চির সবুজ থাকতে চান? এই খাবার গুলো তাহলে আপনার জন্য।

চির

চেহারার লাবণ্যতা ধরে রাখার জন্য আপনি হয়তো বিউটি সেলুনের শরণাপন্ন হন। অনেক ধরণের বিউটি প্রডাক্টস কেনেন এবং নিজের চেহারায় প্রয়োগ করেন। কিন্তু উপকার পাচ্ছেন না। পেলেও তা ক্ষণস্থায়ী।

যদি নিজের যৌবন ধরে রাখতে চান আর বেঁচে থাকতে চান সুন্দর ত্বক নিয়ে তাহলে আপনাকে খেতে হবে কিছু খাবার যা আপনাকে ভেতর থেকে সুন্দর করে তুলবে।

চির যৌবন চাইলে খেতে হবে ডিম

চির

ডিম সিদ্ধ হোক কিংবা ভাজি, সব ভাবেই ডিম শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার। ডিমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-৫ ও বি-৬ আছে যা শরীরের হরমোনের কার্যক্রম ঠিক রাখে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

প্রতিদিনের সকালের নাস্তায় একটি করে ডিম রাখুন। ডিম খেলে অনেকক্ষণ ক্ষুধা লাগে না।

এতে আপনার শরীর শক্তি পাবে এবং যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

লাবণ্যতা ধরে রাখে মধু

চির

মধুর রয়েছে অসংখ্য উপকারিতা।

সকালে খালি পেটে জিহ্বা দ্বারা মধু চেটে খেলে কফ দূর হয়, পাকস্থলী পরিস্কার হয়, দেহের অতিরিক্ত দূষিত পদার্থ বের হয়, গ্রন্থ খুলে দেয়, পাকস্থলী স্বাভাবিক হয়ে যায়, মস্তিস্ক শক্তি লাভ করে, স্বাভাবিক তাপে শক্তি আসে, জ্যোতি শক্তি বৃদ্ধি হয়, মূত্রথলির পাথর দূর করে, প্রস্রাব স্বাভাবিক হয়, গ্যাস নির্গত হয় ও ক্ষুধা বাড়ায়।

প্যারালাইসিসের জন্যও মধু উপকারী। মধু হল হাজারো রকম ফুল ও দানার নির্যাস। দুনিয়ার সকল গবেষকগণ একত্রিত হয়ে এমন নির্যাস প্রস্তুত করতে চাইলেও কখনো বানাতে পারবে কিনা এ বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে দুধ

যৌবন ধরে রাখতে দুধের ভূমিকা অতুলনীয়। বিশেষ করে শরীরের পেশী বৃদ্ধিতে দুধের তুলনা হয়না। চেহারায় লাল বর্ণ তৈরী করে, দেহের অপ্রয়োজনীয় দূষিত পদার্থ বের করে দেয় এবং মস্তিস্ক শক্তিশালী করে।

বাদাম ও বিভিন্ন বীজ

চির

কুমড়ার বীজ, সূর্যমূখীর বীজ, চিনা বাদাম, কাজু বাদাম, পেস্তা বাদাম ইত্যাদিতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে এবং এগুলো শরীরে উপকারী কোলেস্টেরল তৈরী করে।

শরীরের হরমোনগুলো ঠিক মতো কাজ করার জন্য এই কোলেস্টেরল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই প্রতিদিন অল্প করে হলেও বাদাম খাওয়ার চেষ্টা করুন।

এতে আপনার শারীরিক ও মানসিক ভালো স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। এই বীজগুলো মস্তিস্ক বিকাশে সাহায্য করে।

চিনি ছাড়া চা

চির

প্রতিদিন দুধ-চিনি ছাড়া চা পান করলে শরীরে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়।

চা ব্রেইন কে সচল করে, রক্ত চলাচল বাড়ায় ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।

প্রতিদিন অন্তত তিন থেকে ৫ কাপ পর্যন্ত চিনি ছাড়া সবুজ চা বা রঙ চা খেলে শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং শরীরের ওজন কিছুটা হলেও কমে যায়।

রঙিন ফল

চির

শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চাইলে প্রতিদিন খাবার তালিকায় রঙিন ফলমূল রাখুন।

আঙ্গুর, কলা, কমলা লেবু, তরমুজ, পিচ ইত্যাদি ফল যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপকারী।

ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাসের মেডিকেল টিমের গবেষণা অনুযায়ী একজন পুরুষের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় অন্তত ২০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকলে তার স্পার্মের কোয়ালিটি উন্নত হয়।

আবার টেক্সাসের A&M ইউনিভার্সিটির মতে তরমুজ শরীরে শারীরিক উদ্দীপনা বৃদ্ধি করে। শরীরে আনে কর্ম উদ্দীপনা।

রসুন

এতে রোগ নিরাময় হয়। রসুনে অনেক উপকারিতা রয়েছে।

রসুন ফোড়া ভালো করে, ঋতুস্রাব চালু করে, প্রস্রাব স্বাভাবিক করে, পাকস্থলী থেকে গ্যাস নির্গত করে, নিস্তেজ লোকদের মধ্যে শারীরিক ক্ষমতা সৃষ্টি করে, পাকস্থলীর ব্যাথা উপকার সাধন করে।

এ্যাজমা এবং কাঁপুনি রোগেও উপকার সাধন করে। তবে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অধিক রসুন ব্যবহার ক্ষতিকর।

এই রসুনকে আবে হায়াত বলেও আখ্যা দেয়া হয়।

তৈলাক্ত মাছ

চির

তৈলাক্ত মাছে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যা সুস্থ শারীরিক জীবনের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সামুদ্রিক মাছেও প্রচুর পরিমাণে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড থাকে।

ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড DHA O EPA শরীরে ডোপামিন বাড়িয়ে দেয় এবং মস্তিষ্কে উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে।

তৈলাক্ত ও সামুদ্রিক মাছ খেলে শরীরের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং গ্রোথ হরমোনের নিঃসরণ হয়। ফলে শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

পালং শাক ও অন্যান্য সবজি

পালং শাকে আছে প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম। ম্যাগনেসিয়াম শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে।

জাপানের গবেষকদের মতে শরীরে রক্ত চলাচল বাড়লে শারীরিক উদ্দীপনাও বাড়ে।

পালং শাক ও অন্যান্য বিভিন্ন রকম শাক, ব্রকলি, লেটুস, ফুলকপি, বাঁধাকপি এগুলোতে রয়েছে ফলেট, ভিটামিন বি সহ অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

এগুলো সুস্থ শারীরিক জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিছু উপাদান।

জিরা

জিরাতে থাকা আয়রন রক্তস্রোতে অক্সিজেন বহনকারী হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।

এছাড়া জিরা পানি আয়রনের অভাবজনিত রক্তশূন্যতার জন্য বেশ উপকারী।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের বেশি করে জিরা খাওয়া দরকার।

মসলাটি শুধু তাদের ডায়েটকে নিয়ন্ত্রণে রাখে না, একইসাথে রক্তে চিনির পরিমাণও কমিয়ে দেয়।

লাল লাল ফুসকুড়ি, ব্রণ ইত্যাদি শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দেওয়ার জন্য হয়।

বিপাক ক্রিয়ার মাধ্যমে শরীর থেকে দূষিত পদার্থগুলো বের হয়ে গেলে ত্বকের উপর এর প্রভাব কমে আসে।

জিরা পাচনতন্ত্রের যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে ত্বকের সুরক্ষাও দিয়ে থাকে।

চির

কালো জিরা

ডায়াবেটিকস রোগিরা এক চিমটি পরিমাণ কালোজিরা এক  গ্লাস পানির সঙ্গে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেয়ে দেখুন।

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে একসময় ডায়াবেটিকস কমে যাবে।

নিয়মিত কালোজিরা খান। এটি মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয়।

যার দরুন স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়। এর সঙ্গে এটি প্রাণশক্তি বাড়ায় ও ক্লান্তি দুর করে।

স্নায়ুবিক দুর্বলতায় আক্রান্ত রোগীদের জন্যও অতি উৎকৃষ্ট ঔষুধ।

 

পিরিয়ড নিয়ে লজ্জা নয়, বাঁচতে হলে জানতে হয়

পিরিয়ড

একটি মেয়ের জীবনে পিরিয়ড সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।

সাধারণত ৯ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে এটি শুরু হয়ে ৪৫-৫০ বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ী থাকে।

সৃষ্টির প্রথম মানবী থেকে শুরু হয়ে বর্তমানকাল পর্যন্ত সব নারীর এই পিরিয়ড একটি স্বাভাবিক জীবনের অংশ হওয়া সত্ত্বেও এ নিয়ে মানুষের ভুল ধারণার শেষ নেই।

আজকে জেনে নেই পিরিয়ড সংক্রান্ত কিছু ভুল ধারণা

  • অনেকেই ডাক্তারের কাছে আসে খুব অল্প রক্তক্ষরণ সমস্যা নিয়ে। কিন্তু মনে রাখবেন,  পিরিয়ডে রক্তের পরিমাণ নারী ভেদে ভিন্ন। কালচে কয়েক ফোঁটা থেকে শুরু করে গাঢ় লাল হতে পারে। ২০-৬০ মিলি অর্থাৎ ৪-২০ চামচ পর্যন্ত রক্ত যাওয়া স্বাভাবিক।
  • পিরিয়ডের সময় টক-জাতীয় খাবার খেলে বেশি ব্লিডিং হয়। সম্পূর্ণ ভুল ধারণা, এ সময় স্বাভাবিক সব খাবার খাওয়া যাবে। পটাসিয়াম যুক্ত খাবার, আয়রন যুক্ত খাবার এই সময় খাওয়া ভালো। ফল শাকসবজি বেশি করে খাবেন।
  •  পিরিয়ডের সময় হরমোনের পরিবর্তন হয়, ফলে কাজ করতে ইচ্ছে করে না, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, এটা স্বাভাবিক। পিরিয়ড হলে কাজ করা যাবে না এটি একটি ভুল ধারণা। পিরিয়ড একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটি কোনো রোগ নয়। এ সময় স্বাভাবিক সব কাজকর্ম করা যাবে। কিন্তু যাদের ব্যথা বেশি হয় তাদের বিশ্রাম নিতে হবে।

পিরিয়ড

  • অনেকে চিকিৎসকের কাছে আসে মাত্র দুদিন পিরিয়ড থাকে এ জন্য ওজন বেড়ে যাচ্ছে। মনে রাখতে হবে পিরিয়ড দুই থেকে সাত দিন স্থায়ী হয়ে থাকে। নিয়মিত নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর হওয়াটা জরুরি। দুদিন থাকলেই দৈহিক ওজন বেড়ে যাবে এটি মোটেই ঠিক নয়।

কিছু স্বাভাবিক সমস্যা

পিরিয়ডের সময়ে দেহে হরমোনাল পরিবর্তন ঘটে।

ফলে এই সময় মাথাব্যথা, তলপেটে ব্যথা,  বমি ভাব, খাওয়ায় অরুচি, পায়ের মাংসপেশিতে ব্যথা ও সাময়িক বিষণ্নতা খুব স্বাভাবিক। এসব সমস্যায় খুব বেশি বিচলিত না হয়ে চিকিৎসকের  পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করলেই চলবে।

যে সমস্যা গুলোতে অবশ্যই আমাদের চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে


পিরিয়ড নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবে তিন ধরনের পরিস্থিতিতে
অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ,  এটি তিন ধরনের হতে পারে-
ক) অতিরিক্ত রক্তস্রাব
খ) রক্ত না যাওয়া
গ) পিরিয়ডের মধ্যবর্তী সময় রক্ত যাওয়া
ঘ) অত্যন্ত ব্যথাপূর্ণ পিরিয়ড
ঙ) পিরিয়ড শুরুকালীন সমস্যা

এ সমস্যাগুলো একটু বিস্তারিত জানা দরকার

স্বাভাবিক পরিমাণের চেয়ে ১০-২৫ গুণ বেশি হলেই তাকে অতিরিক্ত বলতে হবে।
এ ধরনের রক্ত যাওয়া মাসিক শুরু ও শেষ হওয়ার সময় কমন। তবে এ ছাড়া অন্য সময় হলে অবশ্যই গাইনি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে  চিকিৎসা নিতে হবে।

এই সময় অবহেলা করলে খুব খারাপ কিছু হতে পারে।

কিছু ভয়ানক রোগের লক্ষণ এই অনিয়মিত পিরিয়ড

  • জরায়ু বা ডিম্বাশয় টিউমার বা সিস্ট
  • থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা
  • লিভার বা কিডনির সমস্যা
  • লিউকোমিয়া
  • রক্ত জমাটের কোনো সমস্যা
পিরিয়ড
আপনার অসাবধানতায় জরায়ুতে হতে পারে অনিরাময় যোগ্য রোগ।

পিরিয়ড শুরুকালীন সমস্যা :

পিরিয়ড শুরুর চার-পাঁচ দিন আগে থেকে শুরু করে সাধারণত প্রথম তিন দিন স্থায়ী হয়।

সাধারণত শতকরা ৩০-৪০ জন নারীই এই সমস্যা ভোগ করে। হরমোনের তারতম্যের কারণে এটি ঘটে থাকে। এই সময়ে-
দুর্বলতা, কাজে অনীহা,  বিষণ্নতা,  সহজে রেগে যাওয়া,  মেজাজের তারতম্য,  হতাশা,  মনোঃসংযোগে ব্যর্থতা ইত্যাদি হয়ে থাকে। এই সময়ে পারিবারিক সদস্যের  সহানুভূতি অত্যন্ত জরুরি।

তবে পিরিয়ড শেষ হওয়ার পরও যদি এই সমস্যা স্থায়ী থাকে, তবে অবশ্যই একজন মানসিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর অর্থাৎ এর সময় প্রথম কয়েক মাস পিরিয়ড বন্ধও থাকতে পারে। এ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। তবে এক বছর ধরে পিরিয়ড বন্ধ আছে আবার হঠাৎ পিরিয়ড শুরু হলে অবশ্যই গাইনি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। কারণ,  এটি মোটেই স্বাভাবিক নয়। পিরিয়ড কবে শুরু হলো এটি প্রত্যেক নারীর লিখে রাখা বা মনে রাখা প্রয়োজন। স্বাভাবিক নিয়মে জন্মনিয়ন্ত্রণ, গর্ভনিরোধক পিল খাওয়া  অথবা গর্ভধারণের চেষ্টা করা সব ক্ষেত্রেই পিরিয়ড শুরুর দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পিরিয়ডের কারণে অনেক নারীরই রক্তশূন্যতা থাকে। তাই প্রতি ছয়  মাস অন্তর একটি হিমোগ্লোবিন করানো উচিত। এটি অত্যন্ত সহজলভ্য ও সস্তা একটি পরীক্ষা। রক্তশূন্যতা থাকলে আয়রন ক্যাপসুল খাওয়া উচিত। পুষ্টিকর খাবার  খাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। আর একটি কথা,  পিরিয়ডের সময় কাউকে ব্লাড দেয়া উচিৎ নয়।

সামাজিক মূল্যবোধ

আমাদের সমাজে পিরিয়ড এখনো একটি টেবু।

মেয়েরা সমস্যা গুলো লজ্জায় বলতে চায় না। সে জন্য প্রতিদিন কত নারী কত জটিল অসুখে ভুগে মারা যাচ্ছে।

নারীরা পুরুষদের কে দোষ দিচ্ছে, কিন্তু নিজের সমস্যার ভাগীদার কি অন্য কেউ হতে পারে?

কাউকে দোষ না দিয়ে নিজের সমস্যা নিজেরই সমাধান করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

যে সব নারীরা চাকরি করেন এবং বিভিন্ন পেশায় আছে, তাদের পিরিয়ড এর জন্য ২ দিন ছুটি দিতে হবে, শ্রমজীবী নারীদের সমস্যা গুলো তাদের ম্যানেজার দের বুঝতে হবে।

ছেলেদের কে নিজেদের ধ্যান ধারনা পরিবর্তন করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। মনে রাখবেন সুস্থ পিরিয়ড মানে সুস্থ নারী, তাই পিরিয়ড কে মর্যাদা দিন। এটি স্বাভাবিক একটি বিষয়, এটি কোন দুর্বলতা নয়।

 

 

শীতকালে সাবধান না হলে হতে পারে নানান অসুখ।

শীতকালে

শীতকালে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আপনার সাবধানতা। এসময় অনেক কাপড় পরে বের হলে আপনার গরমও লাগতে পারে।

আবার ভাবলেন একদিন শীত কম পড়বে, কিন্তু দেখলেন ওই দিনেই বেশি শীত পড়েছে। তাই শীতকালে সাবধান থাকা জরুরি।

বাইরে বের হওয়ার আগে আবহাওয়ার খবর জেনে নিন। কাপড় ভেজা থাকলে শরীরে অনেক তাড়াতাড়ি ঠাণ্ডা লেগে যায়।

খেয়াল রাখবেন আপনার পরিধেয় কাপড়টি যেন শুষ্ক থাকে। এর মাধ্যমে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

শীতকালে
শীতের জামা কাপড় অবশ্যই রোদে দিয়ে তারপর গায়ে দিবেন।

শীতকালের ঠাণ্ডাজনিত রোগ

ঋতু পরিবর্তনের জন্য শীতের সময় নানা ধরণের রোগ দেখা যায়। বেশির ভাগই ঠাণ্ডাজনিত রোগ। এক্তু সাবধান থাকলেই এই সব রোগ থেকে রেহাই পেতে পারেন।

শীতের রোগগুলো সাধারণত ভাইরাস ও এলার্জিজনিত কারণে হয়ে থাকে। ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণেও কিছু রোগ হতে পারে।

যদিও এসব রোগের প্রধান কারণ জীবাণু, তবু পরিবেশের তাপমাত্রার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।

শীতকালে তাপমাত্রা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে আর্দ্রতাও কমে, যা শ্বাসনালীর স্বাভাবিক কাজ ব্যাঘাত করে ভাইরাস আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

আরো সমস্যা হচ্ছে, দায়ী জীবাণুগুলো ধুলোবালি, আক্রান্তের হাঁচি-কাশি অথবা দৈনন্দিন খাবার বা ব্যবহার্য জিনিস থেকে শুষ্ক আবহাওয়ায় খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।

হাঁপানি

শীতকালে
যাদের হাঁপানি আছে তারা সাবধানতা অবলম্বন করুন।

শীতকালে বাড়ে হাঁপানির প্রকোপ। এ ছাড়া ঋতু পরিবর্তনের সময়গুলোতে বিশেষত শরৎ, বসন্ত ও শীতকালে বাতাসে অসংখ্য ফুলের বা ঘাসের রেণু ভেসে বেড়ায়, যা হাঁপানির উত্তেজক উপাদান হিসেবে কাজ করে।

আর্থ্রাইটিস

শীতকালে
এই রোগটি শীতকালে বৃদ্ধি পায়।

সর্দি-কাশি ফ্লুর মতো এতটা প্রকট না হলেও আরো অনেক রোগেরই তীব্রতা বাড়ে শীতকালে। বিশেষত আর্থ্রাইটিস বা বাতের ব্যথা শীতে বেশি বাড়ে।

চর্মরোগ

শীতকালে
ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্কতার জন্য এই রোগটির সৃষ্টি হয়।

শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে। শুষ্ক বাতাস ত্বক থেকে পানি শুষে নেয়। ফলে অনেকের ঠোঁট, হাত-পায়ের নখ, ত্বক শুষ্ক ও দুর্বল হয়ে ফেটে যায়।

পরবর্তীকালে খোশপাঁচড়াসহ নানা চর্মরোগ দেখা দেয়। খুশকির সমস্যা বেড়ে যায়।

হাইপোথার্মিয়া
তীব্র শীতে অনেকের হাতের আঙুল নীল হয়ে যায়। শীত প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শরীরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত কমে গিয়ে (হাইপোথার্মিয়া) মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

শীতকালে অবশ্যই যা খেয়াল রাখতে হবে

অ্যালার্জির ধাত থাকলে যাতে সমস্যা বাড়ে তা থেকে দূরে রাখুন বাচ্চাকে৷

সাধারণত ধুলো, ধোঁয়া, মশার কয়েল, বিছানা বা কার্পেটের ধুলো, ফুলের রেণু, কুকুর-বেড়ালের রোম, ঠাণ্ডা জল ইত্যাদিতে সমস্যা হতে পারে৷

স্কুলে বা বাড়িতে কারও হাঁচি-সর্দি-জ্বর হলে বাচ্চাকে তার কাছে যেতে দেবেন না৷ বিশেষ করে সামান্য ঠাণ্ডা লাগলেই যদি বাচ্চার শ্বাসকষ্ট হওয়ার ধাত থাকে৷

রাত্রে ঘরের জানালা বন্ধ করে গায়ে ঢাকা দিয়ে ঘুম পাড়ান৷

ঠান্ডা জলে স্নান করাবেন না৷ বিশেষ করে নাকে যেন ঠান্ডা জল না ঢোকে৷ গা এবং মাথা আলাদা করে ধুয়ে নিলে ভালো৷

ঠান্ডা কিছু খাওয়াবেন না এ সময়৷

শীতের শুরু থেকে টক ফল ও শাক-সবজি বেশি করে খাওয়ান৷ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে বাচ্চার৷

চিকিত্‍সা

নাক পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন৷ ২৫০ মিলি পানিতে আধা চামচ লবণ মিশিয়ে নরমাল স্যালাইন দ্রবণ তৈরি করুন৷ কাপড় বা তুলো দিয়ে পলতে পাকিয়ে এতে ভিজিয়ে নাক পরিষ্কার করুন৷

দু-এক ফোঁটা ড্রপও দিতে পারেন৷

কাজ না হলে ও খুব বেশি সর্দি হলে ডাক্তারের পরামর্শ মতো ডিকনজেস্টেন্ট ড্রপ দিন দু-এক ফোঁটা৷

তারপরও নাক বন্ধ থাকলে শোওয়ার সময় মাথার দিকটা একটু উঁচু করে রাখুন৷

বাড়াবাড়ি সর্দিতে ডাক্তারের পরামর্শ মতো অ্যান্টিহিস্টামিনিক ড্রপ খাওয়াতে হতে পারে৷

শীতকালে

জ্বর, গা-হাত-পা-মাথা ব্যথা থাকলে খাওয়ান প্যারাসিটামল৷

ভাইরাল ইনফেকশন সচরাচর ৭ দিনে পুরোপুরি সেরে যায়৷ তবে সাবধানে না থাকলে একই সিজনে আরও দু-একবার হতে পারে৷

সমস্যা ২-৩ দিনে কমার বদলে বাড়তে থাকলে, কফ গাঢ় হয়ে হলুদ বা সবুজ রং ধরলে বুঝতে হবে সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হয়েছে৷ তখন অ্যান্টিবায়োটিক লাগবে৷

কান ব্যথা হলেও অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে৷

হাঁচি-সর্দি-নাকবন্ধ লেগে থাকলে স্টেরয়েড ড্রপ বা স্প্রে ব্যবহার করতে হতে পারে৷

জ্বর-সর্দি হলেই যদি শ্বাসকষ্ট হয়, ইনহেলার নিতে হবে৷ তবে চিন্তা করবেন না, এতে কোনও ক্ষতি হবে না বাচ্চার৷

 

 

পেটের পীড়া ভয়াবহ হতে পারে, অবহেলা করবেন না।

পেটের পীড়া

আমাদের দেশে বেশিরভাগ লোক যে রোগটিতে ভোগেন তা হল পেটের পীড়া। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে এ পীড়ার প্রাদুর্ভাব বেশি হয়। পেটের পীড়া বলতে আমরা সাধারণত বুঝি আমাশয়, ডায়রিয়া, পেটের ব্যথা কিংবা হজমের অসুবিধা।

পেটের পীড়াকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত, খাদ্যনালি প্রদাহ (পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়, ক্ষুদ্রান্ত্র কিংবা বৃহদান্ত্রের রোগ)। দ্বিতীয়ত, লিভারের প্রদাহ।

খাদ্যনালির কারণজনিত পেটের পীড়াকে দু’ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।

স্বল্পমেয়াদি পেটের পীড়া

দীর্ঘমেয়াদি পেটের পীড়া

আমাশয়

পেটের পীড়া
এন্টাবিমা হিস্টোলাইটিকা নামক জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়।

অ্যামিবিক ডিসেন্ট্রি স্বল্পমেয়াদি পেটের পীড়ার অন্যতম কারণ যা এন্টাবিমা হিস্টোলাইটিকা নামক জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়। এটি মূলত পানিবাহিত রোগ।

যারা যেখানে-সেখানে খোলা বা বাসি খাবার খেয়ে থাকেন অথবা দূষিত পানি পান করেন তাদের এ রোগ হয়।

শহর অঞ্চলে রাস্তার পাশের খোলা খাবার খেলে এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে যারা যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করেন, কিংবা নদী ও পুকুরের পানি পান করেন তারা এ রোগে আক্রান্ত হন বেশি।

এ রোগের উপসর্গ হঠাৎ করে দেখা দেয়। যেমন- ঘন ঘন পেটে মোচড় দিয়ে পায়খানা হওয়া, পায়খানার সঙ্গে রক্ত বা আম মিশ্রিত অবস্থায় যাওয়া, পায়খানায় বসলে উঠতে ইচ্ছা হয় না বা ওঠা যায় না।

ক্ষেত্র বিশেষে দিনে ২০-৩০ বার পর্যন্ত পায়খানা হতে পারে।

ডায়রিয়া

ডায়রিয়ার অন্যতম কারণ খাদ্যে নানা ধরনের পানিবাহিত ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ।

ছোট শিশুদের ডায়রিয়া সাধারণ রোটা ভাইরাস নামক ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে।

বড়দের ক্ষেত্রে নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে যে ডায়রিয়া মহামারী আকারে দেখা দেয়, তার অন্যতম কারণ হল কলেরা। শীতকালে কলেরার প্রাদুর্ভাব বেশি হয়।

পাতলা পায়খানা হলে যদি চাল ধোয়া পানির মতো হয় তবে সেটা কলেরার লক্ষণ।

এর সঙ্গে তলপেটে ব্যথা হওয়া, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, ঘনঘন পায়খানায় যাওয়া এবং শরীর ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যাওয়া এ রোগের উপসর্গ। এ সময়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

পেটের পীড়ার অন্য কারণগুলোর হচ্ছে পিত্তথলি, পাকস্থলী, অগ্নাশয় এবং অন্ত্রের প্রদাহ।

অগ্নাশয়ের প্রদাহ জনিত পেটের পীড়া

পেটের পীড়ার আরও একটি কারণ হল অগ্নাশয়ের প্রদাহ বা Pancreatitis অগ্নাশয় একটি লম্বা অঙ্গ বা Organ যা পেটের ভিতরে পেছনে অবস্থিত।

এই অগ্নাশয়ের কাজের উপর নির্ভর করে হজমের ক্ষমতা এবং রক্তে গস্নুকোজের পরিমাণ ঠিক রাখা।

স্বল্পমেয়াদী অগ্নাশয়ের প্রদাহ হলে তাকে Acute Pancreatitis বলে, যার অন্যতম কারণঃ

 

পেটের পীড়া
সব সময় ভুঁড়ি ভোজ করা ঠিক না।

ভুঁড়ি ভোজ করা

পিত্তনালী বা পিত্তথলিতে পাথর এবং

অ্যালকোহল পানে আসক্তি

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মৃদু বা সহনীয় ব্যথা ভাল হয়ে যায়। তবে অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসায় বিলম্ব কিংবা অবহেলা করলে জটিল আকার ধারণ করতে পারে এমনকি প্রাণহানিও ঘটতে পারে।

পাকস্থলি ও ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রদাহ উপরের পেটে দীর্ঘদিন বার বার ব্যথা হওয়া, Peptic Ulcer রোগের লক্ষণ যা পাকস্থলি Stomach বা ক্ষুদ্রান্ত্রের (Duodenum) এর প্রদাহের কারণে হয়।

এই প্রদাহ দুরারোগ্য ব্যাধি। যাদের হয়, বার বার হয়। রোগীও সারে না, রোগও ছাড়ে না।

এই রোগকে পেটের পীড়ার অন্যতম কারণ হিসাবে বলা যায়। কেননা আমাদের দেশে ১২% লোক Peptic Ulcer -এ ভুগছেন। এছাড়া যারা অনিয়মিত খান, অতিরিক্ত ধূমপান করেন তাদের এ রোগ বেশি হয়।

লক্ষণের মধ্যে রয়েছে, খালি পেটে ব্যথা, শেষরাতে ব্যথা এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা। এ রোগ সেরেও সেরে উঠে না।

এবারের শেষটায় এসে যে কথা বলতে চাই-খাবারের প্রতি অনীহা, অরুচি, অস্বস্তি, ওজন কমে যাওয়া- এসব কিছুরই অন্যতম কারণ দীর্ঘমেয়াদী লিভারের প্রদাহ।

এ দীর্ঘমেয়াদী লিভারের প্রদাহ এমন আকার ধারণ করে যা কিনা দীর্ঘস্থায়ী জটিল লিভার সিরোসিসে রূপ নিতে পারে।

পেটের পীড়া প্রতিরোধে করণীয়ঃ

পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হলে ভীত না হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

  1. খাদ্য গ্রহণের পূর্বে এবং মলত্যাগের পর নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। যে সমস্ত অভিভাবক শিশুকে খাওয়ান, তারা শিশুকে খাবার প্রদানের পূর্বে এবং শিশুর মলত্যাগের পর একই নিয়মে হাত পরিষ্কার করবেন।
  2. পরিষ্কার পানিতে আহারের বাসনপত্র, গৃহস্থালী ও রান্নার জিনিস এবং কাপড়-চোপড় ধোয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং প্রয়োজনে সাবান ব্যবহার করতে হবে।
  3. পায়খানার জন্যে সর্বদা স্যানেটারী ল্যাট্রিন ব্যবহার করতে হবে।
  4. যারা গ্রামে বসবাস করেন, তাদের যেখানে সেখানে বা পুকুর নদীর ধারে মলত্যাগের অভ্যাস পরিহার করতে হবে।
  5. খালি পায়ে বাথরুমে বা মলত্যাগ করতে না গিয়ে সর্বদা স্যান্ডেল বা জুতা ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
  6. খাবারের জন্য ফুটানো পানি ব্যবহার করতে হবে এবং পানি ফুটানোর ব্যবস্থা না থাকলে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ব্যবহার করতে হবে।
  7. আহারের জন্য তৈরিকৃত খাদ্য সামগ্রী এবং পান করার জন্য নির্ধারিত পানি সর্বদা ঢেকে রাখতে হবে।
  8. পুরোনো, বাসী বা দুর্গন্ধযুক্ত খাবার কখনোই খাওয়া যাবে না।
  9. মনে রাখবেন, পেটের পীড়া প্রতিরোধে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় পন্থা। আপনি আপনার খাদ্যাভাস, পানি পান, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা সর্বোপরি ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সচেতন হলে পেটের পীড়া থেকে মুক্ত হতে পারবেন।

 

মাথা ব্যথা দূর করার পদ্ধতিগুলো দেখে নিন

মাথা ব্যথা

অন্যান্য জায়গাতে ব্যথা হলে যে কষ্ট লাগে- মাথা ব্যথা হলে সব চেয়ে বেশি খারাপ লাগে।মাঝে মাঝে প্রচণ্ড মাথা ব্যথায় পৃথিবী অন্ধকার লাগে।

শরীরের অন্যান্য অঙ্গ গুলোর ভেতর মাথা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। মাথা ছাড়া শরীর কি কাজ করতে পারে?

এইসময় গুলোতে হাতের কাছের কিছু উপকরণ ও পদ্ধতি দিয়ে ব্যথা কমানো সম্ভব। চলুন জেনে নেই তাৎক্ষণিক ভাবে মাথা ব্যথা দূর করার পদ্ধতি গুলো।

মাথা ব্যথা দূর করে আকুপ্রেশার

মাথা ব্যথা
এই পদ্ধতিটি বিজ্ঞানসম্মত এবং প্রমাণিত। চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

বহুবছর ধরে মাথা ব্যথা দূর করতে অনেকেই আকুপ্রেশার পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছেন। এই ছোট্ট ঘরোয়া পদ্ধতিটি আপনাকে এক মিনিটের মধ্যে মাথা ব্যথা সারাতে সাহায্য করবে। বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং তর্জনির মাঝখানের অংশে অন্য হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনি দিয়ে চাপ দিন এবং ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ম্যাসাজ করুন। একই ভাবে ডান হাতেও করুন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আশা করা যায় এতে এক মিনিটেই মাথা ব্যথা সারবে।

পানি পান করুন

মাথা ব্যথা
পানি সকল রোগের ওষুধ।

একচুমুক পানি পানও আপনাকে এক মিনিটের মধ্যে মাথা ব্যথা সারাতে কাজে দেবে।

যখন আমাদের শরীর আর্দ্র হতে থাকে তখন ব্যথা ধীরে ধীরে কমে।

লবঙ্গ

মাথা ব্যথা
মাথা ব্যথা দূর করা ছাড়াও লবঙ্গ আরও অনেক উপকার করে।

কিছু লবঙ্গ তাওয়ার মধ্যে গরম করে নিন।

গরম লবঙ্গ একটি রুমালের মধ্যে নিন।

এক মিনিট এর ঘ্রাণ নিন এবং দেখুন মাথা ব্যথা চলে গেছে।

লবণযুক্ত আপেল

মাথা ব্যথা
এই কারণেই হয়ত বলা হয় প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে জেতে হবে না।

ব্যথা যদি বেশি হয় তবে এই ঘরোয়া পদ্ধতিটি চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

এক টুকরো আপেল চিবুতে পারেন তবে এতে একটু লবণ ছিটিয়ে নেবেন।

এটা দ্রুত ব্যথা মুক্ত করতে সাহায্য করবে।

আদা চিবুতে পারেন

মাথা ব্যথা
আদা খেলে ঠাণ্ডাও লাগতে পারেনা।

এক পিস টাটকা আদা চিবুতে পারেন এতে ৬০ সেকেন্ডে মাথা ব্যথা দূর হবে।

আদা একটু বাজে গন্ধের হলেও পদ্ধতিটি কাজের।

আদার ঝাঁজ এবং ঝাল মাথায় গিয়ে লাগে তখন মাথা ব্যথা কমে আসতে শুরু করে।

গান শোনা

মাথা ব্যথা
গান শুনলে মাথার নিওরন গুলো আরাম পায়।

মন ভালো করার পাশাপাশি মাথা ব্যথা উপশমে সব চাইতে ভালো কাজ হচ্ছে গান শোনা। ‘জার্নাল অফ পেইন’ গবেষণাপত্রে প্রকাশ হয় গান শোনা প্রায় ১৭% ব্যথা কমিয়ে দিতে সহায়তা করে। কারণ গান মনোযোগ দিয়ে শোনার সময় আমাদের লক্ষ্য মাথা ব্যথা থেকে সরে যায় যা আমাদের মাথা ব্যথার কথা অনেক সময় ভুলিয়ে দেয়। এতে করেই সেরে উঠে মাথা ব্যথা।

মিষ্টিকুমড়োর বিচি খান

মাথা ব্যথা
কুমড়ার বিচি।

মিষ্টি কুমড়োর বিচি ভেজে খেলে এই ব্যথার সমস্যা থেকে দুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কারণ মিষ্টি কুমড়োর বিচিতে হয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম সালফেট যা মাথা ব্যথা উপশমে কাজ করে থাকে।

কাঠবাদাম খাওয়ার অভ্যাস রাখুন

মাথা ব্যথা
কাঠবাদাম খেলে স্মৃতি শক্তিও বৃদ্ধি পায়।

অনেক সময় আবহাওয়া, ধুলোবালির কারণে মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যায়, আবার অনেক সময় মানসিক চাপের কারণেও মাথা ব্যথা শুরু হয়। এই সকল ধরনের ব্যথা কমানোর জন্য একমুঠো বা দুইমুঠো কাঠবাদাম চিবিয়ে খান। কাঠবাদামে রয়েছে ‘স্যালিসিন’ যা ব্যথা উপশমে কাজ করে রবং দ্রুত ব্যথা নিরাময় করে।

মনিটরে তাকিয়ে থাকা কমাতে হবে

মনিটরে একদিকে তাকিয়ে থাকলে একসময় চোখ, মাথা একসাথে কষ্ট দেয়। সুতরাং ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যাবহারের ক্ষেত্রে সময় মেনে চলতে হবে।

পরিচিত দেশীয় ভেষজ গাছের অজানা উপকারিতাগুলো জেনে নিন

আমাদের চারপাশে নানা ধরণের গাছগাছালি আছে। এদের ভেতর কিছু ওষধি গাছ আছে। প্রত্যকটি ভেজষ উদ্ভিদেরই কিছু না কিছু ঔষধী গুণ রয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ হাজার উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাড়ে পাঁচশ ঔষধি উদ্ভিদ প্রজাতি বা ভেষজ। ঔষুধ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ভেষজ উদ্ভিদের চাহিদা সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশে ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ইউনানি, আয়ুর্বেদ ও হোমিওপ্যাথি ওষুধ উৎপাদনে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি বিউটি পার্লার ও প্রসাধনীতে এখন প্রচুর ভেষজ উপাদান ব্যবহৃত হচ্ছে।
বাংলাদেশে স্বল্পসময়ে কম জমিতে অধিক হারে উৎপাদন করে অধিক মুনাফা অর্জন করা সম্ভব এমন ঔষধি রয়েছে ২৫টির মতো। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পুদিনা, ঘৃতকুমারী, থানকুনি, অর্জুন, আমলকী, হরীতকী, কালমেঘ, নিম, বহেড়া, কালিজিরা, বসাক, উলটকমল, অশ্বগন্ধা, সর্পগন্ধা, তুলসী, মেথি, সোনাপাতা, যষ্টিমধু, বাবলা, শতমূলী, ইসবগুল, আদা, রসুন, হলুদ, পিঁয়াজ ইত্যাদি।

বাসক

বাসক একটি ভারতীয় উপমহাদেশের গাছ। আর্দ্র, সমতলভূমিতে এটি বেশী জন্মে। লোকালয়ের কাছেই জন্মে বেশী। হালক  হলুদে রংয়ের ডালপালায়ক্ত ১ থেকে ২ মি. উঁচু গাছ, ঋতুভেদে সর্ব্বদাই প্রায় সবুজ থাকে। বল্লমাকারের পাতা বেশ বড়। ফুল ঘন, ছোট স্পাইকের ওপর ফোটে। স্পাইকের বৃন্ত পাতার চেয়ে ছোট। স্পাইকের ওপর পাতার আকারে উপপত্র থাকে যার গায়ে ঘন এবং মোটা শিরা থাকে।

চিনবেন কি করে?

বাসক মাঝারি মাপের গাছ। গাঢ় সবুজ রঙের উদ্ভিদ এবং চেহারায় তেমন কোন বিশেষত্ব নেই। ৫-৬ ফুট পর্যনত্ম সাধারণত লম্বা হয় এবং বাংলাদেশের সর্বত্রই মেলে। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে ছোট ছোট সাদা ফুল ফোটে। অন্য এক প্রকার বাসক গাছও আছে যাতে হলদেটে লাল রঙের ফুল ধরে।

উপকারিতা

১। বাসকের ছাল খেলে কৃমি মরে যায়।

২। যাদের গায়ে ঘামের গন্ধ হয় তারা বাসক পাতার রস গায়ে লাগালে দুর্গন্ধ দূর হবে।

৩। যাদের শ্বাসকষ্ট আছে বাসক পাতা বিড়ি বা চুরম্নট জাতীয় পাকিয়ে তার সাহায্যে ধূমপান করলে শ্বাসকষ্ট প্রশমিত হয়।

৪। গায়ের রঙ ফর্সা করতে চাইলে বাসক পাতা ব্যাবহার করতে পারেন।

৫। পানি ফিল্টার করতে বাসক পাতা ব্যাবহার করতে পারেন।

তেলাকুচা

তেলাকুচা একপ্রকারের ভেষজ উদ্ভিদ। বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে একে ‘কুচিলা’, তেলা, তেলাকচু, তেলাহচি, তেলাচোরা কেলাকচু, তেলাকুচা বিম্বী ইত্যাদি নামে ডাকা হয়। অনেক অঞ্চলে এটি সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। গাছটির ভেষজ ব্যবহারের জন্য এর পাতা, লতা, মূল ও ফল ব্যবহৃত হয়। এটি লতানো উদ্ভিদ। এটি গাঢ় সবুজ রঙের নরম পাতা ও কাণ্ডবিশিষ্ট একটি লতাজাতীয় বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। লতার কাণ্ড থেকে আকশীর সাহায্যে অন্য গাছকে জড়িয়ে উপরে উঠে। পঞ্চভূজ আকারের পাতা গজায়, পাতা ও লতার রং সবুজ। এর ফল ও কচি ডগা খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় সেখানে। তেলাকুচায় প্রচুর বিটা-ক্যারোটিন আছে।

চিনবেন কি করে?

১ সে.মি. লম্বা ফুলের রং গোলাপী। দেড় থেকে দু সে.মি. লম্বা ফল অনেকটা চিলগোজার মতন দেখতে।শিকড় ব্যতীত কালমেঘ গাছটির সব অংশই ঔষুধের কাজে লাগে। কালমেঘ অত্যন্ত তেতো এবং পুষ্টিকর।

উপকারিতা

১। শিশুদের যকৃৎ রোগে এবং হজমের সমস্যায় কালমেঘ ফলপ্রদ।

২। টাইফয়েড রোগে এবং জীবানুরোধে কালমেঘ কার্য্করী।

৩। কালমেঘ গাছ বেটে সরষের তেলে চুবিয়ে নিয়ে চুলকানিতে লাগানো হয়।

৪। গাছের পাতার রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও লিভার রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।

অর্জুন

ভেষজশাস্ত্রে ঔষধি গাছ হিসাবে আর্জুনের ব্যবহার অগনিত।বলা হয়ে থাকে, বাড়িতে একটি অর্জুন গাছ থাকা আর এক জন ডাক্তার থাকা একই কথা।এর ঔষধি গুন মানবসমাজের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে সুপ্রাচীন কাল থেকেই।শরীরের বল ফিরিয়ে আনা এবং রণাঙ্গনে মনকে উজ্জীবিত রাখতে অর্জুন ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে মহাভারত ও বেদ-সংহিতায়।তার পর যত দিন যাচ্ছে ততই অর্জুনের উপকারী দিক উদ্ভাবিত হচ্ছে।

চিনবেন কি করে?

অর্জুন একটি বৃক্ষ। গাছটি অনেক বড় হয়। ছাল মোটা থাকে।

উপকারিতা

১। উচ্চ রক্তচাপ কমায়।

২। অর্জুনের ছাল বেটে খেলে হৃৎপিণ্ডের পেশী শক্তিশালী হয়।

৩। বিচুর্ণ ফল মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে এবং লিভারসিরোসিসের টনিক হিসাবে ব্যাবহৃত হয়।

৪। অর্জুনের ছাল হাঁপানি, আমাশয়, ঋতুস্রাবজনিত সমস্যা, ব্যথ্যা ,প্রদর ইত্যাদি চিকিৎসায়ও উপকারী।

৫। হজম ক্ষমতা বাড়ায়।

তুলসী

তুলসী একটি ঔষধিগাছ। তুলসী অর্থ যার তুলনা নেই। সুগন্ধিযুক্ত, কটু তিক্তরস, রুচিকর। এটি সর্দি, কাশি, কৃমি ও বায়ুনাশক এবং মুত্রকর, হজমকারক ও এন্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে বিশেষ করে কফের প্রাধান্যে যে সব রোগ সৃষ্টি হয় সে ক্ষেত্রে তুলসী বেশ ফলদায়ক।

চিনবেন কি করে?

তুলসী একটি গুল্ম জাতীয় গাছ। গাছটিতে অনেক পাতা হয়।

উপকারিতা

১। সর্দি-ঠাণ্ডা কমানোর জন্য সব মায়েরাই ব্যাবহার করে তুলসী।

২। পেট খারাপ হলে তুলসীর ১০ টা পাতা সামান্য জিরের সঙ্গে পিষে ৩-৪ বার খান ৷ পায়খানা একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে, মানে পায়খানার ওই সমস্যাটা আর কি!

৩। মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে দিনে ৪-৫ বার তুলসী পাতা চেবান৷

৪। শরীরের কোন অংশ যদি পুড়ে যায় তাহলে তুলসীর রস এবং নারকেলের তেল ফেটিয়ে লাগান, এতে জ্বালা কমবে৷ পোড়া জায়গাটা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে৷ সেখানে কোন দাগ থাকবে না৷

৫। বুদ্ধি এবং স্মরণশক্তি বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন ৫-৭ টা তুলসী পাতা চিবান৷

হরিতকী

হরীতকী মধ্যম থেকে বৃহদাকার চিরসবুজ বৃক্ষ। ত্রিফলার অন্যতম ফল হচ্ছে হরীতকী। হরীতকী গাছকে ভেষজ চিকিৎসকরা মায়ের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন। তারা বলেন, মানুষের কাছে এ বৃক্ষ মায়ের মতোই আপন। মানুষের শরীরে সংক্রামিত প্রায় সব রোগ-ব্যাধির ওষুধ হিসেবে হরীতকীর ব্যবহার রয়েছে। অর্শরোগে, রক্তার্শে, চোখের রোগ, পিত্তবেদনা, গলার স্বর বসে যাওয়া, হৃদরোগ, বদহজম, আমাশয়, জন্ডিস, ঋতুস্রাবের ব্যথা, জ্বর, কাশি, হাঁপানি, পেটফাঁপা, ঢেঁকুর ওঠা, বর্ধিত যকৃত ও প্লীহা, বাতরোগ, মহৃত্রনালীর অসুখ, ফুসফুস, শ্বাসনালীঘটিত রোগে হরীতকী ফলের গুঁড়া ব্যবহৃত হয়।

চিনবেন কি করে?

হরিতকী একটি বৃক্ষ। বৃক্ষের ফল ব্যাবহার করা হয়।

উপকারিতা

১। হরীতকী দেহের অন্ত্র পরিষ্কার করে এবং একই সঙ্গে দেহের শক্তি বৃদ্ধি করে।

২। অ্যালার্জি দূর করতে হরীতকী বিশেষ উপকারী।

৩। কোষ্ঠকাঠিন্য, স্নায়বিক দুর্বলতা, অবসাদ এবং অধিক ওজনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

৪। হরীতকীর গুঁড়া নারিকেল তেলের সঙ্গে ফুটিয়ে মাথায় লাগালে চুল ভালো থাকবে।

৫। দাঁতে ব্যথা হলে হরীতকী গুঁড়া লাগান, ব্যথা দূর হবে।

ওজন বাড়াতে চান? তাহলে দেখে নিন নিয়ম গুলো।

ওজন

 

আমরা নিজেকে অন্যদের সামনে খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার জন্য কত কিছু করি। কে না চায় নিজেকে অন্য জনের সামনে খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরতে?

আমরা অনেকেই ওজন কমানোর জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে আছি। কিন্তু কখনো লক্ষ্য করেছি কি এই পৃথিবীতে এমনও মানুষ আছে যারা ওজন বাড়ানোর জন্য কত কিছুই না করে যাচ্ছে। কিন্তু কোন ভাবেই সফল হচ্ছে না। আর এর পেছনে মূল কারণ হলো আমাদের সঠিক নিয়ম মেনে না চলা। ওজন বাড়ানোর জন্য বেশী কিছু নয় শুধু সঠিক নিয়ম মেনে খাবার খাওয়া দরকার যেন খাবারটি আমাদের শরীরে লাগে। আজ আপনাদের সামনে কিছু সঠিক নিয়ম বা সঠিক উপায় তুলে ধরলাম। আশা করি তা মেনে চললে আপনি খুব কম সময়ে নিজের স্বাস্থ্যের পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

তাহলে আর দেরী কেনো চলুন জেনে নেওয়া যাক উপায় গুলো।

ওজন বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া শুরু করুন

ওজন
স্বাস্থ্য ভালো করতে চাইলে খেতে হবে পুষ্টিকর খাদ্য।

আমরা অনেক সময় স্বাস্থ্য বাড়ানোর জন্য প্রচুর পরিমাণ খাবার খেয়ে থাকি কিন্তু তারপরও আমাদের স্বাস্থ্য বাড়ে না। এর কারণ হলো আমরা নিয়ম মেনে খাবারটি খাচ্ছি না শুধু পেট ভরছি। তাই উপযুক্ত খাবার খেতে হবে। আমাদের শরীরে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণে প্রোটিন, কার্বন ও ফ্যাট এর প্রয়োজন হয় এগুলোর ঘাটতি পড়লে আমাদের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব পড়ে। এর জন্য প্রতিদিন বাদাম আর দুগ্ধজাত খাবার খান। দেহের পেশী গঠনে প্রোটিন যুক্ত খাবার দরকার। এটি শরীরের ওজন বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ মাংস, ডিম, পনির ও পর্যাপ্ত পরিমাণে ভাত, রুটি-আলু গ্রহণ করুন। ওজন বাড়ানোর জন্য বসা ভাতের উপকারিতা অনেক বেশী। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর ক্যালোরি। মাছ, মুরগি এ গুলো প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় রাখুন। টুনা মাছও খেতে পারেন।

তরল জাতীয় খাবার বেশী খান

কিছুক্ষণ পর পর তরল জাতীয় খাবার খান যা আপনার ক্ষুধা বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে এটা মনে রাখা আমাদের খুব জরুরী ভারি খাবার খাওয়ার আগে বা খাবারের মাঝখানে পানি খাওয়া ভালো নয়। কারণ খাবারে মাঝখানে বেশী পানি খেলে আপনার ক্ষুধা নিবারণ হয়ে যাবে তখন ভারি খাবার খাওয়ার ইচ্ছে নষ্ট হয়ে যাবে। তাছাড়া খাওয়ার মাঝে বেশী পানি খেলে খাবার হজমে সমস্যা হয়।

ওজন বাড়াতে ঘন ঘন খাবার খান

আপনি যদি দেহের ওজন বাড়াতে আগ্রহি হয়ে থাকেন তাহলে প্রতিদিন ২-৩ ঘন্টা অন্তর অন্তর ৫ থেকে ৭ বার পরিমিত পরিমাণে খাবার গ্রহণ করুন।

আমরা সাধারণত দিনে ৩ বার খাবার খেয়ে থাকি। আপনি দিনে ৬ বার খাবার গ্রহণ করেন তবে পরিমাণটি যাতে নির্দিষ্ট হয় সে দিকে খেয়াল রাখবেন।

কলা, আম ইত্যাদি ফল বেশী পরিমাণ খেতে হবে। এতে করে আপনার খেতে কোন সমস্যা হবে না। ভাজা খাবার পরিহার করুন। ক্যালোরি যুক্ত খাবারগুলো বেঁছে বেঁছে প্রচুর পরিমাণে খান।

তাজা ও শুকনো ফল এবং বাদাম খান

ওজন
কিছুক্ষণ পর পর বাদাম খেতে পারেন।

দুধের সাথে খেজুর, বাদাম, আম ইত্যাদি খেলে আপনার শরীরের ওজন বাড়াতে পারে।

এছাড়া এই ফল গুলো দুধ ছাড়া খেতে পারেন।

খাবারের তালিকায় নিয়মিত  কিশমিশ ও শুঁকনো ফল দেওয়া গাজরের হালুয়া, ক্ষীর, সেমাই রাখুন।

ফলের জুস

ওজন
ফল খেতে ইচ্ছে না করলে জুস খেতে পারেন।

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বেশী ক্যালোরি যুক্ত ফলের জুস (যেমন আম, আঙ্গুর)  রাখুন।

এসব ফলের জুস আপনার শরীরের ওজন বাড়াবে এবং স্বাস্থ্যকর ক্যালোরি প্রদান করবে।

নিরমিত কলা ও দুধ খাবেন

ওজন
কলা খেলে ওজন বাড়বেই কারণ এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি।

কলা ওজন বাড়ানোর জন্য খুব উপকারী একটা ফল তাই প্রতিদিন ৬-৭ টি কলা দুধের সাথে সকালের নাস্তায় খেতে পারেন।

তাছাড়া প্রতিবার খাবার গ্রহণের পর একটি কলা খেতে পারনে যা আপনার হজম ক্রিয়া বাড়াতে সাহায্য করবে।

বেশী পরিমাণ পানি পান করুন

ওজন
পানি পান করার পরিমাণ বাড়িয়ে দিন।

শরীরকে পরিবর্তন করতে চাইলে শরীরকে আর্দ্র রাখা খুব প্রয়োজন।

তাই প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুন।

প্রতদিন ২-৩ লিটার পানি পান করুন।

পর্যাপ্ত ঘুমান


ঘুম দেহ গঠনের জন্য আবশ্যক তাই প্রতিদিন কম পক্ষে ৭-৮ ঘন্টা ঘুমান। রাতে কখনো দেরী করে ঘুমাবেন না। আবার সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে যান। আপনি যতই খাবার খেয়ে থাকেন তা উপকারে আসবে না। কারণ ঘুমের সময় দেহ কোষ গঠনের কাজ চলে আর ভালো ঘুম না হলে পরিপাক ক্রিয়ায় সমস্যা দেখা যায়।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন

আপনি হয়তো ভাবছেন রোগা পাতলা মানুষের কিসের ব্যায়াম? তাহলে এটা জেনে রাখুন আপনি ভুলের সাগরে বাস করছেন, কিছু বিশেষ ব্যায়ামে আপনার পেশী তৈরি ও ওজন বাড়িয়ে দিবে। ব্যায়াম ক্ষুধা বাড়াতে সাহায্য করে। শরীরকে ফিট রাখতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৪৫ মিনিট ব্যায়াম করুন। হাঁটতে পারেন বা ওজন বাড়ানোর ব্যায়াম গুলো করতে পারেন। এছাড়া আউটডোর খেলায় অংশ গ্রহণ করতে পারেন। শরীরের ওজন বাড়াতে খাবারের তালিকায় উচ্চ ক্যালোরি যুক্ত খাবার রাখতে হবে। তবে এটা মনে রাখেন এই ধরনের বাড়তি ক্যালরি গুলো অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে নিতে হবে। যেসব খাবার প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ যুক্ত সে সব খাবার গুলো খাবেন। এসব খাবার আপনার শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করবে ও ওজন বাড়াবে। এর সাথে দৈহিক ব্যায়াম আপনার দেহের সুস্থ্যতা নিশ্চিত করবে।

আমাদের সমস্যা হল আমরা ২/৩ দিন ঠিক মত চলার পর আবার আগের রুটিন মত চলতে থাকি।

ফলাফল আমরা আমাদের শরীরের কোন পরিবর্তন দেখতে পাই না।

একটা জিনিস সবসময় মনে রাখতে হবে কষ্ট না করলে ভালো কোন ফলাফল পাওয়া যায় না। সুতরাং নিয়ম মেনে চলুন।

আশা করি এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনাদের উপকার হবে।

কোমল পানীয়: এক নীরব ঘাতক

কোমল পানীয়

আমরা বেশীর ভাগ মানুষ আজকাল কম বা বেশী কোমল পানীয় পান করি। বিভিন্ন  স্বাদে বিভিন্ন কোম্পানি বাজারে নিয়ে এসেছে অনেক রকমের পানীয়। এর কারণ কোমল পানীয়র প্রতি মানুষের অনেক বেশী চাহিদা। কোমল পানীয় কে পছন্দ না করে, কে না চায় একটু কোমল পানীয় পান করে গলা ভেজাতে?? এই কোমল পানীয় অনেক সহজলভ্য তাই সবাই কিনতে পারি। কিন্তু আমরা কি জানি এই প্রাণঘাতী পানীয় আমাদের ধীরে ধীরে প্রাণনাশের পথে নিয়ে যাচ্ছে? এটা অনেক লোভনীয় চোখের সামনে বা হাতের নাগালে থাকলে আমরা তার লোভ সামলাতে পারি না। আমাদের জীবনে ভোগ বিলাসিতার চাহিদা কখনো পরিপূর্ণ হয় না। অনেক সময় আমাদের ক্ষণিকের শান্তি বা সামান্যতম সময়ের সুখের জন্য আমরা আমাদের জীবনকে নিজের অজান্তে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেই। আবার দেখা যায় আমরা অনেকেই জেনে শুনে ক্ষতির দিকে পা বাড়িয়ে থাকি খামখেয়ালীপনার জন্য তখন আমরা ভুলে যাই কি করতে যাচ্ছি বা কি হতে যাচ্ছে। আসুন নিজে বাঁচি নিজে সচেতন হই এবং অন্য কে বাঁচাতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই। মরনঘাতী কোমল পানীয় সম্পর্কে জেনে নেই কিছু অজানা তথ্য যা শুনলে আপনি বিশ্বাস করতে পারবেন না এতদিন আপনি কিভাবে প্রতিনিয়ত নিজের ক্ষতি করে যাচ্ছেন। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক ক্ষতিকর দিক গুলোঃ-

এসিডিটি বা অম্লত্বঃ

কোমল পানীয়
কোমল পানীয় অ্যাসিডটি বাড়িয়ে দেয়।

কার্বনেটেড পানীয় গুলো দ্রবীভূত কার্বন ডাই অক্সাইড বহন করে থাকে যার কারণে পাকস্থলীতে গ্যাস তৈরি হয় যখন কোমল পানীয় আপনার পেটে শরীরের তাপমাত্রায় পৌঁছায়। আর পেটে জমে থাকা গ্যাসের কারণে আপনার পেটে ক্ষতের সৃষ্টি করে যা একসময় আপনার পেটের আলসারে পরিণত করতে পারে। অনেক সময় আলসার থেকে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়ঃ

কার্বনেটেড পানীয় খাদ্যে অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করে এ জন্য দেহের ওজন এবং স্থূলতার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। ২০০৭ সালে “আমেরিকান জার্নাল অব পাবলিক হেলথ” এর একটি লেখায় ড.লেনি ভার্টনিয়ান বলেছিলেন যে, কোমল পানীয় পান করার কারণে যে স্থূলতা-ঝুঁকির সৃষ্টি হয়ে থাকে তা শিশু, কিশোর ও পুরুষের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের বেশী হয়। প্রয়োজনের অধিক ওজন বা স্থুলতা টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হাড়ের বাত রোগ সহ অনেক রোগের উৎস হিসেবে কাজ করে থাকে।

কোমল পানীয়
কেউ খেতে বললে আমাদের মানা করা শিখতে হবে।

নগণ্য পুষ্টিকর উপাদান

আমাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণের উপর অনেক বেশী প্রতিকূল প্রভাব ফেলে কার্বনেটেড কোমল পানীয়র ফ্যাট। এ ধরনের পানীয় পান করার কারণে  দেহে প্রোটিন, স্টার্চ, ডায়াবেটিস ফাইবার, ভিটামিন বি-২ এগুলোর মাত্রা আসতে আসতে কমে যাওয়ার  শুরু করে।

দাঁতের ক্ষতের সৃষ্টি করেঃ-

কার্বনেটেড কোমল পানীয় আমাদের দাঁতের ক্ষতি করে থাকে। আমরা যখন মিষ্টি জাতীয় কোমল পানীয় গুলো পান করে থাকি তখন এর মধ্যে অবস্থিত চিনি আমাদের মুখে থেকে যায়। আমাদের মুখে অবস্থিত ব্যাকটেরিয়া চিনি থেকে খাবার সংগ্রহ করে ও রাসায়নিক উৎপাদকের সাহায্যে তা আমাদের দাঁতের শক্ত স্তর (এনামেল) ভেঙে ফেলতে থাকে। পরবর্তিতে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হতে হতে দাঁতের মধ্যে গর্তের সৃষ্টি করে। দাঁত আমাদের শরীরের অমূল্য সম্পদ। শরীরের এই অংশ একবার নষ্ট হলে আর ঠিক হয় না। তাই সময় থাকতে দাঁতের যত্ন নিন। দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝার চেষ্টা করুন।

হাড়ের শক্তি ক্ষয় করেঃ

কোমল বা কার্বনেটেড পানীয় হাড়ের শক্তি কমিয়ে দেয় যা মহিলাদের জন্য সবচেয়ে বেশী ক্ষতিকর। হাড় গঠিত হয় আমিষ, কোলাজেন ও ক্যালসিয়াম দ্বারা। কোমল পানীয়র কার্বনেটেড এসিড হাড়ের এমন উপাদান গুলোর ক্ষতি করে। এ জন্য কোমল পানীয় সব বয়সের মানুষের জন্য ক্ষতিকর তবে মধ্য বয়সের মানুষের জন্য এটি খুবই ক্ষতিকর। কেননা মধ্য বয়সের মানুষের মানে যাদের বয়স ত্রিশ এর উপরে তাদের হাড়ের ঘনত্ব ও পরিমাণ এমনিতেই কমতে থাকে।  “দ্যা আমেরিকান জার্নাল  অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশান” এর পুষ্টি বিজ্ঞানী ড.ক্যাথেরিন টাকার’ বলেন যে সকল মহিলারা কোমল পানীয় পান করেন তাদের চেয়ে যারা পান করে না তাদের পশ্চাৎ দেশের হাড় বেশী দুর্বল হয়ে যায়।

এ লেখাটি যদি আপনি মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে এখন থেকে কোমল পানীয় কে না বলুন। সকল প্রকার কোমল পানীয় কে যতোটুকু পারেন এড়িয়ে চলুন।

আপনার এবং আপনার পরিবারের তথা দেশের মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসুন। আমাদের সাথেই থাকুন।

 

মানসিক রোগ কতটা ভয়ানক হতে পারে??

মানসিক রোগ

“পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় লক্ষ লক্ষ মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। আর এই মানসিক রোগ তাদের আপনজনদের জীবনের উপর অনেক বেশী প্রভাব ফেলে। প্রতি চারজনের মধ্যে একজন তাদের জীবনের কোনো এক সময়ে এসে এই রোগে আক্রান্ত হবে। সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা এমন মানসিক অসুস্থতার পিছনে একটা উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে অবসাদ। মানসিক রোগ গুলোর মধ্যে সিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার ডিসঅর্ডার হচ্ছে সবচেয়ে দুঃসহ ও ক্ষতিকর মানসিক রোগ। যদিও অনেক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে তবুও তারা এই মানসিক রোগকে সবার থেকে আড়াল করে রাখে, উপেক্ষা করে ও এই রোগ কে কুদৃষ্টিতে দেখে।”—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।
ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অন মেন্টাল ইলনেস রিপোর্ট অনুযায়ী– বেশীর ভাগ মানসিক রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব, কিন্তু গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬০% প্রাপ্তবয়স্ক ও প্রায় ৫০% অল্প বয়সি, যাদের বয়স ৮-১৫ বছরের মধ্যে ছিলো এবং তারা কোন প্রকার চিকিৎসায় উন্নতি লাভ করেনি।

মানসিক রোগ কি ?

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, মানসিক রোগ হচ্ছে একজন মানুষের সুস্থভাবে চিন্তা করতে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সঠিক ভাবে আচরণ করতে না পারা। এমন অবস্থায় বেশীর ভাগ সময় একজন মানুষের অন্যদের সাথে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার ও জীবন কে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সাথে মোকাবিলা করার ক্ষমতা বাধাপ্রাপ্ত হয়। এটি কোন ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা চারিত্রিক সমস্যার কারণ নয়।

মানসিক রোগ
বিশ্বে প্রতি চারজনে একজন মানসিক রোগে আক্রান্ত হন।

মানসিক রোগের প্রাথমিক লক্ষন

– অকারনে তীব্র টেনশন।

– ঘুম কমে যাওয়া।

– মনোসংযোগে সমস্যা

সমস্যা আরো গভীর হলেঃ

মানসিক রোগ
অনেক বেশী সমস্যার আগে চিকিৎসকের নিকটে যান।

– আবেগ অনুভূতি হারিয়ে ফেলা।

– অবাস্তব কিছুতে তীব্র বিশ্বাস।

– অবাস্তব কিছু দেখা বা শোনার দাবী করা (হ্যালুসিনেশন)।

– মনোসংযোগে তীব্র সমস্যা, অসংলগ্ন বা অপ্রাসংগিক কথা বলা।

– অদ্ভুত আচরণ।

সিজোফ্রেনিয়া আবার কয়েক রকমের হতে পারে। যার মাঝে প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়া রোগে অনেকেই ভোগেন, যাতে মনে হয় যে আশেপাশের সবাই রোগীর শত্রু। সিজোফ্রেনিয়া রোগ মেডিকেশনে নিরাময় সম্ভব।

কিছু ভুল ধারনা আমাদের আছে যেগুলি নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। অনেকেরই এখনো ধারনা আছে যে মনোরোগ কেবল ধনী লোকদেরই হয়। এই ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। মনোরোগের কোন সামাজিক শ্রেনী বিন্যাস নেই। গরীব লোকে সেটা জানতেও পারে না  সেটা ভিন্ন কথা। যেমন ষ্টাডিতে দেখা যায় যে বাংলাদেশসহ গরীব দেশগুলিতে গর্ভবতী মহিলারা অনেক সময়ই আর্থ সামাজিক কারণে প্রচন্ড ডিপ্রেশনে ভোগেন, এতেই শেষ নয়। এই ডিপ্রেশনের প্রভাব ছড়িয়ে যেতে পারে তার অনাগত শিশুর জীবনে, শিশুর শারীরিক মানসিক বৃদ্ধিও হতে পারে মারাত্মকভাবে ব্যাহত। আমাদের দেশের কত লোকে এভাবে আজন্ম ভোগে কে তার হিসেব রাখে।

এ ছাড়াও আরেকটি ভুল ধারনা আছে যে মানসিক রোগ কেবল প্রাপ্ত বয়ষ্কদেরই হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য যে শিশুদেরও,  এমনকি সদ্যজাত থেকে ৩ বছর বয়সী।

মানসিক রোগ
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখুন।

শিশুদেরও  মানসিক সমস্যা হতে পারে। এই বয়সের একটি সাধারণ রোগের লক্ষন হল শিশুদের বাবা মার সাথে কম ঘেষার প্রবণতা, যাকে এটাচমেন্ট প্রবলেম বলে। এ ছাড়াও বাইপোলার ডিজ অর্ডার (ঘন ঘন মুডের পরিবর্তন),  এংক্সাইটি ডিজ অর্ডার, ডিপ্রেশন এসব রোগে বড়দের মত শিশুরাও ভুগতে পারে। অটিজমের কথা তো এখন সবাই নিশ্চয়ই জানেন।  এ ছাড়াও খুব সাধারণ কিছু সমস্যা যেমন বিছানায় মলমূত্র ত্যাগ,  স্কুল পালানো এসবও ক্রনিক মানসিক রোগ হতে পারে। সময়মত সুচিকিৎসা করা না  হলে রোগী ভুগবে সারা জীবন, রোগ হবে জটিল থেকে জটিলতর।

বিশ্বে এমন কিছু জটিল মানসিক রোগ রয়েছে,  যেগুলির বিবরণ শুনে বিশ্বাস করা কঠিন।

তিনটি ঘটনা দেয়া হল

ফরেইন অ্যাকসেন্ট সিনড্রোম :‌ ফ্রান্সের তরুণী অ্যাস্ট্রিড এল ফরাসি ভাষার বাইরে শুধু ভাঙা ভাঙা ইংরেজী ভাষায় কথা বলতে পারতেন।

এছাড়া কোনও ভাষাই তিনি জানতেন না। হঠাৎ একদিন ঘুম থেকে উঠে তিনি খাঁটি জার্মান ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। মেয়ের পরিবর্তন দেখে আঁতকে ওঠেন অ্যাস্ট্রিডের মা-‌বাবা। এমন অবস্থা হয়, যে তিনি ফরাসিতে কথা বলাই বন্ধ করে দেন। বেশ কিছু বছর আগে উত্তরপ্রদেশেও এক নাবালক এই রোগের শিকার হয়। যে কোনওদিন স্থানীয় ভাষার বাইরে কিছু জানত না, সে হঠাৎ ব্রিটিশ কায়দায় ইংরেজী বলতে শুরু করে।

অটোফাজিয়া :‌ “আজ কী খেতে ইচ্ছে করছে?”‌, অটোফাজিয়ায় আক্রান্ত রোগীর উত্তর হয় “‌নিজেকে”। হ্যাঁ, ভয়ানক এই রোগের লক্ষণ হল নিজেকে খেয়ে ফেলার ইচ্ছে। শুনে কি খুব বিরল রোগ মনে হচ্ছে? মনোচিকিৎসকরা বলছেন, নখ খাওয়ার অভ্যেসই এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। নখ খেতে খেতে রোগী আঙুলে কামড় বসানো শুরু করে। অসুস্থতা বাড়লে তা আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। সেই কারণেই বাচ্চাদের নখ খাওয়ার অভ্যেস হচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর দিতে বলেন চিকিৎসকরা।

কোটার্ড সিনড্রোম :‌ আরেকটি ভয়ানক রোগ। কোটার্ড সিনড্রোমে আক্রান্তরা নিজেদের মৃত বলে মনে করে। সিজোফ্রেনিয়া কিংবা গভীর অবসাদ থেকে এই রোগ দেখা দিতে পারে। পৃথিবীর কোনও কিছুর প্রতি তাদের মোহ-‌মায়া থাকে না। জীবন্ত মৃতদেহের মতো দিন কাটায়।

মানসিক রোগের চিকিৎসা

মানসিক রোগ
সময়মত চিকিৎসা করালে আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন


মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা সফলতার সাথে অনেক মানসিক রোগের চিকিৎসা করতে পারেন। এ জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে কোন অভিজ্ঞ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া এবং সম্পূর্ণ চেক আপ করা। এ ধরনের রোগীরা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে তখনি উপকৃত হবে যখন তারা উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করবে। তবে এর জন্য রোগিকে তার মানসিক সমস্যা সম্পর্কে অন্যদের সাথে কথা বলার অনিচ্ছা দূর করতে হবে। ডাক্তারের সাথে খোলামেলা কথা বলতে হবে রোগীকে যেমন দৈনন্দিন সমস্যার কথা বা কোন গোপনীয়তা না রেখে ডাক্তারকে জানাতে হবে।
বিশেষজ্ঞের দেওয়া নিয়মানুযায়ী চলতে হবে অবশ্যই এর জন্য ডাক্তারের সাথে পরিবারের মানুষদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। রোগীকে মানসিক ভাবে সাপোর্ট দিতে তার পরিবারের বা আপনজনদের সহযোগিতা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। যা অন্যান্য চিকিৎসার চেয়ে অনেকাংশে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে দেখেন যে পারিবারিক অশান্তি, সম্পর্কের ফাটল, ঝগড়া বিবাদ, অনেক সময় নিজের সঙ্গীর সাথে ভুল বুঝাবুঝি, কোন কাজে ব্যর্থতা, একাকী থাকা, হীনমানসিকতা  ইত্যাদি কারণে মানসিক ভাবে অনেক বেশী বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই এ সকল সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য হিতাকাঙ্ক্ষীদের পরিচর্যাই হচ্ছে একমাত্র ভরসা।

যখন কোন মানুষ সাময়িক বা দির্ঘস্থায়ী শারীরিক বা মানসিক সমস্যার জন্যে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে ব্যর্থ হয়, তখন তাকে কাছের মানুষের উপর নির্ভর করতে হয়। মানসিক অসুস্থতার কারণে তাকে কারো না কারো সাহায্য নিয়ে দিন পার করতে হয়। আর এভাবে আপনজনদের বা শুভাকাঙ্ক্ষীদের থেকে মানসিক বা শারীরিক সহযোগিতার মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে মানসিক রোগ থেকে মুক্তি লাভ করতে সক্ষম হয়। পরিবার পরিজনদের দায়িত্ব শুধু মানসিক রোগীর সমস্যা সমাধান করা না বরং রোগীকে তার জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ নিশ্চিত করা।

একজন মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ব্যাক্তিকে ঔষধ বা থেরাপি দিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেয়ে, তাকে মানসিক ভাবে সাপোর্ট দিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কার্যকারিতা অনেক বেশী।

কিভাবে মানসিক রোগের সঙ্গে মোকাবিলা করা যায়

-অভিজ্ঞ  মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী চলুন এবং চিকিৎসা করান।

-ভারসাম্যপুর্ন ও স্থায়ী দৈনন্দিন তালিকা মেনে চলুন

-নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখুন।

-একমুখী চিন্তা পরিহার করুন।

-নিজেকে সময় দিন আরাম করার জন্য সময় নিন।

-পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খান।
-মদ্যপান করা ও যেকোন নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।

মানসিক রোগ
কোনপ্রকার মাদকদ্রব্য গ্রহণ করা যাবে না

-নিজেকে স্বল্প পরিসরে না রেখে সবার সাথে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। অন্যদের সময় দিন।
-আপনার প্রয়োজনীয়তার দিকে মননিবেশ করুন।

 

আসুন একটু হৃদয়ের যত্ন নেই

হার্ট

“প্রায় বুকে চিন চিন করে ব্যথা করে কবির সাহেবের, তিনি ভাবেন এটা গ্যাস্টিকের ব্যথা হয়ত। তাই দুই টাকা দামের একটা গ্যাস্টিকের ট্যাবলেট খেয়ে সাময়িক ভাবে ব্যথা উপশম করেন।“

আমাদের সমাজে এমন কবির সাহেব আছেন হাজারেরও বেশি। হার্ট অ্যাটাকের আগে কেউ ডাক্তার দেখাতে যায় না। বার বার শরীরের প্রয়োজন কে অবহেলা করি আমারা। ফলাফল হার্ট অ্যাটাক নাহয় মৃত্যু। একটা মৃত্যু বা হার্ট অ্যাটাকের চাপ একটা পরিবারকে যে কতটা ভেঙ্গে ফেলে লিখে শেষ করা যাবে না।

আজ তাই চেষ্টা করলাম এই বিষয় অজানা কিছু তথ্য জানাতে। সব শেষে থাকছে একটি সারপ্রাইজ। আসা করি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি নিজ স্বার্থে পড়বেন।

হৃৎপিণ্ড আমাদের দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। মাদার বোর্ড ছাড়া যেমন কম্পিউটার চলে না। তেমনই হৃৎপিণ্ড ছাড়া শরীর চলতে পারেনা। কিন্তু ব্যস্ততার বা অবহেলার কারণে শরীরের এ গুরুত্বপূর্ণ অংশটির যত্ন নেওয়ার কথা ভুলে যাই আমরা। বর্তমান সময়ে পরিবেশ যেভাবে দূষিত হচ্ছে, রোগের বয়স এর পার্থক্য কমে যাচ্ছে। যে কোনো বয়সের মানুষেরই হতে পারে যে কোনো রোগ। বিশেষ করে হার্টের রোগ। একটু সতর্ক হলেই কিন্তু এই সব অসুখ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। হার্টের অসুখের ঝুঁকি আপনার জীবনে একটু কমাতে চাইলে কিছু বিষয় অবশ্যই মানতে হবে।

ধূমপানের অভ্যাস থাকলে ছেড়ে দিন। ধূমপান না করলে আপনার হার্টের অসুখের ঝুঁকিও অনেক কমে যাবে। একটু ব্যায়াম করুন। সময় সুযোগ মতো নিয়ম করে করুন ব্যায়াম। হার্টের অসুখের ঝুঁকি কমবে। আপনার উচ্চতা এবং বয়সের সঙ্গে মানানসই এমন ওজন বজায় রাখুন।

হার্ট
ধূমপান বাদ দিতে না পারলে হৃদরোগ হবেই।

ব্যায়ামের উপকারিতা

১।  দেহে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয় ও কোষগুলোকে অক্সিজেন ব্যবহার করতে সহায়তা করে।

২।  হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে।

৩।  ব্লাডপ্রেশার বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

হার্ট
রক্তচাপ বেশি থাকলে দ্রুত কমানোর ব্যাবস্থা করুন।

৪। হার্ট ফেইলিওরের উপসর্গ কমায়।
৫। হার্টের পাম্প ক্ষমতা বাড়ায়।
৬। মাংসপেশি, অস্থিসন্ধি ও হাড়কে শক্তিশালী করে।
৭। রক্তনালিতে অতিরিক্ত চর্বি বা কোলেস্টেরল জমা হতে দেয় না।
৮। রক্তের সুগারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে ও দেহের কোষের ওপর ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

৯।  শরীরের বাড়তি ওজন কমায়। কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে সহজে ক্লান্ত হওয়া, হাঁপিয়ে যাওয়া ইত্যাদি কমে যায়।

হার্ট
ব্যায়াম শুধু হার্ট না সারা শরীরও ভালো রাখে।

১০। ঘুম স্বাভাবিক ও আরামদায়ক হয়, শারীরিক ও মানসিক অবসাদ দূর হয়।
দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা ও বিষণ্নতা কমে।

দৈনন্দিন ব্যায়াম এমন কিছু ব্যায়াম আছে, যা ঠিক ব্যায়ামের তালিকায় পড়ে না কিন্তু ব্যায়ামের মতোই শরীরে কাজ করে। এতে ব্যায়ামের মতোই উপকার পাওয়া যায়।
সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা, লিফটের ব্যবহার যথাসম্ভব কম করা।

হার্ট
ভুলে যান লিফট আর একসিলেটরের কথা।

অল্প দূরত্বে যেতে হেঁটে যাওয়া।
বাড়িঘর পরিষ্কারের কাজ নিজেই করা।

ভুল ধারণা


বয়স্কদের ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। বয়স্ক, প্রৌঢ় সবারই ব্যায়ামের প্রয়োজন আছে। তবে ব্যায়ামের সময় এত বেশি হাঁপিয়ে ওঠা যাবে না,  যাতে কথা বলতে কষ্ট না হয়।
হার্টের অসুখ হলে ব্যায়াম করা যাবে না। হার্টের সমস্যা হলেও ব্যায়াম করা যাবে। শুধু তাই নয়, ব্যায়াম করতেই হবে। তবে কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ অনুসারে ব্যায়ামের সময়, ধরন ঠিক করে নিতে হবে। এমন স্থানে ব্যায়াম করবেন, যেখানে পরিচিত অনেকেই আছেন।
ব্যায়ামের জন্য জিমে যেতেই হবে। ব্যায়াম করতে হলে জিম বা ব্যায়ামাগারে যেতে হবে এমন কোনো  কথা নেই। তবে কোনো হেলথ ক্লাব বা হাঁটার জন্য বন্ধু বা প্রতিবেশী সঙ্গে  থাকলে ব্যায়ামের নিয়মানুবর্তিতা বজায় থাকে। না হলে আলস্যের কারণে অনেক সময় ব্যায়াম বাদ পড়ে।
ব্যায়াম নিয়মিত করলে খাবার নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নেই। হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালি ভালো রাখতে হলে শুধু ব্যায়াম করলেই হবে না,  তেল ও  চর্বিজাতীয় খাবার,  গরু ও খাসির মাংস, মগজ, ডিমের কুসুম, বেশি মিষ্টি, আইসক্রিম, চকোলেট, ফাস্ট ফুড পরিহার করে ব্যালান্সড ডায়েট খেতে হবে।

কিছু খাবার আছে যা আমরা প্রতিদিন খাই কিন্তু এটা জানিনা যে এগুলো আসলে খাবার এর নামে বিষ।

এর ভেতর এক নাম্বার এ আছে কাঁচা লবণ, চিনি দুধ চা, ঘন ডাল। এই খাবার গুলো হার্টের জন্য নীরব ঘাতক।

কিছু সহজলভ্য ও পরিচিত খাবার আছে যেগুলো আমাদের রক্তনালী পরিষ্কার করে আমাদের হার্ট ভালো রাখে।

পানি

জল চিকিৎসা নামে একটি চিকিৎসা পদ্ধতি জাপানী মেডিকেল বোর্ড খুঁজে বের করেছে যা শতভাগ সুস্থতা প্রদানে সক্ষম বলে দাবি করেন তারা।
সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে চার গ্লাস পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। প্রথম দিকে এটা অনেক বেশি মনে হলেও কিছুদিন এভাবে পানি পান করলে বিষয়টি সহজেই আয়ত্ত হয়ে যায় এবং উপকারও টের পাওয়া যায়। পানি খাওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আর অন্য কিছু মুখে না দেওয়াই ভালো। এ উপায়ের কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং এটি পরিপাক ক্রিয়ার জন্য খুবই উপকারী। গবেষকেরা বলেছেন, সকালে খালি পেটে পানি কেবল পাকস্থলী পরিষ্কারই নয়,  শরীরের  বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি থেকেও বাঁচাতে সাহায্য করে।

শাকসবজি ও ফলমূল

 

হার্ট
শাকসবজি হবে আপনার প্রতিদিনের খাদ্য।

সবজি- শিম,  বরবটি, পিয়াজপাতা, পুঁইশাক, মানকচু, কচুরলতি, রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এগুলো রাখতে পারেন ওষুধ বিবেচনায়ও। মৌসুমি শাকসবজি কিনতে তেমন খরচও হয়না এবং এগুলোতে কীটনাশক কম থাকে।

পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার- প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ক্রমাগতভাবে যুক্ত করতে থাকুন পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণ। এ ক্ষেত্রে কলা এবং মিষ্টি আলুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা।

সবুজ বাহারি সালাদ- খাবারে যদি সবুজ সালাদ থাকে তাহলে আপনার রসনা তৃপ্তির পাশাপাশি হার্টও খুশি থাকবে। তাই বেশি বেশি যুক্ত থাকুন ভিনেগার, জলপাইয়ের তেল কিংবা লেবুর শরবতের সঙ্গে।

আপেল- হার্টের জন্য আপেলকে কার্যকারী ওষুধ বলা যায়। তা ছাড়া কোলেস্টেরলের মাত্রা কম রাখতে আপেল যথেষ্ট উপকারী। যারা প্রতিদিন দুটো আপেল খায়, তাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা অন্যদের থেকে কম থাকে।

হার্ট
প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না।

 

কিছু মজার তথ্য

ডিমের প্রতি ভালোবাসা- যাঁরা বলছেন, বেশি বেশি ডিম খেলে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ে তাঁদের জন্য দুঃসংবাদ। কেননা ব্রাজিলীয়ান গবেষকরা জানিয়েছেন, ডিমের কুসুমে থাকা ভিটামিন ই, বি-১২ এবং ফলেট করোনারি আর্টারিকে পরিষ্কার রাখে। তবে কেউ যদি দিনে চারটি করে ডিম খেতে থাকেন,  তবে তাঁকে এসব গবেষণার কথা ভুলে যেতে হবে।

হার্ট
ডিম খেলে অনেকক্ষণ ক্ষুধা লাগেনা।

অবসাদ কে দিন বিদায়- কোনোভাবেই কাজের ক্লান্তিকে আপনার ওপর চেপে বসতে দেবেন না। এ জন্য মাঝেমধ্যেই অবসাদ দূর করতে আপনার পছন্দকে গুরুত্ব দিন। সুইজারল্যান্ডের এক গবেষণা জানিয়েছে, অবসাদ দূর করার তৎপরতা হৃদযন্ত্রের সংকট কাটায় ৫৭ শতাংশের কাছাকাছি।

বালিশে মাথা রাখুন সময়মতো যাদের অনিদ্রা নামক রাজরোগ আছে,  তারা অন্যদের চেয়ে ৪৫ শতাংশ বেশি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ঘুমের জন্য প্রতিদিন বেশি বেশি শারীরিক পরিশ্রম করার আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

অধিক ঘুম কে বলুন “না”- এমনকি যারা বেশি বেশি ঘুমকাতুরে তাদেরও সাবধান করে দিয়েছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, দিনে ১০ ঘণ্টা কিংবা তার বেশি সময় যাদের ঘুমে কাটে তাদের স্থূলতার পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকে, কমতে থাকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। সুতরাং অধিক ঘুম কে না।

হার্ট
অধিক ঘুম হার্টকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

পান করুন গরুর দুধ গরুর দুধে থাকা লো ফ্যাট হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াবিরোধী কম ঘনত্বসম্পন্ন লিপ্রোপ্রোটিনের হার কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দুধে থাকা ক্যালসিয়াম শরীরে জমে থাকা পুরু চর্বির স্তর কাটতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু দুধচা খাবেন না। বিশেষ করে ভাত খাওয়ার পর দুধচা খাওয়াকে একদম নিষেধ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

হার্ট
সপ্তাহে তিন দিন ননি বিহীন দুধ খাওয়ার অভ্যাস করেন।

গান গাইতেই হবে- হৃৎপিণ্ড ভালো রাখতে গলা ছেড়ে গান গাইতেও উৎসাহিত করেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, দলবদ্ধ সংগীত কিংবা কারাওকে হাসিখুশি রাখে হৃদযন্ত্রকে।

হাসিখুশি থাকতে হবে- হাসিখুশি আর প্রাণবন্ত মুখাবয়ব শুধু স্টাইল বা ফ্যাশন আইকনই আপনাকে করে তুলবে না, বাড়িয়ে দেবে আপনার নীরোগ থাকার প্রবণতাও। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রাণবন্ত উপস্থিতি আপনার অবসাদ ও অভ্যন্তরীণ প্রদাহকে ছুটি দিয়ে দেবে এবং অলিন্দ ও নিলয়ের প্রকোষ্ঠকে সুঠাম রাখবে।

হার্ট
হাসি খুশি থাকলে কোন রোগই দেহে বাসা বাঁধতে পারবে না।

এখন সেই সারপ্রাইজ এর পালা।

এটা এমন একটা রেসিপি যা খুব সহজে ঘরে বসে তৈরি করা যায়। এটি একটি মহা ঔষধ। গবেষণায় দেখা গেছে যারা প্রতিদিন এটি পান করে তাদের হার্ট অ্যাটাক এর ঝুঁকি ৯৭% কম।

সারপ্রাইজ রেসিপি

উপাদান

১। আদা

২। রসুন

৩। আপেল সিডার ভিনেগার(সুপারসপ গুলোতে পাবেন)

৪। লেবু

৫। মধু

প্রণালী

মধু ছাড়া বাকি সবগুলো উপাদানের রস বের করতে হবে। আদা, রসুন, লেবু ও আপেল সিডার ভিনেগার সম পরিমাণ নিতে হবে। এখন একটি পাত্রে সব মিশিয়ে (মধু ছাড়া) চুলায় বসিয়ে দিন। মৃদু আঁচে হাল্কা করে জ্বাল দিন। ২০ মিনিট পর নামিয়ে ফেলুন। এটা কিছুটা হলুদাভ বর্ণ ধারণ করবে। চুলা থেকে নামিয়ে মধু মিশিয়ে নিন (যে পরিমাণ আদা, রসুন, লেবু ও আপেল সিডার ভিনেগার নিয়েছেন মধুও সেই পরিমাণ নিতে হবে)। তারপর ঠাণ্ডা করে সংরক্ষণ করুন ফ্রিজে। আপনি এটি ফ্রিজে ১-২ মাস সংরক্ষণ করতে পারবেন।

খাবারের নিয়ম

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১ টেবিল চামচ ও রাতে ঘুমানোর আগে ১ টেবিল চামচ করে খাবেন। আর ভালো ফলাফল পেতে দুপুরেও খেতে পারেন।

সবাই হৃদয়ের প্রতি যত্নবান হন। যত্নশীল নাহলে হার্ট অ্যাটাকের মত দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।