ নিজেই করা।

ভুল ধারণা


বয়স্কদের ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। বয়স্ক, প্রৌঢ় সবারই ব্যায়ামের প্রয়োজন আছে। তবে ব্যায়ামের সময় এত বেশি হাঁপিয়ে ওঠা যাবে না,  যাতে কথা বলতে কষ্ট না হয়।
হার্টের অসুখ হলে ব্যায়াম করা যাবে না। হার্টের সমস্যা হলেও ব্যায়াম করা যাবে। শুধু তাই নয়, ব্যায়াম করতেই হবে। তবে কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ অনুসারে ব্যায়ামের সময়, ধরন ঠিক করে নিতে হবে। এমন স্থানে ব্যায়াম করবেন, যেখানে পরিচিত অনেকেই আছেন।
ব্যায়ামের জন্য জিমে যেতেই হবে। ব্যায়াম করতে হলে জিম বা ব্যায়ামাগারে যেতে হবে এমন কোনো  কথা নেই। তবে কোনো হেলথ ক্লাব বা হাঁটার জন্য বন্ধু বা প্রতিবেশী সঙ্গে  থাকলে ব্যায়ামের নিয়মানুবর্তিতা বজায় থাকে। না হলে আলস্যের কারণে অনেক সময় ব্যায়াম বাদ পড়ে।
ব্যায়াম নিয়মিত করলে খাবার নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নেই। হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালি ভালো রাখতে হলে শুধু ব্যায়াম করলেই হবে না,  তেল ও  চর্বিজাতীয় খাবার,  গরু ও খাসির মাংস, মগজ, ডিমের কুসুম, বেশি মিষ্টি, আইসক্রিম, চকোলেট, ফাস্ট ফুড পরিহার করে ব্যালান্সড ডায়েট খেতে হবে।

কিছু খাবার আছে যা আমরা প্রতিদিন খাই কিন্তু এটা জানিনা যে এগুলো আসলে খাবার এর নামে বিষ।

এর ভেতর এক নাম্বার এ আছে কাঁচা লবণ, চিনি দুধ চা, ঘন ডাল। এই খাবার গুলো হার্টের জন্য নীরব ঘাতক।

কিছু সহজলভ্য ও পরিচিত খাবার আছে যেগুলো আমাদের রক্তনালী পরিষ্কার করে আমাদের হার্ট ভালো রাখে।

পানি

জল চিকিৎসা নামে একটি চিকিৎসা পদ্ধতি জাপানী মেডিকেল বোর্ড খুঁজে বের করেছে যা শতভাগ সুস্থতা প্রদানে সক্ষম বলে দাবি করেন তারা।
সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে চার গ্লাস পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। প্রথম দিকে এটা অনেক বেশি মনে হলেও কিছুদিন এভাবে পানি পান করলে বিষয়টি সহজেই আয়ত্ত হয়ে যায় এবং উপকারও টের পাওয়া যায়। পানি খাওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আর অন্য কিছু মুখে না দেওয়াই ভালো। এ উপায়ের কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং এটি পরিপাক ক্রিয়ার জন্য খুবই উপকারী। গবেষকেরা বলেছেন, সকালে খালি পেটে পানি কেবল পাকস্থলী পরিষ্কারই নয়,  শরীরের  বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি থেকেও বাঁচাতে সাহায্য করে।

শাকসবজি ও ফলমূল

 

হার্ট
শাকসবজি হবে আপনার প্রতিদিনের খাদ্য।

সবজি- শিম,  বরবটি, পিয়াজপাতা, পুঁইশাক, মানকচু, কচুরলতি, রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এগুলো রাখতে পারেন ওষুধ বিবেচনায়ও। মৌসুমি শাকসবজি কিনতে তেমন খরচও হয়না এবং এগুলোতে কীটনাশক কম থাকে।

পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার- প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ক্রমাগতভাবে যুক্ত করতে থাকুন পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণ। এ ক্ষেত্রে কলা এবং মিষ্টি আলুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা।

সবুজ বাহারি সালাদ- খাবারে যদি সবুজ সালাদ থাকে তাহলে আপনার রসনা তৃপ্তির পাশাপাশি হার্টও খুশি থাকবে। তাই বেশি বেশি যুক্ত থাকুন ভিনেগার, জলপাইয়ের তেল কিংবা লেবুর শরবতের সঙ্গে।

আপেল- হার্টের জন্য আপেলকে কার্যকারী ওষুধ বলা যায়। তা ছাড়া কোলেস্টেরলের মাত্রা কম রাখতে আপেল যথেষ্ট উপকারী। যারা প্রতিদিন দুটো আপেল খায়, তাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা অন্যদের থেকে কম থাকে।

হার্ট
প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না।

 

কিছু মজার তথ্য

ডিমের প্রতি ভালোবাসা- যাঁরা বলছেন, বেশি বেশি ডিম খেলে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ে তাঁদের জন্য দুঃসংবাদ। কেননা ব্রাজিলীয়ান গবেষকরা জানিয়েছেন, ডিমের কুসুমে থাকা ভিটামিন ই, বি-১২ এবং ফলেট করোনারি আর্টারিকে পরিষ্কার রাখে। তবে কেউ যদি দিনে চারটি করে ডিম খেতে থাকেন,  তবে তাঁকে এসব গবেষণার কথা ভুলে যেতে হবে।

হার্ট
ডিম খেলে অনেকক্ষণ ক্ষুধা লাগেনা।

অবসাদ কে দিন বিদায়- কোনোভাবেই কাজের ক্লান্তিকে আপনার ওপর চেপে বসতে দেবেন না। এ জন্য মাঝেমধ্যেই অবসাদ দূর করতে আপনার পছন্দকে গুরুত্ব দিন। সুইজারল্যান্ডের এক গবেষণা জানিয়েছে, অবসাদ দূর করার তৎপরতা হৃদযন্ত্রের সংকট কাটায় ৫৭ শতাংশের কাছাকাছি।

বালিশে মাথা রাখুন সময়মতো যাদের অনিদ্রা নামক রাজরোগ আছে,  তারা অন্যদের চেয়ে ৪৫ শতাংশ বেশি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ঘুমের জন্য প্রতিদিন বেশি বেশি শারীরিক পরিশ্রম করার আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

অধিক ঘুম কে বলুন “না”- এমনকি যারা বেশি বেশি ঘুমকাতুরে তাদেরও সাবধান করে দিয়েছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, দিনে ১০ ঘণ্টা কিংবা তার বেশি সময় যাদের ঘুমে কাটে তাদের স্থূলতার পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকে, কমতে থাকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। সুতরাং অধিক ঘুম কে না।

হার্ট
অধিক ঘুম হার্টকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

পান করুন গরুর দুধ গরুর দুধে থাকা লো ফ্যাট হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াবিরোধী কম ঘনত্বসম্পন্ন লিপ্রোপ্রোটিনের হার কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দুধে থাকা ক্যালসিয়াম শরীরে জমে থাকা পুরু চর্বির স্তর কাটতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু দুধচা খাবেন না। বিশেষ করে ভাত খাওয়ার পর দুধচা খাওয়াকে একদম নিষেধ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

হার্ট
সপ্তাহে তিন দিন ননি বিহীন দুধ খাওয়ার অভ্যাস করেন।

গান গাইতেই হবে- হৃৎপিণ্ড ভালো রাখতে গলা ছেড়ে গান গাইতেও উৎসাহিত করেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, দলবদ্ধ সংগীত কিংবা কারাওকে হাসিখুশি রাখে হৃদযন্ত্রকে।

হাসিখুশি থাকতে হবে- হাসিখুশি আর প্রাণবন্ত মুখাবয়ব শুধু স্টাইল বা ফ্যাশন আইকনই আপনাকে করে তুলবে না, বাড়িয়ে দেবে আপনার নীরোগ থাকার প্রবণতাও। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রাণবন্ত উপস্থিতি আপনার অবসাদ ও অভ্যন্তরীণ প্রদাহকে ছুটি দিয়ে দেবে এবং অলিন্দ ও নিলয়ের প্রকোষ্ঠকে সুঠাম রাখবে।

হার্ট
হাসি খুশি থাকলে কোন রোগই দেহে বাসা বাঁধতে পারবে না।

এখন সেই সারপ্রাইজ এর পালা।

এটা এমন একটা রেসিপি যা খুব সহজে ঘরে বসে তৈরি করা যায়। এটি একটি মহা ঔষধ। গবেষণায় দেখা গেছে যারা প্রতিদিন এটি পান করে তাদের হার্ট অ্যাটাক এর ঝুঁকি ৯৭% কম।

সারপ্রাইজ রেসিপি

উপাদান

১। আদা

২। রসুন

৩। আপেল সিডার ভিনেগার(সুপারসপ গুলোতে পাবেন)

৪। লেবু

৫। মধু

প্রণালী

মধু ছাড়া বাকি সবগুলো উপাদানের রস বের করতে হবে। আদা, রসুন, লেবু ও আপেল সিডার ভিনেগার সম পরিমাণ নিতে হবে। এখন একটি পাত্রে সব মিশিয়ে (মধু ছাড়া) চুলায় বসিয়ে দিন। মৃদু আঁচে হাল্কা করে জ্বাল দিন। ২০ মিনিট পর নামিয়ে ফেলুন। এটা কিছুটা হলুদাভ বর্ণ ধারণ করবে। চুলা থেকে নামিয়ে মধু মিশিয়ে নিন (যে পরিমাণ আদা, রসুন, লেবু ও আপেল সিডার ভিনেগার নিয়েছেন মধুও সেই পরিমাণ নিতে হবে)। তারপর ঠাণ্ডা করে সংরক্ষণ করুন ফ্রিজে। আপনি এটি ফ্রিজে ১-২ মাস সংরক্ষণ করতে পারবেন।

খাবারের নিয়ম

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১ টেবিল চামচ ও রাতে ঘুমানোর আগে ১ টেবিল চামচ করে খাবেন। আর ভালো ফলাফল পেতে দুপুরেও খেতে পারেন।

সবাই হৃদয়ের প্রতি যত্নবান হন। যত্নশীল নাহলে হার্ট অ্যাটাকের মত দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

 

 

 

 

 

 

 

দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বুঝতে চেষ্টা করুন

দাঁত

আমরা হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ি। ডাক্তারের কাছে যেতে হয় শরীর সুস্থ করতে। অনেকে আছে ৬ মাস পর পর স্বাস্থ্য চেক আপ করতে যান ডাক্তারের কাছে। কিন্তু আমরা আমাদের শরীরের একটি অঙ্গ নিয়ে কখনই চিন্তা করি না। সেটা হল দাঁত। যখন দাঁত থেকে রক্ত পড়ে অথবা ব্যথায় গাল ফুলে যায় তখন আমরা ডাক্তারের কাছে যাই। দাঁতের সমস্যা দূর করতে অনেকে বাসায় চেষ্টা করেন। শরীরের এই বিশেষ অঙ্গটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগে অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কি করণীয় তা নিয়ে কথা হবে।

আয়নার সামনে গিয়ে ফোনের ফ্ল্যাশলাইটটি অন করুন। এখন মুখ হা করে লাইট দিয়ে ভালো করে দুই পাটি দাঁত দেখুন। নিচে কয়েকটি সমস্যার কথা বলা হল মিলিয়ে দেখুন। সাথে পাবেন সমস্যার সমাধান।

১) আপনার দাঁতের গোঁড়ায় সাদা, হলুদ, কালো অথবা খয়েরী রঙের আবরণ দেখেন তাহলে বুঝতে হবে আপনার দাঁতে প্লাগ হয়েছে। যা আপনার মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে।

দাঁত
প্লাগের কারণে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হয়।

যদি প্লাগ অনেক বেশী হয় তাহলে আপনাকে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। সে ক্ষেত্রে ডেন্টিস্ট আপনাকে স্কেলিং করতে বলতে পারে। স্কেলিং করতে বেশী খরচ হয় না।

তবে এটা আপনার দাঁতের গঠন ও প্লাগের পরিমাণের উপর নির্ভর করে। আর যদি প্লাগের পরিমাণ কম হয় তাহলে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি অবলম্বন প্লাগ সরাতে পারেন। তবে ডাক্তারের কাছে যাওয়াই বেশী ভালো। এখন আসুন জেনে নেই ঘরে বসে কীভাবে প্লাগ দূর করবেন।

প্লাগ দূর করার ঘরোয়া পদ্ধতি- পরিমাণ মত বেকিং সোডা, লবণ আর প্রতিদিন ব্যাবহারকৃত পেস্ট একসাথে মিশিয়ে তা ব্রাশ দিয়ে দাঁতের প্রতিটি মাড়িতে ভালো করে মাজতে হবে।

গোঁড়া গুলোতে ভালো করে মাজতে হবে। ৩-৪ দিন পর পর এভাবে মাজলে দাঁতের প্লাগ দূর হয়ে যাবে।

২) আপনার দাঁতে যদি কালো কালো দাগ দেখেন এবং তা যদি ব্রাশ করার পরেও না যায় তাহলে বুঝতে হবে সেই জায়গায় ক্ষয় হচ্ছে। যাকে ক্যারিজ বলে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে দাঁতের ক্ষয় বা ক্যারিজ রোধ করা গেলেও তা আর আগের মত সারানো যায় না।

দাঁত
দাঁতের ক্ষয় একসময় দাঁতের মৃত্যু ডেকে আনে।

কিন্তু সচেতন আপনি যদি সচেতন না হন তাহলে দাঁতের ক্ষয় হতে হতে তা অনেক ভেতরে চলে যায়। তখন দাঁতের রুট ক্যানেল করতে হয়। যা একদিকে যেমন ব্যয়বহুল অন্যদিকে অনেক কষ্টকর। দাঁতের এই কালো দাগ গুলো দেখলেই অতিসত্বর ডেন্টিস্ট এর কাছে যান। সঠিক সময় গেলে হয়তো শুধু ফিলিং করলেই দাঁতটা ভালো হয়ে যেতে পারে।

ফিলিং হচ্ছে দাঁত ক্ষয় অথবা ভেঙ্গে গেলে দাঁতের সমতা আনানো। এই ক্ষেত্রে গাটা পার্চা দিয়ে দাঁতের ক্ষয় হয়ে যাওয়া অংশ ফিলিং করে দেয়। আর রুট ক্যানেল এ দাঁতের মধ্যে থাকা নষ্ট হয়ে যাওয়া পাল্পকে বের করে আনা হয় বিশেষ রকমের কিছু ইনস্ট্রুমেন্ট দিয়ে। এটি ব্রচ নামে পরিচিত।

এরপর দাঁতের পাল্প চেম্বার ও দাঁতের রুটের ভেতরে থাকা ক্যানাল বা ক্যানালগুলো পরিষ্কার করতে হয় রিমার, ফাইল- এগুলোর সাহায্যে। এরপর পরিষ্কার করা ও জীবাণুমুক্ত করা রুট ক্যানাল সিল করে দেওয়া হয় গাটা পার্চা দিয়ে। আর সঙ্গে সিলার হিসেবে ব্যবহার করা হয় বহু ধরনের সিলার। যেমন ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড সমৃদ্ধ সিলার, রেসিন বেসড এএইচ, জিংক অক্সাইড ইউজেনল ইত্যাদি।

এমনভাবে সিল করতে হয়, যাঁতে পরে দাঁতের বাইরে থেকে বা ভেতর থেকে কিছুতেই জীবাণু রুট ক্যানালে ঢুকতে না পারে। এরপর ফিলিং দিয়ে দাঁতের গর্ত ভরাট করে দেওয়া হয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রুট ক্যানাল করা দাঁতটিতে কৃত্রিম ক্রাউন বা ক্যাপ বসাতে হয়।

৩) আপনার দাঁত অনেক উঁচুনিচু হলে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা ময়লা আপনার চোখে পড়বে না। সেই ক্ষেত্রে ভালো মানের ব্রাশ ব্যাবহার করতে হবে এবং প্রতিবার খাবারের পরে কুলি করতে হবে। ডাক্তারের কাছে গিয়ে দাঁত সমান্তরাল করতে পারেন অথবা অতিরিক্ত দাঁত ফেলে দিতে পারেন।

দাঁত
৬ মাস পর পর ডেন্টিস্ট এর কাছে যাওয়া উচিৎ।

দাঁত রক্ষা করার কিছু পদ্ধতি জেনে নিন-

ক) প্রতিদিন সকালে খাবারের পর ও রাতে খাওয়ার পর (ঘুমানোর আগে) ভালোভাবে দাঁত ব্রাশ করা উচিত।

খ) খাবার পানি ফুটিয়ে পান করা উচিত। ফুটানো সম্ভব নাহলে নলকূপের পানি সংগ্রহ করুন।

গ) ব্রাশের সমান্তরাল স্টিকের পরিবর্তে বাঁকা হওয়া দরকার। এতের মুখের ভেতরের দাঁতগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার হবে।

ঘ) দাঁতের ফাঁকের ময়লাগুলো দীর্ঘদিন ধরে জমে ক্ষুদ্র পাথর কণায় পরিণত হয়। তখন দাঁতের উপরিভাগে কালো দাগ পড়ে। এটা ভীষণ দৃষ্টিকটু দেখায়। এ জন্য প্রতি ছয় মাস পরপর দাঁতের স্কেলিং করানো উচিত। বয়স ৪০-এর উর্ধ্বে হলে এক বছর পরপর করাতে হবে। নতুবা স্কেলিংয়ে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক যন্ত্রের ফলে দাঁতের গোড়া দূর্বল হয়ে যাবে। কারণ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দাঁতের মাড়িও ক্ষয় হতে থাকে।

ঙ) অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম পানীয় দাঁতের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। দুটো পানীয় একই সঙ্গে গ্রহণ করা অনুচিত। খুব গরম চা বা কফি পানের অন্তত ১ ঘন্টা পরে স্বাভাবিক পানি পান করুন।

চ) গ্যাসট্রিকের সমস্যা থাকলে মুখে দুর্গন্ধ হয়। ফলে দাঁতের হলুদাভ আবরণ আসে। নিয়মিত গ্যাসট্রিকে ঠোঁটের দুই কোণে কালো হয়ে যায়। এ জন্য প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুন।

ছ) পান, সুপারি, জর্দা বা গুল পরিহার করুন। এসবে আসক্তি থাকলে খাবার পরে দাঁত ব্রাশ করে ফেলুন। পানে চুনের পরিমাণ যত কম হয় ততই ভালো। মাত্রাতিরিক্ত চুন দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে।

জ) প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটা ভিটামিন-সি ট্যাবলেট খান।

ঝ) অনেকেই বিভিন্ন গাছের দাঁতন ব্যবহার করে থাকেন। এতে মনোযোগী হতে হবে যেন দাঁতনের আঁশ দাঁতের দাঁতের গোড়ায় আটকে না থাকে। টুথপিক ব্যবহারে মাড়িতে ফুটো হলে ইনফেকশন হয়। তাই সতর্কতার সঙ্গে টুথপিক ব্যবহার করুন।

ঞ) প্রতি ৪-৫ মাস অন্তর ব্রাশ পরিবর্তন করুন।

ট) জিকজ্যাক পদ্ধতিতে (উপরে, নিচে, ভেতরে, বাইরে) দাঁত পরিষ্কার করতে হবে।

দাঁত
সুস্থ দাঁত আপনার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে।

ঠ) বাঁধানো দাঁত বা কৃত্রিম দাঁতের প্রতি বিশেষ যত্ন নিন। প্রায়ই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেগুলো খুলে পরিষ্কার করুন।

বছরে অন্তত একবার পুরো দেহের চেক আপ করান।

এতে লুকায়িত কোন রোগ জীবাণু থাকলে ধরা পড়বে। দেহের প্রতিটি অঙ্গ পরস্পরের উপর নির্ভরশীল।

তাই সুস্থ্য দাঁত ও সুস্থ্য দেহের জন্য পুরো দেহ রোগমুক্ত থাকাটা ভীষণ জরুরী।

সঙ্গীত শুধু মনের খোরাক নয়, কেন? জেনে নিন।

সঙ্গীত

যদি আপনি গান শুনতে ভালোবাসেন তাহলে আপনি মানসিক এবং শারীরিকভাবে ভালো আছেন। চার্লস ডারউইন বলেছিলেন, “যদি আমি আবার জীবিত থাকি, তবে আমি কিছু কবিতা পড়তে এবং কমপক্ষে একবার প্রতি সপ্তাহে কিছু সঙ্গীত শুনতে চাইতাম”। অ্যালবার্ট আইনস্টাইন ঘোষণা করেছিলেন, “যদি আমি একজন পদার্থবিদ না হতাম, আমি সম্ভবত একটি সুরকার হতাম”। জিমি হেন্ডরিক্স বলেছেন সঙ্গীত তার ধর্ম। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে, সংগীত শোনার ফলে আপনার মানসিক অবস্থার উন্নতি সাধন হয়। এছাড়া শারীরিক স্বাস্থ্যেরও বিস্ময়কর পরিবর্তন দেখা যায়। আপনি যদি বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখেন তাহলে আপনার আইকিউ বাড়বে। আরও কিছু উপকার করে সঙ্গীত।

সংগীত আপনাকে খুশী রাখে

সঙ্গীত
গান শুনলে মন প্রফুল্ল থাকে

একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে আপনি যখন গান শুনবেন আপনার মস্তিষ্কটি ডোপামাইন নির্গত করে যা সুখের অনুভূতি সৃষ্টি করে। আপনার মানসিক বিকাশে যা অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। সুতরাং দৈনিক ১৫ মিনিট গান শোনার অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।

সংগীত আপনার কাজের দক্ষতা বাড়িয়ে দেয়

সঙ্গীত
মানসিক দক্ষতা বাড়ায়

কেউ যদি আমার সংগীত থেকে কিছু নেয় তা অবশ্যই প্রেরণা হবে। সেটা হল কাজ করে যাওয়া যতক্ষণ সম্ভব এবং পেছনে ফিরে তাকানো যাবে না” –এমিনেম।নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে গান শুনুন। আপনার কাজকে গতিময় করতে গানের বিকল্প আর কিছু নেই। কিছু দৌড়বিদের উপর গবেষণা করে দেখা গেছে যারা নিজের পছন্দের গান শুনে দৌড়েছেন তারা নিজেদের আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন।

মানসিক চাপ কমায় এবং স্বাস্থ্যের উন্নতি করে

সংগীত শোনার ফলে আপনার মানসিক ধকল কমে যায়। শরীরের স্ট্রেস হরমোন কর্টিসোলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। মানসিক চাপ আমাদের ৬০% রোগের জন্য দায়ী। এক গবেষণায় দেখানো হয়েছে যারা সক্রিয় ভাবে গান শোনেন তাদের ইমিউন সিস্টেম আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে যায়। শান্ত ও সুস্থ থাকার জন্য আপনার কক্ষে গান ছেড়ে দিন এবং আরও ভালো ফলাফল পেতে তালে তাল মিলিয়ে একটু পা দোলানোর চেষ্টা করুন।

অনিদ্রা দূর করে

৩০% এরও বেশী আমেরিকান অনিদ্রায় ভোগেন। যেই শিক্ষার্থীরা ঘুমানোর আগে গান শোনেন তারা অনেক বেশী সক্রিয় হন যারা তেমন কিছুই করেন না তাদের থেকে। সংগীত অনিদ্রার সমস্যা দূর করতে পারে। যদি আপনার ঘুমাতে সমস্যা হয় আপনি ঘুমানোর আগে গান শুনুন, ভালো ফলাফল পাবেন অবশ্যই।

কম খেতে সাহায্য করে

জর্জিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাটি দেখিয়েছে যে, আলো এবং সঙ্গীতকে নরম করে তোলার সময় লোকেরা কম ক্যালোরি খায়। আপনি যদি আপনার খাদ্যগ্রহণ নিয়ন্ত্রণে আনতে চান তাহলে খাবারের সময় গান শুনুন।

সংগীত আপনার ব্যথা দূর করে হোক সেটা শারীরিক অথবা মানসিক

বব মারলে-এর একটা কথা আছে-

“সংগীতের একটি ভালো দিক হল, যখন এটি আঘাত করবে আপনি কোন ব্যথা পাবেন না।” ফিলাডেলফিয়ার ড্রেক্সেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে যে ক্যান্সারের রোগীদের মধ্যে প্রাক-রেকর্ডিং সঙ্গীত মানসিক চাপের চেয়েও ব্যথা কমিয়ে দেয়। অন্য গবেষণা দেখিয়েছে যে, গান নিবিড় পরিচর্যা রোগীদের এবং জেরিয়াটিক কেয়ার রোগীদের মধ্যে ব্যথা হ্রাস করতে পারে। কিন্তু নির্বাচিতো ক্লাসিক গান প্রয়োজন। ধ্যানমগ্ন সঙ্গীত বা রোগীর পছন্দের সংগীত।

বব মার্লি এই বিষয়ে সঠিক ছিলেন, “আপনার ব্যথা দূর করার জন্য আপনার ভালো লেগেছে এমন গান শুনুন”।

স্ট্রোক করেছেন এমন রোগীদের জন্য গান

সঙ্গীত
স্ট্রোক এড়াতে গান শুনুন

হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, স্ট্রোক রোগীদের যারা দিনে দুই ঘন্টা নিজেদেরকে বেছে নিয়েছে সঙ্গীত শোনার জন্য, তারা মস্তিষ্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি লাভ করেছে। গান শোনার কারণে তাদের শ্রবণ ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। স্ট্রোক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 5 নম্বর মৃত্যুর কারণ। আপনি যদি স্ট্রোক ভোগ করেন এমন কেউকে জানেন তাহলে অতিশীঘ্র তাকে তার পছন্দের গান গুলো শুনতে বলুন। আশানুরূপ ফোল পাবে। কেউ যদি গান ভালোবাসে তাহলে সে অপরাধ থেকে দূরে থাকে। বেনিংটন এর গানের লাইন দিয়ে শেষ করছি-

“In this farewell

There’s no blood

There’s no alibi

‘Cause I’ve drawn regret

From the truth

Of a thousand lies”

 

 

 

 

 

 

অনিয়মিত ঘুম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

ঘুম

সারা রাত পেঁচার মতো জেগে থেকে কর্মস্থলে এসে ঘুমিয়ে পরছেন। দিনের বেলা রাতের ঘুম পুষিয়ে নিয়ে ভাবছেন, ঘুম তো ঘুম সে দিনে হোক কিংবা রাতে। যাদের ওজন বেশী তারা ভাবেন রাতে কম ঘুমালে হয়তো ওজন কমে যায়। কিন্তু এটা অনেক বড় একটা ভুল। দিনের বেলার ঘুম আপানার স্বাস্থ্য খারাপ করে দেয়। অনিয়মিত ভাবে ঘুমানোর কারণে শরীরের ভেতরেও সৃষ্টি হয় অনিয়ম। বাসা বাধে নানান দুরারোগ্য ব্যাধি। সুতরাং সময় মতো পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে প্রতিদিন। অনেকে বলে রাতে ঘুম আসে না তাদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন পদ্ধতি।

ঘুম না আসার কারণ

অনেক রাত করে খাওয়া

অনেকে আছেন দেরীতে রাতের খাবার খান। দেখা যায় ঘুমানোর আধা ঘণ্টা আগে খেয়ে শুয়ে পরেন। এই কারণে একদিকে আপানার হজম শক্তি কমে যায় অন্য দিকে আপনার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। অবশ্যই ঘুমানোর ৩-৪ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন।

রাত জেগে বই পড়া

বই পড়া অনেক মানুষের শখ। বই পড়া অবশ্যই একটি ভালো কাজ কিন্তু এই ভালো কাজ খুব বেশী রাত জেগে না করাই ভালো। ঘুমের আগে বই পড়ার কারণে আপনার মাথায় বই সম্পর্কিত বিভিন্ন কথা মাথায় আসে এবং তা আপনাকে ঘুমাতে দেয় না। রাতে ঘুমানোর আগে বই পড়া যাবে না। রাত জেগে বই না পড়ে, দিনের বেলায় অথবা সন্ধ্যা বেলা বই পড়ুন।

ঘুমানোর আগে ধূমপান করা

ঘুমানোর আগে ধূমপান করলে নাকি ঘুম আসে। এমন ভুল ধারণা নিয়ে অনেকেই রাতে শোয়ার আগে ধূমপান করেন। কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না সিগারেটে থাকা নিকোটিন আপানার নার্ভগুলোকে চাঙ্গা করে দেয় ফলে ঘুম আসে না।

অধিক রাত পর্যন্ত মোবাইল অথবা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকা

মোবাইল, ল্যাপটপ তো আমাদের নিত্যদিনের বন্ধু। এদের ছাড়া আমাদের চলে না। রাতে ঘুমানোর সময় বেশিরভাগ মানুষের হাতে ফোন থাকে। ফোন নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে ঘুমিয়ে পরব এই ভাবনা নিয়ে থাকে তারা। কিন্তু এই জিনিসটা তাদের আরও বেশী ক্ষতি করে ফেলে। তারা এই জিনসটা বুঝতে পারেনা।

রাতে চা খাওয়া

সন্ধ্যার পর কোন ধরণের চা, কফি খাবেন না। এতে থাকা উপাদন গুলো আপনাকে সজীব করে। রাতে আপনার সজীবতার দরকার নেই, দরকার একটু শান্তির ঘুম।

অনিদ্রা আমাদের কি কি ক্ষতি করে?

মানসিক রোগ

যারা রাত জেগে থাকে অথবা রাতে ঠিক মতো ঘুমায় না তাদের বিভিন্ন ধরণের মানসিক রোগ দেখা যায়। যেমনঃ বিষণ্ণতা, উদ্বিগ্নতা, অস্থিরতা, হেলুসিনেসন ইত্যাদি। এই কারণে মানসিক সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে ঘুমের ওষুধ খেতে বলে।

স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া

সারাদিন আমরা নানান কিছু শিখি। সেগুলো আমাদের ব্রেইন স্মৃতি হিসেবে জমা রাখে। যখন আমরা কম ঘুমাই তখন আমাদের ব্রেইন এই কাজ করতে অক্ষম হয়ে যায়। এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যারা পর্যাপ্ত ঘুমায় তারা রাত জেগে থাকা মানুষের তুলনায় অধিক স্মৃতিশক্তির অধিকারী।

সতর্ক থাকার ক্ষমতা হারায়

এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কেউ যদি রাতে দেড় ঘণ্টা কম ঘুমায় পরের দিন তার সতর্ক থাকার ৩২% সক্ষমতা কমে যায়। এমন অসতর্কতায় মানুষ দুর্ঘটনা করে বসে।

আত্মহত্যার প্রবণতা

যেসকল মানসিক রোগীরা আত্মহত্যা করে তাদের বেশীরভাগ অনিদ্রায় ভুগতেন। গবেষকরা প্রমাণ করেছেন যেই কিশোর-কিশোরীরা ৫ ঘণ্টা ঘুমায় তাদের বিষণ্ণতায় ভোগার সম্ভবনা ৭১%।

ঘুম
পর্যাপ্ত ঘুম আপনাকে রাখবে সজীব

এছাড়াও যেই সমস্যাগুলো হয়

হার্টের সমস্যা

ডায়াবেটিস

ওজন বৃদ্ধি

দেহের বৃদ্ধি কমে যায়

ব্রেস্ট ও ওভারি ক্যান্সার

ক্ষত সারানো

মাথাব্যথা

চুল পাকে

ব্রণ উঠে

 

ঘুম ভালো হওয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি

ঘুমানোর আগে ব্যায়াম করুন

গরম দুধ খান

দুশ্চিন্তা করবেন না

উষ্ণ পানিতে গোসল

ঘুমের আগে ইতিবাচক চিন্তা

ঘরের ভালো আবহাওয়া

ধীরলয়ে সঙ্গীত

ঘড়ির শব্দ বন্ধ করুন

ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠুন

সত্যি কি প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে উচ্চতা বাড়ানো যায়?

উচ্চতা বৃদ্ধি

আসলেই কি সত্যি মানুষ খাদ্যাভ্যাস এবং কিছু শারীরিক পরিশ্রম দ্বারা উচ্চতা বৃদ্ধি করতে পারে?

জিনতত্ত্বের উপর বিশ্বাস করে আমরা বেশিরভাগ মানুষ ভেবে থাকি যে আমদের উচ্চতা বৃদ্ধি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে আমাদের বাবা মায়ের জিন এর উপর। অর্থাৎ আমরা জিনগত ভাবে ঠিক যতটুকু লম্বা হতে পারবো, তার থেকে বেড়ে উঠা হয়তো সম্বভ নয়। তবে বৈজ্ঞানিক ভাবে  প্রমানিত যে আমাদের বৃদ্ধির ৮০% নির্ভর করে আমাদের বাবা মায়ের জিন উপর। আর বাকি ২০% ই  আমাদের উপর বা অন্যান্য কিছু কৌশল বা পরিবেশের উপর নির্ভর করে। তাহলে দাঁড়ায় যে যদি একজন ব্যক্তির উচ্চতা হয় ৫ফুট তাহলে তার উচ্চতা ২০% করলে হয় ১ফুট আর এর থেকে পরিবেশ গত ভাবে ৬ ইঞ্চি ধরলেও আরও ৬ ইঞ্চি নিজে বাড়ার জন্য থেকে যায়।

প্রাকৃতিক উপায়ে কীভাবে উচ্চতা বৃদ্ধি করা যায়?

খাদ্যাভ্যাস

পর্যাপ্ত পরিমাণ চর্বিহীন প্রোটিন খাবার খান। চর্বিহীন প্রোটিন খাবার বলতে মুরগীর মাংস, মাছ, দুধ এই ধরনের খাবার খান। এগুলো আপনার পেশীর বৃদ্ধি এবং হাড়ের সঠিক বিকাশে সাহায্য করবে। ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খান। দুধ, দই, সবুজ শাকসবজীতে আপনি ক্যালসিয়াম পাবেন। প্রচুর পরিমাণে জিংক খেতে হবে। জিংক পাওয়া যায় কুমড়া, ওয়েস্টার, গম ও চিনাবাদামে। দুপুরে খাবার সময়ে অর্ধেকটা আভাকাডো দেহে বিভিন্ন পুষ্টি সরবরাহ করে থাকে। মটরশুটি,  ছোলা,  মসূর এই ধরনের খাবারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন,  ফাইবার,  অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, ভিটামিন বি এবং আয়রন রয়েছে যেগুলো শরীরের কোষ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ফলে লম্বা হতেও সাহায্য করে।

কোন ধরনের মাদক গ্রহণ করলে আপনার উচ্চতা বৃদ্ধি কমে যাবে।

শরীর চর্চা ও যোগ ব্যায়াম

প্রথমে দেয়ালের সাথে পিঠ লাগিয়ে দাঁড়ান। এভাবে দাড়িয়ে  নিজেকে দেয়ালের সমান্তরালে সোজা রাখবার চেষ্টা করুন। সেই সাথে চেষ্টা করতে  হবে,  আপনার শরীরের পেছন দিকটির পায়ের গোড়ালি থেকে শুরু করে মাথা পর্যন্ত যেন দেয়াল স্পর্শ করতে পারে। এভাবে দেয়াল স্পর্শ করে সোজা হয়ে স্ট্রেচ করার চেষ্টা করুন। এভারে ৮ থেকে ১০ বার করুন ব্যায়ামটি।

দড়ি লাফ দিবেন ২০ টি করে প্রতিদিন, আস্তে আস্তে দড়ি লাফের পরিমাণ বাড়াবেন।

রিং এ ঝুলুন যদি পারেন, সাইকেলিং করলে খুব জলদি উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। আপনি দৈনিক সাইকেল চালিয়ে ২-৩ ইঞ্চি বাড়াতে পারবেন।

সাঁতার হল উচ্চতা বৃদ্ধির আদর্শ ব্যায়াম, কেউ যদি দৈনিক সাঁতার কাটে তার উচ্চতা বৃদ্ধি সাধারণের এর চেয়ে ১০ গুণ বেড়ে যায়।

এভাবে সপ্তাহে ৩ দিন করে নিয়মিত ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। এগুলো মূলত স্ট্রেচিং ব্যায়াম যা আপনার শরীরের আড়ষ্টতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। শরীরের আড়ষ্টভাব কেটে গেলে উচ্চতা বাড়তে শুরু করে।

কিছু যোগ ব্যায়াম

ভুজঙ্গাসন (কোবরা পোজ)

উচ্চতা বৃদ্ধি
ভুজঙ্গাসন (কোবরা পোজ  )

উপুড় হয়ে শুয়ে সামনে মাথা তুলে যে ভুজঙ্গাসন করা হয় তাতে বুক, পেট ও কাঁধের পেশীতে টান পড়ে। এই আসন লম্বা হতে সাহায্য করে।

তাড়াসন (ট্রি পোজ)

উচ্চতা বৃদ্ধি
এই যোগব্যায়ামটি আপনাকে উচ্চতা বাড়াতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে

গাছের মতো ভঙ্গি মেরুদন্ডকে সোজা করে, শরীরকে টান টান করে। এই আসন লম্বা হবার জন্য খুব উপযোগী।

নটরাজাসন (শুয়ে শরীরকে মোড়া)

উচ্চতা বৃদ্ধি
নটরাজাসন

শুয়ে পড়ে শরীরকে মোচড় দেওয়া এই আসন পা, পায়ের পেশী, হাত, কবজি, মেরুদন্ড সব কিছুকে টানটান করে, বুকের পেশীকেও লম্বা করে টেনে ধরে, এই আসনও শরীরকে লম্বা করে।

সূর্য নমস্কার (সান স্যালুটেসন)

উচ্চতা বৃদ্ধি
সূর্যাসন উচ্চতা বাড়ানোর জন্য অনেক উপকারী একটি যোগাসন

সূর্য নমস্কার আসন খুব তাড়াতাড়ি শরীরের সব সন্ধিস্হলগুলিকে জড়তা মুক্ত করে, সহজ করে, পেটের ভেতরের যন্ত্রপাতিকে একবার টেনে ধরে, একবার ছেড়ে দিয়ে  প্রসারিত ও সঙ্কুচিত করে সবল করে তোলে, প্রাণবন্ত করে তোলে। বার বার সামনে ও পিছনে ঝোঁকার ফলে পিঠ ও মেরুদন্ড সুস্থ থাকে, আরো বেশী স্বাস্হ্যবান হয়ে ওঠে। এই ব্যায়ামে শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গে টান পড়ে বলে এটি শরীরকে লম্বা করে। এই ব্যায়াম শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।

ঘুম

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান প্রতিদিন। ঘুমের সময় শরীর বাড়ে। তাই পর্যাপ্ত ঘুমালে শরীর লম্বা হওয়ার মতো সময় পায়। কমপক্ষে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমান যদি আপনার বয়স ২০ এর কম হয়। শরীরের হরমোন গভীর ঘুমের সময় উৎপন্ন হয়। পিটুইটারী গ্লান্ড থেকে গ্রোথ হরমোন বের হতে সাহায্য করে।

সব তো করলাম তারপরও ফল পাইনা কেন?

খেয়াল রাখবেন যে অতিরিক্ত কোন কিছুই ভাল নয়। মাত্রাতিরিক্ত ব্যায়াম করলে দ্রুত উচ্চতা বাড়বে তা যদি ভেবে থাকেন তবে ভুল করবেন। বরং অতিরিক্ত ব্যায়াম অনেক সময় উচ্চতার বৃদ্ধি রোধ করে দেয়। তবে শুধু  ব্যায়াম করলেই হবেনা। সুষম খাদ্যও গ্রহন করতে হবে। সেই সাথে জীবনযাত্রায় আনতে হবে পজিটিভ মনোভাব।